Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হায়রোগ্লিফের দেশে – অনির্বাণ ঘোষ

    লেখক এক পাতা গল্প244 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২১. দেইর-এল-বাহরির গুপ্তধন

    একটা মানুষকে এই ক-মাস ধরে চিনি, আমরা দু-জনেই অনেকটা সময় কাটিয়েছি তাঁরর সঙ্গে। শুনেছি দারুণ দারুণ গল্প। ইজিপ্ট নিয়ে আমাদের কৌতূহলটাকে অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছেন ভবেশদা। কিন্তু এত বড়ো একটা কিছু উনি চেপে যাবেন? কেন? কী জন্য ওঁকে যেতে হল মিশরে?

    প্রশ্ন আমাদের দু-জনের মধ্যেই জমা হচ্ছিল। কিন্তু উত্তর কিছুতেই খুঁজে পাচ্ছিলাম না। উত্তরগুলো ভবেশদাকেই দিতে হত। সেই সুযোগটাও এসে গেল।

    ভবেশদা নিজেই ওঁর বাড়িতে আমাদের নেমন্তন্ন করলেন। আমি একটু হেজিটেট করছিলাম, কিন্তু পিজি বলল,

    ‘লোকটা তো এখনও অবদি আমাদের কোনো ক্ষতি করেনি। একটা রিস্ক নিয়েই দেখি না?’

    ভবেশদার বাড়ি সোনারপুরে। আনন্দপল্লি নামের একটা পাড়ায়। শিয়ালদা থেকে প্রথমে ট্রেন, তারপরে স্টেশনে নেমে রিকশাতে মিনিট পনেরো লাগল। বাড়িটা একটা সরু গলির মধ্যে। খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হত যদি না ভবেশদা গলির মোড়ে আমাদের জন্য অপেক্ষা করতেন।

    ‘একটু দেখে ঢোকো। স্পন্দন আবার যা লম্বা, মাথা না ঠুকে যায় ওর।’

    ভবেশদার বাড়ির ঢোকার দরজাটা সত্যি একটু বেশিই নীচু। একতলা বাড়ি, দেখলেই বোঝা যায় শেষ তিরিশ বছরে এর গায়ে কেউ হাত দেয়নি। দেওয়ালের নীল রংটা কালচে হয়ে এসেছে। জানলার গ্রিলগুলোও জং ধরা। বাড়ির ভেতরের অবস্থাও একই রকমের। ভবেশদা অকৃতদার। একা মানুষ থাকেন এই বাড়িতে। তাই জিনিসপত্র একটু অগোছালো। একটা ছোটো বসার ঘর, একটা ডাইনিং স্পেস, তার গায়ে লাগানো একটা শোয়ার ঘর আর কিচেন। বাথরুমটা বেডরুমের সঙ্গে অ্যাটাচড। বসার ঘরে পেতে রাখা সোফাটায় আমি আর পিজি বসলাম। বসতে বসতেই একটা জিনিস খেয়াল করে অবাক হলাম একটু। ঘরের মলিন দেওয়াল, অতি সাধারণ আসবাবপত্রের মধ্যে দেওয়ালের সঙ্গে সেট করা শোকেসটা একদম মিসফিট। তার দুটো তাকে থরে থরে বই সাজানো। কী বিষয় নেই সেখানে! মিশর তো আছেই, আরও আছে মিডিভাল সময়ের ইউরোপের ইতিহাস, অর্থনীতি, ফিলোজফি, ফাইন আর্টসের ওপরে লেখা একগাদা বই। তাদের মধ্যে আবার ইউভাল হারারির লেখা স্যাপিয়েনস বইটাও নজরে পড়ল। সত্যি লোকটা একটা বইপোকা বটে।

    পিজি এই সময়েই কনুই দিয়ে আমাকে সামান্য নাড়া দিল। ওর দিকে তাকাতে চোখ দিয়ে ইশারা করল শোকেসের একদম নীচের তাকের দিকে। সেখানে রাখা আছে অনেকগুলো শোপিস। বেশির ভাগই মিশরীয়। আনুবিস, হোরাস, স্ফিংসের মূর্তি, স্কারাব বিটলের অ্যামুলেট, কাঠের তৈরি আঁখ আরও কত কী। মূর্তিগুলো যেভাবে চকচক করছিল, ইচ্ছা করছিল হাতে নিয়ে দেখতে। কিন্তু সে-লোভ সামলিয়ে চুপ করে বসলাম।

    ‘এই নাও আমপোড়ার শরবত। নিজেই বানালাম, খেয়ে বলো দেখি কেমন হয়েছে।’

    পিজি এবারে গ্লাসটা হাতে নিয়ে সন্দেহের চোখে একঝলক দেখল সবুজ শরবতটার দিকে। তারপরে গ্লাসটা পাশের টেবিলে রেখে ভবেশদাকে বলল,

    ‘হ্যাঁ, খাচ্ছি। তার আগে আমার একটা কথার উত্তর দিন তো দেখি।’

    আমাদের সোফার উলটোদিকের চেয়ারে বসতে বসতে ভবেশদা বললেন,

    ‘জানি, জিজ্ঞাসা করবে এই সময়ে কাঁচা আম কোথা থেকে পেলাম, তাই তো? আরে বাজারে এখন পাকা আম চলে এলেও আজকে একটা দোকানদারের কাছে…’

    ‘না, সেটা নয়।’

    ‘তাহলে কী?’

    ‘আমার হাতে-থাকা গ্লাসটার ওপরে চাপটা একটু বাড়ল। পিজি কয়েক মুহূর্ত চুপ থেকে বলল,

    ‘আপনি ইজিপ্টে কী করতে গিয়েছিলেন?’

    কথাটা শুনেই ভবেশদা যেন চমকে গেলেন একটু। তারপরে সামান্য হেসে বললেন, ‘বুঝেছি, আগের দিন আমার ব্যাগটা চেক করেছিলে মনে হয়।’

    ‘হুঁ, সরি খুব ভুল করেছিলাম, কিন্তু আপনিও তো এত বড়ো একটা কিছু আমাদের থেকে বেমালুম লুকিয়ে গেছিলেন।’

    ‘আমি ইজিপ্টে গিয়েছিলাম এটা যখন জেনেই গেছ তখন আরেকটা কথাও বলি তোমাদেরকে। কয়েক মাস আগে ধর্মতলার এসবিআই-এর এনআরআই ব্রাঞ্চে গেছিলাম তোমাদের সঙ্গে, মনে আছে?’

    ‘হ্যাঁ, আছে তো।’

    ‘সেদিন আমার কোনো ভাইয়ের কাজ করতে ওখানে যাইনি। আমার সেরকম কোনো ভাইই নেই। গিয়েছিলাম নিজের কাজে। একটা ফরেন ট্রানজাকশনের দরকার ছিল।’

    পিজি এবারে টক করে একবার আমার দিকে তাকাল। মুখে কিছু না বললেও চোখ দুটো তখন বলছে, দেখেছিস তো, সেদিনও আমার সন্দেহটা ঠিক ছিল!

    আমরা দু-জনেই যখন হতবাক হয়ে বসে আছি তখন ভবেশদা আমাদের দিকে একটু ঝুঁকে এসে বললেন,

    ‘আমি জানি, তোমাদের মনে অনেক প্রশ্ন জমে আছে। উত্তর দিতে পারি। কিন্তু একটা কথা বলো তার আগে, তোমাদের ওপরে কি আমি আস্থা রাখতে পারি? যা বলব তা প্লিজ নিজেদের কাছেই রেখে দিতে পারবে?’

    image26.jpg

    ভবেশ সামন্ত কলকাতা ইউনিভার্সিটি থেকে ইতিহাসে অনার্স নিয়ে বিএ করে ১৯৮৯তে আর্কিয়োলজিতে পোস্টগ্র্যাজুয়েশন করেন বেনারস হিন্দু ইউনিভার্সিটি থেকে। তারপরে বছর তিনেক আর্কিয়োলজিকাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়াতে কাজ করে পাড়ি জমান ইজিপ্টে। সেখানে ছিলেন টানা পনেরো বছর। ২০০৭ সালে পাকাপাকিভাবে ফিরে আসেন দেশে।

    ‘কিন্তু, দেশে ফিরে কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের গুমটি দিলেন? এটা তো মিলল না।’

    ভবেশদা এবারে স্বরটা আরও একটু নীচু করে বললেন,

    ‘এত কিছু যখন বললামই তখন আরও একটা কথা বলি তোমাদের। মিশরে থাকাকালীন আমি যা রোজগার করেছি তাতে আমার এ জীবনে আর অর্থের অভাব হবে না। কিন্তু সেই টাকার প্রতিফলন যদি আমি রোজকার জীবনে দেখাতাম তাহলে আমার প্রাণ সংশয় হত। কলকাতায় ফিরে এসে নিজেকে একটা লো প্রোফাইলে রাখতেই হত। তাই কলেজ স্ট্রিটে বইয়ের দোকানটা নেওয়া। রোজ ঘণ্টা ছয়েক ওখানে কাটিয়ে চলে আসি।

    ‘কিন্তু, আপনাকে কে মারতে চাইবে?!’

    ‘তেমন লোকদের অভাব নেই এই দেশে, স্পন্দন ভাই। এই শহরেও এমন অনেকে আছে। যেসব আর্টিফ্যাক্ট নিয়ে আমার কাজ ছিল তাদের এক একটার মূল্য কয়েক কোটি টাকা। দেশে ফেরার পরেও সেই কাজ চলছে। তবে ইললিগালি আমি কিছু করি না এটুকু তোমাদের বলতে পারি। এদেশের অনেক প্রাইভেট কালেক্টর চেনেন আমাকে। তাঁররাই আসেন কোনো আর্টিফ্যাক্ট জেনুইন না ফেক সেটা যাচাই করাবার জন্য। ওই বইয়ের দোকানের আড়ালে এটাই আমার পেশা বলতে পারো। আজকেও এমন একজনের আসার কথা আছে। বিকেলের দিকে আসবে সে।’

    ‘তাহলে হঠাৎ ইজিপ্ট গেলেন কেন? এমনটা কি প্রায়ই যান নাকি?’

    ‘না ভাই, এগারো বছর আগে ফিরে আসার পরে ভাবিনি আবার কখনো যেতে হবে। কিন্তু হল তাও।’

    ‘কেন?’

    ‘সেটা আমি এখনই তোমাদেরকে বলতে পারব না। কিন্তু এটুকু বলতে পারি আমার থেকে তোমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমার তিন কুলে কেউ জীবিত নেই। বন্ধুবান্ধবদের সংখ্যাও শূন্য। কিন্তু তোমাদের সঙ্গে মিশতে মিশতে একটা ভালোলাগা তৈরি হয়ে গেছে কখন। সেখান থেকেই হয়তো বিশ্বাস জন্ম নিয়েছে। আজকে সেই বিশ্বাসের বশেই এতগুলো কথা বললাম তোমাদের।’

    এই কথাগুলো বলতে বলতেই ভবেশদা আবেগের বশে আমাদের দু-জনের হাত ধরে ফেলেছিলেন। যে লোকটা জ্ঞানের পাহাড়, পেটুক, হেঁয়ালি করাতে মাস্টার তাকে এরকমভাবে কখনো দেখব বলে ভাবিনি। ওর কথাগুলো শুনতে শুনতে মনে হয়নি মিথ্যে বলছে বলে। আর আমি আর পিজি দু-জনেই যথেষ্ট প্রাপ্তবয়স্ক। এই ভবেশদার সিক্রেটটা নিজেদের কাছে রেখে দিতেই পারব। ঘরের বাতাসটা একটু ভারী হয়েছিল। পিজি মনে হয় সেটাকে হালকা করার জন্যই এবারে বলে উঠল,

    ‘উফফ, অনেক রাজ কি বাত জানা হল আপনার। করিতকর্মা লোক মশাই আপনি। তা, আজকে বাড়িতে ডেকে এনে শুধু এই আমপোড়ার শরবতই খাওয়াবেন, নাকি লাঞ্চে আরও কিছু আছে?’

    image26.jpg

    মুরগির মাংসর ঝোল দিয়ে ভাত মাখতে মাখতে আমি ভবেশদাকে জিজ্ঞাসা করলাম,

    ‘আচ্ছা, আপনিও মিশরে অত বছর ছিলেন! চোরাকারবার নিশ্চয়ই ভালোই চলে ওখানে।’

    ‘তা আর চলবে না! সরকার যতই নিয়ম কড়া করুক না কেন। তার ফাঁক গলে এখনও প্রতিদিন কায়রো এয়ারপোর্ট থেকে কোনো-না-কোনো প্লেন পেটের মধ্যে হাজার বছরের পুরোনো আর্টিফ্যাক্ট নিয়ে উড়ে যাচ্ছে পৃথিবীর অন্য দেশে। আবার কখনো কখনো এই চোরাকারবারিদের জন্যেই আর্কিয়োলজিস্টরা দারুণ দারুণ জিনিস আবিষ্কারও করেছেন।’

    ‘সেটা কীরকম?’

    ‘দেইর এল বাহরির গুপ্তধনের কথা শোননি?’

    ‘না তো!’

    ব্যস, লাঞ্চের টেবিলে উঠে এল এক টুকরো মিশর।

    ‘১৮৭১ সালের কথা, লাক্সর শহরের পশ্চিমদিকে দেইর এল বাহরি নামের একটা জায়গা। ছোটো ছোটো চুনাপাথরের পাহাড়ে ভরতি। সেখানে দুটো ভেঙে-পড়া খ্রিস্টান মনাস্ট্রি ছাড়াও ছিল ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা প্রাচীন মিশরীয়দের কবর। এর পাশেই ছিল একটা গ্রাম, নাম কুর্না। জনসমক্ষে কুর্নার বাসিন্দাদের পেশা ছিল চাষবাস আর মেষপালন। কিন্তু তার তলায় তলায় ছিল আরেকটা লুকোনো কারবার। সেটা হল ইজিপশিয়ান আর্টিফ্যাক্ট বিক্রি করা। রাতের অন্ধকারে কবর খুঁড়ে টুকটাক মূর্তি, অ্যামুলেট, পুরোনো প্যাপিরাস ইত্যাদি যা কিছু পাওয়া যেত তা-ই ওরা বিক্রি করত। ক্রেতা ছিল মূলত টুরিস্টরা, আর কিছু দালাল, যারা আবার সেইগুলোকে বিক্রি করত ইউরোপে আর আমেরিকায়।

    image191.jpg
    image192.jpg

    দেইর এল বাহরি পাহাড় ও প্রাচীন মিশরীয় সমাধির গুপ্ত সুড়ঙ্গ

    ‘আহমেদ মোহামেদ আবদুল রসুল থাকত ওই গ্রামেতেই। একদিন ভোরবেলায় আহমেদ ভেড়া চরাতে বেরিয়েছিল। ফেরার সময় খেয়াল করল একটা ভেড়া কম। বেটা নির্ঘাত পাহাড়ের ওপরে উঠে বসে আছে। এরকম মাঝেমধ্যেই হয়। আহমেদ ভেড়াটার ডাক শুনে শুনে একটা ছোটো টিলার ওপরে উঠল, আগে কখনো আসেনি এখানে। টিলাতে পৌঁছেই আহমেদ একটা গুহা দেখতে পেল। হারিয়ে-যাওয়া ভেড়াটার ডাক আসছে ওখান থেকেই। বেটা ওখানেই ঢুকে বসে আছে।

    ‘আহমেদ গুহাতে ঢুকে ভেড়াটা নিয়ে বেরিয়ে আসতে যাবে এমন সময় ওর নজর পড়ল গুহার একটা কোণে। একটা গর্তমতো দেখা যাচ্ছে না? কাছে গিয়ে বোঝা গেল যে সেটা শুধু একটা গর্তই না। একটা সুড়ঙ্গের মুখ! বুকে ভয় নিয়েই আহমেদ ঢুকে পড়ল সেই সুড়ঙ্গে। কিন্তু একটু এগোতেই পথ শেষ হয়ে গেল।’

    ‘যাহ! ব্লাইন্ড এন্ড?’

    ‘সেরকমই ভেবেছিল আহমেদও। কিন্তু সুড়ঙ্গ যেখানে শেষ হল সেখানকার পাথর দেখে আহমেদের সন্দেহ হল। যেন কিছু একটাকে বালি আর ছোটো ছোটো পাথরের টুকরো দিয়ে ঢাকা আছে। এর আগে ছোটোখাটো কবর খুঁড়ে চোরাকারবারিতে হাত পাকানোই ছিল ওর। তাই এবারেও ওর মনে হল এই বালি পাথরের পিছনে একটা লুকোনো সমাধি থাকতে পারে।

    image193.jpg

    সুড়ঙ্গের মুখে আহমেদ রসুল

    image194.jpg

    বর্তমান সময়ে দেইর এল বাহরি সমাধির সুড়ঙ্গের বাইরে ও ভেতরে

    image195.jpg

    ‘বাড়ি ফিরে আহমেদ ওর দুই ভাইকে এই কথা বলল, সেদিনই রাতের অন্ধকারে তিনজনে মিলে বেলচা হাতে চলল সেই টিলার দিকে। পাথর সরাবার পরে ওরা একটা ছোটো ঘর দেখতে পেল। সেই ঘর ফাঁকা হলেও তার উলটোদিকের দেওয়ালে একটা দরজা ছিল। সেই দরজা খুলতেই মিলল একটা লম্বা করিডোর। করিডোরের শেষে আরেকটা ঘর। এবারে এই ঘরে ঢুকেই তিনজনের চক্ষু ছানাবড়া হয়ে গেল।

    ‘ঘরের মধ্যে ঠেসে রাখা আছে চল্লিশটা মমি!!’

    ‘একটা কবরে চল্লিশটা মমি! বলেন কী! এরকমটা তো হওয়ার কথা নয়।’

    ‘হওয়ার কথা নয়ই তো। কিন্তু অনেকটা বাধ্য হয়েই এদেরকে একসঙ্গে রাখা হয়েছিল। কোথা থেকে এল বলো তো এরা?’

    ‘কোথা থেকে?’

    ‘ভ্যালি অফ দ্য কিংস। এই সবকটা মমি কোনো-না-কোনো ফারাও বা তাদের আত্মীয়র ছিল। আগেই বলেছিলাম তো তোমাদের, ভ্যালি অফ দ্য কিংসে অতগুলো সমাধি থাকলেও সবকটাই পাওয়া যায় ফাঁকা অবস্থায়। শুধু তুতানখামেনের মমিই ওর সমাধিতে মেলে। আর দ্বিতীয় আমেনহোতেপের সমাধিতে পাওয়া যায় গোটা চারেক মমি। বাকি কবরের মমিগুলোর জায়গা ছিল এই দেইর এল বাহরির লুকোনো টুম্ব।’

    ‘কিন্তু এখানে এদেরকে আনল কে?’

    ‘সে আরেক গল্প, বুঝলে। ফারাও নবম রামেসিসের মৃত্যুর সঙ্গে সঙ্গেই মিশরের বিশতম ডাইনেস্টি শেষ হয়। গোটা দেশ জুড়ে তখন অরাজকতা চলছে। ডাকাতেরা ততদিনে ভ্যালি অফ দ্য কিংসের খোঁজ পেয়ে গেছে। লুঠ চলছে অবাধে। এরই মধ্যে ইজিপ্টের উত্তর আর দক্ষিণে দু-জন আলাদা রাজা তৈরি হয়। উত্তরের ফারাওয়ের নাম ছিল নেসবানেবজেদ, দক্ষিণে কার্নাকের মন্দিরে প্রধান পুরোহিতই নিজেকে ফারাও বলে ঘোষণা করে বসেন। তাঁরর নাম ছিল পিয়াখঁ। এঁর ছেলে পিনেদজেম যখন ফারাও হলেন তখনই তৎপর হলেন ভ্যালি অফ দ্য কিংসের ফারাওদের মমিগুলোকে বাঁচানোর জন্য। ওঁর নির্দেশেই সব ফারাওদের ওখান থেকে তুলে এনে জড়ো করা হয় ইনহেপ নামের এক রানির সমাধিতে। আর সেই সমাধিটাই খুঁজে পায় এই আহমেদ রসুল।’

    ‘তাহলে রসুল তো রাতারাতি বড়োলোক হয়ে গেল!’

    ‘তা আর বলতে! দেইর এল বাহরির সেই সমাধির ঘরে মমি ছাড়াও ছিল প্রচুর প্যাপিরাস আর পাথরের মূর্তি। তিন ভাই বুঝতেই পেরেছিল যে ওদের হাতে কী লটারি লেগেছে। কিন্তু অতগুলো আর্টিফ্যাক্ট একসঙ্গে বিক্রি করতে গেলেই লোকের চোখে লাগবে, তাই তাদের মধ্যে কয়েকটাকেই তুলে আনল। সমাধির মুখটা আবার পাথর দিয়ে বুজিয়ে সেই সুড়ঙ্গের মুখে একটা গাধাকে মেরে ফেলে রাখল, যাতে গন্ধের চোটে কেউ আর ওই জায়গার ধারেকাছে না ঘেঁষে।’

    ‘বাপ রে! হেবি চালাক ছিল তো!’

    ‘চালাক তো বটেই, তার সঙ্গে সাবধানিও। তিন ভাই মিলে শপথ নেয় যে এই গুপ্তধনের কথা আর কাউকে বলবে না। মিশরের অ্যান্টিকুইটি ডিপার্টমেন্ট তখন খুব কড়া। দেশ জুড়ে প্রচণ্ড ধরপাকড় চলছে, চোরাকারবারি দেখলেই সোজা জেলে পুরে দেওয়া হচ্ছে তাদের। তাই রসুল ভাইরাও খুব ভেবেচিন্তে ক্লায়েন্ট সিলেক্ট করত। কাউকে দুম করে আর্টিফ্যাক্ট দেখাতও না। তবে বিক্রি করত বেশ চড়া দামে। সত্যি কথা বলতে কী, অত কড়াকড়ির মাঝেও খদ্দেরের তো অভাব ছিল না, তাই বছর দশেকের মধ্যেই রসুল ভায়েরা বড়োলোক হয়ে ওঠে। এত বছরে ওরা কিন্তু ওই সমাধি গিয়েছিল মাত্র তিনবার। তাও শেষ রক্ষা হল না।’

    ‘ধরা পড়ে গেল?!’

    ‘হুম, সেইসময় মিশরে ডিপার্টমেন্ট অফ অ্যান্টিকুইটির হেড গ্যান্সটন ম্যাসপেরো লাক্সরের চারপাশে লুকিয়ে চলা অ্যান্টিকের কেনাবেচার কারবারিদের ধরার চেষ্টা চালাচ্ছিলেন। এতে ওঁকে সাহায্য করছিল ওঁর এক আমেরিকান ছাত্র, তার নাম চার্লস উইলবার। চার্লসের মুখের মধ্যে একটা আভিজাত্যের ছাপ ছিল। সেইটাকে কাজে লাগিয়ে চার্লস একজন আমেরিকান ধনকুবেরের ছদ্মবেশে লাক্সর হোটেলে গিয়ে উঠল। ভালো খদ্দের এসেছে, এই খবরটা আবদুল রসুলের কাছে পৌঁছোতে দেরি হয়নি। রসুল নিজে থেকেই চার্লসের সঙ্গে যোগাযোগ করে ওকে নিয়ে এল কুৰ্না গ্রামে নিজের বাড়িতে। হতদরিদ্র গ্রামের মধ্যে রসুল ভাইদের বিশাল বাড়ি দেখেই চার্লসের সন্দেহ হয়েছিল। তাই ওকে রসুল যখন একটা বেশ বড়ো প্যাপিরাস দেখিয়ে সাড়ে তিনশো পাউন্ড দাম চাইল তখন চার্লস বলল, ছোঃ, আমাকে আরও দামি কিছু দেখান। রসুল ভাইরা কিন্তু সঙ্গেসঙ্গে বলে দিল তাদের কাছে এর চেয়ে দামি আর কিছু নেই।

    ‘চার্লসও ছাড়ার পাত্র নয়। এবারে বেশ বড়ো একটা অ্যামাউন্টের অর্থের লোভ দেখাল ওদের। সেই লোভে পড়েই তখন ওরা বের করে নিয়ে এল বেশ কয়েকটা স্ক্রোল। চামড়া আর কাপড়ের তৈরি। যেগুলোতে সেই বুক অফ দ্য ডেড-এর মন্ত্র লেখা থাকত। স্ক্রোল দেখেই চার্লস বুঝেছিল এটা কোনো ফারাওয়ের কবর থেকেই আসছে। সেই স্ক্রোলে একটা কার্তুজও আঁকা ছিল, কিন্তু সেটার পাঠোদ্ধার করতে না পেরে সেটাকে ও পাঠাল কায়রোতে ম্যাসপেরোর কাছে। কয়েকদিনের মধ্যেই একটা টেলিগ্রাম এল, কার্তুজে লেখা আছে ফারাও পিনেদজেম-এর নাম!! যাঁর নির্দেশে ভ্যালি অফ দ্য কিংস খালি করে মমিদের সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। তাহলে সেই গুপ্তধন এখানেই কোথাও একটা আছে!!

    ‘চার্লস এবারে নিজের আসল পরিচয়টা বলতেই রসুল ভাইরা ভয় পেয়ে গেল। ও ওদের এই বলে ভয় দেখাল যে ফারাওয়ের কবরে ওকে নিয়ে যেতেই হবে নাহলে ও পুলিশে খবর দেবে চার্লস উইলবারের এই হুমকির চোটে অবশেষে রসুল ভাইরা ওকে সেই সমাধিতে নিয়ে যেতে রািজ হল।

    ‘পাহাড়ের আড়ালে সমাধির ভিতরে চার্লস ঢুকল রসুল ভাইদের সঙ্গে। কিন্তু সেখানে ছিল মাত্র একটা মমি।’

    ‘কিন্তু, আপনি যে বলেছিলেন চল্লিশটা মমি ছিল!’

    ‘চল্লিশটাই ছিল, কিন্তু রসুলরা তো প্রচণ্ড চালাক, তাই ওরা রাতের অন্ধকারে সেই সমাধি থেকে একটা মমিকে তুলে এনে অন্য একটা ছোটো সমাধিতে রেখে দেয়। তার আশেপাশে কয়েকটা প্যাপিরাস আর মূর্তি ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রেখে চার্লসকে নিয়ে আসে সেই নকল কবরে।

    ‘ও কিন্তু বুঝতেই পেরেছিল যে রসুল ভাইরা ওকে ঠকাচ্ছে। কিন্তু সেইদিন মুখে কিছু না বলে চুপচাপ সেখান থেকে চলে আসে। খুব জোর বেঁচে গেলাম, এটাই হয়তো তখন মনে মনে ভাবছিল রসুলরা।

    ‘কয়েক সপ্তাহ পরে স্বয়ং গ্যাসটন ম্যাসপেরো লাক্সরে এলেন। এসেই শহরে পুলিশ চিফকে নির্দেশ দিলেন আহমেদ রসুলকে গ্রেফতার করার। বেশ কয়েকদিন ধরে ম্যাসপেরো জেরা করলেন আবদুলকে। কিন্তু সে নির্বিকার চিত্তে জানিয়ে দিল যে তার কাছে আর গুপ্তধনের সন্ধান নেই। যা ছিল তা চার্লস উইলবারকে দেখানো হয়ে গেছে। যদি বিশ্বাস না হয় তাহলে পুলিশ ওর বাড়িতে সার্চও করতে পারে। তন্নতন্ন করে গোটা বাড়ি খুঁজেও কিচ্ছু পাওয়া গেল না। আবদুল রসুল হাসতে হাসতে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে ওর গ্রামে ফিরে গেল।

    ‘সোজা আঙুলে ঘি যখন উঠছে না তখন এবারে আঙুল বেঁকাতেই হল ম্যাসপেরোকে। তিন রসুল ভাইকেই আবার অ্যারেস্ট করা হল। এবারে নিয়ে যাওয়া হল ‘‘কেনা’’ নামের একটা শহরের জেলখানাতে।’

    ‘বেলজোনির প্রথম সেতির টুম্ব আবিষ্কারের সময়ে এই শহরের নাম বলেছিলেন না?’

    ‘হ্যাঁ, ঠিক বলেছ। এই ‘‘কেনা’’ শহরের জেলখানাতে ওদের আনার একমাত্র কারণ ছিল পুলিশের চিফ দাউদ পাশা। আসামিদের জেরা করে খবর বের করতে ওর কোনো জুড়ি ছিল না।

    ‘দু-মাস ধরে তিন ভাইয়ের ওপরে প্রচণ্ড অত্যাচার চালাল দাউদ পাশা। আহমেদের পায়ের নখ একে একে উপড়ে ফেলা হল। আরেক ভাইয়ের পা ভেঙে দেওয়া হল। তাতেও তিনজনের কেউ মুখ খুলল না। দাউদ এবারে একটা চালাকি করলেন। হঠাৎ একদিন তিনজনকেই ছেড়ে দিলেন।

    ‘আহমেদরা বাড়ি ফিরে দেখল ওদের গোটা বাড়ি তছনছ করে দিয়েছে দাউদের পুলিশরা। বাড়ির বউ মেয়েরা ভয়ে কাঁপছে। নিজের প্রাণের মায়া না থাকলেও পরিবারের জন্য তো সবাইকেই চিন্তা করতে হয়। তিন ভাইয়ে মিলে সেইদিন রাতে অনেক আলোচনা করল। ওদের আর বুঝতে বাকি ছিল না যে এইভাবে আর পুলিশদের সঙ্গে লড়াই করা যাবে না।

    ‘পরের দিনই আবার ‘‘কেনা’’ শহরের পুলিশ স্টেশনে দেখা গেল আহমেদকে। নিজে থেকে আত্মসমর্পণ করতে এসেছে সে। তবে তার শর্ত আছে কয়েকটা, ওর পরিবারের ওপরে অত্যাচার বন্ধ করতে হবে। তিন ভাইয়ের ছেলেদের সরকারি চাকরির ব্যবস্থা করে দিতে হবে। খবর গেল ম্যাসপেরোর কাছে। আহমেদের শর্ত মানতে কোনো অসুবিধাই ছিল না ওঁর।

    ‘গ্যাসটন ম্যাসপেরো এবারে নিজে না এলেও পাঠালেন ওঁর আর এক অ্যাসিস্ট্যান্টকে। নাম এমিল ব্রুজ। ১৮৮১ সালের ৪ জুলাই ব্রুজ রসুল ভাইদের সঙ্গে ঢুকলেন দেইর এল বাহরির সেই সমাধিতে। সঙ্গে জনাকয়েক পুলিশ। টুম্বের বাইরে তখন ভিড় করে আছে গ্রামের লোকেরা। এত বড়ো একটা ঐশ্বর্যকে রাতারাতি সরাতে না পারলে ব্রুজের নিজেরই বিপদ। গ্রামের লোকেরা জেনে গেছে এর ঠিকানা। এবারে একবার যদি আক্রমণ করে বসে তাহলে ওই হাতে-গোনা কয়েকজন পুলিশ দিয়ে ওদের ঠেকানো যাবে না।

    ‘সেইদিনই কায়রোতে টেলিগ্রাম করলেন এমিল। বিশাল বড়ো একটা জাহাজ পাঠানো হল লাক্সর বন্দরে। অন্যদিকে মোটা টাকা দিয়ে ভাড়া করা হল গ্রামেরই তিনশো লোককে। তাদেরকে দিয়ে শুরু হল কবর খালি করার কাজ। মরুভূমির বালির ওপরে সাপের মতো লাইন দিয়ে চলল ওরা। কাঁধে চল্লিশটা কফিন বন্দি মমি, প্রচুর প্যাপিরাস, অগুনতি মূর্তি আর আসবাবপত্র। ১৪ জুলাই সেই গুপ্তধন বোঝাই জাহাজ ছাড়ল লাক্সর থেকে। জাহাজ যখন নীল নদের ওপর দিয়ে যাচ্ছে তখন অদ্ভুত একটা দৃশ্য দু-পাশের তীরেতে। সাধারণ মানুষের ভিড় জাহাজ দেখার জন্য। তাদের মধ্যে কেউ কেউ রাগ করে পাথর ছুড়ে মারছে। কেউ হতাশায় কাঁদছে। বিদেশিদের হাতে দেশের সম্পদ চলে যাওয়ার কষ্টে।’

    ‘এই একই হাল তো আমাদের দেশেও হয়েছিল। ইংরেজরা কত কিছু তুলে নিয়ে চলে গেছে বলুন তো!’

    ‘সেটা ঠিক কথা, কিন্তু ম্যাসপেরোকে দোষও দেওয়া যায় না। ও না থাকলে রসুল ভাইরা একে একে ওই সমাধির সব ঐশ্বর্যই বিক্রি করে দিত। মমিগুলোর তো কোনো দামই ছিল না ওদের কাছে। হয়তো নষ্টই করে দিত ওদের। তাহলে মিশরের ইতিহাসের একটা কত বড়ো অংশ অজানা থেকে যেত ভাবতে পারছ? ওহো, একটা মজার কথা বলা হয়নি, সেই জাহাজ যখন কায়রোর পোর্টে এসে পৌঁছোল তখন পোর্টের ক্লার্করা একটা ধন্দে পড়ল। ট্যাক্স তো নিতে হবে জাহাজে থাকা মালের বাবদ। কিন্তু মমির জন্য কত টাকা ট্যাক্স হয় সেটা তো কারোর জানা নেই। শেষে ওরা কীসের নামে ট্যাক্স নিল জানো?’

    ‘কীসের?’

    ‘শুঁটকি মাছ! শুকনো মমির নিয়ারেস্ট এটাকেই পেয়েছিল।’

    বলেই ভবেশদা ঘর কাঁপিয়ে নিজেই হাসতে লাগলেন। সঙ্গে আমরাও।

    হাসি থামতে আমি এবারে বললাম,

    ‘আচ্ছা ভবেশদা, তাহলে কার কার মমি পাওয়া গেল ওখানে?’

    ‘অনেক ফেমাস ফারাওদের মমি মিলেছিল ভায়া, প্রথম, দ্বিতীয় আর তৃতীয় রামেসিস আর তুতমোসিস, প্রথম সেতি আর আমুনহোতেপ, রানি নেফারতারি তাদের মধ্যে কয়েকজন। এঁদেরকে এখন রাখা আছে কায়রোর মিউজিয়ামে। তবে একজন রাজপুত্রর মমিও রাখা আছে সেখানে, যাকে দেখতে সবচেয়ে বেশি ভিড় হয়।’

    এবারে আমাদের কোঁচকানো ভ্রূর দিকে তাকিয়ে ভবেশদা বললেন, ‘এক কাজ করো, গুগল ইমেজে সার্চ করো, ‘‘আননোন ম্যান ই’’।’

    image196.jpg

    নেফারতারির মমি

    ভবেশদার ঘরে দেখলাম মোবাইলের নেটওয়ার্ক খুব ভালো নয়। ছবিটা ডাউনলোড হতে তাই কয়েক সেকেন্ড বেশি সময় লাগল। কিন্তু গোটা ছবিটা মোবাইলের স্ক্রিনে ফুটে ওঠার সঙ্গেসঙ্গেই আমি শিউরে উঠলাম। পিজির হাতে মোবাইলটাও কেঁপে উঠল।

    এ কেমন মমি! ঘাড়টা অস্বাভাবিকভাবে পিছনের দিকে হেলানো। মুখটা বিশ্রীভাবে হাঁ হয়ে আছে। যেন প্রচণ্ড যন্ত্রণায় চিৎকার করছে। দেখে মনে হচ্ছে যেন একটা ভয়ংকর মৃত্যু হয়েছিল এর!

    ‘দেখে ভয় পেয়ে গেলে তো, এমিল ব্রুজও ভয় পেয়ে গেছিলেন।’

    ‘মানে দেইর এল বাহরির সেই সমাধিতেই একেও পাওয়া যায়!?’

    ‘হ্যাঁ, তবে অন্যদের থেকে একদম আলাদা অবস্থায়। সাধারণ সিডার কাঠের তৈরি কফিনে। অন্যান্য মমির মতো এর গায়ে কোনো কাপড়ের ব্যান্ডেজ জড়ানো ছিল না। শরীরটা মোড়ানো ছিল ভেড়ার চামড়া দিয়ে, যেটা কিনা ইজিপশিয়ানদের কাছে খুব অপবিত্র একটা জিনিস। মমির শরীর থেকে নাড়িভুঁড়ি বা মাথার ঘিলুও বের করে নেওয়া হয়নি। গায়ে লাগানো হয়নি রেজিনের প্রলেপ, কফিনের শুকনো পরিবেশেই মৃতদেহ শুকিয়ে গিয়ে এমন বীভৎস রূপ নেয়। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল যে খুব তাড়াহুড়োর মধ্যে একে মমি বানানো হয়। আর ইচ্ছা করেই এর গায়ে জড়িয়ে দেওয়া হয় ভেড়ার চামড়া, ঢুকিয়ে দেওয়া হয় সাধারণ একটা কফিনে, যার গায়ে বুক অফ দ্য ডেড-এর কোনো মন্ত্রই লেখা ছিল না।’

    ‘এরকমটা কেন করা হল?’

    ‘কারণটা খুবই স্পষ্ট, যে বা যারা ওকে কবর দেয় তারা চায়নি ও মৃত্যুর পরে অন্য জীবনে যাক। যে পাপ ও করেছিল তার শাস্তি তো ওকে পেতেই হত।’

    ‘কী পাপ?’

    ‘মিশরের টুয়েনটিয়েথ ডাইনেস্টির ফারাও ছিলেন তৃতীয় রামেসিস। ওঁর উপপত্নী ‘‘টিয়ে’’ ওঁকে খুন করার প্ল্যান করে। টিয়ের লক্ষ্য ছিল রামেসিসকে মেরে নিজের সন্তান পেন্টাওয়েরকে ফারাও বানানো। তা না হলে রামেসিসের পাটরানি ইসেতের সন্তানই ফারাও হত। এই চক্রান্তে নেতৃত্ব দেয় রাজকুমার পেন্টাওয়ের স্বয়ং। নিজের কয়েকজন চ্যালাদের নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন রাজার ওপরে। পরে রাজপুত্র আর ওর সাঙ্গোপাঙ্গদের ধরে ফেলা হয়। রাজদ্রোহের একটাই শাস্তি তখন, মৃত্যু। পেন্টাওয়েরের সঙ্গে যারা ছিল তাদেরকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারলেও পেন্টাওয়েরের সঙ্গে সেটা করা যায়নি। ফারাওয়ের সন্তান তো, তাকে পুড়িয়ে ছাই করে দিলে সে পরজন্মে যেতে পারবে কী করে? তাই ওকে ফাঁসি দেওয়া হয়। কিন্তু ওর মমিকে এমনভাবে বানানো হল যে ওর প্রাণ তো ফিরে আসবে। তবে গায়ে সেই অপবিত্র ভেড়ার চামড়ার জন্য অন্য জীবনে ও প্রবেশ করতে পারবে না। এই পৃথিবী আর মৃত্যুর পরের জগতের মাঝখানে আটকা থেকে যাবে ও।’

    image197.jpg

    আননোন ম্যান ই

    ‘তাহলে এই পেন্টাওয়েরই…’

    ‘হ্যাঁ, পেন্টাওয়েরই যে এই ‘‘আননোন ম্যান ই’’ সেটা প্রমাণ হয় কয়েক বছর আগে। তৃতীয় রামেসিসের ডিএনএ-র সঙ্গে এর ডিএনএ-র অনেক মিল পাওয়া যায়।’

    ‘আচ্ছা ভবেশদা, যার জন্য পেন্টাওয়েরকে এই ভয়ানক শাস্তি পেতে হল সেই তৃতীয় রামেসিসের কী হল?’

    ‘রামেসিসের মমি সেই দেইর এল বাহরির সমাধিতেই পাওয়া যায়। ২০১২ সালে সেই মমির সিটি স্ক্যান হয় কায়রো ইউনিভার্সিটির রেডিয়োলজি ডিপার্টমেন্টে। তাতে দেখা যায় রামেসিসের গলায় গভীর ক্ষত। সেই ক্ষত এতটাই গভীর যে গলার সারভাইকাল স্পাইন অবদি পৌঁছেছিল।

    ‘রামেসিসকে খুনই করা হয়। রাজপুত্র পেন্টাওয়েরই সেই খুনি!’

    image198.jpg

    তৃতীয় রামেসিসের মমি

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহারানো সূর্যের খোঁজে – অনির্বাণ ঘোষ
    Next Article ভারতে ইসলাম ভারতীয় মুসলিম – অনির্বাণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }