Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    স্বামীজীকে যেরূপ দেখিয়াছি – ভগিনী নিবেদিতা

    ভগিনী নিবেদিতা এক পাতা গল্প379 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৫. সমাধি

    পঞ্চবিংশ পরিচ্ছেদ
    সমাধি

    যে ব্যক্তি একখানি সরু তক্তার উপর দিয়া কোন গভীর গহ্বর (খাদ) পার হয়, যে কোন মুহূর্তে হঠাৎ তাহার সমস্ত অভ্যস্ত সংস্কার ও অনুভূতির কথা মনে উদিত হইবার সঙ্গে সঙ্গে সেই অত্যুচ্চ স্থান হইতে পড়িয়া যাইবার আশঙ্কা থাকে। আমাদের সাধারণ অভিজ্ঞতার বাহিরে যে মনোরাজ্য অবস্থিত তাহাতে মধ্যে মধ্যে মানবের প্রবেশলাভ সম্পর্কে শাস্ত্রে আমরা যে-সকল গল্প লিপিবদ্ধ দেখিতে পাই, তাহারাও অনেকটা এই রকমের। সমুদ্রের উপর দিয়া হাঁটিতে হাঁটিতে যে মুহূর্তে পিটারের মনে পড়িল তিনি কোথায় রহিয়াছেন, অমনি তিনি ডুবিয়া যাইতে আরম্ভ করিলেন। পর্বতপার্শ্বে নিদ্রিত কয়েকজন ক্লান্ত ব্যক্তি জাগ্রত হইবার পর দেখিলেন, তাহাদের আচার্যদেব সম্পূর্ণ নূতন আকৃতিতে পরিবর্তিত হইয়া সম্মুখে বিদ্যমান। কিন্তু আবার তাঁহারা এই পার্থিব জগতে নামিয়া আসিলেন; আর ইতিমধ্যেই সেই অপূর্ব দর্শন অন্তর্হিত হইয়া স্মৃতিমাত্রে পর্যবসিত হইয়াছে। রাত্রিকালে ক্ষেতের মধ্যে বসিয়া মেষপাল পাহারা দিতে দিতে মেষপালকগণ অস্ফুটস্বরে উচ্চ ধর্ম-প্রসঙ্গ করিতেছে, সহসা তাহারা দেবদূতগণের আবির্ভাব দেখিতে পাইল। কিন্তু সেই মুহূর্ত কয়টি চলিয়া গেল, সঙ্গে সঙ্গে সেই স্থানে এবং কালে মনের সেই উচ্চ অবস্থাও চলিয়া গেল; আর একি! সেই দেবদূতগণও আকাশ হইতে অন্তর্হিত হইলেন! তাহাদের শ্রোতৃবৃন্দ নিকটবর্তী গ্রামে যে অসাধারণ ব্যাপার ঘটিয়াছে, তাহা দেখিবার জন্য সাধারণ লোকের ন্যায় পদব্রজে যাইতে বাধ্য হইল।

    ভারতীয় আদর্শ ইহার বিপরীত। তিনিই ভারতের আদর্শ পুরুষ, মনের প্রবৃত্তিসমূহ যিনি এমন সম্পূর্ণরূপে বশীভূত করিয়াছেন যে, যে-কোন মুহূর্তে চিন্তাসমুদ্রে অবগাহন করিয়া ইচ্ছামত সেখানে অবস্থান করিতে পারেন; যিনি দুর্দম তন্ময়তাস্রোতে সম্পূর্ণরূপে ভাসিয়া যাইতে পারেন—সহসা ঐ ভাব ভঙ্গ হইয়া অপ্রত্যাশিতভাবে পুনরায় ইন্দ্রিয়ের রাজ্যে প্রত্যাবর্তনের বিন্দুমাত্র সম্ভাবনা থাকে না। অবশ্য শিক্ষার গভীরতা ও অনুভূতির গাঢ়তা এই শক্তিলাভের সহায়ক হয়। কিন্তু উহা সম্পূর্ণরূপে আয়ত্ত করিবার একমাত্র উপায় হইল কঠোর আত্মনিয়ন্ত্রণ—এত কঠোর যে, সাধক যেন ইচ্ছামাত্র চিন্তারও বাহিরে চলিয়া যাইতে পারেন। যিনি নিজ মনকে এরূপ একাগ্র করিতে পারেন যে, ইচ্ছামাত্র উহাকে সম্পূর্ণ নিরোধ করিতে সমর্থ, তাঁহার নিকট মন আজ্ঞাবাহক ভৃত্য, অথবা দ্রুতগামী অশ্বের ন্যায় হইয়া যায় এবং শরীরও মনের অনুগত প্রজারূপে পরিণত হয়। এরূপ ক্ষমতা লাভ না করা পর্যন্ত সিদ্ধি—সম্পূর্ণ অবিচলিত আত্মসংযম আসে না। একপুরুষে এরূপ কয়জন জন্মগ্রহণ করেন, যাহারা এইরূপ উচ্চাধিকারী হইতে পারেন? এইরূপ মহাপুরুষের কার্য ও কথায় এমন একটা জ্যোতি, এমন একটা দৃঢ় প্রত্যয় থাকে, যাহা বুঝিতে ভুল হয় না। বাইবেলের ভাষায়, “তাহারা এমনভাবে কথা বলেন, যেন তাহাদের ‘চাপরাস’ আছে, তাহারা কেবল পুঁথিপড়া পণ্ডিতমাত্র নন।”

    আরও দেখুন
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    গ্রন্থাগার
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স
    পিডিএফ
    বুক শেল্ফ
    বিনামূল্যে বই
    সাহিত্য পত্রিকা
    PDF
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা ই-বই

    একথা নিঃসন্দেহ যে, বালক নরেন্দ্রকে প্রথম দর্শনেই শ্রীরামকৃষ্ণ ‘আজন্ম ব্রহ্মজ্ঞানী’ বলিয়া বুঝিতে পারেন, এবং সুদক্ষ ইঞ্জিনীয়ার কর্তৃক কোন প্রবাহের বেগ নিরূপণের ন্যায় ইতিমধ্যেই বালক কতদূর মানসিক উচ্চাবস্থা লাভ করিয়াছে, তাহাও তিনি ধরিতে পারেন। আগ্রহের সহিত তিনি জিজ্ঞাসা করেন,”হাগা, তুমি কি ঘুমুবার আগে একটা জ্যোতি দেখতে পাও?” সবিস্ময়ে বালক উত্তর দিলেন, “কেন, সকলেই কি দেখে না?” পরবর্তী কালে প্রায়ই তিনি এই প্রশ্নটির উল্লেখ করিতেন এবং প্রসঙ্গক্রমে তিনি যে জ্যোতি দেখিতেন, তাহার বর্ণনা দিতেন। কখন কখনও ঐ জ্যোতি একটি গোলকের মতো হইত, এবং একটি বালক পা দিয়া উহা তাহার দিকে ছুঁড়িয়া দিত। ক্রমে উহা নিকটবর্তী হইলে, তিনি উহার সহিত এক হইয়া যাইতেন এবং সমস্ত জগৎ বিস্মৃত হইতেন। কখনও উহা অগ্নিপুঞ্জের মতো দেখাইত, এবং তিনি উহার মধ্যে প্রবেশ করিতেন। বিস্মিতচিত্তে আমরা ভাবি, যে নিদ্রার প্রারম্ভ এইরূপ তাহা কি আদৌ সেই নিদ্রা—যাহা আমরা সচরাচর নিদ্রা বলিতে বুঝিয়া থাকি? সে যাহা হউক, যে-সকল ব্যক্তি স্বামী বিবেকানন্দের সমবয়স্ক যুবক ছিলেন, তাহারা বলেন, বিবেকানন্দ নিদ্রিত হইলে তাহাদের গুরুদেব তাহার নিঃশ্বাস-প্রশ্বাস লক্ষ্য করিয়া অপর সকলকে বলিতেন, “উহাকে নিদ্রিত বলিয়া মনে হইতেছে মাত্র এবং এখন ধ্যানাবস্থার কোন্ স্তরে তিনি উপনীত হইয়াছেন, তাহা সকলকে বুঝাইয়া দিতেন।

    আরও দেখুন
    সাহিত্য পত্রিকা
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    ই-বই ডাউনলোড
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    PDF
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ভাষা শিক্ষার অ্যাপ
    বাংলা সাহিত্য কোর্স

    শ্রীরামকৃষ্ণ যখন কাশীপুর উদ্যানে পীড়িত হইয়া অবস্থান করিতেছেন, সেই সময় একদিন স্বামীজী ঐরূপ কয়েকঘণ্টাকাল যেন নিদ্ৰাই যাইতেছিলেন বলিয়া সমীপন্থ ব্যক্তির মনে হয়। প্রায় মধ্যরাত্রে তিনি সহসা চিৎকার করিয়া ওঠেন, “আমার শরীর কোথায়?” তাহার সঙ্গী–বর্তমানে গোপালদাদা নামে পরিচিত বৃদ্ধ সাধু দৌড়িয়া তাহার নিকটে গিয়া সজোরে সমস্ত অঙ্গ ডলিয়া দিয়া মস্তকের নিম্ন হইতে শরীরের লুপ্ত অনুভূতি ফিরাইয়া আনিতে যথাসাধ্য চেষ্টা করিলেন। যখন তাহার সব চেষ্টা ব্যর্থ হইল এবং নরেন্দ্র তখনও বিশেষ কষ্ট ও আতঙ্ক অনুভব করিতেছেন, তখন গোপালদাদা দৌড়িয়া শ্রীরামকৃষ্ণের নিকট গিয়া শিষ্যের অবস্থা তাহাকে জানাইলেন। তিনি শুনিয়া একটু হাসিয়া বলিলেন, “থাক ঐরকম! কিছুক্ষণ ঐভাবে থাকলে ওর কোন ক্ষতি হবে না। ঐ অবস্থা লাভ করবার জন্য সে আমাকে অনেক জ্বালাতন করেছে।” পরে তিনি গোপালদাদা ও অন্যান্য সকলকে বলেন, নরেন্দ্রের নির্বিকল্প সমাধিলাভ হইয়াছে; এখন তাহাকে কাজ লইয়া থাকিতে হইবে। স্বামীজী স্বয়ং পরে এই অবস্থা সম্বন্ধে তাহার গুরুভ্রাতা স্বামী সারদানন্দের নিকট এইরূপবর্ণনা করেনঃ “মাথার ভেতরে যেন একটা আলো দেখতে পাচ্ছিলাম; সেটা এত উজ্জ্বল যে, আমি ধরেই নিয়েছিলুম আমার মাথার পিছনে কেউ একটা উজ্জ্বল আলো রেখে গিয়ে থাকবে।” অতঃপর ইন্দ্রিয়ানুভূতির সকল বন্ধন ছিন্ন হওয়ায় তিনি সেই রাজ্যে উত্তরণ করেন, যতো বাচো নিবর্তন্তে অপ্রাপ্য মনসা সহ’, একথা আমরা সহজেই অনুমান করিতে পারি।

    আরও দেখুন
    ই-বই ডাউনলোড
    ই-বুক রিডার
    বাংলা লাইব্রেরী
    বাংলা ইসলামিক বই
    বিনামূল্যে বই
    বাংলা অডিওবুক
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    গ্রন্থাগার
    Books
    বাংলা ভাষা

    বুঝিতে হইবে যে, মনকে একাগ্র করিবার জন্য সর্বপ্রথম আমাদের দেহকে ভুলিতে পারা চাই। এই উদ্দেশ্যেই লোকে তপস্যা ও কৃচ্ছসাধনের অভ্যাস করিয়া থাকে। কিছুকাল কঠোর তপস্যায় কাটাইবার চিন্তা আজীবন স্বামীজীর নিকট আনন্দদায়ক ছিল। নির্ভীকভাবে বিজয়ীর ন্যায় সংসারে বিচরণ করিয়া বেড়াইলেও প্রায়ই তিনি তপস্যা-প্রসঙ্গ উত্থাপন করিতেন। সুদক্ষ অশ্বারোহী যেমন অশ্বের লাগাম ধরিয়া দেখে, অথবা প্রসিদ্ধ সঙ্গীত-বিশারদ যেমন বাদ্যযন্ত্রের পর্দার উপর অঙ্গুলি সঞ্চালন করিয়া দেখে, তিনিও সেইরূপ বার বার দেখিতে ভালবাসিতেন, শরীরটা ইচ্ছাশক্তির সম্পূর্ণ বশে চলে কি-না—যন্ত্রের উপর এখনও তাঁহার পূর্ববৎদখল আছে কি-না, নূতন করিয়া দেখিতে তিনি প্রীতি অনুভব করিতেন। জীবনের অন্তিমকালে তিনি বলেন, “দেখছি, আমি এখনো যা ইচ্ছা করতে পারি।” ঐ সময় কলকাতার গ্রীষ্মকালের কয়মাস তিনি জলপান না করিয়া থাকিতে স্বীকৃত হন। অবশ্য মুখ ধুইবার নিষেধ ছিল না। সেই সময় তিনি দেখেন যে, একবিন্দু জল প্রবেশ করিতে গেলেও তাহার গলার পেশীসমূহ আপনা হইতে বন্ধ হইয়া যাইত, সুতরাং ইচ্ছা করিলেও তিনি জল পান করিতে পারিতেন না। কোন ব্রত উপলক্ষে যখন তিনি উপবাস করিতেন, তখন তাহার নিকট অবস্থানকালে অপরেরও খাদ্যসামগ্রী অনাবশ্যক বোধ হইত, এবং চেষ্টা করিয়াও ঐ বিষয়ে রুচি হইত না। একটি ঘটনার কথা আমি এইরূপ শুনিয়াছি যে, তিনি বসিয়াছিলেন, এবং তাহার চারিপার্শ্বে উপবিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তি তর্ক-বিতর্ক করিতেছিল; মনে হইতেছিল, ঐ সকল কথা তিনি শুনিতেছেন না। হঠাৎ তাহার হস্তস্থিত একটি শূন্য কাচের গ্লাস মাটিতে নিক্ষিপ্ত হইয়া চূর্ণ হইয়া গেল—ঐ তর্কে তাহার যে কষ্টবোধ হইতেছিল, ঐটুকুই তাহার নিদর্শন।

    আরও দেখুন
    অনলাইন গ্রন্থাগার
    বাংলা ই-বই
    বইয়ের
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা বই
    অনলাইন বুক
    বাংলা সাহিত্য
    নতুন উপন্যাস
    বই
    বাংলা ই-বুক রিডার

    যে কঠোর সাধনার দ্বারা এই আত্মসংযমশক্তি বিকাশলাভ করিয়াছে, তাহা হৃদয়ঙ্গম করা সহজ নহে! হয়তো কত ঘণ্টা পূজা ও ধ্যানে অতিবাহিত হইয়াছে, কতক্ষণ ধরিয়া একদৃষ্টে তাকাইয়া থাকিতে হইয়াছে এবং দীর্ঘকাল আহার ও নিদ্রা পরিত্যাগ করিতে হইয়াছে! শেষোক্ত ব্যাপারে বস্তুতঃ এক সময়ে পচিশ দিন ধরিয়া তিনি চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে মাত্র আধঘণ্টা নিদ্রা যাইতেন। আবার এই অর্ধঘণ্টা নিদ্রা হইতেও তিনি নিজেই জাগিয়া উঠিতেন। সম্ভবতঃ ইহার পর নিদ্রা আর কখনও তাহাকে পীড়াপীড়ি করিতে বা বহুক্ষণ ধরিয়া রাখিতে পারে নাই। তাহার ‘যোগীর চক্ষু ছিল। বাল্যকালে যখন তিনি গঙ্গাবক্ষে শ্রীযুক্ত দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের বজরায় উঠিয়া তাহাকে প্রশ্ন করেন, “মহাশয়, আপনি কি ঈশ্বরকে দেখেছেন?”—তখন তিনি তাহাকে একথা বলেন। যোগীর চক্ষু কদাপি সম্পূর্ণরূপে মুদ্রিত হয় না, এবং সূর্যোদয় হইবামাত্র একেবারে উন্মীলিত হইয়া যায়, ইহাই প্রবাদ। পাশ্চাত্যে যাহারা তাহার সহিত একগৃহে অবস্থান করিতেন, তাহারা শুনিতে পাইতেন, রাত্রিশেষে স্নান করিবার সময় তিনি পরব্রহ্ম অথবা ঐ জাতীয় কোন নাম সুর করিয়া আবৃত্তি করিতেছেন। তাহাকে কঠোরতা অভ্যাসকরিতে কখনও দেখা যাইত না, কিন্তু তাহার সমগ্র জীবন এরূপ প্রগাঢ় তন্ময়তাপূর্ণ ছিল যে, অপর কাহারও নিকট উহাই কঠোর তপস্যা বলিয়া প্রতীত হইত। আমেরিকার ন্যায় রেলরাস্তা, ট্রাম প্রভৃতি যানবহুল ও জটিল নিমন্ত্রণ-তালিকার দেশে প্রথমদিকে তাহাকে ধ্যানে তন্ময় হইবার প্রবণতা কিরূপ কষ্টে দমন করিতে হইত, তাহার আমেরিকাবাসী বন্ধুগণ তাহা প্রত্যক্ষ করিয়াছেন। তাহাকে স্বগৃহে আমন্ত্রণকারী জনৈক ভারতবাসী বলেন, “ধ্যান করতে বসলে দশ মিনিট যেতে না যেতেই তিনি বাহ্যজ্ঞানশূন্য হয়ে পড়তেন, যদিও তার শরীর মশায় ছেয়ে যেত।” এই অভ্যাস তাঁহাকে দমন করিতে হইত। প্রথম দিকে, লোকে হয়তো রাস্তার অপর প্রান্তে অপেক্ষারত, এদিকে তিনি গভীর চিন্তায় নিমগ্ন বাহ্যজ্ঞানশূন্য। ইহাতে তিনি বিশেষ লজ্জিত হইতেন। একবার নিউ ইয়র্কে একটি ক্লাসে তিনি ধ্যান শিক্ষা দিতেছেন, শেষে দেখা গেল কিছুতেই তাহার বাহ্যসংজ্ঞা ফিরিয়া আসিতেছে না; অতঃপর ছাত্রগণ একে একে নিঃশব্দে প্রস্থান করিল। পরে এই ব্যাপারটি শুনিয়া তিনি অতীব মর্মাহত হন এবং পুনরায় কখনও ক্লাসে ধ্যান শিক্ষা দিতে সাহস করেন নাই। নিজেব ঘরে দুই-একজনকে সঙ্গে লইয়া ধ্যান করিবার সময় তাহাদের কোন একটি কথা বলিয়া দিতেন, যাহা পুনঃ পুনঃ উচ্চারণ করিলে তাহার বাহ্যচৈতন্য ফিরিয়া আসিত।

    আরও দেখুন
    ই-বই ডাউনলোড
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    Library
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    বইয়ের
    বাংলা উপন্যাস
    PDF
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    কিন্তু ধ্যানের সময়ের কথা একেবারে ছাড়িয়া দিলেও তিনি প্রায় সর্বদাই চিন্তায় তন্ময় হইয়া যাইতেন। দশজনে মিলিয়া গল্প-গুজব, হাস্য-পরিহাস চলিতেছে, এমন সময় দেখা গেল, তাহার নয়নদ্বয় স্থির হইয়া গিয়াছে, শ্বাসপ্রশ্বাসের গতি ক্রমেই রুদ্ধ হইয়া অবশেষে একেবারে স্থির; তারপর ধীরে ধীরে পুনরায় পূর্বাবস্থাপ্রাপ্তি। তাহার বন্ধুগণ এ বিষয়ে অবহিত ছিলেন এবং সেইমতো ব্যবস্থা করিতেন। দেখা করিবার উদ্দেশ্যে কাহারও বাড়িতে প্রবেশ করিয়া যদি তিনি কথা কহিতে ভুলিয়া যাইতেন, অথবা যদি তাহাকে কোন ঘরে নিঃশব্দে বসিয়া থাকিতে দেখা যাইত, তাহা হইলে কেহ তাহাকে বিরক্ত করিত না, যদিও কখন কখনও তিনি নিজেই উঠিয়া মৌনভঙ্গ না করিয়াই আগন্তুককে সাহায্য করিতেন। এইরূপে তাহার মন অন্তরেই সমাহিত থাকিত, বাহিরের বস্তু অন্বেষণ করিত না। তাহার চিন্তার উচ্চতা ও পরিব্যাপ্তি সম্বন্ধে তাহার কথাবার্তাই ছিল আমাদের নিকট ইঙ্গিত। তাহার প্রসঙ্গ ছিল সর্বদা নিগুণ তত্ত্ব সম্পর্কে। যাহাকে লোকে সচরাচর ধর্মপ্রসঙ্গ বলিয়া অভিহিত করে, উহা ঠিক তদনুরূপ ছিল না–তাহার গুরুদেব সম্পর্কেও ঐকথা প্রযোজ্য। অনেক সময়েই প্রসঙ্গের বিষয় ছিল ঐহিক। কিন্তু উহার পরিধি ছিল অতি বিস্তৃত। যাহার মধ্যে কদাপি কোন নীচতা, সঙ্কীর্ণতা, বা ক্ষুদ্রতা থাকিত না; কোথাও সহানুভূতি সঙ্কোচপ্রাপ্ত হইত না। এমনকি, তাঁহার বিরুদ্ধ সমালোচনাও মনে হইত—কেবল সংজ্ঞানির্দেশক ও বিশ্লেষণমূলক, কোনপ্রকার বিদ্বেষ বা ক্রোধ উহাতে থাকিত না। নিজের সম্বন্ধে তিনি একদিন বলেন, “আমি একজন অবতারের পর্যন্ত বিরুদ্ধ সমালোচনা করিতে পারি, অথচ তার দ্বারা তার প্রতি আমার ভালবাসা বিন্দুমাত্র হ্রাস পাবে না। কিন্তু আমি ভাল করেই জানি, অধিকাংশ লোকই তা পারবে না, তাদের পক্ষে নিজ নিজ ভক্তিটুকু বাঁচিয়ে রাখাই সবচেয়ে নিরাপদ।” তাহার বিশ্লেষণ শ্রবণে শ্রোতার মনেও আলোচ্য বিষয়ের প্রতি কোন বিরাগ বা ঘৃণার ভাব অবশিষ্ট থাকিত না।

    আরও দেখুন
    বাংলা গল্প
    Library
    বইয়ের
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    বই
    অনলাইন বই
    বাংলা ক্যালিগ্রাফি কোর্স

    জগতের প্রতি এই উদার ও মধুর দৃষ্টিভঙ্গি তাহার গুরুভক্তির উপর দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত ছিল। একবার তিনি বলেন, “আমার ভক্তি কুকুরের প্রভুভক্তির মতো। আমি কারণ খুঁজি না। পদানুসরণ করেই আমি সন্তুষ্ট।” শ্রীরামকৃষ্ণেরও নিজ গুরু তোতাপুরীর প্রতি অনুরূপ মনোভাব ছিল। এই আচার্যশ্রেষ্ঠ একদিন আম্বালার নিকটবর্তী কৈথাল নামক স্থানে নিজ শিষ্যগণকে এই বলিয়া চলিয়া আসেন, “আমাকে বাংলাদেশে যেতে হবে। আমি প্রাণে প্রাণে অনুভব করছি যে, সেখানে একজন মুমুক্ষুর এখন আমার নিকট সাহায্যের দরকার।” দক্ষিণেশ্বরে তাহার কার্য শেষ হইলে তিনি পুনরায় নিজ শিষ্যগণের নিকট প্রত্যাবর্তন করেন। উত্তর পশ্চিম প্রদেশে তাহার সমাধিস্থান অদ্যাপি লোকের শ্রদ্ধা-ভক্তি আকর্ষণ করিতেছে। কিন্তু যাহাকে তিনি দীক্ষিত করিয়াছিলেন, তিনি তাহার প্রতি এরূপশ্রদ্ধা-ভক্তি পোষণ করিতেন যে, কদাপি তার নাম পর্যন্ত উচ্চারণ করিতেন না। “ন্যাংটা আমাকে একথা বলত”—এইরূপেই তিনি তাঁহার সম্বন্ধে উল্লেখ করিতেন। জগতের প্রাত পূর্ণ প্রেম এবং মানবের উপর পূর্ণ বিশ্বাস কেবল সেই হৃদয়বান ব্যক্তির পক্ষেই সম্ভব, যিনি কাহারও মধ্যে নিজ আদর্শ সম্যকভাবে রূপায়িত হইতে দেখিয়াছেন।

    কিন্তু দেহবোধের পারে যাইবার শক্তিই আমাদের গুরুর ন্যায় চরিত্রবিকাশের একমাত্র কারণ নহে। হিন্দু বিশ্বাস অনুযায়ী চরমশক্তি বিকাশের জন্য প্রথম আবশ্যক প্রগাঢ় অনুভব শক্তির জাগরণ, কিন্তু পরে উহাকে সম্পূর্ণরূপে সংযত করিতে হইবে। এই ব্যাপারটি এমন এক অনুভূতির রাজ্যের ইঙ্গিত প্রদান করে, যাহা আমাদের অধিকাংশের নিকটেই কল্পনাতীত; তথাপি শিষ্যাবস্থায় স্বামীজীর জীবনের একটি ঘটনা হইতে উহার কিঞ্চিৎ আভাস পাওয়া যায়। তাঁহার বয়স তখনও খুব অল্প, এমন সময়ে হঠাৎ তাহার পিতার মৃত্যু পরিবারের মধ্যে দারুণ বিপর্যয় আনয়ন করে। তিনি জ্যেষ্ঠ সন্তান, সুতরাং প্রতিদিন সকলের জন্য চিন্তায় তিনি অধীর হইয়া পড়িতে লাগিলেন। যাহারা তাহার প্রিয়জন, তাহাদের কষ্টে তাহার হৃদয় যেন বিদীর্ণ হইয়া যাইতে লাগিল, এবং সহসা স্বাচ্ছন্দ্য ও সৌভাগ্যপূর্ণ জীবনের বিপরীত অবস্থা তাহাকে বিমূঢ় করিয়া তুলিল। তাহাদের বিপদের গুরুত্ব দেখিয়াও তিনি যেন বিশ্বাস করিতে পারিলেন না।

    আরও দেখুন
    বাংলা সংস্কৃতি বিষয়ক কর্মশালা
    অনলাইন বই
    বাংলা বইয়ের সাবস্ক্রিপশন
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা কবিতা
    বাংলা লাইব্রেরী
    Library
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বাংলা কমিকস
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ

    অবশেষে মর্মবেদনা সহ্য করিতে না পারিয়া তিনি তাহার গুরুর নিকট একদিন ছুটিয়া গেলেন, এবং তাহাকে তীব্র তিরস্কার করিতে লাগিলেন। শ্রীরামকৃষ্ণ ধীরভাবে সমস্ত শ্রবণ করিয়া সস্নেহে ঈষৎ হাসিয়া বলিলেন, “যা বাবা, ওখানে যা, মা কালীর কাছে প্রার্থনা কর। তুই যা চাইবি, মা তোকে নিশ্চয় তাই দেবেন।”

    অতি সাধারণ দৃষ্টিতে এই অঙ্গীকারের মধ্যে কিছুই অসঙ্গত বা অস্বাভাবিক ছিল; কারণ শ্রীরামকৃষ্ণের অনেক ধনী ও মাড়োয়ারী ভক্ত ছিলেন, যাহারা তাহার বাক্য রক্ষা করিবার জন্য সর্বস্ব অর্পণ করিতে পারিতেন। গুরুর উপদেশের শান্তভাব ও দৃঢ়তায় কতকটা আশ্বস্ত হইয়া বালক সে স্থান পরিত্যাগ করিয়া মন্দিরে গেলেন প্রার্থনা করিবার উদ্দেশ্যে। কিছুক্ষণ অতীত হইবার পর তিনি প্রত্যাবর্তন করিলেন। ঐ সময়ে যাহারা সেখানে উপস্থিত ছিলেন তাহারা বলেন, তাঁহার আকৃতিতে যেন একটা বিহুল ভাব ছিল, এবং কথা বলিতে যেন কষ্টবোধ হইতেছিল। শ্রীরামকৃষ্ণ জিজ্ঞাসা করিলেন, “প্রার্থনা করেছিলি?” শিষ্য উত্তর দিলেন, “হ্যাঁ, করেছি।”

    গুরু আবার বলিলেন, “মার কাছে কি চেয়েছিলি?”

    আরও দেখুন
    বাংলা অনুবাদ সাহিত্য
    ই-বই ডাউনলোড
    উপন্যাস সংগ্রহ
    বাংলা শিশু সাহিত্য
    বই পড়ুন
    Library
    সেবা প্রকাশনী বই
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বইয়ের
    বাংলা ই-বুক রিডার

    নরেন্দ্র উত্তর দিলেন, “পরাভক্তি ও জ্ঞান।”

    শ্রীরামকৃষ্ণ কোন মন্তব্য না করিয়া সংক্ষেপে শুধু বলিলেন, ‘আবার যা। কিন্তু কোন পরিবর্তন হইল না। তিনবার তিনি ইচ্ছামতো বর প্রার্থনা করিবার জন্য প্রেরিত হন, তিনবারই প্রত্যাবর্তন করিয়া তিনি একই উত্তর দেন। জগজ্জননীর সমীপে উপস্থিত হইবামাত্র তিনি আর সব বিস্মৃত হইয়া যান; কি প্রয়োজনে সেখানে আসিয়াছেন, সে কথা পর্যন্ত তাহার মনে পড়ে না। আমাদের মধ্যে কেহ কি সেই উচ্চ অবস্থায় কখনও উপনীত হইয়াছেন, যে অবস্থায় আমরা যাহাদের ভালবাসি, তাহাদের কল্যাণ কামনায় তন্ময়ভাবে প্রার্থনা করিতে গিয়া এরূপ আত্মবিস্মৃতি ঘটিয়াছে? তাহা হইলে ভেদবৈচিত্র্যময় আপেক্ষিক সাধারণ জগৎ হইতে এই অনুভূতির অনন্তগুণ পার্থক্য হয়তো আমরা কিছুটা হৃদয়ঙ্গম করিতে পারিয়াছি।

    কথা কহিতে কহিতেই স্বামীজীর চিন্তা দেশকালের সীমা অতিক্রম করিত। চিন্তাটা কি অন্তরাত্মা অথবা আদি শক্তির বিকাশের অন্যতম রূপমাত্র? উহাতে যে শক্তি ব্যয়িত হয়, তাহা কি যিনি চিন্তা করেন, তাঁহার কল্যাণের দিক হইতে দেখিলে বৃথা নষ্ট হইল বলিয়া ধরিতে হইবে? প্রথমে কতকগুলি ঘটনার পরিধি, অতঃপর কতকগুলি চিন্তার পরিধি এবং সর্বশেষে সেই পরব্রহ্ম! যদি তাহা হয়, তাহা হইলে মহাপুরুষগণ কর্তৃক নিজ নিজ চিন্তা-সম্পদ অপরের সহিত একত্ৰ সম্ভোগের ন্যায় মহত্তর নিঃস্বার্থ কার্য আর কিছু নাই। তাঁহাদের কল্পনারাজ্যে প্রবেশের অর্থই মোক্ষদ্বার উন্মোচন; কারণ, ঐকালে শিষ্যের মানসে প্রত্যক্ষভাবে একটি বীজ উপ্ত হয়। যাহা মনোজগতে আত্ম-সাক্ষাৎকারে পরিণত না হওয়া পর্যন্ত বিনষ্ট হয় না।

    আরও দেখুন
    বইয়ের
    সেবা প্রকাশনীর বই
    বিনামূল্যে বই
    Books
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা গল্প
    গ্রন্থাগার সেবা
    বাংলা সাহিত্য
    বাংলা ভাষা
    বাংলা উপন্যাস

    আমাদের গুরুর চিন্তা ছিল কতকগুলি আদর্শের সমষ্টিস্বরূপ, কিন্তু ঐ আদর্শগুলিকে তিনি এমন জ্বলন্ত, জীবন্ত করিয়া তুলিয়াছিলেন যে, কেহ মনে করিতে পারিত না উহারা বস্তুতন্ত্র নিরপেক্ষ। ব্যক্তি ও জাতি উভয়কেই তিনি সমভাবে তাহাদের আদর্শের মাধ্যমে, তাহাদের নৈতিক উন্নতির মাপকাঠিতে বিচার করিতেন। অনেক সময় আমার মনে হইয়াছে, চিন্তাশীল ব্যক্তিগণকে দুই বিভিন্ন শ্রেণীতে বিভাগ করা যাইতে পারে—স্বভাব অনুযায়ী তাঁহাদের এক শ্রেণী সব জিনিসকে দুইভাগে ভাগ করিতে চাহেন, অপরশ্রেণী তিনভাগে। স্বামীজীর সর্বদা তিনভাগে ভাগ করার দিকেই প্রবণতা দেখা যাইত। কোন গুণের দুইটি বিপরীত সীমা (যেমন শীত-উষ্ণ, ভাল-মন্দ) তো তিনি স্বীকার করিতেনই, অধিকন্তু উভয়ের মধ্যে যে সংযোগস্থল, তাহাও দেখিতে ভুলিতেন না, যেখানে উভয় দিক সমান হওয়ায়, কোন গুণই নাই, এরূপ বলা যাইতে পারে। ইহা কি প্রতিভারই একটি সর্বজনীন লক্ষণ, অথবা শুধু হিন্দুমনেরই একটি বিশেষত্ব?

    কেহই বলিতে পারিত না, কোন্ বস্তুতে তিনি কি দেখিতে পাইবেন, কোন জিনিস তাহার হৃদয়গ্রাহী হইবে। অনেক সময় কথা অপেক্ষা চিন্তার উত্তর তিনি অধিকতর সহজে ও উত্তমরূপে দিতে পারিতেন। কি অদ্ভুত ভাব-তন্ময়তার মধ্যে তিনি অবস্থান করিতেন, তাহা এখানে-সেখানে, এক-আধটু আভাস-ইঙ্গিত হইতেই ধীরে ধীরে বুঝিতে পারা যাইত-সকল কথা ও চিন্তা তাহারই সহচরী মাত্র ছিল। কাশ্মীরে গ্রীষ্মের কয়মাস অতিবাহিত করিবার পর তবে তিনি আমাদের বলেন যে, তিনি সর্বদা জগন্মাতার মূর্তি প্রত্যক্ষ করিতেছেন। মা যেন মূর্তি পরিগ্রহ করিয়া আমাদের মধ্যে চলাফেরা করিতেছেন। আবার জীবনের শেষ শীত-ঋতুতে তিনি শিষ্য স্বামী স্বরূপানন্দকে বলেন, কয়েকমাস ধরিয়া তিনি দেখিতেছেন যেন দুইখানি হাত তাহার হাত দুইটি ধরিয়া আছে। তীর্থযাত্রাকালে কেহ কেহ দেখিত, তিনি একান্তে মালা জপ করিতেছেন। গাড়িতে তাহার পিছন দিকে উপবিষ্ট থাকাকালীন কেহ কেহ শুনিতে পাইতেন, তিনি কোন একটি মন্ত্র বা স্তোত্র বার বার আবৃত্তি করিতেছেন। তাহার প্রত্যুষে উঠিয়া স্তোত্রাদি আবৃত্তির অর্থ আমরা বুঝিতে পারিলাম, যখন তিনি একদিন জনৈক কর্মীকে সংসার-সমরাঙ্গণে প্রেরণকালে বলেন, “শ্রীরামকৃষ্ণ পরমহংস প্রত্যহ সকালে অন্য কোন কাজ করবার আগে নিজের ঘরে দুঘণ্টা ধরে ‘সচ্চিদানন্দ, ‘শিবোহ প্রভৃতি শব্দ উচ্চারণ করতে করতে পায়চারি করে বেড়াতেন।” সর্বসমক্ষে এই ইঙ্গিত প্রদান ব্যতীত আমরা আর কিছু শুনিতে পাই নাই।

    আরও দেখুন
    Library
    বাংলা ডিটেকটিভ থ্রিলার
    ই-বুক রিডার
    বাংলা অডিওবুক
    PDF
    বাংলা সাহিত্য কোর্স
    নতুন উপন্যাস
    বাংলা গানের লিরিক্স বই
    বাংলা স্বাস্থ্য টিপস বই
    বই

    সুতরাং অবিরাম ভক্তিই ছিল তাহার অবিচ্ছিন্ন একাগ্রতা রক্ষা করিবার উপায়। তিনি সর্বক্ষণ যে-সব অতীন্দ্রিয় তত্ত্বের আভাস দিতেন, ধ্যানই তাহাদের মূল কারণ। তাহার কথাবার্তায় যোগদান ছিল, কোন ব্যক্তি কর্তৃক এক গভীর কূপে পাত্র ডুবাইয়া সেখান হইতে স্ফটিকের ন্যায় স্বচ্ছ ও শীতল বারি আনয়ন করা। তাহার চিন্তারাশির সৌন্দর্য অথবা গভীরতার ন্যায় উহাদের গুণ-বৈশিষ্ট্যও ইহাই প্রকাশ করিত যে, ঐ সকল চিন্তা আধ্যাত্মিক উপলব্ধিরূপ চিরতুষারাবৃত পর্বতশিখর হইতে প্রাপ্ত।

    তাহার বক্তৃতাকালীন অনুভূতিসমূহের যে-সব গল্প তিনি করিতেন, তাহা হইতে এই তন্ময়তার কিছুটা আভাস পাওয়া যাইত। তিনি বলিতেন, পরদিন বক্তৃতায় তিনি যে-সব কথা বলিবেন, রাত্রে তাহার নিজের ঘরে কে যেন উচ্চৈঃস্বরে তাহা বলিয়া দিত এবং পরদিন তিনি দেখিতেন যে, বক্তৃতামঞ্চে উঠিয়া সেই কথাগুলিই তিনি আবৃত্তি করিতেছে। কখন কখনও তিনি দুইজনের কণ্ঠস্বর শ্রবণ করিতেন, তাহারা পরস্পরের সঙ্গে তর্ক বিতর্ক করিতেছে। আবার কখনও বোধ হইত ঐ কণ্ঠস্বর যেন বহুদুর হইতে আসিতেছে—যেন একটি দীর্ঘ পথের অপর প্রান্ত হইতে কেহ তাহার সহিত কথা কহিতেছে। অতঃপর ঐ স্বর যেন ক্রমশঃ নিকটবর্তী হইয়া অবশেষে চিৎকারে পরিণত হইত। তিনি বলিতেন, “ঠিক জেনে রেখো যে, পুরাকালে ঈশ্বরীয় বাণী (inspiration) বলতে লোকে যাই বুঝে থাকুক, তা নিশ্চয় এই ধরনের একটা কিছু হবে।”

    আরও দেখুন
    বাংলা বিজ্ঞান কল্পকাহিনী
    গ্রন্থাগার
    অনলাইন বুক
    বাংলা উপন্যাস
    বাংলা ইসলামিক বই
    বাংলা ফন্ট প্যাকেজ
    বই পড়ুন
    বাংলা সাহিত্য ভ্রমণ
    বাংলা ই-বুক রিডার
    অনলাইন বই

    কিন্তু এইসব ব্যাপারের মধ্যে তিনি অতিপ্রাকৃত কিছু দেখিতে পাইতেন না। উহা মনেরই স্বয়ংক্রিয় কার্যমাত্র; মন যখন চিন্তাপ্রক্রিয়ার নির্দিষ্ট নিয়মে পরিপূর্ণভাবে আবিষ্ট হইয়া যায়, তখন ঐ চিন্তাগুলির প্রয়োগ ব্যাপারে আর কাহারও সাহায্যের অপেক্ষা করে না, আপনা হইতেই তাহাদের সংসাধন ঘটে। যে অবস্থাকে লক্ষ্য করিয়া হিন্দুগণ বলিয়া থাকেন, ‘শেষে মনই গুরু হইয়া দাঁড়ায়’—সম্ভবতঃ উহা সেই অনুভূতিরই একটা চরম আকার। ইহা হইতে আরও আভাস পাওয়া যায় যে, তাহার দুইটি শ্রেষ্ঠ ইন্দ্রিয় অর্থাৎ দর্শন ও শ্রবণ ইন্দ্রিয়দ্বয় প্রায় সমভাবে বিকাশলাভ করিলেও দর্শনেন্দ্রিয় অপেক্ষা শ্রবণেন্দ্রিয়ের প্রাধান্য কিঞ্চিৎ অধিক ছিল। তাহার শিষ্যদের মধ্যে একজন যেমন বলিয়াছিলেন, “নিজের মনের বিভিন্ন অবস্থা তিনি সম্পূর্ণ যথাযথভাবে বর্ণনা করতে পারতেন। কিন্তু ঐ সবল কণ্ঠস্বর স্বসংবেদ্য ব্যাপার ব্যতীত অন্য কিছু বলিয়া অনুমান করিবার বিন্দুমাত্র আশঙ্কা তাহার ছিলনা।

    আর একটি অনুভূতি সম্পর্কে, যাহা আমি স্বয়ং তাহার নিকট শুনিয়াছি, তাহাতে মনের ঐরূপ স্বতঃপ্রবৃত্তক্রিয়াই প্রকাশ পায়, হয়তো ততখানি বিকাশপ্রাপ্ত নয়। যখনই কোন অপবিত্র চিন্তা ও আকৃতি তাহার সম্মুখে আসিত, তিনি তৎক্ষণাৎ অনুভব করিতেন,যেন ভিতর হইতে মনের উপর একটা ধাক্কা আসিয়া পড়িত-ও তাহাকে চুর্ণ-বিচূর্ণ, অসাড় করিয়া দিত! অর্থাৎ-”না ওরকম হতে পারবে না।”

    অপরের মধ্যে যে কাৰ্যগুলি প্রথমে মনে হয় সহজাতপ্রবৃত্তি দ্বারা সাধিত, কিন্তু প্রকৃতপক্ষে অতীন্দ্রিয় উপলব্ধিগত, উচ্চতর জ্ঞান দ্বারা নিয়মিত–তাহাদের তিনি অতি সহজে ধরিতে পারিতেন। যে বস্তু যথার্থ ঠিক, কেন তাহার কারণ কেহ নির্দেশ করিতে পারে না, অথচ যাহা সাধারণ মাপকাঠিতে বিচার করিলে ভুল বলিয়া বোধ হয়, এইরূপ স্থলে তিনি এক উচ্চতর শক্তির প্রেরণা দেখিতে পাইতেন। তাঁহার দৃষ্টিতে সকল অজ্ঞান সমান অন্ধকারময় বলিয়া বোধ হইত না।

    নির্দিষ্ট কার্য শেষ হইলে স্বামীজী আবার তাহার নির্বিকল্প সমাধিরূপ আর্ষের আস্বাদন করিতে পারিবেন, গুরুদেবের এই ভবিষ্যদ্বাণী তাহার যৌবনের সঙ্গিগণ কদাপি বিস্মৃত হন নাই। কেহই জানিত না, কোন্ মুহূর্তে তাহার ঐকার্য সমাপ্ত হইবে, এবং চরম অনুভূতি যে আসন্ন, কেহ কেহ তাহা সন্দেহও করিয়াছিলেন। জীবনের শেষ বৎসরে কয়েকজন সঙ্গী অতীত দিনের আলোচনা করিতেছিলেন, ঐ প্রসঙ্গে সেই ভবিষ্যদ্বাণীর কথাও উঠিল, “নরেন যখনই জানতে পারবে, সে কে এবং কি, তখন তার শরীর রাখবে না।” তাহাদের মধ্যে একজন কতকটা হাস্যচ্ছলে তাহার দিকে চাহিয়া জিজ্ঞাসা করিলেন, “স্বামীজী, তুমি কি এখন জানতে পেরেছ তুমি কে?” অপ্রত্যাশিত উত্তর আসিল, “হাঁ, এখন জেনেছি।” এস্ত হইয়া সকলে গম্ভীর ও নীরব হইয়া গেলেন। ঐ বিষয়ে তাহাকে আর কোন প্রশ্ন করিতে কাহারও সাহস হইল না। শেষ সময় যতই নিকটতর হইতেছিল, ধ্যান ও তপস্যা অধিকাংশ সময় তাহাকে আচ্ছন্ন করিয়া ফেলিতেছিল। যে-সকল বস্তু তাহার অত্যন্ত প্রিয় ছিল,তাহারাও এখন আর তাহার চিত্তকে তেমন করিয়া আকৃষ্ট করিতে পারিত না। অবশেষে শেষ মুহূর্তে যখন তিনি মহাসমাধিতে মগ্ন হইয়া গেলেন, তখন ঐ বিরাট অতীন্দ্রিয় শক্তির ছটা যেন নিকটে ও দূরে যাহারা তাহাকে ভালবাসিতেন, তাহাদেরও স্পর্শ করিয়াছিল। একজন স্বপ্নে দেখিলেন, শ্রীরামকৃষ্ণ যেন পুনরায় সেই রাত্রে দেহত্যাগ করিয়াছেন। প্রত্যুষে নিদ্রাভঙ্গের সঙ্গে সঙ্গে শুনিলেন, সংবাদবাহক দ্বারে অপেক্ষারত। তাহার অন্তরঙ্গ বন্ধুগণের অপর একজন দেখিয়াছিলেন, তিনি যেন উল্লাসের সহিত নিকটে আসিয়া বলিতেছেন, “শশী, শশী, শরীরটাকে থু থু করে ফেলে দিয়েছি।” আরও একজনকে সেই সন্ধ্যাকালে কে যেন জোর করিয়া ধ্যানের ঘরে লইয়া গিয়াছিল; তিনি দেখিলেন, তাহার আত্মা এক অসীম জ্যোতির সম্মুখীন, তাহার কণ্ঠ হইতে উচ্চারিত হইল ‘শিব গুরু’ এবং ঐ জ্যোতির সম্মুখে তিনি সাষ্টাঙ্গ প্রণিপাত করিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসারদামঙ্গল – বিহারীলাল চক্রবর্তী
    Next Article বাণী চিরন্তন – সম্পাদনা : ভবেশ রায় / মিলন নাথ
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }