Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হলুদ নদী সবুজ বন – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    উপন্যাস মানিক বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প186 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. মানুষ নাকি সুখে দুঃখে বাঁচে

    মানুষ নাকি সুখে দুঃখে বাঁচে। সুখ আর দুঃখ নিয়ে মানুষের বাঁচার কারবার।

    কথাটা সত্যি।

    এই বন্য এলাকার বেশিরভাগ মানুষ নইলে কি এত বেশি দুঃখের সঙ্গে ছিটেফেঁটা সুখের ভেজাল দিয়ে বংশানুক্রমে বাঁচত!

    মুশকিল এই যে, মানুষ কেন বাঁচে কেন মরে এই প্রশ্ন থেকে বিশ্বব্ৰহ্মাণ্ড কেন চলে কিভাবে চলে এই সব প্রশ্ন নিয়ে মাথা ঘামিয়ে ঘামিয়ে যাদের জ্ঞানী গুণী বিদ্বান হতে হয়, মানুষের সুখ দুঃখের সাধারণ হিসাব নিকাশ তাদের কাছে বড়ই জটিল ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

    এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষ যারা একটুখানি সুখ আর অনেকখানি দুঃখ সম্বল করে বাঁচে, সুখ দুঃখের সহজ সরল স্পষ্ট মানে জেনেও তারা তাই ওপরতলার ওদের কর্তালিতে জীবনরহস্য ভেদ করার অক্ষমতায় বিনম্র বিভ্রান্ত হয়ে বিশ্বাস করে যে, সুখ দুঃখের মানে বোঝার চেষ্টা করাটাও আগেকার চোদ্দ পুরুষের মতো তাদের পক্ষেও মহাপাপ।

    লখার মা গেঁয়ো ভাষায় এই গূঢ় তত্ত্বকথা গাঁয়ের মেয়েদের বোঝাবার চেষ্টা করে।

    মেয়েরা তত্ত্বকথাটা বুঝুক না বুঝুক, তার কথার তাৎপর্য বোঝে।

    বোঝে কিন্তু সুখ দুঃখের মানে বুঝেও না বোঝার মতো আসল মানেটা গুলিয়ে ফেলে।

    লখার মা মাঝবয়সী। যৌবনে নিশ্চয় ভাটা শুরু হবে দু-চার বছরের মধ্যেই। গায়ের রং চোখ-জুড়ানো স্নিগ্ধ-রকম কালো।

    ফর্সা একখানা থান ধুতি পরে সে পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে বেড়ায়, পুরাণ রূপকথার নজির তুলে তুলে গেঁয়ো ভাষায় মেয়েদের বড় বড় দার্শনিক প্রশ্নের রসালো ব্যাখ্যা শোনায়।

    সেদিন দুপুরে গৌরীর ঘরে গিয়ে হাজির।

    মাজার টনটনানি কাবু করে ফেলেছিল গৌরীকে। তবু সে ব্যস্তসমস্ত হয়ে ওঠে। বেতের মোটা চাচিতে বোনা সস্তা পাটি পেতে তাকে বসতে দেয়।

    একটিমাত্র পান ছিল ঘরে, পানটি সেজে সমের সঙ্গে লখার মার হাতে তুলে দেয়।

    একফেরতা ফর্সা থান ধুতি পরা লখার মা পিঠে একরাশি চুল ছড়িয়ে আঁকিয়ে বসেছে।

    পান নিয়ে চিবোতে চিবোতে জিজ্ঞাসা করে, দেহটা বুঝি ভালো যায় না?

    না। হাসপাতাল থেকে খালাস পেয়ে এলাম খবর রাখ না বুঝি মাসি?

    খবর রাখি বলেই তো দেখতে এলাম রে। মেয়েরা আসতে শুরু করে।

    সকলের আগে আগে নকুলের বৌ পঁচী, প্রায় পিছনে পিছনে তার শাশুড়ি আর মণ্টার মা। মণ্টার বৌ, বোন, মাসি একসাথে এসে গোবর-লেপা মেঝেতেই ঘপ্ ঘপ্ করে বসে পড়ে এইটুকু আসতেই যেন বড় শ্রান্ত হয়ে পড়েছে।

    তারপর পাঁচটি ছেলেমেয়ের মা সুখের বৌ লক্ষ্মীকে গটগট করে ঘরে ঢুকে প্রায় লখার মার গা ঘেঁষে পাটিতে বসে পড়তে দেখে গোড়ায় মাথাটা ঘুরে যায় গৌরীর, তারপর রাগে গা জ্বালা করে।

    এটা যেন ওর ঘরদুয়ার। যার স্বামী পিছন থেকে এই সেদিন ঘরের চালা জ্বালিয়ে দেবার ব্যবস্থা করেছিল সে কিনা এমন তেজের সঙ্গে নতুন ছাওয়া সেই পোড়া ঘরটাতে ঢুকে এমনভাবে জাকিয়ে বসতে পারে? কে জানে এরা কি দরের মানুষ!

    লক্ষ্মী একটু নম্ৰভাবে লজ্জিতভাবে এলে, তার সঙ্গে দু-একটা কথা বলে দশজনের মধ্যে বসলে সুখের অপরাধের জন্য তাকে কিছুমাত্র দায়ী করার কথা গৌরী ভাবতেও পারত না–রাগে গা জ্বালা করা তো দূরের কথা।

    প্রায় বছর বছর বিইয়ে বেচারা পাঁচটি বাচ্চার মা হয়েছে–কোলেরটির বয়স বছর খানেক, আবার পোয়াতি হয়েছে সন্দেহ হয়।

    স্বামীর কোনো অপকর্মের সঙ্গে কি ওকে জড়ানো যায়!

    আরো কয়েক জন হাজির হয় আধঘণ্টার মধ্যে।

    দেহের ভারে যেন বড়ই কাতর এমনিভাবে হাতে ভর দিয়ে উঠে লখার মা বাইরে ঘুরে আসতে যায়।

    ঘর প্রায় ভরে গিয়েছে। নিজের চালা ঘরের চারিদিকে তাকিয়ে গৌরীর হঠাৎ খেয়াল হয় যে, তার মতো কমবয়সী মেয়ে বৌ এতগুলি মেয়েলোকের মধ্যে নেই বললেই হয়।

    দু-একজন যারা এসেছে, তারা এসেছে শাশুড়ি ননদের আঁচল ধরে, এসে বসেছে শাশুড়ি ননদের পিঠের আড়ালে।

    বাইরে ঘুরে এসে লখার মা জঁকিয়ে বসে।

    চোখ বুজে আঙুল সঞ্চালন করতে করতে বিড়বিড় করে দুর্বোধ্য কতগুলি শব্দ উচ্চারণ করে।

    দু-তিন মিনিটের বেশি নয়।

    তারই মধ্যে কয়েকজন সামনে ঝুঁকে মাটিতে মাথা ঠেকিয়ে ঠেকিয়ে তাকে প্রণাম করে।

    চোখ মেলে এক গাল হেসে লখার মা বলে, কেমন আছ গো নদেরষ্টাদের মা? জ্বরে ভুগছ নাকি? ঘরে ঘরে এই খালি জর আর জ্বর, জ্বরে কাত না হয়ে দুটো-একটা মাস কে যে ঘর-সংসার করছে, কি কাণ্ড বল দিকি? শাউড়ি যদি খাড়া রইল, বৌ ঠিক জ্বরে কাত হবে। এটা কিসের জ্বর, ঘরে ঘরে কেন এত জ্বর, সে কাহিনী জান নাকি গো তোমরা?

    ঈশ্বরের কাছে অনেকবার অনেকভাবে শুনে শুনে জ্ঞান জন্মে গিয়েছিল বলেই বোধহয় অন্য সব হিসাব ভুলে গৌরী বলে বসে, এটা তো ম্যালেরি জ্বর মশার কামড় থেকে হয়। ঠেসে কুইনাইন খেলেই নাকি জ্বর সেরে যায়।

    তোর জ্বর তবে সারে না কেন?

    মোর তো ম্যালেরি জ্বর নয়।

    তবে কেন মিছে বকছিল? রাবণ-সীতার জ্বরের কথাটা মোকে বলতে দিবি? না চলে যাব?

    গৌরী ভড়কে গিয়ে বলে, চলে যাবে কেন গো মাসি? চলে যেতে বলেছি? তুমি এয়েছ এ তো মোর পরম ভাগ্যের কথা!

    লখার মা হেসে বলে, তবে বাজে কথা না বকে, চুপচাপ বোস্ না বাছা?

    রাবণ ও সীতার জ্বরের কাহিনী!

    বানানো বাজে কাহিনী। অদ্ভুত উদ্ভট কাহিনী বানাতে লখার মার কল্পনার দৌড় কোনোকিছুর ধার ধারে না। একটা নিয়ম শুধু সে মেনে চলে, শ্লীলতার সীমা কখনো সে খুব বেশি ছাড়িয়ে যায় না–যাতে পাকা শাশুড়ি আর কাঁচা বৌ-র একসাথে বসে তার গল্প শোনা মুশকিল হতে পারে।

    তবু তার আসরে অল্পবয়সী মেয়ে বৌ বেশি জোটে না কেন লখার মা ভেবে পায় না। তার কল্পনার উদ্ভট দৌড়টাই যে বয়স্কা মা মাসি শাশুড়ি পিসিদের কাছে সরল সহজ সাধারণ অশ্লীলতার চেয়ে অনেক বেশি ভীতিকর, সরস সুন্দর জমকালো সহজ ভাষার সঙ্গে ভাবভঙ্গি মিশিয়ে বলার ধরন ও তার কাহিনী শুনে সমবয়সী মেয়ে বৌয়ের মাথা ঘুরে যাবার আশঙ্কা যে প্ৰায় সকলেই মনে মনে পোষণ করে—এটা আজো লখার মা টের পায় নি।

    আজেবাজে কথা তুলে গেীরী গল্প বলায় বাধা সৃষ্টি করেছিল বলে কেউ রাগ করে না। অনেক কাল গল্প শুনছে, সবাই জানে যে, গোড়ায় এরকম একটু বাধা পেলেই লখার মার গলা খোলে, গল্প জমে।

    আজকের গল্পের সার কথা হয় এই। রাবণ জগতের সেরা কামুক। ছিচকে লম্পট নয়, কামের মহা শক্তিশালী সাধক। এদিকে সীতাও জগতের সেরা সুন্দরী, সেরা যুবতী, মন্দোদরী কোথায় লাগে! অশোক বনে সীতা, রাক্ষসীরা দিবারাত্রি ঘিরে তাকে পাহারা দেয় আর নানাভাবে তার মন। ভোলাবার চেষ্টা করে। রাবণ পাগল হয়ে ছুটে ছুটে যায়, সীতাকে স্পর্শ করতে পারে না, মারাত্মক অভিশাপের খড়গ মাথায় ঝুলছে। ওদিকে রামের বিরহ সীতাকে অহরহ পোড়াচ্ছে।

    এই পর্যন্ত মোটামুটি রামায়ণের মান রেখে লখার মা তার গল্পের গোড়া ফাঁদে, তারপর শুরু হয় তার কল্পনার খাপছাড়া উদ্ভট টানাপড়েন।

    কামের জ্বালায় রাবণের এবং বিরহের জ্বালায় সীতার জ্বর হয়। সে জ্বর জগতে আগে ছিল না। ঘন ঘন পালা করে জ্বর আসে। সবচেয়ে আশ্চর্য কথা, দুজনেরই জ্বরের লক্ষণ হয় একরকম। হাড়ের মধ্যে শীত করে সর্বাঙ্গ কাপিয়ে জ্বর আসে, জ্বরের গরম তখন যেন ভেতর থেকে অসংখ্য সুচের মতো মাথা আর গা ছুঁড়ে ছুঁড়ে বেরোতে শুরু করে, তারপর ঘাম দিয়ে জ্বর কমে যায়।

    সেই থেকে জগতে ম্যালেরিয়ার শুরু।

    ম্যালেরিয়ার পৌরাণিক জন্মকাহিনী শোনাতে বেলা পড়িয়ে আনে লখার মা। কয়েকজন আবার তাকে প্রণাম করে, দু-একটা পয়সা বা কলা মুলো লাউ কুমড়ার ফালি তার সামনে ধরে দেয়। মৃত কার্তিক দাসের বৌকে যারা প্রণাম করতে রাজি নয়, তারাও পয়সা বা এটা ওটা দেয়।

    জগৎ সংসারে কেউ নেই লখার মার। কত পুরুষ ওত পেতে আছে তাকে খাইয়ে পরিয়ে সুখে আরামে রাখার জন্যে। এইভাবে পেট চলে বলেই কি লখার মা ওদের কাউকে আমল দেয় না? অথবা ওদের আমল দেবে না বলেই সে এভাবে নিজের পেট চালায়?

     

    ম্যালেরিয়ায় ভুগে ভুগে অল্প বয়সে লক্ষ্মণের মা যেন সাত বুড়ির এক বুড়ি হয়ে গিয়েছে। তার মাকেও তার চেয়ে কম বুড়ি মনে হয়।

    মেয়ের দিকে আড়চোখে চেয়ে লক্ষণের মায়ের মা বলে, রাবণ রাজার রোগ। এত বছর ওই রোগে ভুগেও এ হারামজাদী মরছে না কেন বাছা? হাড় মাস কালি করে দিলে!

    লক্ষ্মী বলে, ছিঃ, মরার কথা বলতে নেই!

    সত্যিকারের বুড়ি তিরাশি বছরের রাধার মা সঙ্গে সঙ্গে বলে, না না, মরার কথা মা বললে কি দোষ হয় রে বাছা? মুয়ে শতবার শাপ দিক, মর তুই, মর তুই মনে মনে ঠিক বলছে, তোর মরণের বালাই নিয়ে মরি, তুই বেঁচে থাক শতেক বছর।

     

    বাইরে দাওয়ায় বসে ঈশ্বর সব শুনছিল।

    কয়েক বছর আগে হলে তার মনটা ঘরের ভিতরের মেয়েদের মতই গম্ভীরভাবে নাড়া খেত, প্ৰাণে রহস্যঘন ভাবের তরঙ্গ উঠত।

    কিন্তু কবছর রবার্টসনের কারখানায় খেটে, হরেকরকম মানুষের সঙ্গে মিশে, তল্পিদার দেশী শিকারি হিসেবে প্রভাস রবার্টসনদের শিকার-সমারোহে কয়েকবার যোগ দিয়ে, গতবারের বাঘ মারার ব্যাপারটা থেকে অদ্ভুতরকম অভিজ্ঞতা লাভ করে, মনটা যেন কি রকম হয়ে গিয়েছে ঈশ্বরের।

    আজ তার হাসি পায়।

    মা অভিশাপ দিলেও সেটা হবে সন্তানের আশীর্বাদ!

    জগৎ সংসারে প্রাণীদের জন্ম অবশ্য দিচ্ছে মায়েরাই। জন্মে যাতে বাঁচতে পারে তার গোড়ার ব্যবস্থাগুলিও করছে মায়েরাই।

    মা ছাড়া জীব বা জীবন সম্ভব নয়।

    কিন্তু আরেকটা দিকও তো আছে। ফ্ৰণ-হত্যা হচ্ছে না সংসারে? সন্তানকে মরণের মুখে তুলে দিয়েও ফুর্তি খুঁজে বেড়াচ্ছে না অনেক মা? অন্ধ মায়ার বিকারে অনেকে সন্তানকে মেরে ফেলছে না?

    ঈশ্বরের মাথা গুলিয়ে যায়।

    আজকাল একটু ভাবতে শুরু করেছে বলেই কি এসব ভাবনা তার মগজে সহ্য হয়।

    যাক গে।

    ভেবে লাভ নেই।

     

    লাইসেন্স বাতিল করে দিয়ে ঈশ্বরের সেকেলে পুরোনো দেশী বন্দুকটা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। সুখের হামলা শুরু হবার কয়েকদিন আগে।

    বন্দুক নেই। কিন্তু বন যে ওদিকে কেবলই তাকে ডাকে।

    নাগালের মধ্য দিয়ে উড়ে যায় বা গাছের ডালে বসে থাকে নানা জাতীয় সুস্বাদু পাখি বাঁশবন ঝোপঝাড় থেকে বেরিয়ে সামনে দিয়ে ছুটে পালায় আধা বন্য খরগোশ ও অন্যান্য ছোট জাতের জীব। ঈশ্বরের হাত নিশপিশ করে। এসব শিকার করতে তার দামি টোটারও দরকার হত না, নিজের তৈরি বারুদ গেদে পেরেক আর শিক কেটে ছররা বানিয়ে কাজ সারত।

    বড় পেরেক গেদে ওই বন্দুক দিয়ে তিনবার সে নদী থেকে প্রকাণ্ড তিনটে শঙ্কর মাছ তুলেছে।

    একবার একটা অচেনা অজানা প্রাণীও। বড় শিকার ঘায়েল করতে বেশি বারুদ গাদতে হয়, অনেকে তাকে সাবধান করে দিয়েছিল।

    বন্দুকের নাল ফেটে গিয়ে বিপদ ঘটার আশঙ্কা তার মনেও যে জাগত না তা নয়, কিন্তু ভয়কে সে আমল দিত না।

    বন্দুকটা খারাপ হয়ে যেতে পারে টের পাবার পর সে ও-ভাবে বড় কিছু শিকার করবার চেষ্টা বন্ধ করেছিল।

    অল্প বারুদে পেরেকের ছয়ূরা দিয়ে পাখিটাখি মারলে বন্দুকের ক্ষতির আশঙ্কা ছিল না।

    বন তাকে ডাকে।

    বর্ষায় পুষ্ট ঘন নিবিড় সবুজের হাতছানি নয়। বাঘের গর্জন মাঝে মাঝে স্পষ্টই শোনা যায়। কল্পনায় শোনা যায়, দেখা যায় ছুটন্ত হরিণের খুরের শব্দ আর গায়ে বাড়ন্ত আগাছার ডাল পাতা ঘষা লাগার চিকন মধুর সিরসির আওয়াজ। চিতা নেকড়েদের অদ্ভুত চলাফেরা। গাছের গুড়ি জড়ানো অজগরের মাথা তুলে দুলে দুলে গা শিউরানো হিসহিস আওয়াজ।

    বনে গাদাগাদি করা আরো কত রকমের হিংস্র ও নিরীহ প্রাণীর ডাক।

    ভাটার নদীর ধারে হলুদ পাঁকে মরা কাঠের মতো রোদ পোহায় কুমির।

    অনেকবার চেষ্টা করেও আজ পর্যন্ত বন্দুকটা দিয়ে একটা কুমিরও ঈশ্বর ঘায়েল করতে পারে নি।

    রাইফেলের গুলি ছাড়া কুমিরের চামড়া ভেদ করে তাকে মারাত্মক রকম আহত করা যায় না।

    কিন্তু বন্দুকটা থাকলে এটাকে যে মারতে পারত না তার কি মানে আছে?

    একবার একটা অজানা অচেনা প্রাণীও।

    এমন কিম্ভূতকিমাকার ছিল চেহারাটা যে, কেউ বলতে পারে নি সেটা মাছ, হাঙ্গর বা শুশুক জাতীয় জীব।

    গৌরী বেরিয়ে এসে করুণভাবে বলে, হাঁ গো, দু-চারটে পয়সা হবে? ঘরে এসেছে–একটু পান সুপারি তে দিতে হয়।

    একটা বিড়ি নেই, এক ছিলুম তামাক নেই। ঘরে চালও হয়তো বাড়ন্ত। ট্যাকে পাঁচটা পয়সা ছিল, কোনো কথা না ভেবে চোখ-কান বুজে তামাক কিনে আনার কথা ভাবছিল।

    নীরবে সে পয়সা পাঁচটা গৌরীর হাতে তুলে দেয়।

    আট-ন বছরের লক্ষণ একমুহূর্ত দিদিমার সঙ্গ ছেড়ে থাকতে পারে না। আজো সে এসে দিদিমার গা ঘেঁষে বসেছিল গৌরী তাকে পয়সা দিয়ে পান সুপারি আনতে পাঠায়।

    ঘরের কাছেই নর ছোট্ট দোকান। বাজারে পয়সায় পান ছটা হলে নন্দ দেয় চারটে, কিন্তু এখন ওর দোকান থেকেই না আনিয়ে উপায় কি!

    নন্দর দোকান থেকেই এক পয়সার বিড়ি আর চার পয়সার তামাক আনার কথা ঈশ্বর ভাবছিল!

    গা জ্বালা করে। মেয়েরা সকলে চলে যাবার পরে গৌরীকে সে বিশ্রী একটা গাল দিয়ে বলে, তোর জন্যে কাজ গেল, উপরি গেল, বন্দুকটাও গেল।

    উপরি মানে শহুরে শখের শিকারি বাবুদের সঙ্গে গিয়ে যা মিলত।

    চাষ আবাদ কিছু কিছু করত, সেটা গিয়েছে। কারখানায় কাজ পেয়েছিল, সেটাও গিয়েছে।

    চাষ আবাদ করে বা কারখানায় খেটে কিছু রোজগারের ধার ধরতে চাওয়ার পালা সে যেন বাতিল করে দিয়েছে চিরজন্মের মতো।

    তার ঝোঁক চেপেছে বন আর বুনো নদীতে শিকার করে নিজের আর গৌরীর এবং অবশ্যই মা ও কালা পিসি আর তার তিন ছেলে এক মেয়ের জীবিকা অর্জন করার।

    জমি কিছু আছে থাক। ঠাকুরদার মতো শিকারটাই সে আসল পেশা করতে চায়।

    বন্দুক কেড়ে নিয়ে গিয়েছে!

    যে বাঘটা দিনদুপুরে সুজন ঘোষের সেজ ছেলেটাকে নদীর ওধার থেকে বনে টেনে নিয়ে গেল, সে বাঘটা মারার জন্যেও তাকে কি একটা বন্দুক দেওয়া হবেনা?

    দুই ধারে উঁচু পাড়। মাঝে চওড়া উথল নদী। কাদার পকে হলুদ বরণ। হাঙ্গর কুমিরের মোটেই অভাব নেই।

    এই নদী সঁতরে পার হবার জন্যে বন্ধুদের সঙ্গে বাজি রাখা।

    বুদ্ধিমানের মতোই মাখন জোয়ার আসার পর সঁতরে নদী পেরোতে নেমেছিল।

    ভাটার নদীতে নামলে তাকে হয়তো আর ওপারে গিয়ে পৌঁছতে হত না।

    জোয়ার আসার সময় হাঙ্গর কুমিরেরাও খানিকটা বিব্রত বোধ করে। সমুদ্র বেশি দূরে নয়, এ নদীতে এখানে জোয়ার আসে রীতিমতো সমারোহের সঙ্গে।

    সবচেয়ে বেশি সমারোহ হয় পূৰ্ণিমা-অমাবস্যার দিনে। সে এক দেখার ব্যাপার। বিশেষত পূর্ণিমার রাতে জ্যোৎস্নার আলোতে ভাটার শান্ত নদীর বুকে ছোট ছোট ঢেউগুলি ওঠানামা করে, সেই ঢেউ-নাচা সমতল বুকে সমুদ্রের দিক থেকে প্রচণ্ড গর্জন করতে করতে ছুটে আসে উচু ফেনিল জলের বাঁধনহীন তোড়।

    দূরে থাকতেই আওয়াজও শোনা যায়, চাঁদের আলোয় ঘোলাটে জলের সাদা ফেনায় ঢাকা ভয়ঙ্কর সুন্দর রূপটাও চোখে পড়ে।

    যত এগিয়ে আসে, গর্জন তত বাড়ে, এপার থেকে ওপার পর্যন্ত বিস্তৃত গতির রূপধর জীবন্ত সৌন্দৰ্যও স্পষ্টতর হয়।

    সামনে দিয়ে যখন চলে যায় তখন ডাঙায় নিরাপদ আশ্রয়ে দাঁড়ানো মুগ্ধ অভিভূত দর্শকের বুক ভয়ে কাপে।

    এর নাম কোটালের জোয়ার।

    চলতি একটা ছড়া আছে–

    কোটালের জোয়ার এল গাঙে,
    দেখো ভাই বাঁধ যেন না ভাঙে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleআরণ্যক – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article দিবারাত্রির কাব্য – মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    নগ্ন নির্জন – বুদ্ধদেব গুহ

    May 28, 2025
    উপন্যাস বুদ্ধদেব গুহ

    কোয়েলের কাছে – বুদ্ধদেব গুহ

    May 23, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রবার্টসনের রুবি – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    বোম্বাইয়ের বোম্বেটে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    রয়েল বেঙ্গল রহস্য – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    উপন্যাস সত্যজিৎ রায়

    যত কাণ্ড কাঠমাণ্ডুতে – সত্যজিৎ রায়

    April 3, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }