Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারিয়ে যাওয়া খুনিরা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প267 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    নৃশংস হত্যা

    ডাক্তার জৈন ওই ভয়ংকর দৃশ্যটার বর্ণনা দিতে গিয়ে থরথর করে কাঁপছিলেন, ”ইনস্পেক্টর, আপনি বিশ্বাস করবেন না, আমার শরীর ভয়ে বরফ হয়ে গিয়েছিল। আ—আমি দেখলাম, আমার স্ত্রী বিদ্যা নর্দমার মধ্যে পড়ে রয়েছে, ওর গোটা শরীরটা রক্তে ভেসে যাচ্ছিল, মনে হচ্ছিল কোনো হিংস্র জন্তু যেন তার ধারালো নখের আঘাতে তার গোটা মুখটা ক্ষতবিক্ষত করে দিয়েছে, এছাড়াও সারা দেহে আঘাত!”

    ”তারপর?” দিল্লি পুলিশের ক্রাইম ব্রাঞ্চের দুঁদে ইনস্পেক্টর ফকির চাঁদ প্রশ্ন করলেন।

    ”তারপর, আমি ভয়ে এমন চিৎকার করে উঠি, বাড়ি থেকে আমার চাকর—খানসামারা ছুটে আসে, ওরাও ওই দৃশ্য দেখে ভয়ে আঁতকে ওঠে। আমার ম্যানেজার সুখলাল, সে বলে মেমসায়েব হয়তো এখনও বেঁচে আছেন!”

    ”আপনি থাকতে সুখলাল কেন? আর সুখলাল কী করে বুঝল আপনার স্ত্রী বেঁচে ছিলেন?”

    ”সুখলাল শখে কোবরেজি করে, নাড়ির জ্ঞান আছে ওর।” ডাক্তার জৈন লাল চোখে তাকালেন, ”আমার তখন কাণ্ডজ্ঞান নেই ইনস্পেক্টর!”

    ”আচ্ছা। তারপর?”

    ডা জৈন ক্লান্ত চোখে বললেন, ”তারপর আমি আর দেরি করিনি। সবাই ধরাধরি করে বিদ্যাকে গাড়িতে তুলে দিল, আমি ওকে নিয়ে বাহাদুর শাহ জাফর মার্গে ডা এস কে সেনের নার্সিং হোমে নিয়ে চলে গেলাম। কিন্তু ডাক্তার সেন দেখেই বললেন ও আর নেই।” ডা জৈন একটা চাপা নিশ্বাস ফেললেন।

    ঘটনাটা বর্ণনা করতে গিয়ে দুঃখে কষ্টে তাঁর গলা প্রায় বুজে এল।

    ইনস্পেক্টর ফকির চাঁদ সামান্য ভ্রূ কুঁচকোলেন। তাঁর মনে অনেক প্রশ্ন বুদবুদ কেটে উঠছিল, অন্য কেউ হলে তিনি মিসাইলের মতো প্রশ্ন ছুঁড়তেন, কিন্তু হাই প্রোফাইল মানুষ এই ডা জৈন, দুমদাম প্রশ্ন করা যায় না।

    ডাক্তার এন এস জৈন খোদ ভারতের রাষ্ট্রপতি ভি ভি গিরির চক্ষুবিশেষজ্ঞ, বর্তমানে দেশের সেরা চোখের ডাক্তার। সম্প্রতি পদ্মশ্রী খেতাবও পেয়েছেন। ডা জৈন নাকি ধন্বন্তরি, তিনি অন্ধ মানুষকেও দৃষ্টিদান করতে পারেন।

    ফকির চাঁদ কিছু—একটা ভাবতে ভাবতে ঘড়ির দিকে তাকালেন, ঘড়িতে রাত দশটা। খুনটা হয়েছে আন্দাজ সন্ধ্যে সাতটা পনেরোর সময়। ইনস্পেক্টর আবার ডাক্তারের দিকে ফিরলেন। ডা জৈনকে এখন পরিস্থিতির আকস্মিকতায় বিধ্বস্ত দেখালেও একঝলক তাকালেই বোঝা যায় তিনি আদ্যন্ত সুপুরুষ, এবং ততটাই শৌখিন মানুষ। পরনের স্যুট, প্যান্ট, টাই থেকে শুরু করে কবজিতে বাঁধা ঘড়ি, কোনোটাই এদেশের নয়।

    এখন অবশ্য সেই বিদেশি জামাতে রক্তের দাগ শুকিয়ে রয়েছে।

    ফকির চাঁদ বললেন, ”আপনার বাড়ি আর চেম্বার দুটোই তো ডিফেন্স কলোনিতে, ওখান থেকে বাহাদুর শাহ জাফর মার্গ তো অনেক দূর; অন্তত দশ কিলোমিটার। অতদূরে না—গিয়ে কাছাকাছি কোথাও নিয়ে গেলেন না কেন? আর পুলিশেই বা খবর দিলেন না কেন?” কথাটা বলে তিনি সামনে রাখা জলের গ্লাসটা বাড়িয়ে দিলেন ডাক্তারের দিকে, ”নিন, জল খান।”

    ডা জৈন ঢকঢক করে জলটা খেলেন, ”ডা এস কে সেন আমার বন্ধু; ওই বিপদে মাথা ঠিক কাজ করছিল না, তাই ওঁরা কথাই প্রথমে মনে পড়েছিল। তারপর ডা সেনই ওখান থেকে পুলিশে ফোন করে খবর দেন।”

    আধঘণ্টা পর …

    ডা জৈন যে চেয়ারে বসেছিলেন, এখন সেখানে বসে আছেন ডা এস কে সেন। তাঁর মুখচোখ দেখেই বোঝা যাচ্ছে তিনি রীতিমতো ক্ষুব্ধ।

    ”কী হল, আপনাকে দেখে মনে হচ্ছে ভীষণ রেগে আছেন?” ইনস্পেক্টর ফকির চাঁদ নতুন আনা জলের গ্লাসটা বাড়িয়ে দিলেন এই ডাক্তারের দিকে।

    ”না, আপনিই বলুন ইনস্পেক্টর, ডা জৈন এত বড়ো ডাক্তার হয়ে কী করে এই ভুলটা করলেন, আমাকেই বা কেন খামোখা জড়ালেন! বডি আমার নার্সিং হোমে নিয়ে আসার অনেক আগেই ওঁর স্ত্রী মারা গিয়েছেন; সেখানে পুলিশে খবর না—দিয়ে, দুম করে আমার কাছে নিয়ে এসে আমাকে জড়ানোর কোনো মানে হয়! একে আমার নার্সিং হোম নতুন, তার ওপর এই কেলেঙ্কারি।” ডা এস কে সেন বিরক্তকণ্ঠে বললেন, ”আবার আমাকে বার বার বারণ করছিলেন যাতে পুলিশে ফোন না—করি। চিন্তা করুন, ওঁর মতো মানুষের এই ভয় মানায়!”

    ফকির চাঁদ মন দিয়ে শুনছিলেন, ”ডা জৈন কী বলেছিলেন আপনাকে?”

    ”উনি বললেন, আজ সন্ধ্যে বেলা এক আত্মীয়র বাড়ি ওঁদের দু—জনের নিমন্ত্রণ ছিল, ডিফেন্স কলোনিতেই। উনি চেম্বার থেকে ফিরে স্ত্রীকে তৈরি হতে বলে স্টাডিরুমে একটা দরকারি চিঠি দ্রুত লিখছিলেন। এইসময় তাঁর মনে হল পাশ দিয়ে যেন বিদ্যা চলে গেলেন বাইরে। তার ঠিক পরেই তিনি একটা নারীকণ্ঠের তীব্র আর্তনাদ শুনতে পেয়ে বাইরে যান, গিয়ে দেখেন, দুটো লোক দূরে পালিয়ে যাচ্ছে।”

    পাশ থেকে সাব—ইনস্পেক্টর উদয় চোপড়া চোখ বড়ো বড়ো করে বলতে যাচ্ছিল, ”স্যার, এ তো পুরো অন্য স্টেটমেন্ট …!”, ফকির চাঁদ সঙ্গেসঙ্গে উদয়কে থামিয়ে দিলেন।

    ১৯৭৩ সালের ৪ ডিসেম্বর দিল্লির অভিজাত এলাকা ডিফেন্স কলোনিতে বিখ্যাত ডাক্তার নরেন্দ্র সিং জৈনের স্ত্রী বিদ্যা জৈনের নৃশংস হত্যা সেইসময় সারা দেশে ঝড় তুলে দিয়েছিল। বিদ্যার শরীরে মোট চোদ্দোটা ধারালো ছুরির আঘাত পাওয়া গিয়েছিল। বোঝাই যাচ্ছিল অপরাধী তীব্র আক্রোশে ফালাফালা করেছে তাঁকে।

    একজন অভিজাত উচ্চবর্গের গৃহবধূর প্রতি কার এমন আক্রোশ থাকতে পারে?

    তা জানতে হলে আগে জানতে হবে ১৯৭৩ সালের কুখ্যাত বিদ্যা জৈন হত্যা মামলার নেপথ্যকাহিনি।

    আগেই বলেছি, ডা নরেন্দ্র সিং জৈন দেশখ্যাত চক্ষুবিশারদ ছিলেন। আজ থেকে প্রায় পঞ্চাশ বছর আগেকার কথা, তখনই প্রায় এক লক্ষ টাকা রোজগার করতেন মাসে। স্বয়ং রাষ্ট্রপতির ব্যক্তিগত চিকিৎসক হওয়ায় মান্যগণ্য ব্যক্তিদের সঙ্গে ছিল নিয়মিত ওঠা—বসা। এ ছাড়াও স্থাবর—অস্থাবর মিলিয়ে অগাধ সম্পত্তি। বয়স পঞ্চাশের ওপরে, বড়ো ছেলে ইতিমধ্যেই ডাক্তারি পাশ করে হাসপাতালে ঢুকেছে, ছোটো ছেলে ডাক্তারি পড়ছে।

    কিন্তু তা সত্ত্বেও ব্যস্ত জীবনে নারীর প্রতি ছিল ডা জৈনের ভীষণ দুর্বলতা। প্রায়ই তাঁকে বিভিন্ন মহিলা বা কলগার্লের সঙ্গে ক্লাবে, সিনেমায়, রেস্তরাঁয়, এমনকী হোটেলে রাত কাটাতেও দেখা যেত।

    এত স্বনামধন্য ডাক্তারের এমন চরিত্রের জন্য বন্ধুত্বস্থানীয় অনেকেই তাঁকে সাবধান করতেন, কিন্তু স্বভাব তো অত সহজে পালটায় না।

    যে সময়ের কথা বলছি, সেই সময়ে ডাক্তারের রক্ষিতা ছিল চন্দ্রেশ শর্মা। ঘটনায় ঢোকার আগে চন্দ্রেশ সম্পর্কে কিছু বলে নেওয়া প্রয়োজন।

    আমরা যতই লিঙ্গসাম্যের ধ্বজা ওড়াই না কেন, অস্বীকার করে লাভ নেই, কিছু কিছু মহিলা আজও আছেন, যাঁরা নিজেদের গুণে, নিজেদের ধীশক্তিতে নয়—রূপ যৌবনকে মই হিসেবে কাজে লাগিয়ে উপরে উঠতে চান, আর বিত্ত বিলাসের লোভে যে—কোনো পুরুষের অঙ্কশায়িনী হতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধা করেন না। যুগে যুগে এই ধরণের রমণীর আবির্ভাব হয়েছে, এবং চন্দ্রেশ শর্মা তেমনই একজন।

    দরিদ্র পরিবারের মেয়ে, অল্পবয়সে তার বিয়ে দেওয়া হয়েছিল সাধারণ সওদাগিরি অফিসে কাজ করা এক কেরানির সঙ্গে। চন্দ্রেশ তার স্বামীকে সহ্য করতে পারত না, বার বারই তার মনে হত, এই আটপৌরে জীবন তার জন্য নয়। সে জন্মেছে অনেক বড়ো কিছু হওয়ার জন্য।

    ঈশ্বর বোধ হয় চন্দ্রেশের ডাক শুনেছিলেন, বিয়ের কয়েক বছরের মধ্যেই চন্দ্রেশের স্বামী অল্প ভুগে পৃথিবী থেকে বিদায় নিলেন।

    চন্দ্রেশ জলে পড়ল বটে, তার শ্বশুরবাড়ি বাপের বাড়ি দুই তরফই গরিব; তবু মনে মনে যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচল। তার মধ্যে যা—কিছুই থাকুক বা না থাকুক, ছলা কলা করে পুরুষদের মাথা ঘুরিয়ে দেওয়ার চাপল্য ছিল যথেষ্ট। ফলে অল্পদিনের মধ্যেই সে বেশ অর্থবান একটা পুরুষ পেয়ে গেল। হোক মধ্যবয়স্ক, আর্মির মস্ত অফিসার, পয়সা অঢেল। চন্দ্রেশ আর দু—বার ভাবল না। আগের পক্ষে তার একটা ছেলেও হয়েছিল, আর্মি অফিসার তার সেই ছেলের দায়িত্ব নিতেও রাজি হয়ে গেলেন। চন্দ্রেশ সানন্দে ঝুলে পড়ল তাঁর গলায়।

    বিয়ের পর কয়েক মাস ভালোই কাটল। তারপর একদিন দিল্লিতেই এক পার্টিতে ঘটনাচক্রে দেখা চন্দ্রেশের সঙ্গে আলাপ হল ডা জৈনের।

    তখন চন্দ্রেশের বয়স ছাব্বিশ বছর, তাকে দেখতে যে অপরূপ সুন্দরী তা নয়, কিন্তু তার চটক আর যৌন আবেদন এমনই মন মাতাল করা যে, ডা জৈন সেই ডাকে সাড়া না দিয়ে পারলেন না। চন্দ্রেশ একদিন ছল করে ডা জৈনের চেম্বারে চোখ দেখাতে এল।

    দু—জনই একইধরনের, ডা জৈন বেশিদিন কোনো রক্ষিতার প্রতি অনুরক্ত থাকতে পারেন না, ওদিকে চন্দ্রেশ সেই আর্মি অফিসারের চেয়েও বড়ো শিকার পেয়ে উৎফুল্ল হয়ে পড়ল।

    পরকীয়ার আকর্ষণ বড়ো সাংঘাতিক। শুরু হল অসমবয়সি দু—জনের দামাল প্রেম। ক্রমশ পার্টি, হোটেলের ঘর পেরিয়ে তা পৌঁছোল দূরদূরান্ত ভ্রমণে।

    ডা জৈনের স্ত্রী বিদ্যা অনেক দিন আগেই হাল ছেড়ে দিয়েছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন, জোর করে আর যাই হোক বিশ্বস্ততা পাওয়া যায় না।

    কিন্তু চন্দ্রেশের স্বামীর কানে খবরটা উঠতে খুব বেশি দেরি হল না। শুরু হল তীব্র দাম্পত্যকলহ। অবশেষে একদিন দু—জনের ডিভোর্স হয়ে গেল।

    চন্দ্রেশ বিশেষ বিব্রত হল না। তার এখন পাখির চোখ ডা জৈনের প্রভূত বিত্তের ওপর, আর্মি ক্যাপ্টেনের সম্পত্তি সেখানে নেহাতই তুচ্ছ!

    একদিন ডা জৈন তৈরি হচ্ছেন, তিনি বোম্বাই যাবেন, চোখের ওপর এক সেমিনারে বক্তৃতা দিতে, চন্দ্রেশ মুখ ভার করল, ”তুমি খালি একাই যাও, আমাকে নিতে হবে না!”

    ডা জৈনও চাইছিলেন চন্দ্রেশকে নিয়ে যেতে, কিন্তু মুশকিলটা হল তাঁর স্ত্রী বিদ্যার এক ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বোম্বাইয়ে থাকেন। হোটেলে দেখা করতে এলে এক বিতিকিচ্ছিরি কাণ্ড হবে। যতই যাই হোক, আইনত বিদ্যা আর তিনি এখনও স্বামী—স্ত্রী। অথচ চন্দ্রেশের তীব্র শারীরিক মোহও অগ্রাহ্য করা দুঃসহ।

    হঠাৎ বিদ্যুৎচমকের মতো তাঁর মাথায় একটা বুদ্ধি এল, ”চন্দ্রা, তোমাকে এই মুহূর্ত থেকে আমার প্রাইভেট সেক্রেটারি নিযুক্ত করলাম। আমি সেমিনারের অরগানাইজারদের বলে দিচ্ছি, তারা তোমারও বন্দোবস্ত করবে। আমি তোমাকে উপযুক্ত মাইনেও দেব।”

    শেষ বাধাটুকুও ঘুচে গেল, চন্দ্রেশ ছুটে এসে ডা জৈনের বুকে মাথা রাখল।

    ফিরে আসি খুনের তদন্তে।

    ইনস্পেক্টর ফকির চাঁদ তদন্তে নেমেই ডাক্তার আর চন্দ্রেশের গুপ্ত প্রণয়ের কথা বেশ দ্রুত জেনে গেলেন। মানুষের মধ্যে তখন গুঞ্জন চলছে, একজন নিরীহ গৃহবধূর প্রতি কার এমন আক্রোশ থাকতে পারে?

    ইনস্পেক্টর ফকির চাঁদ ফিঙ্গার প্রিন্ট এক্সপার্ট, ফরেনসিক, পুলিশ কুকুর, সিভিল ড্রেসের টিম—একেবারে সর্বশক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়লেন। এত বড় বাড়ির ব্যাপার বলে কথা, রাজনৈতিক মহল থেকেও প্রশ্ন উঠছে অহরহ।

    তদন্তে নেমেই ফকির চাঁদের তিনটে খটকা লেগেছিল।

    এক, অনুষ্ঠানবাড়িতে যাওয়ার জন্য সুসজ্জিতা বিদ্যা জৈনের গায়ে বহুমূল্য অলংকার ছিল, খুনি দুষ্কৃতিরা গয়না ছোঁয়নি, তার মানে ডাকাতি তাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

    দুই, ডা জৈন তাঁর বন্ধু ডা সেনকে বলেছিলেন তিনি চিঠি লিখছিলেন। এইসময় বাইরে থেকে বিদ্যার আর্তনাদ শোনেন, গিয়ে দেখেন একটা গাড়ি চলে যাচ্ছে। অথচ পুলিশের কাছে বিবৃতি দিয়েছিলেন, তিনি আর বিদ্যা একসঙ্গে বেরিয়ে গাড়ির সামনে অপেক্ষা করছিলেন, এমন সময় দেখেন খুনিরা বিদ্যাকে রক্তাক্ত করে নর্দমায় ফেলে দুটো লোক পালাচ্ছে।

    এই অসংগতি কেন?

    তিন, পরিষ্কার বোঝা যাচ্ছে এটা পূর্ব—পরিকল্পিত হত্যা, তাহলে হত্যাকারীরা ডা জৈনকে স্পর্শও করল না কেন?

    ফকির চাঁদ আরও একটা ব্যাপার খেয়াল করলেন, ডা জৈন বিদ্যা খুনের মাত্র কয়েক দিন আগে ব্যাঙ্ক থেকে দশ হাজার টাকা তুলেছিলেন। তখনকার দিনে দশ হাজার টাকা নেহাত কম টাকা ছিল না। উনি জিজ্ঞেস করলেন, ”ডা জৈন, আপনি এই টাকা তুলেছিলেন কেন?”

    ডা জৈন আমতা আমতা করে বললেন, ”ওই একটা ডোনেশন ফান্ডে টাকা দিয়েছিলাম।”

    ফকির চাঁদ আরও অবাক হয়ে বললেন, ”ক্যাশে? কোন সংস্থায়?”

    ডা জৈন ঠিকঠাক কিছু বলতে পারলেন না।

    আরও বেশ কিছুদিন অনুসন্ধান চালিয়ে ফকির চাঁদ সাতজনকে গ্রেফতার করলেন। ডঃ নরেন্দ্র জৈন, তাঁর সেক্রেটারি চন্দ্রেশ শর্মা, চন্দ্রেশের পাতানো ভাই আর্মির হাবিলদার রাকেশ কৌশিক, দু—জন ভাড়াটে খুনি উজাগর সিং ও কর্তার সিং, তাদের সহকারী কল্যাণ গুপ্তা ও ভগীরথ, আর রামজিলাল নামে এক ট্যাক্সি ড্রাইভার।

    ভাড়াটে খুনিদের ম্যারাথন জেরার পর বেরোল চমকপ্রদ তথ্য।

    সামাজিক কলঙ্ক বা অন্য যেকোনো কারণেই হোক, ডা নরেন্দ্র জৈন বিদ্যাকে ডিভোর্স দিতে চাননি। এদিকে চন্দ্রেশের বারংবার বিয়ের জন্য তাগাদায় বাধ্য হয়ে ঠিক করেন, দু—জনে মিলে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দেবেন নির্দোষ বিদ্যাকে।

    সেইমতো ছকা হয় পরিকল্পনা। বিদ্যা জৈন খুন হন ডিসেম্বরের চার তারিখে, কিন্তু তাঁকে মারার প্ল্যান শুরু হয় সেপ্টেম্বর মাস থেকেই।

    আর এই হত্যাকাণ্ড এতটাই জটিল এবং নৃশংস ছিল, যে সেটা আজও দৃষ্টান্ত হয়ে রয়েছে। বিদ্যা জৈন হত্যার খবর পড়ে মানুষ যতটা বিস্মিত হয়েছিল, তার চেয়েও বেশি চমকে উঠল, ”স্ত্রী বিদ্যা জৈনকে হত্যার সন্দেহে গ্রেফতার ডাক্তার নরেন্দ্র জৈন” শীর্ষক খবর পড়ে।

    এতবড়ো মানুষ, দেশজোড়া নাম যার, সেই ডাক্তার খুনের দায়ে অভিযুক্ত?

    ঠিক তিন মাস পরে ১৯৭৪ সালের ৪ মার্চ, প্রথম কেস উঠল দিল্লির জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে। কেস চলেছিল পাঁচ—শো দিন ধরে। ফকির চাঁদ প্রায় দেড়শো সাক্ষী জোগাড় করেছিলেন।

    আগেই বলেছি, চন্দ্রেশ ছিল সুখের পায়রা। সে বুঝেছিল, ফেঁসে যখন একবার গেছে, শাস্তিতে জর্জরিত ডা জৈনের সাথে থেকে আর লাভ নেই। সে বলল, ”ধর্মাবতার! পুরো টাকাটাই জুগিয়েছিলেন ডাক্তারসাহেব। আমি কিছু জানি না।”

    ৪ ডিসেম্বর সন্ধ্যে ৭ টা ১৫ তে ডা জৈন বাড়ি ফিরেছিলেন, তার তিন ঘণ্টার আগে ঘটে যাওয়া গল্প এবার আমরা একটু জেনে নিই। চন্দ্রেশের অজস্র পাতানো ভাই ছিল, সুবিধা অসুবিধায় ছলা কলায় ভুলিয়ে সে তাদের কাজে লাগাত। তেমনই একজন ছিল হাবিলদার রাকেশ কৌশিক।

    চন্দ্রেশ রাকেশ কৌশিককে বলেছিল, ”ডাক্তারের বউকে এবার সরাতেই হবে। না—হলে আমার আর কোনো আশা নেই। তুমি গুন্ডা জোগাড় করে দাও। ভালো কমিশন পাবে।”

    সেইদিন বিকেল সাড়ে চারটের সময় দিল্লির জমজমাট অঞ্চল চাঁদনি চকের ‘নিউ ভিগ’ রেস্তরাঁয় সবাই মিলে বসে খুনের ছক কষা হল। হাবিলদার রাকেশ কৌশিক তার চেনা ট্যাক্সি ড্রাইভার রামজিলাল আর পেশাদার খুনিগুলোকে নিয়ে এসেছিল।

    উজাগর সিং আর কর্তার সিং—এর কাছে মানুষ খুন জলভাত। টাকার জন্য তারা সব করতে পারে।

    কর্তার সিং বলল, ”এত বড়ো ঘরের ব্যাপার, ফেঁসে যাওয়ার চান্স অনেক বেশি। পঁচিশ হাজার টাকা লাগবে, ওর থেকে কমে হবে না।”

    ডা জৈন মুখে কোনো কথা না—বলে ছোট্ট নড করে বুঝিয়ে দিলেন টাকাটা কোনো ব্যাপার নয়। দশ হাজার টাকা তুলেই রেখেছিলেন দিনদুয়েক আগে। বিনাবাক্যবয়ে অ্যাডভান্স করে দিলেন, ”বাকি পনেরো হাজার কাজ হাসিল হওয়ার পরেই পেয়ে যাবে। শুধু সাবধানে যেন হয়, খেয়াল রেখো। সব ঠিকমতো মিটলে বখশিশও পাবে।”

    দুই যমদূত বড়োবড়ো দাঁত বের করে হাসল, ”কী যে বলেন স্যার! উজাগর সিং কর্তার সিং কোনো কাঁচা কাজ করে না, এমনভাবে সাল্টে দেব, পুলিশের বাপের সাধ্যি নেই কিছু বুঝতে পারে। ওসব নিয়ে আপনি একদম চাপ নেবেন না!”

    ডা জৈন বেরিয়ে যেতে চন্দ্রেশ মুখ খুলল, ”আমি আর ডাক্তারবাবু সাড়ে ছ—টা নাগাদ পৌঁছোব। তৈরি থেকো।”

    ওদিকে ট্যাক্সিচালক রামজি ভগীরথ আর কল্যাণকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। সন্ধ্যে ছ—টা থেকে গিয়ে অপেক্ষা করতে লাগল ডা জৈনের বাড়ির পিছন দিকে।

    রাকেশ কৌশিক সিং ভাইদের নিয়ে বেরিয়ে গেল কনট প্লেস, সেখান থেকে এসে ডা জৈনের বাড়ি থেকে নব্বই মিটার দূরে অপেক্ষা করতে লাগল।

    ডা জৈন যখন প্ল্যানমাফিক বিদ্যাকে নিয়ে বাইরে এলেন, অন্ধকারে নির্মমভাবে বিদ্যাকে আক্রমণ করল দুই ভাড়াটে খুনি উজাগর সিং আর কর্তার সিং।

    একটু দূরে তখন অন্য গাড়িতে বসে যবনিকা পতনের অপেক্ষা করছিল চন্দ্রেশ। সে—ই দূর থেকে গুন্ডাদুটোকে ইশারা করেছিল।

    উজাগর সিং আর কর্তার সিং ধারালো ছোরা নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ল বিদ্যা জৈনের ওপর। মহিলা আচমকা আক্রমণে চিৎকার করতে লাগলেন, কিন্তু নির্জন রাস্তায় সেই করুণ আর্তনাদ বেশিদূর পৌঁছোল না, তার আগেই মুখে উপর্যুপরি আঘাতে নিস্তেজ হয়ে পড়লেন ডা জৈনের স্ত্রী।

    এই পুরো সময়টা অদূরে দাঁড়িয়ে ডা জৈন চুপচাপ দেখছিলেন। একটা চুরুট ধরিয়ে স্থিরভাবে দাঁড়িয়েছিলেন তিনি, যতক্ষণ—না বিদ্যার শেষনিশ্বাস নির্গত হয়।

    স্বামীকে ঠুঁটো জগন্নাথের মতো দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে বিদ্যার চোখদুটো আতঙ্কে, দুঃখে বড়োবড়ো হয়ে এল, তারপর আস্তে আস্তে বুজে গেল, চিরকালের মতো।

    গুন্ডাদুটো যখন নিশ্চিত হল যে মিসেস জৈনের দেহে আর প্রাণ নেই, রক্তে ভেসে যাওয়া ক্ষতবিক্ষত শরীরটাকে তারা পাশের নালায় ফেলে দিল। একটু দূরেই চন্দ্রেশ রামজিলালের ট্যাক্সি নিয়ে অপেক্ষা করছিল, সেই গাড়িতে করে চলে গেল তারা।

    গাড়ি বেশ কিছুটা চলে যাওয়ার পর নিখুঁতভাবে চিৎকার করে উঠেছিলেন ডা জৈন, বাড়ি থেকে তখন ভৃত্য ঠাকুর রাম সিং আর তার বউ কিরণবাঈ বেরিয়ে এসেছিল। তাদেরই সামনে হাউমাউ করে নাটক করতে শুরু করেছিলেন ডা জৈন।

    কেউ কিছু বুঝে ওঠার আগেই ডেডবডি নিয়ে ডা জৈন রওনা দিয়েছিলেন ডা সেনের নার্সিং হোমে।

    এই মামলায় আসামির মামলা প্রভাবিত করার সম্ভাবনা ছিল প্রচুর। ডা জৈন রাষ্ট্রপতির চিকিৎসক ছিলেন। আবার উলটোদিকে বিদ্যা জৈনের দাদা বীরেন্দ্র সিং ও ছিলেন আর্মির মেজর জেনারেল, তৎকালীন দিল্লির অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তি, দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নরের ঘনিষ্ঠ।

    দিল্লির লেফটেন্যান্ট গভর্নর নির্দেশ দিয়েছিলেন ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করার। আসামিরা কোনোমতেই যেন নিষ্কৃতি না—পায়।

    ফকির চাঁদের প্রখর পরিশ্রমে জাল ক্রমশ গুটিয়ে এল। লোদি রোডে দয়াল সিং কলেজের কাছে রাস্তার ধারে সামান্য দূরত্বের ব্যবধানে ছোরা দুটো পাওয়া গেল। সেই ছোরা দুটোর গায়ে রক্ত লেগেছিল। সেই রক্তের সঙ্গে কর্তার এবং উজাগর সিং এর জামায় লেগে থাকা রক্ত এবং বিদ্যা জৈনের রক্ত পরীক্ষা করে ফরেনসিক এক্সপার্টরা রিপোর্ট দিলেন, ”জামার রক্ত এবং ছোরার—দুটোই একই ব্যক্তির।”

    এইসময় ড্রাইভার রামজিলাল পুলিশকে বলল, ”হুজুর! আমি রাজসাক্ষী হতে চাই। আমি তো খুন করিনি, শুধু গাড়ি নিয়ে গিয়েছিলাম। আমাকে রাজসাক্ষী করুন স্যার!”

    রামজিলাল রাজসাক্ষী হওয়ায় পুলিশের কাজ অনেক সহজ হয়ে গেল। রামজিলাল অকুস্থলে গিয়ে দেখিয়ে দিল কীভাবে কোন জায়গায় গাড়ি নিয়ে তারা দাঁড়িয়েছিল, কখন এসেছিল।

    অবশেষে পাঁচ—শো দিন কেস করার পর দিল্লি ট্রায়াল কোর্ট রায় দিলেন ১৯৭৫ সালের ৬ জুলাই। দু—শো পৃষ্ঠাব্যাপী রায়।

    প্রত্যেক আসামির জন্য আলাদা আলাদা শাস্তি।

    প্রথমেই অস্ত্র আইনের ২৭ নম্বর সেকশন অনুযায়ী নিজেদের কাছে অবৈধ অস্ত্র রাখার দায় অভিযুক্ত করা হল উজাগর সিং আর কর্তার সিংকে।

    ডা নরেন্দ্র জৈন, চন্দ্রেশ শর্মা, রাকেশ কৌশিক, ভগীরথ এবং কল্যাণ গুপ্তাকে বিদ্যা জৈনকে ষড়যন্ত্র করে হত্যার অপরাধে ইন্ডিয়ান পেনাল কোডের ১২০ নম্বর সেকশনে অভিযুক্ত করা হল।

    চন্দ্রেশের আইনজীবী ছিলেন এ এন মুল্লা এবং ডা জৈনের আইনজীবী ছিলেন বি বি লাল। দুই আইনজীবীই প্রাণপণ লড়লেন।

    ”মাই লর্ড! একথা সত্য যে, আমার ক্লায়েন্ট শ্রীমতী চন্দ্রেশ শর্মার সঙ্গে ডা নরেন্দ্র জৈনের একটি অবৈধ সম্পর্ক ছিল, ডাক্তার শ্রীমতী চন্দ্রেশকে প্রচুর টাকা দিতেন, কিন্তু নিজের স্ত্রীকে খুন করে ওঁদের কী লাভ? উনি তো ডিভোর্সই দিতে পারতেন! তা ছাড়া বিদ্যা জৈনের নিজের চরিত্রও ভালো ছিল না, তিনি বহু পুরুষের সঙ্গে মেলামেশা করতেন।”

    ”মিথ্যে কথা!” বলে উঠলেন আর্মি জেনারেল বীরেন্দ্র সিং, বিদ্যার দাদা, ”নিজের ক্লায়েনকে জেতানোর জন্য একজন নির্দোষ মহিলার চরিত্রে দাগ লাগাতে লজ্জা করে না আপনাদের?”

    আশ্রমচক থেকে এক জ্যোতিষীকে ধরে আনা হয়েছিল। সেই জ্যোতিষী চন্দ্রেশকে দেখে সনাক্ত করল, ”এই মহিলা আমার কাছে গিয়েছিল, বলেছিল ও যাকে ভালোবাসে, সে বিবাহিত, বয়স বাহান্ন—তিপ্পান্ন, নামের আদ্যক্ষর ‘এন’, ওঁর সাথে কি বিয়ে হবে?”

    চন্দ্রেশের উকিল মুল্লা বললেন, ”তা ছাড়া ওদের সম্পর্ক ১৯৬৭ সাল থেকে, ছ—বছরে চন্দ্রেশ কখনো ক্ষতিকর কিছু করেননি ডা জৈনের স্ত্রীর বিরুদ্ধে, হঠাৎ এখন কেন করবেন?”

    কিন্তু চন্দ্রেশের এক ঘনিষ্ঠ পরিচিত সাক্ষ্য দিল, ”৪ ডিসেম্বর রাতে চন্দ্রেশ আমাকে মুখ ফসকে বলে ফেলেছিল আপদ বিদায় হয়েছে। আমি চেপে ধরতে আর কিছু উত্তর পাইনি।”

    আসলে কখন কার মাথায় দুষ্ট আত্মা ভর করে, তা কি হিসাব করে বলা যায়? লোভে পাপ, পাপে মৃত্যু। চন্দ্রেশ ডা জৈনের থেকে প্রচুর টাকা নিয়মিত পেয়েও সন্তুষ্ট হচ্ছিল না; সে হাত বাড়িয়েছিল সামাজিক মর্যাদার দিকে।

    বিদ্যা জৈন নরম ভালোমানুষ ছিলেন, কিন্তু অভিজাত পরিবারের শিক্ষিত বুদ্ধিমতীও তো ছিলেন। স্বামীর এই গুণের কথা কি তিনি ঘুণাক্ষরেও টের পাননি?

    ডা জৈনের প্রতিবেশিনী শ্রীমতী শীলা খান্না আদালতে বললেন, ”আমাকে বিদ্যা বলেছিল, ইদানীং প্রায়ই সেক্রেটারি চন্দ্রেশকে ডিনারে নিমন্ত্রণ করত ওঁর স্বামী। আর চন্দ্রেশ এমন হাবভাব করত যেন ও—ই বাড়ির কর্ত্রী। মারা যাওয়ার কয়েক দিন আগে বিদ্যা চন্দ্রেশকে চাকরি থেকে ছাড়িয়ে দেন।”

    সেক্রেটারি হিসেবে চন্দ্রেশের মাইনে ছিল মাসিক তিন—শো টাকা, অথচ ১৯৬৮ সালের ২৫ নভেম্বরে দেওয়া ডা জৈনের একটা চেকে দেখা যাচ্ছে তিনি মাইনেবাবদ চন্দ্রেশকে দিয়েছেন আট হাজার চার—শো টাকা, যা চন্দ্রেশের আঠাশ মাসের মাইনের সমান। এইরকম বিপুল অঙ্কের টাকা উনি চন্দ্রেশকে দিতেন প্রায় প্রতিমাসেই।

    সংবাদপত্রে আলোড়ন ফেলা বিদ্যা জৈন হত্যা মামলার রিপোর্ট। বাঁ—দিকে চাদরের আড়ালে অবগুণ্ঠিতা চন্দ্রেশ শর্মা, ডানদিকে উপরে ডা নরেন্দ্র জৈন, ডানদিকে নীচে শ্রীমতী বিদ্যা জৈন।

    প্রত্যেককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হল। ছাড়া পেল একমাত্র ট্যাক্সি ড্রাইভার রামজিলাল।

    আসামিপক্ষ প্রবল বিত্তশালী, তারা আপিল করল উচ্চ আদালতে। মজার বিষয় হল, উচ্চ আদালতে কর্তার এবং উজাগর সিং—এর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বেড়ে গিয়ে হল মৃত্যুদণ্ড। বাকিদের যাবজ্জীবন বহাল রইল।

    উচ্চ আদালতের বিচারক রায় ঘোষণা করে বললেন, ”এক নিরপরাধ গৃহবধূকে এমন নির্মমভাবে যারা হত্যা করে, তাদের প্রতি আদালত কোনোভাবেই নরম হবে না।”

    ১৯৮৩ সালের ডিসেম্বর মাসে ফাঁসিকাঠে ঝুলে পড়ল উজাগর সিং এবং কর্তার সিং। আর নিজের সম্মান, প্রতিপত্তি ভূলুণ্ঠিত করে যাবজ্জীবনের জন্য কারাগারের অন্তরালে ঢুকলেন ডা নরেন্দ্র সিংহ জৈন, সঙ্গে অন্যরাও।

    এই মামলা অনেক দিন থেকে উল্লেখযোগ্য হয়ে আছে, প্রথমত সারকামস্ট্যানশিয়াল এভিডেন্স—এর ওপর এতজন অপরাধীর শাস্তি ধার্য করা হয়েছিল সেই প্রথম। আসামি পক্ষের উকিলেরা প্রাকারান্তরে ডা জৈন এবং চন্দ্রেশের অবৈধ প্রেম মেনে নিয়েছিলেন, সেটাও আশ্চর্যের। কারণ এমন কোনো কিছু যা আসামিকে কলঙ্কিত করছে, তা সাধারণত তার উকিল মানতে চান না।

    দ্বিতীয়ত, দণ্ডবিধি অনুযায়ী মূল হত্যাকারী এবং হত্যার ষড়যন্ত্রকারীরা আইনের চোখে সমান দোষী, কিন্তু এক্ষেত্রে উজাগর এবং কর্তার সিং ফাঁসির আদেশ পেলেও ডা জৈন বা অন্যান্যদের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।

    শাস্তির ক্ষেত্রেও এই বৈষম্য কি প্রভাবশালী আসামিদের জন্যই? উজাগর সিং, কর্তার সিং ভাড়াটে খুনি, টাকার বিনিময়ে অপরাধ করেছে, তাদের পেছনে কোনো প্রভাবশালী ব্যক্তি নেই।

    কিন্তু যারা এক নির্দোষ প্রাণকে শেষ করতে এমন ঘৃণ্য ছক কষল, তারা যে সমাজের মান্যগণ্য ব্যক্তি। বিদ্যা জৈনের স্বামীই তো আসল আসামি!

    মনে পড়ে যায় সেই বিখ্যাত প্রবচন, “Poor went to the gallows but the affluent survived!”

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবু ও বারবনিতা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }