Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প963 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১২. প্রফেসর আমব্রিজ

    ১২. প্রফেসর আমব্রিজ

    সিমাস সকালবেলা খুব তাড়াতাড়ি ইউনিফর্ম পরে ডরমেটরি থেকে বেরিয়ে গেল। হ্যারির তখনও মোজা পরা হয়নি।

    সিমাস চলে গেলে হ্যারি বললো–ও কী মনে করে আমাদের সঙ্গে থাকলে ও জড়বুদ্ধি হয়ে যাবে?

    ডিন ওর স্কুলব্যাগটা কাঁধে চাপিয়ে বললো–এই নিয়ে চিন্তা করবে না, ও এমনই।

    কিন্তু সিমাস যে কী রকম, সেটা বললো না। তারপর সামান্য সময় চুপ থেকে সেও ঘর থেকে বেরিয়ে গেল।

    নেভিল, রন দুজনেই যেন হ্যারিকে বললো, হ্যারি ওটা ওর সমস্যা তোমার নয়। কিন্তু হ্যারি তাতেও সান্তনা পায় না, ভাবে আরও কতদিন ওকে এসব উদ্ভট কথাবার্তা সহ্য করতে হবে?

    হারমিওন পাঁচ মিনিট পরে হ্যারি আর রনকে কমনরুমে দেখে বললো–হায় ঈশ্বর, তোমাদের মুখ এত গম্ভীর কেন?

    উত্তরের জন্য অপেক্ষা না করে হারমিওন নোটিশ বোর্ডের দিকে তাকাল। একটা নতুন নোটিশ সাটানো হয়েছে।

    গ্যালনস্ অব গ্যালেয়নস!
    হাত খরচের অর্থ কি তোমাদের বেশি খরচ হয়ে যাচ্ছে?
    কিছু বেশি স্বর্ণমুদ্রা রোজগার করতে চাও?
    ফ্রেড এবং জর্জ উইসলির সঙ্গে গ্রিফিন্ডর কমনরুমে যোগাযোগ কর,
    খুবই সোজা, অবসর সময়ে কাজ, কোনরকম কষ্টের কাজ নয়
    (আমরা দুঃখের সঙ্গে অবহিত করছি সমস্ত কাজ প্রার্থীর নিজ দায়িত্বে করতে হবে)

    হারমিওন পিন দিয়ে আটকান কাগজটা খুলে নিতে নিতে বললো, এরকম নোটিশ দেয়া ঠিক হয়নি রন। ওদের সঙ্গে আমার কথা বলতে হবে।

    রন চিন্তিত হয়ে বললো, কেন?

    কারণ আমরা প্রিফেক্টস! হারমিওন সিঁড়ি ধরে নামতে নামতে বললো আমাদের এগুলো বন্ধ করতে হবে!

    রন চুপ করে রইল, হ্যারি রনের মুখ দেখে বুঝতে পারল ও ফ্রেড আর জর্জের ওইরকম পোস্টার দেয়ার বিরুদ্ধে।

    সিঁড়ির দেয়ালে লাইন করে টাঙ্গান রয়েছে পুরনো দিনের জাদুকর আর ডাকিনিদের ছবি। ওরা সেগুলোর দিকে দৃষ্টিপাত না করে ওদের কথাবার্তার ওপর বিভোর হয়ে রইল। তুমি মনে হয় কোন কারণে রেগে রয়েছ কেন বলত? কি হয়েছে, হারমিওন বললো।

    হ্যারি কোনও জবাব না দিলে রন বললো–সিমাস বলছিল হ্যারি ইউ-নো-হু সম্বন্ধে মিথ্যা কথা বলেছে।

    হ্যারি আশা করেছিল হারমিওন কথাটা শুনে রেগে যাবে ও শুধুমাত্র নিশ্বাস ফেলল।

    হারমিওন গম্ভীর হয়ে বললো–ল্যাভেন্ডারও সেই রকম মনে করে।

    হারমিওন বললো–ভোজের শেষে ডাম্বলডোর কি বলেছিলেন মনে আছে? হ্যারি রন দুজনেই ওর দিকে তাকাল। হারমিওন আবার দীর্ঘনিঃশ্বাস ফেলল।

    ইউ-নো-হু সম্বন্ধে? হ্যারি বললো–ওর শত্রুতা, বিবাদ করার অসীম ক্ষমতা। আমরা নিজেদের মধ্যে বন্ধুত্ব বিশ্বাস ও ঐক্যবদ্ধ হলে ওর বিরুদ্ধে জোর কদমে লড়াই করতে পারি।

    –বা! তোমার তো খুব মনে আছে? রন প্রশংসা সূচক দৃষ্টিতে বললো।

    হারমিওন বললো–রন আমি মন দিয়ে সকলের কথা শুনি। ওর কথার মধ্যে সামান্য ক্ষুব্ধতার ভাব।

    –আমিও শুনি, তবে তোমার মত এত আমি মনে রাখতে পারি না।

    হারমিওন জোর দিয়ে বললো–ডাম্বলডোর বলছিলেন, মাত্র দু মাস আগে ইউ-নো-হু আবার ফিরে এসেছে। দুঃখের বিষয় আমরা সেইদিকে দৃষ্টি না দিয়ে নিজেদের মধ্যে লড়ালড়ি করছি। শর্টিং হ্যাটস তাই আমাদের সতর্ক করে দিয়েছে, এক হও। মনে আছে?

    রন সামান্য বাঁকাভাবে বললো, তার প্রমাণ গত রাতে হ্যারি পেয়েছে, তার মানে এই নয় স্লিদারিনদের সঙ্গে এক ফ্রেমে থাকব? তার সম্ভাবনা কম।

    হারমিওন তার্কিক সুরে বললো, খুবই দুঃখ ও লজ্জার কথা আমরা এক ছাত্রাবাস, অন্য ছাত্রাবাসের সঙ্গে একতা আনতে পারছি না।

    ওরা কথা বলতে বলতে পাথরের সিঁড়ির শেষ ধাপে পৌঁছল। র‍্যাভেনক্লর ফোর্থ ইয়ারের ছাত্ররা এক লাইন বেঁধে এনট্রেন্স হল পেরোচ্ছে। ওদের হ্যারির দিকে চোখ পড়ে গেল। ওরা তক্ষুণি শক্তপোক্ত হয়ে দাঁড়াল। ভাবটা এমন যেন হ্যারি ওদের সহসা আক্রমণ করতে পারে।

    হ্যারি র‍্যাভেনক্লর ছেলেদের দেখিয়ে ব্যাঙ্গ করে বললো, অবশ্যই, ওদের মত লোকদের সঙ্গেও বন্ধুত্ব পাতাতে হবে।

    ওরা র‍্যাভেনক্লদের পিছু পিছু গ্রেট হলে ঢুকল। সকলেই ঢুকে স্টাফ টেবিলের দিকে সন্ত্রস্ত হয়ে তাকাল। প্রফেসর গ্রাবলি প্ল্যাঙ্ক, প্রফেসর মিনিস্ট্রার (এস্ট্রনমি টিচারের) সঙ্গে কথা বলছিলেন। ওরা হ্যাগ্রিডকে দেখতে পেলো না। ঘরের জাদুমুগ্ধ সিলিংটা যেন হ্যারির মনের কথার প্রতিধ্বনি করল; মনে হল যেন ধূসর রং-এর জলভরা মেঘ।

    হ্যারি বললো, আশ্চর্য! ডাম্বলডোর একবারও বলছেন না গ্রাবলি প্ল্যাঙ্ক কতদিন থাকবেন। ওরা সকলে গ্রিফিরদের টেবিল ছাড়িয়ে নিজেদের টেবিলের দিকে এগিয়ে গেল।

    হারমিওন চিন্তিত হয়ে বললো, হয়ত হতে পারে। হ্যাগ্রিডের অনুপস্থিতি উনি কারও নজরে আনতে চান না।

    নজরে আনা বলতে কি বলতে চাইছ? রন মৃদু হেসে বললো–আমরা কী দেখতে পাচ্ছি না?

    হারমিওন কিছু বলতে যাবার আগে, লম্বা চুলওয়ালা একটি ব্ল্যাকগার্ল হ্যারির সামনে এসে দাঁড়াল।

    হাই অ্যাঞ্জেলিনা।

    মেয়েটি সপ্রতিভ হয়ে বললো, হাই, ছুটি কেমন কাটল?

    তারপর জবাবের প্রতীক্ষা না করে বললো, জানো আমি গ্রিফিন্ডর কিডিরে ক্যাপ্টেন হয়েছি।

    হ্যারি অ্যাঞ্জেলিনার কথা শুনে বললো, অতি সুসংবাদ।

    অ্যাঞ্জেলিনার মুখ দেখে ওর মনে হলো অ্যাঞ্জেলিনা অলিভার উডসের মত বকবক করে সময় নষ্ট করবে না।

    অলিভার যাবার পর আমাদের একজন নতুন দলনায়কের দরকার ছিল। আগামী শুক্রবার পাঁচটার সময় দল সিলেকশন হবে। আমি চাই সেই সময়ে পুরো টিম মাঠে উপস্থিত থাকুক। দেখতে হবে নতুন ছেলেমেয়েরা কেমন খেলে, দলে তাদের নেওয়া যায় কিনা।

    ঠিক আছে–হ্যারি বললো। অ্যাঞ্জেলিনা মৃদু হেসে চলে গেল।

    হারমিওন বললো, বাচা গেছে উড গেছে। কথাটা বলে রনের পাশে বসে এক প্লেট টোস্ট ওর সামনে টেনে নিয়ে বললো, আমার মনে হয় টিমটা ভালই হবে।

    হ্যারি হারমিওনের বিপরীত দিকে বসে বললো, আমারও তাই মনে হয়। উড অবশ্য মন্দ ছিল না।

    –ভালমন্দের কথা নয়, নতুনদের সুযোগ দেয়া উচিত।

    ঠিক সেই সময় পৎপৎ শব্দ করতে করতে প্রায় একশ পঁাচা জানালার ওপর দিয়ে হলের চতুর্দিকে ছড়িয়ে পড়ল, ওরা প্রচুর চিঠি আর প্যাকেট এনেছে। ওদের গা থেকে টপটপ করে জল গড়িয়ে যারা ব্রেকফাস্ট খাচ্ছিল তাদের প্লেটে পড়ল, বোঝা যায় বাইরে খুব বৃষ্টি হচ্ছে। প্যাচার দলে হেডউইগ নেই। হ্যারি জানে একমাত্র সিরিয়স ছাড়া তাকে চিঠি দেবার কেউ নেই। সবে তো ২৪ ঘণ্টা হয়েছে এর মধ্যে চিঠি আসার কারণ নেই। হারমিওন ওর গ্লাসভর্তি কমলালেবুর রস সরিয়ে রাখল। গভীর ধূসর রং-এর পাচা একটা ভেজা ভেজা ডেইলি প্রফেট এনেছে ওর ঠোঁটে চেপে।

    ওই কাগজটার মধ্যে তোমরা কি পাও জানি না, হ্যারি একটু রেগে গিয়ে বললো। ওর মনের মধ্যে তখনও সিমাসের কথা গজগজ করছে। হারমিওন প্যাচার পায়ে একটা চামড়ার থলি বেঁধে কাগজটা নিয়ে বললো–আমি গাদাগাদা জঞ্জাল জড়ো করছি। শত্রুরা কি বলছে, কি করতে চায়, সবই জানা দরকার। হারমিন ডেইলি প্রফেটটা খুলে মুখ ঢেকে বসল। হ্যারি আর রনের ব্রেকফাস্ট শেষ না হওয়া পর্যন্ত কাগজটায় মুখ ঢেকে পড়তে লাগল।

    শূন্য খাবার প্লেটের ওপর পড়া কাগজটা রেখে হারমিওন বললো, ধ্যাত কিছু নেই, না ডাম্বলডোর, না তোমাদের কারও নাম।

    ওরা দেখল প্রফেসর ম্যাকগোনাগল একটা টাইম টেবিল হাতে নিয়ে টেবিলের দিকে আসছেন।

    ফ্রেড এবং জর্জও ওদের দিকে আসছে হ্যারি দেখল।

    রন টাইম টেবিলটা দেখিয়ে বললো, দেখেছ? সত্যি সবচেয়ে খারাপ দিন সোমবার।

    হারমিওন চুপ করে বসেছিল। টাইম টেবিল প্রসঙ্গ ছেড়ে ও বললো, তোমাদের স্কিভিং স্ন্যাকবকস প্রসঙ্গে আসা যাক। ও ফ্রেড আর জর্জের মুখের দিকে তাকাল। শোনো তোমরা গ্রিফিন্ডর নোটিশ বোর্ডে ওসব কাগজপত্র লাগাতে পারো না।

    জর্জ একটু আশ্চর্য হয়ে বললো–কেন কে বলেছে?

    হারমিওন বললো–আমি বলছি।

    রন বাধা দিয়ে বললো–আমি, রন বলছি। আমাকে ছেড়ে দাও…।. হারমিওন ওর মুখের দিকে তাকাল। ফ্রেড, জর্জ-এর মুখে চাপা হাসি।

    হারমিওন, অন্য সুরে গান গাইবার দিন তোমার আসন্ন। ফ্রেড টোস্টে মোটা করে মাখন লাগাতে লাগাতে বললো।

    –তুমি সবে মাত্র ফিপ্ত ইয়ারের ছাত্র, তোমাকে আমাদের কাছ থেকে স্ন্যাকবক্স চাইতে হবে।

    –ফিপ্ত ইয়ার আউল ইয়র জর্জ বললো।

    –তো? তোমার পরীক্ষা তো আসন্ন–তাই না? তোমার তাজা নাক শক্ত পাথরে ঘষে নেবে, ফ্রেড খুব খুশি মনে বললো।

    জর্জ বললো–ওই আউলেতে আমাদের জীবনের অর্ধেকটা কেটে গেছে, চোখের জল আর বদমেজাজের ঘোরে, প্যাট্রিসিয়া স্ট্রিমসন এখানে এসে অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিল। ফ্রেড ভেবে ভেবে বললো, তোমার মনে আছে কেনেথ টাউলারের সারা গায়ে ফোড়া হয়েছিল?

    জর্জ বললো, তুমি ওর পাজামাতে বালবান্ডক্স পাউডার রেখে দিয়েছিলে।

    ফ্রেড দাঁত বার করে হেসে বললো–মনে নেই, সব সময় কী মনে রাখা যায়, তাই না?

    জর্জ বললো, সে যাই হোক পরীক্ষার ফলের কথা ভাবলে ফিফথ ইয়ার হল দুঃস্বপ্নের রাত্রি। যাকগে আমি আর ফ্লেভ মনোবল ঠিক রেখেছি।

    –ইয়া… তুমি পেয়েছিলে, প্রত্যেকে তিনটে করে আউল? রন বললো, ওসব কথা ছাড়। ফ্রেড বললো, আমাদের ভবিষ্যত, লেখাপড়ার যোগ্যতা ও সাফল্যের বাইরে জড়িয়ে আছে।

    জর্জ উৎসাহের জোয়ারে বললো, আমরা খুব গুরুতরভাবে তর্ক করেছি, সেভেনথ ইয়ারে স্কুলে ফিরে আসব কি না এই নিয়ে। এখন তো আমরা পথ খুঁজে পেয়েছি।

    ফ্রেড ইশারা করল যাতে ও বেশি কথা না বলে। ও জানে এরপরই জর্জ ট্রিউইজার্ড সম্বন্ধে কথা বলতে পারে।

    জর্জ বললো, তখন আমরা আমাদের নিজস্ব পেঁচা পেয়েছি। এখন সত্যি কী আমাদের NEWTর দরকার। তবে মনে হয় পড়া শেষ হবার আগেভাগে স্কুল ছেড়ে দিলে মা অসম্ভব আপত্তি করবে। পার্সির কথা বলতে শুরু করবে।

    ফ্রেড, মুগ্ধ হয়ে গ্রেট হল দেখতে দেখতে বললো–যাই হোক আর তাই হোক শেষ বছরটা এখানে পঁচে মরতে চাই না। এখানে থেকে কিছু মার্কেট রিসার্চ করব। দেখতে হবে হোগাওয়ার্ট-এর শতকরা কতভাগ ছেলেমেয়েরা জোক বক্স চায়। খুব সতর্কভাবে আমাদের সংগৃহিত তথ্য বিচার করতে হবে তারপর মাল বানাতে হবে।  

    হারমিওন সন্দেহপ্রবণ দৃষ্টিতে বললো–জোকশপ শুরু করতে সোনা (অর্থ) পাবে কোথা থেকে? তোমাদের শুধু জায়গা নয় সবরকম মালমশলা জোগাড় করতে হবে।

    হ্যারি দুই ভাইয়ের দিকে তাকায়নি বলতে পারা যায়। ও ইচ্ছাকৃতভাবে ওর হাতের কাঁটা চামচ মেঝেতে ফেলে দিয়ে মাথা নিচু করে হাত বাড়িয়ে তোলার চেষ্টা করল। ও শুনতে পেলো, ফ্রেড বললো–প্রশ্ন কর যথাযথ, জবাবও পাবে যথাযথ। বেশি প্রশ্ন করবে না, বেশি মিথ্যাও শুনতে হবে না হারমিওন। এসো জর্জ, ওখানে যদি আমরা একটু তাড়াতাড়ি পৌঁছতে পারি তাহলে কয়েখটা এক্সটেন্ডেবল ইয়ারস বিক্রি করতে পারব।

    হ্যারি মাথা তুলে দেখল জর্জ আর ফ্রেন্ড চলে যাচ্ছে, হাতে ডাদের একগাদা টোস্ট।

    হারমিওন, রন আর হ্যারির মুখের দিকে তাকিয়ে বললো–বুঝলাম না ওরা কী সত্যি সত্যি জোকশপ খোলার জন্য কিছু সোনা পেয়েছে?

    রন বললো, আমিও তোমার মতো একই কথা ভাবছি। ওরা আমাকে এই গরমকালে নতুন পোশাক কিনে দিয়েছে। আমি বুঝতে পারছিনে গেলিওনস কোথা থেকে পেল।

    হ্যারি দেখল প্রসঙ্গটা এমন পর্যায়ে এসেছে যার থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। বললো, তোমাদের কি মনে হয় এবছরটা খুব শক্ত হবে? রন বললো, হতে বাধ্য। পঁাচা খুবই প্রয়োজনীয়, বিশেষ করে চাকরিবাকরি চিঠি পাঠানোর ব্যাপারে। বিল বলেছে এই বছরের শেষের দিকে আমরা ক্যারিয়র অ্যাডভাইস পেতে পারি। তাহলে তোমরা কোন NEWTS আগামী বছরে চাও।

    হ্যারি বললো, হোগার্টস ছাড়ার পর জর্জ ফ্রেড হল থেকে চলে গেলে কি করবে ভেবে দেখেছ?

    রন বললো, এখনও তো ভাবিনি। তবে… ওকে একটু চিন্তিত মনে হয় হ্যারি।

    হ্যারি বললো, জবাব দিচ্ছ না কেন?

    রন বললো,অরোর হলে মন্দ কী?

    হ্যারি বললো, হতে পারে।

    রন বললো, ওটা তো উৎকৃষ্ট ছেলেদের ব্যাপার তোমাকে অবশ্যই ভাল ছাত্র হতে হবে, হারমিওন তুমি কি ভেবেছ?

    হারমিওন বললো, বলতে পারছি না। তবে মনে হয় এমন একটা কিছু করব যা কাজের কাজ।

    –অরোর হলে ভালোই হবে, হ্যারি বললো।

    –হ্যাঁ, তবে ওটা একমাত্র যোগ্য জায়গা নয়। হারমিওন বললো–ভাবছি SPEWর কাজে মন দেব, কেমন হবে? এলফরা সত্যি খুব কষ্টে থাকে।

    হ্যারি রন ইচ্ছে করেই পরস্পরের দিকে তাকাল না।

    জাদুকরী বিদ্যায়, জাদুর ইতিহাস সবার কাছেই দারুণ একঘেঁয়ে। প্রফেসর বিনস ওদের ঘোস্ট টিচার, কথা বলতে গেলে ঘন ঘন শ্বাস ফেলেন। দশ মিনিট তার কথা শুনলে সকলের ঘুম এসে যায়।

    গরম কাল হলে ১০ মিনিটের জায়গায় পাঁচ মিনিট। একঘেয়ে বলে বলে ছাত্রছাত্রীরা যতটা পারে ভোট নিয়ে নেয়। হ্যারি, রন প্রফেসর বিনসের ক্লাসে খুব একটা অ্যাটেন্ড করে না খুবই একঘেয়ে লাগে। পরে হারমিওনের কপি বুক থেকে নোটস কপি করে নেয়। হারমিওন মনে হয় একমাত্র ছাত্রী যে বিনসের অনর্গল বক্তৃতার ভোট সঠিক কপি করে।

    ক্লাসে রন আর হ্যারি পিছনে বসে থেকে বকবক করে, পার্চমেন্ট নিয়ে খেলা করে। ওদের ফাঁকিবাজী হারমিওনের দৃষ্টি এড়ায় না। কিন্তু উপায় নেই, দুই বন্ধুর জন্য কিছু করতে হয়।

    ক্লাস শেষ হলে প্রফেসর বিনস চলে গেলে হারমিওন চোখ পাকিয়ে বললো আমার নোটস তোমাদের যদি না দিই?

    রন বললো, না দিলে আউল-এ ফেল করব। তোমার বিবেক যদি তাই চায়, তাই হবে।

    সেটাই তোমাদের প্রাপ্য। তোমরা প্রফেসর বিনসের একটা কথাও শোনো না; চেষ্টা করেছ কী? রন বললো–করেছি; কিন্তু তোমার মত আমাদের প্রখর বুদ্ধি, একাগ্রতা নেই। এস তোমার মগজে আমাদের মগজ ঘষি তাহলে যদি একটু বুদ্ধিসুদ্ধি হয়।

    –থাম! ঈশ্বরের দোহাই বাজে কথা বলবে না।

    হারমিওন শিশির সিক্ত উঠনে গিয়ে দাঁড়াল। টিপটিপ বৃষ্টি পড়ছে। উঠোনের ধারে যারা দাঁড়িয়ে আছে তাদের ঝাঁপসা ঝাঁপসা দেখাচ্ছে। হ্যারি, রন, হারমিওন বড় দেখে একটা বারান্দার নিচে দাঁড়াল। জায়গাটা নিরিবিলি। সেপ্টেম্বর মাস, বেশ কনকনে ঠান্ডা পড়ছে। ওরা ওদের আলখেল্লার কলার তুলে দিল হাওয়ার স্পর্শ বাঁচাতে। সেইপ তার প্রথম ক্লাসে কোন বিষয় সম্বন্ধে বলবেন, তাই নিয়ে ওদের আলোচনা চলছে। তবে ওদের ধারণা খুব শক্ত কোন বিষয় পড়াবেন স্নেইপ। ইচ্ছে করেই যেন দুমাস ছুটির আনন্দ ভোগ করার পর একটু নাড়া দেয়া। ঠিক সেই সময় একজন ওদের সামনে দিয়ে যাচ্ছিল। হ্যারিকে দেখে থেমে গিয়ে বললো হ্যালো হ্যারি!

    ওরা দেখল চা চ্যাং বেশ একটু মন মরা। ব্যাপারটা খুবই অস্বাভাবিক। চো তো সবসময় একগাদা বন্ধুদের সঙ্গে হইহুল্লোড় করে বেড়ায়।

    হ্যারির ইন্ডল বল নাচের প্রসঙ্গ মনে পড়ে গেল।

    হাই! হ্যারি ওকে দেখে বললো। এ বছরে দেখছি স্টিনক্যাপস দিয়ে শরীর ঢাকেনি। কথাটা অবশ্য নিজের মনে বললো, চোকে নয়। চো ঠিক একই কথা ভাবছিল।

    –গরমের ছুটি কেমন কাটালে?

    হ্যারি বললো–দারুণ! হ্যারি হাসবার চেষ্টা করল, তোমার? গরমের ছুটি নিশ্চয়ই খুব মজা করে কাটিয়েছ?

    কথাটা বলার পর হ্যারির খুব লজ্জা করতে লাগল।

    ভালভাবে কাটিয়েছ কথাটা না বললেই যেন পারত। সেড্রিক চো-এর বিশেষ বন্ধু ছিল। সেড্রিকের মৃত্যুতে হ্যারি কম আঘাত পায়নি। এখনও রাতে ঘুম ভেঙ্গে যায় সেই বীভৎসতার দৃশ্য স্বপ্নে দেখলে। তাহলে চো কেমন করে ভুলে যাবে

    সেড্রিককে আর কেমন করে আনন্দে ছুটি কাটাবে?

    চো হ্যারির মুখ দেখে ওর মনের দুঃখের কথাটা বুঝতে পারল। বললো, সত্যি বলছি খুব আনন্দে কাটিয়েছি।

    রন চো চ্যাং-এর বুকে আঁটা ব্যাজটা দেখে বললো–ওটা টর্নেডসের ব্যাজ না? আকাশ নীল রং-এর গোলাকার ব্যাজটার মধ্যে দুটি স্বর্ণখচিত টি। তুমি কী ওদের সাপোর্ট কর?

    –হা করি, চো বললো।

    –আগে থেকে করতে?

    না, এখন লীগ চ্যাম্পিয়ন হয়েছে তাই? হ্যারির, রনের কথা শুনে মনে হল রনের কণ্ঠে অনাবশ্যক দোষারোপের সুর।

    –আমি সিক্সথ ইয়ার থেকেই ওদের সাপোর্ট করি, চো বললো। যাকগে পরে দেখা হবে হ্যারি।

    অর্ধেক রাস্তা চো চলে যাবার পর হারমিওন বললো–রন তোমার মাথায় একটুও বুদ্ধি নেই, কখন কি বলতে হয় একটুও জানো না।

    –কেন? আমি তো ওকে শুধু জিজ্ঞেস করেছি।

    –তুমি কী বুঝতে পারনি ও শুধু হ্যারির সঙ্গে কথা বলতে চেয়েছিল?

    –বললেই পারত, আমি তো বাধা দিইনি।

    –আশ্চর্য! হঠাৎ ওকে ওর টিম নিয়ে আক্রমণ করার কি মানে থাকতে পারে?

    –আশ্চর্য! ওকে আক্রমণ করলাম কখন? আমি ওকে…।

    –ও যদি টর্নের্ডসূকে সাপোর্ট করে তাতে তোমার কী?

    –আরে গতবারে ওগুলো কিনে অনেককে বিলিয়েছে।

    –তোমার তাতে কী আসে যায়?

    –মানে এই যে, ওরা আসল ফ্যান নয়, ওরা ব্যান্ড ওয়াগনের ওপর নাচানাচি করছে।

    ওই ঘণ্টা বেজেছে, হ্যারি লাফিয়ে উঠে বললো। রন আর হারমিওন এত উচ্চস্বরে তর্কাতর্কি করছে শোনে কার সাধ্য!

    ওদের স্নেইপের ক্লাশরুমে যাওয়া পর্যন্ত তর্ক থামেই না।

    স্নেইপের ক্লাসে যাবার সময় হ্যারি অন্যান্য ছাত্রছাত্রীদের সঙ্গে লাইনে দাঁড়াল। চো, এসে ওর কাছে দুএকটা কথা বললো। আর কারও সঙ্গে নয়। সকলেই জানে চো সেড্রিকের গার্লফ্রেন্ড, ওতো হ্যারিকে অন্তর থেকে ঘেন্না করতে পারতো, গ্রেভইয়ার্ড থেকে একা জীবিত হয়ে ফিরে আসাতে। হ্যাঁ তা সত্ত্বেও চো ওর সঙ্গে কথা বলে ওকে পাগল, মিথ্যাবাদী বলে না অথবা সেড্রিকের বীভৎসভাবে হত্যার জন্য হ্যারিকে দায়ী করে না। ভাবলেও ভাবতে পারত; কিন্তু তা ভাবেনি। এই নিয়ে দুদুবার ওর সঙ্গে যেচে কথা বললো চো চ্যাং।

    হ্যারি, রন আর হারমিওনের সঙ্গে লাইনে দাঁড়িয়ে ক্লাস রুমে ঢুকে পিছনের সারিতে রন আর হারমিওনের মাঝে বসল। সমস্ত ক্লাসরুম ছাত্রদের হইচই কথাবার্তায় পূর্ণ।

    অবশ্য স্নেইপের কিছু বলার প্রয়োজন ছিল না; ছাত্রছাত্রীরা যে মুহূর্তে দরজা বন্ধের শব্দ শুনল শান্ত হয়ে গেল। স্বাভাবিকতা ফিরে এল। প্লেইপের উপস্থিতিই যথেষ্ট।

    আজকের অনুশীলন শুরু করার আগে সেইপ টেবিলটা সাফ করে ছেলেমেয়েদের দিকে তাকিয়ে বললেন, আগামী জুন মাসে তোমাদের এক বিশেষ পরীক্ষায় বসতে হবে। সেই পরীক্ষায় তোমাদের প্রমাণ করতে হবে তোমরা কতটা শিখেছ–পোশান বানাবার কৌশল এবং তার প্রয়োগ। আমি নিঃসন্দেহ, এই ক্লাসে কিছু ক্ষীণ চিত্তবৃত্তিসম্পন্ন ছাত্রছাত্রী থাকতে পারে। কিন্তু আমি তোমাদের কাছে আশা করি যে তোমাদের দেয় প্যাচাকে মেজে ঘষে গ্রহণযোগ্য করবে, নাহলে তোমরা শাস্তি ভোগ করবে, নয়ত আমার অসন্তোষ।

    নেভিলের ওপর স্নেইপ স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল–ও ঘন ঘন ঢোক গিলতে লাগল।

    তারপর ঠোঁট ঠেকিয়ে তাকালেন হ্যারির দিকে হ্যারিও তাকাল এমন একটা ভাব নিয়ে যে ফিফথ ইয়ারে ও যা ছাড়বার তাও ছেড়ে দেবে।

    –সেই বিদায়ের শুভ মুহূর্ত আসতে আমাদের আরও একটা বছর পার করতে হবে। স্নেইপ খুব নরম সুরে বললেন–আমি আমার NEWT পোশান ক্লাশে ভাল ভাল ছাত্র চাই, তার মানে কিছু কিছু ছাত্রদের বিদায় নিতে হবে।

    স্নেইপের চোখ হ্যারির দিকে পড়তেই ঠোঁট কুঞ্চিত করলেন। হ্যারির মনে মনে আশা ফিফথ ইয়ার শেষ হলে ও পোশান শেখা ছেড়ে দিতে পারবে।

    আজকে আমরা এমন একটা তরল পদার্থ বানাবো, যা বানাতে সাধারণ জাদুকরী স্তরে আরও প্রয়োজন হয় শান্তির পানীয়, আবেগ এবং উত্তেজনা প্রশমন। সাবধান করে দিচ্ছি–তোমরা যদি বেশি মাত্রায় নানাভাবে মিশ্রিত তরল পদার্থটি কাউকে প্রয়োগ কর তাহলে হয়ত সে চিরনিদ্রায় যাবে। অতএব অতি বুদ্ধিবিবেচনা করে প্রয়োগ করতে হবে। হ্যারির বাঁধারে বসে থাকা হারমিওন সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করল। সেইপ তার জাদুদণ্ড ক্লিক করে বললেন, মিশ্র বস্তুর উপাদান ও প্রণালী–যা যা ব্ল্যাকবোর্ডে লেখা রয়েছে তার সবই পাবে। কথাটা বলে স্নেইপ জাদুদণ্ড আবার ক্লিক করলেন। কাবার্ডের স্টোরে সেগুলো পাবে। কাবার্ডের দরজা খুলে গেল। তোমরা দেড় ঘণ্টা সময় পাবে বানাতে। শুরু কর।

    হ্যারির মত রন আর হারমিওন আগেই জানতো, স্নেইপ ওদের খুব শক্ত একটা কার্যকরী তরল পদার্থ বানাতে দেবেন না। বিভিন্ন উপাদানগুলো একটি পাত্রতে সঠিক মাত্রা অনুসারে সঠিকভাবে মেশাতে হবে। তারপর সেই মিশ্রণ ঠিক যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু ফোঁটাতে হবে। প্রথমত দক্ষিণাবর্তে তারপর বিপরীতভাবে। যে অগ্নি উত্তাপে সেই মিশ্রণ টগবগ করে ফুটবে সেটা অবশ্যই নির্দিষ্ট মিনিটে কমাতে হবে, শেষ উপাদানটি পাত্রে দেবার আগে।

    স্নেইপ বললো, এখন তোমাদের ওই তরল পদার্থ থেকে হালকা রূপালী বাষ্প অবশ্যই বেরুতে শুরু করবে দশ মিনিটের মধ্যেই।

    হ্যারি দরদর করে ঘামছিল, অন্ধকার ঘরটার চারধারে প্রচণ্ড এক দৃষ্টিতে তাকাল। ওর পাত্র থেকে ধীরে ধীরে বেরুচ্ছে প্রচুর পরিমাণে গাঢ় ধূসর বাম্প; রনের পাত্র থেকে সবুজ রং-এর স্ফুলিংগ। সিমাস উত্তেজিত হয়ে পাত্রের তলা থেকে যে অগ্নিশিখা বেরোচ্ছে সেটা ওর জাদুদণ্ডের আগা দিয়ে খোঁচা দিয়ে বন্ধ করার চেষ্টা করতে থাকে। হারমিওনের পাত্র থেকে রূপালী বাষ্প বেরুতে দেখে স্নেইপ কোনওরকম মন্তব্য না করে বিরাট লম্বা নাক বাড়িয়ে সেইদিকে তাকিয়ে রইলেন। তার মানে এই, হারমিওনের কাজে বিরূপ মন্তব্য করার কিছু নেই।

    স্নেইপ হ্যারির পাত্রের দিকে এসে দাঁড়িয়ে মাথা নিচু করে দেখলেন। সেটা দেখে মুখে কৃত্রিম হাসির রেখা দেখা দিল।

    –পটার এই জিনিসটা কি বানাচ্ছ?

    ওর সামনের টেবিলে স্লিদারিন গ্রুপের ছাত্ররা বসেছিল। স্নেইপের কথা শুনে হ্যারির দিকে কৌতূহলি হয়ে তাকাল। ওরা স্নেইপের কথাটা শুনেছে, তা সে যতই আস্তে বলুক না কেন। হ্যারিকে অপদস্ত করা ওদের ভাল লাগে, বিশেষ করে স্নেইপ। ব্যাঙ্গ করলে।

    হ্যারি চাপা উত্তেজনায় বললো, শান্তির জন্য ওষুধ। কথাটা শুনে ড্রেকো ম্যালফয় হেসে উঠল।

    স্নেইপ নরম সুরে বললেন, পটার তুমি কী পড়তে পার? –পারি, হ্যারি বললো। ওর হাতের মুঠো শক্ত হয়ে গেল। –পটার, আমার লেখা নির্দেশের তৃতীয় লাইনটা পড়তো।

    হ্যারি ব্ল্যাকবোর্ডের দিকে তাকাল। চারদিকের নানা রং-এর বাষ্প আর ধোয়া ব্ল্যাকবোর্ডটাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। লেখাগুলো পড়তে পারা বেশ শক্ত।

    –মুনস্টোন চূর্ণ মিশ্রণ করে তিনবার বিপরীত দিকে ঘোরাও, সাত মিনিট তরল পদার্থটি ফুটতে দাও, তারপর দুড্রপ সিরাপ হেল্লেবোর (গোলাপ জাতীয় ফুল) মেশাও।

    হ্যারির মুখ শুকিয়ে যায়। ও হেল্লেবোর সিরাপ তো মেশায়নি। ও সোজা নির্দেশের চতুর্থ লাইন ফলো করেছে তরল পদার্থটা সাত মিনিট ফোঁটার পর।

    –পটার তৃতীয় লাইনে যা যা লেখা আছে তা তুমি করেছ?

    –পটার শান্তভাবে বললো–না, আমি হেল্লেবোর মেশানোর কথা ভুলে গিয়েছিলাম।

    আমি জানি তুমি কি করেছ পটার, তাই যেটা এখন হয়েছে তা একটা জগাখিচুড়িতে পরিণত হয়েছে।

    বলার সঙ্গে সঙ্গে হ্যারি যা বানিয়েছিল সেটা অদৃশ্য হয়ে গেল। শূন্য কড়াইটা শুধু পড়ে রইল ওর সামনে।

    –যারা আমার নির্দেশ ঠিকমত পড়ে বুঝতে পেরেছ, তারা তরল পদার্থটা একটা বড় বোতলে নমুনা হিসেবে ভরে রাখ। একটা কাগজের টুকরোতে তোমাদের নাম বোতলে চিপকে পরীক্ষার জন্য আমার টেবিলে রাখ। সেইপ বললেন

    হোমওয়ার্ক : মুনস্টোনে প্রয়োজনীয় দ্রব্য এর ওপর বার ইঞ্চি একটা পার্চমেন্ট এবং পোশান তৈরির ব্যবহার বিধি লিখে আমাকে বৃহস্পতিবার অতি অবশ্যই দেবে।

    সবাই যখন বোতল ভরতি করতে ব্যস্ত, হ্যারি তখন উত্তেজিতভাবে ওর জিনিসগুলো সরিয়ে রাখল। রনেরও সেই একই অবস্থা! তার থেকে পচা ডিমের গন্ধ বেরোচ্ছে: সিমাস সিমেন্টের মত যেটা বানিয়েছে তা কড়াই থেকে বুড়ো আঙ্গুল দিয়ে কুঁড়ে কুঁড়ে ফেলে দেয়। হ্যারি সেদিনের ক্লাস ওয়ার্কে গোল্লা পাবে কোনও সন্দেহ নেই। ও ম্যাজিক দণ্ডটা ব্যাগে রেখে সিটে বসে পড়ে। দেখল ছেলেমেয়েরা স্নেইপের কাছে গিয়ে ছিপি আঁটা বোতল তার টেবিলের ওপর রাখছে। ক্লাস শেষ হবার ঘণ্টা বাজতেই হ্যারি ঘর থেকে বেরিয়ে সবার আগে লাঞ্চ খেতে বসে গেল।

    একটু পর রন আর হারমিওন গ্রেট হলে এল। বাইরে ঝমাঝম বৃষ্টি হচ্ছে। আকাশ কালো মেঘে ঢাকা। বৃষ্টির ছাট এসে জানালায় লেগে অবিরাম ফটফট শব্দ হয়ে চলেছে।

    হারমিওন হ্যারির পাশে বসে শেফার্ডস পাই প্লেটে তুলে বললো, স্নেইপের খুব অন্যায়, এমন কিছু তুমি খারাপ করনি। গোয়েলের চেয়ে একটুও খারাপ নয়। ওর টেবিলের বোতল থেকে পোশান ছলকে বেরিয়ে আগুন লেগে ওর পোশাক জ্বলে গেল সেটা মার্ক করেছ?

    –কবে থেকে স্নেইপ আমার ওপর সদয়? হ্যারি বললো।

    তিনজনেই চুপচাপ। ওরা জানে যেদিন থেকে হ্যারি হোগার্টস-এ পা রেখেছে স্নেইপ সেদিন থেকে ওর সঙ্গে অনাবশ্যক শত্রুতা করে চলেছেন।

    হারমিওন হতাশাব্যঞ্জক স্বরে বললো, আমার মনে হয় এ বছরে হ্যারি ভালই করবে। কথাটা বলে আশপাশের অনেক শূন্য চেয়ার দেখে খুব চাপা গলায় বললো, এখন ও অর্ডারে শক্ত-পোক্তভাবে এসেছে।

    রন বললো, বিষাক্ত কোলা ব্যাঙ তাদের শরীরের স্পট পাল্টায় না। যাই হোক, আমি সবসময় ভাবি ডাম্বলডোের একগুয়েমির মত কেন স্নেইপকে বিশ্বাস করেন। এমন কোন প্রমাণ আছে যা থেকে বলতে পার ও ইউ-নো-র জন্য কাজ বন্ধ করে দিয়েছে?

    হারমিওন বললো, আমি মনে করি ডাম্বলডোরের কাছে প্রচুর প্রমাণ আছে, তোমাকে সেটা নাও জানাতে পারেন রন।

    হ্যারি বললো, দয়া করে তোমরা দুজন থামবে। রন হয়ত সেই সময় কিছু বলতে যাচ্ছিল। হ্যারির তীক্ষ্ম কথায় চুপ করে গেলেও হ্যারির উদ্ধত আচরণে শুধু রেগে গেল তা নয় মনে আঘাতও পেল।

    দয়া করে তোমরা একটু চুপ করে বসে থাকবে? হ্যারি বললো, তোমরা যা খুশি তাই ভাবছ, বলেও যাচ্ছ, শুনতে শুনতে আমি বোধহয় পাগল হয়ে যাব। কথাটা বলে শেফার্ডস পাই অর্ধসমাপ্ত রেখে, পিঠে স্কুল ব্যাগটা চাপিয়ে হল থেকে হনহন করে বেরিয়ে গেল।

    সিঁড়ির দুধাপ একই সঙ্গে টপকাতে টপকাতে নিচে নামতে থাকে। বহু ছাত্র লাঞ্চের জন্য হুড়োহুড়ি করে গ্রেট হলে চলেছে। হঠাৎ হ্যারি রেগে গিয়েছিল, তখনও ও রাগে গরগর করছে, রাগ কমেনি। রন আর হারমিওনের আহত মুখটা মনে করে ওর খুব আনন্দ হতে লাগল।

    যা করা উচিত তাই করেছি। যেমন কর্ম তেমনি ফল। সবসময় ব্যাগ ব্যাগ, চুপ করে থাকতে পারে না।

    ল্যান্ডিং-এ স্যার ক্যাডোগ্যানের ছবি পার হবার সময় ওর মনে হল স্যার ক্যাডোগ্যান যেন হাতের তলোয়ারটা ওকে আঘাত করার জন্য ভয়ানকভাবে তুলে ধরেছেন। হ্যারি যেন তাকে ভ্রুক্ষেপ করেনি, এমনি মুখের ভাব করলো।

    স্যার ক্যাডোগ্যানের ক্যাপটা তার মুখটা প্রায় ঢেকে দিয়েছে। হ্যারি শুনতে পেল ক্যাডোগ্যান বিশ্রীভাবে বলছে, এই যাচ্ছ কোথায় এদিকে এস রুগ্ন কুকুর! সোজা হয়ে দাঁড়াও, যুদ্ধ কর!

    হ্যারি সেই ছবির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়ে নিচে নামতে লাগল; কিন্তু মনে হল স্যার ক্যাভোগ্যান ওকে ধাওয়া করছে।

    নর্থ টাওয়ারের গুপ্ত দরজার নিচে একলা বসে হ্যারি লাঞ্চ টাইমের বাকি সময়টা কাটিয়ে দিল। পরের ক্লাসের ঘণ্টা বাজার সঙ্গে সঙ্গে ও উঠে দাঁড়ালো। সিলভার ল্যাডার ধরে ট্রিলনির ক্লাসরুমে হ্যারিই প্রথম ঢুকল।

    পোশান বানাবার পদ্ধতি ক্লাসের পর, সবচেয়ে বিরক্তিকর ক্লাস যদি হয় সেটা হল ভবিষ্যৎ বলা। তার প্রধান কারণ ট্রিলনির স্বভাব তিনি অকালমৃত্যু সম্বন্ধে ভবিষ্যত্বাণী বলেন প্রতিটি লেসনের পর। মহিলাটিকে দেখলেই হ্যারির মনে হয় কতগুলো পোকা সামনে কিলবিল করছে। রোগাটে লম্বা চেহারা, গায়ে শাল জড়ান, তাতে চুমকি লাগান–আলো পড়ে ঝিকমিক করে, মোটা কাঁচের চশমার আড়ালে চোখ দুটো অস্বাভাবিক বড় দেখায়।

    হ্যারি যখন ট্রিলনির ঘরে ঢুকল তখন তিনি চামড়ায় বাঁধান মোটা মোটা বই টেবিলে ছড়িয়ে বসে রয়েছেন। অল্প আলো বাতিটার সামনে দুটো কাঠের টুকরো দিয়ে ঢাকা। ঘর গরম রাখার জন্য সরু সরু কাঠ জ্বালান–তারই গন্ধ। হ্যারি ঘরে ঢুকেছে ট্রিলনি একটুও লক্ষ্য করেননি। হ্যারি একটা চেয়ারে বসে পড়ল। জায়গাটা ছায়াতে অন্ধকার। ক্লাশের বাকি ছাত্ররা পাঁচ মিনিটের মধ্যেই ঘরে ঢুকে পড়ল। রন গোপন সিঁড়ি দিয়ে ঢুকে চারদিক তাকিয়ে হারিকে আবিষ্কার করল। ওর চেয়ার থেকে সামান্য দূরে বসল।

    হ্যারিকে বললো–হারমিওন আর আমি বোকার মতো কথা বলা বন্ধ করেছি। কথাটা বলে রন ওর কাছে বসল।

    –খুব ভাল, হ্যারি বললো।

    রন বললো–হারমিওন বলেছে, তুমি যদি না বুঝে আমাদের ওপর অযথা রাগ দেখাও তাহলে ভাল হয়।

    –আমি অযথা রাগ করি না।

    –না, আমি শুধুমাত্র খবরটা তোমাকে দিলাম, রন বললো।

    –তবে আমার মতে হারমিওনের কোন দোষ নেই। ও সঠিক কথা বলেছে। সিমাস আর স্নেইপের ব্যবহারের জন্য আমরা দায়ী নই।

    –এমন কথা তো আমি তোমাদের বলিনি, হ্যারি বললো।

    –প্রসেসর তার স্বাভাবিক কুহেলী স্বপ্নালু কণ্ঠে বললেন, ভবিষ্যত বলার ক্লাসে যোগদানের জন্য তোমাদের সকলের জন্য আমার অভিনন্দন। আমি ছুটির সময় তোমাদের সকলের ভাগ্য খুব সতর্কতার সঙ্গে বিচার করেছি। বিচার করবার পর আমি অতিশয় খুশি হয়েছি যে তোমরা সকলে নিরাপদে হোগার্টসে এসে পৌঁছে গেছে। অবশ্য, আমি জানতাম তোমরা নিরাপদে আসবে।

    –তোমরা তোমাদের টেবিলের সামনে দেখতে পাবে দ্য ড্রিম ওরাকেলের বই-এর কপি। বইটি লিখেছেন ইনিগো ইমাগো। ভবিষ্যৎ বলার অন্যতম প্রধান উপকরণ হচ্ছে স্বপ্নের যথার্থ ব্যাখ্যা। এই যুক্তির পরীক্ষা তোমাদের OWL-এ সম্ভবত করা যেতে পারে। যখন ভবিষ্যত বলার কুশলতা তোমাদের রপ্ত হবে তখন পরীক্ষায় কৃতকার্য বা অকৃতকার্য কোনও দিক থেকেই তোমাদের সামনে এসে দাঁড়াবে না। তোমাদের যদি ভবিষ্যৎ জানার শক্তি থাকে, তাহলে সার্টিফিকেট, গ্রেডস খুবই নগণ্য হবে। তবু হেডমাস্টার চান তোমরা পরীক্ষায় বসবে।

    এমন সুচারুরূপে ট্রেলওয়েল কথাগুলো বললেন, যাতে ছাত্রদের কোনও সন্দেহ থাকে না যে তার অভিমত পরীক্ষার চাইতে অনেক বেশি মূল্যবান!

    –হ্যাঁ, তোমরা দ্য ড্রিম অব ওরাকেলের ভূমিকা পৃষ্ঠাটি খোল। খুলেছ? হ্যাঁ এবার মন দিয়ে পড় ইমাগো, স্বপ্ন নিয়ে কি বলেছেন। এবার তোমরা দুজনে মিলে এক একটি দল গঠন কর। তোমাদের হালে দেখা স্বপ্ন নিয়ে ড্রিম ওরাকেল কি ব্যাখ্যা করেছে তা নিয়ে আলোচনা কর, করে যাও।

    রনের মনে হয় ভালই, তাহলে ডবল পিরিয়ড হবে না। বইটা পড়া শেষ হলে হাতে মাত্র তখন দশমিনিটের মত সময় রয়েছে–স্বপ্নের ব্যাখ্যা করার। হ্যারিও রনের পরের টেবিলে, ডিন নেভিলের সঙ্গে দল গঠন করেছে। ডিন বললো–ও এক অদ্ভুত স্বপ্ন দেখেছে: ওর গ্রান্ডমাদারের সবচেয়ে সুন্দর টুপিতে দুটো বড় বড় কাঁচি ঝোলান। ইমাগোর লেখা অনুসারে তারও ব্যাখ্যা করল, বেশ বড়সড়ো ব্যাখ্যা।

    হ্যারি ও রন ডিনের মুখের দিকে বোকার মত তাকিয়ে রইল। রন হ্যারিকে বললো–আমার স্বপ্ন মনে থাকে না। তুমি একটা বলো। হ্যারি বললো–তা হতে পারে না, তুমি একটা ভেবে বল।

    হ্যারি ওর দেখা স্বপ্ন কাউকে জানাতে চায় না। ও নিত্য স্বপ্ন দেখে, কবরখানায় ইউ-নো হুর নিষ্ঠুর হত্যাকাণ্ড! সেই বিকট নিশাস্বপ্ন বাক শান্তি লুপ্ত করা স্বপ্ন সেটা কাউকে জানাতে চায় না। সেটা ব্যাখ্যার জন্য রন, প্রফেসর ট্রিলনি অথবা তার বোকা বোকা ড্রিম ওরাকল ওর দরকার হয় না।

    গত রাতে আমি স্বপ্ন দেখেছি কিডিচ খেলছি, তার কী ব্যাখ্যা করতে চাও?

    হ্যারি ড্রিম ওরাকলের পাতা উল্টে বললো–খুব সম্ভব বিলের ধারে জন্মান বিরাট এক গুল বা ওইরকম কিছু একটা তোমাকে গ্রাস করতে এসেছিল। পাতা উল্টান বা বলার সময় হ্যারি কোনরকম উৎসাহ না দেখিয়ে কিছু বলতে হবে বলেই বললো।

    ক্লাস শেষ হবার পর প্রফেসর ট্রিলনি বললো, তোমরা সকলে বেশ বড় মত একটা ডায়রিতে, তোমাদের প্রতি রাতের স্বপ্ন লিখে রাখবে।

    ওরা কেউই খুশি হলো না। স্নেইপ, বিনস, ট্রিলনি সকলেই গাদা গাদা হোমওয়ার্ক দিয়েছেন। তার চাপে ওদের ঘাড় ভেঙে যাবার উপক্রম। ওরা ভাবল আমব্রিজ যেন ওদের কোনও হোমওয়ার্ক না দেন।

    ফ্রেড আর জর্জ তাহলে আউল ইয়র বলে কিছু ভুল করেনি।

    প্রফেসর আমব্রিজ ক্লাশরুমে ঢোকার সঙ্গে সঙ্গে ঘরের কোলাহল বন্ধ হয়ে গেল। প্রফেসর আমব্রিজ ডার্ক আর্টসের বিরুদ্ধে দুমুখী লড়াই সম্বন্ধে বলবেন।

    –ওয়েল, শুভ সন্ধ্যা, আমব্রিজ বললেন। ক্লাসের সব ছাত্রছাত্রী সমবেত কণ্ঠে বললো, শুভ সন্ধ্যা।

    আমব্রিজ লক্ষ্য করলেন দুএকজন শুধু ঠোঁট নাড়ল, তারা ভালভাবে শুভ সন্ধ্যা বলেনি।

    টাই টাই, প্রফেসর আমব্রিজ বললো, নানা ওইরকমভাবে নয়। আবার সমবেত কণ্ঠে বললো, শুভ সন্ধ্যা। প্রফেসর আমব্রিজ, এই কথাগুলো বলা কী খুবই শক্ত। তোমাদের দণ্ড সরিয়ে রেখে কুইল, কালি, পার্চমেন্ট বার কর।

    জাদুদণ্ড সরিয়ে রাখার আদেশ সাধারণত অন্য প্রফেসরদের কাছে ছাত্ররা শোনে না তাই সরিয়ে রাখার সময় সকলের মুখ গোমড়া হল। প্রফেসর আমব্রিজের লেসন ওদের ভালই লাগে। হ্যারি জাদুদণ্ড ওর ব্যাগের মধ্যে রেখে পাখির পালকের কলম, কালি আর পার্চমেন্ট বার করল। প্রফেসর আমব্রিজ তার ব্যাগ খুলে জাদুদণ্ড বার করলেন। দণ্ডটা ছোট মাপের। দণ্ড ব্ল্যাকবোর্ডে ছোঁয়াতেই ফুটে উঠল

    ডার্ক আর্টসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ
    মূল নিয়মের পূর্বাবস্থায় প্রত্যাবর্তন

    ওয়েল, এই বিষয় সম্বন্ধে আমার বক্তব্য অসঙ্গতি ও অসম্পূর্ণ হয়েছিল, ঠিক না? আমব্রিজ দুটো হাত এক করে বললেন। একটা কথা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ঘন ঘন শিক্ষক পরিবর্তন, শিক্ষার বিষয় পরিবর্তন, জাদু মন্ত্রণালয়ের পাঠ্যক্রম ইত্যাদি তোমাদের শিক্ষার মান অনেক নিচে নামিয়ে দিয়েছে সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। আশা করি oWL ইয়ারে আমাদের যথাসম্ভব শিক্ষার স্তর বা মানের পরিবর্তন হবে।

    এখন ওই সমস্যাগুলি দূরিভূত করতে হবে। তাই মন্ত্রণালয়ের সুচিন্তিত ও অনুমোদন থিয়োরি সেন্টার্ড প্রতিরোধের কোর্স বিশেষভাবে আমাদের মেনে চলতে হবে। অনুগ্রহ করে পাঠ্য বিষয়ের মূল উদ্দেশ্য লিখে নাও।

    ১. প্রতিরোধ জাদুর জ্ঞান ও মূল বিষয়।
    ২. কোন অবস্থায় প্রতিরোধ জাদু আইন অনুযায়ী ব্যবহার করা যেতে পারে
    ৩. প্রতিরোধ জাদুর ব্যবহার প্রাসঙ্গিকতা

    বেশকিছু সময় ক্লাসের ছাত্রছাত্রীদের ব্যাগ থেকে পালকের কলম বার করা ও পার্চমেন্ট সামনে রাখার শব্দে ঘরটা মুখরিত হল। প্রফেসরের তিন উদ্দেশ্য লিখে নেবার পর প্রফেসর আমব্রিজ বললেন, তোমাদের কাছে উইলবার্ট নিখার্দ এর লেখা ডিফেন্স ম্যাজিক্যাল থিয়োরি বইটি আছে?

    ক্লাসরুমে আবার মৃদু গুঞ্জন শোনা গেলো।

    প্রফেসর আমব্রিজ বললেন, আমার মনে হয় আরেকবার ওইগুলো প্রয়োগের চেষ্টা করা যাক। আমি তোমাদের প্রশ্ন করলে তোমরা জবাব দেবে–হ্যা প্রফেসর আমব্রিজ অথবা না প্রফেসর আমব্রিজ। তাহলে ধরে নিলাম তোমাদের সবার কাছে উইলবার্টের ডিফেন্সিভ ম্যাজিক্যাল থিয়োরি বইটির কপি আছে?

    –হা প্রফেসর আমব্রিজ। ক্লাসরুম মুখরিত হল।

    –ভাল, প্রফেসর আমব্রিজ বললেন, এবার তোমরা বইয়ের পাঁচ পাতা খুলে পড়। প্রথম পরিচ্ছেদ, প্রাথমিক শিক্ষার্থীর শিক্ষা। এখন কোনও কথা বলার প্রয়োজন নেই।

    প্রফেসর আমব্রিজ ব্ল্যাকবোর্ডের সামনে থেকে সরে এসে নিজের চেয়ারে বসলেন। ব্যাঙের মত ফোলা ফোলা চোখে কে কি করছে দেখতে লাগলেন। হ্যারি পাঁচ পাতা খুলে ম্যাজিক্যাল থিওরিতে যা লেখা আছে তা পড়তে থাকে।

    জঘন্য! প্রফেসর বিনসের পাঠের চেয়েও রসকষহীন। একটু একটু করে ওর একাগ্ৰতা উবে যাচ্ছে অনুভব করে, ও বইয়ের প্রথম লাইনটা বারবার পড়তে থাকে। পাশে রন বসে পাখির পালকের কলমটা অন্যমনস্কভাবে আঙ্গুল দিয়ে ঘোরাতে থাকে। ও যেন ঘুমিয়ে পড়েছে। হ্যারি ওকে সচেতন করার জন্য নাড়া দিল। ওদিকে হারমিওন ডিফেনসিভ ম্যাজিক থিওরির বই সামনে রেখে বসে আছে, বইটা খোলেনি তা আবার পাঁচ পাতা! ও একটা হাত শূন্যে তুলে প্রফেসর আমব্রিজের দিকে তাকিয়ে রইলো।

    হ্যারি এর আগে কখনও হারমিওনকে কোন প্রফেসরের দেয়া কাজ, নির্দেশ অমান্য করতে দেখেনি। হ্যারি জিজ্ঞাসু দৃষ্টিতে হারমিওনের মুখের দিকে তাকাল। হারমিওন সামান্য মাথাটা নাড়ল। স্পষ্ট ইঙ্গিত ওর প্রফেসর আমব্রিজের প্রশ্নের জবাব দেবার মোটেই ইচ্ছে নেই। সেই একই রকমভাবে ও প্রফেসর আমব্রিজের মুখের দিকে তাকিয়ে রইল।

    বইয়ের পরিচ্ছেদ এতই একঘেঁয়ে যে বেশিরভাগ ছাত্রছাত্রী বইটা না পড়ে হারমিওনের মত তাকিয়ে রইল।

    প্রফেসর আমব্রিজের চোখে পড়ল ছাত্রছাত্রীদের বই সামনে রেখে নির্বাক হয়ে বসে থাকা। কতটা সময় তিনি ওই অবস্থা মেনে নেবেন?

    আমব্রিজ বললেন, এই চ্যাপ্টার সম্বন্ধে তোমার কোনো প্রশ্ন আছে হারমিওন?

    হারমিওনের দিকে তাকিয়ে এমনভাবে প্রশ্ন করলেন আমব্রিজ যেন তার কথামত হারমিওন খুব মনোযোগ দিয়ে প্রথম পরিচ্ছেদটা পড়েছে।

    হারমিওন বললো–না।

    –তোমার যদি অন্য কোন প্রশ্ন থাকে, তাহলে ক্লাস শেষ হবার পর আমরা আলোচনা করতে পারি।

    –হারমিওন বললো–আপনার আজকের কোর্সের এইমস্ সম্বন্ধে আমার কিছু প্রশ্ন আছে।

    –কথাটা শুনে আমব্রিজ দুচোখের ভুরু তুলল। তোমার নাম জানতে পারি?

    –হারমিওন গ্রেঞ্জার।

    –তুমি যদি ভূমিকা ও এক নম্বর পরিচ্ছেদ পড় তাহলে অবশ্যই জানতে পারবে।

    –দুঃখিত প্রফেসর। আমি খুব ভাল করে পড়েছি, কিন্তু প্রতিরোধের জাদুমন্ত্র সম্বন্ধে কিছুই বিস্তারিত নেই এ বইতে।

    ঘর স্তব্ধ! অনেক ছাত্রছাত্রী বোর্ডের দিকে তাকিয়ে রইল।

    ইউজিং ডিফেনসিভ স্পেল? প্রফেসর আমব্রিজ কথাটা বলে হাসল। আমার ক্লাসে কেন আমি আশা করতে পারি না যে, এমন এক পরিবেশ সৃষ্টি হোক যাতে তুমি প্রতিরোধের জাদু ব্যবহার করতে পারবে, মিস শ্রেঞ্জার? তুমি নিশ্চয়ই সেইরকম কিছু আক্রমণের আশা করছে না?

    রন বেশ জোর দিয়ে বললো–আমরা জাদু প্রয়োগ করতে চাই না।

    –প্রিয় ছাত্ররা, যারা আমার ক্লাসে আমার সঙ্গে বলতে চাইবে তারা হাত তুলবে, মি:…?

    –রন একটা হাত তুলে বললো উইলি।

    আমব্রিজ রনের দিক থেকে মুখ সরিয়ে নিয়ে হাসলেন। মৃদু নয়, মুখ অনেকটা বড় করে। হ্যারি ও হারমিওন সঙ্গে সঙ্গে রনের মত হাত তুলল। প্রফেসর আমব্রিজ হ্যারির মুখ থেকে দৃষ্টি সরিয়ে হারমিওনের দিকে তাকালেন। তারপর ওকে বললেন, হ্যাঁ, মিস গ্রেঞ্জার? তুমি কিছু বলতে চাইছ?

    হারমিওন বললো ডার্ক আর্টসের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ মানে জাদু দ্বারা প্রতিহত করা?

    প্রফেসর তার মুখে কৃত্রিম হাসি টেনে এনে বললেন–তুমি কী মন্ত্রণালয় দ্বারা শিক্ষিত একজন শিক্ষাদানের কুশলী?

    –না, কিন্তু…।

    –আমার মনে হয়, তোমার তাহলে সমগ্র বিষয়টা শিক্ষাদানের ক্লাসে বসে প্রকাশ করা ঠিক নয়। জাদুকররা তোমার চেয়েও বয়সে বড় চালাক। আমাদের নতুন স্টাডি প্রোগ্রাম বোঝার ব্যাপারে আমি যা বলছি তা মেনে চললে আশাকরি কোনরকম বিপদ-আপদের সম্ভাবনা থেকে বেরিয়ে আসতে পারবে।

    –হ্যারি উচ্চস্বরে বললো, সেটা কী?

    –হাত তোল মি. পটার।

    হ্যারি আবার ওর মুঠো করা হাত তুলল। প্রফেসর আমব্রিজ ওর দিকে তাকালেন না। আরও কিছু ছাত্র হাত তুলল।

    –প্রফেসর আমব্রিজ ডিনকে বললেন, হ্যাঁ, তোমার নাম?

    –ডিন টমাস

    –আচ্ছা, মি. টমাস।

    –হ্যারি যা বলেছে তাই ঠিক। আমাদের কেউ আক্রমণ করলে সেটা বিপদ আপদের বা ঝুঁকিবিহীন নাও হতে পারে। প্রফেসর আমব্রিজ বললেন–কী মনে কর, এই ক্লাসের মধ্যে আক্রমণ হবে?

    –না, তবে…।

    –এই স্কুলের পড়াশুনা ও কাজকর্ম সম্বন্ধে আমি কোনও বিরূপ মন্তব্য করছি। কিন্তু আমার মনে হয় তোমরা কিছু দায়িত্বজ্ঞানহীন জাদুকরদের আক্রমণের মুখোমুখি রয়েছ। যার নাম না বলাই ভাল। কতিপয় মারাত্মক বর্ণসঙ্কর ব্যক্তির।

    ডিন রাগে ঠক ঠক করতে করতে বললো–আপনি কী প্রফেসর সুপিনের উদ্দেশ্যে কথাটা বলছেন? বলতে পারেন তিনি সর্বশ্রেষ্ঠ।

    –মি. টমাস, তুমি যা ভাবছ, যা বলতে চাইছ বা যা মন্তব্য করলে তা তোমার বয়সের ছাত্রদের মানায় না। তুমি সদাই ভীত এই ভেবে যে, একদিন না একদিন ডার্করা তোমাকে আক্রমণ করবে।

    হারমিওন বললো, না, সেরকম কিছু আমরা বলছি না। আমরা বলছিলাম…।

    –মিস গ্রোর তুমি কিন্তু কথা বলার আগে মি. টমাসের মত হাত তোলোনি। হারমিওন হাত তুললেও প্রফেসর আমব্রিজ ওর দিকে তাকালেন না।

    -আমার দৃঢ় বিশ্বাস আমার আগে যারা তোমাদের পড়াতেন, তারা কতগুলো বেআইনী অমঙ্গলকর জিনিস তোমাদের সামনে করেছিলেন। অনেক কার্স তোমাদের ওপর পারফর্ম করেছিলেন।

    –তাকে কী উম্মাদ মনে করেন? আমরা তার কাছ থেকে অনেক কিছু শিখেছি, ডিন বললো।

    –মি. টমাস তুমি কিন্তু কথা বলার আগে হাত তোলোনি! মন্ত্রণালয়ের মতে তত্ত্বীয় জ্ঞান তোমাদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণের জন্য যথেষ্ট, এর জন্যই স্কুল।

    –পার্বতী হাত তুলল।

    –আহ! তোমার নাম?

    –পার্বতী পাতিল। তারই সঙ্গে ব্যবহারিক শিক্ষা ডার্কআর্টস oWL-রিপোর্টে আছে।

    আপনি কী বলতে পারেন কাউন্টার অ্যাটাকের জন্য তার দরকার নেই?

    –আমার মনে হয়, তত্ত্বীয় জ্ঞান (থিওরী) যথেষ্ট। আমি বুঝতে পারছি না, এই সুচিন্তিতভাবে শিক্ষা গ্রহণের পর কেন তোমরা সেটা পারবে না।

    –ব্যবহারিক শিক্ষা আগে না করেই, পরীক্ষা দেবার সময় করলেই হবে?

    –আবার বলছি, ক্লাশে তাত্ত্বিক শিক্ষা যথেষ্ট।

    –শুধুমাত্র তাত্ত্বিক শিক্ষাতে সবকিছু সমাধান হবে না। বাইরের জগতে সেই শিক্ষার সাথে সাথে কার্যকরী শিক্ষার প্রয়োজন আছে।

    –মি. পটার এটা স্কুল বাইরের জগত নয়।

    আচ্ছা! তাহলে বাইরের আক্রমণ থেকে আমাদের তৈরি থাকার প্রয়োজন নেই? হ্যারির গলা শুনে মনে হয় ধৈর্য্যের সীমা হারিয়েছে।

    –কারা তোমাদের মত ছোট ছোট ছেলেমেয়েদের এইখানে আক্রমণ করতে পারে বলবে?

    –হুঁ, ভাবতে দিন, হতে পারে লর্ড ভন্ডেমর্ট? হ্যারি চিন্তা করছে এমন ভান করে বললো।

    রন হাঁফায়, ল্যাভেন্ডার ব্রাউন সামান্য আঁতকে ওঠার শব্দ করে, নেভিল ওর স্কুলের পাশে পড়ে যায়, প্রফেসর আমব্রিজ এক চুলও সরেন না। শুধু গম্ভীর মুখে হ্যারির দিকে তাকিয়ে থাকেন।

    -দশ পয়েন্ট গ্রিফিন্ডর থেকে কাটা গেল, মি, পটার। নিস্তব্ধ ক্লাসরুম। সকলের দৃষ্টি হ্যারি অথবা আমব্রিজের দিকে।

    এখন কিছু কথা তোমাদের পরিস্কার করে বলতে চাই। তোমাদের বিশ্বাস একজন অনিষ্টকারী জাদুকর, মৃত্যুর পরও ফিরে এসেছে

    হ্যারি বললো না সে মৃত নয়। হ্যাঁ সে ফিরে এসেছে।

    –মি. পটার তোমার হাউজ দশ পয়েন্ট হারিয়েছে, তোমার জন্য আরও খোয়াবে। যা বলছ, সবই মিথ্যা।

    –না, মিথ্যা নয়। আমি ওকে দেখেছি ও তার সাথে লড়াই করেছি।

    –না, পরিষ্কার কন্ঠে শোন মন্ত্রণালয় বিশ্বাস করে না ভোল্ডেমর্ট ফিরে এসেছে। তুমি এই বিষয়ে আমার সঙ্গে পাঁচটার পর আমার ঘরে কথা বলতে পার। আমি তোমাদের শুধু শিক্ষক নই বন্ধুও। যাক, বই-এর পঞ্চম পৃষ্ঠা খোল বেসিকস ফর বিগিনারস।

    হ্যারি তখনও দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে থাকে। ও হারমিওন, সিমাস, রন কারও কথা শুনতে চায় না।

    –তাহলে আপনি বলতে চান সেড্রিক ডিগরীর স্বাভাবিকভাবে মৃত্যু হয়েছে? কেউ তাকে হত্যা করেনি?

    –প্রফেসর আমব্রিজ বললেন, সেড্রিকের মৃত্যু একটি দুঃখজনক মৃত্যু।

    –স্বাভাবিক নয় ওকে হত্যা করা হয়েছিল। ভোল্ডেমর্ট ওকে হত্যা করেছে তা আপনি ভাল করেই জানেন।

    কথাটা শুনে প্রফেসর আমব্রিজ শান্ত রইলেন। এত শান্ত যে বলা যায় না। বাচ্চা মেয়ের মতো মধুর গলায় বললেন, এদিকে, এদিকে আমার কাছে এস স্নেহের পটার।

    হ্যারি পটার চেয়ারে লাথি মারল, কুব্ধ দৃষ্টিতে রন–হারমিওন, নেভিল কারও অনুরোধ না মেনে। সোজা আমব্রিজের সামনে দাঁড়াল।

    ক্লাসের বন্ধুরা হ্যারির দিকে অবাক হয়ে তাকিয়ে রইল।

    প্রফেসর আমব্রিজ এক রোল গোলাপি পার্চমেন্ট, হ্যাঁন্ডব্যাগ থেকে বার করে টেবিলে লম্বা করে খুললেন। কালির বোতলে পালকের কলমটা ডুবিয়ে এমনভাবে কিছু লিখতে লাগলেন যাতে হ্যারি সেই লেখা পড়তে না পারে। সকলেই চুপচাপ। প্রায় এক মিনিট পর সেই পার্চমেন্টটা গোল করে পাকিয়ে তাতে ম্যাজিক ওয়ান্ড ছোঁয়ালেন। রোলটার মুখ আপনা আপনি সিল হয়ে গেলো। হ্যারির হাতে দিয়ে বললেন, এটা প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে দিয়ে দেবে।

    হ্যারি পাকানো সিল করা পার্চমেন্টটা হাতে করে ক্লাস রুমের বাইরে গিয়ে সশব্দে দরজাটা বন্ধ করে দিল। হারমিওন বা রন কারও দিকে ফিরেও তাকাল না। ম্যাকগোনাগলকে দেবার কাগজটা শক্ত করে হাতে চেপে জাদুবিদ্যালয়ের পালিত হল্লাবাজ ভূত পিভসের সামনে দাঁড়াল। পিভস হাওয়াতে ভাসতে ভাসতে তখন এক গাদা কালির দোয়াত দিয়ে জাগলিং করছিল। পিভস বললো, পডি উই পটার ওটা কী? ওর হাত থেকে দোয়াত পড়ে গিয়ে দেয়ালে কালি মাখামাখি হয়ে গেল। হ্যারি লাফিয়ে পিছু হটে গেল।

    –এখান থেকে কেটে পড় পিভস।

    –তাই নাকি? খিট খিটে লোকটা বেজায় খিট খিট করছে, পিভস বললো। হ্যারিকে দেয়ালের দিকে টেনে এনে ওর বুকে চেপে বসে বললো–এখন কটা বেজেছে আমার প্রিয় বন্ধু পট্টি? কারও কথা শুনতে পাচ্ছ? দেখতে পাচ্ছ কথা বলতে? পিভস ওর বিরাট জিবটা ল্যাক ল্যাক করে বিরাট একটা র‍্যাস্পবেরী বার করে বললো।

    হ্যারি বললো, আমাকে একা থাকতে দাও বলছি। তারপর পিভসকে ধাক্কা দিয়ে সিঁড়ির দিকে ছুটল। পিভস সিঁড়ির রেলিং-এর ধারে বসে বলে উঠল

    সবাই ভাবে আমি পাজি, আমি চেঁচিয়ে বেড়াই।

    আমি তো ভাই ভাল মানুষ, দুঃখী আমি তাই তবে পিভসি জানে, সে বলে পাগল সে ভাই

    চুপ কর।

    বাদিকের দরজাটা খুলে প্রফেসর ম্যাকগোনাগল অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে এলেন। মুখ গম্ভীর, একটু চিন্তাগ্রস্থ।

    –পটার, তুমি এখানে দাঁড়িয়ে? ক্লাসে যাওনি কেন?

    –আপনার সঙ্গে দেখা করতে বলা হয়েছে। প্রফেসর আমব্রিজের দেয়া সিল করা চিঠিটা ও প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের হাতে দিল।

    ম্যাকগোনাগল ওর হাতের ম্যাজিক ওয়ান্ড দিয়ে মুখটা খুলে আমব্রিজের পাঠান চিঠিটা ভুরু কুঁচকে পড়তে লাগলেন। হ্যারি দেখল প্রফেসরের বড় বড় চোখ দুটো চশমার কাঁচের আড়ালে ঘোরাফেরা করছে। প্রতিটি লাইন পড়ার পর চোখ দুটো ছোট হয়ে আসছে।

    –ভেতরে এস পটার।

    –পটার, ম্যাকগোনাগলের পিছু পিছু ঘরে ঢুকতেই দরজাটা আপনা আপনি বন্ধ হয়ে গেল।

    –প্রফেসর আমব্রিজ যা লিখেছেন তা সত্য?

    –কী সত্য? হ্যারি জিজ্ঞেস করল।

    –তুমি প্রফেসর আমব্রিজের মুখের ওপর চিৎকার করে কথা বলেছ?

    –হ্যাঁ, হ্যারি বললো।

    –তুমি ওকে মিথ্যাবাদী বলেছ ইউ-নো-হু যার নাম বলা যায় না সে ফিরে এসেছে?

    –হ্যাঁ।

    হ্যারির কথা শোনার পর প্রফেসর ম্যাকগোনাগল তার চেয়ারে বসে অনেকটা সময় হ্যারির মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, পটার, একটা বিস্কুট খাও।

    –কি খাব?

    –একটা বিস্কুট। টেবিলের ওপর একগাদা কাগজের ওপর রাখা এক প্যাকেট

    বিস্কুট দেখিয়ে ম্যাকগোনাগল বললেন। বস।

    এর আগে কোনও এক ঘটনায় প্রফেসর ম্যাকগোনাগল ওকে বেত মারার বদলে ওকে গ্রিফিন্ডর কিডিচ টিমে সামিল করেছিলেন। হ্যারি সামনে রাখা চেয়ারে বসে হাত বাড়িয়ে প্যাকেট থেকে একটা জিঞ্জার নেট বিস্কুট নিল। ও অস্বস্তি বোধ করতে লাগল।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল কঠিন দৃষ্টিতে হ্যারির মুখের দিকে তাকালেন। –পটার তোমার সাবধানে কথা বলা দরকার ছিল।

    –হ্যারি মুখ ভর্তি বিস্কুট নিয়ে ম্যাকগোনাগলের দিকে তাকাল। ম্যাকগোনাগলের গলার স্বরটা যেন একটু অন্যরকম। কর্কশ, দৃঢ় বা কঠোর নয়। স্নেহার্ত।

    –তুমি তো জান আমব্রিজের ক্লাসে অশোভন ব্যবহার, কথাবার্তা বললে তোমার নম্বর কাটা ছাড়া আরও কড়া শাস্তি পেতে হবে, যেমন ক্লাস শেষ হবার পর ডিটেনসন (আটক থাকা)।

    –তাহলে কি করতে চান?

    –পটার বুদ্ধিমান, চালাক ছেলের মত কথা বল। তুমি জান কোথা থেকে তিনি এসেছেন আর কাকে রিপোর্ট করতে পারেন।

    ঘরের ভেতর থেকে হ্যারি ক্লাস শেষ হবার ঘণ্টা শুনতে পেল। সারা করিডর ছাত্রছাত্রীদের কলরবে ভরে উঠল। দম দম, খট খট পদ শব্দ।

    এই চিঠিতে আমব্রিজ লিখেছেন স্কুলের ছুটির পর তোমাকে সাত দিন ঘরে আটক থাকতে হবে শাস্তি শুরু হবে আগামীকাল থেকে। প্রফেসর কথাটা বলে আমব্রিজের নোটের দিকে মাথা নিচু করে আবার পড়তে লাগলেন।

    –প্রতিদিন সন্ধ্যায় ক্লাস শেষ হবার পর? হ্যারি একটু আতঙ্কিত হয়ে বললো, কিন্তু প্রফেসর আপনি কি পারেন না?

    –না, আমি পারি না, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল মুখ তুলে বললেন।

    –কিন্তু…।

    –তিনি তোমার শিক্ষক। তোমার অপরাধের জন্য শাস্তি দেয়া তার এখতিয়ারভুক্ত। কাল থেকে পাঁচটার পর তুমি তার ঘরে যাবে; আর ডোলরেস আমব্রিজের সঙ্গে ভবিষ্যতে সতর্ক হয়ে কথা বলবে।

    –কিন্তু আমি তো সত্যি কথা বলেছি। আমি বলেছি, ভোল্ডেমর্ট ফিরে এসেছে। আপনি শুধু নয় প্রফেসর ডাম্বলডোরও সেকথা জানেন।

    –ঈশ্বরের দোহাই পটার! প্রফেসর ম্যাকগোনাগল চোখের চশমা ঠিক করতে করতে বললেন। ভোল্ডেমর্টের নাম শোনার সঙ্গে সঙ্গে তিনি ভীষণভাবে সঙ্কুচিত হলে এটা সত্য কি মিথ্যা তুমি কেমন করে জানবে? শোন, তোমায় যা পরামর্শ দিলাম, মাথা ঠাণ্ডা করে তাই করবে।

    কথাটা বলে ম্যাকগোনাগল চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালেন। সাথে সাথে হ্যারি পটারও দাঁড়ালো

    বিস্কুটের টিনটা পটারের দিকে এগিয়ে দিয়ে ম্যাকগোনাগল বললেন, নাও বিস্কুট খাও। অযথা নিজেকে উপহাসের পাত্র করবে না।

    –হ্যারি মুখ গোজ করে একটা বিস্কুট নিল।

    –পটার তুমি টার্ম শুরু হবার ভোজের দিন আমব্রিজের বক্তৃতা শোননি?

    –শুনেছি, হ্যাঁ শুনেছি। প্রফেসর আমব্রিজ বলেছিলেন, প্রোগ্রেস অসিদ্ধ করা হবে, তার মানে মন্ত্রণালয় হোগার্টস স্কুলের কাজকর্মে বাধা দেবার চেষ্টা করছে।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল পটারের কথা শুনে ওর দিকে তীক্ষ্ম দৃষ্টিতে এক সেকেন্ড তাকালেন–আমি জানি তুমি হারমিওন গ্রেঞ্জারের কথাবার্তা শুনে বলছ। এবার তুমি যেতে পার।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }