Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হাটে বাজারে – বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল) এক পাতা গল্প169 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হাটে বাজারে – ৬

    ॥ ছয় ।।

    সকাল নটা নাগাদ সদাশিবের মোটর যথারীতি বাজারের সামনে দাঁড়াল। সারি সারি মুরগীওলারা বসেছিল তাদের ঝাঁকা নিয়ে। তারা সাধারণত পথের ধারেই বসে। সদাশিবকে দেখে দু’একজন সেলাম করে উঠে দাঁড়াল।

    সদাশিব আলীকে বললেন—“আলী, কয়েকটা ভালো মুরগী বেছে নাও তো।”

    “বহুত খু”-

    সদাশিব বাজারের ভিতরে ঢুকলেন।

    আবদুলের মুখ উদ্ভাসিত, তার ছেলের জ্বর ছেড়ে গেছে। সে বললে কিছু বড় বড় মাগুর মাছ সে তাঁর জন্যে কিনে রেখেছে। চারটে মাগুর মাছের ওজন হয়েছে সওয়া সের।

    “কোথা আছে সেগুলো—”

    “আলাদা হাঁড়িতে করে গুদামে রেখে দিয়েছি—”

    “আমার গাড়িতে দিয়ে আয়।”

    ঘাড় ফিরেই সদাশিবের দৃষ্টি পড়ল একটি নবাগত ভদ্রলোকের দিকে। অত্যন্ত মোটা। একটা হিপোপটেমাস যেন মনুষ্যমূর্তি ধারণ করেছে। তাঁর মাছ কেনবার ধরন দেখে বিস্মিত হলেন সদাশিব। এক মেছুনী কতকগুলো ছোট ছোট মাছ বিক্রি করছিল। তিনি মাছের স্তূপের ভিতর থেকে একটি ছোট মাছ লেজ ধরে তুললেন।

    “এটার কত দাম নিবি? এক পয়সা?”

    “ওই একটা মাছই নেবেন আপনি!”

    মুচকি হেসে জিগ্যেস করলে মেছুনি। নাম ছিপলী। সদ্য যৌবনোদগম হয়েছে তার। কথায় কথায় হাসে।

    হিপো বললেন—“হাঁ। একটাই নেব—”

    “নিয়ে যান। ওর আর দাম দিতে হবে না।”

     

     

    অম্লানবদনে তিনি মাছটি মাছের থলিতে পুরে ফেললেন। হেসে লুটিয়ে পড়ল মেছুনীটা। হিপো আর একটা মেছুনীর সামনে গিয়ে দাঁড়ালেন। সে-ও ছোট মাছ বেচছিল। সেখান থেকে একটি ছোট মাছ বেছে তুললেন তিনি।

    “এটার দাম কত নিবি? এক পয়সা?”

    এ মেছুনীটা বুড়ী। হিপোর কাণ্ড দেখে চটে গেল সে। বললে—“একটা মাছ আমি বেচব না। আধ পোয়া নিতে হবে অন্তত-

    “কিন্তু তোমার সব মাছ তো টাটকা নয়। বাসী মাছও মিশিয়ে দিয়েছ অনেক ‘ বুড়ী চুপ করে রইল, কোন জবাব দিল না।

    “আচ্ছা, দু’পয়সা দিচ্ছি, দিয়ে দে মাছটা।”

    বুড়ীর চোখের দৃষ্টিতে আগুন জ্বলে উঠল। মাছটা ছুঁড়ে দিলে হিপোর দিকে। হিপো দুটো পয়সা দিয়ে গম্ভীরভাবে এগিয়ে গেলেন আর একা মাছের দোকানে। এ দোকানদারও একটা মাছ বেচতে রাজী হল না। ঝাঁকড়া-গোঁফ ভগলু মহলদার রসিক লোক। সে হাসিমুখে চেয়ে রইল কয়েক মুহূর্ত হিপোর দিকে, তারপর দু’হাত তুলে নমস্কার করল।

     

     

    “দিবি না মাছটা?”

    “একটা মাছ বিক্রি করি না। আপনার মতো লোককে ভিক্ষে দিতেও সাহস পাচ্ছি না। কি করব ভাবছি।”

    সদাশিব এগিয়ে গিয়ে চোখের ইঙ্গিত করতেই ভগলু মাছটা দিয়ে দিলে হিপোকে। ডাক্তারবাবুকে অমান্য করবার সাহস হল না তার। হিপো আর একটা দোকানে গিয়ে আর একটা ছোট মাছ চার পয়সা দিয়ে কিনলেন। এই মেছোটা মোচড় দিয়ে বেশী একটু দাম নিয়ে নিলে।

    সদাশিব এগিয়ে গিয়ে আলাপ করলেন ভদ্রলোকের সঙ্গে।

    “নমস্কার। আপনাকে তো এর আগে দেখেছি বলে মনে পড়ছে না—”

    “নমস্কার। আমি এখানে থাকি না। চেঞ্জে এসেছি –”

    “ও। কোথায় আছেন?”

     

     

    “ঘোষ-নিবাসে।”

    “ও, তাহলে তো আমার বাড়ির কাছেই!”

    “আপনার পরিচয়টা দিন—”

    “আমি রিটায়ার্ড ডাক্তার একজন। এখানেই একটা বাড়ি কিনে বাস করছি—”

    “ও তাহলে আপনার সঙ্গে আলাপ হয়ে তো সুবিধেই হল। আমি ডায়াবিটিস্ রুগী মশাই। তার উপর বাত। ডাক্তার বলছে ছানা খেতে আর ছোট মাছ। ভাত রুটি বন্ধ—”

    “কিন্তু আপনি তো মাত্র চারটি ছোট মাছ কিনলেন—”

    “বেশী নিয়ে কি করব। নিজে হাতে কুটতে হবে, নিজে হাতে রাঁধতে হবে। তাছাড়া একটু পচা বা দো-রসা হলে আর খেতে পারি না। তাই খুব বেছে বেছে কিনতে হয়—”

     

     

    “আপনি একাই এসেছেন?”

    “দোকা আর পাব কোথা! আমাকে ফেলে সবাই যমের বাড়ি চলে গেছে। বউ ছেলে মেয়ে সব—”

    হিপোর চোখ দুটো বিস্ফারিত হয়ে গেল। কয়েক মুহূর্ত তিনি নিষ্পলক হয়ে চেয়ে রইলেন সদাশিবের মুখের দিকে। অস্বস্তি ভোগ করতে লাগলেন তিনি। তারপর বললেন, “আচ্ছা, আমি আপনার টাটকা মাছের ব্যবস্থা করে দিচ্ছি। এই ভগলু–”

    ঝাঁকড়া গোঁফ ভগলু সঙ্গে সঙ্গে উত্তর দিলে–“জি হুজুর—”

    “এই বাবুর জন্যে রোজ চার-পাঁচটা টাটকা মাছ আলাদা করে রেখে দিও।”

    ‘চেষ্টা করব হুজুর। তবে আমি তো মাছ পাইকারদের কাছ থেকে কিনি, সব সময় টাটকা মাছ পাই না-

    সেই হাসিমুখী তরুণী মেছুনীটি এগিয়ে এল। বললে—“আমি গঙ্গার ঘাট থেকে মাছ আনি। আমি রেখে দেব রোজ—”

     

     

    “অনেক ধন্যবাদ আপনাকে। নমস্কার।”

    কোনক্রমে দেহভার বহন করে ভিড় ঠেলে ঠেলে আস্তে আস্তে বেরিয়ে গেলেন তিনি। “এই যে ডাক্তারবাবু! গুড মর্নিং। বাজারের সব মাছ কিনে ফেললেন নাকি! আমাদের জন্যে কিছু অবশিষ্ট আছে তো—”

    পি. ডব্লিউ. ডি. আফিসের কেরানী খগেন সরখেল। হিংসুকে লোক। সদাশিব যে রোজ এত মাছমাংস কেনেন এটা বরদাস্ত করতে পারেন না। দেখা হলে প্রায়ই যে সব মন্তব্য করেন তাতে একটু খোঁচা থাকে। সদাশিব গ্রাহ্য করেন না এসব। প্রায়ই মুচকি হেসে তাঁর কথার জবাব দেন।

    “কি মাছ কিনলেন আজ?”

    “মাগুর।”

    “মাগুর? কই, মাগুর তো কোথাও দেখলাম না! পেলে নিতাম কিছু।”

     

     

    “নিন না। আমি যেগুলো নিয়েছি সেগুলো আপনিই নিয়ে যান। আমি অন্য মাছ নিচ্ছি। আবদুল, বাবুকে মাগুর মাছগুলো দিয়ে দাও।”

    আবদুল বললে—“আচ্ছা। তিন টাকা করে সের। সওয়া সের আছে। আপনি কিসে করে নেবেন?”

    অপ্রতিভ হয়ে পড়লেন খগেন সরখেল।

    “না না, আপনার মুখের গ্রাস আমি কাড়ব কেন। আপনিই নিয়ে যান। আমি আর একদিন কিনব।”

    তাড়াতাড়ি ভিড়ের মধ্যে গা-ঢাকা দিলেন তিনি।

    সদাশিব বেরিয়ে আসছিলেন এমন সময় সেই হাসিমুখী তরুণীটি অপাঙ্গে সলজ্জভাবে চাইলে তাঁর দিকে এবং মৃদুকণ্ঠে বললে—“বাবু—”

    মনে পড়ে গেল সদাশিবের।

     

     

    “হ্যাঁ, তোর জন্যে ওষুধ এনেছি। গাড়িতে আছে। চল দিয়ে দিচ্ছি—রোজ তিনটে করে খাবি।”

    প্রতি মাসে ‘মাসিক’-এর সময় অসহ্য যন্ত্রণা ভোগ করে সে। লজ্জায় অনেকদিন গোপন করে ছিল। কিন্তু শেষে আর পারেনি। অনেকদিন চোখ নিচু করে অনেকবার ঘাড় ফিরিয়ে ব্যক্ত করেছে সদাশিবের কাছে।

    মাছের বাজার থেকে বেরোবার মুখেই আবার থমকে দাঁড়াতে হল সদাশিবকে। তিনি দেখলেন, জগদম্বা জেলে চায়ের দোকান করেছে। চেহারাই বদলে গেছে তার। মাথায় টেড়ি, কানে বিড়ি গোঁজা। পরনে হাওয়াই শার্ট। চায়ের দোকানে সিনেমা অভিনেত্রীদের ছবি। একটি বড় কাচের ‘জারে’ রঙিন মাছ রেখেছে।

    “কিরে জগদম্বা, মাছের ব্যবসা ছেড়ে দিলি?”

    “ওতে পোষায় না হুজুর। তাছাড়া বড় গন্দা (নোংরা) কাজ। রোজগার হয় না। সব লাভ পাইকার আর গুদামগুলা টেনে নেয়।”

     

     

    আবদুল মাছের হাঁড়ি নিয়ে সঙ্গে আসছিল। সে মৃদুকণ্ঠে বলল—“জগদম্বা চিরকালই একটু শৌখিন। বেশী পয়সা থাকলে ও আতরের দোকান খুলত।”

    জগদম্বা এতে চটল না। আকর্ণবিস্তৃত হাসি হেসে চেয়ে রইল আবদুলের দিকে। জগদম্বার বয়স বেশী নয়, ত্রিশের মধ্যেই। সদাশিবের মনে পড়ল কিছুদিন আগে তার বউ বাপের বাড়ি চলে গিয়েছিল আর ফেরেনি। সদাশিবের একবার ইচ্ছে হল তার বউয়ের কথাটা জিজ্ঞাসা করেন। কিন্তু এত লোকের সামনে সেটা অশোভন হবে ভেবে আর করলেন না।

    মোটরের কাছে কয়েকজন রোগী দাঁড়িয়ে ছিল। সদাশিব তাদের বললেন—“আজ বিকেলে হাটে যাব। সেইখানেই তোমরা যেও। এই রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে ভালো করে দেখতে পারব না তোমাদের। এই ছিপলী তোর ওষুধ নিয়ে যা—”

    সেই তরুণী মেয়েটি এসে ওষুধ নিয়ে গেল। মোটরের কাছে আরও চার-পাঁচটি ছেলে দাঁড়িয়ে ছিল। বয়স দশ থেকে বারোর মধ্যে। বাজারে ঝাঁকা-মুটের কাজ করে। তাদের গায়ের জামা কাপড় ফরসা, মাথার চুল আঁচড়ানো! ঝাঁকা-মুটেদের সাধারণত এরকম হয় না। তারা হাসিমুখে সবাই সদাশিবকে সেলাম করে ঘিরে দাঁড়াল।

     

     

    “ও তোরা এসেছিস? বাঃ, কাপড় জামা তো বেশ পরিষ্কার হয়েছে! দেখ্‌ তো, সাজিমাটিতে কেমন সুন্দর পরিষ্কার হয়। দেখি তোর দাঁত?”

    সবাই তাদের দাঁত দেখাল। সদাশিব তাদের চোখও দেখলেন।

    “ঠিক আছে—”

    চারটি করে পয়সা দিলেন প্রত্যেককে। তাছাড়া হাট থেকে যে কেঁদ আর কাগজের পাখি কিনেছিলেন তা-ও উপহার দিলেন। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা শেখাবার জন্য সদাশিব এই ধরনের পুরস্কার ঘোষণা করেন মাঝে মাঝে। অতি সামান্যই খরচ হয় এতে; কিন্তু এর পরিবর্তে যে আনন্দ পান তা অসামান্য।

    আলী এসে মৃদুকণ্ঠে বললে—“চারঠো মুরগি লিয়া হুজুর।”

    “ভালো দেখে নিয়েছ তো?”

     

     

    “জী হুজুর, সব তৈয়ারী পাঠা হ্যাঁয়।”

    মুরগিওলা রহমান বললে—“পছছিম মু হোকে বোলতে হেঁ হুজুর, সব মুরগি আচ্ছা হ্যায়। খারাব হোনে সে জুতা মারিয়ে গা।”

    সদাশিব হেসে বললেন—“যদি ঠকাও তোমার খোদাই তোমাকে জুতো মারবে। আমি কেন জুতো মারতে যাব তোমাকে শুধু শুধু—”

    আলী বললে—“বেশক্‌।”

    সদাশিব জিজ্ঞাসা করলেন—“মুরগির দাম কত?”

    রহমান বললে সে পশ্চিমমুখে দাঁড়িয়ে ‘কসম্’ খেয়ে সত্যি কথা বলছে, সওয়া দু’টাকা করে খরিদ, এখন হুজুরের যা মরজি।

     

     

    আবদুল মাছের হাঁড়ি গাড়িতে তুলে দিয়ে দাঁড়িয়েছিল এক পাশে। সে আলীকে বললে, “ঘুরা দিজিয়ে মুরগি। দেড় দেড় রুপিয়া মে ইসে আচ্ছা মুরগি হাম লান্ দেঙ্গে।”

    সদাশিব বললে,”না না, গরীব মানুষের আমি লোকসান করাতে চাই না। ওই বলুক না কি হলে ওর পোষায়।”

    রহমান মাথা চুলকে বললে— “হুজুরকা যেইসে মেহেরবানী। আপকা বাত সে বাহার হাম নেহি যাঙ্গে—’

    শেষকালে এক টাকা দশ আনায় রফা হল। রহমান দাম নিয়ে টাকাপয়সাগুলি তার কোমরে-বাঁধা গেঁজেতে পুরে শেষে বললে, মাই দুই থেকে তার ছোট ছেলের নাক দিয়ে রক্ত পড়ে, ডাক্তারবাবু, যদি কোন দাবাই দেন গরীবের উপকার হয়।

    “কোথা বাড়ি তোমার?”

    “হবিগঞ্জ।”

    “আমি তো হবিগঞ্জের হাটে যাই। সেইখানেই নিয়ে এস তোমার ছেলেকে। নাকটা দেখে ওষুধ দেব।”

    মুরগিওলা রহমান সেলাম করে বললে— “হুজুরকা মেহেরবানী। মুলাকাৎ করেঙ্গে হাটিয়ামে।”

    সদাশিব বললেন—“আলী, চল এবার কমলবাবুর কারখানায়। কমলকে আজ খেতে বলব। আর গাড়ির কারবুরেটারটাও একবার দেখিয়ে নেব।”

    “বহুত খু—”

    .

    কমলের কারখানায় ঢুকতেই কমলের উচ্চকণ্ঠ শোনা গেল। “পাগল করে দেবে আমাকে। এই মুন, আমার ড্রয়ার থেকে প্যাঁচকস্ কে নিয়েছে? কতবার মানা করেছি তোমাদের যে আমার ড্রয়ার থেকে প্যাঁচকস্ নিও না কেউ—”

    সদাশিবকে দেখেই শান্ত হয়ে গেল কমল।

    সদাশিব জিগ্যেস করলেন—“প্যাঁচকস্ হারালে নাকি—”

    “কেউ টপিয়ে দিয়েছে। আসল পাকা স্টীলের জিনিস—”

    কমলরা বিহারে চার পুরুষ ধরে আছে। বিহারেই তার জন্ম। সুতরাং ভাষার মধ্যে অনেক হিন্দী কথা ঢুকে গেছে। তাই ‘হাতিয়েছে’ না বলে টপিয়ে দিয়েছে’ বললে।

    “গাড়ি ঠিক চলছে তো?”

    “মাঝে মাঝে হাঁচছে। তাই মনে হচ্ছে ‘কারবুরেটারে’ ময়লা জমেছে বোধ হয়। তোমার কি সময় আছে এখন? খুলে দেখবে কি?”

    “হ্যাঁ। এখনি করে দিচ্ছি। এই ফালতু, ডাক্তারবাবুর গাড়ির ‘কারবুরেটার টা খোল–”

    ফালতুর আসল নাম তমিজুদ্দিন। কমল ওর নামকরণ করেছে ‘ফালতু’, কারণ যখন ও অ্যাপ্রেন্টিস হয়ে কারখানায় ঢুকেছিল তখন বাড়তি (extra) লোক হিসেব নিয়েছিল ওকে কমল। ফালতুর বয়স ষোল-সতেরো। খুব রোগা আর লম্বা। যদিও সর্বাঙ্গ কালিঝুলি মাখা, তবু বেশ বোঝা যায় যে ওর রং খুব ফরসা। মুখের মধ্যে একটা শিশু-সুলভ সারল্য, চোখ দুটিতে চাপা হাসি চিক্‌মিক্ করছে সর্বদা। সে সোৎসাহে কারবুরেটার খুলতে লাগল। সে জানে এর জন্যে ডাক্তারবাবু কোন-না-কোন সময়ে তাকে কিছু দেবেন। মাস দুই আগে একটা হাফপ্যান্ট কিনে দিয়েছেন।…. মুরগিগুলো ক্যাক্-ক্যাক্ করে ডেকে উঠল কেরিয়ারের মধ্যে।

    কমল হেসে জিগ্যেস করল— “কত করে কিনলেন মুরগি—”

    “ওহো, বলতেই ভুলে গেছি। তুমি আজ রাত্রে খেও আমার ওখানে।”

    “আচ্ছা। আমার কিন্তু আজ যেতে রাত হবে একটু। সাড়ে ন’টা—”

    “বেশ—”

    “বসুন–”

    চেয়ার এগিয়ে দিলে কমল।

    “কাজকর্ম কেমন চলছে—”

    “ভালোই চলছে আপনার আশীর্বাদে—”

    “হরেক রকমের গাড়ি তো অনেক জমিয়েছ দেখছি—”

    “হ্যাঁ, তা জমেছে। কতকগুলো গাড়ি জমেই আছি। আর নড়ছে না—”

    “কেন বল তো—”

    কমল মুচকি হেসে চেয়ে রইল। তারপর হঠাৎ তত্ত্বকথা বলে ফেলল।

    “গাড়ির পেছনে যে মানুষ আছে তারই উপর নির্ভর করে সেটা। তারা গাড়ি না নিয়ে গেলে গাড়ি যাবে কি করে।”

    “নিচ্ছে না কেন—”

    “ওই যে বড় বুইটা দেখছেন, ওই যে কোণে রয়েছে, মাডগার্ডটা টোল খাওয়া। ওর মালিকটি মাতাল চরিত্রহীন। তিনবার দেউলিয়া হয়েছে। গাড়ি চালিয়ে দুমকা থেকে আসছিল, একটা সাঁওতালকে ধাক্কা মেরে পালাচ্ছিল সেখান থেকে। পালাতে পালাতে আবার ধাক্কা খায় একটা গাছের সঙ্গে। তারপর রাত্তিরে আমার কাছে গাড়িটি রেখে সেই যে সরেছে আর পাত্তা নেই। কেউ বলছে বম্বে গেছে, কেউ বলছে দিল্লী। ওই যে ছোট্ট বেবি অস্টিনটা দেখছেন, ওটা মিস্ মরিসের। নিজেই ড্রাইভ করে আর সঙ্গে থাকে রোজ একজন করে নূতন বন্ধু। একদিন রাত্রে মদ খেয়ে এক মাঠে পড়ে ছিল সমস্ত রাত। সকালে উঠে দেখে গাড়ির চাকাসুদ্ধ দুটো টায়ার চুরি হয়ে গেছে। গাড়িটা গরুর গাড়িতে চড়িয়ে আমার এখানে দিয়ে গেছে মাস তিনেক আগে। আর তার পাত্তা নেই, শুনছি বেবি অস্টিনের ঢাকা এখন এখানে পাওয়া যাবে না। বিলেত থেকে আনাতে হবে। ততদিন ও গাড়ি এখানেই পড়ে থাকবে-

    “আর ওই যে রং-ওঠা ঝরঝরে গাড়িটা রয়েছে, ওটা কে সারতে দিয়েছে? ওর তো কিছু‍ই নেই দেখছি–”

    “ওটার ইনজিন ঠিক আছে। আমি আড়াইশো টাকায় কিনেছি। ভালো করে সারিয়ে রং করে আড়াই হাজার টাকায় বিক্রি করব। তখন ওর চেহারা দেখলে আর চিনতেই পারবেন না। বেশভূষার চটকে বুড়ো মানুষকে ছোকরা বানিয়ে দেব—”

    মুচকি হেসে চেয়ে রইল কমল। সে হা-হা করে হাসে না। মুচকি হাসে, কিন্তু বেশ বড় ‘মুচকি’, হাসিটা প্রায় কান পর্যন্ত গিয়ে ঠেকে, সঙ্গে সঙ্গে চোখ দুটোও হাসতে থাকে।

    ফালতু কারবুরেটার খুলে নিয়ে এল।

    কমল কারবুরেটার নিয়ে পড়ল।

    কারখানাতেও সদাশিবের রোগী জুটে গেল কয়েকটা। ইরিস্ মিস্ত্রীর পায়ের নীচে একটা কড়া হয়েছে, বসতে গেলে লাগে। একটা অ্যাপ্রেন্টিস্ ছোঁড়ার হাঁপানি হচ্ছে। ফালতুর কষের দাঁতে ব্যথা হয়। সদাশিব হাঁ করিয়ে দেখলেন, কেরিজ হয়েছে। বুড়ো জগন মিস্ত্রীর বাত হয়েছে। হাঁটুতে ব্যথা। সদাশিব ওষুধের বাক্স বার করে ওষুধ দিতে লাগলেন সকলকে।

    ….চতুর্দিক প্রকম্পিত করে একটা মোটর বাইক ঢুকল এসে। তার থেকে নামলেন একজন ‘খাকি’ হাফপ্যান্ট-পরা বেঁটে মোটা লোক। বুলডগের মতো মুখ, হিলারি গোঁফ। মুখে সিগার। মিস্টার পরসাদ। বড় গভর্নমেন্ট অফিসার একজন। নিরঙ্কুশ ব্যক্তি। প্রকাশ্যে ঘুষ নেন, প্রকাশ্যে অন্যায় কাজ করেন। এঁকে দেখে শশব্যস্ত হয়ে পড়ল কমল।

    বলল—“কল্ আপকা গাড়ি দে দেংগে। থোড়া কাম্ বাকি হ্যাঁ —”

    আদেশের কণ্ঠে মিস্টার পরসাদ বললেন—“জলদি কিজিয়ে। বড়া মুশকিল মে হ্যাঁয়ে—”

    “কল্ জরুর হো যায়গা—”

    এমন সময় মিস্টার পরসাদের দৃষ্টি পড়ল ডাক্তারবাবুর উপর।

    “নমস্তে নমস্তে। ডাক্‌টর সাহেব, আপ য়ঁহা কৈসে পৌঁছ গ্যয়ে’

    সদাশিব বাংলাতেই উত্তর দিলেন—“রিটায়ার করে’ এইখানেই আছি। আপনি কবে এলেন এখানে?

    “এক মাহিনা—”

    ওঁদের নিম্নলিখিতরূপ আলাপ হল। মিস্টার পরসাদের হিন্দীটা বাংলায় অনুবাদ করে দিচ্ছি।

    “আপনি এখানেই প্র্যাকটিস করছেন?”

    “কি আর করি, কিছু তো একটা করতে হবে–

    “আপনার ঋণ কখনও শোধ করতে পারব না। ভাগ্যে আপনি ছিলেন তাই বেঁচে গিয়েছিলাম—”

    “কি হয়েছিল আপনার বলুন তো, ঠিক মনে নেই”

    “স্ট্র্যাংগুলেটেড্ হার্নিয়া। আপনি তখন ছাপরায়, আমিও ছাপরায়। আপনি না থাকলে আমি খতম হয়ে যেতাম। আপনি চলে আসবার পর ডক্টর ঘোষ এলেন। তিনি চৌবেজির হাইড্রোসিল অপারেশন করলেন। সেপটিক হয়ে মারা গেলেন ভদ্রলোক—”

    “দেখুন বাঁচাবার বা মারবার মালিক আমরা নই। আমরা সকলকেই ভালো করবার চেষ্টা করি, কেউ হয়, কেউ হয় না। ওপরওলার মর্জিতে সব হয়—”

    “সে কথা আমি মানব না। সব ডাক্তারের বিদ্যেও সমান নয়, সবাই সমান যত্নও নেয় না। আপনি এখানে আছেন জেনে নিশ্চিন্ত হলাম। কোথায় বাসা আপনার?”

    “কমল আমার বাড়ি চেনে—”

    “আচ্ছা, এখন চলি। এই রোদে মোটর বাইকে করে ঘুরতে হচ্ছে। চলি, নমস্কার–”

    চলে গেলেন মিস্টার পরসাদ।।

    উদ্ভাসিত মুখে এগিয়ে এল কমল।

    “আপনার সঙ্গে খুব খাতির আছে দেখছি। আমার একটু উপকার করবেন?” “কি বল–”

    “গভর্নমেন্টের কাছে আমার পনেরো হাজার টাকার বিল বাকি আছে। দু’বছর হয়ে গেল, কিছুতেই আদায় করতে পারছি না। চিঠি লিখে লিখে হয়রান হয়ে গেছি, উত্তর পাই না। আপিসে গিয়ে তদ্বির করলুম, দু’একটা ক্লার্ককে ঘুষও দিলুম, কিন্তু কিছু হচ্ছে না। কানাঘুষো শুনছি ওপরওলাকেও নাকি কিছু সেলামী দিতে হবে। মিস্টার পরসাদের খুব ইনফ্লুয়েন্স, উনি যদি চেষ্টা করেন এখনই পেয়ে যাব টাকাটা। এর আগে ওঁর গাড়ি একবার সারিয়ে দিয়েছি, একটি পয়সা চার্জ করিনি। এবারও করব না। এইবার ওঁকে বলব ভেবেছিলাম কথাটা। আপনি যদি বলে দেন তাহলে আরও ভালো হয়-

    “আচ্ছা বলব—”

    কমল যত্ন করে কারবুরেটারটা পরিষ্কার করে ফিট করে দিলে।

    “আজ রাত্রে যেও মনে করে—

    “যাব—”

    সদাশিব নিজের হাতঘড়িটা দেখলেন। দেড়টা বেজে গেছে। বাড়ির দিকে অগ্রসর হলেন তিনি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমতিচূর (১ম খণ্ড) – বেগম রোকেয়া
    Next Article বনফুলের গল্পসমগ্র

    Related Articles

    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)

    বনফুলের গল্পসমগ্র

    October 31, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }