Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হারিয়ে যাওয়া খুনিরা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দেবারতি মুখোপাধ্যায় এক পাতা গল্প267 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    শকুন্তলা নিধন

    আজ থেকে ঠিক বত্রিশ বছর আগেকার এক রাত।

    ১৯৮৬ সালের ৫ সেপ্টেম্বর।

    হাওড়ার বালি থানায় কাজ করছিলেন সাব—ইনস্পেক্টর বংশীধর মুখার্জি। তাঁর ডিউটি প্রায় শেষ হয়ে এসেছে, একটু পরেই রওনা দেবেন বাড়ি অভিমুখে। কাজও বিশেষ কিছু বাকি নেই। পেন্ডিং ফাইলগুলো তিনি ধীরেসুস্থে গুছিয়ে রাখছিলেন টেবিলে।

    ঠিক এমনসময় থানার টেলিফোন বেজে উঠল ক্রি—রি—রিং শব্দে।

    ”হ্যালো, এ—এটা কি বালি থানা?”

    ”হ্যাঁ, বলুন?”

    ”স্যার, আপনারা স্টেশন রোডের ৮/৩ শ্রীচরণ সরণীর বাড়িতে এক্ষুনি চলে যান! ওদের বাড়ির বউকে ওরা খুন করেছে! দেরি করলেই লাশ কিন্তু সরিয়ে ফেলবে। শিগগিরই!”

    বংশীধর মুখার্জি রিসিভারটাকে কানে চেপে ধরে চেঁচিয়ে উঠলেন, ”আপনি কে কথা বলছেন? হ্যালো? হ্যালো?”

    কিন্তু ফোন—টা ততক্ষণে পিঁ পিঁ শব্দ করে কেটে গেছে।

    তখন থানায় থানায় কলার আইডেন্টিফায়ার লাগানো থাকত না। টেলিফোন এক্সচেঞ্জ যোগাযোগ করলে হয়তো জানা যেত কে ফোন করেছে, কিন্তু ওই কাজে বংশীধর মুখার্জি আর সময় নষ্ট করলেন না। তিনি তড়িঘড়ি ফোন করলেন অফিসার ইন চার্জ প্রিয়তোষ সরস্বতীকে।

    ”স্যার, একটা ফোন এসেছিল এক্ষুনি, বলছে শ্রীচরণ সরণীর একটা বাড়িতে নাকি …!”

    প্রিয়তোষবাবু সব শুনেই ফোনে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিলেন, ”আমি এক্ষুনি আসছি। বংশীবাবু, আপনি কিরণশঙ্করকে বলুন কেসটা এন্ট্রি করতে।”

    ওসি সাহেব এর কথামতো ইনস্পেক্টর কিরণশঙ্কর ঘোষ টেলিফোনে পাওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে এন্ট্রি করলেন ডায়েরি নম্বর ৩৪৫ এফ।

    সবাই মিলে প্রায় দশ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলেন শ্রীচরণ সরণীতে। ওসি সাহেব প্রিয়তোষ সরস্বতী অন্যত্র কাজে গিয়েছিলেন, সেখান থেকে তিনি সরাসরি এসে পৌঁছলেন অকুস্থলে।

    সব এলাকাতেই পুলিশের নিজস্ব দু—একজন চর মোতায়েন করা থাকে। তারাই সব খবর পৌঁছে দেয় থানায়। এই পাড়ায় সেই চর হল অলোক। সে আরও কিছু স্থানীয় লোক জোগাড় করে পুলিশকে পথ দেখিয়ে নিয়ে চলল।

    ”আসুন স্যার! এ—এইদিকে, হ্যাঁ, এই গলিতে আসুন …!”

    ৮/৩ শ্রীচরণ সরণীর বাড়ির কিছু আগে একটা রিকশা স্ট্যান্ড। ওসিসাহেবের নির্দেশে পুলিশের গাড়ি সেখানেই দাঁড় করিয়ে রেখে সবাই নিঃশব্দে হেঁটে চললেন গন্তব্য অভিমুখে।

    একটা দোতলা বাড়ির কাছাকাছি এসে অলোক ফিসফিস করল, ”স্যার, ওই বাড়িটা!”

    বাড়িটার একতলায় একটা দোকান, সেখানে টিমটিম করে আলো জ্বলছে। প্রিয়তোষ চোখ সরু করে দেখলেন দোকানের বাইরে একটা লোক লুঙ্গি পরে বসে আছে।

    ঘড়িতে রাত ন—টা। প্রিয়তোষ এগোনোর আগে অলোককে জিজ্ঞাসা করলেন, ”ওই লোকটা কে?”

    ”ওরই তো দোকান স্যার। দোতলায় পরিবার থাকে। ওর নাম ভরত পাণ্ডে। নীচের দোকানটা চুন ভুসির। ভরত পাণ্ডের দুই ছেলে। বড়ো বিনোদ ব্যাবসা করে, ছোটো স্কুলে পড়ে। বিনোদের আবার দুটো বউ স্যার, ওর মাটা হেব্বি দজ্জাল। ভরত পাণ্ডে লোক খারাপ না।” অলোক গড়গড়িয়ে বলে গেল।

    তার মানে এই বাড়িতে শাশুড়িকে বাদ দিলে দুটো বউ আছে, তাও একই পুরুষের। প্রিয়তোষ মনে মনে পরিকল্পনা সাজিয়ে নিয়ে এগিয়ে গেলেন ভরতের দোকানের দিকে।

    ভরত ভাবলেশহীনভাবে দোকানের সামনের বেঞ্চটায় বসে ছিল। আকস্মিক পুলিশ দেখে যে তার মুখটা সাদা হয়ে গেল, তা এই অন্ধকারেও বেশ বুঝতে পারা গেল।

    প্রিয়তোষ সোজাসুজি প্রশ্ন করলেন, ”এই বাড়িটা আপনার?”

    ”হ্যাঁ স্যার!” ভরত জবাব দিল।

    ”আমাদের কাছে খবর আছে, এই বাড়িতে একটা খুন করা হয়েছে। আপনি জানেন কিছু?” প্রিয়তোষ বললেন।

    ”খুন? না স্যার, খুনখারাপি কেন হবে! গৃহস্থ বাড়ি …!” ভরত প্রাণপণ হাসার চেষ্টা করল।

    প্রিয়তোষ বললেন, ”আপনাদের বড়ো ছেলের নাম বিনোদ পাণ্ডে, তাই তো? সে কোথায়? তাকে ডাকুন।”

    ”বিনোদ তো বাড়ি নেই স্যার!”

    ”কোথায় গেছে?”

    ”তা জানি না।”

    প্রিয়তোষ এবার বললেন, ”আমরা এই বাড়িটা তল্লাশি করব। আপনি ঘরগুলো দেখান।” কথাটা বলেই তিনি সঙ্গীসাথীদের কিছু নির্দেশ দিলেন ইশারায়।

    ভরতের মুখটা ভয়ে এইটুকু হয়ে গেল, তবু সে কোনো দ্বিরুক্তি করল না। উঠে দাঁড়িয়ে পুলিশকে পথ দেখাতে শুরু করল।

    একতলাটা দোকান এবং নানারকম মালপত্রে ঠাসা, সেখানে কিছুই পাওয়া গেল না।

    প্রিয়তোষ বললেন, ”দোতলায় চলুন। সিঁড়ি কোনদিকে?”

    ভরতের পেছন পেছন প্রিয়তোষ আর সাব—ইনস্পেক্টর বংশীধর একসাথে সিঁড়িতে উঠতে গিয়েও পারলেন না। সিঁড়িটা এত সরু, একজনকেই কষ্টে সৃষ্টে উঠতে হবে।

    আসার পর থেকে উচ্চকণ্ঠে কেউ কথা না বলায় পুলিশের এই সহসা আগমনবার্তা দোতলার বাসিন্দাদের কানে পৌঁছোয়নি।

    দোতলার সিঁড়ি দিয়ে উঠতেই একটা খোলা বারান্দা, সেই বারান্দায় আলো—আঁধারির মধ্যে দু—জন মহিলা নিশ্চিন্তমনে একটা চটের বস্তার মধ্যে কিছু জিনিসপত্র ঢোকাচ্ছিল।

    আচমকা পুলিশ এবং লোকজন দেখে কী করবে বুঝতে না—পেরে তারা ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে দাঁড়িয়ে রইল।

    বংশীধর একটুও সময় নষ্ট করলেন না, ওসিসাহেব প্রিয়তোষের অনুমতির অপেক্ষা না—করেই ত্বরিতগতিতে এগিয়ে গিয়ে জোরালো টর্চ ফেললেন বস্তার মধ্যে। ইনস্পেক্টর কিরণশঙ্কর এগিয়ে গিয়ে সুইচবোর্ডের সব কটা সুইচ অন করলেন।

    বস্তার মধ্যে পাওয়া গেল একটা খণ্ডবিখণ্ড পোড়া শাড়ি। দুই মহিলার হাতেও ছোটো ছোটো পোড়া বস্ত্রখণ্ড। দু—জনেরই মুখ ফ্যাকাশে, রক্তশূন্য।

    প্রিয়তোষ ভরতের দিকে তাকাল, ”এঁরা কে হয় আপনার?”

    ভরত তুতলে বলল, ”আজ্ঞে স্যার, ইনি আমার স্ত্রী রাজরানি; আর ও আমার ছেলে বিনয়ের বউ, মধুবালা।”

    প্রিয়তোষ বললেন, ”আপনার ছেলের তো দুটো বউ। ইনি কোনজন?”

    ”আজ্ঞে, এ ছোটোবহু আছে আমাদের।” ভয়ে ভরতের মুখ দিয়ে দেশের দেহাতি ভাষা বেরিয়ে এল।

    ”বড়ো বউ কোথায়?” কড়াসুরে ধমকে উঠলেন প্রিয়তোষ।

    ভরত মৃদুস্বরে কী বিড়বিড় করল ঠিক শোনা গেল না। তবে উত্তর মিলল একটু পরেই।

    বারান্দায় একদিকে পর পর তিনটে ঘর। না, তিনটে না—তো, প্রিয়তোষ ভালো করে উঁকি মেরে দেখলেন, আরও একটা ঘুপচি মতো ঘর আছে একদম শেষে। তিনি অধস্তনদের নির্দেশ দিলেন, ”সার্চ করো সব কটা রুম।”

    তিনটে ঘরেই আলো জ্বলছে। তৃতীয় ঘরটা থেকে তারস্বরে ভেসে আসছে হিন্দি গানের চটুল সুর।

    প্রিয়তোষ ভরতের দিকে তাকাতেই ভরত কাঁচুমাচু হয়ে বলল, ”আমার ছোটো ছেলে মনোজ স্যার। ও খুব গানবাজনা ভালোবাসে।”

    ”তা সে গানবাজনা ভালোবাসুক না, গানবাজনা ভালোবাসা কোনো খারাপ জিনিস নয়।” কথাটা বলেই প্রিয়তোষ সরাসরি ভরতের স্ত্রী রাজরানির দিকে তাকালেন, ”আপনি এগুলো কী পুরছেন বস্তাতে?”

    রাজরানি মধ্যবয়স্কা দেহাতি রমণী। তার শাণিত জিভ আর মেজাজের কথা সারা পাড়ায় সুবিদিত। মনে মনে ভড়কে গেলেও সে পুলিশের সামনে বেশ সপ্রতিভভাবে বলল, ”আসলে রান্নাঘরের পুরোনো ন্যাকড়া সাব, তাই পুড়িয়ে দিচ্ছিলাম।”

    ”তাই?” বলতে বলতে প্রিয়তোষ এগিয়ে গেলেন তিনটে ঘর পেরিয়ে শেষের ঘরটার দিকে। এই ঘরটা অন্ধকার, বাইরে থেকে তালা দেওয়া।

    ”এই ঘরটা বন্ধ কেন?” প্রিয়তোষ ভ্রূ কুঁচকে তাকালেন, ”শিগগিরই চাবি আনুন।”

    ততক্ষণে বাকি তিনটে ঘর পুলিশের থানাতল্লাশি শেষ, বিনোদের ছোটো ভাই মনোজের সংগীতচর্চায় বাঁধা পড়ায় সে রীতিমতো বিরক্ত হয়ে বেরিয়ে এসেছে বাইরে। বিনোদের দ্বিতীয়া স্ত্রী মধুবালা আর মা রাজরানি বস্তাটাকে পুলিশের চোখের আড়াল করার চেষ্টা করছিল, এমন সময় এই ছোটোঘরটার তালা খুলতে বলাতে সবাই যেন দিশেহারা হয়ে গেল।

    এ ওর মুখের দিকে তাকাচ্ছে, কি বলবে কিছু বুঝতে পারছে না।

    ”কী হল? শুনতে পাচ্ছেন না?” প্রিয়তোষ তাড়া দিলেন, ”চাবিটা আনুন, ক্যুইক!”

    রাজরানি তার সিন্থেটিকের ঝলমলে শাড়ি সামলে হঠাৎ এগিয়ে এল। এসে ইনিয়েবিনিয়ে বলতে লাগল, ”হে হে সাব, ওইঘরটা তো আমরা খুলি না, চাবিটা যে কোথায় হারিয়ে …।”

    প্রিয়তোষ আর দ্বিরুক্তি করলেন না। ততক্ষণে তাঁর ইনটিউশন মস্তিষ্কে অন্যকিছু সংকেত পাঠাচ্ছে।

    তালাটা ভাঙতে মিনিটতিনেকের বেশি লাগল না। হুড়মুড়িয়ে সবাই ঘরে ঢুকতেই অকস্মাৎ তীব্র সস্তা পারফিউমের গন্ধে সবার নাক—মুখ বন্ধ হয়ে এল।

    ইনস্পেক্টর কিরণশঙ্কর ঘোষ হাতড়ে হাতড়ে ঘরের আলোটা জ্বালতেই দেখা গেল, ঘরটার একদম সামনে আড়াআড়ি একটা দড়ি টাঙানো। আর সেই দড়িতে টানটান ভাবে মেলা রয়েছে একটা শাড়ি, এমনভাবে যাতে শাড়ির ওপারে কী আছে তা দেখা না—যায়।

    প্রিয়তোষ দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শাড়িটা টান মেরে সরাতেই চোখে পড়ল একটা ছোটো খাট। তার উপরের তোষকটা জায়গায় জায়গায় পোড়া। চৌকিদার চারপাশে টাঙানো রয়েছে একটা জ্যালজেলে মশারি।

    বংশীধর অস্ফুটে বলে উঠলেন, ”স্যার, ওই দেখুন চৌকির ওপরটা …!”

    প্রিয়তোষ মশারিটা তুলতেই সামনের নারকীয় দৃশ্যটা উন্মোচিত হয়ে পড়ল সবার কাছে।

    শাড়ির আড়ালে, মশারির ভেতরে চৌকির ওপর পড়ে রয়েছে একটা পোড়া পচে গলে যাওয়া মৃতদেহ! মাংস মধ্যে মধ্যে গলে গেলেও চামড়াটা যে বীভৎস পোড়া তা বোঝা যায় বিলক্ষণ।

    লম্বা চুলসমেত মাথাটা এলিয়ে রয়েছে একদিকে।

    লাশটার ওপর বাজারচলতি পাউডারের পুরু স্তর, তার ওপর সেখান থেকে ভেসে আসছে উগ্র পারফিউমের গন্ধ। বোঝাই যাচ্ছে, গ্যালন গ্যালন সেন্ট আর পাউডার ঢালা হয়েছে মৃতদেহর গন্ধ চাপা দেওয়ার জন্য।

    এই হল বালির অভাগি মাত্র তেইশ বছরের গৃহবধূ শকুন্তলা পাণ্ডের মর্মান্তিক হত্যার সারমর্ম। হিন্দুস্থান পার্কের অভিজাত বণিকবাড়ির বধূ দেবযানী বণিক হত্যার পরে পরেই হাওড়ায় খুন হয়েছিল শকুন্তলা। কিন্তু ধনী পরিবারের দেবযানী বণিক হত্যা মামলা তার বাবার অর্থের জোরেই হোক বা যেকোনো কারণে, যেমন সাড়া ফেলেছিল জনতার মধ্যে, ততটা গরিব ঘরের মেয়ে শকুন্তলা ফেলতে পারেনি।

    যদিও তার পরিণতিও কিছু কম নিষ্ঠুর ছিল না।

    কেন মাত্র তেইশ বছর বয়সে খুন হতে হয়েছিল শকুন্তলাকে? আসুন দেখে নিই।

    এই ঘটনার চারবছর আগে, ১৯৮২ সালে হাওড়ার বালির ভরত পাণ্ডের বড়ো ছেলে বিনোদ পাণ্ডের সাথে বিয়ে হয় বিহারের গোপালগঞ্জের শিউপ্রসাদ সিংহের কন্যা শকুন্তলার।

    শকুন্তলার বাবা শিউপ্রসাদের অবস্থা একদমই ভালো ছিল না। বিনোদদের বাড়ির আশানুরূপ ‘দহেজ’ দেওয়ার ক্ষমতাও তার ছিল না। তবু বিয়েটা হল। কারণ ছেলের বাবা ভরত পাণ্ডের শকুন্তলাকে ভারি পছন্দ হয়ে গিয়েছিল।

    উনিশ বছরের শান্তশিষ্ট কোমল স্বভাবা শকুন্তলার মতো মেয়েরা তো চিরকালই শ্বশুরবাড়ির মাপকাঠিতে প্রাথমিকভাবে বেশ উঁচু নম্বর পায়, যদিও পরে কাঞ্চনলোভের আশায় সেই লক্ষ্মীকে পুড়িয়ে মারতে এদের দ্বিধা হয় না।

    যাইহোক, ভরতের ইচ্ছায় বিয়েটা হলেও শাশুড়ি রাজরানি একটুও খুশি হতে পারল না। এই সংসারের আসল হর্তাকর্তা রাজরানি। তার দাপটে স্বামী ভরত থেকে শুরু করে ছেলে বিনোদ আর মনোজ কেউ টুঁ শব্দ পর্যন্ত করতে পারে না।

    স্বামী একেবারে বিয়ের কথা দিয়ে চলে আসায় রাজরানি তো গালমন্দ অভিশাপ কিচ্ছু দিতে ছাড়ল না স্বামীকে, তারপর বউ আসতে সব রাগ গিয়ে পড়ল শকুন্তলার ওপর।

    ”কবে থেকে ভেবে এসেছিলাম, বিনোদের পয়সাওলা ঘরে বিয়ে দেব, শ্বশুরের দেওয়া দহেজেই আমাদের বাড়ি ভরে যাবে; তা—না কোত্থেকে একটা হাভাতের মেয়ে এসে জুটল!” শকুন্তলার হাত থেকে লালচোখে চা জলখাবার নিয়ে স্বামীকে গঞ্জনা দেয় বসে বসে রাজরানি, ”সব তোমার বোকামির জন্য। বিয়ের পর থেকে একটা দিনও তুমি শান্তি দিলে না!”

    শকুন্তলা মাথা নীচু করে ঘর থেকে বেরিয়ে যায়। ওর এখন অনেক কাজ। বাসন মাজা, ঘর মোছা, রান্না করা। এইসব কথা ওর আস্তে আস্তে সয়ে যাচ্ছে।

    ভরত চায়ে চুমুক দিয়ে মিনমিন করে, ”কেন মেয়েটা তো ভালোই! সাত চড়ে রা কাড়ে না, শান্তশিষ্ট। সবই তো করছে ঘরের!”

    ”থামো!” স্বামীকে ঝঙ্কার দেয় রাজরানি, ”শান্তশিষ্ট! হুহ! অমন শান্তশিষ্ট ভিখিরির মেয়ে বড়োলোক বাড়িতে মানায়, এখানে নয়। শান্তশিষ্ট ন্যাতপেতে মেয়ে কি অত খাটতে পারবে? শক্তপোক্ত মেয়ে হলে আরও বেশি কাজ করতে পারত! আর তুমি কিনা এখনও মুখে মুখে তর্ক করছো? তোমার জন্য আজ ছেলেটার এই হাল হল। বেচারা কত কী লিস্টি করে রেখেছিল বিয়েতে নেবে বলে।’

    অতঃপর শুরু হল শকুন্তলার নরক জীবন। বিহারের গ্রামে সে কিছুদূর লেখাপড়া করেছিল, মনে মনে আর কিছু না—হোক স্বপ্ন দেখেছিল ন্যুনতম সম্মান সে পাবে শ্বশুরবাড়িতে।

    কিন্তু বিধাতা তার জন্য অন্য কিছু স্থির করে রেখেছিলেন। রাজরানির রক্তচক্ষুর ওপর ওকে উঠতে—বসতে হত। পান থেকে চুন খসলে রাজরানি অকথ্য গালিগালাজ, সঙ্গে মারধোর করতেও ছাড়ত না। শ্বশুর, স্বামী, দেওর—সবাই মূক হয়ে যেত তখন।

    রাজরানি ছেলে বিনোদকে পরিষ্কার বলে দিল, ”ওর সাথে শোওয়া তো দূর, যদি কথা বলতেও কখনো দেখি, বাড়ি থেকে তোকে তাড়িয়েই ছাড়ব মনে থাকে যেন!”

    বিনোদ তৈরি ছেলে। নানারকম নেশা থেকে শুরু করে খারাপ পাড়া—সবেতেই তার অবাধ যাতায়াত। বউকে স্পর্শ করতে না—দিলে তার খুব একটা কিছু যাবে আসবে না। শকুন্তলা আজ মাংসটা বেড়ে রেঁধেছিল, একটা বিশাল ঢেঁকুর তুলে ও বলল, ”সে ঠিক আছে। কিন্তু বাচ্চাকাচ্চা?”

    ”আমি নতুন বউ আনব। ক—দিন সবুর কর।” রাজরানি কথাটা বলেই বারান্দার দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে উঠল, ”এই হতচ্ছাড়ি, তোকে যে বললাম এঁটোকাঁটাগুলো বাড়ির সামনে দিয়ে আসতে, কুকুরগুলো খাবে, তুই কি করছিস দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে?”

    শকুন্তলা থতমত খেয়ে তাড়াতাড়ি নীচে নামতে লাগল। খাসির মাংস তার খুব প্রিয়, ছোটোবেলা থেকে মাত্র তিন—চার বার খেয়েছিল; তবু এমন সুন্দর রাঁধতে পারে সে সবাই খেয়ে ধন্য ধন্য করে।

    বিয়ের আগে শেষবারের মতো ওর বাবা ওকে মাংস খাইয়েছিল, সেটা মনে পড়তেই ওর চোখ দিয়ে জল পড়তে লাগল। আজ রান্নার সময় রাজরানি কড়া নজর রেখেছিল, ভুলেও যেন ও একটুও খেতে না—পারে। এখন একটু আলু ঝোল ও লুকিয়ে রেখেছিল, ভেবেছিল স্বাদটা অন্তত পাবে, কিন্তু শাশুড়ি তাও দেখে ফেলল।

    কষ্টে—দুঃখে ওর বুকের ভেতরটা দলা পাকিয়ে গেল। ওর স্থান এই বাড়িতে কুকুরের থেকেও নীচে। একটা বিনাপয়সার দাসী ও, এ ছাড়া কিচ্ছু নয়। বাবা যতবার এসেছে, রাজরানি কড়া দৃষ্টি রেখেছে ও যাতে কিছু না বলতে পারে। তবু তো আকারে ইঙ্গিতে ও বাবাকে বুঝিয়েছে, ”আমি ভালো নেই বাবা!”

    কিন্তু বাবা মাথায় হাত বুলিয়ে ”মানিয়ে নে মা একটু!” বলে মেয়ের শ্বশুরালয়ে অপমানিত হয়ে ফিরে গেছে।

    ওর সবচেয়ে কষ্ট হয়, স্বামী বিনোদও ওর সাথে এমনই ব্যবহার করে। ভালোবাসা তো দূর, সারাদিনের খাটাখাটুনির পর ওর শোয়ার জায়গা হয় বাইরের বারান্দায়।

    কী দোষ করেছে ও? যে যা বলে ও তো সবই করে দেয়; তবু সবার ওর ওপর এত রাগ কেন? শুধু ওর বাবা বিয়েতে কিছু দিতে পারেনি বলে?

    রাজরানি বেশি দেরি করল না। শকুন্তলাকে বউ করে বাড়িতে আনার ঠিক দু—বছরের মাথায় ১৯৮৪ সালে বিনোদের দ্বিতীয় বিবাহ দিয়ে নিয়ে এল মধুবালাকে।

    এবার আর হিসাবে কোনো ভুলচুক হয়নি। মধুবালা পয়সাওয়ালা ঘরের মেয়ে, যৌতুকে ভরে উঠল ঘর। শকুন্তলা চিরকালের মতো পরিণত হল বাড়ির বিনাপয়সার দাসীতে।

    ভরত দু—একবার আপত্তি করতে গিয়েছিল, ”দুটো বিয়ে কিন্তু এখন আইনত অপরাধ, তা ছাড়া শকুন্তলা মেয়েটা তো খুবই ভালো …!”

    ”চুপ করো তুমি!” রণচণ্ডীনি রাজরানি দাবিয়ে দিয়েছিল স্বামীকে, ”ভালো! হু! না আছে টাকা, না হল বাচ্চাকাচ্চা! একটা বাঁজা মাগির তুমি আবার সুখ্যাতি করছো!”

    ”বাচ্চা হবে কী করে? তুমি তো …!” ভরত আর কথা শেষ করতে পারে না, রাজরানির চোখ দেখে চুপ করে যায়।

    শকুন্তলার দিন শুরু হত সূর্য ওঠার আগে। ছাদ পরিষ্কার করে, সারা বাড়ি মুছে নিয়ে সকলের ঘরে ঘরে চা পৌঁছে দেয়। তারপর সারা বাড়ির লোকের জামাকাপড় কেচে নিয়ে রান্নাঘরে ঢুকে পড়ে। বাড়িতে কোনো ঠিকে কাজের লোক রাখার মতো অপচয় রাজরানি করেনি, কাজেই শকুন্তলাকেই সব করতে হত।

    বিনোদের দ্বিতীয় স্ত্রী মধুবালা এমনিতেই ধনীর কন্যা, তার ওপর সে বুঝে গিয়েছিল, রাজরানিকে খুশি করে চলতে পারলে এই সংসারে তার রাজত্ব পাকা। আর সতিনকে কেই—বা কবে ভালোবেসেছে, মধুবালাও শাশুড়ির সাথে হাতে হাত মেলাল।

    ওদিকে বিনোদ নতুন বউ পেয়ে খুব খুশি। সারাদিন সংসারে খেটে খেটে গায়েগতরে কালি পড়ে যাওয়া শকুন্তলাকে সে আর সহ্য করতে পারছিল না। একদিন চায়ে চিনি বেশি দেওয়ার মতো একটা সামান্য কারণে সে জোরে লাঠি কশিয়ে দিল শকুন্তলার গায়ে।

    শকুন্তলা রোজ রাতে সবাই ঘুমিয়ে পড়লে বারান্দার রেলিং—এ ভর দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকত। ঘুমে চোখ জড়িয়ে আসত, তবু ঘুমতে পারত না।

    সে কি সহ্য করতে করতে পাথর হয়ে গিয়েছিল? কে জানে!

    শকুন্তলাকে উদয়াস্ত খাটিয়েও রাজরানির শান্তি হয়নি। মাঝেমাঝে সে শকুন্তলাকে চাপ দিত দেশে যে একফালি জমি শকুন্তলার বাবার আছে, সেটা বিক্রি করে টাকা পাঠাতে।

    শকুন্তলা মুখ বুজে মার খেত, কিন্তু বাবাকে কিচ্ছু জানাত না।

    অবশেষে একদিন এই নিয়ে তর্ক হতে হতে রাজরানি আর বিনোদ গলা টিপে খুন করল শকুন্তলাকে। রাগের মাথায় খুন, শকুন্তলা এমনিই আধপেটা খেয়ে খেয়ে আর অমানুষিক খেটে দুর্বল হয়ে পড়েছিল, রাজরানি আর বিনোদকে বেশি পরিশ্রম করতে হল না।

    কিন্তু শকুন্তলা মরে যাওয়ার পরেই সবাই ভাবতে লাগল, তাই তো! এখন লাশ নিয়ে কী করা যায়!”

    ছোটোবউ মধুবালা বুদ্ধি দিল, ”এক কাজ করলেই তো হয়। কেরোসিন তেল ঢেলে আগুন ধরিয়ে দাও। তাহলে বলবে রান্না করছিল, স্টোভ ফেটে পুড়ে গিয়েছিল।”

    পুলিশ যেদিন রাতে টেলিফোন পেয়ে বাড়ি তল্লাশি করতে এসেছিল, সেদিন আর কয়েক ঘণ্টা পরেই ঠিক হয়েছিল পোড়া লাশটাকে বিচালি দিয়ে ঢেকে গরুর গাড়িতে করে নিয়ে গিয়ে গঙ্গায় ফেলে দেওয়া হবে। কিন্তু তা আর হল না।

    যথাসময়ে কেস উঠল হাওড়ার দায়রা আদালতে। বিচারপতি ছিলেন দায়রা জজ পি কে সেন। পাবলিক প্রসিকিউটর চিন্ময় চৌধুরী। একটা নিষ্পাপ গৃহবধূকে টাকার লালসায় এমন নৃশংসভাবে খুন, লোক ভেঙে পড়ল আদালতে।

    ঘটনাচক্রে যেদিন রাতে পুলিশ বাড়ি গিয়ে শকুন্তলার মৃতদেহ উদ্ধার করে, সেদিন রাতেই এসে পৌঁছেছিল শকুন্তলার বাবা শিউচরণ। সে মেয়ের পাঠানো একটা চিঠি পেয়ে আর থাকতে পারেনি, ছুটে এসেছে হাওড়ায়। মেয়ের পোড়া মৃতদেহ দেখে সে ভেঙে পড়ল কান্নায়।

    এদিকে বিনোদ পাণ্ডে নিখোঁজ। ওসি প্রিয়তোষ মৃতদেহের সুরতহল রিপোর্ট তৈরির জন্য পাঠিয়ে দিলেন পোস্ট মর্টেমে, পোস্ট মর্টেম করলেন ড গোপিকারঞ্জন চক্রবর্তী।

    সেই রিপোর্টে প্রকাশ পেল, শকুন্তলাকে প্রথমে হত্যা করা হয় গলায় ফাঁস লাগিয়ে। ঠোঁটে ছিল জখমের দাগ, দু—পায়ে মারের চিহ্ন।

    পুলিশ তৎক্ষণাৎ গ্রেপ্তার করল রাজরানি, মধুবালা, ভরত আর মনোজকে। মনোজ তখনও নাবালক, কিন্তু যে দেওর পাশের ঘরে বউদির লাশ রাখা হয়েছে জেনেও বেমালুম গান শুনতে পারে, সে কেমন নাবালক কে জানে!

    প্রায় দু—মাস পালিয়ে পালিয়ে থাকার পর ১৯৮৬ সালের ২১ নভেম্বর হাওড়ার বিচারবিভাগীয় মহকুমা ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে আত্মসমর্পণ করেছিল বিনোদ।

    সাব—ইনস্পেক্টর বংশীধর মুখার্জি তাঁর জীবনের সেরা কাজ করেছিলেন এই তদন্তে। মাত্র দু—মাসের মধ্যে সমস্ত তদন্ত শেষ করে চার্জশিট জমা দিয়েছিলেন তিনি ২৮ নভেম্বর। এত চমকপ্রদ মামলার চার্জশিট এত অল্প সময়ের মধ্যে দেখা যায় না।

    শকুন্তলা মরে গেলেও তার বাবাকে লিখে যাওয়া হিন্দিতে দুটো চিঠিই যথেষ্ট ছিল। প্রতিটা চিঠির পরতে পরতে লেখা ছিল কী অমানুষিক অত্যাচারের শিকার হতে হয়েছিল তাকে।

    হাওড়া কোর্টের আইনজীবী শিবশংকর সাউ সেই চিঠিগুলি বাংলায় অনুবাদ করে আদালতে পেশ করেছিলেন।

    ”বাবা, আমার মতো দুর্ভাগ্য নিয়ে বোধ হয় কেউ কোনোদিন পৃথিবীতে আসেনি। শাশুড়িমা সবসময় আমাকে যা—তা বলেন, গায়ে হাত তোলেন। কেউ আমার সাথে কোনো কথা বলে না বাবা … সেদিন ওইটুকু ছেলে মনোজ, সেও তার জামা ঠিকমতো কাচা হয়নি বলে গরম চা ছুঁড়ে মারল আমার দিকে … আমাকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব এখান থেকে নিয়ে যাও বাবা … আমি জানি না পুজো অবধি আমি বেঁচে থাকব কি না! আমি এখানে একাই সব কাজ করি, তবুও দিন রাত গালমন্দ মার খেতে হয়। আমাকে না—নিয়ে গেলে ওরা আমাকে মেরে ফেলবে …!”

    ভারতীয় সমাজে আজও কিছু কিছু পরিবারে মেয়েদের অবস্থান যে কী, তা এই চিঠি পড়ে বোঝা যায়। চোখ জলে ভরে আসে না, বরং রাগে শরীর গরম হয়ে ওঠে, যখন দেখি এত কিছুর পরেও বাবা—মা সমাজ ও লোকলজ্জার ভয়ে মেয়েকে স্তোক দিচ্ছেন, ”মানিয়ে নে।”

    শকুন্তলার গ্রামের বাড়িতে তার দাদার বউ ছিল তার দিদির মতো। সেই বউদিকেও শকুন্তলা লিখছে,

    ”ভাবি, আগেই জানতে পেরেছ আমার স্বামী আবার বিয়ে করেছে। শাশুড়ি আমাকে ডাইনি মেয়েছেলে বলে দিন রাত গাল দিচ্ছে। আমাকে সারাদিন এঁরা ঝিয়ের মতো খাটায় ভাবি। তোমাদের কথা ভাবলে কষ্ট হয়, আমাকে এত কষ্ট করে বিয়ে দিয়েও তোমরা শান্তি পেলে না …সতিন আর শ্বাশুড়ির অত্যাচার সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে। আমাকে মেরে ফেলার ভয় দেখায় জানো ভাবি … আমাকে পেটভরে খেতে দেয় না, তোমাদের খুব দেখতে ইচ্ছে করে। তবু তোমরা এসো না, এলে ওরা অপমান করবে। তোমাকে কোনোদিনও ভুলব না ভাবি, মা ছিল না বলে তুমি আমাকে মায়ের মতো ভালোবেসেছ। আমার জন্য তুমি আর ভেব না, মনে কোরো তোমার কোনো ননদ ছিল না, ভাইয়াকে বোলো তার বোন হারিয়ে গেছে। আমি অত্যাচারে পাথর হয়ে গেছি … ওরা ভাবছে অত্যাচার না সইতে পেরে আমি আত্মহত্যা করব, কিন্তু আত্মহত্যা করারও মনোবল আমি হারিয়ে ফেলেছি … এই হয়তো আমার শেষ চিঠি ভাবি। ভালো থেকো।”

    শকুন্তলার ওপর এই নির্মম অত্যাচার পাড়ার সবাই জানত।

    সবাই আদালতে এল এই পাশবিক পরিবারকে শাস্তি দিতে। ৮/১ শ্রীচরণ সরণীর শঙ্কর রুস্তেগি বলল, ”বউটার ওপর ওরা খুব অত্যাচার করত হুজুর! আমি অনেক বার গিয়ে বাঁচিয়েছি। বিনোদ প্রায়ই মারত ওকে।”

    রাজরানি, মধুবালা, বিনোদ যতই বলুক, স্টোভ ফেটে শকুন্তলার মৃত্যু হয়েছে, আদালতে এই অজুহাত ধোপে টিকল না। ঘটনাস্থলে কোনো স্টোভ ছিল না। তা ছাড়া মেডিক্যাল জুরিস প্রুডেন্সে স্পষ্ট লেখা ছিল, শকুন্তলার গলার হাড় ভাঙা ছিল এমনভাবে যে অন্য কোনো ব্যক্তি চাপ না—দিলে সেই হাড় ভাঙা সম্ভব নয়।

    দায়রা আদালত বেশি দেরি করলেন না, ভরত পাণ্ডেকে দিলেন চার বছরের সশ্রম কারাদণ্ড। রাজরানি আর মধুবালাকে দেওয়া হল যাবজ্জীবন কারাদণ্ড। আর মূল অপরাধী বিনোদ, যে কিনা শকুন্তলার স্বামী, যার কিনা শকুন্তলার দেখভাল করার কথা, তার এমন অপরাধে দেওয়া হল ফাঁসির সাজা।

    মধুবালার বাবা ছিল পয়সাওয়ালা, সে মেয়ে ও মেয়ের শ্বশুরবাড়িকে বাঁচাতে আপিল করল হাইকোর্টে।

    মহামান্য হাইকোর্ট রায় দিল ১৯৯৮ সালের ২১ ডিসেম্বর।

    ততদিনে মধুবালার কোলে সন্তান এসেছে। তার ভবিষ্যতের কথা ভেবে জজ বিনোদের ফাঁসির সাজা মকুব করে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছিলেন।

    প্রত্যক্ষদর্শীরা বলে, রাজরানির কোনো অনুতাপের চিহ্ন ছিল না। তাকে দেখতে আদালতে ভিড় হলে সে অশ্রাব্য ভাষায় লোককে গালিগালাজ করত, থুতু দিত। খোদ বিচারক পর্যন্ত তাদের অনুশোচনাহীন ব্যবহারে অবাক হয়ে গিয়েছিলেন।

    তবে কে যে সেদিন থানায় ফোন করে খবর দিয়েছিল, তা কিছুতেই জানা যায়নি।

    বিনোদ পাণ্ডে হয়তো এখনও জেল খাটছে, কিন্তু যে নিরপরাধ মেয়েটাকে চলে যেতে হয়েছিল মাত্র তেইশ বছর বয়সে, তার কী অপরাধ ছিল?

    আমাদের হিন্দুশাস্ত্রে বলা হয়, গৃহবধূ ঘরের লক্ষ্মী। তাকে সম্মান না—দিলে ঘর তাসের ঘরে পরিণত হয়। অথচ এই মামলার রায় দিতে গিয়ে বিচারক সখেদে বলেছিলেন, “That the instance of bride killing is alarmingly on the increase and society to be ridden of this deep seated malady!”

    সেই ঘটনার পর কেটে গেছে বত্রিশ বছর।

    তবু আজও এভাবেই মরে যেতে হয় যাদবপুরের মিতা বা বারাসতের পায়েলকে। তবু আজও অনেক বাবা—মা মেয়ের লেখাপড়ার চেয়ে বিয়ের জন্য টাকা জমাতেই বেশি পছন্দ করেন।

    মেয়েদের আসলে লক্ষ্মী হওয়ার চেয়েও সরস্বতী হওয়া অনেক বেশি প্রয়োজন যাতে সুশিক্ষিত হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে সে স্বাবলম্বী হতে পারে। যাতে প্রয়োজনে গর্জে উঠতে পারে, অন্যকে খুশি করার চেয়েও নিজে খুশি থাকতে পারে। আত্মসম্মানের সাথে!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleবাবু ও বারবনিতা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    Next Article নরক সংকেত – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    Related Articles

    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    নির্বাচিত ৪২ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দাশগুপ্ত ট্রাভেলস – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    দিওতিমা – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ৭ শিহরণ – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    অঘোরে ঘুমিয়ে শিব – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    ঈশ্বর যখন বন্দি – দেবারতি মুখোপাধ্যায়

    August 28, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }