Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায় এক পাতা গল্প529 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৫.২ উনপঞ্চাশ সাল

    উনপঞ্চাশ সাল এলেন ঝড় বাতাস নিয়ে। পয়লা বোশেখ শুভদিনের একটা কালবৈশাখী হয়ে গেল। দোসরাও একটা ঝাপটা দিলে। তেসরা চৌঠা বাদ দিয়ে পাচুই আবার ঝড় এল বেশ। সেজেগুজে হাঁকডাক করে। দুদিন চারদিন অন্তর একটা করে ঝাপটা প্রায় নিত্যই চলতে লাগল। উনপঞ্চাশ সালে পাগলও ফিরেছে।

    সায়েবডাঙার জমির বাকিটা এবার আবার কাটতে আরম্ভ করলে বনওয়ারী। সন্ধের পর চাদ যতক্ষণ ততক্ষণ কোদাল চলতে লাগল কাহারদের, এবার কারদের সঙ্গে আটপৌরেরাও যোগ দিয়েছে। পরমের জমি আট ঘর আটপৌরে ভাগ করে নিয়েছে, কেবল রমণ নেয় নি, সে। বুড়ো মানুষ, সন্তান নাই; সে-ই এখন আটপৌরেদের মাতর হয়েছে; বনওয়ারীর নিচে। অবশ্য। রমণ এখন একরকম বসেই খাচ্ছে। যোগাচ্ছে বনওয়ারী। সুবাসীর মেসো, বনওয়ারীর মেসো। রমণ বনওয়ারীর গরু-বাছুর চাষবাস দেখে—এটা-ওটা যা হয় করে। বনওয়ারী কাহারদের জন্যও জমির চেষ্টা করছে, চন্ননপুরের বাবু মহাশয়ের কাছেও গিয়েছিল। বাবু আশা দিয়েছেন।

    সায়েবডাঙার জমি কাটতে কাটতেই ওই সত্যটা আবিষ্কার করলে বনওয়ারীরা। ঊনপঞ্চাশ সাল বাতাস নিয়ে ‘আইছেন লাগন’ অর্থাৎ এসেছে মনে হচ্ছে।

    পাগল জমির ধারে বসে বসে তামাক খায়, আর সকলকে খাওয়ায়। ও কোদাল ধরে না। মধ্যে মধ্যে বেরিয়ে পড়ে বাউল-ফকিরের মত বেশ করে। দুদিন পাচদিন ঘুরে ঝোলার পেটটি মোটা করে ফেরে। বসে পাচ-সাত দিন খায়। বলে—এতেই চলে যাবে দিন কটা। ও কোদাল ধরবে কেন? বনওয়ারীও বলে না কোদাল ধরতে। পাগল গুণী মানুষ। গবেষণাটা শুনে পাগল বললে—তা আসবে না কেনে হে! উনপঞ্চাশ যে পবনের বছর। বুয়েচ! তারপর বললে—এবার হনুমানেরও উপদ্রব হবে, দেখো! উনিই তো পবননন্দন। পাগলের কথাটা সত্য। পবনের নন্দন। বলে নয়, ঝড় হলে গাছের ডালে বসে ভিজে হনুমানগুলির যত শীত ধরে, তত বেশি লাফালাফি করে ফেরে। ঝড়োল থামলেই উন্মত্তের মত লাফ দিয়ে বেড়াতে শুরু করে দেয়।

    উনপঞ্চাশের পবনে আর পবননন্দনদের ‘বিক্যমে’ অর্থাৎ বিক্রমে কাহারপাড়ার এবার আর দুর্দশার সীমা রইল না। চালের খড় তছনছ হয়ে গেল। ঝড়ের সময় শেষ হলে তালপাতা কেটে চালে চাপালেও আর হবে না। চালে খড়ই আর নাই। থাকবার মধ্যে আছে বনওয়ারীর। কাহারপাড়ার সকলেই করে কৃষাণি। কৃষাণদের ভাগে খড় প্রাপ্য নয়, তিন ভাগের এক ভাগ ধান পাওয়াই সেই আদ্যিকালের নির্দিষ্ট নিয়ম। খড় দু-চার গণ্ডা মনিবের কাছে চেয়ে নেয়। আর মাঠ থেকে সরানো ধানগুলি থেকে কিছু খড় হয়। খড় এবার কেনাও দুঃসাধ্য। খড়ের দরে আগুন লেগেছে। কাহন বিশ টাকা ছাড়িয়ে গিয়েছে। যুদ্ধ! কাল যুদ্ধ রে!

    চন্ননপুরে যাও, বুঝতে পারবে কি রকম যুদ্ধ লেগেছে পৃথিবীতে। কারখানাটা বেড়ে যেন ভীমের বেটা ঘটোৎকচ হয়ে উঠেছে। আর সে কি গর্জন! লোহার যন্ত্রপাতিগুলো ঘড়ঘড় ঘং ঘং-ঘটাং-ঘং ঘটা ঘটা ঘং—ধড়াম-ধুম শব্দ করে যেন মহামারণ লাগিয়ে দিয়েছে। মধ্যে মধ্যে আবার উ-উ-উ করে পেঁচিয়ে ওঠে। শরীরের পা থেকে মাথা পর্যন্ত শিরশির করে। সেখানে দাঁড়ালে কানে তালা ধরে যায় শব্দে। ভিতরে ঢুকলে নাকি গরমে সিদ্ধ হয়ে যায় মানুষ। দুটো চারটে লোক প্রতিদিনই জখম হচ্ছে। দু-দশ দিন অন্তর মরছেও একটা দুটো। কাউকে টেনে নিচ্ছে কলের চাকায়, কারও মাথায় খসে পড়ছে লোহার টুকরো, কেউ মরছে উপর থেকে মুখ থুবড়ে পড়ে। মরলে নাকি ক্ষতিপূরণ দেয়। সে নাকি অনেক টাকা। হোক অনেক টাকা, জীবনের চেয়ে তার দাম বেশি?

    করালী সেই কারখানার ভিতর কুলি-সর্দার হয়েছে। কোট পরেছে, পেল পরেছে, জুতো পায়ে টুপি মাথায় দিয়ে হুকুম চালায়। বনওয়ারী আশ্চর্য হয়ে যায়, করালী আজও শাস্তি পেলে না কেন? বাবাঠাকুরের বিচার ন্যায়বিচার, যমদণ্ডের আঘাতে সাজা! সে সাজা কি করালীর আজও পাওয়া হয় নাই? হবে হয়ত। আজও হয়ত সময় হয় নাই, হতভাগার পাপের ভারা এখনও পূর্ণ হয় নাই। এবারে ঝড়ে সকলের ঘর উড়ল, কিন্তু করালীর ঘর প্রায় ঠিকই আছে। অবশ্য লোহার তার দিয়ে চালকে বেঁধেছে মাটির সঙ্গে, চালের উপরে আবার দড়ির জাল দিয়ে খড়ের ছাউনিকে ঢেকে বেঁধেছে, কিন্তু বাবাঠাকুরের কোপ তালগাছের মাথা ভেঙে মাটিতে লুটিয়ে দেয়, পাকা রেলের পুলকে ভাসিয়ে দেয়, তার কাছে ও বাঁধন কি? ওই পাপের ভারা পূর্ণ হয় নাই— এই কথাই ঠিক।

    করালীর দঙ্গলে কতকগুলো ছোঁড়াও ভিড়েছে। ভিড়ুক। ওদেরও সাজা হবে। বাবাঠাকুর আছেন।

    হঠাৎ এসে দাঁড়াল ঘোষ-বাড়ির চাকর।বড়কর্তা ডেকেছেন বনওয়ারীকে।

    –বড়কত্তা! এত এতে? কাল সকালে—

    —না না। আজই রাত্রে যেতে হবে। তা নইলে, এই সায়েবডাঙায় আসব কেনে?

    —কি, বেপার কি?

    –বাড়িতে খাওনদাওন, জান তো?

    —হাঁ, তার তো সব যোগাড় হয়েই যেয়েছে।

    —তুমি যেয়ে, সেখানেই শুনবে সব।

    চাকরটা চলে গেল।

    ঘোষ-বাড়িতে প্রতি বৈশাখী সংক্রান্তিতে খাওয়াদাওয়ার ব্যবস্থা আছে। পুণ্য কর্মটির রেওয়াজ করে গিয়েছেন স্বয়ং ঘোষ মহাশয়দের মা-ঠাকরুণ। বলে গিয়েছেন—নেহাত মন্দ অবস্থা না হলে এটি বন্ধ কোরো না।

    ব্ৰাহ্মণ কায়স্থ সদ্‌গোপ মহাশয়েরা ভোজন করেন। কাহারেরা প্ৰসাদ পায়, এটোকাটা সাফ করে, পাতায় পড়ে থাকা খাবার গামছায় বেঁধে বাড়ি আনে, আনন্দ করে খায় পরের দিন।

    পাগল বললে—তা হলে ওঠ আজকের মত। উদিকে আকাশের গতিকও মন্দ হে। পচিমে চিকুরছে, বাতাস থম ধরেছে। আজ চার-পাঁচ দিন দেবতা হকাড় দেন নাই। আজ বোধহয় এতে আসবেন-বা!

    পাগল বসে বসে ঠিক দেখেছে। পশ্চিমে মেঘ উঠেছে। মাঝ-আকাশে চাদ আছে বলে এখনও আলো রয়েছে।

    বড় ঘোষ মহাশয় থমথমে মুখে দাঁড়িয়ে ছিলেন। ভয় পেলে বনওয়ারী। চন্ননপুরের বাবুদের কাছে জমি নিয়ে ঘোষ মহাশয়দের জমির কাজে কিছু অবহেলা তার হচ্ছে, এ জন্য বড়কর্তা। একদিন রোষ করবেন—এ অনুমান বনওয়ার কিছুদিন ধরেই করে আসছে। আজ বুঝলে খাওয়া-দাওয়ানের কোনো কর্মের খুঁত ধরে সেইটা আজ মাথায় পড়ছে। সে সভয়ে সবিনয়ে বললে—আজ্ঞে?

    বড়কর্তা ফেটে পড়লেন—তোমাদের কাহারদের আমি সোজা করে দেব।

    –আজ্ঞে?

    —কেরোসিনের জন্যে খবরদার আসবে না তুমি। চিনির জন্যে না। কাপড়ের জন্যে না। কুইনিনের জন্যে না। খবরদার। দোব না আমি।

    বড়কর্তা ইউনিয়ন-বোর্ডের মেম্বর। কাহারপাড়া জাঙলের হুকুমচিঠির ভার ওঁর উপরে। যুদ্ধের জন্য ‘কেরাচিনি’, চিনি, কাপড়, ‘কন্টোল’ না কি হয়েছে! বাজারে গিয়ে পয়সা দিয়ে মেলে না। হুকুমচিঠি পেলে, সেইটি দেখালে, তবে পাওয়া যায়। কাহারেরা ‘কেরাচিনি পায়, চিনি বড় একটা পায় না। সাত দিনে এক ছটাক দু ছটাক বরাদ্দ। তাও বন্ধ করে দেবেন। বলছেন। চিনি গেলে ক্ষতি নাই। চিনি ওরা খায় না, ওদের চিনিটা নিয়ে থাকেন ওদের মনিব মহাশয়েরা। কিন্তু কেরাচিনি’ খানিক-আধেক না হলে চলবে কি করে? ‘কুনিয়াল পিল’ ইউনিয়ন-বোর্ড দেন মেম্বরের হাতে, ম্যালেরিয়ার সময় ভাদ্র-আশ্বিন-কাৰ্তিকতখন কুনিয়াল না হলে মরণ! কিন্তু অপরাধটা কি হল?

    বড়কর্তা বললেন—গলায় তোরা পৈতে নে, বুঝলি? তোদের মেয়েরা চন্ননপুরে গিয়ে–

    বড়কর্তা একেবারে কাহার-মেয়েদের যত কেলেঙ্কারি প্রকাশ করে দিলেন। বড়কর্তা রেগে গিয়ে কাহারদের কথা প্রকাশ করে বললেন-কাহারেরা আর কাহার নাই, বামুন। তা পৈতে নিক কাহারেরা। শেষে একেবারে ক্ষেপে গিয়ে বললেন—এটো ভাত খাবে না, নেমন্তন্ন চাই! জুতো না-খেয়ে সব মাথায় উঠেছে।

    বনওয়ারী অবাক হয়ে গেল—সে কি? এসব কথা কে বললে আপনাকে?

    বড়কর্তা উঠে এলেন। বললেন—তোদর ওই করালী বলেছে। হারামজাদাকে আমি একদিন জুতো। শালার ভয়ানক বড় হয়েছে। চন্ননপুর ইস্টিশানে ছোটকা অর্থাৎ ছোট ভাই আজ বাজার করে নেমেছিল। তাদের সিধু ছিল সেখানে। সিধু জিজ্ঞেস করেছে অন্নপ্রাশনের কথা। বলেছে—আমাদিকে পেশাদ দেবেন তো? ছোটকা বলেছে নিশ্চয়ই পাবি; যাবি তোরা। তুই করালী পাখী যাবি, কাহারপাড়ার সবাই আসবে। করালী দাঁড়িয়ে ছিল কাছেই। সে বেটা বলেছে—করালী কারও এটোকাটার পেসাদ খায় না। কাহারপাড়ার ছেলে-ছোকরারাও বলছে— তারাও যাবে না। সিধুকে বলেছে—তু যদি যাস তো তোর সঙ্গেও আমরা খাব না।

    অবাক হয়ে গেল বনওয়ারী। এমন স্পৰ্ধা সে কল্পনাও করতে পারেন।

    বড়কর্তা বললেন–যে শালা কাহার না আসবে, তাকে দেখব আমি। আবার পাড়াতে মজলিস জুড়েছে!

    ***

    কথাটা সত্য। সেই রাত্রেই করালীর বাড়িতে কাহার-ছোকরাদের মজলিস চলছিল। করালী তাদের সেই কথা বলছে। হেঁয়া খেলে জাত যায় না। এঁটো খেলে জাত যায়। যে কাহার পরের এঁটো খাবে সে পতিত। তার জাত নাই।

    করালীর আফসোস-বুড়ো কাহারেরা এই সহজ কথাটা বুঝছে না। আফসোস তারা চন্ননপুরের কারখানায় গিয়ে একবার পরখ করে দেখছে না, সেখানে সুখ কি দুখ! সেখানে মানুষের ভাল হয় কি মন্দ হয়!

    মজলিসটা জমেই উঠেছিল। বনওয়ারী এসে হাজিরও হত। কিন্তু জাঙল থেকে পথে ফিরতে ফিরতেই এল ঝড়। হাঁকডাক করে এল। গো-গেশো-শো! এ বছর এমন জোরে আসেন নাই ঠাকুর। আজ নিশ্চয় আসছেন করালীর তালগাছটার মাথা ভাঙতে। নিশ্চয়। সে আকাশের দিকে চাইলে। মেঘের নিচে চাদ এখনও দেখা যাচ্ছে। মেঘ কুণ্ডলী পাকাচ্ছে, সাদা কালো। চমকে উঠল বনওয়ারী। সেই বরন, সেই চিত্ৰবিচিত্র। তেমনি এঁকেবেঁকে পাকিয়ে পাকিয়ে ঘুরছে। জিবের মত লকলকিয়ে খেলে যাচ্ছে বিদ্যুৎ। হে বাবাঠাকুর রক্ষা কর। হে বাবাঠাকুর। গাছ ভাঙছে, বাঁশে বাঁশে কটকট শব্দ উঠছে, কড়কড় করে মেঘ ডাকছে; সঙ্গে সঙ্গে নয়ানের মায়ের গলায় আজ আবার অনেকদিন পরে সাড়া জেগেছে।

    ওদিকে নয়ানের মা তীব্ৰস্বরে বলে যাচ্ছে, সুচাঁদের কথা বলার সঙ্গে সঙ্গেই বলছে—হে বাবাঠাকুর, তুমি ধ্বংস কর বাবা, যে তোমার বাহনকে মারলে, যে পরের ঘর ভাঙলে, গাঁয়ের বিধান না মেনে যে উঁচু ঘর বাঁধলে, একবার যুঁসিয়ে তার ঘর উড়িয়েছ, আবার ভেঙে দাও। মড়মড় করে ভেঙে দাও। মাথায় তাদের দংশন কর। হে বাবা! যে-যে নোক তোমার বাহনকে মারার অপরাধকে ক্ষমা করেছে, তাদের কামুড়ে মেরে ফেল। চোখ ফেটে যাক অক্তের ডেলা হয়ে; গায়ে অক্তমুখী চাগড়া চাগড়া দাগ ফুটে উঠুক। কাহারপাড়ায় যার যত অপরাধ, বিচার কর। শ্যাষ করে দাও, শ্যাষ করে দাও, শ্যাষ করে দাও। আমার নয়ানের সঙ্গী কর সবাইকে। আমাকে যেন বাঁচিয়ে একো। আমি নি-মনিষ্যি কাহারপাড়ার ঘরে ঘরে নেচে বেড়াব–কেঁদে বেড়াব পেত্নীর মত।

    বনওয়ারী চুপ করে বসে রইল মেঘের দিকে তাকিয়ে। হঠাৎ হুড়মুড় করে শব্দ উঠল। পড়ল? করালীর ঘর পড়ল? উঠে দাঁড়াল বনওয়ারী। নয়ানের মায়ের কণ্ঠস্বর নীরব হয়েছে। ঝড় থামতেই সে বেরিয়ে পড়ল পাড়ায়।—কার ঘর পড়ল?

    —নয়ানের ঘর গো।

    –নয়ানের ঘর? স্তম্ভিত হয়ে গেল বনওয়ারী।

    —বনওয়ারী? ব্যানো!

    –কে? বিরক্ত হল বনওয়ারী; পিছনে ডাকে কে?

    –আমি, পাগল।

    —কি?

    —খ্যাত হয়ে গেল ভাই। সৰ্বনাশ হয়েছে।

    —কি তাই বল।

    –করালী চন্ননপুরে যাবার পথে হেঁকে বলে গেল-বাবাঠাকুরের মুড়ো বিশ্ববিক্ষটি পড়ে গিয়েছেন।

    –হে ভগবান! বাবা গো! তুমি কি করলে গো! শেষে কি তুমি আমাদের ছেড়ে গেলে? কলিকাল! অধম্মের পুরী! কাহারপাড়ায় পাপ পরিপূর্ণ করে তুললে করালী। সেই পাপ সইতে না পেরে চলে গেলে তুমি!

    জ্যোৎস্নায় দাঁড়িয়ে গোটা কাহারপাড়া দেখলে। মেঘ কেটে গিয়ে উঁদ আবার উঠেছে। আকাশে। ফুটফুট করছে চাদের আলো। বনওয়ারীর হাতে লণ্ঠনও ছিল একটা। বাবাঠাকুরের বৃক্ষটি কাত হয়ে গিয়েছে।

    বনওয়ারী বললে–চান কর সব।

    —চান?

    –হ্যাঁ, চান কর। চল, ঠেলে বিক্ষটি তুলব। ছোট বিক্ষ, গোটা কাহারপাড়ার কাঁধ, দিব্যি উঠে যাবে। তা’পরেতে ওকে বাধিয়ে দোব। ভয় নাই, পাশের বিক্ষটি ঠিক আছে।

    গোটা কাহারপাড়া কাঁধ দিলে।

    জয় বাবাঠাকুর! জয় কালারুদ্দু! বলো—শিবো—ধন্মরঞ্জো–! উঠেছে, উঠেছে। আবার বলো ভাই। আবার হয়েছে। হয়েছে। দাও মাটি চারিদিকে বেঁধে দাও। শক্ত করে বেঁধে দাও।

    হঠাৎ তীব্র আর্তনাদ করে উঠল কেউ। শিশুকণ্ঠ। চমকে উঠল সবাই। বুক ধড়ফড় করে উঠল। বাবাঠাকুরের থানে কার কি হল?

    —কি? কি হল?

    –সাপ! ও বাবা, সাপ!

    –সাপ! কার ছেলে রে? কে? কি সাপ? বুক চাপড়ে কেঁদে উঠল পানা—নিমতেলে পানা। ওগো—সেই গো, সেই। ঠিক সেই তিনি গো!

    একটা ঝোপের মধ্যে একটা চন্দ্রবোড়া ঢুকছিল তাদের স্বভাবমন্থর গতিতে।

    কাহারপাড়া স্তম্ভিত হয়ে গেল। পানার ছেলেটা মরে গেল কিছুক্ষণের মধ্যেই, ঠিক যেমন ভাবে মরেছিল করালীর কুকুরটা, তেমনি ভাবেই চোখ ফেটে রক্ত পড়ল, শরীরে চাকা চাকা রক্তমুখী দাগ বার হল। নাক দিয়ে মুখ দিয়ে রক্ত গড়াল। সুচাঁদ চিৎকার করে উঠল—ওরে আমি তখুনি বলেছিলাম রে! বছর পেরুলে কি হবে রে? বাবাঠাকুরের কাছে বছর নাই রে! ওরে বাবা!

    নয়ানের মা ভাঙা ঘরের দাওয়া থেকে উত্তর দিল—আঃ, কে করলে বেহ্মহত্যে কার পরান গেল রে? পানী তো খুঁতো পাটার বদলে ভাল পাঁটা দিয়েছিল রে! যে ডাকাবুকো বাবার বাহনকে মেলে রে, তার কিছু হল না কেনে রে? অর্থাৎ করালীর কিছু হল না কেন? তার নিজের ঘর ভাঙায়। কোনো দুঃখ নাই, দুঃখ থাকলেও সে জন্য সে আক্ষেপ করলে না। তার আক্ষেপ পাপীর দণ্ড হল না।

    পানা এবং পানার স্ত্রী ভয়ে নির্বাক হয়ে গিয়েছিল। এ সাজা বাবাঠাকুরের দেওয়া সাজা। এতে কথা বলবার নাই।

    হাঁসুলী বাঁকের উপকথার বিধাতাপুরুষ কাহারপাড়ার লোকের নেকনে’ অর্থাৎ লিখনে ষষ্ঠীপুজোর দিনে তার ভাগ্যফল ‘নিকে’ দেন। গত জন্মের যেমন কাজ তেমনি ভাগ্যফল দেন। নইলে চন্দ্ৰবোড়া সাপ এখানে বিরল নয়। যথেষ্ট আছে। তার বিষে মরছেও অনেক। কিন্তু পানার ছেলের এই মরণ, এই বাবাঠাকুরের থানে, বাবাঠাকুরের গাছ পড়ল যেদিন, সেইদিনেই এই মরণ–এর কার্যকারণ সব তো স্পষ্ট প্রত্যক্ষ। পানার ঘরের কুকুরে-ধরা উচ্ছিষ্ট পাঁঠা জরিমানাস্বরূপ আদায় করে চৌধুরীবাবুরা বাবার থানে বলি দিয়েছে, শাস্তি যাবে কোথা? এ। নিশ্চয় বাবাঠাকুরের দণ্ড; ভুল নাই তাতে, কোনো ভুল নাই। এ মিত্যু বাপের পাপে বেটার মিত্যু।

    বনওয়ারী মাথায় হাত দিয়ে বসল। বছর পার হয়েছে, তাতে দণ্ডকাল ফুরায় নাই। জন্মান্তরে শাস্তি হয়, যুগ পার করে শাস্তি হয়, আদিকাল থেকে হাঁসুলী বাঁকের কর্মফলে কোন শাস্তি কবে আসবে কে জানে! তবে আসবে নিশ্চয়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleরাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    Next Article গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গল্পসমগ্র – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    রাইকমল – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    চৈতালী-ঘূর্ণি – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    ধাত্রী দেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    গণদেবতা – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    নাগিনী কন্যার কাহিনী – তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়

    August 23, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }