Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – প্রচেত গুপ্ত

    প্রচেত গুপ্ত এক পাতা গল্প203 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হত্যাকাণ্ডের আগে ও পরে – ৬

    পুলিশ ওই দু’দিন বাড়ির সবার সঙ্গে কথাও বলেছে। দোপাটিকেও বাদ দেয়নি। সবার কাছে একটাই প্রশ্ন। কাউকে সন্দেহ হয়? কেউই কোনও নাম বলতে পারেনি। মালব্যর কলেজের প্রিন্সিপাল অম্বরীশবাবু এসেছিলেন। অধ্যাপকরাও প্রায় সবাই বাড়িতে ঘুরে গিয়েছেন। তাঁরাই জানিয়েছেন, পুলিশ কলেজেও গিয়েছিল। খোঁজ নিয়েছে, কারও সঙ্গে মালব্যর কখনও ঝগড়া হয়েছে কিনা, কোনও গোপন রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত ছিল কিনা, শেষের ক’দিন আচরণে কোনওরকম অসঙ্গতি দেখা যাচ্ছিল কিনা। কিছুই পাওয়া যায়নি। সবাই বলেছে, ঝগড়া করবে কী! এই ছেলে তো একা থাকতেই ভালবাসত। সবার থেকে সরে থাকত। ছেলেমেয়েদের সঙ্গে কখনও কোনও গোলমাল? বকাবকি? পরীক্ষার সময় টুকতে গেলে কাউকে ধরেছিল নাকি? তা-ও পাওয়া যায়নি। বরং উলটো। ছেলেমেয়েরা যারা পড়াশোনা করতে চায় তারা ‘এম.বি’ মানে মালব্য বোসকে যথেষ্ট পছন্দ করত। উনি রাগারাগির মাস্টারমশাই ছিলেন না। অনন্যা হাত ঘুরিয়ে সময় দেখল। আটটার সামান্য বেশি। এই ঘরে শুধু অনন্যাই আসে। অঞ্জলি বা বিশ্বনাথ উপরে উঠতে চান না। অনন্যার যেদিন বেশি মন খারাপ লাগে সেদিন এসে খানিকটা সময় বসে যায়। আজ দাদার সঙ্গে মনে-মনে কথা বলে মন আরও খারাপ হয়ে গেল। অনন্যা দরজা বন্ধ করে বসে। আজও তাই ছিল। দরজা খুলে অঞ্জলি ঢুকলেন।

    অনন্যা বলল, “এসো মা।”

    অঞ্জলি ঘটনার পর থেকে চুলটাও ঠিক মতো আঁচড়ান না। হাতের কাছে যে শাড়িটা পান সেটাই পরেন। শরীরের জন্য যেটুকু না খেলে নয়, সেটুকু খান। কান্নাকাটি এবং রাতে ঠিক মতো ঘুম না হওয়ার কারণে চোখ-মুখ ফোলা। সব মিলিয়ে তাঁকে খুবই বিধ্বস্ত লাগে। এটাই স্বাভাবিক। একজন নারীর কাছে তার সন্তানের মৃত্যু হল জীবনের চরমতম দুঃখের ঘটনা। যাকে এই দুঃখের মধ্যে দিয়ে যেতে হয় একমাত্র সে-ই জানে তারপরেও বেঁচে থাকা কী ভয়ংকর! সারাক্ষণ মনে হয়, এর চেয়ে মরে যাওয়া অনেক ভাল ছিল। তবু বেঁচে থাকতে হয়। খেতে হয়, ঘুমোতে হয়। সংসারের এবং বাইরের কাজে মন দিতে হয় ফের। প্রকৃতি মানুষকে যেমন নরম ভাবে তৈরি করে, তেমন নিষ্ঠুর ভাবেও করে। একটা সময়ের পর সে-ই এই ভয়াবহ শোককে শুধু নিজের ভিতর বহন করার ক্ষমতা দেয়। তখন আর বাইরে থেকে বেশি বোঝা যায় না। অন্যরা ভাবে মেয়েটা শোক সামলে উঠেছে।

    অঞ্জলির বলোয় ঘটনা উলটো ঘটেছে। কিছুতেই স্বাভাবিক হতে পারছেন না। কথাবার্তাও খানিকটা অসংলগ্ন হয়ে পড়েছে। আজ মেয়ে অফিস থেকে ফেরার পর হাসি-হাসি ভাব নিয়ে বললেন, “অনু, লুচি ভেজে দেব? জলখাবারে গরম লুচি খাবি?”

    অনন্যা অবাক হল। সন্ধেবলোর টিফিনে গরম লুচি সে কোনওদিন খেয়েছে বলে মনে পড়ে না। মায়ের এই আকস্মিক উৎসাহের কারণ কী! বলার ভঙ্গিটাও দৃষ্টিকটু। যেন বাড়িতে কোনও খুশির ঘটনা ঘটেছে। গরম লুচি খেয়ে সেলিব্রেট করতে হবে। অনন্যা কিছু একটা বলতে গিয়ে থমকে যায়। থাক, নিশ্চয়ই মায়ের সমস্যা হচ্ছে।

    “না, এখন কিছু খাব না। শুধু চা। তুমি ছাড়ো, আমি করে দিচ্ছি।”

    অঞ্জলি বললেন, “ঠিক আছে,” বলে আবার ফিরে গেলেন থমথমে, বিষাদভরা মুখে। মুহূর্তের জন্য কোনও গোলমাল হয়েছিল। একটু পরেই সমস্যাটা ধরতে পারল অনন্যা। মনে পড়ে গেল, দাদা লুচি পছন্দ করত। যদিও খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারে বিশেষ কোনও উৎসাহ ছিল না মানুষটার। যা দেওয়া হত খেয়ে নিত। আলাদা করে চাহিদা ছিল না কোনও। তারপরেও গরম লুচি ভাল লাগত। খুব অল্প সময়ের জন্য হলেও মা তাকে মরে যাওয়া ছেলে ভেবে ভুল করেছিল। তাই লুচির কথা বলেছে। একধরনের হ্যালুসিনেশন। অনন্যা চিন্তিত হল। না, মাকে এবার একজন সাইকায়াট্রিস্টের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন হয়েছে। তার আগে পর্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে। বাবাকে জানানো ঠিক হবে না। এই অবস্থায় এই সব শুনলে আরও ভেঙে পড়বে। যা করার তাকেই করতে হবে। অনন্যা মনে-মনে হাসল। দুঃখের হাসি। কোনও-কোনও সময় পরিস্থিতি এমন আসে যখন নিজের শোক করার ফুরসত থাকে না। অন্যকে সামলাতে হয়।

    অঞ্জলি মালব্যর ঘরে ঢুকে চারপাশে তাকালেন। যেন কাউকে খুঁজছেন। অনন্যা উঠে মায়ের হাত ধরে খাটের উপর বসাল। অনন্যা নিয়মিত এই ঘর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখে। বিছানার চাদর পালটায়। অঞ্জলি খাটে বসে চাদরে হাত বোলালেন। নিয়নের আলোয় তাঁর চোখ চকচক করে উঠল।

    “মা, কিছু বলবে?”

    অঞ্জলি চাপা গলায় বললেন, “হ্যাঁ, বলব। তুই আগে দরজাটা বন্ধ করে দিয়ে আয়।”

    অনন্যা বলে, “কিছু হবে না। এঘরে কে আসবে এখন? বাবা নীচে, দোপাটি উপরে।”

    অঞ্জলি বললেন, “তুই দরজা বন্ধ করে দিয়ে আয়।”

    অনন্যা কথা না বাড়িয়ে দরজা আটকে ফিরে এল।

    “তুই এই ঘরে মাঝে-মাঝে আসিস, না?”

    অনন্যা মাথা নেড়ে বলল, “হ্যাঁ, আসি৷”

    অঞ্জলি বললেন, “কেন আসিস? মানুষটা তো বেঁচে নেই।”

    মায়ের চোখগুলো শুধু জলে চকচকে নয়, কেমন ঘোলাটেও লাগছে। অনন্যা সতর্ক হল। পরিস্থিতি সহজ করার জন্য জোর করে হাসল। বলল, “তুমি তো জানো মা, আমি এঘরে খুব একটা আসতাম না। এসে কী করব? দাদা তো আর পা ছড়িয়ে আমার সঙ্গে গল্প করতে বসত না। বরং দুটো কথার পর-পরই বলত, ‘এবার আয়। আমি একটু কাজ সেরে নিই।’ এখন বেশি-বেশি করে এসে কমপেনসেট করছি।”

    অঞ্জলি মেয়ের রসিকতা পুরোটা ভাল করে বুঝতে পারলেন না। তিনি খানিকটা শূন্য দৃষ্টিতে মেয়ের দিকে তাকিয়ে রইলেন।

    অনন্যা বলল, “এবার বলো, কী বলবে?”

    অঞ্জলি গলা আরও নামিয়ে বললেন, “তোর দাদাকে কে খুন করেছে জেনেছিস?”

    অনন্যা অবাক হয়ে বলল, “এসব কী বলছ মা! আমি কী করে জানব? সে তো পুলিশ জানবে। আর পুলিশ জানলে আমরা সকলেই জানতে পারব।”

    অঞ্জলি মেয়ের দিকে সামান্য ঝুঁকে পড়ে বললেন, “পুলিশ কিছু জানে না, জানতেও পারবে না। আজ তো একমাস হয়ে গেল, ধরতে পেরেছে?”

    অনন্যা কিছু একটা রাগের কথা বলতে গিয়ে নিজেকে সামলে নিল। ঠান্ডা গলায় বলল, “না পারলে না পারবে। এটা নিয়ে আমাদের ভাবার কী আছে? দাদাকে যারা মেরেছে তাদের নাম জানলে কি দাদা ফিরে আসবে? না, আসবে না। সুতরাং ওসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ো না।”

    অঞ্জলি মেয়ের কথায় গুরুত্ব দিলেন না। ঘাড় ঘুরিয়ে বন্ধ দরজার দিকে তাকালেন। তারপর ফিসফিস করে বললেন, “কাছে আয়। তোকে বলে দিচ্ছি তোর দাদাকে কে মেরেছে।”

    অনন্যা বুঝতে পারল, এ সবই অসংলগ্ন কথা। বিরক্ত লাগছে, তারপরও শান্ত ভাব দেখিয়ে বলল, “আমি যথেষ্ট কাছে আছি।”

    চোখ দুটো বড় করে অঞ্জলি হিসহিসিয়ে বলল, “তোর দাদাকে ওই মেয়েটা মেরেছে।”

    মুহূর্তখানকে থমকে অনন্যা বলল, “কোন মেয়েটা?”

    অঞ্জলি ডান হাতের তর্জনী তুলে ছাদের দিকে দেখালেন। দাঁতে দাঁত ঘষে বললেন, “কোন মেয়েটা বুঝতে পারছিস না? যে মেয়েটাকে তোর বাবা এখানে রাখতে বাধ্য হয়েছে।”

    অনন্যা অবাক হয়ে বলল, “বাধ্য হয়েছে! কেন বাধ্য হবে কেন?”

    অঞ্জলি দাঁতে দাঁত ঘষে বললেন, “আমাকে জিজ্ঞেস করছিস? বিশ্বনাথ বসুকে জিজ্ঞেস কর। কার সঙ্গে তার ফষ্টিনষ্টি ছিল। এই মেয়ে তোর বাবার সত্যিকারের ভাগনি কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ হচ্ছে।”

    অনন্যা বলল, “উফ মা, তুমি কিন্তু খুব বেশি ভাবছ। এসব গল্প-উপন্যাসে আর সিনেমায় হয়। দোপাটি মোটরবাইকে চেপে দাদার উপর গুলি চালিয়ে পালিয়ে যাবে? এটা কি একটা বিশ্বাসযোগ্য কথা হল মা?”

    অঞ্জলি মেয়ের দিকে রোষভরা চোখে তাকিয়ে বললেন, “ওই মেয়ে নিজে গুলি চালাবে কেন? ভাড়া করা গুন্ডা দিয়ে করিয়েছে।”

    অনন্যা এবার বিরক্তি না দেখিয়ে পারল না।

    “উফ! মেয়েটা খুব খারাপ আমি জানি। ও যে ভয়ংকর কোনও সর্বনাশ করতে পারে, সেই ভয় আমিও পেয়েছিলাম। কিন্তু গুন্ডা ভাড়া করে খুন করাটা ভাবতে পারছি না। এসব ভেবে তুমি চাপ নিয়ো না মা। তুমি নিজেই অসুস্থ হয়ে পড়ছ।”

    অঞ্জলি বললেন, “পর্ণাও এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে। বলা যায় না, হয়তো ওর নতুন স্বামীও…”

    “তারা সবাই মিলে দাদাকে মারবে কেন! দাদা ওদের কী ক্ষতি করেছে!”

    অঞ্জলি ঝাঁঝিয়ে ওঠেন, “ওরা আমাদের ক্ষতি করতে চায়। আমার মনে হয় তোর দাদা ওদের গোপন কিছু জেনে গিয়েছিল।”

    অনন্যা এবার উঠে দাঁড়াল। মায়ের হাত ধরে ছেলেভোলানো গলায় বলল, “ঠিক আছে, বুঝেছি। ওঠো এবার, নীচে যাও। ঘুমের ওষুধ খেয়েছ? আচ্ছা, চলো আমি দিচ্ছি।”

    অঞ্জলি উঠে দাঁড়ালেন, কিন্তু প্রসঙ্গ পালটালেন না। বরং আরও গলা তুললেন।

    “আমি পুলিশকে বলব। সব বলে দেব। ওই মেয়ে কী-কী করেছে সব বলব। পুলিশ যদি তখন ওকে না ধরে, আমি নিজের হাতে খুন করব।”

    অনন্যা এবার মাকে একরকম জড়িয়ে ধরে বলে, “ঠিক আছে, ঠিক আছে। উত্তেজিত হতে হবে না। চিৎকার কোরো না, সবাই শুনতে পাবে।”

    অঞ্জলি আরও উত্তেজিত হয়ে পড়েন। চোখ ঠেলে বেরিয়ে আসে। আলুথালু চুলে তাকে দেখাচ্ছে উন্মাদিনীর মতো। চিৎকার করে বলতে থাকেন, “পাক শুনতে। আমি সবাইকে বলে দেব। সবাই জানবে, ওই মেয়ে আমার ছেলেকে খুন করেছে… খুনি মেয়েটা কী করেছে জানিস? জানিস কী করেছিল? তোর বাবা জানে। তাকে সব বলেছিলাম। সে কাউকে বলতে বারণ করেছিল… এমনকী তোকেও নয়। তাই এতদিন বলিনি… চুপ করে থেকেছি। আজ আর চুপ করব না… খুনের ঘটনার ক’দিন আগে এক রাতে দেখি, শয়তান মেয়েটা তোর দাদার ঘর থেকে ন্যাংটো হয়ে বেরোচ্ছে… হাসছে খিলখিলিয়ে?”

    অনন্যা প্রায় ঝাঁপিয়ে পড়ে মায়ের মুখ চেপে ধরে।

    “ছি ছি! চুপ করো মা, দোহাই তোমার, চুপ করো?”

    অঞ্জলি মুখ দিয়ে ‘গোঁ গোঁ’ আওয়াজ করেন, জোর করে মেয়ের হাত সরিয়ে দেন।

    “কেন? চুপ করব কেন? আমার ছেলের খুনির নাম আমি বলব না? পুলিশকে সব বলব… তারা জানবে এইটুকু মেয়ে কীভাবে আমার হিরের টুকরো ছেলেটার সর্বনাশ করেছে…”

    অনন্যা ফের মায়ের মুখ চেপে ধরে। কাঁদো-কাঁদো গলায় বলে, “মা, তুমি নিজেই জানো না, তুমি দাদার নামে কী বলছ! তুমি নীচে চলো।”

    একরকম জোর করেই মাকে একতলার ঘরে নামিয়ে নিয়ে যায় অনন্যা। দুটো ঘুমের ওষুধ খাইয়ে শুইয়ে দেয়। তারপর ঘরের দরজা আটকে আলো নিভিয়ে বসে থাকে পাশে। অঞ্জলি দীর্ঘক্ষণ ফোঁপানোর পর একসময় ঘুমিয়ে পড়েন। অনন্যা সিদ্ধান্ত নেয়, কালই ডাক্তারের কাছে যাবে।

    রাতে বাবার পাশে খেতে বসল অনন্যা। এই ক’দিন যে যেরকমভাবে পেরেছে খেয়ে নিয়েছে। অনন্যার খেতে ইচ্ছে করতনা,মা-বাবাকে খাওয়াতে হবে, তাই নিজেও বাধ্য হয়ে খেত। শুধু দোপাটি নিজের মতো উপর থেকে নেমে রান্নার মাসির করে যাওয়া রুটি-তরকারি নিয়ে উপরে চলে যেত। সকালে নিজের প্লেট-টেট ধুয়ে রেখে যেত। মেয়েটা কথা বলা একদম বন্ধ করেছে। কেমন যেন থম মেরে গিয়েছে। তার মা এসেছিল। বিশ্বনাথবাবু তাকে বলেছিলেন, “অন্য কোথাও নিয়ে যাও। ক’টাদিন সেখানে থাকুক। তারপর না হয় কোনও বোর্ডিংয়ে ভর্তি করে দেওয়া যাবে।” পর্ণা রাজি হয়েছিল। আগরপাড়ায় একজনের বাড়িতে ক’দিনের জন্য মেয়েকে রেখে দেবে ঠিক করেছিল। নিজেও থাকবে। যদি সেখানে থাকা না যায় তাহলে বাড়ি ভাড়া করে থাকবে। স্বামী কিছুতেই নিজের বাড়িতে দোপাটিকে নিয়ে যেতে রাজি নয়। পর্ণার বিয়ের আগে এটাই শর্ত ছিল। যতদিন পর্ণার বুড়ো শ্বশুর-শাশুড়ি বেঁচে থাকবেন, দোপাটির ওবাড়িতে প্রবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু বাড়ি ভাড়া করে কত দিন কলকাতায় পড়ে থাকা যাবে পর্ণা জানে না। জানতে হল না। দোপাটি এবাড়ি ছাড়তে রাজি হয়নি। রাজি হয়নি অদ্ভুত কারণে। অন্তত তার মাকে সেরকমই বলে গিয়েছে। মহিলাকে সেদিন খুব চিন্তিত লাগছিল।

    বিশ্বনাথবাবু প্লেটের ভাত নিয়ে নাড়াচাড়া করছিলেন। মুখে দেওয়ার প্রস্তুতিই নিচ্ছিলেন, কিন্তু শেষ পর্যন্ত মুখে তুলছিলেন না। বোঝা যাচ্ছে, মানুষটার ভিতরে ছটফটানি চলছে। অনন্যা বলল, “বাবা, মায়ের শরীরটা বেশ খারাপ।”

    বিশ্বনাথবাবু অন্যমনস্কভাবে ‘হুঁ’ বললেন।

    এই উত্তর অনন্যার ভাল লাগল না। মায়ের শরীর বেশ খারাপ শোনার পর শুধু এই প্রতিক্রিয়া! দাদার এই মৃত্যুতে বাবা যত বড়ই আঘাত পাক, বাড়ির অন্যদের কথাও তো একটু চিন্তা করতে হবে। মালব্য বসু তারও তো দাদা। তারও তো মাঝে-মাঝে ডাক ছেড়ে কাঁদতে ইচ্ছে করছে। সে তো কাঁদছে না। তা হলে তো গোটা বাড়িটাই ভেঙে পড়বে। বাবার মধ্যে শুধু শোকের অস্থিরতা নয়, একধরনের উদভ্রান্তির ভাব তৈরি হয়েছে। যতদিন যাচ্ছে এই ভাব বাড়ছে। কী করবে, কী করবে না বুঝতে পারছে না। চুপ করে এক জায়গায় বেশিক্ষণ বসে থাকতেও পারে না। দু’দিন অফিসে গিয়ে আবার অফিস যাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। সন্ধের দিকে শুধু একবার করে বেরোয়। দাদাকে যেখানে গুলি করা হয়েছে, সেই জায়গাটা দেখে আসে। এ খবরটা অনন্যা জানত না। রান্নার মাসি বলেছে।

    অনন্যা বলল, “ভাত হাতে নিয়ে বসে আছ কেন বাবা? খেয়ে নাও।”

    বিশ্বনাথবাবু নিচু গলায় বলেন, “খাচ্ছি।”

    “কাল মাকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে যাব।”

    “ও…”

    অনন্যা একটু চুপ করে খলে, তারপর অভিমানের গলায় বলল, “তোমরা সবাই যদি এরকম করো, আমি একা কতটা করব? দাদার ঘটনায় আমিও তো আঘাত পেয়েছি বাবা। সেই আঘাত তোমাদের থেকে কম হতে পারে, কিন্তু খানিকটা তো বটেই। আমি তো তোমাদের সামলাতেই ব্যস্ত হয়ে আছি, নিজের জন্য সময় পাই না। তারপরও যদি তোমরা এরকম করো… মা পাগলামি করছে, তুমি খাচ্ছ না। এমন ভাবে দিশেহারা হয়ে আছ যে জরুরি কথাও কানে তুলছ না। রোজকার জীবনযাপনটুকুও যে যন্ত্রণাদায়ক হয়ে উঠেছে সে তো বুঝতে পারছি বাবা, কিন্তু বেঁচে তো থাকতে হবে।”

    মেয়ের অভিমান বিশ্বনাথবাবু বুঝতে পারলেন। খানিকটা চুপ করে থাকার পর বিষাদমাখা গলায় বললেন, “আসলে কী জানিস অনু, একমাস হয়ে গেল, আমি এখনও বিশ্বাস করতে পারছি না। ছেলেটাকে নিয়ে আমার খুব গর্ব ছিল। আমি জানতাম সে কখনও কোনও অপরাধ করতে পারে না। কী করছি, কী করব নিজেই ঠিক করতে পারি না। অনু, তুই না থাকলে এতক্ষণে বুড়ো-বুড়িতে গলায় দড়ি দিতাম। এই যন্ত্রণার চেয়ে সেটাই ভাল হত।”

    অনন্যার খারাপ লাগল। বাবাকে বেশি বলা হয়ে গিয়েছে। সে বাঁ হাতটা বাড়িয়ে বিশ্বনাথবাবুর হাত ধরল। বলল, “সরি, আমি ওভাবে বলতে চাইনি। কিন্তু এসব তুমি কী বলছ! দাদার কী অপরাধ! অপরাধ তো তাদের, যারা তাকে মার্ডার করেছে।”

    বিশ্বনাথবাবু সামান্য হাসলেন। একজন বিপর্যস্ত মানুষের হাসি।

    “সেদিন অফিসের সিঁড়ি দিয়ে উঠছিলাম। ক’জন আমার সামনে ছিল। তাদের মধ্যে দু’জন একেবারে আমার পাশের টেবিলে বসে। তারা মালব্যর ঘটনা নিয়ে কথা বলছিল।”

    অনন্যা বলল, “এ আবার নতুন কী বাবা? সে তো সবসময়ই শুনছি। এখন খানিকটা কমেছে। এর জন্য তুমি ভেঙে পড়ছ!”

    বিশ্বনাথবাবু মেয়ের কথায় পাত্তা দিলেন না। পাতা না ফেলা চোখে তাকিয়ে বললেন, “আমি শুনতে পেলাম পাশে বসা সহকর্মী বলছে, ‘বিশ্বনাথবাবুর ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনও গড়বড় ছিল। যতই কলেজের মাস্টার হোক, অপরাধ জগতের সঙ্গে জড়িয়ে না পড়লে এমন হতে পারে না। ভাল ছেলেদের এরকম কত কীর্তি শুনি। নিউজ়পেপারে তো রোজ বেরোয়। পুলিশ ঠিক সব টেনে বের করবে।’ ”

    অনন্যা বলল, “বাবা, তুমি এদের কথা বিশ্বাস করলে? তুমি তোমার ছেলেকে চেনো না?”

    বিশ্বনাথবাবু চুপ করে খানিকক্ষণ খেলেন। তারপর বললেন “তোর মা চেঁচাচ্ছিল কেন?”

    “মায়ের শরীর খুব খারাপ হয়েছে। আবোল-তাবোল কথা বলে ফেলছে। সমস্যা হল, এই সব কথা বাইরের কেউ শুনলে নতুন করে সমস্যা হবে।”

    বিশ্বনাথবাবু মুখ তুলে বললেন, “কী কথা?”

    অনন্যা বলল, “থাক, আর শুনে লাভ নেই।”

    বিশ্বনাথবাবুর কপালে ভাঁজ পড়ল। তিনি বললেন, “আমাকেও আগে বলেছে। তখনই সন্দেহ হয়েছিল। সে নাকি একদিন রাতে দেখেছে…”

    অনন্যা তাড়াতাড়ি বলল, “বলতে হবে না। বিশ্রী কথা শুনতে ভাল লাগছে না। একজন শোকে-দুঃখে মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলা মানুষ কী বলল তার কোনও দাম নেই। আমি অসুস্থতার তীব্রতা বোঝাতে কথাটা তুললাম। আমার মনে হয়, সেরকম হলে মাকে কোনও ক্লিনিকে ক’দিনের জন্য রাখতে হতে পারে। ভায়োলেন্ট হয়ে ওঠার একটা টেনডেন্সি দেখলাম।”

    অনন্যা চুপ করে খাওয়া শেষ করল। বিশ্বনাথবাবু বললেন, “আমায় কী করতে হবে?”

    “কিছু করতে হবে না। যা করার আমি করব। তোমাকে শুধু জানিয়ে রাখলাম।”

    বিশ্বনাথবাবু প্লেট সরিয়ে উঠে পড়লেন। বললেন, “ইস, তোকে কত দায়িত্ব নিতে হচ্ছে! তোর মা ঘুমিয়েছে?”

    অনন্যা বলল, “হ্যাঁ, ঘুমিয়েছে। এ কী, এতটা ভাত ফেলে দিলে! আর একটু খাও।”

    বিশ্বনাথবাবু কাতর গলায় বললেন, “ভাল লাগছে না।”

    অনন্যা প্লেট নামাতে-নামাতে বলল, “ঠিক আছে, খেতে হবে না। আমি তোমাকে গরম দুধ করে দিচ্ছি। মাকেও তুলে খাওয়াব।”

    বিশ্বনাথবাবু একটু থমকে থেকে বললেন, “মেয়েটা খেয়েছে?”

    অনন্যা বলল, “দোপাটি আজকাল আটটার মধ্যে খাবার নিয়ে উপরে উঠে যায়। বাবা, তুমি একটাই দায়িত্ব নাও।”

    বিশ্বনাথবাবু ডাইনিং টেবিলের পাশের দেওয়ালে বসানো বেসিনে হাত ধুতে-ধুতে বললেন, “কী?”

    “মেয়েটাকে এবাড়ি থেকে সরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করো।”

    হাত ধুতে অনেকটা সময় নিলেন বিশ্বনাথ বসু। এমনভাবে সাবান ঘষলেন, যেন ভাতের কণা নয়, ভয়ংকর কিছু হাতে লেগেছে, যা সহজে উঠতে চাইছে না। অনন্যা ততক্ষণে রান্নাঘরে গ্যাস জ্বালিয়ে দুধ গরম করল। দুটো গ্লাসে ঢালল। ফাঁকে-ফাঁকে আড়চোখে বাবার দীর্ঘসময় ধরে হাত ধোওয়া নজর করল। মানুষটাকে দেখে মনে হচ্ছে, এই মুহূর্তে কী করছে, ভুলে গিয়েছে। মনটা অন্য কোথাও। হাতে জল দেওয়াটা যন্ত্রের মতো করে চলছে।

    “বাবা, হয়েছে? এবার হাত মুছে ফেলো। নাও, দুধটা খেয়ে নাও।”

    বিশ্বনাথবাবু চেয়ারে বসে ভাঙা গলায় বললেন, “কী যেন বললি অনু?”

    অনন্যা টেবিলের উলটোদিকে দাঁড়িয়ে গলা নামিয়ে বলল, “এবার দোপাটিকে এখান থেকে নিয়ে যেতে বলো।”

    বিশ্বনাথবাবু দুধের গ্লাস মুখে দিলেন না। ডান হাত দিয়ে গ্লাসটা ঘোরাতে-ঘোরাতে খানিকটা অন্যমনস্ক, খানিকটা যেন আপনমনে বলে চললেন,

    “অনু, তুই আর তোর মা আমাকে ভুল বুঝেছিস। দোপাটিকে এবাড়িতে রাখতে আমি বাধ্য। একটা সময় সম্পত্তি নিয়ে পর্ণার বাবার সঙ্গে আমার বাবার অনেক মামলা-মোকদ্দমা হয়েছিল। তার জন্য দায়ী ছিল আমার বাবা। সম্পত্তি দখলের নেশা ছিল তার। এই বাড়ি নিয়েও মামলা হল। বাড়ির অধিকার কে পাবে? তখন আমি খুব ছোট। পর্ণা জন্মায়ওনি। পরে সব শুনেছি। মামলাটায় আমার বাবা, কাকার কাছে খুব খারাপ ভাবে হারল। জমি-টমি নিয়ে এমন জটিলতা ছিল, কাকার উকিল মামলাটা সাজিয়েছিলেন এমন ভাবে, যে বাড়ির আধখানা ভাগও জুটল না। আদালতে প্রমাণ হল, জমিটাই আমার ঠাকুরদার মালিকানায় নেই। সুতরাং ভাগাভাগির প্রশ্ন ওঠে না। আমাকে আর মাকে নিয়ে বাবার পথে বসার অবস্থা। সেই সময় বাবার হাতে টাকা-পয়সাও খুব কম ছিল। মামলায় জলের মতো টাকা খরচ করেছে। বাবা কাকার কাছে গিয়ে সারেন্ডার করল। কিছুদিন যদি তাকে এই বাড়িতে থাকতে দেওয়া হয়। কাকা রাজি হলেন। শুধু রাজি হলেন না, শিশু অবস্থায় আমাকে দেখে এতটাই ইমোশনাল হয়ে পড়লেন যে বাবাকে বাড়ির স্বত্ব লিখেও দিলেন।”

    অনন্যা অস্ফুটে বলল, “ও মাই গড! এসব আমাদের আগে বলোনি কেন?”

    বিশ্বনাথ বসু নিজের মনেই যেন সামান্য হাসলেন। ফ্যাকাশে হাসি। বললেন, “সব খারাপ যেমন বলা যায় না, সব ভালও তেমন বলা হয়ে ওঠে না। শেষ পর্যন্ত কোনওটাই চাপা থাকে না,” একটু থেমে দম নিলেন। ফের বলতে শুরু করলেন বিশ্বনাথ বসু, “তবে সেদিন বাবাকে কোর্ট পেপারে লিখে দিতে হল, কাকার দিকের কোনও উত্তরাধিকার যদি ভবিষ্যতে মাথা গোঁজার ঠাঁই নিয়ে বিপদে পড়ে, তাকে এই বাড়িতে থাকতে দিতে হবে। কোনওরকম অসম্মান করা যাবে না। এমন আচরণ তার সঙ্গে করা যাবে না যাতে সে আঘাত পায়। অপমানিত বোধ করে। বাড়িতে তার থাকার জন্য যেন প্রভিশন থাকে। যেন কোনও অসুবিধে না হয়। আমার বাবার তখন অবস্থা এমন যে এর চেয়ে অনেক কঠিন শর্ত এলেও মেনে নিতে বাধ্য হত।”

    অনন্যার ভুরু কুঁচকে গেল। মনে পড়ে গেল, একদিন বকাবকির সময় দোপাটি বলেছিল, এই বাড়িতে কোন অধিকারে সে থাকে তার উত্তর জানে বিশ্বনাথ বসু। শুধু মুখে বলা নয়, দাপটের সঙ্গে সে এখানে রয়ে গিয়েছে। একই সঙ্গে অনন্যার ভাল লাগছে। সে নিচু গলায় বলল, “এ তো চমৎকার যুক্তি! আশ্রয়ের বদলে আশ্রয়। আমি তোমার ওই দূর সম্পর্কের কাকার জন্য গর্ব বোধ করছি বাবা।”

    বিশ্বনাথবাবু মেয়ের দিকে তাকিয়ে বললেন, “তোর ঠাকুরদা কিন্তু এসব প্রচার চাননি। তিনি এই শর্তের কথা গোপন রাখতে চেয়েছিলেন। যতই হোক, দয়ায় পাওয়া আশ্রয় তো। তারপরেও আমি জেনেছিলাম। আমি বড় হওয়ার পর ওই কাকা আমাকে সব বলে গিয়েছিলেন। পর্ণাও তার মায়ের কাছ থেকে জেনেছিল। তবে পরিস্থিতি আসেনি। কেউ কোনওদিন এসে এখানে আশ্রয় চায়নি। এই প্রথম পর্ণা তার মেয়ের জন্য করল। আমি না বলব কী করে অনু? আমি কি ঠিক করিনি?”

    অনন্যার মনটা আরও দুর্বল হল। বাবার ওই দূর সম্পর্কের কাকা তো একজন পুরুষই ছিলন। বাবাও তাই। অথচ একসময় পুরুষ জাতটা নিয়ে তার কত রাগ, ঘৃণা, তাচ্ছিল্যই না ছিল! বয়স বাড়ার সঙ্গে জীবনের অনেক ধারণা বদলে যায়। অনন্যা অস্ফুটে বলল, “খুব ঠিক করেছ বাবা, বেশ করেছ।”

    বিশ্বনাথবাবু মেয়ের সমর্থন গা করলেন না। তিনি হাতের গ্লাসে একটা চুমুক দিয়ে, গ্লাস সরিয়ে রাখলেন।

    “আইনি দাবিদাওয়া নিয়ে আমি চিন্তা করিনি, কিন্তু এত বড় অকৃতজ্ঞ আমি কী করে হব?”

    অনন্যা বলল, “এসব তো আমাদের আগে বললেই পারতে।”

    বিশ্বনাথবাবু বললেন, “দূর সম্পর্কের এক কাকার দয়ায় পাওয়া বাড়িতে থাকি— একথা বলে মরা বাপকে লজ্জা দিতে চাইনি অনু। তবে একজনকে বলেছিলাম। দোপাটিকে এবাড়িতে আনার আগে তাকে জিজ্ঞেসও করেছিলাম।”

    অনন্যা বলল, “কাকে? কাকে বলেছিলে?”

    বিশ্বনাথবাবু এক মুহূর্ত চুপ করে থেকে নিচু গলায় বললেন, “তোর দাদাকে। মালব্যকে সব বলেছিলাম। একজন প্রায় অনাত্মীয়কে বাড়িতে এনে তুলব কিনা, সে বিষয়ে তার পরামর্শ চেয়েছিলাম। সে আমাকে সমর্থন করেছিল। এমনকী দোপাটির নামে একটার পর-একটা কমপ্লেন যখন শুনি, তখনও আমি মালব্যর সঙ্গে কথা বলেছি। তাকে সব জানাতাম। সে আমাকে তার মতামত জানাত, বলত কী করা উচিত।”

    এবার অনন্যা এতটাই অবাক হল যে তার সন্দেহ হল, বাবা কি সত্যি বলছে? নাকি মায়ের মতো তারও শোকে মাথার সমস্যা দেখা দিচ্ছে? দোপাটিকে নিয়ে বাবার সঙ্গে দাদার নিয়মিত কথা হত! আশ্চর্য! দাদা সংসারের এই সব তুচ্ছ এবং কদর্য কথায় কান দিত? নিজে পরামর্শ দিত? বিশ্বাস করা কঠিন। কিন্তু বাবা যেমন সহজ ভাবে বলছে তাতে অবিশ্বাস করবে কী করে? এত অভিনয় করার ক্ষমতা বাবার আছে? বানিয়ে-বানিয়ে এত কথা বলতে পারে সে? কই আগে তো কখনও দেখেনি! অনন্যা দ্রুত নিজেকে বোঝানোর চেষ্টা করে। বাবার সঙ্গে দাদার সম্পর্ক চিরকাল অন্যরকম ছিল। পিতা-পুত্রের স্নেহ আর শ্রদ্ধার সহজ সমীকরণ নয়, তার থেকে আলাদা। সে সম্পর্ক মায়া-মমতার সুতোয় জড়ানো-পেঁচানো ছিল। সুতোগুলো কখনও স্পষ্ট হত, কখনও আবছা। অন্যরা দেখতে পেত না। মা একটু-একটু পেত, সম্ভবত সেই কারণে দাদার উপর মায়ের অভিমানও ছিল। সম্পর্ক যেরকমই হোক, বাবা ছেলেকে অন্ধের মতো বিশ্বাস করত। সেই কারণেই হয়তো বলেছে।

    যে কারণেই হোক, ঘটনা সত্যি। সেই ‘সত্যি’ অনন্যার জানার কথা নয়। দোপাটির বিষয়ে ছেলের সঙ্গে যে পরামর্শ করেন এটা বিশ্বনাথবাবু স্ত্রীকেও বুঝতে দেননি। তাঁর কাছে অভিযোগ শোনার পর ছেলের কাছে যেতেন।

    “এসো বাবা। বসো, এই খাটের উপরই বসো৷ দাঁড়াও, বই-খাতাগুলো সরিয়ে দিই।”

    বিশ্বনাথবাবু একটু চুপ করে থেকে বললেন, “বিচ্ছিরি একটা সমস্যায় পড়ে তোর কাছে এসেছি। তোর তো অনেক বুদ্ধি, অনেক লেখাপড়া করিস, দেখি কোনও সলিউশন বের করতে পারিস কি না।”

    মালব্য খানিকটা চিন্তিত হয়ে বলল, “কী হয়েছে বাবা?”

    বিশ্বনাথবাবু বললেন, “তুই জানিস না, দোপাটি মেয়েটাকে নিয়ে অনেক কমপ্লেন। সাধারণ কমপ্লেন নয়, বিশ্রী সব কমপ্লেন। কম-বেশি রোজই আমার কানে আসে। তোর মা বকাবকি করে, মারধরও করেছে। এই সব ঘটনার অর্ধকেও যদি সত্যি হয় তা হলে মারাত্মক। মেয়েটার মধ্যে একধরনের ক্রিমিনাল ইনস্টিংক্ট রয়েছে।”

    মালব্য আগ্রহ নিয়ে বলল, “ক্রিমিনাল ইনস্টিংক্ট? সেটা কীরকম? চুরি- টুরি করে?”

    বিশ্বনাথবাবু বললেন, “তা হলে তো সহজ হত। এই মেয়ের অপরাধ একেবারে অন্যরকম। সে মানুষকে নষ্ট করতে ভালবাসে। সে নিজে চুরি করে না, সৎ মানুষকে চোর বানাতে চায়।”

    মালব্য চোখ-মুখ উজ্জ্বল করে বলল, “ওইটুকু মেয়ে একজনকে খারাপ হতে ইনফ্লুয়েন্স করে ফেলেছে! খুব ইন্টারেস্টিং তো। আমি এরকম শুনিনি। পাওয়ারফুল মেয়ে বলতে হবে।”

    বিশ্বনাথবাবু বললেন, “ইন্টারেস্টিং তুই বলছিস, কারণ তুই দূর থেকে দেখছিস। কিন্তু যাদের প্রতিদিন ফেস করতে হচ্ছে, তাদের কাছে তো অসহ্য। কী করি বলতে পারিস? তোর মা ওকে তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলছে। একটা খারাপ মেয়েকে সে বাড়িতে রাখতে চায় না।”

    মালব্য খানিকটা সময় চুপ করে রইল। তারপর বলল, “ভাল-খারাপ বিষয়টাই তো খুব রিলেটিভ। তোমার কাছেই শুনেছি, ঠাকুরদা মিথ্যে উইল- টুইল বানিয়ে তোমার দূর সম্পর্কের কাকার কাছে এই বাড়িটা হাতিয়ে নিতে গিয়েছিলেন। সেটাও কি ভাল ছিল? আমরা কি সেই অপরাধের দায় কাঁধে বাড়ি ছেড়ে আজ চলে যাব?”

    বিশ্বনাথবাবু বললেন, “তা হলে কী করব? আমি দোপাটিকে ডেকে বলতে পারি। জিজ্ঞেস করতে পারি। কিন্তু তাতে যদি সে অপমানিত হয়, আঘাত পায়…”

    মালব্য বলল, “তুমি এখনই কিছু করতে যেয়ো না। বিশ্বাসভঙ্গ করা তোমাকে মানায় না। সেই কাকা যদি তোমাকে দেখে সেদিন আবেগতাড়িত না হতেন, তা হলে তোমাদের পথে বসতে হত। তার মর্যাদা তোমাকে রাখতে হবে। তা ছাড়া… তা ছাড়া… মেয়েটা ইন্টারেস্টিং… খুবই অন্যরকম। দাঁড়াও বাবা, আমি ক্রিমিনাল সাইকোলজির বই-টই ঘেঁটে একটু দেখি।”

    অনন্যা গাঢ় গলায় বলল, “তুমি কি দাদার সঙ্গে সংসারের অন্য বিষয় নিয়েও কথা বলতে?”

    “তোর দাদা আর পাঁচজন সাধারণ মানুষের মতো ছিল বলে আমি বিশ্বাস করতাম না। কঠিন বিষয় ছাড়া তার সঙ্গে কথা বললে সে খুশি হত না। আমি তাকে কখনও বিরক্ত করিনি,” এই পর্যন্ত বলে চুপ করলেন বিশ্বনাথবাবু। মুখে দু’হাত চাপা দিয়ে মাথা ঝুঁকিয়ে বসে রইলেন। তাকে দেখাচ্ছিল বিধ্বস্ত, পরাজিত। শরীরটা কেঁপে-কেঁপে উঠছে। অনন্যা পাশে এসে দাঁড়াল। বাবার পিঠে হাত বোলাতে লাগল।

    বিশ্বনাথবাবু ফোঁপাতে-ফোঁপাতে বললেন, “ও যে আমার সঙ্গে এত বড় বেইমানি করবে আমি ভাবতে পারিনি।”

    অনন্যা কান্না সামলে বলল, “শান্ত হও বাবা, শান্ত হও।”

    মোবাইল বাজছে। অনন্যা বালিশের পাশ হাতড়ে ফোনটা টেনে নিল। চোখের সামনে ফোনটা তুলল। দেবরূপ।

    “ঘুমিয়ে পড়েছিলে?”

    অনন্যা বলল, “না, শুয়ে আছি।”

    দেবরূপ বলল, “তা হলে কাল সকালে বলি? জরুরি কথা ছিল।”

    অনন্যা উঠে বসল। ঘর অন্ধকার। জানলায় পরদা দেওয়া থাকলেও বাইরের আলো এসে ঘরটাকে আবছা আলোকিত করে রেখেছে। মালব্যর ঘটনার পর থেকে বহুদিন জানলা-দরজা আটকে রাখতে হয়েছে। পিছনের ফ্ল্যাটবাড়ির জানলায়-জানলায় লোক দাঁড়িয়ে যেত। ছাদে কাপড়-জামা শুকোতে যেত কাজের মাসি। এখন কৌতূহল অনেকটাই কমেছে।

    অনন্যা বলল, “অসুবিধে নেই, এখনই বলতে পার।”

    ওপাশে একটু চুপ করে থেকে দেবরূপ বলল, “পুলিশ তোমাদের কিছু জানিয়েছে অনন্যা?”

    পুলিশ কিছু বলেছে কিনা, খুনি ধরা পড়ল কিনা, কেন খুন হল— এইসব প্রশ্নে জেরবার হয়ে অনন্যা তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বন্ধ রেখেছে। হোয়াটসঅ্যাপে পুরনো বন্ধুদের একটা গ্রুপ ছিল। সেটাও খোলে না। কিন্তু দেবরূপের এই প্রশ্নে আজ একটু থমকাল। নিছকই কৌতূহল নাকি অন্য কিছু? গত একমাস দেবরূপ যতটা করেছে অতটা ওর কাছ থেকে আশা করেনি অনন্যা। বেশ কিছুটা সময় তার পাশে থেকেছে। সরাসরি থাকলেও ফোনে যোগাযোগ রেখেছে। প্রথমদিন তো হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিল। দু’দিন বাড়িতেও এসেছে। বাবা-মায়ের কাছে বসে থেকেছে চুপ করে। আত্মীয় পরিজনকে পছন্দ না করলেও মা দেবরূপকে পেয়ে যেন খানিকটা ভরসা পেয়েছিল। সবচেয়ে বড় কথা, প্রথম দিকে দেবরূপ একদিন অফিস ছুটিও নিয়েছিল। সেই সময় মাথায় কিছু ছিল না, কিন্তু পরে কথাটা মনে পড়তে খুব অবাক হয়েছে অনন্যা। ছেলেটা কি তা হলে বদলে গেল! কেরিয়ার ছাড়া একটা কথাও যে ভাবতে পারত না, সে অফিস পর্যন্ত কামাই করে ফেলল! সমুদ্রের বড় জলোচ্ছাস যেমন ছোটখাটো ঢেউকে তুচ্ছ করে দেয়, দাদার নির্মম মৃত্যু, দেবরূপের কাছ থেকে পাওয়া দুঃখ, অপমানকে ভাসিয়ে দিয়ে গিয়েছে। ওসব কথা আর মাথায় নেই অনন্যার। তারপর নিজের উপর রাগও হয়েছে। মনে হয়েছে, দেবরূপকে নিজের দিক থেকেই এতদিন বোধহয় বিচার করেছে। নীতিকথার বই বলেছে, মানুষ চেনা যায় দুঃসময়ে। দেবরূপ তো দুঃসময়ে তার কাছেই থেকেছে। মালব্যর মৃত্যুর ঘটনার আঠারো দিনের মাথায় অনন্যা অনুভব করল সে তলপেটে সমস্যা বোধ করছে। সেদিন রাতেই টেলিফোনে দেবরূপকে বলল, “আর দেরি করব না। এবার ক্লিনিকে গিয়ে কাজটা সেরে ফেলব।”

    দেবরূপ হালকা উত্তেজিত গলায় বলল, “এখনই কী দরকার? এই অবস্থায় ঝক্কি নিতে পারবে না।”

    অনন্যা ক্লান্ত হেসে বলেছিল, “মাতৃজঠরের ভ্রূণ বাইরের অবস্থা বোঝে দেব। বাইরের দুঃখ-কষ্ট তার গায়ে লাগে না। সে নিজের মতো বড় হতে থাকে, হচ্ছেও। এখনও পর্যন্ত কোনও ঝক্কি নেই, এরপর দেরি করলে সমস্যা হতে পারে। আমারও তো বয়স হচ্ছে।”

    দেবরূপ যেন খানিকটা বাড়িয়েই আদরের ঢংয়ে বলল, “ক’টাদিন অপেক্ষা করলে হয় না অনন্যা? বাড়ির পরিস্থিতিটা না হয় একটু সামলে নিতে।”

    এই ‘বাড়ানো আদরের’ ভঙ্গি খট করে কানে বাজল অনন্যার। আবার নিজেকেই চাপা ধমক দিয়ে বলল, “শোক একদিন কমে যাবে। কিন্তু এই বিষয়টা কমবে না। তোমাকে চিন্তা করতে হবে না দেব। সীমন্তিকাদির পরিচিত ডক্টর দেখেছেন। তিনিই ব্যবস্থা করে দেবেন। কিছুক্ষণের মামলা। আজকাল ব্যবস্থা খুব সেফ হয়ে গিয়েছে।”

    দেবরূপ কাঁচুমাচু গলায় বলেছিল, “তুমি যেটা ভাল বুঝবে।”

    দেবরূপ যেতে চেয়েছিল, অনন্যাই বারণ করে। সেদিন তার সঙ্গে সীমন্তিকাদি ছিলেন। উনি এই কাজ অন্তত দু’বার করেছেন। সত্যিই কোনও ঝামেলা হয়নি। তবে অ্যাবরশনের পর দেবরূপকে অনেকটা চনমনে লাগল। একদিন বলেই ফেলল।

    “মুখে যতই বারণ করি, বিষয়টা নিয়ে আমি যথেষ্ট চিন্তিত ছিলাম অনন্যা। তোমার দাদার ঘটনাটায় সব এলোমেলো হয়ে গিয়েছে। এই সময় তোমাকে কী বলব? এখন টেনশন ফ্রি।”

    অনন্যা চুপ করেছিল। তবে কি অ্যাবরশনের কাজটা যাতে শেষ পর্যন্ত হয় তার জন্যই দেবরূপ এতদিন পাশে ছিল? নিজেকে মনে-মনে ‘ছিঃ’ বলে ধমক দিয়েছিল অনন্যা। ‘সিনিক’ হয়ে যাচ্ছে। ভাবনা চিন্তায় অসুস্থ। কোনও ঘটনাকেই সহজ ভাবে নিতে পারছে না। তারপরেও যোগাযোগ করে যাচ্ছে দেবরূপ। তবে মাত্রাটা কমেছে। কিন্তু তারপরেও একদিন বাড়ি এসেছে। দু’দিন অফিসের সামনে দেখাও করেছে। তবু দেবরূপের ব্যাপারে মন থেকে ‘খটকা’ সরাতে পারে না অনন্যা। আজও ফোনে দেবরূপের প্রশ্ন শুনে ভুরু কুঁচকে গেলো।

    “না, পুলিশ কিছু বলেনি। কী বলবে? একদিন থানা থেকে ফোন করে আমার আর বাবার অফিসের ঠিকানা চেয়েছে শুধু।” ফোনের ওপাশ থেকে দেবরূপ উত্তেজিত গলায় বলল, “এই তো! আমার কাছে এই খবরটাই এসেছে।”

    অনন্যা বলল, “কী খবর?”

    দেবরূপ চাপা গলায় বলল, “অনন্যা, আমার এক কাজ়িন পুলিশে কাজ করে। চোর-ডাকাত ধরাধরির কাজ নয়, সাইবার ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে আছে। কম্পিউটর নাড়াঘাঁটা করে। সেখান থেকে অপরাধী খুঁজে বের করে। তাকে পরশুদিন এক পারিবারিক অনুষ্ঠানে পেয়েছিলাম। মালব্যদার ঘটনাটা বললাম। ইনভেস্টিগেশন কিছু এগিয়েছে কিনা যদি জানা যায়।”

    অনন্যা খাটের উপর হাঁটু দুটো তুলে জড়ো করে বসে আছে। মালব্যর ঘটনার পর ক’দিন দোতলায় একা শুতে পারেনি। থাকতেও পারত না। শুধু মনে হত, পাশের ঘরে দাদা আছে। হাঁটাচলা করছে। বইখাতা নাড়াচাড়া করছে। নীচে চলে গিয়েছিল অনন্যা। মায়ের কাছে শুয়েছে। বাবা শুয়েছে বাইরের সোফায়। মা-বাবার কাছে রাতে থাকাটা তখন জরুরি ছিল। আত্মীয়স্বজন দু’-একজন থাকতে চেয়েছিল। বাবা অনুমতি দেয়নি। অনন্যাও চায়নি। বাইরের কেউ থাকা মানেই সান্ত্বনা আর কৌতূহল। তার চেয়ে নিজেদের মতো থাকাই ভাল।

    দোপাটিকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল, সে রাতে নীচে আসবে কিনা। দোপাটি জানিয়েছিল, সে নিজের ঘরেই থাকবে। সারারাত সিঁড়িতে আলোটা জ্বলবে। অপঘাতে মৃত্যুর ‘কাজ’ হয়েছে তিনদিনের মাথায়। যেটুকু না করলেই নয়। পরের দিনই দোতলায় ফিরে এসেছে অনন্যা। তারপর থেকে নিজের ঘরেই আছে। অভ্যস্ত হতে হবে।

    অনন্যা বড় করে শ্বাস ফেলে বলল, “দেব, পুলিশের ইনভেস্টিগেশনে আমাদের কোনও উৎসাহ নেই।”

    মুখে একথা বললেও অনন্যা মনে-মনে ঠিক করে রেখেছে, সত্যি যদি খুনি ধরা পড়ে তা হলে তাকে একবার জিজ্ঞেস করবে, দাদার মতো ভাল ছেলেকে সে কেন হত্যা করল? খুব দরকার ছিল? কী দরকার ছিল? অর্থ? সম্পত্তি? প্রতিশোধ? দাদা তো এমন কোনও অন্যায় কাজ করতে পারে না যার জন্য তাকে এত বড় প্রতিশোধের শাস্তি পেতে হল। স্কুলে যখন পড়ত, কোনওদিন বাড়িতে নালিশ আসেনি। বাবা গর্ব করে বলত, “দেখ অনু, তোর নামেও দিদিমণিরা দুষ্টুমির কথা বলে, দাদার নামে কখনও বলে না।” অফিসের কলিগরা মিথ্যে আলোচনা করে বাবার মন ভেঙে দিয়েছে। অর্যমা খবর পেয়ে আমেরিকা থেকে ফোন করেছিল।

    “মন শক্ত রাখ অনন্যা। কে কী বলছে কানেও ঢোকাবি না। বাবা-মায়ের দিকে নজর রাখিস।”

    কারও কথা কানে ঢোকায়নি। তেমন মেয়ে অনন্যা নয়। তারপরেও মাঝে-মাঝে মন খারাপ হয়ে যায়।

    দেবরূপ ফোনের ওপাশ থেকে উত্তেজিত ভাবে বলল, “এটা কারও উৎসাহ-অনুৎসাহের বিষয় না। তদন্ত হবেই। আমি কাজ়িনের কাছে সেটাই জানতে চেয়েছিলাম। সে একটু আগে ফোন করে জানাল, সে কিছু খবর পেয়েছে।”

    অনন্যা নিস্পৃহ গলায় বলল, “খবরগুলো কি আমাকে না শোনালেই নয়?”

    দেবরূপ জোরের সঙ্গে বলল, “না, নয়। কারণ এই খবরের সঙ্গে আমি জড়িত।”

    অনন্যা এবার নড়েচড়ে বসল। বলল, “তুমি!দাদার খুনের ব্যাপারে তুমি কোথা থেকে এলে?”

    দেবরূপ কাঁপা গলায় বলল, “আমি জানি না, পুলিশ জানে। তবে শুধু আমি নই, পুলিশ তোমাদের বাড়ির সঙ্গে জড়িত সবার ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে শুরু করেছে।”

    অনন্যা বলল, “সো হোয়াট? পুলিশ তার মতো ইনভেস্টিগেশন করলে আমাদের কী?”

    দেবরূপ আরও উত্তেজিত হয়ে বলল, “তোমাদের কী আমি জানি না, কিন্তু অবশ্যই আমার অনেক কিছু এসে যায়। এই যে বললে থানা থেকে তোমাদের অফিসের ঠিকানা নেওয়া হয়েছে, এবার যদি আমারটা নেয়? নেবে কেন বলছি, এতক্ষণে নিশ্চয়ই নিয়েছেও। আমার পুলিশে চাকরি করা আত্মীয় বলেছে, সবার উপর নজর রাখা শুরু হয়েছে।”

    অনন্যার কাছে দেবরূপের উত্তেজনা এবং নার্ভাস হওয়ার কারণ এবার ধীরে-ধীরে স্পষ্ট হচ্ছে। তারপরেও শান্ত ভাবে বলল, “তোমার অফিসের ঠিকানা নিলে সমস্যা কী?”

    দেবরূপ ফোনের ওপাশে যেন লাফিয়ে উঠল।

    “কী বলছ অনন্যা! সমস্যা কী তুমি বুঝতে পারছ না! তুমি কি ইচ্ছে করে বোকা সাজছ? একজন এমপ্লয়ি, যে খুব বড় একটা প্রোমোশনের সামনে দাঁড়িয়ে আছে, যার প্রোফাইল ক্লিন লাইক এনিথিং, প্রোমোশনের জন্য যার এভরিথিং ফাইনাল, পুলিশ যদি তার সম্পর্কে অফিসে এসে খোঁজ করে তা হলে সমস্যা হবে না? আর কেসটা তো কোনও সহজ কেস নয়। এটা একটা মার্ডার কেস।”

    অনন্যা চোখ বুজল। সে তা হলে ঠিকই ভাবছিল৷ দেবরূপ নিজের কারণে ভয় পেয়েছে। ইচ্ছে করল মোবাইলটা বন্ধ করে দেয়। তারপরে মনে হল, একটা জবাব দেওয়া দরকার। অনন্যা বলল, “আমি তো পুলিশকে বলতে পারি না, দেবরূপ রায় এই খুনের মামলার সঙ্গে কোনওভাবে জড়িত নন, অনুগ্রহ করে তার অফিসে আপনারা যাবেন না। তারপরেও যদি মনে করো বলা দরকার, আমি কালই থানায় ফোন করে বলতে পারি। করব?”

    অপমান গায়ে মাখল না দেবরূপ। মান-অপমান বোঝার মতো অবস্থায় সে নেই। নিজের জন্য সে এতটাই নার্ভাস হয়ে পড়েছে যে সূক্ষ্ম কিছু মাথায় ঢুকছে না।

    “কাজ়িন আমাকে জানিয়েছে, পুলিশ নিশ্চিত যে ভাড়াটে খুনি দিয়ে তোমার দাদাকে খুন করা হয়েছে। তারা এসেছিল বাইরে থেকে। কোথা থেকে এসেছিল সে সম্পর্কে খোঁজখবর চলছে। টাকা-পয়সা নিয়ে কলকাতায় এসে যারা এই ধরনের কাজ করে তাদের নাম-টাম পুলিশ জানে। কিন্তু তাদের যে ভাড়া নিয়েছিল তার খোঁজে পুলিশ এখন হন্যে হয়ে উঠেছে। সন্দেহজনক সবার পিছনে, এমনকী তোমাদের বাড়ির সকলের পিছনেও লোক লাগিয়েছে। শুধু বাড়ির মেম্বার নয়, এই পরিবারের সঙ্গে যাদের ঘনিষ্ঠতা, তাদের পিছনেও লোক ঘুরে বেড়াচ্ছে। যদি কোনও ক্লু পাওয়া যায়। তার মানে ওরা আমাকেও ফলো করছে। তাই তো?”

    এই কঠিন সময়েও আনন্দ হচ্ছে অনন্যার। তা হলে গত একমাস ধরে যে ‘খটকা’ তার মনে বেজেছে, সেটা ভুল নয়। দুঃসময়ে দেবরূপের ‘পাশে থাকা’-টা খাঁটি ছিল না। অ্যাবরশন আদৌ হবে কিনা তাই নিয়ে চিন্তিত ছিল সে। সে কারণেই বারবার ছুটে আসা। এখন মনে হচ্ছে, আর ক’টাদিন অপেক্ষা করে নিজেই বলে ফলেত, ‘অনন্যা, এই সময়ে বলতে খারাপ লাগছে, কিন্তু ওটা সেরে ফেলাই উচিত হবে।’ অনন্যা কানে ফোন ধরেই যেন হাসল। যারা কেরিয়ার নিয়ে বাড়াবাড়ি ধরনের ব্যস্ত থাকে তারা নার্ভাস হয়। কাউকে বিশ্বাস করতে পারে না। প্রেমিকাকেও নয়।

    “দেব, আমি কি ফলো করার বিষয়টা নিয়েও থানায় বলব? বলব, তোমাকে যেন…”

    ওপাশ থেকে উত্তেজিত গলায় দেবরূপ বলল, “দোহাই তোমায় অনন্যা, আর উপকার করতে হবে না। এতদিনে কত কী হয়ে গিয়েছে কে জানে। নিশ্চয়ই পিছনে লোক ঘুরছে। ইস, বেফালতু একটা মার্ডার কেসে জড়িয়ে পড়লাম।”

    অনন্যা আর পারল না। কঠিন গলায় বলল, “এটা কি একটু বেশি হয়ে যাচ্ছে না?”

    দেবরূপ ব্যঙ্গের গলায় বলল, “বেশির আর কী রয়েছে? প্রেম করতে গিয়ে পিছনে পুলিশ নিয়ে ঘুরতে হচ্ছে।”

    “তুমি ভেবেচিন্তে কথা বলছ?”

    দেবরূপ বলল, “বাদ দাও এসব। শোনো অনন্যা, আই টেক আ ডিসিশন। যতদিন না তোমার দাদার কেসটা মিটছে আই শ্যাল কিপ ডিসট্যান্স। তোমাদের থেকে একটু দূরে থাকব। কথা, দেখাসাক্ষাৎ কম করব। সরি, এ ছাড়া আমার কোনও ওয়ে আউট নেই। তুমি অন্যভাবে বিষয়টা নিয়ো না অনন্যা। ভুল বুঝো না।”

    অনন্যা ফোন মুখে রেখেই হাই তুলল। এই হাই যতটা না ঘুম পাওয়ার কারণে তার চেয়ে অনেক বেশি তাচ্ছিল্যের। অনন্যা বলল, “আমি তোমাকে কখনওই ভুল বুঝিনি দেবরূপ। এবারও বুঝব না। চিন্তা কোরো না। শুধু একটা কথা বলি, তুমি মিথ্যে অত টেনশন করছিলে। তোমার সন্তানকে পেটে ধারণ করার ইচ্ছে আমারও অনেকদিনই নষ্ট হয়ে গিয়েছে। আমি নিজেই ক্লিনিকে যেতাম। যাক, ভাল থেকো। গুড নাইট।”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleনীল আলোর ফুল – প্রচেত গুপ্ত
    Next Article নিষাদ – প্রচেত গুপ্ত

    Related Articles

    প্রচেত গুপ্ত

    দেরি হয়ে গেছে – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    পঞ্চাশটি গল্প – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    ধুলোবালির জীবন – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    রুপোর খাঁচা – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    মাটির দেওয়াল – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    প্রচেত গুপ্ত

    নুড়ি পাথরের দিনগুলি – প্রচেত গুপ্ত

    September 18, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }