Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারবার্ট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    নবারুণ ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প97 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হারবার্ট – ৩

    তিন

    “মানব-জীবন ছাই বড় বিষাদের!”

    –মানকুমারী বসু

    রাব্বা! রাব্বা! রোদ পেটে মেখে যে ঘুড়িটা উঠছে তো উঠছেই তার গোঁত্তা খাওয়ার সময় চোখ সরিয়ে নিলে ঐ, ও ….ই তেরোতলা বাড়ির ওপারে সেদিন অব্দি হাওড়া ব্রিজ দেখা যেত …ভিক্টোরিয়ার চূড়া ….ঐ সাহেবপাড়া ….সিনেমাপাড়া …. নতুনবাজার টেলিফোন অপিস ….আরও কাছে শীলদের ছাদ, তারপর হাঁড়িফাটা পালদের ….. কেষ্টান বাড়ির পাঞ্জাবি ভাড়াটেদের জামাকাপড় শুকোচ্চে …. তারপর দীর্ঘনিঃশ্বাস মাখা হালদারদের ছাদ যেখানে বুকি, সুন্দর, রং ময়লা, নরম, ঈষৎ উদ্ধতবুক বুকি আর কখনও বিকেলে ইস্কুল থেকে ফিরে এমাথা ওমাথা হেঁটে হেঁটে পড়বে না, হাতে ভোলা বই, জোরে হাওয়া দিলে ওদের ছাদের টবের গাছগুলো নুয়ে পড়ছে, বুকির চুল এলোমেলো হয়ে যাচ্ছে, বই-এর পাতা উড়ে যাচ্ছে …

    চিলছাদটাই ছিল হারবার্টের জায়গা। ঐ চিলছাদেই হারবার্ট সবকিছু উপলব্ধি করেছিল। যে আশ্চর্য স্বপ্ন তাকে সামাজিক প্রতিষ্ঠা ও খ্যাতি দিয়েছিল অথচ প্রকারান্তরে যা ছিল তার সমূহ বিনাশের কারণ সেই স্বপ্নও হারবার্ট দেখেছিল এই চিলছাদেই। চিলছাদে ছিল গঙ্গাজলের ট্যাংক। আগে হারবার্ট এই ট্যাংকের ভেতরে নেমে মিহি কাদা সাঁতলে সাঁতলে জ্যান্ত সাদা কুচো চিংড়ি ধরত-তিরতির করে ঠ্যাংগুলো ছুঁড়ছে। ট্যাংকের ভেতরের গায় গোল গোল পেঁড়ি লেগে থাকত। পরে জল আসা বন্ধ হয়ে গেল। তলার কাদা শুকিয়ে গেল। পাইপটা ভেঙে গেল। পরে বৃষ্টির জল জমত। তখন ভেতরে একটু হয়তো শ্যাওলার মতো হত বা জলে ফেনা জমে দু-একটা ডিগবাজি খাওয়া জলপোকা বা মশার বাচ্চা জন্মাতো কিন্তু ঐ পর্যন্তই। গঙ্গাজল আসা বন্ধ হয়ে গেল বলে ট্যাংকটাও মরে গেল। তখন কিন্তু হারবার্টের কাছে মরা ট্যাংকটা অন্যভাবে প্রয়োজনীয় হয়ে উঠেছিল। হারবার্ট তখন হেঁচড়ে ছেচড়ে ট্যাংকের তলায় ঢুকে ঠাণ্ডা ছায়ায় গরমকালে ঘুমোত। আচার বা লজেন্স পেলে নিয়ে যেত। লজেন্সটা কয়েকবার চুষে একটা কাগজের ওপর রেখে ‘পরলোকের কথা’ পড়ত। পড়তে পড়তে ঘুমিয়ে পড়ত। ঘুম থেকে উঠে যদি দেখত গোটা তিন বা চার (তার চেয়ে বেশি পিঁপড়ে চিলছাদে উঠত না) পিঁপড়ে লজেন্সটা খাচ্ছে তাহলে টোকা দিয়ে দিয়ে তাদের তাড়াত। আর একরকম ছোট ছোট অনেক পা-ওলা নিরীহ পোকা চিলছাদের ফাটলে থাকত-এদের মতো নির্বিরোধী ও অহিংস পোকা ভূভারতে আর আছে কিনা সন্দেহ। কলকাতায় যেবার আকাশপথে লক্ষ লক্ষ পঙ্গপাল আসে তখন ট্যাংকের গায়ে তাদের ক্রমাগত ঠোক্কর খাওয়ার শব্দ হারবার্টকে বিস্মিত করেছিল। বৃষ্টির শব্দের থেকে একদম আলাদা। শীতকালে কৃষ্ণদাদার দেওয়া সোয়েটার আর জ্যাঠাইমার দেওয়া ব্যাপার নিয়ে বোদগরম চিলছাদে উঠে যেত হারবার্ট। বিশ্বকর্মার আগে থেকে চলতে থাকে ঘুড়ির মরশুম। সে সময়ে একদিন বিকেলে হারবার্ট ফাঁকা ছাদে ঘুমোচ্ছে, হঠাৎ পেটে সুড়সুড়ি। জেগে দেখে পেটের ওপর দিয়ে কাটা ঘুড়ির হাপতা সুতে চলেছে। শিশুকালে মৃতা মার অনতিদূরে শুয়ে দিলি প্যাঁচ দেখেছিল হারবার্ট। সে কথা তার মনে না থাকলেও ঢিলি প্যাঁচের প্রতি তার অদম্য এক আকর্ষণ ছিল। কিন্তু চিলি প্যাঁচ খেললে লাটাইতে অনেক সুতো রাখতে হয় কারণ দেদারে সুতো ছাড়তে হয়–ছাড়তে ছাড়তে সাদা সুতো এসে গেলে বিপদ। টেনে প্যাঁচ খেলাতে ভায়োলেন্স : বেশি। ঘুড়িও তখন বেহাওয়া না থাকলে ওড়নদারের মনের কথা কিড়মিড় করে বলে। হারবার্টের হতভম্ব লাগত অসভ্য টানামানি দেখতে-আকাশ পথে ঘুড়ি ছিনতাই-এর ধান্দা, এর মধ্যে যে করে সে সম্ভবত বলাৎকারের আনন্দ পায়। হারবার্টের সবচেয়ে ভলো লাগত হাই অলটিচুড দিয়ে আপনমনে কোনো কাটা ঘুড়িকে চলে যেতে দেখতে। ঘুড়িটা যদি একটু বেশি নাচানাচি করে, ওলট-পালট করে তাহলে বুঝতে হবে প্রায় কলের তলা দিয়ে কাটা পড়ায় সুতো খুবই কম। আর যদি মন্দ্র গম্ভীর ঢঙে পয়সার মতো ভারি হয়ে যায় তাহলে বোঝা যাবে বিস্তর সুতো তলায় রয়েছে–ঐ ঘুড়ি যে ধরবে তার লাটাই-এরও সুদিন। ধন্‌না র তিন ছেলে বড় ছাদ থেকে ঘুড়ি ওড়াত। ওদের চিলছাদে ওঠা ছিল বারণ। চিলছাদে ঘুড়ি পড়লে হারবার্ট জমিয়ে রেখে ওদের দিয়ে দিত।

    ঘয়লা, মোমবাতি, পঙ্খীরাজ, চৌরঙ্গি, পেটকাট্টি, চাপরাস, সতরঞ্চি, মুখপোড়া, পান ও অন্যান্য বেনামা ঘুড়ির নক্সাদার জেল্লা যতই হোক না কেন গাঢ় রঙের বুলুম হল ঘুড়ির রাজা। মেঘলা আকাশে অনেক ওপর দিয়ে কেটে যাওয়া একটা কালো বুলুম দেখে হারবার্টের প্রায় ভয় করেছিল। এত গম্ভীর শেষযাত্রা হারবার্ট আগে বা পরে কখনও দেখেনি। এমনকি তার নিজের শেষ যাত্রায়ও এতটা গাম্ভীর্য ছিল না।

    এই চিলছাদেই হারবার্ট তার কিশোর জীবনে একদিন নিজের শরীরের মধ্যে থেকেই আশ্চর্য আনন্দ ও ইন্দ্রিয়সুখের সন্ধান পেয়েছিল। তখন তার চোখে কালো রোদ্র, চারপাশে দেড় হাত উঁচু পাঁচিলের গায় উজ্জ্বল সবুজ শ্যাওলার ঢল। এখান থেকে কত কত বছর ধরে হারবার্ট দেখেছিল বিকেল হলে ওপর দিয়ে বকেরা লাইন দিয়ে ফিরে যায় ঘরে। সন্ধ্যার মুখে চামচিকে ও সন্ধ্যার পরে বাদুড় ওড়ে। এরোপ্লেনের আলো জ্বলে নেভে। চোখের পলক পড়ার আগে অগণিত তারার মধ্যে একটি খসে পড়ে। ফানুস ভেসে যায়। হারবার্টঘুড়িলণ্ঠনও দেখেছিল–ঠোঙার মধ্যে কাঠির ফ্রেম করে মোমবাতি বসিয়ে ঘুড়িতে বেঁধে ওড়ানো। একবার ফানুসে টান আসা অব্দি ধরেছিল সে।

    ছোটবেলা রাস্তায় কমিউনিস্ট পার্টির অনুষ্ঠানে কৃষ্ণদাদার সঙ্গে গিয়ে হারবার্ট ‘ফল অব বার্লিন’, আরও কি সব যুদ্ধের ডকুমেন্টারি দেখেছিল। একবার দেখেছিল বরফের চাঙড় উল্টে যোদ্ধাদের অতল জলে তলিয়ে যেতে। হারবার্টকে কেউ বলেনি যে ওটা আইজেনস্টাইনের ‘আলেকজান্দার নেভস্কি’। আর অনেক আগে একবার ইন্দিরা হলে দেখেছিল একটা বাংলা বই যাতে শ্বশুরবাড়ির উঠোনে সাবিত্রী চ্যাটার্জি মাথায় চটি নিয়ে দাঁড়িয়েছিল। আর পাড়ার পুজোয় অন্যান্য সিনেমার মধ্যে দেখেছিল ‘ফির সুবাহ হোগী’। পরে পয়সা কামাবার পরে ক্যাওড়া পাব্লিকের অনুরোধে ভাড়া করা ভিডিও-তে অবশ্য অনেক ছবি দেখেছিল হারবার্ট। কিন্তু তার যা কিছু শেখার তার অর্ধেকটা যদি পূর্বকথিত দুটি বই থেকে হয় তাহলে বাকিটা ঐ চিলছাদে। চিলছাদ থেকেই হারবার্ট ও বুকি পরস্পর আকৃষ্ট হয়। রোজ বুকি বিকেলে ছাদে আসত। হারবার্ট তো চিলছাদে থাকবেই। এই সময়ে দুজনে দুজনকে নিবিড়ভাবে পেত যদিও মধ্যে দুটো বাড়ির ফারাক থাকত। বুকি যতক্ষণ না আসত ততক্ষণ রোদে মেলা বুকির ফ্রকগুলো হারবার্টকে সঙ্গ দিত। বুকি ইস্কুলে যেত-আসত রিক্সায়। বুকিরা হালদার বাড়িতে ভাড়া এসেছিল। বছর দুয়েক ছিল। তারপর চলে যায়। হারবার্টের তখন ষোলো-বুকির বছর এগারো হবে। চলে যাবার আগের সরস্বতী পুজোয় পাড়ার লাইব্রেরি ঘরের পাশে ওদের প্রথম কথা হয়। ব্যানার্জিদের গেটের থামের পাশে প্রায় লুকিয়ে ফিসফিস করে হারবার্ট বলেছিল,-আমি চিঠি দিলে নেবে?

    বুকি মাথা নেড়ে বলেছিল, হ্যাঁ।

    –তুমি কোন ক্লাসে পড়?

    –সিক্স। তুমি?

    –আমি পড়ি, তবে ইস্কুলে পড়ি না

    –বাড়িতে মাস্টার আসে?

    হারবার্ট মাথা নেড়ে বলেছিল, হ্যাঁ। যদিও এটা বলতে তার ভালো লাগেনি। বুকিরা চলে যাবার পরে হারবার্ট কয়েক মাস চিলছাদে ওঠেনি। পরে গিয়েছিল ঠিকই। হারবার্ট দেখতে পেত বিকেল ফুরিয়ে গেলে যখন ছায়া ছায়া হতে থাকে, একটা দুটো করে আলো জ্বলে, উনুনের ধোঁয়া নদীর মতো ভেসে যায়, তারও একটু পরে ঐ ছাদটাকে আর কঁকা বলে মনে হয় না। হয়তো ঐ অস্পষ্ট অবুঝের মধ্যে বুকি দাঁড়িয়ে আছে, হাসছে, হাত নাড়ছে। চোখ কচলে দেখলে ঠিক যেন মনে হয় তাই। চোখটাও তো তখন একটু ঝাপসা থাকে। পরে তো ঐ ছাদটুকুও চলে গেল যখন হালদাররা দোতলা ওঠাল। চিলছাদের পাঁচিলের গায় হারবার্ট ইট দিয়ে ঘষে ‘ব’ লিখে রেখেছিল। গভীর করে। লেখাটার ওপরে শ্যাওলা হয়ে গেলেও হারবার্ট বুঝতে পারত যে ওর তলায় সেই অক্ষরটা তাকে মাথা নেড়ে নেড়ে বলছে, হ্যাঁ।

    চিলছাদ কোনোদিনও হারবার্টের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি। কিন্তু দুটো ঘটনা ঘটেছিল যার থেকে বিপদ হতে পারত। একবার সন্ধেবেলা তুমুল বৃষ্টিতে আটকে গিয়েছিল হারবার্ট। সে জলের কী ভোড়। তার ওপরে ট্যাংকের ওপরে শিল পড়ার শব্দ। ট্যাংকের তলায় ঢুকে গিয়েছিল হারবার্ট। কয়েকটা শিল ধাক্কা খেয়ে ছিটকে তার কাছে আসছিল। বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল। মেঘের গর্জন। বাজ পড়েছিল কয়েকটা। হারবার্ট ভেবেছিল সে আর নামতে পারবে না। নামতে পারছিলও না। এত বৃষ্টি। দিক ভুল হয়ে যদি রাস্তার দিকে বা গলির দিকের ফঁকাতে পা রাখে। আর একবার কালীপুজোর আগে দিনেরবেলায় কেউ উড়ন তুবড়ি টেস্ট করছিল। তার তেতে ওঠা খোলটা ফেটেছিল চিলছাদে। হারবার্টের গলায়, চিবুকের সটান তলায়, কণ্ঠার ওপরে একটা সাদা দাগ ছিল।

    ধন্‌নাদাদা, ধনাবৌদি, তাদের তিনটে বাড়ন্ত ছেলে–এদের সঙ্গে হারবার্টের মানসিক দূরত্ব বাড়তেই থাকল। সাহেবপাড়ায় অর্থাৎ আধাঘন্টা হেঁটে ভিক্টোরিয়া স্কোয়ার থেকে গভীর অভিনিবেশময় ভ্রমণ ও তৎসহ সাহেবি হাবভাব পরের ব্যাপার। এই ভ্রমণ আশি দশকের মধ্যভাগে শীত থেকে শুরু হয় যখন হারবার্টকে জ্যাঠাইমা জ্যাঠামশাইয়ের অলেস্টারটি দিয়েছিলেন। যদিও এতে কয়েকটি জায়গা পোকা খাওয়া ও রোঁয়াওঠা ছিল এবং কোমরের বেল্ট ছিল না তবু ধন্‌নাদাদা তার মা অর্থাৎ জ্যাঠাইমাকে শুনিয়ে বলল–বাড়ির সব পুরনো, ভালো ভালো জিনিশ, সব ঐ বসে খাওয়াটার পেটে পুরচে। বাপের একটা জিনিশ। বড় ছেলেকে একটিবার জিজ্ঞেস অব্দি করলে নাকো।

    জ্যাঠাইমাও. দুকথা শুনিয়ে দিলেন। “দ্যাখ ধন, আধবুড়ো হলি তবু হিসকুটেপনা গেল না। হেয্যাহেয্যির জ্ঞান তো খুব দেখছি, কী হয়েছে ওকে একটা গরম কাপড় দিলে? ঐ কি তুই পরতিস।

    -দ্যাকো মা, যা বোজো না তাই নিয়ে কই কই মোট্টে করবে না। আমি কি স্বার্থ থেকে বলছি। আমি বলচি অব্যেসের কথা। খেতে পরতে পাচ্ছে। তার ওপর এটা ওটা তো আছেই। তার ওপর যদি ওপরঝোঁকা হয়ে আজ টিয়া, কাল কাকাতুয়া এনে দাও পরে সামলাবে কে? এরপর বাড়ির ভাগ চাইবে, ঘরদালান চাইবে।

    -সে ওতো ভালো বলে কখনও বলে না। চাইলে কী দোষেরটা শুনি? ওর বাপের ভাগ কি নেই?

    -এই দ্যাকো, মাতাগরম করে দিলে তো। বাপের ভাগ মারাচ্চে। বলি বিষয়সম্পত্তি সাইজ করার মতো বুদ্ধি আছে ঐ ঘটে? ভাগ চাইবে। ভাগ চাচ্চে।

    -চাইলে কী বলবিটা কী শুনি।

    -পেঁদিয়ে তাড়াব, বলব কী? এত বছরের ভাতকাপড়-হিসেবটা হোক না! খাল খিচে দেব না বাঞ্চতের।

    “ইন্দ্রিয়ারাম দেহাত্মবাদীদিগের মন পরলোক বুঝিতে অক্ষম। পরলোক কেন, ইহলোকেরও অনেক সূক্ষ্ম বিষয় বুঝিতে অক্ষম। ইহাদের মনে শরীর, ইন্দ্রিয় ও ভোগ্য বিষয় লইয়াই সর্বদা ব্যতিব্যস্ত ও ব্যাসক্ত অবস্থায় অবস্থান করে; সেই কারণে ইহাদের মনে পরলোক বিষয়ক প্রমাদজনিত নির্মল সত্যজ্ঞান জন্মে না। মন যে বিষয়ে একাগ্র হয়, সে বিষয় তাহাদের নিকট স্ফূর্তি পায় এবং যে বিষয়ে একাগ্র না হয়, সে বিষয় স্ফূর্তি পায় না। মনের এই স্বভাবশক্তি বা স্বধর্ম, আবালবৃদ্ধবণিতা সকলেরই নিকট পরিচিত রহিয়াছে।”

    অলেস্টার পর্বের পর হারবার্টের দুই ভাইপো প্রসেনজিৎ (ফুচকা) ও ইন্দ্রজিৎ (বুলান) একতলায় খাওয়ার জায়গায় অতর্কিতে হারবার্টকে আক্রমণ করে। অজুহাত ছিল হারবার্ট নাকি তাদের পড়ার সময় পুরনো ডাবের খোলা কেটে জ্বালানী বানাবার অছিলায় শব্দ করে ব্যাঘাত ঘটাচ্ছিল। জ্যাঠাইমা তখন পুজোয় বসেছেন। ওপরে আওয়াজ যায়নি। ধনা দোকানে। বৌদিও বাড়িতে ছিল না। বড় ছেলে অর্থাৎ প্রিয়জিৎ তখন স্নানের ঘরে। হারবার্টের আর্তচিৎকার শুনে সে গামছা পরে বেরিয়ে আসে এবং চেঁচিয়ে ভাইদের থামতে বলে। হারবার্টের তখন ঠোঁট ফেটে গেছে। রক্ত পড়ছে। চোখের তলায় ফুলে গেছে। দাঁত ব্যথা করছে। এই ঘটনার আর এক সাক্ষী ছিল ধাদাদার ঝি নির্মলা। হারবার্ট, মার খাওয়ার পরে যখন উঠোনে নেমে মুখ থেকে রক্ত ধুচ্ছে, প্রিয়জিৎ ঘটি থেকে জল ঢেলে দিচ্ছে, মাথা ঘুরছে হারবার্টের তখন মনে আছে ওপর থেকে জ্যাঠামশাই-এর গর্জন শোনা যাচ্ছে

    “পিউ কাঁহা, পিউ কাঁহা’!

    এই ঘটনার ফলে মর্মাহত হারবার্ট কিন্তু স্বর্গের চাবি পেয়ে গেল। দর্জির দোকানে দুলাল, রাখালবাবু ওদের তো বলেছিল উঠোনে পা পিছলে পড়ে এই কাণ্ড। কিন্তু নির্মলা মারফত সারা পাড়ায় ছড়িয়ে পড়তে বেশি সময় লাগেনি। নির্মলা টিউবওয়েল, মুদির দোকান, মিষ্টির দোকান–সর্বত্রই বলেছিল–কী নিদয়া গো ছেলেগুলো! ভালোমানুষ কাকাটাকে অমন করে মারতে পারল! ধনাকে অব্দি গাঙ্গুলী বাড়ির বড় ভাই, বড়িলাল একদিন অনেকের সামনেই বলে বসল, ধনা! বাড়িতে এসব কী হচ্ছে শুনচি! এপাড়ায় তো বাবা এমন ঘটনা শুনিনি। ভাইপোরা শেষে কাকাকে ধরে পেটাচ্ছে!

    পাড়ার যুবক ও হারবার্টের জুনিয়ার যে গ্যাংটি একদিন তাকে দেখলেই “বাঁটপাখি! বাঁটপাখি”! বলে ক্ষেপাত তারাও আর না ক্ষেপিয়ে ও কাছে ঘেঁষে এসে তাদের সমবেদনা জানাল। এবং এরা হারবার্টের কাছে এসেছিল বলে দুই ভাইপো বেজায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল।

    এভাবে হারবার্ট যেমন অনেকের কাছে আপন হয়ে উঠল তা ছাড়াও একটি ঘটনা ঘটেছিল যার কারণ অবশ্যই বিশদ বৈজ্ঞানিক ব্যাখ্যার অপেক্ষা রাখে। সামনে পেছনে ঘুষি খেয়ে হারবার্টের অপরিণত ব্রেন বোধ হয় নড়ে গিয়ে থাকবে কারণ তা না হলে পনেরো বছর আগের ঘটনা আশ্চর্য এক স্বপ্নের মধ্যে দিয়ে ফিরে আসবে কী করে? লৌকিকের এই হস্তক্ষেপের ফলে হারবার্টের জীবনচরিত নতুন একদিকে মোড় নিল এবং কাকতালীয় হলেও যা অধিকতর আশ্চর্যের বিষয় যে ১৯৭১-এ পুলিশের গুলিতে নিহত নকশালপন্থী ভাইপো বিনুর বাবা, হারবার্টের কৃষ্ণদাদা তখনই কলকাতায় কাজে এসেছিলেন এবং ঐ বাড়িতেই ছিলেন।

    “আমি বললাম দেখ দীননাথ, কল্যকার ব্যাপারটাই মনে মনে আলোচনা করেছ কিনা-তাই বোধহয় স্বজ্ঞানে এরকম বিভীষিকা দেখেছ। এখন সকলে নিশ্চিন্ত। মনে ঘুমাবার চেষ্টা কর।

    “গর্জন করিয়া দীননাথ বলিয়া উঠিল কী বলছেন মশাই? আমার কথা আপনি মিথ্যে বলে উড়িয়ে দিচ্ছেন? আমি মিথ্যা বলিনি, আমি স্বপ্ন দেখিনি-চোখের ওপর যা যা দেখেছি, তাই আপনাকে বললুম; আমার কথা বিশ্বাস না হয়, ওঁদের সকলকে জিজ্ঞাসা করুন, সকলে তো আর এক সঙ্গে স্বপ্ন দেখিনি।”

    এই অংশটি ‘সার্কাসে ভূতের উপদ্রব’ ও আগেরটি ‘পরলোক রহস্য’ থেকে। হায়, সেই বুকি আজ কোথায়? সেই চিলছাদে শোভা পাচ্ছে ডিশ অ্যান্টেনা। হারবার্ট নেই। সোভিয়েত ইউনিয়ন নেই। হিপোড্রোম সার্কাস নেই। সিমলা স্ট্রিটে প্রসিদ্ধ গোঁসাই বাড়ির পাশে দীনুর হোটেল নেই। “শ্রীযুক্ত সুরেশচন্দ্র বসুর চক্ষুদ্বয় প্রায় সর্বক্ষণ মুদিত থাকিত বলিয়া সকলে তাহাকে আঁজুবাবু বলিত।” তিনিও নেই।

    রাব্বা! রাব্বা!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য
    Next Article লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নবারুণ ভট্টাচার্য

    জার্নালিস্টের জার্নাল – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    কাঙাল মালসাট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }