Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প529 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৪.১ বনওয়ারী বিহ্বল

    চতুর্থ পর্ব

    এক পাগল বনওয়ারীকে এনে বাড়িতে শুইয়ে দিল। বনওয়ারী বিহ্বল। পাড়ার লোক ভিড় করে এল। কি হল? কি করে হল?

    পাগল বললে—জাঙলের ধারে পড়ে হাঁপাইছিল।

    —জাঙলের ধারে?

    -হ্যাঁ। কথাটা ভেবেচিন্তেই বলেছে পাগল। শেষের প্রায় সবটাই সে দেখেছে। কোপাইয়ের ধারে সে গিয়েছিল চাদের আলো দেখে মনের খেয়ালে। কালোবউ তখন গান। গাইছিল। অপার কৌতুকে বনওয়ারীর প্রেমলীলা দেখবার জন্য একটা গাছে উঠে বসেছিল। তারপর এল পরম, সমস্তটা ঘটে গেল চোখের পলক ফেলতে-না-ফেলতে। গাছ থেকে সে যখন। নামল, তখন পরম ওপারে; কালীদহের জল দুলছে, তীরে দাঁড়িয়ে বনওয়ারী কাঁপছে টলছে। সে ধরে ফেললে বনওয়ারীকে। দহে নামতে তারও সাহস হয় নাই। সে জানে, কালোবউয়ের দেহ কাল ভেসে উঠবে। পুলিশ আসবে। বনওয়ারী ওখানে ছিল বললে বনওয়ারীকে টানবে, তাকে ছাড়বে না। সেইবা ওখানে গিয়েছিল কেন? চাদের আলোয় সবাই ভোলে, দারোগাবাবু ভোলে না। তাই সে ভেবেচিন্তেই বনওয়ারীকে এবং নিজেকে রক্ষা করবার জন্য বললে— জাঙলের ধারে বসে হাঁপাচ্ছিল বনওয়ারী। সে জানে পরম ফেরার হয়েছে। সন্দেহ যদি পরমের উপর পড়ে, তবে সে অন্যায় হবে না। কালোবউকে পরমই মেরেছে। যদি দহে ড়ুবে না মরত কালোশশী, তবে পরম তাকে নিশ্চয় মারত। মুহুর্তে গলা টিপে মেরে ফেলত এবং দহেই ফেলে দিত। জাঙলের ধার কোপাইয়ের দহ থেকে অনেক দূর। জাঙল গ্রাম, তারপর মাঠ, তারপর কাহারপাড়া, তারপর বাঁশবেড়ে, তারপর জঙ্গল—সেই জঙ্গলের বুক চিরে চলে গিয়েছে। কোপাইবেটী—কোপাইয়ের দহে ভাসবে কালোবউ। দারোগাবাবু হাত বাড়িয়ে ধরতে পারবেন না বনওয়ারীকে।

    পাগল বললে পরমের কাণ্ড। বনওয়ারী মাতালশালায় বলেছিল—পরমের জাত নাই, জাত গেল, ডোমেদের সাথে মদ খেলে। পরম শুনেছিল। পথে ডাকলে বনওয়ারীকে। আমরা বুঝতে পারলাম না। তারপর এই কাণ্ড।

    সকলেই বিশ্বাস করলে।

    করালী উঠল—কাঁহা সে পরম? কাঁহা?

    অচেতনের মত বনওয়ারী তখন কাঁপছে। কম্প এসেছে। তার মধ্যেও সে বললে–না। পাগল, বারণ কর। আটপৌরেদের সঙ্গে দাঙ্গা করে ফেলাবে ছেড়া। আর–

    দাঁতে দাঁতে কসকস করে উঠল সে। ওই–ওই ছোকরাই সব অনিষ্টের মূল। বাবাঠাকুরের বাহন মেরেছে। বাবাঠাকুরের শিমুলবৃক্ষে চড়েছে। করালীর দিকে সে তাকালে—বিস্ময়ে সে অভিভূত হয়ে গেল। করালীর পরনে কোট পেলেন। স্থির দৃষ্টিতে সে চেয়ে রইল।

    গোপালীবালা তার হাত দিয়ে বনওয়ারীর চোখ ঢেকে বললে পাগলকে–ও দেওর, কি করে তাকাইছে দেখ, এ যে ঠকঠক করে কাঁপছে গো! কি হচে গো!

    পাগল নাড়ি দেখতে জানে। হাত ধরে সে বললে–জ্বর আসছে, জ্বর। কাঁথা দাও, কাঁথা দাও।

    বনওয়ারী বললে—দূর কর, ছামনে থেকে দূর কর্— বলতে বলতে প্রবল জ্বরে আচ্ছন্ন হয়ে পড়ল।

    পরের দিন সকালে কালোশশীর দেহ ভেসে উঠল কালীদহের মাঝখানে। এলোচুল ঢেউয়ে ঢেউয়ে নাচছে, কালোবউয়ের দেহটা ড়ুবছে আর উঠছে।

    পরম নিরুদ্দেশ।

     

    দুঃখ সবাই করলে। দুঃখ করলে না কেবল নয়ানের মা। বনওয়ারীর দুর্দশায় সে খুশি হয়েছে। কালোবউয়ের মৃত্যুতেও সে পুলকিত হয়েছে। কালোবউ যে বনওয়ারীর ‘অঙের মানুষ! সে স্নান করে এলোচুলে বাবাঠাকুরকে প্রণাম করে এল। বাবাঠাকুরের মহিমাকীর্তন করতে লাগল।

    বিস্মিত কিন্তু কেউ হল না।

    হাঁসুলী বাঁকের বাঁশবনে ঘেরা বাঁশবাঁদির ইতিহাসে এমন অস্বাভাবিক মৃত্যু যে বরাবরই ঘটে আসছে। সাপে কাটা, দাঁতালের দাঁতের আঘাতে মৃত্যু-এর তদন্ত নামমাত্র, তা ছাড়া জলে ডোবা, গাছ থেকে পড়াও প্রায় তাই, এরপর গলায় দড়ি আছে, বিষ খাওয়া আছে, নিজের গলায় বঁটি দিয়ে কাটার কথাও ইতিহাসে পাওয়া যায়। অস্বাভাবিক মৃত্যু হয় মেয়েদেরই বেশি। থানার খাতায় আছে—মেয়েরা চরিত্রহীনা, অধিকাংশ ক্ষেত্রে অতৃপ্ত বাসনা থেকে আত্মহত্যা করে। কখনও কখনও সন্দেহ করে থাকে যে, আত্মহত্যা নয়-হত্যা, পুরুষেরাই হত্যা করে থাকে। দু-চার জন চালানও গিয়েছে। সেসব আগের কালের কথা, একালে এসব বড় ঘটে না।

    হাঁসুলীর বাঁকের উপকথা সবচেয়ে বেশি জানে সুচাঁদ। সে বলে—বনওয়ারীর বাবার বাবার বাবা আর আমার বাবার বাবা এক নোক তো। তা আমার কত্তাবাবা আমার পেথম কত্তামাকে শিলনোড়ার নোড়ায় মাথা ঘেঁচে মেরেছেল বুকে বসে, নোড়া দিয়ে। বলতে বলতে সুচাঁদের চোখ বড় বড় হয়ে ওঠে। চুপি চুপি বলে—আটপৌরেদের একজনকে আমার কত্তাবাবা এতের বেলায় ঘর থেকে বেরুতে দেখেছেল কিনা। বাস্, মাথায় অক্ত উঠে গেল। ঘরের সামনে শিলনোড়া, সেই নোড়া দিয়ে মাথা ঘেঁচে মেরেছেল পরিবারকে। তারপরে টেনে ফেলে দিল কোপাইয়ের গভ্যে; বললে পড়ে পাথরে মাথা ভেঙ্গে গিয়েছে। তখন সায়েব মশাদের আমল। সায়েবরা পুলিশ ফিরিয়ে দিলে। কিন্তুক কত্তাবাবাকে চাবুক দিয়ে সপাসপ মেরে পিঠ ফাটিয়ে দিয়েছে। তাদের বুদ্ধির কাছে তো ফাঁকি নাই বাবা!

    রতনের পূর্বপুরুষ চড় মেরে মেরে ফেলেছিল তার বোনকে। তখন ওই দহতে ছিল বড় বড় কুমির, সেই দহে ফেলে দিয়েছিল লাশ।

    গুপীর পূর্বপুরুষ বিষ খাইয়েছিল তার স্ত্রীকে।

    পরমের পূর্বপুরুষের বাহাদুরি সবচেয়ে বেশি। সে তার বউয়ের হাতে-পায়ে বেঁধে মুখে কাপড় বেঁধে গলায় দড়ি ঝুলিয়ে দিয়েছিল। তারপর হাত-পায়ের দড়ি, মুখের কাপড় বার করে হইহই করেছিল। কেউ সন্দেহ করতে পারে নাই।

    একমাত্র ছেলে মারা যেতে ঘরভাঙাদের নয়ানের প্রথম ঠাকুরমা ওই দহে ঝাঁপ দিয়ে মরেছিল। তারপর নয়ানের ঠাকুরমাকে বিয়ে করে নয়ানের ঠাকুরদাদা।

    অম্লশূলের বেদনা অসহ্য হওয়ায় পানুর কাকা গলায় দড়ি দিয়েছিল।

    উপকথায় অনেক কাহিনী আছে। তারই সঙ্গে কালোবউয়ের কাহিনী যোগ হল। পরম নিজে যেত জাঙলের এক পাড়ায়। সেখানে নফর দাসের বোনের বাড়িতে সন্ধে কাটাত। কালোবউয়ের স্বভাবচরিত্র ভাল ছিল না। পরম ডাকাতির দায়ে জেলে থাকতে সে চন্দনপুরে বড়বাবুদের বাড়িতে ছোটজাতের ঝিয়ের ‘পাট’ করত। বাবুদের দরোয়ান ভূপসিং মহাশয়ের সঙ্গে লোক জানাজানি করেই ভালবাসা করেছিল। তা করে। কাহারপাড়ায় অনেকে করে এমন ভালবাসা জাঙলে সদগোপ মহাশয়ের সঙ্গে করে, চন্ননপুরে বাবুদের ছেলেদের সঙ্গে দু-চার দিনের ভালবাসার খেলাধুলো—সে তো কেউ ধরেই না। পরম মধ্যে মধ্যে মারধর করত, তা সে আর এমন কি! কিন্তু এই বিয়েতে যাবার কদিন আগে থেকে সে কালোবউয়ের উপর খুব তর্জন গর্জন করতে আরম্ভ করেছিল। আটপৌরে-পাড়ার লোকেই বলল-কালোবউকে উচু গলায়। বলতে শুনেছে—বেশ করেছি, তোর খুশি তু সনজেবেলা জাঙলে যেথা খুশি যাস, আমারও যা খুশি তাই আমি করি। চলে যাব আমি তোর বাড়ি থেকে। আমার ভাতের অভাব? লোকে বলেছে, কালোবউ সিংজীর কাছে যাবে বলেই শাসিয়েছিল। কাল রাত্রে পরম আর বনওয়ারী মিত্তির-বাড়ির বিয়ে থেকে ফেরার পথে কথা বলবার জন্য পিছিয়ে আসছিল। আটপৌরেরা বলে, তারা পাড়ায় এসে মদ খাচ্ছে, রাত্রি কত তা খেয়াল ছিল না, তবে চাদ উঠেছিল তখন, সেই সময় পরমের উঠানে পরমের ক্রুদ্ধ হিংস্র কণ্ঠস্বর শুনতে পায়। কালোবউকে সে ডাকছিল— কোথা গেলি? কই? যাবি কোথা? যম আমি তোর–বলতে বলতে সে বেরিয়ে গেল। দু-এক জন এসেও ছিল, তখন কিন্তু পরম কি কালোবউ কেউ ছিল না, পরমের গলা শোনা যাচ্ছিল জাঙলের বাঁশবন থেকে। তারা তার গলা শুনে বুঝেছিল সে নদীর ধার দিয়ে যাচ্ছে। তারপর আর কিছু তারা জানে না। পরম আর ফেরে নাই। সকালে যারা নদীর ধারে গিয়েছিল, তারাই দেখতে পায় কালোবউ দহের জলে ভাসছে। তাদের অনুমান তারা ফিসফিস করে বলে—পায়ে কাপড় জড়িয়ে দিয়ে পরমই তাকে দহের জলে ফেলে দিয়ে পালিয়েছে। কালোবউয়ের কাপড় পায়ের সঙ্গে জড়ানো ছিল। কিন্তু আসল কথা জানত পাগল কাহার। সে কিন্তু একটি কথাও বললে না। বনওয়ারীর জ্বর হয়েছে গেল রাত্রি থেকে। জ্বরে বেহুশ অবস্থায় তাকে পাওয়া গিয়েছে। জাঙলের ধারে। কোপাইয়ের কালীদহ ওখান থেকে অনেক দূর।

    সুচাঁদ আক্ষেপ করে বলে—আঃ আঃ, কি যে দলমলে মেয়ে ছিল,—অ্যাই চুল, অ্যাই বুক, যেমন চোখ তেমন দাতগুলিকে বলবে যে যোবতী মেয়ে লয়—বয়েস হয়েছে! আঃ-আঃ! পাগল শুধু ছড়া কেটে গান গাইলে—“অঙের খেলায় যাই বলিহারি! জেবন দিলেও দিতে পারি, তবু তো ছাড়তে লারি মনের মানুষে”, তারপর খেদ করে বললে—আঃ আঃ! হে ভগবান! তারপর ঝোলা-ঝম্প নিয়ে উঠল—চললাম, ঘুরে আসি দুদিন। দ্যাশ-বিদ্যাশে নতুন গান শুনিয়ে আসি।

    চলে গেল সে।

     

    দিন পনের পর। অপরাহ্নবেলা।

    রোগ থেকে সদ্য সেরে উঠে দু হাতে মাথা ধরে বসে কালোবউয়ের বিবরণ শুনছিল। বনওয়ারী। তাকে শোনাচ্ছিল সুচাঁদ। বনওয়ারী চুপ করে বসে ছিল মাটির দিকে চেয়ে। ফেঁটা ফেঁটা জল চোখ থেকে ঝরে পড়ছিল। বনওয়ারীর ইচ্ছে হচ্ছিল, চিৎকার করে কাঁদে। সকলের কাছে চিৎকার করে বলে—জান না, তোমরা জান না, দোষ আমার। আঃ! সে যদি পরমকে দেখে ভয়ে জলে না ড়ুবে জল থেকে উঠে পরমকে আটকাত, তা হলে কালোবউ ছুটত না এমন। দিগ্বিদিকজ্ঞানশূন্য হয়ে। দহের কিনারায় বাবাঠাকুরের শিমুলবৃক্ষের ওই শিকড় ধরে উঠতে যেত। না। পরমের তাড়ায় সে ছুটেছিল, করালীর পাপে বাবাঠাকুরের বাহনের দংশনে অজ্ঞান হয়ে পড়ে। গেল দহের জলে। দোষ তারই। করালীকে সে শাসন করে নাই। দোষ তারই, সে সঙ্গে সঙ্গে কঁপ দিয়ে পড়ে নাই। নিজের পরানের ভয়ে, দুর্নামের ভয়ে কাঁপতে কাঁপতে পালিয়ে এসেছে। সে মরলেও তো পারত। দোষ তার নিজের

    মনে মনে অত্যন্ত যন্ত্রণা হচ্ছে তার। এ পাপের তার আর খণ্ডন নাই। হে ভগবান, হে হরি, হে কালারুদ্দু, হে ধরম, হে বাবা কত্তাঠাকুর, তোমরা বওয়ারীকে মার্জনা কর, রক্ষা কর।

    তাকে ঘিরে পাড়ার প্রবীণ মেয়েরা সব বসেছে। সকালবেলা মরদেরা সকলেই কাজে গিয়েছে। জ্যৈষ্ঠে জল পড়েছে, ধানের ক্ষেতে চাষের সময় হয়েছে। বীজ পাড়তে, জমিতে চাষ দিতে হবে। বাতের চাষ। অর্থাৎ সময়ের চাষ। এ সময় একটা ‘বাতের চাষ’ বিঘেহুঁই দু গাড়ি। সারের সমান। এ কামাইয়ের সময় নয়। ‘খানিক আধে’ শরীরের ‘বেজুত’ অর্থাৎ অসুস্থতা চাষের মুনিষে এ সময় গ্রাহ্য করে না। তা ছাড়া মনিব আছে, মনিবে বলে—এত যারা ‘সুকুমারী তাদের আবার চাষ করা কেন? কথা ঠিকই বলেন তারা। ‘মি নইলে মাড়ন হয় না, পাচন নইলে গরু হটে না, সওয়ার নইলে ঘোড়া ছোটে না, তেমনি মনিবওই সদ্‌গোপ মহাশয়দের মত চাষী মনিব ছাড়া কৃষাণ-কাহার মুনিষ ঠিক ঠিক কাজ করে না। বাবুদের হল অন্য কথা। তাদের ঠিক চাষে মন নাই। সদূগোপ মনিবদের কাহার কৃষাণেরা কেউ বাড়ি নাই। বনওয়ারীকে ঘিরে আছে পাড়ার প্রবীণ মেয়েরা। শুধু নয়ানের মা বাদে।

    মেয়েদের দলের মধ্যে বসনও এসে সেই সকাল থেকেই বসে আছে।

    তার সমস্যা মেয়ে-জামাই নিয়ে। করালী-পাখী কোঠাঘর তুলল। এই নিয়ে পাড়ার মেয়েরা যে গবেষণা করছে, তাতে তাকে আতঙ্কিত করে তুলেছে। সে নিজেও ভেবে দেখেছে, কেউ কখনও করে নাই। করালী করছে—অনিষ্ট ঘটা বিচিত্ৰ কি? কিন্তু করালী মানবে না। অন্য কোনো মেয়ে হলে মেয়ে-জামাইয়ের সঙ্গে ঝগড়াই হয়ে যেত। সুচাঁদের সঙ্গে ঝগড়া হয়ে গিয়েছে করালী-পাখীর করালী সুচাঁদকে প্রায় দূর করেই দিয়েছে। সুচাঁদ কাঁদছে, বাবাঠাকুরকে ডাকছে, করালী-পাখীকে এবার আর অভিসম্পাত দিচ্ছে না, তিরস্কার করছে এবং বাবাঠাকুরকে বলছে—মতি ফিরিয়ে দাও, সুমতি দাও। প্রথম দিন সে আনন্দে গৌরবে পাখীর বাপের জন্য, নিজের বাপের জন্য কেঁদেছিল। কিন্তু পরে বুঝেছে বিপদ। সর্বাগ্রে সে-ই বুঝেছে। বারণ করতে গিয়েছিল। করালী তাকে দরজা দেখিয়ে বলেছে—নিকালো অর্থাৎ বেরিয়ে যাও।

    ও-পাশ থেকে নয়ানের মা ফোড়ন দিয়েই চলেছে। হে বাবা, একবার যেমন নিয়েছ, আবার তেমনি করে নিয়ো। তোমার বাহনের বিষ নিশ্বাসে ‘ফুস্ধা’ করে দিয়ে। সঙ্গে সঙ্গে এবার দ্যাল চাপা বাবা! কোঠাঘরের দ্যাল-হড়মুড় করে।

    নসু গাল দিচ্ছে ইঙ্গিতে হাঁপাতে হাঁপাতে ‘ফুস-ধা’ হয়ে যাবে লো! অর্থাৎ নয়ান। যে মুখে পরের মন্দ চায় লোকে, সে মুখে লোকের পোকা পড়বে লো!

    দু হাতের বুড়ো আঙুল নাড়ছে আর ঢেউয়ের মত দুলছে।

    বাকি গোটা পাড়াটা স্তব্ধ হয়ে রয়েছে কালবৈশাখীর অপরাত্নের মত। বনওয়ারী ভাল হয়ে ওঠার অপেক্ষা করছে। করালী ভীষণ হাঙ্গামা বাধিয়েছে। সে বাবাঠাকুরের শিমুলবৃক্ষের চেয়ে মাথা উঁচু করে উঠেছে। সত্যিই উঠেছে। আবার সেদিন শিমুলগাছের উপরে উঠেছিল। এবার আর ডালে উঠেই ক্ষান্ত হয় নাই, একেবারে ডগায় উঠে কাহারপাড়াকে হেঁকে বলেছিল—দেখ।

    করালীর অপরাধেই যত অঘটন ঘটছে, এই অপবাদের প্রতিবাদেই সে গাছটায় আবার উঠেছিল। এবার সে চমৎকার একটা টিয়াপাখির ছানা পেড়ে এনেছে শিমুলবৃক্ষের কোটর থেকে। আগের থেকে অনেক গুণ তার বড় বেড়েছে। কোট পেলেন পরে বেড়াচ্ছে। বলে-যুদ্ধের পোশক। যুদ্ধের চাকরি নিয়েছে করালী। হঠাৎ সেদিন ওই পোশক পরে এসে বললে যুদ্ধের চাকরি নিলাম! এবার আর দিনমজুরি নয়। মাসমাইনে। পায়ে জুতো। ফোস্কা পড়েছে, খুঁড়িয়ে চলছে, তবু জুতো ছাড়বে না। ছোঁড়ারা সব চুলবুলিয়ে উঠেছে। প্রবীণদের আশঙ্কার অবধি নাই। কিন্তু বসনের সমস্যা কোঠাঘর। সেই কোঠাঘরের কল্পনা সে কাজে পরিণত করতে শুরু করেছে। ঘর আরম্ভ করে দিয়েছে।

    বিয়েবাড়ি থেকে ফিরেই হল বনওয়ারীর অসুখ। বসন বিব্রত হয়ে ধরেছিল রতনকে, প্রহ্লাদকে। পাগল থাকলে ভাল হত, কিন্তু সে সেইদিনই সকালে চলে গিয়েছে, বলে গিয়েছেদুদিন ঘুরে মন ভাল করে আসি। পনের দিন হয়ে গেল, আজও ফেরে নাই।

    রতন প্রহ্লাদ অবাক হয়ে বলেছিল—কোঠাঘর।

    –হ্যাঁ। তোমরা বারণ কর। যা পিতিপুরুষে করে নাই, তা করতে নাই। রতন এসে বললে—করালী?

    —কি? করালী বুঝতে পেরেছিল।

    —কোঠাঘর করেছিস তু?

    –হ্যাঁ।

    —পিতিপুরুষে কখনও করে নাই।

    —তা না করুক। আমার বাবা যুদ্ধের কাজও করে নাই।

    রতন এগিয়ে এল এবার।–দেখ করালী, কথা শোন্। ভাল, আমাদের কথা না শুনিস, বনওয়ারীর কথা শুনবি তো?

    —যদি না শুনি?

    প্ৰহ্লাদ এবার ধমক দিয়ে বললে—শুনতে হবে। সবাই শোনে, তুমি শুনবে না কি রকম? সে সেরে উঠুক, তার সাথে সলাপরামশ্য করে যা বলে কবি।

    করালী বলেছিল-যাঃ কচু খেলে! এর আবার সলাই-বা কিসের, পরামশ্যইবা কেনে? যাও যাও। তোমাদের সলাপরামশ্য যদি লাগে তো মাতব্বরের জ্বর ছাড়ার লেগে বসে থাক গা। আমার সলাপরামশ্য চাই না।

    প্ৰহ্লাদ বলেছিল—ঘর করতে হলে নেয়ম হল মাতব্বর এসে দড়ি ধরে।

    –আমি নেয়ম মানি না।

    —তোর বুঝি গায়ে জোর হছে বেজায়? ধরাকে সরা দেখছিস?

    —সরা নয়, খুরি। যাও যাও, মেলা ফ্যাঁচফ্যাঁচ কোরো না।

    রতন মাথলার বাবা, মাথলা করালীর সারে, রতন তাকে বলেছিল-দুদিন সবুরই কর। না কেনে বাবা।

    উঁহু! বর্ষার আগে ঘর সারতে হবে অতনকাকা। সবুর করবার টায়েম কোথা? আমার আবার যুদ্ধের চাকরি। যেখানে হুকুম করবে, যখন বলবে, তখুনি যেতে হবে।

    রতন বলেছিল—কিন্তু ভাল কাজ হচ্ছে না করালী। কেউ কখনও করে নাই কোঠাঘর।

    —না করুক। আমি করবই।

    গুপী বলেছিল—যা কেউ করে নাই, তা করতে গেলে খ্যানত হয়। চৌধুরী মাশায়রা দালান করতে ইট পোড়ালে, লোকে বারণ করেছিল, সে আমলে চৌধুরী শোনে নাই, ইটের ভাটা পুড়ল উদিকে চৌধুরী মাশায়ের ছোট বেটা ধড়ফড়িয়ে মরে গেল।

    –আমার তো বেটা হয় নাই এখনও। হেসে জবাব দিয়েছিল করালী।

    আফসোস হচ্ছে বসনের। এ জামাই নিয়ে কখনও সুখ পাবে না সে। এইসব কি কথাবার্তার ধরন, না ছিরি! এইসব মাথার মাথার লোকের সঙ্গে এই ধরনের কথাবার্তা যখন করালী বলে, তখন বসন ভয়ে লজ্জায় সারা হয়ে যায়। নিমতেলে পানুকে তো সে মারতে বাকি রেখেছে। নিমতেলে পানু করালীর সামনেও আসে নাই। মুখখামুখি তাকে কোনো কথা বলে নাই; নিজের বাড়িতে বসে সে নয়ানের মাকে বলেছিল—এ কাল তাকাৎ তিন-তিনটে মোড়লমাতব্বরের গুষ্টি গুজুরে গেল—আটপৌরেদের পরমদের ঘর, ঘরভাঙাদের বাড়ি, কোশকেঁধেদের গুষ্টি, তারা কেউ কোঠাঘরে পরিবার নিয়ে শোয় নাই বাবা।

    কথাটা করালীর কানে উঠতেই সে পানুর বাড়ি বয়ে গিয়ে তার সামনে উপ্ত হয়ে বসে। বলেছে—হা শালো, মাতব্বরেরা কোঠায় শোয় নাই বলে আমি শুতে পাব না।

    নিমতেলে পানু সেদিন সেই চড় খাওয়া অবধি করালীকে দুর্দান্ত ভয় করে। সে কোনো জবাব দেয় নাই। করালী তবু ছাড়ে নাই, নিরুত্তর পানার মুখের সামনে ঠিক পানার মত ভঙ্গিতে বসে ভেঙিয়ে মৃদুস্বরে শ্লেষের সঙ্গে বলেছে—হা শাপলা, বনওয়ারী মাতব্বরের পরিবারের যে রঙ কালো, দেখতে সে যে কুচ্ছিতা বলে আমি ফরসা সোন্দর মেয়ে বিয়ে করতে পাব না? তোমার পরিবারের তো অঙ ফরসা, তা—তাকে তুমি ছাড়। শালো। বলি ওরে শালো! বসে বসেই খানিকটা এগিয়ে গেল পানুর দিকে।

    পানু বেচারি ভয় পেয়ে গিয়েছিল, সভয়ে সেও বসে বসেই পিছিয়ে সরে যেতে চেষ্টা করেছিল, বলেছিল—ওইওই, উ সব কি কথা?

    করালীও বসে বসে পানুর দিকে আরও এগিয়ে গিয়েছে আর বলেছে ইটের বদলে পাটকেল রে ছুঁচো।

    —তোর যা মন তাই কবৃগা কেনে! আমার কি!

    আরও খানিকটা সামনে এগিয়ে বসে করালী প্রশ্ন করেছে—তাই তো শুধাইছি রে ছুঁচো, তোর কি? আমি কোঠাঘর করব, তাতে তু কথা বলবি কেনে? শালো ছুঁচো!

    বসন্ত বারবার অনুরোধ করেও করালীকে প্রতিনিবৃত্ত করতে পারে নাই। মহিষের মত তার গো। অবশেষে পাখী এসে তাকে ক্ষান্ত করে উঠিয়ে নিয়ে যায়। যেমন করালী, তেমনি পাখী। মেয়ের রঙ যেমন গোরো, তেমনি তেজ–

    যেন আগুনের হা। ভয়-ডর নাই। করালীকে বললে—উঠে আয়।

    করালী গ্রাহ্য করলে না।

    —শুনছিল?

    –না।

    মেয়ে এসে ধরলে তার হাত, ছাড়িয়ে নিলে করালী। পাখী ধরলে তার চুলের মুঠো, করালী মাথা ঝুঁকি দিয়ে চুল ছাড়িয়ে রেগে উঠল, হাক দিয়ে উঠল—অ্যা-ই! সঙ্গে সঙ্গে পাখী নিজের কপালে পাগলের মত কিল চড় মারতে আরম্ভ করলে—এই লে—এই লে—এই লে!

    করালী হতভম্ব হয়ে গেল। তারপর গিয়ে তার হাত ধরে মিষ্টি কথায় আনুগত্য স্বীকার করে বললেচ চ বাপু, চ। ঘর যেছি আমি। থাম বাপু, থাম। আসবার সময় নয়ানের মাকে বলে এসেছি, মরাকে আমি কোনো কথা বলি না। মরার গালেও আমার কিছু হবে না। দে তুই গাল, দে যত পারিস।

    পাখী তাকে নিবৃত্ত করতে পারে কোঠাঘর তোলার সঙ্কল্প থেকে। কিন্তু পাখীও ক্ষেপেছে কোঠাঘরের জন্যে। যেমন একালের ছেলে, তেমনি একালের মেয়ে। পাখী বলেচন্ননপুরের বাউরিরা কোঠাঘর করেছে—হারু বাউরি, শম্ভু বাউরি, কানাই বাউরি।

    —সে তো চন্ননপুরে। আর তারা তো কাহার লয়।

    —তা হোক কেনে।

    তাই বসন্ত এসে বসে আছে বনওয়ারীর কাছে। সুযোগ পেলেই বনওয়ারীকে বলবে। করালীকে এক সে-ই নিবৃত্ত করতে পারে। তা ছাড়া আর একটা আশঙ্কা আছে তার। করালী যাদের সঙ্গে ঝগড়া করেছে, তারা নিশ্চয় সাতখানা করে বনওয়ারীর কাছে করালীর বিরুদ্ধে লাগাবে। বনওয়ারীকে বুঝিয়ে সে আগে থেকেই ঠাণ্ডা করে রাখতে চায়। বনওয়ারী মাতব্বর বিরূপ হলে করালীর কি হবে, সে কথা ভেবে বসন্তের অনেক আশঙ্কা। কিন্তু এ মজলিসের মধ্যে বলবার সুযোগ পাচ্ছে না সে। ভাগ্যক্রমে হঠাৎ সুযোগ মিলল। হঠাৎ বনওয়ারী উঠল। গোপালীবালা বললে—এই, কোথা যাবা?

    বাবাঠাকুরের থানে। তার মুখ দেখে কেউ ‘না’ বলতে পারবে না।

    বনওয়ারী উঠতেই বসন্ত বললে—চল, আমি যাই সাথে।

    স্নেহভরে বনওয়ারী বললে—আসবি? আয়। লইলে বনওয়ারী একটা জ্বরে কাবু হয় না, এখনও তোর এক কোশ পথ গিয়ে ফিরে আসতে পারি, দুপুরের মধ্যে। একটু হাসলে সে।

    যাবার পথে হেসে বলদ দুটি এবং গাই কয়টির কাছে দাঁড়িয়ে তাদের গায়ে হাত বুলিয়ে আদর করলে। ডাইনের আটকেলে অর্থাৎ সাদার উপরে আটটি কালো দাগবিশিষ্ট বলদটা বনওয়ারীর বড় ন্যাওটা। ওটা তার ঘরেরই বাছুর বলদটা তার হাত চেটে মাথা নেড়ে নানা ভঙ্গিতে আনন্দ প্রকাশ করলে। বনওয়ারী একটু প্রসন্নতার স্পর্শ পেলে ওদের কাছ থেকে। মনে মনে বললে মা ভগবতী, তোমাদের সেবার তো কখনও তুটি করি না মা, তোমাদের আশীর্বাদে আমার এই পাপটি খণ্ডে দাও।

    পথে সেই আটপৌরে-পাড়ার বটগাছের তলায় কালোবউয়ের সঙ্গে তার দেখা হত। বনওয়ারী বললে—একটুকুন দাঁড়া বসন।

    বসন ভাবলে, ক্লান্তি। বললে–না এলেই হত! বললে—পরে আমি এসে কত্তার গানের মিত্তিকে নিয়ে যেতাম।

    বনওয়ারী উত্তর দিলে না। সে ভাবছে। কালোবউয়ের কথা, তার অপরাধের কথা।

    —বনওয়ারী হ? অর্থাৎ বনওয়ারী নাকি?

    বনওয়ারী ফিরে তাকালে। আটপৌরে-পাড়ার বুড়ো রমণ আটপৌরে এসে দাঁড়িয়েছে। তাকে দেখে। রমণ পরমের আত্মীয়-ভায়রাভাই, কালোশশীর বড় বোনকে সে বিয়ে করেছে। বনওয়ারী তার বাকা ভেঙে-পড়া মূর্তির দিকে চেয়ে রইল। রমণ প্রবীণ লোক, সুচাঁদের বয়সী। তবে সুচাঁদ শক্ত আছে, রমণ ভেঙে যেন দুমড়ে গিয়েছে। এক সময় রমণ শাহী লম্বা ছিল। লোকটাকে রোগেও ধরেছে। বনওয়ারী শঙ্কিত হল। পরম-কালোশশীর আত্মীয় রমণ তাকে দায়ী করতে এল নাকি? বনওয়ারী জোর করে হেসে বললে–হা গো। যাব একবার কত্তার থানে। তা যে বিকেলের ওদ, বার-চোদ্দটা রোপবাস হল, শরীরে বল নাই, তাই বসলাম একবার গাছতলায়।

    বসন বিরক্ত হল। কথাগুলি বলবার বড় সুন্দর সুযোগটি তার মিলেছিল।

    রমণ বনওয়ারীর কাছে বসল। বললে—মদের বেপার তো সব শুনেছ? আঃ, কালোশশীর লেগে দুঃখ হয় আমার!

    আবার বুকটা ধড়া করে উঠল। কে জানে বুড়ো কি বলবে? আটপৌরে-পাড়ার কেউ কি জানে না, কেউ কি শোনে নাই, পরম যে কথা জেনেছিল পানার কাছে? পানা কি

    রমণ বললে যতই ঢেকে কর পাপ, সময় পেলেই ফলেন পাপ, পাপ মানেন না আপন বাপ। বুঝলে কিনা—পরমের পাপের ফল। কালোশশীরও বটে, নইলে অপঘাতে মিত্যু! অনেক মানা করেছি তাকে। ভূপসিং ব্রাহ্মণ, তার পরশে পাপ হয়—কতবার বলেছি।

    বনওয়ারী একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললে।

    রমণ বললে—আচ্ছা সেদিন এতে আসবার পথে কি কথা বলবার লেগে ডেকেছিল পরম? কি বলেছিল তোমাকে?

    বনওয়ারীর বুক ধড়ফড় করতে লাগল।

    -বনওয়ারী!

    বনওয়ারীর একটা কল্পিত কাহিনী চকিতে মাথার মধ্যে এসে গেল। সে বললে বলেছিল চন্ননপুরের সিং মশায়ের কথা। বলে-ভাই, তু যদি আমার সাথে থাকিস; তবে ওই শালাকে একদিন ঠেঙাই। বলে—সাবাড় করে শালোকে দহে ফেলে দোর গলায় কলসিতে বালি ভরে। তা আমি অনেক বুঝালাম। শেষ চটাচটি হল আমার সাথে। আমাকে বললে—আমার জাত গিয়েছে বললি কেনে মাতালশালায়? বলে আচমকা লাফিয়ে পড়ল ঘাড়ে। তা’পরে মারামারি। আমি কাবু হয়ে গেলাম। আমাকে ফেলে তখন হনহনিয়ে চলে এল। কি করব আমি, সব্বাঙ্গে বেথা, ধুলো বালিপথে পুকুরে নামলাম। তখন শুনলাম, কালোবউকে গাল দিতে দিতে যেছে। পরম। আমার তখন জ্বর এয়েছে-কঁপছি। তা’পরেতে তো পাগল গেল। সে একটা দীর্ঘনিশ্বাস ফেললে।

    রমণ বললে—যাক, তোমারও যে জ্বর! ডরিয়েছিল সকলে। বেঁচেছ এই কাহারপাড়ার ভাগ্যি। না মাথা, না ছাতা। এক তুমিই আছ। আমরা এ পাড়ায় তাই বলি, অমনি মাতব্বর যদি আমাদের হত! তা সেদিনে আমি বললাম পাড়াতে যে, আর আমাদের আলাদা হয়ে থেকে কাজ কি? এক হলেই হয়। করণকারণ কর, বিয়েশাদি হোক। আমাদের আটপৌরে আর ক’ঘর? বাঁশবাঁদি ছাড়া হুই হোথা—হেথাকার নীলকুঠি যেথা ছিল, সেখানে দু’ঘর চার ঘর আছে। তাও। আবার সব জাগায় নাই। তুমি বাবা, মাতর হয়ে এইটি কর। নইলে আটপৌরে-পাড়ার পিতুল নাই। আমি বিদ্ধ হলাম, এখনও আমার দাগী নাম ঘুচল না বাবা।

    বনওয়ারী অবাক হয়ে গেল।

    এ কি ভগবান হরি কালারুদ্দু কত্তাঠাকুরের লীলা! মনে মনে সে প্রণাম করলে দেবতাদের। এ কি দুঃখের মধ্যে সুখ, ভাঙনের মাঝে গড়ন!

    সে বললে—একটুখানি সারি অমনদাদা। তা’পরতে হবে সব কথা।

    রমণ বললে—তোমার শরীলে বল হোক, একদিন নিয়ে যাবা আমাদিগে চন্ননপুরে বড়বাবুর কাছারি। পরম তো ফেরার। সে আর ফিরবেও না। তা সায়েবডাঙায় পরম যে জমি পাঁচ বিঘে। নিয়েছিল, আমাদের আটপৌরেরা ভাগ করে লোব। বাবুর একটা ‘রনুমতি’ তো চাই। তা আমাদের হয়ে সে কথা বলবার নোক নাই।

    বনওয়ারী উঠল। রমণের কথাটা সে বুঝেছে।

    ***

    বৈশাখ জ্যৈষ্ঠ মাসে ‘কত্তার থানে’র শোভাটি হয় মনোরম। বেলগাছগুলি অজস্র কচি পাতায় ভরে উঠেছে, কুলঝোপগুলিতেও কচি পাতার সমারোহ, বেলগাছের পাতায় সমৃদ্ধির মধ্যে পাকা বেল দেখা যাচ্ছে না, কিন্তু গন্ধ উঠছে। কিন্তু কর্তা স্বয়ং যে গাছটিতে থাকেন, সে গাছটির আশ্চর্য মহিমা। সকল গাছে পুরনো পাতা ঝরতেই চৈত্রমাসের বিশ-পঁচিশ দিন চলে যায়, তারপর বেলগাছ কয়েকদিন ন্যাড়া হয়ে থাকে—শুধু বেলগুলো ঝুলতে থাকে, বৈশাখের আট-দশ দিন। গেলে তবে কচি পাতা দেখা দেয়। কিন্তু কর্তার বাস যে গাছটিতে, সেটির পাতা চৈত্রের প্রথম সপ্তাহে ঝরে যাবেই, গাজনের আগে তাতে পাতা দেখা দেবেই। না দিলে চলবে না যে। জাঙলের বাবা কালারুদ্রের মাথায় গাজনের পুজোয় ঐ গাছের নতুন বেলপাতা প্রথমেই চড়াতে। হয় যে। এমন চৈত্র মাসে পাতা-ধরা গাছ এ চাকলায় আর নাই। বাবার মহিমায় গাছটির আশপাশে এই বিবৃক্ষের দু-চারটি চারাপল্লবও হয়েছে। হবেই যে, যুগে যুগে এ মাহাত্ম্য বজায় থাকতে হবে তে। শেওড়া গাছগুলিতেও নতুন পাতা ধরেছে। সোয়াকুলের ঝোপগুলিতেও নতুন পাতা। গাছগুলির মাথায় চারিপাশের কুলঝোপগুলির মাথা ছেয়ে আলোকলতা ছড়িয়ে পড়েছে। ছাতার মত। মধ্যে মধ্যে ফুলে-ভরা ধুতুরা ও আন্দের গাছ; সবচেয়ে বাহার দিয়েছে একটা বাদলাঠির গাছ। গাছটা ভরে অজস্র হলুদ রঙের ফুল ফুটেছে লম্বা ডাটায় অসংখ্য ফুল। ফুলের ভারে নুয়ে পড়ে দুলছে। ফুলঝুরি না বললে সে ফুল ফোটার সঠিক বর্ণনা হয় না। চারপাশে তালগাছের বেড়া। তাল ধরে হয়েছে কাদি কাদি। কর্তার থানটির আর একটি মহিমাচারপাশে নজর চলে। পুবে ওই দূরে—পলেনের মাঠের কিনারায় দেখা যাচ্ছে বাঁশবাঁদি, তার পাশে সেই দহ, যে দহে ড়ুবেছে কালোবউ। উত্তরে তাকাও, দেখবে দেখা যাচ্ছে জাঙল গ্রাম। উত্তর-পূর্বে চন্ননপুর ইস্টিশান একেবারে পরিষ্কার দেখতে পাবে। পশ্চিমে তাকালে সায়েবডাঙা নজরে পড়বে। পশ্চিম-দক্ষিণ কোণে তাকাও, নজরে পড়বে কোপাইয়ের হাঁসুলী বাঁকের প্রথম খোচ। মোটা কথা, কর্তা এই বেলগাছটিতে বসে রুদ্ৰাক্ষের মালা জপ করেন, আর গোটা হাঁসুলী বাঁকে তার দৃষ্টি দেন। প্রসন্ন দৃষ্টিতে মানুষের ঘরে সুখ শান্তি উছলে পড়ে, মাঠে ফসল লুটিয়ে পড়ে, পশ্চিম আকাশের ঝড় সসম্মানে হালীর বাঁকের পাশ কাটিয়ে চলে যায়। কোপাইয়ের বান দুকূল ভাসিয়ে আসতে আসতে এ কুল ছেড়ে ও কুল ভাসিয়ে চলে যায়। আবার কোপদৃষ্টি হানলে এর উল্টো হয়। ঘরে ঘরে দুঃখ, ঝগড়াঝাটি, লাঠালাঠি, মনে মনে অসুখ, গায়ে গায়ে বিবাদ, আকাশে অনাবৃষ্টি, মাঠে অজন্ম, মাথার উপর ঝড়, কোপাইয়ের বান সেবার হাঁসুলী বাঁকের ওই প্রথম খোচই বল আর খাজই বল—এইখানে যে বাঁধ আছে, সেই বাঁধ ভেঙে হালীর ব্যাক ভাসিয়ে চলে যায়।

    উপুড় হয়ে পড়ল বনওয়ারী বেলগাছের সামনে। হে দয়াময়, হে প্ৰভু, হে হাঁসুলী বাঁকের মঙ্গল-অমঙ্গলের মালিক, হে বাবা ইহলোকের রক্ষাকর্তা, পরলোকের ত্রাণকর্তা, তুমি বনওয়ারীকে রক্ষা কর, ত্রাণ করবার ভরসা দাও। সকল পাপ তুমি ক্ষমা কর। পাপ সে। করেছে—একশো বার হাজার বার সে স্বীকার করছে তোমার চরণতলে। চোখ থেকে তার জল পড়ল। অনেক প্রার্থনা করে সে উঠে বসল।

    বসন অবাক হয়ে গেল তার চোখে জল দেখে। বনওয়ারীদাদা ভাল লোক, ধৰ্মিষ্ঠ তা সে জানে; কিন্তু এত বড় ধর্মাত্মা তা সে জানত না। মাথার উপর রোদ চড়ছে, বনওয়ারীর দুর্বল শরীর, তাড়াতাড়ি ফেরাই উচিত, কিন্তু এরপর আর সেকথা বলতে তার সাহস হল না। গাছের ছায়া দেখে সেইখানেই বনওয়ারী বসল উবু হয়ে। এতক্ষণে তার মন খানিকটা শান্তি পেলে। বুকের ভিতরের উদ্বেগ অনেকটা উপশম হল। কর্তাবাবার কৃপায় পাপের অবশ্যই খণ্ডন হবে। মনে মনে সে মানত করেছে। তারপর রমণের সঙ্গে দেখা হয়েছে, সেও ভাল হয়েছে; পরমের সঙ্গে পথের বৃত্তান্তটাও খুব চমৎকার হয়েছে; এরপর আর কোনো দোষ তার ঘাড়ে আসবে না। অপরাধ অবশ্য তার অল্পই। সে পরমকে ইচ্ছা করলে মেরে ফেলতে পারত, কিন্তু মারে নাই। কালোবউকে নিজেও সে ডাকে নাই। সে তাকে দেখতে গিয়েছিল। বলতে গিয়েছিল পরমের আসবার কথা। কালোবউই নিজে থেকে তার হাত ধরে নিয়ে গিয়েছিল নদীর ধারে। পরমই কালোবউকে খুন করতে গিয়েছিল। কালোবউ নিয়তির টানে গিয়ে পড়ল কর্তার দহে। বলতে গেলে কৰ্তাই তাকে সাজা দিয়েছেন। তার অপরাধ—সে জলে ড়ুব মেরেছিল পরমকে দেখে, উঠে বাধা দেয় নাই, আর কালোবউকে তুলবার জন্য জলে ঝাপিয়ে পড়ে নাই। ভাবতে ভাবতে শিউরে উঠল সে। ভাগ্যও ভাল যে ঝাপ দিয়ে পড়ে নাই, নইলে সেও আর উঠত না। বাবার বাহন—বাবার বাহনই তাকে দহের বুকে ড়ুবিয়েছে। সে চোখে দেখেছে। করালীর পাপেই মরল কালোবউ।

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথায় পাপ আছে—পুণ্য আছে। পাপপুণ্যের চেয়ে, বিষয়বুদ্ধি ধর্মবুদ্ধি বলাই ভাল। সংসারের বাঁশবন এবং জৈব কামনার আদিম কালের আপনি-জন্মানো, বট-অশ্বথ শিমুল-শিরীষ গাছের ঘন বনের ছায়ার তলায় জন্মানো পাপপুণ্যবুদ্ধির গাছগুলির চেহারা বিচিত্র হাঁসুলী বাঁকের বাঁশবনে এবং বটবনে সযত্নে পোতা আম-কঁঠালের চারার মত বিবৰ্ণ এবং হিলহিলে তাদের চেহারা, বট অশ্বথ এবং বাঁশবনের ওই ঘন ছায়ার মধ্যেও এরা আলোক ও উত্তাপের কিছু কিছু আস্বাদ পায় এবং আরও বেশি পেতেও গভীর কামনা তাদের আছে। কিন্তু কোনোমতেই যেন পেরে উঠছে নাহাঁসুলী বাঁকের মাঠ যেন বটগাছ বাঁশগাছকেই বেশি রস দিচ্ছে। কাহারেরা সতৃষ্ণনয়নে তাকিয়ে থাকে এই আম-কঁঠালের গাছগুলির দিকে। কবে বড় হয়ে ছাড়িয়ে উঠবে বাঁশবনের অন্ধকার! বটের পাশে ওরা মেলবে পল্লব! কবে দেবে ফল! কিন্তু কোনো ভরসাই পায় না। এই গাছগুলি মরছে অথবা বাঁচবার পথে বাড়ছে—সে কথায় কাহারপাড়ায় দ্বিমত রয়েছে। সুচাঁদের মত হল, মরছে—নিশ্চয় মরছে। অধিকাংশ প্রবীণের মতই তাই। সুচাঁদ বলে—সেকালে লোকের ভক্তি কত ছিল। ঘর ঘর দিত মানসিকের পাটা। অ্যাই বড় বড় পাটা, অ্যাই তার ডাড়ি। ড্যার বছর এক বছর বয়েস না হলে বলিদানই দিত না। আতে চুরি করতে যেত মরদেরা-কত্তার ঠাঁইটিতে পেনাম করে তবে যেত। মেয়েরা কারুর সাথে অঙ করতে আগে কত্তার গাছতলায় একথান সিঁদুর দিয়ে তবে অঙ করতে নামত। কত্তা লোককে স্বপনে আদেশ দিত। গুপীর কত্তাবাবা মাথা ঠুকলে কত্তাবাবার গাছের শেকড়ে ই পরিবার নিয়ে আমি কি করি, তা বল বাবা তুমি! গুপীর কত্তামায়ের অঙ হয়েছিল ওই পাড়ার একজর সাথে। বাবা স্বপন দিলে—মেরে ফেলাও বিষ দিয়ে। স্বপনে বাবা ইয়েদের গরুমারা বিষ হাতে দিয়ে বললে—এই লে। সেই বিষে মরল গুপীর কত্তামা। তারপর সে বলে—সে আমও নাই, সে অযুধ্যেও নাই। মানুষের সে বেম নাই-ভক্তি নাই, বাবাও নিজের মহিমে গুটিয়ে নিয়েছেন। যেমন কলি তেমনি চলি। কলিকালে ধম্মই নাই। তাই মানুষের হালচাল এমুনি। জাঙলের চৌধুরী মশায় বলতেন—কলিকালে ধম্মের এক ঠ্যাঙ। তাও ক্ষয়ে আসছে।

    ক্ষয়ে এলেও খানিকটা আছে, তাই এখনও কিছু কিছু আছে। বনওয়ারী তার উল্টো মত অবশ্য পোষণ করে না, কিন্তু তবু সে প্রত্যাশা করেহাঁসুলী বাঁকের মধ্যে সে ধর্মের ওই একটি ঠ্যাঙকে আর ক্ষয়ে যেতে দেবে না। বনওয়ারী এসে গড়িয়ে পড়ল বাবার থানে। সান্ত্বনাও সে পেলে। মনে মনে বললে—ক্ষমা কর, বাবা, ক্ষমা কর। আমি তার জন্যে দায়ী নই। তবে করালীকে আমি সাজা দিই নাই, সে অপরাধ আমার বটে। কিন্তুক হে বাবাঠাকুর, তার জন্যে তো আমার বুক খালি করে কালোবউকে কেড়ে নিয়েছ। এইবার তোমার কোধ শান্ত কর।

    যে যতই বলুক, বনওয়ারী জানে, কালোবউয়ের সঙ্গে তার ‘অঙের’ খেলার অপরাধ বাবাঠাকুরের কাছে বড় পাপ নয়। অজ্ঞান কাহারদের এ অপরাধ ধরেন না বাবা। বাবাঠাকুর কাহারদের দণ্ডমুণ্ডের মালিক—তিনি বোঝেন যে কাহারদের ‘অঙের খেলা ছাড়া আর কোনো মন-ভুলানো খেলা নাই। বাবাঠাকুরের কাছে প্রধান অপরাধ করেছে করালী। সে-ই বাহনটিকে পুড়িয়ে মেরেছে। তার শিমুলবৃক্ষে বার বার উঠে তার ঘুমের ব্যাঘাত করেছে। করালীই আবার কাহারপাড়াকে যুদ্ধে যেতে বলেছে। অসুখের মধ্যে এইসব ভাবনা ভাবতে গিয়ে বনওয়ারী একটি নূতন সত্য পেয়েছে। বাহনের শিসের মানে বুঝেছে। শিস দিয়ে দিয়ে সাবোধান করে দিচ্ছিলেন। হাঁসুলী বাঁকের কাহারকুলকে সাবোধান! হাঁসুলী বাঁকের মাথার উপর দিয়ে গোঙাতে গোঙাতে নিত্যি উড়বে উড়োজাহাজ। চন্ননপুরের জাতনাশা কারখানা বেড়ে এগিয়ে আসবে এই দিকে। পিথিমীতে যুদ্ধ লেগেছে-সাবোধান! করালীকে আড়াল করতে গিয়ে বাবাঠাকুরের হাতে মার খেলে বনওয়ারী, বনওয়ারীর বুকে আঘাত দেবার জন্যেই বাহন ছোবল দিলে কালোবউয়ের বুকে।

    বনওয়ারী চুপ করে বসে রইল বেলগাছটির তলায়। সামনেই পশ্চিমে সায়েবাঙা; সেখানে কালো কালো মানুষেরা ঘুরে বেড়াচ্ছে। মধ্যে মধ্যে গরম বৈশাখী দমকা বইছে। আটপৌরেপাড়ার সেই বটগাছটায় সাড়া জাগছে নতুন কচি পাতায় পাতায়।

    সায়েবডাঙায় কালো কালো মানুষ ঘুরে বেড়াচ্ছে—বাবুরা জমি কাটাচ্ছে। ওরা সাঁওতাল। বনওয়ারীর জমি আর এবার কাটানো হল না। সে দীর্ঘনিশ্বাস ফেলে ঘাড় নাড়লে।

    বসন পাশে চুপ করে দাঁড়িয়ে আছে। বনওয়ারীর মুখের চেহারা দেখে তার কথা বলতে সাহস হচ্ছে না। আর একবার যদি বনওয়ারীদাদা হাসে।

    হঠাৎ বনওয়ারী উঠল। সুযোগ পেয়ে বসন্ত কথা বললে চল, বেলা অনেক হয়েছে। পথে সে সাহস করে বললে—বনওয়ারীদাদা!

    —হুঁ।

    —তুমি বাবু করালীকে একবার বারণ করবে।

    —কাকে? করালীকে?–চোখ দুটো তার জ্বলে উঠল। বসন ভয় পেলে।

    বনওয়ারী বললে—শুনেছি কোঠাঘর করছে সে! হবে তার বোঝাপড়া। একটু চুপ করে থেকে হেসে আবার বললে—আমি কি কোঠাঘর একখানা করতে পারি না বসন?

    শিউরে উঠল বসন্ত। মনে পড়ল—করালী বসন্তকে এই কথার উত্তর কি দিয়েছে। বসন্ত বনওয়ারীর মনও ঠিক বুঝতে পারছে না। করালী তো কম নয়। শেষে কি দুজনে? কত কথা ভাবতে লাগল। হঠাৎ বনওয়ারী থমকে দাঁড়াল। বনওয়ারীর কিন্তু সবই অদ্ভুত! বসন বললে— কি হল? বলতে বলতে পিছন থেকে ঘূর্ণি হওয়া এসে দুজনকেই আবৃত করে দিলে। ধুলোয় পাতায় সর্বাঙ্গ ভরে গেল-মুখে ধুলোবালি ঢুকল। বসন্ত এবার এটাকেই তামাশার ভূমিকা করে নিয়ে অপরিমিত হাসতে লাগল–খু-খু, মা গো! পরক্ষণেই সে বিস্মিত হয়ে বনওয়ারীকে বললে—কি হল বনওয়ারীদাদা? দাঁড়ালে?

    বনওয়ারী বিস্ফারিত দৃষ্টিতে চেয়ে রয়েছে। ঘূর্ণিটা তাদের অতিক্রম করে সামনে এগিয়ে চলেছে। অদূরেই আটপৌরে-পাড়ার বটগাছটা। ঘূর্ণিটা এগিয়ে গিয়ে কাণ্ডের গায়ে খুব ঘুরপাক খেয়ে থেমে গেল। গাছের পল্লবে পল্লবে চঞ্চলতা জেগে উঠল।

    বনওয়ারী কাঁপতে লাগল। ব্যাপারটা বুঝেছে বসন। সে শঙ্কিত কণ্ঠে প্রশ্ন করলে বা-বাওড়? অর্থাৎ ভূত?।

    বনওয়ারী তার হাতটা ধরে বললে-পাশে পাশে আয়। বসন্ত তার হাতটা ধরে দেখলে, বনওয়ারীর হাতটা ঘামছে, থরথর করে কাঁপছে। বনওয়ারী তাকে সাহস দিতে চায়, না তার কাছ থেকে সাহস পেতে চায়-বুঝতে পারলে না।

    সে ডাকলে-ব্যানোদাদা!

    বনওয়ারী উত্তর দিলে না। হাঁসুলী বাঁকের বনওয়ারী মাতব্বর ঠিক চিনেছে, বসন চিনতে পারে নাই। কালোবউ! কালোশশী! আর কেউ নয়। কালোশশী হাসিখুশি! ঠিক তেমনি নেচে চলে গেল। সে ইশারা দিয়ে গেলবঁধু, এই গাছেই আমি বাসা বেঁধেছি।

    হয়ত তাকে নিমন্ত্রণ জানিয়ে গেল। বনওয়ারী সাহস সঞ্চয় করে আবার চলতে আরম্ভ করলে। বাড়ি এসে আবার বিছানায় শুয়ে পড়ল। বসন নিরুপায় হয়ে ফিরে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }