Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যান্স অ্যান্ডারসন রচনাবলী-১ – অনুবাদ: লীলা মজুমদার

    লীলা মজুমদার এক পাতা গল্প118 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    আইডার ফুলের কথা

    ছোটোমেয়ে আইডা বলল, “আহা, আমার ফুলগুলো সব শুকিয়ে গেছে, দেখেছ।” কৌচের উপর ওর পাশে একজন ছাত্র বসেছিল ; আইডা তাকে জিজ্ঞাসা করল, “কালকে এত সুন্দর দেখতে ছিল আর এরই মধ্যে সব নুইয়ে পড়েছে ! এর কি কারণ বলতে পার ?” ছাত্রটিকে তার বড়ো পছন্দ ছিল, কেমন গল্প বলত সে, কেমন কাগজ কেটে কত কি সুন্দর-সুন্দর জিনিস বানিয়ে দিত, হরতনের মধ্যে ক্ষুদে-ক্ষুদে মেয়েরা নাচছে, কতরকম ফুল, উঁচু-উঁচু রাজবাড়ি, তার দরজা খোলা যায়, এই-সব। ছাত্রটি বলল, “ওমা, তাও জান না ? কাল যে তোমার ফুলরা সব নাচ-সভাতে গিয়েছিল, তাই এখন ক্লান্ত হয়ে মাথা ঝুলিয়ে রেখেছে।” শুনে আইডা অবাক । “সে কি ! ফুলরা আবার নাচে নাকি ?” “তা আর নাচে না ! যেই-না অন্ধকার নামে আর আমরা সবাই শুয়ে পড়ি, ফুলরা নেচেকুদে একাকার হয় ! প্রায় রোজ রাতে ওদের নাচ-সভা বসে ” আইডা জিজ্ঞাসা করল, “ছোটো ছেলেমেয়েরা ঐ নাচ-সভায় যেতে পারে না ?” ছাত্রটি বলল, “নিশ্চয়ই । ডেজি ফুলরা যায়, পাহাড়তলির লিলি ফুলরা যায়।” “সবচেয়ে সুন্দর ফুলরা কোথায় নাচে ?” “কেন, রাজার গ্রীষ্মাবাসের সামনে, মস্ত বাগানে যাও নি কখনো ? সেই যে-জায়গাটা ফুলে ফুলে ঠাসা ?” আইডা বলল, “আরে, কালই সেখানে মায়ের সঙ্গে গিয়েছিলাম, কিন্তু গাছে তো একটাও পাতা ছিল না, কোথাও একটা ফুল দেখলাম না। সেগুলোর কি হল বল দিকিনি ? বসন্তের শেষে কত ফুল দেখেছিলাম।” ছাত্রটি বলল, “সব ফুল এখন রাজবাড়ির মধ্যে। যেই-না রাজা গ্রীষ্মের শেষে রাজবাড়ি ছেড়ে, সভাসদদের নিয়ে, শহরে চলে যান, অমনি ফুলরা সবাই বাগান ছেড়ে প্রাসাদে ঠাঁই নেয়। সেখানে তারা কি আমোদ-আহলাদে মেতে ওঠে, সে যদি একবার দেখতে ! সবচাইতে সুন্দর দুটি গোলাপ ফুল রাজা-রানী সেজে সিংহাসনে চড়ে বসে। লালমোরগ ফুলরা নিচু হয়ে তাদের কুর্নিশ করে, সারি দিয়ে সামনে বসে পড়ে। তার পর সবচাইতে সুন্দর ফুলরা নাচ শুরু করে। নীল ভায়োলেট ফুলরা শিক্ষানবীশ নাবিক সাজে, তাদের সঙ্গে নাচে সুন্দরী মেয়ে সেজে যত সব হায়াসিন্থ আর ক্রোকাস ফুল। টিউলিপ ফুলরা আর লম্বা-লম্বা কমলা রঙের লিলি ফুলরা মা-ঠাকুমা সেজে চারদিকে চোখ রাখে, যাতে সবাই সভ্যভব্য হয়ে চলে ।” আইডা আশ্চর্য হয়ে বলল, “কিন্তু রাজার প্রাসাদে কি ফুলরা-কখনো নাচের আসর করতে পারে ?” ছাত্রটি বলল, “আরে, কেউ কিছু জানতে পারলে তবে তো ! হয়তো রাতে একবার বুড়ো সরকারমশাই প্রকাণ্ড চাবির গোছা হাতে নিয়ে দেখে শুনে যান সব ঠিক আছে কি না, কিন্তু যেই-না চাবির গোছার ঝুনঝুন শব্দ তাদের কানে যায়, ফুলরাও অমনি নাচ থামিয়ে, জানলার লম্বা-লম্বা রেশমী পরদার পিছনে লুকিয়ে পড়ে। সরকারমশাই বলেন, ‘ফুলের গন্ধ পাচ্ছি যেন । কিন্তু ফুলটুল দেখতে পান না !” আইড়া তখন হাততালি দিয়ে বলে উঠল, “ভারি মজা তো ! আমি গেলে ফুলদের দেখতে পেতাম না ?” ছাত্রটি বলল, “তুমি নিশ্চয়ই দেখতে পেতে । এর পরের বার রাজবাড়িতে বেড়াতে গেলে, জানলা দিয়ে একবারটি উঁকি মারলেই কিছু দেখতে পাবে। আমি আজ গেছিলাম, দেখলাম, কোঁচের উপর একটা লম্বা হলদে লিলি ফুল শুয়ে আছে। উনি কোনো সভাসদের স্ত্রী।” আইডা বলল, “সরকারি বাগিচার ফুলরাও ওখানে যেতে পারে নাকি ? অত দূর হাটতে পারে ওরা ?” “নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই, ইচ্ছা করলেই ফুলরা উড়তে পারে। ঐ যে ফুলের মতো দেখতে লাল হলুদ সুন্দর প্রজাপতিরা, ওরা ফুল নয় তো কি ? বোটা থেকে লাফিয়ে উঠে, ছোটো-ছোটো পাখার মতো পাপড়ি নেড়ে, ওরা উড়ে বেড়ায়। ওরা যদি খুব লক্ষী হয়, তা হলে বোটার উপর চুপ করে বসে না থেকে, সারা দিন ওদের উড়ে বেড়াতে দেওয়া হয়, সেটাই হল ওদের পুরস্কার। তার পর পাপড়ির মধ্যে থেকে সত্যিকার ডান গজায়। অবিশ্যি এমনও হতে পারে যে সরকারি বাগিচার ফুলর খবরই পায় নি যে রাজবাড়িতে রোজ রাতে আমোদ-আহলাদ হয়। আমি হলপ করে বলতে পারি যে এর পর যেদিন তুমি সরকারি বাগানে বেড়াতে যাবে, একটি ফুলের কানে কানে যদি বলে আস যে রাজবাড়িতে রাতে নাচের আসর হবে, ফুল থেকে ফুলে খবরটা ছাড়িয়ে পড়বে আর রাতে সববাই সেখানে উড়ে গিয়ে হাজির হবে।

    “ঠিক সেই সময় যদি বাগান দেখার ভার যাঁর উপরে সেই অধ্যাপকমশাই বাগানে এসে দেখেন যে ফুলরা কেউ নেই, তিনি ভেবেই পাবেন না তারা গেল কোথায় !” ছাত্রটির আজগুবি কথা শুনে একটু বিরক্ত হয়ে আইডা বলল, “হ্যা, তাই বৈকি! বলি, ফুলের কানে কানে কি কথা বললাম, অন্য ফুলদের মধ্যে জানাজানি হবে কি করে ? ফুলরা তো কেউ কথা কইতে পারে না !” ছাত্রটি বলল, “তা পারে না মানছি, কিন্তু অঙ্গভঙ্গি করে মনের কথা প্রকাশ করতে তো পারে। এতটুকু বাতাস বইলে কেমন হেলেদুলে ওঠে দেখ নি ? ঐভাবে ওরা ওদের মনের কথা জানায়, ঠিক যেমন করে আমরা কথা বলি।” আইডা বলল, “আর অধ্যাপকমশাইও ওদের অঙ্গভঙ্গির মানে বুঝতে পারেন নাকি ?” “সে আর বলতে ! একদিন সকালে তিনি বাগানে এসে দেখেন কিনা লম্বা এক বিছুটিগাছ হাত-পা নেড়ে একটা সুন্দর লাল কার্ণেশন ফুলের সঙ্গে গল্পে মশগুল । বিছুটি বলল, “কি সুন্দর দেখতে তুমি । তোমাকে আমি কত ভালোবাসি।” কিন্তু এ-সব ব্যাপার অধ্যাপকমশাই আদৌ পছন্দ করেন না । তিনি বিছুটির পাতায়, পাতাগুলোই ওদের আঙল কিনা—জোরে একটা টোকা লাগালেন। লাগিয়েই সে কী জুলুনি, তার পর থেকে অধ্যাপক আর বিছুটির গায়ে আঙলটি তোলেন না।” আইডা হা-হা করে খানিকট হেসে বলল, “কি বোকা রে বাবা ”

    সেদিন পরিদর্শকমশাই বেড়াতে এসেছিলেন, ওঁর কথা শুনলে আইডার ভারি বিরক্ত লাগে । মাঝখান থেকে তিনি নাক গলিয়ে ছাত্রটিকে বললেন, “আচ্ছা, এ-সবের মানে কি ? যত রাজ্যের বাজে কথা ছেলেপিলের মাথায় ঢোকাচ্ছ !” ছাত্রটির উপরে উনি হাড়ে চটা । যখনই তাকে পীচবোর্ডের ছবি কাটতে দেখতেন, তখনই বকবকি শুরু করে দিতেন। অথচ কি চমৎকার সব ছবি কাটত সে, একটা লোক ফাঁসিকাঠে ঝুলছে, হাতে একটা হরতন, অর্থাৎ কিনা লোকের মন চুরি করেছে, লম্বা নাকের ডগায় স্বামীটিকে বসিয়ে ডাইনী-বুড়ি বাটায় চেপে চলেছে, এমনি ধারা কত কি ! পরিদর্শকমশাই আজকের মতো সর্বদাই বলেন, “ছেলেপিলের মাথায় এ-সব বাজে ক পুরে দেবার মানেটা কি ? যত রাজ্যের গাঁজাখুরি গল্প ” এদিকে আইডার কিন্তু মনে হল ঐ ফুলদের কথাটি সত্যি ভারি আশ্চর্য ; দিনরাত ওর সেই কথাই মনে পড়তে লাগল।

    ওর মনে কোনোই সন্দেহ রইল না যে ওর নিজের ফুলগুলোর মাথা নুইয়ে রাখার একমাত্র কারণ হল সারারাত নাচার পর ওরা বেজায় ক্লান্ত, কাজেই যে সুন্দর টেবিলের উপরে ওর খেলনা সাজানো থাকত, ফুলগুলোকেও সেখানে নিয়ে গেল। সেখানে ক্ষুদে একটা খেলার খাটে আইডার পুতুলটি ঘুমিয়েছিল। আইডা তাকে বলল, “এবার উঠতে হবে, সোফি, আজ রাতে খুশিমনে টেবিলের টানায় ঘুমোও দিকনি। ফুল বেচারিদের শরীর খারাপ, ওরা তোমার বিছানায় শুয়ে পড়ুক। কাল সকালে হয়তো দেখব ওরা সেরে উঠেছে।” এই বলে পুতুলটাকে সে খাট থেকে তুলে নিল, অবিশ্যি তাতে পুতুলট খুব একটা খুশি হল তা মনে হল না ।

    তার পর পুতুলের খাটে আইডা বাসি ফুলদের শুইয়ে দিল । বলল, “চুপ করে শুয়ে থাক, আমি তোমাদের জন্য চা করে নিয়ে আসছি। তা হলে কাল তোমরা সেরে উঠবে।” এই বলে আইডা খাটের চারদিকের পরদাটা ভালো করে টেনে দিল, যাতে রোদ লেগে ফুলদের চোখ না ঝলসে যায়। সারা বিকেল ছাত্রটির ঐ গল্প ছাড়া মনে কোনো চিন্তা নেই। রাতে শুতে যাবার আগে সে একবার জানলার কাছে ছুটে গেল, পরদার বাইরে মায়ের টিউলিপ তার হায়াসিন্থ ফুলর দাঁড়িয়েছিল । আইাঁ তাদের বলল, “আমি ঠিক জানি আজ তোমরা নাচ-সভায় যাবে।” ফুলগুলো কিন্তু একটা পাতা পর্যন্ত নাড়ল না, যেন কিছুই শুনতে পাচ্ছে না ! রাতে বিছানায় শুয়ে শুয়ে অনেকক্ষণ ধরে আইডা ভাবল রাজবাড়িতে ফুলদের নাচ দেখতে না জানি কি ভালোই লাগে। তার পর মমে মনে বলল, “আমার নিজের ফুলরাও গেল কি না কে জানে ’ এ-সব ভাবতে ভাবতে সে ঘুমিয়ে পড়ল।

    রাতে একবার ঘুম ভাঙল। এতক্ষণ সে কত কি স্বপ্ন দেখছিল, ছাত্রের কথা, ফুলদের কথা, পরিদর্শকমশাইয়ের কথা। পরিদর্শকমশাই বলেছিলেন ও-সব কথা সত্যি নয়, চালাকি । ঘরের মধ্যে চুপচাপ, রাতের বাতিটি টেবিলের উপর জুলছে, মা-বাবা দুজনেই ঘুমিয়ে। আইডা মনে মনে বলল, “আমার ফুলগুলো এখনো সোফির খাটে শুয়ে আছে কি না কে জানে। একবার দেখতে ইচ্ছা করছে। এই ভেবে সে মাথাটি তুলে, দরজার দিকে তাকাল। দরজাটি আধখোলা, আইডা দেখল ফুল, খেলনা সব যেমন ছিল তেমনি আছে। কান পেতে সে শুনতে লাগল ; তখন মনে হল কে যেন পিয়ানো বাজাচ্ছে, কিন্তু এমন মৃদু এমন মিষ্টি পিয়ানোর সুর সে কখনো শোনে নি। ভাবল, ‘এবার নিশ্চয় ফুলরা নাচছে। বেজায় দেখতে ইচ্ছা করছে ? কিন্তু মা-বাবা যদি জেগে যান, এই ভয়ে আর ওঠা হল না । আহা, এ-ঘরে যদি একবার আসত ওরা ? তবু ফুলরা এল না, পিয়ানো বেজেই চলল, কি মিষ্টি সে সুর। শেষটা আর সে থাকতে পারল না, নাচ দেখতেই হবে । আস্তে আস্তে বিছানা থেকে উঠে পা টিপে টিপে আইডা দরজার কাছে গেল । আহা, কি আশ্চর্য জিনিসই-না দেখল ! এখন আর রাতের বাতিটি জ্বলছে না, কিন্তু জানলা দিয়ে চাদের আলো ঘরের মেঝেতে পড়েছে, ঘর আলোয় আলো । হায়াসিন্থ রা আর টিউলিপর দুই সারি বেঁধে দাড়িয়েছে, জানলার সামনে ফুলের টবগুলো খালি পড়ে আছে। কি নাচই-না হল ! কতরকম নকশাকাটা নাচ, এ ওর পাতায় পাতায় ধরাধরি করে । পিয়ানোর সামনে বসে ছিল মস্ত একটা হলদে লিলি ফুল, আইডার কেমন মনে হচ্ছিল ওকে আগেও নিশ্চয় কোথায় যেন দেখেছে। হঠাৎ মনে পড়ে গেল ছাত্রটি একবার বলেছিল, এই হলদে লিলি ফুল দেখতে ঠিক লরাদিদির মতো, তাই শুনে সবাই খুব হেসেছিল। এখন ওরও মনে হল কথাটা ঠিকই, হলদে লিলি সত্যিই লরাদিদির মতো দেখতে, পিয়ানো বাজাবার ধরনটিও অবিকল এক, সেই একইভাবে লম্বা হলদে মুখটা একবার এপাশে একবার ওপাশে ফেরাচ্ছে আর তালে তালে মাথাটি নাড়াচ্ছে। এবার একটা লম্বা নীল ক্রোকাস ফুল এগিয়ে এসে একলাফে আইডার খেলনা রাখার টেবিলে চড়ল। চড়েই, সোজা খাটের কাছে গিয়ে পরদা সরিয়ে দিল। রুগ্ন ফুলগুলো শুয়েই ছিল, কিন্তু অমনি তারা উঠে পড়ে, অন্য ফুলদের নমস্কার করল। ফুলরা ওদের নাচে যোগ দিতে ডাকল। রুগ্ন ফুলর নেমে এল । দেখে মনে হল তাদের রোগটোগ সেরে গেছে, মহা ফুর্তিতে সকলের সঙ্গে ওরাও নাচতে লাগল। হঠাৎ একটা জোরে শব্দ শোনা গেল, কি যেন টেবিলের উপর থেকে ধপ করে পড়ল। আইডা তাকিয়ে দেখে পরবের দিন সকালে বিছানার উপর যে লাঠিটা পেয়েছিল, তার এখন ফুলের দলে ভিড়বার শখ হয়েছে। লাঠিটা সত্যি বড়ো সুন্দর দেখতে, হাতলের কাছে একটা মোমের পুতুল বসানো, তার মাথায় খাসা এক টুপি পরানো, টুপির চারদিকে লাল নীল রেশমী ফিতে বাঁধা । ফুলদের মাঝখানে লাঠিও ধেইধেই নাচতে শুরু করে দিল, সবার সঙ্গে মিলে পরম আনন্দে ঠুকঠুক করে লাফাতে লাগল । হঠাৎ লাঠির হাতলের মোমের পুতুলটা ফুলে ফেঁপে প্রকাণ্ড লম্বী চওড়া একটা দৈত্যের মতো হয়ে গিয়ে, চীৎকার করে বলল, “এসব কথা ছেলেপিলেদের মাথায় ঢোকাবার মানেট কি ? যত রাজ্যের বাজে গাঁজাখুরি গল্প সব !” এবার আইডা তাকিয়ে দেখল দুফোঁটা জল যেমন অবিকল একরকম দেখতে হয়, তেমনি পুতুলটা আর পরিদর্শকমশাইও একেবারে হুবহু একরকম দেখতে, আর মাথার টুপিটা পর্যন্ত ! পুতুলের মুখটাও অবিকল পরিদর্শকের হলুদ-পানা খুঁতখুঁতে মুখের মতো দেখাচ্ছিল । তার পরেই কিন্তু লাঠির গায়ের কাগজের ফুলর পুতুলটার সরু সরু ঠ্যাঙে এমনি চিমটি কাটতে লাগল যে দেখতে দেখতে যে-কে সেই, পুতুল আবার আগেকার সেই ক্ষুদে আকারটি ধরল। ব্যাপারটা আইডার কাছে এমনি মজার ঠেকল যে সে না হেসে পারল না । নাচ-সভার লোকো কিন্তু কেউ অতটা লক্ষ্য করে নি, কারণ লাঠি তো সমানে নেচেই চলেছিল আর হাতলে বসা পরিদর্শক-মুখে পুতুলও, তার ইচ্ছা থাক বা নাই থাক, সমানে নাচতে বাধ্য হচ্ছিল । কখনো বেচার রোগ হচ্ছে, কখনো মোটা হচ্ছে, কখনো লম্বা হচ্ছে, কখনো বেঁটে হচ্ছে, যতক্ষণ না ফুলরা ওর হয়ে কাকুতি-মিনতি করতে লাগল, অগত্য লাঠি ওকে ছাড়ান দিল । এদিকে টেবিলের টানায় আইডার পুতুল শুয়ে ; সেখান থেকে খুব জোরে ঠকঠক করে শব্দ হতে লাগল। সোফি ছাড়া আর কে ! এবার সে দেরাজ থেকে মাথা বের করে বলল, ‘ওকি ! তোমরা নাচ করছ নাকি ? আমাকে কেউ বলে নি কেন ?” বাদাম-ভাঙার জাঁতি বলল, “নাচবে নাকি আমার সঙ্গে ?” সোফি তার দিকে পিঠ ফিরিয়ে বলল, “হুঁ ! নাচবার আর সঙ্গী পেলাম না, ওঁর সঙ্গে নাচতে হবে!” এই বলে সে টেবিলের উপর বসে পড়ল, ইচ্ছাটা ফুলরা কেউ যদি এসে তার সঙ্গে নাচতে বলে । কিন্তু তা কেউ বলল না। তখন সোফি হম্ম্ হম্ম্ করে বার দুই গলা সাফ করল, তবু কেউ এল না। এদিকে বাদাম-ভাঙার জাতি এক একাই নাচতে আরম্ভ করেছিল । ফুলরা কেউ এগুচ্ছে না দেখে, সোফি হঠাৎ ধপাস করে মাটিতে পড়ল আর অমনি একটা সোরগোল উঠল। ফুলরা সব ছুটে এসে জিজ্ঞাসা করতে লাগল, “আহা, লাগল নাকি ?” ভাগ্যিস লাগে নি। তখন ফুলরা খুব ভালো ব্যবহার করতে লাগল, বিশেষ করে আইডার নিজের ফুলরা। এই ফাঁকে তারা নিজের বিছানা ছেড়ে দেওয়ার জন্য সোফিকে ধন্যবাদ জানাল ; বলল ঐ বিছানায় ওরা খুব আরামেই ঘুমিয়েছে । তার পর ওর সঙ্গে নাচবে বলে ফুলরা ওর হাত ধরল, বাকিরা চারদিকে গোল হয়ে দাঁড়াল। সোফির আনন্দ দেখে কে ! সে বারবার ফুলদের বলতে লাগল নাচ ভাঙলে তারা যেন আবার সোফির বিছানাতেই শোয়, টেবিলের টানায় শুতে সোফির কোনোই অসুবিধ নেই । ফুলরা বলল, “তোমার দয়ার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি, কিন্তু অতক্ষণ তো আমরা বঁচিব না যে শোব | কালকের মধ্যে আমরা একেবারে মরে যাব । আইডাকে বোলো যেন তার পোষা ক্যানারি পাখির পাশে আমাদের কবর দেয় । তা হলে আগামী গ্রীষ্মে আমরা আবার ফুটব আর এ বছরের চাইতেও সুন্দর দেখতে হব।” সোফি ফুলদের চুমো খেয়ে আদর করে বলল, “না, না, তোমরা মরে গেলে চলবে না ।” ঠিক সেই সময় দরজা খুলে গেল আর এক দল ফুল নাচতে নাচতে ঘরে এল । আইডা ভেবেই পেল না রাজার বাগান ছাড়া আর কোথা থেকে এরা আসতে পারে । সবার আগে ঘরে ঢুকল দুটি চমৎকার গোলাপ ফুল, মাথায় তাদের সোনার মুকুট। তাদের পিছনে পিছনে কত রঙের কত সুগন্ধি ফুল এসে ঘরে ঢুকে, সবাইকে নমস্কার করতে লাগল।

    ওরা আবার সঙ্গে করে বাজনদারের দল নিয়ে এসেছিল। এই বড়ো-বড়ো রঙিন পপি ফুল, পিওনি ফুল, মটরশুটির খোলার তৈরি বাঁশি বাজিয়ে বাজিয়ে মুখ লাল করে ফেলল। তার উপর নীল সাদা মিহি ফুলের দল মহা ফুর্তির সঙ্গে ঘণ্টা বাজাতে লাগল। তার পর কতরকমের ফুল মিলে সে যে কতরকম নাচ দেখাল, ভায়োলেট, ডেজি, লিলি, আরো কত কি। তাদের নাচের সুললিত ভঙ্গি দেখলে চোখ জুড়োয়। অবশেষে ফুলরা পরস্পরের কাছ থেকে বিদায় নিল, তখন আইডাও গুটিগুটি আবার বিছানায় ঢুকে, এই সব চমৎকার জিনিসের স্বপ্ন দেখতে লাগল।

    পরদিন সকালে উঠে, কাপড়-চোপড় পরেই আইডা টেবিলের কাছে গেল ; ফুলগুলো ঠিক আছে তো ? পুতুলের খাটের পরদা সরিয়ে দেখে, হ্যা, ঐ তো সব ফুলরা শুয়ে আছে, তবে কালকের চাইতে আরেকটু শুকনো দেখাচ্ছে। টেবিলের টানায় শুয়ে আছে, মনে হচ্ছে তার বেজায় ঘুম পাচ্ছে।

    আইডা বলে ছোটো মেয়েটি তাকে বলল, “আমাকে কি বলার কথা ছিল, মনে নেই বুঝি ?” সোফি বোকার মতো ভাব করে শুয়ে রইল, মুখে টু শব্দটি নেই!

    আইডা বলল, “তুমি মোটেই লক্ষী মেয়ে নও, ফুলরা তবু তোমাকে তাদের সঙ্গে নাচতে দিয়েছিল ” তার পর খেলনার মধ্যে থেকে ক্ষুদে ক্ষুদে পাখির ছবি আঁকা, ছোটো একট পীচবোর্ডের বাক্স বের করে, আইডা তার মধ্যে শুকনো ফুলগুলোকে রাখল। তার পর বলল, “এই বাক্সটিতে করে তোমাদের মাটি দেব। আমার মাসতুতো ভাইরা যখন দেখা করতে আসবে, তখন আমার সঙ্গে বাগানে নিয়ে তোমাদের পুঁতে দেব। তা হলে আসছে গ্রীষ্মকালে তোমরা আবার ফুটবে আর এ বছরের চাইতেও সুন্দর দেখতে হবে।”

    ঐ মাসতুতো ভাইয়ের নাম ছিল জেনাস আর এসবেন। ওদের বাবা ওদের দুটো নতুন তীর ধনুক দিয়েছিলেন, সেগুলো আইডাকে দেখাবার জন্য নিয়ে এসেছিল। দেখা হলে পর আইডা ওদের বলল ফুলরা মরে গেছে ্রখেন তাদের বাগানে নিয়ে গিয়ে পুঁততে হবে। তীর ধনুক কাঁধে ঝুলিয়ে আগে আগে ভাইরা চলল, বাক্সটাতে মরা ফুলগুলো নিয়ে তাদের পিছনে পিছনে আইযা চলল। তারপর বাগানে একটা কবর খোঁড়া হল। আইডা আরেকবার ফুলগুলোকে চুুমু খেল, তারপর বাক্সটাকে গর্তে র মধ্যে নামিয়ে রাখল। বন্দুক, কামান তো আর ওদের ছিল না, কাজেই ফুলদের সম্মান দেখাবার জন্য জোনাস আর এসবেন কবরের উপর দিয়ে দুটি তীর ছুঁড়ল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleসব ভুতুড়ে – লীলা মজুমদার
    Next Article পাকদণ্ডী – লীলা মজুমদার

    Related Articles

    লীলা মজুমদার

    বদ্যিনাথের বড়ি – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    হলদে পাখির পালক – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    বাঘের চোখ – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    গুপির গুপ্তখাতা – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    পদিপিসীর বর্মিবাক্স – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    লীলা মজুমদার

    টং লিং – লীলা মজুমদার

    November 27, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }