সোমনাথ সুন্দরী – ২৩
২৩
পরদিন নিজের কক্ষে শুয়ে অঙ্গিরা সারা দিন কাটিয়ে দিল। রাজকন্যা রাজশ্রী নগরী ত্যাগ করেছে কিনা, এসবই সে ভেবে চলল সারাদিন। সন্ধ্যাবেলা একবার সে মন্দিরে উঠেছিল সন্ধ্যারতি শেষে দেবদাসীর দল যখন মন্দিরের গর্ভগৃহর সামনে নৃত্য প্রদর্শন করছিল, তখন। কিন্তু সে নৃত্য তার তেমন ভালো লাগলনা। দেবদাসী আর বাদ্যকারদের দেখে অঙ্গিরার মনে হল তারা যেন কোনওক্রমে নৃত্যগীত পরিবেশন করে নিজেদের আবাসস্থলে ফিরে যেতে চাইছে। প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেবকে অঙ্গিরা দেখতে না পেলেও গর্ভগৃহ তোরণের পাশে পুরোহিত নন্দিবাহন ও রক্ষীপ্রধান জয়দ্রথকে দেখতে পেল। তাদের মুখমণ্ডলেও দুশ্চিন্তার ছাপ।
দেবদাসীদের নৃত্যগীত দর্শনের জন্যও তেমন লোকজন গর্ভগৃহ চত্বরে উপস্থিত নেই। দেবদাসীদের নৃত্যগীত সাঙ্গ হলে, গর্ভগৃহ তোরণ বন্ধ হবার পর অঙ্গিরা মন্দির চত্বর থেকে নীচে নামার জন্য এগোল। রক্ষীপ্রধান জয়দ্রথও এগোচ্ছিল নীচে নামার জন্য। সোপানশ্রেণী বেয়ে পাশাপাশি নামার সময় অঙ্গিরা তাকে প্রশ্ন করল, ‘খবর কী?’
রক্ষী প্রধান জয়দ্রথ বললেন, ‘খবর বিশেষ ভালো নয়। খবর এসেছে মাধেরার যুদ্ধে হিন্দুবাহিনী পরাজিত হয়েছে। নিহত হয়েছেন নৃপতি মাণ্ডলিক, চালুক্যরাজ অম্বুজ সহ রাজপুত যোদ্ধারা। মাধেরা সূর্য মন্দির ধ্বংস করার পর সোমনাথ মন্দিরের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে মামুদের যবন বাহিনী।’
একথা বলার পর একটু থেমে বললেন, ‘তবে আশার কথা মহাপ্রতিপালক বীরশ্রেষ্ঠ ভোজরাজ পরমদেও নাকি তাঁর বিশাল হস্তিবাহিনী নিয়ে দ্রুত এগিয়ে আসছেন মন্দির রক্ষা করার জন্য। তিনি যদি যবন মামুদের আগেই সোমনাথ মন্দিরে পদার্পণ করেন তবে চিন্তার কিছু নেই। নচেৎ আপনাকেও হয়তো অস্ত্র ধরতে হতে পারে মন্দির রক্ষার্থে। যাই ঘটুক না কেন, তা আর তিন রাতের মধ্যেই ঘটবে।’
রক্ষীপ্রধানের কথা শুনে অঙ্গিরা মুখে বলল, ‘হ্যাঁ, মন্দির রক্ষার্থে নিশ্চয়ই অস্ত্র ধরব আমি।’ আর মনে মনে বলল, ‘তখন আমি রাজকন্যা রাজশ্রীর সঙ্গে যাত্রা করব চালুক্য নগরীর দিকে। সোমেশ্বর মহাদেবের কাছে প্রার্থনা করি, তিনি তাঁর এই আবাসস্থল সোমনাথ মন্দির ও আপনাদের রক্ষা করুন যবনদের হাত থেকে। তাঁর ক্রোধে ধ্বংস হোক যবন মামুদ।’
অঙ্গিরা এরপর ফিরে এল অতিথিশালার কক্ষে। সকাল হলেই তো ফিরে আসবে বৃদ্ধ খগেশ্বর। মুদ্রা ফিরে পেলেই মন্দির ত্যাগ করবে অঙ্গিরা। সেকথা আর রাজশ্রীর কথা ভাবতে ভাবতে অঙ্গিরা ঘুমিয়ে পড়ল।
পরদিন ভোরের আলো ফোটার পর অঙ্গিরা অতিথিশালা ত্যাগ করে বাইরে বেরিয়ে এল। খগেশ্বরের ফিরে আসার কথা। যে স্থান থেকে মন্দিরের প্রবেশ তোরণ দৃশ্যমান এমন একটা স্থান বেছে নিয়ে খগেশ্বরের ফিরে আসার জন্য অপেক্ষা করতে লাগল অঙ্গিরা। কিছুটা বেলার দিকে প্রবেশ তোরণের বাইরে কাদের যেন চিৎকার শুনতে পেল অঙ্গিরা। তারা চিৎকার করছে ‘জয় একলিঙ্গদেবের জয়! হর হর মহাদেব।’
অঙ্গিরা দেখল প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব সেই শব্দ শুনে মন্দির থেকে নীচে নেমে এগোচ্ছেন প্রবেশ তোরণের দিকে। তিনি সেখানে যাবার কিছুক্ষণের মধ্যেই তোরণ খুলে দেওয়া হল। আকাশবাতাস কাঁপিয়ে ‘হর হর মহাদেব ধ্বনি দিতে দিতে মন্দির চত্বরে প্রবেশ করল একদল ভয়ঙ্কর দর্শন মানুষ। সম্পূর্ণ নগ্ন শরীর তাদের। মাথায় জটাজুট, ভষ্ম মাখা দেহ। হাতে ধরা আছে ভীষণ দর্শন শূল অথবা ত্রিশূল। কারো কারো হাতে ধরা আছে নরমুণ্ডও। অঙ্গিরা খেয়াল করল এদের কারো-কারো লিঙ্গে ছিদ্র করে লৌহ শলাকাও বেঁধান আছে নারী সঙ্গ রোধ করার জন্য!
এক সেবায়েত অঙ্গিরার পাশ দিয়ে যাচ্ছিল। অঙ্গিরা তাকে প্রশ্ন করল, ‘এই অদ্ভুতদর্শন নগ্ন মানুষরা কারা?’
সেবায়েত জবাব দিল, ‘এরা মহাদেবের একান্ত ঘনিষ্ঠ অনুচর নাগা সন্ন্যাসীর দল। এরা নিজেদের একলিঙ্গদেবের উপাসক বলে দাবি করে। এরা কোনও সময়ই নগরীতে প্রবেশ করে না। নগরীর বাইরে নির্জন নদীতটে খোলা আকাশের নীচে বসবাস করে। বাইরে মানুষদের তাদের কাছে যেতে দেয় না। খাদ্য গ্রহণেও কোনও বাছবিচার নেই। নদী থেকে ভাসমান মৃতদেহও তুলে এনে খায় শুনেছি! নরমাংসভোজী!’
এই নগ্ন সন্ন্যাসীদের পরিচয় লাভ করার পর অঙ্গিরা বিস্মিত ভাবে জানতে চাইল, ‘এরা হঠাৎ মন্দিরে এসে উপস্থিত হলো কেন?’
সেই সেবায়েত বলল, ‘এই ভয়ঙ্কর নাগা সাধুরা একলিঙ্গদেবের উপাসক হলেও যিনি একলিঙ্গদেব, তিনিই মহাদেব, তিনিই স্বয়ম্ভুনাথ বা আমাদের সোমনাথ। ওরা কোথা থেকে যেন খবর পেয়েছে যে যবনরা নাকি মন্দির ধ্বংস করতে আসছে! তাই মন্দির রক্ষা করতে এখানে এসেছে তারা।’ কথাগুলো বলে সেই সেবায়েত অন্যত্র চলে গেল।
সেই নাগা সন্ন্যাসীর দল কিন্তু মন্দিরে উঠল না বা অন্যত্র আশ্রয় নিল না। খোলা আকাশের নীচে বসবাস করা তাদের অভ্যাস। সোপানশ্রেণীর নীচে উন্মুক্ত প্রাঙ্গণে কাঠ সংগ্রহ করে এনে অগ্নিকুণ্ড রচনা করল তারা। তারপর সেই কুণ্ড ঘিরে বসল ভষ্ম মাখা মহাদেবের অনুচররা।
এসব দেখতে দেখতে, আর খগেশ্বরের প্রতীক্ষা করতে করতে বেলা বেড়ে চলল। দুপুর গড়িয়ে বিকাল হল একসময়, কিন্তু খগেশ্বর ফিরল না।
সূর্য ডোবার পর যখন মন্দিরে সন্ধ্যারতি শুরু হল তখন অঙ্গিরা অতিথিশালাতে ফিরল ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য। তারপর আবার রাত একটু গভীর হলে অতিথিশালা ত্যাগ করল।
অন্যদিনের মতোই বাইরে সেদিনও কোনও মন্দিরবাসী নেই। শুধু ধূনি জ্বেলে বসে আছে সেই নাগা সন্ন্যাসীদের দল। ধূনির গনগনে লাল আভাতে কেমন যেন ভৌতিক দেখাচ্ছে তাদের অবয়বগুলো। অঙ্গিরা একবার ঘুরে এল সেই প্রাচীন চন্দ্রমন্দিরের কাছ থেকে। কিন্তু খগেশ্বরের সন্ধান মিলল না।
অতিথিশালায় ফিরে অঙ্গিরা ভাবতে লাগল; এদিন না এলেও পরদিন নিশ্চয়ই ফিরে আসবে খগেশ্বর। হয়তো বা রাজশ্রীদের উপযুক্ত নিরাপদ স্থানে রেখে আসতে বেশ অনেক দূরে যেতে হয়েছে খগেশ্বরকে। সে বৃদ্ধ হয়েছে, তাই দ্রুত ফিরে আসতে পারেনি। এরপর রাজকন্যা রাজশ্রীর কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমিয়ে পড়ল সে।
দেবদাসী সমর্পিতার সোমনাথ মন্দির থেকে অন্তর্হিত হবার পর দুটো রাত কেটে গেল। পৃথিবীর বুকে ভোরের আলো যখন ফুটল তখন ক্লান্তিহীন ভাবে সোমনাথ নগরীর দিকে এগিয়ে চলেছে নৃপতিশ্রেষ্ঠ ভোজরাজ পরমদেওর হস্তিবাহিনী আর গজনীবিদ মামুদের উষ্ট্রবাহিনী। দুই বাহিনী এগোচ্ছে দু-পথ ধরে। একদল এগোচ্ছে সোমেশ্বর মহাদেব মন্দির রক্ষা করার জন্য, অপর দল সে মন্দির লুণ্ঠন করার জন্য।
এদিন সকালে যথারীতি মন্দিরের দ্বার উন্মোচন করলেন সোমনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব। দেবতার ঘুম ভাঙানোর পর দেবদাসীরা তাদের নৃত্যগীত শুরু করল গর্ভগৃহর সামনে। কিন্তু প্রধান পুরোহিত ও তাঁর সহ পুরোহিতদ্বয় বুঝতে পারল মাঝে-মাঝেই বাদ্যযন্ত্রের তাল কেটে যাচ্ছে, ছন্দপতন ঘটছে দেবদাসীদের। আসলে যবন হানার আতঙ্ক প্রবল ভাবে গ্রাস করেছে তাদের। তাদের কী ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে সেই আশঙ্কাতে হাত-পা শিথিল হয়ে আসছে! সত্যি যদি সুলতান বাহিনী মন্দিরে প্রবেশ করে তখন পুরুষদের নয় অস্ত্রাঘাতে মৃত্যু হল, কিন্তু নারীদের যে ভাবে মৃত্যু হবে সে তো আরও ভয়ঙ্কর! মৃত্যুর আগে নারীদের কোমল শরীর গুলো ছিঁড়ে খাবে যবন বাহিনী!
কোনওরকমে নৃত্যগীত সাঙ্গ করে তাদের আবাসস্থলে ফেরার পথ ধরল দেবদাসীরা। হঠাৎ প্রধান পুরোহিতের মনে পড়ল দেবদাসী সমর্পিতার কথা। তিনি সহপুরোহিত নন্দিবাহনকে বললেন, ‘সন্ধ্যারতির সময় প্রদীপ থেকে যার বস্ত্রখণ্ডে অগ্নি সংযোগ ঘটেছিল সেই দেবদাসী সমর্পিতার কি সংবাদ?’
পুরোহিত নন্দিবাহন জবাব দিলেন, ‘তাকে আপনার পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষাতে তাদের আবাসস্থলেই রাখা হয়েছে। তবে আপনি যেদিন সন্ধ্যায় এখানে সভা আহ্বান করেছিলেন, সেদিন সে অন্য দেবদাসীদের সঙ্গে উপস্থিত হয়েছিল।’
ত্রিপুরারিদেব এরপর একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘ওই নারী অন্য দেবদাসীদের তুলনায় রূপবতী, নৃত্য-গীতেও অধিক পারদর্শী। দেবদাসী শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা আর ফিরে আসবে না বলেই মনে হয়। আর ফিরে এলেও তাকে আর দেবদাসী প্রধানার আসন দেওয়া যাবে না। শাস্তি পেতে হবে তাকে। দুর্যোগ অতিবাহিত হলে দেবদাসী শ্রেষ্ঠা হিসাবে সমর্পিতা নাম্নী ওই নারীকেই তিলোত্তমার স্থলাভিষিক্ত করা যেতে পারে।’
প্রধান পুরোহিতের কথা শুনে সহ প্রধান পুরোহিত মল্লিকার্জুন বললেন, ‘আপনার বিবেচনা অতি উত্তম। আমারও এমনই ভাবনা।’
প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব আবারও একটু ভেবে নিয়ে এরপর তাঁর সহকারীদের উদ্দেশ্যে বললেন, ‘একটা কাজ করুন। তাকে স্নান করিয়ে, নতুন পট্টবস্ত্রে সজ্জিত করিয়ে এখানে উপস্থিত করবেন। দেবতার স্থান বারি সিঞ্চন করে, পাদোদক গ্রহণ করিয়ে মন্ত্রোচ্চারণের মাধ্যমে আমি তাকে শুদ্ধ করব। আজ সন্ধ্যারতির সময় নৃত্য প্রদর্শন করবে দেবদাসী সমর্পিতা।’
পুরোহিত নন্দিবাহন বললেন ‘আমি সে ব্যবস্থা করছি। দেবদাসী সমর্পিতাকে সমুদ্রতে নিয়ে গিয়ে অবগাহন করিয়ে উপযুক্ত পোশাকে সজ্জিত করে দ্বিপ্রহরে এই স্থানে উপস্থিত করব।’
পুরোহিত মল্লিকার্জুন বললেন, ‘সোমেশ্বর মহাদেবের আশীর্বাদে সব বিপদ কেটে যাবে বলেই আমার ধারণা। ভোর রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি ভোজরাজ পরমদেও, যবন মামুদের ছিন্ন মুণ্ড নিবেদন করছেন মহাদেবকে। সেই মুণ্ড দিয়ে গেণ্ডুয়া খেলছে একলিঙ্গদেবের উপাসক নাগা সন্ন্যাসীরা। ভোরের স্বপ্ন মিথ্যা হয় না।’
ত্রিপুরারিদেবের অন্য সহকারী নন্দিবাহন বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার নিশ্চিত ধারণা মন্দির ধ্বংসকারী, নারকী, যবন মামুদকে শেষ শাস্তি দেবার জন্য সোমেশ্বর মহাদেব তাকে এ মন্দিরের দিকে টেনে আনছেন।’
সোমনাথ মন্দিরের পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘হ্যাঁ, এ কথাটাই আপনারা সবাইকে বলুন। যাতে মন্দিরবাসীদের মধ্যে মনোবল বৃদ্ধি পায়, আতঙ্ক না ছড়ায়।’ কথাগুলো বলে ত্রিপুরারিদেব এগোলেন নিজ কক্ষে ফেরার জন্য। সেদিকে এগোতে এগোতে ত্রিপুরারিদেব ভাবলেন, ‘ওই গুপ্ত কক্ষকে আর অরক্ষিত রাখা সমীচীন নয়। যথাসম্ভব দ্রুত যুবক অঙ্গিরাকে সেখানে প্রহরী হিসাবে নিযুক্ত করতে হবে।’
ত্রিপুরারিদেব যখন তার কক্ষে ফিরে গেলেন ঠিক সে সময় অঙ্গিরা তার কক্ষ ত্যাগ করে অতিথিশালার বাইরে বেরিয়ে এসে মন্দিরের নীচের চত্বরে গত দিনের স্থানে গিয়ে বসল। ঠিক যে স্থান থেকে প্রবেশ তোরণ দেখা যায়। খগেশ্বরের ফিরে আসার জন্য অঙ্গিরার প্রতীক্ষা শুরু হল।
সূর্যদেব মাথার ওপর দিকে উঠতে শুরু করলেন। বেলা বাড়ার উৎকণ্ঠা শুরু হল অঙ্গিরার মনে। তার মনে হতে থাকল খগেশ্বর ফিরে আসছে না কেন? রাজকন্যা রাজশ্রীর কোনও বিপদ ঘটেনি তো? তাকে নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে পেরেছে তো খগেশ্বর? চারপাশে মন্দির চত্বরে কোন শব্দ নেই। শুধু মন্দিরের শীর্ষদেশে বসে থাকা সেই গৃধিনিগুলো মাঝে মাঝে কর্কশ স্বরে চিৎকার করে আকাশ বিদীর্ণ করছে! তাদের সেই অশুভ ডাক যেন অঙ্গিরার মনের আতঙ্ক আরও বাড়িয়ে তুলল।
সূর্য যখন ঠিক মাথার ওপর উঠল তখন উৎকণ্ঠিত অঙ্গিরা নিজেকে আর সংযত না রাখতে পেরে সে স্থান ছেড়ে উঠে এগিয়ে গেল প্রবেশ তোরণের দিকে। হিমশীতল মুখে তোরণ বেষ্টন করে দাঁড়িয়ে আছে রক্ষীরা। তাদের চোখেমুখেও স্পষ্ট আশঙ্কার ছাপ। একজন রক্ষী গম্ভীর ভাবে অঙ্গিরাকে প্রশ্ন করল ‘কী প্রয়োজন?’
অঙ্গিরা প্রশ্ন করল, ‘তোমরা কেউ ক্ষৌরকার শিরোমণি খগেশ্বরকে দেখেছ?’
রক্ষী জবাব দিল, ‘না, কদিন ধরে সে মন্দিরে আসছে না।’
অগত্যা অঙ্গিরা আবার ফিরে এসে তার পূর্বের স্থানে আসন গ্রহণ করল। কিছুক্ষণের মধ্যেই সে দেখল পুরোহিত নন্দিবাহন, রক্ষীপ্রধান জয়দ্রথকে নিয়ে ব্যস্তভাবে এগোচ্ছেন তোরণের দিকে। সেখানে গিয়ে রক্ষীদের সঙ্গে কিছু সময় কথা বললেন তাঁরা। তারপর আবার ব্যস্ত ভাবে সেখান থেকে এগোলেন মন্দিরের দিকে। উৎকণ্ঠিত ভাবে অঙ্গিরা চেয়ে রইল প্রবেশতোরণের দিকে।
