Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারানো সূর্যের খোঁজে – অনির্বাণ ঘোষ

    লেখক এক পাতা গল্প293 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২। ইরতেনসেনু

    থীবস নগরী, মিশর।

    থীবসের সূর্য ঝলমলে আকাশে আজ খুশির আলো। বাতাসে খুশির গন্ধ। গুগগুল আর মৃগনাভি ইন্ধন জোগাচ্ছে সেই গন্ধে। শহরের রাস্তায় আজ মানুষের ঢল নেমেছে। আনন্দে আত্মহারা তারা। আজ যে ওপেতের উৎসব!

    সদ্য কয়েকমাস আগেই নীলনদে বন্যা হয়েছে। নদের পাড়ে থাকা শহর থেকে বন্যার জল নেমে গেলেও নীচু চাষের জমিতে তার চিহ্ন রয়ে গেছে। এই জলই বয়ে এনেছে নীলের বুকের কাদা মাটি। এতে আবাদি জমি আরও উর্বর হয়ে উঠবে। জমা জল সরে গেলেই শুরু হবে চাষের কাজ। গম, ভুট্টা, যব, পিঁয়াজ, বাঁধাকপিতে ভরে উঠবে খেতগুলো। এখান থেকেই খাদ্যের জোগান যাবে গোটা দেশে। বছরের এই সময়ে তাই ওপেতের উৎসবে মেতে ওঠে মিশরীয়রা। ধন্যবাদ জানায় আমুন-রাকে।

    আমুন-রা মিশরের প্রধান ঈশ্বর। আকাশে থাকা সূর্য তিনি। তাঁর আঙুল থেকে জন্ম নিয়েছে নীলনদ। আমুনের আলোতে আলোকিত হয় পৃথিবী। রাতে আমুন পশ্চিমে হারিয়ে গেলে যে নিশ্ছিদ্র অন্ধকার নেমে আসে চাঁদের ক্ষীণ আলো তাকে দূর করতে অক্ষম। মিশরীয়রা মনে করে এই অন্ধকারেই বাস শয়তানের। তাই তারা প্রতি রাতে প্রার্থনা করে যেন আগামী সকালে আবার আকাশে আমুনের দেখা পাওয়া যায়।

    তাদের দেবতা কখনও তাদেরকে নিরাশ করেননি।

    ওপেতের উৎসব আমুন-রা’র উদ্দেশেই। থীবস শহরের লাক্সরে আছে আমুনের বিশাল মন্দির। আজকের দিনে আমুনকে মন্দির থেকে বার করে পবিত্র নীলনদের জলে স্নান করানো হয়। তাঁর গায়ে জড়ানো হয় গাঢ় নীল পশমের বস্ত্র, গলায় পরিয়ে দেওয়া হয় বহুমূল্য রত্নহার। আমুনের সেই মূর্তিকে বসানো হয় একটি কাঠের তৈরি নৌকায়। আজ আমুনের গন্তব্য কার্নাকের মন্দির। লাক্সর আর কার্নাক এই দুই মন্দিরই নীলনদের তীরে। দুই মন্দিরকে যোগ করেছে একটি বেশ চওড়া রাস্তা। রাস্তার দুই পাশে রাখা অজস্র অদ্ভুতদর্শন মূর্তি। তাদের কারোর মাথা মানুষের, কারোর ভেড়ার, কারোর বা কুমিরের, কিন্তু তাদের শরীরগুলি হয় সিংহের। পবিত্র এই রাস্তার সর্বসময়ের রক্ষী এরা।

    রাস্তার ওপর দিয়ে এগিয়ে আসছে এক বিশাল শোভাযাত্রা। সবার সামনে আছে আমুনের পতাকা বাহকেরা, তাদের পিছনে বাদকেরা। ঢোল, বীণা, খঞ্জনি বাজাচ্ছে তারা, সেই বাজনার সুরে দেবতার গীত গাইছে মন্দিরের গায়কেরা। তাদের সঙ্গে গলা মেলাচ্ছে রাস্তার দু’ধারে দাঁড়িয়ে থাকা সাধারণ মানুষ। উজ্জ্বল নীল, লাল, হলুদ পোষাক তাদের পরনে। গায়কদের পিছনে আসছে কসরতকারীদের দল। তাদের কেউ ডিগবাজি খাচ্ছে, কেউ হাঁটছে উল্টো হয়ে হাতের ওপরে ভর দিয়ে। তাদের পিছনে দেখা যাচ্ছে দেশের সর্বশক্তিমান মানুষটিকে। আজ তাঁর জন্যও বড় একটি দিন। আজই তিনি ফারাও হবেন। আমুন-রা এর শক্তি আজ প্রবাহিত হবে তাঁর আত্মা ‘কা’-এর মধ্যে।

    তবে সাধারণ মানুষের মধ্যে মৃদু আপত্তি আছে এই মানুষটিকে নিয়ে। তার কারণ তিনি তো পুরুষ নন, এক নারী! এক মেয়ে দেশ শাসন করবে, এমনটা মিশরীয়রা দেখেছিল বটে কয়েকশো বছর আগে। কিন্তু সেই ঘটনা যে আবার ঘটতে পারে তা কেউ কোনওদিন ভাবেনি। রানি হাতসেপসুতের গায়ে আজ বহুমূল্য পোশাক। রক্তের মতো লাল এই পোশাকের কাপড় আসে পূর্বের যে দেশ থেকে তার নাম ভারতবর্ষ। আজ রানির সর্বাঙ্গে সোনার অলঙ্কার, তাতে শোভা পাচ্ছে চুনী ও পান্নার মতো রত্নেরা। রানি দু’হাত আকাশের দিকে তুলে মৃদু কণ্ঠে প্রার্থনা করছেন আমুন-রা’র। তাঁর খুব কাছে কেউ থাকলে আজ বুঝতে পারত হাতসেপসুতের গলার স্বর কাঁপছে। মুখের অমলিন হাসিটি বুকের মধ্যে থাকা আশঙ্কার দোলাচলকে লুকিয়ে রেখেছে। তাঁর দু’হাতে পরা চামড়ার দস্তানার দিকেও হয়তো কারোর নজর যায়নি।

    হাতসেপসুতের পিছনেই আসছেন স্বয়ং আমুন-রা। কাঠের নৌকার ওপরে বসে থাকা তাঁর বিগ্রহকে কাঁধে করে নিয়ে আসছেন লাক্সরের মন্দিরের আট পুরোহিত। তাদের মুণ্ডিত মস্তক, পরনে সাদা কাপড়। তাদের মধ্যে প্রধান পুরোহিত সেনেনমুতকে আলাদা করে চেনা যায় তাঁর কোমরে জড়ানো চিতা বাঘের চামড়ার আচ্ছাদন দিয়ে। আশ্চর্য প্রতিভার অধিকারী এই মানুষটি। সেনেনমুত একাধারে পুরোহিত এবং রাজসভার মহামন্ত্রী। আবার তাঁর জ্যোতিষ শাস্ত্রের জ্ঞান অবিশ্বাস্য! প্রতি বছর খরা বা বন্যার সময় তিনি আগে থেকেই অনুমান করে ফেলেন অব্যর্থ ভাবে। সেনেনমুত তাঁর কর্তব্যে অবিচল। হাঁটার সময় যেন তাঁর চোখের পলকও পড়ছে না। এই দীর্ঘ রাস্তায় এত ভারী বিগ্রহকে কাঁধে করে আনার সময় বেশ কয়েকবার পুরোহিত বদল হলেও সেনেনমুত তাঁর জায়গা ছাড়েননি। রানি হাতসেপসুত একবার পিছন ফিরে তাকালেন সেনেনমুতের দিকে। অপাঙ্গে সেই দৃষ্টিকে খেয়াল করলেন তিনি। চোয়াল শক্ত হল। সেই সময় আগত প্ৰায়।

    হে আমুন-রা! রক্ষা করুন আমাদের!

    অনাম্নী এক জনৈকা কোলের শিশুটিকে নিয়ে এই শোভাযাত্রা দেখছিল। বাজনার তালে তালে দুলে উঠছিল শিশুর হাত। একসময় সে আকাশের দিকে তাকাল অবাক চোখে। আঙুল তুলে কিছু দেখাতে চাইল মাকে। পাখির দল শহরের আকাশ বেয়ে পাড়ি দিচ্ছে পশ্চিমের দিকে। কিন্তু এখন তো ওদের ঘরে ফেরার কথা নয়! সেই ভরা দুপুরে…একী! একী হচ্ছে! আলো কমে আসছে কেন!

    মুহূর্তের মধ্যে বাজনা থেমে গেল। কোন সম্মোহনী শক্তিতে যেন জনসমুদ্রের কলরব ক্ষণিকের নিস্তব্ধতায় বিলীন হয়ে গেল। তার পরেই জেগে উঠল হাহাকার! কালো হতে থাকা আকাশের দিকে দু’হাত তুলে আর্তনাদ করতে লাগল তারা।

    স্বয়ং আমুন-রা কুপিত হয়েছেন। তাঁর অভিশাপ নেমে আসছে মিশরের বুকে!

    ওপেতের উৎসবের কয়েক চন্দ্রমাস আগের কথা।

    ‘সূর্যগ্রহণ!’

    ‘হ্যাঁ রানি, সূর্যগ্রহণ। আকাশের সূর্য ঢাকা পড়ে যাবে কালো এক বলয়ের আড়ালে। ‘আপনি ঠিক বলছেন তো সেনেনমুত?’

    ‘হ্যাঁ রানি, আমার গণনা নির্ভুল। আসন্ন ওপেত অনুষ্ঠানের দিনেই হবে সূর্যগ্রহণ। তা স্থায়ী হবে বেশ কয়েক ঘণ্টা।’

    ভয়ে রানি হাতসেপসুতের দম যেন বন্ধ হয়ে এল। এমন কিছুর জন্য তিনি একেবারেই প্রস্তুত ছিলেন না! রানি সাহসী, বুদ্ধিমতী। স্বামী দ্বিতীয় তুতমোসের আকস্মিক মৃত্যুর পরে দেশের শাসন ব্যবস্থার হাল ধরতে হয়েছিল রানিকেই। তাঁর সৎ ছেলে তৃতীয় তুতমোসের বয়স যে তখন মাত্র দুই! এই সময় রাজধানীর সিংহাসন খালি থাকলে মিশরের সমূহ ক্ষতি হওয়ার সম্ভাবনা ছিল। আশেপাশের দেশগুলি সবসময় ওৎ পেতে থাকে। সামান্য দুর্বলতার সুযোগ পেলেই তারা ঝাঁপিয়ে পড়বে মিশরের ওপরে। তছনছ করে দেবে সোনার দেশটিকে।

    গত আট বছর ধরে রানি বেশ শক্ত হাতেই সামলেছেন তাঁর দায়িত্বকে। তাঁর কূটনৈতিক বুদ্ধিতে শত্রু দেশ নুবিয়াও বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু আক্কাদিয়ান, হিতাইত, মিতানিদের হাতে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েই গিয়েছিল। তারা জানে আদতে মিশরের সিংহাসন শূন্য। এক নারী বকলমে রাজত্ব চালাচ্ছেন। এই সময় প্রয়োজন এক ফারাওয়ের। নাবালক তুতমোসকে তো আর ফারাও বানানো যায় না, তাই স্বয়ং রানিই এগিয়ে এসেছিলেন আবার। মিশরের ইতিহাসে তৃতীয় বারের জন্য কোন নারী পরতে চলেছিলেন ফারাওয়ের মুকুট।

    ওপেতের উৎসব হল ফারাওয়ের রাজ্যাভিষেকের দিন। মিশরীয়রা বিশ্বাস করে এই দিনই আমুন-রা’র শক্তি প্রবাহিত হয় ফারাওয়ের মধ্যে। ফারাওয়ের আত্মা ‘কা’ এক হয়ে যায় আমুন-রা এর সঙ্গে। তাই রানি হাতসেপসুতেরও ফারাও হওয়ার দিন এই ওপেতের উৎসবই।

    কিন্তু সূর্যগ্রহণ!

    ‘এ কীভাবে হয়?’

    ‘সেদিন সূর্য আর পৃথিবীর মাঝে চলে আসবে চাঁদ। তার ছায়ায় ঢাকা পড়বে সূর্যের আলো।’

    ‘তাহলে উপায়? আকাশে সূর্য না থাকলে যে দেশের মানুষ আমাকেই দায়ী করবে। তারা ভাববে আমার সাথে একাত্ম হতে চান না আমুন-রা! কোনওভাবেই আমি ফারাও হতে পারব না, আর তার ফল কী হবে বুঝতে পারছেন সেনেনমুত!’

    প্রধান উপদেষ্টার কপালে তখন গভীর চিন্তার ছাপ, ওপেত উৎসবের দিন পূর্ব নির্ধারিত। সেই দিনটি বদলাতে গেলে সাধারণ মানুষের মনে সন্দেহ জাগবে।

    অস্থির ভাবে নিজের কক্ষে পায়চারি করছিলেন রানি। তাঁর সামনে মাথা নীচু করে দাঁড়িয়ে ছিলেন সেনেনমুত। কক্ষের দরজা ভিতর থেকে বন্ধ

    ‘আর কে জানে এই সূর্যগ্রহণের কথা?’

    ‘আর কেউ জানে না রানি। গত পরশু আমি সামনের একটি বছরের আসন্ন মাসগুলির গণনা করছিলাম। তখনই আমার নজরে আসে এটি। দু’রাত আমি চোখের পাতা এক করতে পারিনি। বার বার মিলিয়ে দেখেছি আমার অঙ্ক। প্রতিবার একই উত্তর এসেছে।’

    সূর্যের দেবতা আমুন-রা এর উৎসবেই আকাশে সূর্য থাকবে না!

    আলো, আলো চাই!

    রানি সেনেনমুতের দিকে মুখ তুলে চাইলেন। হতাশা আর দুশ্চিন্তা মেশানো গলায় বললেন, ‘এই আলোচনা আমার আর আপনার মধ্যেই থাক। অন্য কাউকে ঘুণাক্ষরেও এর কথা বলবেন না। আর একটা কাজ করুন, ইরতেনসেনুর কাছে খবর পাঠান। বলুন আমি এখনই দেখা করতে বলেছি।’

    ছোট্ট পিঁপড়েটির দিকে নিবিষ্ট মনে তাকিয়ে ছিল ইরতেনসেনু। পিঁপড়ে তখন রুটির টুকরো মাথায় নিয়ে তার বাসার দিকে চলেছে। এই বাসাটি ইরতেনসেনুর বানানো। নিজের গবেষণাগারের একটি কোণে বালি এবং শুকনো মাটি দিয়ে তৈরি করেছে পিঁপড়েদের বসতি। দিনের অনেকটা সময় কাটে এদেরকে লক্ষ করে। থীবস শহর থেকে কিছুটা দূরে পাহাড়ের গায়ে তৈরি হচ্ছে রানি হাতসেপসুতের বিশাল মন্দির। সেই মন্দির বানানোর দায়িত্ব ইরতেনসের উপরে। ওর তৈরি নকশা দেখে দিন-রাত অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে কয়েকশো শ্রমিক।

    তাদের কষ্ট লাঘব করার জন্য ইরতেনসেনু বানিয়েছে একটি যন্ত্র। যাতে দড়ির সাহায্যে খুব ভারী পাথরও টেনে উপরে তোলা যায়। কিন্তু মানুষের শরীরের গঠন এমন যে আধুনিক যন্ত্র আবিষ্কার করলেও তার কায়িক পরিশ্রম সামান্য মাত্র কমে। একটানা বেশিক্ষণ কাজও করতে পারে না তারা। অথচ এই পিঁপড়েদের দেখ, নিজের থেকে অন্তত কুড়ি গুণ ভারী বস্তুকেও কেমন অনায়াসে বয়ে নিয়ে যায়। ইরতেনসেনু তাই এখন এদের নিয়েই মেতেছে। খুব কাছ থেকে এদেরকে লক্ষ করে বোঝার চেষ্টা করছে এই অমিত শক্তির রহস্য। পিঁপড়েদের দৈহিক গঠনের ওপরে ভিত্তি করে শ্রমিকদের জন্য বর্ম বানানোর ইচ্ছা ইরতেনসেনুর। সেই বর্ম পরলে হয়তো মন্দির তৈরির জন্য পাথর বয়ে নিয়ে যেতেও সমস্যা হবে না আর। কাজও এগোবে দ্রুত।

    সামনের দুটো পা আর শুঁড়ই ধরে রেখেছে রুটির টুকরোটাকে। বাকি পাগুলি শরীরের ভারসাম্য রক্ষা করছে। ইরতেনসেনু অনেকটা ঝুঁকে এসেছে পিঁপড়েটির দিকে। নীলনদে ফোটা পদ্মের মতো আয়ত চোখ তার। পান্নার মতো হালকা সবুজ মণি সেই চোখের। ইরতেনসেনু দীর্ঘাঙ্গী, তার গায়ের রঙ শ্যামলা। দু’দিকে সামান্য উত্তল মুখ এসে শেষ হয়েছে তীক্ষ্ণ থুতনিতে। ঘন কালো চুল কাঁধ ছাপিয়ে পিঠের উপরে এসে নেমেছে। ইরতেনসেনু সুন্দরী, কিন্তু সেইদিকে ওর নিজের ভ্রুক্ষেপ নেই। ওর মতে মানুষের আসল সৌন্দর্য তার শরীরে নয়, মস্তিষ্কের গভীরে। বুদ্ধিহীন সুন্দর মানুষ নিষ্প্রাণ রঙিন পাথরের মতোই। মাত্র পঁচিশ বছর বয়সেই ইরতেনসেনু রানি হাতসেপসুতের সভার প্রধান কারিগর এবং বৈজ্ঞানিক। থীবস শহরের কোলাহল থেকে দূরে ছোট এক গ্রামের মধ্যে থাকে সে। এখানে তার কাজে মন বসে বেশি। নিজের বাড়ির একটি ঘরে সে বানিয়েছে গবেষণাগার। ইরতেনসেনু প্রকৃত অর্থেই সুন্দরী।

    সেনেনমুত নিজে দেখা করতে এসেছিলেন ইরতেনসেনুর কাছে। তিনি ইরতেনসেনুর পালক পিতা। ইরতেনসেনুর বয়স যখন সাত তখন এক অনাথ আশ্রম থেকে তাকে দত্তক নেন সেনেনমুত, তাকে আশ্রয় দেন নিজের পরিবারে। তারপর থেকে সযত্নে বড় করে তুলেছেন এই কন্যারত্নটিকে। এখন এই মেয়ে মিশরের গর্ব! ইরতেনসেনুর সঙ্গে একান্ত আলাপে সেনেনমুত জানিয়েছিলেন আসন্ন বিপদের কথা। সব শুনে ইরতেনসেনুর কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছিল। কিন্তু খানিক পরেই সে উজ্জ্বল চোখে নিজের আসন ছেড়ে উঠে দাঁড়িয়েছিল।

    ‘রানিকে আমি কিছু দেখাতে চাই পিতা!’

    ‘খুব ভালো ইরতেনসেনু, তাহলে কবে প্রাসাদে আসবে বলো। তুমি চাইলে এখনই আমার সঙ্গে যাত্রা করতে পারো।’

    ‘না, আমি যেতে পারব না। যা দেখাব তা এখনই এই গবেষণাগারের বাইরে বার করা উচিত হবে না মনে হয়। আপনি রানিকে বলুন এখানে আসতে। আমার বিশ্বাস উনি কিছু মনে করবেন না।’

    হাতসেপসুত চরম রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারিণী হয়েও আত্মদম্ভে ডুবে যাওয়ার মানুষ নন। অতি বিচক্ষণ তিনি। যখন শুনলেন ইরতেনসেনু তাঁর দর্শনপ্রার্থী, তখনই মনস্থির করেছিলেন ওর সঙ্গে দেখা করতে যাওয়ার। সাধারণত ইরতেনসে এমন কিছু করে না। নিজেই হাজির হয় রাজপ্রাসাদে। এবারে নিশ্চয়ই কোন যথার্থ কারণ আছে। দু’দিন পরে রাত্রির অন্ধকারে এক ছায়া মূর্তিকে দেখা গেল রাজপ্রাসাদ থেকে বার হতে। অতি সাধারণ পোষাকে রানি হাতসেপসুত যখন ঘোড়ার পিঠে চড়ে থীবসের রাজপথ দিয়ে যাচ্ছিলেন তখন কেউ ফিরেও তাকায়নি তাঁর দিকে। ইরতেনসেনুর কাছে আগাম খবর ছিল রানির আগমনের। নিজের গৃহের দরজার বাইরে সে অপেক্ষা করছিল।

    ‘আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ জানাই রানি এতটা পথ আসার জন্য। একই সঙ্গে আমি ক্ষমাপ্রার্থীও।’

    ‘তার কোন প্রয়োজন নেই ইরতেনসেনু। তুমি নিশ্চয়ই সেনেনমুতের মুখে সব শুনেছ?’

    ‘হ্যাঁ, সমস্যা সত্যিই গুরুতর। তবে এর সমাধান করার একটি উপায় আমার জানা আছে।’

    এই কয়েকদিনে এই প্রথমবার রানির মুখে আশার আলো ফুটে উঠল, ‘সত্যি! পারবে তুমি এই সূর্যগ্রহণকে ঠেকাতে?’

    ‘না, তা পারব না, এই মহাজাগতিক ঘটনাকে আটকানোর ক্ষমতা আমার নেই রানি। কিন্তু আকাশে সূর্য না থাকলেও মাটিতে তার বিকল্প আমি হয়তো তৈরি করতে পারব।’

    ‘মাটিতে সূর্য! তার মানে?’

    ‘এই জন্যই আপনাকে আজ এখানে আসতে বলা। আপনাকে কিছু দেখাতে চাই আমি।’

    ইরতেনসেনুকে অনুসরণ করে ওর গবেষণাগারে প্রবেশ করলেন রানি। ঘরের দেওয়ালের মধ্যে করা একটি খুপরিতে রাখা চুল্লীর আলোয় আলোকিত সেই ঘর। ঘরের মাঝখানে একটি কাঠের আসন, সেখানে বেশ কিছু প্যাপিরাসের পুঁথি অবিন্যস্ত ভাবে পড়েছিল। ইরতেনসেনু সেগুলোকে সরিয়ে রাখল একপাশে। তারপরে ঘরের এক কোণ থেকে একটি কাঠের বড় বাক্স নিয়ে এল। বাক্স খুলতেই দৃশ্যমান হল ভিতরে রাখা বস্তু। একটি কাচের গোলক, আকারে মানুষের মাথার তুলনায় সামান্য বড়। গোলকটি সম্পূর্ণ নয়। তার ফাঁকা অংশে লাগানো আছে ধাতব পাত, তা থেকে সরু সুতার মতো একটি অংশ উঠে গেছে গোলকের মধ্যে।

    ‘এটি কী?’

    ‘এই আমার আবিষ্কার রানি, এটিকে দেখাব বলে আজকে আপনাকে এখানে আসতে বলা।’

    হাতসেপসুত বেশ ধন্দে পড়লেন, ‘তুমি বলতে চাইছ এই গোলকই সূর্যের বিকল্প হবে?’

    ‘হ্যাঁ, আপনাকে একটি জিনিস দেখাই।’

    চুল্লীর মধ্যে রাখা ছিল একটি লোহার তৈরি পাত। এই ধাতু এ দেশে খুবই বিরল। আকাশ থেকে ধেয়ে আসা উল্কাতেই একমাত্র পাওয়া যায় একে। দেশের যত লোহা সব জমা হয় রাজ দরবারে। ইরতেনসেনু নিজের পদমর্যাদা বলে কিছু লোহা পেয়েছিল, এই টুকরোটি তার মধ্যে একটি। একটি আঁকশির সাহায্যে ইরতেনসেনু সেই পাতটিকে তুলে আনল চুল্লী থেকে। গনগনে আগুনের আঁচে সেই পাতে তখন কমলা আভা ফুটে উঠেছে। পাতটিকে দুটি কাদামাটির ইটের ওপরে রেখে তার ওপরে বসাল কাচের গোলকটিকে। গোলকের ধাতব অংশটি স্পর্শ করে রইল লোহার পাতকে।

    এবার অপেক্ষা।

    উৎসুক চোখে রানি তাকিয়ে ছিলেন গোলকের দিকে। ধীরে ধীরে গোলকের ভিতরে থাকা সরু সুতার মতো অংশটি লাল আভা ধারণ করল। তারপরে মনে হতে লাগল ওটি নিজেই একটি আগুনের টুকরো। সেই আগুনের আভা কাচের গোলক বেয়ে বাইরে আসতে লাগল। যদিও সেই আলো খুব সামান্যই, তাও রানির মনে বিস্ময় সৃষ্টির জন্য যথেষ্ট।

    ‘এ কী করে সম্ভব হল! এ কোন জাদু!’

    ‘জাদু নয় রানি। বিজ্ঞান। এই কাচের গোলকের ভিতরে যে সূক্ষ্ম তন্তুর মতো বস্তুটি দেখতে পাচ্ছেন তা আমার তৈরি এক সংকর ধাতু। এই ধাতু সামান্য তাপেই উত্তপ্ত হয়। আর সেই উত্তাপে উজ্জ্বল হয়ে ওঠে। তা থেকেই আলো আসে। কাচের গোলক সেই আলোকে প্রতিসারিত করে চারিদিকে। কিন্তু ক্ষীণ আলো কোন কাজের জন্যই যথেষ্ট নয়। যে উত্তাপ এর প্রয়োজন তা প্রায় গলন্ত লোহার পাতও দিতে অক্ষম। এখানেই আমি পিছিয়ে পড়েছি।’

    ‘তাহলে তুমি বলতে চাইছ….’

    ইরতেনসেনু জানে রানি বুদ্ধিমতী, তাঁর মুখের কথা শেষ হওয়ার আগেই সে বলল, ‘হ্যাঁ, আপনি ঠিকই ধরেছেন। পর্যাপ্ত পরিমানে তাপ এই ধাতুর তন্তুতে প্রবাহিত হলে যে আলো তৈরি হবে তা অন্ধকার রাতেও দিনকে ডেকে আনবে। ওপেতের উৎসবের দিন সূর্যগ্রহণের সময় এই যন্ত্রই আলো নিয়ে আসতে পারে। কিন্তু সেই তাপ উৎপাদনের সময়ে যে শক্তির প্রয়োজন হবে তা আমি তৈরি করে উঠতে পারিনি। সেই বিদ্যা এখনও আমার অধরা।’

    রানির মুখমণ্ডলে যে সামান্যতম আনন্দ ফুটে উঠেছিল তা ইরতেনসেনুর কথায় নিভে গেল আবার।

    ‘তাহলে উপায়? তোমার এই গোলকই আমায় চরম বিপদের হাত থেকে বাঁচাতে পারত। সেই আশাটুকুও আর রইল না!’

    ইরতেনসেনু রানির দিকে তাকিয়েই ছিল, এবারে দ্বন্দ্ব ভরা গলায় সে বলল, ‘একটি ক্ষীণ আশা এখনও আছে। আজকে আপনাকে এখানে আসতে বলার এটি দ্বিতীয় কারণ। প্রাসাদে প্রকাশ্যে এই কথা আমি আপনাকে বলতে পারতাম না।’

    ‘এই বিপদের দিনে তুমি আমার পাশে এসে দাঁড়াচ্ছ ইরতেনসেনু। নির্দ্বিধায় বলো তুমি কী চাও? যত সোনা, যত লোহা তোমার লাগবে নিতে পারো। আমি কোষাধ্যক্ষকে বলে রাখব। মন্দির নির্মাণের কাজ থেকেও আপাতত তোমায় অব্যাহতি দিলাম। আর বলো, কী চাই তোমার?’

    ‘সোনা আমার চাই না। হ্যাঁ, আরও লোহার প্রয়োজন অবশ্যই। তবে তার চেয়েও বেশি প্রয়োজন একজন মানুষকে।’

    ‘কে সে?’

    ‘মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত সেই ভিনদেশি কয়েদি।

    ‘কার কথা বলছ বলত?’

    বেশ কিছু আসামী এখন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত অবস্থায় বন্দি। ওপেতের উৎসবের পরেই তাদের সাজা হবে। তাদের মধ্যে অনেকেই ভিনদেশী। চুরির দায়ে ধরা পড়ে সাধারণত এরা। রানি বুঝতে চাইলেন ইরতেনসেনু ঠিক কার কথা বলতে চাইছেন। নামটি ইরতেনসেনু মুখে আনতে চাইছিল না। সেই নামের উচ্চারণে রানি হাতসেপসুতের প্রতিক্রিয়া তার ইচ্ছার অনুকূলে যাবে না, এই ছিল ইরতেনসেনুর আশঙ্কা। কিন্তু সেই নাম নিতেই হল। শব্দটি উচ্চারণের সময় গলা কেঁপে গেল তার।

    ‘অগস্ত্য!’

    অগস্ত্য কোন চোর নয়, খুন করতে যাওয়ার সময় ধরা পড়েছে সে। যাকে সে খুন করতে যাচ্ছিল স্বয়ং সেই মানুষটি আজ দাঁড়িয়ে রয়েছেন ইরতেনসেনুর সামনে। রানি হাতসেপসুত!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযখন কিডন্যাপার – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article হায়রোগ্লিফের দেশে – অনির্বাণ ঘোষ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }