Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হরর 13 – বিশ্বখ্যাত ১৩ লেখকের ১৩টি সেরা হরর গল্প

    লেখক এক পাতা গল্প247 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    উইলিয়াম অ্যান্ড মেরী – রোল্ড ডাহ্‌ল

    মৃত্যুর আগে উইলিয়াম পার্ল খুব সামান্য অর্থ রেখে গিয়েছিল স্ত্রী মেরীর জন্য। উইলিয়ামের মৃত্যুর হপ্তাখানেক পর তার আইনজীবী মেরীকে একটি খাম দিয়ে বলল, ‘আমাকে বলা হয়েছে এটা আপনাকে পৌঁছে দিতে। জিনিসটা সম্ভবত ব্যক্তিগত। কাজেই বাসায় গিয়ে খাম খুললেই ভাল হবে।’

    মিসেস পার্ল খামটা নিয়ে, কোন কথা না বলে চলে এল বাড়িতে। খামটা খোলার আগে এক মুহূর্ত চিন্তা করল। এর মধ্যে ফর্মাল কোন চিঠি থাকতে পারে। উইলিয়ামের ব্যবহারে কখনও ইনফরমাল কিছু দেখেনি মেরী। লোকটা অভিনয় করতে জানত না। মেরীর সঙ্গে কোনদিন অভিনয় করেওনি। মেরীর ধারণাই ঠিক। খাম খুলে একটা ফর্মাল চিঠিই পেল সে। তাতে লেখা: আমার প্রিয় মেরী, আমার বিশ্বাস আমার চির বিদায়ে তুমি খুব বেশি ভেঙে পড়বে না, বরং নিজের কাজগুলো ঠিকঠাকমত চালিয়ে যাবে। আর টাকা-পয়সা খরচ করার ব্যাপারে সতর্ক থেকো…ইত্যাদি ইত্যাদি।

    খামের ভিতর চিঠি ছাড়াও একগুচ্ছ কাগজ চোখে পড়ল তার। বেশ মোটা কাগজের তাড়াটা। কাগজের তাড়াটা কৌতূহলী করে তুলল মিসেস পার্ল ওরফে মেরীকে। সে একটা সিগারেট ধরাল। তারপর মন দিল পড়ায়। ছোট, স্পষ্ট হস্তাক্ষরে লেখা। ভাষা সাবলীল। উইলিয়ামের আত্মজীবনী বলা চলে।

    কিন্তু এ কেমন আত্মজীবনী? একটানে লেখাটা পড়ে ফেলল মেরী। তারপর স্তম্ভিত হয়ে বসে রইল। তারপর আবার পড়া শুরু করল। এবার ধীরে ধীরে প্রতিটি শব্দ আর বাক্য যেন মগজে ঢুকিয়ে নিল সে।

    প্রিয় মেরী, এই লেখাটি একান্ত তোমারই জন্যে। আমি চলে যাবার কয়েকদিন পর তোমার কাছে লেখাটি হস্তান্তর করা হবে। তবে লেখাটি পড়ে ভয় পেয়ো না। এটা আর কিছু নয়, ল্যান্ডি আমাকে নিয়ে কী করতে চলেছে তারই একটি ব্যাখ্যা মাত্র। আর তার কাজে আমি কেন সম্মতি জানিয়েছি, তার থিওরি এবং প্রত্যাশা সবকিছুর ব্যাখ্যাই তুমি এর মধ্যে পাবে। গোটা ব্যাপার জানার অধিকার তোমার আছে। কারণ তুমি আমার স্ত্রী। অবশ্য এর আগে বহুবার ব্যাপারটা তোমার কাছে বলার চেষ্টা করেছি। কিন্তু তুমি শুনতে চাওনি। পুরো ব্যাপারটা জানার পর তোমার মানসিকতার পরিবর্তন ঘটবে হয়তো। হয়তো আমাকে নিয়ে গর্বও হবে তোমার। আমি জানি আমার সময় দ্রুত ঘনিয়ে আসছে। তাই কাজটা করতে মোটেই দ্বিধাবোধ করিনি। সতেরো বছর আমি কাটিয়েছি অক্সফোর্ডে। এখানে পড়াশোনা শেষ করে অধ্যাপনা শুরু করেছি। কাজেই যখন জানতে পারলাম প্রিয় এ জায়গা থেকে চিরদিনের জন্য চলে যেতে হবে, কারণ ক্যান্সার হয়েছে আমার, স্বভাবতই মুষড়ে পড়লাম। আর ক্যান্সারটা ধরা পড়েছে এমন এক সময়ে যে, বেঁচে থাকার কোন আশাই নেই। ধীরে ধীরে নিঃশব্দ মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলাম আমি। তারপর, হপ্তা ছয়েক আগে, মঙ্গলবারের এক সকালে ল্যান্ডি এল আমার সাথে দেখা করতে। তারপর সবকিছু কেমন যেন ওলোট পালোট হয়ে গেল। হাসপাতালের বেডে শুয়েছিলাম আমি। ল্যান্ডি এল খুব সকালে। তখনও তোমার আসতে অনেক দেরি। ওকে তো তুমি চেন। যেখানে যায়, মনে হয় যেন ঝড় এসেছে। হাসি, আনন্দ আর উচ্ছ্বাসের তাজা বোমা একটা। হাসতে হাসতে ঢুকল ও আমার কেবিনে। দাঁড়াল বিছানার পাশে। ঝকঝকে চোখ মেলে কিছুক্ষণ দেখল আমাকে। তারপর বলল, ‘উইলিয়াম, দোস্তো। এতদিনে যা চেয়েছি পেয়ে গেছি আমি। তোমার মত একটি কেসই চেয়েছি এতদিন।’ জন ল্যান্ডির সাথে তেমন ঘনিষ্ঠতা নেই তোমার। ও খুব একটা আমাদের বাড়িতে যায়ওনি। তবে ওর সাথে আমার বন্ধুত্বের বয়স নয় বছর হলো। দর্শনের শিক্ষক হলেও মনোবিজ্ঞানের প্রতি আগ্রহ আমার প্রচুর। ল্যান্ডিরও তাই। ফলে দু’জনের বন্ধুত্ব গড়ে উঠতে সময় লাগেনি।

    যা হোক, ল্যান্ডি আমার বিছানার পাশের একটা চেয়ারে বসে বলল, ‘তুমি আর ক’দিনের মধ্যেই মারা যাচ্ছ, তাই না?’

    এ ধরনের সরাসরি প্রশ্ন ল্যান্ডির মত মানুষকেই মানায়। তবে বলার ভঙ্গিটা এমন যে, মৃত্যুপথযাত্রী মানুষও কিছু মনে করতে পারবে না ওর কথায়।

    ‘তুমি মারা যাবার পর ওরা তোমাকে কবর দেবে,’ বলে চলল ল্যান্ডি, ‘তুমি কী মনে কর, তারপর স্বর্গে চলে যাবে?’

    ‘এ ব্যাপারে আমার সন্দেহ আছে,’ বললাম আমি।

    ‘নাকি নরকে?’

    ‘নরকে যাবার মত অপরাধ তো আমি করিনি, কিন্তু এসব কথা কেন ল্যান্ডি?’

    ‘কারণ’ আমাকে সতর্কভাবে লক্ষ করল ও। ‘আমি জানি মৃত্যুর পর তুমি জানতেও পারবে না তোমার কোথায় জায়গা হলো, তোমাকে কে কী বলল, যদি না…’ থামল সে, মৃদু হাসি ফুটল ঠোঁটে, আরও কাছে এগিয়ে এল। ‘…যদি না তোমার সমস্ত ভার আমার হাতে তুলে দিয়ে না যাও। তোমাকে একটা প্রস্তাব দিচ্ছি, গ্রহণ করবে?’

    আমার দিকে এমন ক্ষুধার্ত ভঙ্গিতে তাকিয়ে রইল ও যেন আমি সরেস গরুর চর্বিদার একটা রান, ঝোলানো হয়েছে আমাকে দোকানে, ও মাংসের টুকরোটা কিনে নিয়েছে, র‍্যাপিং পেপারে মুড়িয়ে দেয়ার অপেক্ষায় আছে।

    ‘কথাটা খুব সিরিয়াস, উইলিয়াম। একটা প্রস্তাব দেব। গ্রহণ করবে কিনা?’

    ‘তোমার কথার মাথা-মুণ্ডু কিছুই বুঝতে পারছি না।’

    ‘সব কিছুই তোমাকে ব্যাখ্যা করব। শুনবে আমার কথা?’

    ‘বলো শুনি। কারণ, কথা শুনতে আমার কোন ক্ষতি নেই। বরং লাভ। বিশেষ করে মৃত্যুর পরে লাভবান হবে, যদি আমার প্রস্তাব মেনে নাও।’ শুনে লাফিয়ে উঠলাম আমি। ল্যান্ডি বলতে শুরু করল :

    ‘একটা জিনিস নিয়ে গত কয়েক বছর ধরে আমি গবেষণা করে চলেছি, উইলিয়াম। এখানকার দু’একটি হাসপাতাল আমাকে গবেষণার কাজে যথেষ্ট সহায়তা করছে। ল্যাবরেটরির প্রাণীদের ওপর সফল এক্সপেরিমেন্ট চালিয়েছি আমরা। এখন শুধু মানুষের ওপর এক্সপেরিমেন্ট বাকি। আমার ধারণা, আমি সে এক্সপেরিমেন্টেও সফল হব।’

    বিরতি দিল ল্যান্ডি। ঝুঁকে এল আমার দিকে। ওর চোখ জ্বলজ্বল করছে উত্তেজনায়, তীব্র আলো যেন বিচ্ছুরিত হচ্ছে চোখের মণি থেকে। যেন আমাকে বলতে চাইছে, একমাত্র আমিই তোমাকে রক্ষা করতে পারি।

    আবার শুরু করল ল্যান্ডি:

    ‘বেশ অনেকদিন আগে একটি রাশান শর্ট মেডিকেল ফিল্ম দেখেছিলাম। ছবিটি ভয়ংকর তবে যথেষ্ট চিত্তাকর্ষকও। ছবিটিতে দেখিয়েছে-একটি কুকুরের ধড় থেকে মুন্ডু সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে, কিন্তু মস্তিষ্ক বা ব্রেনের ভেতর কৃত্রিম হৃদপিন্ডের আর্টারি এবং ভেইন থেকে স্বাভাবিক রক্ত সরবরাহ করা হচ্ছে। অবাক ব্যাপার হলো-একটা ট্রের মধ্যে বসানো কুকুরটার মাথা ছিল জ্যান্ত! ওটার ব্রেন কাজ করছিল। নানা টেস্টের মাধ্যমে ওরা ব্যাপারটা প্রমাণ করেছে। যেমন, যখন খাবার দেয়া হত, খাবার কুকুরটার মুখের সামনে ধরলে ওটার জিভ বেরিয়ে আসত, খাবার চেটে খেত। ঘরের ভিতর কেউ ঢুকলে তাকে চোখ দিয়ে অনুসরণ করত কুকুরটা।

    ‘এ থেকে একটা ব্যাপার পরিষ্কার হয়ে যায়-মাথা এবং মস্তিষ্ক দুটোর কোনটারই জ্যান্ত থাকার জন্যে শরীরের বাকি অংশের অবলম্বনের প্রয়োজন পড়েনি। শুধু অক্সিজেন মেশানো রক্তের সরবরাহই কাটা মুন্ডুটাকে বাঁচিয়ে রাখছিল।

    ‘ওই ছবিটি দেখার পর আমার মাথায় একটি বৈপ্লবিক চিন্তা চলে আসে। আমি ভাবতে থাকি মৃত্যুর পর কোন মানুষের খুলি থেকে ব্রেন খুলে নিয়ে তাকে যদি কৃত্রিম উপায়ে বাঁচিয়ে রাখা যায়, কেমন হয়? এরপর আমি এ বিষয় নিয়ে গবেষণা শুরু করে দিই। আর মানুষ নিয়ে গবেষণার জন্যে তোমাকে আমি বেছে নিয়েছি, বন্ধু। কারণ তুমি তো আর ক’টা দিন পর মরেই যাবে।’

    ‘ঠাট্টাচ্ছলে জানতে চাইলাম কাজটা সে কীভাবে করবে। এর দীর্ঘ এবং জটিল বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যা আমাকে দিয়েছে ল্যান্ডি। কিন্তু সে বর্ণনায় গিয়ে আমি তোমার বিরক্তি উৎপাদন করতে চাই না, মেরী। আর তা তুমি বুঝবেও না। শুধু এটুকু বলি, ল্যান্ডি এমন এক আজব যন্ত্র আবিষ্কার করেছে, যার মধ্যে রয়েছে একটি কৃত্রিম হৃৎপিন্ড। এটি অক্সিজেন মেশানো রক্ত উৎপাদন করবে সঠিক তাপমাত্রাসহ, সে রক্ত পাম্প করে আমার ব্রেনে সরবরাহ করা হবে, আমার মৃত্যুর পরে। আর এই পদ্ধতিতে নাকি বছরের পর বছর আমার ব্রেন বেঁচে থাকবে, মানে আমি বেঁচে থাকব! কৃত্রিম হৃৎপিন্ডের কখনও ক্ষয় হবে না, রক্ত সরবরাহ থাকবে নিয়মিত। তাতে কোনদিন ভাইরাস দ্বারা আক্রান্ত হবার আশঙ্কা থাকবে না এবং আমার ব্রেন নাকি দুই থেকে তিন শতাব্দী এভাবে অক্ষয় হয়ে থাকবে।

    ‘পরিকল্পনাটা রোমহর্ষক এবং উত্তেজক তো বটেই। শুরুতে অবশ্য ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। রাজি হইনি। পরে ভাবলাম মরে তো যাচ্ছিই। তবু বিজ্ঞানের জন্যে নিজেকে উৎসর্গ করলে ক্ষতি কী? তা ছাড়া ল্যান্ডির উদ্ভট গবেষণা সফল হলে, আবার আমি বেঁচে উঠব। বেঁচে থাকতে পারব টানা তিনশোটি বছর। ইতিহাস সৃষ্টি করব আমি। আবার বেঁচে ওঠার প্রবল উন্মাদনা পেয়ে বসল আমাকে। ল্যান্ডিকে বললাম অপারেশনের জন্যে আমি প্রস্তুত। অবশ্য অপারেশনটা হবে আমার মৃত্যুর সাথে সাথে। কারণ হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে যাবার চার থেকে ছয় মিনিটের মধ্যে অক্সিজেন এবং তাজা রক্তের সরবরাহের অভাবে অকেজো হয়ে যায় ব্রেন। কাজেই এর আগেই অপারেশনটা করতে হবে। তবে ল্যান্ডি জানিয়েছে তার আশ্চর্য মেশিনের কারণে আমার ব্রেন কোনভাবেই ড্যামেজ হবে না। অপারেশনে আমার মাথাটা কেটে আলাদা করে রাখা হবে একটা বেসিনে। মূলত ওটাই হবে এরপর থেকে আমার ঘরবাড়ি।

    ‘ল্যান্ডি বলেছে, অপারেশনের পরে সবকিছুই আমি দেখতে পাব। এমনকী খবরের কাগজ বা বইও পড়তে পারব। তবে শুরুতে একটি নির্দিষ্ট সীমানায় এটির আওতা সীমাবদ্ধ থাকবে। পরে ধীরে ধীরে এর পরিধি বৃদ্ধি পাবে। অবশ্য আমি মানুষের কথা শুনতে পাব না। শোনার ক্ষমতা দাবি করেছিলাম ল্যান্ডির কাছে। ল্যান্ডি বলেছে, ওটার ব্যবস্থা করা এ মুহূর্তে তার পক্ষে সম্ভব নয়। আর কথাও বলতে পারব না। কারণ আমার তো মুখই থাকবে না। শুধু চোখে দেখার জন্যে আমার ব্রেনের সাথে একটি কৃত্ৰিম মণি লাগিয়ে দেয়া হবে। আমি যে সচেতন অবস্থায় আছি, সবকিছু দেখতে পাচ্ছি, এটা জানা যাবে ইলেকট্রোএনসেফালোগ্রাফের সাহায্যে। ইলেকট্রোডগুলো সরাসরি আমার মস্তিষ্কের সামনের অংশের সাথে জোড়া লাগানো থাকবে। শেষে ল্যান্ডি বলল, ‘তুমি অসাধারণ এক ইতিহাস সৃষ্টি করতে চলেছ, উইলিয়াম। তোমাকে কেউ বা কোন কিছু বিরক্ত করবে না। তুমি কোন যন্ত্রণাও অনুভব করবে না। কারণ যন্ত্রণা অনুভব করার মত কোন নার্ভ তোমার থাকবে না। ভয়, দুঃখ, তৃষ্ণা, খিদে কোন কিছুই তোমাকে স্পর্শ করবে না। এমনকী কোন রকম জৈবিক কামনাও জাগ্রত হবে না। শুধু ব্রেনের মধ্যে থাকবে তোমার স্মৃতিশক্তি, তোমার চিন্তা- চেতনা, বুদ্ধি। কে জানে একদিন হয়তো অসাধারণ কোন সূত্ৰ তুমি আবিষ্কার করে বসবে!’

    ‘আমি অসাধারণ কোন কিছু আবিষ্কার করে ফেলব কিনা জানি না। তবে এটা যে অসাধারণ একটা ব্যাপার ঘটতে চলেছে, তাতে কোনই সন্দেহ নেই।

    ‘আমি এ ব্যাপারটা নিয়ে তোমার সাথে বহুবার কথা বলতে চেয়েছি, মেরী। কিন্তু তুমি আমার কোন কথাই শুনতে চাওনি। তারপর ব্যাপারটি লিখে যাবার সিদ্ধান্ত নিই। অবশ্য দীর্ঘ সময় লেগেছে লিখতে। তবে তোমাকে ‘বিদায়’ বলব না। কারণ ছোট্ট একটা চান্স আছে। ল্যান্ডি যদি তার কাজে সফল হয়, আবার হয়তো তোমার সাথে দেখা হবে আমার। ‘আমি আমার উকিলকে বলে যাব এ লেখাটি যেন আমার মৃত্যুর এক হপ্তা পর তোমার কাছে হস্তান্তর করা হয়। এখন, যখন তুমি লেখাটি পড়ছ, ল্যান্ডির অপারেশনের পর সাতদিন চলে গেছে। গোটা ব্যাপারটা সম্পর্কে তুমি অবহিত হলে। জানি না এখন কী করবে, তবে আমার অনুরোধ ল্যান্ডির সাথে দেখা করো। আমি তাকে বলেছি তুমি সাত দিনের দিন তার সাথে দেখা করবে।

    তোমার বিশ্বস্ত স্বামী

    উইলিয়াম

    বি: দ্র: আমি চলে যাবার পর থেকে সবসময় ভদ্রভাবে চলাফেরার চেষ্টা করবে, মনে রাখবে বৈধব্য খুব কঠিন জিনিস। মদ পান করবে না। অহেতুক টাকা ওড়াবে না। সিগারেট খাবে না। তুমি জান আমি নিজে সিগারেট খাইনি কোনদিন, কারও খাওয়া পছন্দও করি না। দোকানের পেস্ট্রি খাবে না। লিপস্টিক মাখবে না। টেলিভিশন অ্যাপারেটাস কিনবে না। গরমের সময় আমার ফুল গাছে নিয়মিত পানি দেবে। আর আমার ফোন ব্যবহার করার কোন প্রয়োজন নেই বলে আশা করছি লাইনটা কেটে দেবে।’

    মিসেস পার্ল পান্ডুলিপির শেষ পাতাটি আস্তে রেখে দিল সোফার উপর। তার ছোট্ট মুখখানা কঠিন আকার ধারণ করেছে, ফুলে উঠেছে নাকের পাটা। গোটা ব্যাপারটা তার কাছে বীভৎস লাগছে। লেখাটার কথা মনে পড়তে শিউরে উঠল গা।

    ব্যাগ খুলে আরেকটা সিগারেট বের করল সে, ধরাল। ঘন ঘন টানে ধোঁয়ায় ভরিয়ে ফেলল ঘর। ধোঁয়ার মেঘের ভিতর থেকেও স্থির তাকিয়ে রইল নতুন কেনা নতুন মডেলের বিশাল আকারের টেলিভিশনের দিকে। টিভিটা উইলিয়ামের টেবিলের উপর রেখে দিয়েছে সে। উইলিয়াম যদি দৃশ্যটা দেখত কী বলত, ভাবল মিসেস পার্ল।

    হঠাৎ মনে পড়ে গেল বছর খানেক আগের একটা ঘটনা। রান্নাঘরের খোলা জানালার সামনে দাঁড়িয়ে সে মাত্র একটা সিগারেট ধরিয়েছে, রেডিওতে উচ্চস্বরে ড্যান্স মিউজিক বাজছে, এমন সময় বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত ওখানে তার স্বামী এসে হাজির। মেরীকে সিগারেট খেতে আর গান শুনতে দেখে কী ভয়ানক রেগে গিয়েছিল উইলিয়াম! তারপর থেকে সে স্ত্রীর হাতখরচা বন্ধ করে দেয়। মেরীর সিগারেট খাওয়া দু’চক্ষে দেখতে পারত না উইলিয়াম। তার এক কথা-যে জিনিস উইলিয়ামের অপছন্দ তার স্ত্রী তা খাবে কেন? অনেক কিছুই অপছন্দ ছিল উইলিয়ামের। এমনকী বাচ্চা-কাচ্চাও পছন্দ করত না বলে মেরী মা হতে পারেনি।

    এখন কোথায় গেল তোমার পছন্দ-অপছন্দ? মনে মনে হাসল মিসেস পার্ল।

    সিগারেট শেষ করল সে। তারপর আরেকটা ধরিয়ে পা বাড়াল টেলিফোনের দিকে। টিভি সেটের পাশেই ওটা রাখা। উইলিয়ামের মৃত্যুর পরেও সে সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেনি। এদিকে উইলিয়াম বিশেষভাবে অনুরোধ করে গেছে মেরী যেন অবশ্যই ড. ল্যান্ডির সাথে যোগাযোগ করে। এক মুহূর্ত ইতস্তত করল সে, তারপর ইনডেক্স খুঁজে ল্যান্ডির নাম্বার বের করল।

    ‘আমি ড. ল্যান্ডির সাথে কথা বলতে চাই, প্লিজ!

    ‘কে বলছেন?’

    ‘মিসেস পার্ল। মিসেস উইলিয়াম পার্ল।’

    ‘এক মিনিট, প্লিজ!’

    একটু পরেই ল্যান্ডির কণ্ঠ ভেসে এল।

    ‘মিসেস পার্ল?’

    ‘জ্বী, বলছি।’

    এক মুহূর্ত নীরব থাকল ওপাশ।

    ‘অবশেষে ফোন করলেন, মিসেস পার্ল! আমি সত্যি খুব খুশি হয়েছি। একবার আসবেন হাসপাতালে? তা হলে কথা বলা যেত। আপনি বোধহয় ঘটনাটা জানার জন্যে আগ্রহী হয়ে আছেন, না?’

    মিসেস পার্ল নিশ্চুপ রইল।

    ‘সবকিছুই চমৎকারভাবে শেষ হয়েছে। ওটা শুধু জীবিত নয়, মিসেস পার্ল, ওটা সচেতন। দ্বিতীয় দিনেই ওটার জ্ঞান ফিরেছে। খুব ইন্টারেস্টিং ব্যাপার, নয় কী?’

    মিসেস পার্ল ল্যান্ডিকে বলে যাবার সুযোগ দিল। ‘আর ওটা দেখতে পাচ্ছে। প্রতিদিন ওটাকে খবরের কাগজও পড়তে দিচ্ছি।’

    ‘কী কাগজ?’ তীক্ষ্ণ গলায় জিজ্ঞেস করল মিসেস পার্ল।

    ‘ডেইলী মিরর। পত্রিকাটার হেডলাইনগুলো বড়বড়। পড়তে সুবিধা।’

    ‘ও মিরর পত্রিকা পড়ে না। ওকে টাইমস দেবেন।’

    এক মুহূর্ত নীরবতা। তারপর ডাক্তার বলল, ‘ঠিক আছে, মিসেস পার্ল। তাই দেব। ওটাকে খুশি আর সন্তুষ্ট রাখার চেষ্টাই করে যাচ্ছি।’

    ‘ওটা ওটা করছেন কেন, ঝাঁঝিয়ে উঠল মিসেস পার্ল। ‘বলুন ওকে!

    ‘জ্বী, ওকে,’ বলল ডাক্তার। ‘দুঃখিত, মাফ করবেন। যা হোক, ওকে খুশি রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। তাই আপনাকে আসতে বলছি। ও আপনাকে দেখলে খুশিই হবে।’

    দীর্ঘক্ষণ চুপ করে রইল মিসেস পার্ল। তারপর বলল, ‘আচ্ছা। আসছি আমি।’

    ‘আসলে খুব ভাল হবে। জানতাম আপনি আসবেন। আপনার জন্যে অপেক্ষা করব আমি। সোজা দোতলায় চলে আসবেন।’

    আধঘণ্টা পর হাসপাতালে পৌঁছে গেল মিসেস পার্ল।

    ‘ওকে দেখে আশাকরি অবাক হবেন না,’ ডক্টর ল্যান্ডি ওর পাশে হাঁটতে হাঁটতে বলল।

    ‘হব না।’

    ‘প্রথম দর্শনে শক্ড হতে পারেন। আসলে ওর বর্তমান চেহারাটা খুব একটা দর্শনযোগ্য নয়।’

    ‘আমি চেহারা দেখে ওকে বিয়ে করিনি, ডক্টর।’ ঘুরল ল্যান্ডি, সরাসরি তাকাল মিসেস পার্লের দিকে

    কী অদ্ভুত এক মহিলা, ভাবল সে। একসময় দেখতে সুন্দরী ছিল। এখন ক্লান্ত, জীবনযুদ্ধে পরাজিত, বিপর্যস্ত লাগছে। খানিক চুপচাপ হাঁটল ওরা।

    ‘ভেতরে গিয়ে অস্থির হয়ে উঠবেন না,’ বলল ল্যান্ডি। ‘সরাসরি ওর মুখের দিকে না তাকানো পর্যন্ত ও বুঝতেই পারবে না যে আপনি এসেছেন। ওর চোখ সবসময় খোলা থাকে। তবে চোখের মণি নড়াচড়া করার ক্ষমতা নেই। কাজেই ওর দেখার ক্ষমতাও সীমাবদ্ধ। বর্তমানে আমরা ওকে ছাদের দিকে তাকানো অবস্থায় রেখেছি। আর হ্যাঁ, ও কিছুই শুনতে পায় না। কাজেই যে কোন কথা বলতে পারবেন মন খুলে। এই যে, এসে পড়েছি।’

    ল্যান্ডি একটা দরজা খুলল, মিসেস পার্লকে ছোট, চৌকোনা ঘরটাতে ঢুকতে ইঙ্গিত করল। ‘আমি ওর খুব বেশি কাছে যেতে চাই না,’ মিসেস পার্লের বাহুতে হাত রেখে বলল সে। ‘এখানে একটু দাঁড়িয়ে ধাতস্থ হয়ে নিন।’

    ঘরের মাঝখানে, উঁচু, সাদা একটা টেবিলের উপর বড় আকারের সাদা এনামেল বাটির মত একটা ওয়াশ বেসিন দাঁড় করানো। বেসিন থেকে আধা ডজন প্লাস্টিক টিউব বেরিয়ে এসেছে। টিউবগুলো কতগুলো কাঁচের পাইপের সাথে সংযুক্ত। পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, একটা মেশিন থেকে বেরিয়ে আসা রক্ত গড়িয়ে নামছে পাইপ থেকে। ল্যান্ডি জানাল, ওটার নাম হার্ট মেশিন। ওটাই রক্ত সরবরাহ করে বাঁচিয়ে রেখেছে উইলিয়ামকে। হার্ট মেশিন থেকে ছন্দায়িত মৃদু শব্দ আসছে।

    ‘ওটার মধ্যে আছে,’ বেসিনের দিকে ইঙ্গিত করল ডাক্তার। ‘এতদূর থেকে পরিষ্কার দেখতে পাবেন না। একটু কাছে যান। তবে খুব বেশি কাছে নয়।’

    ল্যান্ডি মিসেস পার্লকে নিয়ে দুই কদম সামনে বাড়ল।

    ঘাড় লম্বা করে মিসেস পার্ল দেখল বেসিনের ভেতরটা তরল একটা পদার্থে বোঝাই। তরল জিনিসটা পরিষ্কার এবং স্থির। তার উপর ভাসছে গোলাকার একটা ক্যাপসুল, আকারে কবুতরের ডিমের সমান।

    ‘ওটা ওর চোখ,’ বলল ল্যান্ডি। ‘দেখতে পাচ্ছেন?’

    ‘হ্যাঁ।’

    ‘চোখটা খুব ভাল অবস্থায় আছে। ওটা ওর ডান চোখ। ওই চোখে সে আগের মতই দেখতে পায়।’

    ‘ছাদ দেখার মধ্যে মজার কিছুই নেই,’ মন্তব্য করল মিসেস পার্ল।

    ‘শুধু ছাদ দেখতে হবে না ওকে। সে ব্যবস্থাও আমরা করব। তবে এত দ্রুত তা সম্ভব নয়।’

    ‘ওকে ভাল কোন বই পড়তে দিন।’

    ‘অবশ্যই দেব। আপনার কোন সমস্যা হচ্ছে না তো, মিসেস পার্ল?’

    ‘না।’

    ‘তা হলে আরেকটু সামনে এগোই, চলুন। গোটা জিনিস পরিষ্কার দেখতে পাবেন।’

    টেবিলের সামনে এসে দাঁড়াল ল্যান্ডি মিসেস পার্লকে নিয়ে।

    ‘ওই দেখুন,’ বলল ল্যান্ডি। ‘ওই যে আমাদের উইলিয়াম।’

    যা ভেবেছিল তারচেয়ে প্রকান্ড লাগল উইলিয়ামকে, আর রক্তটাও অনেক বেশি গাঢ়। সারফেসের উপর নানা ভাঁজ আর বলিরেখা নিয়ে উইলিয়াম বড় আকারের শুঁটকি করা একটা আখরোটের আকার পেয়েছে। চারটে বড় ধমনী আর দুটো শিরা বেরিয়ে আছে ওর ব্রেনের সম্মুখভাগ থেকে, ঢুকেছে প্লাস্টিক টিউবের মধ্যে, হার্ট মেশিনের প্রতিটি স্পন্দনের সাথে, রক্ত যখন ঢুকছে, এক সাথে সবগুলো টিউব মৃদু ঝাঁকি খাচ্ছে।

    ‘ঝুঁকে সরাসরি চোখের দিকে তাকান,’ পরামর্শ দিল ল্যান্ডি। ‘তা হলে ও আপনাকে দেখতে পাবে। আপনি ওর দিকে তাকিয়ে হাসুন, চুমু খাওয়ার ভঙ্গি করুন। সম্ভব হলে ভাল ভাল কিছু কথা বলুন। শুনতে না পেলেও কী বলছেন বুঝতে পারবে নিশ্চয়ই।’

    ‘চুমু খাওয়ার ভঙ্গি করাটা ও মোটেই পছন্দ করবে না,’ বলল মিসেস পার্ল। ‘আমি বরং অন্যভাবে ওর সাথে কথা বলি। কিছু মনে করবেন না।’ সে টেবিলের কোনায় গিয়ে দাঁড়াল, ঝুঁকল বেসিনের উপর। সরাসরি তাকাল উইলিয়ামের চোখের দিকে।

    ‘হ্যালো, ডিয়ার,’ ফিসফিস করল সে। ‘এই যে আমি মেরী।’ উজ্জ্বল চোখটা অদ্ভুত কটমট করে তাকিয়ে রইল তার দিকে। ‘কেমন আছ, প্রিয়,’ জিজ্ঞেস করল সে। ‘ঠিক আছ তো?’

    স্বচ্ছ প্লাস্টিক ক্যাপসুলের মধ্যে চোখটা পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। চোখের বরফ নীল মণির চারদিকের সাদা জমিনের উপর সূক্ষ্ম সূক্ষ্ম লালচে শিরাগুলোও স্পষ্ট। মনে হলো মিসেস পার্লের কথা শুনে কেঁপে উঠল মনিটা।

    ‘তোমার চিঠি পেয়েছি, ডিয়ার। সাথে সাথে ছুটে এসেছি দেখতে। ড. ল্যান্ডি বললেন, তুমি নাকি ভালই আছ। আস্তে আস্তে বললে তুমি হয়তো আমার ঠোঁটের নড়াচড়া দেখে বুঝতে পারবে কী বলছি।’

    সন্দেহ নেই চোখটা দেখছে ওকে।

    ‘ওরা তোমার যত্নআত্তির কোন ত্রুটি করছে না, ডিয়ার। চমৎকার হার্ট মেশিনটা নিয়মিত পাম্প করে চলেছে। আমাদের দুর্বল হার্টের চেয়ে ওটা অনেক বেশি শক্তিশালী। আমাদের হার্ট যে কোন সময় অকেজো হয়ে যেতে পারে। কিন্তু তোমারটার সে সম্ভাবনা নেই।’

    কাছ থেকে চোখটাকে দেখছে মিসেস পার্ল, বোঝার চেষ্টা করছে ওটার ভাষা।

    ‘তুমি বেশ আছ, ডিয়ার। সত্যি ভাল আছ।’

    চোখটার মধ্যে কোথায় যেন কোমলতা আর দয়ার ছায়া লক্ষ করল মিসেস পার্ল, যা আগে কখনও দেখেনি।

    ‘আপনি কি নিশ্চিত ও সচেতন?’ ডাক্তারের দিকে তাকাল সে।

    ‘অবশ্যই।’ জবাব দিল ডাক্তার।

    ‘আমাকে দেখতে পাচ্ছে?’

    ‘একশোবার।’

    ‘ব্যাপারটা দারুণ, না? ও নিশ্চয়ই খুব অবাক হচ্ছে সবকিছু দেখে।’

    ‘ওর অবাক হবার কিছু নেই। সে খুব ভালভাবেই জানে সে কোথায় এবং কেন। যদি কথা বলার ক্ষমতা থাকত, তা হলে আপনার সাথে আলাপও চালিয়ে যেত।’

    কথা বলতে পারে না বলেই আমার উপর আর বিধি-নিষেধের বেড়াজাল আরোপ করতে পারবে না, ভাবল মিসেস পার্ল। তুমি অনেক ভুগিয়েছ আমাকে। এবার আমার পালা।

    ‘ভাল কথা, ডক্টর,’ বলল সে, ‘ওকে আমি কখন বাড়ি নিয়ে যেতে পারব?’

    ‘মানে?’

    ‘বললাম কখন ওকে বাড়ি নিয়ে যাবার অনুমতি পাব।’

    ‘আপনি ঠাট্টা করছেন,’ বলল ল্যান্ডি।

    ধীরে ধীরে মাথা ঘোরাল মেরী, ঠান্ডা চোখে তাকাল ল্যান্ডির দিকে।

    ‘আমি কেন আপনার সাথে ঠাট্টা করতে যাব।’

    ‘ওকে এখান থেকে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়।’

    ‘কেন সম্ভব নয় বুঝতে পারছি না।’

    ‘এটা একটা এক্সপেরিমেন্ট, মিসেস পার্ল!’

    ‘ও আমার স্বামী, ড. ল্যান্ডি।’ নার্ভাস ভঙ্গিতে হাসল ল্যান্ডি। ইয়ে মানে…’

    ‘ও আমার স্বামী,’ কণ্ঠে রাগ নেই, খুব শান্ত গলায় কথাটা পুনরাবৃত্তি করল মেরী। যেন ডাক্তারকে মনে করিয়ে দিল সাধারণ ব্যাপারটা।

    ‘সবাই জানে, আপনি এখন বিধবা, মিসেস পার্ল,’ জিভ দিয়ে ঠোঁট ভেজাল ল্যান্ডি। ‘কাজেই আপনার দাবি ত্যাগ করা উচিত।’

    ঝট্ করে ঘুরে দাঁড়াল মিসেস পার্ল, জানালার কাছে গিয়ে দাঁড়াল। ‘যা বলার বলে দিয়েছি,’ ব্যাগ খুলে সিগারেট বের করল। ‘আমি ওকে বাড়ি নিয়ে যাব।’

    দুই ঠোঁটের ফাঁকে ওকে সিগারেট গুঁজতে দেখল ল্যান্ডি, সিগারেট ধরাল। এ মহিলা সত্যি অদ্ভুত, আবার ভাবল সে। বেসিনে স্বামীকে অমন অবস্থায় দেখে মনে হয় মজাই পেয়েছে।

    ওখানে তার স্ত্রীর ব্রেন যদি ওভাবে পড়ে থাকত আর তার স্ত্রী ক্যাপসুলের মাঝ থেকে তার দিকে তাকিয়ে থাকত, তা হলে কেমন হত?

    মোটেই ভাল লাগত না ল্যান্ডির।

    ‘আমার ঘরে যাবেন?’ জিজ্ঞেস করল সে।

    জানালার সামনে দাঁড়িয়ে আছে মিসেস পার্ল, শান্ত-নিরুদ্বেগ চেহারা নিয়ে সিগারেট ফুঁকে চলেছে।

    ‘জ্বী,’ জবাব দিল সে।

    টেবিলের ধার দিয়ে যাবার সময় দাঁড়িয়ে পড়ল মিসেস পার্ল, আবার ঝুঁকল বেসিনের উপর

    ‘মেরী চলে যাচ্ছে, সুইট হার্ট,’ বলল সে। ‘তোমাকে বাড়ি নিয়ে যাবার ব্যবস্থা করছি। ওখানে ঠিকমত যত্ন-আত্তি করতে পারব তোমার। আর শোন, ডিয়ার…’

    হাসল সে, ঠোঁটে আবার সিগারেট গুঁজল, ভঙ্গি করল টান দেয়ার চোখটা জ্বলে উঠল ভীষণভাবে।

    চোখের দিকে সরাসরি তাকাল মিসেস পার্ল, মণির ঠিক মাঝখানে আলো দেখতে পেল। যেন আগুন জ্বলছে। প্রচন্ড রাগ নিয়ে তাকিয়ে আছে চোখটা তার দিকে।

    নড়ল না মিসেস পার্ল, বেসিনের উপর ঝুঁকে দাঁড়িয়েছিল। এবার ঠোঁটে গোঁজা সিগারেটে মস্ত টান দিল। ফুসফুসের মধ্যে ধোঁয়াটা ধরে রাখল তিন/চার সেকেন্ড। তারপর হুশ্ শব্দে নাকের দুই ফুটো দিয়ে ধোঁয়ার পাতলা দুটো স্রোত বেরিয়ে এল, সরাসরি আঘাত করল বেসিনের পানিতে, সারফেসে ঘন নীল মেঘের ঢেউ সৃষ্টি করল, বুজিয়ে দিল চোখটা।

    ল্যান্ডি দরজার কাছে পৌঁছে গেছে, ডাক দিল, ‘আসুন, মিসেস পার্ল।’

    ‘ওভাবে কটমট করে তাকাবে না, উইলিয়াম,’ নরম গলায় বলল মিসেস পার্ল। ‘কটমট করে তাকালে দেখতে ভাল লাগে না।’

    ল্যান্ডি ঘুরল, ঘাড় লম্বা করল, মহিলা কী করছে দেখতে চায়।

    ‘অনেক হয়েছে,’ ফিসফিস করল মিসেস পার্ল। ‘এখন থেকে মেরীর আদেশেই তোমাকে চলতে হবে। বোঝা গেছে?’

    ‘মিসেস পার্ল,’ বলল ল্যান্ডি, এগিয়ে আসছে ওর দিকে।

    ‘কাজেই আর দুষ্টুমি করা চলবে না,’ আবার সিগারেটে টান দিল সে। ‘দুষ্টুমি করলে অনেক দুর্ভোগ আছে তোমার কপালে।

    ল্যান্ডি চলে এসেছে ওর পাশে, হাত ধরে টেনে নিয়ে চলল।

    ‘বিদায়, প্রিয়,’ গলা ছেড়ে বলল মিসেস পার্ল। ‘আমি শীঘ্রি আসছি।’

    ‘অনেক হয়েছে, মিসেস পার্ল।’

    ‘ও খুব সুইট, না?’ ল্যান্ডির দিকে বড় বড় চোখ রেখে বলল সে। ‘তাই না, ডার্লিং? ওকে বাড়ি নিয়ে যাবার জন্যে আর তর সইছে না আমার।’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআবার অশুভ সঙ্কেত – অনীশ দাস অপু
    Next Article সেরা ভূতের গল্প – ব্রাম স্টোকার

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }