Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হায়রোগ্লিফের দেশে – অনির্বাণ ঘোষ

    লেখক এক পাতা গল্প244 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২০. তুতানখামেন

    ‘যিশুর জন্মের প্রায় তেরোশো বছর আগেকার কথা। হঠাৎ করে রাজা আখেনাতেনের মৃত্যুর পরে মিশরের মসনদে যে নতুন রাজা এলেন তাঁরর বয়স মাত্র নয়। ওঁর জন্মের সময়েই মা কিয়া মারা যান। বড়ো হয়ে ওঠা ধাইমা মাইয়ার কাছে। বালক রাজাকে সিংহাসনে বসিয়ে রাজত্ব চালাতে লাগলেন মন্ত্রী আই। ছোটোবেলা থেকেই সে-ছেলে দুর্বল। লাঠি ছাড়া হাঁটতে পারত না, বার বার ম্যালেরিয়াতে ভুগত। নিজেরই সৎ বোন আনখেসেনামেনকে বিয়ে করে সে। দু-জন সন্তান হয়, কিন্তু তাদের দু-জনেই মারা যায় গর্ভাবস্থাতেই। রাজা নিজেও হঠাৎই মাত্র উনিশ বছর বয়সে মারা যান। সঙ্গেসঙ্গেই তড়িঘড়ি করে তাঁরকে সদ্য সদ্য বানানো একটা ছোট্ট সমাধিতে শুইয়ে নিজের দায়িত্ব সারেন মন্ত্রী ‘‘আই’’। তারপরেই নিজেকে মিশরের ফারাও বলে ঘোষণা করেন। যেখানে যেখানে এই বালক রাজার নাম লেখা ছিল তা মুছে ফেলা হয়। মন্দিরের দেওয়ালে খোদাই করা ছবি নষ্ট করে দেওয়া হয়। আই চেয়েছিলেন যাতে এই ফারাওকে কেউ আর মনে না রাখে। কিন্তু ইতিহাসের মজাটা এমনই যে আজকে আইকেই কেউ মনে রাখেনি। অন্যদিকে হেন মানুষ নেই যে সেই অতিসাধারণ রুগ্ন ফারাওয়ের নাম শোনেনি। তার নামের মানে ছিল সূর্যদেবতা আমেনের জীবন্ত প্রতিচ্ছবি। আমরা ওকে চিনি তুতানখামেন বলে।’

    ‘তার মানে বলছেন তুতানখামেন একজন খুব ইনসিগনিফিক্যান্ট ফারাও। তাহলে এত বিখ্যাত কেন?’

    ‘বিখ্যাত হওয়ার কারণটা তো খুবই সহজ, স্পন্দন ভাই। একমাত্র তুতানখামেনই সেই ফারাও যাঁর কবর প্রায় অক্ষত অবস্থায় পাওয়া গিয়েছিল। সেই কবরের ঐশ্বর্যে তাক লেগে যায় গোটা পৃথিবীর। সঙ্গে এসে বসে একটা মিথ। ফারাওয়ের অভিশাপের! ব্যস, এর পরে মানুষ আর কিং তুতকে ভুলতে পারেনি।’

    পিজি বলল,

    ‘হ্যাঁ, পড়েছিলাম বটে যে তুতানখামেনের সমাধি আবিষ্কারের সঙ্গে যে অভিশাপটার কথা আগে বলা হত তার কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই।’

    ‘ঠিক বলেছ, একদমই নেই। তবে রহস্য জড়িয়েই আছে। আর আছে রাজনীতি, যে ব্যাপারে অনেকেই কথা বলে না।’

    ‘রাজনীতি? সেটা কীভাবে?’

    ভবেশদা এতক্ষণ একটা টুথপিক দিয়ে দাঁত খোঁচাতে খোঁচাতে কথা বলছিলেন, মেসের মৌরির টুকরো আটকে গিয়েছিল মনে হয়। এবারে টুথপিকটাকে জানলা দিয়ে বাইরে ফেলে দিয়ে বললেন,

    ‘তাহলে একদম গোড়া থেকেই গল্পটা বলি শোনো।

    ‘১৮৯১ সালের মে মাসের একটা দিন, ইংল্যান্ড। ইজিপ্টোলজিস্ট পার্সি নিউবেরি মিশরে যাবেন এক্সক্যাভেশনের কাজে। তাঁরর একজন এমন হেল্পারের দরকার যে খুব ভালো ছবি আঁকতে পারে। এই কথাটা বন্ধু উইলিয়াম আর্মহার্স্টকে বলার সঙ্গেসঙ্গেই সে বলল তার আরেক বন্ধুর এক ছেলে আছে বটে। পড়াশোনা তেমন কিছু হয়নি ছোটোবেলা থেকে। তবে খুব ভালো আঁকতে পারে সে। যা দেখবে চটজলদি একেবারে অবিকল এঁকে দেবে। ব্যস, মাত্র সতেরো বছর বয়সে সেই ছেলে বাড়ি ছেড়ে পাড়ি দিল ইজিপ্টে। সে-ই পরের মাত্র পনেরো বছরের মধ্যে হয়ে উঠল উত্তর ইজিপ্টের ডিপাৰ্টমেন্ট অফ অ্যান্টিকুইটির ম্যানেজার! ওর কথা ছাড়া মাটিতে বেলচা চালানোই যাবে না। এ-ই হল হাওয়ার্ড কার্টার।’

    ‘মানে, আর্কিয়োলজিস্ট নিজেই অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের হেড?’

    ‘তবে আর বলছি কী। কার্টার নিজেই ঠিক করতেন কাকে কোথায় এক্সক্যাভেশনের কাজ দেওয়া হবে। মিশরের রাজনৈতিক মানচিত্রটা তখন অদ্ভুত, বুঝলে। দেশ চালানোর দায়িত্ব মিশরের গভর্নমেন্টের থাকলেও আর্কিয়োলজির দিকটা পুরোপুরি ছিল ব্রিটিশদের দখলে। কায়রো হোটেলের লবিতে তখন প্রতিদিন দেখা যেত ইউরোপীয় ধনকুবেরদের। সবার একটাই লক্ষ্য। একটা ভালো জায়গায় খুঁড়তে দেওয়ার পারমিশন জোগাড় করা, তার পরে সেখানে একজন ভালো আর্কিয়োলজিস্ট লাগিয়ে কাজ করানো। তারপরে সেখান থেকে যা সম্পদ উঠবে তা নিয়ে দেশে ফেরা। কতটুকু মিশরের গভৰ্নমেন্টের হাতে থাকবে সেটাও ডিপাৰ্টমেন্ট অফ অ্যান্টিকুইটিই ঠিক করে দেবে। এইভাবেই কতশত ঐশ্বর্য যে ইউরোপের কোণে কোণে ছড়িয়ে পড়েছে তার ইয়ত্তা নেই। এইসব মিলিওনিয়ারদের একজন ছিলেন জর্জ হার্বার্ট, যাঁকে ছাড়া তুতানখামেনের সমাধি খুঁজে বের করা সম্ভব ছিল না।’

    ‘ইনি আবার কে? আমরা তো…’

    ‘লর্ড কার্নারভনের নাম শুনেছ তো? জর্জ হার্বার্ট ছিলেন ইংল্যান্ডের কার্নারভন শহরের পঞ্চম আর্ল। সেখান থেকেই এমন নাম।

    ‘নামে লর্ড হলেও সেইসময় লর্ড কার্নারভনের অবস্থা খুব একটা ভালো কিছু নয়। বাজারে বিশাল দেনা। যেকোনো দিন নিজের জমিজায়গা বিক্রি করতে হতে পারে। এই দেনা শোধ করতে যে টাকা লাগবে সেটা আনার পথ কী? একমাত্র জুয়ো খেলেই রাতারাতি সেই টাকা জোগাড় করা সম্ভব। লর্ড কার্নারভন নিজের শেষ সম্বল দিয়ে সেই জুয়ো খেললেন মিশরের ওপরে।

    ‘কায়রো আসার পরেই কার্নারভনের সঙ্গে দেখা হয় কার্টারের। কার্টার কার্নারভনকে বোঝান যে ভ্যালি অফ দ্য কিংসে তিন হাজার বছরের পুরোনো এক রাজার ঐশ্বর্য লুকিয়ে আছে। সেটা একবার খুঁজে পেতে পারলে কার্নারভনের দেনা হেসে-খেলে শোধ করে দেওয়া যাবে। বলা বাহুল্য, কার্টার এখানে তুতানখামেনের সমাধির কথাই বলছিলেন।’

    ‘কিন্তু ভবেশদা, এখানে একটা খটকা থেকে গেল। একটু আগে আপনি বললেন যে ভ্যালি অফ দ্য কিংসে এতবার খোঁড়াখুঁড়ি হয়ে এত কবর আবিষ্কার হয় যে সবাই ভেবেই নিয়েছিল যে সেখানে আর কিছু নেই। তাহলে হাওয়ার্ড কার্টার এত শিয়োর হলেন কী করে?’

    ‘ঠিক শিয়োর না বুঝলে, তবে একটা বড়োসড়ো অনুমান উনি করতে পেরেছিলেন। ভ্যালি অফ দ্য কিংস থেকেই পাওয়া ছোটো ছোটো ক্লু ওঁকে বলে দিয়েছিল যে কাছেপিঠেই কোথাও তুতানখামেনের সমাধি লুকিয়ে থাকলেও থাকতে পারে। যেমন ধরো, একটা ভাঙা কাপে আর একটা ছোটো কাঠের বাক্সে ফারাওয়ের নাম পাওয়া গিয়েছিল। আবার ওই ভ্যালিতেই একটা ছোটো গর্তে পাওয়া গিয়েছিল তুতানখামেনকে মমি বানানোর জন্য ব্যবহৃত মালমশলা।

    image167.jpg

    ১৯২২ সােলর ভ্যালি অফ দ্য কিংস। হাওয়ার্ড কার্টার তখন খোঁড়াখুঁড়ি করছেন।

    image168.jpg

    প্রায় সােড় তিন হাজার বছর আগে ভ্যালি অফ দ্য কিংস-এ তুতানখামেনের সমাধিযাত্রা

    image169.jpg

    ‘তা যেটা বলছিলাম, কার্নারভনকে রাজি করিয়ে হাওয়ার্ড কার্টার নিজেই ভ্যালি অফ দ্য কিংসের আর্কিয়োলজির কাজ অথোরাইজ করলেন। নিজের নামই দিলেন চিফ আর্কিয়োলজিস্ট হিসেবে। তারপরে কাজ হল শুরু।

    ‘কার্টার কাজ শুরু করেন ১৯১৪ সালে। কিন্তু গোটা ভ্যালি অফ দ্য কিংস তন্নতন্ন করে খুঁজে ফেলেও কিচ্ছু পাওয়া যাচ্ছিল না। শুধু পঞ্চম রামেসিসের একটা সমাধি খুঁজে পাওয়া গেল, সেটাও তেমন কিছু নয়। অন্যদিকে লর্ড কার্নারভনের ধৈর্য আর অর্থ দুইই ফুরিয়ে আসছিল। ১৯২২ ছিল কার্টারের জন্য শেষ সুযোগের বছর।

    ‘২৮ অক্টোবর, ১৯২২। হাওয়ার্ড কার্টার তখন আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন। অন্যদিকে এতবার খোঁড়াখুঁড়ি চালাবার জন্য বিস্তর ময়লা জমা হয়েছিল গোটা ভ্যালি জুড়ে। একটা বড়ো ঢিপি তৈরি হয়েছিল সদ্য-খুঁজে-পাওয়া ষষ্ঠ রামেসিসের কবরের বাইরে। সেইখানটাই আবার ভ্যালিতে ঢোকার রাস্তা। সামনেই শীতকাল আসছে। দলে দলে টুরিস্ট আসতে শুরু করবে। ওই ময়লার ঢিপি পরিষ্কার না করলে তাঁররা ভ্যালিতে ঢুকবেন কী করে?

    ‘লেবাররা যখন ময়লা পরিষ্কারের কাজ করছে তখন হাওয়ার্ড নিজের তাঁবুতে বসে একটা সিগারেট ধরিয়েছেন। সেটা অর্ধেক শেষ হয়েছে এমন সময় একজন শ্রমিক হাঁফাতে হাঁফাতে ওঁর তাঁবুতে এসে ঢুকল। ময়লা পরিষ্কার করার সময়ে বালির নীচে নাকি একটা মসৃণ পাথরের স্ল্যাব দেখা গেছে, দেখে মনে হচ্ছে একটা সিঁড়ির প্রথম ধাপ! নেমে গেছে ষষ্ঠ রামেসিসের সমাধির নীচের দিকে।

    ‘দিন সাতেক পরে যখন আরও বালি, নুড়ি, পাথর সরানো সম্ভব হল তখন কার্টার দেখলেন এটা সত্যি একটা সিঁড়ি। দশ ফুট মতো নীচে নেমে গেছে। নভেম্বরের ৫ তারিখে কার্টার সেই সিঁড়ির শেষ ধাপে গিয়ে পৌঁছোলেন। ওঁর সামনে তখন একটা পাথরের দরজা! দরজার গায়ে লাগানো সিলে একটা কার্তুজ আঁকা। তাতে গোটা গোটা করে হায়রোগ্লিফে লেখা আছে আমেন-তুথ-আঁখ। মানে, এইটাই তুতানখামেনের সমাধি!!’

    ‘কার্টার দরজাটা খুললেন তখন?! কী পেলেন!’

    ‘না ভায়া, দরজা খোলার বদলে কার্টার ওঁর শ্রমিকদের নির্দেশ দিলেন সিঁড়িটা আবার নুড়িপাথর দিয়ে বুজিয়ে দিতে।’

    ‘অ্যাঁ, এ কীরকম উদ্ভট চিন্তাভাবনা।’

    ‘উদ্ভট চিন্তা নয়। কার্টারের কৃতজ্ঞতা জানাবার ভাষা এটা। লর্ড কার্নারভনের সাহায্য ছাড়া তো এই সমাধি কার্টার আবিষ্কার করতে পারতেন না। তাই উনি চেয়েছিলেন কার্নারভনই যেন সেই সমাধিতে প্রথম পা রাখেন। রাতারাতি একটা ছোটো নৌকোয় চড়ে কার্টার চলে এলেন লাক্সরে। সেখানকার টেলিগ্রাম অফিস থেকে কার্নারভনকে একটা মেসেজ পাঠালেন। তার জবাবও এল জলদি।

    ‘পরের তিনটে সপ্তাহ কার্টারের কাটল অপেক্ষা করতে করতে। টেনশনে রাতের ঘুম চলে গেছে। যদিও মোটা টাকার বিনিময়ে শ্রমিকদের কাছ থেকে এই আশ্বাস আদায় করা গেছে যে তারা এই টুম্বের কথা কাউকে বলবে না, তবুও যদি কেউ একবার জেনে ফেলে! মরুভূমির মধ্যে ডাকাতদের আক্রমণের সামনে কার্টার কিচ্ছু করতে পারবেন না। অবশেষে নভেম্বরের ২৩ তারিখে কার্নারভন কায়রোতে এসে পৌঁছোলেন। সঙ্গে ওঁর একুশ বছরের মেয়ে লেডি এভিলিন। সেই দিনটা হোটেলে রেস্ট নিয়ে ২৪ তারিখের ভোরবেলায় চলে এলেন ভ্যালি অফ দ্য কিংসে। ততক্ষণে কার্টারের দলবল আবার সেই সিঁড়ির মধ্যের বালি সরানো শুরু করে দিয়েছে। আবার একটা গোটা দিন লাগল সেই পাথরের দরজাটা অবদি পৌঁছোতে।

    image170.jpg

    তুতানখামেনের সমাধির প্রবেশপথ

    ‘২৫ নভেম্বর। কার্নারভন দাঁড়িয়ে সেই দরজার সামনে। ওঁর দিকে তাক করে থাকা ক্যামেরা অপেক্ষা করছে ঐতিহাসিক মুহূর্তটাকে ধরে রাখার জন্য। খোলা হল সেই দরজা আর সঙ্গেসঙ্গেই দেখা গেল…’

    ‘তুতানখামেনের ঐশ্বর্য!’

    ‘ধুস, দেখা গেল নীচে নেমে যাওয়ার আরেকটা সিঁড়ি। সেটা গিয়ে শেষ হয়েছে আরেকটা পাথরের দরজাতে। তার গায়েও তুতানখামেনের নাম লেখা সিলমোহর।

    image171.jpg

    তুতানখামেনের সমাধির সামনে হাওয়ার্ড কার্টার ও লর্ড কার্নারভন

    image172.jpg

    পাথরের দরজার গায়ে লাগানো সিলে হায়রোগ্লিফের লেখা

    ‘২৬ নভেম্বরের সকাল বেলায় আবার সবাই মিলে আগের দিনের খুঁজে পাওয়া দরজার সামনে উপস্থিত হলেন। এবারে কার্টার লোহার রড দিয়ে সেই দরজার গায়ে একটা গর্ত করলেন। তারপরে একটা মোমবাতি জ্বালিয়ে ভিতরে উঁকি

    মারলেন।

    অনেকদিনের জমে থাকা বাতাসে মোমবাতির শিখা প্রথমে কেঁপে উঠে শান্ত হল। ভেতরের অন্ধকারের সঙ্গে কার্টারের চোখের ধাতস্থ হতে সময় লাগল একটু। এবারে ওঁর চোখ দুটো খুশিতে উজ্জ্বল হয়ে উঠল! পিছন থেকে লর্ড কার্নারভন ফিসফিস করে জানতে চাইলেন

    ‘ ‘‘কিছু দেখতে পাচ্ছ!?’’

    ‘উত্তরে কার্টার বলল,

    ‘‘ইয়েস, ওয়ান্ডারফুল থিংস!!’’

    ‘কার্টারের চোখের সামনে তখন সোনা চকচক করছে! আর মোমবাতির আলোয় যে ছায়া তৈরি হয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে একটা অদ্ভুত জন্তুকে!

    ‘পাথরের দরজা পুরোপুরি সরিয়ে ফেলার পরে ব্যাপারটা ভালো করে বোঝা গেল। একটা ছোটো ঘর। তাতে ঠেসে বোঝাই করা আসবাবপত্র। গোটা তিনেক খাট, কাঠের তৈরি, সোনায় মোড়ানো। খাটগুলোর পায়ার জায়গায় জন্তুর মুখ বানানো। তার ছায়াই কার্টার দেখতে পেয়েছিলেন। সেই ঘরের পশ্চিমের দেওয়ালে পাওয়া গেল আরেকটা ছোটো ঘর। দুটো ঘর মিলিয়ে খাটগুলো ছাড়াও আর যা যা ছিল সেগুলো হল একটা রথ, বাক্স বোঝাই জামাকাপড়, পারফিউমের বোতল। আর পাওয়া গিয়েছিল কিছু শুকিয়ে যাওয়া ফল, রুটি আর মদের পাত্র।’

    image173.jpg

    সেই মুহূর্ত !!

    ‘মানে, মৃত রাজার যাতে পরবর্তী জগতে কোনো প্রবলেম না হয় তার সব রকমের ব্যবস্থাই। এটা আগেও বলেছিলেন তো।’

    ‘হ্যাঁ, এরকমটা সব সমাধিতেই থাকত।’

    ‘কিন্তু, সেই আসল জিনিসটা কোথায়?! তুতানখামেনের মমি!’

    image174.jpg

    তুতানখামেনের কবরের ঐশ্বর্য (দ্রষ্টব্য রঙিন ছবি পৃ. ১৭)

    ‘সবুর করো, বলছি। কার্টার এত বড়ো একটা ঐশ্বর্য পেয়েও নিজেকে আশ্চর্যরকম শান্ত রেখেছিলেন। গোটা মিশরের আর্কিয়োলজির ইতিহাসে এমন কিছু আর হয়নি। সেটা উনি খুব ভালোভাবেই জানতেন। তাই সমাধির প্রতিটা জিনিসকে যত্ন করে প্রিজার্ভ করার দিকে আগে মন দিলেন। ইউরোপ আর আমেরিকার সেরা এক্সপার্টদের ডেকে আনা হল। তাদের কাজ করার জায়গা হল আশেপাশের সমাধিগুলো। আর্কিয়োলজিকাল ফোটোগ্রাফার হ্যারি বার্টন সেই সময়ে ওখানেই ছিলেন, নিউইয়র্কের মেট্রোপলিটন মিউজিয়ামের হয়ে কাজ করতে। তাঁরকে দলে নেওয়া হল। হ্যারির কাজ ছিল সমাধির প্রতিটা জিনিসের গায়ে হাত দেওয়ার আগে তার ছবি আগে তুলে রাখা। ছবিগুলো ডেভেলপ করার জন্য কে ভি ৫৫ বেছে নেওয়া হল, যেটা ছিল তুতানখামেনের ভাইয়ের সমাধি। আরও কয়েকটা টুম্বের মধ্যে তৈরি করা হল ল্যাবরেটরি আর ওয়ার্কশপ। এগুলো করতেই লেগে গেল দু-মাস।

    ‘বাইরের জগতে ততদিনে তুতানখামেনের সমাধি আর তাঁরর গুপ্তধনের কথা ছড়িয়ে গেছে। ভ্যালি অফ দ্য কিংসে তখন গিজগিজ করছে রিপোর্টার আর টুরিস্ট। সবাই রোজ ভোর বেলায় টিফিন বক্সে খাবার আর বোতলে জল নিয়ে চলে আসে, এসে জটলা করে সমাধির উলটোদিকের উঁচু পাঁচিলে। সারাদিন ধরে তারা হাঁ করে টুম্বের দরজার দিকে তাকিয়ে বসে থাকে। এই যদি একটা নতুন আবিষ্কার হওয়া জিনিস দেখা যায়! মাঝে মাঝে কার্টারের মনে হত এত লোকের চাপে ওই পাঁচিল না ভেঙে পড়ে। তাহলে আরেকটা নতুন সমাধি তৈরি হয়ে যাবে!

    image175.jpg

    ভ্যালি অফ দ্য কিংস-এ তখন গিজগিজ করছে রিপোর্টার আর টুরিস্ট

    image176.jpg

    দরজার দু-পাশে দাঁড় করানো মূর্তি

    ‘সেই যে ছোটো ঘরটার মধ্যে খাটগুলো পাওয়া গিয়েছিল তার উত্তরদিকের দেওয়ালে ছিল আরেকটা দরজা। দরজার দু-পাশে দাঁড় করানো ছিল দুটো প্রমাণ সাইজের তুতানখামেনের মূর্তি। যেন ওরা অতন্দ্র প্রহরীর মতো কিছু পাহারা দিচ্ছে। কার্টার বুঝতে পেরেছিলেন ওর পিছনেই আছে তুতানখামেনের সারকোফেগাস। একদিন রাতের অন্ধকারে কাউকে কিছু না বলে সেই দেওয়ালের গায়ে গর্ত করে কার্টার, কার্নারভন আর লেডি এভিলিন ঢোকেন। সামনে রাখা বিশাল সোনায় মোড়ানো একটা বাক্স দেখে ফিরে আসেন।

    ‘তিনমূর্তির এই রঁদেভুর কথা যদিও আর কাউকে জানানো হয়নি। ১৭ নভেম্বরে ঘটা করে বেশ কিছু আর্কিয়োলজিস্ট আর গভর্নমেন্টের অফিশিয়ালদের সামনে উত্তরের দরজাটা খোলেন কার্টার। দরজা খুলতেই দেখা গেল সেই সোনায় মোড়ানো বাক্সটাকে। তার সামনেই ছিল একটা দরজা। সেই দরজা খুলে বেরোল আরেকটা বাক্স। তার মধ্যে আরেকটা বাক্স।

    ‘এত অবধি কাজ এগোবার পরে কার্টারের মনে হল এই ক-মাসে অক্লান্ত পরিশ্রমের পরে একটু বিশ্রাম নেওয়ার দরকার। অন্তত দিন দশেকের জন্য। তারপরে না হয় আবার পুরোনো উদ্যমের সঙ্গে কাজ শুরু করা যাবে।

    ‘টুম্বের দরজায় লোহার গেট বসিয়ে বাইরে আঁটোসাটো গার্ডের ব্যবস্থা করা হল। কার্টার চলে এলেন লাক্সরের হোটেলে। লর্ড কার্নারভন মেয়ের সঙ্গে বেরিয়ে পড়লেন আসওয়ানের উদ্দেশে। নীল নদের পথে। নিছকই টুরিস্ট হিসেবে।

    image177.jpg

    তুতানখামেনের সারকোফেগাসকে ঘিরে একাধিক সোনায় মোড়ানো বাক্স

    image178.jpg

    বর্তমানে কায়রো মিউজিয়ামে রাখা তুতানখামেনের সোনায় মোড়ানো কাঠের বাক্স

    ‘নৌকোতেই কার্নারভনের গলায় একদিন একটা মশা কামড়াল। খুবই স্বাভাবিক ঘটনা। কিন্তু পরের দিন শেভ করার সময় সেই জায়গাটা আবার কেটে ফেললেন কার্নারভন। সঙ্গেসঙ্গে সেখানে আয়োডিন লাগালেও ঘা সারল না। রক্তে ইনফেকশন ছড়িয়ে পড়ল। তার সঙ্গে হল নিউমোনিয়া। ওঁকে জলদি কায়রোতে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হলেও বাঁচানো গেল না। ৫ এপ্রিল, ১৯২৩-এ রাত ১.৪৫-এ মারা গেলেন জর্জ হার্বার্ট ওরফে লর্ড কার্নারভন। ঠিক সেই সময়েই নাকি ইংল্যান্ডে কার্নারভনের পোষা কুকুরটিও মারা যায়। এই ঘটনার ক-দিন আগে কার্টারের পোষা ক্যানারি পাখিরও নাকি একই পরিণতি হয় বিষাক্ত কোবরার ছোবলে।

    image179.jpg
    image180.jpg

    হাওয়ার্ড কার্টারের তত্ত্বাবধানে তুতানখামেনের সমাধি থেকে ঐশ্বর্য বের করে আনা হচ্ছে

    ‘কয়েক সপ্তাহ পরে ইংল্যান্ডের বিকন হিলে যখন কার্নারভনকে কবর দেওয়া হচ্ছে তখন আকাশে খুব নীচু দিয়ে উড়ছিল মিডিয়ার ভাড়া করা এরোপ্লেন। লক্ষ্য একটাই, লর্ডের শেষ মুহূর্তের ছবি তুলে রাখা।

    ‘পরের দিনই সবকটা নিউজপেপারের প্রথম পাতার খবর ছিল একই। ফারাওয়ের অভিশাপেই নাকি কার্নারভনের মৃত্যু হয়েছে! হাওয়ার্ড কার্টার নিজে বার বার বলার চেষ্টা করলেন, যে তুতানখামেনের কবরে কোনো বিষ, কোনো অভিশাপ ছিল না। তাও কেউ ওঁর কথার পাত্তাই দেয়নি সেইসময়ে।’

    image181.jpg
    image182.jpg

    কার্নারভনের মৃত্যু নিয়ে সংবাদপত্রের খবর

    ‘কিন্তু ভবেশদা, আমি শুনেছিলাম তুতানখামেনের কবরের গায়ে নাকি লেখা ছিল, যে এই সমাধির ভিতরে ঢুকবে, ফারাওয়ের অভিশাপ তাকেই গ্রাস করবে।’

    ‘ধুর, এরকম কিচ্ছু ছিল না আদৌ, গোটাটাই গুজব।’

    ‘কিন্তু শুধু তো কার্নারভনই নন, কার্টারের টিমের আরও দু-জন নাকি পর পর মারা যান ওই সময়েই।’

    ‘দেখো, সেটাও কোইন্সিডেন্স ছাড়া আর কিছুই নয়। তুতানখামেনের টুম্ব খুঁজে বের করার কাজে জড়িত ছিলেন সব মিলিয়ে ছািব্বশ জন। তাঁরদের মধ্যে মাত্র ছ-জন পরের দশ বছরে মারা যান। স্বয়ং হাওয়ার্ড কার্টার বহাল তবিয়তে বেঁচেছিলেন আরও ষোলো বছর। আর লেডি এভিলিন মারা যান ১৯৮০তে। তুতানখামেনের অভিশাপ একটা মিথ ছাড়া আর কিচ্ছু না। সেইসময় পপুলার কালচারে অবশ্য এর বেশ ভালো প্রভাব পড়েছিল। মমির অভিশাপ নিয়ে বেশ কিছু সিনেমা তৈরি হয় সেইসময়। অনেক নীচু মানের থ্রিলার বইও বেরোয় বাজারে।’

    পিজি এবারে বলল,

    ‘হুম, আমিও ভেবেছিলাম এটা গুজবই। এই স্পন্দনের মতো ভূতে-ভয়-পাওয়া কয়েকটা লোকজনই নির্ঘাত এটা ছড়িয়েছিল। আপনি কার্টারের গল্পে ফিরে আসুন ভবেশদা। তুতানখামেনের মমির কী হল?’

    অন্য সময় হলে পিজি আমার হাতে মার খেত। কিন্তু তখন ভবেশদার ইকুইলিব্রিয়ামটা নষ্ট করার কোনো ইচ্ছা ছিল না আমার। তাই চুপ রইলাম। ভবেশদা ঢকঢক করে আধ বোতল জল খেয়ে আবার শুরু করলেন,

    ‘১৯২৪-এর ফেব্রুয়ারি মাসে তুতানখামেনের সমাধিতে আবার কাজ শুরু করেন কার্টারবাবু। শেষ বাক্সটা খোলার পরেই দেখা যায় হলুদ কোয়ার্টজাইট পাথরের তৈরি একটা সারকোফেগাস। সেটা খোলার পরেই দেখা গেল কাঠের তৈরি কফিন। ফারাওয়েরই অবয়বে তৈরি। গলায় শুকনো ফুলের মালা। এরকম আরও দুটো কফিনের পরে পাওয়া গেল একদম সোনা দিয়ে তৈরি করা সেই কফিন, যার মধ্যে শোয়ানো আছে তুতানখামেনকে। ফারাওয়ের মুখের ওপরে বসানো সোনার তৈরি মুখোশ, যেটা কাঁধ অবদি নেমে এসেছে। তুতানখামেন বলতে এখন এই মুখোশটার ছবিই সবাই জানে। ফারাওয়ের কোমরের কাছে রাখা ছিল একটা সোনার তৈরি ছুরি। সারা শরীরে ছিল ১৪৩ পিস অ্যামুলেট, যাতে রাজা ঠিকঠাক অন্য জগতে যেতে পারে।

    image183.jpg
    image184.jpg

    তুতানখামেনের মমি (উপরে),

    তাঁর অবয়বে তৈরি একাধিক কফিন (পাশে)

    image185.jpg
    image186.jpg
    image187.jpg

    কায়রো মিউজিয়ামে রাখা তুতানখামেনের চেয়ার, ছুির ও অ্যামুলেট (তাবিজ)

    ‘ফারাওয়ের মমির অবস্থা কিন্তু খুব একটা ভালো ছিল না, সমাধিস্থ করার সময় পুরোহিতরা মমির গায়ে যে রেজিনের প্রলেপ লাগিয়েছিল সেটা তিন হাজার বছরে অক্সিডাইজড হয়ে কালো চ্যাটচ্যাটে একটা পদার্থে পরিণত হয়। তুতানখামেনের মমিকে সাবধানে কফিন থেকে বের করতেই কালঘাম ছুটে গিয়েছিল সবার। এর মাঝে কার্টার নিজেও একটা ভুল করে বসেন। ফারাওয়ের মুখোশটা মমির গায়ে একদম চেপে বসেছিল। ছুরির ডগা গরম করে সেটা দিয়ে মুখোশটাকে আলাদা করেন কার্টার। তাতে তুতানখামেনের মুখের অনেক ক্ষতি হয়। এখন সেই মমি রাখা আছে তুতানখামেনের সেই সমাধিতেই। ভ্যালি অফ দ্য কিংসে, কে ভি ৬২।’

    ‘ভবেশদা, ছোটোবেলায় ‘‘আনন্দমেলা’’তে একটা আর্টিকল পড়েছিলাম, যে, তুতানখামেনকে নাকি খুন করা হয়, এটা কি সত্যি?’

    ‘সেটা বলা খুব মুশকিল ভায়া, তুতানখামেনের মৃত্যুটা বেশ রহস্যময়, বুঝলে। খুন না অ্যাক্সিডেন্ট, সেটা কেউ ভালো করে বুঝতে পারেনি এখনও।’

    ‘অ্যাক্সিডেন্ট? বুঝল কেমন করে?’

    ‘তুতানখামেনের মতো সেলিব্রেটেড ফারাও তো আর দুটো নেই। তাই ওর মমির ওপরেও বিস্তর পরীক্ষানিরীক্ষা চলেছে।’

    পিজি যথারীতি গুগল খুলে বসে গিয়েছিল, ও এবারে বলল,

    ‘হ্যাঁ, এই তো দেখছি তুতানখামেনের মমির অনেকগুলো এক্স-রে, সিটি স্ক্যান হয়েছিল। বেশ কয়েকটা জন্মগত রোগও ছিল দেখছি।’

    ভবেশদা বললেন, ‘এটা তোমাদের ডাক্তারির ব্যাপার, আমি ভালো বুঝব না, কী রোগ ছিল বলো তো?’

    image188.jpg
    image189.jpg

    বর্তমানে ভ্যালি অফ কিংস, কে. ভি ৬২-তে রাখা তুতানখামেনের মমি

    পিজি জ্ঞান দেওয়ার সুযোগ পেয়েছে, আর ছাড়ে?

    ‘প্রথমত, তুতানখামেনের ছিল ক্লিপেল-ফেইল সিনড্রোম। ওর ঘাড়ের যে শিরদাঁড়ার হাড়, যাকে আমরা সারভাইকাল ভার্টিব্রা বলি, তার সবকটাই একটা আরেকটার সঙ্গে জোড়া লাগানো ছিল। মানে রাজা ঘাড় ঘোরাতে পারত না। তার সঙ্গে আবার সামান্য স্কোলিয়োটিক মানে কুঁজও ছিল। পায়ের পাতার হাড়ে আবার ক্ষয়ের চিহ্ন দেখা গেছে। একে বলে কোহলার সিনড্রোম। মানে ফারাও ভালোভাবে হাঁটতেও পারত না।’

    ‘এটা ঠিক বলেছ পিজি, তুতানখামেনের সমাধিতে বেশ কয়েকটা ওয়াকিং স্টিক পাওয়া যায়।’

    ‘হুম, ফারাওয়ের ডিএনএ-তে নাকি আবার বেশ কয়েকটা ম্যালেরিয়ার প্যারাসাইটের ডিএনএ-ও পাওয়া যায়। আপনি তো বলেইছিলেন ম্যালেরিয়াতে ভুগতেন তুতানখামেন। এরকমটা হলে তো এমনিতেই যেকোনো কারো ইমিউনিটি খুব উইক হয়ে যাবে।’

    image190.jpg

    তুতানখামেনের থ্রি-ডি গ্রাফিক

    এবারে আমি বললাম, ‘কিন্তু ভবেশদা, আপনি যে বললেন অ্যাক্সিডেন্টে মৃত্যু?’

    ‘হ্যাঁ ভাই, সেটাও হতে পারে বলে অনেকেরই মত। ২০১৩ সালে একটা ব্রিটিশ টিম ফারাওয়ের এক্স-রে আর সিটি স্ক্যানগুলো আবার ভালো করে পরীক্ষা করে। তাতে দেখা যায় যে ওর বাঁ-পায়ের থাইয়ের হাড় ভাঙা।’

    ‘ফিমার?’

    ‘হ্যাঁ, তোমরা ওই হাড়টাকে তো তাই বল। এই ভাঙার ধরন দেখে এক্সপার্টরা প্রেডিক্ট করেছে যে খুব সম্ভবত রথ চালাবার সময় অ্যাক্সিডেন্ট হয়। তাতেই ফারাওয়ের পায়ের হাড় ভাঙে। সেখান থেকেই মৃত্যু। তবে এর এগেইনস্টেও যুক্তি আছে বুঝলে, যে ফারাও ঠিক করে হাঁটতেই পারত না সে কীভাবে রথ চালাবে? সুতরাং সব মিলিয়ে তুতানখামেনের মারা যাওয়ার কারণ এখনও একটা বড়ো মিস্ট্রি। আরেকটা ইন্টারেস্টিং ফ্যাক্ট বলি তোমাদের। তুতানখামেনের সমাধিতে আরও দুটো মমি ছিল, এটা জানো?’

    ‘অ্যাঁ, বলেন কী?! এরকম তো আগে কখনো শুনিনি!’

    ‘হুম, ওই কে ভি ৬২-র সমাধিতেই একটা ছোটো বাক্স পাওয়া যায়। সেটা খোলার পরে দেখা যায় তাতে রাখা আছে ছোট্ট ছোট্ট দুটো কফিন। তার মধ্যে ছিল তিরিশ সেন্টিমিটার লম্বা দুটো মমি। তুতানখামেনের স্ত্রী দু-জন মৃত সন্তান প্রসব করেন বলেছিলাম না! এগুলো তাদেরই। ওরা বাবার কাছেই শুয়ে ছিল তিন হাজার বছর ধরে।’

    ‘আচ্ছা ভবেশদা, তুতানখামেনের স্ত্রী সেই আনখেসেনামেনের কী হল?’

    ‘ফারাও মারা যাওয়ার পরেই আনখেসেনামেন একটা বুদ্ধি বের করেন। মিশরের পাশে আনাতোলিয়াতে ছিল হিটাইট প্রজাতির রাজত্ব, তাদের রাজা একটা চিঠি পান। রাজার এক সন্তানকে নাকি রানি আনখেসেনামেন বিয়ে করতে চান। এমন সুযোগ কেউ ছাড়ে নাকি! আনখেসেনামেনকে বিয়ে করা মানেই তো মিশরের ফারাও বনে যাওয়া। রাজপুত্র জিনাজা তাই মিশরের উদ্দেশে রওনা দেয়। কিন্তু সে মিশরে পৌঁছোতে পারেনি। মরুভূমির মধ্যেই কোথাও একটা তাকে খুন করা হয়। খুব সম্ভবত তুতানখামেনের মন্ত্রী আই-ই খুনটা করিয়েছিলেন। আই ফারাও হয়ে বসার পরে আনখেসেনামেনও মিশরের ইতিহাস থেকে হারিয়ে যান। ওর মমি আজও কেউ খুঁজে পায়নি।’

    image26.jpg

    সেইদিন আড্ডা যখন শেষ হল তখন রাত বারোটা। ভবেশদা আমাদের রুমেই থেকে গিয়েছিলেন। কিন্তু যখন শুতে যাব ঠিক তার আগেই পিজি আমাকে হোস্টেলের করিডোরে বের করে নিয়ে এসে একটা অদ্ভুত কথা বলল,

    ‘ভবেশদা আমাদের মিথ্যে কথা বলেছেন, বুঝলি!’

    ‘মিথ্যে?’

    ‘হ্যাঁ, উনি বললেন না যে ও এই পনেরো দিন বাড়িতে ছিলেন, একদম ডাহা মিথ্যে বলেছে।’

    ‘তুই জানলি কী করে?’

    ‘আমি তোর মতো দুমদাম কাউকে বিশ্বাস করে নিই না। আর সবসময় ফাজলামি করি বলে এটা ভাবিস না যে প্রদীপ্ত ঘোষ বোকা।’

    ‘না না, সেটা কি আমি বলেছি নাকি? কিন্তু তুই ভাবছিস কী করে যে ভবেশদা মিথ্যে বলেছিলেন?’

    ‘আড্ডার মাঝে মনে আছে তুই একবার উঠে গেলি মেসে এক্সট্রা মিলের অর্ডার দিতে? ভবেশদাও সেইসময় একবার বাথরুমে গিয়েছিলেন। আমি সেই ফাঁকে ওঁর ওই নীল রঙের ব্যাগটা খুলে চেক করেছিলাম।’

    ‘বলিস কী! এটা কিন্তু ঠিক করিসনি তুই।’

    ‘আরে ধুর, ঠিক ভুলের নিকুচি করেছে। ওঁর ওই পনেরোদিন ধরে বাড়িতে বসে বই পড়াটাকে আমি মেনে নিতে পারিনি। তার ওপরে সঙ্গে ওরকম ঢাউস ব্যাগ নিয়ে কী করছিলেন? তাই খুলে দেখলাম।’

    ‘কী পেলি!’

    পিজি এবারে খপ করে আমার হাতটা চেপে ধরল,

    ‘ইন্টারন্যাশনাল ফ্লাইটের টিকিট, ভবেশদা এই ক-দিন ইন্ডিয়াতে ছিলেন না, স্পন্দন!’

    ‘তাহলে কোথায় ছিলেন?’

    ‘ইজিপ্ট!’

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহারানো সূর্যের খোঁজে – অনির্বাণ ঘোষ
    Next Article ভারতে ইসলাম ভারতীয় মুসলিম – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }