Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প201 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    সিংহ

    ঘাড়ের কাছে সুড়সুড় ভাবটা কার্তিক তরফদার প্রথম অনুভব করেন অফিসে। হালকা সুড়সুড়ানি মতো ভাব। পিঁপড়ে গায়ের ওপর দিয়ে হেঁটে গেলে যেমন হয়, অনেকটা সেরকম। লাল পিঁপড়ে নয়, কালো সুড়সুড়ি পিঁপড়ে। ঘাড়ে যেখানে চুল শেষ হয়েছে, পিঁপড়েটা সেখান দিয়ে হেঁটে গেল।

    হাত দিতে গিয়েও নিজেকে সামলেছিলেন কার্তিকবাবু। অফিসের বড়বাবুর ধমকানির সময় ঘাড় চুলকোনো যায় না। আর যখন ধমকানি ‘গাধা-গোরু টাইপ’ হয়, তখন তো আরও যায় না। ‘গাধা-গোরু টাইপ’ বকুনি হল সেই ধরনের বকুনি যা মানুষকে দেওয়া ঠিক নয়, গাধা-গরুকে দিতে হয়। ওরা মানুষের ভাষা বোঝে না বলে মান অপমানের ব্যাপার নেই।

    ঘটনা সোমবারের। টিফিনের মিনিট কুড়ি পর। নবা এসে কিছু বলল না, শুধু বড়বাবুর ঘরের দিকে চোখের ইঙ্গিত করে ঘাড় নাড়ল। নবা অফিসের পিওন। সে তেইশ বছর এখানে কাজ করছে। নিজেকে একজন হর্তাকর্তা বলে মনে করে। তার ইঙ্গিতের অর্থ ‘বড়বাবুর ঘরে ডাক পড়েছে। যাও, গিয়ে ঝাড় খাও।’ ইঙ্গিতের সময় নবার ঠোঁটের ফাঁকে ছিল হাসির ঝলক। থাকাটাই স্বাভাবিক। অফিসে সকলেই জানে, বড়বাবুর ঘরে ‘কার্তিক কলিং’ মানে বড় ধরনের হেনস্থার ব্যাপার আছে। ‘কার্তিক কলিং’ একটা হিন্দি সিনেমার নাম। বড়বাবুর ঘরে কার্তিকবাবুর ডাক পড়লে অফিসে ‘কার্তিক কলিং’ বলে মশকরা করে। এর মানে আজ একটা মজা হবে। অফিসে কার্তিক তরফদার একটা ‘মজার জিনিস’। তাকে নিয়ে ঠাট্টা তামাশায় কোনো সমস্যা নেই। তিনি কিছু মনে করেন না। মানুষ বিভিন্ন ক্ষমতা নিয়ে জন্মায়। কার্তিকবাবু ঠাট্টা তামাশায় কিছু মনে না করবার ক্ষমতা নিয়ে জন্মেছেন।

    কিছুই মশকরার উদাহরণ দেওয়া যাক।

    ‘কী কার্তিকবাবু, চুলে কলপ শুরু করলেন কবে থেকে?’

    ‘কার্তিকদা, গোঁফটা বাদ দেবেন না। পারলে ইয়েতেও…।’

    ঘরের সবাই ‘হো হো’ আওয়াজে হেসে ওঠে।

    ‘তরফদারবাবু শুনলাম, আজকাল মেয়েদের কলেজের সামনে দিয়ে শর্টকাট করছেন। ঘটনা সত্যি? লজ্জার কিছু নেই। কথায় আছে, নিভে যাওয়ার আগে জ্বলিবে দাউ দাউ আগুন।’

    ‘সেকি! কার্তিকবাবু, এখনও নেভেননি! আপনি তো পুরো তুষের আগুন। ধিকিধিকি নিয়ে ঘুরে বেড়ান।’

    ‘কী ভায়া কার্তিক, আজ এমন মুখ শুকনো কেন? বাড়িতে বউয়ের হাতে ঝাড় হল নাকি?’

    ‘ঝাড় কী গো? বৌদি মাঝেমধ্যে উত্তমমধ্যমও দেয়। খবর আছে। খবর হ্যাজ।’

    ‘কান ধরে ওঠবোস করায় না তো?’

    ‘কার্তিকদা, আজ একটু তাড়াতাড়ি বেরব। তোমার বৌমার সঙ্গে সিনেমা দেখতে যাব। কটা ফাইল রেখে যাচ্ছি টাইপ করে রাখবেন। মন দিয়ে করবেন। ক্লাস সেভেনের ছেলেদের মতো সিলি মিসটেক করে বসবেন না।’

    আরও আছে। সেটা ঠাট্টা নয়, হুমকির ঘটনা। সেদিনই হল। অ্যাকাউন্টসের অলক বিশ্বাস বারান্দায় চা অমলেট খাওয়ার নাম করে ডেকে নিয়ে গেল। এটা একটা পুরোনো কায়দা। সত্তর-বাহাত্তরে চলত। চা অমলেট খাওয়ার কথা বলে নিয়ে যাওয়া, তারপর পেটে ছুরি বা পাইপ গানের গুলি। বডি ফুটপাথে পড়ে থাকত। পাবলিক ডিঙিয়ে চলে যেত।

    অলক বিশ্বাস বলল, ‘কার্তিকদা, সেদিন রায় অ্যাসোসিয়েটসের একজন আপনার সঙ্গে দেখা করেছিল?’

    কার্তিক তরফদার মাথা চুলকে বললেন, ‘হ্যাঁ, একটা লোক এসেছিল বটে। টাক মাথা।’

    অলক চোখ সরু করে হিসহিসিয়ে বলল, ‘টাক মাথা না চুল মাথা জানতে চাই না। লোকটা আপনাকে একটা খাম দিতে চেয়েছিল?’

    কার্তিক তরফদার ঘাড় কাত করে বললেন, ‘তাও বটে। চেয়েছিল।’

    অলক দাঁতে দাঁত চেপে বলল, ‘আপনি খামটা ফেরত দিয়েছেন?’

    কার্তিক তরফদার ঢোঁক গিলে বলল, কী করব? বলল, নিন, সবাই একটু চা টা খাবেন। কাজটা করে দিয়েছেন। আমি বললাম, আপনার কাজ তো এমনিই হবে। চা টা খাওয়ার পয়সা লাগবে না। এটা প্রাইভেট ফার্ম।

    অলক চাপা গলায় বলল, ‘কেন এটা করলেন? ওটা তো আপনার একার খাম নয়, সবার খাম। সবার শেয়ার ছিল। ওইটুকু আমাদের এক্সট্রা কামাই। তুমি শালা আটকাবার কে? তোমাকে আগে কতবার বারণ করেছি। সততা মাড়ানোর অভ্যেস বুড়ো বয়েসেও গেল না? তুমি সাধু আর আমরা চোর? লোকটা ভুল করে তোমার কাছে চলে গেছে। তুমি আমাকে ডাকতে পারতে, মালব্যকে ডাকতে পারতে। তুমি রিফিউজ করলে। দেখো শালা, এবার তোমাকে কেমন হুড়কো দিই। বুড়ো বয়েসে প্যান্ট খুলে দৌড় করাব।’

    থ্রেট খাওয়া কার্তিকবাবু সেদিন ভয়ই পেয়েছিল।

    কার্তিকবাবু কাগজপত্র সরিয়ে উঠে পড়লেন। বড়বাবুর ঘরের দিকে হাঁটা দিলেন। অফিস-টফিসে এখন আর ‘বড়বাবু’ চলে না। শুনতে খাটো লাগে। এখন চলে ‘বস’। ঘটনা হরে দরে একই, কিন্তু ‘বস’ ডাকে কায়দা আছে। তবে এই অফিসে এখনও ‘বড়বাবু’ রেওয়াজ। পুরোনোদিনের ফার্ম। কোম্পানির হিসেবপত্র তৈরি হয়। ইনকাম ট্যাক্স, সেলস ট্যাক্স, এখন আবার জিএসটি ঢুকেছে। ডালহৌসি পাড়ায় ঘর। বড় নয়, আবার একেবারে ছোটও নয়। ক্লায়েন্টরা বংশপরম্পরায় রয়ে গেছে। এখনও লম্বা কালো সেগুন কাঠের চেয়ার টেবিলে কাজ হয়। কম্পিউটার এসেছে, তবে টাইপরাইটার বাতিল হয়নি। কার্তিক তরফদার নিজেই তো একটা গাবদা টাইপরাইটারে কাজ করেন। খটাস খটাস করে আওয়াজ হয়। বড়বাবুর ঘরে আদ্যিকালের সেলুনের মতো সুইং দরজা। কোমর থেকে কপাল পর্যন্ত। ভিতরে বড় কাঠের দরজা আছে বটে, তবে সেই দরজা লাগানো হয় কদাচিৎ। খুব গোপন কোনো মিটিঙের সময়। সে আর কটাই বা হয়।

    ‘স্যার, আমাকে ডেকেছেন?’

    পুরো বাক্যটা বলার আগেই ঢেঁকুর উঠল। ঢেঁড়শের ঢেঁকুর। টিফিনে রুটি আর ঢেঁড়শ ভাজা খেয়েছেন। সঙ্গে দু-টুকরো শশা। তাও হজম হয় না। রক্তে হালকা সুগার, সামান্য কোলেস্টেরল ধরা পড়ায় মিনতিদেবী শক্ত হাতে লাগাম ধরেছেন। স্বামীর খাওয়া দাওয়ায় হেভি টাইট দিয়েছেন। আগেও কন্ট্রোল ছিল। তবে এতটা ভয়ংকর নয়। কার্তিকবাবু নিজেও সাবধানী। নেমন্তন্ন বাড়িতে দশ-বারো বছর যান না। খাওয়ায় যেটুকু আয়েস ছিল, সে ছিল বাড়িতেই। এখন তাও বাদ পড়েছে। স্ত্রী ও ছেলের জন্য একরকম রান্না, তাঁর জন্য আলাদা। গাঁইগুঁই করলে ধমক জোটে।

    ‘বয়স, তো কম হল না। সাতান্ন বছরেও এত নোলা কীসের তোমার?’

    কার্তিকবাবু মিনমিনে গলায় বলেন, ‘এর মধ্যে নোলা কী দেখলে মিনু? এতো একবারে ঘাসপাতা খাচ্ছি মনে হচ্ছে।’

    মিনতিদেবী ঝাঁঝিয়ে ওঠেন, ‘তোমার তাই খাওয়া উচিত। জীবনটাই তো ঘাসপাতা বানিয়ে ফেলেছ। টেস্ট লেস। আমার জীবনটাও তাই করে দিয়েছ।’

    কার্তিকবাবু ঢোঁক গিলে বলেন, ‘আমি কী করলাম!’

    মিনতিদেবী চোখ কপালে তুলে বললেন, ‘কী করোনি? এই বুড়ো বয়েসেও নিজের সঞ্চয়ের দিকে একবার তাকিয়েছ? ক্লার্ক হয়েই চাকরি শেষ করলে, রিটায়ারমেন্টের পর হাতে কটা টাকা থাকবে? কোন পয়সায় কোপ্তা কালিয়া খাবে? ঘাস পাতা খেয়েই থাকতে হবে। এখন থেকে হ্যাভিট কর।’

    দুটো কথার উত্তরে মিনতির কাছ থেকে দশটা ঝাঁঝের কথা শোনবার অভ্যেস কার্তিকবাবুর দীর্ঘদিনের। বিয়ের প্রথম পাঁচটা বছর ছিল অন্যরকম। সেসব দিন ব্ল্যাক এন্ড হোয়াইট বাংলার সিনেমার রোমান্টিক সিনের মতো বিদায় নিয়েছে। এখন শুধু ওয়েব সিরিজের ভায়োলেন্স। তাও এক তরফা। মিনতিদেবী বললেন, ‘করো তো কেরানির কাজ, তার মধ্যে গাদাখানেক অসুখ বাধিয়েছ।’

    কার্তিকবাবু নিচু গলায় বলেন, ‘কেরানি বলে অসুখ হবে না এমন তো কথা নেই। তাছাড়া অফিসারদেরও অসুখ হয়। এই তো আমাদের বিশ্বনাথ ঘোষ, বিশুবাবু, প্রেসার নিয়ে নাজেহাল। উনি তো চার্টার্ড অ্যাকাউনটেন্ট।’

    মিনতিদেবী আঙুল তুলে বললেন, ‘চুপ কর। একদম তক্ক করবে না। বাবা যে কোন আক্কেলে এরকম একটা বোকার সঙ্গে বিয়ে দিয়েছিল। গোটা জীবনটাই নষ্ট হয়ে গেল। যাক মন দিয়ে শোনো, ছেলে বিয়ে করতে চাইছে। দোতলায় ঘর তুলবে। ঘরের সঙ্গে বাথরুম পায়খানা। টাকা দেবে।’

    কার্তিকবাবু বললেন, ‘টাকা! ঘর বানানোর টাকা কোথা থেকে দেব? এই তো ক’বছর আগে প্রভিডেন্ট ফান্ড থেকে লোন নিয়ে তোমার বোনের মেয়ের বিয়ে দিলাম। সে টাকা তো আজও ফেরত পাইনি।’

    মিনতিদেবী মুখ বেঁকিয়ে বলেন, ‘জন্মের কম্ম একবারই তো শ্বশুরবাড়ির জন্য কিছু করেছ, এতবার শোনানোর কী হয়েছে? ও টাকা আমি দিদিকে ফেরত দিতে বারণ করেছি। তুমি মনার দোতলার ঘর দেখ। তার বউ এসে তো এই হতচ্ছেদা একতলায় থাকতে পারবে না।’

    কার্তিকবাবু অবাক হয়ে বললেন, ‘কেন? থাকতে পারবে না কেন? তার ঠাকুর্দার বউ থেকেছে, তার বাবার বউ থেকেছে, তার বউ পারবে না কেন?’

    মিনতিদেবী বললেন, ‘তোমার মতো বেকুবের সঙ্গে বেশিক্ষণ কথা বলাই ঝকমারি। হায়রে, বাবা যে হাত পা বেঁধে একটা গাধার মুখে ফেলে দেবে আমি কল্পনাও করতে পারনি।’

    শুধু স্ত্রী নয়, পুত্রও তার মায়ের সঙ্গে একমত। তবে সে তো এই ‘দুর্ভাগ্য’ এর জন্য মায়ের মতো কাউকে দায়ী করতে পারে না। মনে মনে বললেও, বাবাকে মুখে ‘গাধা’ বলতে পারে না। তবে হুমকি হামকা দিতে পারে। বাবাকে সে বলেছে, ‘জেনে রাখ কার্তিক তরফদার, ছ’মাসের মধ্যে ছাদের ওপর ঘর আমার চাই। আই ওয়ান্ট এন্ড ওয়ান্ট। শুধু ঘর নয়, উইথ ইংিলশ বাথরুম। না হলে কী করতে হয় আমি কার্তিক তরফদারকে দেখিয়ে দিতে জানি। আই ওয়ান্ট, যেখান থেকে পারও ধার দেনা করে কার্তিক তরফদার ঘর তোলা শুরু করুক।

    কার্তিকবাবু চিন্তায় আছেন। ভয়েও আছেন। সব সময়েই থাকেন। কে কখন ধমক দেবে, হুমকি দেবে তার ভয়। এই অবস্থায় বড়বাবুর ডাক।

    বড়বাবু পুরোনো আমলের গ্যলিস দেওয়া প্যান্ট পরেন। রেগে গেলে বুকের কাছে দুটো হাত দিয়ে সেই গ্যালিস টানাটানি করেন।

    ‘তরফদার, এই টাইপ আপনার?’

    টেবিলে ফেলে রাখা কাগজ দেখে কার্তিকবাবু বললেন, ‘কাঁচুমাচু হয়ে বললেন, ইয়েস স্যার।’

    বড়বাবু চোখ সরু করে বললেন, ‘এত ভুল কেন?’

    ‘সরি স্যার।’

    বড়বাবু নিচু গলায় বললেন, তরফদার, আপনি কি গাধা?’

    কার্তিকবাবু চুপ করে মাথা নামিয়ে রইলেন। বড়বাবু দাঁতে দাঁত ঘষে চিৎকার করে বললেন, ‘আমার মনে হয় আপনি আসলে একজন গাধা। গাধা না হলে এক পাতার টাইপে এতো ভুল অসম্ভব।’

    ঠিক এই সময়ে ঘাড়ের কাছে সুড়সুড়ানি ভাবটা আসে। যেন, পিঁপড়ে হেঁটে গেল। পিঁপড়ে এল কোথা থেকে?

    বড়বাবু চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন, ‘আজ আপনার পানিশমেন্ট কী জানেন? পানিশমেন্ট হল, কুড়ি পাতা টাইপ করে ছুটি পাবেন। রাত দশটা বাজলে বাজবে, এগারোটা বাজলে বাজবে, বারোটা বাজলে বাজবে। দারোয়ানকে বলে যাব। নিন এই পাতা কারেক্ট করে আনুন।’

    কাগজ হাতে নিয়ে বড়বাবুর ঘর থেকে বেরবার সময় কার্তিকবাবু বুঝতে পারলেন, এই টাইপ তার করা নয়। অন্য কেউ ভুল করা পাতা তার ফাইলে ঢুকিয়ে বড়বাবুর ঘরে পাঠিয়ে দিয়েছে। কে করেছে? যেই করুক বলার কিছু নেই। ছুটির পর অলক বিশ্বাস টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল। চোখ নাচিয়ে বলল, ‘কী সৎবাবু? কেমন লাগছে? রাতে মশা কামড়ালে মশারি টাঙিয়ে টাইপরাইটারটা মশারির ভিতর নিয়ে নেবেন। মোবাইলে একটা সেলফি তুলে রাখবেন।’

    রাতে থাকতে হয়নি। সাতটার সময় বড়বাবু এসে বললেন, ‘আজ বাড়ি যান। কাল আবার ছুটির পর দু’ঘণ্টা করবেন। যতদিন না শেষ হয় রোজ চলবে।’

    বাড়ি ফিরছিলেন কার্তিকবাবু। বাসে উঠেছিলেন। হেদুয়া মোড়ের কাছে এক থলথলে ভুড়ির মোটা লোক দিল বাঁ পাটা মাড়িয়ে। কঁকিয়ে উঠলেন কার্তিকবাবু। মিনমিন করে বললেন, ‘একটু দেখে পা ফেলতে পারেন না? এভাবে মাড়িয়ে দিলেন!

    থলথলে ভুড়ি মুখে পান দলাই-মলাই করতে করতে হিন্দিতে বলল, ‘পা টা বাড়িতে রেখে এলেই পারেন, কেউ মাড়াত না। শালা দুনিয়া শুদ্ধ লোক ইয়ে মেরে চলে যাচ্ছে, আর উনি পা মাড়ানো নিয়ে ভাবছেন। যত্তসব ভেতো!’

    কথা শেষ করে ভুঁড়ি বাসের জানলা দিয়ে মুখ বাড়িয়ে থক করে খানিকটা পান পরাগের থুতু ফেলল। রাগে গা রি রি করে উঠল কার্তিকবাবুর। তিনি মুখ ঘুরিয়ে রাগ সামলালেন আর তখনই আবার মনে হল, ঘাড়ের ওপর দিয়ে আবার পিঁপড়ে হাঁটছে। ঘাড়ে হাত দিলেন।

    না পিঁপড়ে তো নয়। তবে?

    তবে কী বুঝতে পারলেন পরদিন সকালে। ঘুম থেকে ওঠবার পর। মুখ ধুতে গিয়ে কেমন একট অস্বস্তি হত লাগল। ঘাড়ে হাত দিলেন। খরখরে ভাব। বাথরুম থেকে বেরিয়ে চা খেতে খেতে বললেন, ‘মিনতি, দেখ তো ঘাড়ে কিছু হয়েছে নাকি?’

    মিনতিদেবী মুখ বেঁকিয়ে বললেন, ‘কী হবে?’

    কার্তিকবাবু বললেন, ‘এই কোনো র‍্যাশট্যাশ। কেমন একটা করছে…।’

    মিনতিদেবী তেঁড়েফুড়ে বললেন, ‘আর জ্বালিও না তো বাপু। অসুখের ডিপো একটা। আজ বাদে কাল ছেলের বিয়ে দেব, আর উনি পড়লেন ঘাড়ের র‍্যাশ নিয়ে।’

    কার্তিকবাবুও বুঝলেন, অতি সামান্য বিষয় নিয়ে স্ত্রীকে বিরক্ত করা ঠিক নয়। মিনতিদেবী বললেন, ‘মনা বলছে, তুমি যদি ছাদে ঘর তৈরি না করে দাও, গোটা বাড়িটাই প্রোমোটিং-এ দিয়ে দেবে।’

    কার্তিকবাবুর কাপ থেকে চা চলকে পড়ল। বললেন, ‘আমরা থাকব কোথায়?’

    মিনতিদেবী বললেন, ‘সে তো মনার ভাবনা নয়। তার বাবা কচি খোকা নয়। নিজেরটা বোঝবার মতো বয়স তার হয়েছে।’

    কার্তিকবাবু আমতা আমতা করে বললেন, ‘এই বাড়ি তো আমার।’

    মিনতিদেবী চায়ের কাপে আরামের চুমুক দিয়ে বললেন, ‘ছেলেকে লিখে দিলেই আর তোমার থাকবে না।’

    ‘আর না লিখে দিলে?’

    মিনতিদেবী হেসে ফেলে বললেন, ‘সে মুরোদ তোমার নেই। মনা জানে, আমি জানি। তুমিও জানো। জানো না?’

    কার্তিকবাবু ঘাড়ে হাত দিয়ে বুঝলেন, রোঁয়ার মতো কিছু একটা বেরিয়েছে। বেশ খানিকটা জায়গা জুড়েই বেরিয়েছে। কী হল রে বাবা! কার্তিকবাবু বাজারে বোরোলেন। ব্যাগ হাতে বাড়ির গেট খুলতেই দেখলেন গলির মোড়ের মিসেস বোসের সাধের ল্যাবরাডর প্রাতঃকৃত্য সারছে। বাথরুম হিসেবে সে এ বাড়ির সামনেটাকেই বেচেছে। মিসেস বোস মোবাইল ফোন কানে গল্প করছেন। পোষ্য কার গেটের সামনে ‘কীর্তি’ করছে সেদিকে তাকাবার ফুসরত নেই। কার্তিকবাবু কয়েকবার জোরে কাশলেন। মিসেস বোস খেয়ালই করলেন না। ল্যাবরাডর একবার তাকিয়ে ‘ফেঁৎ’ ধরনের অবজ্ঞার হাঁচি দিল। কার্তিক তরফদারের দিকে তাকিয়ে ‘ঘেউ’ করবার মতো পরিশ্রমেও সে রাজি নয়। ভাবটা হল, তুমি বাপু ঘেউ-এরও অযোগ্য।’

    বাজারেও ঠকলেন কার্তিকবাবু। যেমন রোজই কমবেশি ঠকেন। তার ওপর আজ আবার অনমন্যস্ক। ঘাড়ে কী হল? বাড়ি ফেরবার পথে ভবানীর সেলুনে ঢুঁ মারলেন। ভবানী ঘাড় দেখে ভুরু কোঁচকাল।

    ‘চেয়ারে বসেন ‘

    ‘কী হল ভবানী?’

    ‘ঘাড়ে চাঁছা দিয়েছেন নাকি?’

    কার্তিকবাবু বললেন, ‘ঘাড়ে চাঁছা! সে আবার কী জিনিস ভবানী? ভবানী গায়ে কালো কাপড় চাপাতে চাপাতে বলল, ‘ক্ষুর বা ব্লেড দিয়ে ঘসাঘসি করেননি তো?’

    কার্তিকবাবু বললেন, ‘তুমি কি খেপেছ ভবানী? খামোকা ঘাড়ে ক্ষুর দেব কেন? ঘাড় কি গাল? যে দাড়ি কামাতে হবে।’

    ভবানী ক্ষুর বাগিয়ে বিড়বিড় করে বলল, ‘তবে এখানে পশমের মতো এসব কী!’ কার্তিকবাবু আঁতকে ওঠেন, ‘অ্যাঁ, পশম! বল কী ভবানী ঘাড়ে পশম এল কোথা থেকে?’

    ভবানী ক্ষুরের ছোঁয়া দিয়ে অন্যমনস্ক গলায় বলল, ‘তা জানি না। তবে জিনিস ভালো ঠেকে না বাবু। মাথার চুলের মতো নয়।’

    ‘তবে কীসের মতো?’

    ভবানী বলে, ‘তা জানি না। অনেকটা জায়গা নিয়েছে। কেমন যেন সোনালি লাগে।’

    কার্তিকবাবু প্রায় হাউমাউ করে উঠলেন, ‘আগে কেটে দাও, সব ফেলে দাও। এ আবার কী অসুখ রে বাবা!’

    ভবানী চিন্তিত গলায় বলল, ‘বুঝতে পারছি না। তেত্রিশ বছর মানুষের মাথা ঘাড় নিয়ে কারবার। এমন কখনও তো দেখিনি। মানুষের ঘাড়ে সোনালি পশম!’

    সেলুন থেকে বেরিয়ে নিশ্চিন্ত মনে বাড়ি ফিরলেন কার্তিক তফাদার। আপদ গেছে। তবে বিপদ যায়নি। ঠকানির বাজার করবার জন্য এবং দেরি করবার জন্য স্ত্রীর কাছে বকুনি হল। ঘর বানানো নিয়ে বেকার ছেলে খানিকটা হম্বতম্বি করে গেল। মুখ নিচু করেই শুনলেন। একসময়ে অফিসের জন্যে ছুটলেন স্নান করতে। ভালো করে শ্যাম্পু দিয়ে স্নান সারলেন। না, ঘাড়ে কিছু নেই। নো পিঁপড়ের হন্টন, নো খচখচ। ভবানী নাপিত কাজ জানে।

    ট্রামের সেকেন্ড ক্লাসে যেতে যেতে দুলুনিতে চোখে পাতায় হয়ে গিয়েছিল কার্তিক তফাদারের। রোজই হয়। মনে হয়, দীর্ঘজীবনের পথে এইটুকুই যা শান্তি। ব্যর্থতা, গ্লানি, ভয় ভুলে নিজের মধ্যে থাকা। এই সময়টায় সহকর্মীদের মশকরা, বড়বাবুর শাস্তি, অলকের শাসানি নেই। বউয়ের ধমক, ছেলের হুমকি থমকে থাকে। মিসেস বোস আর তার পোষা কুকুরের তাচ্ছিল্য চলবে না। এখন শুধু নিজের মধ্যে নিজের থাকার অবকাশ। আধো তন্দ্রা ও জাগরণে নিজেকে মস্ত বড় ভাবার বিলাসিতা। বড় আর শক্তিশালী। থাবা, নখ দাঁত আর কামড়ের শক্তি।

    ট্রাম ডালহৌসিতে পৌছোলে সবাই দেখল, বাস থেকে নামছেন ছাপোষা এক অফিসযাত্রী। হাতে রুটি ঢেঁড়শের টিফিন রাখবার ব্যাগ, বগলে লম্বা হাতলের ছাতা। পায়ে ক্যাম্বিশের জুতো। রোজ যেমন থাকে। শুধু আজ তার ঘাড় থেকে নেমে এসেছে একরাশ সোনালি কেশর। সিংহের কেশর। বাতাসে ফুরফুর করে উড়ছে সেই কেশর।

    অফিসের সামনে কার্তিক তরফদার দু’পাশ দেখতে দেখতে রাস্তা পার হচ্ছেন। তার মুখে গরগর আওয়াজ। সবাই সরে দাঁড়াল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }