Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হিমু রিমান্ডে – হুমায়ূন আহমেদ

    হুমায়ূন আহমেদ এক পাতা গল্প93 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৩. আমি আছি বাদলদের বাড়িতে

    আমি আছি বাদলদের বাড়িতে।

    এ বাড়িতে বাস করা দূরের কথা, বাদলের ৫০ হাজার গজের মধ্যে থাকাই আমার জন্যে নিষেধ ছিল। কোনো এক কারণে পরিস্থিতি ভিন্ন। খালু সাহেব আমাকে দেখে হাসিমুখে বলেছেন, আরো তুমি! কেমন আছ?

    জি ভালো।

    অনেকদিন পরে তোমাকে দেখলাম। এসেছ যখন কয়েকদিন থাক।

    আমি বিস্মিত হয়ে বললাম, জি আচ্ছা।

    খালু সাহেব আনন্দিত গলায় স্ত্রীর দিকে তাকিয়ে বললেন, এই শুনছ, হিমু। কিছুদিন থাকবে আমাদের সঙ্গে। গেষ্টরুমটা খুলে দাও। বাথরুমে সাবান, টাওয়েল আছে কি-না দেখা।

    খালাও গালভর্তি করে হাসলেন।

    যাকে বলে। লালগালিচা অভ্যর্থনা। আমি বাদলকে আড়ালে নিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, ব্যাপার কী রে! আমাকে নিয়ে টানাটানি শুরু হয়ে গেছে বলে মনে হচ্ছে।

    বাদল গলার স্বর কাঁপা কাঁপা অবস্থায় নিয়ে বলল, তুমি তো টানাটানি করার মতোই মানুষ। সাধারণ কেউ তো না।

    তোর কাছে টানাটানির মানুষ। খালু সাহেব বাঁ খালার কাছে না। তাদের কাছে Father driven, Mother broomed.

    এর মানে কী?

    Father driven মানে বাপে খেদানো। Mother broomed মানে মায়ের ঝাড়ু দিয়ে বিতাড়ন।

    বাদল বলল, মানে টানে নিয়ে আমি মাথা ঘামাচ্ছি না। তুমি গেষ্টরুমে থাকতে পারবে না। তুমি থাকবে আমার সঙ্গে। খাটে ঘুমাবে, আমি মেঝেতে কম্বল পেতে ঘুমাব। সারারাত গল্প করব। ছবি দেখব।

    গুড।

    তুমি যে কয়দিন থাকবে আমি ইউনিভার্সিটিতে যাব না। চব্বিশ ঘণ্টা তোমার সঙ্গে থাকব। আমাকে কেউ হাতি দিয়ে টেনেও তোমার কাছ থেকে সরাতে পারবে না।

    কাঁঠালের আঠা হয়ে যাবি?

    অবশ্যই।

    আমাকে বিস্মিত করে খালা এসে জানতে চাইলেন, দুপুরে কী খাবি?

    আমি বললাম, যা খাওয়াবে তাই খাব।

    তোর কী খেতে ইচ্ছা করে বল? পথেঘাটে থাকিস, আত্মীয়স্বজনদের বাসায় এসে ভালোমন্দ খাবার ইচ্ছা হতেই পারে। হিমু, দশ পনেরো দিনের আগে নড়ার নামও নিবি না।

    আমি বললাম, ঠিক করে বলে তো তোমাদের সমস্যাটা কী?

    এর মধ্যে তুই সমস্যা খুঁজে পেয়ে গেলি? আমি তোর খালা না?

    বাদলের ঘরে টেলিভিশন ছিল না। সে গেষ্টরুম থেকে টিভি নিয়ে এলো। আমার হাতে টিভির রিমোট ধরিয়ে বলল, শুয়ে শুয়ে টিভি দেখবে। টেবিলের উপর খবরের কাগজ।

    আমি টিভি দেখি না। খবরের কাগজও পড়ি না।

    এখন টিভি দেখবে, খবরের কাগজ পড়বে। অনেকদিন পর এই কাজটা করবে তো–আনন্দ পাবে। চা খাবে? চা দিতে বলি?

    আমি বললাম, দে।

    খবরের কাগজ পড়ে বিশেষ আনন্দ পেলাম। সেকেন্ড হেডলাইন— সর্ষেতে ভূত। পুলিশের হেফাজত থেকে দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী আয়না মজিদের পালিয়ে যাওয়ার কাহিনীর চমৎকার বর্ণনা।

    সর্ষেতে ভূত
    (নিজস্ব প্রতিবেদক)

    শীর্ষ সন্ত্রাসী আয়না মজিদ পুলিশের চোখে ধুলো দিয়ে পালিয়েছে। তার পলায়ন নিয়ে নানান ধরনের রহস্য দানা বাঁধতে শুরু করেছে। পুলিশ যে ভাষ্য দিচ্ছে তা কারো কাছেই গ্রহণযোগ্য মনে হচ্ছে না।

    পুলিশ বলছে, সকাল আটটা বিশ থেকে আয়না মজিদকে একটি বিশেষ কক্ষে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল। জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে সে স্বীকার করে যে, সে-ই আয়না মজিদ। তার ঘনিষ্ঠ সহযোগী লম্বু খোকন এবং তার কুকর্মের বান্ধবী সুষমা রানী বিষয়েও সে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয়। তথ্যগুলি যাচাইবাছাইয়ের জন্যে তদন্তকারী কর্মকর্তা কিছুক্ষণের জন্যে জিজ্ঞাসাবাদের বিরতি নেন। আয়না মজিদকে হাতকড়া বাধা অবস্থায় ঘরে রেখে তিনি ঘর তালাবন্ধ করে দেন। ফিরে এসে দেখেন আয়না মজিদ হাতকড়া খুলে জানালার গ্রীল কেটে পালিয়ে গেছে।

    আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, হাতকড়া খোলার চাবি সে কোথায় পাবে? চাবি কি তাকে গোপনে দেয়া হয়েছিল? গ্রীল কাটার জন্যেও যন্ত্র প্রয়োজন, এই যন্ত্র সে কোথায় পেয়েছে? গ্ৰীল কাটার শব্দ অবশ্যই হবে। থানায় এত লোকজন, কেউ শব্দ শুনতে পেল না! বিশেষ ক্ষণে সবাই একসঙ্গে বধির হয়ে গেল?

    জিজ্ঞাসাবাদের সময় এক পর‍্যায়ে আয়না মজিদকে জামাই আদর করে চা গরম সিঙ্গারা খাওয়ানো হয়েছে। তদন্তকারী কর্মকর্তাও এই তথ্য স্বীকার করেছেন। হাতকড়া দিয়ে হাত পেছনে বাঁধা। আমাদের প্রশ্ন হচ্ছে, এই অবস্থায় আয়না মজিদ চা সিঙ্গারা খাবে কীভাবে? আমরা কি ধরে নেব। তদন্তকারী কর্মকর্তা মুখে তুলে তাকে খাইয়েছেন? দুর্ধর্ষ এক সন্ত্রাসীকে হঠাৎ জামাই আদর শুরু করা হলো কেন? কাদের নির্দেশে হঠাৎ আদর আপ্যায়ন?

    নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, আয়না মজিদের পলায়নের পরপরই থানার ওসি সাহেব একটা টেলিফোন পান। টেলিফোনে তাকে জানানো হয় যে, তার জন্যে মধু এবং বনমোরগ আসছে। বনমোরাগের ংখ্যা নিয়ে দরকষাকষিও হয়। ওসি সাহেব চাচ্ছেন চারটা বনমোরগ, অপরপক্ষ দিতে চাচ্ছে তিনটা বনমোরগ। এই বনমোরগ কি আসলেই বনমোরগ? না-কি বনমোরাগের আড়ালে অন্যকিছু?

    আমরা মনে করি বনমোরগ সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। মধু কিংবা বনমোরগ কোনোটাই থাকা উচিত না। তদন্ত কর্মকর্তা এস কবীর সাহেবকে লোক দেখানো সাসপেন্ড করা হয়েছে। আমরা মনে করি বিষয়টির সুষ্ঠু তদন্ত হওয়া প্রয়োজন। পর্দার আড়ালের রাঘববোয়ালদের বের করা উচিত। বনমোরগ বনে থাকবে, মধু থাকবে মধুর চাকে। এটাই শোভন। আইন প্রয়োগকারী কর্তব্যক্তিদের চারপাশে বনমোরগ ঘুরবে এবং ক্ষণে ক্ষণে কোেকর কো করবে। এটা শোভন না। জাতি বনমোরগের হাত থেকে মুক্তি চায়। সর্ষের ভূতের স্বরূপ উদ্‌ঘাটন চায়।

    দুপুরে হেভি খাওয়াদাওয়া হলো। খালু সাহেব অফিসে যান নি। সবাই মিলে একসঙ্গে খাওয়া। শুনলাম কয়েকদিন ধরেই তিনি অফিসে যাচ্ছেন না। তার যে শরীর খারাপ তাও না। তবে চোখে ভরসা হারানো দৃষ্টি। হড়বড় করে অকারণে কথা বলে যাচ্ছেন। পৃথিবীর সবচে স্বাদু খাবার কী— এই বিষয়ে দীর্ঘ বক্তৃতা দিলেন। তাঁর মতে হরিয়াল পাখির মাংস পৃথিবীর সবচে স্বাদু খাবার। কারণ এই পাখি বটফল খায়, মাছ খায় না। হরিয়াল পাখি কীভাবে রান্না করতে হয় সেই রেসিপিও দিলেন। সব পাখির মাংসে রসুন বেশি লাগে, হরিয়ালের ক্ষেত্রে লাগে না। কারণ এই পাখির শরীরেই রসুনটাইপ গন্ধ। নার্ভাস মানুষরা নাৰ্ভাসনেস কাটাতে অকারণে কথা বলে। খালু সাহেব কোনো কারণে নার্ভাস। ঘটনা কিছু একটা অবশ্যই আছে, তা যথাসময়ে জানা যাবে।

    দুপুরে খাবার পর বাদলকে নিয়ে ছবি দেখলাম। ছবির নাম Hostel. বাদলকে নিয়ে ছবি দেখা বিরক্তিকর অভিজ্ঞতা। রানিং কমেট্রির মতো সে বলে। যাবে কোন দৃশ্যের পর কোন দৃশ্য আসছে।

    হিমুদা, সুন্দর মেয়েটা দেখছে না, এক্ষুনি কাটা চামচ দিয়ে তার একটা চোখ তুলে ফেলা হবে। বাঁ চোখটা তুলবে।

    কেন?

    আনন্দ পাওয়ার জন্যে কাজটা করছে। অন্যকে কষ্ট দেয়ার মধ্যে আনন্দ আছে। আবার কষ্ট পাবার মধ্যে আনন্দ আছে। হিমুদা, তাকিয়ে থাক, এক্ষুনি চোখ তোলা হবে। ভয়ঙ্কর দৃশ্য।

    চোখ তোলার ভয়ঙ্কর দৃশ্য দেখতে দেখতে ঘুমিয়ে পড়লাম। ঘুম ভাঙল রাত আটটায়। বিকাল চারটা থেকে রাত আটটা। টানা চার ঘণ্টা ঘুম।

    বাদল দ্বিতীয় একটা ছবি নিয়ে অপেক্ষা করছে। আমার ঘুম ভাঙলেই ছবি শুরু হবে। আমাকে বিছানায় উঠে বসতে দেখে বাদল বলল, তুমি যে ঘুমিয়ে পড়েছ এটা বুঝতে অনেক সময় লেগেছে। ছবি শেষ হবার পর তাকিয়ে দেখি তুমি গভীর ঘুমে। ওই ছবির শেষ অংশটা দেখবে, না-কি অন্য কোনো ছবি দেব?

    নতুন একটা দে।

    Horor?

    হুঁ।

    তিনটা হরর ছবি কিনেছি। একটার চেয়ে আরেকটা ভালো। চল তিনটা ছবিই আজ দেখে ফেলি। দেখবে?

    চল দেখি।

    হুট করে তুমি চলে যাবে, তোমাকে নিয়ে আর ছবি দেখা হবে না। ফ্লাস্কভর্তি চা নিয়ে বসব। তোমার ঘুম পেলেই তোমাকে চা খাওয়াব। রাত দশটার পর শুরু হবে ছবির অনুষ্ঠান।

    দশটা না বাজা পর্যন্ত কী করব?

    বাদল মনে হলো চিন্তায় পড়ে গেছে। দশটা না বাজা পর্যন্ত কী করা হবে ভেবে পাচ্ছে না।

    খালু সাহেব বাদলকে বিপদমুক্ত করলেন। আমাকে ছাদে ডেকে পাঠালেন।

     

    ছাদে শীতলপাটি বিছিয়ে খালু সাহেব আসর শুরু করেছেন। পানি, গ্লাস, বরফ এবং Teacher নামের হুইস্কির বোতল দেখা যাচ্ছে। খালু সাহেবের হাতে গ্লাস। ছাদ অন্ধকার বলে তার চেহারা দেখা যাচ্ছে না। তিনি আনন্দিত কি-না তাও বুঝতে পারছি না। তবে দুএক পেগ পেটে পড়লেই তিনি আনন্দময় ভুবনে প্রবেশ করবেন।

    হিমু। বোস বোস। তোমার সঙ্গে প্ৰায় সময়ই দুর্ব্যবহার করি, কিছু মনে করো না। আন্মি চিন্তা করে দেখলাম, At the end of the day you are a good person.

    থ্যাংক য়্যু।

    থ্যাংক য়্যু দিতে হবে না। You deserve this. তুমি লোক ভালো। অবশ্যই ভালো। কেউ তোমাকে মন্দ বললে তার সঙ্গে আমি আর্গুমেন্টে যাব।

    খালু সাহেব, কটা খেয়েছেন?

    দুটা। তাও স্মল পেগ। হাতে আছে তিন নম্বর। খেয়ে কোনো আনন্দ পাচ্ছি। না। টেনশন নিয়ে খাচ্ছি।

    কেন?

    অ্যালকোহলের বিরাট ক্রাইসিস যাচ্ছে। জিনিস পাওয়াই যাচ্ছে না। প্রিমিয়াম হুইস্কির স্বাদ ভুলে গেছি। বাজারভর্তি নকল দুনম্বরি জিনিস। অনেকেই খেয়ে মারা গেছে।

    বলেন কী!

    পত্রিকা পড় না? অনেক নিউজ বের হয়েছে। তবে আসল নিউজ কেউ সাহস করে ছাপছে না।

    আসল নিউজটা কী?

    পেঁয়াজ কাচামরিচের দাম বেড়েছে। পাওয়া যাচ্ছে না, এই নিউজ আছে। কিন্তু অ্যালকোহল যে পাওয়াই যাচ্ছে না। এই নিউজ নাই। আমি চিন্তা করেছি বেনামে পত্রিকায় একটা চিঠি লিখব। লেখা উচিত কি-না তুমি বলে।

    অবশ্যই উচিত।

    হেডিং হবে বিষাক্ত নকল মদ থেকে জাতিকে রক্ষা করুন। হেডিংটা কেমন?

    ভালো।

    সেখানে কিছু সাজেশন থাকবে। যেমন, সরকারি পরিচালনায় ন্যায্যমূল্যের মদের দোকান। যে-কেউ সেখান থেকে মদ কিনতে পারবে না, শুধু লাইসেন্সধারীরা পারবে।

    আপনার লাইসেন্স আছে?

    অবশ্যই আছে। মাদক দ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর থেকে দেয়া লাইসেন্স। দেখবে?

    দরকার নেই।

    অবশ্যই দরকার আছে। তুমি ভেবে বসে আছ আমি বিনা লাইসেন্সে মদ খাচ্ছি। তা-না। আমি যখন নিজের বাড়ির ছাদে বসে মদ খাই তখনো সঙ্গে লাইসেন্স থাকে।

    ভালো তো।

    খালু সাহেব হাতের গ্লাস দ্রুত শেষ করে চতুর্থটা নিলেন। তৃপ্তির একটা শব্দও করলেন–আহা! সিগারেট ধরাতে ধরাতে বললেন, তোমাকে ছোট্ট একটা কাজ করে দিতে হবে হিমু। পারবে না?

    অবশ্যই পারব।

    জটিল কোনো কাজও অবশ্যি না। একজনকে কিছু টাকা পৌঁছে দেয়া। দুই লাখ টাকা।

    এখন দিয়ে আসব?

    কাল সকালে নিয়ে যাও। ঠিকানা দিয়ে দেব। সেই ঠিকানায় যাবে। দরজায় টোকা দেবে। যে দরজা খুলবে তাকে বলবে, কাচাবাজারের খবর কী?

    কিসের খবর কী?

    কাচাবাজারের খবর কী কিংবা বাজারের খবর কী? বাজার শব্দটা থাকলেই হবে। যে দরজা খুলবে সে তোমাকে বসাবে। কিছুক্ষণ বসে থাকবে। পাঁচ মিনিট হতে পারে, আবার ধর এক ঘণ্টাও হতে পারে। যতক্ষণ উনি না। আসছেন। ততক্ষণ বসে থাকবে। উনি এলে তার হাতে প্যাকেটটা দেবে।

    উনিটা কে?

    উনি কে তোমার জানার প্রয়োজন নাই।

    এতগুলি টাকা কাকে দিচ্ছি জানব না? তার কাছ থেকে রশিদ আনব না?

    তোমাকে এইসব কিছু করতে হবে না। তুমি টাকা দিয়ে চলে আসবে। ঘরে ঢোকার password হলো বাজার। বাজার শব্দটা শুধু মনে রাখবে। বাজার না বলে তুমি যদি মার্কেট বলো তাহলে কিন্তু তোমাকে ঘরে ঢুকাবে না।

    ডিটেকটিভ উপন্যাসের মতো মনে হচ্ছে। ব্যাপারটা কী খোলাসা করুন তো খালু সাহেব। ঝেড়ে কাশুন।

    খোলাসা করব না। ঝেড়েও কাশব না।

    খালু সাহেব এক টানে চতুর্থ শেষ করে পঞ্চমে গেলেন এবং হড়বড় করে পুরো ব্যাপারটা খোলাসা করলেন। কাকে টাকা দিতে হবে জানা গেল। কাকতালীয় হোক বাঁ কোকিলতালীয় হোক, ঘটনার মূল নায়ক আমাদের আয়না মজিদ। এই সন্দেহ আমার গোড়া থেকেই হচ্ছিল।

    ঘটনা হলো।— দিন দশেক আগে দুপুরবেলা খালু সাহেব একটা টেলিফোন পেলেন। টেলিফোনের ওপাশ থেকে বিনয়ী গলায় কেউ একজন বলল, স্যার ভালো আছেন?

    খালু সাহেব বললেন, ভালো আছি, আপনি কে?

    আমাকে চিনবেন না। আমি আপনার প্রতিবেশী। নতুন গাড়ি কিনেছেন দেখে ভালো লাগল। আলফার্ভে না?

    জি।

    চমৎকার গাড়ি। এরচে ভালো মাইক্রোবাস হয় বলেই আমার মনে হয় না।

    কালো রঙ পেলেন না?

    খোঁজ করেছিলাম, পাই নি।

    মেরুন রঙটাও খারাপ না।

    খালু সাহেব বললেন, আপনাকে চিনতে পারছি না। আপনার পরিচয়টা?

    আমার নাম মজিদ। সবাই আয়না মজিদ হিসেবে আমাকে চেনে। আপনিও নিশ্চয়ই চিনেছেন। স্যার, আমি সামান্য সমস্যায় পড়েছি। আমাকে একটু সাহায্য করতে হয়। একটা ঠিকানা লিখুন তো।

    খালু সাহেব ভড়কে গেলেন। যন্ত্রের মতো ঠিকানা লিখলেন। আয়না মজিদ বলল, এই ঠিকানায় স্যার পরশুর মধ্যে এক লাখ টাকা পাঠিয়ে দেবেন। প্রতিবেশী যদি প্রতিবেশীকে না দেখে তাহলে কে দেখবে? প্রতিবেশী যদি প্রতিবেশীকে না। চেনে তাহলে কে চিনবে? বাইবেলে আছে know thy neighbours. স্যার রাখি?

    হতভম্ব খালু সাহেবের ব্লাড প্রেসার আকাশে উঠে গেল। শরীর ঘামতে লাগল। মাথা চক্কর দিতে লাগল। তিনি পুলিশের কাছে পুরো ঘটনা বললেন। পুলিশ ঐ ঠিকানায় উপস্থিত হয়ে দেখে বিধবা এক স্কুল শিক্ষিকা দুই বাচ্চা নিয়ে ঐ বাড়িতে থাকেন। তিনি পুলিশের কাছে ঘটনা শুনে কেঁদেকেটে অস্থির।

    খালু সাহেব স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললেন। তার ব্লাড প্রেসার স্বাভাবিক হলো। তিন দিন পর আবার আয়না মজিদের টেলিফোন।

    স্যার, কেমন আছেন? চিনতে পারছেন তো? আমি আয়না। শুরুতে একটা ভুল ঠিকানা দিয়েছিলাম, কারণ আমি ধরেই নিয়েছিলাম। আপনি পুলিশের কাছে যাবেন। এখন আসল ঠিকানা দিচ্ছি। কাগজ-কলম নিন। পুলিশে খবর দিয়েছেন বলে এখন এক লাখ টাকা বেশি দিতে হবে। কাউকে দিয়ে দু লাখ টাকা যে ঠিকানা দিচ্ছি। সে ঠিকানায় পাঠাবেন। দরজায় সে কড়া নাড়বে। তার পাসওয়ার্ড হচ্ছে বাজার। বলবে বাজার। ঠিক আছে? আপনাকে সময় দিচ্ছি। সাত দিন। সাত দিন চিন্তা-ভাবনার সময় পাবেন।

    সাতদিন তিনি এক নাগাড়ে চিন্তা-ভাবনা করেছেন। অফিসেও যান নি। এখন সিদ্ধান্তে এসেছেন দুলাখ টাকা দিয়ে ঝামেলামুক্ত হবেন।

     

    হিমু, কটা খেয়েছি তোমার কি মনে আছে?

    না।

    সাতটা খেয়ে ফেললাম না-কি? বমিভাব হচ্ছে।

    ভাব হলে বমি করে ফেলুন। আরাম পাবেন।

    আমার আরামের দরকার নাই। আগামীকাল সাত দিন শেষ হবে, ওই চিন্তাতেই সব আরাম হারাম।

    আমি বললাম, চিন্তার কিছু নাই। কাল ভোরে টাকা নিয়ে চলে যাব। কলিংবেল বাজিয়ে বলব, কাচা বাজার এনেছি।

    থ্যাংক য়্যু। হিমু! At the end of the day you are a good person. তুমি যে good person এই সম্মানে লাষ্ট একটা খাওয়া যাক।

    বমির ভাব হচ্ছে বলছিলেন।

    হলে হবে। তুমি কি মনে কর আমি বমি ভয় পাই?

    না, সেরকম মনে করছি না।

    দুষ্ট প্রকৃতির মানুষকে আমরা ভয় করতে পারি। বমিকে কেন ভয় করব?

    খালু সাহেব বমি শুরু করেছেন। তাকে অসহায় লাগছে। দেখে মনে হচ্ছে এই মুহূর্তে বমি প্রক্রিয়াটাকে তিনি যথেষ্ট ভয় পাচ্ছেন।

    হিমু।

    জি।

    আজ মনে হয় বমি করতে করতেই মারা যাব। জঘন্য মৃত্যু কী জানো? ডায়রিয়ায় মারা যাওয়া হচ্ছে জগতের জঘন্যতম মৃত্যু। দ্বিতীয় জঘন্যতম মৃত্যু হচ্ছে বমি করতে করতে মারা যাওয়া।

     

    রাত এগারোটা। খালু সাহেবের বাড়ি নীরব। তিনি শান্ত হয়ে ঘুমুচ্ছেন। বাদল horror ছবি নিয়ে তৈরি। ছবির নাম The Eye, আমি টেলিফোন হাতে বারান্দায় হাঁটহীটি করছি। শোভা আপুর সঙ্গে কথা বলছি। নগরীর ওই প্রান্তে কী হচ্ছে জানা দরকার।

    শোভা আপু, ঘুমুচ্ছ?

    ঘুমাবো কীভাবে? তুই মহা প্যাঁচ লাগিয়ে চলে গেলি। তোর সঙ্গে কীভাবে যোগাযোগ করব তাও জানি না। ঠিকানা দিয়ে যাস নি। এদিকে কী হচ্ছে না হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

    ঘটনা। কী? কোথায় প্যাঁচ লেগেছে খুলে বলো, আমি প্যাঁচ খুলে দিচ্ছি। প্যাঁচ দেয়া কঠিন, খোলা সহজ।

    তুই চলে যাবার পরপরই তোর দুলাভাই এসে উপস্থিত। চোখমুখ ফ্যাকাসে, ঘামে গায়ের শার্ট ভেজা। চেনা যায় না। এমন অবস্থা। আমাকে বলল, আয়না মজিদ কোথায়?

    আমি বললাম, আয়না মজিদ কোথায় আমি কী জানি? তোর দুলাইভাই তোতলাতে তোতলাতে বলল, দুপুরে বাসায় কে খে। খে খে। খেয়েছে?

    আমি বললাম, আমার ভাই খেয়েছে।

    সে কোথায়?

    সে খাওয়া দাওয়া করে চলে গেছে।

    শোভা! তুমি এই পৃথিবীর সবচে বোকা মহিলা।

    আমি কোন বোকামিটা করলাম?

    তুমি যা কর সবই বোকামি।

    এই বলে তোর দুলাভাই যা শুরু করল তারচে বড় বোকামি কিছু হতে পারে না। আয়না মজিদকে খোঁজা শুরু করল। খাটের নিচে খোঁজে। বাথরুমে খোঁজে। ছাদে গেল। সেখানে খুঁজল। ছাদের পানির ট্যাংকের ডালা খুলে সেখানে খুঁজল।

    আমি বললাম, পাগলামি করছি কেন?

    সে বলল, পাগলামি করছি কেন যদি বুঝতে তাহলে পৃথিবীর সবচে বোকা মহিলা টাইটেল পেতে না।

    টাইটেল কে দিয়েছে?

    আমি দিয়েছি। এখন আমার সামনে থেকে যাও। আমার সামনে ঘুরঘুর করবে না।

    আমি শোবার ঘরের দরজা বন্ধ করে শুয়ে রইলাম। রাতে আরেক কাণ্ড।

    কী কাণ্ড?

    রাতে পুলিশের তদন্ত টিম এসে উপস্থিত। বলো কী?

    তদন্ত করতে এসেছিলেন হামিদ সাহেব। তুই তো উনাকে চিনিস।

    আমি কীভাবে চিনব?

    উনিই তো বোয়াল মাছ পাঠিয়েছিলেন।

    ও আচ্ছা।

    উনার কী সব উল্টাপাল্টা প্রশ্ন। প্রথমেই জিজ্ঞেস করলেন, ভাবি, আপনার বাসায় কি কেউ বনমোরগ দিয়ে গেছে?

    আমি বললাম, না তো!

    কেউ কিছু দিয়ে যায় নি? বনমোরগ, মধু, কিছু না?

    আমার এক দূরসম্পর্কের ভাই এসেছিল। সে দশ হাঁড়ি টক দৈ নিয়ে এসেছে।

    দশ হাঁড়ি টক দৈ? ও মাই গড়! জিনিস ওই টক দৈ-এর ভেতরে।

    কী জিনিস?

    ভাবি, আমার যতদূর ধারণা ক্যাশ টাকা। পলিথিন দিয়ে টাকা মুড়িয়ে তার উপর টক দৈ দিয়েছে। ওস্তাদ আদমি।

    তারপর কী হলো শোন, প্রতিটি টক দৈায়ের হাঁড়ির দৈ বেসিনে ফেলে বিশ্ৰী কাণ্ড।

    টাকা পাওয়া গেছে?

    পাগলের মতো কথা বলিস কেন? তুই কি দৈ-এর হাঁড়িতে করে টাকা এনেছিস যে টাকা পাওয়া যাবে? ঘটনা এইখানেই শেষ না। হামিদ সাহেব কেচি দিয়ে তোষক বালিশ এইসব কাটা শুরু করলেন। বাড়ি ভর্তি হয়ে গেল তুলায়। আচ্ছা শোন, ঠিক করে বল তো তুই আয়না মজিদ না তো?

    না।

    বদ আয়না মজিদটাকে দেখতে ইচ্ছা করছে। সে আমার সংসার লণ্ডভণ্ড করে দিয়েছে।

    দুলাভাইকে দাও তো, কথা বলি।

    ওর সঙ্গে কী কথা বলবি! ওকে তো পুলিশ ধরে নিয়ে গেছে। জিজ্ঞাসাবাদ করবে।

    শোভা আপু কাঁদতে শুরু করলেন।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহিমুর আছে জল – হুমায়ূন আহমেদ
    Next Article হিমু মামা – হুমায়ূন আহমেদ

    Related Articles

    হুমায়ূন আহমেদ

    বোতল ভূত – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    নিউইয়র্কের নীলাকাশে ঝকঝকে রোদ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    রং পেন্সিল – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    বিবিধ / অগ্রন্থিত লেখা – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    আজ হিমুর বিয়ে – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    হুমায়ূন আহমেদ

    কৃষ্ণপক্ষ – হুমায়ূন আহমেদ

    January 3, 2026
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }