Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প529 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.১ কাক-চিল-বক পক্ষীর পালক

    তৃতীয় পর্ব

    ড্যাডা-ড্যাং–ড্যাডা-ডাং-ড্যাডাং; ড্রার্‌র্‌র্‌র্‌র্‌–ড্যাডা-ড্যাং। ড্রার্‌র্‌–ড্যাডাং-ড্রার্‌র্‌ ড্যাডাং।

    বড় বড় ঢাকের পিঠে কাক-চিল-বক পক্ষীর পালক দিয়ে সাজানো ফুঙ্কো-ভঁটির মাথায় চামরের চুল বাজনার সঙ্গে তালে তালে নাচে। কাসি বাজে, শিঙা বাজে, ধূপের ধোঁয়ায় মউ মউ করে বাবা কালারুদূর থান; ‘পাটাগনে’ অর্থাৎ পাট-অঙ্গনে ভক্তরা নাচে হাতে বেতের দণ্ড, গলায় ‘উতুরী’ অর্থাৎ উত্তরীয়, পরনে গেরুয়া কাপড়, কপালে সিঁদুরের ফেঁটা, গঙ্গামাটির ‘তিপুণ্ডক, রুখু চুল, উপবাসে শুকনো মুখ, তবু বাবার মহিমায় ধেই-ধেই করে নাচে। হাড়িডোম-বাউরি-কাহার যার ইচ্ছে বাবার ভক্ত হতে পারে। এবার শিবভক্ত বনওয়ারী। অর্থাৎ শ্রেষ্ঠ ভক্ত। তাই গোটা কাহারপাড়াটাই গাজনে ‘উতুরী’ পরেছে। শিববা হে, শিবো হে! জয় শিববা কালারুদ্-! বম্ বম্ বম্ বম্ বম্ বম্! ঢাকে বাজে-ড্যাডা-ড্যাং-ড্যাডা-ড্যাং-ডাং!

    গজাল-পেটা চড়কপাটার উপর শুয়ে আছে শিবভক্ত বনওয়ারী। ষোলজন ভক্তের কাধের ‘সাঙ’ অর্থাৎ বাঁশের ডাণ্ডার উপর চড়ক চলেছে ঘুরছে ব-ব ব-বন-বন-বন্!

    চৈত্র-সংক্রান্তি শেষ হয়ে গেল। বছরের শেষ রাতটি ‘পেভাত’ অর্থাৎ প্রভাত হল, গোটা রাতটি নাচলে কালারুদ্দের ভক্তরা। শিববা হে, কালারুদ্দু হে, বম্ বম্ বম্বম্ববম্ বম্বব বম। চড়কের পাটা পাক দিয়ে ‘চকুর’ অর্থাৎ চক্রের মত ঘুরল বন-বন করে। হাঁসুলী বাঁকের বাঁশবনে-বনে আদ্যিকালের অন্ধকার ‘চ’কে চ’কে’ অর্থাৎ চমকে চমকে উঠল। কীটপতঙ্গ-পশু-পক্ষীরা কলকল করে উঠল! সাপেরা গর্তের মধ্যে পাক ঘুরে ফণা তুললে। জন্তুজানোয়ার গা-ঝাড়া দিলে। তারাও জানলে—বছর শেষ হল। তারাও প্রণাম জানাল-শিবো হে, কালারুদ্দু হে!

    বছরের প্রথম দিন, গাজন শেষ হল। শিব চললেন জলশয়নে কালীদহের তলায়; গোটা বছরটি থাকবেন সেথায়, আবার উঠবেন বছরের শেষে গাজনে, এক মাস আগে আগামী চৈত্রের শুভদিন অর্থাৎ পয়লা। বলবেন সূর্য হে, চন্দ্ৰ হে, আমি উঠলাম—বছর শেষ কর। শিব জলশয়নে যাচ্ছেন; সেই মিছিল চলেছে–জঙ্গলের কালারুদ্ৰুতলা থেকে বাঁশবাঁদির কাহারপাড়া হয়ে হাঁসুলী বাঁকের কালীদহে! প্রথম চলেছে ঢাক, কাসি, শিঙে, বাদ্যভাণ্ড; তারপর চলেছে সঙ। সঙ হল-বাবার ভূতপ্রেত দানা-দৈত্যের দল। মানুষেই সেজেছে, নন্দী ভৃঙ্গী ‘তিজট’ ‘দন্তব”—আরও কত ভূত তার নাম কে জানে! যারা সে জছে তারাও জানে না। এবার সঙেও কাহারপাড়ার লোক বেশি। হবে না কেন, এবার বনওয়ারী কাহারপাড়ার মাতব্বর যে শিবভক্ত। সঙের দলের পিছনে চলেছে ভক্তের দল। সারিবদ্ধ হয়ে নাচতে নাচতে চলেছে মাথার উপরে তালে তালে নাচাচ্ছে বেতের দণ্ড, সঙ্গে সঙ্গে পড়ছে পায়ের সারি। তাদের পিছনে চড়কপাটা। ঘুরছে বন্-বন্। চড়কপাটায় গজালের কাটার উপর শুয়ে আছে বনওয়ারী আকাশের দিকে মুখ করে। তার পিছনে বাণগোঁসাই, তার পিছনে বাবার ‘দোলা’ অর্থাৎ চতুর্দল—আসলে একটি ড়ুলি। ড়ুলির আশপাশে ধূপ গুগগুল জ্বলছে। আর খবরদারি করে চলেছেন জাঙলের সদ্‌গোপ মহাশয়েরা। চৌধুরী-বুড়োকে পর্যন্ত আজ বের হতে হয়েছে। হেদো মণ্ডল, পাকু মণ্ডল, নাকু পাল, এমনকি মাইতো ঘোষও চলেছেন।

    না চলে উপায় আছে! সকল দেবতার আদি দেবতা–কালারুদ্দু! দিন বল, রাত বল, মাস বল, বছর বল, আদি বল, অন্ত বল—সব কিছুর মালিক হলেন উনি। শিবো হে, শিবো হে! চড়কের পাটার উপর শুয়ে বনওয়ারী মনে করে কথাগুলো, আর প্রণাম জানায় বাবাকে। প্রাণ নাও বাবা, মান রাখ; আমাকে দণ্ড দাও, কিন্তু কাহারদের মঙ্গল কর—শিবো হে, আসছে জন্মে উচ্চকুলে জন্ম দিয়ে। বাবাঠাকুর তোমারই শিষ্য বাবা, তারও পুজো দিয়েছি, তোমার চড়কের পাটায় লোহার কণ্টকে শুয়ে তোমার চরণে মিনতি করি বাবা, তুমি তাকে প্ৰসন্ন হতে বল, তোমার শিষ্যকে বল—তাঁর বাহন-‘হত্যে’র অর্থাৎ সেই অজগরটিকে পুড়িয়ে মারার অপরাধ যেন তিনি ক্ষমা করেন, যেন হাঁসুলী বাঁকের অমঙ্গল না হয়। ক্ষেত ভরে ধান দাও, ঝড়-ঝাপটা থেকে রক্ষা কর, কোপাই বেটীকে ক্ষ্যাপা বানে ভাসতে বারণ কর।

    কাহারপাড়ায় আজ মহাধুম!

    বনওয়ারী এবার শিরভক্ত, চড়কের পাটায় চেপেছে—এবার কালীদহে যাবার পথে ড়ুলি, চড়কের পাটা নামবে কাহারপাড়ায়। এই দুবার নামছে। একবার নেমেছিল অনেক কাল আগে, তখন নীলকুঠির আমল—কাহারপাড়ার মাতব্বর তখন গণ্ডার কাহার। এই দশাশয়ী পেরকাণ্ড চেহারা ছিল বলে নীলকুঠির দেওয়ান জাঙলের চৌধুরী নাম দিয়েছিলেন—গণ্ডার কাহার। গণ্ডার কাহারের বংশ নাই। গণ্ডার সেবার চেপেছিল চড়কের পাটায়। মদ খেয়ে পাটায় চড়েছিল বলে বংশটাই শেষ করে দিয়েছেন বাবাঠাকুর। সেই সেবার কালারুদ্র ড়ুলি নেমেছিল কাহারপাড়ায়। সেও নাকি খুব ধুম হয়েছিল। সাহেবান মহাশয়রা ‘বশকিশ’ করেছিলেন অনেক। এবারও খুব ধুম। এবার দ্বিতীয়বার বাবার ড়ুলি নামবে কাহারপাড়ায়।

    ড়ুলি নামবে ওই মজলিস যেখানে বসে, সেইখানে। গোবরজল দিয়ে জায়গাটি পরিপাটি করে নিকানো হয়েছে, বেদি বাধা হয়েছে, গোটা কাহারপাড়াই আজ ঝকঝক তকতক করছে। এটো, কালো হাড়ি সরানো হয়েছে, মুরগি হাঁস আজ ঘরে বন্ধ, ছেলেপিলে সাবধান, বউ-বেটী গিনি-বানি সব কাচা কাপড় পরে চান সেরে, চুল এলিয়ে হাত জোড় করে দাঁড়িয়ে আছে। বাবা আসবেন।

    হাঁকডাক করে বেড়াচ্ছে করালী।

    বনওয়ারী চেপেছে চড়কে। করালী পাড়ায় ঘুরছে চরকির মত। গোটা পাড়াটাকে সেই সাজিয়েছে। সাজিয়েছে, আচ্ছা সাজিয়েছে, বাহাবাহা সাজিয়েছে। এই কথা ছাড়া, প্ৰশংসা প্রকাশের ভাষা কাহারদের নাই। সকলে একবাক্যে বলছে—আচ্ছা ছোকরা, বাহাদুর ছোকরা! বাঁশবাঁদিতে বাঁশের অভাব নাই, গাছপালার অভাব নাই, করালী তার দলবল নিয়ে বাঁশেপাতায় ফটকই করেছে চারটে। মজলিসের ‘থানটি’তে চার কোণে খুঁটি পুঁতে পাতা দিয়ে মুড়ে মাথার উপর টাঙিয়েছে সেই তেরপলখানি। রঙিন কাগজ কিনে এনেছে নিজের পয়সায়, তাই দিয়ে শেকলের মত মালা তৈরি করেছে একরাশ। তাই জড়িয়ে দিয়েছে খুঁটিতে খুঁটিতে, লম্বালম্বি, কোনাকুনি, লালে নীলে সবুজে সদায় রঙ লাগিয়ে দিয়েছে। জাঙলের সদ্‌গোপ মাশায়দের খাতির করবার জন্যে সিগারেট কিনে এনেছে চন্ননপুর থেকে। এ ছাড়া আর কি দিয়ে খাতির করবে। কাহারদের ছোঁয়া আর তো কিছু খাবেন না—পান পর্যন্ত না। নিজেও সিগারেট টানছে আর ঘুরছে। পাখী ঘুরছে ঘুরঘুর করে, তার পরনে চমৎকার বাহারে ড়ুরে শাড়ি। বউবিটীরা তার দিকে আর করালীর দিকে তাকাচ্ছে। পাখী বুঝছে সব। হাসছে।

    বনওয়ারীর স্ত্রী গোপালীবালা জোড়হাত করে দাঁড়িয়ে আছে মজলিসের বেদির সামনে। ধুনুচিতে মধ্যে মধ্যে ধুনো দিচ্ছে। শান্ত ভালমানুষ, চুপ করে রয়েছে। তার পাশে বসেছে সুচাঁদ। চোখ বড় বড় করে মোটা গলায় গল্প বলছে—বলছে গাজনের গল্প। প্রতিবার গাজনেই বলে, এবারও বলছে। গল্প না বলে চুপচাপ বসে থাকতে হলে সুচাঁদের মনে হয়, সে যেন কত কাঙাল দুঃখী হয়ে গিয়েছে, লোকে তাকে হেনস্তা করছে। তাই লোকে শুনুক না-শুনুক গল্প সে বলে। যায়। বলে—তোরা শুনে আখ, বুড়ি হলে বলবি। গাজন ছেরকাল আছে, গল্প ছিল না। হয়েছে, বলি তাই আছে, না বললে থাকবে না।

    পাখী বলে—তবে যে বললে, ছিষ্টি ছিল না তখন। চন্দ না, সুয্যি না, পিথিমী না, মানুষ না, পশু না, পক্ষী না

    –হ্যাঁ লো, হা। ছিলই না তো, কিছুই ছিল না। কিছু কিছু না, তারপর কিছু না থাকার ব্যাপকতা এবং গুরুত্ব বোঝাবার জন্য শেষ দীর্ঘ করে টেনে বলে—কিছুই না বলে দু হাত নেড়ে দিলে।

    –কি-ছু-ই না?

    –কি-ছু-ই না। অন্ধ-কা-র, আঁ-ধা-র, থমথম করছে। চোখ দুটো তার বিস্ফারিত হয়ে উঠল। শরীরে রোম খাড়া হয়ে উঠল, কণ্ঠস্বর হল গভীর থমথমে, বললে-আঁধারের মধ্যে। শুধু কালারুদ্দের চরক ঘুরছিল বন্-বন, ব-বন, ব-ব বলে সে হাতখানি তুলে ধরলে। ইঙ্গিতে সেই আদিকালকে যেন দেখিয়ে দিয়ে স্তব্ধ হয়ে রইল। সৃষ্টির আদিকাল পর্যন্ত প্রসারিত করে দিলে তার আঙুলের ইঙ্গিতকে।

    আদিকাল থেকে এ পর্যন্ত কতকাল, তার সংখ্যা বা পরিমাণ নির্ণয়ের শক্তি ওদের নাই, হয়ত প্রয়োজনও নাই; কিন্তু শক্তিহীন মনের বিস্মিত উদাসীনতার মধ্যে একটা অস্পষ্ট অনুমানের। আভাস ওদের বুকে জেগে উঠেছে। তাই সম্বল করে বাবা কালারুদ্কে অভ্যর্থনা করবার জন্য দাঁড়িয়ে আছে করজোড় করে।

    করালী ছুটতে ছুটতে এল। এসে পড়েছে, এসে পড়েছে।

    বাবা এসে নামলেন কাহারপাড়ার নীলবাঁধের পাড়ে মাতব্বরদের মজলিসে পবিত্র করে বাধানো নতুন মাটির বেদিতে।

    সুচাঁদ পাখীকে এবং করালীকে টেনে এনে বললে—পেনাম্‌ কর্‌। পেনাম্‌ কর্‌।

    বনওয়ারী একটু হাসলে পাটার উপর শুয়েই। পিসি ঠিক আছে। গোদালড়ি ছদনদড়ি যখন যার কাছে থাকে তখন তারই। পিসির সঙ্গে করালী-পাখীর মিটমাট হয়েছে, এখন আর পিসি ওদের ছাড়া কাউকে জানে না।

     

    করালী-পাখীর সঙ্গে সুচাঁদের মিটমাট হয়েছে এই সেদিন, গাজনের প্রথমেই। চড়কপাটার উপর শুয়েই বনওয়ার কথাগুলি মনে করলে।

    সেদিন সুচাঁদের কান্না শুরু হয়েছিল সকালেই। কাঁদছিল বাবার বাহনের জন্য। গাজন আসছে, বাবার বাহনকে মনে পড়ে গিয়েছে। বনওয়ারী বিরক্ত হলেও কিছু বলতে পারে নাই। উপোস করে শুয়ে ছিল—ভাল লাগে নাই বুড়িকে নিয়ে বকাকি করতে; কাঁদুক। দুঃখ এই যে কেঁদে মানুষ মরে যায় না।

    আদ্যিকালের বুড়ি ও উপকথার বুড়ির মত ওর ‘কাঁদি-কাঁদি মন করে, কেঁদে না আতি মেটে’, অর্থাৎ আত্মার তৃপ্তি হয় না। ওরা কারণেও কাদে, অকারণেও কাঁদে।

    হঠাৎ বাহনের জন্য কান্না বন্ধ করে বুড়ি কাঁদতে লাগল ওর বাপের জন্য। বিনিয়ে বিনিয়ে কাদতে লাগল ওরে বাবা, আমাকে সঙ্গে কর রে! তুমি কোথা গেলে রে! আমি কোথা যাব রে! ওরে আমার কি হবে রে! একেবারে মড়াকান্না।

    আর সহ্য হল না বনওয়ারীর। সে উঠল। নীলবাঁধের ঘাটে বুড়ি কাঁদছিল, তার মুখের কাছে হাত নেড়ে চিৎকার করে বললে—বলি সকালবেলা থেকে এমন করে কাঁদছ কেনে?

    সুচাঁদ চোখ মুছে মুখের দিকে চেয়ে অভ্যাসমত তার প্রশ্নটার পুনরুক্তি করলে—কাঁদছি কেনে?

    –হ্যাঁ, হা। কাঁদছ কেনে?

    –আমার মন।

    —তা বললে হবে না।

    –আমি কাঁদতে পাব না?

    –না।

    —তবে আমি কোথায় যাব?

    —যাবার কথা কে বলেছে?

    —তবে?

    –বিনি কারণে কাঁদতে পাবা না।

    —বিনি কারণে কাঁদতে পাব না?

    –হ্যাঁ।

    –পাব না?

    —না না না।

    সুচাঁদ হঠাৎ উঠে দাঁড়াল। উঠে কোমরে কাপড় বেঁধে চন্ননপুরের বাবুদের বাড়ির রাসের উৎসবে বারুদের কারখানার বোম ফাটার মত ফেটে পড়ল।

    বিনি কারণে? বিনি কারণে? বিনি কারণে? চিৎকার করতে করতে সে এসে মজলিসের মাঝখানে পা ছড়িয়ে বসে মাটিতে একরাশ ধুলো উড়িয়ে বললে মাতব্বর। পঞ্চায়েত! কই, বিচার করুক পঞ্চায়েত। আমি থাকব কার কাছে! আমাকে খেতে দেবে কে?

    উপবাসী বনওয়ারী ঘরে ফিরে যাচ্ছিল। তা ছাড়া কালারুদ্দের শিরভক্ত হয়েছে সে, সন্ন্যাসের সময় সংসারের পুলোমাটি ঝগড়াঝাটি এসব নিয়ে মাথা ঘামাতে তাকে বারণ। তার অভাবে প্রহ্লাদ সকলকে নিয়ে মজলিস করছিল। প্রহ্লাদ সুচাঁদের আস্ফালনে বিস্মিত হল না, কারণ পিসির ধরনই ওই। পিসি হল ‘অরুণ্য’ অর্থাৎ অরণ্যের মত, অরণ্যে যেমন ডাল পড়লে ঢেঁকি হয়, পাতা পড়লে কুলো হয়, অরণ্য যেমন মাতলে ঝড় ওঠে, কাদলে বৰ্ষা নামে, তেমনি পিসি তিলকে করে তাল, উই ঢিপিকে করে পাহাড়, কাদলে গগন ফাটিয়ে চেঁচায়, হা-হা করে হেসে

    ধেই ধেই করে নাচে। প্রহ্লাদ হেসে ফেললে।

    সুচাঁদ ক্ষেপে গিয়ে কপাল চাপড়াতে আরম্ভ করলে।—আমাকে খেতে দেবে কে? আমাকে খেতে দেবে কে? হাসছিল? তু হাসছিল?

    প্ৰহ্লাদ এবার গম্ভীর স্বরে বললে—কেনে, তোমার কন্যে রয়েছে।

    —খাব না, আমি কন্যের ভাত খাব না।

    —তবে নিজেই খেটে খাবা।

    —খেটে খাব?

    –হ্যাঁ! তুমি তো এখনও খাটতে পার।

    –নিশ্চয় পারি। খুব পারি, তাদের পরিবারদের চেয়ে বেশি পারি। বনওয়ারীর ওই মুখে। ময়দা-নেপা পরিবারের চেয়ে বেশি পারি। হেই পারি। হেই পারি।

    সে অঙ্গভঙ্গি করে কত খাটতে পারে বুঝিয়ে দিলে, দেখিয়ে দিলে।

    প্ৰহ্লাদ হেসে বললে—তাই তো আমরাও বলছি গো!

    —তবে? সেদিন বনওয়ারীর কাছে খাটতে গেলাম, তা বনওয়ারী এক দো-পর খাটিয়ে লটা পয়সা দিয়ে বিয়ে করে দিলে। সারা দোপর পুকুর ডোবার চারিপাশ ঘুরে একটি পাতগুগলি তুলে আনলাম, তা কে আমাকে এঁধে দেয়?

    এবার বনওয়ারী বললে—চেঁচিয়ো না, থাম। বনওয়ারী ফিরে এসেছে বাড়ির পথ থেকে।

    –আঁ! বনওয়ারীকে দেখে একটু থমকাল সে।

    —থাম। আগে থাম।

    —থামব?

    –হ্যাঁ, থাম।

    —থামব, কই, জবাব দে আমার কথার!

    বনওয়ারী বললে—তুমি খাটতে গিয়ে হেদো মণ্ডলের সঙ্গে বসে তামুক খাবে, গল্প করবে–

    সুচাঁদ তাকে কথা শেষ করতে না দিয়েই যথাসাধ্য সবিনয়ে বলে উঠল—আর করব না, আর তামুক খাব না।

    বনওয়ারী গম্ভীরভাবে বললে—তা ছাড়া তুমি ওই মণ্ডলকে কি সব বলছিলে?

    —কি বললাম? কিছুই না!

    –কিছুই না? বল নাই তুমি? মরা কুকুর বিড়েল ফেলা, নৰ্দমা পরিষ্কারের কথা নিয়ে বল নাই যে, এ ওই বনওয়ারীর মাতব্বরি?

    নির্বাক হয়ে ফ্যালফ্যাল করে চেয়ে রইল সুচাঁদ বনওয়ারীর মুখের দিকে।

    বনওয়ারী বললেবল কেনে, বল নাই তুমি হেদো মণ্ডলকে?

    শান্ত কণ্ঠে এবার সুচাঁদ বললো, তা বলেছি বাবা। তা এসব তো পিতিপুরুষে করত, তাই বলেছি। আর সিটি তো তোমারই কীত্তি বাবা।

    –হ্যাঁ গো। আমারই কীত্তি বটে। তা অল্যায়টা কোনখানে? আমরা মেথর, না মুদ্দফরাস?

    সুচাঁদ চুপ করে রইল। কিন্তু মরা কুকুর বিড়াল ফেলা, মরা গরু কধে বয়ে ফেলার যে অন্যায়টা কোনখানে, সে তাও বুঝতে পারলে না।

    প্রহ্লাদ এবার বললে—জাঙলের সদ্‌গোপ মাশায়রা পিরান গায়ে দিতে শিখলে, বামুনদের মড়া কাঁধে করে গঙ্গাতীরে নিয়ে যেত, তা ছাড়লে। আমরাই বা এ সকল কৰ্ম্ম করব কেনে?

    ওসব ছেড়ে দিয়ে সুচাঁদ এবার নিজের কথা বললে তা আমি যাব কোথা তা বল। বসন আমার প্যাটের বিটী, সে খেতে দেবে না। দুটো পাতগুগলি খেতে সাধ, তা

    এবার বসন্ত এগিয়ে এল নিজের উঠান থেকে। সে শান্ত মানুষ, শান্ত কণ্ঠেই প্রতিবাদ করে বললে ছাটে’! বলি কবে বলেছি তোকে খেতে দেব না। ভাত বেড়ে তোর ছামনে দিয়েছি—তু ফেলে দিয়েছি।

    তার মুখের দিকে তাকিয়ে সুচাঁদ বললে—ফেলে দিয়েছি?

    –দিয়েছিস কি না আমার মাথায় হাত দিয়ে বল?

    সুচাঁদ চিৎকার করে উঠল—বেশ করেছি, খুব করেছি। দোব না? করালীর সঙ্গে পাখীর সাঙা দিলি কেনে? ওর এত বড় বাড়—আমার গায়ে ব্যাঙ দেয়—

    বনওয়ারী চিৎকার করে বললে—তার জন্য করালী তোমার পায়ে ধরবে।

    —পায়ে ধরবে?

    –হ্যাঁ। কই করালী? ডাক করালীকে। সে নিশ্চয় এতক্ষণ চন্নপুর থেকে ফিরেছে।

    সুচাঁদ ঘাড় নেড়ে বললে–না। শুধু পায়ে-ধরা লোব কেনে আমি? আমার লাতিনকে সাঙা। করলে, একখান, ভাল কাপড় দিয়েছে আমাকে? বোতল বোতল পাকী মদ খায়, আমাকে দিয়েছে?

    করালী এল, বললে—দোব, আমি দোব।

    —দে, এখুনি দে। আমি মদ খেয়ে নতুন কাপড় পরে লাচব।

    এগিয়ে এল পাখী। সুচাঁদের হাত ধরে টেনে বললে—আয়, এখুনি আয়। এখুনি।

    সুচাঁদ অন্য হাতে নিজের পা দেখিয়ে দিয়ে বললে—ধরুক, করালী আমার পায়ে ধরুক, তবে যাব।

    করালী শুধু পায়েই ধরলে না, সুচাঁদকে পাঁজাকোলা করে তুলে নিয়ে বললে চল, তোকে কোলে করে নিয়ে যাব। চল।

    ছোকরার দল সব ছুটল করালীর বাড়ির দিকে।

    সেই দিন থেকে সুচাঁদ প্রায় পাখীর বাড়িতেই আড্ডা গেড়েছে। ওইখানেই থাকে, পাকী মদ খায়, সিগারেট খায়, নসুবালার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নাচে, শুধু ভাত খাবার সময় বসনের কাছে। আসে। ভাত সে করালীর ঘরে খেতে পারে না। এক, পেটের বেটীর ভাত খায়, তারই লজ্জায় বলে—আমার মরণ নাই, প্যাটের হায়া নাই, বেটীর ভাত খাই সেই লজ্জা। আবার লাতজামাইয়ের ভাত! চড়কের পাটায় শুয়ে সব কথা মনে পড়ল বনওয়ারীর, হাসলে একটু।

    কালারুদ্দু কাহারপাড়ায় বসলেন-ধূপে-ধুনোয়, প্রদীপের আলোয়, তেলে-সিঁদুরে পূজা নিলেন কাহারপাড়ায়। আবালবৃদ্ধবনিতা মাটির উপর উপুড় হয়ে গড়িয়ে পড়ল, প্রণাম জানালে। এল না শুধু নয়ান এবং নয়ানের মা। নয়ান বললে—আমি পেনাম করে কি করব? মরার বাড়া গাল নাই। মরবার লেগে বসে আছি। করালীকে পেনাম করতে বগা! কুৎসিত ভাষায় পৃথিবীকে গাল দিতে শুরু করলে, তারপর হাঁপাতে লাগল।

    নয়ানের মা ছেলের বুকে হাত বুলাতে লাগল। কথার জবাবই দিলে না। সন্ধ্যার সময় তার কণ্ঠস্বর শোনা গেল। কালীদহে স্নান করে ভিজে কাপড়ে এলোচুলে চিলের মত তীক্ষ্ণ স্বরে গাল দিতে দিতে পাড়ায় ফিরল চড়কের পাটায় পাপ করে চেপে যে তোমার মহিমে লষ্ট করলে,

    তাকে তুমি ফাটিয়ে মার বাবা। যে বাবাঠাকুরের বাহনকে পুড়িয়ে মারলে, তাকে তুমি ধ্বংস কর। বাবা। কোপাইয়ের বানে ভাসিয়ে দাও বাবা পাপ আজত্বি, ঝড়ে উড়িয়ে দাও বাবা। হে বাবাঠাকুরের মরা বাহন, আকাশে মাথা তুলে ফোঁসযুঁসিয়ে হেলেদুলে তুমি রে-রে করে এস বাবা।

    গোটা পাড়াটা শুভদিনে সচকিত শঙ্কিত হয়ে উঠল।

    বনওয়ারী একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }