Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমনাথ সুন্দরী – ৫

    ৫

    মধ্যাহ্নের আহার সমাপন করে বেশ কয়েক দণ্ড নিদ্রার পর অঙ্গিরার যখন নিদ্রাভঙ্গ হল তখন বাইরে দর্শনার্থীদের কোলাহল এদিনের মতো স্তিমিত হয়ে এসেছে। পুণ্যার্থীদের মন্দির প্রাকারের অভ্যন্তরে আর প্রবেশ করতে দেওয়া হচ্ছে না। মন্দিরের অভ্যন্তরে পুণ্যার্থীদের অবশিষ্টাংশ সোমেশ্বর মহাদেবের দর্শন লাভ করার পর মন্দির ত্যাগ করছে।

    অঙ্গিরা তার কক্ষসংলগ্ন স্নানাগারে শরীর সিক্ত করে, ধৌতবস্ত্র পরিধান করে যখন কক্ষের সামনের ক্ষুদ্র চত্বরে এসে দাঁড়াল, তখন দিনের শেষ আলো মন্দিরের শীর্ষদেশে অবস্থিত স্বর্ণ কলসগুলোর গায়ে ছড়িয়ে সূর্যদেব, সমুদ্রে অবগাহন করতে চলেছেন।

    সেবায়েত-প্রধান বিষধারীর কথা মতোই একজন সেবায়েত সেখানে এসে উপস্থিত হয়েছে। অঙ্গিরাকে প্রধান পুরোহিতের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছে দেবার জন্য। অঙ্গিরাকে দেখে মৃদু মাথা ঝুঁকিয়ে সম্ভাষণ জানাল সে। অঙ্গিরা অনুসরণ করল তাকে।

    দর্শনার্থী, পুণ্যার্থীদের ভিড় ফাঁকা হয়ে গেছে মন্দির প্রাকারের ভিতর। সেবায়েতের সঙ্গে সোপানশ্রেণীর সামনে অঙ্গিরা উপস্থিত হল যেখানে, সেখানে সার সার বলদে টানা শকট উপস্থিত হয়েছে। গর্ভমন্দির চত্বর থেকে ফুল, বিল্বপত্র মাথায় ঝুড়ি করে নামিয়ে এনে শকটগুলো পূর্ণ করছে সেবায়েতরা। প্রত্যহ সায়াহ্নে সমুদ্রে বিসর্জন দেওয়া হয় পুণ্যার্থীদের এসব উপাচার।

    এসবের পাশ কাটিয়ে অঙ্গিরা উঠে এল গর্ভগৃহ চত্বরে। সে দেখতে পেল রক্ষীপ্রধান জয়দ্রথের তত্ত্বাবধানে একদল সেবায়েত সেই দানপত্রগুলো অর্থাৎ সেই জালাগুলো থেকে মুদ্রা ও স্বর্ণখণ্ড এক স্থানে স্তুপীকৃত করেছে। বিরাট বিরাট থলেতে পরিপূর্ণ করা হচ্ছে সেসব। অঙ্গিরার সঙ্গে চোখাচোখি হতে তিনি মৃদু হাসলেন। অঙ্গিরাও মৃদু হেসে মাথা ঝুঁকিয়ে মৃদু হাসল। অঙ্গিরা এরপর পৌঁছে গেল প্রধান পুরোহিতের আবাসস্থলে।

    অঙ্গিরার সঙ্গী সেই সেবায়েত মৃদু ঘা দিল কক্ষের বন্ধ কপাটে। দরজা খুলে আত্মপ্রকাশ করলেন পুরোহিত-শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরারিদেব। অঙ্গিরা আর সেই সেবায়েত মাথা ঝুঁকিয়ে প্রণাম জানাল তাকে। সেবায়েতকে ফিরে যেতে বলে অঙ্গিরাকে নিয়ে নিজ কক্ষে প্রবেশ করলেন ত্রিপুরারিদেব।

    অঙ্গিরা দেখল, ত্রিপুরারিদেব, সোমেশ্বর মহাদেব মন্দিরের প্রধান ব্যক্তি হলেও তার কক্ষে তেমন কোনও জৌলুশ নেই। বিশ্রাম, শয়নের জন্য অতি সাধারণ শয্যা, আহারের জন্য সামান্য কিছু তৈজস, আর দু-একটি আসবাব আছে সে কক্ষে। আর দেওয়ালের গায়ের তাকগুলোতে আছে রেশম বস্ত্রে মোড়া নানা প্রাচীন পুঁথি, হিসাব রক্ষার জন্য ভুর্জপত্র ইত্যাদি। কপাট বন্ধ করলেন।

    প্রধান পুরোহিত খর্বাকৃতি উচ্চতা সম্পন্ন একটা কাষ্ঠ নির্মিত চারপায়াতে অঙ্গিরাকে ইশারায় বসতে বললেন। একটু ইতস্তত করেই সেখানে বসল অঙ্গিরা। একই রকম আর একটা আসনে কয়েক হাত তফাতে অঙ্গিরার মুখোমুখি বসলেন তিনি। শ্বেতপাথরের জাফরি বসানো একটা গবাক্ষ আছে পশ্চিম দেওয়ালে। তার মধ্যে দিয়ে দিনের শেষ আলো কক্ষের মধ্যে চুঁইয়ে প্রবেশ করছে।

    বেশ কয়েক মুহূর্ত স্থির দৃষ্টিতে অঙ্গিরাকে নিরীক্ষণ করার পর ত্রিপুরারিদেব জানতে চাইলেন, ‘মন্দিরে থাকতে তোমার কোনও সমস্যা হচ্ছে না তো?’

    অঙ্গিরা জবাব দিল ‘না, প্রভু।’

    বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর ত্রিপুরারি বললেন, ‘সত্যিই তুমি তোমার পিতা-মাতার অন্তিম ইচ্ছা পালন করার জন্য এখানে এসেছ তো? আমি তোমাকে যে নির্দেশ দেব তা তুমি পালন করতে পারবে তো?’

    অঙ্গিরা জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, পারব।’

    ‘ধরো যদি সে নির্দেশ ভয়ঙ্কর কঠিন কিছু হয়?’

    অঙ্গিরা জবাব দিল ‘হ্যাঁ, তাও পারব। নইলে যে আমার পিতা-মাতার মুক্তি ঘটবে না।’

    ‘মুক্তি’—শব্দটা শুনে ত্রিপুরারিদেবের একজনের কথা মনে হল। হ্যাঁ, এ যুবকের ওপরই নির্ভর করছে তার মুক্তি। ত্রিপুরারি জানতে চাইলেন, ‘তুমি তোমার পিতা-মাতার অতীত জীবন সম্পর্কে কতটুকু অবগত?’

    অঙ্গিরা উত্তর দিল, ‘বিশেষ কিছু নয়, শুধু জানি তারা এক সময় এই মন্দিরে বসবাস করতেন। আর এই মন্দিরের অর্থেই তারা প্রতিপালন করেছেন আমাকে।’

    ‘কেন তারা এই চিরন্তনপীঠ পরিত্যাগ করে বল্লভীতে আশ্রয় নিয়েছিল, সে প্রসঙ্গে তারা তোমাকে কিছু জানিয়েছিল? এ সংক্রান্ত কোনও ঘটনা?’

    ‘না,’ সংক্ষিপ্ত জবাব দিল অঙ্গিরা।

    অঙ্গিরার জবাব শুনে মনে মনে আশ্বস্ত হলেন প্রধান পুরোহিত। এরপর তিনি জানতে চাইলেন ‘তোমার পিতা নিশ্চই তোমাকে অস্ত্রশিক্ষা দিয়েছে? কোনও বিশেষ ধরনের অস্ত্রশিক্ষা?’

    অঙ্গিরা যে কথাটা ক্ষৌরকার খগেশ্বরকে জানায়নি সে কথাটা এবার জানাল প্রধান পুরোহিতকে। সে বলল ‘হ্যাঁ, তিনি আমাকে বিশেষ ধরনের অস্ত্রশিক্ষা দিয়েছেন। শব্দভেদী বাণ নিক্ষেপ করতে পারি আমি। চোখ বন্ধ করেও অসি চালনা করতে পারি।’

    পুরোহিত-শ্রেষ্ঠ ত্রিপুরারিদেবের ঠোঁটের কোণে আবছা হাসি ফুটে উঠল কথাটা শুনে। তিনি বললেন, ‘হ্যাঁ, সে কৌশল তুমি কতটা রপ্ত করেছ সে পরীক্ষা আমি নেব।’

    এরপর বেশ কিছুক্ষণ চুপ করে থাকার পর তিনি বললেন, ‘সোমেশ্বর মহাদেবের সেবাতে তোমাকে এ মন্দিরে এক যুগ অর্থাৎ দ্বাদশ বর্ষ নিয়োজিত থাকতে হবে এক কঠিন দায়িত্বপূর্ণ কাজে। তারপর তোমার দায়িত্ব থেকে মুক্তি লাভ করবে তুমি। মন্দির ত্যাগ করে যে-কোনও স্থানে চলেও যেতে পারবে।’

    অঙ্গিরা বলল, ‘আপনি যেমন আজ্ঞা দেবেন সে নির্দেশ পালন করব আমি। কবে থেকে সে কার্যভার আমাকে গ্রহণ করতে হবে?’

    প্রধান পুরোহিত একটু ভেবে নিয়ে বললেন, ‘আর দুই পক্ষকাল পর পূর্ণিমা। ওই দিন তোমার মস্তক মুণ্ডণ করিয়ে ভগবান সোমেশ্বর মহাদেবের চরণে তোমাকে সমর্পণ করা হবে। আর তারও দুই পক্ষকাল পর মাঘী পূর্ণিমা। একই সঙ্গে আবার ওই দিন চন্দ্রগ্রহণও। চন্দ্রগ্রহণের দিন লক্ষ লক্ষ ভক্তর সমাগম হয় এই মন্দিরে। ওই শুভ দিন থেকে তোমার ওপর দায়িত্ব ন্যস্ত করব আমি। তারপর দ্বাদশ বৎসর সে দায়িত্ব পালন করতে হবে তোমাকে।’

    ত্রিপুরারিদেবের কথা শুনে অঙ্গিরা জানতে চাইল ‘দেব, তবে এই মধ্যবর্তী সময়কালে আমি কি কার্য সম্পাদন করব?’

    ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘মাঘী পূর্ণিমার দিন থেকে সে দায়িত্ব তোমার ওপর ন্যস্ত হবে, দ্বাদশ বৎসরব্যাপী সে দায়িত্ব পালনের জন্য তোমার এই মন্দির ত্যাগ করা চলবে না। জাগতিক সুখ ভোগের অনেক কিছু থেকেই তোমাকে বঞ্চিত থাকতে হবে ওই দীর্ঘ সময়। অবশ্য তার ফলস্বরূপ তুমি একদিন অক্ষয় স্বর্গলাভের অধিকারী হবে। তাই মধ্যবর্তী সময় তুমি তোমার ইচ্ছানুযায়ী যে-কোনও সুখ চাইলে গ্রহণ করতে পারো। নগরীর যে-কোনও অংশ পরিভ্রমণ করতে পারো।

    দুই পক্ষকাল পর যে দিন তোমাকে সোমেশ্বরের চরণে নিবেদন করা হবে তার পূর্ব দিবস পর্যন্ত মৎস্য ইত্যাদি আমিষ দ্রব্যও মন্দিরের বাইরে গিয়ে গ্রহণ করতে পারো, এমনকী মন্দিরের বাইরে নগরীতে যে বারাঙ্গনারা অবস্থান করে, তাদের সঙ্গ লাভও করতে পারো। বলা যেতে পারে, এই মধ্যবর্তী সময়কাল তোমার জাগতিক সুখের জন্য নির্ধারিত। পরবর্তীতে দীর্ঘকাল সে সব সুখ থেকে বঞ্চিত থাকবে তুমি। আর এসব সুখ লাভের জন্য অর্থের অভাব হবে না তোমার।’

    একটানা কথাগুলো বলে হাসলেন প্রধান পুরোহিত। তারপর বললেন, ‘এবার তুমি সোমেশ্বর মহাদেবের নাম নিয়ে শপথ গ্রহণ করে বলো, আমার সঙ্গে তোমার এই কথোপকথন বাইরের পৃথিবী থেকে গোপন রাখবে তুমি। এমনকী সহপ্রধান পুরোহিতদ্বয় মল্লিকার্জুন ও নন্দিবাহনকেও আমার নির্দেশ ব্যতীত কোনও কথা ব্যক্ত করবে না।’

    প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেবের কথা শুনে অঙ্গিরা বলল, ‘আমি সোমেশ্বর মহাদেবের নামে শপথ গ্রহণ করছি যে আপনার সঙ্গে এই বাক্যালাপ গোপন রাখব আমি।’

    ত্রিপুরারি বললেন, ‘শপথ বাক্য মনে থাকে যেন। সোমেশ্বর মহাদেব তোমার মঙ্গল করুন।’

    কথাগুলো বলে আসন ত্যাগ করে উঠে একটা কুলুঙ্গি থেকে রেশমের একটা থলি বার করলেন প্রধান পুরোহিত। অঙ্গিরাও উঠে দাঁড়াল তার আসন থেকে। ত্রিপুরারিদেব সেই রেশমের থলিটা অঙ্গিরার হস্তে সমর্পণ করে বললেন, ‘এতে একশত স্বর্ণমুদ্রা আছে। আশা করি এই মুদ্রা দিয়ে এ কয়দিন তোমার মনোবাঞ্ছা পূর্ণ করতে পারবে তুমি। প্রয়োজনবোধে আরও দেব। হ্যাঁ, কেউ যদি এই মুদ্রার উৎস সম্পর্কে প্রশ্ন করে তবে এক্ষেত্রে তুমি বলতে পারো যে এ মুদ্রা আমি তোমাকে উপহার দিয়েছি। তবে সোমেশ্বর মুদ্রাটা কিন্তু সাবধানে রাখবে। ওটাই তোমার মন্দির নগরী পরিভ্রমণের অনুমতিপত্র। নির্দিষ্ট সময়ে ওই মুদ্রা ফিরিয়ে নেব আমি। এবার তুমি প্রস্থান করো। আপাতত বাক্যালাপ সমাপ্ত। যখন প্রয়োজনবোধ করব তখন তোমাকে সাক্ষাতের জন্য আহ্বান করব।’

    পুরোহিতশ্রেষ্ঠর কথা শুনে অঙ্গিরা মাথা ঝুঁকিয়ে তাঁকে প্রণাম জানিয়ে বলল, ‘যথা আজ্ঞা দেব।’

    কপাটের অর্গল উন্মোচন করে ত্রিপুরারিদেব বললেন, ‘কিছু সময়ের মধ্যেই সন্ধ্যারতি শুরু হবে। সাধারণ পুণ্যার্থী এমনকী সাধারণ সেবায়েতদেরও এই আরতি দেখার সৌভাগ্য হয় না। সহপ্রধান পুরোহিতদ্বয়, সেবায়েত প্রধান আর নির্দিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত মুখ্য ব্যক্তিরাই কেবলমাত্র সন্ধ্যারতি ও নৃত্যগীত দর্শন করতে পারেন। তোমাকে তা দর্শনের অনুমতি দিলাম। মন্দিরের শ্রেষ্ঠ দেবদাসীরা এসময় সোমেশ্বর মহাদেবকে নৃত্য পরিবেশন করে। ইচ্ছা হলে তুমি সোমনাথ সুন্দরীদের নৃত্য অবলোকন করে মানবজন্ম সার্থক করতে পারো।’

    অঙ্গিরা মনস্থির করল, ত্রিপুরারিদেব যখন বললেনই তখন সে সন্ধ্যারতি, নৃত্যগীত অবেলোকন করবে। প্রধান পুরোহিতের কক্ষ ত্যাগ করে তাই সে এগোল গর্ভগৃহের দিকে। অন্যান্য মন্দিরকর্মী বা রক্ষীরা, সাধারণ সেবায়েতের দল ততক্ষণে তাদের কার্য সম্পাদন করে গর্ভগৃহ চত্বর ত্যাগ করে নীচে নেমে গেছে।

    গর্ভগৃহের কাছে এসে কিন্তু তার সামনে বেশ কিছু নারীকে দেখতে পেল অঙ্গিরা। তারা নৃত্যগীত পারদর্শী দেবদাসী না হলেও সেবাদাসী। পুষ্প চয়ন, মালাগাঁথা, পূজার উপাচার সংগ্রহ ইত্যাদি কাজে নিয়োজিত থাকে তারা। নানা আকৃতির অসংখ্য প্রদীপ সাজানো হয়েছে গর্ভগৃহর চৌকাঠের সামনে। সেবাদাসীর দল প্রদীপে তৈল সিঞ্চন করছে, কেউ-বা ধূপের পাত্র পরিপূর্ণ করছে তা প্রজ্বলনের আছে।

    গর্ভগৃহর সামনে থামের ওপর ধরে থাকা ছাদ-সম্মিলিত যে অঙ্গন আছে সেখানে একটা থামের গায়ে গিয়ে দাঁড়াল অঙ্গিরা। সেখানে সহপ্রধান পুরোহিত নন্দিবাহন আর মহারক্ষী প্রধান জয়দ্রথকেও দেখতে পেল।

    দেখতে পেয়ে নন্দিবাহন কিছু একটা কথা বললেন রক্ষীপ্রধানকে। তিনি অঙ্গিরার কাছে এগিয়ে এসে বললেন, ‘আপনাকে নীচে নেমে যাবার অনুরোধ জানাই। নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তি ব্যতিরেকে সন্ধ্যারতির সময় কারো এখানে থাকার অনুমতি নেই।’

    অঙ্গিরা জবাবে বলল, ‘প্রভু ত্রিপুরারিদেব আমাকে সন্ধ্যারতি দর্শনের অনুমতি প্রদান করেছেন। তার পরামর্শে আমি সন্ধ্যারতি দর্শনে এসেছি।’

    অঙ্গিরার বক্তব্য শুনে রক্ষী প্রধান মৃদু বিস্মিত হয়ে বললেন, ‘আমাকে মার্জনা করবেন। তাঁর নির্দেশ সম্পর্কে অবগত ছিলাম না। সন্ধ্যারতি দর্শন করুন।’ কথাগুলো বলে তিনি ফিরে গিয়ে তার নির্দিষ্ট স্থানে দণ্ডায়মান হলেন।

    গোধূলির শেষ আলো ছড়িয়ে সমুদ্রে ডুবে গেলেন সূর্যদেব। সেবাদাসীরা এক-এক করে প্রদীপগুলো জ্বালাতে শুরু করল। ঠিক সেই সময় গর্ভগৃহের সমুখের অঙ্গনের অপর পার্শ্বের সিঁড়ি বেয়ে সার বেঁধে উঠে আসতে লাগল দেবদাসী, সোমনাথ সুন্দরীরা। পরনে তাদের রেশমের উজ্জ্বল পোশাক, সালঙ্কারা, চন্দন চর্চিত মুখমণ্ডল, কবরী আর বাজুবন্ধতে ফুলমালার সাজ। ঘুঙুরের ছমছম শব্দে উঠে এসে অঙ্গনের একপাশে দাঁড়াল বারো জন অসামান্য রমণী। তাদের শরীরের সুগন্ধীর সুবাস বেশ কিছুটা তফাত থেকেই অনুভব করতে পারল অঙ্গিরা।

    অন্ধকার নামার সঙ্গে-সঙ্গেই প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের কাজ শেষ হল। আলোকিত হয়ে উঠল গর্ভগৃহর অঙ্গন। সেই হাজার প্রদীপের আলোক শিখায় মাঝে মাঝে ঝিলিক দিয়ে উঠতে লাগল দণ্ডায়মান রূপসীদের হীরকখচিত নথ। সুবর্ণ কঙ্কন। ঘণ্টাধ্বনি হতে শুরু করল এরপর।

    পুরোহিত নন্দিবাহন শাখা সম্মিলিত একটা প্রদীপ-দণ্ড তুলে নিয়ে স্তোত্র পাঠ করতে করতে গর্ভগৃহর চৌকাঠের সামনে দাঁড়িয়ে দেবতার উদ্দেশ্যে আরতি শুরু করলেন। দুজন নারী জ্বলন্ত ধূপ পূর্ণ পাত্র নিয়ে দণ্ডায়মান। ঘণ্টাধ্বনি, আরতিরত পুরোহিত নন্দিবাহনের ভরাট কণ্ঠস্বরে মন্ত্রোচ্চারণের শব্দ। ধূপের ধোঁয়াতে পরিপূর্ণ হয়ে উঠল গর্ভগৃহ চত্বর।

    নন্দিবাহন তাঁর আরতি শেষ করলেন এক সময়। এবার এগিয়ে এল দেবদাসীর দল। বাইরে থেকে দেবতার উদ্দেশ্যে প্রণাম জানিয়ে তারা শুরু করল সম্মিলিত নৃত্য। বাদ্যযন্ত্র আর ঘুঙুরের মুর্ছনায় কেঁপে উঠতে লাগল গর্ভগৃহর অঙ্গন। সম্মিলিত নৃত্যগীতের শব্দ গর্ভগৃহর অঙ্গন থেকে ছড়িয়ে পড়তে লাগল সোমেশ্বর মন্দিরের আনাচেকানাচে।

    কি রূপ সেই নর্তকীদের! শরীরের কি বিভঙ্গ! কি ছন্দময় অঙ্গ সঞ্চালন! প্রদীপের আলো যেন চুঁইয়ে পড়ছে মসৃণ রেশমের আবরণে আবৃত তাদের স্তন, নিতম্ব, বাহুমূল থেকে। দেবতা ইন্দ্রের নৃত্যসভা যেন স্বর্গ থেকে অবতীর্ণ হয়েছে সোমেশ্বর মহাদেবের মন্দিরে।

    অঙ্গিরা বিস্মিতভাবে অবলোকন করতে লাগল এই আশ্চর্য সুন্দর নৃত্যগীত। প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারিদেব যে-কোনও অতিশয়োক্তি করেননি তা বুঝতে পারল অঙ্গিরা। বেশ অনেকটা সময় ধরে দেবদাসীদের দলগত নৃত্য প্রদর্শন চলল। তারপর দেবতাকে প্রণাম জানিয়ে একপাশে সরে দাঁড়াল তারা।

    দুজন রমণী এসে দাঁড়াল গর্ভগৃহর প্রবেশদ্বারের সামনে। তারাও সালঙ্কারা, পুষ্পশোভিত দেবদাসী। এতক্ষণ নৃত্যগীতে অংশ নেয়নি তারা। কিন্তু, তাদের সৌন্দর্যের কাছে যেন ম্লান হয়ে গেল অন্য রূপসীরা। যেন উর্বশী আর রম্ভা এসে উপস্থিত হয়েছেন মহাদেবকে নৃত্য প্রদর্শনের জন্য! তাদের একজন মধ্যযৌবনা দেবদাসীশ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা, অপরজন সদ্য যৌবনবতী নবাগতা দেবদাসী সমর্পিতা।

    তাদের পরিচয় অবশ্য অঙ্গিরার জানা নেই। মাথা ঝুঁকিয়ে দেবতাকে প্রথমে প্রণাম জানাল তারা। অল্পবয়সি সদ্য যুবতীকে গর্ভগৃহের সমুখের অঙ্গনের কেন্দ্রস্থলে এনে দাঁড় করিয়ে পিছু হটে গেল তিলোত্তমা। নবাগতা দেবদাসী আজ সর্বপ্রথম এককনৃত্য পরিবেশন করবে সোমেশ্বর মহাদেবের সামনে। সেই মতো তাকে তালিম দিয়েছে দেবদাসী-শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা।

    বুকের কাছে তার মৃণালবাহু দুটো প্রার্থনার ভঙ্গীতে জড়ো করে কয়েক মুহূর্ত পাথরের মূর্তির মতো দাঁড়িয়ে রইল সেই কন্যা। তার পরনে জরির কাজ করা পট্টবস্ত্র, রক্তিম বক্ষ বন্ধনী। মেঘ রাশির মতো কুঞ্চিত কেশদাম, কাজল, কুমকুম চন্দন শোভিত মুখমণ্ডল, ক্ষীণ কটিদেশ, ভারী নিতম্ব শোভিত সেই নারীর দিকে অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে আছে সবাই। পুরোহিত নন্দিবাহনও তার ব্যতিক্রম নন।

    ধীরে ধীরে নৃত্যের ভঙ্গীতে অঙ্গ সঞ্চালন শুরু করল সেই নারী। বাদ্যযন্ত্রের তাল-লয় বৃদ্ধি পাবার সঙ্গে সঙ্গে ক্রমশ পরিস্ফুটিত হতে শুরু করল তার নৃত্যকৌশল। অঙ্গিরা অবাক হয়ে দেখতে লাগল তাকে। এ যেন কোনও নারী নয়, অপ্সরা! এত সৌন্দর্য কি কোনও মানবীর হতে পারে!

    শুধু অঙ্গিরা নয়, দেবদাসী-শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা, ত্রিপুরারিদেবের সহকারী নন্দিবাহন, রক্ষীধীশ জয়দ্রথ, যারা ইতিপূর্বে সোমেশ্বর মহাদেবের সামনে বহু দেবদাসীর নৃত্যপরাঙ্গম দেখেছেন, তারাও মুগ্ধ হয়ে দেখতে লাগল চালুক্যকন্যার নৃত্যশৈলী। ইতিপূর্বে এমন অনবদ্য নৃত্য তারাও যেন কেউ দেখেননি। মন্দিরে প্রস্তর স্তম্ভগুলোর গায়ে যত দেবতা, অক্ষর মূর্তি আছে তারাও যেন সব জীবন্ত হয়ে উঠে চেয়ে রইল তার দিকে।

    এক সময় অবশ্য সমাপ্ত হল সোমনাথ সুন্দরীর নৃত্যকলা। ভূগর্ভগৃহর চৌকাঠে মাথা ছুঁইয়ে দেবতাকে শেষ প্রণাম জানিয়ে উঠে দাঁড়াবার পর তাকে আর অন্য দেবদাসীদের নিয়ে সে স্থান থেকে অন্তর্হিত হল দেবদাসী শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা। গর্ভগৃহর দ্বার এবার বন্ধ হবে।

    কিন্তু দ্বার যখন বন্ধ হল তখনও সেই নৃত্যগীতের রেশ কাটেনি অঙ্গিরার। তার কানে তখন বেজে চলেছে নিক্কণ ধ্বনি, সঙ্গীত, বাদ্যযন্ত্রের মূর্ছনা। চোখের সামনে ভেসে উঠছে অপ্সরা সদৃশ সেই নারীর লাবণ্য চুঁইয়ে পড়া স্নিগ্ধ মুখমণ্ডল, শরীরী বিভঙ্গ! স্তম্ভের সামনেই চিত্রার্পিত ভাবে দাঁড়িয়ে রইল সে।

    গর্ভগৃহের স্বর্ণকপাট বন্ধ হয়ে গেল। এবার এই চত্বর পরিত্যাগ করতে হবে সবাইকে। প্রদীপের আলোগুলো এবার নিভু নিভু হয়ে এসেছে। অন্ধকার অপেক্ষা করছে গর্ভগৃহকে গ্রাস করে নেবার জন্য। সে স্থান পরিত্যাগ করতে লাগল সবাই। অঙ্গিরাকে একই স্থানে একই ভাবে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে রক্ষীপ্রধান তার কাছে এগিয়ে এসে বললেন, ‘এবার চত্বর ত্যাগ করতে হবে আমাদের।’

    জয়দ্রথের কথায় সম্বিত ফিরে পেয়ে তার সঙ্গেই সোপনশ্রেণীর দিকে এগোল অঙ্গিরা। সিঁড়ি বেয়ে নীচে নামতে নামতে জয়দ্রথকে বলল, ‘কী অপূর্ব নৃত্যগীত। মানব জন্ম যেন সার্থক হল! নীলবসনা এই দেবদাসী কে? যে একক নৃত্য পরিবেশন করল?’

    জয়দ্রথ জবাব দিলেন, ‘ওর পূর্বাশ্রমের নাম জানা নেই। সোমেশ্বর মহাদেব প্রাপ্ত নাম—সমর্পিতা। তবে শুনেছি ওই নারী চালুক্য রাজবংশ দুহিতা। মন্দিরে নবাগতা।’

    অঙ্গিরা বলল, ‘যেমন সে রূপবতী, তেমনই গুণবতী। স্বর্গের অপ্সরারাও মাথা নত করবেন ওর সামনে।’

    সিঁড়ির শেষ ধাপে নেমে এল তারা। নিজের বাসস্থানের দিকে এগোবার আগে মুহূর্তের জন্য হাসলেন রক্ষীপ্রধান। যুবক অঙ্গিরার উদ্দেশ্যে তিনি বললেন, ‘তবে মনে রাখবেন, দেবদাসীরা কিন্তু দেবতার কাছে সমর্পিত। তাদের একমাত্র আরাধ্য, একমাত্র নাথ সোমেশ্বর মহাদেব।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026
    Our Picks

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026

    কালীগুণীন ও চতুরঙ্গের ফাঁদ – সৌমিক দে

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }