Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প529 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩.৫ বিয়ের পালকিবহন দুদিনের আমোদ

    বিয়ের পালকিবহন দুদিনের আমোদ। কোনো কোনো বিয়েতে তিন দিনও লাগে—সে খুব দূর পথ হলে। গায়ে হলুদের দিনই বর রওনা হয়, কনে-বাড়িতে হয় নান্দীমুখ। নইলে রওনা বিয়ের দিন। বিয়ের দিবসে বর নিয়ে কনের বাড়িতে সন্ধে নাগাদ পৌছে-খাওয়া-দাওয়া আমোদ! তার পরের দিন বর নিয়ে বউ নিয়ে আবার সনজে নাগাদ বরের বাড়ি ফেরত-গোষ্ঠ। তার পরেতে বিদেয়, ঘরে ফেরে কাহারেরা এক প্রহর রাত্রি পর্যন্ত। কোনো কোনো ক্ষেত্রে দুপুর রাত্রিও হয়ে যায়। গা-গতরে ব্যথা একটু-আধটু হয় বৈকি, তবু প্রচুর মদের নেশায় হইহই করে। ফেরে। বিয়েতে দুদিন মদ খায় বটে, কিন্তু বেশি খাওয়া বারণ। পালকি কাঁধে পা ঠিক রেখে যেতে হবে পরস্পরের পায়ে পায়ে পা ফেলে যেতে হবে। এর পায়ে ওর পায়ে ঠোক্কর খেলে পালকি নড়বে। পা টললে পালকি উলবে। বর-কনের মাথায় ঠোক্কর লাগবে পালকির কাঠে, সে একটা খ্যানত। তার পরেতে রাস্তা, আলপথ, খানা, মেটেপথে চলতে হয় বেশি নেশা করলে চলবে কেন? তাই ফেরত-গোষ্ঠের পর পেট ভরে মদ খেয়ে টলতে উলতে বাড়ি ফেরে কাহারেরা। পাওনাগণ্ডা ভাগ মদের দোকানে হয়। ঢুকবার আগেই যে যার বুঝে নেয়, নয়তো মাতব্বরের কাছে জমা থাকে, বাড়ি ফিরে পরের দিন নেশা ছুটলে আপন আপন ভাগ নিয়ে। আসে। বনওয়ারীর দলের নিয়ম-পরের দিন বুঝে নেওয়া। রতন প্ৰহ্লাদ প্রভৃতিরা বলে মানুষ বুঝে কই কথা, দেবতা বুঝে নই মাথা। অর্থাৎ মাথা নোয়ই। বনওয়ারীর কাছে টাকা থাকা আর লক্ষ্মীর হাড়িতে সিঁদুর মাখিয়ে তুলে রাখায় কোনো তফাত নাই। বনওয়ারী বলে পরের কালারুদ্দের কণ্ঠের বিষ; নিজের লোকের জিনিস ফেলে দেবার উপায় নাই, রেখে সোয়াস্তি নাই, পেটে দিলে ইহকাল তো ইহকাল পরকাল পর্যন্ত জ্বালিয়ে খাক করে দেবে।

    পাওনাগণ্ডা মন্দ হল না—ষোল কাহারে দুখানা পালকি, পালকি পিছু ষোল টাকা—অর্থাৎ প্রত্যেককে দু টাকা হিসাবে বিদায়, ষোল জনে ষোলখানা গামছা; কনের বাড়িতে বিদায়বকশিশ পাঁচ টাকা অর্থাৎ পালকি পিছু আড়াই টাকা, মদের ইলাম দুখানা পালকিতে দু গোলা অর্থাৎ দু জালা মদের মূল্য। পরমের দলও বেশ পেয়েছে রায়বেশে গিয়েছিল ছ জন, বকশিশবিদায় নিয়ে পেয়েছে বার টাকা। এ ছাড়া এক গোলা মদ। মদের দিক দিয়ে পরমেরা বেশি পেয়েছে। তাতে বনওয়ারী কাউকে আপত্তি করতে দেয় নাই; ছি, ওসব হল ছোট নজরের কাণ্ড পরমেরা খেলা দেখিয়েছে ভাল। হা, লাঠিতে পরম ওস্তাদ বটে, যাকে বলে—একখানা খেল দেখিয়ে দিয়েছে। পাঁচ-পাঁচটা সাকরে লাঠি নিয়ে ঘিরলে পরম পাঁচটাকেই হটিয়ে লাফ মেরে বেরিয়ে এল। দুজনের মাথা ফেটেছে, একজনের আঙুল এমন ঘেঁচেছে যে, ভুগবে ছোকরা কয়েকদিন। দুপক্ষের কৰ্তারা ধরেছিলেনবনওয়ারীকে ধরতে হবে লাঠি পরমের সঙ্গে। পরমই বলেছে লাঠি খেলা দেখবেন তো বনওয়ারীকে বলেন। , একহাত খেলে সুখ পাই, আপনারাও দেখে সুখ পান। বনওয়ারী হাতজোড় করেছে। লাঠি খেলা সে দেখিয়েছে, কিন্তু একা একা; রতন প্রহ্লাদের সঙ্গেও দু হাত খেলেছে। কিন্তু পরমের সঙ্গে খেলে নাই। কাজ কি? পাড়ার রেষারেষি চিরকাল। তা ছাড়া পরম ডাকাত, দাঙ্গাবাজ, ওকে বিশ্বাস করে না বনওয়ারী। আর কালোশশী আছে মাঝখানে। মনে পড়েছে আটপৌরে-পাড়ায় ঘেটুগানের কথা। পরমের হাসিটাও ভাল লাগে নাই। যাক, বাবার কৃপায় বিয়েশাদির কাজ হইহই করে ভালয় ভালয় মিটে গেল। আমোদও হল খুব। অনেকদিন এমন আমোদ হয় নাই। পালকিতে পালকিতে জবর পাল্লা হয়েছে।

    যাবার সময় খুব জমে নাই। দুখানা পালকির একখানাতে ছিল বর, একখানাতে ছিল। ‘গুরুঠাকুর’। জমেছিল আসবার সময়। এক পালকিতে বর, এক পালকিতে কনে। দুই পালকিতে পাল্লা কে আগে যাবে? এ পাল্লার আমোদ হাঁসুলী বাঁকের উপকথার সেই প্রথম কালের আমোদের কথা মনে করিয়ে দেয়। যে কালে তারা ছিল কুঠির দরবারের গোলাম, যে কালে দেশে বড় বড় বাড়িতে ছিল মতির ঝালর দেওয়া কিংখাবে মোড়া পালকি, পালকির ট্র্যাটে থাকত। রুপোর মকর মুখ, কি বাঘের মুখ, কি সিংহের মুখ। কত্তা-গিন্নির পালকি কাধে নিয়ে পাল্লা চলত। হাঁসুলী বাঁকের চাকরান ভোগী কাহারদের গায়ে তেজ জাগত, পায়ে দৌড় জাগত সোয়ারী পিঠে ঘোড়ার মত। সাহেব-মেমকে কত্তা-গিন্নিকে কাঁধে নিয়ে পাল্লা দিয়ে তালে তালে। ‘প্লো-হিপ্লো-হি’ শব্দে হক মেরে চারিদিকে ‘শোর’ জাগিয়ে ছুটত তারা। সে কাল চলে গিয়েছে। এখন ভাঙা পালকির আমল। কাহারদেরও আর চাকরান নাই, দেশেও আর সেসব পালকি নাই। সে আমলের সেসব পালকি-চড়িয়ে কর্তা গিন্নিও নাই। এই কর্তার চেহারা, পাকী আড়াই মন ওজন। তেমনি চেহারা গিন্নির, দু মনের তো কম নয়, তার উপর গিন্নির গায়ে গয়না, সেও কোন না আধ মন ওজন হবে। পালকি কাঁধে উঠল তো মনে হল, কাঁধ কেটে বসে গেল। এক-এক জন আবার এর চেয়েও জবরদস্ত হতেন। তাঁকে নিয়ে পালকি তুললে মাথা ঝনঝন করে উঠত, বুকের কলিজায় চাপ পড়ত। রসিক বেহারারা নানা বোলের মধ্যে-মাঝে বলত বাবু বড় ভারী। লোকে আজও বেহারার বোলের ঐ লাইনটাই বলে থাকে, তারা রসিকতা করে বলে—বোেরারা বলে শালা বড় ভারী। হরি হরি রাধাকৃষ্ণ! তাই পারে বলতে কাহারেরা? এই বিয়েতে অনেক কাল পরে দুখানা পালকিতে পাল্লা চলেছে। সচরাচর এক পালকিতেই বর-কনে আসে আজকাল, তাই পাল্লার সুযোগ মেলে না। মিত্র মহাশয়রা দুখানা পালকি করেছিলেন।

    আট ক্ৰোশ পথ মাতিয়ে, পথের ধুলো উড়িয়ে চলে এসেছে। চার-চার জনে কাঁধ দিয়ে চলেছে এক-এক পালকিতে, বাকি চার-চার জন ছুটে এসেছে সঙ্গে। সে প্রায় চৌঘুড়ির মত জোরে এসেছে। বর যাবে আগে, কি কনে যাবে আগে? কত্তা আগে, না গিনি আগে? ‘নক্ষ্মী আগে, না ‘লারায়ণ’ আগে? প্লে-হিপ্লো-হিপ্লো-হিপ্লো-হি! বনওয়ারীর পালকিতে বনওয়ারী আছে আর আছে সেই পাগল কাহার, পালকির আগের ডাণ্ডায় প্রথমেই আছে পাগল। সে হাঁসুলীর বাঁকের কাহারপাড়ার আদ্যিকালের গান গাইতে গাইতে এসেছে। গান গাইতে পাগলের জুড়ি কেউ নাই। পাগল গেয়েছে—

    –সরাসরি ভাল পথে–
    পিছনওয়ালারা হেঁকেছে—প্লো-হিঁ।
    —জোর পায়ে চলিব।
    —প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ–
    –আরও জোর কদমে–
    —প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ—

    পাগল হাসতে হাসতে সুর করে এবার বলে–বরেরো পালকি।–প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ!– পড়িল পিছনে–

    –প্লো-হিঁ— প্লো-হিঁ–
    —আগে চলে লক্ষ্মী—
    –প্লো-হিঁ— প্লো-হিঁ–
    -–পিছে এস লারায়ণ।

    বরের পালকির সামনে আছে রতন, সেও হাঁকলে—জোরে ভাই, জোরে ভাই—প্লো-হিঁ–প্লো-হিঁ। কনের পালকিতে কনে বরের দিকে চেয়ে মুচকি হাসছে, বরও হাসছে পালকিতে বসে—এ কথা তারা জানে।

    হঠাৎ বনওয়ারী জোরে হাঁকে—বেহারা সাবোধান!— প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ । —আলপথে নামিলাম। পায়ে পায়ে–পায়ে পায়ে। অর্থাৎ পা যেন ডাইনে বায়ে না পড়ে, একটি পায়ের দাগে আর একটি পা, একজনের পায়ের ছাপের উপর আর একজনের পায়ের ছাপ ফেলে সাবধানে এসো বেহারারা। এসব জায়গায় বনওয়ারী নিজে সুর ধরে, পাগলকে বিশ্বাস করতে পারে না। সে যে-রকম আলাভোলা লোক, হয়ত গানের ঝোকে পথের কথা না বলে বর-কনের কথাই বলে যাবে। পিছনে বেহারারা পড়বে বিপদে। বনওয়ারী হাঁকলে—ফেলে ফেলে সাবোধানে, এসো রে বেহারা। ডা-ইনে বেঁ-কি-ব। হুঁশ করে–হুঁশ করে। প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ! সামনে উঠতি—আলকাটা নালা ভাই। প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ! পিছে টান পড়িছে! পিছন হতে প্লো-হিঁ-র বদলে শব্দ হল—কাঁধ—কাঁধ। থামল পালকি। একজন পালকি ছাড়বে, একজন কাধ বদলাবে, অর্থাৎ ডান থেকে বা কাঁধে নেবে।

    দেখতে দেখতে ডান পাশ দিয়ে বরের পালকি নিয়ে রতন হাকতে হকতে চলে গেল হুম্‌-হুম্ শব্দে। গুনে বোল বলে জোরে ছুটেছে।

    —হেঁইয়ো-হুঁশিয়ার–

    –প্লো-হিঁ

    –পাশ কর পালকি —

    –প্লো-হিঁ–

    —কর্তার হুকুমত

    –প্লো-হিঁ–

    –গিন্নির পালকি–পিছনে পড়িল—

    –প্লো-হিঁ–প্লো-হিঁ–প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ–

    পার হয় চলে গেল ওরা।

    বনওয়ারী পাগল আবার ছুটল—বরের পালকি এগিয়ে গেল, চল চল। জোর কদমে আবার চলল কনের পালকি।কদমে কদমে বেহারা চল রে। পাগল আবার সুরে হাঁক ধরে কত্তা আগে গেল। প্লো-হিপ্লো-হি। ছুটে চল বেহারা, ধর ওই পালকি। জোরসে জোরসে। আগে যাবে লক্ষ্মী। তবে তো লক্ষ্মীর মুখে হাসি ফুটবে। লক্ষ্মীর কাছে হেরে ‘লারায়ণ’ও হাসবে। প্লো-হিঁ– প্লো-হিঁ–। বর এবং কনে যে পরস্পরের দিকে চেয়ে হেসেছে, এ ওরা ঠিক বুঝতে পেরেছে। পালকির ডাণ্ডা বেয়ে সে হাসি এসে ওদের পরশ দিয়ে যায় যে!

    অনেক কাল পর এবার ভারি আমোদ গিয়েছে। পান সুপারি চিড়ে মুড়কী লুচি মিষ্টি প্রচুর বেঁধে নিয়ে ফিরল কাহারেরা।

    মিত্রকর্তা বনওয়ারী এবং পরমের পিঠ চাপড়ালে—বাহবা! খুব খুশি হয়েছি।

    পরমেরা ঘাঘরা, বডিজ, পায়ের নূপুর, কানের মাকড়ি খুলে ফেললে। পুঁটলি বেঁধে মাথায় নিয়ে রওনা হল। বনওয়ারীকে ডাকলে—আয়।

    হাসলে বনওয়ারী, বললে চল, মাতালশালায় আসর পাত গিয়ে; আমরা যাচ্ছি—আমাদের কৰ্ম্ম এখনও বাকি আছে।

    পরম ব্যঙ্গভরে বললেহ। বটে বটে। ঘোড়াদিগে গাড়ি তুলে দিতে হবে আস্তাবলে।

    কাহারদের অশ্বগোত্র। তাই ঠাট্টা করলে। বনওয়ারীকে এখন পালকি দুখানি নিয়ে পৌছে দিতে হবে চন্ননপুরে বড় বাবুদের বাড়ি। পালকি দুখানা তাদের। মিত্রেরা চেয়ে নিয়েছিল বিয়ের জন্য। পালকি দুখানির জন্য দুটি বড় মাছ বাবুদের সম্মানী দিতে হবে। বিয়েশাদিতে পালকি নিলে মাছ দিতে হয়। জ্ঞানগঙ্গা নিয়ে যাবার জন্য পালকি নিলে সিধে দিতে হয়-ঘি-ময়দার সিধে। এগুলি বহন করে নিয়ে যায় কাহারেরাই। এই কাজ সেরে তবে বনওয়ারীদের ছুটি। তবে এ কাজটা ছেলে-ছোকরাদের। তারাই বরাবর করে। খালি পালকি দুই কাহারে বয়ে নিয়ে যায়, এক কাহার নেয় মাছ, কোনো কোনো ক্ষেত্রে এই দুজনের একজনই হাতে ঝুলিয়ে নেয় মাছটা। সাধারণ গেরস্তে মাছ দেয় দু সের ন পো, বড়জোর আড়াই সের ওজনের। এর বেশি ওজনের দিতে পাবে কোথায় তারা? যার থাকে, সেও নজরের জন্যে দিতে পারে না। মিত্র মহাশয় মানী লোক দুটো মাছ দিয়েছেন দশ সের ওজনের। বড়বাবুদের বাড়ি যাবে, ছোট কি দেওয়া যায়? বনওয়ারী ঠিক ওই জন্যেই ছেলে-ছোকরাকে ভারটা না দিয়ে নিজেই যাবে। বড়বাবু রাজলক্ষ্মীর আশ্রিত, তাঁকে দর্শন হবে, প্রণাম হবে। বাবু মাছ দেখে খুশি হবেন। বলবেন—তুই? কে বল্ তো তুই?

    বনওয়ারী বলবে-আজ্ঞে হুজুর, আমি বনওয়ারী। আপনার চাকর, পেজা হয়েছি নতুন। সায়েডাঙায় জমি নিয়েছি।

    এ ছাড়া আরও একটু কারণ আছে। সুবালা এক ফাকে এসে বলে গিয়েছে ব্যানোকাকা, বর বলেছে তোমাকে দেখা করতে। দেখা না করে যেয়ো না যেন। লুকিয়ে বললে আমাকে। কনে হাসছিল।

    বনওয়ারী পাগল রতন প্রহ্লাদ পরস্পরের দিকে চেয়ে মুচকে হেসেছে। পাল্লা দিয়ে পালকি নিয়ে আসার জন্যে বর কনে দুজনেই খুব খুব খুশি হয়েছেন। গোপনে রাঙাহাতের ‘বশকিশ’ আসবে। সেটা আর পরমকে সে জানাতে চায় না। ওরা মনে মনে হিংসে করবে। হয়ত ওরাও গিয়ে বরের কাছে দাবি করবে। কথাটা লোক-জানাজানি হবে। বর কনে হাজার হলেও ছেলেমানুষ, বিয়ে ব্যাপারে দশের কাছে আশীর্বাদী দু-দশ টাকা ওরা পেয়েছেন, তা থেকেই দেবেন, দেশসুদ্ধ লোককে দু হাতে বিলুতে পাবেন কোথায়? পরমকে দিলে বাজনদার আসবে, বাজনদারের পিছনে রোশনাইদার আসবে, তার পিছনে এ-ও- সে কতজন আসবে তার ঠিক আছে?

    ওই যে! সুবালা হাতছানি দিয়ে ডাকছে খিড়কির দোরে। নসুবালার কাপড়খানা একেবারে ‘অঙে-অঙে’ ‘অসনজে’ হয়ে গিয়েছে। খুব রঙ মেখেছে নসু। গলা ভেঙে গিয়েছে। গান গেয়েছে দিনরাত। হাতে দু হাত ভরে কাচের রেশমি চুড়ি পরেছে।

    বনওয়ারী পাগল এগিয়ে গেল। পাগল মুচকি হেসে বললে—তা হলে গাঁয়ে ফিরে আমার সাঙাটাও হয়ে যাক ব্যানো-ভাই। কনে তো তৈরি।

    নসুবালা গাল দিয়ে উঠল—ম, মর, মুখপোড়া! ভদ্দনোকের ঘর মান না! নিলেজো, গলায় দড়ি দেগা!

    পাগল হঠাৎ চোখ বড় বড় করে বললেও বাবা, যাব কোথা? কনের নাকে ঝিকমিক। করে! ও তো পেতল লয়, ওটি তো দেখি নাই যখন এলি সেদিনে!

    গা দুলিয়ে পরম পুলকে নসু এবার বললে—আদায় করেছি হে, আদায় করেছি। কনের কাছে। সোনার ‘সামিগ্যি’ এই—এই এত! নাকবি চার পাঁচ গণ্ডা। কানের ফুল মাকড়ি আটদশটা। কাপড় এক মোট। কনে নাকছবিটি দিলে। গিনিছা পাছাপেড়ে শাড়ি দেবে। বরকে বলেছি—দাদাবাবু, কাহার বলে আমি ননদপেটারি পাব না কি? তা হবে না, সে ছাড়ব না আমি-হা। নতুন ড়ুরে কাপড়। হঠাৎ লজ্জায় মুখে কাপড় দিয়ে সে সরে দাঁড়াল। বর মহাশয় বেরিয়ে এসেছেন। বর পাঁচ টাকার একখানি নোট বনওয়ারীর হাতে দিয়ে বললেন কনের পালকির বেহারারা তিন টাকা নিয়ো, আমার বেহারাদের দু টাকা।

    বনওয়ারী খুশিই হয়েছিল, কিন্তু নসুবালা বলে উঠল—হেই মা রে, তিন টাকা? তিনে দোশমন। না দাদাবাবু, শুভকাজে দোশমন করতে নাই। আর এক টাকা দাও তুমি।

    বর হেসে বললেন—তোকে নিয়ে হয়েছে বিপদ! বলেও কিন্তু এক টাকা না দিয়ে পারলেন না।

    বনওয়ারী বললে—জয়-জয়কার হোক বাবু মশায়। পাগল বললে—একটি পাওনা রইল কিন্তুক।

    বর বললেন–কি, বল?

    —খোকাবাবু হলে আমরা কিন্তু বউদিদি আর খোকনকে বহন করে আনব; বায়না আমাদের হয়ে রইল।

    বর লজ্জা পেয়ে হাসলেন। নসু হাতে তালি দিয়ে নেচে উঠল।

    তাই ঘুনাঘুন—তাই ঘুনাঘুন।

     

    মাতালশালায় এসে বসল বনওয়ারী। জমে উঠেছে মাতালশালা। বসে গিয়েছে দলে দলে মাতালেরা। জেলেরা এক জায়গায়, সাঁওতালরা এক জায়গায়, ডোমদের দল বসেছে আমগাছের তলায়, হাড়িরা বসেছে ওপাশে, চন্ননপুরের বাউরিরা বসেছে আলাদা, বাগদীরা ওখানে বসে বড় মদ খায় না, বাড়ি নিয়ে গিয়ে পাড়ায় বসে খায়। পরম দলবল নিয়ে বসেছে ডোমেদের দলের কাছাকাছি। বনওয়ার আশা করেছিল, আজ অন্তত এই একসঙ্গে বিয়ের কার্য সেরে ফেরার পথে সকলে একসঙ্গেই বসবে। ক্ষুণ্ণ হল সে। বললেপরম হোথা গিয়ে বসল!

    গুপী বললে—যাক বাপু, যার যেথা মন সেথাই বিন্দাবন; বেশ বসেছে। বনওয়ারী সঙ্গে সঙ্গে বুঝে নিলে, পথে কিছু ঘটেছে। পরমকে সে তো জানে। হেসে বসল সে। বসে বললে— হল কি? ল্যাই করেছে বুঝি পাওনা নিয়ে? অর্থাৎ ঝগড়া।

    –পাওনা নিয়ে ল্যাই হলে বুঝতাম—মনের ঝাল। জাত নিয়ে, গোত্ত নিয়ে ল্যাই।

    —জাত নিয়ে, গোত্ত নিয়ে?—বনওয়ারীর কপালের শিরা ফুলে উঠল।

    পাগল বললে-ছাড়ান দাও। লাও, ঢাল ঢাল।

    –ছাড়ান কিসের? তোর ঘেন্নাপিত্তি সব গিয়েছে পাগল।

    —তু খেপেছিস ব্যানো! জাত নিয়ে ঝগড়া কিসের? যে বড় সে বড়, যে ছোট সে ছোট। ভগবান যা করে পাঠালছেন, তাতে কার কি হাত? আসল জাত নিজের নিজের আচার-আচরণে, কাম-কম্মে।

    বনওয়ারী বুঝে গেল। এইটি ওর গুণঠিক ঠিক, এ তু ঠিক বলেছিস, বাস্। লাও ঢাল। ছোট বললে ছোট হয় না, খুঁড়িয়ে দাঁড়ালে বড় হয় না। বাস্।

    পাগল গান ধরলে। মুড়ি বেগনি ফুলুরির সঙ্গে চলতে লাগল মদ। বনওয়ারী হঠাৎ পাগলকে ডেকে দেখালে—দেখ, শালো জাত দেখায়, শালোর করণ দেখ।

    সকলেই দেখলে, পরম ডোমেদের আসরের মাঝখানে গিয়ে বসেছে। মদও খাচ্ছে।

    পাগল বললে—ছাড়ান দাও।

    —ছাড়ান দোব কেনে? এ তো পরমের ডোমে জাত দেওয়া হল।

    –নিশ্চয়।—সকলেই একবাক্যে সায় দিলে।

    শুধু পাগল বললেওহে, ওতে জাত যায় না। জাত যার যায় তার যায়—এমনিতেই যায়। যার যায় না, তার যায় না। জাত না দিলে, লেয় কে? তার নাম কি, ঘর কোথা?

    বওয়ারী অবাক হয়ে গেল।

    পাগল বললে—লাখ কথার এক কথা বলেছে করালী। ঠিক বলেছে। সেদিন থেকে ভেবে আমি দেখলাম। সার কথা বলেছে ছোকরা।

    —করালী! করালী বলেছে?

    –হ্যাঁ। সেদিনে বললাম তো তোমার কথা। তুমি বলেছিলে, শুধাস করালীকে। তা করালী বললে—আমার জাত আমি না দিলে লেয় কে? তার ঘর কোথা? তা ছাড়া আর একটি কথা বললে–ভীষণ কথা। বললে ছোঁয়া খেলে জাত যায় না, জাত যায় এঁটো খেলে। জাত আমার যায় নাই, আমি কারুর এঁটো খাই না। কাহারেরা সদ্‌গোপদের এঁটো কুড়িয়ে স্বগ্‌গে যায়।

    সকলে স্তম্ভিত হয়ে গেল। বনওয়ারী মাটির দিকে একদৃষ্টে চেয়ে রইল।

    শুধু পানা বললে আমি কিছু বলব না বাবা। সবেই দোষ আমার হয়। বুয়েচ!

    বনওয়ারী তার হাতখানা ধরে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে বললে—তু বেটার ওই সরিঙ্গে মুখ দেখলে আমার সব্বাঙ্গ জ্বলে যায়। সরে যা, ছামু থেকে তু সরে যা।

    রতন বললে–ওঠ, ওঠ, ঘর চল। আর লয়।

    বনওয়ারী বললে—এক গোলা গোটা নিয়ে লে। মেয়েছেলে–। এক গোলা লইলে হবে না।

    পাড়ার জন্যে মদ নিতে হবে। তারা মদ খেলে, আমোদ করলেপাড়ার লোকে খাবে না, এ কি হয়? পাড়ার জন্য মদ নেওয়ার নিয়ম বরাবর আছে।

    পরম শুধালে—উঠলি নাকি?

    গম্ভীরভাবে বনওয়ারী বললো–হ্যাঁ।

    পরম বললে তার দলকেও—ওঠ্‌। আমাদেরও ওঠ্‌।

    চন্ননপুর আর বাঁশবাঁদির মধ্যে মস্ত একটা মাঠ–ক্রোশখানেক লম্বা। পোয়া-তিনেক গিয়ে প্রথম পড়বে বা হাতের দিকে জাঙল গ্রাম, তারপর বাঁশবাঁদি। রাস্তার মাঝামাঝি এসে পরম ডাকলে—বনওয়ারী!

    বনওয়ারী আগে চলছিল, সাড়া দিলে—কে? কে ডাকলি?

    –আমি পরম। হ্যাঁ। তোর সাথে একটা কথা আছে।

    —আমার সাথে? কি?

    —বলি দাঁড়া।

    পরম দু দলকেই বললে—চ, চ, তোরা এগিয়ে চ। আমরা কথা বলতে বলতে যাই। একটা গোপন কথা আছে আমাদের।

    পাগল সকলকে ডেকে নিয়ে গেলচ চ। সঙ্গে সঙ্গে সে গান ধরে দিলে—

    গোপনে, মনের কথা বলতে দে গো আঁধার গাছতলায়,
    ও হায় ঠাণ্ডা শেতল সাঁজবেলায়।

    খপ করে বনওয়ারীর হাত চেপে ধরলে পরম। স্থিরদৃষ্টিতে সে চেয়ে রইল বনওয়ারীর মুখের দিকে। বনওয়ারী বুঝে নিলে। সে সঙ্গে সঙ্গে নিশ্বাস নিয়ে ছাতিটা ফুলিয়ে দাঁড়াল। বললে—মার করবি? অর্থাৎ মারামারি করবি?

    পরম বললে—করালীকে কি বলেছিস? আমি ডাকাত, আমি দাগী?

    বনওয়ারী হেসেই বললে–নোস তু উ সব? তু নিজেই বল্ কেনে?

    এবার পরম দাঁতে দাঁত ঘষে বললে—শালো সাধু নোক, আমাদের পাড়ার বটতলাতে তোমার কিসের ভজন?

    পরমের লজ্জা নাই। ‘ন্যাংটার আর বাটপাড়ের ভয়’ কিসে? যে সর্বাঙ্গে কাদা মেখে থাকে, উপর মুখে থুতু ছুঁড়ে যে নিজের গায়েই মাখে, এ জ্ঞান তার থাকবে কি করে? নিজের ঘরের মেয়ের কেলেঙ্কারি নিয়ে ঝগড়া করা আর উপর দিকে থুতু ছোঁড়া একই কথা। জ্ঞানও নাই, ঘেন্নাও নাই; যার ঘেন্না নাই, তার লজ্জাও নাই। কিন্তু বনওয়ারীর লজ্জা আছে, কেলেঙ্কারিকে ভয় তাকে করতেই হয়, গোটা কাহারপাড়ার মাতব্বর সে। আগেকার কাল ছিল আলাদা। এ কাল আলাদা। আর এ কালের এই হালচাল—বনওয়ারীরাই বাপ-বেটা দু পুরুষে প্রতিষ্ঠা করেছে। কাহারপাড়ায় ‘মেয়েদের পানে তাকিও না’। মানে না সবাই, তবুও অনেক হাল ফিরেছে। সুতরাং নেশার মধ্যেও বনওয়ারী মাথা ঠিক রেখে বললে–হাত ছাড়, পরম। উ সব মিছে বাজে কথা।

    –ও শালো, পানা আমাকে বলেছে। সে নিজের চোখে দেখেছে তোমার কীৰ্ত্তি। চাপা গলায় অকুণ্ঠভাবেই বলে গেল পরম, একবার বাঁধল না মুখে।

    বনওয়ারী চুপ করে রইল। না, উত্তর দেবে না সে। পাপ তার বটে, তবুও উত্তর তার আছে। সে উত্তর দিতে গেলে কালোশশীকে দোষ দিতে হয়। পরমের অবহেলার জন্য সেই বনওয়ারীকে টেনেছে পাপের পথে। বনওয়ারী তাকে ডাকে নাই। কিন্তু সে কথা সে বলবে না, বলতে পারবে না।

    পরম হঠাৎ তার গালে ঠাস করে এক চড় বসিয়ে দিলে, বললে—কি শালো, চুপ করে। অয়েচ যে! ধাৰ্ম্মিক! মাতব্বর।

    আর আত্মসংবরণ করা সম্ভবপর হল না বনওয়ারীর পক্ষে। সে হুঙ্কার দিলে—পরম!

    মত্ত পরম দু হাতে শূন্যলোকে অনুসন্ধান করে বললে–লাঠি? আমার লাঠি?

    মনের উত্তেজনায় পরম লাঠি ফেলে দিয়ে দু হাতে বনওয়ারীর হাত চেপে ধরেছিল। খেয়াল নাই। মুহূর্তে বনওয়ারী পরমের ঘাড়ে লাফিয়ে পড়ল। তার হাতে লাঠি নাই। পরম লাঠি পেলে মানুষখেকো বাঘ। লাঠি পরমকে আর কুড়িয়ে নিতে দেবে না সে।

    এরপর আরম্ভ হল যুদ্ধ। নিঃশব্দে–সেই নির্জন প্রান্তরের মধ্যে তারা দুজনে বন্যপশুর মত পরস্পরকে আক্রমণ করলে। জড়াজড়ি করে দুজনে এ অঞ্চলের পাষাণের মত মাটির উপর পড়ে গড়াতে লাগল। কখনও এ উপরে, কখনও ও উপরে। পরম ডাকাত, পরম খুনে,-সে উপরে উঠে নিষ্ঠুর নৃশংসভাবে বনওয়ারীকে আঘাত করবার চেষ্টা করছিল। কোশকেঁধের ঘরের ছেলে বনওয়ারীর গায়ের শক্তি বেশি, সে তাকে প্রতিহত করলে, কিন্তু মারাত্মক আঘাত করতে চাইল না। না, তা সে করবে না।

    হাঁসুলীর বাঁকের উপকথার রাত্রে দাঁতালে দাঁতালে লড়াই হয়। গাছের মাথায় হনুমানের দলে বীরে বীরে যুদ্ধ হয়। সুচাঁদ বলে-হাঁসুলী বাঁকে মাঝে মাঝে মরদে-মরদেও খুনোখুনি ‘অক্তগঙ্গা’ হত সেকালে। কাহারপাড়ার মরদে-মরদে সে খুনোখুনি এখন নাই। সেকালে হামেশাই হত দুই ‘দানোতে অর্থাৎ দানবে যেন যুদ্ধ লাগত। দুই বুনো দাতালে অঁতোতির মত লড়াই। একালে সে লড়াই লজ্জার কথা। কিন্তু উপায় কি? পরম আক্রমণ করলে ঠেকাতেই হবে। ঠেকাতে গিয়ে মার খেয়ে রাগও জাগছে। এইবার সেও মারবে! হুঁশিয়ার পরম! আবার সে নিজেকে সামলে তাকালে রাস্তার দিকে। পরম এবং বনওয়ারীর সঙ্গীরা তাদের পিছনে ফেলে নিশ্চিন্ত হয়ে এগিয়ে গিয়েছে। বনওয়ারীর ইচ্ছা হল, ওদের চিৎকার করে ডাকে। কিন্তু না। সে বড় লজ্জার কথা। সে হল হার মানার শামিল। সে প্রাণপণ শক্তিতে উঠে দাঁড়াবার চেষ্টা করলে। প্রাণপণে টেনে পরমকে নিয়েই উঠে দাঁড়াল। এবং সঙ্গে সঙ্গে এই সুযোগে তাকে আছাড় মেরে মাটিতে ফেললে। এই আছাড়েই পরম প্রায় অসাড় হয়ে পড়ল। বনওয়ারীরও খুব বেশি শক্তি অবশিষ্ট ছিল না। তবু সে চেপে বসল পরমের বুকে। মারলে আরও কয়েকটা নিষ্ঠুর কিল। তারপর ছেড়ে দিলে। সে পাশে বসে হাঁপাতে লাগল। সর্বাঙ্গ যেন থেঁতলে গিয়েছে।

    অনেকক্ষণ পর কোনোরকমে সামলে নিয়ে সে উঠে দাঁড়াল। পরমও তখন উঠে বসেছে। বনওয়ারী গিয়ে তার হাত ধরে টেনে বললে–উঠতে পারবি?

    পরম গর্জন করে উঠল—ছাড়।

    বনওয়ারী তাকে ছেড়ে দিয়ে চলতে টলতে চলল। পরম বারকয়েক উঠবার চেষ্টা করে শুয়ে পড়ল সেই মাঠের উপরেই।

    ***

    গ্রামে তখন মদ নিয়ে আনন্দ চলেছে, তার সঙ্গে নানা উপাদেয় খাদ্য। বনওয়ারী গ্রামের প্রান্তে থমকে দাঁড়াল। কি ভেবে, গ্রামে না ঢুকে পাশের পুরনো কালের ঘন গাছপালার অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে গিয়ে উঠল আটপৌরে-পাড়ায়। আজ যেন কালোবউ শতগুণ লোভনীয় হয়ে তাকে আকর্ষণ করছে। শরীরের মধ্যে যেন এখনও রক্ত গরম আগুন হয়ে রয়েছে। মনে হচ্ছে, আজ কালোবউকে নিয়ে এখুনি সে চলে যায় নিজের ঘরে। কোনো পাপ হবে না। পরম নিজেই সে পাপ হওয়ার পথে কাঁটা দিয়েছে। সে কম্পিত হাতে গোটা কয়েক ছোট ঢেলা তুলে নিয়ে পরমের উঠান লক্ষ্য করে ছুঁড়ল।–টুপ, টুপ, টুপ। সুচতুর মেয়ে কালোশশী ঠিক বুঝতে পেরেছে। আবছা অন্ধকারে সাদা মূর্তি উঠানে এসে দাঁড়াল।

    সে এবার মৃদু গলাঝাড়ার শব্দ করলে। চতুরা কালোবউয়ের কান এদিক দিয়ে বেহালার। তারের মত, খুট করলেই তারে সাড়া জাগে। চকিত দৃষ্টি হেনে বনওয়ারীকে দেখে ধীরে ধীরে এগিয়ে এল সে। মুখ ভরে হেসে বললে—তুমি ঠিক বুঝেছি আমি, সে-ই বটে।

    –হ্যাঁ।

    –কিন্তু এ কি, হাঁপাইছ কেন?

    –পরমের সাথে হয়ে গেল এক হাত।

    গায়ে হাত দিয়ে চমকে উঠল কালোবউ-এ কি! অক্ত?

    –হ্যাঁ। সি পড়ে আছে মাঠে।

    কালোবউ বিন্দুমাত্র ব্যস্ত কি উৎকণ্ঠিত হল না। সে কিছুক্ষণ তার দিকে চেয়ে রইল মুগ্ধ দৃষ্টিতে, তারপর বললে—দাঁড়াও, অক্ত-উক্ত ধুয়ে ফেল আগে।

    —ঘটির জলে যাবে না। আসলে বনওয়ারী। অক্ত-ধুলো—চান করতে হবে।

    বনওয়ারীর হাত ধরে সে বললে—চল তবে নদীতে। কাচের পারা জল, ধুয়ে মুছে চান করবা।

    –চল। বনওয়ারী খুশি হয়ে উঠল। আজ কালোবউকে সবচেয়ে বেশি মনোরমা মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে, কালোবউ ধুয়ে মুছে দিলে সকল ক্ষত এবং আঘাতের যন্ত্রণা জুড়িয়ে যাবে। কালোবউয়ের কাঁধে হাত রেখে সে বললে—চল।

    পাড়া আনন্দে তখন মাতোয়ারা। ঢোল বাজছে। মদে খাবারে মেতে উঠেছে সকলে। আটপৌরে-পাড়াতেও চলছে। বনওয়ারী টলতে টলতে কালোবউকে নিয়ে কোপাইয়ের গর্ভে এসে নামল। আকাশে সবে চাদ উঠেছে। একপাশ-খাওয়া লালবরণ মস্ত চাদ। হাঁসুলীর বাঁকের ওপারে গাছের মাথায় মাথায় আকাশ ফরসা হয়ে উঠেছে, গাছের ডালগুলির পাতায় চিকচিক করে নাচছে উঠতি চাদের লালচে আলোর ছটা। আলো নাচছে না, পাতাগুলিই নাচছে বাতাসে, কিন্তু মনে হচ্ছে—চাদের আলোই নেচে খেলে বেড়াচ্ছে উড়ন্ত প্রজাপতির হিলহিলে পাখনার মত। বনওয়ারী কোপাইয়ের জলে গলা ড়ুবিয়ে বসল। জল পেয়ে ক্ষতগুলি জ্বলছে, কিন্তু তবু যেন মনে হচ্ছে, শরীর জুড়িয়ে গেল। কালোবউ বসেছে নদীর বালিতে পা ছড়িয়ে দেখতে দেখতে চাদের আলো দুধবরন হয়ে গাছপালা বাঁশবন ঝলমল করে তুলে নদীর বুকে নামল। কোপাইয়ের জলে গলানো রুপোর ছটা জেগে উঠল। কোপাইয়ের তরতরে স্রোতের মধ্যে চাদ যেন ভেঙে ছড়িয়ে পড়ছে, যেন খিলখিল করে হেসে ঢলে গড়িয়ে পড়ছে। ওই ছটায় কালোবউকে বড় সুন্দর লাগছে। তার উপর মনে ধরেছে রঙ, সে রঙের ছটাও গিয়ে পড়েছে কালোশশীর মুখে।

    বনওয়ারী বললে—মিহি সুরে এক পদ গায়েন কর কেনে?

    হাসলে কালোবউ। কালোবউয়ের দাঁতগুলি ঝিকমিক করে উঠল, সে বললে— গায়েন?

    –হ্যাঁ। বেশ অঙের গায়েন।

    –আজ যে দেখি নেশা খুব!

    হাসলে বনওয়ারী। কালোবউ গান ধরলে। হাঁসুলী বাঁকের উপকথার গান। সে যে কে রচনা করেছে, কেউ তা জানে না। কালোবউ গাইলে—

    আমার মনের অঙের ছটা।
    তোমায় ছিটে দিলে না—
    পদ্মপাতায় কাঁদিলাম হে
    সে জল পাতা নিলে না—
    টলোমলো-টলোমলো—
    হায় বঁধু হে পড়ে গেল—
    ও হায়, চোখের জলের মুক্তোছটা মাটির বুকে ঝলে না।

    হঠাৎ কোপাইয়ের পাড়ের উত্তর পারে দুটো ‘টিটে’ অর্থাৎ টিটিভ পাখি চিৎকার করে উঠল, মাথার উপরে তালগাছটা থেকে একটা পাঁচা কর্কশ শব্দ করে পাখা ঝটপট করে উঠল। কালোবউ চমকে উঠল, বললে মা গো! মর্মর মুখপোড়ারা। বলতে বলতে সে পিছন ফিরে দেখতে চাইলে ওই অশুভক্ষণে পাখিটাকে। ফিরে তাকিয়েই সে ভয়ার্ত কণ্ঠে অস্ফুট আৰ্তনাদ করে উঠল!-ও কে? সে। চাদের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে পাড়ের উপর দাঁড়িয়ে আছে পরম। চোখ জ্বলছে শ্বাপদের মত। অন্ধকারে পরমের হাসা চোখ বুনো বিড়ালের চোখের মত জ্বলে। কিন্তু এমন জ্বলতে কেউ কখনও দেখে নি। সে টলছে। মুহূতে কালোশশী উঠে দাঁড়াল; বনওয়ারীকে ডাকলে। কিন্তু কই বনওয়ারী? কই? সমস্ত কোপাইয়ের জলস্রোতটা চাদের আলোয় চকচক করছে। কিন্তু বনওয়ারী কই? ওদিকে পাড়ের উপর থেকে ঝাপ দিয়ে পড়ল পরম। কালোবউ পরমকে জানে। তারই মুখে গল্প শুনেছে-মানুষের গলায় পা দিয়ে কেমন করে অনায়াসে মানুষকে মারা যায় এবং কতজনকে সে মেরেছে। কালোবউ শিউরে উঠল; তার পরই সে ছুটল—কোপাইয়ের গর্ভে গর্ভে বালির উপর দিয়ে। পরমও ছুটল তার পিছনে। গোঙাচ্ছে পরম।

    জলের তলে তলে বেশ খানিকটা দূরে ভেসে গিয়ে মাথা তুললে বনওয়ারী। জলে ড়ুবে নদীর স্রোতে সে ভেসে চলেছিল। মাথা তুলে সে ব্যাপার দেখে চমকে উঠল। উপরের দিকে অর্থাৎ স্রেতের উল্টো দিকে ছুটছে কালোবউ। পিছনে টলতে টলতে ছুটছে পরম। সে এবার জল থেকে উঠল তাড়াতাড়ি। ছুটতে চেষ্টা করল। কিন্তু সেও টলছে। তার উপর বালি।

    ওই কালোবউ ছুটছে! ওই!

    ওই পরম!

    সর্বনাশ! সামনে যে ‘সায়েবড়ুবির দহ’, কেউ বলে—‘যখের দহ’, কাহারপাড়ায় লোক বলে—কত্তার দহ। কত্তা ওই দহে চান করেন। কালারুদ্র ওই দহে জলশয়ানে আছেন। কাহারেরা বছরে চার বার নামে এইখানে। গাজনে কালারুদ্দের শিলারূপকে তুলে নিয়ে যায়, আবার জলশয়ানে রেখে আসে; আর ওখানে থাকেন কালারুদ্রের বেটী মা-মনসার ‘বারি’। একবার নেমে সেই বারি নিয়ে যায়—একবার নেমে সেই বারি ড়ুবিয়ে দেয়। তা ছাড়া কেউ ওদিকে ঘেঁষে না। ওখানে পাহারা দেয় আদ্যিকালের এক বুড়া কুম্ভীর। মধ্যে মধ্যে বেড়াতে এদিকে ওদিকে যায় বটে, কিন্তু দহের বিঘ্ন হলে নিশ্চয় সে কোপাইয়ের জল কেটে তীরের মত ছুটে আসবে। রক্ষা কর হে বাবাঠাকুর, রক্ষা কর।

    ওই দহের কিনারা ধরে উপরে উঠছে কালোশশী। উঠতে পারলে নিশ্চিন্ত; শিমুলবৃক্ষটি পার হলেই কোপাইয়ের জঙ্গল, জঙ্গলে ঢুকলে কালোশশীকে খুঁজে বার করা পরমের সাধ্যে কুলাবে না। কালোশশী শিমুলবৃক্ষটির শিকড় ধরে উঠে যাচ্ছে বুনো বিড়ালীর মত। দহের মাটি খুলে গিয়ে শিমুলবৃক্ষের শিকড় বেরিয়ে আছে–ঝুলে আছে, তাই ধরে আর তাতেই পা দিয়ে উঠছে। বাহাবাহা! বাহারে কালোশশী।

    হঠাৎ কালোবউয়ের ভয়াত চিৎকারে কোপাইয়ের স্তব্ধ গৰ্ভভূমি যেন বুকের উপর খুনির ঝকমকানি দেখে উঠল। ওটা কি? শিকড়ের তলা থেকে আকাশের বিদ্যুতের মত এঁকেবেঁকে মাথা তুলে দাঁড়াল, ওটা কি? চাদের আলোয় ঝলমল করছে কোপাইয়ের জল বালি। তীরের জঙ্গলের কোল পর্যন্ত ঘাস নড়ছে দেখা যাচ্ছে, বালির মধ্যে ঝিকমিক করছে বালুর কণা, দেখা যাচ্ছে। কিন্তু কালোবউকে দেখা যাচ্ছে না কেন? সে কই? কালোবউ কোথায় গেল? বনওয়ারী চারিদিকে চেয়ে দেখে চাপা চিৎকারে ডাকলে—কালোশশী।

    খিলখিল করে হেসে উঠল পরম। পরম দহের কিনারা ধরে ফিরে এসে কোপাইয়ের জলে নামছে। কই কালোবউ? এ কি হল? শুধু দহের জলটা দুলছে। সে ছুটে গেল দহের দিকে। দুলছে জল ঢেউয়ে ঢেউয়ে। বিদ্যুতের আঁকাবাকা যেটা শিমুলবৃক্ষের তলা থেকে বেরিয়ে কালোবউয়ের বুকের উপর মাথার উপর দুলে উঠেছিল, সেটা এখনও মুখ খাড়া হয়ে দাঁড়িয়ে দুলছে। সেও দেখছে দহের জল ঢেউয়ে ঢেউয়ে দুলছে। বনওয়ারী সভয়ে থমকে দাঁড়িয়ে গেল। তারপর করজোড়ে প্ৰণাম করে পিছু হঠতে লাগল। সাদা গোখুরো একটা।

    পিছন থেকে পরম আবার হেসে উঠল। বনওয়ারী ফিরল। বুঝাপড়ার শেষ হয়ে যাক। পরম কোপাইয়ের ও-তীরে দাঁড়িয়ে আসছে।

    বনওয়ারী কঠিন স্বরে ডাকলে—পরম!

    পরম উত্তর দিলে না। তার আক্রোশ মিটে গিয়েছে। সে পালাচ্ছে।

    বনওয়ারী বললে—মরদ হোস তো ফিরে আয়!

    পরম দাঁত মেলে হাসলে। তারপর মিশিয়ে গেল কোপাইয়ের ওপারের তীরের জঙ্গলের মধ্যে। বনওয়ারীর কিন্তু কত্তার দহে নামতে সাহস হল না।

    বনওয়ারী থরথর করে কাঁপতে লাগল। কত্তাবাবার ক্রোধ কি তার উপরেও পড়ল? কালোবউকে জলের তলা থেকে কেউ কি টেনে নিলে? মাথার উপর, বুকের উপর কালদণ্ড তুলে দাঁড়িয়ে উঠল কে? বাবার বাহন! বাবার বাহন! সে চোখে অন্ধকার দেখলে, হয়ত পড়েও যেত! কিন্তু তাকে কে পিছন থেকে ধরে ফেললে। ধরেছে পাগল, সে ডাকলে—বনওয়ারী! বনওয়ারী! বনওয়ারী!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }