Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প44 Mins Read0
    ⤶

    ০৪. হিমালয়েই তো তোমার সামার হাউস

    মহেশ্বর?

    প্রভু!

    এই হিমালয়েই তো তোমার সামার হাউস তাই না।

    আজ্ঞে হ্যাঁ। বেশির ভাগ সময়েই তো আমাকে ঘুরে-ঘুরে বেড়াতে হয়! তারকেশ্বর, দ্বারকেশ্বর, কল্যাণেশ্বর। পারুকে একা থাকতে হয় তো প্রভু। মানব, দানব, দেবতা কারুর চরিত্রই তেমন সুবিধের নয় মহারাজ। কী স্বর্গে, কী মর্তে। কেচ্ছা-কেলেঙ্কারির তো শেষ নেই। তাই পাহাড় দিয়ে, হিমবাহ দিয়ে, গুহা দিয়ে, গহ্বর দিয়ে পারুকে নিরাপদে রাখা!

    তখন থেকে পারু-পারু করছ কাকে?

    প্রভু পার্বতাঁকে আমি আদর করে পারু বলে ডাকি। শরৎবাবু বলে এক লেখক ছিলেন। তার দেবদাস এক সাংঘাতিক প্রেমের বই। সেই বইয়ের প্রেমিক দেবদাস তার নায়িকাকে পারু পারু বলে ডাকত। কী সুন্দর?

    সিনেমাটা আমি দেখেছি।

    সে তো মর্তের ব্যাপার প্রভু।

    গবেট। স্বর্গ যার মতও তার। আর তুমি, তুমি জানোই না, যেখানেই সৃষ্টি সেখানেই আমি। যেখানে মৃত্যু সেইখানেই যম। শরৎ অমন একটা যুবক-যুবতী-চিত্ত কঁপানো সাহিত্য সৃষ্টি করলে কী করে!

    কলমের জোর ছিল প্রভু। দেখার চোখ ছিল। লিখে ফেললে গড়গড় করে।

    তোমার মাথা। শরৎ কেন লিখবে! সে তো উপলক্ষ্য মাত্র। লিখেছি তো আমি। শরৎকে মিডিয়াম করে। আমার অনুপ্রেরণা ছাড়া তার সাধ্য ছিল লেখার!

    শুনে খুব খারাপ লাগছে প্রভু। যিনি লেখেন তিনি নিজের আদলে নায়ক চরিত্র সৃষ্টি করেন। প্রভু, দেবদাস তাহলে আপনি? ছিঃ ছিঃ। কী কেচ্ছাই না করলেন। মদ খেয়ে মেয়েছেলের বাড়ি গিয়ে। টিবি ধরিয়ে। কাশতে কাশতে মুখ দিয়ে রক্ত তুলে ফেঁসে গেলেন। এটা কেমন ধারা সৎ দৃষ্টান্ত হল পরমপ্রভু। বেদ-বেদান্ত, উপনিষদ, গীতা, বাইবেল, রামায়ণ, মহাভারত, ভাগবত, ঠিক আছে। কিছু কিছু এদিক সেদিক থাকলেও দেবভাবে ভরপুর। কিন্তু দেবদাস! ওই কি দেবতার দাস হল প্রভু। রমণী-আসক্ত, মদ্যাসক্ত। পারুটাকে ছিপ দিয়ে কী পেটানো না পেটালেন একদিন! লোক তো খুব সুবিধের নন আপনি!

    মহেশ্বর, তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেল। আমাকে লোক বলছ? আমি যে ত্রিলোকেশ্বর, পরমেশ্বর। আমার পাপ নেই, পুণ্য নেই।

    আপনি তাহলে পলিটিসিয়ান।

    কথায় কথায় তুমি এত ম্লেচ্ছ ভাষা ব্যবহার করছ কেন মহেশ্বর? শিখলে কোথা থেকে।

    প্রভু পৃথিবীতে যে আমার আনাগোনা আছে। ভক্তরা যখন দলে-দলে আমার পীঠস্থান তারকেশ্বরে ছোটে তখন পথের দু-পাশে শুধু হিন্দি-ফিল্মি গান। বেদ-মন্ত্র ভুলে গেছি প্রভু। দেবভাষা আমার মুখে আটকে যায়। চালচলনও কেমন যেন হয়ে যাচ্ছে আজকাল। মাথায় চুলের বাহার দেখছেন। নেচে-নেচে হাঁটি।

    পলিটিসিয়ান মানেটা কী? রাজনীতিক?

    ধরেছেন ঠিক। তাদের পাপও নেই, পুণ্যও নেই। কথার কোনও দাম নেই। প্রভু আপনারও সেই এক হাল। সারা জীবন শুধু ডেকেই গেল, পেল না কিছুই।

    আবার তুমি গবেটের মতো কথা বলছ। পেয়ে কী হবে। মানুষের পেয়ে কী হবে! কোটিপতিও চিতায় চড়বে, কানাকড়ি-পতিও চিতায় চড়বে। মানুষকে দিয়ে কী লাভ হবে ঘোড়ার ডিমের! রাখতে পারবে! থাকতে-থাকতেই ফুকে দেবে। রেস খেলবে, বোতল ধরবে, মেয়েছেলের পেছনে ছুটবে। ডাকাতে মেরে দেবে। ট্যাকসে দেউলে করবে।

    প্রভু এ সবই তো আপনার ইচ্ছায় হয়েছে! মানুষকে একটু সুখ দিলে কী এমন ক্ষতি হত আপনার!

    খুব ক্ষতি হত। মানুষ আমাকে ভুলে মেরে দিত।

    এখনই বা কী এমন মনে রেখেছে! খাচ্ছেদাচ্ছে আর বংশবৃদ্ধি করে পৃথিবীর অ্যায়সা হাল করেছে, একপাশে কাত হয়ে ঘুরছে। টলটলায়মান।

    এত মন্দির, মসজিদ, চার্চ, কাবা, সকাল-বিকেল আরতি, ঘণ্টাধ্বনি, আজান, আহ্বান, কেন মহেশ্বর! আমাকে মনে না রাখলে এসব হত কি?

    আমার কিছু বলার নেই প্রভু। কে যে কীসের ধান্দায় ঘুরছে আমার চেয়ে আপনি ভালোই জানেন।

    তা অবশ্য জানি। কেবল দেহি, দেহি করছে। গাড়ি দাও, বাড়ি দাও, চাকরি দাও, বেহিসেবি টাকা দাও, যশ দাও, খ্যাতি দাও, মৃত্যুর পরে স্ট্যাচু দাও। এত দাও-দাও–বিরক্ত হয়ে আমি আর কিছু দিই না। সৃষ্টি সেই একবারই করেছিলুম। যা বাবা, এবার তোরা লুটেপুটে খা।

    প্রভু পাঁচজনে খাচ্ছে আর পঁচানব্বইজন টেরিয়ে-টেরিয়ে দেখছে।

    মরুক গে। যা পারে করুক। তোমার আমার কাঁচকলা। তা যাই বলো বাপু, এবার একটু শীত-শীত করছে।

    শীত করছে প্রভু! চলুন তাহলে। পারুর হাতে এক কাপ করে গরমাগরম চা খাওয়া যাক।

    আবার ওই মর্তের নেশাটা ধরাবে!

    আপনাকে আর কে ধরাবে মালিক! আপনিই তো নেশা, কারুর কারুর আপনিই তো নেশা। নিন উঠুন। চলুন। খুব ঝাল চানাচুর দিয়ে চা খাওয়া যাক। হিমালয়ের শীত। হাড় কাঁপয়ে দিলে।

    মহেশ্বরের ডেরায় এসে পরমেশ্বরের চোখ কপালে উঠে গেল। প্রশ্ন করলেন, ভোলা মহেশ্বর, এ কী করে ফেলেছ! তোমার ভক্তরা গায়, বাবা শ্মশানে থাকে ছাই ভষ্ম মাখে, তোমার এই ঐশ্বর্য দেখলে তারা কী বলবে? ভাগ্যিস এখানে ইনকামট্যাক্স নেই। থাকলে তোমার এই দুনম্বরি কারবার ধরে ফেলত। কোথা থেকে আমদানি করলে!

    মহেশ্বর লাজুক লাজুক মুখে হাসলেন। ত্রিশূল দিয়ে জটা চুলকোতে-চুলকোতে বললেন, প্রভু, ঐশ্বর্য আর আব একই জিনিস। একবার বাড়তে শুরু করলে আর থামানো যায় না। ওই ফিল্ম স্টার হয়ে যাওয়ার পর থেকে মর্তে আমার পপুলারিটি এত বেড়ে গেছে! কী করব প্রভু! এসব পাপের পাষাণ। ওদিকে হেরেরেরে করে পাপ বাড়ছে, এদিকে আমার জেল্লা বাড়ছে। বিশ্বনাথে রোজ মন-মন দুধ ঢালছে আমার মাথায়, চতুর্দিকে পুজো চড়াচ্ছে। মিষ্টির দোকানে আজকাল খুব লাভ। রমরমা কারবার। দুধ ধরে ক্ষীর, ক্ষীর চটকে পাড়া। পারুরও সময়টা ভালো যাচ্ছে। এক কলকাতাতেই ছহাজার বারোয়ারি। বরাত খুলে গেছে প্রভু। শ্মশানে আমার আসন কেড়ে নিয়েছে কলকেবিহারি দেশি-বিদেশি হিপির দল। মারছে টান আর ব্যোম ভোলে বলে চোখ উলটে চিৎপাত। কারবার ভালোই চলেছে।

    আমি জানি, হিংসে হচ্ছে প্রভু। হিংসে, এই-ই হয়। জমিদার ফুটে যায়, নায়েব নবাবি করে। এই স্বর্গে উর্বশী একটু নাচ দেখাবে। দু-চার পাত্র সোমরস চলবে। দেবাসুরে মাঝে-মাঝে লড়াই হবে। সবই একঘেঁয়ে প্রভু। আপনার জীবনও জীবন। মানুষের জীবনও জীবন। মানুষের জীবনে যে কী মজা! এই দেখুন প্রভু, একে বলে টিভি। এর নাম ভিডিও। একে বলে স্টিরিও।

    রাখো-রাখো, ওসব তোমার ছেলেমানুষি খেলনা। ও দিয়ে তুমি তোমার পারুর মন ভোলাও। আমি পরমেশ্বর। ইংরেজরা আমাকে লর্ড বলে। জানো কি তা! আমি অলমাইটি।

    প্রভু জীবন যদি খেলা হয়, তাহলে মানুষ কিন্তু জীবন নিয়ে আজকাল খুব ভালোই খেলতে শিখেছে। আকাশে উড়ছে। মাটিতে ছুটছে। চাঁদে এসে মাটি কোপাচ্ছে। আপনার বড়-বড় গ্রহের পাশ দিয়ে রকেট ছোটাচ্ছে। কেলোর কীর্তি করে ফেলছে। দিনকতক পরে আপনাকেই গদি থেকে ফেলে দেবে!

    মামার বাড়ি আর কী! আমার রাজত্বে আমারই সৃষ্টি আমাকে ফেলে দেবে! কছিলিম চড়িয়েছ আজ মহেশ্বর? তোমার পারু কি তোমাকে একেবারেই ছাড়া-গরু করে দিয়েছে। কলকাতার বড়বাজারের বেওয়ারিশ ষাঁড়ের মতো।

    আজ বিনা ছিলিমেই চলছে প্রভু। যা বলেছি তা আমার জগৎঘোরা অভিজ্ঞতার কথা। পৃথিবীতে গিয়ে বেশি না দিনকতক থাকলেই আপনার জ্ঞানচক্ষু খুলে যাবে।

    আমার আবার জ্ঞানচক্ষু কী হে। আমি নিজেই তো জ্ঞান।

    সে হল পরমজ্ঞান। ও আপনার কেতাবে থাকে। সেই জ্ঞানে জগৎ-সংসার চলে না। পৃথিবীতে গেলে দেখবেন, পিতাদের কী অবস্থা? ভারত-পিতা গান্ধীমহারাজ যিনি আপনার নীতি অনুসরণ করেছিলেন–ন্যায়, সত্য, অহিংসা, সদাচার, জাতি-বর্ণের বিভেদ দূর। কী হল তাঁর? আপনি কিছু করতে পারলেন? একটা বুলেট? হায় রাম। সব শেষ।

    আমি ওর শেষটা ওই ভাবেই করতে চেয়েছিলুম।

    কী কারণে প্রভু?

    চিরকাল মানুষ মনে রাখবে বলে। সত্য আর অহিংসার বাণী রক্তের অক্ষরে জাতির জীবনে দগদগ করবে।

    হায় মূর্খ।

    কাকে মূর্খ বলছ হে। আমাকে, না আমার আশীর্বাদ ধন্য গান্ধীমহারাজকে।

    আপনাকে প্রভু। সারাজীবন যিনি শুধুই জ্ঞানের ভাণ্ডারা দিয়ে গেলেন।

    তোমার সাহস দিন-দিন বাড়ছে। বেড়েই চলেছে অ্যাঁ।

    বাড়বেই যে প্রভু। দেবতারা প্রথমত অমর। তা ছাড়া স্বর্গে পুলিশ নেই যে ধরে রুলের গুতো মারবে। আদালত নেই যে মানহানির মামলা ঠুকে দেবে!

    তা বলে তুমি আমাকে জগৎ-পিতা, পরম-পিতাকে মূর্খ বলবে?

    কেন বলব না প্রভু! সত্য আর অহিংসার বাণী রক্ত দিয়ে লিখতে চেয়েছিলেন। বাণী মুছে গেছে, রক্তটাই দগদগ করছে। জাতির সর্বাঙ্গ দিয়ে চুঁইয়ে চুঁইয়ে পড়ছে। ভারত-পিতার গোটাকতক কিম্ভুতকিমাকার মূর্তি এখানে ওখানে খাড়া করা আছে। বছরে একদিন জাতীয় ছুটি। মূর্তির গলায় গোটাকতক মালা। সারা বছর কাক-পক্ষীর পেছনের ব্যবস্থাপনায় চুণকাম। তার বাণী ভেসে চলে গেছে। তার জীবন লোকে ভুলে মেরে দিয়েছে। ছোরাছুরি ছাড়া আদান-প্রদান নেই। বোমা ছাড়া শব্দ নেই। সব সময় মারমার, কাটকাট চলেছে। গদি ছাড়া লক্ষ্য নেই। ভোট দাও ছাড়া বাণী নেই।

    পৃথিবীটাকে এবার আমি একদিন ধরে উলটে দেব।।

    পারবেন না। এমন প্রাকৃতিক, গাণিতিক নিয়মে ফেলে দিয়েছেন, চন্দ্র, সূর্য, গ্রহ, তারা, পরস্পরের টানে কক্ষপথে ঘুরতেই থাকবে, ঘুরতেই থাকবে।

    সব মানুষ আমি মেরে ফেলব।

    ইমপসিবল প্রভু, ইমপসিবল। পিলপিল করে মানুষ জন্মাচ্ছে ছারপোকার মতো। ওষুধ বের করে ফেলেছে নানারকম। যত না মরছে, জন্মাচ্ছে তার বেশি। সব রক্ত-বীজের ঝাড়।

    তাহলে কী হবে মহেশ্বর?

    এক কাজ করুন। শয়তানের সঙ্গে আপনি একবার আলোচনায় বসুন। পৃথিবীটা উইল করে তাকেই দান করে দিন। শয়তান ছাড়া মানুষকে কেউ শায়েস্তা করতে পারবে না। অমৃতস্য পুত্ৰা বলে সেই দ্বাপর ত্রেতা থেকেই যা খুশি তাই করে বেড়াচ্ছে। ও যেন দয়ালু জমিদারের অত্যাচারী মোসায়েবের ফল। প্রথম থেকে শাসন করেননি পিতা, পুত্রেরা সব বিগড়ে বসে আছে।

    কই হে তোমার চা কি হল?

    মহেশ্বর, পারু-পারু বলে ডাকতে লাগলেন, কোথায় গেলে বুড়ি?

    পরমেশ্বর বললেন, পার্বতী কি বুড়ি হয়ে গেছে?

    না প্রভু, এ হল আদরের বুড়ি? এই কসমেটিকস আর হরমোনের যুগে কেউ কি আর বুড়ো, বুড়ি হবে। মনের বয়েস বেড়ে যাবে। দেহের বয়েস বাড়বে না।

    সে আবার কী? জন্ম, মৃত্যু, জরা, ব্যাধি, কিছুই থাকবে না।

    হ্যাঁ জন্ম অবশ্যই থাকবে তবে প্ল্যান্ড। এক ইয়া দো, তিন কভি নেহি।

    পরমেশ্বর মাথা চুলকোলেন। চোখ বড়-বড় হয়ে গেল।

    মহেশ্বর মুচকি হেসে বললেন, দেবতারাই শুধু চির-যৌবন আর অমৃতের কলসি কাকে নিয়ে বসে থাকবে তা তো হতে পারে না প্রভু। হিরোসিমায় সেই অ্যাটম-বোমা ফেলেছিল মনে আছে?

    খুব আছে। বোমার ধোঁয়া ছাতার মতো পেখম মেলেছিল।

    তুমি আমাকে দেখিয়ে বললে, শরতের তুলো মেঘ। দেখতে গিয়ে ধোঁয়া লেগে আমার মাথার সব চুল ভুসভুস করে উঠে গেল। সরোবরের জলে কুলকুচো করতে গিয়ে মুখের সব দাঁত খুলে পড়ে গেল। নাগার্জুন আর চরক এসে পরীক্ষা করে বললে, আণবিক প্রতিক্রিয়া। মনে নেই আবার! সেই দাঁত তো এখন গজমতির মালা হয়ে নারায়ণীর গলায় ঝুলছে। গায়ে ফোঁসকা বেরিয়ে গেল। সাতদিন কামধেনুর দুধে গা চুবিয়ে বসে রইলুম, মাথায় চাপিয়ে রাখলুম কামধেনুর গোবর। মনে নেই আবার!

    আপনার তো তবু সব বেরোল। আর আমার! আমার গোঁফ-জোড়া সেই যে খুলে পড়ে গেল, শত চেষ্টাতেও আর বেরোল না।

    ভালো হয়েছে মহেশ, শাপে বর হয়েছে। মুখটা ছিল তোমার, গোঁফটা ছিল মহিষাসুরের। যা তোমাকে মানায় না, তা যাওয়াই মঙ্গল। বাঘের মুখে বেড়ালের, বেড়ালের মুখে বাঘের গোঁফ মানায় না। দ্যাখো তো, এখন মুখটায় কেমন সুন্দর একটা দেব-ভাব এসেছে।

    যাক ও গোঁফ-দাড়ি-চুল নিয়ে আর মাথাব্যথা নেই। অমর হলেও বয়েস হয়েছে অনেক। যে কথা বলছিলাম প্রভু, ওই বোমার বাতাস ঠেলে আর একটু ওপরে উঠলেই, আমাদের হাড় পর্যন্ত খুলে পড়ে যাবে। তখন এই স্বর্গরাজ্যে এসে আপনার ওই মানবকুল পরম-পিতার চামড়া দিয়ে ডুগডুগি বাজবে। তখন কী হবে? ভেবে দেখেছেন একবার পরমপিতা!

    কী হবে মহেশ্বর! একটা রাস্তা বের করো। এ সংগ্রাম তো দেখছি, সৃষ্টির সঙ্গে স্রষ্টার।

    তাই তো হয় প্রভু। ওরা সেই ফ্রাঙ্কেস্টাইন সৃষ্টি করেছিল। তারপর! জানেন তো! সবই তো আপনি জানেন! কেবল মাঝে-মাঝে আপনি ভুলে যান।

    চা বোলাও!

    হিন্দি বলছেন যে প্রভু!

    উত্তেজনার মুহূর্তে কি মানুষ কি দেবতা, সকলেরই ভাষা পালটে যায়। এরই নাম প্রাকৃতিক নিয়ম।

    মহেশ্বর হাসলেন। তারপর কী একটা টিপতেই দূরে ঘণ্টা বেজে উঠল।

    এ আবার তোমার কী কেরামতি মহেশ্বর!

    প্রভু ইসকো বোলতা হায়, কলিং বেল। পারুকে আর কত ডাকব গলা ছেড়ে!

    এবার কলকাতার বারোয়ারি সেরে ফেরার সময় চিনে বাজার থেকে তুলে এনেছে। বড় মজার জিনিস প্রভু।

    কোঁক-কোঁক করে অদ্ভুত একটা শব্দ হতে লাগল। পরমেশ্বর প্রশ্ন করলেন, কী হে, শয়তান এল না কি! অমন সাপের ব্যাঙ ধরার মতো শব্দ হচ্ছে!

    না প্রভু। ও আর এক বড়িয়া যন্তর। ওরে কয় ইন্টারকম।

    ঘন-ঘন তোমার ভাষা পালটাচ্ছে কেন মহেশ্বর! দেবতার গাম্ভীর্য তোমার গেছে। তুমি চ্যাংড়া হয়ে গেছ।

    মহেশ্বর হাসতে-হাসতে ইন্টারকম তুললেন, হ্যালো! কে পারু! কী করছ তুমি সুইট! হানি। মানি গুনছ। এদিকে আউটার গুহায় আমি খোদ মালিককে নিয়ে বসে আছি। ওঃ সনি। খোদ মালিক কে? আমাদের গ্রেট পরমেশ্বর। চা চা করে মাথা খারাপ করে দিলেন। আমরা যাব! আ মাই ডারলিং। কী করছ তুমি! ভিডিও দেখছ। হাও সুইট! আমরা আসছি। দিলওয়ারা। মেরা জান।

    পরমেশ্বর মহেশ্বরের কথা শুনে কেমন যেন হয়ে গেলেন।

    গম্ভীর জগৎ-স্রষ্টা যেন আরও গম্ভীর। মেঘ-ভারাক্রান্ত আকাশের মতো থমথমে মুখ। ইন্টারকম ছেড়ে দিয়ে মহেশ্বর বললেন, কী হল প্রভু! ভড়কে গেছেন মনে হচ্ছে!

    তুমি একেবারেই বকে গেলে মহেশ। তুমি বদসঙ্গে পড়েছ। আজ বুঝলেন প্রভু! আমি তো কবেই বখে গেছি। আমি এক বখা ছেলে।

    ছেলে নয় মহেশ্বর। তুমি দেবতা। বখাটে দেবতা।

    তাই তো বলে সবাই। গাঁজা ভাঙ খাই। ষাঁড়ের পিঠে চেপে ঘুরে বেড়াই। সংসারে মন নেই।

    পার্বতীর মতো বউ পেয়েছিলে বলে তরে গেলে!

    তা ঠিক। তবে মজাটা কোথায় জানেন প্রভু? সব আইবুড়ো মেয়েই আমাকে পুজো করে, নইলে মনের মতো পতি পায় না। কী কেলো!

    পরমেশ্বর ধমকে উঠলেন, তোমার ওই রকের ভাষা ছাড়বে না আমি ফিরে যাব ব্রহ্মলোকে।

    মহেশ্বর হাসলেন, আর ফেরা! জীবনে আর ফিরতে পারেন কি না দেখুন। পারু ডাকছে। ভেতরের গুহায়। সেখানে ভিডিও চলছে। একবার নেশায় ধরে গেলে আর ফিরতে হচ্ছে না। হিন্দি ছবির নেশা সাংঘাতিক নেশা। আপনার সৃষ্টির মতো। কিছুই নেই অথচ সবই আছে। মায়ার মায়া। কায়ার ছায়া। ভ্রান্তি অথচ ছেড়ে যেতে মহা অশান্তি। চলুন প্রভু। গাত্রোৎপাটন করুন।

    পরমেশ্বর উঠে দাঁড়ালেন। আড়ামোড়া ভেঙে বললেন, তুমি দেখছি আমাকেও বখিয়ে ছাড়বে।

    আপনাকে বখাবার ক্ষমতা আমার নেই। আর প্রভু, আপনিই তো সব। চোর, জোচ্চর, ভালো, মন্দ, সৎ, অসৎ, সাধু, অসাধু, সবই তো আপনি। গীতায় আপনিই বলেছেন, আমা হইতে সব উথিত হইয়া, আমাতেই লয় প্রাপ্ত হয়। যেমন, জলের বিম্ব, জলেতেই মিলায়।

    খুব হয়েছে। চলো। পথ দেখাও।

    মহেশ্বর আগে-আগে চলছেন। পেছনে আসছেন পরমেশ্বর। গুহাপথের দেয়ালে নানা বর্ণের পোস্টার সাঁটা। পরমেশ্বর কৌতূহলী হয়ে জিগ্যেস করলেন, কৈলাসে কি ছাপাখানা হয়েছে?

    কেন প্রভু?

    এ সব কী সাঁটিয়েছ!

    সিনেমার পোস্টার। বোম্বাই, বাংলা আর তামিলনাড়ু থেকে এসেছে। ফিল্মে আমি যে খুব পপুলার জগদীশ্বর। কতরকম আমার ভূমিকা একবার অবলোকন করুন।

    খুবই নিম্ন রুচির পরিচয় মহেশ্বর! তুমি ক্রমশই, ক্রমশই একটি নিকৃষ্ট দেবতা হয়ে যাচ্ছ।

    আমার ভক্তরাই এর জন্য দায়ী প্রভু। আমার কিছু করার নেই! বিশ্বনাথে আমার টাকে কলসি কলসি জল আর দুধ ঢালে ধনী ব্যাবসায়ীরা। কী প্রার্থনা শুনবেন? আরও টাকা আরও কালো টাকা চাই। ভোগ চাই। ব্যাভিচার চাই। তুমি একটা বোকা হাঁদা। নিশ্চয়ই তথাস্তু বলো।

    কী করব প্রভু! ভক্তের মনোবাঞ্ছা আমাকে পূর্ণ করতেই হয়। সেই রত্নাকরকে দিয়েই শুরু। আমি তো ভোগ করি না। ভোগ করে সেবায়েতরা।

    চালিয়ে যাও। চালিয়ে যাও।

    পার্বতী ডিভানে শুয়ে ভিডিওতে শোলে দেখছেন। মহেশ্বর আর পরমেশ্বর ঢুকতেই ধড়মড় করে উঠে বসলেন। গব্বর সিং-এর ডায়লগ চলেছে। পরমেশ্বর আসন নিলেন। গম্ভীর মুখ। ম্লান জ্যোতি। মানুষের চেয়ে দেবতার অধঃপতন কী আরও বেশি হল। পার্বতীর বেশ-ভূষার এ কী ছিরি হয়েছে। এ যে বাইজিমার্কা পোশাক। হায় মহেশ্বর। শাসনের অভাবে সংসার যে ভেসে যায় রে বাপ। অবশ্য সংসার তোমার কোনও কালে ছিল না।

    পার্বতী নতজানু হয়ে বললেন, প্রভু কেন হেরি বিরস বদন এমন? শরীর স্বাস্থ্য কুশল তো প্রভু! উদরে কোনও গোলমাল উপস্থিত হয়নি তো? জিয়াডিয়াসিস, অ্যামিবায়োসিস ইত্যাদি কোনও পার্থিব ব্যামোর আক্রমণ হয়নি তো প্রভু!

    পরমেশ্বর গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, তোমার দিকে তাকাতে পারছি না। তোমার পোশাক বড় অশালীন। অশ্লীল তোমার অঙ্গভঙ্গি। উপরন্তু তুমি অতিশয় ফাজিল ও বাচাল হয়েছে। তিলতিল করে তোমাকে আমরা সৃষ্টি করেছিলুম। শক্তির বলয়। শক্তি-পুঞ্জও বলা চলে।

    জাতি পুঞ্জ বা যুক্তফ্রন্ট সরকারের গণতন্ত্রের মতো।

    চুপ করো দেবলোকের ব্যাপারে পৃথিবীর উপমা টেনে এনো না। তোমাকে আমি সাবধান করে দিচ্ছি।

    প্রভু বারে বারে আমাকে অসুর দমনে আপনার আজ্ঞাবাহী হয়ে পৃথিবীতে যেতে হয়।

    বেশ তো। দেব কার্যে পৃথিবীতে যাওয়া মানে স্বৈরিনী হয়ে ফিরে আসা? বাঙালকে হাইকোর্ট দেখাচ্ছ?

    প্রভু, আমার আরাধনা যারা করে, সেই ভক্তকূল আমাকে যেভাবে সাজায়, যেভাবে যেরূপে ভজনা করে, আমি দিনে-দিনে ঠিক সেই রকম হয়ে উঠছি। আমার তো কোনও দোষ নেই। দোষ আপনার।

    আমার দোষ? তুমি কী বলতে চাইছ রমণী?

    প্রভু রমণী নয়। দেবী।

    তোমাকে আর দেবী বলতে পারছি না। তুমি এখন লাস্যময়ী রমণী। বলো কোথায় আমার দোষ! যত দোষ, নন্দ ঘোষ।

    আপনি আজকাল বড় ভুলে যান। অবশ্য দোষ নেই আপনার। হাজার, হাজার-হাজার বছরের সুদীর্ঘ জীবনের খুঁটিনাটি মনে রাখা সহজ নয়। সত্য, ত্রেতা, দ্বাপর, সব তালগোল পাকিয়ে যাচ্ছে। মানুষের মতো বুদ্ধিমান হলে একটা কম্পিউটার বসিয়ে নিতেন। নিজের স্মৃতি আর প্রয়োজন হত না। কম্পিউটারের স্মৃতিতে সব জমা থাকত। মনে আছে প্রভু, সখা কৃষ্ণ হয়ে কুরুক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পার্থকে বলেছিলেন! মানুষকে গীতা পড়তে বলেন। রোজ সকালে শুদ্ধ বস্ত্রে অন্তত একটি অধ্যায়। অথচ নিজের গীতা নিজে একবার উলটে দেখেন না?

    কী বলেছিলুম?

    বলেছিলেন যে, যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম। মম বর্ত্মানুবর্তন্তে মনুষ্যাঃ পার্থ সর্বশঃ।। প্রভু, মনে পড়ে? বলেছিলেন, আমার শরণ যারা যে-ভাবেতে লয়, সে ভাবেই পায় মোরে আমি সর্বাশয়।। প্রভু, আপনার বাক্য তো মিথ্যা হতে পারে না। আমি কখনও হেমা, কখনও জয়া, কখনও জীনাত, কখনও রেখা, কখনও লেখা। যে যথা মাং প্রপদ্যন্তে তাংস্তথৈব ভজাম্যহম।

    যাদের নাম করলে তারা আবার কোথাকার দেবী? ওই যে প্রভু! সেলুলয়েডের দেবী।

    মহেশ্বর একমনে শোলে দেখছিলেন। দুজনের দিকে ফিরে বললেন, কী তখন থেকে শুরু করেছেন? আপনার জগৎ ভুলে যান। দেখুন সেলুলয়েড ওয়াল্ডের বড়িয়া খেল। সব ভুলিয়ে দেয়। জগৎ মায়া। এ আবার মায়ার মায়া। বড় মিষ্টি মোয়া। একেবারে জয়নগর।

    পার্বতী উঠে দাঁড়ালেন। মহেশ্বর বললেন, প্রভু কী সেবনের ইচ্ছা? সন্ধ্যা উত্তীর্ণ। রাত্রি আসন্ন। এক চুমুক অ্যাপেটাইজার হয়ে যাক।

    সে আবার কী?

    প্রভু সভ্য মানুষেরা সোমরসকে অ্যাপেটাইজার বলে। আমি কলকাতায় গিয়ে এই শব্দটি শিখে এসেছি। সেবনে চনমনে খিদে হয়। মেজাজ শরিফ হয়। পার্বতীর ভাণ্ডারে কয়েক বোতল বিলাইতি আছে।।

    সে আবার কী? আমাদের আবার দিশি-বিলিতি কী?

    আছে প্রভু আছে। বিলেতে আপনি গড। দেশে আপনি ঈশ্বর। তা সেই গডের দেশের চোলাইটি বড় মধুর। সেবনে মনে হবে, জিভ ফুড়ে একটি ধারাল তলোয়ার চলে গেল পেটে। হয়ে যাক প্রভু। তারপর একটু চিকেন চাওমিন। চিলিচিকেন। মাটন আফগানি।

    এসব বিজাতীয় বস্তু, এসব বিদঘুঁটে, বিকট বস্তু তুমি পাচ্ছ কোথা থেকে?

    সবই আমার সুগৃহিণীর কল্যাণে। বারোয়ারি সেরে আসার সময়, কাস্টমসকে ফাঁকি দিয়ে কয়েক বোতল স্মাল করে এনেছে। আর এনেছে খানদুই রান্নার বই। ফাটাফাটি ব্যাপার। মানস সরোবরে হংস মেরে, সে যা বস্তু হচ্ছে। জিভে পড়া মাত্রই সমাধি।

    পরমেশ্বর চমকে উঠলেন, সে কী হে! তোমরা মানস-সরোবরের হংস মেরে হাওচাও করে। পেটায় নমঃ করছ? ও যে পরমহংস।।

    প্রভু হাওচাও নয়, চাওমিন। আমরা যে এখন মহাচিনের এলাকায় চলে গেছি। তারা আবার কমুনিস্ট। ধর্ম-টর্ম মানে না প্রভু। ওদের কাছে আপনার অস্তিত্ব নেই।

    তাতে কী হয়েছে। তার মানে ওরা বৈদান্তিক। আমার প্রিয় পুত্র শঙ্করের অনুগামী।

    না প্রভু। সোহহংবাদী নয়। পুরোপুরি মানুষ। অঙ্গুষ্ঠ প্রমাণ আত্মপুরুষের ধার ধারে না। তিনটি যন্ত্রের কারবারি। রাষ্ট্র যন্ত্র, উৎপাদন যন্ত্র এবং শ্রমিক। খাটো খাও বয়েস হলে ফুটে যাও।

    অসহ্য তোমার ভাষা। আমার আর সহ্য হচ্ছে না।

    প্রভু, মানুষের কবি লিখেছিলেন, জিভ দিয়েছেন যিনি, আহার দেবেন তিনি। তিনি মানে আপনি। আমি বলছি, বাড়ি দিলেন যিনি, রক বানালেন তিনি। প্রভু সেই রকের ভাষার আর রক কালচারের জয় জয়কার সর্বত্র। রক থেকে রাজনীতি, সমাজনীতি, সংস্কৃতির রূপ-রেখা শিক্ষা-দীক্ষা সবই উঠছে। রক যেন বিষ্ণুর নাভীপদ্ম। ইংল্যান্ড, আমেরিকায় চলেছে রক-এন-রোল। সে কী ভীষণ সোরগোল। পার্বতী, তোমার ভিডিওতে সেইটা চাপাও না গো, রক, রক, রক।

    পার্বতী রিমোট কন্ট্রোল ব্যবহার করলেন। শোলের জায়গায় শুরু হল প্রথমে ওসিবিসা। পরমেশ্বরের পিলে চমকে গেল। কৈলাসের গা বেয়ে হিমবাহ নেমে গেল, গুড়গুড় করে। বিদ্যুৎ চমকে উঠল খিলিখিলি করে। পরমেশ্বর চিৎপাত হয়ে পড়ে গেলেন বাঘছাল বিছানো শয্যার ওপর।

    মহেশ্বর ভয় পেয়ে চিৎকার করে উঠলেন, দেখো-দেখো। প্রভুর থ্রম্বোসিস হল না তো?

    পার্বতী বললেন, তোমার যে কবে বুদ্ধি পাকবে কত্তা! কত বেল পেকে গেল! সারা জীবন বেলতলায় বসে রইলে, তোমার বুদ্ধি কিন্তু পাকল না। মাথায় অত জটাজুট থাকলে বুদ্ধি কি আর পাকে! টাক তো আর পড়বে না? মাথাটা কামিয়ে ফেলো। যদি কিছু হয়?

    আমি আবার কী করলুম?

    বৃদ্ধ দেবতাকে কি এসব শোনাতে আছে! প্রভুর থ্রম্বোসিস হলে কী হবে?

    তোমার যেমন বুদ্ধি গিন্নি! প্রভুর থ্রম্বোসিস হবে কী? ও তো হয়েই আছে। আমি বাঙাল হলে বলতুম।

    কী বলতে?

    যাক সে আর তোমার শুনে কাজ নেই। তুমি বরং মুখে একটু বিলিতি ব্র্যান্ডি ঢেলে দাও।

    পার্বতী পরমেশ্বরের মুখের ওপর ঝুঁকে পড়লেন। পরমেশ্বর মৃদু স্বরে বিড়বিড় করে বলছেন, জুজু, ওরে বাবা জুজু।

    পার্বতী তাড়াতাড়ি ভিডিও বন্ধ করে দিলেন। কান ফাটানো শব্দ বন্ধ হয়ে সুন্দর এক নীরবতা নেমে এল। পরমেশ্বরের কপালে হাত বুলোতে-বুলোতে পার্বতী বলতে লাগলেন, প্রভু, ও জুজু নয়, ওর নাম ডাক পোট্যাটো। খুব ভালো ড্রাম বাজায়।

    পরমেশ্বর চোখ খুললেন। ভীত কণ্ঠে জিগ্যেস করলেন, আমি কোথায়?

    প্রভু আপনি কৈলাসে।

    তুমি কে? তোমার ঠোঁট অত লাল কেন? তোমার চোখের পাতা অমন সোনালি কেন?

    প্রভু, আমি পার্বতী। ঠোঁটে লিপস্টিক লাগিয়েছি। চোখের পাতায় আইল্যাশ রং। পৃথিবীর সেরা সুন্দরীরা এর চেয়ে কত সাজে। তাও তো আমি ভুরু প্লাক করিনি। চুল বয়-কাট করিনি। জিন্স পরিনি, গেঞ্জি চাপাইনি। বিশ্বসুন্দরীর পোশাকে দেখলে আপনি কী কলতেন প্রভু?

    নির্ঘাত মরে যেতুম জননী।

    আপনার যে মৃত্যু নেই প্রভু। অবুদ অবুদ অবুদ বছর আপনি শুধুই জীবিত থাকবেন। ছারপোকার মতো অসংখ্য মানুষ সৃষ্টি করে যাবেন আপন খেয়ালে। যে পিতার অসংখ্য সন্তান, সে পিতা কোনও সন্তানকেই মনে রাখে না। সন্তানও পিতাকে মনে রাখে না। নিজেদের মধ্যে চুলোচুলি খুনোখুনি হতে থাকে। বিষয় সম্পত্তি ভাগাভাগি হয়ে যায়। পাঁচিলের পর পাঁচিল ওঠে। বৃদ্ধ পিতা ফ্যা ফ্যা করে ঘুরে বেড়ান। আর ওরাই বলে, ভাগের মা গঙ্গা পায় না।

    ওরা কারা?

    আপনার সন্তানেরা। সেই অমৃতের পুত্ররা।

    পরমেশ্বর বড়-বড় চোখ মেলে তাকিয়ে রইলেন কিছুক্ষণ, তারপর চিৎকার করে বললেন, ওয়েটার হুইস্কি বোলাও।

    মহেশ্বর বললেন, এ কী প্রভু! এ আপনি কী বলছেন? বাংলা ছবির নায়ক এই ডায়ালগ ছাড়ে।

    মূর্খ মহেশ্বর, সে কে? সে তো আমিই।

    এই তো। এই তো পথে আসুন প্রভু। এতক্ষণ তাহলে অভিনয় করছিলেন!

    ধূর্ত মহেশ্বর, ধরেছ ঠিক। এই যে তুমি সংসারী হয়েও সংসার করো না, এও কি আধুনিক মানুষের লক্ষণ নয়!

    হ্যাঁ প্রভু! আপনিও ঠিক ধরেছেন। একেই ওরা বলে, রতনে রতন চেনে, ভাল্লুকে চেনে শাঁকালু।

    সবই তো আমার। আমিই তো সব। আমি সাধু, আমি শয়তান। আমি রাজ্য, আমিই প্রজা। আমি গণতন্ত্র, ধনতন্ত্র, আমি মিত্র, আমি অরীত্র, আমি সৎ, আমি অসৎ, আমি যুদ্ধ, আমি শান্তি।

    প্রভু, আপনি বাঁধাকপি, আপনিই ফুলকপি। আপনি আলু, আপনিই রাঙালু।

    তুমি আবার কোথা থেকে, কোথায় চলে গেলে?

    প্রভু, আমি শম্প জগতে ঢুকে গেলুম। মানে আপনাকে ঢুকিয়ে দিলুম।

    তুমি আবার নতুন করে ঢোকাবে কী! আমি তো ঢুকেই আছি। আমি মহেশ্বর, আমিই পার্বতী।

    অসম্ভব। অসম্ভব প্রভু। তা হতে পারে না। আমরা দুজন ছাড়া আপনি সব।

    পাগলা, তা কি কখনও হয়! আমার প্রিয় পুত্র শ্রীরামকৃষ্ণ একেই বলেছিল, মতুয়ার বুদ্ধি। আমার ঋষিদের মুখ দিয়ে হাজার-হাজার বছর আগে যে বেদ-বেদান্ত রচনা করিয়ে গেছি, সময় করে সে সব একটু পড়ো না! সত্য জানতে পারবে।

    পার্বতী বললেন, হ্যাঁ, হ্যাঁ, সারাদিন ট্যাঙোস-ট্যাঙোস করে না ঘুরে, একটু লেখা-পড়া করো। আজকাল বি-এ, এমএ পাশ কিছুই নয়। ঘরে-ঘরে। রিসার্চ করো, ডক্টরেট হও। রাজনীতিতে নেমো না বাপু। এই তো একটু আগে দুম করে ভারতের প্রধানমন্ত্রীকে মেরে দিলে।

    মহেশ্বর বললেন, অ্যাঁ, সে কী গো, কে মারলে? তুমি কীভাবে খবর পেলে?

    আমার যন্ত্রে। আমার টিভি যন্ত্রে।

    পরমেশ্বর বললেন, তোমরা বেদজ্ঞ হলে এমন উতলা হতে না। আমি শ্রীকৃষ্ণ রূপে তোমাদের কী বলেছিলুম।

    ন জায়তে বা স্রিয়তে কদাচিদ
    ভূত্বা ন বায়ং ভবিতা ন ভূয়ঃ।
    নিত্যঃ পুরাণোহয়মজোহব্যয়োহসৌ
    ন হন্যমানে নিহতঃ শরীরে।।
    জন্ম নাই, মৃত্যু নাই, পুনর্জন্ম নাই,
    দেহের নাশেও দেহী থাকে সর্বদাই।
    অজ্ঞাত, শাশ্বত, নিত্য, চির-পুরাতন।।

    প্রভু, আপনার ওইসব হেঁয়ালি মানুষ বোঝে না বলেই, পৃথিবীতে ভণ্ডামি এত বেড়ে গেছে। মা মরছে, বাবা মরছে। ভাই ভাইকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। স্বামী সংসার ভাসিয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। সন্তান মায়ের কোল খালি করে সরে পড়ছে। শ্মশানে চড়চড় করে মৃতদেহ পুড়ছে। আর আপনি বলে আসছেন, জন্ম নাই, মৃত্যু নাই, পুনর্জন্ম নাই। দেহের নাশেও দেহী থাকে সর্বদাই!

    অ্যাটমের যুগে এসব চলে না মালিক। চিরকাল মানুষ আপনার ছায়াটাই দেখে এল। কায়াটা একবার দেখান।

    পাগল হলে মহেশ্বর। সশরীরে পৃথিবীতে হাজির হলে আমাকে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলবে।

    জ্যোতির্ময় শরীর ধারণ করে পৃথিবীর আকাশে ভেসে বেড়ান।

    ভূত ভেবে সব ভিরমি যাবে।

    তাহলে এই চলবে! কল্প কল্পান্তর ধরে?

    বোকা, সেই কারণেই তো আমি অবতার পাঠাই। কিছু শক্তি দিয়ে, কিছু বিভূতি দিয়ে।

    বহু বছর তো কোনও অবতারও পাঠাননি।

    সময় হয়নি এখনও। আমি তো বলেই রেখেছি, যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি।

    গ্লানির আর কী বাকি আছে প্রভু। রক্ষক ভক্ষক হয়ে প্রাইম মিনিস্টারকে শেষ করে দিলে।

    তুমি কেবল ভারতের কথাই ভাবছ। পক্ষপাতদুষ্ট ভাবনা। গোটা পৃথিবীর কথা ভাবো।

    সারা পৃথিবী জুড়েই কেলোর কীর্তি হচ্ছে। ইরাক-ইরানে যুদ্ধ চলছে তো চলছেই। অ্যায়সা বায়োবোম ছেড়েছে, মানুষের কী দুর্গতি! গায়ে চাকা-চাকা ফোঁসকা। দগদগে ঘা। অন্ধ। চামড়া ফেটে রক্ত ঝরছে। আফগানিস্থানের ঘাড়ে রাশিয়া চড়ে বসে আছে। ইয়লো রেন কাকে বলে জানেন প্রভু?

    বিষাক্ত গ্যাস।

    কাম্বোডিয়া, লাওস, ভিয়েতনাম, ফকল্যান্ড, আর্জেনটিনা। জার্মানি ফেঁড়ে দু-ভাগ। ভারত সীমান্তে পাকিস্তানের ঠুসঠাস। চিন আবার মাকর্সকে বাতিল করে দিলে। আমেরিকায় সঙ্গে দোস্তি। আপনার সাধের ইংরেজ, যাদের কিংডামে সূর্য অস্ত যেত না, সেখানে কী অবস্থা! থ্যাচারকে তো প্রায় শেষ করেই দিয়েছিল। মাইনাররা ধর্মঘট করে বসে আছে। আয়াল্যান্ড তেড়ে-তেড়ে আসছে। ডিকটেটাররা মানুষ ধরছে আর কোতল করে দিচ্ছে। আর আপনার প্রিয় আফ্রিকা।

    আমার প্রিয়?

    প্রভু, প্রথম মানুষকে তো আপনি আফ্রিকাতেই ফেলেছিলেন। মানুষের জন্মভূমি।

    তা অবশ্য ঠিক। দুর্গম স্থানেই আমি বীজ বপন করেছিলুম। ইচ্ছে করেই। ধীরে, ধীরে, ধীরে, ধীরে, মরতে মরতে। মারতে মারতে, মানুষ অসভ্যতা থেকে সভ্যতার আলোতে আসুক। এই ছিল আমার প্ল্যান।

    তা আফ্রিকার কী হয়েছে!

    প্রভু, আপনার টেলিস্কোপে একবার ফোকাস করুন না, দেখুন না ইথিওপিয়ায় কী হচ্ছে।

    জানি। জানি। জানি রে বাপু। বৃষ্টি নেই, দুর্ভিক্ষ, অনাহার, কঙ্কালসার মানুষ, ধুকছে, মরছে। মানুষের উদাসীনতায় মানুষ মরছে। জানি। আমি জানি সব।

    পরমেশ্বর পায়চারি শুরু করলেন। হাত দুটো পেছন দিকে মোড়া। মাথায় একমাথা রূপালি চুল। গায়ের রং উত্তপ্ত তামার মতো। চোখের বর্ণ নীল। স্বর্ণ বর্ণ দন্তসারি। কী ভীষণ রূপ!

    মহেশ্বর বললেন, কেন এমন করেন প্রভু? পৃথিবী তো কারুর বাপের সম্পত্তি নয়। কিছু মানুষ ভোগ করবে। আর কিছু মানুষ ভোগ্য হবে। কেন! কেন এই অবিচার?

    পরমেশ্বর পায়চারি থামালেন। ঘন নীল দৃষ্টি মেলে মহেশ্বরের দিকে তাকিয়ে বললেন, কেন বলো তো! কেন এমন করি?

    কী জানি প্রভু! মানুষ তো বলে, আপনি নাকি কবে কখন তাদের বলে এসেছেন, যে করে আমার আশ, আমি করি তার সর্বনাশ।

    সে তো ওদের কথা। আসল রহস্যটা কী?

    যদি বলি আমিই শয়তান। তোমরা এতকাল যাকে পরমেশ্বর ভেবে এসেছ, আসলে সে ছদ্মবেশী শয়তান। জীবিতের রাজত্বের মালিক হল শয়তান। মৃত্যুর রাজা ঈশ্বর। যোজন-যোজন ব্যাপী শূন্যতা। গ্রহ নেই, তারা নেই, অসীম অন্ধকার। সেখানে বসে আছেন তোমাদের ঈশ্বর। জীবন মানে কি মহেশ্বর? জন্ম আর মৃত্যু। ভোগ অথবা দুর্ভোগ। রোগ, শোক, জরা, ব্যাধি। জীবন মানে সংঘর্ষ। জীবন মানে বেঁচে থাকার শয়তানি কৌশল। আমার এই নীল চোখের দিকে তাকিয়ে দেখো। বিষাক্ত নীল। আমার বুকে হাত রেখে দেখো, হৃদয় নেই। আমার কোনও অনুভূতি নেই। মহেশ্বর, তোমাদের ঈশ্বর পরাভূত। তিনি শুধু কোলে তুলে নেন। কোল থেকে যেখানে নামান সে হল আমার এলাকা।

    মহেশ্বর, পার্বতী দুজনেই স্তব্ধ। এ কী পরমেশ্বরের হেঁয়ালি, না সত্য? সত্য কোথায়? সৃষ্টি আর লয় দুটোই তো রহস্য! জানা, অজানা হয়ে যেতে কতক্ষণ।

    আমি এবার বিদায় নেব।

    মহেশ্বর বললেন, প্রভু, আপনি যদি শয়তানই হন, আমরা কিন্তু এতকাল আপনাকে পরমেশ্বর বলেই জেনে এসেছি। সে ভুল আর না-ই বা ভেঙে দিলেন।

    গুহামুখ থেকে পরমেশ্বর অথবা শয়তান, যিনিই হোন না কেন গম্ভীর কণ্ঠে বললেন, সে তোমাদের ব্যাপার! কী সত্য আর কী মিথ্যা, এ বিচারের ভার আমি তোমাদেরই দিয়ে গেলুম। আমার কাছে সত্যও নেই, মিথ্যাও নেই। মানুষকে আমি নিজে কোনওদিনই বলতে যাইনি, তোমরা ভগবানকে মানো, কি শয়তানের থেকে সাবধান হও। বিশ্বাস আপনিই জাগে। সন্দেহ আপনিই আসে।

    মহেশ্বর আর পার্বতী গুহামুখের দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইলেন। কেউ নেই। রাত নেমেছে কৈলাসে। তুষারধবল রাত। হুহু বাতাস বইছে। হিমবাহ নামার শব্দ। বরফে-বরফে ঘর্ষণে হিলহিলে বিদ্যুৎ খেলছে চারপাশে।

    .

    মহেশ্বর বললেন, পারু এতক্ষণ কি আমরা কোনও দুঃস্বপ্ন দেখছিলুম?

    হতে পারে? ভদ্রলোক আবোল-তাবোল কী সব বকে গেলেন!

    অতটা অশ্রদ্ধা প্রকাশ কোরো না।

    দেবতা কখনও ভদ্রলোক হয় না। অমন কথা বলতে নেই, ছিঃ! তোমার বয়েস কয়েক কোটি আলোকবর্ষ হলেও, তোমার এখনও ভীমরতি হয়নি?

    দেবতারা তাহলে কি ছোটলোক!

    দেবতা-দেবতা। লোক কেন হতে যাবেন! লোক তো পোক!

    সে আবার কী?

    কেন? শোনোনি? অবতার পুরুষ শ্রীরামকৃষ্ণ বলেছিলেন, তোক না পোক। পোক মানে পোকা। উনি তো সৃষ্টির আদি থেকেই উলটোপালটা কথা বলার জন্য বিখ্যাত। কী আর করা যাবে। অমন বলেন বলেই পৃথিবীতে একদল মানুষ করে কর্মে খাচ্ছে গো!

    কথা বেচে? কথা সারা জীবন ওলোটপালোট করে!

    যারা রাজনীতি করে, তারা ওইরকম কথা বলে। কারুর সঙ্গে কারুর মিল নেই। এখন একরকম পরমুহূর্তেই আর একরকম। আর একদল হল দার্শনিক পণ্ডিত। পিপে-পিপে নস্যি আর ঘাড় দুলিয়ে তর্ক, তৈলাধার পাত্র, না পাত্ৰাধার তৈল। বীজ আগে না গাছ আগে! ডিম আগে না ছানা আগে!

    যাই, বৃদ্ধ মানুষটিকে ফিরিয়ে আনি। তুষার ঝড় শুরু হয়ে গেছে।

    আবার মানুষ বলছ? ঈশ্বর বলল।

    তাইতো বলতুম। এই যে বলে গেলেন, আমি ঈশ্বর নই, শয়তান।

    আরে বোকা ঈশ্বর আর শয়তান আলাদা নাকি? একই টাকায় এ-পিঠ ওপিঠ। এই যে আমি বারে বারে পৃথিবীতে যাই, কী দেখে আসি! মানুষের মধ্যেই ঈশ্বর, মানুষের মধ্যেই শয়তান। বাইরেটা দেখে বোঝার উপায় নেই। একদিকে প্যাণ্ডেলে ধুনুচি-নৃত্য হচ্ছে, আর একদিকে পেট্রল বোমা চলেছে। বন্ধু বন্ধুর বুকে ছুরি চালিয়ে দিচ্ছে। তোমার মাথায় তো সারাদিন ঘড়া-ঘড়া দুধ ঢালছে। কেন ঢালছে? কী চায় তারা! ধর্ম? আত্মার উন্নতি?

    না পারু। শুধু স্বার্থ। টাকা চাই টাকা। মুনাফা। মানি মানি মানি, সুইটার দ্যান হানি।

    তবে? কে ঈশ্বর! আর কে শয়তান, তুমি বুঝবে কী করে!

    বেশ আমি তাহলে শয়তানের সন্ধানে চলুম। যদি পাই, ধরে এনে পরমেশ্বরের পাশে দাঁড় করিয়ে দোব। তখনই ধরা পড়ে যাবে, এই জগৎ-সংসার দুইয়ের খেলা, না একের খেলা। গাছের ডালে দুটি পাখি, সু আর কু! না একটি পাখি সুকু। কী বলো গিন্নি!

    তোমার তো ট্যাঙোস-ট্যাঙোস করে ঘুরে বেড়ানোই কাজ। সেই ছুতোয় বেরিয়ে পড়ো। ব্রহ্মাণ্ডটা একবার চক্কর মেরে এসো।

    .

    মহেশ্বর বার-গুহায় এসে হাঁফ পাড়লেন, নন্দে। এই ব্যাটা নন্দে।

    নন্দী আপাদমস্তক চামরি-গাইয়ের লোমের কম্বল ঢাকা দিয়ে ঘুমোচ্ছিল। ধড়মড় করে উঠে বসল। ঘুমজড়ানো গলায় বললে, জি হাঁ। ছিলাম প্রস্তুত।

    ধ্যার ব্যাটা ছিলাম। মাথাটা গুইলে দিয়ে গেল।

    গুইলে নয় প্রভু গুলিয়ে। যাঃ বাবা, নিজেরই গুইলে যাচ্ছে।

    অ্যাঁ সে কী রে! শব্দটা তাহলে কী? গুলিয়ে। নে ধরে থাক।

    কী ধরব প্রভু?

    হস্যইটাকে আগে আসতে দিবি না।

    ঠিক আছে মহারাজ। চেপে ধরলুম। আগে আসতে দেব না।

    কী হয়েছে বলুন তো, সব যেন কেমন এমোলেলো হয়ে যাচ্ছে।

    কতটা টেনেছিস? এমোলেলো না এলোমেলো! ওঠ। ওঠ। উঠে দাঁড়া।

    নন্দী উঠে দাঁড়াল। প্রভু আমার মনে হচ্ছে পৃথিবী যেন ধীরে ঘুরছে। ইসপিড কমে গেছে।

    স্পিডোমিটারটা দ্যাখ। আস্তে ঘুরছে কী রে! তাহলে তো দিন রাত্রির মাপ ছোট-বড় হয়ে যাবে। ঋতু পালটে যাবে। বছর লম্বা হয়ে যাবে।

    নন্দী স্পিডোমিটার দেখে বললে, হ্যাঁ প্রভু, ইসপিড কে কমিয়ে দিয়েছে।

    সেরেছে।

    তাতে আমাদের কী? আমাদের কাঁলকচা।

    কাঁলকচা কী রে! বল কাঁচকলা। শুধু আমার-আমার করে মরছিস কেন? মানুষের কথা ভাব। সারা বছর চাল, কলা, মূলো কম দিচ্ছে! দুধ খাওয়াচ্ছে ঘড়া-ঘড়া।

    আর বলবেন না। বোগড়া চাল, পচা কলা, জোলো দুধ।

    তা আর কী হবে বল! রেশানের চাল জাঁকের কলা, ফুঁকো দেওয়া দুধ। বিজ্ঞানেই বারোটা বাজালে।

    ক্যাঁচ করে ভীষণ একটা শব্দ হল। নন্দী আর মহেশ্বর দুজনেই দুম করে মাটিতে পড়ে গেলেন।

    মহেশ্বর বললেন, নন্দে, এটা তোর কী কায়দা!

    আমার কায়দা নয় প্রভু। ব্রেক কষেছে। পৃথিবী থেমে গেছে! আর ঘুরছে না।

    কে কষলে?

    মালুম শয়তানে। অনেক দিন ধরে চেষ্টা চালাচ্ছিল।

    শয়তানের ঠিকানা জানিস? ফোন নম্বর?

    সে যে পালিয়ে বেড়ায়, দৃষ্টি এড়ায়, যায় না তারে চেনা।

    তোকে আমি রবীন্দ্রসঙ্গীত করতে বলিনি। চল, আমি শয়তানকে ধরতে যাচ্ছি।

    সে কি প্রভু! লোকে মাছ ধরতে যায়, আপনি শয়তান ধরতে যাবেন।

    কথা বাড়াসনি, চল।

    মহেশ্বর বললেন, নন্দে, পৃথিবীর আকাশে এই হাহাকার কীসের?

    বেশ বড় কিছু ঘটছে।

    আর কী ঘটবে! ভারতের আকাশে আর কী ঘটতে পারে। স্বর্ণমন্দিরে লড়াই। কর্ণাটকে মন্ত্রিসভার–না কর্ণাটক নয়, অন্ধ্র। অন্ধ্রে মন্ত্রিসভার পতন ও উত্থান। প্রধানমন্ত্রীর তিরোধান। আর কী হবে!

    কিছু একটা হয়েছে। এত দূর থেকে বলি কী করে? চলুন নীচে নেমে দেখা যাক। আপনারাই তো বলেছেন, ধূম দেখলেই বুঝবে বহ্নি আছে।

    চল তা হলে।

    মহেশ্বর আর চিরকালের বিখ্যাত সঙ্গী নন্দী ভূপালে এসে নামলেন। নামার সময় শুধু একবার মাত্র বলতে পেরেছিলেন, কী বিশ্রী কুয়াশার রাত।

    তারপর শ্রীমুখে আর কথা সরল না। ডানাকাটা জটায়ুর মতো দুম করে ডিগবাজি খেয়ে মাটিতে পড়লেন। মুখ হাঁ হয়ে গেল। তিনবার কোনওক্রমে বললেন, নন্দে, একটু জল। সেই ঘোরের মধ্যেই দেখলেন, শহর ছেড়ে মানুষ পালাচ্ছে। রাজা ছুটছে, প্রজা ছুটছে। মরা পাখির মতো, টুপটাপ মানুষ ঝরছে। তারপর আর জ্ঞান রইল না। অসীম শ্বাসকষ্টে জ্ঞান হারাবার আগে একবার শুধু ভাবতে পারলেন, এতদিনে পার্বতী আমার বিধবা হল। কোথায় গেল আমার সেই ক্ষমতা। একদিন এই কণ্ঠে সমুদ্রমন্থনের সব হলাহল ধারণ করেছিলুম!

    মহেশ্বর মরলেন না। দেবতার মৃত্যু হয় না। অমর। জ্ঞান হল। নির্জন বনানীর ধারে, নদীর পারে। কার কোলে মাথা? পার্বতীর!

    তুমি কে?

    আমি পরমেশ্বর। তুমি ওখানে মরতে গিয়েছিলে কেন?

    জানো না, তোমার আর সে ক্ষমতা নেই। সঙ্গদোষে সব গেছে।

    প্রভু, তা ঠিক। আমরা এসেছিলুম হাহাকার শুনে। ভেবেছিলুম, শয়তান আবার নতুন চাল চেলেছে। ব্যাটাকে ধরতে হবে।

    পরমেশ্বর বললেন, আরে আমিও তো সেই খোঁজেই এসেছিলুম। ভেবেছিলুম জালার ভেতর থেকে সেই মহা-প্রতাপশালী ধোঁয়ার কায়া নিয়ে বেরোচ্ছে আলাদিনের দৈত্যের মতো। ভুল হয়েছিল। এ যে আমেরিকান গ্যাস। নাম মিক। সব ছারখার করে দিয়েছে।

    এ তারই খেলা।

    না-না, এ হল মানুষের বিজ্ঞানের খেলা।

    তা হলে বিজ্ঞানই শয়তান।

    হতে পারে। তবে আকাশে আমি তার অট্টহাসি আর কণ্ঠস্বর শুনেছি।

    কী শুনলেন?

    বললে, মুখ ভগবান, তোমার সৃষ্টির ভেতর আমি নিজেকে পাউডারের মতো ছড়িয়ে দিয়েছি। এখন আমার আর নির্দিষ্ট শরীর নেই। আমি এখন বহু হয়ে গেছি। কোটি-কোটি মনের কোথায় আমি তিলতিল হয়ে আছি, খুঁজে বের করতে তোমার চুল পেকে যাবে।

    প্রভু, এই কলস্বনা নদীটির নাম?

    বৈতরনী।

    তাহলে চলুন প্রভু, ভাসাই ভেলা। পারুর জন্য মন কেমন করছে।

    ⤶
    1 2 3 4
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    লোটাকম্বল – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }