Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হিমুর একান্ত সাক্ষাৎকার ও অন্যান্য – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প111 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    গন্ধ

    ‘গন্ধ’ গল্পটি এক বৈঠকে লেখা। আমার পছন্দের গল্প। আমার ধারণা এই সংকলনের সবচে ভাল গল্প। পাঠক বিবেচনা করুন।

    *

    আব্দুল করিম বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে মোটামুটি নিশ্চিত হয়ে গেল রাত শেষ হলেই তার ফাঁসি হবে। ফাঁসিগুলো সাধারণত ফজরের আজানের আগে আগে হয়। ফাঁসি হয়ে যাবার পর জল্লাদ অজু করে ফজরের নামায পড়ে। সেই হিসেবে আব্দুল করিমের হাতে দশ ঘণ্টা সময় আছে।

    জেলার নিজে এসেছেন। সেলের বাইরে দাঁড়িয়ে আছেন। তার হাতে সিগারেট। তিনি নার্ভাস ভঙ্গিতে সিগারেটে টান দিচ্ছেন। তিনি সরাসরি করিমের চোখের দিকে তাকাচ্ছেনও না।

    করিম।

    জি স্যার?

    সিগারেট খাওয়ার অভ্যাস আছে? সিগারেট খাবেন?

    করিম বলল, জি স্যার খাব।

    জেলার সিগারেটের প্যাকেট গরাদের ভেতর দিয়ে এগিয়ে দিতে দিতে বললেন, প্যাকেটটা রেখে দিন।

    করিম বলল, শুকরিয়া।

    রাতে কী খেতে ইচ্ছা করছে বলুন তো?

    করিম বলল, স্যার আজই কি ফাঁসি হবে?

    জেলার সাহেব অন্যদিকে তাকিয়ে বললেন, সেটাতো বলতে পারছি না।

    করিম বলল, কী খেতে চাই জানতে চাচ্ছেন এই জন্যেই জিজ্ঞেস করছি।

    জেলার নিজেকে সামলাতে সামলাতে বললেন, আমার স্ত্রী মাঝে মাঝে যাদের ফাঁসির হুকুম হয়েছে তাদের কিছু খাওয়াতে ইচ্ছা করে– এই জন্যেই জিজ্ঞেস করছি।

    আলু ভাজি খেতে ইচ্ছে করছে।

    শুধু আলুভাজি?

    জি স্যার! আলুভাজির সঙ্গে শুকনা মরিচ ভাজি আর দুই চামচ গাওয়া ঘি।

    মাছ মাংস কিছু না?

    যদি সম্ভব হয় ডিমওয়ালা শিং মাছের ঝোল।

    অবশ্যই সম্ভব হবে। কেন সম্ভব হবে না? কাউকে কিছু কি জানাতে হবে? আমাকে বলতে পারেন। আমি অবশ্যই জানাব।

    কাউকে কিছু জানাতে হবে না স্যার। আপনার অনেক মেহেরবানি।

    রাত ন’টার মধ্যে খাবার চলে আসবে।

    শুকরিয়া।

    জেলার সাহেব চলে গেছেন। সিগারেটের প্যাকেট হাতে আব্দুল করিম মেঝেতে পাতা কম্বলের বিছানায় পা ছড়িয়ে বসে আছে। সিগারেট সে এখনো ধরায় নি। তার সঙ্গে দেয়াশলাই নেই। ফাঁসির সেলের কয়েদিদের দেয়াশলাই লাইটার রাখতে দেয় না। তবে সিগারেট ধরানো কোনো বিষয় না। গার্ডকে বললেই ধরিয়ে দেবে।

    প্যাকেটে সিগারেট আছে আঠারোটা। দশ ঘণ্টার জন্য আঠারোটা সিগারেট। ঘণ্টায় দু’টা করে সিগারেট খাওয়া যাবে। করিম বিছানা থেকে উঠে গরাদ ধরে দাঁড়ালো। গার্ড সঙ্গে সঙ্গে উপস্থিত। ফাঁসির আসামিকে শেষ সময়ে গার্ডরা যথেষ্ট মায়া-মমতা দেখায়।

    করিম বলল, একটা সিগারেট ধরাব।

    গার্ডের কাছে লাইটার ছিল না, সে দৌড়ে কোত্থেকে লাইটার নিয়ে এল। করিম বলল, বাংলা মাস কী জানেন?

    অগ্রহায়ণ মাস।

    করিম সিগারেটে টান দিল। গ্রামের দিকে অগ্রহায়ণ মাসে তীব্র শীত পড়ে। কথায় মানে না এমন শীত। অথচ ঢাকা শহরে শীত নেই। জেলখানায় শীত আরো কম। দেড় বছরের উপরে সে জেল হাজতে আছে। শীতকাল বলে যে একটা ঋতু আছে বুঝতেই পারে নি। জেলাখানায় একটাই ঋত–গরম কাল।

    গার্ড বলল, পান খাবেন? একটা পান এনে দেই?

    করিম বলল, এখন পান খাব না। ভাত খাওয়ার পরে একটা খাব।

    গার্ড বলল, কোনো চিন্তা নাই। জর্দা দিয়ে ডাবল পান এনে দিব।

    করিম বলল, শুকরিয়া।

    শুকরিয়া বলা সে শিখেছে যমুনার কাছ থেকে। মুন্‌সি মাওলানারা কথায় কথায় শুকরিয়া বলে। তার স্ত্রী যমুনা কোনো মুন্‌সি মাওলানা বা মাওলানা ঘরের মেয়েও না। কার কাছ থেকে সে শুকরিয়া বলা শিখেছিল কে জানে! একদিন করিম জিজ্ঞাসা করেছিল। যমুনা অন্যদিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলেছিল– বলব না।

    বলব না বলাও তার আরেক রোগ। কিছু জানতে চাইলেই বলতো বলব না।

    একদিন দুপুরে বাসায় খেতে বসে দেখে এলাহি আয়োজন। পোলাও, কোর্মা, খাসির রেজালা। অথচ ছুটির দিন বলে সে সকালে নিজেই বাজার করেছে টেংরা মাছ, কচুর লতি এবং ছোট চিংড়ি। করিম বিস্মিত হয়ে বলল, ব্যাপার কী?

    যমুনা যথারীতি অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে হাসতে হাসতে বলল, বলব না। ঘটনা কী রাতে জানা গেল। তাদের বিয়ের দিন। করিম বিয়ের প্রথম বছরেই এই দিনটা ভুলে গেল। আফসোস।

    তাদের বিয়ে হয়েছিল পৌষ মাসে। নেত্রকোনার পৌষ মাসের শীত যে কী জিনিস যারা সেই সময় নেত্রকোনায় যাবে না তারা কোনোদিনই জানবে না। মেয়ের বাড়িতেই বাসর হলো। ফুল দিয়ে সাজানো পুরনো আমলের খাট। আয়োজনের কোনো কমতি নেই। সমস্যা একটাই, গায়ে দেবার জন্যে পাতলা ফুল তোলা একটা কথা ছাড়া কিছু নেই। যে দেশে ডাবল লেপে শীত মানে না সেই দেশে নতুন জামাইকে দেয়া হয়েছে পাতলা একটা কথা।

    করিম নববধূকে বলল, তোমাদের বাড়িতে লেপ নেই?

    যমুনা বলল, অবশ্যই আছে। বাপজানে বিয়ার জন্যে শিমুল তুলার নয়া ডাবল লেপ বানাইছে।

    তাহলে কাঁথা কেন?

    যমুনা অন্যদিকে তাকিয়ে হাসতে হাসতে বলল, বলব না।

    কাঁথার রহস্য জানা গেল অনেক দিন পর। পুরো ব্যাপারটা করেছেন। যমুনার দাদিজান। তিনি নাতিন জামাই-এর সঙ্গে সামান্য মশকরা করেছেন।

    বিয়ের প্রথম রাতে যে পুরুষের শীত লাগে সে না-কি পুরুষের জাতই না। যমুনার দাদিজান পরীক্ষা করে দেখেছেন করিম পুরুষের জাতে পড়ে কি-না। পরীক্ষায় করিম পাস করতে পারে নি। শেষ রাতে যমুনাকে লেপ আনতে বাড়ির ভেতর যেতে হয়েছিল। করিম কথা গায়ে দিয়ে থরথর করে কাঁপছে এই দৃশ্য যমুনা মেনে নিতে পারে নি।

    আজ রাত শেষ হবার আগেই করিমের ফাঁসি হবে তার স্ত্রীকে গলা টিপে খুন করার জন্য। অথচ খুনটা সে করে নাই। ঐদিন দুপুরে তার প্রচণ্ড মাথা ধরল। কপালে হাত দিয়ে মনে হল জ্বর আসছে। অফিস কামাই দেয়া তার স্বভাব না। জ্বর নিয়েই সে অপেক্ষা করতে লাগল কখন চারটা বাজবে। এই সময় বাড়িওয়ালার বাসা থেকে তার কাছে একটা টেলিফোন এল। বড় সাহেবের চেম্বারে গিয়ে টেলিফোন ধরতে হল। করিমের খুবই সংকোচ লাগছিল কারণ তার টেলিফোনে কর্মচারীদের কল এলে তিনি খুব রাগ করেন। ভাগ্য ভালো সেদিন বড় সাহেব অফিসে ছিলেন না। যমুনা টেলিফোনে ভীত গলায় বলল, এক্ষুণি বাসায় আসতে পারবে?

    করিম বলল, কেন?

    যমুন বলল, বলব না। এক্ষুণি বাসায় আস।

    কোনো সমস্যা?

    বলব না।

    অফিস থেকে ছুটি নিয়ে করিম রিকশা করে বাড়ি ফিরল। তার বাসা চারতলার তিন কামরায় একটা ফ্লাটে, সে আর যমুনা থাকে। বারো-তের বছরের একটা কাজের মেয়েও থাকে। মেয়েটার নাম জাহেদা। করিমের শাশুড়ির নাম জাহেদা হবার কারণে মেয়েটাকে ডাকা হতো ফুলি।

    করিম সিঁড়ি থেকে চারতলায় উঠল। অনেক্ষণ কলিংবেল টিপল। কেউ দরজা খুলল না। সবসময় একবার কলিং বেল টিপলেই যমুনা ছুটে এসে দরজা খোলে।

    করিম দরজায় ধাক্কা দিতে গিয়ে দেখে দরজা খোলা। সে ঘরে ঢুকল। শোবার ঘরে চাদর মুড়ি দিয়ে যমুনা ঘুমিয়ে আছে। তার ঠোঁটে রক্ত জমে কালো হয়ে আছে। কিছুক্ষণ সে হতভম্বের মত যমুনার দিকে তাকিয়ে থাকল। তারপর অতি দ্রুত সিঁড়ি দিয়ে নামল। দারোয়ান গেট খুলে দিল। সে দৌড়ে চলে গেল রাস্তায়।

    কোর্টে উকিল সাহেব তাকে অস্থির করে তুলছেন। উকিল সাহেব হালকা পাতলা মানুষ। গায়ের রং গাউনের মতোই কালো। তাঁর দাঁত এবং চোখের সাদা অংশ অস্বাভাবিক সাদা। সব সময় ঝনঝন করছে। তার চোখে চশমা কিন্তু প্রশ্ন করার সময় চশমাটা হাতে নিয়ে নেন। চশমার উঁটি আঙুলের মতো তুলে প্রশ্ন করেন। বেশির ভাগ প্রশ্নেরই কোনো আগামাথা নেই।

    আপনার বাসার কাজের মেয়েটির বয়স কত?

    বারো তের হবে। সঠিক জানি না।

    তার সঙ্গে আপনার যৌন সম্পর্ক কত দিনের?

    ছিঃ জনাব। মেয়েটা আমাকে চাচা ডাকে।

    এ দেশে প্রচুর চাচা আছে যারা নিকট এবং দূরের ভাতিজিদের সঙ্গে যৌন সম্পর্ক করে। করে না?

    জনাব আমি জানি না।

    আপনাদের এই যৌন সম্পর্কের বিষয়টি আপনার স্ত্রী কখন জানতে পারেন?

    এই জাতীয় কোনো কিছুই হয় নাই।

    আপনার স্ত্রী অকারণেই আপনাকে সন্দেহ করতেন।

    আমার বিষয়ে কখনোই তার কোনো সন্দেহ ছিল না।

    ঘটনার আগের দিন আপনি কাজের মেয়েটিকে ছুটি দেন। সেটা কি হত্যাকাণ্ড ঘটানোর সুবিধা হয় এই কারণে?

    মেয়েটার বাবা অসুস্থ। সে দেশের বাড়িতে যাবে এই কারণে ছুটি চেয়েছিল। আমার স্ত্রী তাকে ছুটি দিয়েছিলেন। আমি না।

    উকিল সাহেব বললেন, আপনার স্ত্রীকে আদালতে এনে জিজ্ঞাসা করা যাবে না যে ছুটি কে দিয়েছে। এটাই সমস্যা। সমস্যা না?

    জি জনাব।

    উকিল সাহেব এই পর্যায়ে জজ সাহেবের দিকে তাকিয়ে বললেন, পুলিশ জাহেদা নামের মেয়েটাকে শ্যামগঞ্জ থেকে গ্রেপ্তার করেছে। সে বলেছে সে কখনো ছুটি চায় নাই। তাকে হঠাৎ ছুটি দেয়া হয়। মেয়েটি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে জবানবন্দি দিয়েছে যে আসামির সঙ্গে তার শারীরিক সম্পর্ক ছিল। আমরা যথাসময়ে মেয়েটিকে উপস্থিত করবো। এখন আমরা আসামির কাছে ফিরে যাই।

    আপনি বলতে চাচ্ছেন যে আপনি ঘরে ঢুকে দেখেন যে আপনার স্ত্রী খুন হয়েছে?

    জি।

    এত বড় একটা ঘটনা ঘটার পর আপনার উচিত ছিল প্রতিবেশীদের জানানো। তা না করে আপনি বাড়ি থেকে পালিয়ে গেলেন। রাত তিনটায় পুলিশ আপনাকে কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গ্রেপ্তার করে। এটা কি সত্যি?

    জি সত্যি।

    তখনো আপনার হাতে রক্তের দাগ লেগেছিল এটা কি সত্যি?

    জি সত্যি। যমুনার ঠোঁটে রক্ত ছিল সেই রক্ত হাতে লেগে গিয়েছিল।

    আপনার বাসা থেকে কোনো কিছুই খোয়া যায় নাই এটা কি সত্যি?

    জি সত্যি।

    তাহলে আমরা ধরে নিতে পারি যে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয় নাই। আমার যুক্তি ঠিক আছে?

    জি।

    আপানার স্ত্রী যমুনার পোস্টমর্টেম করা হয়েছে। হত্যার আগে তাকে ধর্ষণ করা হয়েছিল এমন আলামত পাওয়া যায় নি। হত্যাকারী টাকা-পয়সার লোভেও হত্যা করে নি আবার ধর্ষণের জন্যও হত্যা করে নি। তার মোটিভ ছিল সম্পূর্ণ আলাদা। যাই হোক হত্যাকাণ্ডের পর আপনি কমলাপুর রেলস্টেশনে বসে ছিলেন কেন?

    জানি না।

    কেন জানবেন না? আপনার পকেটে বাহাদুরাবাদ ঘাটের একটা টিকিট পাওয়া গেছে। টিকিট কাটা হয়েছে ময়মনসিংহ পর্যন্ত। আমি ভুল বলছি?

    জি না জনাব।

    আপনি কি পালিয়ে যেতে চাচ্ছিলেন?

    জি না জনাব।

    তাহলে ময়মনসিংহের টিকিট কেন কেটেছিলেন? রিলাক্স করতে যাবার জন্য?

    উকিল সাহেবের কথায় করিম আহত হয়েছে কিন্তু রাগ করে নি। মনে কষ্ট পায় নি। উনি উনার কাজ করবেন। অপরাধী ধরবেন। তার যেন কঠিন শাস্তি হয় সেই ব্যবস্থা করবেন। এই কারণেই তাকে টাকা দিয়ে রাখা হয়েছে। করিম মনে কষ্ট পেয়েছে জাহেদার কথায়। মেয়েটারে এত স্নেহ করতেন। মা ডাকতেন। এই নিয়ে যমুনা রাগ করতো।

    কাজের মেয়েকে মা ডাকো কেন? নাম ধরে ডাকো। বেশি আদর করলে এরা মাথায় উঠে।

    বাচ্চা মেয়ে, কত কাজ করে। মেয়েটাকে স্নেহ করি।

    সেই মেয়ে এজলাসে উঠে এটা কী করল! লজ্জায় করিমের মাথা কাটা যাওয়ার মতো অবস্থা।

    তুমি উনাকে চেন?

    চিনি।

    উনার নাম বলো।

    আব্দুল করিম।

    উনার বাসায় তুমি কত দিন ধরে আছ?

    এক বছর।

    তোমাকে নিয়ে উনাদের স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া হতো?

    হুঁ।

    হুঁ না। পরিষ্কার করে বলো। প্রায়ই ঝগড়া হতো?

    জি হইত।

    উনার স্ত্রী সন্দেহ করতো যে উনার সঙ্গে তোমার খারাপ সম্পর্ক আছে?

    হুঁ।

    করিমের উকিল এই পর্যায়ে বললেন, জেরা ঠিক হচ্ছে না। সাক্ষীর মুখে তুলে দেয়া হচ্ছে।

    তার উত্তর উকিল সাহেব বললেন, কিছু কিছু কথা মুখে তুলে দিতে হবে। বাচ্চা একটা মেয়ে নিজ থেকে গড়গড় করে নোংরা কথা বলতে পারে না।

    করিমের মুখ ইচ্ছা করছিল মেয়েটাকে বলে, মাগো এই মিথ্যা কথাগুলো তুমি কেন বলছ? জিজ্ঞাস করা হয় নি। লজ্জাতেই জিজ্ঞাস করতে পারে নি। মেয়েটার মিথ্যা বলার একটা কারণ করিম অনেক পরে বের করেছে। মেয়েটার ধারণা করিম যমুনাকে খুন করেছে। মেয়েটা চাচ্ছে করিমের কঠিন শাস্তি হোক।

    রাত নটা। জেলার সাহেবের বাসা থেকে টিফিন কেরিয়ারে করে খাবার এসেছে। করিম যা যা বলেছে সবই এসেছে। করিম আগ্রহ করে খেতে বসল। আলুভাজি, ডিওয়ালা শিং মাছ তার পছন্দের খাবার তা কিন্তু না। যমুনার পছন্দের খাবার। সে তাকে বলেছে বেহেশতে সে আল্লাহ পাকের কাছে এই খাবারই দুই বেলা খেতে চাইবে।

    করিম বলেছিল, বেহেশতে তুমি আলুভাজি পেতে পার, শিং মাছের ঝোল পাবে না।

    যমুনা বলল, কেন পাব না?

    করিম বলল, শিং মাছের প্রাণ আছে। শিং মাছের ঝোল রাঁধতে হলে শিং মাছের প্রাণ নষ্ট করতে হবে। বেহেশতের মতো জায়গায় কোনো প্রাণ নষ্ট করা যাবে না।

    তোমাকে কে বলেছে?

    কেউ বলে নাই। আমি চিন্তা করে বের করেছি।

    যমুনা মুগ্ধ গলায় বলল, আমার কেন জানি মনে হচ্ছে তোমার কথা ঠিক। কাজেই শিং মাছ যা খাবার আমি দুনিয়াতেই খেয়ে যাব। সপ্তাহে

    একদিন অবশ্যই আমার জন্য শিং মাছ কিনে আনবে।

    .

    গার্ড জর্দা দিয়ে পান নিয়ে এসেছে। পানটা খেতে করিমের খুবই ভালো লাগল। সে নিজেই একটা সিগারেট ধরালো, গার্ডকে একটা দিল। গার্ড বলল, ভাই সাহেব মনে সাহস রাখবেন।

    করিম বলল, রাখব। সাহস রাখার চেষ্টা করব। পারব কিনা জানি না। আচ্ছা ভাই আমাকে যে ফাঁসি দিবে তার নাম কী?

    গার্ড বলল, দুই ভাই আছে। যাবজ্জীবন হয়েছে। তারাই ফাঁসি দেয়। এক ভাইয়ের নাম রমজান। আরেক ভাইয়ের নাম আলী। দুই ভাই-ই এখানে আছে। কে ফাঁসি দিবে জানি না।

    কে ফাঁসি দিবে জানলে ভালো হতো।

    কেন?

    একজন নিরপরাধ মানুষের ফাঁসি দেয়ার কারণে তার কিছু পাপ হবে। সেই পাপ যেন না হয় তার জন্যে দোয়া করা দরকার। সে তো আর জানে না আমি নির্দোষ।

    গার্ড বলল, ফাঁসির সব আসামি বলে সে নির্দোষ। যখন ফাঁসি দেবার জন্যে কালো টুপি দিয়ে তার মুখ ঢেকে দেয় তখনি সে বুঝে যে নির্দোষ না। অনেকেই চিৎকার করে বলে আমি দোষ করেছি আল্লাহপাক ক্ষমা করো। আপনি কি আরেকটা পান খাবেন, এনে দিব?

    দেন, আপনার অনেক মেহেরবানি।

    কোরান মজিদ পড়বেন?

    আরবি পড়তে পারি না।

    সিগারেট আছে, আর লাগবে না। সিগারেট খাওয়ার অভ্যাসও আমার নাই। জেলার সাহেব দিয়েছেন বলে খাচ্ছি।

    দ্বিতীয় পানে জর্দা বেশি ছিল। খাওয়ার পর করিমের মাথা ঘুরাতে লাগলো। কাঁচা সুপারির পান খেয়ে যমুনার একবার এরকম হল। মাথা ঘুরে বিছানায় পড়ে গেল। ঘামে শরীর গেল ভিজে। যমুনা বলল, এই শোন আমি মারা যাচ্ছি। তুমি আমার হাত ধরে বসে থাকো। তুমি নড়বা না। খবরদার নড়বা না। আহারে কী ছেলেমানুষী! মানুষ কি এত সহজে মরে? মানুষের মৃত্যু কঠিন ব্যাপার। অনেক আয়োজন লাগে। ভোরবেলায় তার মৃত্যু হবে। অনেক আয়োজন লাগবে, অনেক চিন্তার বিষয়ও আছে।

    করিম রাত এগারোটার দিকে কম্বলে ঘুমাতে গেল। সে জানে ঘুম আসবে না। তার পরেও সময়টাতো পার করতে হবে। যমুনার কথা চিন্তা করলে সময়টা সুন্দর পার হয়ে যাবে। চিন্তা করার কত কিছু আছে। কত ঘটনা। একবার সে যমুনাকে নিয়ে শ্বশুরবাড়ি গিয়েছে, হঠাৎ শোনে রাগ করে সে খাওয়া দাওয়া বন্ধ করে দিয়েছে। কী কারণে রাগ করেছে তা জানা যাচ্ছে না। দুপুরে সে কিছু খেল না। রাতেও না। যমুনার মা শুরু করলেন কান্না। এতদিন পরে মেয়ে এসেছে। খাওয়া-দাওয়ার কত আয়োজন অথচ মেয়ে উপোস। তিনি বারবার বলছেন, মারে আমি একটা ভুল করে ফেলেছি। মানুষ ভুল করে না? তামাশা করে একটা কথা বললাম। মাফ করে দে মা।

    যমুনা ঘাড় শক্ত করে বলল, মাফ করব না। কাল সকালে আমি চলে যাব। লোকজনের অনুরোধ, চোখের পানি কিছুই কাজ করল না।

    রাগের ঘটনা করিম জেনেছে অনেক দিন পর। তার শাশুড়ি না-কি বলেছিলেন, যমুনার জামাইটা বোকা কিসিমের।

    এটা রাগ করার কোনো বিষয়? সে বোকা এটাতো সত্যি। শাশুড়ি আম্মা একটা সত্যি কথা বলছিলেন। এই নিয়ে কোন মেয়ে এত রাগ করে?

    করিম ভেবেছিল তার ঘুম আসবে না। বিছানায় শোয়ার কিছুক্ষণের মধ্যে সে ঘুমিয়ে পড়ল। গভীর গাঢ় ঘুম। ঘুম ভাঙল জেলখানার মাওলানা সাহেব যখন ডেকে তুললেন। তাকে গোসল দেয়া হবে। তওবা পড়ানো হবে। মাওলানা সাহেব জেলখানায় পরিষ্কার পায়জামা ফতুয়া নিয়ে এসেছেন। এই কাপড় পরেই তার যাত্রী। করিম বলল, মাওলানা সাহেব একটা প্রশ্ন ছিল।

    বলেন কী প্রশ্ন?

    বেহেশতে কি শিং মাছের ঝোল পাওয়া যাবে?

    মাওলানা প্রশ্ন শুনে বিস্মিত হলেন না। ফাঁসির আসামি তওবা পড়ানোর আগে অনেক উদ্ভট উদ্ভট কথা বলে। মাওলানা বললেন, বেহেশতে মানুষ যে খানাই খেতে চাবে তাই দেয়া হবে। সেই খানার স্বাদ হবে পৃথিবীর খানার স্বাদের চেয়েও এক হাজার গুণ বেশি। বলেন সোবাহানাল্লাহ।

    করিম বলল, সোবাহানাল্লাহ।

    করিমকে ফাঁসির মঞ্চের দিকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। দু’জন পুলিশ দুদিক থেকে তাকে ধরে রেখেছে। তার হাত পেছন দিকে বাধা। তার কোনো প্রয়োজন ছিল না। করিম কোনো হৈচৈ করছে না। অনেকেই করে ছুটে পালিয়ে যেতে চায়। জেলার সাহেব তার সঙ্গে সঙ্গে হাঁটছেন। করিম তার দিকে তাকিয়ে বলল, স্যার যে আমার ফাঁসি দিবে তার নামটা কী বলবেন।

    কী হবে নাম জেনে।

    কৌতূহল আর কিছু না।

    তার নাম রমজান। রমজান মিয়া।

    নামটা বলার জন্যে স্যার শুকরিয়া।

    করিমের মনে পড়ল তার ফ্ল্যাট বাড়ির দারোয়ানের নামও রমজান মিয়া। অতি বিনয়ী। বিশাল শরীর সেই তুলনায় মাথাটা ছোট। কথা বলতো মাটির দিকে তাকিয়ে। হাতের বিড়ি অদ্ভুত কায়দায় লুকিয়ে ফেলত। সবার সঙ্গে দু’একটা কথা সে বলতই স্যার ভালো আছেন? কী বাজার করছেন? ইলিশ মাছ? দাম কত নিল? মাছ আর খাওয়া যাবে না। খানা খাদ্য দেশ থাইকা উইঠা যাবে। মাটি খায়া থাকতে হবে।

    করিম ভেবে পেল না এত মানুষ থাকতে মৃত্যুর আগে আগে রমজান মিয়ার কথা তার মনে পড়ছে কেন?

    কাঠের পাটাতনে করিমকে দাঁড়া করানো হয়েছে। মচমচ শব্দ হচ্ছে। শব্দটা অদ্ভুত লাগছে। কেন অদ্ভুত লাগছে এটাও সে বুঝতে পারছে না। করিমের মাথায় কালো টুপি পরিয়ে দেবার সঙ্গে সঙ্গে সে যমুনার রহস্য ভেদ করল।

    দারোয়ান রমজান মিয়া সব সময় তার সঙ্গে অনেক কথা বলে কিন্তু যমুনার মৃত্যুর দিন সে পাগলের মতো ছুটে বের হচ্ছে, রমজান মিয়া গেট খুলে দিল একটা কথাও বলল না।

    যমুনা বলছিল, এই শোন ফুলিকে আমি রাখব না। বিদায় করে দেব। ও প্রায়ই দারোয়ানটার সঙ্গে গল্প করতে চায়।

    করিম বলেছিল, থাক না। রমজান মিয়াইতো দেশের বাড়ি থেকে মেয়েটাকে এনে দিয়েছে। তার আপনা লোক। ফুলি দারোয়ানের কাছ থেকে যখন ফিরে তখন তার গায়ে থাকে বিড়ির গন্ধ।

    করিম যমুনার গায়ের উপর থেকে যখন চাদর সরিয়েছিল তখন কড়া বিড়ির গন্ধ পেয়েছিল। রমজানের হাতের বিড়ির গন্ধ লেগেছিল যমুনার গায়ে। কত সহজ সমাধান।

    করিম বিড়ির গন্ধ আবার পাচ্ছে। সে প্রাণপণ চেষ্টা করছে যমুনার চুলের মিষ্টি গন্ধটা মনে করতে। মৃত্যুর সময় যমুনার চুলের মায়াবী গন্ধটা একবার যদি মনে পড়ত! বিড়ির উৎকট গন্ধ সব এলোমেলো করে দিচ্ছে।

    জেলার সাহেব হাতের ইশারায় ফাঁসি কার্যকর করার সিগনাল দিলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleপোকা – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article দাঁড়কাকের সংসার কিংবা মাঝে মাঝে তব দেখা পাই – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }