Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    সোমনাথ সুন্দরী – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত এক পাতা গল্প332 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সোমনাথ সুন্দরী – ৬

    ৬

    অলঙ্কৃত স্তম্ভ সমন্বিত, বৃত্তাকার মর্মর পাথরের বিশাল অঙ্গনকে কেন্দ্র করে সার-সার কক্ষ-প্রকোষ্ঠ সমন্বিত এ স্থান সোমনাথ মন্দির প্রাকারের মধ্যে অবস্থান করলেও অন্য এক প্রাকার দিয়ে মন্দিরের অন্য অংশের থেকে বিচ্ছিন্ন করা আছে। মন্দিরের অন্য আবাসিকদের এ স্থানে প্রবেশ সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ না হলেও, কঠোর ভাবে নিয়ন্ত্রিত। প্রধান পুরোহিত ত্রিপুরারি অথবা সহকারী পুরোহিতদ্বয়ের অনুমতি সাপেক্ষে বিশেষ প্রয়োজনে এ স্থানে প্রবেশাধিকার পায় অন্যরা।

    মন্দির প্রাকারের অভ্যন্তরে মন্দির সংলগ্ন বিচ্ছিন্ন দ্বীপের মতো এ স্থান দেবদাসীদের আবাসস্থল। প্রাকার ও কক্ষ বেষ্টিত এই প্রাঙ্গণে দেবদাসী শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমার তত্ত্বাবধানে নৃত্যগীতের তালিম নেয় দেবদাসীরা। সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্তর মধ্যে সে সময়টুকুতে সূর্যদেবের দহন জ্বালা সহ্য করা সম্ভব নয়, সে সময় ব্যতিরেকে বাকি সময় এ প্রাঙ্গণ মুখরিত থাকে নূপুরের নিক্কণ ধ্বনি, বাদ্যযন্ত্রর শব্দ অথবা সঙ্গীতের মূর্ছনায়।

    এ প্রাঙ্গণে উপযুক্ত পারদর্শী হবার পর দেবদাসীদের উপস্থিত করা হয় সোমেশ্বর মহাদেবের সামনে। প্রাতঃকাল, দ্বিপ্রহর আর সায়াহ্নে দেবদাসীর উপযুক্ত সাজে সজ্জিত হয়ে প্রাঙ্গণের ঈশানকোণে যে সোপানশ্রেণী আছে তা বেয়ে গর্ভগৃহর সামনে গিয়ে উপস্থিত হয় তাদের নাথ, সোমেশ্বর মহাদেবকে তাদের নৃত্যগীত পরিবেশনের জন্য। সন্ধ্যারতি সাঙ্গ হলে দেবদাসীরা যখন ফিরে এসে আপন আপন কক্ষে প্রবেশ করে তখন নৃত্যগীত-কলহাস্য মুখরিত বিশাল এ প্রাঙ্গণে নিস্তব্ধতা নেমে আসে। জনশূন্য হয়ে যায় প্রাঙ্গণ। শুধু সমুদ্রের দিক থেকে ভেসে আসা নোনা বাতাস আর উর্মিমালার শব্দ পাক খায়, কেঁদে ফেরে প্রাকার বেষ্টিত এই প্রাঙ্গণে, অনেকটা ওখানকার বাসিন্দাদের হৃদয়ের মতো।

    এদিনও সোমেশ্বর মহাদেবের সামনে সন্ধ্যারতির নৃত্যগীত পরিবেশন করে নিজেদের কক্ষে ফিরেছে দেবদাসীরা। তারপর ঘুঙুর খুলে রেখে পোশাক পরিবর্তন করে শয্যা গ্রহণ করেছে। অন্ধকার থাকতেই ভোরের আলো ফোটার পূর্ব মুহূর্তে স্বর্ণ শিকলের শব্দের সঙ্গে সঙ্গে তাদেরও শয্যা ত্যাগ করতে হয়। প্রস্তুতি শুরু হয় তালিম, অনুশীলনের জন্য অথবা সোমেশ্বর মহাদেবকে প্রাতঃকালীন নৃত্যগীত পরিবেশনের জন্য। সারা দিনে তিন সময়ের মধ্যে কারা কখন ভগবানের সামনে নৃত্যগীত পরিবেশন করবে তা নির্ধারণ করে দেবদাসী-শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা।

    পাথুরে কক্ষটি বেশি প্রশস্ত নয়। বাহুল্য বলতে যা বোঝায় তেমন বিশেষ কিছু নেই। কাষ্ঠ নির্মিত, বস্ত্রখণ্ড সমন্বিত সাধারণ এক শয্যা আর সামান্য কিছু তৈজসপত্র রয়েছে কক্ষে। দেওয়াল গাত্রে ছোট-বড় বেশ কয়েকটি কুলুঙ্গি আছে। তার কোনওটিতে রাখা আছে মন্দির থেকে প্রাপ্ত পোশাক, ঘুঙুরের ছড়া। এ সবই অবশ্য মন্দিরের সম্পত্তি, ব্যক্তিগত কোনও জিনিস নয়। আর একটি বিশেষ কুলুঙ্গিতে চন্দনকাঠের বাক্সর মধ্যে রক্ষিত আছে সেই নীলকণ্ঠ ফুলের শুকনো মালা, দেবতার কাছে দেবদাসীদের নিজেকে সমর্পণের সাক্ষী ওই মালা। যে মালা পরানো ছিল প্রাণনাথ সোমেশ্বর মহাদেবের কণ্ঠে। নাথ নাকি ওই চন্দন পেটিকার মধ্যেই অবস্থান করেন দেবদাসীদের কক্ষে। প্রতি সন্ধ্যায় কক্ষে ফিরে এসে ওই ক্ষুদ্র পেটিকার সামনে প্রদীপ জ্বালায় দেবদাসীরা।

    সে প্রদীপের আলো অনেকক্ষণ নিভে গেছে। অন্ধকার কক্ষ। সমুদ্রের জলোচ্ছ্বাসের অস্পষ্ট শব্দ প্রাঙ্গণ অতিক্রম করে বন্ধ কপাটের ফাঁক গলে কক্ষে প্রবেশ করছে। প্রায় মধ্যরাত্রি। কোথাও আর কোনও শব্দ নেই।

    মাসাধিক কাল অতিক্রান্ত সোমনাথ মন্দিরে আছে রাজশ্রী। দেবতার কাছে উৎসর্গীকৃত সে এখন। তার নামকরণ করা হয়েছে সমর্পিতা। কিন্তু মনের ভিতরে সে এখনও রাজশ্রী থেকে সমর্পিতা হয়ে উঠতে পারছে না কিছুতেই।

    সোমেশ্বরের কাছে আত্মনিবেদনের পর নবজন্ম লাভ হয় দেবদাসীদের। পূর্ব জন্মের অর্থাৎ ফেলে আসা জীবনের কথা এখন মনে আনা নাকি পাপ! তেমনই তো বলে অন্যরা। কিন্তু কিছুতেই ভুলতে পারছে না ফেলে আসা দিনগুলোর কথা। বিশেষত, দিনশেষে এই নিস্তব্ধ রাত্রিগুলোতে সে যখন একা থাকে তখন তার নিজেকে বড় বেশি রাজশ্রী বলে মনে হয়।

    ঘুম আসতে চায় না রাজশ্রীর। ঠিক যেমন আজও আসছে না। চালুক্য রাজপরিবারে জন্ম হলেও সে অর্থে রাজকন্যা সে ছিল না। চালুক্য রাজ অম্বুজ তার খুল্লতাত। তারও একটি কন্যা আছে। যদিও তিনিই রাজশ্রীকে তুলে দিয়েছেন সোমেশ্বর মন্দিরে দেবদাসী হবার জন্য।

    এর আগে চালুক্য সিংহাসনের অধিপতি ছিলেন রাজশ্রীর পিতামহ ভদ্রসেন। দুই পুত্র ছিল তাঁর। জ্যেষ্ঠ, রাজশ্রীর পিতা অম্বরীষ, কনিষ্ঠ পুত্র অম্বুজ। চালুক্যরাজ ভদ্রসেনের বানপ্রস্থ লাভের পর সিংহাসনে বসার কথা ছিল জ্যেষ্ঠ পুত্র অম্বরীষের। সে ক্ষেত্রে রাজশ্রী হতো রাজকন্যা। কিন্তু বিধাতার ইচ্ছা ছিল অন্যরকম। অভিষেকের কিছু দিন পূর্বে অজ্ঞাত পরিচয় আততায়ীদের হাতে সস্ত্রীক নিহত হলেন অম্বরীষ। কাজেই সিংহাসনে বসলেন অম্বুজ।

    রাজশ্রীর পিতা-মাতার যখন মৃত্যু হয় তখন রাজশ্রীর মাত্র পাঁচ বৎসর বয়স। একথা ঠিকই যে রাজপ্রাসাদের এক কোণে বেশ কিছুটা অবহেলাতেই ধাই আর পরিচারিকাদের তত্ত্বাবধানেই সে বড় হয়ে উঠেছিল, তবুও সেখানে উন্মুক্ত বাতাস ছিল, চার দেওয়ালের মধ্যে এমন ঘেরাটোপে আটতে থাকতে হতো না তাকে। প্রাসাদের বাইরে কাছেপিঠে শিবিকাতে চেপে ভ্রমণের অনুমতিও ছিল তার। ছিল চেনা মানুষেরা।

    তাদের কেউ কেউ রাজশ্রীর প্রতি সমব্যথীও ছিলেন। যেমন বুড়ি ধাই কিস্কিন্ধ্যা। আর এই প্রাকারবেষ্টিত মন্দির, চারপাশে বহু মানুষজন কাউকেই তার আপন বলে মনে হয় না। অথচ এখানে আসার পর কেউ কোনও ধরনের দুর্ব্যবহার করেনি তার সঙ্গে। কিন্তু রাজশ্রীর কেন জানি মনে হয়, এখানে কেউ কারো নয়। সবাই সহাস্য বাক্যালাপ করলেও আসলে এখানকার সব কিছুই এক অদৃশ্য প্রাণহীন কঠোর অনুশাসনে মোড়া। এখানে সে সারাজীবন কাটাবে কীভাবে? অথচ এটাই কঠিন বাস্তব।

    সে এখন দেবদাসী, তার নাথ হলেন সোমনাথ। তিনিই এখন তার একমাত্র আরাধ্য। এই দেবদাসীদের আবাসস্থলই তার জীবনের শেষ আশ্রয়। তার স্বর্গবাসের নিশ্চিত ঠিকানা। কিন্তু এই সত্যটা কিছুতেই মেনে নিতে পারছে না রাজশ্রী।

    রাজসিংহাসন বা রাজকন্যার অধিকার কোনওদিন দাবি করেনি রাজশ্রী। তাকে যে কোনওদিন এখানে আসতে হবে তাও জানা ছিল না তার। সেদিন হঠাৎই অন্ধকার রাতে প্রাসাদের একপ্রান্তে তার কক্ষের সামনে শিবিকা নিয়ে হাজির হল একদল সৈনিক। তারা তাকে জানাল, চালুক্যরাজের নির্দেশ, শিবিকাতে উঠতে হবে তাকে। রাজি না হলে বলপ্রয়োগ করা হবে।

    রাজশ্রীর সেই মুহূর্তে তাদের কথা শুনে মনে হয়েছিল চালুক্যরাজ হয়তো বা তার রাজ্য থেকে বহিষ্কার করতে চাচ্ছেন রাজশ্রীকে। যাতে ভবিষ্যতে তাঁর অথবা তার মনোনীত উত্তরাধিকারীর সিংহাসনের ওপর কারো ক্ষীণতম দাবি না থাকে সে কারণে।

    প্রতিরোধ করার ক্ষমতা তার ছিল না। সে উঠে বসেছিল শিবিকাতে। কাষ্ঠনির্মিত শিবিকার দ্বার বন্ধ করে গোপনে প্রাসাদ ত্যাগ করেছিল রক্ষীরা। তারপর নানা পথ অতিক্রম করে, দীর্ঘ দিবস পরে যখন শিবিকার দ্বার উন্মোচিত হয়েছিল তখন প্রখর সূর্যালোকে চোখ ধাঁধিয়ে গিয়েছিল রাজশ্রীর।

    তাকে শিবিকা থেকে হাত ধরে বাইরে বের করল এক রূপসী নারী, দেবদাসী-শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা। তাদের কিছুটা তফাতে দণ্ডায়মান ছিলেন মুণ্ডিত মস্তক শিখাধারী সহ প্রধান পুরোহিত মল্লিকার্জুন। তখন অবশ্য তাদের কারোরই নাম পরিচয় জানা ছিল না রাজশ্রীর।

    একটু ধাতস্থ হবার পর তার চোখে পড়েছিল বিশাল এক মন্দির, তার শীর্ষদেশে প্রথিত স্বর্ণকলসের মাথায় উড্ডীন জয়ধ্বজ। প্রাকারের ওপর থেকে, মন্দির চত্বর থেকে ভেসে আসছিল জনস্রোতের তীব্র গর্জন। সে সব দেখেশুনে বিস্মিত রাজশ্রী অস্ফুট স্বরে জানতে চেয়েছিল, ‘এ কোন স্থান?’

    তিলোত্তমা জবাব দিয়েছিল, ‘এ স্থান প্রভাসপত্তনের সোমেশ্বর মন্দির। নরশ্রেষ্ঠ চালুক্যরাজ তোমাকে সমর্পণ করেছেন মন্দির কর্তৃপক্ষের নিকট। সোমেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষ ও গুর্জররাজ ভীমদেব, চালুক্যরাজের এই দান গ্রহণ করেছেন।’

    বিস্মিত রাজশ্রী জানতে চেয়েছিল, ‘কিন্তু আমি এখানে কী করব?’

    ‘তুমি দেবদাসী হবে। সোমেশ্বর মহাদেবের কাছে নিবেদন করা হবে তোমাকে। তিনি নাথ হবেন তোমার। তাকে নৃত্যগীত পরিবেশন করবে তুমি।’ জবাব দিয়েছিল তিলোত্তমা। আর সেদিনের পর থেকেই এই কক্ষ, বাইরের প্রাঙ্গন আর গর্ভগৃহর সমুখভাগে নৃত্যগীত পরিবেশনের স্থানই হল রাজশ্রীর পৃথিবী। সে আর এখন রাজশ্রী নয়। সোমেশ্বর মহাদেবের চরণে সমর্পিত দেবদাসী সমর্পিতা।

    প্রদীপের আলো নিভে গেছে অনেকক্ষণ। কিন্তু কিছুতেই যেন তার ঘুম আসছে না। কেমন যেন দমবন্ধ লাগছে রাজশ্রীর। তার মনে হতে লাগল অন্ধকারের মধ্যে চারপাশ থেকে পাথুরে দেওয়ালগুলো যেন এগিয়ে আসছে তাকে পিষে ফেলার জন্য! এক সময় সেই পরিস্থিতিতে থাকতে না পেরে শয্যা ত্যাগ করল সে। দরজার কপাট উন্মুক্ত করতেই এক ফালি চাঁদের আলো প্রবেশ করল কক্ষে।

    একটু ইতস্তত করে সে বাইরের প্রাঙ্গনে পা রাখল। এক ঝলক শীতল বাতাস তার শরীর স্পর্শ করল। জনশূন্য প্রাঙ্গণ। চারপাশের কক্ষগুলো ঘুমিয়ে পড়েছে। আকাশের চাঁদের আলো প্রাঙ্গণের সর্বত্র প্রবেশ করছে না, স্তম্ভগুলোর পাদদেশে জমাট বাঁধা অন্ধকার। সমুদ্রের দিক থেকে জলোচ্ছ্বাসের গর্জন আর নোনা বাতাস ভেসে আসছে। সেদিকে প্রাকারের গায়ে ছোট একটি পাথরের বেদি আছে ছত্রী সমেত। সেখানে বসে অনুশীলনের সময় পরিশ্রান্ত দেবদাসীরা বিশ্রাম নেয়। সেই বেদির ওপর উঠে দাঁড়ালে প্রাকারের ওপাশে সমুদ্র দর্শন হয়।

    ধীর পায়ে রাজশ্রী এগিয়ে গেল সেই বেদির দিকে। সমুদ্র গর্জন ক্রমশ তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। বেদির উপর উঠে দাঁড়িয়ে প্রাকারের বাইরে উঁকি দিল সে। চাঁদের আলোতে দৃশ্যমান মহাসমুদ্র। তরঙ্গমালা এসে তটরেখা অতিক্রম করে আছড়ে পড়ছে প্রাকারের গায়ে। তারা ভরা আকাশের নীচে সাপের মাথার মণির মতো ঢেউয়ের মাথায় চাঁদের প্রতিবিম্ব নাচতে নাচতে এগিয়ে এসে ভেঙে পড়ছে প্রাকারে। পরমুহূর্তেই আবার নতুন তরঙ্গমালা এগিয়ে আসছে চাঁদের মুকুট মাথায় নিয়ে।

    কিছুটা তফাতে চাঁদের আলোতে জেগে আছে সেই পাথুরে স্তম্ভটা। তার অর্ধেকাংশ বর্তমানে জোয়ারের জলে নিমজ্জিত। রাজশ্রী এখানে আসার পর শুনেছে ওই স্তম্ভই নাকি পৃথিবীর ভূমিভাগের শেষ সীমানা! সেই স্তম্ভের দিকে তাকিয়ে রাজশ্রীর মনে হল, যৌবনে পদার্পণ করার সঙ্গে-সঙ্গেই কি বিধাতা পুরুষ ওই স্তম্ভর মতোই তাকে জীবনের প্রান্ত সীমায় পৌঁছে দিলেন?

    বেশ কিছুটা সময় চন্দ্রালোকের নীচে তরঙ্গমালার দিকে চেয়ে রইল সে। সেই আদি-অন্তহীন জলরাশির দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে আর সমুদ্রর দিক থেকে ভেসে আসা শীতল বাতাসে অঙ্গ ভিজিয়ে এক সময় মনের অস্থিরতা যেন কিছুটা প্রশমিত হল তার।

    তালিম, দেবতার সমুখে সন্ধ্যারতি পরিবেশন এসবে পরিশ্রম কম হয়না শরীরের। তার ওপর আবার এদিন সন্ধ্যারতির সময় সমর্পিতার একক নৃত্য ছিল। এবার যেন ঘুম ভাবও নেমে আসতে লাগল তার চোখে। বেদি থেকে নেমে রাজশ্রী পা বাড়াল নিজের কক্ষে ফেরার জন্য।

    কিন্তু কয়েক পা এগিয়ে একটা অস্পষ্ট শব্দ শুনে থমকে দাঁড়িয়ে পড়ল সে। কিছুটা তফাতে প্রাকারের গায়ে মেঝের কাছে একটা বেশ বড় ছিদ্র আছে। প্রাঙ্গণের ধৌত কার্য সম্পন্ন হলে সে পথে জল প্রাঙ্গণের বাইরে নিষ্কাশিত হয়। শব্দ শুনে রাজশ্রী তাকিয়ে দেখল সে পথ দিয়ে সরিসৃপের মতো প্রবেশ করছে একটা দেহ! বুকে হেঁটে অঙ্গনে প্রবেশ করে দু-পায়ে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়াল সে।

    এক নারীমূর্তি! যদিও তার মুখ অবগুণ্ঠনে আবৃত। সতর্ক দৃষ্টিতে চার দিকে একবার তাকিয়ে নিয়ে হয়তো-বা সে প্রাঙ্গণ সংলগ্ন কোনও কক্ষর দিকে এগোতে যাচ্ছিল, কিন্তু হঠাৎই তার চোখ পড়ে গেল তার হাত পাঁচেক তফাতে থামের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা রাজশ্রীর ওপর। তাকে দেখে যেন কেঁপে উঠল সেই নারী। হঠাৎ কোনও গোপন কার্য সম্পাদনের সময় কারো চোখে ধরা পড়ে গেলে যেমন হয়।

    অবগুণ্ঠন সেই কাঁপনের ফলে সরে গেল তার মুখ থেকে। রাজশ্রী চিনতে পারল তাকে। এ নারীর সঙ্গে তেমন বাক্যালাপের সুযোগ না ঘটলেও তার সঙ্গে একদিন সম্মিলিত নৃত্য প্রদর্শন করেছে সমর্পিতা। তার সামনে যে দাঁড়িয়ে আছে সে ও একজন দেবদাসী। তার নাম উত্তরা। সে ও চিনতে পারল তাকে। বিস্মিত কণ্ঠে বলে উঠল, ‘সমর্পিতা তুমি!’

    সমর্পিতাও গভীর রাত্রে এভাবে তাকে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেখে কম বিস্মিত হয়নি। সে জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, আমি। ঘুম আসছিল না তাই প্রাঙ্গণে বেরিয়েছিলাম।’

    একথা বলার পর সে কৌতূহল নিরসনের জন্য প্রশ্ন করল, ‘তোরণ পথে প্রবেশ না করে ছিদ্রপথ দিয়ে ওভাবে প্রাঙ্গণে প্রবেশ করলে কেন?’

    উত্তরা বুঝতে পারল এই নবাগতা সমর্পিতার চোখে সে ধরা পড়ে গেছে। তার আবির্ভাবের দৃশ্য প্রত্যক্ষ করেছে সে। একটু ইতস্তত করে উত্তরা জবাব দিল, ‘তোরণ তো বন্ধ থাকে। তাছাড়া এই তোরণ তো অতিক্রম করার অনুমতি নেই কারও। ব্যতিক্রম একমাত্র দেবদাসী-শ্রেষ্ঠা তিলোত্তমা।’

    সমর্পিতা মৃদু হেসে বলল ‘ওই জল নিষ্কাশন ছিদ্রই বুঝি তবে বাইরে যাবার পথ?’

    উত্তরা জবাব দিল, ‘হ্যাঁ, ওই ছিদ্রই তো জীবনের সঙ্গে আমাদের একমাত্র যোগসূত্র। বেঁচে থাকার একমাত্র রাস্তা।’

    সমর্পিতা মৃদু বিস্মিত ভাবে জানতে চাইলে, ‘এ কথার মানে?’

    উত্তরা কয়েক মুহূর্ত চুপ করে রইল। তারপর বলল, ‘প্রায় দশ বৎসর অতিক্রান্ত হয়ে গেছে আমি এই চার দেওয়ালের মধ্যে আবদ্ধ। আমার যখন দ্বাদশ বৎসর বয়স তখন অবন্তী রাজ্য থেকে এক শ্রেষ্ঠী আমাকে এক দাসের হাট থেকে ক্রয় করে গুর্জর প্রদেশে এনে উপহার দেয় রাজা কুমারপালকে। আমি ষোড়শ বর্ষে পদার্পণ করলে রাজা আমাকে সোমেশ্বর মন্দির কর্তৃপক্ষর হাতে তুলে দেয়। তারপর থেকে আমি এখানেই আছি।

    অন্ধকার রাত হলেও ওই ছিদ্রপথই আমাকে বাইরের পৃথিবীর আলো দেখায়। শুধু আমি নয়, হয়তো-বা আরও কাউকে কাউকে। যারা আমার তোমার মতো বন্দি জীবন কাটাচ্ছে এখানে। ওই বহির্নির্গমনের গোপন পথ না থাকলে এতদিনে হয়তো পাগল হয়ে যেতাম। আহার গ্রহণই তো শেষ কথা নয়, মন আর শরীর বলেও তো কিছু আছে।’ একটানা কথা বলে থামল উত্তরা।

    সমর্পিতা বুঝল তার মধ্যে যে দমবন্ধ করা মানসিক ভাব আছে তা হয়তো এখানে সবার মধ্যে চাপা আছে। সে জানতে চাইল, ‘ওই জল নির্গমনের পথ দিয়ে যে আসা-যাওয়া করা হয় তা তিলোত্তমা বা পুরোহিতরা জানেন?’

    প্রশ্ন শুনে দেবদাসী উত্তরার ঠোঁটের কোণে আবছা একটা হাসি ফুটে উঠল। সে বলল, ‘তারা জানুন বা না জানুন, ধরা পড়লে কিন্তু নিস্তার নেই। ভয়ঙ্কর শাস্তি অপেক্ষা করে থাকে তার জন্য। একবার সেবায়েত প্রধানের হাতে ধরা পড়ে গেছিল এক দেবদাসী। যেই না সে ওই ফোঁকর গলে বাইরে বেরিয়েছে অমনি একদল সেবায়েত ধরে ফেলল তাকে। পুরোহিতরা শাস্তি বিধান করল তার। তিন দিন ‘কীট কক্ষে’ বাস করতে হবে তাকে।

    এই চত্বরের নীচে একটা ভূগর্ভস্থ কক্ষ আছে তার নাম ‘কীট কক্ষ’। বৃশ্চিক, নানা ধরনের বিষাক্ত কীট পরিপূর্ণ কক্ষ। সেখানে নামিয়ে দেওয়া হল সেই দেবদাসীকে। তিনদিন পর তাকে যখন সেখান থেকে ওপরে উঠিয়ে এনে এই চত্বরে আমাদের সামনে হাজির করা হয়েছিল, তখন তাকে দেখে শিউরে উঠেছিলাম সবাই। সারা শরীরে তার কীটের বীভৎস দংশন চিহ্ন। চোখের মণি, স্তনবৃন্ত সবই খুবলে খেয়েছে কীটের দল। মেয়েটা বাঁচেনি। বাঁচার কথাও নয়। প্রাঙ্গণে তাকে শোয়াবার পর একবার সে প্রাণভরে শ্বাস নিয়েছিল, তারপর চিরজীবনের জন্য মুক্তি পেয়েছিল এই বন্দি জীবন থেকে।’

    উত্তরার কথা শুনে সেই হতভাগ্য নারীর কথা মনে করে যেন শিউরে উঠল সমর্পিতার শরীর।

    সে বলল, ‘তবু তোমরা বাইরে যাও?’

    উত্তরা মৃদু হেসে বলল, ‘হ্যাঁ, যাই। সেই ভয়ঙ্কর শাস্তির কথা অবগত হওয়া সত্ত্বেও যাই। নইলে হয়তো উন্মাদ হয়ে যেতে হবে। যেমন অনেকে ইতিপূর্বে হয়েছে।’

    জবাব দেবার পর উত্তরা বলল, ‘এবার আমি কক্ষে প্রবেশ করি। আর কক্ষের বাইরে থাকা সমিচীন নয়। আশা করি আমাদের এই কথোপকথন অন্যদের থেকে গোপন রাখবে। তুমি নিশ্চই চাইবে না যে আমাকেও কীট কক্ষে নিক্ষেপ করা হোক?’

    সমর্পিতা জবাব দিল, ‘তুমি নিশ্চিত থাকো, আমাদের এই সাক্ষাৎ বা কথোপকথনের কথা কোথাও প্রকাশ পাবে না।’ সমর্পিতার জবাব শুনে আশ্বস্ত হয়ে মৃদু হেসে প্রাঙ্গণ সংলগ্ন এক কক্ষের দিকে এগিয়ে নিঃশব্দে সেই কক্ষের ভিতর অদৃশ্য হল দেবদাসী উত্তরা। আর রাজশ্রী—দেবদাসী সমর্পিতাও ফিরে এল তার কক্ষে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরানি হাটশেপসুটের মমি – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    Next Article ভয় ভয়ঙ্কর – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    Related Articles

    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    March 20, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    সাদা বিড়াল – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    January 31, 2026
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    নেকড়ে খামার – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ১ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 10, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র ২ – হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত

    জাদুকর সত্যচরণের জাদু কাহিনি – হিমাদ্রি কিশোর দাশগুপ্ত

    December 9, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }