Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হলুদ নদী সবুজ বন – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    উপন্যাস মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১১. বড়দিনের আমোদ উল্লাস

    এবার বড়দিনের আমোদ উল্লাসের পরিকল্পনা করা হল নতুন রকম।

    ধৰ্মগত আচারগত নিয়ম অনুষ্ঠান যথারীতি পালন করা তো আছেই, নতুনত্বের ব্যবস্থা হল সকলে মিলেমিশে আমোদ ফুর্তি করার ব্যাপারে।

    গতবার ক্লাবে শিল্প-প্রদর্শনী, ম্যাজিক এবং সিনেমা দেখাবার ব্যবস্থা করা হয়েছিল নাচ গান ও বিশেষ খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা তো ছিলই।

    কিন্তু কিছুতেই যেন জমানো গেল না একদিনের একবেলার আনন্দ করা।

    সমস্ত উৎসব অনুষ্ঠান কেমন যেন একটা প্রাণহীন হালকা আলগা ব্যাপারে পরিণত হয়ে গেল।

    অনেক পরামর্শের পর ঠিক করা হয়েছে যে, এবার গহন গভীর বনের ভিতর গিয়ে বনভোজন করা হবে।

    বনের নামে নিজেদের মনকে চোখ ঠারার ব্যাপার হবে না, শহরের পাশের শহরতলির গায়ের মতো বনের পাশের ঝোপঝাড়ের জঙ্গলে গিয়ে কাজ সেরে এসে মনে করা হবে না যে, অরণ্যকে জয় করে আসা গিয়েছে।

    খাঁটি খ্রিল যাতে পাওয়া যায় সেজন্যে যাওয়া হবে দুর্গম অঞ্চলে, সত্যিকারের বনের বুকে।

    হিংস্র ভয়ঙ্কর প্রাণীদের যেখানে আসল আস্তানা।

    নিরাপত্তার ব্যবস্থা অবশ্য করা হবে ভালোভাবেই।

    তাদের নিজস্ব বন্দুক তো থাকবেই। তাছাড়াও চার-পাঁচজন পাকা শিকারি বন্দুক নিয়ে সঙ্গে যাবে।

    বয় খানসামা যাবে দশ-বারজন।

    সুতরাং ভয়ের কোনো কারণ নেই।

    বড়মিঞা থেকে শুরু করে বনের সমস্ত হিংস্র প্রাণী দূরে ঝোপঝাড়ের আড়ালে লুকিয়ে থাকবে।

    ইভা বলে, লুকিয়ে থাকবে? অত ভীরু নয় রয়েল বেঙ্গল টাইগার। নরম মাংসের ঝাঁক দেখে তেড়ে আসবে, মিস্টারদের গুলি ফস্কে যাবে, আমাদের ঘাড় মটকাবে।

    আগের দিন বিকালের দিকেই বনভোজনের জল্পনা-কল্পনা নিয়ে ক্লাব-বাড়ি মুখর হয়ে ওঠে–মেয়েরা অনেকে এখন থেকেই বনাভিসারের থ্রিল অনুভব করতে শুরু করেছে। বনের চেয়ে বনবাসী বাঘের ভয়টাই অনেকের মধ্যে দেখা যায়।

    মিসেস বাগচী বলে, ঈশ্বরকে সঙ্গে নিলে হত না? বন-জঙ্গল বাঘ-ভালুকের ব্যাপার ও খুব ভালো জানে। কি রকম হাতের তাকদুজনের রাইফেল ফস্কে গেল, ওর গুলিতে বাঘটা মরল।

    মিসেস বাগচী বড়ই বাঁচালিকা, হালকা আবোল-তাবোেল কথা সব সময় মুখে লেগেই আছে। তার কোনো কথায় সাধারণত কেউ কান দেয় না; কিন্তু তার আজকের প্রস্তাবটি প্রায় সকলেই সমস্বরে সমর্থন করে।

    বিশেষভাবে মেয়েরা।

    মিসেস জনসন বলে, ওকে নিলে দোষ কি? সেটির দিকটা তো আছেই, তাছাড়া খাঁটি দেশী শিকারি কু দিয়ে ওরা নাকি কিভাবে হরিণের পাল ভুলিয়ে ডেকে এনে শিকার করে। মারতে চাই না, হরিণের পাল দেখতে চাই।

    মেদবহুল দেহ নিয়ে জনসন সর্বদাই অস্বস্তি বোধ করে। জনসনের বুড়ি মায়ের মতত শুকনো শীর্ণ নয় কিন্তু জুনিয়ার মিসেস জনসনের প্রায় তারই মতো লিকলিকে চেহারা।

    জনসন বলে, ঈশ্বর যাবে বৈকি নিশ্চয় যাবে। আরো কয়েকজন দেশী শিকারিও যাবে।

    একজন মন্তব্য করে, ঈশ্বরের বন্দুক নেই, লাইসেন্স নেই।

    জনসন কথাটা তুচ্ছ করে উড়িয়ে দিয়ে বলে, বন্দুকের কি অভাব আছে? আমার পুরোনো শটগানটা না হয় ওকে দেব।

    পরদিনের অরণ্যাভিযানের জন্যে শিকারি হিসাবে ঈশ্বরকে ভাড়া করে ফেলার জন্য সাইকেল চেপে লোক রওনা হয়ে যায়। সে যখন ফিরে আসে, সন্ধ্যা উত্তীর্ণ হয়ে গিয়েছে।

    তার রিপোর্ট শুনে সকলে থ বনে যায়।

    তাদের সঙ্গে শিকারি হিসাবে বনে যেতে ঈশ্বর সরাসরি অস্বীকার করেছে–লাখ টাকা কবুল করলেও সে যাবে না। লাইসেন্স বাতিল করে বন্দুক কেড়ে নিয়ে শিকারি মহলে তাকে অপদস্থ করা হয়েছে–সকলের কাছে তার মাথা কাটা গিয়েছে।

    মিসেস জনসন জিজ্ঞাসা করে, ডিয়ার, কাল সকালবেলাই আমাদের রওনা দিতে হবে। ঈশ্বরের বন্দুক আর লাইসেন্সের ব্যবস্থা কি করে হবে?

    জনসন হেসে বলে, হবে হবে, সব ঠিক হয়ে যাবে।

    এভাবে বেইজ্জত করার পর সাহেবরা কোন মুখে আবার তাকে ডেকে পাঠায়!

    খুব নাকি গরম মেজাজ দেখিয়েছে ঈশ্বর!

    রবার্টসন রেগে আগুন হয়ে ঘোষণা করে যে, ফ্যাক্টরি খুললেই ঈশ্বরকে সে ফায়ার করবে।

    জনসন তাকে ধমক দিয়ে বলে, শাট আপ!

    তখন রামসুখলাল ধীরভাবে মৃদুস্বরে আরো একটা সম্ভাবনার কথা জানায়। যে কজন দেশী শিকারিকে আগে থেকেই সঙ্গে নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল, তারাও শেষ পর্যন্ত এসে পৌঁছবে কিনা সন্দেহ আছে।

    মিসেস জনসন আঁতকে উঠে বলে, ও মাই গড়, আমি তোমাদের পিকনিকে যাচ্ছি না।

    ইভা বলে, আমিও না। বীরপুরুষদের ভরসায় বনে মজা করতে গিয়ে বাঘের পেটে যাই আর কি!

    মিসেস বাগচী খিলখিল করে হেসে ওঠে। বাঘের পেটে যাওয়া কম মজা নাকি? তবে আমি যেতে রাজি নই!

    জনসন ধীরভাবে বলে, ঈশ্বর অন্যায় কথা বলে নি–শিকারির একটা প্ৰেষ্টিজ আছে। বৈকি।

    যাই হোক তোমরা ভেব না, ঈশ্বর আমাদের সঙ্গে যাবে, অন্য শিকারিরা যাবে। আমি ব্যবস্থা করছি।

    রাতারাতি যেন মন্ত্রবলে অঘটন ঘটে যায়। রাতারাতিই বা কেন। সন্ধ্যায় জনসন মেয়েদের প্রতিশ্রুতি দেয় যে, ঈশ্বর বন্দুক ফিরে পাবে এবং অতিরিক্ত রক্ষী হিসেবে তাদের সঙ্গে বনভোজনে। যাবে। রাত দশটা নাগাদ থানা থেকে লোক তার ঘরে গিয়ে হাজির হয়।

    পুলিশের বড়কর্তা এবং জেলার বড় হাকিমও ক্লাবের মেম্বার, সুতরাং বন্দুক বাজেয়াপ্ত করার পরোয়ানা বাতিল করার হুকুম জারি করানো এবং বন্দুকটা ফিরিয়ে আনতে সেই রাত্রেই ঈশ্বরকে থানায় পাঠানোর ব্যবস্থা করা কঠিন হয় না।

    ডাক শুনে ডিবরি জ্বেলে বাইরে বেরিয়ে থানার সত্যচরণকে সাধারণ বেশে একা দেখে খানিকটা স্বস্তি বোধ করলেও ঈশ্বর শঙ্কিতভাবে জিজ্ঞাসা করে, কি হয়েছে?

    শঙ্করবাবু থানায় একবারটি তোমায় নেমন্তন্ন করেছেন।

    কি আবার করলাম? শিকারে ভাড়া খাটতে না চাইলে থানায় যেতে হয় নাকি?

    আরে না না, এবার কিছু কর নি। তোমার বরং কপাল খুলেছে যা কিছু করেছিলে সব মাপ হয়ে গিয়েছে। বন্দুকটা ফেরত পাবে, কাল সকালে সাহেবদের পার্টির সঙ্গে শিকার করতে যাবে।

    ঈশ্বর ভাবে, স্বপ্ন দেখছে না জেগে আছে? তেজ দেখিয়ে চোটপাট করে ক্লাবের লোককে ভাগিয়ে দেবার জন্যে তাকে শায়েস্তা করার বদলে ক্লাবের সাদাকালো সাহেব বাবুরা তার মান রেখে মন যোগাতে চাইছে!

    বাইরে কনকনে ঠাণ্ডা। শুধু ঘেঁড়া ফতুয়াটা গায়ে দিয়ে দুয়ার খুলে বাইরে এসে দাঁড়িয়ে তার রক্ত যেন জমে যাচ্ছিল।

    সত্যচরণের গলা থেকে পা পর্যন্ত ঝোলানো লোম-ওঠা কালো মোটা গরম জামা।

    ঈশ্বর সংশয়ভরে জিজ্ঞাসা করে, থানায় ধরে নিয়ে গিয়ে মারধর হবে না তো?

    সত্যচরণ বিড়ি ধরানো স্থগিত করে হেসে বলে, আরে না না, পাগল নাকি? মারধরের জন্যে দরকার হলে কি এরকম খাতির করে ডাকতে আসতামঃ সঁচ-সাত জনে এসে ধরে বেঁধে নিয়ে যেতাম।

    বিড়িটা ধরিয়ে বলে, দেরি করিস না। শঙ্করবাবু চটে যাবে।

    গায়ে কিছু চড়িয়ে আসি। কী ঠাণ্ডা পড়ছে বাপ রে বাপ!

    কনকনে শীতের রাত্রেও ঈশ্বরকে পশু মারতে বার হতে হয়েছে। কখনো নিজের প্রয়োজনে, কখনো শিকার পার্টির ভাড়াটে হয়ে।

    বাপের আমলের একটা গরম জামা ছিল, ঈশ্বর একটা কম্বল জাতীয় চাদর কিনেছে। চাদরটা জীর্ণ হয়ে এলেও মোটামুটি ঠিক আছে। গরম জামাটা পোকায় কেটে ফুটো করে দিয়েছে এবং সব বোতাম গিয়েছে খসে। গৌরী মাথার দুটো সস্তা তামার কাটা খুলে তার জামার বুকটা আটকে দেয়। তার খোপা পিঠে এলিয়ে পড়ে।

     

    থানার দিকে চলতে চলতে সত্যচরণ বলে, ভালুকের মতো দেখাচ্ছে।

    ঈশ্বর বলে, বাঘ-ভালুকের দেশে ভালুক না সেজে উপায় কি!

    খানিকক্ষণ চুপচাপ হেঁটে থানার সদর বারান্দার ডে-লাইটের আলোটা চোখে পড়ার পর সত্যচরণ বলে, আমায় কিন্তু কিছু দিতে হবে ঈশ্বর।

    ঈশ্বর বলে, গায়ের খানিকটা মাংস খুবলিয়ে নিতে পার।

    তা বলছি না। তোমার কিছু নেই সেটা জানি। বলছি কি, কাল অনেক কিছু পাবে। সাবদের বাবুদের ক্লাবের পিকনিক–সোজা ব্যাপার নয়। মজা তো লুটবেই, বাড়তি অনেক কিছু পাবে। আমি এটা পাইয়ে দিচ্ছি–আমায় যেন ভুলো না।

    আগে তো পাই।

    পাবে বৈকি, নিশ্চয় পাবে। ভালোমতো যাতে পাও সেদিকে, মোর নজর রইবে ভাই।–বলে সত্যচরণ নিজের বুকটা ঠুকে দেয়।

    থানায় গিয়ে তার জমা বন্দুকটা ফেরত নিয়ে ঈশ্বরকে ক্লাবে যেতে হয়।

    রামসুখলালের কাছ থেকে জেনে বুঝে নিতে হয় সকালে কখন আসবে, কোথায় যাবে, কি করবে ইত্যাদি খুঁটিনাটি সমস্ত ব্যাপার।

    রামসুখলাল বলে, আসল বনের ভিতর যাবার ঝোঁক চেপেছে।

    অ্যাভেঞ্চার কাকে বলে জান, কখনো নাম শুনেছ? এ হল একরকম ক্ষ্যাপামি, বোকার মতো যেচে গিয়ে কষ্ট করা, বিপদে পড়া। ওই যে বলে না সুখে থাকতে ভূতে কিলোয়ঠিক সেই ব্যাপার। যাক গে, বনে যাবার ঝোঁক চেপেছে, নিয়ে যেতে হবে। এ দায়টা তোমার। গভীর বনে নিয়ে যাবে কিন্তু বিপদ যেন না ঘটে।

    রামসুখলাল সিগারেটের মতো সরু একটা সিগার ধরিয়ে হেসে বলে, সত্যি কথা বলি ভাই, রাতারাতি সবাই তোমায় স্পেশাল অফিসার বানিয়ে দিয়েছে। কোন পথে বনের ভিতরে কোথায় যাওয়া হবে, কিভাবে যাওয়া হবে–সব তুমি প্ল্যান করে ঠিক করবে। লেডিজরা চান যে পিকনিকও করবেন, বনটাও ভালো করে দেখে আসবেন।

    ঈশ্বর বলে, দফা সেরেছেন আমার।

    রামসুখলাল বলে, দরকার মনে করলে দু-চারজন লোকও তুমি সঙ্গে নিতে পার। ওদের দেনাপাওনা তুমি যেমন বলবে আমি তেমনি মিটিয়ে দেব। সকলের ফুর্তির ব্যাপার, পাঁচ-দশ টাকার জন্যে যে আটকাবে না সে তো বুঝতেই পারছ।

    ঈশ্বর বলে, দু-চারজন বাড়তি লোক লাগবে বৈকি। সত্যি সত্যি বনের ভেতরে যেতে হলে ওদের ছাড়া চলবে না। মোরা নমাসে ছমাসে বনের মধ্যে যাই, ঠিক পথ খুঁজে বেছে নিবার সাধ্যি আছে মোদের? আজ যে পথে দিব্যি এগোনো যায়, মাসেক পরে সে পথের চিহ্ন খুঁজে মেলা দায়। পথ পেলেই বা কি?–হোথায় হামা দিয়ে, হোথায় বারের মতো এ গাছে চড়ে আরেক গাছের ডাল ধরে ঝুলে, দু পা এগোতে প্রাণান্ত। মেয়েদের কথা বাদ দেন, আপনি আমি ব্যাটা ছেলেরা গুলোর জ্বালায় হিমশিম খেয়ে যাব সুখলালবাবু।

    রামসুখলালের নিশ্বাস ফেলার সময় ছিল না, তবু সে দাঁড়িয়ে থেকে কৌতূহলের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, গুলো? সে আবার কি?

    ঈশ্বর চমৎকৃত হয়ে বলে, শুললা জানেন না? সজারুর কাটা দেখেছেন? ওইরকম দেখতে বড় গাছের গোড়া থেকে সিধে ওঠে–চাদ্দিক ছেয়ে যায়। আঃ, দেখতে কি সুন্দর সুখলালবাবু। কিন্তু শুলোর জ্বালায় চলতে ফিরতে বড় মুশকিল হয়।

    গাছকে খাড়া রাখতে, বনকে টিকিয়ে রাখতে শুলোর কি ভূমিকা ঈশ্বরেরও তা জানা ছিল না, রামসুখলালকে ব্যাখ্যা করে বুঝিয়ে বলবে কি! ভিজে নরম মাটিতে বড় ভারি গাছের শিকড় যে শুলোর জন্যে শক্ত অবলম্বন পায়, সামান্য ঝড় বাতাসেই গাছ উপড়ে গিয়ে কাত হয়ে পড়ে না, কজনেই বা এ রহস্য জানে।

     

    খুব ভোরে রওনা দেবার কথা ছিল কিন্তু মেয়েদের নিয়ে কারবার তো, প্রথম ব্যাচ তৈরি হতে হতেই দিগন্তে গাছের আড়াল ছেড়ে সূর্যের আবির্ভাব ঘটে যায়। টিম্বার কোম্পানির লঞ্চ দুই দফায় সকলকে নদীর ওপারে ময়নাদলে পৌঁছে দেয়।

    সত্যিকারের বনে বনভভাজন করতে যাবে বলেই কি মেয়েরা এমন বিচিত্র বেশ ধারণ করেছে, মেমসায়েবদের আয়ারা পর্যন্ত?

    অন্য সকলের চেয়ে রংদার জমকালো শাড়ি জামা পেলে খুশি হয়, একটু অহঙ্কারও জাগে কিন্ত নিজেদের মধ্যে শাড়ি জামার পাল্লা চালাবার আগ্রহ তাদের বিশেষ নেই-আসলে পাল্লা চালায় তারা যাদের চাকরানী তারাই। যে যা-ই মনে করুক, আয়াদেরও কঠোর নীরস জীবন যাত্রা। দিবারাত্র অন্য নারীর ছেলেপুলে সামলে তার মন যুগিয়ে চলা একটা সংসারে স্ত্রী এবং মার কত আসল দায় যে তাদের নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে পালন করতে হয়। এ কাজটাই স্ত্রীলোকের জীবনের অভিশাপের মতো।

    মেয়েরা সবাই শাড়ি পরেছে। কত দামি কী বিচিত্র শাড়িই যে সবাই গায়ে জড়িয়েছে, রঙিন পেলবতার আলগা ছন্দে লীলায়িত হতে চায়, রঙ্গময়ী প্রকৃতিকে পরাস্ত করতে চায়।

    কিন্তু আশ্চর্য এই, মিসেস জনসনের অল্পবয়সী আয়া আমিনার সস্তা একরঙা ছাপা শাড়িটাই যেন সকলের সমস্ত শাড়ির দৰ্প হরণ করেছে।

    মিসেস জনসনের গায়ে কায়দা করে জড়ানো কলকাতার তৈরী কাশ্মিরি শাড়িটা পর্যন্ত যেন। খেললা হয়ে গিয়েছে আমিনার সস্তা শাড়িটার কাছে!

    আমিনার দেহে তাজা নবযৌবনের রঙে রঙিন হয়ে কি তার সস্তা শাড়িটা হারিয়ে দিয়েছে রংচঙা এতগুলি দামি শাড়িকে!

    একমাত্র বনানীর শাড়িটিকে ছাড়া।

    কী চমকার যে মানিয়েছে শাড়িটা তার বান-ডাকা নদীর মতো উথলে-ওঠা উছলে-পড়া যৌবনের মোটাসোটা গড়নের জমকালো দেহটায়।

    বার বার সকলের নজর আমিনা আর বনানীর দিকে যায়।

    ইভা সাধারণ একটি দামি সিল্কের শাড়ি পরে এসেছিল—তার রূপের তুলনা মফস্বলের এই ছোট শহরের ধারেকাছে মিলবে না-তাই কি তার শাড়ির শোভায় রূপ বাড়াবার আগ্রহ নেই?

    ইভা সরলভাবে সাগ্রহে বনানীকে জিজ্ঞাসা করে, এ শাড়িটা আবার কবে কিনলে?

    বনানী জবাব দেয়, এটা আমার বিয়ের শাড়ি, ট্রাঙ্কে তোলা ছিল।

     

    ক্লাবের পক্ষ থেকে আগেই তিনজন দেশী শিকারি ঠিক করে ফেলা হয়েছিল। ঈশ্বর অন্য ধরনের আরো দুজন পেশাদার শিকারিকে চুক্তি করে সঙ্গে এনেছিল! নিজাম সেখ আর গজেন দাস।

    ওদের সম্বল গাদা বন্দুক। তা হোক।

    কয়েকটা দামি রাইফেল ও ভালো দোনলা বন্দুক সঙ্গে যাচ্ছে। বন্দুকের অভাবে বিপদে পড়তে হবে না।

    ওরা দুজন পথ দেখিয়ে গহন বনে নিয়ে যেতে গাইডের কাজ করবে–বন ওদের খুব ভালো রকম চেনা।

    ঈশ্বরের চেয়ে বেশিরকুম চেনা কিনা কে জানে। ঈশ্বর বলে যে বনে ওদের নিত্যি যাতায়াত, তার চেয়ে বন ওদের ঢের বেশি জানাচেনা বৈকি।

    এটা ঈশ্বরের বিনয় কিনা বোঝা যায় না।

    জল্পনা কল্পনা হয়েছিল অনেক, মেয়েরা বার বার জোরগলায় অসীম ধৈর্য ও দুঃসাহসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, বন দেখতে যখন যাওয়া হচ্ছে তখন ভালোভাবে বনের ভিতরটা না দেখে তারা ফিরবে না।

    প্রান্তদেশের আলগা ছাড়াছাড়া অংশটুকু বাদ দিলে আসলে বনের মধ্যে সিকি মাইলও এগোনো হয় কিনা সন্দেহ।

    জীবিকার সন্ধানে মানুষ নাকি প্রতিদিন গভীর বনে প্রবেশ করে–এই নাকি তাদের নিত্যি চলাচলের পথ! ঝোপ ঠেলে, গাছের ডাল সরিয়ে, কঁটা লতার বাঁধন থেকে শাড়ি ছাড়িয়ে, মাঝে মাঝে প্রায় হামা দেবার মতো কুঁজো হয়ে মানুষ কতদূর এগোতে পারে।

    শীতের কুয়াশাবিহীন উজ্জ্বল দিন, কিন্তু বন যেন রাত্রিকে গাঢ় ছায়ার রূপ দিয়ে বুকে ধরে রেখেছে, স্থানে স্থানে প্রায় অন্ধকার।

    অনেকগুলি টর্চের আলো জ্বললে কি হবে, গা তবু শিরশির করে।

    মিসেস বাগচী বলে, বাবা, দুমকার ওদিকেও শালবন দেখেছি, সে তো এরকম নয়!

    বনানী বলে, এ যে সুন্দরী বন–কিরকম সুন্দরী টের পাচ্ছ না?

    খানিক এগিয়েই পাওয়া গিয়েছিল একটু ফাঁকা স্থান।

    গাছ সেই স্থানটুকুতে গায়ে গায়ে জড়িয়ে ঘন হয়ে ওঠে নি, লতায় পাতায় চালার মতো আচ্ছাদন তৈরি করে নি।

    অনেকগুলি ফাঁক দিয়ে ঝলক ঝলক রোদ ঘরের লেপা মেঝের মতো সমতল মসৃণ মাটিতে এসে পড়েছে। এদিকে প্রকাণ্ড একটা ইটের স্থূপ, তার সামনেই কচুরিপানা আর সুন্দর নীল ফুলে। ঠাসা প্রায়-ভরাট হয়ে আসা একটা প্রকাও মজা দিঘি।

    সেইখানেই সমাপ্ত হয় তাদের বনাভিযান।

    মহাসমারোহে শুরু হয়ে যায় পিকনিকের বিশেষ রান্নাবান্নার ব্যবস্থা।

    বয় খানসামা সঙ্গে এসেছে কিন্তু তারা তফাতে দাঁড়িয়ে বসে নিজেদের মধ্যে হাসিগল্পের আড্ডা জমায়–পিকনিকের রান্নাবান্না নিজেরা খেটেখাটে না করলে কি সঙ্গত হয়, না মজা লাগে?

    ইটের স্তুপ আর পুম্পিত কচুরিপানায় ঢাকা ভরাট হয়ে আসা দিঘির গল্পটা ঈশ্বর সবে বনানীকে শোনাতে আরম্ভ করেছিল। ইভা, মিসেস বাগচী, সরসীরা কলরব করে ওঠে, আরো জোরে বল ঈশ্বর, শুনতে পাচ্ছি না।

    ঈশ্বর বিব্রত হয়ে বলে, আজ্ঞে, আমি শুধু শোনা কথা বলছিলাম। একটু জোরে জোরেই বল না, আমরাও তোমার শোনা কথা শুনি।

    ভুঁড়িমোটা বাগচী একটু হেসে বক্তৃতা দিতে রু করে, ঈশ্বরের শোনা কথা শুনে কি লাভ হবে? আসল কথাটা আমি বলছি। এখানে কোনো রাজার বাড়ি ছিল অথবা কোনো বিশেষ সম্প্রদায়ের মন্দির বা মঠ ছিল, আজ আর ঠিক করে বলা যায় না। ইটের কোনো স্ট্রাকচার মানেই সভ্যতার নমুনা। প্রাচীনকালের কোনো নগর হয়তো এখানে ছিল। ধ্বংস হয়ে যাবার পর বন ক্ৰমে ক্ৰমে সেটাকে গ্রাস করে এগিয়ে এসেছে। এখানে মাটি খুঁড়ে রিসার্চ করার বড় রকম একটা প্ল্যান হয়েছে–লাখ দশেক খরচ হবে। দুঃখের কথা আপনাদের বলব কি, দুবছর ধরে চেষ্টা করেও প্ল্যান আজ পর্যন্ত স্যাংশন করানো গেল না।

    স্বামীর বলার বহরে খুশি হয়ে মিসেস বাগচী উচ্ছসিতভাবে বলে, সত্যি, ভারতীয় কালচারের নতুন একটা দিকও হয়তো আমরা এখানে খুঁজে পেতাম।

    বনানী কেন যে এমন অভদ্রভাবে রেগে যায় কেউ বুঝতে পারে না। সে চেঁচিয়ে বলে, দয়া করে একটু থামবেন মাস্টারমশাই মাস্টারনীরা, একটু গলা বন্ধ করবেন? আপনাদের লেকচার অনেক শুনেছি, পরেও অনেক শুনব, ঈশ্বরের শোনা কথাটা একটু শুনতে দিন।

    বিব্রত ঈশ্বর বন্দুকটা একবার এহাতে নেয়, একবার ও-হাতে নেয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দিবারাত্রির কাব্য – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }