Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারানো সূর্যের খোঁজে – অনির্বাণ ঘোষ

    লেখক এক পাতা গল্প293 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৬। ক্রীড়নক

    শ্বেতপুষ্পের গাছের নীচে দাঁড়িয়ে রয়েছে অগস্ত্য। নীলাভ আলোয় চতুর্দিক ভরে থাকলেও ঘন শাখাপ্রশাখা ভেদ করে সেই আলোর সামান্য অংশই বৃক্ষের নীচে এসে পৌঁছেছে। সেই ছায়াভরা মাটির উপরে বাদামি কালো রক্ত জমাট বেঁধে আছে। রক্তের তীব্র গন্ধে অগস্ত্য ভালোভাবে শ্বাস নিতে পারছে না। কিছুটা দূরে সে দেখছে এক মানুষের শরীরকে পড়ে থাকতে, কে ও? অগস্ত্যর মনে হল অনিকাদেবীর মৃতদেহ সেখানে। কিছুটা এগিয়ে গিয়ে তার ভ্রম ভাঙল, না তো, অনিকাদেবী নন, এ তো…

    সহসা নিজের বাম হাতে তীব্র যন্ত্রণা অনুভব করল অগস্ত্য, প্রবল ঝাঁকুনি দিয়ে সেই যন্ত্রণা তার চেতনাকে ফিরিয়ে আনল। ব্যথায় কঁকিয়ে উঠল সে। চোখ খুলেই সে দেখতে পেল উপলকে। উপলের চোয়াল শক্ত, সে দু’আঙুল দিয়ে অগস্ত্যর বাম হাতের ক্ষতের মধ্য থেকে একটি পাথরকে বার করে আনল, আবার তীব্র ব্যথায় চিৎকার করে উঠল অগস্ত্য। কিন্তু তার চিৎকার পাথুরে দেওয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে ঘুরে বেড়াতে লাগল।

    মাথাটি সামান্য তুলে অগস্ত্য দেখল সে শুয়ে রয়েছে সিন্ধুদেবীর গর্ভ মন্দিরের মেঝের উপরে! তার দু’হাত এবং পা কঠিন বন্ধনীতে বাঁধা। বাম হাতের ক্ষতচিহ্নের জায়গায় একটি টাটকা দীর্ঘ ক্ষত, তা থেকে রক্ত চুঁইয়ে পাথুরে মেঝের উপরে এসে পড়ছে। উপল একটি কাপড়ের টুকরো দিয়ে ক্ষতটিকে ঢেকে দেওয়া শুরু করল।

    অগস্ত্য উপলকে চিনতে পারছিল না। যেন সম্পূর্ণ অচেনা এক মানুষ তার সামনে বসে আছে। একেই সে শৈশবকাল থেকে নিজের ভাই বলে ভেবে এসেছে? এর সঙ্গেই কেটেছে তার কৈশোরের দিনগুলি? এই উপলই খরস্রতা পয়োষ্ণী নদীতে তাকে ডুবে যাওয়ার হাত থেকে বাঁচিয়েছিল? এই উপলকেই সে দেখেছে ইরতেনসেনুর গলা টিপে ধরতে?

    ‘ইরতেনসেনু কোথায়? কী হয়েছে তার!’

    আকুল কণ্ঠে বলে উঠল অগস্ত্য। হাতের তীব্র ব্যথাকে উপেক্ষা করে উঠে বসতে চাইল। উপল বলিষ্ঠ হাতে তাকে আবার শুইয়ে দিল।

    ‘তোমার প্রেয়সী জ্ঞান হারিয়েছিল মাত্র, তাকে উপল খুন করেনি। তার মৃত্যুর সময় এখনও আসেনি অগস্ত্য, তবে আর বেশি দেরীও নেই। সে তোমার কাছেই আছে দেখো।’

    বাকারির গলায় বিদ্রুপের ছাপ স্পষ্ট। উপল রক্তমাখা রত্নখণ্ডটিকে বাকারির হাতে দিল। বাকারি নীচু হয়ে বসে গর্ভমন্দিরের মাঝের বর্তুলাকার যে গর্তে হ্রদের জল জমে আছে, তাতে রত্নখণ্ডটিকে ধুতে লাগল। অগস্ত্য শুয়ে থাকা অবস্থাতেই ঘাড় কিছুটা ঘুরিয়ে দেখল সামান্য দূরে ইরতেনসেনুও শুয়ে রয়েছে। তারও হাত এবং পা শক্ত রজ্জু দ্বারা বাঁধা। তার জ্ঞান হয়তো কিছুক্ষণ আগে ফিরে এসেছে, অসহায় চোখে সে তাকিয়ে রয়েছে অগস্ত্যর দিকে। অগস্ত্য আবার একবার উপলের দিকে চাইল। উপল যেন ওকেই দেখছিল, চোখ নামিয়ে নিল সে। কাতর কণ্ঠে অগস্ত্য উপলকে বলল, ‘কেন উপল? কেন?’

    ‘আর কোন উপায় ছিল না অগস্ত্য। রত্নখণ্ডটিকে তুমি কোনভাবে ফিরিয়ে দিতে রাজি হতে না।

    ‘কিন্তু তুমি বিশ্বাসঘাতকতা করবে এইভাবে? এক রাত্রের মধ্যে?’

    অগস্ত্যর এই প্রশ্নে উচ্চস্বরে হাসতে লাগল বাকারি। তার চোখ মুখ দেখে এখন মনে হচ্ছে সাক্ষাৎ শয়তান যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে। শান্ত মিতভাষী বাকারি কোথাও যেন অদৃশ্য হয়ে গিয়েছে। বাকারি হাসি থামিয়ে বলল, ‘এক রাত্রের মধ্যে? তোমার বন্ধুটি শুধু এই একটি রাত্রেই তোমার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছে বলে ভেবেছ?’

    বাকারির কথার অর্থ অগস্ত্য বুঝতে পারল না, সে ভ্রু কুঁচকে চেয়ে রইল তার দিকে।

    ‘অবশ্য একে বিশ্বাসঘাতকতা আমি বলব না। উপল যা করেছে তা নিজের কাছে ঠিক মনে হয়েছে বলেই করেছে। কিছুক্ষণ আগের তোমাদের রুদ্ধদ্বার আলোচনার কথা উপল আমাকে বলেছে। কী যেন বলেছিলে তুমি? ও হ্যাঁ মনে পড়েছে, তুমি দৈবে বিশ্বাস করো না। এই শ্বেতপুষ্পের সন্ধানে এসে গর্ভরত্নের খোঁজ পাওয়াটা একেবারেই কাকতালীয় নয়! তাই তো? তুমি ঠিকই ভেবেছিলে, কাকতালীয় তো নয়ই। গোটাটাই অনেক আগে থেকে খুব যত্ন নিয়ে লেখা একটি নাটিকার অংশ। তুমি আর ইরতেনসেনু তার কুশীলব মাত্র।’

    ‘কী বলছ বাকারি? এই ষড়যন্ত্র তোমার করা!’ ইরতেনসেনু অবসন্ন গলায় বলল।

    ‘চুপ করো বিধর্মী!’ চিৎকার করে বলে উঠল বাকারি। শুয়ে থাকা ইরতেনসেনুর সামনে এগিয়ে গেল সে, তারপর প্রবল ঘৃণার সুরে বলল, ‘যেদিন থেকে আমার পিতা তোমাকে দত্তক নিয়ে এসেছে সেইদিন থেকে আমি তোমাকে ঘৃণা করি। তোমার জন্য আমার ভালোবাসা বিভক্ত হয়েছিল। যখন দেখতাম পিতা পরম আগ্রহ ভরে তোমাকে ওই গোপন ভাষার পাঠ করাচ্ছে অথচ তা জানার কোন অধিকার আমার নেই, তখনই আমার হৃদয় বিষিয়ে উঠত।

    ‘পিতার কাছ থেকে বারবার শুনে এসেছি, তুমিই যোগ্যতমা! দেখো আজকে তোমার কী পরিণতি হয়েছে! নিজের হাতে সেই পিতার নিজের প্রাণ দিয়ে রক্ষা করা গোপন ধন আমার হাতে তুলে দিলে!’

    ‘তাহলে পিতাকে তুমিই…!’

    ‘হ্যাঁ আমি, আমিই হত্যা করেছি তাঁকে।’

    ‘কিন্তু কেন? কীভাবে?’

    ‘এই কাজ অগস্ত্যর এই বন্ধুটি না থাকলে সম্ভব হতো না।’

    এই বলে উপলের দিকে আঙুল তুলে দেখাল বাকারি। উপল মাথা নীচু করে রইল। কিছুক্ষণ পর বলল, ‘এই রত্নের কাছে পৌঁছনোর জন্য বাকারিকে আমাকে সাহায্য করতেই হতো।

    ‘কিন্তু এই রত্নের খোঁজ তুমি পেলে কী ভাবে!

    ‘বাকারির থেকেই। আজ থেকে তিন মাস আগে। অসিরিয় দেশে বাণিজ্যের আদান প্রদান শেষ করে আমি থীবস নগরীতে বাণিজ্যের কাজে আসি। এমন আগেও কয়েকবার এসেছি। সেইবার তিনদিন ছিলাম থীবসে। প্রথম দিনের রাত্রিতে এক পানশালায় আমার সঙ্গে আলাপ হয় বাকারির। সেদিন প্রচুর নেশা করেছিল ও।

    ‘নেশার ঘোরে বাকারি আমাকে বলতে থাকে সে তার পিতাকে ঘৃণা করে, তার মধ্যে সব রকমের যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও এই বৃদ্ধ পিতার জন্য সে থীবসের মহামন্ত্রীর পদ লাভ করতে পারছে না। তার সেই পিতা নাকি মিশরীয় নয়, বিধর্মী। থীবসের মানুষকে ঠকিয়ে সে ফারাওয়ের সভাসদের আসন নিয়েছে।’

    ‘কিন্তু সেনেনমুতের আসল পরিচয় বাকারি জানল কীভাবে?’ অগস্ত্য জিজ্ঞাসা করল। সে বুঝতে পেরেছিল সেনেনমুত খুন হয়েছেন, কিন্তু সেই খুনি যে বাকারিই, তা সে যেন এখনও বিশ্বাস করতে পারছে না।

    ‘আমার বৃদ্ধ পিতাই একবার দুর্বল মুহূর্তে তাঁর জীয়নকাঠি আমার হাতে তুলে দিয়েছিলেন। একবার পিতার প্রবল জ্বর হয়, সেই সময় আমি তাঁর শুশ্রূষা করছিলাম। জ্বরের ঘোরে তিনি স্বজ্ঞানে ছিলেন না দু’দিন। সেই অবস্থায় তিনি বলছিলেন পুন্তের কথা, মেন্তুহোতেপের প্রহেলিকার কথা, সিন্ধুদেবীর গর্ভে থাকা আশ্চর্য রত্নের কথা। যেন পুন্তের কোন নাগরিকের সঙ্গেই বাক্যালাপ করছিলেন তিনি।

    ‘জ্বর থেকে সুস্থ হয়ে ওঠার পর অবশ্য আমি তাঁকে এর কিছুই জানাইনি। আমার প্রথমে মনে হয়েছিল পিতা প্রলাপ বকছেন। কিন্তু কিছুদিন তা নিয়ে ভাবার পর আমার মনে হল সত্যিই কথাগুলির মধ্যে যোগসূত্র আছে! শ্বেতপুষ্পের বৃক্ষ যে পুন্ত থেকে আহরিত তা থীবসের এক শিশুও জানে। আমি যখন উপলকে পিতার কথাগুলি বলি তখনই উপল আমাকে বলে সে আমাকে সাহায্য করবে মহামন্ত্রী পদে আসীন হতে, যদি আমি তাকে পুন্ত শহরের হদিশ দিতে পারি।’

    এই সময় উপল বলল, ‘বাকারির কথা শুনে আমার মনে হয়েছিল এই একমাত্র সুযোগ রত্নখণ্ড দুটিকে ফিরিয়ে দেওয়ার! কিন্তু মেন্তুহোতেপের প্রহেলিকার পাঠ সেনেনমুত তাঁর জীবদ্দশায় করতে রাজি হতেন না।

    ‘তাই তাঁকে মরতে হল। উপল আমাকে গন্ধক দিয়েছিল বেশ কিছুটা। ভারতবর্ষ থেকে এই গন্ধক ও রপ্তানি করে অসিরিয়দের কাছে, তারা নাকি তা চিকিৎসায় ব্যবহার করে। উপলের দেওয়া গন্ধক আমি মিশিয়ে দিই পিতার খাদ্যে। কিছুদিনের মধ্যেই পিতা মারা যান, তাঁর মৃত্যুর কারণ থীবসের রাজবৈদ্যও বুঝতে পারেনি। গন্ধকের ব্যবহারই যে মিশরীয়রা জানে না। এতে আমার সুবিধাই হল।’

    ইরতেনসেনু নিজের কানকে বিশ্বাস করতে পারছিল না। কেমন অবলীলায় পিতৃহত্যার কথা বলে চলেছে বাকারি। তার গলার স্বর একটুও কাঁপছে না। সে বলতে লাগল, ‘পিতার মৃত্যুর পর মহামন্ত্রী হওয়া আমার জন্য খুবই সহজ ছিল। কিছুদিনের মধ্যেই আমি সেই পদ পাই। কিন্তু উপলকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি আমাকে পালন করতে হতো। পিতার মৃত্যুর পর আর একজনই ছিল যে মেন্তুহোতেপের প্রহেলিকার পাঠ করতে পারবে, সে ছিলে তুমি ইরতেনসেনু। তোমাকে তাই মিশরে নিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল। এক রাত্রের অন্ধকারে আমি ফারাও হাতসেপসুতের মন্দিরের বাইরের বৃক্ষটির মাটিতে মিশিয়ে দিলাম উপলের দেওয়া বাকি গন্ধকটুকু।

    সেই বৃক্ষটিও অচিরেই শুকিয়ে গেল। ফারাও এই খবরে যে অস্থির হয়ে উঠবেন তা আমি জানতাম। ফারাওয়ের সিংহাসনই যে আর সুরক্ষিত নয় তখন। তখন আমিই ফারাওকে জানালাম যে মেন্তুহোতেপের যে প্রহেলিকা ছ’শো বছর ধরে রাজগ্রন্থাগারে রক্ষিত আছে তাতেই পাওয়া যাবে পুন্ত নগরীর ঠিকানা, আর সেই প্রহেলিকা যে ভাষায় লেখা তার পাঠ করতে পারবে একমাত্র তুমি। তারপর বাকিটা তো তুমি জানোই।’

    এই কথা বলতে বলতে বাকারি উপলের দিকে এগিয়ে গেল, উপলের চোখে তখন জল। সে অগস্ত্যর দিকে তাকিয়ে বলল, ‘আমাকে তুমি ক্ষমা করো ভাই। জানি আমি ক্ষমার অযোগ্য, তবুও এই জগতে তোমার চেয়ে আপন আমার আর কেউ নেই। এই রত্নখণ্ডের ভার আমি আর বইতে পারছিলাম না। তাই এই ছলের আশ্রয় নেওয়া।

    ‘কিন্তু এর জন্য তুমি খুন করতেও দু’বার ভাবলে না উপল!’

    ‘এই রত্নের জন্য সহস্র মানুষের মৃত্যু হয়েছিল অগস্ত্য। আরও একটি প্রাণের বলি তার কাছে তুচ্ছ! আর কোন উপায় ছিল না। সেনেনমুত বেঁচে থাকলে পুন্তের খোঁজ আমরা কোনভাবেই পেতাম না। কুন্দিনাপুরীতে আমি ফিরে আসার পর অপেক্ষা করছিলাম কখন ফারাওয়ের বার্তা এসে পৌঁছবে ইরতেনসেনুর কাছে। আমি জানতাম ফারাওয়ের অনুরোধকে সে অগ্রাহ্য করতে পারবে না। আর সেই যাত্রার সঙ্গী হবে তুমিও। রত্নের আরেকটি খণ্ডের জন্য তোমাকেও এখানে নিয়ে আসার প্রয়োজন ছিল।’

    ‘আর তোমার আসা সুনিশ্চিত করতে ফারাওয়ের সম্পুটে তোমার নামটিও যোগ করার মন্ত্রণা আমিই হাতসেপসুতকে দিয়েছিলাম। বলেছিলাম এই কার্যে আমাদের অগস্ত্যর বুদ্ধিরও প্রয়োজন হবে। নাহ, এবারে এখনকার কাজে মন দেওয়া যাক।’

    এই বলতে বলতে বাকারি এবার উপলের পাশে গিয়ে দাঁড়াল। উপল গুহামন্দিরের মেঝেতে হাঁটু মুড়ে বসে নিজের ডান হাত বুকের বাম দিকে নিয়ে এসে নত হয়ে প্রণাম জানাল সিন্ধুদেবীকে। পরম ভক্তিভরে দেবীর উদ্দ্যেশে বলল, ‘হে দেবী! সহস্র বছর আগে যে পাপ সৌমিররা করেছিল তার প্রায়শ্চিত্ত আমি আজ করতে চলেছি। রত্নখণ্ডদুটিকে আজ আমি আপনার গর্ভে ফিরিয়ে দেব। আপনি আমাদের ক্ষমা করুন।’

    এই বলে দু’পা ভাঁজ করে মেঝের উপরে বসল সে। হাতের ছুরিটি সে দিল বাকারিকে। ডান হাতের তর্জনী দিয়ে সে নির্দেশ করল বামকাঁধের উপরের ক্ষতচিহ্নের দিকে। বাকারি ছুরি হাতে নিয়ে ঝুঁকে এল উপলের কাছে। তারপর ছুরিটার ধারালো ডগা দিয়ে একটানে কেটে ফেলল কাঁধের চামড়া। চোয়াল শক্ত করে ছিল উপল, তার মধ্যেও যন্ত্রণায় কঁকিয়ে উঠল সে।

    উপলের ক্ষতের মধ্য থেকে একটি ছোট রত্নখণ্ড বার করে আনল বাকারি। তারপর উপলের ডান হাতে খণ্ডটিকে দিল। নিজের চোখের সামনে নিয়ে এসে রত্নখণ্ডটিকে দেখতে লাগল উপল, তার মুখে প্রশান্তির আনন্দ ফুটে উঠেছে। এবার সে দুটি খণ্ডই দেবীর গর্ভে স্থাপন করে পাপমুক্ত হবে!

    সহসাই অগস্ত্য চিৎকার করে উঠল, ‘উপল! সাবধান!’

    উপল অগস্ত্যের চিৎকার শুনে সম্বিত ফিরে পাওয়ার আগেই দেখল বাকারি তার উপরে ঝাঁপিয়ে পড়েছে! সে সামান্যতম প্রতিরোধ করার আগেই উপলের বুকের বাম দিকে ছুরিটি আমূল বসিয়ে দিল বাকারি! যন্ত্রণায় আর্তনাদ করে উঠল উপল! সেই আর্তনাদের সঙ্গে মিশে গেল অগস্ত্যর আর্ত চিৎকার। তার চোখের সামনে উপলকে খুন করল বাকারি! ইরতেনসেনুও কঁকিয়ে কেঁদে উঠল এবার। কিন্তু সেই দিকে বাকারির কোন ভ্রুক্ষেপ নেই।

    মাটিতে এলিয়ে পড়া উপলের হাতের তালু থেকে রত্নখণ্ডটিকে তুলে নিল বাকারি। তারপর নিজের কোমর বন্ধের ভিতর থেকে বার করে আনল অন্য রত্নখণ্ডটিকে। তীর্যক হেসে বলল, ‘তোমার এই বন্ধুটি বড়ই বোকা অগস্ত্য। প্রথমে যখন ওর সঙ্গে কথা হয়েছিল তখন ভেবেছিলাম মন্ত্রীত্বেই আমি খুশি, ওই রত্নখণ্ড নিয়ে ও যা ইচ্ছা তাই করুক। কিন্তু পরে মনে হল ওই রত্নের যে আশ্চর্য ক্ষমতার কথা ও বলেছে তাকে তো অন্য কাজে ব্যবহার যায়! মিশরের সিংহাসনে এক নারী ফারাও হয়ে বসে আছে, এক নারী! যার অধিকার কেবল ফারাওয়ের বিছানায় এবং অন্তঃপুরে!

    ‘আমি গোপনে প্রতিবেশী দেশ হিতাইতের রাজার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলাম। এই গর্ভরত্ন নিয়ে আমি হিতাইতদের দেশে ফিরব। উপলের বানানো নকশা দেখে সেশেনুর জঙ্গলের মধ্য দিয়ে পথ চলতে আর কোন অসুবিধা হবে না আমার। হিতাইতরা তাদের সর্বশক্তি দিয়ে আক্রমণ করবে থীবসকে। তার আগে আমি নগরীতে প্রচার করে দেব শ্বেতপুষ্পের বৃক্ষটির নষ্ট হয়ে যাওয়ার কথা।

    ‘যুদ্ধের দেবতা মন্তু রুষ্ঠ হয়েছে শুনলে বোকা মিশরীয়রা আর মেরুদণ্ড তুলে দাঁড়াতে পারবে না। এই অলৌকিক রত্নের ঔজ্জ্বল্যের সামনে তারা হিতাইতদের বশ্যতা শিকার করবে। ওই নারী হাতসেপসুতকে আমি নিজের হাতে বধ করব সেদিন, তারপর থীবসের উপরাজা হয়ে রাজত্ব করব!’

    ‘পাষণ্ড! নরকেও স্থান হবে না তোমার!’

    চিৎকার করে বলে উঠল অগস্ত্য। তার কথায় বাকারি হাসতে লাগল। তারপর সামনে এসে তার ওপরে ঝুঁকে পড়ে বলল, ‘নরক বলে যে কিছু আছে তা আমি মানি না অগস্ত্য। পাপ বলেও কিছু হয় না। যা আছে তা এই জীবন, যাকে আমি অনুভব করতে পারছি আমার শরীর দিয়ে। এই এক জীবনকেই আমি ভোগ করব আমার ইচ্ছা মতো!’

    নিজের হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অসহায়ের মতো মেঝের উপরে পড়েছিল ইরতেনসেনু। চোখের সামনে উপলকে খুন হয়ে যেতে দেখেও সে কিছু করতে পারেনি। নিষ্ফল কণ্ঠে সে বলল, ‘তুমি কী ভাবছ? তুমি এই রত্ন নিয়ে পালাতে পারবে? তার আগেই পুন্তের অধিবাসীরা তোমাকে ধরে ফেলবে।’

    ‘সে আর সম্ভব নয় তো। গোটা পুন্ত শহর এখন ঘুমোচ্ছে, আমি তাদের নৈশাহারে যে বিষ মিশিয়ে দিয়েছিলাম তাতে কয়েক প্রহরের আগে কারোর ঘুম ভাঙবে না। পথের কাঁটা হয়ে দাঁড়াতে পারতেন ওই বৃদ্ধা অনিকাদেবী। তাঁর চোখ দেখে মনে হয়েছিল তিনি যেন আমার মনের ভিতরটাকে পড়তে পারছেন। তাই সন্ধ্যাতেই আমি তাঁকে শেষ ঘুমে পাঠিয়ে দিয়েছি। তাঁর মৃতদেহ তো তোমরা নিজেরাই দেখেছ।’

    এই কথা বলতে বলতে বাকারি এগিয়ে গেল দেবীর আসনের দিকে। সিঁড়ি দিয়ে উপরে উঠল। অসহায় চোখে অগস্ত্য আর ইরতেনসেনু দেখল তাচ্ছিল্য ভরে নিজের বাম হাতে সিন্ধুদেবীর গর্ভ থেকে রত্নটিকে তুলে আনল সে। তারপর ডান হাতে ধরা রত্নখণ্ড দুটি তার উপরে বসিয়ে দিল। সঙ্গে সঙ্গে রত্নটি যেন শতগুণ উজ্জ্বল হয়ে উঠল! তীব্র নীলাভ সাদা আলোয় ভরে উঠল গর্ভমন্দির। রত্নটিকে দু’হাতে মাথার উপরে ধরে উন্মাদের মতো হাসতে লাগল বাকারি। তাকে দেখে মনে হচ্ছিল যেন কোনও মানুষ নয়, সাক্ষাৎ শয়তান বিশ্রীভাবে হেসে চলেছে। ক্ষমতার লোভ লেগে রয়েছে তার চোখ মুখে।

    সহসাই এক গর্জন ভেসে এল গুহা মন্দিরের বাইরে থেকে। সেই জান্তব গর্জন ছাপিয়ে গেল বাকারির উন্মত্ত হাসিকে। অগস্ত্যর রক্ত যেন শীতল হয়ে গেল এই আওয়াজে। জান্তব ধ্বনির তীব্রতা দ্রুত বাড়তে লাগল। নিমেষের মধ্যে গুহামন্দিরের ভিতর প্রবেশ করল একটি প্রাণী এবং অতর্কিতে ঝাঁপিয়ে পড়ল বাকারির উপরে। একটি ছোট আর্তনাদ বেরিয়ে এল বাকারির মুখ থেকে, তারপরই শোনা যেতে লাগল হাড় ভাঙার শব্দ।

    জন্তুটি বাকারিকে জড়িয়ে সিঁড়ির নীচে নেমে এসেছে। একে আগে দেখেছে ইরতেনসেনু এবং অগস্ত্য। রাজা মেন্তুহোতেপের মন্দির গাত্রে, এই গুহার অলিন্দে! এর শরীর চিতাবাঘের মতো, গাঢ় হলুদ চামড়ার উপরে গোলাকার কালো সাদা দাগ। পায়ের পাতায় নখর থাকলেও আঙুলগুলি পাতলা চামড়া দিয়ে জোড়া। কাঁধের কাছে একটি লম্বা ফাঁক, সেখানে মাছের ফুলকার মতো দেখতে এক দেহ যন্ত্র। দানবটির কাঁধের পরের অংশ একটি ভয়াল ময়াল সাপের। সাক্ষাৎ কামারু দাঁড়িয়ে রয়েছে অগস্ত্যদের সামনে!

    দানবের শরীর বেয়ে এখনও ঝরে পড়ছে হ্রদের জল। সে বেশ কয়েকটি পাকে পেঁচিয়ে ফেলেছে বাকারিকে। তার বাঁধন যত শক্ত হচ্ছে ততই বাকারির শরীরে একটি করে হাড় ভেঙে যাচ্ছে। ভয়ে এবং শ্বাসকষ্টে বাকারির চোখ দুটি লাল হয়ে গেছে, চোখের কোটর থেকে যেন তারা ঠিকরে বেরিয়ে আসতে চাইছে। একসময়ে মটমট শব্দে ভেঙে গেল বাকারির পাঁজরের সব কটি হাড়। এক ঝলক রক্ত বেরিয়ে এল বাকারির মুখ দিয়ে, তারপরই তার প্রাণহীন মুণ্ডটি কাত হয়ে এলিয়ে পড়ল।

    কামারু তার বাঁধন আলগা করল। বাকারির যে শরীরটা পাথরের মেঝেতে ধপ করে পড়ল তাকে আর চেনা যাচ্ছিল না। দুমড়ে মুচড়ে গেছে শরীরটি। কামারু এবার তাকাল অগস্ত্যর দিকে। ধীর পায়ে এগিয়ে এল। তার ময়াল সাপের মতো মুখটি নীচু হয়ে মাটিতে পড়ে থাকা অগস্ত্যর মুখের কাছে এল। দু’দিকে চেরা জিভ মুখের বাইরে ভিতরে আসা যাওয়া করছে। মাথাটি স্থির হয়ে আছে অগস্ত্যর সামনে। সাপের গরম শ্বাস অগস্ত্যর মুখের উপরে এসে পড়ছিল। সে স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে ছিল কামারুর দিকে। কামারুর চোখদুটি অগ্নিকুণ্ডের লেলিহান শিখার মতো জ্বলছে! প্রতিটি মুহূর্তকে যেন মনে হচ্ছে এক একটি বছর।

    কতক্ষণ কামারু এইভাবে অগস্ত্যর দিকে তাকিয়ে ছিল তা সে জানে না। এক সময় সেই দানব মুখ ঘুরিয়ে ইরতেনসেনুর দিকে তাকাল। তারপর এগিয়ে গেল মাটিতে পড়ে থাকা বাকারির শরীরের কাছে। কামারু এবার মুখে করে বাকারির ঘাড়টিকে ধরে ধীর পায়ে গুহামন্দির থেকে বেরিয়ে গেল। কিছুক্ষণ পর অগস্ত্যরা শুনল জলের আওয়াজ। সিন্ধুদেবীর গর্ভরত্নটি তখন পড়ে আছে দেবীর আসনের কাছে। তার উজ্জ্বল ছ’টায় তখনও ভেসে যাচ্ছে গর্ভমন্দির।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleযখন কিডন্যাপার – অদ্রীশ বর্ধন
    Next Article হায়রোগ্লিফের দেশে – অনির্বাণ ঘোষ

    Related Articles

    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    বিপিনের সংসার – বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়

    January 8, 2026
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    ভয় সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    কিশোর অ্যাডভেঞ্চার সমগ্র – হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়

    December 9, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    প্রকাশ্য দিবালোকে – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 18, 2025
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    তারপর কী হল – সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়

    November 17, 2025
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    শর্ম্মিষ্ঠা নাটক – মাইকেল মধুসূদন দত্ত

    November 11, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }