Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারবার্ট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    নবারুণ ভট্টাচার্য এক পাতা গল্প97 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হারবার্ট – ৫

    পাঁচ

    “তোরা না করিলে এ মহাসাধনা,
    এ ভারত আর জাগে না জাগে না।”

    –দ্বারকানাথ গঙ্গোপাধ্যায়

    ধন্‌না মারফতই অলৌকিকভাবে স্বপ্নের মাধ্যমে বিনুর ডায়রি পাওয়ার ঘটনাটি পাড়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল। করপোরেশন পার্কের ধারে রবিবার সন্ধেবেলার আড্ডায় ধনা কথাটা বলতে বড়িলাল, ক্ষেত্র, গোবী, উঞ্জে, হরতাল ইত্যাদি পাড়ার সিনিয়াররা তাজ্জব হয়ে গেল।

    গোবী পাঁড়মাতাল। সে লাল চোখে জলের দিকে তাকিয়ে ভাবুকভাবে বলল, আসলে কী জানিস। সবই মায়ের খেলা। কাকে যে কখন কোথায় মাথায় একটু টুক করে ছুঁয়ে দেবে তা কে বলতে পারে! হারবার্ট এ করতে পারে কেউ ভেবেছিল কখনও?

    -অনেকে বলে তারাপীঠে এক কী যেন বাবার সমাধি আছে। সেখানে এক বোতল মাল ঢাললে নাকি দেবদিষ্টি পাওয়া যায়।

    -অতদূরের কী দরকার। যা না, ঐ ঘুটিয়ারি শরিফ ঘুরে আয়না। দেখবি কত রকমের কাও।

    বড়িলাল বলেছিল-হারবার্টের কাছে যাব তত একবার। নিজের কানে শুনতে হবে গোটাটা।

    আসলে বড়িলাল অন্য কারণে যাবে, ভেবেছিল। তার ভাই গামা গত বছর লিভার পচে মরেছে চোলাই খেয়ে খেয়ে। মরেছে, মরেছে, তারপর থেকে বাড়িতে আজ এর জ্বর, কাল ওর পেটখারাপ, পরীক্ষায় ফেল লেগেই আছে। হারবার্ট কি কোনো হদিশ দিতে পারবে?

    হারবার্টের ঘরে তখন পাড়ার অন্য ছেলেরাও ছিল। হারবার্ট মনে অন্য জোর পেয়ে গেছে তখন। একদৃষ্টে সে কিছুক্ষণ বড়িলালের চোখের দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর বলল–একবছর হল, না?

    –ঠিক ঠিক ধরলে এগারো মাস। শ্রাদ্ধশান্তি তো সবই করেচি। বাৎসরিকও হবে।

    -সে সব তো করলে বুঝলাম, কিন্তু জল না পেয়ে যে মরাপানা হয়ে যাচ্চে গো …

    –কে?

    –কে আবার? চাঁপাগাছ গো, চাঁপাগাছ।

    বড়িলাল বেজায় ঘাবড়ে যায়। ছাদের বাগান ছিল গামার একমাত্র শখ। সেখানে কাঠের বাক্সে চাঁপাগাছ লাগিয়েছিল গামা। সত্যিই তো।

    হারবার্টও ছাদ থেকে দেখত গামা সারা বিকেল গাছের যত্ন করছে, মাটি খুঁচোচ্ছে, জল দিচ্ছে।

    এটাও হারবার্ট দেখেছিল যে ডাগরভোগর চাঁপাগাছটা হাড়কাঁটা হয়ে যাচ্ছে। বডিলাল তড়িঘড়ি উঠে রওনা দেয়। এবারে মোক্ষম খেলাটা খেলে দেয় হারবার্ট।

    -যদি দেখ গাছটা মরে গেছে তাহলে ওটাকে তুলে ফেলে ভালো একটা ডাল সামনের বর্ষায় পুঁতে দিও। আর বেঁচে থাকলে কতাই নেই। দিনকয়েক গোড়া ভিজোলেই জানান দেবে।

    বড়িলালের পা কাঁপছে। হারবার্ট থামে না, থামলে এখন চলবে না, থামা যায় না।

    -আসলে কী জানো? টান! টান! মরে গেলাম। পুড়িয়ে দিল। কিন্তু যেখানে টাক সেখানে তো মন সারাক্ষণ পড়ে থাকবে। যাবে কোথায়। সবই অন্তরালের খেলা। অন্তরালের লীলা! কতরকমের যে বন্দোবস্ত। পরে একদিন বলবোখন বড়িদা। এখন যা বললাম করো দিকিনি।

    বড়িলালের সেবায় শুকনো ডালে কয়েকদিন পরে পাতা বেরোল। নতুন ডাল ছাড়ল ফেকড়ি দিয়ে। ধন্‌না আর ক’জনকে বলেছিল। বড়িলালের অক্লান্ত প্রচার, নানাদিকে ছড়াতে শুরু করল। থানার বড়বাবু অবধি শুনে বিস্ময় প্রকাশ করলেন,

    -বলো কী? এ যে দেখছি প্রায় নস্ত্রাদামুস। মালটাকে তো দেখতে হচ্ছে একবার।

    কোটন আর সোমনাথ একদিন সকালে রিক্সা করে বাটম-বাঁধানো টিনে হলদের ওপরে লাল দিয়ে লেখা ঝর্মকে একটা সাইনবোর্ড নিয়ে এল—’মৃতের সহিত কথোপকথন’–প্রোঃ হারবার্ট সরকার।

    কৃষ্ণদাদা বিনুর ডায়রি নিয়ে ফিরে যাবার সময়ে হারবার্টকে একশো টাকা দিয়ে গিয়েছিলেন। তাই দিয়েই হারবার্ট ব্যবসা শুরু করে। কৃষ্ণদাদাও হারবার্টের স্বপ্নের ব্যাপারটা অনিচ্ছা ও ঘোর আপত্তি থাকলেও বিশ্বাস করতে, বলতে গেলে, বাধ্য হয়েছিলেন। সত্যি বলতে বিনু যে হাসপাতালে তাকে ঐ কথাগুলো বলেছিল সেটা হারবার্টের মনে ছিল না। বিনুকে দাহ করার সময় অত পুলিশ, ভ্যান, বন্দুক দেখে তার ভয়েতে প্রাণ উড়ে গিয়েছিল।

    ‘শ্রীমৃণালকান্তি ঘোষ ভক্তিভূষণ প্রণীত “পরলোকের কথা” পাঠ করিলে পরলোক-তত্ত্ব ও আত্মার অস্তিত্ব সম্বন্ধে বিশ্বাস বদ্ধমূল হইবে, এবং পরলোকগত প্রিয়জনের সহিত কথাবার্তা বলিবার এবং তাহাদের দর্শনলাভের উপায় জানা যাইবে।

    মৃত ব্যক্তিদের সঙ্গে কথাবার্তা ও ভাবের আদান-প্রদানের জন্য হারবার্টের অনুসৃত পদ্ধতিটি স্পিরিচুয়ালিস্ট দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিচার করলে একটি জগাখিচুড়ি বলে মনে হতে পারে। টক্ টক শব্দ দ্বারা আত্মার সঙ্গে যোগাযোগের যে পদ্ধতি আমেরিকার ফক্স ভগিনীরা অবলম্বন করে সবিশেষ খ্যাতি অর্জন করেন অর্থাৎ ব্যাপিংস’ নামে যে পদ্ধতি পরিচিত তার কোনো প্রভাব হারবার্টের মূতের সহিত কথোপকথনে পড়েনি। শ্লেট বা কাগজে অদৃশ্য হস্তে লেখা যে পদ্ধতি এগলিন্টন সাহেব ১৮৮১ সালে কলকাতায় দেখিয়েছিলেন বলে শোনা যায় তাও হারবার্ট কখনো করেনি। বা সোজা বাংলায় করতে পারেনি। একদিক দিয়ে হারবার্টকে আমরা একধরনের মিডিয়াম বলতে পারি। এ বিষয়ে পরলোকের কথা’ থেকে হারবার্ট জেনেছিল, “এতদ্ভিন্ন অপর যে সকল উপায়ে মৃতব্যক্তির আত্মার সহিত কথাবার্তা বা ভাবের আদান-প্রদান চলিতে পারে, তাহাতে একজন মধ্যবর্তী লোকের আবশ্যক। এই মধ্যবর্তী লোককে ইংরাজীতে মিডিয়াম বলে। মিডিয়াম হইবার শক্তি সকলের আছে কিনা ঠিক বলা যায় না। তবে সকলের যে সমান শক্তি নাই, তা প্রমাণিত হইয়াছে। এরূপ দেখা গিয়াছে, বিশেষ বিদ্যাবুদ্ধি না থাকিলেও কেহ কেহ শৈশবাবধি, সম্ভবত জন্মাবধি, এই ক্ষমতা লাভ করিয়াছেন। আবার কেহবা বিশেষ চেষ্টা করিয়াও কৃতকাৰ্য্য হইতে পারেন নাই। কাহারও কাহারও মতে, যাঁহারা তুলারাশির ও শান্ত প্রকৃতির লোক, যাঁহাদিগের মন-সংযম করিবার ক্ষমতা আছে, তাহারাই ভালো মিডিয়াম হইতে পারেন, অর্থাৎ তাহাদিগকে মৃতব্যক্তির আত্মা স্ববশে সহজে আনিতে সমর্থ হন। এইজন্য স্ত্রীলোকদিগের মধ্যেই মিডিয়ামের সংখ্যা অধিক দেখা যায়।” সহসা, এক স্বপ্নে, হারবার্টের মতো পরলোকের সহিত যোগাযোগ স্থাপনের ক্ষমতা অর্জনের উদাহরণ স্পিরিচুয়াল বিশ্বে বিরল। হারবার্ট কখনো প্ল্যানচেটে লেখার চেষ্টা করেনি। বরং বলা যায় যে কিয়দংশে সে স্বৈরলিপি বা অটোমেটিক রাইটিং পদ্ধতি কাজে লাগিয়েছিল। অবশ্য হারবার্টের কখনো কখনো খাপছাড়াভাবে ব্যবহৃত অটোমেটিক রাইটিং-এর উদাহরণ যদি কেউ স্টেড সাহেবের বর্ডারল্যাণ্ড’ পত্রিকার রচনাবলী (বিশেষত মিস জুলিয়াসের আত্মার লেখাপত্র) বা ডবলিউ স্টেনটন মোজেজ সাহেবের কর্মকৃতির সঙ্গে তুলনা করতে যান তাহলে অবশ্যই হাস্যরসের উদ্রেক ঘটবে। হারবার্ট কখনো কখনো অবশ্য ট্রান্স মিডিয়াম বা মোহাবিষ্ট মিডিয়ামের ভাব দেখিয়েছিল। দিব্যদৃষ্টি বা ক্লেয়ারভয়্যান্স তার মধ্যে কখনো দেখা যায়নি। আরোগ্যকারী মিডিয়াম বা হিলিং মিডিয়াম সে কখনো হতে পারেনি। মেসমেরাইজ করার ক্ষমতা তার ছিল না। আত্মার জড়ীয় মূর্তিধারণ বা মেটেরিয়ালাইজেশন ছিল তার সাধ্যের অতীত। রিচেট, ক্রুকস, কোনান ডয়েল, মায়ার্স–এই মহান ঐতিহ্যের মধ্যে হারবার্টকে স্থান দেওয়ার চেষ্টা করা যায় না। সে একটি ‘ফ্রিক’। কলকাতায় যাঁরা গভীরভাবে প্রেতযোনি ও মুক্তাত্মা নিয়ে চর্চা করেন, যাঁদের মধ্যে সংস্কৃতি জগতের এক প্রবাদ-পুরুষও ছিলেন, তাদের সঙ্গে ও হারবার্টের কোনো যোগাযোগ ছিল না। সর্বোপরি, ব্যবসা জমে ওঠার পরে তার সাধারণ জ্ঞান লোপ পেয়েছিল। টাকার লোভে যা খুশি তাই সে করত। কখনো মৃতের ব্যবহৃত কোনো জিনিস বা হস্তাক্ষর কিছু নিয়ে ভাব দেখাত যে সাইকোমেট্রির সহায়তা নিয়ে হদিশ চালাচ্ছে। এ ছাড়াও অনেকেই জানেন যে প্রকৃত স্পিরিচুয়ালিস্টরা ঠিক দুপুরে বা গভীর রাতে, অতিরিক্ত ঠাণ্ডায় বা গ্রীষ্মে কিংবা ঝড়, বৃষ্টি, বাজ পড়ার সময় অপরলোকের সঙ্গে যোগাযোগ করা পছন্দ করেন না কারণ এরকম সময় ভূত-প্রেতই বেশি আসে। মুক্ত আত্মারা প্রায় আসে না বললেই চলে। কিন্তু কে শোনে কার কথা। তাছাড়া হারবার্টের তখন থামার সময় ছিল না।

    একেবারে প্রথম দিকেই এসেছিলেন বিনয়েন্দ্র চৌধুরী, সঙ্গে তাঁর স্ত্রী অতসী। বিনয়েন্দ্রবাবুর একমাত্র ছেলে ছিল পাইলট। এয়ারবাস দুর্ঘটনায় হায়দরাবাদে মারা যায়। বছরখানেক হয়েছে। ছেলে রাহুলের বিয়ের কথা হচ্ছিল। সেই থেকে অতসী প্রায় উন্মাদ। বিনয়েন্দ্রবাবু একের পর এক সিগারেট খাচ্ছিলেন। অতসী অপলকভাবে হারবার্টের দিকে তাকিয়ে ছিলেন এবং হারবার্ট শিরদাঁড়া সোজা করে বসে অপলকভাবে রাহুলের ফটোটি অনেকক্ষণ দেখার পর চোখ বন্ধ করেছিল। দরজার বাইরে কোটনরা দাঁড়িয়েছিল। একবার চোখ খুলে হারবার্ট সামনে রাখা কাগজে ডটপেন দিয়ে লিখলম, ৪-তারপর স্মিত হেসে ফটোটা বিনয়েবাবুর দিকে এগিয়ে দিল। হারবার্ট বলতে থাকে,

    -অকালমৃত্যু, আয়ু ছিল, কর্মশক্তি ছিল কিন্তু কী করে কী হল, উপচ্ছেদ • হয়ে গেল। শোক! দুকখু! হুতাস। শুধু তাই নয়। সমষ্টি মৃত্যু! উঃ কী করে যে এ সহ্যশক্তি পেলেন আপনারা! গড় করি! অমন সহ্য শক্তিতে গড় করি।

    অতসী সরবে কেঁদে ওঠেন। হারবার্টও নিজের চোখের জল মোছে। স্মিত হাসি ফুটে ওঠে তার মুখে।

    -তবে আর তো দুঃখের কিছু নেই। দুঃখের কী আছে। কালরাজ্য, মৃত্যুরাজ্য এ তো থাকবেই। ছেলেটির মন বড় ধার্মিক ছিল দেখছি।

    বিনয়েন্দ্র ও অতসী চমকে উঠেছিলেন কারণ দোতলা থেকে গর্জন শোনা গিয়েছিল-পিউ কাঁহা! পিউ কাঁহা।

    বিনয়েই বললেন—আমি তো যতদুর জানি ধর্ম-কর্ম নিয়ে খোকা একেবারেই মাথা ঘামাত না।

    -ঘামাত না?

    -বরং তর্কই করত। উনি তো আবার সাঁই বাবার…

    হারবার্ট চেঁচিয়ে ওঠে,-থাক, আর বলতে হবে না। আমি শুনব না, শুনব না, শুনব না … (কানে হাত চাপা দেয়)।

    দুজনেই অপ্রস্তুত। কী করবেন ভেবে উঠতে পারেন না। কান থেকে হাত সরিয়ে হেসে ফেলে হারবার্ট।

    -মাপ করবেন। মুখ মানুষ তো, রেখে ঢেকে কতা আসে না। আচ্চা, ধরুন আপনার কতাই ঠিক। তা যদি হবে তাহলে এমনটি কী করে হল বলুন তো?

    -কী হল?

    হারবার্ট কাগজের দিকে দেখায় যেখানে ম, ৪ লেখা।

    -এর মানে?

    -মানে? মানে শুনলেই তো আমার খেলা শেষ, ওফ্‌ ঐ ঐ শিবদুর্গা আসছে, কতবড় বন্দোবস্ত। আমি বলি এই হালফ্যাশানের যুগে কজন মধ্যমধার্মিক হয়? কজন চতুর্থ স্তরে থাকতে পারে? আমি মরলে পারব? স্থূলপাপী হব, নরকের কীট কেন্নো চিবিয়ে চিবিয়ে খাবে। আপনাদের ছেলের তো আনন্দ এখন, নন্দনকাননাদি স্থান, যক্ষকিন্নরাদি শরীর ও তদুপযুক্ত সুখ-দুখ ভোগ।

    অতসী যেন ভাবের ঘোরে শুনে যান।

    -বলেচে কি জানেন, বলেচে-জপ-তপ সবই বৃথা মরতে জানলে হয়। মূরণকালে ভালো চিন্তা ছিল, তারই সুফল ভোগ করছে। কী আনন্দ, কী আনন্দ মা, মাগো, কেন লুকিয়ে রেখেছিলি মা …. কেন?

    মৃত বৈমানিক পুত্র মধ্যমধার্মিক অবস্থায় চতুর্থ স্তরে প্রভূত সুখে বিরাজ করছে। জেনে শান্ত, নিথর অতসীকে নিয়ে বিনয়েন্দ্রবাবু গম্ভীরমুখে অ্যাম্বাসাডরের পেছনে বসে বাড়ি গেলেন এবং ওয়ালেটে দুটি পঞ্চাশ টাকার নোট কম ছিল।

    -আপনার …

    -কী আপনার?

    -মানে কী দেব।

    -দেবেন? দেবেন। দেবেন না? দেবেন না। ভিক্ষে যার সম্বল, লাতিঝাটা যার মাথায় নিত্যি ঝরচে সে কি দরদাম করবে। তাও যদি দুটো ডিগ্রি থাকত, বলতে পারতুম।

    বিনয়েন্দ্রবাবু নোট দুটো বালিশের তলায় খুঁজে রেখে চলে গিয়েছিলেন। সেই দিনই রাতে কুড়ি টাকার বিনিময়ে এক বোতল বাংলা আসে এবং আশি টাকা তোরঙ্গে সঞ্চিত হয়।

    এর কিছুদিন পরে হারবার্ট দোতলায় গিয়ে জ্যাঠাইমার কাছে একশো টাকা ও ধনাবৌদিকে এক বাক্স মিষ্টি দিয়ে এল–বলল, ফুচকা-বুলানকে দিও। কাকা হয়ে কখনও কি খাওয়াতে পেরেছি?’ ঘুষির জবাবে বড় বড় সন্দেশ। পরে ধনাকেও জুতোতে ছাড়েনি। ‘দাদা, মিষ্টি খেয়েছিলে?’ ধনা বলল। কিছুদিন পরে ধবৌদি বলল,-ঠাকুরপো, বাইরের কাজের লোক আসে। তুমি বরং ভেতরের কল-বাথরুমটাই ইউজ করো না। কেউ কি বলেছে কিছু কোনোদিনও তোমাকে?

    -না, বৌদি। অব্যেস হয়ে গেছে তো। আর আমার তো সময়ের ঠিক নেই। আমার তো কোনো অসুবিদে হচ্ছে না।

    -মানে, তোমার দাদাই বলছিল বলে কথাটা বল্লুম।

    সবচেয়ে খুশি হয়েছিলেন জ্যাঠাইমা। হারবার্টের মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন প্রাণটা যেন জুড়িয়ে দিলি যে হারু। অত অত্যেচার, অত অনাচার, ভাবিসনি আমার কিছু নজর এড়ায়। মুখ বুজে থাকলে কী হবে, আমি সব জানি। পুণ্যকাজ করচ বাবা, সবই মায়ের আশীৰ্বাদ।

    -জ্যাঠাইমা।

    -উঃ।

    -সেই গপ্পোটা বলো না?

    -কোনটা?

    -তোমার বিয়ের সেই ..

    -কদমা। হিহিহিহি। সে তো বাসররাতের আগে। নতুন জামাই তো কুঁতে কুঁতে খেল–এই লুচিটা ধরে তো ঐ আলুটা পড়ে যায়। ঢলে ঢলো ভাব।

    -কেন গো?

    -ওমা, সঙ্গে যে বন্দুগুলো গিয়েছিল ওগুলো তো লুকিয়ে মদ নিয়ে গিয়েছিল। নিত্যি খেত তো৷ পলকাটা কত রকমের বোতল। তারপর বুজলি,

    –ও জ্যাঠাইমা, ঢুলচ কেন?

    -হ্যাঁ, তারপর হল কী এয়োরা খিলখিল করচে। কেন? জামাইকে একটা কদমা দিয়েচে খেতে সে একেবারে হাতির মাতার মতো।

    -তারপর?

    -তোর জ্যাঠা তো তকন রসে টইটম্বুর। তবে হ্যাঁ, আড়াখানা ছিল বলরামের মতো। যেই না কামড় দেওয়া, অমনি, ছিছি কী কাণ্ড, হিহিহিহি।

    -কেন গো জ্যাঠাইমা?

    -কদমার ভেতরে জুতো। একপাটি জুতো গো। জুতো পাতে। চোখ গোল্লা গোল্লা করে এদিক ওদিক তাকাচ্চে। আর মেয়েরা চেঁচাচ্চে–‘জামাই, জুতো কামড়াচ্চে গো। এ কেমন জামাই গো। সে যে কী বটকেরা হয়েছিল!

    নিজের বাসররাতের স্মৃতি কি মনে পড়ে যায় গিরীশকুমারের? তাই কি তারস্বরে স্বগতোক্তি করে ওঠেন তিনি—’পিউ কাঁহা! পিউ কাঁহা!’

    জ্যাঠাইমা বলেন,-ঐ এক হয়েছে বাবা পিউ কাঁহা। ধনা, কেষ্ট-ছোটবেলা। অশৈলপনা করলে বলতেন শূয়ার কাহাকার! ওরা নীচু গলায় জবাব দিত কলকাতাকার। সব বিস্মরণ। ঐ দাপট, ঐ ঝাঁপট। সব গিয়ে ঐ পিউ কাহা, পিউ কাঁহা! একটা গান মনে এল রে হারু, গাইব?

    -গাও না। তুমি তো ভালো গাইতে আগে।

    -শো। সুর ধরতে পারব?

    -পারবে। ঠিক পারবে।

    চাঁদের আলোয় জ্যাঠাইমা গান ধরেন,

    সখি!

    কেমনে যমুনাজলে যাই!
    জল আনিবার পথে,        যে রূপ দেখিনু লো,
    তুলনা তাহার কোথা নাই।।
    জিনি নব জলধর,         কান্তি মনোহর লো,
    শুন শুন পরাণের সই।।
    মনে মন নাহি মোর,         হরে নিল মনচোর,
    সরমের কথা কারে কই।।
    অবলা রমণী আমি,         সে, রূপ হেরিয়ে লো
    হই যেন আপনারে হারা।।
    জল নিতে ভুলে যাই,         শুধু তারি পানে চাই,
    বল সই এ কেমন ধারা।।
    ঘরে মন নাহি সরে         বাঁশীরব শুনে লো,
    ঘটিল যে এ বড় বালাই।।
    শাশুড়ী ননদী সবে,         গঞ্জনার কথা কবে,
    কেমনে যমুনা জলে যাই!!

    গান শেষ হয় না। জ্যাঠাইমা ফুলে ফুলে কাঁদতে থাকেন। তেরচা চাঁদের আলো ঢুকে আলমারির এক পাল্লায় পড়ে ছড়িয়ে যাচ্ছে। তার সঙ্গে ধনার ঘরের টিভির আলো বারান্দায় মিলেমিশে নীলছে একটা দপদপে আলেয়া তৈরি করেছে। সেই আলোয় জ্যাঠাইমাকে রেখে চলে আসতে গিয়ে হারবার্ট দেখেছিল দেওয়ালে ঠেস দিয়ে গভীর মমতার সঙ্গে গান যেখান থেকে আসছিল সেদিকে চেয়ে আছেন জ্যাঠামশাই। কাঁদতে কাঁদতে নেমে এসেছিল হারবার্ট।

    মন কেমন করে। চিলছাদ, ছায়া, রাত, সকাল, কাকের ডাক সব কিছুর জন্যে মন কেমন করে। বাবার জন্যে মন কেমন করে। মার জন্যে মন কেমন করে। জ্যাঠামশাই-এর জন্যে মন কেমন করে। জ্যাঠাইমার জন্যে মন কেমন করে। সব কিছুতে মায়া, টান থেকে যায়। সব কিছুর জন্যে মন কেমন করে।

    নিজের ঘরে খাটের ওপরে উপুড় হয়ে বালিশ ভিজিয়ে হাউ হাউ করে কাঁদে হারবার্ট। বিনুর জন্যে কাঁদে। নিজের জন্যে কাঁদে হারবার্ট। বুকির জন্যে কাঁদে। মিথ্যে কথা বলার জন্যে কাঁদে। কাঁদতে কাঁদতে একসময় ঘুমিয়ে পড়ে। ঘুমের মধ্যে ফেঁপায়। চিৎ হয়ে শোয়। ঘুমের মধ্যে হাসতে থাকে। আবার ফোপায়। হাসে।

    পিতা ললিতকুমার ও মাতা শোভারাণী শিশুপুত্রের এই বিচিত্রভাব দেখিতেছিলেন। বিস্মিত ললিতকুমার জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে শোভারাণীর দিকে তাকাইতে শোভারাণী ঈষৎ মায়াময় হাসি হাসিয়া বলিলেন—’দ্যায়লা করচে।’

    হারবার্টের ব্যবসা চলতে শুরু করল। একজন ডাক্তার এসেছিলেন তার ভাই এর বৌকে নিয়ে। ভাই আমেরিকায় ক্যানসারে মারা গেছে। একজন এয়ার হোস্টেস এসেছিল। সে তার বাবার সঙ্গে যোগাযোগ করতে চায়। দোহারা চেহারার একটি ছেলে এসেছিল একদিন। তার মা-র জন্যে। সদ্য বোধহয় কলেজে ঢুকেছে। যাবার সময় বলে গেল–যা কিছু আপনি বলছেন সবই ভেগ। একটা কংক্রিট কথাও বলতে পারেননি। আসলে আমার আসাটাই উচিত হয়নি।

    ছেলেটিচলে যাবার পরে হারবার্ট কিছুক্ষণ চুপ করেছিল। তারপর বলেছিল,–আসাটাই উচিত হয়নি! বাপের বানচোৎ ছেলে। আমি আসতে বলেছিলুম?

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleএই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য
    Next Article লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    Related Articles

    নবারুণ ভট্টাচার্য

    জার্নালিস্টের জার্নাল – নিমাই ভট্টাচার্য

    September 4, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    কাঙাল মালসাট – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    লুব্ধক – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    নবারুণ ভট্টাচার্য

    এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না – নবারুণ ভট্টাচার্য

    September 1, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }