Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হরি ঘোষের গোয়াল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প124 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হরি ঘোষের গোয়াল – ৪

    ৪

    পিতার বক্ষে রেখেছ মোরে, বেঁধেছ সখার প্রণয় ডোরে। মধুর সকালে এমন সব প্রাচীন কবিতাই মনে পড়ে। ভোরের পাখি এখনও গান গায়। সকালে মানুষ এখনও হরিনাম নিতে নিতে গঙ্গাস্নান যায়। এখনও মধুপালোয়ান আখড়ায় কুস্তি করে। রাস্তায় খুব সোরগোল। যেন টেলিগ্রাম বেরিয়েছে।

    নিতু ডাকছে—মানব, মানব।

    ‘কী হল রে?’

    ‘শুনেছেন, গুপীদা পুলিশ লকআপে নিজের কাপড়ে গলায় দড়ি দিয়েছে।’

    ‘সে কী রে!’

    ‘হ্যাঁ মাইরি, কি কাণ্ড দেখ। বউ, ছেলে, মেয়ে সব পড়ে রইল। লোকটা কাপুরুষের মতো পালাল।’

    ‘এক ছেলেতেই গুপীদাকে কাত করে দিলে। ছেলেটা মরে না গেলে সেই পাপের ভাগী হত। জেলটেল খাটত। গুপীদাটা তো নিভাঁজ, নিরীহ ভদ্রলোক ছিল। কোথা থেকে সে চোরাই মিল্কপাউডার এল, কে জানে!’

    ‘এর আর জানাজানি কি? নলে সার মাল।’

    ‘তুই মানব বেশি আর নলে সা, নলে সা করিসনি। লোকটা ইমিউনিটি নিয়ে ফিরে এসেছে। পকসের টিকে। কে কোথায় শুনে ফেলবে। ছোট মতো একটা ঝেড়ে দিলেই তোর খেল খতম।’

    ‘অত ভয় পাসনি তো নিতু। আমরাও এককাট্টা হলে নলেফলে সব ভেসে বেরিয়ে যাবে।’

    ‘এক কাট্টা হলে। বাইশ মণ তেলও পুড়েছে তোর রাধাও নেচেছে।’

    নিতু চলতে লাগল। ‘কোথায় চললি রে রয়টার?’

    ‘চায়ের খোঁজে। গুপীদা গিয়ে কি অসুবিধেই যে হয়েছে। এক মাইল হাঁটলে তবে এক কাপ চা জুটবে।’

    পাড়া ক্রমশই বেশ গরম হয়ে উঠছে। গলিতে ঘুঁজিতে, বাড়িতে বাড়িতে নিত্য নতুন ষড়যন্ত্র তৈরি হচ্ছে। কার ঘাড়ে কখন যে কোপ পড়বে! বাবা আর অক্ষয়কাকা বেড়াতে চলেছেন। অক্ষয়কাকা কাশতে কাশতে বললেন, ‘বুঝলে বিভূতি অতিলোভে তাতি নষ্ট। সংসারটাই ছারকার হয়ে গেল।’

    বাবা বললেন, ‘দিস ওলড ওয়ার্লড ইজ পুলিং অ্যাপার্ট। আমাদের দিন ত শেষ হয়ে এল, ভয় এই সব উঠতি বয়েসের ছেলেদের নিয়ে। কোথায় কোন ফাঁদে পা দিয়ে বসবে?’

    অক্ষয়কাকা আমার দাড়িটা নেড়ে দিয়ে বললেন, ইয়াংমান, তোমার বাবার স্পিরিট তুমি ইনহেরিট করবেই। বাট বি কেয়ারফুল, যুগ দ্রুত পালটাচ্ছে। উটের কাছে শিক্ষা নাও, ঝড় উঠলেই বালিতে মুখ গুঁজে আত্মরক্ষা করতে শেখ।’

    ‘না, অক্ষয়, না ডোন্ট অ্যাডভাইস হিম টু বি এ কাওয়ার্ড অর কমপ্রোমাইজিং। ফেস লাইফ অ্যাজ ইট ইজ। উই আর ইন এ কলড্রন। বিশাল কড়ায় ফুটন্ত তেলে মধ্যবিত্তদের ফ্রাই করা হচ্ছে। পালাবে কোথায়। বি এ ফ্রায়েড ম্যান। শুধু দু হাত দিয়ে সৈনিকদের বন্দুকের মতো নিজের আদর্শকে মাথার ওপর তুলে ধরে থাক।’

    ট্রেনে যেতে শুনলাম, কৃষ্ণনগর, রানাঘাট, শান্তিপুরে মানুষ খাদ্যের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে। সরকারি অফিস, রেল স্টেশান, ট্রেন হাতের কাছে যা পাচ্ছে সব পুড়িয়ে দিচ্ছে। সারা পশ্চিমবাংলা বারুদ হয়ে আছে। বিরোধীরা বাংলা বন্ধের ডাক দিয়েছেন। অমূল্যদা কাল বলছিলেন, অস্তগামী সূর্য আকাশে আগুন ছড়ায়। তবু মানুষ ট্রেনে বসে সুখী সুখী মুখে পান চিবোচ্ছে। চার হাঁটুর মাঝখানে ঝাড়ন বিছিয়ে তাস পিটছে। বর্ধমানের সেই কীর্তন পার্টি খচাখাঁই খচাখাঁই, করে তারস্বরে গান গেয়ে চলেছে। কেউ কেউ ভাতের আমেজে ঢুলে ঢুলে পাশের যাত্রীর ঘাড়ে পড়ে যাচ্ছে। সব ব্যাপারটাই কেমন যেন ভাসাভাসা। হাওয়ায় উড়ে আসা শিমুলের বীজের মতো।

    স্টেশানে নেমেই আমরা দলে দলে হোঁত হোঁত করে ট্রামের দিকে দৌড়তে শুরু করলাম। পায়ে পায়ে, গায়ে গায়ে, কাঁধে কাঁধে। অফিসের খাতা কান ধরে টানছে। লাল পেনসিল হাতে ঢেরা মারার জন্যে দপ্তরে দপ্তরে বড়বাবু নামক এক পদার্থ বসে আছেন। দেরি হলেই তিনি পৈশাচিক উল্লাসে একটি লাল ক্রশ এঁকে দেবেন। মেরেছি ঢ্যারা।

    দূর থেকে মনে হল, টিফিন কাফের সামনে ফুটপাথে গাড়িবারান্দার তলায় হরেনদা আর অন্নপূর্ণা মেকআপ ফ্যাকট্রির সেই ব্রজবাবু দাঁড়িয়ে। হরেনদা হাসি হাসি মুখে খুব হাত পা, মাথা নাড়ছেন। ব্রজ ভসভস করে সিগারেটের ধোঁয়া ছাড়ছেন। গায়ে সার্জের পাঞ্জাবি। ঘি ঘি রং। কাঁধে দামি শাল। চোখে সোনালি ফ্রেমের নীলচে কাচের চশমা। ছায়া পড়ে চোখের কোল দুটো কালচে দেখাচ্ছে। অসংযমীর চেহারা। দৃশ্যটা খুব ভালো লাগল না। উলটো ফুটপাথ ধরে হন হন করে হেঁটে অফিসে ঢুকে পড়লাম। হরেনদার মুখ দেখে মনে হল, শ’ পাঁচেক পকেটে ঢুকেছে। আজ খুব রাধাবল্লভী আর কড়া পাক উড়বে। কৃষ্ণনগরে মানুষ মরুক। আমি তো বাঁচি। বড় হলঘরে একবার ঢুকতেই হয়। হাজিরা খাতা বড়বাবুর টেবিলে।

    ‘মানব যে?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

    ‘কাল পালালে কোথায়? তোমার সায়েব, সি এ খুব খোঁজাখুঁজি করছিলেন।’

    ‘মিছিলে গিয়েছিলাম।’

    ‘ও আবার রাজনীতিতে জড়ালে?’

    ‘রাজনীতি কেন? এ তো আমাদের দাবিদাওয়ার আন্দোলন।’

    ‘আরে পোলাপান! তুমি দেখি সবই সরল করে নাও। শোনো দুটো রাজনীতি সব সময় প্যারালাল চলে। একটা গদির আর একটা রাস্তার। ছেলেবেলায় পড়েছ তো দুয়ে পক্ষ। কৃষ্ণপক্ষ আর শুক্লপক্ষ। চাঁদ আছে, চাঁদ নেই। গদি হল শুক্লপক্ষ। রাস্তা হল কৃষ্ণপক্ষ। এটাকে ঘুরিয়ে ওটাতে ফেল ওটাকে ঘুরিয়ে এটাতে ফেল। যশোদার ননী ঝুলছে শিকেতে। বাল গোপালকে পিঠে পিঠ পেতে দাও। নবনী হরণ পালা। সেই পিঠটা নাইবা পেতে দিলে। এ ত আর সখা কৃষ্ণ নয় যে, তোমাকে নবনীর ভাগ দেবে। মাঝখান থেকে পিঠটা যাবে। ট্র্যান্সফার হয়ে যাবে কুচবিহারে। ওই সি এ—টিকে ধরেছ, ভাল করে জাপটে ধর, ন্যাজ ধরে বৈতরণী পার হয়ে যাবে।’

    বড়বাবুর এক পশলা উপদেশ শুনে চলে আসছিলাম, আশা দূর থেকে হাত নেড়ে ডাকল। সেরেছে! রাস্তায়, রেস্তোরাঁয় কথা, কেউ দেখবে না। কটকটে দিনের আলোয় অফিস হলে জোড়া জোড়া চোখের সামনে ব্যাপাটার অন্য মানে হবে না তো! ডাকছে যখন সামনে যেতেই হবে।

    আশা বললে, ‘আজ টিফিনে মোগলাই খেতে যাব।’

    ‘টিফিন কটায়?’

    ‘ও মা তাও জানেন না। দুটো।’

    ‘থাকলে যাব।’

    ‘আপনি খাওয়াবেন।’

    ‘তথাস্তু।’

    অমূল্যদা সামনে বসেন। শুনতে পেয়েছেন মনে হয়। মুচকি হাসলেন। অমূল্যদা আমার ফ্রেন্ড। শুনলেও কিছু এসে যায় না। চলে আসছি, আবার বাধা। কান্তবাবু কাঁধে হাত রেখে বললেন, ‘মাইনে পেয়ে ইউনিয়ানের চাঁদা দশ টাকা দিও।’

    ‘সে তো এখনও দেরি আছে।’

    ‘তোমাকে বলে রাখলুম। সুদর্শনও চাইতে পারে। সুদর্শন কোন দলের জান তো?’

    ‘না।’

    ‘খাজা পার্টির। স্ট্রেট বলে দেবে মুখের ওপর, দালালদের আবার ইউনিয়ান কি?’

    বাইরের করিডরে বিশাল হইহই শোনা গেল। কী হল আবার! লিফটটা ছিঁড়ে পড়ে গেল নাকি? কান্তবাবু আমি দুজেনই দৌড়লুম। অন্যান্যদের মধ্যে যাঁরা পোড়খাওয়া জিনিস তাঁরা বসেই রইলেন, কেউ কেউ ছুটলেন মজার গন্ধ পেয়ে।

    গোলমালটা সেই ঘাঘু সায়েবের হারেমের বাইরে। একটি লোক বাইরে দাঁড়িয়ে। কপালের পাশ বেয়ে রক্তের ধারা নেমেছে। দুজন তাঁকে ধরে দাঁড়িয়ে খুব চিৎকার করছে। ঘাঘু সায়েব পাইপ মুখে দিয়ে গর্জন করছেন, ‘গেট আউট, আই সে গেট আউট!’

    কান্তদা জিজ্ঞেস করলেন, ‘কী হয়েছে?’

    ‘মেরেছে স্যার!’

    ‘মেরে কপাল ফাটিয়েছে?’

    ‘না, কপাল ফেটেছে পড়ে গিয়ে! সায়েবের টেবিলের মাথার ওপর আলোর পয়েন্ট ঠিক করতে ঘড়াঞ্চিতে উঠেছিল। হঠাৎ শক খেয়ে প্লায়ার আর স্ক্রুড্রাইভার নিয়ে টেবিলের ওপর পড়ে যায়। টেবিলের কাচ ভেঙে গেছে। সায়েব বলছেন পাঁচশো টাকা দিয়ে কাচ কিনে দিতে হবে। গরিব মানুষ কোথায় পাবে টাকা। সায়েব বাপতুলে গালাগাল দিয়েছেন প্লাস এই জখম লোকটার গালে চড় মেরেছেন?’

    কথা শুনে আর লোকটির অবস্থা দেখে রক্ত গরম হয়ে গেল। মুখ ফসকে বেরিয়ে গেল, ‘আপনি মানুষ?’

    ঘাঘু সায়েব তোপের মতো ফেটে পড়লেন, ‘হোয়াট? কে এই বালখিল্য।’

    ‘মুখ সামলে। আপনি অন্যায় করেছেন। এই ভদ্রলোক ইচ্ছে করে আপনার কাচ ভাঙেনি। অ্যাকসিডেন্ট ইজ অ্যাকসিডেন্ট।’

    ‘আই সে, হু আর ইউ?’ অগ্নিশর্মা সায়েবের পাইপ ধরা হাত কাঁপছে।

    হরেনদা কখন পেছন এসে দাঁড়িয়েছিলেন। তিনি মিঠে মিঠে গলায় বললেন, স্যার এই ছেলেটি আমাদের রিসার্চ সেকসানে নতুন এসেছে। এর নাম মানব মুখার্জি।

    ‘মিস্টার ব্যানার্জির স্টাফ? অলরাইট আই উইল টিচ হিম এ লেসন।’ ঘাঘু সায়েব গট গট করে ব্যানার্জি সায়েবেরে ঘরে গিয়ে ঢুকলেন। পেছনে দাঁড়িয়ে যারা মজা দেখছিলেন, তাদের মধ্যে থেকে একজন বলে উঠলেন, ‘নাও এইবার মর। সাপের গর্তে হাত দেবার ঠেলা বোঝ!’

    হরেনদা হাসি হাসি মুখে ফিসফিস করে কাকে যেন কী বলছেন। মনে হয় বলছেন, কাঁটা দিয়ে কাঁটা ওপড়ান। আশ্চর্য কান্তদা ইউনিয়নের নেতা তিনি একটাও কথা বললেন না। ‘আপনি একটু প্রোটেস্ট করলেন না কান্তদা?’

    ‘তুমি তো করলে ভাই।’

    ‘আপনারা সকলে করলে আরও জোরদার হত।’

    ‘অন্যের কথা জানি না। আমার স্ট্র্যাটেজি আলাদা। আমার এই ভাবে ইনভলভড হওয়া চলবে না। ব্ল্যাক লিস্টেড লোক। হঠাৎ ট্রান্সফার করে দিলে সংগঠন সাফার করবে। আমার কাজ তো এই একটা লোককে নিয়ে নয়। সারা পশ্চিমবাংলার কর্মীদের স্বার্থ আমাকে দেখতে হবে।’

    ‘ও তাই নাকি? এই মানুষটি তাহলে আপনার সেই স্বার্থের বাইরে?’

    ‘এককভাবে বাইরে কিন্তু সংঘবদ্ধভাবে ভেতরে।’

    যুক্তিটা বোঝা গেল না। মনে হল, শেয়ালের যুক্তি। আরও দু’একটা প্রশ্ন ছিল। করা গেল না। ব্যানার্জি সায়েবের ঘরে ডাক পড়ল। যেতে যেতে মনে হল, ভিড়ের একপাশ থেকে সেই ব্রজরাজ টুক করে লিফটে গিয়ে উঠলেন।

    ব্যানার্জি সায়েব মুখটা ভীষণ ভারী করে বসে আছেন। ঘাঘু সায়েব চেয়ারে বেঁকে বসে আছেন। পাইপ থেকে ভসভস করে ধোয়া বেরোচ্ছে। এর নাম পৃথিবী। বিভূতি মুখোপাধ্যায়ের ছেলে মানব মুখোপাধ্যায়। সাকিন উত্তরপাড়া। তাকে এখন কৈফিয়ত দিতে হবে—কেন সে একজন তালেবর ব্যক্তির অমানবিক আচরণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছে। যাঁদের হাতে অরগানাইজেশান রয়েছে তারা ক্রীতদাসদের যা খুশি তাই করার অধিকার রাখেন। কে বলেছে আঙ্কল টমরা মুক্তি পেয়েছে। পিতা কিছু না বললেও এই সব পরম পিতারা তোমাকে ছেড়ে দেবে না। সার্ভিস কনডাক্ট রুল আছে, ডিসিপ্লিনারি অ্যাকসান আছে, চার্জশিট আছে। খপ্পর কাকে বলে জান মানব? জান না তো? এইবার ম্যাও সামলাও।

    ব্যানার্জি সায়েব তিক্ত কণ্ঠে বললেন, ‘মানব তুমি একজন সিনিয়ার এ ক্লাস গেজেটেড অফিসারের সঙ্গে কীভাবে কথা বলতে হয় জান না? এঁকে তুমি অপমান করেছ।’

    ‘অপমান তো করিনি স্যার। অত্যন্ত নিষ্ঠুর, অন্যায় অত্যাচারের প্রতিবাদ করেছি।’

    ‘প্রতিবাদ? তুমি জান না, এঁদের কোনো আচরণই প্রশ্নযোগ্য নয়। হেভন বরন সার্ভিস। এঁরা যা করবেন, যে ভাবে করবেন, সেইটাই হবে স্ট্যান্ডার্ড। আনকোয়েশ্চেনেবল।’

    ‘একটা লোক ইলেকট্রিকের কাজ করতে গিয়ে শক খেয়ে ছিটকে টেবিলের কাচের ওপর পড়ে গিয়ে আহত হলে, সহানুভূতি না জানিয়ে তাকে জুতো পেটা করে বলতে হবে, কেন কাচ ভেঙেছিস পাঁচশো টাকা দে। এটা হেভেনলি আচরণ স্যার! এর নামই কি হামাকা অফিসার!’

    ‘হোয়াট ইজ হামাকা।’

    ‘হাতে মাথা কাটা অফিসার স্যার।’

    ঘাঘু সায়েব মুখ থেকে পাইপ খুলে বললেন, ‘এর পুলিশ ভেরিফিকেশান হয়েছে?’

    ব্যানার্জি সায়েব বললেন, ‘না। সেটা হবে পার্মানেন্ট হবার সময়।’

    ‘হি ইজ এ পার্টি ম্যান। চাক হিম আউট।’

    ব্যানার্জি সায়েব বললেন, ‘নস্ট অন ইওর অ্যাডভাইস। দেয়ার উইল কি অ্যান ইনভেসটিগেশান। বলা যায় না, ইউ মে বি অন দি রং সাইড।’

    ‘হোয়াট। ইউ আর গিভিং শেলটার টু অ্যান ইনসোলেন্ট ইভিলডুয়ার! আই ডাউট ইওর ইনটেগরিটি। আই উইল ক্যারি দিস ইস্যু টু সি এম।’

    সব কথা চাপা পড়ে গেল। বাইরে খুব হট্টগোল হচ্ছে। স্লোগানের শব্দ—’জবাব দাও, জবাব দাও।’

    ঘাঘু সায়েব তেড়েফুঁড়ে বাইরে বেরিয়ে এলেন। যেন ফিউড্যাল লর্ড বাঘ শিকারে চলেছেন। সায়েবের দরজার বাইরে জনা পনেরো উত্তেজিত কর্মচারী! কারুরই নাদুসনুদুস চিকন চেহারা নয়। নেয়াপতি ভুঁড়ি প্যান্ট ঠেলে ব্লাডারের মতো উঠে নেই। চোয়াল উঁচু, রুক্ষ চেহারার সমাবেশ। ঘুঘু সায়েব একটু থমকে দাঁড়ালেন। হাতে হান্টার নেই, কাঁধে বন্দুক নেই, মুখে শুধু পাইপ, এক হাতে পাইপ খোঁচা মারার তার। তার দিয়ে তো বাঘ খোঁচানো যায় না।

    গলাটাকে যথাসম্ভব উচ্চগ্রামে তুলে জানতে চাইলেন, ‘হোয়াট ইজ দিস। কি হচ্চে কি।’

    জনতা গর্জন করে উঠলেন, ‘জবাব চাই, জবাব চাই।’

    ‘সিলি।’ সায়েব ইংরিজিতে অসন্তোষ প্রকাশ করলেন। নিজের চেম্বারের দরজার সামনে যাঁরা দাঁড়িয়েছিলেন তাঁদের উদ্দেশ্য করে বললেন, ‘ইমিডিয়েটলি কল পুলিশ।’

    পনেরোজন মানুষ হেরেরেরে বলে শব্দ তুলে সায়েবকে গোল করে ঘিরে ফেললেন। সকলেরই হাতে কিছু না কিছু অস্ত্র। স্ক্রুড্রাইভার, প্লায়ার, রেঞ্জ, হাতুড়ি। হঠাৎ সেই দল চিৎকার করে উঠল মানব মুখার্জি জিন্দাবাদ! এঁরা কেউই কান্তর দলের নয়। ক্লাস ফোর স্টাফ। কান্তদা অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে। তার সাইকোলজি বোঝা গেছে। তিনি ভিড়ের মধ্যে থেকে ঢিল ছুঁড়বেন। বিপদ হলে সকলের হবে। একা কোনও ঝুঁকি নেবেন না! এ ব্যাপারে তাঁর নীতি বোধ হয়—সবে মিলি করি কাজ হারি জিতি নাহি লাজ। ঘাঘু সায়েব ঘেরাও। বিব্রত মুখের চেহারা। দলের মধ্যে যাঁর নেতা নেতা চেহারা তিনি বললেন, ‘মানববাবু। আমরা ঠিক গুছিয়ে বলতে পারব না, আমাদের একটাই দাবি, এঁকে ক্ষমা চাইতে হবে, তবেই আমরা ঘরে ঢুকতে দোব, নয়তো এইভাবে ঘিরে রাখা হবে। খবর দিয়েছি, আরও আসছে। আজ এসপার ওসপার যাই হয় একটা কিছু হয়ে যাবে।’

    কথা শেষ হতে না হতেই লিফট থেকে একদল মহিলা নেমে এলেন। বড়, ছোট, মাঝারি। একজন খুব স্মার্ট। সাজপোশাকে একেবারে আধুনিকা। মুখের রঙের সঙ্গে হাতের রঙের মিল নেই। অন্নপূর্ণা মেকআপের জীবন্ত বিজ্ঞাপন। তিনি খরখর করে এগিয়ে এসে ছোটখাটো একটা ভাষণ দিয়ে ফেললেন।

    এই অফিসারের অসভ্যতায় আমরা টেলিফোনের কর্মীরা মান—সম্মান দিয়ে চাকরি করতে পারি না। এঁর ধারণা টেলিফোনে যাঁরা কাজ করেন তাঁর সকলেই চরিত্রহীনা। পরশুদিন ইনি লাইন তুলে অশ্লীল, অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল দিয়েছেন। তার আগে আমাদের একজনকে কুপ্রস্তাব দিয়েছেন। এই অন্যায়ের প্রতিকার চাই।’

    আমরা সমস্বরে চিৎকার করে উঠলাম, ‘প্রতিকার চাই, জবাব চাই।’

    প্রতিবার গর্জনে আমাদের রক্ত টগবগ করে উঠেছে। কারার এই লৌহ প্রাচীর, ভেঙে ফেল, ভেঙে ফেল, কারার এই লৌহ প্রাচীর। কান্তদার হঠাৎ কি মনে হল কে জানে। কুড়িয়ে বাড়িয়ে তাঁর দলের কিছু লোকজন জড় করে এগিয়ে এলেন। বোধহয় মনে হল, এমন একটা স্বতঃস্ফূর্ত আন্দোলন হাতছাড়া হয়ে যাবে। পাশেই একটা বেঞ্চ ছিল! তড়াক করে সেটার ওপর লাফিয়ে উঠলেন।

    ‘বন্ধুগণ, এইসব সার্ভিসের লোকেরা মানুষ নন। এঁরা অমানুষ। অবশ্য সবাই নয়, ভালো মানুষও আছে। সংখ্যায় কম। এই সিনিয়র, রেসপনসিবেল অফিসারের দৌরাত্ম্য, দুর্ব্যবহার ভদ্রতার সমস্ত সীমা লঙ্ঘন করেছে। এঁকে আর বাড়তে দেওয়া উচিত নয়।’

    ফ্যাঁচাত করে একটা শব্দ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে একটা আলো চমকে উঠল। ভয়ে চোখ বুজিয়ে ফেলেছিলুম। পরে বুঝলুম গুলি নয় ক্যামেরা। ফিসফিস করে একজন বললেন, ‘নিউজ—পেপার এসে গেছে।’

    আর একজন বললেন, ‘এইবার তো পুলিশ আসবে।’

    আবার একবার আলো ঝলসে উঠল। প্রথমবার তোলা হল কান্তদার ছবি! দ্বিতীয়বারে ঘেরাও ঘাঘু সায়েবের। রিপোর্টার এসেছেন দেখে কান্তদার তেজ ভীষণ বেড়ে গেল।

    ‘বন্ধুগণ, আপনাদের সামনে পাইপ মুখে যিনি দাঁড়িয়ে আছেন, তিনি অফিসার নন, জনসেবক নন, মোগল বাদশা। দেশের সেবা নয় নিজের সেবাটাই ভালো বোঝেন। শুধু চেম্বার হলেই চলবে না, চেম্বারের মধ্যে চেম্বার চাই! পা ডুবে যাওয়া কার্পেট চাই। খাওয়া চাঁদের মতো ঝকঝকে টেবিল চাই। তার ওপর কাচ চাই। মাথার ওপর ঝাড়লণ্ঠন চাই। চুনকাম করা সাধারণ দেয়াল হলে চলবে না। নানা রঙের প্ল্যাস্টিক রং লাগানো দেয়াল চাই। সেই দেয়ালে কী ঝুলবে?’ কান্তদা নেচে নেচে অঙ্গভঙ্গি করে বললেন, ‘মেয়েছেলের ছবি ঝুলবে, মেয়েছেলের ছবি। সকাল থেকেই যিনি লাল চোখে, গরম মেজাজে, সখী নিয়ে বসে থাকেন তিনি এই নিরন্ন, দরিদ্র, ভারতবাসীর কী উপকার করবেন? ভারতীয় জীবনে এঁরা হলেন শ্বেতহস্তি। এঁদের সামনে এগোন যায় না, এঁদের ধারে কাছে আমরাই যেতে পারি না, ধুলো পা দরিদ্র গ্রামের মানুষ এই ধরনের ব্রাউন সায়েবদের থেকে কত দূরে একবার ভেবে দেখুন। এঁদের জীবন চালচলন, চরিত্র…।’

    কান্তদা আড়চোখে একবার দেখে নিলেন, পুলিশ আসছে। করিডর ধরে গটমট করে এগিয়ে আসছেন একজন অফিসার, জনাকয়েক হাবিলদার। কান্তদার গলা আরও চড়ে গেল, ‘বন্ধুগণ চালচলন, চরিত্র, জীবনযাত্রার ধরন দেশ সেবকের নয়, দেশের শত্রুর।

    পেছন থেকে জামার কলার ধরে ব্যানার্জি সায়েব আমাকে এক ঝটকায় তাঁর চেম্বারে টেনে নিলেন। ‘তুমি একটা ইডিয়েট, মূর্খ। কার সঙ্গে লড়াই করতে গেছ? এটা রাস্তা নয়, মনুমেন্টের তলা নয়, অফিস। পদাধিকার বলে দ্যাট রোগ তোমাকে এখুনি অ্যারেস্ট করিয়ে দেবে। পুলিশের ধোলাই জান? কোনদিন দেখেছ? রাজনীতি আন্দোলন, নেতাগিরি সরল নিরীহ মানুষের কাজ নয়। মধ্যবিত্তের বস্তাপচা আদর্শ ক্ষমতার সিংহাসনে যাঁরা বসে আছেন তাঁদের কাছে সম্পূর্ণ অচল। তুমি ওই পেছনের দরজা দিয়ে ইমিডিয়েটলি অফিস লিভ করে চলে যাও। কাল সকালে তোমার সঙ্গে দেখা হবে।’

    নারাণদা আপন মনে টাইপ করে চলেছেন। বাইরে এত কাণ্ড গ্রাহ্যই নেই। গীতা বোধহয় মানুষের এই অবস্থাকেই বলেছেন ব্রাহ্মস্থিতি। যতই টাইপ করুন, আমাকে ঠিক লক্ষ্য করেছেন।

    ‘দাঁড়াও। খালি হাতে বেরিও না। খানকতক ফাইল নিয়ে যাও। ধীরে ধীরে হেঁটে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে উঠে যাও। সেখান থেকে লিফটে করে সোজা নীচে। দুটো লিফট। একটা জোড় নম্বরে থামে আর একটা থামে বিজোড়ে। আমাদেরটা বিজোড়। একটা ফ্লোর ওপর উঠে লিফট নিলে সে লিফটের দরজা এ ফ্লোরে খুলবে না। নির্ভয়ে নেমে যাও।’

    খটাখট, খটাখট টাইপের শব্দ। দরজা খুলে করিডরে বেরিয়ে কর্তব্যপরায়ণ কর্মচারীর মতো মুখ নীচু করে বাঁক ঘুরে ওপরে ওঠার সিঁড়ি পেয়ে গেলুম। সিঁড়ি নির্জন। লিফট ছাড়া কেউ চলাফেরা করে না। তার ওপর এত বড় একটা হুজ্জোত। সকলেই মজা দেখতে ছুটছেন। কোনও মানুষ বিপদে পড়লে সভ্য মানুষেরা বড় আনন্দ পান। এইটাই বোধহয় মানুষের ধর্ম। হিন্দুধর্ম।

    পেছনের দরজা দিয়ে রাস্তায় বেরিয়ে এসে বড় অবাক হয়ে গেলুম। আশা চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। কার অপেক্ষায় কে জানে? সামনেই দাঁড়িয়ে আছে পুলিশের প্রিজন ভ্যান। আশা আমাকে দেখতে পেয়েই হন হন করে এগিয়ে এল।

    ‘তোমার অপেক্ষাতেই আমি দাঁড়িয়েছিলুম মানব।’

    ‘তুমি কি করে জানলে আশা আমি পালিয়ে যাচ্ছি?’

    ‘আমি যে দেখলুম তুমি সিঁড়ির দিকে যাচ্ছ ফাইল বগলে।’

    ‘আমি কাপুরুষ আশা। আমি পালিয়ে এসেছি ভয়ে।’

    ‘আর একটাও কথা নয়। চল ওই ট্রামরাস্তার দিকে যাই।’

    ‘তুমি কোথায় যাবে?’

    ‘যে চুলোয় তুমি যাবে, আমিও সেই চুলোয় যাব।’

    ‘আমি হাওড়ায় যাব।’

    ‘আমিও যাব।’

    ‘তোমার অফিস?’

    ‘ছুটি। ক্যাজুয়াল লিভ।’

    কী যে বলতে চায় মেয়েটা। কী যে করতে চায় মেয়েটা? হাওড়ার ট্রামে দুজনে উঠে পড়লাম। তেমন ভিড় নেই। দুজনে পাশাপাশি বসেছি। মনের অবস্থা এতই আচ্ছন্ন মনে হচ্ছে যা কিছু ঘটে চলেছে সবই স্বপ্ন। এত আলো, এত গতি, কোলাহল, কোনোটাই সত্য নয়। সবই মায়া। প্রপঞ্চ। আশাই দুটো টিকিট কাটল!

    ‘কি কাণ্ড বাঁধালে মানব?’

    ‘আমি কেন বাঁধাব আশা। জীবনের যত কাণ্ড সব আগে থেকেই সাজানো থাকে, অদৃশ্য হাত আমাদের ঠেলে দেয় এক অধ্যায় থেকে আর এক অধ্যায়ে। আমার অন্তত সেই ধারণা।’

    ‘ওসব শক্ত কথা আমার মাথায় ঢুকবে না। তোমার ভয় করছে না?’

    ‘কই না তো।’

    ‘তোমার চাকরি যাবে।’

    ‘যায় যাবে। চাকরির স্বাদ আমি বুঝিনি এখনও। এটা গেলে আর একটা জুটবে। তবে আমার দ্বারা চাকরি হবে না। এক জ্যোতিষী অনেকদিন আগে আমাকে বলেছিলেন তুমি চাকরি পাবে তবে চাকর হতে পারবে না। তোমার সে কোয়ালিফিকেশান নেই। কথাটা বোধহয় অক্ষরে অক্ষরে সত্য!’

    ‘তুমি কী বলে বাঘের খাঁচার দরজা খুলতে গেলে?’

    ‘বাঘ? কে বাঘ?’

    ‘ওই তোমাদের ঘাঘু সাহেব।’

    ‘একদিকে একটা অত্যাচারী, স্বেচ্ছাচারী লোক, আর একদিকে আমরা সবাই। কী করবে, কী করতে পারে ওই অসভ্য লোকটা আশা।’

    ‘অনেক কিছুই করতে পারে। ওর হাতে বিশাল একটা যন্ত্র রয়েছে। পুলিশ রয়েছে। ওপর মহল রয়েছে! একটা কলমের খোঁচায় আমাদের যত হাঘরেদের পিষে ফেলতে পারে।’

    ‘তার আগে আজ নিজেই পেশাই হোক। এতদিন কোনও প্রতিবাদের মুখোমুখি হতে হয়নি। তাই সাহস বাড়তে বাড়তে দুঃসাহসী হয়ে উঠেছিলেন ভদ্রলোক! আমার খুব ইচ্ছে ছিল এক হাত লড়ে যাবার। ব্যানার্জি সায়েব জোর করে তাড়িয়ে দিলেন।’

    ‘ভালো করেছেন। তা না হলে এতক্ষণ তুমি লকআপে। আরও ভালো হয়েছে ঘটনাটা ঘটছে একজন রিপোর্টারের সামনে।’

    ‘একেই বলে আশা, ধর্মের কল বাতাসে নড়ে।’

    হাওড়া স্টেশানে নেমে মনে হল এইবার কী হবে! এতক্ষণ তবু কোথাও একটা যাবার ছিল। এইবার কোথায় যাব! আশা বললে, ‘তুমি এই সাতসকালে সত্যি ইত্যিই বাড়ি যাবে নাকি?’ এতক্ষণ খেয়াল করিনি আশা ত বেশ তুমি তুমি করছে। মেয়েরা কত সহজে সরতে সরতে একেবারে গায়ে লেগে যায়।

    ‘কী করব, কোথায় যাব নিজেই জানি না।’

    ‘তাহলে চল বোটানিকসে যাই। মনটা বেশ ভালো হবে।’

    ‘কার মন?’

    ‘তোমার মন, আমার মন। তোমাকে কেমন যেন দিশেহারা মনে হচ্ছে!’

    ‘দিশেহারা বলতে পার তবে মনে তেমন ভয় বা দুঃখ এই মুহূর্তে নেই।’

    ‘চল তা হলে!’

    ‘আমি কিন্তু জীবনে বোটানিকসে যাইনি। কোনদিকে কীভাবে যেতে হয় তাও জানি না।’

    ‘আমি জানি।’

    ‘বোটানিক্যাল গার্ডেনের কাছে বাস থেকে নামতে গিয়ে আশার চটির স্ট্র্যাপ ছিঁড়ে গেল। সে এক মহা সমস্যা। কাছাকাছি কেউ নেই যাকে দিয়ে সারানো যায়। কোনও রকমে পা টেনে টেনে গেট অবদি এল। এই জন্যেই বলে, পথে নারী বিবর্জিতা। নীচু হয়ে বসে একটা ইটের টুকরো দিয়ে অনেকক্ষণ ঠোকাঠুকি করে বললে, ‘নাঃ সস্তার তিন অবস্থা। কতকালের চটি! আর চলে?’

    ‘এখন কী করবে?’

    ‘দূর করে ফেলে দিয়ে শুধু পায়ে ঘুরব।’

    ‘যাঃ তা আবার হয় নাকি?’

    ‘খুব হয়। আমি উত্তরবঙ্গে চা—বাগানের মেয়ে আমাকে তুমি জুতো দেখিও না।’ আশা সত্যিসত্যিই চটি দুপাটি টান মেরে ঝোপে ফেলে দিল। ফরসা ধবধবে নরম নরম পা। পথের কাঁকর কি সহ্য করতে পারবে। ভীষণ অদ্ভুত লাগছে। আশা কেন এল? তার এত মাথা ব্যথা কীসের। আমি কে? কেন আমার সঙ্গে নিজেকে জড়াতে চাইছে? আশা বোধহয় একটু বেশিমাত্রায় রোমান্টিক।

    বিশাল বটগাছের তলায় আমরা দুটি ক্ষুদ্র প্রাণী পাশাপাশি হাঁ করে দাঁড়িয়ে রইলাম কিছুক্ষণ। কি বিরাট! কত প্রাচীন! অসংখ্য ঝুরি নেমেছে সময়ের ধারার মতো চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছি, সময় যেন স্তব্ধ হয়ে আছে। বিশাল এক ঋষি তার জটাজাল নিয়ে সামনে বসে আছেন। বলতে চাইছেন, মানব, তোমার সেই অহঙ্কারী, অসভ্য প্রভুদের এনে এখানে পাশাপাশি দাঁড় করিয়ে দাও, নিজেদের ক্ষুদ্রতাকে একবার চিনে নিক। পৃথিবীতে মানুষের চেয়ে ক্ষুদ্র জীব আর নেই।

    আশা দুহাত দুদিকে ডানার মতো ছড়িয়ে দিয়ে বোঁ বোঁ করে তিন চার পাক ঘুরে নিয়ে আমার বুকে মাথা রেখে বললে, ‘সব বাঁই বাঁই করে ঘুরছে। কি মজা! মনে হচ্ছে ছাত্রজীবন আবার ফিরে এসেছে। কি বল?’

    ‘ঠিক বলেছ। সেই হারিয়ে যাওয়া জীবনটার জন্যে এখন ভারি দুঃখ হয়।’

    ‘ওই তো মজা। যাহা যায়, তাহা যায়। শূন্য এ বুকে পাখি মোর আয় ফিরে আয়, ফিরে আয়।’

    ‘বাঃ তুমি তো ভালো গান গাইতে পার আশা।’

    ‘নাচতেও পারি। দেখবে?’

    ‘থাক আর নাচতে হবে না। পায়ে কাঁটা ফুটবে।’

    ‘কি সবুজ বল তো?’

    সত্যি চারপাশ সবুজে জমজম করছে। বিশাল বিশাল গাছ। শীতের নরম রোদ। অনেক গাছেই নতুন পাতা এসে গেছে। চিরতরুণ প্রকৃতি। গাছ কেমন বছরে বছরে যৌবন ফিরে পায়। মানুষের মতো নয়। মানুষ কেবল বুড়োতেই থাকে। ক্ষইতেই থাকে।

    ঘাসে ঢাকা জমির ওপর একটা ঝোপ ঘেঁষে আমরা বসেছি। কোথাও কিছু নেই। শুধু গাছ আর গাছ। পাখির ডাক। সবুজ রোদ। কাঠবেড়ালির ছোটাছুটি। মাঝে মাঝে মনে হচ্ছে আমি এক লিভিংস্টোন আফ্রিকায় বসে আছি। অযোধ্যাও হতে পারে। বলা যায় না এখনি হয়তো ওই ছায়াছায়া পথ ধরে রাম, লক্ষ্মণ, সীতা হেঁটে আসবেন।

    সামনের দিকে দুটো পা ছড়িয়ে দিয়ে আশা আত্মভোলা বাউলের মতো বসে আছে। কোথা থেকে একটা গাছের ডাল জোগাড় করে সামনে ছিপের মতো ফেলে রেখে আপন মনে মাঝে মাঝে নাচাচ্ছে। ফড়িং উড়ছে কেঁপে কেঁপে। আশার পায়ের গোড়ালি দুটো কি সুন্দর। মোমের মতো। ফাটা নেই, চিড় নেই। হঠাৎ আশা বললে, ‘প্রেম করবে?’

    ‘সে আবার কী?’

    ‘কেন, কোনওদিন করনি? তোমার কোনও বান্ধবী নেই?’

    ‘না, দুজন বন্ধু আছে। তাও আজকাল তেমন আড্ডা হয় না’।

    ‘আমার কোলে মাথা রেখে চিৎ হয়ে শোও।’

    ‘হ্যাঁ আমার খেয়েদেয়ে কাজ নেই তোমার কোলে মাথা রেখে শুই। তোমার কোলটা বালিশ নাকি?’

    ‘তাহলে আমিই শুই।’

    আশা শুয়ে পড়ল। সর্বনাশ? শুধু মেয়ে নয়, সুন্দরী মেয়ে। মাথায় লম্বা লম্বা ফুরফুরে চুল, আমার এত কাছে? প্রথম যেদিন সাইকেল চেপেছিলুম সেদিনও আমি সিটে এইরকম কাঠ হয়ে, সিঁটিয়ে বসেছিলুম। বেশিক্ষণ অবশ্য বসতে হয়নি। খানায় পড়ে গিয়ে বেঁচে গিয়েছিলুম সেদিনের মতো। আশা হাত দিয়ে গলার পেছনদিকটা জড়িয়ে ধরে আমার মুখটাকে ধীরে ধীরে সামনের দিকে নামিয়ে আনতে লাগল। আমার মুখটা যত কাছাকাছি হতে লাগল আশার মুখ ততই স্পষ্ট হয়ে উঠছে। অসম্ভব ফরসা। টানটান মুখের চামড়া। রোদের ভাষায় গোলাপি হয়ে উঠেছে। পাতলা নাক। কুচকুচে কালো, ধনুকের মতো ভুরু। ছোট্ট কপাল, রেশমের মতো চুলে ঢাকা। খয়েরি টিপ। লাল ঠোঁট। মানুষ যেমন কুৎসিত হয়, তেমনি সুন্দরও হয়। এত সুন্দর। ছবির চেয়েও সুন্দর। কোনদিনে কী মুহূর্ত এসে যায়। মরতে মরতে, জেলে যেতে যেতে, পুলিশের ধোলাই খেতে খেতে বেঁচে এসে একবারে নন্দন কাননে। মুখটা অনেক নীচে নেমে এসেছে। আশার মিষ্টি গরম নিশ্বাস নাকে এসে লাগছে। চরাচর ব্যাপ্ত করে চোখের সামনে আর কিছুই নেই কেবল পূর্ণিমার চাঁদের মতো একটি মুখ, টিপ, নাক, চোখ, ভুরু, ঠোঁট, সারিসারি মুক্ত।

    কী হল? জীবনের ঘড়ি কিছুক্ষণ বন্ধ হয়ে গিয়েছিল মনে হয়। আবার শুনতে পাচ্ছি পাখির ডাক, গাছের পাতায় বাতাসের শব্দ। সেই ভাবে বলতে ইচ্ছে করল, মন, চেয়ে দ্যাখ এই হল নারী। মানুষের দাসত্বের আর একটি শৃঙ্খল। এতে কি আছে! যা প্রকৃতিতে নেই, অসীমে নেই, জ্ঞানভাণ্ডারে নেই, ঈশ্বর চিন্তায় নেই।

    আশার চোখ দিয়ে আবার জল বেরোতে শুরু করেছে। চোখের কোনো দোষ নাকি? প্রতিমার মতো ঘাম তেল মাখা মুখের গাল বেয়ে কাচের টুকরোর মতো জলের দানা নেমে এসেছে। এখন এই অবস্থায় কেউ যদি আমাকে দেখে ফেলে আমার পিতাঠাকুরের কাছে হাজির হন, বিভূতিবাবু দেখে এলুম, সে এক দৃশ্য মশাই! সিনেমাকে হার মানায়।

    ‘আশা, আবার তোমার চোখে জল!’

    ‘এ দুঃখের নয়, সুখের। আনন্দে আমার চোখে জল এসে যায়, চাপতে পারি না।’

    ‘কীসের আনন্দ!’

    ‘ভালো কিছু পাবার আনন্দ, কাছাকাছি আসার আনন্দ।’

    ‘ভালো কিছু মানে?’

    আশা উঠে বসল। ‘জান, আমরা এখন পৃথিবীর এমন এক অংশে আছি, যেখানে নোংরামি নেই, শত্রুতা নেই, লোভ নেই, ভয় নেই। চারপাশ রোদে তাপে লেপের গরম, সবুজ গাছের বিছানা পাখির ডাক, সেই পাখি যার পায়খানাও মানুষের মতো দুর্গন্ধময় নয়। সবার ওপরে তুমি।’

    ‘আমি? আমি দেবতা নাকি?’

    ‘তবে শোন। তোমাকে প্রথম যেদিন দেখলুম সেদিন মনে হল, একটু অন্যরকম। চোখ, মুখ, নাক। মনে হল ভালো ভাবনা এখনও নষ্ট হয়ে যায়নি। আশেপাশে যারা ঘোরে তাদের মতো নয়। ছেলেদের যেমন মেয়েদের ভালো লাগে, মেয়েদেরও তেমনি ছেলেদের ভালো লাগে। তা জান কি!’

    ‘ও রহস্যের আমি কিছুই জানি না। অন্য রহস্যে এতই মশগুল।’

    ‘তুমি কখনও মেয়েদের পেছনে ছিপ নিয়ে ঘোরনি!’

    ‘না, নেভার।’

    ‘তাই তুমি পবিত্র আছ। মন্দিরের মতো পবিত্র।’

    ‘এবার বলবে, আমি কথা বললে, ‘তুমি আরতির কাঁসরঘণ্টা শুনতে পাও।’

    ‘তুমি জান না মানব পৃথিবীটা কী ভীষণ নোংরা জায়গা! আর আমি ভীষণ একা। আমার কেউ নেই! কেউ নেই। তোমাকে আর কেউ ধরার আগে আমি ধরে ফেলেছি।’

    ‘ধরে ফেলে কী করবে? খাঁচায় ভরবে?’

    ‘সুখ দোব।’

    ‘মানুষ দিতে পারে না।’

    ‘ভালোবাসা।’

    ‘বড় সাময়িক। শিশিরের মতো।’

    ‘আমরা দুজনে সরে যাব দূরে দূরে। সমস্ত নোংরামি থেকে নীচতা থেকে বহু দূরে।’

    ‘পারা যায় না। সবটাই যে পাঁক।’

    ‘তা হলে পদ্ম।’

    সাধনা সাপেক্ষ।’

    ‘তা হলে?’

    ‘জীবন হল মুহূর্ত পুঁতির মালা। লাল, নীল, সবুজ, কালো। এই মুহূর্ত ভেসে চলে যাবে। আবার হয়তো আসবে কোনোদিন। আবার ভেসে যাবে। কোনো কিছুই ধরে রাখা যায় না আশা। জীবন বড় বিচিত্র। পাপ আসে, পুণ্য আসে। পুড়তে পুড়তে, দগ্ধ হতে হতে একদিন কয়লা হয়ে যায়। কালো কয়লা। সমস্ত রং যে জিনিস শুষে নেয় তার রংই কালো।’

    ‘তোমার কাছে ক’টাকা আছে?’

    ‘দাঁড়াও দেখি।’

    ‘আমিও দেখি।’

    ‘আমার পাঁচ—’

    ‘আমার দশ। দশ আর পাঁচ পনেরো। ওঃ অনেক টাকা। চল এক কেজি চীনেবাদাম কিনে নৌকোয় বসে খেতে খেতে চাঁদপাল ঘাটে যাই।’

    বোট্যানিকস থেকে চাঁদপাল। সূর্য পশ্চিমে সরে এসেছে। দাঁড়ে জলের কুচুরকুচুর আওয়াজ। বিশাল গাছ নিয়ে বনানী পিছলে পিছনে সরে যাচ্ছে। একটু আগে আমরা ওখানে ছিলাম। জীবন ছেঁড়া কিছু মুহূর্ত ওখানে পড়ে রইল ফেলে আসা রুমালের মতো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসঞ্জীবের সেরা ১০১ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article মিত্তির বাড়ি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }