Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প201 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    মালতী

    এক

    গোলমালটা প্রথম হল সুনন্দিনীর অফিসে বেরনোর সময়ে।

    সুনন্দিনী ফ্ল্যাটের দরজা টেনে লক করতে যাচ্ছিল। এটা গোলমাল? নাকি ভুল? ভুল বলাই উচিত। নিচে অফিসের গাড়ি চলে এসেছে। সুনন্দিনী ছিল তাড়াহুড়োর মধ্যে। বুকের ভিতর ছ্যাঁৎ করে উঠল।

    ঘটনার সূত্রপাত সেই সকালে।

    এই পরিবারে দিন শুরু হয় বেশি সকালে। রান্নাঘরে মাছ ধুচ্ছিল মালতীর মা। পরপর তিনবার তার মোবাইল বেজেছে। প্রথম দুবার নিচু গলায় কথা বলে ফোন কেটেছে সে। তার কথা শোনা যায়নি। তৃতীয়বার ফোন ধরে হাউমাউ করে কেঁদে উঠল।

    সুনন্দিনী ছিল বেডরুমে। তার সামনে ল্যাপটপ খোলা। আজ অফিসে প্রেজেন্টেশন রয়েছে। ঠিক মতো পারলে একটা প্রোমোশনের সুযোগ আছে। সিনিয়র এক্সিকিউটিভ। নইলে আবার সেই খিটখিটে বসের কাছে ধোতে হবে। তাই কদিন ধরেই টেনশন চলছে। ফাইনাল পরীক্ষার মতো। কাল রাতেও শোবার আগে প্রেজেন্টেশনটা নিয়ে পড়েছিল। দুটো গড়বড় ছিল। সেগুলো ঠিক করেছে। আজ শেষ মুহূর্তে ফের চোখ বুলিয়ে নিচ্ছে। ডেটা, চার্ট, প্রজেকশন সব ঠিক হয়েছে তো? মন দিয়ে দেখা দরকার।

    সুনন্দিনী মন দিতে পারছে কই? সংসারে চাকুরে মহিলার ডবল ঝামেলা। কাজের জায়গায় ঝামেলা থাকে মাথায়, ঘরের ঝামেলা থাকে হাতে। অফিসে মাথা খাটাতে হয়, ঘরে হাত চালাতে হয়। দুটো ঝামেলা নিয়ে ব্যালান্স করে চলতে কেরামতি লাগে। সুনন্দিনী সেই কেরামতিতে বেশিরভাগ সময়েই ফেল করে।

    খানিক আগে বাঁশরি স্কুলে বেরিয়ে গিয়েছে। মেয়ে ক্লাস টেনে উঠলেও বায়নার শেষ নেই। স্কুলে বেরনোর আগে টিফিন নিয়ে রোজ একটা না একটা গোলমাল পাকাবে। সুনন্দিনীর মনে হয়, আসলে মেয়েটা মাকে ইচ্ছে করে জ্বালাতন করে। এই বয়সটা মাকে জ্বালাতন করবার বয়স। আজও করেছে।

    ‘মা, টিফিনে কী দিয়েছ?’

    ‘চাওমিন। তোমার ফেভারিট।’

    ‘চাওমিন অবশ্যই আমার ফেভারিট মা, কিন্তু ঠান্ডা নয়। ঠান্ডা চাও খাওয়া আর ঘাস খাওয়া এক। ঘাস মনে হয় বেটার। যদি একটু গোলমরিচ ছড়িয়ে নেওয়া যায় তাহলে তো কথাই নেই।

    সুনন্দিনী ঠান্ডা গলায় বলল, ‘তুমি বরং একটা কাজ কর বাঁশরি। আজ আর তোমার টিফিন নিয়ে কাজ নেই। বাড়ি থেকে গোলমরিচের কৌটোটা নিয়ে যাও। স্কুলের লন থেকে ঘাস নিয়ে নিও। যদি চাও সসও নিতে পারো। নেবে?’

    বাঁশরি দমবার মেয়ে নয়। সে এক গাল হেসে বলল, ‘খুবই ভালো বলেছ মা। কাল থেকে তাই করব। তবে আজ ঝটাপট কটা প্যান কেক বানিয়ে ফেল দেখি।’

    সুনন্দিনী কঠিন গলায় বলল, ‘অনেক বয়স হয়েছে বাঁশরি, এবার নিজের টিফিন নিজে বানাতে শেখো। তোমার বয়েসে আমি রান্না করতাম।’

    বাঁশরি ব্যাগে বই গোছাতে গোছাতে বলল, ‘তোমার সময় রান্নার দরকার ছিল মা, আমার সময় দরকার নেই।’ তারপর হাত নেড়ে সুর করে বলল, ‘তোমার ছিল হাতা খুন্তি, আমার আছে অ্যাপ।’

    সুনন্দিনী বলল, ‘তাহলে টিফিনের সময় অ্যাপ চিবিয়ে খেও। আমাকে জ্বালাবে না। আজ আমি ব্যস্ত।’

    বাঁশরি উৎসাহ নিয়ে বলল, ‘আমরা মেয়েরা তো তাই চাই। অনলাইনে টকাটক খাবার এনে খাব। মেয়েদের স্কুলে ডেলিভারি বয়দের অ্যালাও করে না বলেই তো যত ঝামেলা। গার্জেনরা যদি সবাই মিলে প্রিন্সিপালকে চিঠি লেখে…প্লিজ অ্যালাও…তোমাদের হ্যাপা যাবে, আমরাও হ্যাপি হব।’

    ‘চুপ কর, একদম চুপ কর। দেখছ না জরুরি কাজ করছি?’ বাঁশরি হেসে বলল, ‘সেই জন্যই তো বিরক্ত করছি। আমি স্কুলে বেরনোর সময় তোমার জরুরি কাজ আমার পছন্দ নয়।’

    সুনন্দিনী মেয়েকে ধমক দিতে দিতে ল্যাপটপ ফেলে উঠে পড়ে। রান্নাঘরে টিফিন বানাতে ঢোকে। হাতের কাজ থেকে নিস্তার নেই।

    এরপর অফিসে গেল কৌস্তভ। তার ঝামেলা টিফিন নয়, তার ঝামেলা ‘খুঁজে না পাওয়া’। অফিসে বেরনোর সময় সে কিছুই খুঁজে পাবে না। রুমাল, টাই, মোবাইল, গাড়ির চাবি সব যেন গা ঢাকা দেবে। সুনন্দিনীকে হাতে তুলে দিতে হবে। আজও হয়েছে।

    বিরক্ত সুনন্দিনী বলল, ‘একটা দিন কি নিজের কাজটুকু করে নিতে পারো না? আজ আমার কেমন টেনশন বুঝতে পারছ না।’

    কৌস্তভ আমতা আমতা করে বলে, ‘সামান্য রুমাল খোঁজা কী আর এমন কঠিন? কিন্তু সেই সময়টুকুই যে থাকে না। জিনিসগুলো লাস্ট মোমেন্টে হারায় কিনা। যদি আগে হারাত ঠিক বের করে ফেলতাম। এখন খুঁজতে গেলে অফিসে লেট হয়ে যায়। তোমার মতো বেলা করে গেলে তো আমার চলবে না।’

    সুনন্দিনী বিরক্ত গলায় বলে, ‘কই, আমিও তো অফিসে যাই, কোনওদিন তো বলিনি এটা পাচ্ছি না, ওটা পাচ্ছি না। বলেছি?’

    কৌস্তভ হেসে বলে, ‘ডার্লিং, সংসার তোমার। সংসারের জিনিসগুলোও তোমার। তারা তোমার সঙ্গে বিট্রে করবে কেন? বেরনোর সময় ঠিক তোমার হাতের কাছে হাজির হয়।’

    সুনন্দিনী বলে, ‘বাজে কথা বল না। তোমার মোবাইল আমার কেন হতে যাবে? এবার থেকে রাতে শোবার সময় পকেটে রুমাল, মোবাইল, গাড়ির চাবি নিয়ে শোবে।’

    ‘তাই হবে প্রিয়তমা। তোমার আদেশ শিরোধার্য। রাতেই জুতো মোজা, টাই পরে ঘুমোতে যাব। দরকার হলে বেডরুমে না শুয়ে গ্যারাজে গিয়ে গাড়িতে শোব। গাড়ির চাবি হারাবে না। যাই হোক, নন্দিনী, আজ লাঞ্চ করতে বাড়িতে আসছি কিন্তু। অফিসের ক্যান্টিনে তেল মশলা বেশি শুরু করেছে।’

    নিউটাউনে ফ্ল্যাট নেবার পর কৌস্তভের অফিস বাড়ির কাছে হয়ে গিয়েছে। সে লাঞ্চের সময় মাঝেমধ্যে চলে আসে। চাবি খুলে ফ্ল্যাটে ঢোকে। হটকেসে খাবার থাকে। গরম করে রেখে যায় সুনন্দিনী। তারপরেও দরকার হলে মাইক্রোতে একবার ঢুকিয়ে নেয়। তবে ঘন ঘন আসতে পারে না। বেশিরভাগ দিনই হয় না। যেদিন হয়, সেদিন সুনন্দিনীকে আগে জানিয়ে রাখে। মুখে বলে না, তবে হাবেভাবে বুঝিয়ে দেয়, মেনুটা যেন একটু ভালো হয়। স্বামী বাড়িতে লাঞ্চ করলে সুনন্দিনী খুশিই হয়। বয়স তো বাড়ছে। বাইরের খাবার রোজ রোজ না খাওয়াই ভালো। তবে আজ খুশি হল না। আজ টেনশনের দিন। আজ তার রান্নার দিকে নজর দেওয়ার সময় নেই। কিন্তু কী করা যাবে? স্বামীকে তো বলা যায় না, ‘বাড়িতে খেও না। আজ আমার কাজ রয়েছে।’ সে ঘাড় নেড়েছে।

    মালতীর মা সকাল সকাল আসে। আজও এসেছে। সে আসায় টেনশন অনেকটা কমেছে সুনন্দিনীর। তার এই ডোমেস্টিক হেল্পারটি ভাল বললে কম বলা হয়, অন্য গৃহিণীদের হিংসে করবার মতো ভালো। কাজের লোক এতো ভালো পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার। কোনও কাজে ‘না’ নেই, কামাইও করে না। এখানে কোথায় যেন গ্যারাজ ভাড়া করে ছেলেকে নিয়ে থাকে। স্বামী আর মেয়ে রয়ে গিয়েছে দেশেরবাড়ি। স্বামী জনমজুরের কাজ করে। মেয়ে ছোট, বাঁশরির বয়সি। মোবাইলে তার ফোটো দেখিয়েছে সুনন্দিনীকে। বেশ দেখতে। গায়ের রং ফর্সা, ঘাড় পর্যন্ত কোঁকড়ালো চুল, চোখে মুখে টলটলে ভাব।

    ‘জানেন দিদি, মালতীর মাথায় বুদ্ধি খুব।’

    সুনন্দিনী বলে, ‘বুদ্ধি আছে তো লেখাপড়া করালে না কেন?’

    মালতীর মা বলল, ‘আমি কী করাব? নিজেই তো করলে না। ক্লাস এইটে উঠে আর স্কুলেই গেলে না। এখন সাজগোজে মন হয়েছে। আমি আপনার কথা ওকে গল্প করেছি। মালতী বলেছে, একবার নিয়ে যেও মাসির সঙ্গে দেখা করব।’ মালতীর মা একটু থেমে হেসে বলল, ‘আপনাকে না চিনেই মাসি ডাকে।’

    সুনন্দিনী উৎসাহ দেখিয়ে বলল, ‘বাঃ, খুব ভালো মেয়ে তো তোমার। অবশ্যই ওকে নিয়ে আসবে। একদিন কেন? পাকাপাকিভাবে মেয়েকে এখানে নিয়ে এসে তোমার কাছে রাখ। আমি ওর লেখাপড়ার ব্যবস্থা করব।’

    মালতীর মা বলল, ‘তা হবে না। মেয়েকে ওর বাপে ছাড়বে না। আমি বলেছিলাম, রাজি হয়নি। ওখানে ঘর সংসার করবে কে? আমি এসেছি দু’পয়সা রোজগার করতে। ছেলেও সঙ্গে এসেছে কাজ খুঁজতে। তাতেই মালতীর বাপের কত্ত রাগ! আরে বাপু, রাগ করে কী হবে? জনমজুরির কাজে কটা টাকা পাও তুমি? চারটে পেট ভরে না। না খেয়ে মরব নাকি? আমি তো জোর করেই এসেছি। মেয়েকে ছাড়ে না।’

    সুনন্দিনী বিরক্ত হয়ে বলল, ‘এমন করলে কী করে হবে? এই জন্যই তো মেয়েদের এত দুর্দশা। লেখাপড়া শেখবার যোগ্যতা থাকলেও সবাই মিলে আটকে দেয়।

    এসব ‘বড়’ কথা মালতীর মা বোঝে বলে মনে হয় না। সে বলে, ‘এবার মেয়ের বিয়ে দেব ভেবেছি।’

    সুনন্দিনী আঁতকে ওঠে। বলে, ‘সেকী! এখন? এতো কম বয়েসে বিয়ে দেবে কী! একেবারে বাঁশরির বয়স তো গো। একেবারে এক।’

    মালতীর মা হেসে বলল, ‘বাঁশরি দিদিমণি আর মালতীর বয়স এক হলে কী হবে, তারা দুজন তো এক নয় দিদি। বলুন, তারা কি এক?’

    সেদিন মনে মনে ধাক্কা খেয়েছিল সুনন্দিনী। কথা বাড়ায় নি। রাতে কৌস্তভকে বলে, ‘কথাটা শুনে খুব মন খারাপ হয়ে গিয়েছিল

    কৌস্তভ ম্যাগাজিন উলটোতে উলটোতে বলেছিল, ‘কী এমন কথা যে একেবারে মন খারাপ করে বসলে! এটাই তো নরমাল। পাড়াগাঁয়ে গরিব মেয়েদের তো কম বয়েসেই বিয়ে হয়। ওদের খাওয়াবে কে? তার থেকে বড় কথা পাহারার ব্যাপার থাকে। তুমি বরং একটু সাবধানে থেকো। মেয়ের বিয়ের জন্য টাকা চেয়ে না বসে। এসব বাড়ির আলোচনার মধ্যে বেশি ঢুকো না। কাঁদুনি গেয়ে রাখল।’ সুনন্দিনী বলল, ‘ছিঃ, এরকম বলছ কেন? মালতীর মা যথেষ্ট ভালো।’ কৌস্তভ হাই তুলে বলেছিল, ‘ভালো বলেই তো চিন্তার। যাক, আলোটা নিভিয়ে কাছে এসো দেখি। অনেকদিন আদর করিনি।’

    সুনন্দিনী কঠিন গলায় বলেছিল, ‘না।’

    কৌস্তভ গাঢ় স্বরে বলেছিল, ‘আরে বাবা, রাগ করছ কেন? দেখো, শরীরের সঙ্গে মনও ভালো হয়ে যাবে।’

    সুনন্দিনী পাশ ফিরতে ফিরতে বলেছিল, ‘আমার ভালো দরকার নেই।’ স্বামীর ওপর রাগ করলেও, তারপর থেকে মালতীর মায়ের সঙ্গে ব্যক্তিগত কথা এড়িয়েই চলত সুনন্দিনী। গল্প করবার সময়ই বা কই তার? যতই মালতীর মা ভালো মানুষ হোক এবং আরও একজন রান্নার লোক থাকুক না কেন, যাবতীয় তদারকি তো তাকেই করতে হয়। শুধু তো কৌস্তভের মাঝেমধ্যে এসে লাঞ্চ নয়, মেয়েও স্কুল করে বাড়ি ফেরে। চাবি খুলে ফ্ল্যাটে ঢোকে। ঘরে ঢুকে প্রথমেই বাড়িতে রাখা মোবাইল থেকে মাকে ফোন। তারও টিফিনের ব্যবস্থা করে যেতে হয়। ঘরের ড্রেস বের করে রাখতে হয়। হাতের কাছে না পেলে জামা কাপড় ছাড়বেই না। মেয়ে খুব কুঁড়ে হয়েছে। যেদিন টিউশন থাকে কৌস্তভ গাড়ি পাঠিয়ে দেয়। অফিসে বসেই সুনন্দিনীকে খেয়াল রাখতে হয়, গাড়ি পাঠাতে কৌস্তুভ ভুলে না যায়। একটু দেরি হলেই মেয়ে ফোন করে চেঁচামেচি শুরু করবে।

    ‘মা, তোমরা কি জানও মিস্ ভট্টরাই নেভার রিপিটস্। কোনো চ্যাপ্টার উনি সেকেন্ড টাইম পড়ান না। একবার যে দেরি করবে সে গেল। ফিনিশ।’

    সুনন্দিনী চাপা গলায় বলল, ‘আমাকে বলছিস কেন? বাবাকে বল। আমি তো কাজ করছি।’

    ‘বাবা ফোন ধরছে না। মনে হয় মিটিঙে।’

    সুনন্দিনী বলে,ড্রাইভারকাকুকে ফোন কর।’

    ‘করেছিলাম। ফোন বলছে, মোবাইল রিচার্জ করা নেই, তাই ওরা লাইন ঢোকাবে না। মা, আমি ক্যাব ডেকে নিচ্ছি।’

    টেলিফোনেই আঁতকে ওঠে সুনন্দিনী। কদিন আগেই কাগজে খবর পড়েছে। কবে যেন একা ক্যাবে উঠে একটা মেয়ে বিপদে পড়েছিল। বাঁশরি তো বাচ্চা।

    ‘নানা, তোমায় ওসব পাকামি করতে হবে না। আমি দেখছি।’

    ‘পাকামি কেন মা! আমার বন্ধুরা তো অনেকেই ক্যাবে যাতায়াত করে।’

    সুনন্দিনী ধমক দিয়ে ওঠে, ‘করুক। তোমাকে যা বলছি তাই করবে।’

    ‘কী করতে বলছ?’

    সুনন্দিনী বলে, ‘ঘরে বস থাক। টিউশন যেতে হবে না।’

    ‘তুমি কোন যুগে পড়ে আছো মা?’

    সুনন্দিনী বলে, ‘যে যুগেই থাকি, তুমি একা কোথাও বেরোবে না। দিনকাল একদম ভালো নয়।’

    আরও পাঁচজনের মতো এসব নিয়েই চলতে হয় সুনন্দিনীকে। চলেও সে। আজ মালতীর মা কাজকর্ম সারছিল, ল্যাপটপে হুমড়ি খেয়েছিল সে। একটা চার্টে সামান্য ভুল ছিল। প্রফিট প্রজেকশন গ্রাফ যতটা ওপরে ওঠবার কথা, তার থেকে একটু আগেই থমকেছে। চার্ট ঠিক করে সুনন্দিনী। আর তখনই মালতীর মায়ের কান্না শুনতে পায়।

    দুই

    ঘটনাটা ছেঁড়া ছেঁড়া ভাবে কোনোরকমে বলবার পর আবার ডুকরে কান্না।

    ‘আমি চললাম দিদি…আমি চললাম…।’

    এতক্ষণ মালতীর মায়ের সমস্যা নিয়ে চিন্তিত হচ্ছিল, এবার সুনন্দিনীর মাথায় বাজ পড়ল। চললাম মানে! কাপড় কাচা, বাসন মাজা, ঘর ঝাঁট মোছা, মাছ ধোয়া সব কাজই তো পড়ে রইল। এক্ষুনি রান্নারমাসি আসবে। তার আবার সবসময় তাড়া। সময় মেপে চলে। হাতের কাছে সব যোগাড় থাকা চাই। এসে রান্নাটুকু সেরে চলে যাবে। এখন কী হবে? সব নিজের হাতে করতে হবে? অসম্ভব। আর একঘণ্টা পরে অফিসের গাড়িও চলে আসবে। সুনন্দিনী মনে মনে ভেবে নিল, মালতীর মাকে আটকাতে হবে। যে করেই হোক খানিকক্ষণের জন্য আটকাতে হবে। যদিও সে যে ঘটনার কথা বলছে, তারপর তাকে আটকানো মুশকিল। তবু চেষ্টা করতে হবে। ঘর পরিষ্কার না হয় বাদ রাখা যায়, কিন্তু বাকিগুলোর কী হবে? কাপড় কাচা? রান্নার যোগাড়? কৌস্তুভ আজ বাড়িতে লাঞ্চ করবে। তার কী হবে? ঠিকমতো সব হাতের কাছে তুলে না দিলে রান্নারমাসি তো বেঁকে বসবে।

    সুনন্দিনী নরম গলায় বলল, ‘কোথায় যাবে?

    মালতীর মা ফুঁপিয়ে উঠল, ‘কোথায় আবার? বাড়ি যাব। দশটা দশের লোকাল ধরব।’

    সুনন্দিনী এগিয়ে গিয়ে মালতীর মায়ের কাঁধে হাত রাখল।

    ‘দশটা দশের লোকাল ধরলেও তিন, সাড়ে তিন ঘণ্টার আগে তো পৌছোতে পারবে না। তোমার বাড়ি দূর তো কম নয়’

    মালতীর মা মাথা নেড়ে বলল, ‘যখনই পৌছোই, এখনই রওনা দেব।’

    সুনন্দিনী গলা আরও নরম করে বলল, ‘তুমি এখন গিয়ে কী করবে মালতীর মা? তোমার ছেলেকে বরং পাঠিয়ে দাও, তুমি এখান থেকেই খোঁজ খবর নাও। সেরকম বুঝলে আমার এখানে আজকের দিনটা থেকে যেতে পারো।’

    মালতীর মা চোখ বড় বড় করে বলল, ‘এখানে থেকে যাব! দেশে আমার অত বড় সর্বনাশ হয়ে গিয়েছে, আর আমি আপনার কাছে থেকে যাব? এ আপনি কেমন কথা বলছেন দিদি!’

    সুনন্দিনী লজ্জা পেল। কথাটা এভাবে বলা ঠিক হয়নি।

    ‘তা বলছি না। বলছি, তুমি একটু শান্ত হয়ে বিকেলের দিকে রওনা হতে পারো। তোমার দাদাকে বললে, সেও এখান থেকে খোঁজ করতে পারে। তার এক পরিচিত ভদ্রলোক পুলিশে চাকরি করেন। তুমি মাথা ঠান্ডা করে বস মালতীর মা, আমি কৌস্তভকে ফোন করছি।’

    এবার মালতীর মা ঝাঁঝিয়ে ওঠে। খেপে ওঠে যেন। প্রায় ধমক দেওয়ার ভঙ্গিতে চিৎকার করে বলে, ‘কিচ্ছু করতে হবে না, কাউকে ফোন করতে হবে না। পুলিশ কী করবে? ওরা সব জানে আড়ালে থেকে পুলিশ‍ই তো এসব করায়।’

    শান্ত এই মহিলাকে এমন রেগে উঠতে আগে কখনও দেখেনি সুনন্দিনী। খানিকটা ঘাবড়েই যায় যে। তাছাড়া এসব কী বলছে সে! পুলিশ কী করাবে?

    মালতীর মা হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,’আমি যাচ্ছি দিদি। জানি না ওখানে গিয়ে কী খবর পাব। এক বছরে আমাদের ওদিক থেকে তিনটে মেয়ে উধাও হয়েছে। ওরা লোভ দেখায়। বিয়ের লোভ, টাকা-পয়সার লোভ, নাচ গানের লোভ। যে যেটায় ধরা দেয়। একবার ধরা দিলে বিপদ। দু’মাস আগে একটা মেয়েকে ক্ষেতে পাওয়া গেল। সে নাকি মাঝপথে সব বুঝতে পেরে বেঁকে বসেছিল। তার হাত মুখ বেঁধে…কাপড় ছিঁড়ে…উফ্ মা গো…।’

    মুখে দু’হাত চাপা দেয় মালতীর মা। সুনন্দিনী বোঝে, এই মহিলা অনেক দুর পর্যন্ত ভেবে ফেলেছে। ভয়ও পেয়েছে খুব। আর আটকানো যাবে না। তাও সে শেষ চেষ্টা চালায়।

    ‘ছিছি। এতসব ভাবছ কেন? এরকম কিচ্ছু হবে না। মালতী বুদ্ধিমতী মেয়ে। তাছাড়া আমরা তো রয়েছি। শান্ত হও। তোমার মেয়ে এসব নোংরা লোভে পা দেবে না।’

    মালতীর মা বিড়বিড় করে, ‘বাপটার জন্য এই সর্বনাশ হল। আমি কত্তবার বলেছিলাম, মেয়েটাকে নিয়ে যাই, নিয়ে যাই…কিছুতে ছাড়লে না।’

    মালতীর মা বেরিয়ে যেতে সুনন্দিনী খানিকক্ষণ চুপ করে বসে থাকে। এবার তার রাগ হচ্ছে। মালতীর মা বাড়াবাড়ি করল। মেয়ে কোথায় বেড়াতে গেছে তার ঠিক নেই, এ অমনি কাজকম্ম ফেলে পালাল। গালও দিচ্ছে সবাইকে। এমনকি সেও বাদ গেল না। তাকেও গলা তুলে কথা বলেছে। না, কৌস্তভ ঠিকই বলে, এদের সঙ্গে বেশি মেলামেশা করতে নেই।

    সুনন্দিনী ফোন তুলে দুটো ফোন করল।

    প্রথম ফোনটা রান্নারমাসিকে। আসতে বারণ করল। তাকে মাছ কেটে, মশলা রেডি করে, আনাজপাতি সাজিয়ে কে দেবে? সেই ইচ্ছে বা সময় কোনওটাই তার আজ নেই। রান্নাঘর থেকে অর্ধেক ধোওয়া মাছ এনে ডিপ্ ফ্রিজে তুলে রাখল সুনন্দিনী। তারপর দ্বিতীয় ফোনটা করল কৌস্তভকে।

    ‘কী হয়েছে? এই তো বাড়ি থেকে এলাম।’

    সুনন্দিনী বলল, ‘আজ বাড়িতে আসতে হবে না। অফিসে লাঞ্চ করে নিও।’

    কৌস্তুভ বলল, ‘কেন? কুক দিদিমণি আসেননি?’

    সুনন্দিনী বলল, ‘আমি আসতে বারণ করেছি।’

    কৌস্তভ অবাক হয়ে বলল, ‘বারণ করেছ! কেন?’

    সুনন্দিনী বলল, ‘মালতীর মা দুম করে চলে গেল।’

    কৌস্তভ বলল, ‘সেকি! কোথায় গেল? কাজ ছেড়ে দিল নাকি?’

    সুনন্দিনী বলল, ‘না। দেশেরবাড়ি গেল। সেখান থেকে খবর এসেছে, তার কন্যাটি নাকি সকাল থেকে নিখোঁজ।’

    কৌস্তভ বলল, ‘নিখোঁজ!’

    সুনন্দিনী বলল, ‘ঠিক নিঁখোজ বলি কী করে? তাকে নাকি সকালবেলা সেজেগুজে ট্রেনে উঠতে দেখা গেছে…মালতীর মায়ের ধারণা, তার মেয়ে পাচারকারীদের খপ্পরে পড়েছে। লোভ দেখিয়ে মেয়েকে নিয়ে গিয়েছে। ওদের ওখানে এরকম নাকি হয়।’

    কৌস্তভ বলল, ‘থামো তো, যতসব গল্পকথা। কোন ছেলের সঙ্গে পালিয়েছে তার ঠিক নেই। এখন এসব পাচার-টাচারের গল্প ফাঁদছে। মেয়ের নষ্টামি ঢাকবার চেষ্টা করছে।’

    সুনন্দিনী একটু চুপ করে থেকে বলল, ‘আমারও তাই মনে হয়েছে। মেয়ে তো লেখাপড়া ছেড়ে সাজগোজে মন দিয়েছিল। পাড়ায় কী করে বেড়াত তার ঠিক আছে? তাছাড়া…তাছাড়া মেয়ের মা বড্ড বেশি রিঅ্যাক্ট করল। এমন একটা ভান করছিল যেন ওর মেয়ের উধাও হওয়ার জন্য সবাই দায়ী। ওর বাবা থেকে পুলিশ কাউকে গাল দিতে বাদ দেয়নি। বোঝাতে গেলে আমাকেও প্রায় ধমক দিয়ে উঠল।’

    কৌস্তভ বলল, ‘কত টাকা নিয়েছে?’

    ‘এক মাসের মাইনে। আমি একশো টাকা বেশি দিয়েছি।’

    কৌস্তভ বলল, ‘যাক অল্পের ওপর দিয়ে গেছে। দেখবে দুদিন পর মেয়েকে নিয়ে এসে হাজির হবে। মাথা ভর্তি সিদূর। মেয়ে ভুল করে বিয়ে করে ফেলেছে, তোমার আশীর্বাদ চাই। আসলে উপহার চাই। তুমি আবার তখন গলে গিয়ে হাত উপুড় করে দিও না। যাই হোক, ইনসিডেন্টটা মাথা থেকে এবার ফেলে দাও নন্দিনী। কাজের মাসির মেয়েকে নিয়ে এতো ভাববার সময় কি আমাদের আছে? নাকি আমাদের মানায়?’

    স্নান করতে করতে সুনন্দিনী ভেবে দেখল, কৌস্তভ ঠিক বলেছে। সে বেশি ভেবে ফেলেছে। আজ তার কেরিয়ারের একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন। সব ছেড়ে সেদিকে মন দেওয়ার উচিত। এরকম একটা নিম্নমানের ঘটনা নিয়ে মাথা ঘামানোটাই ঠিক হয়নি। কোনওদিনই ঠিক নয়। এই ধরনের মেয়ে কার সঙ্গে পালাল না কে ফুঁসলে নিয়ে গেল তাতে তার কী? কাজ করতে হবে সেই ভয়ে বিশ্রী ঘটনাটার মধ্যে ঢুকে পড়েছিল। আরে বাবা, এখন তো আর সেই যুগ নেই। সংসারের কাজ সামলাতে হাজাররকম গ্যাজেট এসে গেছে। বয়েসে ছোট হলেও বাঁশরি ঠিক বলেছে। একদিন রান্না না হলে কী আসে যায়? কিচ্ছু আসে যায় না। ঘরে বসে খাবার আনিয়ে নিতে কতক্ষণ? একটা ফোন। বলে দিলে তেল ঝালও দেবে না। এটা হল টেকনোলজি আর হেলথ কনসাস যুগ। প্রযুক্তি আর স্বাস্থ্য। বাকি সব তুচ্ছ। এতো চিন্তা কীসের? ধ্যুস্। শাওয়ারের তলায় দাঁড়িয়েই মনে মনে নিজের কাঁধ চাপড়াল সুনন্দিনী।

    বাথরুম থেকে ঝরঝরে শরীর আর মন নিয়ে বেরল সুনন্দিনী। মালতীর ঘটনা মাথা থেকে বেরিয়ে গিয়েছে। তার মনে হচ্ছে, প্রেজেন্টেশন ভালো হবে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে চুল বাঁধতে বাঁধতে নিজেই কয়েকবার আওড়ে নিল কী বলবে। রিহার্সাল। আচ্ছা, শেষটুকু আগে বলে নিলে কেমন হয়? একটা চমক হবে না? প্রফিট মার্জিনের কথাটা শুনলে সকলে নড়ে চড়ে বসবে। নাকি সেটা বাড়াবাড়ি হবে? ধাপে ধাপে এগোনোটাই ভালো? নিচে অফিসের গাড়ি হর্ন দিল। ফ্ল্যাট দোতলায় বলে এই একটা সুবিধে। সুনন্দিনী তাড়াহুড়ো শুরু করল।

    গোলমালটা হল ফ্ল্যাট বন্ধ করে বেরোনোর সময়।

    গোলমাল ঠিক নয়, ভুল। দরজায় চাবি লাগাতে গিয়ে মনে হল, কে যেন ফিসফিস করে ডাকল, ‘মাসি।’ ফ্ল্যাটের ভিতর থেকেই ডাকল যেন। ছোট মেয়ের গলা। থমকে দাঁড়াল সুনন্দিনী। তার বুকের ভিতরটা ছ্যাঁৎ করে উঠল। তবে মুহূর্তের থেকেও কম সময়। তারপরই সম্বিত ফিরে পেল সুনন্দিনী। লজ্জা আর রাগ হল তার। একী করছে! কী একটা হাবিজাবি, ভুল শুনল, তাতে একেবারে দাঁড়িয়ে পড়ল! দরজা আটকে, ল্যাপটপের ব্যাগটা শক্ত করে চেপে ধরে সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নিচে নামতে লাগল সুনন্দিনী।

    তিন

    প্রেজেন্টেশন খুব ভালো হয়েছে। সবাই অভিনন্দন জানিয়েছে। এমনকি সুনন্দিনীর খিটখিটে বস পর্যন্ত। নিজের ডেস্কে ফিরে সুনন্দিনী আগে ফোন করল কৌস্তভকে।

    খবর শুনে কৌস্তুভ বলল, ‘কনগ্রাচুলেশন ডার্লিং, লাভ ইউ।’

    সুনন্দিনী চাপা আহ্লাদি গলায় বলল, ‘লাভ ইউ না কচু। বাড়িতে তো বাবা আর মেয়ে জ্বালিয়ে মারো। তোমরা ডিসটার্ব না করলে আরও ভালো হত। অ্যাই, জানও মনে হচ্ছে, প্রোমোশনটা হয়ে যাবে।’

    কৌস্তভ নাটুকে গলায় বলল, ‘আমি গর্বিত, আমি উল্লসিত। পত্নীর গর্বে পতির গর্ব, নইলে ফ্যাচাং বাড়ে।’

    সুনন্দিনী ঘন গলায় বলল, ‘ইয়ার্কি মেরো না। আজ বাইরে কোথাও ডিনারে যাব। সকালে মেয়েটাকে একটু বকাবকি করেছি।’

    কৌস্তভ বলল, ‘বাঃ একটু বকাবকিতেই ডিনার! এবার থেকে আমাকে বেশি বকুনি দিও তো।’

    সুনন্দিনী ফিসফিস করে বলল, ‘রাতে দেব। এখন রাখছি।’

    কৌস্তভের ফোন কাটতেই আবার সেই ভুল! এবার আর সামনে নয়, পিছনে দাঁড়িয়ে কেউ যেন নিচু গলায় ডাকল। সেই কন্ঠস্বর। অফিসে বেরোনের সময় যেমনটা শুনেছিল। ছোট মেয়ের গলা। মেয়েটা এবার গোটা একটা বাক্য বলেছে।

    ‘এই যে শুনছ?’

    বুকের ভিতর ধক করে উঠল সুনন্দিনীর। চমকে পিছনে তাকাল। না, কেউ নেই। থাকবার কথাও নয়। কিন্তু এ কী হচ্ছে? কেন বারবার এমন ভুল শুনছে? গলাটা কার?

    সুনন্দিনী বুঝতে পারল, অল্পের জন্য হলেও তার ভয় করছে। ঘড়ি দেখল। সে কি এখন বাঁশরির স্কুলে চলে যাবে? মেয়ের ছুটি পর্যন্ত অপেক্ষা করবে? তারপর একবারে মেয়েকে নিয়ে বাড়ি ফিরবে? মনে মনে নিজেকে ধমক দিল সুনন্দিনী। এসব কী ভাবছে! একটা ভুল নিয়ে এতো বাড়াবাড়ি করছে! ছিছি। কয়েক মিনিট বসে, একটু জল খেল সুনন্দিনী। যে বাস বাঁশরি স্কুলে যায় সেই বাসের ছেলেটাকে ফোন করল। একবার বাজতেই ফোন ধরল ছেলেটা।

    ‘বলুন ম্যাডাম।’

    সুনন্দিনী নিচু গলায় বলল ‘কণাদ, আজ বাস লেট করেনি তো?’

    কণাদ বলল, ‘না ম্যাডাম। একেবার টাইমে গাড়ি ঢুকিয়েছি।’

    সুনন্দিনী বলল, ‘ভেরি গুড।’

    কণাদ বলল, ‘আপনার মেয়ে তো সবার আগে ছুটে স্কুলে ঢুকে গেল।’

    সুনন্দিনী বলল, ‘ঠিক আছে। বাঁশরিকে বল না, আমি ফোন করেছিলাম। রাগারাগি করবে।’

    কণাদ হেসে বলল, ‘সাবার গার্জেন করে ম্যাডাম। আমি কাউকে বলি না।’

    হালকা মনে বসের মিটিঙে গেল সুনন্দিনী।

    রাতে শোবার সময় কৌস্তভকে সব বলল সুনন্দিনী। কৌস্তভ বউয়ের নাইটির ফিতে খুলতে খুলতে বলল, ‘তোমার মাথা থেকে সকালের ঘটনা যায়নি নন্দিনী। তাই এসব ভুলভাল শুনছ।’

    সুনন্দিনী কাছে স্বামীর কাছে ঘেঁষে এসে বলল, ‘তাই?’

    কৌস্তভ সুনন্দিনীর নগ্ন বুকে হাত রেখে বলল, ‘ভালো করে একটা ঘুম দাও, দেখবে কাল একেবারে ফ্রেশ হয়ে গেছ। সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে। কোনো কোনো ইনসিডেন্ট মাথা থেকে সহজে যেতে চায় না। হ্যালুশিনেসন হয়ে ফিরে আসে। হ্যালুশিনেসন জানো তো? ভ্রান্তি। তোমারও তাই হয়েছে। অডিটরি হ্যালুশিনেসন। ভুল শুনছ।’

    সুনন্দিনী বলল, ‘ভুল শুনছি!’

    কৌস্তভ বউয়ের মুখটা দু’হাতে ধরে বলল, ‘অবশ্যই ভুল। তুমি আসলে ওই মালতী মেয়েটা গলা শুনতে পাচ্ছ। অথচ ওর গলা তুমি কখনও শোনোনি। বুঝতেই পারছ, কত বড় ভুল। দেখো, কাল ঠিক হয়ে যাবে। তবে ভালো ঘুমের জন্য ভালো আদর দরকার।’

    বরের ‘ভালো আদর’ পেয়েও সুনন্দিনী রাতে বিচ্ছিরি স্বপ্ন দেখল। তার ঘুম ভেঙে গেল। স্বপ্নে সে দেখল, বাঁশরি স্কুল থেকে ফিরছে না। বিকেল গড়িয়ে সন্ধে, সন্ধে গড়িয়ে রাত, তাও ফিরছে না। কাঁদতে কাঁদতে স্কুলে ফোন করল সুনন্দিনী। স্কুল থেকে বলল, মালতী তো আজ স্কুলে আসেনি।’

    সুনন্দিনী চিৎকার করে বলল, ‘মালতী নয়, বাঁশরি। আমার মেয়ে বাঁশরি আপনারা প্লিজ খোঁজ নিন। প্লিজ…।’

    স্কুল থেকে বলল, ‘বুঝতে পেরেছি ম্যাডাম। আমার খোঁজ নিয়েছি, ক্লাস টেনের মালতী আজ স্কুলে আসেনি।’

    ঘুম ভেঙে ধড়ফড় করে উঠে বসল সুনন্দিনী। সে ঘামছে। সকালে সব ঠিক হয়ে যাবে তো?

    সকালে সব ঠিক হয়ে গেল। ঘুম থেকে উঠে সুনন্দিনী বুঝতে পারল, তার মনে আর ভয়, ভুল কিছু নেই। দিনের আলোয় সব কেটে গিয়েছে। আবার সব স্বাভাবিক। বাঁশরি যথারীতি টিফিন নিয়ে বায়না শুরু করেছে। কৌস্তভ আজও অফিস যাওয়ার আগে রুমাল, মোজা, টাই হারিয়ে ফেলেছে। ড্রইংরুমের সোফায় বসে চায়ের কাপে চুমুক দিল সুনন্দিনী। টেবিলে পড়ে থাকা খবরের কাগজটা টেনে পাতা ওলটালো আলগোছে। এ পাতা ও পাতার পর, ছয় না সাত নম্বরের পাতায় ছোট একটা খবরে চোখ পড়ল। খবরের হেডিং ‘পাচার করা কিশোরীকে ধর্ষণ ও খুন।’ সুনন্দিনী কাগজ সরিয়ে রাখে। খবর পড়বার সময় নেই তার। মেয়ের স্কুলের টিফিন করতে হবে। বরের রুমাল, টাই খুজে দিতে হবে। নিজেরও আজ অফিসে যাওয়ার তাড়া রয়েছে। প্রোমোশনের অর্ডার হতে পারে। সোফা থেকে উঠে পড়ে সুনন্দিনী। আর তখনই কানের কাছে আবার সেই কণ্ঠস্বর! চাপা ও জড়ানো। গোঙানির মতো। কথা বোঝা যায় না, তারপরেও সুনন্দিনী এবার মেয়েটির গলা চিনতে পারে। তার অনেকদিনের চেনা।

    দশটা দশের ট্রেন ধরতে স্টেশনে দাঁড়িয়ে আছে সুনন্দিনী। সে মালতীর মায়ের গ্রামের বাড়ি যাচ্ছে। কিছু করতে যাচ্ছে না, শুধু মালতীর মায়ের পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }