Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হরি ঘোষের গোয়াল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প124 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হরি ঘোষের গোয়াল – ৫

    ৫

    সকালের কাগজে ফলাও করে খবরটা বেরিয়েছে। হেডলাইন নিউজ হল, কৃষ্ণনগর অচল। কারফিউ, গুলি। সরকারি অফিস ভাঙচুর। মানুষ খাদ্য চায়। কাজ চায়। ভেতরের পাতায় খবর, আমলা ঘেরাও। দপ্তর দুর্নীতির পীঠস্থান। স্লেভ ট্রেড এখনও বেঁচে আছে। মদ্য ও মহিলাসক্ত তালেবরের মুখোশ খুলে গেছে। ঊর্ধ্বতন মহলে তদন্তের দাবি। কোনো কর্মচারী পুলিশের হাতে গ্রেফতার বা সাসপেন্ড হননি।

    যাক কান্তদাকে তা হলে অ্যারেস্ট করেনি। আর একটা আশার খবর সীমান্তে দুই দেশের যুদ্ধ বন্ধ। প্রধানমন্ত্রী যাবেন তাসখন্দে যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে সই করতে। সমস্ত কাগজটা উলটে পালটে মনে হল, আমরা বারুদে বসে আছি। একটু স্ফুলিঙ্গেই বিরাট বিস্ফোরণের সম্ভাবনা। বিরোধীরা বাংলা বন্ধের ডাক দিয়েছেন।

    অক্ষয়কাকা চা খেতে খেতে বললেন, ‘যৌবনটা থাকলে কোমর বেঁধে ঝাঁপিয়ে পড়তুম।’

    বাবা হুঁ হুঁ করে হাসলেন, ‘যৌবন থাকলে কিছুই করতে না, সংসারেই ন্যাতাজোবড়া হয়ে পড়ে দাসত্ব করতে আর নাকে কাঁদতে। নিরাপদ দূরত্বে বসে জীবন বিপন্ন করে অন্যের পেড়ে এনে দেওয়া ফলে ভাগ বসাতে চাইতে। আমরা যে মধ্যবিত্ত, অক্ষয়। আমাদের সব কিছুই শৌখিন। একটু বক্তৃতা, একটু অনশন, দু—চারটে প্রবন্ধ, বাছাবাছা শব্দের এডিটোরিয়াল, তাতে কি আর সেচ হয়? তাতে কি উৎপাদন বাড়ে? তাতে কি বেকারের চাকরি হয়! চেরীকাঠের ছড়ি দুলিয়ে, পাঞ্জাবি আর পামশু পরে বাঘ শিকার। যা এতকাল হয়ে এসেছে। অন্য জিনিস চাই অক্ষয়, অন্য জিনিস চাই। এন্টায়ারলি ডিফারেন্ট ব্রিড অফ মেন। আমাদের রক্তে সে বীজ নেই।’

    ‘আসছে, আসছে, সেই সব মানুষ আসছে। পবনপুত।’

    ‘হ্যাঁ আসছে। তারাই আসছে যারা মশাল জ্বেলে দাবানল বলে চিৎকার করে। নাও চল, আপাতত যা করা যায় তাই করি চল। বাত আর পরিপাক যন্ত্রের সেবা।’

    অক্ষয়কাকা বেরোতে বেরোতে বললেন, ‘আই অ্যাম ভেরি মাচ অপটিমিস্টিক। চেঞ্জ একটা আসছে। চেঞ্জ ফর দি বেটার।’

    সকালের অফিস যেমন শান্ত হওয়া উচিত তার চেয়েও যেন বেশি শান্ত। ফাঁকা লবি লিফটের লাইন আঁকাবাঁকা সরীসৃপের নয়। লিফট আসছে। খুস করে দরজা খুলে গোটা কতক লোক ভরে নিয়ে হাওয়ায় ভেসে ওপরে উঠে যাচ্ছে। দারোয়ান দেউড়িতে বসে খইনি ডলছে। বাইরে পাথর বাঁধানো রাস্তায় ট্রাম চলছে ঝড়ঝড়, খটাংখটাং করে। দিনের গর্ভে আজকের জন্যে কি মণিমুক্ত ছড়ান আছে কে জানে! ডুব না দিলে জানা যাবে না।

    আজ আর হল ঘরে নয়, সোজা আমার ঘরে। চাকরিটা আছে না গেছে। ব্যানার্জি সাহেব বললেন, ‘এসো মানব, বোসো!’

    বেশ বন্ধু বন্ধু ভাব। ক্ষমতার ঘূর্ণায়মান চেয়ারে বসে আছেন বলে মনেই হচ্ছে না। শান্ত, স্নিগ্ধ, সাত্ত্বিক।

    ‘এখনও আছে না গেছে স্যার।’

    ‘আছে। তবে তোমার আমার দুজনেরই যাবে। যে সম্ভাবনার জন্যে প্রস্তুত হচ্ছিলাম, তুমি সেটাকেই অনুঘটকের মতো তাড়াতাড়ি ঘটিয়ে দিলে। একটি পরিবর্তন আসছে মানব। সামনেই নির্বাচন। দুর্নীতি প্রশাসনকে ফালাফালা করে ফেলেছে। ক্ষমতাপুষ্ট কিছু মানুষ বাড়তে বাড়তে ফ্রাঙ্কেস্টাইন হয়ে উঠেছে। এই ইমারত এবার ভেঙে পড়বে।’

    ‘এতদিনের স্ট্রাকচার?’

    ‘যত বড়, যত দিনেরই স্ট্রাকচার হোক, তলা থেকে পিলার সরে গেলে খাড়া থাকতে পারে কি? জানবে বুলেটের শাসন বেশিদিন চলতে পারে না। কোল্যাপসিং স্টেজে এসে গেছে।’

    ‘তা হলে?’

    ‘তা হলে ভয় নয়, সাহস চাই। এসো যাবার আগে আমরাও আর একটু নাড়া দিয়ে যাই। আমার কাছে শ’ দেড়েকের মতো কেস রয়েছে। সব ক’টাই চোর। সব ক’টাই মাথাঅলা। ওপরতলার টিকি ধরে আছে। লাখ লাখ টাকার চোরা কারবার। সব ক’টাকে আমি ভিজিলেনসে পাঠাব। কিছু হোক না হোক ঝুলে থাক কিছুদিন। ততদিন জমানা পালটে যাবে। খুঁটির জোরে ম্যাড়া লড়ে। খুঁটি সরে গেলে জোর কমে যাবে। এর সঙ্গে যে ক’জন ঘুষখোর কর্মচারী জড়িয়ে আছে তারাও একটু নড়বড়ে হয়ে যাক।’

    ‘ভিজিলেনস নাড়াচাড়া করবে!’

    ‘একটু নাড়াচাড়া করবে। একটু তাপ সৃষ্টি করবে। হ্যাঁ এই কাজে তুমি আর কল্যাণ আমাকে একটু সাহায্য করবে। যাবার আগে একটু কামড় দিয়ে যাওয়া ভালো, কি বল?’

    ‘হ্যাঁ স্যার।’

    ‘তবে লেগে পড়। ভয় করছে?’

    ‘না স্যার। কীসের ভয়?’

    ‘কীসের ভয় জানতে পারলে ভয়টাকে জয় করে মানুষ অভী হতে পারত। অজানাটাই ভয় হয়ে ওঠে।’

    সারাটা দিন আমাদের আর মাথা তোলার অবকাশ মিলল না। কল্যাণদার বাইরেটা দেখে ভুল ধারণা করেছিলাম। সামান্য অহংকার আছে হয়তো, সে হল সৎ—এর অহংকার। কাজ জানার অহংকার। সারাদিন নারাণদাও খুব ব্যস্ত রইলেন। পাতার পর পাতা নোট টাইপ। চোরেদের চৌর্য কর্ম আবিষ্কারের ফিরিস্তি তৈরি।

    শেষ বেলার অ্যাডমিনিসট্রেটিভ অফিসার এসে ব্যানার্জি সায়েবকে বললেন, ‘স্যার, আপনার ঘরের খানিকটা অংশ আপনাকে ছেড়ে দিতে হবে।’

    ‘কেন?’

    ‘সেনগুপ্ত সায়েবের ঘরটাকে একটু বড় করার হুকুম এসেছে ওপর মহল থেকে। ওঁর একটা কনফারেন্স রুমের ভীষণ প্রয়োজন।’

    ‘বেশ তো, ওঁর ঘরটাকে আপনারা ওদিকে বাড়ান।’

    ‘দ্যাট আই ক্যান নট। আমার ওপর হুকুম হয়েছে, আপনার চেম্বারের হাফ অ্যানেকস করার। আজ্ঞে কর্তার ইচ্ছের কর্ম। আমরা নিমিত্তি মাত্র।’

    নিমিত্তের—ভাগী ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। ব্যানার্জি সায়েব বললেন, ‘কি বুঝলে?’

    ‘দাবার চাল পড়ল।’

    ‘এ চালে তো হারতেই হবে।’

    ‘আপনার কোনও চাল জানা নেই!’

    ‘হ্যাঁ আছে। যে মহল থেকে এই হুকুম এসেছে তারও ওপর মহল থেকে একটা হুকুম এনে এটাকে নাকচ করা। সে মহলে আমার অ্যাকসেস আছে। একে বলে লবি। তবে এখনই আমি সে মহলে যাব না। আমি গড়াতে দেব। লেট ইট রোল ডাউন। আরও কিছু লোক জড়িয়ে পড়ুক। জালে জড়াক। তারপর ধরে টান মারব।’

    ‘যাঁর জন্যে ঘর বড় করা হচ্ছে তিনি কে? তিনি কত বড়?’

    ‘বড়, ছোটর ব্যাপার নয়। ব্যাপারটা হল অ্যালাইনমেন্টের। রাজনীতি ছায়া ফেলেছে প্রশাসনে। গোটা চারপাঁচ দল আছে মানব এই অফিসে। এ দল লেগেছে ও দলের পেছনে, ও দল লেগে আছে সে দলের পেছনে। মানুষ হল খুঁটি। যে শক্তি যখন যেভাবে চালায়, সেইভাবে চলে। ওপাশেরটাকে তুলে এপাশে চালা হয়েছে। দেখা যাক চালটা কত শক্তিশালী।’

    ব্যানার্জি সায়েব গুম হয়ে কিছুক্ষণ বসে রইলেন। পড়ন্ত আলোয় মনে হল একক যোদ্ধা। হাসি পায়, কীসের যে যুদ্ধ? আসল যুদ্ধ পড়ে রইল অর্থনীতির সীমান্তে। এঁরা শক্তিক্ষয় করে চলেছেন নিজেদের সঙ্গে কোঁদলে। পিঠের গায়ের গোঁদো পিঁফড়ে ছাড়াতে ছাড়াতেই জীবন শেষ হয়ে যাবে, খাওয়া আর হবে না।

    যে সব ফাইল ভিজিলেনসে যাবে তার একটা লট প্রস্তুত। খামে ভরে সিল করা হয়েছে। কাল সকালেই চলে যাবে। হরেনদা কয়েকবার ঘরে ঢোকার চেষ্টা করে তাড়া খেয়ে পালিয়ে গেছেন। তাঁর স্বার্থই সবচেয়ে বেশি। কত দিক থেকে কত টাকা খেয়ে বসে আছেন। হরেন ব্রাদার্সের বড় অসুবিধা হয়ে গেল।

    দিন তখন শেষ হতে চলেছে। কৃষকরা হয়তো ফসলের খেত থেকে লাঙল কাঁধে ফিরছে। আর যারা বসে আছেন বহু দূরে তাদের ভাগ্য নিয়ে, তারা ছিনিমিনি খেলছেন ফাইলে, কাগজে। সাঁঝের বাদুড়ের মতো ঘরে এসে ঢুকলেন হরিদাস চট্টোপাধ্যায়। মানসিক অবস্থা যাই থাক ব্যানার্জি সায়েব যথোচিত সম্মানেই তাঁকে বসতে বললেন।

    নারাণদার টেবিলে এখনও যা চিঠির তাগাড় জমে আছে তুলতে রাত আটটা বাজবে। কল্যাণদা একটা লবঙ্গ মুখে ফেলে বললেন, ‘আমাদের এত সাহস কিসে বলত?’

    ‘কি জানি কল্যাণদা।’

    ‘আমরা চারটে ব্যাচেলার ভাগ্যক্রমে এক জায়গায় জড়ো হয়েছি। সংসার থাকলে এত সাহস হত না। স্ত্রী, পুত্র, পরিবারের চিন্তায় কুকুরের মতো প্রভুদের পায়ের তলায় ন্যাজ নাড়তে হত।’

    টাইপরাইটারে নারাণদার হাত চলছে ঝড়ের গতিতে। সেই অবস্থাতেই বললেন, ‘মানবকে তাই আমি শেখাই ডাল রোটি খাও হরিকে গুণ গাও। সব ছেড়ে ঈশ্বরকে আঁকড়ে ধর, পৃথিবীর সব বাঁকা জিনিস সোজা হয়ে যাবে।’

    নারাণদার মাথার ওপর লাল আলোটা লাফিয়ে লাফিয়ে বারকতক জ্বলে উঠল। নারাণদা কানে পেনসিল গুঁজে হাতে খাতা নিয়ে দৌড়লেন। পরক্ষণেই ফিরে এসে বললেন, ‘মানব, তোমার ডাক পড়েছে।’

    ঘরে ঢুকতেই হরিদাসবাবু বললেন, ‘মানব, তোমাকে নিয়ে আমি একটু বেরোব।’

    ব্যানার্জি সায়েবের দিকে তাকালুম। এ আবার কি? হঠাৎ আমাকে নিয়ে কোথায় যাবার ইচ্ছে। মেশিনে ফেলে পেষাই করবেন নাকি। ব্যানার্জি সায়েব বললেন, ‘যাও। যা রইল কাল হবে।’

    হু হু করে ট্যাকসি ছুটেছে চৌরঙ্গী ধরে পার্ক স্ট্রিটের দিকে। কোথায় চলেছি জানি না। বসে আছি পেছনের আসনে। হরিদাসবাবুর গায়ে পাটভাঙা খদ্দরের পাঞ্জাবি। মোলায়েম, লালচে সাদা। ধুতিটাও মনে হয় খদ্দরের। এ যেন খেলোয়াড়দের জার্সি। এ টিম অফ ব্র্যান্ডেড পলিটিসিয়ানস। মুখে মোটা চুরুট। পার্কস্ট্রিটের কাছে এসে হরিদাসবাবু বললেন, ‘সিধা চলিয়ে সর্দারজি।’ গাড়ি সোজা চলতে লাগল।’

    ‘আমরা কোথায় চলেছি?’ প্রশ্ন না করে পারলুম না।

    ‘নার্সিং হোমে।’

    ‘নার্সিং হোমে কেন?’

    ‘তোমাকে সিট অফ পাওয়ারের কাছাকাছি আনতে চাই মানব। তুমি বিভূতির ছেলে। তোমার প্রতি আমার একটা কর্তব্য আছে। শুধু এডুকেশন আর এফিসিয়েনসিতে এ বাজারে মানুষের ভাগ্য ফেরে না চিপ আন্দোলন, ফিউটাইল স্লোগান শাউটিং—এর কোনো দাম নেই, পলিটিক্যাল কাউ—এর হিউম্যান ফডার হলে, ফডারের ভাগ্য ফেরে না, গোরুর পেট ভরে। ক্ষমতার কাছাকাছি আসতে হয়। প্রিয়পাত্র হতে হয়। হাত পাতবে রাজার কাছে, বেগারের কাছে নয়।’

    ‘সিট অফ পাওয়ার কি এখন নার্সিং হোমে? পাওয়ার কি অসুস্থ?

    ‘আ, মাই বয়। ঠিক বাপের মতো বাঁকা বাঁকা স্যাটায়রিক্যাল কথা। ডোন্ট ট্রাই টু ফলো ইওর ফাদার। হি ইজ এ ফেলিওর। সে যদি সূর্য বন্দনা করে আসত তা হলে তোমার এ অবস্থা হত না আজ। এই পেটি থার্ড ক্লাস চাকরি। তবে হ্যাঁ ইউ আর লাকি। তুমি সাম হাও চ্যানেলে পড়ে গেছে। আমি তোমাকে ধীরে ধীরে ওপর দিকে তুলব?’

    ‘কেন?’

    ‘ইডিয়েট। তোমার মাথায় কী আছে? তুমি আমার লোক বলে তোমাকে তুলব। আমরা পলিটিসিয়ানরা হলুম অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের বাইরের লোক। অথচ পলিসি নড়বে অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের ঘাড়ে চেপে। সেই যন্ত্রটাকে নিজেদের আয়ত্তে রাখতে হলে সর্বত্র নিজেদের লোক বসিয়ে রাখতে হবে। উই নিড হেঞ্চ মেন। আমি বলব, তুমি করবে? কী করবে? আমি যা বলব তাই করবে। পুরস্কার? উন্নতি, ক্রমোন্নতি। উঠতে উঠতে তুমি…বাঁয়া সর্দারজি, বাঁয়া ঘুমিয়ে।’

    ট্যাকসি সার্কুলার রোডে ঢুকে গেল। হরিদাসবাবু বললেন, ‘বি প্র্যাকটিক্যাল। ডোন্ট বি এন আইডিওলজিক্যাল ফুল।’

    ‘কিন্তু নার্সিং হোমে কী আছে?’

    ‘নার্সিং হোমে তোমার কিছু নেই। আমার কাছে। আমি যাঁর সিএ তাঁর মেয়ে এই নার্সিং হোমে। ডেলিভারি কেস। তোমাকে সঙ্গে এনেছি ফর ব্রেন ওয়াশিং। ডু ইউ নো, তোমার নামে মন্ত্রীর কাছে কমপ্লেন গেছে। তুমি একটা হট মিলিট্যান্ট, ড্যামেজিং দি অ্যাডমিনিস্ট্রেশন। এর পরিণাম কী হতে পারে তুমি জান? শুধু চাকরিই যাবে না, তুমি জেলে যাবে, অ্যান্ড দ্যাটস এ হরিবল প্লেস। রোককে, সর্দারজি।’

    গাড়ি থেমে পড়ল। সায়েবি কায়দার বাগানবাড়ি। সাদা ধবধবে রং। ভাড়া মিটিয়ে হরিদাসবাবু আমাকে নিয়ে নেমে পড়লেন। খুব কায়দার নার্সিং হোম। উর্দি পরা দারোয়ান লাফিয়ে উঠে সেলাম করল। চারদিক পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন। কোথাও কোনো শব্দ নেই। জানা ছিল না বড়লোকদের ছেলে মেয়ে এইরকম মনোরম পরিবেশে জন্মায়। কেন তারা ঠান্ডা ঘরে বসে দেশ শাসন করবে না! গ্রামের চাষা সিংহাসনে বসবে। মামার বাড়ি!

    নীচের তলায় কী আছে বোঝা গেল না। পাশ দিয়ে সিঁড়ি উঠে গেছে দোতলায়। দোতলার বারান্দায় গোটাকতক ঝকঝকে বসার জায়গা। হরিদাসবাবু বললেন, ‘তুমি এইখানে বোসো। আমি আসছি।’ সামনের দিকে চলে গেলেন। সারি সারি ঘর। প্রতিটি ঘরের বাইরে আলোর অক্ষরে সংখ্যা লেখা। সাদা ধবধবে পোশাকের নার্স মাঝে মাঝে আসা যাওয়া করছেন। কখনও হাতে ট্রে। কারও হাতে হটওয়াটার ব্যাগ। এনামেলের গামলায় গরম জল। জাফরি ঘেরা বারান্দা। কি একটা লতানে গাছ ফুলে ভরে ওপরে উঠে গেছে। চুপ করে বসে আছি। কতরকমের ফ্যাসাদে যে মানুষ পড়তে পারে। জীবনে আনন্দের অংশের চেয়ে নিরানন্দের অংশই বেশি। পৃথিবীর তিন ভাগ জল এক ভাগ স্থলের মতো।

    স্বাস্থ্যবান, শ্যামবর্ণ একজন নার্স এসে মিষ্টি গলায় জিজ্ঞেস করলেন, ‘কার জন্যে বসে আছেন?’ রং ময়লা হলেও মুখশ্রী, চেহারা দুটোই চোখে পড়ার মতো।

    ‘আমি হরিদাস চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে এসেছি। আমাকে বসিয়ে ভেতরে গেছেন।’

    কি জানি বাবা, বসে থাকাটা অপরাধ কিনা! যাঁরা আসছেন, যাঁরা যাচ্ছেন, তাঁদের হাবভাব, চালচলন দেখলে মনে হয় সব ভিন্ন জগতের মানুষ।

    ‘ও হরিদাসদা এসেছেন?’

    ভদ্রমহিলা ডগমগ হয়ে চলে গেছেন। হরিদাসবাবুর কত খাতির। পৃথিবীতে বাঁচতে হলে এইভাবেই বাঁচা উচিত। দাপটে। কার কাছে কীসের দাপট! দেশ তো বিশাল! একদল লেনেঅলার কাছে, দেনেঅলার দাপট। কি বস্তাপচা কথা, স্বদেশে পূজ্যতে রাজা বিদ্বান সর্বত্র পূজ্যতে। ঠিকই, সাধাসিধে, হাবাগোবা মানুষের দিন ফুরিয়েছে। নতুন ক্ষমতা, নতুন বিত্ত প্রতিপত্তি জন্মেছে। উডুক্কু মানুষের সংখ্যা বেড়েছে। স্বদেশের সবটাই শহরে এসে জড়ো হয়েছে, ক্ষমতার পাদপ্রদীপের সামনে। ফোকাস পড়ছে, ফোকাস।

    সেই ভদ্রমহিলা এক কাপ চা এনে সামনে ধরলেন, ‘এই নিন।’

    ‘চা, আমি চা।’

    ‘হ্যাঁ, আপনি চা। খেয়ে নিন।’ মহিলা হাসতে হাসতে অদৃশ্য হলেন।

    নার্সিং হোমের চা। যেমন ফ্লেভার, তেমনি লিকার। কাপের কি বাহার!

    হরিদাসবাবু আসছেন। সঙ্গে ফুট ছয়েক লম্বা টুসটুসে এক যুবক। পেছনে আসছেন সেই নার্স মহিলা। পোশাক পালটে ফেলেছেন। হালকা রঙের গাড়ি, ব্লাউজ। মাথায় সেই টুপিটাও নেই। এখন একেবারে ঘরোয়া চেহারা।

    তিনজনের সেই দল আমার সামনে এসে থমকে গেল। ছ’ফুট যুবক হরিদাসবাবুকে বললেন, ‘বাবাকে বলবেন, আমি কালকের মর্নিং ফ্লাইটেই চলে যাচ্ছি। সুষমারা তো এখন ভালোই আছে। আমি অফ দি মানথে ফিরব।’

    ‘তুমি কি জুরিখে যাচ্ছ এবার?’

    ‘হ্যাঁ ইচ্ছে আছে।’

    ‘তা হলে মনে করে ইঞ্জেকশনটা এনো।’

    ‘হ্যাঁ আনবে, তবে কাকাবাবু আমার মনে হয় অপারেশন করিয়ে নেওয়াই ভালো।’

    ‘দেখিনা কি হয়। ওষুধে যদি হয়ে যায় সার্জারিতে আর যাব না।’

    হরিদাসবাবু আমার দিকে তাকিয়ে বললেন, ‘এসো।’

    সিঁড়ি দিয়ে আগে আগে নামছেন সেই যুবক। পেছনে হরিদাসবাবু। তার পেছনে সেই ভদ্রমহিলা, সবার শেষে মানব মুখার্জি। একজন মিসফিট। মহিলা নামতে নামতে একটু থেমে পড়ে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আপনার নাম?’

    ‘মানব মুখার্জি!’

    ‘আমার নাম নির্মলা। আপনি কী করেন?’

    ‘আমি ওঁদের দপ্তরে কাজ করি।’

    ‘উনি কে হন?’

    ‘আমার বাবার বন্ধু।’

    ‘উনিই চাকরি করে দিয়েছেন?’

    ‘না না। এমনি ইন্টারভিউ দিয়ে পেয়েছি।’

    ‘দেখুন না আমার বড় ভাইটার চাকরির জন্যে হরিদাসদাকে কত করে বলছি। আপনি একটু বলবেন?’ কথা বলতে বলতে দুজনেই পাশাপাশি নামছি। মহিলা কেমন যেন মরিয়া হয়ে উঠেছেন। উঃ বাঁচতে হবে বাঁচতে। একার রোজগারে বোধহয় সংসার চলে না। যেমন করেই হোক ভাইয়ের চাকরি হওয়া চাই। তা না হলে এইভাবে একজন অপরিচিতকে কেউ চাকরির কথা বলে। সিঁড়ির শেষধাপে একটা আলোআঁধারি তৈরি হয়েছে। মহিলা হাত বাড়িয়ে আমার হাতটা খপ করে চেপে ধরে বললেন, ‘সাবধান। সারা গায়ে কেমন যেন ওষুধ ওষুধ গন্ধ হয়ে গেল। লাইজলের গন্ধ। পৃথিবীতে যাঁরা মানুষের সন্তান আনেন হাতে করে তাঁদের হাতে বোধহয় এইরকম গন্ধই থাকে। আতরের নয়, গোলাপের নয়। কান্নার শব্দে, ওষুধের গন্ধে কে এলে হে তুমি? মন্ত্রী, মন্ত্রী সি—এ, আমলা, গোমস্তা, ঝাড়ুদার, বিরোধী দলের নেতা, ঘুষখোর দালাল, সাধু সন্ত? কে এলে?

    ছোট্ট একটা বিলিতি গাড়ি চেপে মন্ত্রীর জামাই চলে গেলেন। হরিদাসবাবু খুব বাবাজি, বাবাজি করে বিদায় জানালেন। রাস্তা ফাঁকা। পেছনের লাল আলো দৃষ্টি পথের বাইরে যেতেই আমাদের চোখে পড়ল।

    ‘হ্যাঁ এবার চল।’ হরিদাসবাবু নির্মলার কাঁধে হাত রাখলেন। পাঞ্জাবির ফুলোফুলো হাতায় হাওয়ায় ঝাপটায় মহিলার গায়ের ওষুধ ওষুধ গন্ধ আর আর একবার ঘুলিয়ে উঠল। দুজনেই উচ্চতায় সমান। বেশ মানিয়েছে কিন্তু। দূর থেকে দেখলে যে কেউ মনে করতে পারেন স্বামী—স্ত্রী। অন্ধকার অন্ধকার রাস্তা। দুদিক থেকেই আলো ছুটে ছুটে আসছে হারিয়ে যাচ্ছে। আলোর লাইন টানাটানি চলছে। হরিদাসবাবু হাত তুললেন, একটা ট্যাকসি থেমে পড়ল।

    ‘পার্ক স্ট্রিট।’

    গাড়ি চলতে শুরু করল। পেছনের আসনে আমরা এখন তিনজন। নির্মলা মাঝখানে। সেই হাসপাতাল, হাসপাতাল গন্ধটা কিছুতেই যেতে চাইছে না।

    ‘আমরা এখন খাব।’ হরিদাসবাবু নড়েচড়ে বসলেন।

    নির্মলা বললেন, ‘আমার দেরি হয়ে যাবে!’

    ‘দেরি? তুমি একটা যুবতি মেয়ে। রাত ত সবে শুরু হল। অ্যাঁ কি বল? রাত ত সবে শুরু হল।’

    হরিদাসবাবু কাঁধ দিয়ে নির্মলাকে ধাক্কা মারলেন। সেই ধাক্কার মাংসল ঢেউ আমার দিকে চলে এল। অন্ধকার রাত। অন্ধকার গাড়ি। ড্যাশবোর্ডের আলো। পেছনের আসনে তিনটে মানুষের শরীর প্রায় একাকার।

    হরিদাসবাবু বললেন, ‘ভয় নেই তোমাকে আমি পৌঁছে দিয়ে আসব। হ্যাঁ তোমার আবার ভয় কি? নাইট ডিউটি করো না?’

    নির্মলার উড়ো চুল আমার গালের বাঁপাশে খেলা করছে। ঠ্যালা খেয়ে সেই যে আমার দিকে সরে এসেছে আর সরে বসার চেষ্টা করেনি। ডানদিকের দরজার সঙ্গে পিষে গেছি। এ ত আশা নয় নির্মলা। কেমন যেন অপবিত্র, অপবিত্র লাগছে। হরিদাসবাবু কি এই সবেও অভ্যস্ত।

    পার্ক স্ট্রিটের আলো ঝলমলে রেস্তোরাঁর সামনে গাড়ি থামল। জীবনে এসব জায়গায় আসিনি। কৌতূহল ছিল, সাহস আর সামর্থ্য ছিল না। ভেতরটা অন্ধকার অন্ধকার। নরম সুরে বিলিতি বাজনা বাজছে। একদিকের দেয়ালটা অ্যাকোয়ারিয়াম। ঝাঁঝি, পাথর, বগবগ করে ঠেলে ওঠা বুদ্বুদের মধ্যে নানা বর্ণের মাছ খেলে বেড়াচ্ছে। এক একটা মাছের চেহারা মতলববাজের মতো, চালচলন সন্দেহজনক, আততায়ীর মতো।

    রাজার মতো পোশাক পরা এক ভদ্রলোক হরিদাসবাবুকে দেখতে পেয়ে ছায়াছায়া, সংগীতমুখর গর্ভ গৃহ থেকে ছুটে এলেন। হাতে স্টেনোগ্রাফারদের মতো ছোট একটা খাতা পেনসিল।

    ‘আসুন স্যার। আসুন স্যার।’

    সর্বত্রই স্যার। স্যারের সংখ্যা আর গতিবিধি এত বেড়েছে সাধারণ মানুষ দেখছি লোপাট হয়ে যাবে। কোণের দিকের সবচেয়ে ভালো টেবিলে নিরিবিলিতে আমাদের বসানো হল। পাশেই সেই মৎস্যাধার বুড়বুড় করছে।

    ‘কী দিয়ে শুরু করবেন স্যার?’

    বিয়ার দিয়ে করা যাক।’

    সর্বনাশ বিয়ার! ‘আমি ওসব খাই না।’

    ‘ও হ্যাঁ, তোমরা দুজনে ত ওসব খাবে না। আচ্ছা ওয়েটার তুমি ওদের দুজনের জন্যে খুব ভালো করে দুটো জনকলিনস তৈরি করে দাও!’

    ‘ঠিক আছে স্যার।’

    জনকলিনস আবার কী জিনিস! ‘জনকলিনস জিনিসটি কী?’

    ‘প্লেন অ্যান্ড সিম্পল সরবত। লেবুর জল। বিলিতি নিম্বুপানি।’

    নির্মলা মাঝখানে, ওপাশে হরিদাসবাবু এপাশে আমি। সামনে আর একটা বড় বসার জায়গা। তবু আমরা তিনজনে ঠাসাঠাসি। উনি জমিয়ে বসতে চান। খাওয়াদাওয়ার ব্যাপারটা নাকি নিবিড় সান্নিধ্যের ব্যাপার। ক্রমশই আমার কৌতূহল বাড়ছে। লোকটা আসলে কেমন। পিতৃবন্ধু, প্রবীণ ক্ষমতাশালী সবই ঠিক কিন্তু আর একটা দিক! সেদিকটা কি চাঁদের উলটো পিঠ? দেখাই যাক কোথাকার জল কোথায় গড়ায়!

    বিরাট একটা পেতলের মগে হরিদাসবাবুর বিয়ার এল। গাঁজলা উঠছে। প্লেটে চানাচুর, আদার টুকরো। আমাদের দুজনের সামনে নামল দুটো লম্বা গেলাস। বরফ শীতল। কাচের গায়ে শিশির জমেছে। চোখে কালো রিংঅলা পেটমোটা সেই মাছটা সন্দেহের চোখে আমাদের দেখছে।

    নির্মলা সরবতে চুমুক দিকে গেলাসটা নামিয়ে রেখে বললে, ‘কি রকম ঝাঁজ ঝাঁঝ, কি রকম একটা গন্ধ। এতে মদ মিশিয়ে দেয়নি তো হরিদা।’

    ‘বাঙালদের মতো কথা বলিসনি নির্মলা। সরবত, সরবত, খেয়ে, নে। এক গেলাসের দাম দশ টাকা।’

    ওয়েটার এসে জিজ্ঞেস করলেন, ‘ফুড।’

    ‘হ্যাঁ ফুড। ভীষণ খিদে পেয়েছে। ভালো ভালো যা আছে সব আজ খাব।’ ওয়েটার চলে যাচ্ছিলেন, হরিদাসদা ডেকে বললেন, ‘এইবার হুইস্কি।’

    পানভোজন বেশ ভালোই এগোচ্ছে। হরিদাসবাবুর ফরসা মুখে লালের আভা। অকারণে হাসছেন। নির্মলার ঘাড়ে হাত দিচ্ছেন। খোঁপায় খোঁচা মারছেন। হঠাৎ হঠাৎ এমন সব জায়গায় হাত ঠেকাচ্ছেন যাতে নির্মলার খুব অস্বস্তি হচ্ছে। জনকলিনস পদার্থটি খুব নিরীহ বলে মনে হল না। এই শীতের দিনেও শরীরে একটু উত্তাপের সৃষ্টি হয়েছে বলে মনে হল। কেমন যেন একটা হালকা খুশি—খুশি ভাব। নির্মলার তো বেশ গরমই লাগছে। শাড়ির আঁচল দিয়ে মাঝে মাঝে মুখ মুছছে। ছটফট করছে। উঃ উঃ শব্দ করছে। হরিদাসবাবুর নেশা হয়েছে। কোনও সন্দেহই নেই। এমন সব কথা বলছেন যা কোনও মহিলার সামনে বলা উচিত নয়।

    টেবিলের ওপর কনুইয়ের ভর রেখে হরিদাসবাবু বললেন, ‘তোমার দপ্তরে একটা অফিসারের পোস্ট খালি হয়েছে খবর রাখো?’

    ‘আজ্ঞে না।’

    ‘সেই পোস্টে আমি তোমাকে বসাব।’

    ‘কেন?’

    হরিদাসবাবু একটা গালাগাল দিয়ে বললেন, ‘হয় তুমি বেহেড না হয় তুমি শয়তান। তোমার বাবার স্কুলিং—এ মানুষ চালকলা বাঁধা পুরুত হয়, রাজসিক মানুষ হয় না। এটা কী?’

    নির্মলার ডানহাতের ওপর বাহুটা হ্যাঁচকা টান মেরে তুলে দেখালেন। টেবিলের ওপর কাঁটা চামচ গেলাস সব ঝনঝন করে উঠল। ভাগ্যিস আমরা কোণের দিকে বসেছি নইলে ন্যুইসেন্স বলে ম্যানেজার ঘাড়ধাক্কা দিয়ে বের করে দিতেন।

    ‘এটা কী?’

    ‘আজ্ঞে হাত।’

    ‘তোমার মুণ্ডু। এটা কী?’ বুকে হাত দিলেন।

    ‘ব্রহ্ম দেশ!’

    ‘ব্রহ্ম দেশ!’ ভিঙচি কাটলেন। ‘কেন বুক বলতে লজ্জা করছে, ভণ্ড তপস্বী। এই এল নারী শরীর, মেয়েছেলে রাশকেল। এটা কী?’ এটা লাল জলের গেলাস।

    ‘আজ্ঞে মদ।’

    ‘হ্যাঁ মদ, খাস বিলিতি স্কচ! এক পেগের দাম কুড়ি টাকা। অলরেডি তিন পেগ আমি খেয়েছি। এটা কী?’

    ‘আজ্ঞে মুরগির ঠ্যাং।’

    ‘ইয়েস ঠ্যাং, তন্দুরি চিকেন। তোমার হবিষ্যান্ন, কাঁচকলা ভাতে নয়। জীবনকে ভোগ করতে হলে টাকা চাই, টাকা। চারশো টাকা মাইনেতে মদ হয় না, মেয়েছেলে হয় না, এমন কি বিয়ে টেঁপাটেঁপি নিয়ে সংসারও হয় না। একটু আগে কাকে দেখলে?’

    ‘কার কথা বলছেন?’

    ‘ড্যাম ফুল। নার্সিং হোমে যাকে দেখলে, এ সিক্সফুটার জায়েন্ট, মন্ত্রীর মেয়েতে যে ছেলে তৈরির সাহস রাখে। হি ইজ অ্যা বিগ ইঞ্জিনিয়ার আর্নিং সিক্স থাউজেন্ড এ মানথ। তোমার ইচ্ছে করে না বড় হতে?’

    ‘করে। তবে আমার বড় হওয়ার ধারণা অন্যরকম।’

    ‘ও জপের মালা, হরিনাম, ক্লাস থ্রি হয়ে ঘষটাতে ঘষটাতে জীবন কাটান? ফুল। বীরভোগ্যা বসুন্ধরা। বীর হতে হবে, ভোগ করতে হবে। ভোগ না করলে ত্যাগ হয় না। কে বলেছিলেন?’

    ‘স্বামীজি।’ কার মুখে কীসের ব্যাখ্যা!

    ‘শোনো মানব, মর‍্যালিটি, ধর্ম এসব হল দুর্বলের আশ্রয়। দ্রাক্ষাফল মোটেই টক নয়। ভেরি ভেরি সুইট।’

    হরিদাসবাবু তন্দুরি চিকেনের ঠ্যাং কামড়াতে লাগলেন। নির্মলা যতটা সম্ভব আমার দিকে সরে এসে কাত হয়ে বসে আছে। বেচারা শরীরটা নিয়ে বড় লজ্জায় পড়েছে। ভাইয়ের চাকরি মাথায় উঠেছে।

    ‘তোমার কাছে দুটো কেস আছে।’

    ‘কী কেস?’

    ‘ইমপোর্ট কেস। একটা হল অন্নপূর্ণা মেকআপ, আর একটা পরিমল পেন্টস।’

    ‘কী করে জানলেন?’

    ‘কী করে জানলুম, সিলি, ফুল। আমি কে জান?’

    ‘আজ্ঞে হ্যাঁ।’

    ‘তবে বোকার মতো প্রশ্ন করছ কেন? কেস দুটো তুমি রেকমেন্ড করে দেবে। যা চেয়েছে, যতটা চেয়েছে, কাটাকুটি না করে পুরোটাই করে দেবে।’

    ‘ওদের কিছু নেই। চোর।’

    ‘ওরে আমার সাধুর বাচ্চা। ওদের একটা জিনিস আছে যা থাকলে সব থাকা হয়, সেটা হল পুল। ওরা আমাদের লোক। ওরা চোর বলেই আমরা খেতে পাই, এই মদ, এই মাংস। নির্মলা তুমি একটুও খাচ্ছ না। রাগ করেছ? তোমারও হবে। মাইরি বলছি হবে। আর একটু দাও, আর একটু খাও। আমাকে উপোস করিয়ে রেখো না, নিজেও উপোসী থেক না। যৌবন কি ফিক্সড ডিপোজিটে রাখার জিনিস, সবসময় কারেন্ট অ্যাকাউন্টে ফেলে রাখবে মাই ডার্লিং। হাওয়াগাড়ি চাপবে, ভাইয়ের ভালো চাকরি হবে। কৃপণ হলে চলে। দাতা হও, দাতা। ওই বাচ্চা ছেলেটাকে অমন করে ঠেসে ধরেছ কেন! স্তন্যপায়ী জীবটিকে। সরে এসো আমার দিকে সরে এসো। খাও খাও চিকেন লেগ খাও।’

    নির্মলা ফিস ফিস করে বলল, ‘কি বিপদে পড়লুম মানববাবু।’

    আমার মনে হল লোকটা কি বোকা? এসব কাজ কাউকে সাক্ষী রেখে করতে আছে! আমি যে স্বরূপ জেনে ফেললুম। না এঁরা এমনই বেপরোয়া! নাক কাটা, কান কাটা।

    ‘ওয়েটার আর এক পেগ। তুমি জল মেশাচ্ছ রাশকেল?’

    ‘না স্যার! আপনার জিনিস জল। আমার চাকরি চলে যাবে।’

    হ্যাঁ, মনে রেখো। ডোন্ট বি ডিজনেস্ট। ডিজনেস্টি করে দেশটা গোল্লায় গেল। সব শালা চোর।’

    যা খেয়েছেন, ভেবেছিলুম হরিদাসবাবু টলে পড়ে যাবেন। না, বেশ স্ট্রং লোক। গটগট করে হেঁটে রাস্তায় বেরিয়ে এলেন। এত খাওয়ার এক পয়সা দিতে হল না। দয়া করে খেয়েছেন এইতেই মালিক কৃতার্থ। নির্মলা যেন কি রকম হয়ে গেছে। ডুবন্ত মানুষ কুটো আঁকড়ে ধরে। আমাকেই ধরতে চাইছে। আমিই যেন এই মদ্যপায়ী মানুষটির হাত থেকে তাকে বাঁচাতে পারব।

    রাত অনেকটা গড়িয়ে গেছে। শীত পড়েছে এখন মালুম হচ্ছে।

    ‘ট্যাকসি।’

    ট্যাকসি ঘুরে আসছে। নির্মলাকে জিজ্ঞেস করলুম, ‘কী করবেন? উঠবেন?’

    ‘আমার না উঠে উপায় নেই। আমার চাকরিটাও এঁর কৃপাতেই হয়েছে। যদি একবার কমপ্লেন করে দেন না খেয়ে মরতে হবে। বাপ, মা, ভাই, বোন। থাকি কলোনির জমিতে। কি করব বলুন!’

    ‘উঠুন তা হলে!

    ‘আপনি সামনে চলে যাবেন না। প্লিজ। আমার পাশে থাকুন!’

    হরিদাসবাবু দরজা খুলে ধরে বললেন, ‘ঢুকে পড়! তোমাদের একে একে নামিয়ে দিয়ে আমি ফিরে আসব। আমার একটা কর্তব্য আছে। হি ইজ মাই ফ্রেন্ডস সান। তোমাকে আমি দক্ষিণেশ্বরে নামাব। ক্রস দি ব্রিজ অ্যান্ড গেট ইওর ফাদারস টেম্পল।’

    সেই আগের মতোই আমরা বসে আছি পেছনের আসনে। গাড়ি ছুটছে। সারা দেশটা ভাতে মরে আছে। যে যেখানে আছে সকলেই পেটটা বাঁধা দিয়ে বসে আছে। মাথা তুলে দাঁড়াবার ক্ষমতা নেই। প্রতিবাদ করার ক্ষমতা নেই! ভাতকাপড়ে মারা পড়তে হবে!

    হরিদাসবাবু নির্মলার কোল থেকে তার হাতব্যাগটা তুলে নিয়ে বললেন, ‘কী আছে?’

    ‘পয়সা, আর একটা রুমাল।’

    ‘কেন সেই নেই। তোমার ব্যাগে সেই থাকে না।’

    ‘যাঃ কি যে অসভ্যতা করেন।’

    ‘অসভ্যতা! তোমার কাছে সভ্যতা শিখতে হবে! তোমাদের আমি চিনি না। বিয়ে না করে এতখানি শরীর নিয়ে এতদিন আছ কী করে? আমি বুঝি না ভাব!’

    নির্মলা আমার দিকে ভয়ে সরে এল। আমার ভীষণ প্রতিবাদ করতে ইচ্ছে করছে।

    ‘কী করছেন আপনি?’

    ‘শাট আপ। তুমি কি আমার মর‍্যাল গার্জেন। আই অ্যাম ইওর ফাদারস ফ্রেন্ড, নট ইউ আর মাই ফাদারস ফ্রেন্ড। তোমার চাকরি আমার হাতে, তোমার ফিউচার আমার হাতে। ডোন্ট ফরগেট। কেস দুটো কালই ক্লিয়ার করে দেবে। এক মাসের মধ্যে তোমার প্রোমোশান হবে, চেম্বার হবে, ঘণ্টা হবে, অর্ডারলি পিয়ন হবে। রাঙা বউ আসবে ঘরে! তুমি কি ভাব এইসব মেয়েরা কোনোদিন কারুর ঘরের বউ হবে? নো নেভার। তা বলে কি এরা স্টার্ভ করবে? নো নেভার। আমাদের কি একটা দায়িত্ব নেই।’ নির্মলা চিৎকার করে আমার দিকে ছিটকে সরে এল, আর সেই ভারী শরীরের চাপে কী হল বোঝার আগেই আমি গাড়ির ডান দিকের দরজা খুলে ছিটকে রাস্তায় গিয়ে পড়লুম। কানে এল অসংখ্য ব্রেকের শব্দ, হাওয়ার ঝাপটা। পরক্ষণেই সব অন্ধকার। ফুটফুটে কলকাতার সমস্ত আলো যেন একসঙ্গে দপ করে নিভে গেল। সব শব্দ যেন অতল নৈঃশব্দে তলিয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসঞ্জীবের সেরা ১০১ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article মিত্তির বাড়ি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }