Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমনাথ সুন্দরী – ২০

    ২০

    নিদ্রাহীন ভাবে সারারাত্রি ত্রিপুরারিদেব নানা কথা ভাবলেন মন্দিরের বর্তমান পরিস্থিতি আর ভবিষ্যৎ নিয়ে। কোনও কোনও সময় তার মনে হতে লাগল, ‘মন্দিরের ওপর সত্যি যদি কোনও দুর্বিপাক নেমে আসে তবে কি তা আমারই কোনও পাপে? কি সেই পাপ?’

    কিন্তু এরপরই আবার তার মনে হল, তিনি যা অতীতে করেছেন, করছেন, করতে চলেছেন তা কোনওটাই তাঁর ব্যক্তিগত সুখ-ভোগের জন্য নয়, করেছেন হাজার হাজার বছর ধরে চলে আসা সংস্কার, রীতি, প্রথা মানার জন্য। যা তুষ্ট করে সোমেশ্বর মহাদেবকে। তিনি যা করেছেন, করতে চলেছেন তা মন্দিরের ভালোর জন্য, নিরাপত্তার জন্য, সর্বোপরি সোমেশ্বর মহাদেবের জন্য। সারা জীবনই তো অনাড়ম্বর ভাবে ব্রহ্মচর্য পালন করে এ মন্দিরের সেবায় নিয়োজিত থেকেছেন তিনি। সাত রাজার ধন স্যমন্তক মণি তার করতলগত হওয়া সত্ত্বেও তাঁর কোনওদিন মুহূর্তের জন্যও সে মণি আত্মসাৎ করার ভাবনা আসেনি। বরং মন্দিরের সেই সম্পত্তি রক্ষা করার জন্য তার দুশ্চিন্তার শেষ নেই, চেষ্টার শেষ নেই। তিনি পাপ করবেন কেন?’

    শুকতারা ফুটে ওঠার মুখে অন্যদিনের মতোই কক্ষ ত্যাগ করে বাইরে বেরিয়ে সেই স্বর্ণ শৃঙ্খল বাজালেন ত্রিপুরারিদেব। সূর্যোদয়ের মুহূর্তে প্রতিদিনের মতোই অবগাহন করে মন্দিরে ফিরলেন। উন্মোচন করলেন গর্ভগৃহের তোরণ। নিত্য দিনের মতোই ঘুম ভাঙানো হল দেবতার। প্রতিদিনের মতোই দেবদাসীরা তাদের নৃত্যগীত পরিবেশন করল। কিন্তু সব কিছুতেই কোথাও যেন একটা সূক্ষ্ম ম্রিয়মান ভাব! কোথাও যেন একটা অদৃশ্য ছন্দপতন শুরু হয়েছে!

    দেবদাসীদের নৃত্যগীত সাঙ্গ হবার পর গর্ভগৃহর চত্বরের বিশাল ঘণ্টাটা বাজালেন ত্রিপুরারিদেব। এই সংকেত ধ্বনি শুনেই দ্বাররক্ষীরা মন্দিরের প্রধান তোরণ উন্মোচন করে। দর্শনার্থীরা সোমেশ্বর মহাদেবের নামে আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে জয়ধ্বনি দিতে দিতে বন্যার স্রোতের মতো মন্দিরে প্রবেশ করে। কিন্তু আজ আর সে কোলাহল নেই। মন্দিরের ঘণ্টাধ্বনি শুধু প্রতিধ্বনিত হতে লাগল প্রাকার আর উপমন্দিরগুলোতে।

    প্রাত্যহিক কর্ম সম্পাদনের পর ত্রিপুরারিদেব নিজের কক্ষে ফিরে যাচ্ছিলেন, ঠিক সেই সময় রক্ষী প্রধান জয়দ্রথ এসে দাঁড়ালেন তাঁর সামনে। প্রধান পুরোহিতকে প্রণাম জানিয়ে তিনি বললেন, ‘এক ব্যক্তি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছেন। তিনি বলছেন তিনি নাকি চালুক্যরাজের মহামন্ত্রী চন্দ্রদেব। তিনি নাকি মাধেরা মন্দিরের যুদ্ধক্ষেত্র থেকে এখানে এসেছেন! অত্যন্ত জরুরি প্রয়োজনে তিনি আপনার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে চান!’

    মাধেরার যুদ্ধক্ষেত্র! কথাটা শুনে বিস্মিত ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘তুমি তাকে আমার কক্ষে নিয়ে এসো।’

    কিছু সময়ের মধ্যেই জয়দ্রথের সঙ্গে প্রধান পুরোহিতের কক্ষের সামনে উপস্থিত হলেন এক ব্যক্তি। ত্রিপুরারিদেব তাঁকে দেখে বুঝতে পারলেন যে আগন্তুক সম্ভ্রান্তবংশীয়। অন্তত তার পোশাক সে কথা বলছে। কিন্তু সে পোশাক বর্তমানে ধূলাময়। স্থানে স্থানে শুকনো রক্তের ছিটা লেগে আছে। ক্লান্তির স্পষ্ট চিহ্ন ফুটে আছে সেই প্রৌঢ় ব্যক্তির মুখমণ্ডলে। কোমর বন্ধনীর একটা স্থান বেশ স্ফীত। কোনও কিছু বাঁধা আছে সেখানে।

    আগন্তুক, প্রধান পুরোহিতকে হাত জোড় করে প্রণাম জানাবার পর তাকে নিয়ে কক্ষে প্রবেশ করে দ্বার বন্ধ করলেন। মুখোমুখি দুজন উপবেশ করার পর সেই ব্যক্তি তার কোমরবন্ধ থেকে একটা স্বর্ণমুকুট বার করে বললেন, ‘আমি চালুক্যরাজ অম্বুজের মহামন্ত্রী চন্দ্রদেব। এই তার প্রমাণ, চালুক্য রাজের রাজমুকুট।’

    হীরকখচিত সেই স্বর্ণমুকুট যে রাজমুকুটই হবে তা বুঝতে পারলেন ত্রিপুরারিদেব। মৃদু বিস্মিত ভাবে বললেন, ‘তিনি কোথায়? মাধেরার সূর্য মন্দিরে? যুদ্ধর গতিপ্রকৃতি কী?’

    চন্দ্রদেব বললেন, ‘তিনি সেখানেই ছিলেন, কিন্তু এখন আর নেই, তিন দিবস পূর্বে নিহত হয়েছেন তিনি। প্রচণ্ড যুদ্ধ শুরু হয়েছে যবন বাহিনীর সঙ্গে। যুদ্ধের ফলাফল বা গতিপ্রকৃতি কি হয়েছে তা আমার জানা নেই। কারণ মহারাজের মৃত্যুর পর তার দাহ কার্য সম্পন্ন করেই তাঁর মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্তে দেওয়া নির্দেশ পালন করতে মাধেরা ত্যাগ করে আপনার কাছে ছুটে এসেছি।’

    ‘কি সেই নির্দেশ?’ বিস্মিত ত্রিপুরারিদেব প্রশ্ন করলেন।

    চালুক্য মহামন্ত্রী বললেন, ‘মহারাজের মৃত্যুর পূর্বে তার শেষ ইচ্ছা পূরণের অনুরোধ নিয়ে আমি আপনার কাছে এসেছি। তিনি তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রী রাজশ্রীকে আপনাদের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। মহারাজের শেষ ইচ্ছা ছিল আমি তাকে সোমেশ্বর মন্দির থেকে ফিরিয়ে নিয়ে গিয়ে এই রাজমুকুট পরিয়ে চালুক্য সিংহাসনে অভিষিক্ত করি। মহারাজ অম্বুজ তাঁর ভ্রাতুষ্পুত্রীর প্রতি যে অন্যায় আচরণ করেছেন, সেই পাপ স্খলনের জন্য তিনি আমাকে এই নির্দেশ দিয়ে গেছেন। তিনি তাঁর পিণ্ডদান প্রক্রিয়াও এখানেই সম্পন্ন করে চালুক্য প্রদেশে ফিরতে বলেছেন।’

    চালুক্য মহামন্ত্রীর বক্তব্য শুনে চুপ করে রইলেন ত্রিপুরারিদেব।

    চন্দ্রদেব বললেন, ‘আপনি রাজকুমারী রাজশ্রীকে আমার হাতে তুলে দিন। আমি কালই মহারাজের পিণ্ডদান প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাজশ্রীকে নিয়ে রওনা হব। চালুক্য সিংহাসন শূন্য অবস্থায় পড়ে আছে।’

    ত্রিপুরারিদেব এবার বললেন, ‘প্রয়াত মহারাজের দ্বিতীয় ইচ্ছা, অর্থাৎ এই প্রভাসক্ষেত্রে তাঁর পিণ্ডদান, শ্রাদ্ধ কার্যাদি ইত্যাদি অবশ্যই সম্পন্ন হতে পারে। সে কাজের জন্য আমি আপনাকে সাহায্যও করতে পারি। কিন্তু চালুক্যরাজের প্রথম ইচ্ছা পূরণ, ওই নারীকে কখনোই আর ফিরিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়?’

    চালুক্য মহামন্ত্রী বললেন, ‘সম্ভব নয় কেন?’

    সোমেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘কারণ, তাকে সোমেশ্বর মহাদেবের কাছে সমর্পণ করা হয়েছে। সে এখন দেবদাসী সমর্পিতা। তার আর এখন পূর্বের কোনও পরিচয় নেই। সে পরিচয় মুছে গেছে। তার এখন একমাত্র পরিচয় সে দেবদাসী। তার একমাত্র আরাধ্য সোমেশ্বর মহাদেব।’

    এ কথা শুনে চন্দ্রদেব বললেন ‘কিন্তু রাজশ্রী তো স্বেচ্ছায় এ মন্দিরে আসেনি। চালুক্যরাজ বলপূর্বক তাকে এখানে পাঠিয়েছিলেন।’

    ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘হতে পারে সে হৃতা, বলপূর্বক তাকে এখানে আনা হয়েছে। কিন্তু কোনও দেবদাসী হৃতা, দত্তা, ভূত্যা, ভক্তা, যে শ্রেণিরই হোক না কেন, সোমেশ্বর মহাদেবের থেকে তাকে বিচ্ছিন্ন করা যায় না। সোমেশ্বর মহাদেবের সঙ্গে তাদের আমৃত্যু বন্ধন।

    ত্রিপুরারিদেবের বক্তব্য শুনে চন্দ্রদেব অনুনয় করে বললেন, ‘আমার সঙ্গে একবার তার সাক্ষাৎ করাবেন? সে যদি নিজে এ মন্দির ত্যাগ করে ফিরে যেতে চায়? প্রয়োজনে আমি তার বিনিময় একশত চালুক্য রূপসীকে দান করব এ মন্দিরে।’

    সোমেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেবের মুখমণ্ডল এবার কঠিন হয়ে উঠল। তিনি বললেন, ‘দেবদাসীদের ব্যক্তিগত মতামত বা ইচ্ছার কোনও মূল্য থাকে না। সোমেশ্বর মহাদেবের ইচ্ছা বা মন্দির কর্তৃপক্ষর ইচ্ছাই শেষ কথা। বহির্জগতের কোনও ব্যক্তির সঙ্গে অথবা পূর্ব জীবনের কোনও ব্যক্তির সঙ্গে দেবদাসীদের সাক্ষাৎ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। শত শত বৎসর ধরে চলে আসা এই অনুশাসন আমি ভঙ্গ হতে দিতে পারি না। আর, এক শত কেন, এক সহস্র দেবদাসীর বিনিময়েও তাকে আমি ফিরিয়ে দিতে পারি না। স্বয়ং চালুক্যরাজ উপস্থিত হয়ে আমাকে এ অনুরোধ জানালেও তাঁকে প্রত্যাখ্যান করতে হতো। অনুগ্রহ করে বারংবার এই অসম্ভব অনুরোধ করে আমাকে বিব্রতবোধ করবেন না।’ কথা শেষ করে উঠে দাঁড়ালেন ত্রিপুরারিদেব।

    আশাহত ভাবে তাঁর কক্ষ ত্যাগ করলেন চন্দ্রদেব। তারপর মন্দিরের বাইরে বেরিয়ে এলেন। এই মুহূর্তে তার ঠিক কী কর্তব্য তা বুঝে উঠতে পারলেন না চন্দ্রদেব। তিনি কী সোমনাথ নগরীতে কয়েকটা দিন অপেক্ষা করবেন প্রধান পুরোহিতের মত পরিবর্তনের জন্য। যদিও সে সম্ভাবনা আর নেই বলেই মনে হচ্ছে চন্দ্রদেবের। নাকি তিনি ফিরে যাবেন চালুক্যতে? তবে যাবার আগে অবশ্যই তাকে মহারাজের শ্রাদ্ধ সম্পাদন করে যেতে হবে প্রভাসক্ষেত্রের সমুদ্রতটে।

    মন্দির ত্যাগ করে বেরিয়ে হাঁটতে হাঁটতে উপস্থিত হলেন সমুদ্রতটে। যবন হানার আতঙ্কে প্রভাস নগরীতে পুণ্যার্থী বা পারলৌকিক কার্য সম্পাদন করতে আসা লোকজন নেই। সার বেঁধে বসে আর মস্তক মুণ্ডণ করাচ্ছে না ক্ষৌরকারের দল। চন্দ্রদেব শূন্য সমুদ্রতটে দাঁড়িয়ে ভাবছিলেন, ‘এমন যদি কারো সন্ধান পাওয়া যায় যে তাঁকে মহারাজের পারলৌকিক কার্য সম্পাদনে সাহায্য করতে পারে!’ ঠিক এমন সময় তাঁর সামনে এসে উপস্থিত হল এক বৃদ্ধ। মাথার চুল তাঁর শনের মতো সাদা। বৃদ্ধ তাকে প্রশ্ন করল, ‘আপনি কি পুণ্যার্থী? কোথা থেকে আসছেন?’

    চন্দ্রদেব জবাব দিলেন, ‘আমি চালুক্য রাজের মহামন্ত্রী চন্দ্রদেব। আপনার পরিচয়?’

    বৃদ্ধ তার শনের মতো চুলে হাত বুলিয়ে বলল, ‘প্রণাম আপনাকে। আমি সোমনাথ নগরীর ক্ষৌরকার-প্রধান খগেশ্বর।’

    কথাবার্তা শুরু হল তাদের দুজনের মধ্যে।

    ঠিক এই সময় অতিথিশালার অন্ধকার কক্ষে শুয়ে ছটফট করছিল অঙ্গিরা। সে কিছুতেই ভুলতে পারছে না খগেশ্বরের কথাগুলো। সে অজাচার মিলনের ফল। তার এ পরিচিতির থেকে হয়তো জন্ম মুহূর্তেই তার মৃত্যু ঘটা ভালো ছিল। পিতা-মাতা না হয় তাদের সম্পর্কের কথা জেনে মিলিত হয়নি। কিন্তু ব্যাপারটা যখন তারা জানলেন তখন তার জন্মের পরই তাকে কেন নদীতে বিসর্জন দিলেন না? কেন অঙ্গিরাকে তার নিষ্ঠুর পরিচয় দিয়ে পৃথিবীর বুকে রেখে গেলেন আমৃত্যু যন্ত্রণা দেবার জন্য? নিজের পিতা-মাতার ওপর, নিজের ওপর ক্রমশই ঘৃণা বেড়ে চলল তার। এক এক সময় অঙ্গিরার মনে হতে লাগল সে হয়তো বা বুঝি উন্মাদ হয়ে যাবে! বাইরে সময় এগিয়ে চলল, দুপুর গড়িয়ে বিকাল হল। সন্ধ্যাও নামল। সন্ধ্যারতির ঘণ্টাও বাজল মন্দিরে। কিন্তু সে শব্দ যেন কানে গেল না তার, যেন দিন রাত সময়ের ব্যবধান, কোনও কিছুই তার জীবনে নেই। চতুর্দিকে শুধু জমাট বাঁধা নিকষ কালো অন্ধকার। আর একটাই কথা শুধু তার মনে হচ্ছে, ‘আমি অজাচার! আমি অজাচার’!

    সন্ধ্যার পর রাত্রি নামল। নিস্তব্ধ হয়ে গেল সোমেশ্বর মহাদেবের আবাসস্থল। বেড়ে চলল রাত্রি। অঙ্গিরার কিন্তু ঘুম এল না। প্রবল ক্লান্তি, হতাশা আর মনবেদনাতে কিছুটা আচ্ছন্নর মতো শয্যাতে পড়ে রইল অঙ্গিরা।

    এখন মধ্যরাত। হঠাৎ মৃদু করাঘাতের শব্দ যেন কানে গেল তার। হ্যাঁ, কেউ আঘাত করছে বন্ধ কপাটে। কে এল? ত্রিপুরারিদেব নাকি? নিজের শরীরটাকে কোনও রকমে শয্যা থেকে তুলে কপাট খুলল অঙ্গিরা। দ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে আছে অবগুণ্ঠনরত এক নারী। সে তার অবগুণ্ঠন উন্মোচন করতেই অঙ্গিরা অবাক হয়ে গেল। রাজশ্রী—দেবদাসী সমর্পিতা আবছা চাঁদের আলোতে দাঁড়িয়ে আছে তার সামনে! দেবদাসী সমর্পিতা কক্ষের ভিতর প্রবেশ করে কপাট বন্ধ করল। আবারও অন্ধকার নেমে এল তার কক্ষে। অঙ্গিরা বিস্মিত ভাবে প্রশ্ন করল, ‘তুমি, এখানে কীভাবে এলে?’

    দেবদাসী সমর্পিতা জবাব দিল ‘তুমি যখন গতরাতেও এলে না তখন অস্থির হয়ে উঠল আমার মন। আর তা সহ্য করতে না পেরে আমি দেবদাসী উত্তরাকে বললাম তার প্রেমিকের মাধ্যমে তোমার সন্ধান দেবার কথা। আজ রাতেও যখন এলে না, তখন তাদের সঙ্গে নিয়ে আমি এখানে এসেছি। কিছুটা তফাতেই তারা আছে। তুমি আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাওনি কেন? তুমি কি অসুস্থ? না, আমি দেবদাসী বলে কোনও কারণে আমার ওপর ঘৃণা জন্মেছে?’

    দেবদাসী সমর্পিতার প্রশ্ন শুনে নিরুত্তর রইল অঙ্গিরা।

    অন্ধকারে তাকে দেখতে না পেয়ে, তার কণ্ঠস্বর শুনতে না পেয়ে দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘তুমি কোথায়? নিশ্চুপ কেন? আমার কাছে এসো। তোমাকে একবার দেখার জন্য, একবার স্পর্শ করার জন্য বিপদের ঝুঁকি নিয়েও আমি এখানে এসেছি।’

    অঙ্গিরা এবার বলল, ‘তুমি ফিরে যাও। আমার পরিচয় জানলে ঘৃণাতে আমার শরীর থেকে হাত সরিয়ে নেবে তুমি।’

    চালুক্য রাজকন্যা বলল ‘কেন তুমি শূদ্র নাকি? আর শূদ্র হলেও তুমি কি মানুষ নও? আমিও তো এখন রাজদুহিতা থেকে সোমনাথ মন্দিরের সাধারণ দেবদাসী মাত্র। কাছে এসো আমার।’

    অঙ্গিরা এবার বলে উঠল, ‘না, শূদ্রর থেকেও অনেক ভয়ঙ্কর আমার পরিচয়। আর সে পরিচয় জানলে আমি কখনোই তোমার সঙ্গে মিলিত হতাম না। আমি একজন অস্পৃশ্য অজাচার সন্তান। সহোদর-সহোদরার মিলনের ফলে আমার এই পাপ জন্ম হয়েছে।’ অঙ্গিরা কথাটা বলার সঙ্গে সঙ্গে কিছুক্ষণের জন্য নিস্তব্ধতা নেমে এল সেই অন্ধকার কক্ষে।

    রাজশ্রী—দেবদাসী সমর্পিতা এরপর অন্ধকার হাতড়ে স্পর্শ করল অঙ্গিরার শরীর। তারপর বলল, ‘তোমার জন্ম পরিচয় যাই হোক না কেন, তোমার জন্মের ওপর তোমার তো কোনও হাত ছিলনা। আমি জামি আমি তোমাকে ভালোবাসি। তুমিও আমাকে ভালোবাসো। তুমি আমার প্রেমিক, তোমার এ পরিচয়ই আমার কাছে যথেষ্ট।’

    দেবদাসী সমর্পিতার কথা শুনেও চুপ করে রইল অঙ্গিরা। দেবদাসী সমর্পিতা এরপর বলল, ‘এ মন্দিরে আমার মতো অসহায় নারীর একমাত্র অবলম্বন, ভালোবাসা তুমি। হয়তো তুমি আমার সঙ্গে নিত্যদিন মিলিত হতে পারবে না জানি। কিন্তু তোমাকে দূর থেকে দেখেও বাকি জীবনটা আমি কাটিয়ে দিতে পারব।’

    অঙ্গিরার শরীর কাঁপতে শুরু করেছে তা অনুভব করল দেবদাসী সমর্পিতা। মৃদু নিস্তব্ধতার পর অঙ্গিরা বেদনাহত ভাবে বলল, ‘কিন্তু সে দেখাও যে আর সম্ভব হবে না কিছুদিন পর থেকে।’

    ‘কেন তা সম্ভব হবে না?’ বিস্মিতভাবে জানতে চাইল দেবদাসী সমর্পিতা।

    অঙ্গিরা জবাব দিল, ‘আমার পিতা-মাতা তাদের পাপ মুক্তির জন্য এই মন্দিরে পাঠিয়েছেন। প্রধান পুরোহিত আমাকে সোমেশ্বর মহাদেবের শ্রেষ্ঠ সম্পদ স্যমন্তক মণির প্রহরী হিসাবে নিযুক্ত করতে চলেছেন অন্ধকারময় ভূগর্ভস্থ রত্নকুঠুরীতে। সে কক্ষে একবার কেউ প্রবেশ করলে আর ওপরে উঠে আসতে পারে না। তোমার সঙ্গে আমার আর দেখা হবে না।’

    কথাটা শুনে কিছু মুহূর্তের জন্য হতবাক হয়ে গেল সমর্পিতা। তারপর ক্ষুব্ধ ভাবে বলল, ‘না, এ হতে পারে না! এ ঘটনা কিছুতেই ঘটতে দেব না আমি। সোমেশ্বর মন্দিরের প্রাকার আর তোমার আমার মতো কত মানুষের জীবন গ্রাস করবে?’

    অঙ্গিরা বলল, ‘হয়তো এটাই আমার ললাট লিখন। আমি ত্রিপুরারিদেবের নির্দেশ পালন না করলে যে আমার পিতা-মাতার আত্মার মুক্তি ঘটবে না। অনন্ত নরকবাস হবে তাদের।’

    অঙ্গিরার কথা শুনে দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘তাঁরা কি তোমার পরিণতির কথা জেনে তোমাকে প্রধান পুরোহিতের নির্দেশ পালন করতে বলে গিয়েছিলেন?’

    অঙ্গিরা জবাব দিল, ‘না, ত্রিপুরারিদেব কি কাজে আমাকে নিয়োগ করবে তা তারা জানতেন না।’

    দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘যে ভাবেই তোমার জন্ম হোক না কেন, কোনও পিতা-মাতা তার সন্তানকে জীবন্ত নরকের মাঝে রেখে স্বর্গসুখ লাভ করতে পারেন না, কিছুতেই এভাবে তাদের আত্মা, সন্তানের নরক যন্ত্রণার বিনিময় মুক্তি লাভ করতে পারেন না। সোমেশ্বর মহাদেবও এসব অনুমোদন করেন না বলেই আমার বিশ্বাস। এ সব নিয়ম মানুষেরই সৃষ্টি।’

    এ কথা বলে একটু থেমে দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘না, আমি কিছুতেই সে কক্ষে প্রবেশ করতে দেবনা। আমাদের মুক্তির পথ খুঁজতে হবে।’

    ‘মুক্তি! তা কি ভাবে সম্ভব?’ জানতে চাইল অঙ্গিরা।

    দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘যেভাবেই হোক তা সম্ভব করতে হবে। এ মন্দির ত্যাগ করব আমরা। এ মন্দিরে নিজেদের জীবন বলিদান দেব না আমরা।’ একথা বলে অঙ্গিরাকে আলিঙ্গন করে তার শরীরে হাত বোলাতে লাগল দেবদাসী সমর্পিতা। সে স্পর্শে, সে আলিঙ্গনে কোনও যৌনতা নেই, জেগে আছে অঙ্গিরার প্রতি পরম ভালোবাসা, মমত্ব।

    এক সময় দেবদাসী সমর্পিতার ভাবনা সঞ্চারিত হতে শুরু করল অঙ্গিরার মনেও। তার মনে হতে লাগল, হ্যাঁ, তাকে মুক্তি পেতে হবে এই সোমেশ্বর মন্দিরের অন্ধকার থেকে। রাজশ্রী—দেবদাসী সমর্পিতাকে ত্যাগ করে সেই অন্ধকূপে কিছুতেই নামবে না সে। তাতে যদি তার অনন্ত নরকবাস হয় তো হবে।

    রাত শেষ হতে চলল এক সময়। দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘এবার আমাকে ফিরতে হবে। তবে মনে রেখো, মুক্তি আমাদের পেতেই হবে।’

    অঙ্গিরা দারুণ ভালোবাসায় আবেগে দেবদাসীর ওষ্ঠ চুম্বন করে বলল, ‘হ্যাঁ, সে চেষ্টা আমি করব। মুক্তি পেতেই হবে আমাদের। আগামীকাল রাতে আমি তোমার কাছে যাব।’

    দেবদাসী সমর্পিতা বলল, ‘আমি তোমার জন্য অপেক্ষা করব।’

    অঙ্গিরার কক্ষ ত্যাগ করল দেবদাসী সমর্পিতা। সে ফিরে যাবার পর অঙ্গিরা ভাবতে লাগল, ‘কিন্তু কীভাবে এ কাজ সম্ভব? সে নিজে নয় মন্দির ত্যাগ করল। দেবদাসী মন্দির ত্যাগ করবে কীভাবে?’ একথা ভাবতে ভাবতে হঠাৎ তার মনে হল নাপিত শিরোমণি খগেশ্বরের কথা। বহুদর্শী সেই বৃদ্ধ কি কোনও ভাবে দেবদাসী সমর্পিতার মুক্তি লাভে সাহায্য করতে পারবে? কিছুক্ষণের মধ্যেই অঙ্গিরার কানে এল সেই স্বর্ণ শৃঙ্খল বেজে ওঠার ঝনঝন শব্দ। ভোর হল প্রভাসতীর্থের সোমেশ্বর মন্দিরে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }