Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারবার্ট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    নবারুণ ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প97 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হারবার্ট – ২

    দুই

    “বিদেশে, প্রাণেশ, তুমি করিয়া ভ্রমণ,
    দেখিবে নূতন দৃশ্য প্রত্যেক দিবস।”

    –বলদেব পালিত

    হারবার্ট জ্যাঠাইমার সঙ্গে পুরী বেড়াতে যাবার সময় যে খাতাটি কিনেছিল তার থেকে জানা যায়,

    হারবার্ট

    যা হারবার্টের খাতা থেকে জানা যায়নি তা মোটামুটি,

    হারবার্ট সরকার। পিতা ললিতকুমার। মাতা শোভারাণী। হারবার্টের আবির্ভাব ১৬ সেপ্টেম্বর ১৯৪৯। ললিতকুমার যুদ্ধের বাজারে কামানো টাকা ফিল্মে লড়িয়ে বুরক বনে যান। ১৯৫০এ হারবার্টের এক বছরের জন্মদিনের পরে পরেই চলচ্চিত্রে ব্যর্থ নায়িকা মিস রুবীর সঙ্গে দার্জিলিং-কার্শিয়াং রুটে জিপ দুর্ঘটনায় আরও দুই আরোহী ও ড্রাইভার সমেত খতম। মা শোভারাণী শিশু হারবার্টকে বিডন স্ট্রিটে মাতুলালয়ে নিয়ে যান। সেখানে মাস আটেক পরে ছাদে ধাতব তারে ভিজে কাপড় মেলার সময় শোভারাণী বিদ্যুৎস্পৃষ্টা হন। শিশু হারবার্ট ‘মা যাব, মা যাব’ বলে যেতে গিয়ে হোঁচট খেয়ে পড়ে কাঁদতে থাকে এবং চিত হবার সঙ্গে সঙ্গে আকাশে একটি মুখপোড়া ও একটি পেটকাট্টির মারাত্মক টিলি প্যাঁচ দেখে বিভোর হয়ে থাকে এবং এই ভাবেই তার প্রাণরক্ষা পায়। শিশু হারবার্ট পুনরায় পিতৃগৃহে ফিরে আসে এবং যেনতেন প্রকারেণ বড় হতে থাকে-জ্যাঠাইমাই যা কিছুটা আদর দিত।

    জ্যাঠামশাই গিরীশকুমার বেশ্যাসক্ত ছিলেন। ফলে তার অবশ্যম্ভাবী ব্যাধি হয় যার পরিণতি জেনারেল প্যারালিসিস অফ দা ইনসেন। ইনি, ছোটবেলা থেকেই হারবার্ট দেখে আসছে, দোতলায় থাকেন, ঘরবারান্দা করেন এবং ঘন্টাখানেক পরে পরে মোরগ যেমন ডাকে তেমনই নিয়মিতভাবে পিউ কাঁহা! পিউ কাঁহা!’ বলে চেঁচান। আগে আগে রান্নাঘরে বা একতলার উঠোনের পাশে সদর কলঘরে জ্যাঠাইমা থাকলে ‘এখেনে, আসছি গো!’ বলে সাড়া দিতেন। গিরীশকুমারের দুই পুত্র–ধর্মনাথ, হারবার্টের ধন্‌নাদাদা ও কৃষ্ণলাল। কৃষ্ণলাল ইংরিজির অধ্যাপক, প্রগতিশীল ও অবিভক্ত কমিউনিস্ট পার্টির অতীব নিকট ছিলেন এবং এখনও তাই বিশ্বাস করেন-বহরমপুর কে. এন. কলেজে পড়াতেন। ওখানেই ছোটখাটো বাড়ি করেছেন। পৈতৃক বাড়ির অংশ ছেলে বিনুর মৃত্যুর পরে ধন্‌নাদাদাকে লিখে দেন। ধন্‌না শিশুকাল থেকেই খচ্চরের আঁদি ও লোভী। মিন্টে অর্থাৎ টাকশালে চাকরি জুটিয়েছিল। আগে তো এত কড়াকড়ি ছিল না, হয়তো ঘুষও কিছু দিত-বোজ ধনা টিফিনবাক্স ভরে সিকি, আধুলি ঝেড়েআনত। ধরা যখন পড়ল তখন ক’বছর ধরে ঝেড়েছে বোঝার উপায় নেই। চাকরি গেল, জেলে গেল–যদিও সাজা কিছুটা : মকুব হয়। বেরিয়ে ধন্‌না নাদুবাবুর বাজারে তালাচাবির মস্ত দোকান দিল, বিয়ে–করল। তিন ছেলের বাপ হল। তিনটির মধ্যে বড়টি গৌহাটিতে থাকে। ভ্যাবলা। গোবলা, বৌ-এর ন্যাওটা। ঐটে তাও ভালো। বাকি দুটো লাফাঙ্গা–কেঁদো কেঁদো, হাড়বদমাইশ। মেজটি বাড়ির চিল ছাদে কেবল টিভির অ্যান্টেনা বসিয়েছে-স্টার টিভি, এম. টিভি, বিবিসি এইসব লোকে তো আজকাল হামলে দেখছে। ছোটটি এক ব্ল্যাক বেল্টকেকাবু করে তার সঙ্গে শেয়ারে কারাটে–কুংফু-র ইস্কুল খুলেছে যদিও নিজে ধুড়ের ধুড়–এসবের কিছু জানে না। ধনাদাদার বৌ কাজের লোক, ইংরিজি ইস্কুলে পড়া। বাড়িতে রান্না শেখায়–তিন মাসের কোর্স স্ন্যাক-এর যার মধ্যে পার্টি লোফ থেকে রিবন স্যাণ্ডউইচ এইসব আছে আর আছে মোগলাই, সেটাও তিন মাসের কোর্স-রেইনবো পোলাও, মুর্গ ইরানী ও আরও কত কি! আগে অর্ডার দিলে বার্থডে কেকও পাওয়া যায়। ধন্‌নাদাদার বৌ এর ক্লাসে অনেক বৌ আসে। হারবার্ট গলির ওপরে, বলতে গেলে বাড়ির বাইরে, যে ঘরটায় থাকে সেখান থেকে এই বৌদের আসা যাওয়া দেখা যায় না। হারবার্টের খাতায় এই গোটা ব্যাপারটা সম্বন্ধে দুটি লাইন রয়েছে,

    ধন্‌নাদাদার হলঘরে
    কেন্নীরা খলবল করে।

    হারবার্ট সরকার। নন্দকুমার ইনস্টিটিউশনে ক্লাস থ্রি-তে ভর্তি এবং ক্লাস ফাইভ থেকে সিক্সে ওঠার পর যায়নি। বাড়িতেই যা টুকটাক পড়ত। হারবার্ট যে স্কুলে যাচ্ছে না সেটা প্রথম কয়েকমাস কারো চোখেও পড়েনি। যখন জ্যাঠাইমার চোখে পড়ল তখন বেশ কিছুদিন ধরে নিজেই তার হারবার্টকে মুদির দোকানে ও বাজারে পাঠানো হয়ে গেছে। অবশ্য ইস্কুলে তাকে ধাদাদার টিফিন, পরীক্ষার সময় চোতা, বই এইসব নিয়ে যেতে হত। ধন্‌না যেহেতু সব সাবজেক্টে টুকত তাই তার বই লাগত বেশি। বাইরে থেকে অঙ্ক করে পাতা সাপ্লাই দেওয়াটা এ পাড়ার রেওয়াজ। সবাই ঘরের ছেলে বলে মাস্টাররাও এ ব্যাপারে মাথা ঘামাতেন না। গত একত্রিশ বছরে নন্দকুমার ইনস্টিটিউশন থেকে মাত্র তিনজন সেকেন্ড ডিভিশন পেয়েছে।

    হারবার্টের বয়স যখন আঠারো তখন জ্যাঠাইমা তাকে নিয়ে পনেরো দিনের জন্য পুরী গিয়েছিলেন। হারবার্ট সঙ্গে একটি খাতা ও কলম নিয়েছিল। ওরা উঠেছিল ভারত সেবাশ্রম সঙেঘর আশ্রমে। সেখানে হারবার্টের কবি-প্রতিভা জাগ্রত হয় ধাপে ধাপে। যে হারবার্ট পুরীতে নেমেই লিখেছিল,

    বাংলার পরে আছে উড়েদের দেশ
    রোজ রাতে যায় তথা পুরী এক্সপ্রেস

    সেই হারবার্টই চারদিন পরে লেখে,

    ঐ এল ঢেউ
    ঐ গেল ফিরে
    অবিরাম আসা যাওয়া
    সাগরের তীরে

    এবং তারই তিনদিন বাদে, জটিলতর,

    স্থলবায়ু বহে বেগে
    জলবায়ু ভালো নয়
    অক্টোপাসের ভয়,
    কি হয়, কি হয়

    হারবার্ট পাড়ার দর্জির দোকানে গিয়ে নিয়মিত বাংলা কাগজ পড়ত। সেলুনে ‘শুকতারা’ ও ‘নব কল্লোল’ পড়ত। হারবার্ট-এর ছন্দজ্ঞান ও উপলব্ধি উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ইঙ্গিত দিয়েছিল যদিও শেষ অবধি কিছুই ঘটেনি। পুরী থেকে ফিরে হারবার্ট লিখেছিল,

    টুপিধারী নুলিয়ার রগুড়ে জীবন
    কোনোই খরচ নাই প্যান্ট ও জামায়
    সারাদিন জলে নেমে করে হুটোপুটি
    লুটোপুটি করে আর পয়সা কামায়

    কাব্যবোধ ও কাব্যদক্ষতা যে কিভাবে হ্রাস পেতে পারে তারও এক মৃত উদাহরণ হারবার্ট। যার কলম দিয়ে এইসব বেরিয়েছে তারই লেখা এগুলি পড়লে কে না মর্মাহত হবে–

    ফুটপাথে ফুটফাট
    ভুট-ভাট-ভুট
    ধন্‌না অপিসে যায়
    পায়ে গামবুট

    বা,

    কী গরম পড়েছে যে উঃ
    আরশোলা কানে করে কুঃ

    এই হাস্যকর স্টুপিডিটির পর, ভালগারধর্মী হলেও, ঝি-দের দলবদ্ধ বৃষ্টি ভেজা দেখে লেখা এই গানের মধ্যেও যেন ভরসা পাওয়া যায়, হয়তো বা কিছুটাই,

    –তোমরা ভিজচ কেন গা
    ভিজে গা
    তোরা ভিজবি কেন লো
    গা এলো

    কিন্তু শেষটায় যা হতাশাই শুধু নয়, করুণারও উদ্রেক করে, তা হল, আর কিছু না পেরে, অমৃক সিং অরোরার গানের লাইন টুকে দেওয়া (এটিই হারবার্টের খাতায় তার শেষ হাতের লেখা)–

    আমায় তোমার
    কাজললতার কালি করো।

    ধন্‌নাদাদাদের বাড়িটা খুব বড়ও নয়, ছোটও নয়। দোতলার ওপরে ছাদ। সেখানে ঠাকুরঘরের ওপরে চিলছাদ। তার ওপরে গঙ্গাজল আসার ট্যাঙ্ক ছিল। এখন যেখানে স্টার টিভির অ্যান্টেনা। বাড়ির সদর গেটের দিকে নয়, গলির মধ্যে একটা ছোট ঘর আছে। এই ঘরটি একাধারে পুরনো বইপত্র, সেভেন্টি এইট রেকর্ড, দলিল দস্তাবেজ এবং ইলেকট্রিক মিটারের ঘর। এই ঘরটিতে যখন কলকাতায় বিনু পড়তে আসে, ১৯৬৯ সালে, তখন একটি ছোট তক্তপোষ ও টেবিলফ্যানের ব্যবস্থা করা হয়। বিনুর মৃত্যুর পরে ঘরটি কয়েকবছর বন্ধ ছিল। পরে এটি হারবার্টের অফিস এবং শেষ রাত অবধি তারই ঘর ছিল।

    এর আগে হারবার্ট দোতলার ভেতরের বারান্দায় শুত। ওখানে বৃষ্টির ছাট আসত না। হারবার্টের জামা কাপড় থাকত ছাতে ওঠার সিঁড়ির পাশে দড়িতে ঝোলানো। চিলছাদে ওঠার জন্য আগে একতলা থেকে সটান একটা ধচাপচা কাঠের সিঁড়ি ছিল। কিন্তু সেটা দিয়ে উঠলে পাশের বাড়ির ভাড়াটেদের শোবার ঘর দেখা যেত। ওরা চেঁচামেচি করাতে সিঁড়িটির ব্যবহার প্রায় বাতিল হয়ে যায়। বিনুর মৃত্যুর কয়েকদিন পরে একদিন খুব ঝড়জল হয়। সেই বৃষ্টির রাতেই সিঁড়িটার নীচের দিকটা ভেঙে পড়ে। ওপর দিকটা তখনও চিলছাদে আটকে ঝুলছিল। ওপর থেকে

    খুঁচিয়ে তখন বাকিটা ফেলে দেওয়া হয়।

    ধন্‌নাদাদাদের বাড়ির সামনের মোড়ে পাড়ার কালীপুজো হয়। দুর্গাপুজোটা হয় একটু এগিয়ে, বারোয়ারি মোড়ে। ওখানে ব্যাচাদার মিষ্টির দোকান আছে। সারাবছর একই খাবার কিন্তু দোলের সময়ে ওখানে দোলবড়া বানানো হয়।

    ললিতকুমারের একটি ফটো এলবাম উত্তরাধিকার সূত্রে হারবার্টের পাওয়ার কথা ছিল। এতে ছিল প্রথম দিকে, রুডল ভ্যালেন্টিনো, লন চ্যানি (নানা ধরনের চরিত্রে), ডগলাস ফেয়ারব্যাংকস, চ্যাপলিন, গ্রেটা গার্বো, লিলিয়ান গিশ, মেরি পিকফোর্ড, এরল ফ্লিন থেকে শুরু করে পরবর্তী সময়ের ক্লার্ক গেবল, রবার্ট টেলর, ভ্যান হেফলিন, হামফ্রে বোগার্ট, বেটি ডেভিস, ভিভিয়ান লেই, ক্যাথরিন হেপবার্ন প্রমুখের রঙীন ফটো। একটি ফটোতে দেখা যায় ললিতকুমার ও শোভারাণী একটি সানবিম ট্যালবট মোটরযানের সামনে। মধু বোস ও সাধনা বোসের মধ্যে ললিতকুমার। ব্যর্থ নায়িকা মিস রুবী ও ললিতকুমার। শিশু হারবার্ট কোলে শোভারাণী। শিশু হারবার্ট।

    এলবামটি হারবার্ট কোনোদিন চোখেও দেখেনি। কারণ ধনা এলবামটি মেরে দেয় এবং তার আলমারির তলায় পুরনো জামাকাপড়ে জড়িয়ে রেখে দেয়। ললিতকুমারের আর একট সংগ্রহ ছিল–নানা ধরনের সিগারেট হোল্ডার। সেটি অবশ্য ধ নয়, অন্য কেউ লোপাট করেছিল। বহু সন্ধান করেও ধনা সেই চুরুটের বাক্সটি খুঁজে পায়নি যার মধ্যে ললিতকুমার তার সিগারেট হোল্ডারগুলি রাখতেন। ললিতকুমারের সাহেবিয়ানার দৌলতে ধনাও মাঝে মধ্যে বিলিতি সিগারেট ও স্কচ হুইস্কি ঝেড়ে মেরে দিত। টাকাও সরাত। হিসেব করে কিছু করার লোক ললিতকুমার ছিলেন না। অতএব ওসব ছুটকো-ছাটকা ব্যাপার কোনোদিন তার চোখেও পড়েনি। ললিতকুমার যুদ্ধের বাজারে ছাঁট লোহা ও তামার কারবার করে যে বিপুল অর্থ কামিয়ে ছিলেন তা সিনেমার মাধ্যমে ভোগে না গেলে হারবার্টের জীবনকাহিনী যে অন্যবিধ হত সে বিষয়ে সন্দেহের কোনো অবকাশই থাকতে পারে না।

    হারবার্ট সরকার। পাঁচ ফুট ছয় ইঞ্চি লম্বা। ফরসা। চোখা, সাহেবি গড়ন। রোগা। ললিতকুমার নিশ্চয়ই ভেবেছিলেন ছেলের চেহারার সঙ্গে কোথাও একটা লেসলি হাওয়ার্ড মার্কা হলিউডী চেহারার মিল আছে। সাহেবি নাম হয়ে গেল হারবার্ট। হারবার্টের মা উত্তর কলকাতার ছায়া ছায়া বাড়ির প্রায় শ্বেতাঙ্গিনী সুন্দরী। ললিতকুমারও কম সুপুরুষ ও কেতাদুরস্ত ছিলেন না। যেভাবেই হোক হারবার্টের চলাফেরা ও কানোর মধ্যে সুন্দর একটা হিরো হিরো ভাব বরাবরই ছিল। তাকে আরও সাহেবি লাগত কারণ বেশির ভাগ সময়েই তার ভয় করত। ভয়ের ফ্যাকাশেটা ফরসা ভাবটা আরও বাড়িয়ে দিত। বাবা মার কারণে মোটরগাড়ি ও বিদ্যুতের ভয় তো ছিলই। পরে এর সঙ্গে ধনার মারের ভয় ছিল। জ্যাঠামশাই-এর যখন তখন পিউ কাহা, পিউ কাহা’ চিৎকারের ভয় ছিল। বিনু আবার নতুন এক ধরনের ভয় নিয়ে এসেছিল।

    এর মধ্যে অবশ্য বছর চোদ্দ বয়সে হারবার্টের এক আশ্চর্য অভিজ্ঞতা হয়। পুরনো বই ঘাঁটতে ঘাঁটতে তার তলার, ঐ শেষ ঘরেই, একদিন দুপুরে সে একটি টিনের ভোরঙ্গ পায়। সেই তোরঙ্গের মধ্যে একটি মড়ার মাথা ও কয়েকটা লম্বা হাড় পেয়েছিল হারবার্ট। এ বাড়ির ঝাড়েগুষ্টিতে কেউ কখনও ডাক্তারি পড়েনি। ম্যাজিকও দেখায়নি। আচমকা তোরঙ্গ খুলে ঐ খুলি, চোখের কন্দর ও দাঁত দেখে প্রথমটায় ভয় তো পেয়েইছিল হারবার্ট। পরে বারবার, যেন নেশার ভরে, এসে তোরঙ্গটা খুলে খুলি আর হাড়গুলো দেখত হারবার্ট। ভাবতে চেষ্টা করত এটা যার খুলি সেই লোকটা কে হতে পারত। যেই হোক, তার জন্যে অসম্ভব কষ্ট পেত হারবার্ট। বছর দুয়েক পরে একদিন হাড়গুলো আর ঐ কঙ্কালের মুণ্ডুটা হারবার্ট একটা থলিতে ভরে ভোরবেলা কেওড়াতলায় আদিগঙ্গাতে ফেলে দিয়ে এসেছিল। ঐ তোরঙ্গটিতে সে তার জিনিসপত্র রাখত। পরে টাকাপয়সাও রাখত।

    গঙ্গায় সেই হতভাগ্য অজ্ঞাতপরিচয় মানুষটির অবশেষ বিসর্জন দেওয়ার পরে। হারবার্টের মধ্যে চরম দুর্মদ মৃত্যুচেতনা জেগে ওঠে। তার মনে হত সে ঐ ফাঁকা দুটি চোখের কোটরের মধ্যে যেন তলিয়ে যাচ্ছে আর তার চারপাশে নাগরদোলার মতো তারা বা জোনাকির আলো ঘুরছে।

    … এবং এরই পরে সে পূর্বকথিত “অতীব প্রয়োজনীয়” দুটি বই আদ্যোপান্ত খুঁটিয়ে পড়া শুরু করে।

    এরপর হারবার্টের কমবয়সী বন্ধুদের মধ্যে সুইসাইড করে খোড়োরবি। তখন হারবার্টের বয়স উনিশ। খড়কাটার কল বাড়িতে ছিল বলে নাম ছিল খোড়োরবি। খোড়োরবি ছেলেটা ছিল ভালো। পেছনের পাড়ার জয়া বলে একটা বেঁটে মেয়েকে খুব ভালোবেসে ফেলেছিল খোড়োরবি। জয়ারা রোজ বিকেলে দল বেঁধে পাক মারতে বেরোত, এসে এপাড়ার মেয়েদের সঙ্গে গল্প করত। জয়াকে দেখলেই খোড়োরবি যে কেমন একটা করত সেটা সবাই জানত। অবশ্য খোলোরবির সাহস ছিল না। দঙ্গল ছেড়েও বেরোত না। কিন্তু পুজোর অষ্টমীর দিন মাথায় যে কী খেয়াল চাপল খোড়োরবির তা সেই একা জানত। পুজোর বেমক্কা ভিড়ে, ওদের পাড়ার প্যাণ্ডেলে গিয়ে খোড়োরবি, তখন পুঁচকে পুঁচকে ফাউন্টেন পেন বাজারে এসেছিল, সেই একটা কলম আর একটা কাগজ জয়াকে ধরিয়ে দিল। কাগজে এঁকাবেঁকা কাগের ঠ্যাং বগের ঠ্যাং হাতের লেখায়—”জয়া, দেবীর পদতলে ভক্তের এ ক্ষুদ্র পূজা উপহার-ইতি রবি।” ওপাড়ার ছেলেরা হাতেনাতে ধরল রবিকে। জয়া হুড়মুড় করে বাড়িতে পালাল। রবি ওদের হাত ছাড়িয়ে পালাল। জাপটাজাপটিতে রবির পুজোর জামা ছিঁড়ল। রাতে খোড়োরবির বাড়িতে জয়ার কাকা এল। দুই পাড়াতে টেনশন হল। নবমী, দশমী খোড়োরবি বেপাত্তা। ভাসানের জের কাটেনি, একাদশীর দিন শেষদুপুরে হৈহৈ কাণ্ড। করপোরেশনের ঘেরা পুকুরে আত্মঘাতী খোড়োরবির মড়া ভাসছে।

    খোড়োরবির মৃতদেহ পশ্চিমপাড়ের কাছে, দু-মানুষ জলে ভাসছে আর দুলছে। পাড়ে পাড়ার সব ছেলেরা, হারবার্ট। বরাদুর কিছুটা স্বচ্ছ করেছে, তলায় দামের ঝক দেখা যায়, তারপরে গাঢ় শ্যাওলার সবুজ হয়ে অন্ধকার। পাড়ের কাছে একটা সাইকেল দাঁড় করানো। লম্বা বাঁশ বাড়াচ্ছে কেউ। সুইমিং ক্লাবের দুজন ছেলে সাঁতরে এগোয়। ডাইভিং বোর্ডের কাছ থেকে বাঁশের খোঁচা খেয়ে উল্টোনো খোড়োরবি ঘোলা জলে আসে। রোদ্দুর দ্রুত পালাচ্ছে। পুলিশ এসে গেছে। সার্জেন্ট এগোতে এগোতে বলে—”লাশ উঠেছে?” কেউ জবাব দেয় না। দুই সাঁতারু খোড়োরবির কাছে এসে ছুঁতেই সে যেন ছোট ছোট ঢেউতে ভর করে সরে যেতে চায়। ওরা দুপাশ থেকে কাঁধের কাছে জামা খামচে ধরে ফেলে। খোড়োরবি আটকা পড়ে যায়। ওরা পা দিয়ে জল কেটে কেটে পাড়ের দিকে এগোয় আর খোড়োরবির একমাথা চুল জলে টান টান হয়ে যায়। খোড়োরবিকে হারবার্টের শেষ রোদে মনে হয় এক ঝাক বাধ্য মাছ হয়ে ফিরে আসছে। এই দৃশ্যটি একটি ফটো হতে পারত। হলেও কবে হলদেটে কোনা খাওয়া হয়ে শেষে তুলোটে অস্পষ্ট হয়ে গেছে। অথচ শত শত বছর ধরে চাঁদের আলোয় বা শীতের ভোরে কুয়াশায় তার প্রেম নিয়ে খোড়োরবি ঐ মরণজলে ভেসে থাকবে। তাকে ঘিরে মৎস্যকন্যারা ওলটপালট করবে যারা কাঁদলেও তাদের চোখের জল কেউ দেখতে পাবে না।

    “আমার নাম হারবার্ট। আমি বাঁট। বাঁট দেখেচো। এবার লাট দেখবে।”

    “মখমোলায়েম ঘাসফুলেল মাঠে বিপরীদের খেলা।”

    “ঘুড়ি, এরোপ্লেন, বেলুন, ঝুলঝাড়ু, মানুষ, প্যারাসুট, পাখি–সবই একসময় নেমে আসে। অথচ তার আগে ওঠে। ওটাও ওঠে। নেমে আসে।”

    “মানুষ যদি ১ হয় তাহলে ০ হল মরা মানুষ। মানুষ + মরা মানুষ = ১+০= ১=খোড়োরবি।”

    “ফাঁকফোকরে জলের হেঁয়ালি
    ঢাকনাপেড়ে শাড়ির খেয়ালী।”

    -হারবার্ট

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য
    Next Article লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নবারুণ ভট্টাচার্য

    জার্নালিস্টের জার্নাল – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    কাঙাল মালসাট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }