Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমনাথ সুন্দরী – ২৪

    ২৪

    সাধারণত বিশেষ প্রয়োজন না থাকলে দেবতাকে ভোগ নিবেদনের সময় গর্ভগৃহর সামনে উপস্থিত থাকেন না ত্রিপুরারিদেব। বয়স হয়েছে তাঁর। এ কাজ সামলান পর্যায়ক্রমে সহ প্রধান পুরোহিত নন্দিবাহন ও মল্লিকার্জুন। কিন্তু এদিন দেবদাসী সমর্পিতার শুদ্ধিকরণের ব্যাপারটা থাকায় তিনি কক্ষত্যাগ করতে যাচ্ছিলেন সে সময়। তিনি কপাট উন্মোচন করেই দেখতে পেলেন পুরোহিত নন্দিবাহন, রক্ষী প্রধান জয়দ্রথকে নিয়ে দাঁড়িয়ে।

    তাঁদের গম্ভীর মুখমণ্ডল দেখে কেমন যেন একটু সন্দেহের উদ্রেক ঘটল প্রধান পুরোহিতের। তিনি নন্দিবাহনকে প্রশ্ন করলেন, ‘দেবদাসী সমর্পিতাকে গর্ভগৃহের সামনে উপস্থিত করেছেন?’

    সহ প্রধান পুরোহিত নন্দিবাহন জবাব দিলেন, ‘দেবদাসী সমর্পিতা নিখোঁজ। দেবদাসীদের আবাসস্থল সহ মন্দিরের সব সম্ভাব্য স্থানে তার খোঁজ করেছি, তাকে পাওয়া যায়নি। অন্য দেবদাসীরা বলছে যে তারা তিন দিন ধরে তাকে দেখেনি।’

    কথাটা শুনে প্রধান পুরোহিত ক্ষিপ্ত ভাবে রক্ষীপ্রধান জয়দ্রথকে বললেন, ‘তাহলে দেবদাসী তিলোত্তমার মতো দেবদাসী সমর্পিতাও কি মন্দির ত্যাগ করল! কিন্তু কী ভাবে করল? রক্ষী প্রধান হিসাবে তোমাকেই এ ব্যাপারে জবাবদিহি করতে হবে।’

    জয়দ্রথ মাথা নীচু করে বললেন, ‘আমাকে মার্জনা করবেন প্রভু। সব রক্ষী কঠোর ভাবে আপনার নির্দেশ পালন করে চলেছে। গত তিন দিন তারা কোনও মন্দিরবাসীকে মন্দির ত্যাগ করতে দেয়নি। এ সময়কালের মধ্যে শুধু দুজন তোরণ অতিক্রম করে মন্দিরের বাইরে গেছে।’

    ‘কারা তারা?’ জানতে চাইলেন প্রধান পুরোহিত।

    রক্ষী প্রধান জয়দ্রথ জবাব দিলেন ‘প্রথম জন ক্ষৌরকার শিরোমনি খগেশ্বর। যে মন্দিরের স্থায়ী বাসিন্দা নয়। বাইরে থেকে মন্দির যাওয়া-আসা করে। কাজেই রক্ষীরা তাকে বাধা দেয়নি। তিন দিন পূর্বে সূর্যোদয়ের সময় খগেশ্বর মন্দির ত্যাগ করে।’

    এ কথা বলার পর একটু থেমে রক্ষীপ্রধান বললেন, ‘আর খগেশ্বর মন্দির ত্যাগ করার পূর্বে শেষ রাতের কাছাকাছি সময় আরও একজন মন্দির ত্যাগ করেছিল। পুরুষের পোশাকই ছিল তার পরনে। মুখমণ্ডল আবৃত থাকলেও তাঁর শ্মশ্রুমণ্ডিত চিবুক দেখা যাচ্ছিল। তবে তাকে আটকাবার ক্ষমতা রক্ষীদের ছিল না। কারণ, সে সোমেশ্বর মুদ্রা দেখিয়েছিল তাদের।’

    আবার সেই সোমেশ্বর মুদ্রা! পুরোহিত শ্রেষ্ঠ সঙ্গে সঙ্গে প্রশ্ন করলেন ‘রক্ষীরা তার পরিচয় জানতে চায়নি? প্রশ্ন করেনি কোনও?’

    রক্ষী প্রধান জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, করেছিল। কিন্তু সে ব্যক্তি ইঙ্গিতে জানিয়েছিল সে মৌনব্রত অবলম্বন করে আছে।’

    কথাটা জেনে প্রধান পুরোহিত প্রথমে ভাবলেন, সেই ব্যক্তি যদি সমর্পিতা হয়ে থাকবে তবে তার শ্মশ্রু হল কী ভাবে? কিন্তু কয়েক মুহূর্ত ভাবার পরই সম্ভাব্য ব্যাপারটা যেন প্রধান পুরোহিতের মনে ধরা দিল খগেশ্বরের কথাও রক্ষীপ্রধান উল্লেখ করাতে। কেশহীন, শ্মশ্রুহীন অনেক রাজপুরুষ বা সৈনিক থাকে যারা নারীদের কাছে নিজেদের সুন্দর হিসাবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য অথবা বিদ্রুপ থেকে রক্ষা পাবার জন্য কৃত্রিম কেশ, শ্মশ্রু-গুম্ফ পরিধান করে। গুপ্তচরেরাও অনেক সময় ছদ্মবেশ ধারণের জন্য তা ব্যবহার করে। আর এ কাজের জন্য ডাক পড়ে ক্ষৌরকারদেরও। তারা শুধু মুখমণ্ডল-মস্তক মুণ্ডিতই করে তা না। নরসুন্দর, ক্ষৌরকার কৃত্রিম কেশ-গুম্ফ দিয়ে মানুষকে সজ্জিতও করে। হয়তো বা খগেশ্বরই কাজটা করেছে। দেবদাসী সমর্পিতাকে পুরুষের সাজে সজ্জিত করেছে! কিন্তু সোমেশ্বর মুদ্রা? ত্রিপুরারিদেব বললেন ‘খগেশ্বর তো নিত্যদিন মন্দিরে আসে। সে মন্দির ত্যাগ করার পর আর মন্দিরে প্রবেশ করতে এসেছিল?’

    জয়দ্রথ জবাব দিলেন, ‘না, তাকে দেখেনি কেউ।’

    এরপর একটু থেমে জয়দ্রথ বললেন ‘তবে রক্ষীরা বলল, ‘কিছু সময় পূর্বে আপনার অতিথি অঙ্গিরা নাকি তাদের কাছে জানতে গেছিলেন যে তারা কেউ খগেশ্বরকে দেখেছে কিনা?’ মার্জনা করবেন, আপনার অতিথির আচরণও সন্দেহজনক। সে গত দুদিন ধরে এক স্থানে বসে নাকি নজর রাখছে প্রবেশ তোরণের ওপর। রক্ষীদের তাই ধারণা। এবং আমিও তাকে সেখানে বসে থাকতে দেখেছি।’

    একথা শুনেই প্রধান পুরোহিতের মনে হল ‘আরে সোমেশ্বর মুদ্রা তো অঙ্গিরার কাছেও আছে! এমন হয়নি তো যে খগেশ্বর কোনও ভাবে সে মুদ্রা নিয়ে মুক্ত করেছে দেবদাসী সমর্পিতাকে? অর্থের বিনিময়ে তাকে তুলে দিয়েছে চালুক্য মন্ত্রীর হাতে? আর সেই মুদ্রা ফেরত পাবার জন্যই কি অঙ্গিরা খগেশ্বরের প্রতীক্ষা করছে?’

    কিছুক্ষণ চুপ করে থেকে নিজের কর্মপন্থা ভেবে নিলেন প্রধান পুরোহিত। না আর কালক্ষেপ করা সমীচীন হবে না তার। তিনি প্রথমে তাদের নির্দেশ দিলেন রক্ষীদের কয়েকজনকে দেবদাসীদের আবাসস্থলের বাইরে প্রহরার কাজে নিযুক্ত করুন। প্রয়োজনে তারা তাদের আবাসস্থলের ভিতরে প্রবেশ করতে পারবে। এবং তাদের প্রহরাতেই দেবদাসীরা দেবতার কাছে নৃত্য প্রদর্শনের জন্য যাওয়া-আসা করবে। দ্বিতীয়ত সোমনাথ মুদ্রা দেখিয়েও আজ থেকে তার অনুমতি ছাড়া কেউ মন্দির ত্যাগ করতে পারবে না।

    এ কথা বলার পর একটু থেমে তিনি বললেন, ‘অঙ্গিরার বিষয়টি আমি তত্ত্বাবধান করছি। বিশেষ কাজের দায়িত্ব দিয়ে তাকে আমি অন্যত্র পাঠাব। একটা কাজ করুন। দেবতাকে মধ্যাহ্নভোজ নিবেদন করার পর পঞ্চব্যঞ্জন, পরমান্ন-সহ সেই মহাপ্রসাদ অঙ্গিরার আহারের জন্য অতিথিশালাতে তার কক্ষে পাঠিয়ে দিন। তাকে জানাবেন আমি এই খাদ্যদ্রব্য পাঠিয়েছি। সে যেন এই মহাপ্রসাদ ভক্ষণ করে।’

    সহ প্রধান পুরোহিত নন্দিবাহন আর রক্ষীপ্রধানকে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে কপাট বন্ধ করলেন প্রধান পুরোহিত।

    একই ভাবে একই স্থানে বসে তোরণের দিকে উৎকণ্ঠিত ভাবে তাকিয়ে ছিল অঙ্গিরা। সেই অশুভ পাখিগুলো মাঝে-মাঝেই ডাকছে। অসহ্য তাদের চিৎকার। মধ্যাহ্নে গর্ভগৃহর ঘণ্টাধ্বনিও কানে এল তার। অর্থাৎ দেবতাকে ভোগ নিবেদন করা হচ্ছে। এর কিছু সময় পর একজন সেবায়েত উপস্থিত হল তার কাছে। সে বলল, ‘আপনি অতিথিশালাতে চলুন। প্রধান পুরোহিত আপনার জন্য মহাপ্রসাদ পাঠিয়েছেন। সেগুলো আপনাকে গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন।’

    সেবায়েতের কথা শুনে অঙ্গিরা অনিচ্ছা সত্ত্বেও তার সঙ্গে অতিথিশালাতে উপস্থিত হল। তার কক্ষের সামনে বেশ কয়েকজন সেবায়েত খাদ্য পাত্র বহন করে দাঁড়িয়ে আছে। অঙ্গিরা তার কক্ষের কপাট খুলতেই তারা সেই খাদ্যবস্তুর পাত্রগুলো কক্ষের মেঝেতে সাজিয়ে রেখে ফিরে গেল।

    অন্যদিন অতিথিশালার পাচকরা অঙ্গিরার জন্য সাধারণ তণ্ডুল, ব্যঞ্জন দিয়ে যায়। কিন্তু প্রধান পুরোহিতের পাঠানো খাদ্য সামগ্রী দেখে বেশ বিস্মিত হল অঙ্গিরা। রুপোর পাত্র, থালাতে থরে থরে সাজানো নানা ধরনের ব্যাঞ্জন, পরমান্ন, মিষ্টান্ন, তাছাড়া ঘৃত সমৃদ্ধ উৎকৃষ্ট তণ্ডুল তো আছেই।

    উৎকণ্ঠাতে কিছুই খেতে ইচ্ছা করছে না অঙ্গিরার। তবুও কিছুটা খাদ্যদ্রব্য গ্রহণ করল শরীরে বল সঞ্চয় করার জন্য। অঙ্গিরা সিদ্ধান্ত নিল রাত্রিতে চন্দ্রমন্দিরের দিকে আজও একবার যাবে খগেশ্বরের সন্ধানে। খাদ্য গ্রহণের পর অতিথিশালার কক্ষে রাত্রি জাগরণ আর প্রচণ্ড মানসিক ক্লান্তিতে ঘুম নেমে এল অঙ্গিরার চোখে।

    এই দ্বিপ্রহরেই সৈনিকদের ক্লান্তি মোচনের উদ্দেশ্যে কিছু সময়ের জন্য যাত্রা স্থগিত রেখেছিলেন নৃপতিশ্রেষ্ঠ ভোজরাজ পরমদেও। গত কয়েকদিন ধরে তিনি তার সমুদ্র সমান বিশাল বাহিনী নিয়ে এগিয়ে চলেছেন সোমনাথ নগরীর দিকে। বিরামহীন তাদের যাত্রা। কয়েক দণ্ড তাঁর সেনাবাহিনীকে বিশ্রামের নির্দেশ দিয়ে তাঁর ঐরাবত থেকে অবতরণ করে নিজেও বিশ্রাম নিচ্ছিলেন রাজাধিরাজ পরমদেও। এমন সময় তাঁর অগ্রবর্তী পথ প্রদর্শক অশ্বারোহীরা কাসেমকে উপস্থিত করল তাঁর সামনে।

    কাসেমের পরিচয় জেনে আর তার বক্তব্য শুনে বেশ বিস্মিত হলেন ভারতশ্রেষ্ঠ নৃপতি ভোজরাজ পরমদেও। তিনি তাকে প্রশ্ন করলেন, ‘সেই যবন সুলতান কদিনের মধ্যে সোমনাথ নগরীতে উপস্থিত হতে পারে বলে তোমার ধারণা?’

    কাসেম জবাব দিল, ‘মহারাজ, আমি যে রাতে তার শিবির থেকে পলায়ন করি তার পরদিনই যদি সে যাত্রা করে থাকে তবে হয়তো বা সে আর এক-দু-দিনের মধ্যেই নগরীতে প্রবেশ করতে পারে।’ যদি তার বাহিনী সঠিক পথ নির্বাচন করে।

    তার জবাব শুনে উৎকণ্ঠিত ভোজরাজ জানতে চাইলেন, ‘আমার হস্তিবাহিনী যেখানে অবস্থান করছে, এ স্থান থেকে সোমনাথ নগরী কত দিনের পথ?’

    কাসেম হিসাব করে নিয়ে উত্তর দিল, ‘অন্তত চার দিনের পথ। তবে আমি পথ দেখিয়ে নিয়ে গেলে হয়তো তিন দিনের মধ্যে আপনাকে সোমনাথ নগরীতে উপস্থিত করাতে পারব।’

    যেভাবেই হোক ভোজরাজকে, যবনবাহিনী মন্দিরে প্রবেশ করবার পূর্বেই সেখানে উপস্থিত হতে হবে। কাসেমের কথা শোনার পর ভোজরাজ পরমদেও আর সে স্থানে এক পলও কালক্ষেপ করা সমীচিন বোধ করলেন না। কাসেমকে উঠিয়ে দেওয়া হল একটা হাতির পিঠে। রাজাধিরাজ নিজেও উঠে বসলেন তার রণহস্তির পিঠে। বিশ্রাম স্থগিত করে ভোজরাজ পরমদেও, কাসেমের দেখানো পথ ধরে দ্রুত এগোলেন সোমনাথ নগরীর উদ্দেশ্যে। সূর্য ডোবার পরও সে বাহিনী থামল না।

    সোমেশ্বর মন্দিরে সূর্য ডোবার পর যথারীতি সেদিনও সন্ধ্যারতি হল। ঘণ্টা বাজল। রক্ষী পরিবৃত হয়ে আতঙ্কিত দেবদাসীরা গর্ভগৃহ চত্বরের সামনে উপস্থিত হয়ে নৃত্যপ্রদর্শন করে ফিরে গেল প্রাচীর ঘেরা নিজেদের আবাসস্থলে। এরপর নিদ্রাভঙ্গ হলো অঙ্গিরার। পর মুহূর্ত থেকে আবারও দুশ্চিন্তা ঘিরে ধরতে লাগল তাকে। রাজকন্যা রাজশ্রীর কোনও বিপদ হয়নি তো? নগরী ত্যাগ করার সময় সেনাদল বা দস্যুবাহিনীর দ্বারা সে আক্রান্ত হয়নি তো? নাকি খগেশ্বরের কোনও বিপদ ঘটেছে? অঙ্গিরার যদি জানা থাকত যে খগেশ্বর রাজশ্রী—দেবদাসী সমর্পিতাকে কোনও নিরাপদ স্থানে পৌঁছে দিতে গেছে তাহলেও নয় অঙ্গিরা যে-কোনও উপায়েই হোক মন্দির প্রাকার অতিক্রম করে সে স্থানের দিকে রওনা হবার চেষ্টা করত। কিন্তু বৃদ্ধ খগেশ্বর সে স্থানের কথা অঙ্গিরাকে বলে যায়নি। হয়তো বা সে তখন সঠিক স্থান নির্বাচন করে উঠতে পারেনি। বাইরে রাত বাড়তে লাগল। প্রবল দুশ্চিন্তাতে অতিথিশালার অন্ধকার কক্ষে বসে ছটফট করতে লাগল অঙ্গিরা।

    ঠিক একই সময় সোমনাথ নগরী থেকে অনেকটা দূরে এক জীর্ণ কক্ষে বসে অঙ্গিরার মতো একই রকম দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ভাবে তার কথাই ভাবছিল রাজকুমারী সমর্পিতা। অরণ্যের ভিতর এই অতি প্রাচীন পরিত্যক্ত শিব মন্দিরে তাদের দুজনকে তিনদিন হল পৌঁছে দিয়ে গেছে বৃদ্ধ খগেশ্বর। এ স্থান থেকে সোমেশ্বর মন্দির পদব্রজে একদিনের পথ। তার তো মন্দিরে ফিরে গিয়ে সোমেশ্বর মুদ্রা অঙ্গিরাকে সমর্পণ করার কথা। আর সে মুদ্রা নিয়ে মন্দিরনগরী ত্যাগ করে গতকালই এ স্থানে উপস্থিত হবার কথা অঙ্গিরার! কিন্তু সে কেন এখনও উপস্থিত হল না? এই জীর্ণ কক্ষে তিন রাত অতিবাহিত হয়ে গেল রাজশ্রীর। তার এই কক্ষের উন্মুক্ত, কপাটহীন দ্বার আগলে তলোয়ার হাতে বসেছিলেন চন্দ্রদেব।

    মন্দিরের চারপাশে দাঁড়িয়ে আছে সব মহাবৃক্ষ। কিছুটা তফাতে একটা বৃক্ষর গায়ে তার ঘোড়াটা বাধা আছে। সেদিকে তাকিয়ে নিশ্চুপ ভাবে বসে আছেন তিনি। গাছের শাখাপ্রশাখার ফাঁক গলে একফালি চাঁদের আলো এসে পড়েছে তাঁর মুখমণ্ডলে। চিন্তার ভাঁজ স্পষ্ট চেপে আছে তার কপালে।

    এক সময় তিনি বললেন, ‘আমাদের এ স্থানে অপেক্ষা করা আর উচিত হবে না। এই বনাঞ্চলে দস্যু থাকতে পারে, এমনকী হয়তো বা যবন বাহিনীও এ পথে উপস্থিত হতে পারে। আমি একা মানুষ তখন কী ভাবে রক্ষা করব তোমাকে? চালুক্য সাম্রাজ্যের উত্তরাধিকারীকে? কাল সূর্যোদয় পর্যন্ত সেই যুবকের জন্য অপেক্ষা করে আমাদের চালুক্য রাজ্যর দিকে রওনা হওয়া উচিত।’

    রাজশ্রী বলল, ‘আমাদের কেউ একজন অশ্বপৃষ্ঠে নগরীর দিকে গিয়ে দেখে আসতে পারিনা সেখানে কি ঘটছে?’

    চালুক্য মহামন্ত্রী বললেন, ‘সে কাজ আত্মহননের সামিল হতে পারে। হয়তো যবন মামুদ সোমনাথ নগরীতে প্রবেশ করেছেন বা প্রবেশ করতে চলেছেন!’

    মহামন্ত্রী চন্দ্রদেবের বলা অন্তিম বাক্যটা যেন রাজকন্যা রাজশ্রীর উৎকণ্ঠা-দুশ্চিন্তা আরও বৃদ্ধি করল। সে আর কোনও কথা বলল না। নিশ্চুপ হয়ে কক্ষের বাইরের দিকে চেয়ে রইল অঙ্গিরার প্রতীক্ষায়। রাত এগিয়ে চলল। এক সময় শৃগালের দল তাদের সম্মিলিত চিৎকারে মধ্যরাত ঘোষণা করল।

    মধ্যরাতে ঠিক সে সময়ই অঙ্গিরা কক্ষ ত্যাগ করতে যাচ্ছিল সেই চন্দ্রমন্দিরে যাবার জন্য। যদি সে স্থানে বৃদ্ধ খগেশ্বর ফিরে আসে সেজন্য। কিন্তু সে দ্বার উন্মোচন করার আগেই মৃদু আঘাতের শব্দ হল বন্ধ কপাটে। তবে কি খগেশ্বর উপস্থিত হয়েছে? অঙ্গিরা দ্রুত কপাট উন্মোচন করল। অঙ্গিরা দেখল, খগেশ্বর নয়, চাঁদের আলোতে তার কক্ষের সামনে এসে দাঁড়িয়েছেন সোমনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব!

    কয়েক মুহূর্ত পরস্পরের দিকে নিশ্চুপ ভাবে চেয়ে রইল তারা। ত্রিপুরারিদেব মৃদু হেসে তার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি আজ রাতেই তোমাকে তোমার কার্যভার সমর্পণ করব। যে পঞ্চব্যঞ্জন, দেবতার প্রসাদ তোমাকে পাঠিয়েছিলাম তা তুমি গ্রহণ করেছ তো?’

    অঙ্গিরা এবার খাদ্যদ্রব্য পাঠাবার অন্তর্নিহিত কারণ বুঝতে পারল। সেই অন্ধকার কক্ষে তাকে প্রেরণ করার পূর্বে শেষ বারের মতো পঞ্চব্যঞ্জন, পরমান্ন দিয়ে তার স্বাদ মেটাবার ব্যবস্থা করেছিলেন প্রধান পুরোহিত। যুপকাষ্ঠে সমর্পণ করার পূর্বে যেমন ছাগ শিশুকে উৎকৃষ্ট পল্লব ভক্ষণ করানো হয় ঠিক তেমনই!

    অঙ্গিরা মৃদু স্বরে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, প্রভু।’

    প্রধান পুরোহিত বললেন, ‘অতি উত্তম। এই নতুন বস্ত্র পরিধান করো, আমি যে স্থানে তোমাকে নিয়ে যাব সে স্থানে উপস্থিত হবার জন্য।’ কথাগুলো বলে তিনি তার হাতে ধরা ঘোর কৃষ্ণবর্ণের বস্ত্রগুলি এগিয়ে দিলেন অঙ্গিরার দিকে।

    মুহূর্তের মধ্যে তার কর্তব্য স্থির করে নিল অঙ্গিরা। কক্ষের ভিতর সে নতুন বস্ত্র পরিধান শুরু করল। দ্বারের সামনে দাঁড়িয়ে তাকে পর্যবেক্ষণ করতে লাগলেন প্রধান পুরোহিত। অঙ্গিরার পরিধান সম্পন্ন হবার পর ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘ধনুর্বাণ সঙ্গে নাও। আর কক্ষ ত্যাগ করার পূর্বে ওই সোমেশ্বর মুদ্রা আমাকে সমর্পণ করো। ওই মুদ্রার প্রয়োজন আর তোমার হবে না।’

    অঙ্গিরা ধনুর্বাণ কাঁধে তুলে নিয়ে বলল, ‘ও মুদ্রা আমি আপনাকে সমর্পণ করতে অক্ষম। আমাকে মার্জনা করবেন। সোমেশ্বর মুদ্রা আমার কাছে নেই। আমি হারিয়ে ফেলেছি মুদ্রাটি। সম্ভবত আমার বস্ত্র থেকে কোথাও পতিত হয়েছে ওই মুদ্রা।’

    কথাটা শুনে কয়েক মুহূর্ত অঙ্গিরার দিকে চেয়ে রইলেন প্রধান পুরোহিত। তিনি মনে মনে ভাবলেন তবে কি তার অনুমান সত্য? ওই মুদ্রার সাহায্যেই দেবদাসী সমর্পিতাকে ছদ্মবেশ ধারণ করিয়ে মুক্ত করেছে খগেশ্বর? কিন্তু এ ব্যাপার নিয়ে অঙ্গিরাকে ভর্ৎসনা করা অথবা প্রশ্ন করা এ মুহূর্তে সমীচীন বোধ করলেন না প্রধান পুরোহিত। এখন তিনি অন্তিম কার্য সম্পাদন করতে চলেছেন অঙ্গিরাকে নিয়ে। এ সময় কালক্ষেপ করা তাঁর উচিত হবে না। তাই তিনি এরপর অঙ্গিরাকে শুধু বললেন, ‘আমাকে অনুসরণ করো।’

    কক্ষ ত্যাগ করল অঙ্গিরা। তারপর তারা দুজন অতিথিশালা থেকে বাইরে বেরিয়ে এগোল সোমনাথ মন্দিরের সোপানশ্রেণীর দিকে।

    নিস্তব্ধ মধ্যরাত্রি। কোথাও কোনও শব্দ নেই। একটা পেঁচকের শব্দ পর্যন্ত নয়। বিশাল মন্দির চত্বর প্রাঙ্গণের কোথাও এক বিন্দু আলো পর্যন্ত নেই শুধু যে স্থানে উন্মুক্ত আকাশের নীচে অগ্নিকুণ্ড ঘিরে বসে আছে নগ্ন সন্ন্যাসীর দল, সে স্থান ছাড়া। কেমন যেন ভৌতিক দেখাচ্ছে তাদের অবয়বগুলো। পাথরের মূর্তির মতো তারা বসে আছে। অঙ্গিরাদের দিকে তারা ফিরেও তাকাল না। সোপানশ্রেণী বেয়ে ত্রিপুরারিদেবকে অনুসরণ করে অঙ্গিরা এসে উপস্থিত হল গর্ভগৃহ তোরণের সামনে। চাঁদের আলো প্রবেশ করছে না এখানে।

    কৃষ্ণবর্ণের পোশাক পরিধান করার কারণে নিজের শরীরকেই যেন দেখতে পাচ্ছে না অঙ্গিরা। সে মনে মনে ভাবল, ‘হ্যাঁ, অন্ধকারের প্রহরীর তো এমন পোশাকই হওয়া প্রয়োজন। তারপর এ পোশাকও একদিন খসে পড়বে শরীর থেকে। দীর্ঘদিন সূর্যালোকের স্পর্শ না পেয়ে একদিন হয়তো আমাকে জীবন্ত প্রেতের মতো দেখাবে! ঘা ফুটে উঠবে সর্বাঙ্গে। তখন আমি আর মানুষ থাকব না। আমি তখন শুধুই প্রেত সদৃশ অন্ধকারের প্রহরী। সোমনাথ মন্দিরের অন্ধকার রত্নভাণ্ডারের স্যমন্তক মণির রক্ষক।’

    ত্রিপুরারিদেব গর্ভগৃহ তোরণের গায়ের এক কুলুঙ্গি থেকে একটা ক্ষুদ্রাকৃতির প্রদীপ নিয়ে চকমকি পাথর ঘষে সেটা জ্বালালেন। তারপর চারপাশে একবার তাকিয়ে নিয়ে গর্ভগৃহর তোরণ উন্মোচন করে অঙ্গিরাকে নিয়ে ভিতরে প্রবেশ করলেন। তারা দুজন ভিতরে প্রবেশ করার পর ভিতর থেকে কপাট বন্ধ করে দিলেন তিনি। প্রদীপের মৃদু আলো ছড়িয়ে পড়েছে কক্ষে।

    অঙ্গিরার মনে হল, গর্ভগৃহর ঠিক মাঝখানে সোমেশ্বর মহাদেবের ঝুলন্ত বিগ্রহ যেন নিদ্রা ভঙ্গ করে তার দিকেই চেয়ে আছেন! প্রধান পুরোহিত কপাট বন্ধ করার পর অঙ্গিরাকে সঙ্গে নিয়ে সেই বিগ্রহর সামনে কিছুক্ষণ চুপ করে দাঁড়িয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে মনে মনে বললেন, ‘হে সোমনাথ, হে সোমেশ্বর মহাদেব, আমি যা করতে চলেছি তা আপনার সম্পদ রক্ষার জন্যই করছি, আমার কোন ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধির জন্য নয়। যুবক অঙ্গিরাকে আপনার স্যমন্তক মণির প্রহরী নিযুক্ত করছি আমি। আপনি তাকে আশীর্বাদ করুন, যাতে সে আপনার সম্পদ রক্ষা করতে পারে। রত্নাগারের প্রহরীরূপে তার নিয়োগ আপনি অনুমোদন করুন। তার পিতা-মাতার আত্মার মুক্তির পথ প্রশস্ত করুন।’

    এ কথা বলার পর সোমেশ্বর মহাদেবের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব অঙ্গিরাকে বললেন, ‘তুমি দেবতার উদ্দেশ্যে বলো, ”আপনার মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব আপনার সম্পদ রক্ষার যে দায়িত্ব আমাকে সমর্পণ করছেন সে দায়িত্ব আমি যথাযথ ভাবে পালন করব। কোনওরূপ লোভ ও ভয়শূন্য ভাবে। আপনি আমাকে আশীর্বাদ করুন।” ‘

    একটু ইতস্তত করে প্রধান পুরোহিতের বলা কথাগুলো বলল অঙ্গিরা।

    ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘তুমি এবার শপথ গ্রহণ করো, ”আমি আমৃত্যু কোনও দিন আমার দায়িত্বের কথা, সোমেশ্বর মহাদেবের রত্ন কক্ষের কথা দ্বিতীয় কোনও ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করব না।” ‘

    প্রধান পুরোহিতের নির্দেশ মতো শপথ বাক্য গ্রহণ করল অঙ্গিরা।

    ত্রিপুরারিদেব বিগ্রহর গলা থেকে একটা নীলকণ্ঠ ফুলের মালা নিয়ে সেটা অঙ্গিরার গলায় পরিয়ে দিয়ে দেবতার রত্নরক্ষক, স্যমন্তক মণির প্রহরী রূপে অভিষিক্ত করলেন অঙ্গিরাকে।

    অঙ্গিরা ও ত্রিপুরারিদেব দুজনেই প্রণাম করল ত্রিভুবনপতি সোমনাথকে। অঙ্গিরাকে নিয়ে এরপর ত্রিপুরারিদেব এগিয়ে গিয়ে দাঁড়ালেন কক্ষের পাথুরে দেওয়ালের সামনে। অঙ্গিরা দেখল সে দেওয়ালের এক নির্দিষ্ট স্থানে দক্ষিণ হস্তের বৃদ্ধাঙ্গুল স্থাপন করলেন দেবতার প্রধান পুরোহিত। ধীরে ধীরে ফাঁক হতে শুরু করল দেওয়ালের এক অংশ। একজন মানুষ গলে যাবার মতো পথ তৈরি হল। দেওয়ালের ওপাশে খেলা করছে নিকষ কালো অন্ধকার!

    ত্রিপুরারিদেব, অঙ্গিরাকে তাঁকে অনুসরণ করতে বলে প্রবেশ করলেন সেই গহ্বরে। অঙ্গিরাও প্রবেশ করল তার পিছনে। প্রদীপের মৃদু আলোতে যতটুকু দৃশ্যমান তাতে অঙ্গিরা দেখল সংকীর্ণ সোপানশ্রেণী নেমে গেছে পাতালের দিকে। সেই সোপানশ্রেণী বেয়ে ধীর পদে নামতে শুরু করলেন প্রধান পুরোহিত। অঙ্গিরা তাকে অনুসরণ করল।

    অনেক বাঁক আছে সেই সোপানশ্রেণীর। প্রতিটা বাঁকে দুপাশ থেকে নানা অন্ধকার অলিন্দ এসে মিশেছে। এ যেন এক গোলাকধাঁধা। কিছুটা নামার পর অঙ্গিরার মনে হল এরপর নামলে সে আর এই গোলকধাঁধা ভেঙে কিছুতেই উঠে আসতে পারবে না। এখনই তাকে যা করার করতে হবে। সামনে আবারও একটা বাঁক আসছে। সোমনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত সেই বাঁকের মুখে পৌঁছতেই অঙ্গিরা বলে উঠল, ‘আপনি আমাকে ক্ষমা করবেন প্রধান পুরোহিত। হে সোমেশ্বর মহাদেব তুমি আমাকে ক্ষমা কোরো।’

    কথাটা কানে যেতেই ত্রিপুরারিদেব থমকে দাঁড়িয়ে পিছন ফিরে তাকাতে যাচ্ছিলেন। কিন্তু ঠিক সেই মুহূর্তে তাকে পিছন থেকে সজোরে ধাক্কা দিল অঙ্গিরা। ত্রিপুরারিদেব অস্পষ্ট আর্তনাদ করে ছিটকে পড়ে সোপানশ্রেণী দিয়ে নীচের দিকে গড়িয়ে যেতে লাগলেন! প্রদীপ নিভে গেল। অঙ্গিরা আর নীচের অন্ধকারের দিকে না তাকিয়ে দ্রুত উঠতে শুরু করল ওপর দিকে।

    অঙ্গিরা শেষ পর্যন্ত উপস্থিত হল গর্ভগৃহতে। ত্রিপুরারিদেব যেখানে অঙ্গুলি স্থাপন করে পথ উন্মোচন করেছিলেন অঙ্গিরা সে স্থানে অঙ্গুলি স্থাপন করে চাপ দিতেই পাথুরে দেওয়াল আবার নিজের স্থানে ফিরে এসে পথ করে দিল। গর্ভগৃহর নীচে অন্ধকারে আটকা পড়ে গেলেন সোমনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত।

    অঙ্গিরা এরপর গর্ভগৃহ ত্যাগ করে বাইরে বেরিয়ে এসে গর্ভগৃহের ভারী তোরণটা বন্ধ করে দিল। গর্ভগৃহ চত্বরের অন্ধকারে দাঁড়িয়ে অঙ্গিরা হাঁফাতে হাঁফাতে ভাবতে লাগল তার এবার কী করা উচিত? সে কি মন্দিরের পশ্চাত ভাগের প্রাকার অতিক্রম করে সমুদ্রের দিক দিয়ে বাইরে বেরিয়ে পড়বে? তারপর নগরীতে অনুসন্ধান চালাবে খগেশ্বরের যদি দেখা মেলে সেজন্য? যদি কোনও ভাবে দেবদাসী সমর্পিতা বা চন্দ্রদেবের সন্ধান পাওয়া যায়!

    ভাবছিল অঙ্গিরা। গর্ভগৃহর সমুখভাগে এই স্থান মন্দিরের সর্বোচ্চ স্থান। মন্দিরের বাইরেও অনেক দূর পর্যন্ত দেখা যায় এ স্থান থেকে। হঠাৎ অঙ্গিরা দেখতে পেল দূরে এক দিকে আকাশ যেন লাল হয়ে উঠেছে। ও কীসের আলো? অঙ্গিরা বোঝার চেষ্টা করল সেই আলোর উৎস।

    শুধু অঙ্গিরাই নয়, প্রচণ্ড উৎকণ্ঠাতে, আতঙ্কে বিনিদ্র রাত্রি যাপন করছিল অনেকেই। সেই আলো যত উজ্জ্বল হয়ে উঠতে লাগল, ততই চোখে পড়তে লাগল অনেকেরই। হঠাৎই মন্দিরের প্রবেশ তোরণের দিক থেকে কার যেন চিৎকার ভেসে এল, ‘যবন আসছে! তারা এসে পড়েছে!’

    লোকটার সে চিৎকার মিথ্যা ছিল না। আকাশ আলোকিত হয়ে উঠছিল মামুদ বাহিনীর হাজার হাজার মশালের আলোতে। সোমনাথ নগরীর উপকণ্ঠে পৌঁছে গেছে তারা।

    সেই চিৎকার শোনার কয়েক মুহূর্তের মধ্যে প্রবল আতঙ্কে যেন ঘুম ভেঙে গেল মন্দিরের। একমাত্র দেবদাসীরা ছাড়া যে যেখানে তারা ছিল নিজেদের কক্ষ ত্যাগ করে বেরিয়ে এল মন্দির প্রাঙ্গণে। রাত্রির নিস্তব্ধতা ভঙ্গ করে ভয়ার্ত কোলাহল মুখর হয়ে উঠল প্রাঙ্গণ। চারদিক থেকে শুধু চিৎকার শোনা যেতে লাগল, ‘যবন আসছে! যবন আসছে!’

    অঙ্গিরা গর্ভগৃহর চত্বর থেকে যখন নীচে নামতে শুরু করল তখন তার পাশ দিয়েই দ্রুত ওপর দিকে উঠছেন পুরোহিত মল্লিকার্জুন। তিনি যেন খেয়ালই করলেন না অঙ্গিরাকে। প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেবকে সংবাদ দেবার জন্য ছুটছেন তিনি। অঙ্গিরা যখন নীচের প্রাঙ্গণে নেমে এল, তখন তিনি উপস্থিত হলেন প্রধান পুরোহিতের কক্ষের সামনে। কিন্তু মল্লিকার্জুন সে কক্ষে বা গর্ভগৃহ চত্বরে কোথাও সন্ধান পেলেন না সোমনাথ মন্দিরের প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেবের।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Our Picks

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026

    কপিলাবস্তুর কলস – প্রীতম বসু

    March 23, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }