Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    স্যার, আমি খুন করেছি – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প201 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    একজন গণেশের গল্প

    একজন গণেশের গল্প

    ১

    গণেশের আবার কাজ চলে গেছে।

    আবার সে বেকার। বারো বছরের জীবনে এই নিয়ে তার সাতবার কাজ গেল। হায়ার অ্যান্ড ফায়ার।

    গণেশ বড়দের মতো কর্মজীবন শুরু করেছিল সামান্য ‘কম বয়েসে’। তবে সেটা বুক ফুলিয়ে বলবার মতো কোনও কথা নয়। অনেকেই ‘কম বয়েসে’ বড়দের মতো কর্মকাণ্ড করে ফেলে। কেউ স্কুল পাশ করে, কেউ এরোপ্লেন বানায়, কেউ ছবি আঁকে, কেউ গান গায়। গণেশও তেমন। আট বছর বয়সেই ‘নিজের ভাত নিজে জোটাও’ কর্মকাণ্ডে যোগ দিয়েছে। একটাই ফারাক, ‘কম বয়েসে’ মায়ের কোলে বসে বড়দের মতো গান গাইলে বা বাবার কাঁধে চেপে অঙ্ক পারলে টিভিতে লাফালাফি হয়, খবরের কাগজে ছবি বেরোয়। নিচে লেখা হয়, ‘খুদে প্রতিভা’। কিন্তু আট বছর বয়েসে নিজের পেট নিজে ভরাতে শিখলে কেউ পাত্তা দেয় না। মুখ ফিরিয়ে নেয়। ভাবটা এমন যেন, এ আর এমন কী! কুকুর বিড়ালের ছানা নিজে খুঁটে খায় না? তাদের বাপ মা কখনও মুখে দুধ-ভাত তুলে দেয়? তারা যদি পারে, মানুষের ছানা কেন পারবে না? মানুষ কি কুকুর বিড়ালের থেকে কম? কথা সত্যি।

    গণেশ এখন চৌমাথায়। শিবমন্দিরের পাশে যে সিমেন্ট বাঁধানো গাছতলা আছে সেখানে বসে পা দোলাচ্ছে। চৈত্রের গনগনা দুপুর। এই ছোট্ট মফস্সল শহর রোদে ফাটছে। মানুষজন তেতেপুড়ে খাক। তারমধ্যে গাছতলার বাতাস কিছুটা ঠান্ডা। গণেশের পরনে হাফ প্যান্ট, স্যান্ডো গেঞ্জি। গেঞ্জির অবস্থা করুণ। কাঁধ ছেঁড়া, বুকে পিঠে ডাল, তরকারির ফ্যাসফ্যাসে হলুদ দাগ। তবে প্যান্টের অবস্থা ভালো। চকচকে, হাঁটু পর্যন্ত ঝোলা। প্লাস্টিকের সরু বেল্টও রয়েছে। গণেশের রোগা ভোগা, ছোটখাটো চেহারায় মানিয়েছে মন্দ নয়। যদিও এখন তার প্যান্ট পরে থাকার কথা ছিল না। মিনিট চল্লিশ হল, তিনটে কাচের ডিশ একসঙ্গে হাত থেকে পড়ে ভেঙে যাওয়ার অপরাধে ভাত-ডালের হোটেল থেকে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। জীবনের সাত নম্বর চাকরি। বহিষ্কারের আগে মালিক শ্যামাচরণ মাইতি আর্তনাদ করে ওঠে।

    ‘এই হারামজাদাকে কদিন আগেই নতুন জামা প্যান্ট কিনে দিয়েছি। আর সেই শয়তান কিনা তিন—তিনটে প্লেট একসঙ্গে ভেঙে ফেলল! অ্যাই কে আছিস? আছিসটা কে? জামাপ্যান্ট খুলে এটাকে এখনই বের করে দে। ন্যাংটো হয়ে পথে পথে ঘুরে বেড়াক। ডিশ ভাঙার মজা বুঝুক।’

    শ্যামাচরণ মিথ্যে বলেনি। খাবারের হোটেলে বেশি নোংরা জামাপ্যান্ট চলে না। তারওপর আবার পার্টিবাবুদের ভিড় হচ্ছে। সেই কারণে কিছুদিন হল নতুন এক সেট জামাপ্যান্ট পেয়েছে গণেশ। মালিকের নির্দেশ মতো নতুন জামা খুলে নেওয়া হল। টান পড়ল প্যান্টে। সেই সময় ‘ডালপঞ্চ’ এগিয়ে আসে। তার হস্তক্ষেপে গণেশ শেষ পর্যন্ত প্যান্ট সহযোগে বেরোতে পেরেছে। নইলে একটা চিন্তার বিষয় হত। পঞ্চুদা হোটেলের রাঁধুনি। ডাল ভালো বানায় বলে নাম হয়েছে ‘ডালপঞ্চু’।

    তবে এসব হল কঠিন বিষয়। গণেশ খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। কঠিন বিষয়কে সহজ ভাবে নেওয়ার শিক্ষা তাকে দিয়েছে শটারদা।

    ‘বুঝলি গণশা, জীবন হল একটা সহজ নদীর মতো। খুশি মতো চলে। চলার সময়ে পুজোর ফুল মালা পড়ল না পচা লাশ ভাসল, গায়ে মাখে না। মাথা ব্যথাও নেই। তোকেও তেমন হতে হবে। কঠিন জিনিস ঝেড়ে ফেলে, সহজ হতে হবে।’

    শটারদার তার থেকে তেরো-চোদ্দো বছরের বড়। কীভাবে জানি স্কুলের শেষ ক্লাস পর্যন্ত গিয়েছিল। পেট টানতে গিয়ে লেখাপড়া টানতে পারেনি। ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া হল না। কাজকম্মও জুটল না। জুটলেও মতামত হল না। পরের হুমকি ধামকি মোটে পছন্দ নয় এই লোকের। স্বাধীন ভাবে নিজে কিছু করতে চায়। গণেশকেও বারবার বলে।

    ‘গণশা, অন্যের চাকর হয়ে থাকার থেকে নিজের মাকর হয়ে থাকা ঢের ভালো। মাকর কী জানিস? মাকর হল, মানসম্মান। জানবি, মানসম্মান হল সবার আগে।’

    ‘নিজের মাকর’ হতে গিয়ে নানা কাজ করেছে শটারদা। ছোটখাটো বিজনেস। জমেনি কোনোটাই। উলটে লোকে ঠকিয়েছে। ধার দেনা হয়েছে রিস্তর। শেষপর্যন্ত ওয়াগন ভাঙায় থিতু হয়েছে। কখনও কর্ড লাইন, কখনও মেন লাইনে কাজ। সাইডিং-এ দাঁড়িয়ে থাকা মালগাড়ির দরজা খোলে গাঁইতি মেরে। এক শটে তালা উপড়োয়। হিন্দি সিনেমার কায়দায় চলন্ত মালগাড়িতে উঠে বস্তাও ফেলতে পারে। জায়গা ভুল হবে না। সেখানেও শট পাকা। তাই লাইনে নাম হয়েছে ‘শটার’। এখানে কাজের সম্মান আছে। তবে একজায়গায় বেশিদিন থাকবার উপায় নেই শটারদার। রেল পুলিশে দু—দু’বার ধরে হাজতে চালান করেছিল। বলে দিয়েছে, এরপর দেখতেই পেলেই গুলি। রেল লাইন বছরে একটা—দুটো না মারলে নাকি তাদের চাকরিতে প্রোমোশন নেই। প্রোমোশন না পেলে হবে কী করে? তাদের তো ঘরে বউ-ছেলে আছে। শটারদার সঙ্গে গণেশের দেখা হয় কদাচিৎ। মানুষটা তাকে পছন্দ করে। স্টেশনের প্ল্যাটফর্মের যেখানে শেষ হয় সেখানে বসে গাঁজা টানতে টানতে বকবক করে। গণেশ হাঁ হয়ে শোনে।

    ‘তোর জন্য কেন কিছু করি না জানিস গনশা?’

    গণেশ অস্ফুটে বলে, ‘না, জানি না।’

    শটারদা বলে, ‘তোর আর আমার দু’জনেরই কেস এক। জন্মানোর পর বা-মা ডাস্টবিনে ফেলে দিয়েছিল। জঞ্জালের মধ্যে কুঁইকুঁই করছিলাম, লোকে কুড়িয়েছে। কেন কুড়িয়েছে জানিস?’

    গণেশ বলে, ‘না, জানি না।’

    শটারদা নাক মুখ থেকে সাদা ঘন ধোঁয়া ছাড়তে ছাড়তে বলে, তুই যদি ভাবিস ভালোবেসে কুড়িয়েছে মস্ত ভুল করবি। কুড়িয়েছে ভয়ে। ভেবেছে, আমি যদি এমন করে এঁটোকাটার মধ্যে পড়ে থাকতাম কেউ কি তুলত? এইটা ভয়। বেশিরভাগ করুণার পিছনে জানবি ভয় থাকে। একই ভয়ে লোকে ভিখিরিকে পয়সা দেয়। ভাবে আমি যদি ভিখিরি হতাম। তাহলে কি কেউ পয়সা দিত? না দিলে আমি কী খেতাম? ভিক্ষে আসলে নিজেকেই দেয়। বুঝলি?’

    গণেশ বুঝল না। বোঝবার কথাও নয়। শটারদা কত লেখাপড়া! আর সে তো কোনওদিন স্কুলেই যায়নি। তারপরেও ঘাড় কাত করে।

    শটারদা বলে, ‘হিসেব করলে আমরা হলাম ডাস্টবিনতুতো ভাই। দুজনেরই ফাদার মাদার হল ডাস্টবিন। দেখলেই পেন্নাম ঠুকবি।’

    কথা শেষ করে মেটে রঙের দাঁত বের করে শটারদা ‘খ্যাঁক খ্যাঁক’ আওয়াজ করে হাসে। এক পায়ের ওপর অন্য পা তুলে নাচাতে নাচাতে বলে, ভাই হয়েও আমি তোর জন্য কিছু করি না।’

    গণেশ অবাক হয়ে বলে, ‘তুমি আবার কী করবে!’

    শটারদা উদাসীন গলায় বলে, ‘তোর জন্য একটা পাকা কাজকম্ম কি জুটিয়ে দিতে পারি না? ইচ্ছে করলেই পারি। আমার কারবারেই নিয়ে নিতে পারি। ওয়াগন ভাঙার লাইনে তোর বয়েসের ছেলেপিলেও লাগে। হাত-পা নরম বলে মালগাড়ির ভাঙা দরজার অল্প ফাঁক দিয়ে টক করে ভিতরে গলে যেতে পারে। ছোট ছেলেপিলেদের দিকে রেল পুলিশ চট করে বন্দুকও তুলতে পারে না। তারপর ধর, খিদের সময় তোকে এক পেট ভাত খাইয়ে দিতে কী আর এমন খরচা? রোজাগারপাতি ভালো থাকলে, সঙ্গে ডিমের ঝোলও পেতিস। ঝড়জলের টাইমে মাথা গোঁজবার একটা ঠাঁই দরকার। সে জোগাড় করে দেওয়াও কঠিন নয়। মান্তুকে বললেই হবে। এদিকার গোডাউন, কারসেডে সব ওর কন্ট্রোলে। একটায় ঢুকিয়ে দিত। কত লোকেই তো থাকে। মান্তু ভাড়া খাটায়। আমি বললে তোর জন্য হাফ ভাড়া। তারপরেও কিছু করি না। কেন জানিস?’ গণেশ জানতে চায় না। কী হবে জেনে। এই যে মানুষটার পাশে মাঝেমধ্যে দু’দণ্ড বসতে পারে, এই তো যথেষ্ট। নিজের লোক বলে তো দুনিয়ায় আর কেউ নেই।

    শটারদা বলে, ‘কীরে চুপ মেরে গেলি কেন? বল, কেন করি না।’ গণেশ বলে, ‘জানি না।’

    শটারদা আকাশের দিকে তাকিয়ে বলে, ‘ওসব করে মাসতুতো, পিসতুতো, খুড়তুতো ভাইয়েরা। ডাস্টবিনতুতো ভাইদের একে অপরের জন্য কিছু করবার নিয়ম নেই। তাদের নিজের জোরে বাঁচতে হয়। নিজের জোরে আবর্জনা খুঁটে খেতে হয়। তবে চিন্তার কিছু নেই। খাবারের অভাব হবে না। গোটা দুনিয়া জুড়ে থরে থরে ডাস্টবিন সাজানো। একটা থেকে বেরিয়ে আর একটায় টুক করে ঢুকে পড়বি। কোনো শালার হেল্প লাগবে না। শুধু একটা কথা মনে রাখবি গণশা, ওনলি কথা, যতক্ষণ পারবি ফাইট চালাবি। বেদম ফাইট। ডাস্টবিনের বাচ্চারা কখনও হারে না। ফাইট কী জানিস? ফাইট হল লড়াই। এই হল তরবারি যুদ্ধ।’ ডান হাত ঘুরিয়ে শূন্য তরবারি হাতে যুদ্ধ দেখায় শটারদা। বলে,’বুঝলি?’

    গণেশ আবার কিছু না বুঝে ঘাড় কাত করে। শটারদা বলে, ভেরি গুড। এসব হল হাই থট। হাই থট কাকে বলে জানিস? হাই থট হল বড় বড় চিন্তা ভাবনা। এই চিন্তা করে কত মানুষের যে নামডাক হয়েছে! হাই থট করবার জন্য ভগবান দু’ধরনের মানুষকে বেচেছেন। বড়লোক আর ছোটোলোক। প্র্যাকটিস কর তুইও পারবি। ছোটলোকদের কোটায় ঢুকে যাবি ‘

    কথা শেষ করে আবার ‘খ্যাঁক খ্যাঁক’ আওয়াজে হাসি।

    মজার কথা, ইদানীং গণেশের মধ্যে অল্পস্বল্প ‘হাই থট’এর উদয় হচ্ছে। সে লক্ষ করে দেখেছে, পেটে খিদে থাকলে বেশি করে ‘হাই থট’ আসছে। সে অবাক হচ্ছে। খিদের সঙ্গে বড় চিন্তার সম্পর্ক কী? এই দুনিয়ায় যারা বড় চিন্তাভাবনা করেছেন, নামডাক করছেন, তারা কি সব খিদের সময় করেছেন? তাই হবে। ইদানীং কাজকম্ম চলে গেলে তার মনে হয়, জীবনটাই এরকম। কোনও কিছুই পাকা নয়। কখন চলে যায়, কখন আসে তার ঠিক নেই। আবার রেল স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে শুয়ে যখন রাত কাটায়, মাথার পাশ দিয়ে ঝমঝম করে রেলগাড়ি যায়, মনে হয়, মানুষ নিজেই একটা রেলগাড়ি। একটার পর একটা স্টেশন পেরিয়ে চলেছে। আবার কখনও মনে হয়, তার যে কেউ নেই একথা ভেবে মনখারাপ করা বোকামি। আসলে এই দুনিয়ায় কারোরই কেউ নেই। সবাই মিথ্যে করে ভাবে, আমার এ আছে, আমার সে আছে। কচু আছে। এই যে সেদিন বাজারের হরিনাথকাকা হাসপাতালের মেঝেতে শুয়ে একা একা মরে গেল, ওর কি ছেলেমেয়ে নেই? আছে তো। কেউ কি এল? কেউ এল না। তাহলে থেকে কী হল?

    তবে এই সব ভেবে গণেশের মাঝেমধ্যে ভয়ও লাগে। পাগলটাগল হয়ে যাচ্ছে না তো? হাবিজাবি চিন্তা হলে নাকি মানুষ পাগল হয়। কী সর্বনাশ! তাড়াতাড়ি উঠে গিয়ে কল থেকে পেট ভরে জল খেয়ে নেয় গণেশ। খিদে মরলে যদি হাই থট পালায়।

    এখন দুপুর দুটো। গণেশের খিদে পাচ্ছে। এই খিদে বিকেল পর্যন্ত টানা গেলেও রাতের দিকে একটা কিছু ব্যবস্থা করা দরকার। তবে শুধু খিদে নয়, ঘুমও পাচ্ছে। কাল রাতে ঠিকমতো ঘুম হয়নি। পার্টিবাবুরা অনেক রাত করে হোটেলে খেতে এলো। তাদের খাবার দিয়ে, থালা বাসন ধুয়ে, নিজে কোনোরকমে দুটো রুটি-ছেঁচকি মুখে গুঁজে শুতে শুতে সেই রাত দেড়টা। কদিন এরকমই চলছে। সামনে ভোট। পার্টিবাবুরা অনেক রাত পর্যন্ত শহরে ঘুরে ঘুরে মিটিং মিছিল করছে। পোস্টার সাঁটছে। স্টেশনের পাশের মাঠে স্টেজ বেঁধে, লোক জড়ো করে ভাষণ দিচ্ছে। দড়ির গায়ে, কঞ্চির মাথায়, লাঠির ডগায় পতাকা বেঁধে সাজাচ্ছে। ‘ভোট দিন ভোট দিন’ বলে খুব খানিকটা চেঁচিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়লে রাতে দলবেঁধে খেতে আসছে। এই সময়টা শ্যামাচরণের ব্যবসা ভালো। সব পার্টির লোকই কমবেশি তার হোটেলে খায়। কেউ ভাত-ডালে খুশি, কারও কষা মাংস লাগে। দু-একজন সাইডের টেবিলে বসে লুকিয়ে বোতল বের করে। ঘন বাদামি রঙের বোতল। গণেশকে বলে, ‘অ্যাই একটা প্লেটে খানিকটা পেঁয়াজ, কাঁচা লঙ্কা নিয়ে আয় দেখি। দুটো গ্লাস দিবি। গা ব্যথার ওষুধটা খেয়ে নিই। কাল আবার শালার ভোর থেকে খাটনি।’

    গণেশ বড় করে হাই তুলল। এখানেই ঘুমোবে, এই গাছতলাতেই। আগেও ঘুমিয়েছে। একটা গামছা থাকলে হত। পাতলেই বিছানা। গামছার মতো নরম গদি হয় না। হাটে, ঘাটে, মাঠে যেখানে খুশি পেতে নাও। না, গামছা একটা কিনতে হবে কিন্তু উপায় নেই। হাতে পয়সা কই? শ্যামাচরণ মাইতির কাছে তিনমাসের মাইনে জমা রয়েছে। দেবে বলে মনে হয় না। আগেও এমন হয়েছে। গাড়ি মেরামতির গ্যারাজ থেকে তাড়াবার সময় তো পুরোটাই মেরে দিয়েছিল। বাজারে হরিনাথ বুড়োর হয়ে ফুলের দোকানে যখন বসল তখনও এক ঘটনা। দু’মাস খাটাল, টাকা দিল এক মাসের। এরা তো ছেঁচড়া, সুযোগ পেলেই লোক ঠকায়, সবাই জানে। ভদ্রলোকের বাড়িতেও এক কাণ্ড। এই তো বছরখানেক আগের কথা। রাতদিনের ফাইফরমাস খাটতে লোকের বাড়িতে কাজ নিয়েছিল। কর্তা গিন্নি দুজনেই কলেজে পড়ায়। পাড়ার লোকে খাতির করে। কিছু হলে ডেকে নিয়ে যায়। মালা পড়ায়। ওরাও নরম নরম কথা বলে। কাজটা দিয়েছিল কনকমাসি একরকম জোর করেই নিয়ে গিয়েছিল।

    ‘ছোটনোকদের মতো কাজ না করে একটা ভদ্রনোকের বাড়িতে ঢুকে যা দিকিনি গণশা। খাওয়া, পরা, থাকা, মাইনে সব পাবি। তারপর কদিন বাদে নিজেই ভদ্দরনোক হয়ে যাবি। মাস্টারের বাড়ি বলে কতা ‘

    গণেশ কাজে ঢুকে একমাসের মধ্যেই বুঝতে পারল ‘ভদ্দরনোক’ না ছাই। কর্তা গিন্নি দুটোই বিরাট বজ্জাত। পচা বাসি খেতে দেয়। একদিন সে বলল, ‘খাব না। পেট ব্যথা করে।’ ব্যস্, চুরির অভিযোগ তুলে কদিন পরেই দিল তাড়িয়ে। পরে গণেশ খবর পেয়েছিল, ওরা নাকি এমনই করে। কাজ করিয়ে মাইনে না দিয়ে লোক তাড়ায়।

    শটারদাকে কখনও এসব কথা বলেনি গণেশ। রেগে গেলে মুশকিল। কী করতে কী করে বসবে তার ঠিক আছে।

    গণেশ মন্দিরের পাশের টিউবয়েল গিয়ে ভরপেট জল খেল গণেশ। ঘাড়ে মাথায় জলের চাপড় দিয়ে আধখানা ভিজেও নিল। গাছতলায় ফিরে টান টান হয়ে শুয়ে পড়ল। দুপুর ঢলে পড়ছে বলে রোদের তেজ যেন কমছে। নাকি কমেনি? যা খুশি হোক। রোদ জলে ঘাবড়ানোর ছেলে সে নয়। কাল থেকে আবার কাজ খুঁজতে হবে। কাজ পেতে অসুবিধে হবে না। গণেশ এই বয়েসেই বুঝে গেছে, যতদিন বয়স কম, ততদিন কাজের অভাব নেই। এ দেশে কাজ চাইলে বড়দের যেমন লাথি ঝাঁটা, শিশু আর বালকদের তেমন কদর। চায়ের দোকান, খাবার হোটেল, ইটের ভাটা, গাড়ির গ্যারাজ, বাবুর বাড়ি, দোকান-বাজারে সবাই নেবার জন্য ছোঁক ছোঁক করছে। বয়স যত কম, তত সুবিধে। টাকা পয়সার বালাই নেই। থাকলেও নামমাত্র, তাও জমা থাকবে। পুরোটা ফেরত না দিলেও চলবে। এদের ঝগড়াঝাঁটি করবার মুরোদ নেই। পেট বাড়েনি, তাই খাওয়াও বাড়েনি। সেখানেও খরচা কম। ছোটদের দিয়ে যেহেতু কাজ করানোর নিয়ম নেই, ডিউটি টাইমেরও নিয়ম নেই। যত খুশি খাটাও। কাক ডাকা ভোর টু প্যাঁচা ডাকা রাত। এই সুযোগ কে ছাড়বে? সুতরাং এই বয়েসে কাজ পেতে সমস্যা নেই।

    গণেশ পাশ ফিরল। অনেকদিন শটারদার সঙ্গে দেখা নেই। সেও স্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় পায় না। আজ সন্ধের দিকে একবার গেলে হয়। তবে শটারদা কি আসবে? কোনও ঠিক নেই। মাস তিনেক আগে শেষ দেখা হয়েছিল।

    ‘বুঝলি গণেশ, খুব ব্যস্ত হয়ে পড়েছি। হেভি বিজি।’

    গণেশ বলল, ‘সে তো তুমি সব সময় ব্যস্ত। হয় কাজ, নয় পুলিশের তাড়া।’

    শটারদা গাঁজা ভরা সিগারেটে টান দিয়ে বলল, ‘আরে বাবা, সে বিজি নয় রে, আরও বিজি আছে। যাক, তুই ছেলেমানুষ তোকে বলাটা ঠিক হবে না।’

    গণেশ বলল, ‘আচ্ছা বল না।’

    শটারদা বলল, ‘রাগ করলি?’

    গণেশ বলল, ‘ওমা! রাগ করব কেন?’

    শটারদা গলা নামিয়ে লজ্জা লজ্জা গলায় বলল, ‘প্রেম বুঝিস গণশা? মহব্বত, লাভ?’

    গণেশ বলল, ‘এমনি বুঝি না, গানে বলে। হোটেলে রেডিও চলে।’

    শটারদা ভাসা ভাসা গলায় বলল, ‘আমার মনে হয়, বড় বিপদ হয়েছে। প্রেম হয়েছে গণশা।’

    একথায় গণেশের কিছু এসে যায় না। প্রেম হলেই বা কী, না হলেই বা কী। সে বলল, ‘ও।’

    শটারদা আরও উদাস হয়ে আকাশের দিকে তাকিয়ে বলল, ‘মেয়েটার নাম রানি। দেখতে মোটে ভালো না। গায়ের রং ময়লা। নাক থেবড়া। চোখ কুতকুতে। তারপরেও একবার না দেখলে মনটা খচখচ করে।’

    গণেশ বলল, ‘ও, আচ্ছা।’

    শটারদা ফস করে দীর্ঘশ্বাস ফেলে বলল, ‘একবার যেতেই হয়। খুচখাচ কথা হয়। তোর কথাও বলেছি। তবে সমস্যা কী জানিস গণশা? সমস্যা হল, রানি আসল কথাটা কিছু বলে না। সেও কি আমাকে ভালোবাসে? এটাও একটা হাই থটের ব্যাপার। প্রেম হল দুজনের জিনিস। একজন চুপ মেরে গেলে ঝামেলা। না যায় ধরা, না ছাড়া যায়। বাদ দে এসব। তুই ছেলেমানুষ বুঝবি না।’

    খালি পেটের ঘুমে স্বপ্ন থাকে না। আজ দুপুরে গণেশের ঘুমে স্বপ্ন এল। মজার স্বপ্ন। শটারদা শ্যামাচরণের হোটেলে বসে খাচ্ছে। সঙ্গে একটা মেয়ে। গায়ের রং ময়লা, নাক থ্যাবড়া, চোখ কুতকুতে। তারপরেও তাকে দেখাচ্ছে অতি সুন্দর। গণেশে ছুটোছুটি করে দুজনের জন্য খাবার আনছে। একসময়ে মেয়েটি ধমক দেওয়া গলায় বলল, ‘অ্যাই ছেলে, তুমি আর কোথাও যাবে না। আমাদের সঙ্গে বসে খাবে। আর এই দেখ, তোমার জন্য আমি একটা খুব সুন্দর জামা এনেছি। আমাদের সঙ্গে খেতে বসবার আগে পরে নাও।’

    গণেশ কী করবে বুঝতে পারছিল না। শটারদার বলল, ‘জামাটা নে গণশা রাণী যখন বলছে কোনও চিন্তা করিস না। ও খুব হাই থটের মেয়ে। তার ওপর তুই একটা ভালো ছেলে। আমার মতো নোস। সৎ পথে খেটে খাস। রানি তোকে পছন্দ করে।’

    গণেশের ঘুম ভাঙল ‘ভোট দিন, ভোট দিন’ শ্লোগানে। রাস্তা দিয়ে মিছিল চলেছে। সন্ধে নেমেছে। চোখ খুলতে দেখল, দাঁড়িয়ে আছে ডালপঞ্চু।

    ‘চল। মালিক ডাকছে।’

    গাছতলা থেকে নামতে নামতে গণেশ সিদ্ধান্ত নিল, অনেক হয়েছে। আর পরের কাছে কাজ নয়। নিজেই কিছু করবে।

    ‘না, যাব না। মালিককে বলে দাও। জমা টাকাও দিতে হবে না। যা ভেঙেছি দাম দিয়ে দিলাম।’

    পার্টিবাবুরাও হল্লা করতে করতে রেল স্টেশনের মাঠের দিকে চলেছে। নিশ্চয় সভা হবে। গণেশও স্টেশনের পথে হাঁটা দিল। হাঁটতে হাঁটতে মনে হল, আচ্ছা, সভার পর ফেলে দেওয়া বাঁশ, কঞ্চি, লাঠি, পতাকা, ফেস্টুন কুড়িয়েবাড়িয়ে, জড়ো করে বিক্রি করলে কেমন হয়? খারাপ হবে কেন? দেখাই যাক না। এত হট্টগোলের সভা থেকে রাতের রুটি ডালের দামটুকু তো উঠবে না?

    ২

    মাঠে একা দাঁড়িয়ে আছে গণেশ।

    এখন কত রাত? বারোটা? একটা? নাকি দুটো? যা কিছু হোক। গণেশের কিছু এসে যায় না। সভা শেষ হয়ে গেছে অনেকক্ষণ। চারধার শুনশান। জনমনিষ্যি নেই। শুধু মাঠের এককোণে ভূতের মতো দাঁড়িয়ে আছে মঞ্চের কঙ্কাল।

    প্ল্যান মতো কাজ হয়নি গণেশের। ফেলে দেওয়া বাঁশ, কঞ্চি, লাঠি, পতাকা, ফেস্টুন কিছুই জড়ো করতে পারেনি। পারবে কী করে? সন্ধেবেলা স্টেশনে পৌঁছে খবর পেল, শটারদার ডেডবডি নিয়ে আসছে পুলিশ। কালরাতে রেললাইলের ওপরই গুলি খেয়েছে। সেই বডি এসে পৌঁছোল অনেক রাত করে। বস্তায় মোড়া। এমন হতচ্ছেদ্দা করে নিয়ে যাচ্ছে, যেন ডাস্টবিনে ফেলে দেবে। গণেশ কাছে গেলে পুলিশ বলল, ‘ভাগ শালা।’ গণেশ অন্ধকার প্ল্যাটফর্মে গায়ের রং ময়লা, নাক থেবড়া, চোখ কুতকুতে একটা মেয়েকে খুঁজতে লাগল।

    রাত আরও বাড়লে, নিশ্চুপ, নিষ্ঠুর শহর মাড়িয়ে এলোমেলো হাঁটতে হাঁটতে মাঠে চলে এসেছে গণেশ। তার কোনও দুঃখ নেই। থাকবে কেন? কঠিন জিনিস সহজভাবে নিতে শিখে গেছে না? নিচু হয়ে একটা কঞ্চি হাতে তুলে নিল। মাঠে পড়ে থাকা, পতাকা খোলা একটা ভাঙা কঞ্চি

    এই মুহূর্তে গণেশ হাতে কঞ্চির তরবারি নিয়ে স্টেজে লাফিয়ে লাফিয়ে, নেচে নেচে যুদ্ধ করছে। কার সঙ্গে? কে জানে। নিশ্চয় খিদের চোটে মাথা খারাপ হয়ে গেছে বেচারির। ছোট মানু তো। কতক্ষণ আর খিদে সহ্য করবে। তবে লাগছে বেশ। নাটকের রাজার মতো। আর তো কেউ আলো জ্বালাবার নেই, তাই আকাশের একপাশে হেলে পড়া চাঁদ তার ওপর নরম আলো ফেলছে। যেন বলছে, ‘দেখ, দেখ সবাই একবার একজন গণেশকে দেখ।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআনন্দমেলা রহস্য গল্পসংকলন – সম্পাদনা : পৌলোমী সেনগুপ্ত
    Next Article নীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }