Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প963 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৩. ডিটেনসন উইথ ডলোরেস

    ১৩. ডিটেনসন উইথ ডলোরেস

    গ্রীষ্মের ছুটির পর গ্রেট হলের ডিনার হ্যারির কাছে মোটেই আনন্দদায়ক হয়নি। গরন ও হারমিওনের পাশে বসে খাবার সময় চতুর্দিক থেকে ফিস ফিস গুঞ্জন শুনতে পেল হ্যারি। সবচেয়ে মজার কথা, যারা ফিসফিস করছে তাদের মোটেই খেয়াল নেই যার সম্বন্ধে ওরা বলছে তার কানে সব যাচ্ছে। ওদের মতলব, হ্যারি খুব রেগে গিয়ে চেঁচামেচি করবে। তাহলে ওর মুখ থেকে আসল কথা শুনতে পাবে। যাকে বলে গোড়ার খবর।

    –ও বলেছে সেড্রিক ডিগরিকে ও খুন হতে দেখেছে।

    –ওর ধারণা, ও নাকি ইউ-নো-হুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব যুদ্ধ করেছে। –ছাড় তো। –কাদের ও বুদ্ধু বানাচ্ছে?

    –যতো সব বাজে কথা।

    হ্যারি ওর হাতের কাঁটা চামচ প্লেটে রেখে বললো–(ওর রাগে হাত কাঁপছে, ঠিকমত ওগুলো ধরতে পারছে না) আমি ঠিক বুঝতে পারছি না তাহলে দু মাস আগে ডাম্বলডোর যখন ওদের এই কথা বলেছিলেন, তখন ওরা বিশ্বাস করেছিল কেন?

    হারমিওন গম্ভীর মুখে বললো, কথাটা হচ্ছে হ্যারি, আমি এখনও নিশ্চিত নই যে, ওরা তার কথা বিশ্বাস করেছিল কি না। চল এখান থেকে আমরা যাই।

    কথাটা বলে হারমিওনও ওর হাতের কাঁটা চামচ শব্দ করে প্লেটে রেখেদিল। বেচারা রনের তখনও অ্যাপেল পাই খাওয়া শেষ হয়নি। বাধ্য হয়ে খাওয়া ছেড়ে ওদের সঙ্গে সঙ্গে হল ছেড়ে চলে গেল। সকলে ওদের দিকে তাকিয়ে রইলো। হ্যারি বললো, আশ্চর্য! তুমি কী বলতে চাইছ? ওরা তাহলে ডাম্বলডোরের কথা বিশ্বাস করেনি? ওরা তখন দোতলায় পৌঁছে গেছে।

    হারমিওন শান্তস্বরে বললো–ওই ঘটনার পর কি হয়েছিল তুমি ঠিকমত বুঝতে পারনি। তুমি সেড্রিকের মৃতদেহ নিয়ে লনের মাঝে বসেছিলে।

    –আমরা কেউ তো ব্যাপারটা চাক্ষুষ দেখিনি। আমরা শুধু হতবুদ্ধি হয়ে ডাম্বলডোরের কথা শুনছিলাম যে ইউ-নো-হু ফিরে এসেছে, সেড্রিককে খুন করেছে, আর তোমার সঙ্গে লড়াই করেছে।

    হ্যারি জোরে জোরে বললো, তাহলে সত্যি কথা কী?

    হারমিওন বিরক্তি মাখা সুরে বললো, হ্যারি তুমি থামবে? তোমার কথা শুনতে শুনতে আমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে। কোনটে সত্যি, কোনটে মিথ্যে প্রমাণিত হবার আগেই স্কুলের ছুটি হয়ে গেল। সকলে যে যার বাড়ি চলে গেল। দুদুটো মাস সেখানে পড়াশুনা করে কাটাল। আর কাগজে লিখলো তুমি একটা আধাপাগল আর ডাম্বলডোর এর বুদ্ধিভ্রংশ হয়েছে!

    গ্রিফিল্ডর টাওয়ারে শূন্য করিডোর দিয়ে ওরা হাঁটতে লাগলো। যাবার সময় ঝমঝম বৃষ্টি শুরু হয়ে গেল। বড় বড় বৃষ্টির ফোঁটা করিডোরের জানালার কাঁচে লেগে ফটফট শব্দ করতে লাগল।

    প্রথমদিকে আটক থেকে হ্যারির মনে হয়েছিল একদিন যেন সাতদিন। ওর অনেক হোমওয়ার্ক আছে। শুতে যাবার আগে সেগুলো শেষ করতে হবে। ভাবতে ভাবতে ওর ডানদিকের চোখ ব্যথা করতে থাকে। ও বৃষ্টি ধৌত জানালার কাঁচের দিকে তাকাল। বাইরে অন্ধকার কিছু দেখা যায় না। ওরা ফ্যাট লেডীর করিডোরে এসে পৌঁছল। জানালা দিয়ে হ্যাগ্রিডের ঘরে বাতি দেখতে পেল না।

    ফ্যাট লেডি কিছু প্রশ্ন করার আগেই হারমিওন পাস ওয়ার্ড বললো মিমবুলাস মিমব্লেটোনিয়া। ফ্যাট লেডির পোর্ট্রেট সরে যেতেই ওরা গর্তের ভেতর দিয়ে ঢুকে পড়ল।

    কমনরুম বলতে গেলে ফাঁকা, অনেকেই তখন ডিনার শেষ করেনি। কুকশ্যাংক একটা হাতলওয়ালা চেয়ারে কুন্ডলি পাকিয়ে শুয়েছিল, ওদের দেখে লাফাতে লাফাতে এগিয়ে এল। হ্যারি, রন আর হারমিওন ফায়ার প্লেসের কাছে ওদের প্রিয় চেয়ার টেনে নিয়ে বসল। কশ্যাংক এক লাফে হারমিওনের কোলে উঠে পড়ল। হ্যারি ফায়ার প্লেসের কাঠের আগুনের দিকে তাকিয়ে রইল ক্লান্ত বিমর্ষভাবে।

    বসে থাকতে থাকতে হারমিওন হঠাৎ ভীষণ জোরে বলে উঠল, ডাম্বলডোর কেন এরকম করলেন?

    হারমিওনের কথা শুনে রন, হ্যারি আশ্চর্য হয়ে গেলো। কশ্যাংক ওর কোল থেকে লাফিয়ে উঠল। ও এত জোরে চেয়ারের হাতলে চাপড় মেরেছে যে চেয়ারের ফোল্ডিং-এর ভেতরে যা ভরা ছিল টুকরো টুকরো হয়ে বাইরে বেরিয়ে এলো। ওই পাজি মহিলাকে আমাদের ক্লাস নিতে বললেন? আমাদের OWL ইয়ারে? আশ্চর্য!

    হ্যারি বললো, ডার্ক আর্ট টিচারের বিরুদ্ধে আমাদের প্রতিরোধ এর জন্যে কোন শক্তি আছে কী? তোমরা জান ওটা কেমন? হ্যাগ্রিড আমাদের বলেছে, কেউ ওই ক্লাসটা নিতে চায় না। আমাদের দুর্ভাগ্য!

    –ঠিক, কিন্তু এমন এক টিচারকে সেই সাবজেক্টটা নিতে বললেন যে আমাদের ম্যাজিক করতে দিতে চায় না। ডাম্বলডোর সত্যি কি চান বলো তো?

    রন বললো, মিসেস আমব্রিজ খবরাখবর সগ্রহের জন্য দুএকজন গুপ্তচর নিযুক্ত করেছেন। মনে রেখো আমাদের মুখ থেকে তিনি জানতে চান ইউ-নো-হু ফিরে এসেছে কি না।

    –অবশ্যই তিনি আমাদের বিরুদ্ধে গুপ্তচর লাগিয়েছেন, কিন্তু তা না হলে ফাজ ওকে এখানে আসতে বলেছেন কেন? হারমিওন বললো।

    হ্যারি বললো, এখন আর তর্ক করার সময় নয়। রনকে দেখে মনে হল কিছু বলতে চাইছে। হ্যারি বললো, যাক ওসব কথা, আমার এখন অনেক হোমওয়ার্ক করার আছে।

    ওরা ঘরের এক কোণে রাখা স্কুল ব্যাগ নিয়ে এসে আবার ফায়ার প্লেসের কাছে বসল। ডিনার শেষ করে তখন অনেকেই কমন রুমে ফিরছে। হ্যারি ঘরে ঢোকার গর্তের দিকে না তাকালেও ওর মনে হল অনেকেইে যেন ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

    হ্যারি কালিতে পালকের কলম ডুবিয়ে বললো, কি বল, সেইপের কাজ প্রথমে করা যাক? মুন স্টোনের উপাদান ও তার ব্যবহার। কথাগুলো বলতে বলতে ও পার্চমেন্টে লিখতে শুরু করল। লেখা হলে তার তলায় দাগ টানল। তারপর হারমিওনের মুখ থেকে কিছু শোনার প্রতিক্ষায় ওর দিকে তাকাল।

    –তো, বল মুন স্টোনের কি কি উপাদান আছে আর পোসান বানানোর জন্য সেগুলো কি কাজে লাগে?

    কিন্তু হারমিওন শুনছে না। ও অনেক দূরে বসে ফ্রেড, জর্জ আর লীজর্ডন কি বলছে সেইদিকে তাকিয়ে আছে। লীজোৰ্ডন প্রথম বর্ষের ছাত্র। খুব নিরীহ। ওরা সকলে বড় একটা পেপার ব্যাগ থেকে কিছু নিয়ে চিবুচ্ছে। পেপার ব্যাগটা ফ্রেডর হাতে।

    হারমিওন বেশ রেগে রেগে বললো, ওরা যা ইচ্ছে তাই করছে। তারপর রনের দিকে তাকিয়ে বললো, এদিকে এস রন। রন বললো, হারমিওন তুমি এদিকে এস।

    ওরা মিষ্টি খাওয়াচ্ছে।

    -তুমি কিন্তু ভাল করেই জান ওগুলো টফি নয়। ওগুলো হচ্ছে নোজব্লিডলাগেট অথবা পাকিং প্যাস্টিলস্।

    হ্যারি খুব আস্তে বললো, ফেন্টিং ফেনসিস? প্রথম বর্ষের ছেলেরা ফ্রেডের দেয়া মিষ্টি খেয়ে চুপ করে বসে থাকতে পারছে। কেউ মেঝেতে বসে পড়েছে, কেউ শুয়ে পড়েছে। ফ্রেড আর জর্জ ওদের দিকে তাকিয়ে, এধার-ওধার ঘুরতে ঘুরতে হ্যারিকে বললো, সব ঠিক আছে।

    হারমিওন, ফ্রেড আর জর্জের মুখের দিকে রেগে গিয়ে তাকালো। ওরাও একটু আশ্চর্য হয়ে তাকাল।

    জর্জ বললো, তোমার কথাই ঠিক ডোজ একটু বেশি হয়ে গেছে, তাই না?

    তোমাদের আজ সকালেই বলেছি না ওইসব ছাই পাশ ফাস্ট ইয়ারের ছেলেদের খাইয়ে এক্সপেরিমেন্ট করবে না, হারমিওন বললো।

    ওদের তো যা দেবার তা দিচ্ছি, ফ্রেড আত্মপক্ষ সমর্থন করে বললো। দাও বা না দাও পরের কথা। কিন্তু যা করছ তা খুবই মারাত্মক মনে রেখ। ফ্রেড বললো, যত্তোসব বাজে কথা।

    লী বললো, রাগ করো না হারমিওন ওরা সবাই ঠিক আছে।

    কথাটা বলে ফাস্ট ইয়ারের প্রত্যেকের কাছে গিয়ে এক একটা পার্পল সুইটস ওদের মুখে গুঁজে দিতে লাগল।

    জর্জ বললো, এবার ওরা ঠিক হয়ে আসছে হারমিওন।

    ছেলেগুলো একটু একটু করে জ্ঞান ফিরে পাচ্ছে। ওরা দেখল কেউ মেঝেতে বসে রয়েছে, কেউ বা চেয়ারে পিছনে ঢলে পড়ে দুপা ছড়িয়ে মুখ নামিয়ে নিজেদের অবস্থা দেখছে।

    –কেমন আছ? জর্জ কাল চুলওয়ালা একটি ছোট মেয়ের পায়ের কাছে বসে বললো।

    –হা হা ভালই তো আছি, মেয়েটি কম্পিত গলায় বললো।

    –বা! চমৎকার! ফ্রেড দারুণ খুশি হয়ে বললো।

    ঠিক সেই সময় হারমিওন একরকম দৌড়ে এসে ওদের হাত থেকে পেপার ব্যাগে রাখা ফেন্টিং ফেনসিস আর ক্লিপবোর্ড ছিনিয়ে নিল।

    এটা কিন্তু ভাল কাজ করলে না। মোটেই চমৎকার নয়। ফ্রেড বললো, ওরা তো সবাই বেঁচে রয়েছে, অবশ্যই চমৎকার।

    তুমি কিন্তু এই কাজ ভবিষ্যতে আর করবে না। এখনও একজন তোমার ওষুধ খেয়ে আচ্ছন্ন হয়ে আছে। কাউকে তোমরা অসুস্থ করতে পার না!

    মোটেই না, একটুও করছি না। ওদের খাওয়াবার আগে নিজেরাও খেয়েছি। অসুস্থ হলে সকলেই হতাম। ওদেরই মতো আমাদেরও রি-অ্যাকশন হত।

    –তোমরা বন্ধ না করলে আমি বাধ্য হবো রিপোর্ট করতে।

    –আমাদের আটক করে রাখবার ব্যবস্থা করবে, এই তো? ফ্রেড বললো। জর্জ বোকার মতো হেসে বললো, আমাদের পরীক্ষার ফল লিখতে দাও।

    ওদের কথাবার্তায় ঘরের সকলে মজা পেয়ে খুব হাসছে। হারমিওন সোজা হয়ে দাঁড়াল। মাথার চুল ওর এলোমেলো, চোখ দুটো কুঞ্চিত।

    –বলছি তোমরা করবে না, আমার কথা না শুনলে তোমাদের মাকে সব লিখে জানাব, হারমিওন রাগে থর থর করে কাঁপতে কাঁপতে বললো।

    জর্জ, হারমিওনের কাছ থেকে সামান্য পিছু হটে বললো, না তুমি লিখবে না।

    হারমিওন বললো, অবশ্যই লিখব। নিজেরা ওগুলো খাবে না, ছোট ছোট ছেলেমেয়েদেরও খেতে বাধ্য করবে না বলে দিলাম।

    হারমিওন যে ফাঁকা আওয়াজ করছে না ফ্রেড, জর্জ ওর দিকে তাকিয়ে তা বুঝতে পারল। শেষবার সতর্ক করার দৃষ্টিতে ও বললো। ও ফ্রেডের ক্লিপ বোর্ড আর, ফেনসিসের ব্যাগটা ওদের হাতে ফেরৎ দিয়ে ফায়ার প্লেসের সামনে চেয়ারটা টেনে নিয়ে বসল।

    রন তখন চেয়ারে দুই হাঁটুর ফাঁকে মুখটা ঢুকিয়ে এমন গুটিসুটি মেরে বসে রয়েছে যে, ওর শুধু নাকটাই হাঁটুর ফাঁক থেকে দেখা যাচ্ছে।

    হারমিওন তিক্ত কণ্ঠে বললো, আমাকে সাহায্য করার জন্য তোমায় ধন্যবাদ রন। অনেক রাত হল, যাই শুয়ে পড়ি।

    যাবার আগে হারমিওন ওর ব্যাগটা খুলল। হ্যারি ভাবল হারমিওন হয়ত ওর বইগুলো বার করবে। কিন্তু ও দুটো ছোটবড় উলের জিনিসবার করল। সেগুলো ফায়ার প্লেসের কাছে একটা টেবিলে খুব সাবধানে রাখল। প্রায় ঘেঁড়া ছেঁড়া পার্চমেন্ট দিয়ে ওগুলো ঢেকে রেখে একটা ভাঙ্গা পাখির পালক তার ওপর রেখে তারিফের চোখে দেখতে লাগল।

    রন বললো, আরে ওগুলো নিয়ে কি করছ? এমনভাবে ও বললো যেন হারমিওনের কাজের পবিত্রতা নষ্ট না হয়।

    হাউজ এলফদের হ্যাট তৈরি করলাম। কথাটা বলে বইগুলো ব্যাগের মধ্যে পাচার করল। আমি খুব একটা তাড়াতাড়ি করতে পারি না। গরমের ছুটিতেও দুএকটা করেছি। আমি আবার তাড়াতাড়ি বুনতে পারি না। এখন স্কুলে এসেছি, টুপি তৈরি করার অনেক সময় পাব।

    বা! তুমি ওদের হ্যাট বানাচ্ছ ঠিক আছে; কিন্তু মুড়ে রাখছ ছেঁড়া কাগজ আর পাখির পালক দিয়ে, রন হারমিওনের বানান পশমের টুপি দেখতে দেখতে বললো।

    –হ্যা তাই, হারমিওন পিঠে ব্যাগ ঝোলাতে ঝোলাতে বললো।

    রন বললো, কাজটা ঠিক নয়। ওদের টুপি বানিয়ে দিয়ে হাতে রাখতে চাইছ। তুমি কিন্তু প্রকারান্তরে ওদের মুক্তি দিতে চাইছ, ওরা কিন্তু মুক্তি চাইছে না।

    –অবশ্যই তারা মুক্তি চায়, হারমিওন বললো–রন, তুমি কিন্তু টুপিগুলোতে হাত দেবে না বলেদিলাম।

    স্লেইপের হোমওয়ার্ক হারমিওনের সাহায্য ছাড়া করা অসম্ভব।

    রন জানে আগামী দিন ক্লাসে হোমওয়ার্ক শেষ না করার জন্য বকুনি খাবে, নিজেও দুঃখিত হবে। তবু ব্যাগের মধ্যে ওর বইগুলো রেখে দিয়ে বললো, আমিও ঘুমাতে চলোম।

    চলে যাবার সময় সিমাসকে দেখেও দেখল না। হ্যারির মনে হল সিমাস ওকে কিছু বলতে চাইছে, কিন্তু রন দিকবিদিক জ্ঞানশূন্য হয়ে ওর ডরমেটরিতে যাবার পাথরের ঘোরানো সিঁড়ি ধরে চলে গেল।

    ***

    পরের দিন ভোরে বৃষ্টি পড়েই চলেছে, থামবার নাম নেই। হ্যাগ্রিডকে সেদিনও সকালে ব্রেকফাস্ট টেবিলে দেখা গেল না।

    রন খুব খুশি স্নেইপকে না দেখে।

    হারমিওনের চোখে তখনও ঘুম। সামনে টেবিলে রাখা কফির পট থেকে এক কাপ কফি ঢেলে নিল। ওর মুখ দেখে রনের মনে হল হারমিওন খুব খুশিতে আছে। মুখেচোখে খুশির ছাপ।

    রন বললো, এত খুশি খুশি ভাব? হারমিওন বললো, ওরা টুপি পেয়ে খুব খুশি, ক্রীতদাস হয়ে আর থাকতে চায়।

    –ধ্যাৎ ওগুলো আবার টুপি না কি? আমার দেখে মনে হয়েছিল পশমের ব্লাডার।

    হারমিওন রাগের চোটে সারা সকাল ওর সঙ্গে কথা বলা বন্ধ করে দিল।

    প্রফেসর ফ্রিটউহক আর প্রফেসর ম্যাকগোনাগল তাদের লেসন দেবার সময় প্রথম পনের মিনিট oWIর প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বক্তৃতা দিলেন।

    ফ্রিটউইক বললেন, তোমাদের অবশ্যই মনে রাখা দরকার, তোমাদের বইগুলো রাখার সময় পার্চড করে রাখবে যাতে আমি আমার বই দেখতে পাই। এখন যে পরীক্ষাগুলো দেব স্কুলের সারা জীবনে তোমাদের মনে থাকবে। এখনও যারা তাদের পড়ার ভবিষ্যত ও উন্নতির জন্য যথেষ্ট মন দাওনি, এখন তাদের মন দেওয়ার সময় এসেছে। এখন থেকে মনে রাখবে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে যাতে সুবিচার পেতে পার।

    তারপর ওরা প্রায় এক ঘণ্টার বেশি জাদুবিদ্যা সম্বন্ধীয় পড়ার সংশোধন করতে লাগল।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন, তোমরা OWL-এ পাশ করতে পারবে না, রীতিমত অভ্যাস ও পড়াশুনা না করলে। আমি এমন কোনও কারণ খুঁজে পাচ্ছিনে যাতে তোমরা রূপান্তরিত (ট্রান্সফিগারেশন) করার সময় OWL পাবে না।

    নেভিল যেন কিছুই বিশ্বাস করছে না মুখ থেকে এমন শব্দ করল। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন, নেভিল তোমার সব ঠিক থাকলেও মনে হয় তোমার নিজের ওপর আস্থা নেই। সে যাক, আজ আমি তোমাদের ভ্যানিশিং স্পেলস (অদৃশ হওয়া) শেখাব। ভ্যানিশিং স্পেলস অবশ্য কনজিউরিং স্পেলস এর চেয়ে অনেক শক্ত। NEWT স্তরে না যাওয়া পর্যন্ত তোমরা সেটা করতে পারবে না। খুব শক্ত ম্যাজিক, OWLর সময় তোমাদের পরীক্ষা করা হবে।

    রন ও হ্যারি অনেকটা চেষ্টা করেও অদৃশ্য করা আয়ত্ত করতে পারল না। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল ঠিক কথাই বলেছেন। একটা শামুকও বহুবার অদৃশ্য করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হল। হারমিওন ওদিকে অতি সহজেই শামুক অদৃশ্য করে ফেলল। অবশ্য একবারের চেষ্টায় নয়, তিনবার চেষ্টার ফলে। প্রফেসর গ্রিফিন্ডর হাউজকে দশ পয়েন্ট দিলেন। একমাত্র হারমিওনকে কোন হোমওয়ার্ক দেয়া হল না। ক্লাস শেষ হবার পর ম্যাকগোনাগল সকলকে বললেন সারারাত প্র্যাকটিস করতে, যাতে পরের দিন ক্লাসে এসে শামুক অদৃশ্য করতে সফল হয়।

    এত বেশি হোমওয়ার্ক যে রন আর হ্যারি কাজ করতে করতে মাথা তুলতে পারে না। বাধ্য হয়ে লাইব্রেরিতে বসে লাঞ্চ শেষ করল। তার ওপর সবচেয়ে শক্ত কাজ মুনস্টোন ব্যবহার করে পোসান বানান। রনের টুপি তৈরি করার মন্তব্যে হারমিওন খুবই রেগেছিল, তাই ওদের পোসান-এ সাহায্য করতে এগিয়ে এলো না। বিকেলে কেয়ার অফ ম্যাজিকেল ক্রিচার-এ যাবার সময় হ্যারির আবার মাথার যন্ত্রণা শুরু হল।

    সেদিন ছিল সুন্দর দিন। ঠাণ্ডা মৃদু মন্দ বাতাস বইছে। রন আর হ্যারি নিষিদ্ধ অরণ্য-এর শেষে হ্যাগ্রিডের ছোট কেবিনের দিকে চলল। মাঝে মাঝে বৃষ্টির ফোঁটা ওদের মুখে পড়ছে।

    প্রফেসর গ্রাবলি প্ল্যাংক হ্যাগ্রিডের বাড়ি থেকে মাত্র ১০ গজ দূরে ছাত্রদের জন্য অপেক্ষা করছিলেন। হারমিওন, হ্যারি, রন দেখল সেখানে এসে ভিড় করেছে ম্যালফয়, ক্র্যাবে, গোয়েল, প্যানসি পারকিনসন। ওরা ওদের স্বভাবমত রন হ্যারিদের দেখে ঠাট্টা-তামাশা করতে লাগল।

    প্রফেসর প্ল্যাংক ওদের দেখে বললেন, তাহলে তোমরা সবাই এসে গেছ দেখছি। স্নিদারিন, গ্রিফিক্তর গ্রুপের আশা করি সকলেই।

    প্রফেসর টেবিলের ওপর এক গাদা জমা করা ডালপালা দেখিয়ে বললেন, এগুলো কি বলতো? হারমিওন হাত তুলল। ওর পেছনে দাঁড়িয়ে ছিল ম্যালফয়। যেন কত জানে এমনিভাবে জবাব দেবার জন্য সেও লাফিয়ে উঠল। প্যানসি পারকিনসন হি হি করে হেসে উঠল। হাসতে হাসতে হঠাৎ তীব্র আর্তনাদ করে উঠল। টেবিলে রাখা ছোট ছোট শুকনো শেকরবাকর ও গাছপালাগুলো একটু একটু করে অদ্ভুত ছোট এক মানবী আকারের হয়ে গেল। কাঠের তৈরি ওর ধূসর রং-এর হাত-পাগুলো ল্যাকপ্যাক করছে। দুটো হাতে গোটান গোটান শেকড়ের মত দুটো দুটো চারটে আঙ্গুল, গাছের ছালের মতো অদ্ভুত তার মুখ। মুখের মধ্যে দুটো জ্বলজ্বলে গুবরে পোকার মত চোখ।

    ও মাগো! পার্বতী আর ল্যাভেন্ডার ভয়ে আঁতকে উঠলো। হ্যারির একটুও ভাল লাগে না ওদের ওইরকম ভাবে আঁতকে ওঠ দেখে। ওরা জানে ওই অদ্ভুত রকমের জন্তু সদৃশ মানুষ হ্যগ্রিড কখনোই দেখেননি। আশপাশে ঘুরে বেড়ান। পোকামাকড়গুলো দেখতে যেমন কুৎসিত, তেমনি ভয়ঙ্কর। সালামেন্ডার্স আর হিপোগ্রিফস অবশ্য আকর্ষণপূর্ণ তাতে কোন সন্দেহ নেই।

    প্রফেসর গ্রাবলি বললেন, মেয়েরা তোমরা একটু আস্তে কথা বল! এক মুঠো বাদামি রং-এর শষ্য, অনেকটা চালের মত সেই অদ্ভুত প্রানিটার সামনে ছড়িয়ে দিতে ও কুটুস কুটুস করে খেতে লাগল।

    –তোমরা কেউ এই প্রানিটার নাম বলতে পারবে? মিস গ্রেঞ্জার তুমি?

    হারমিওন বললো, বাউট্রাকল। ওরা গাছেতে, বিশেষ করে সরু লম্বা গাছেতে থাকে।

    প্রফেসর প্ল্যাংক বললেন, ঠিক বলেছ, পাঁচ পয়েন্ট গ্রিফিন্ডর পেল। তোমরা কেউ বলতে পারবে ওরা কী খায়?

    হারমিওন সঙ্গে সঙ্গে বললো, গাছের উকুন।

    হ্যারি ভাবছিল বলবে বাদামি চাল, আর ডিম, অবশ্য যদি পায়।

    খুব চালাক ভাল মেয়ে তো তুমি! তোমার হাউজ আরও পাঁচ পয়েন্ট পেল। তাহলে যখন তোমরা গাছ থেকে ডাল অথবা পাতা নেবে তখন অতি অবশ্য ওদের খাবার জন্য উড লাইস সঙ্গে নেবে। নাও আমার কাছে অনেক উডলাইস আছে, ওকে খেতে দাও। ও হ্যাঁ, তোমরা ওর একটা ছবি আঁক, দেহের সব অঙ্গ নিখুঁত করে। ক্লাশ শেষ হলে আঁকা ছবির তলায় লেবেলে তোমাদের নাম লিখে আমাকে দেবে।

    ক্লাশের ছেলেমেয়েরা যখন বাউট্রাকলের ছবি আঁকায় ব্যস্ত তখন হ্যারি পটার প্রফেসর প্ল্যাংকের পেছনে দাঁড়িয়ে বললো, হ্যাগ্রিড কোথায় আছেন বলতে পারেন?

    প্রফেসর প্ল্যাংকের হ্যাগ্রিডের সাথে সদ্ভাব নেই সকলেই জানে। তোমার জানার দরকার নেই।

    ড্রেকো ম্যালফয় তখন বড় দেখে একটা বাউন্ট্রাকল বাছতে ব্যস্ত। হ্যারির কথাটা কানে গেলে ওর দিকে ফিরে বললো, বোকা মানুষটা বেশ বড় আঘাত পেয়ে শয্যাশায়ী হয়ে আছে।

    হ্যারি বললো, চুপ কর। বাজে কথা বললে তোমার অবস্থা ওইরকম করে দেবে।

    ম্যালফয় হ্যারির সামনে এসে কাঁধে ঝাঁকুনি দিয়ে চলে গেল। হ্যারি হঠাৎ নিজেকে ভীষণ দুর্বল মনে করে। ম্যালফয়, প্রফেসর হ্যাগ্রিড সম্বন্ধে কিছু জানে বলে হ্যারির মনে হল। ওর বাবা একজন রক্তচোষা (ডেথইটার)। ও হ্যাগ্রিড সম্বন্ধে অবশ্যই কিছু জানে, ওর কি হয়েছে অর্ডারের কানে হয়তো পৌঁছায়নি।

    হ্যারি দৌড়ে রন, হারমিওনের কাছে গেল। ওরা তখন ঘাসের ওপর বসে বড় দেখে একটা বাউট্রাকল ধরতে ব্যস্ত।

    হ্যারি একটা পার্চমেন্ট আর পাখির পালক নিয়ে হাঁটু গেড়ে ওদের পাশে বসল। ম্যালফয় ওকে কি বলেছে ওদের কানের কাছে তা ফিস ফিস করে বললো।

    হারমিওন বললো, হ্যাগ্রিডের কিছু ক্ষতি হলে সবার আগে খবরটা ডাম্বলডোরের কাছে পৌঁছবে। অযথা ম্যালয়ের ফালতু কথা শুনে ঘুমের ব্যাঘাত করবে না। আসল ব্যাপারটা আমরা কেউ জানি না। ম্যালফয়ের কথা বাদ দাও। ও তোমাকে ল্যাজে খেলাচ্ছে। যাকগে, বাদ দাও ওর কথা, তুমি এখন এই বাউট্রাকলটাকে ধর দেখি, আমি ওর মুখটা এঁকে ফেলি।

    ওরা ম্যালফয়েল কথা শুনতে পেল। ম্যালফয় বলছে, বাবা কিছুদিন আগে মিনিষ্টারের সঙ্গে কথা বলছিলেন, শুনে মনে হল মিনিস্ট্রি শিক্ষকদের হোগার্টসে রাখতে চায় না। মনে হয় ওই দৈত্য আকারের মোটা লোকটাকে অন্য কোথায় পার্সেল করে পাঠানো হয়েছে।

    হ্যারি একটু অন্যমনস্ক হয়ে বড় বাউট্রাকলকে ধরাতে গেলে ও তার দুটো ধারালো নখ দিয়ে ওর হাতে ভীষণ জোরে আঁচড়ে দিয়েছে। অনেকটা কেটে গেছে হাতটা। হ্যারি উ! শব্দ করে ওটাকে ছেড়ে দিল।

    ক্র্যাবি আর গোয়েল হ্যাগ্রিডের অবস্থা শুনে হেসে ফেটে পড়ছিল, হ্যারির রক্তাক্ত হাত দেখে ওরা আরও হেসে উঠল।

    হ্যারি রক্তমাখা হাতে বাট্রাকলের আঁকা ছবি নিয়ে হাররোলজির দিকে চলল। রক্ত বন্ধের জন্য হারমিওন ওর রুমাল দিয়ে ক্ষতটা বেঁধে দিয়েছে। যেতে যেতে ও আবার শুনতে পেল ম্যালয়ের বিদ্রুপের হাসি। সেই হাসি ওর কানে ঝন ঝন করতে থাকে।

    হ্যারি দাঁত কড়মড় করে বললো, আরেকবার যদি ম্যালফয় হ্যাগ্রিডকে বোকা বুদু বলেছে, তাহলে…।

    –হ্যারি তুমি ম্যালফয়েল সঙ্গে ঝগড়া করতে যেও না। মনে রেখ ও এখন তোমাদের ক্লাসের একজন প্রিফেক্ট, তোমাকে নানারকমভাবে হেনস্তা করতে পারে।

    হ্যারি বললো, কি করবে শুনি? পেছনে লাগবে? নানাভাবে হেনস্তা মানে অপদস্ত করবে?

    রন হাসল। হারমিওন ভুরু কোঁচকাল। ওরা তিনজনে সজি ক্ষেতের পাশ দিয়ে ক্যাসেলের দিকে চলল। আকাশ তখন গভীর মেঘে ঢাকা। বৃষ্টি হবে কি হবে না আকাশ জানে, মেঘ জানে। ওদের মনে তখন হ্যাগ্রিডের চিন্তা।

    হ্যারি খুব আস্তে আস্তে বললো, ঈশ্বর হ্যাগ্রিড যেন তাড়াতাড়ি সেরে ওঠেন। আমাদের কাছে তাড়াতাড়ি ফিরে আসেন।

    ওরা হাঁটতে হাঁটতে গ্রীন হাউজের কাছে পৌঁছে গেছে।

    –খবরদার বলবে না। ম্যাডাম প্রফেসর গ্রাবলি ফ্ল্যাঙ্ক ভাল শিক্ষক। হারমিওন বললো, আমার আগ বাড়িয়ে বলবার তো দরকার নেই। হ্যারি বললো, হ্যাগ্রিডের ধারেকাছে পৌঁছানোর ক্ষমতা ওর নেই।

    কাছাকাছি একটা গ্রীন হাউসের দরজা খুলে কয়েকজন ফোর্থইয়ারের ছাত্রছাত্রী বেরিয়ে এল, তার মধ্যে জিনিকেও দেখতে পেল।

    যাবার সময় ও বললো, হাই। দুএক সেকেন্ড পরে লুনার দেখা পাওয়া গেল। তার পেছনে বাকি সব ছাত্রছাত্রী। হ্যারিকে দেখতে পেয়ে লুনা খুশি হয়েছে তা ওর হাসিতে ভরা চোখমুখ দেখে বোঝা যায়। লুনা হ্যারিকে কোনও সম্ভাষণ না করেই বললো, আমি বিশ্বাস করি যার নাম মুখে আনতে নেই, (ইউ-নো-হু) সে ফিরে এসেছে। তুমি তার সাথে লড়াই করে ফিরে এসেছ।

    হ্যারি বললো, তুমি ঠিক বলেছ। লুনার কানে কমলালেবু রং-এর দুটো হিয়ার রিং। পার্বতী আর ল্যাভেন্ডর অদূরে দাঁড়িয়ে লুনার কানের রিং দেখিয়ে হাসাহাসি করছে মনে হলো।

    তোমরা মনের সুখে হাসতে পার, লুনা বললো। ওর মনে হয়েছে ওরা ওর কানের হিয়াররিং নয়, ওর কথা শুনে হাসছে। সকলেই বিশ্বাস করে চলেছে ব্লিবেরিং হামডিঞ্জার বা ক্রাম্পল হর্নড় স্ক্র্যাব বলে কিছুই নেই।

    লুনা ভাসা ভাসা দৃষ্টিতে ওদের দিকে কানের কমলা রং-এর বিরাট রিংগুলো দোলাতে দোলাতে চলে গেল। পার্বতী বা ল্যাভেন্ডর শুধু নয় বাকি সবাই হেসে উঠল, ওকে দেখে।

    হারমিওনের সঙ্গে ক্লাস রুমে যেতে যেতে হ্যারি বললো–শোনো, যে আমার কথা বিশ্বাস করে তুমি অবশ্যই তার মনে আঘাত দেবে না।

    হারমিওন বললো, মনে হয় ও প্রমাণ ছাড়া কোন কিছুই বিশ্বাস করে না। যার বাবা দ্যা কুইবলার চালায় তার কাছ থেকে অন্তত আমি কিছু আশা করি।

    হ্যারির মনে পড়ে গেল হোগার্টসে আসার দিন অদ্ভুত আকারের কালো কালো ডানাওয়ালা বাদুড়ের মত শীর্ণকায় ঘোড়ার কথা। লুনাও অবশ্য বলেছিল আমিও দেখেছি। ওর মন আরও খারাপ হয়ে গেল, ও কি তাহলে মিথ্যা বলেছিল? ওর ভাবনায় ছেদ পড়ল। এরনি ম্যাকমিলন ওর সামনে এসে দাঁড়াল।

    ও বললো, পটার তুমি মনে করবে না ভুতুড়ে অদ্ভুত লোকেরা তোমাকে সাপোর্ট করে। আমি ব্যক্তিগতভাবে হান্ড্রেড পার্সেন্ট বিশ্বাস করি। আমাদের পরিবারের সকলেই ডাম্বলডোরের পেছনে শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছেন ও থাকবেন।

    অশেষ ধন্যবাদ তোমাকে এরনি, হ্যারি বললো। হ্যারি ওর কথা বিশ্বাস করল। মনে হল অযথা ওকে গাছে তুলে দিচ্ছে না। এরনির কথা শুনে ল্যাভেন্ডর ব্রাউন্সের মুখের হাসি মিলিয়ে গেল। ও হ্যারির দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রন আর হারমিয়নের সঙ্গে কথা বলতে লাগল।

    প্রফেসর প্রাউট যখন OwLর প্রয়োজনীয়তা সম্বন্ধে বলতে শুরু করলেন, তখন কারও মনে কোনরকম দ্বিধা রইলো না তার লেসন সম্বন্ধে। হ্যারি একগাদা হোমওয়ার্কের ভাবনায় অস্থির তাই কারও লেসন ওর ভাল লাগে না। শুনলেই পেটের মধ্যে মোচড় দেয়। ক্লাস শেষ হবার একটু আগে প্রফেসর স্প্রাউট আবার নতুন একটা লেসন শুরু করলেন। ড্রাগনের বিষ্ঠা যে সার হিসেবে কতটা উপকারী সে সম্বন্ধে ঝাড়া দেড় ঘণ্টার বেশি লেকচার শোনার পর গ্রিফিন্ডরের ছাত্রছাত্রীরা তাদের ক্যাসেলে ফেরার জন্য ছাড়া পেল।

    হ্যারির শাস্তি স্বরূপ ক্লাস শেষ হবার পর প্রফেসর আমব্রিজের ঘরে এক ঘণ্টা আটক থাকার সময় ওর পেট ক্ষিধেতে জ্বলছিল। তাই ছাড়া পেতেই গ্রিফিন্ডর টাওয়ারে স্কুলের বইপত্র না রেখে সোজা ছুটল গ্রেট হলে ডিনার খাবার জন্য। ঠিক যখন ও গ্রেট হলের দরজার কাছে পৌচেছে কে যেন বেশ জোরে জোরে ডাকল, হাই পটার! অ্যাঞ্জেলিয়া জনসনকে দেখে ওর মন বিগড়ে গেল। বললো, আপনি এখানে? অ্যাঞ্জেলিয়ার মুখ দেখে মনে হয় অসম্ভব রেগে আছে। কেন দাঁড়িয়ে রয়েছি তোমাকে এখনই বলছি। অ্যাঞ্জেলিয়া গটগট করে হ্যারির সামনে দাঁড়িয়ে ওর বুকে একটা আঙ্গুলের খোঁচা দিয়ে বললেন, শুক্রবার পাঁচটার পর তুমি ট্রায়ালে না এসে আটক ছিলে কেন?

    হ্যারি তোতলাতে তোতলাতে ওর না আসার কারণ বলতে চেষ্টা করল। তোমাকে কি বলিনি কিডিচের পিচ বানাবার সময় সকলের সঙ্গে তুমি অবশ্যই থাকবে, মনে আছে? কার আদেশে তুমি অ্যাবসেন্ট ছিলে?

    হ্যারি বললো, আমার নিজের ইচ্ছেতে নয় ম্যাডাম। শাস্তি হিসেবে সেদিন ছুটির পর আমাকে আটক থাকতে হয়েছিল। ইউ-নো-হু সম্বন্ধে সত্যি কথা বলার জন্য প্রফেসর আমব্রিজ আমাকে সাতদিন ছুটির পর আটক থাকার শাস্তি দিয়েছেন।

    অ্যাঞ্জেলিয়া খুব রেগে গিয়ে বললেন, আমি ওসব জানি না। তুমি সোজা আমব্রিজের কাছে গিয়ে বলবে, শুক্রবার তুমি কয়েদ থাকতে পারবে না। কে ইউ নো-হুঁ এসব তাকে বলবে কি বলবে না অতশত আমি জানি না। আমি চাই তুমি শুক্রবার সকলের সঙ্গে মাঠে উপস্থিত থাকবে বুঝেছ?

    কথাটা বলে অ্যাঞ্জেলিয়া গটগট করে চলে গেলেন।

    রন–হারমিওন গ্রেট হলে ডিনার খেতে এসে হ্যারির গম্ভীর মুখের দিকে তাকাল। হ্যারি বললো, তোমরা জান না এই মাত্র কি হল। আমার মনে হয় পাভেলমের ইউনাইটেড এর সঙ্গে কথাবার্তা বলতে হবে। জানা দরকার অ্যাঞ্জেলিয়ার অনাবশ্যক কাজকর্মের জন্য অলিভার উডসের মৃত্যু হয়েছিল কি না।

    –যাক সে কথা, শুক্রবার তোমাকে প্রফেসর আমব্রিজ রেহাই দেবে কি দেবে সেটা বল? গ্রিফিন্ডরের টেবিলে বসতে বসতে রন বললো।

    হ্যারি ল্যাম্ব চপ কাটতে কাটতে বললো, একটুও চান্স নেই। দেখি চেষ্টা করে। আমি শুক্রবার ছাড়া পাবার বদলে একদিনে দু ঘণ্টা কয়েদ থাকতে রাজি আছি। জানি না রাজি হবেন কি না। কথাটা বলে গোটা দুই বেকড় আলু মুখে পুরে বললো, আশা করি আজ আমাকে বেশি সময় আটকে রাখবেন না। অনেক হোমওয়ার্ক পড়ে আছে, তিনটি প্রবন্ধ, ম্যাকগোনাগলের ভ্যানিশিং স্পেল সম্বন্ধে পরীক্ষা, ফ্লিট উইকের জাদুর প্রতিরোধ, ছবি আঁকা, ট্রিলনীর বোকা বোকা স্বপ্নের ব্যাখ্যা!

    রন দুঃখভরা মুখে ছাদের দিকে তাকিয়ে রইল। ওর মনে হচ্ছে মেঘে ঢাকা কাল আকাশ থেকে যেকোনও সময়ে বৃষ্টি হতে পারে।

    তার সঙ্গে আমাদের হোমওয়ার্কের কী সম্পর্ক? হারমিওন ভুরু উঁচু করে বললো।

    –না, কিছু না, ওর কান দুটো লাল হয়ে গেল।

    ঠিক পাঁচটা বাজবার পাঁচ মিনিট আগে হ্যারি প্রফেসর আমব্রিজের তিনতলার ঘরের সামনে দাঁড়িয়ে দরজায় ঠোকা দিল। আমব্রিজ ঘরের ভেতর থেকে মিষ্টি সুরে বললেন, আসতে পার। হ্যারি এধার-ওধার সাবধানতার সঙ্গে তাকিয়ে ঘরে ঢুকল।

    হ্যারি অনেকবার ওই ঘরে আটক থেকেছে। আমব্রিজ আসার আগে তিনজন প্রফেসর ঘরটাতে কাজ করে গেছেন। গিল্ডরয় লকহার্ট যখন ছিলেন তার ছবি দেয়ালে প্লাস্টার করে গাঁথা ছিল। লুপিনের আমলে ঘরের মধ্যে কাঁচের ট্যাঙ্কে থাকত একটা অদ্ভুত জন্তু! ইম্পার মুন্ডীর আমলে ঘরের মধ্যে থাকত নানারকম যন্ত্রপাতি কলকজা। সবই অন্যায় কাজ আর সত্য গোপনের শাস্তির জন্য ব্যবহার করতেন।

    এখন সেই ঘরটা সম্পূর্ণ অন্যরকম। ঘরের মেঝে কাপড়ে মোড়া, কারুকার্য করা পর্দা। টেবিলের ওপরও অন্যধারে তাজা অথবা শুকনো ফুল। যে যার নিজের অবস্থায় রয়েছে। ঘরের একটা দেয়ালে সাজানো রয়েছে কারুকার্য করা প্লেট। প্রত্যেকটায় আঁকা রয়েছে বহু রং-এর ফুটফুটে বেড়াল ছানা, তাদের গলায় বিভি ন্ন ধরনের ফাস। হ্যারির ওগুলো দেখে একটুও ভাল লাগে না। হ্যারির চমক ভাঙল আমব্রিজের গলার আওয়াজে।

    –শুভ সন্ধ্যা মি. পটার।

    হ্যারি আমব্রিজকে ভাল করে নজর দিতে পারেনি। দেবেই বা কেমন করে? তার গোলাপি পোশাক মিশে গেছে টেবিল ক্লথের গোলাপি রং-এর সঙ্গে

    –শুভ সন্ধ্যা প্রফেসর, হ্যারি সংযত কণ্ঠে বললো।

    বসো। আমব্রিজ আঙ্গুল দিয়ে একটা টেবিল দেখালেন। হ্যারি দেখল টেবিলটা ছোট, তাতে লোম লাগান কভার দেয়া। তার ওপর কয়েকটা পার্চমেন্ট, টেবিলের পিছনে একটা হাতলবিহীন ছোট চেয়ার।

    হ্যারি চেয়ারে বসার আগে বললো, কাজ করতে বসার আগে আপনি যদি অনুমতি দেন, তো একটা অনুরোধ করতে পারি?

    আমব্রিজের ফোলা ফোলা চোখ দুটি কুঞ্চিত হল। –হ্যা বল।

    –বলছিলাম, আমি গ্রিফিন্ডরের কিডিচ টিমে খেলি। আগামী শুক্রবার সন্ধ্যাতে খেলার মাঠে কীপারও ক্যাপ্টেন কে হবে তা ঠিক হবে। আমাকে সেদিন উপস্থিত থাকতে হবে। আপনি যদি দয়া করে সেদিনটা আমায় ছুটি দেন তো তার বদলে অন্য যেকোনও দিন।

    ও জানে বক্তব্যটা একটু লম্বা হয়ে গেছে। অন্য একটি দিনের কথা বলাটা ঠিক হয়নি। আমব্রিজের মনে যাই থাকুক না কেন সকলের সামনে মিষ্টি করে হাসতে পারেন। হ্যারির কথা শেষ হবার পর সেইরকম ভাবে হেসে বললেন, তাতে হয় না মিস্টার পটার, শাস্তি হচ্ছে শাস্তি। শাস্তি দেয়া হয়েছে তোমার কতগুলো আজেবাজে কথা ছড়ানোর জন্য। মিথ্যা বলার জন্য, অপরাধীর সুবিধার দিকে তাকিয়ে তো শাস্তি বদল করা যায় না। তোমাকে তো আগামীকাল পাঁচটার পর আসতেই হবে। পরের দিন শুক্রবারও। যেমন নির্ধারণ করা হয়েছে তেমনই হবে। তোমার যেটা করার ইচ্ছে সেটা করতে পারছে না তার জন্য মন খারাপ হবে, সেটাই তো শাস্তির মূল মন্ত্র। এটাই তো আমি তোমাকে শেখাতে চাই যাতে ভবিষ্যতে এমন না কর। যাকগে তোমার মুখ দেখে মনে হয় তুমি তোমার মনের রাগ সংযত করে আছ। এটাই আমি চাই। এস এখন আমরা কাজের কাজ করি মি. পটার। এক নম্বর, না তোমার কলম দিয়ে নয়। তোমাকে একটা স্পেশাল কাজ আমার জন্য করতে হবে, শুনতে পেয়েছ?

    আমব্রিজের কথা শুনে হ্যারির রাগে মুখ লাল হয়ে গেল, কান দুটো ঝা ঝা করতে লাগল।

    প্রফেসর আমব্রিজ ড্রয়ার থেকে বেশ বড় মত পাখির পালকের কলম বার করল। এটা দিয়ে যতটা ইচ্ছে তুমি লিখতে পার। কালি?

    ওই কলমটায় কালি দরকার হয় না। আমব্রিজ হাসতে হাসতে বললেন।

    হ্যারি সুচালো মুখের পাখির পালকের কলমটা কাগজের ওপর রেখে আমব্রিজের মুখের পানে তাকাল।

    –তুমি লেখ, আমি মিথ্যে কথা বলব না। হ্যারি কুইলে চাপ দিয়ে লিখল আমি মিথ্যে কথা বলব না।

    -সেই লেখাগুলো ওর ডান হাতের পেছনে ফুটে উঠেছে। কে যেন লেখাটা ছুরি দিয়ে কেটে কেটে ওর হাতের চেটোতে লিখেছে। সেই রক্তাক্ত লেখার দিকে তাকাতেই সেটা উবে গেল। শুধু থেকে গেল লাল লাল দাগ। কিন্তু মসৃণ।

    হ্যারি আমব্রিজের দিকে তাকাল। দেখল আমব্রিজ ওর দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রয়েছেন। ব্যাঙের মতো মুখটা আরও ফুলে উঠছে।

    –কিছু বলবে মিস্টার হ্যারি পটার? –না, কিছু না, হ্যারি মৃদুস্বরে বললো।

    আবার ও সেই একই কথা পার্চমেন্টের উপর লিখল। লেখার সঙ্গে সঙ্গে যন্ত্রণা আর ঠিক আগের মতই রক্তাক্ত অবস্থায় হাতের পেছনে লেখাটা ফুটে উঠল। খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে লেখার যন্ত্রণাও। তাকাতেই আগের মত শুধুমাত্র মসৃণ চামড়ায় লাল দাগ রইল।

    হ্যারি একই কথা বার বার পার্চমেন্টে লিখতে লাগল। তারপর হঠাৎ দেখল কালির রং তো কাল নয় টকটকে লাল, ওর নিজের রক্ত। যতবারই ও লেখে সেই একই অবস্থা হয়।

    আমব্রিজের ঘরের বাইরে অন্ধকার নেমে আসে। হ্যারি লিখেই চলেছে। জিজ্ঞেস করে না কখন লেখা বন্ধ করবে। কটা বেজেছে তাও জানে না। হ্যারি লিখতে লিখতে একটুও দুর্বলতা দেখায় না। লেখা বন্ধ না করতে বললে সারারাত ও একই কথা লিখবে, আর কালির রং ওর রক্তের মতো লাল হয়ে যাবে। একই জিনিস ঘটে যাবে।

    –এদিকে এসো।

    হ্যারি কলমটা রেখে আমব্রিজের দিকে তাকাল। ওর হাতটা বার বার একই কথা লেখার জন্য ব্যথায় টন টন করছে।

    –হাত বাড়াও।

    হ্যারির হাতটা আমব্রিজ নিজের হাতে ধরলেন। আমফ্রিজের পাঁচ আঙ্গুলে পাঁচটা বিদঘুঁটে পুরনো দিনের আংটি। হ্যারি আমব্রিজের হাতে হাত রাখতেই ওর সমস্ত শরীর কেঁপে উঠল।

    বেশ বেশ খুব ভাল, কাল তাহলে আবার চেষ্টা করা যাবে। আচ্ছা তুমি এখন যেতে পার।

    হ্যারি একটি কথা না বলে আমব্রিজের অফিস ঘর থেকে বেরিয়ে এল। স্কুলটা খাঁ খাঁ করছে। নিশ্চয়ই মধ্যরাত্রি হবে। খানিকটা পথ ধীরে ধীরে হাঁটবার পর ও প্রাণপনে দৌড়াল। নিশ্চয়ই আমব্রিজ ওর পায়ের শব্দ শুনতে পাচ্ছে না।

    হ্যারি হাঁফাতে হাঁফাতে ঘরে ঢুকে দেখল রন অকাতরে ঘুমুচ্ছে। ওর তখন হোমওয়ার্ক করার মত শরীর, মনের অবস্থা নেই। ও ধপাস করে শুয়ে পড়ল।

    রন সকালে জেগে ওঠার পর ওরা দুজনে নর্থটাওয়ারে চলল।

    রন যেতে যেতে বললো, তোমার শাস্তি কেমন বল? তোমায় কি করতে বলল আমব্রিজ?

    হ্যারি সামান্য সময় চুপ করে থেকে বললো, লিখতে বললেন।

    –তাহলে খুব একটা খারাপ নয়, রন বললো।

    –যা বললেন তাই করলাম।

    –শুক্রবার তোমাকে ছুটি দেবে বলেছে?

    –না। রন দুঃখ দুঃখ মুখ করে বললো, দেবেন না?

    পরের দিন, আরও একটি দুঃখের দিন। হ্যারি পর পর ক্লাসে ওর হোমওয়ার্ক দেখাতে পারল না। সব প্রফেসররা আবার ওকে নতুন নতুন হোমওয়ার্ক দিলেন। কিন্তু কোনটাই ওর পক্ষে করা সম্ভব নয়।

    অ্যাঞ্জেলিনা ওকে ডিনার খাবার সময় দেখতে পেয়ে এগিয়ে এল।

    আটক থাকার জন্য শুক্রবার কীপার নির্বাচনের পরীক্ষায় আসতে পারছে না শুনে বললো, টিমে থাকতে গেলে শুক্রবার মিস করলে চলবে না, থাকতেই হবে।

    হ্যারি বললো, সম্ভব নয়, আমার ডিটেনসন হয়েছে। আপনি কি মনে করেন। সন্ধ্যা বেলা কিডিচ না খেলে একটা ঘরে ব্যাঙের সঙ্গে থাকতে আমার ভাল লাগবে?

    হ্যারি, রন আর হারমিওনকে আমব্রিজের ঘরে শাস্তির সব কথা বলতে গিয়েও বলতে পারল না। ও জানে, শুনলে ওদের মন খারাপ হয়ে যাবে। ওদের দিকে ও তাকাতে পারবে না। ব্যাপারটা ওর আর আমব্রিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকাই ভাল মনে হয়। এক কথায় ওদের কাছে ও কিছু জানাবে না।

    রন বললো, আমি ভাবতে পারছি না এত হোমওয়ার্ক আমাকে করতে হবে।

    –তাইত দেখছি, কিন্তু গত রাতে কোথায় ছিলে? করনি কেন?

    –ঘুরে বেড়াতে ভাল লাগছিল…।

    হ্যারি বুঝতে পারল মনের দুঃখ চাপা দেয়ার জন্য ও একা নয়, আরও একজন সামনে বসে রয়েছে।

    দ্বিতীয় আটকের দিন সেই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। হ্যারির হাতের চামড়া প্রথম দিনের চাইতে বেশি বেশি জ্বালা করতে শুরু করল শুধু তাই নয়, আরও বেশি রক্ত লাল হয়ে ফুলে রইল। হ্যারি ঘরে ঢুকে লিখতে বসে। লেখা খতম হলে গুড ইভিনিং, গুড নাইট বলে গভীর রাতে ডরমেটরিতে ফিরে যায়। রনের সঙ্গে গ্রেট হলে ডিনার খায়। আমব্রিজের সঙ্গে ওই দুটি শব্দ ছাড়া আর একটিও কথা বলে। তবু রাত জেগে যতটুকু সম্ভব হোমওয়ার্ক করে। কোনটাই সম্পূর্ণ বা ভাল হয়। কিছু একটা না করে ক্লান্ত হয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে থাকলে তো সকলেই শাস্তি দেবে, আটক রাখবে।

    বৃহস্পতিবার পার হয়ে গেল। আটকে দুদিন হয়েছিল তারই পুনরাবৃত্তি। শুধু আমি অবশ্যই মিথ্যে কথা বলব না কথাটা হাতে লেখাই রয়ে গেল, মুছে গেল অন্যদিনের মত। রক্তও টিপ টিপ করে পড়তে লাগল হাত থেকে।

    খুব জোরে জোরে সুঁচালো পাখির পালকে লিখতে দেখে আমফ্রিজ ওর (হ্যারির) হাতের অবস্থা দেখতে গিয়ে হেসে বললেন, আহ্ ভালই হয়েছে। শাস্তির কথা, আর কেন তোমাকে এই শাস্তি পেতে হয়েছে তোমার মনে থাকবে অনেকদিন, আজ তুমি যেতে পার।

    হ্যারি বললো, কাল কি আমায় আসতে হবে? স্কুলব্যাগটা বাঁ হাতে পিঠে তুলল। ডান হাত দিয়ে তোলার মত অবস্থা নেই ওর। হাতে খুব যন্ত্রণা আর জ্বালা করছে।

    –হা হা আসতে তো হবেই, আমব্রিজ বললেন। তবে শাস্তি শেষ হবার পর তোমার ব্যথা হাতটা মালিশ করে দেব। তখন আর ব্যথা থাকবে না।

    হ্যারি আগে ভাবত সেইপের মত নিষ্ঠুর ঘৃণার যোগ্য শিক্ষক স্কুলে নেই; কিন্তু এখন মনে হল আমব্রিজ তার চেয়েও বেশি নিষ্ঠুর। জীবনে আরও একটি ক্ষতিকর অশুভ, এই কথা ভাবতে ভাবতে ও গ্রিফিন্ডর টাওয়ারের দিকে চলল। অসম্ভব দূরাত্ম-ক্ষতিকর অশুভ কথাগুলো বারবার বলতে বলতে ও সিঁড়ি দিয়ে উঠতে লাগল। খুশি হল এই ভেবে যে আরও একটি অশুভ পেয়েছে যার সঙ্গে ও লড়াই করতে পারবে। দারুণ অশুভ! সাততলায় উঠেও মুখে ওর একই কথা। জীবনে এমন অশুভ ক্ষতিকর মানুষ দেখেনি।

    –রন? হ্যারি দেখল রন হাতে একটা জাদুর ঝাড়ু নিয়ে লাচলান দ্য ল্যাঙ্কির মূর্তির সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছে। ও হ্যারিকে দেখতে পেয়ে আনন্দে লাফিয়ে উঠল, হাতে ওর নতুন ক্লিন সুইপ-১১। ও হাত ঘুরিয়ে ঝাড়টা পেছনে রাখে, যেন হ্যারিকে ওটা দেখাতে চায় না।

    –আরে অন্ধকারে দাঁড়িয়ে তুমি কী করছ? হ্যারি জিজ্ঞেস করল।

    –কিছু না, তুমি এসময় এখানে? হ্যারি রনের জবাব শুনে ভুরু কুঁচকাল।

    –দেখিতো পেছন দিকে তুমি কি লুকিয়ে রাখলে?

    –ও কিছু না। ফ্রেড আর জর্জ যাতে না দেখতে পায় তাই। তবে তোমাকে বলছি, রন বললো।

    দুচারজন প্রথম বর্ষের ছাত্র ওদের পাশ কাটিয়ে চলে গেল।

    রন ওদের দেখে বললো, ওরা দুজন নতুন ছেলেদের নিয়ে পরীক্ষা চালাচ্ছে। কমনরুমে বসে ওইসব করতে পারে না, ওখানে কি হারমিওন নেই?

    ও খুব তাড়াতাড়ি, উত্তেজিত হয়ে কথাগুলো বললো। হ্যারি বললো, ঠিক আছে কিন্তু ঝাড় নিয়ে এখানে কি করছ?

    –আমি? হা হা তোমাকে নিশ্চয়ই বলব। শুনে হাসবে না বলে দিলাম। ঠিক তো? রন কথা বলে আর চোখমুখ লাল হয়ে যায়। আ… আমি ভেবেছিলাম গ্রিফিন্ডর দলের কীপার হব। তাই একটা নতুন ঝাড় পেয়েছি, হাসো খুব হাসো।

    হ্যারি বললো, আমি মোটেই হাসছি না। তোমার আইডিয়া অতি চমৎকার। টিমে তুমি এলে সত্যি আমার খুব আনন্দ হবে। আগে কখনও তোমাকে খেলতে দেখিনি, সত্যি তুমি খেলতে পার?

    রন বললো, খুব একটা খারাপ না। হ্যারির কোন রকম বিরূপ প্রতিক্রিয়া না দেখে অসম্ভব খুশি হলো রন। চার্লি, ফ্রেড, জর্জ ছুটিতে কিডিচ খেলার সময় আমাকে কীপার বানায়।

    –আজ রাতে তুমি প্র্যাকটিস করেছ?

    মঙ্গলবার থেকে প্রত্যেকদিন করছি নিজে নিজেই। তাহলেও আমি চাই কোয়াফেলে জাদু করে আমার দিকে উড়ে আসতে, কিন্তু ব্যাপারটা তেমন সোজা নয়, তাছাড়া কতটা কাজে লাগবে জানি না। রনকে খুব বিচলিত ও উদ্বিগ্ন দেখায়।

    রন বললো, আমি পরীক্ষার জন্য মাঠে গেলে ওরা নিজেদের মধ্যে বোকার মতো হাসে। আমি প্রিফেক্ট হবার পর সবসময় আমার পেছনে লাগে।

    –আমি যদি ওখানে যেতে পারতাম, হ্যারি তিক্ত কণ্ঠে বললো। তারপর ওরা দুজনে কমনরুমের দিকে চলল।

    যেতে যেতে রন বললো, তাই যেন হয়। হ্যারি, তোমার হাতের পেছনে কি হয়েছে? হ্যারি পারতপক্ষে কাউকে হাতটা দেখাতে চায় না; কিন্তু হাত তুলে নাক চুলকাবার সময় রনের দৃষ্টি পড়ে গেছে। লুকোবার চেষ্টা করতে গিয়েও পারেনি।

    –এই একটু কেটে গেছে। তেমন কিছু নয়।

    কিন্তু রন হ্যারির হাত চেপে ধরল ওর সামনে। রন ওর রক্তাক্ত অক্ষরে লেখাগুলো পড়ে অসম্ভব ঘাবড়ে গেল। হ্যারির দিকে সামান্য সময় তাকিয়ে থেকে হাতটা ছেড়ে দিল।

    তুমি যে বলছিলে আমব্রিজ তোমাকে লেসন দেয়, পড়ায়? হ্যারি থতমত খেয়ে গেল, তা যাই হোক না কেন রন তো ওর বন্ধু, ওর সুখ-দুঃখের সাথী। সবসময় সতোর সঙ্গে থাকে। ওর কাছে কী সত্য কথা সত্যই গোপন করে রাখা যায়? হ্যারি গত তিনদিনের প্রতিটি ঘটনা রনকে বললো। বললো, আমব্রিজের অফিসে আটকের সময় দীর্ঘ সময়ব্যাপী লাঞ্ছনার কথা। ওকে জোর করে মিথ্যাবাদী বানিয়েছে প্রফেসর আমব্রিজ, সেইটাই দুঃখ।

    রন রাগে ফেটে পড়ে বললো, বুড়ি শালিক! ওরা তখন ফ্যাট লেডির পোর্ট্রেটের সামনে এসে গেছে। দেখল ফ্যাট লেডি তার ফ্রেমে মাথা ঠেকিয়ে ঢুলছে। আমার মনে হয় তিনি অসুস্থ। ম্যাকগোনাগলের কাছে গিয়ে ওর বিরুদ্ধে নালিশ করতে হবে।

    হ্যারির আপত্তি আছে। ও আমব্রিজকে জানতে দিতে চায় না যে আমব্রিজ ওকে কাবু করে ফেলেছে। তাই রনের কথা শুনে হ্যারি বললো, কখনই ওসবের মধ্যে যাবে না।

    –তাই বলে ওকে যা ইচ্ছে তাই করতে দেয়া চলে না।

    –আমি ঠিক জানি না ম্যাকগোনাগল ওর ওপর কতটা কর্তৃত্ব ফলাতে পারেন।

    –তাহলে ডাম্বলডোর, ডাম্বলডোরকে বলতে হবে।

    –না, তাও নয়, হ্যারি সরাসরি বললো।

    –না কেন?

    –ডাম্বলডোরের এখন অনেক কাজ। এসব ব্যাপারে তাকে বিরক্ত করা ঠিক হবে না। হ্যারি ডাম্বলডোরের কাছে কিছুতেই যাবে না। গত জুন মাসের পর থেকে ডাম্বলডোর ওর সঙ্গে একবারও কথা বলেননি।

    –তুমি যাই বলো, আমার মনে হয় যাওয়া উচিত। রন আরও কিছু বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু ফ্যাট লেডি রেগেমেগে বললো, আরে তোমরা পাসওয়ার্ড বলে ভেতরে যাবে, না দরজার গোড়ায় দাঁড়িয়ে বকবক করে আমার মাথার পোকা বার করে দেবে? সারারাত তোমাদের জন্য জেগে থাকতে হবে না কি?

    গুটি গুটি করে অন্যান্য দিনের মত নিঃশব্দে শুক্রবার এসে গেল। হ্যারি রোজকার মত গ্রেট হলে ঢুকে স্টাফ টেবিলের দিকে তাকিয়ে দেখল হ্যাগ্রিড নেই। অবশ্য আশা করেনি হ্যাগ্রিডকে দেখতে পাবে। হ্যাগ্রিডের কথা না ভেবে ওর মন ভারাক্রান্ত হল গাদাগাদা হোমওয়ার্কের ভাবনায়। দুটো কথা ওর মনে গেঁথে রয়েছে। এক সেদিন শুক্রবার, সপ্তাহের শেষ কাজের দিন। দুই আবার আমব্রিজের ঘরে কয়েদ হয়ে থাকা। কোন আশা নেই আমব্রিজের কাছ থেকে ছাড়া পাওয়ার। আমব্রিজের ঘরের জানালা থেকে কিডিচ খেলার মাঠের কিছু অংশ দেখা যায় ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলে এই অংশ দিয়ে রনের পরীক্ষা দেয়া দেখতে পাবে। দুরাশা হলেও যেকোন আনন্দদায়ক ঘটনা ওর মনকে খুশিতে ভরিয়ে দিতে পারে, মনকে চাঙ্গা করে দিতে পারে। হোগার্টসে আসার পর এমন ভাবে টার্মের প্রথম সপ্তাহে দুঃখজনক ঘটনা দিয়ে শুরু হয়নি।

    প্রতিদিনের মত সেদিনও ঠিক পাঁচটা বাজার কিছু আগে আমব্রিজের ঘরের দরজায় টোকা মেরে ঢুকল। দেখল আমব্রিজ টেবিল, চেয়ার, পার্চমেন্ট পেপার, পালকের কলম যেমন সাজিয়ে রাখে তেমনই ভাবে রেখেছেন।

    হ্যারিকে দেখে গা জ্বালান মিষ্টি হাসিতে বললেন, কী করতে হবে তুমি তো জান মি. পটার।

    হ্যারি কলমটা তুলে নিয়ে খোলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকাল। আমফ্রিজ যখন কাজ করছিল তখন এক ফাঁকে হ্যারি টেবিলটা কয়েক ইঞ্চি জানালার কাছে সরিয়ে এনেছে যাতে খেলার মাঠটা দেখতে পায়।

    ও খোলা জানালা দিয়ে দেখতে পেল গ্রিফিন্ডর কিডিচ টিমের প্রায় আধডজন কালো কালো রং-এর ছেলে, তিনটে উঁচু গোল পোস্টের নিচে দাঁড়িয়ে রয়েছে খুব সম্ভব আদেশের অপেক্ষায়। দূর থেকে রনকে চেনা খুবই অসম্ভব।

    আমি অবশ্যই মিথ্যে বলবো না–ডান হাতের পেছনে লুকিয়ে যাওয়া কাটা দাগ থেকে নতুন করে রক্ত ঝরে পড়ছে ঘরে ঢোকার সময়।

    আমি অবশ্যই মিথ্যে বলবো না তীব্র বেদনা আর যন্ত্রণা আমি অবশ্যই মিথ্যা বলবো না রক্ত গড়িয়ে গড়িয়ে ওর কব্জিতে পড়ল।

    আবার ও জানালা দিয়ে মাঠের দিকে তাকাবার সুযোগ পেল। যাকে গোলপোস্টে কীপার হিসেবে দাঁড় করান হয়েছে সে কিছুই করতে পারছে না। কেটিগোল্ড কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে পরপর দুটো গোল করল। কীপার নিশ্চয়ই রন নয়। ও দৃষ্টি সরিয়ে পার্চমেন্টের দিকে নিয়ে এল। পার্চমেন্টটা তাজা লাল রক্তে চকচক করছে।

    আমি অবশ্যই মিথ্যা বলবো না

    আমি অবশ্যই মিথ্যা বলবো না।

    আমব্রিজকে কলম দিয়ে লেখার শব্দ, আর ড্রয়ার খোলার শব্দ শুনলেই হ্যারি বাইরে তাকায়। তৃতীয় ট্রাই আউটে যাকে রাখা হয়েছে মনে সে হল চলনসই, ভালই বলতে হয়। চতুর্থ জন এক কথায় দুধর্ষ পঞ্চম জন খুবই ভালই, তবে শেষকালে একটা গোল বাঁচাতে পারল না। অন্ধকার হয়ে যাওয়াতে তারপরের দুজনকে পরিষ্কারভাবে দেখতে পেল না হ্যারি।

    আমি অবশ্যই মিথ্যে বলবো না।

    আমি অবশ্যই মিথ্যে বলবো না টেবিলে রাখা পার্চমেন্টটা ফোঁটা ফোঁটা রক্ত পড়ে ভেসে যাচ্ছে, দারুণ যন্ত্রণা হচ্ছে হাতে। ঘন অন্ধকারের মধ্যে রনকে দেখতে চাইল; কিন্তু রনকে দেখতে পেল না। কিডিচ মাঠ আকাশের মতই অন্ধকার।

    আমব্রিজ ওর কাছে এসে বললেন, দেখি কতবার লিখেছ, দেখব? আমব্রিজের সেই একই সুরে কথা। আমব্রিজ আংটি পরা ওর বেঁটে বেঁটে আঙ্গুল দিয়ে হ্যারির হাতটা ধরল কতটা কেটে গেছে দেখার জন্য। আমব্রিজের স্পর্শে শুধু ওর ডান হাতটা নয় কপালের কাটা দাগটাও তীব্রভাবে জ্বালা করতে লাগল। বেদনা-যন্ত্রণা আর রক্তপড়া আরও যেন বেড়ে গেল আমব্রিজের স্পর্শে। ওর যকৃতের চারপাশ অদ্ভুত এক উত্তেজনায় কাঁপতে লাগল।

    হ্যারি ওর হাতটা আমব্রিজের হাত থেকে ঝট করে টেনে এনে আমব্রিজের দিকে তাকিয়ে নিজের হাঁটুর ওপর রেখে দিল। আমব্রিজ হ্যারির দিকে তাকাল। মুখে তার মিষ্টি হাসি লেগেই আছে।

    খুব ব্যথা, যন্ত্রণা তাই না? খুব নরম সুরে বললেন।

    হ্যারি আমব্রিজের প্রশ্নের কোনও জবাব দিল না। ওর বুকের ভেতরটা অসম্ভব তোলপাড় করছে, দ্রুত চলছে। আমব্রিজ কী কপালের কাটা দাগে অথবা নতুনভাবে হাতের চেটোতে কাটার কথা বলছেন?

    -বেশ, আমি যা জানার তা জেনেছি, পটার এবার তুমি যেতে পার।

    হ্যারি ঝট করে ওর স্কুল ব্যাগটা তুলে নিয়ে আমব্রিজের ঘর থেকে বাইরে এল।

    সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে নামতে বারবার নিজেকে শাসন করতে লাগলো, শান্ত হয়ে থাক, তুমি যা ভাবছ তা নাও হতে পারে। শান্ত হয়ে থাক।

    মিমুলাস মিমব্লেটোনিয়া, হ্যারি ফ্যাট লেডির সামনে হাঁফাতে হাঁফাতে ভেতরে যাবার পাসওয়ার্ড বললো।

    ও কমনরুমে ঢুকতেই অনেকেই জোর গলায় ওকে স্বাগত জানাল। রন ছুটতে ছুটতে ওর কাছে এগিয়ে এল, মুখে আনন্দ-হাসি ফেটে পড়ছে, ওর হাত থেকে বাটার বিয়র পড়ে গেল। রন বোতলটা শুধু ধরে রইল।

    –হ্যারি, আমি পেরেছি, আমাকে দলে নিয়েছে, আমি কীপার! –কি বললে? ওহহ দারুণ একটা খবর দিলে, হ্যারি বললো, কিন্তু তখনও ওর বুকের ভেতরটা ধড়ফড় করেছে, অসম্ভব দপদপ করছে হাতটা, এবং রক্ত পড়ছে!

    রন একটা বোতল হ্যারির দিকে এগিয়ে দিয়ে হাসতে হাসতে বললো, বন্ধু বাটারবিয়র, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না। হারমিওনকে দেখতে পাচ্ছি না কেন?

    ফ্রেড এককোণে বসে ধীরে ধীরে বাটারবিয়রে চুমুক দিচ্ছিল, রনের কথা শুনে ফায়ার প্লেসটা দেখিয়ে বললো, ওই তো ওখানে একটা আর্ম চেয়ারে বসে দিব্যি আগুন পোয়াচ্ছে। হারমিওন চেয়ারে বসে দুলছিল, দোল খেয়ে মাঝে মাঝে বাটারবিয়র বোতল থেকে ছলকে ছলকে ফ্লোরে পড়ছে।

    রন ক্ষুব্ধ হয়ে বললো, আমি খবরটা দেবার পর খুশি হয়েছি। রিয়েলি আমি খুব খুশি।

    জর্জ বললো, আরে ওকে ঘুমোতে দাও।

    হ্যারি দেখল বেশ কয়েকজন প্রথমবর্ষের ছাত্র গোল হয়ে বসে আছে। ওর নাক দিয়ে কিছুক্ষণ আগে রক্ত বেরিয়েছে তার দাগ স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে।

    কেটিবেল হাতে একটা আলখেল্লা নিয়ে রনকে বললো, রন এদিকে এসো। পরে দেখত অলিভারের গতবছরের এই রোবটা তোমার গায়ে হয় কি না। পেছনে ওর নামটা খুলে তোমার নামটা লাগাতে হবে।

    রন এগিয়ে গেলে অ্যাঞ্জেলিনা লাফাতে লাফাতে হ্যারির সামনে দাঁড়াল। বললো, দেখ আমি জানি রন তোমার সবচাইতে প্রিয় বন্ধু; কিন্তু ও খুব একটা ভাল প্লেয়ার নয়, তবে একটু ঘষে মেজে নিতে হবে। ও খুব ভাল কিডি প্লেয়ারদের পরিবার থেকে এলেও খেলার ব্যাপারে তেমন শার্প নয়। সত্যি কথা বলতে কি আমি ওর কাছ থেকে আর একটু বেশি আশা করেছিলাম।

    ভিকি ফ্রবিশার জিওফ্রে হুপার সম্বন্ধে কথাবার্তা হবার পর অ্যাঞ্জেলিনা বললো, কাল দুটোর সশয় আমাদের প্র্যাকটিস সেশন হবে, তুমি কিন্তু অবশ্যই আসবে।

    হ্যারি সম্মতি জানালে অ্যাঞ্জেলিনা অ্যালিসিয়া স্পিনেটের দিকে চলে গেল। হ্যারি তারপর একটা চেয়ার টেনে নিয়ে হারমিওনের পাশে বসল। হ্যারির ব্যাগ রাখার শব্দ শুনে হকচকিয়ে বললো, হ্যারি তুমি রনের খবর শুনেছ তো? দারুণ খবর তাই না? কিছু মনে কর না, আমি ক্লান্ত হয়ে একটু ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। গত রাতে প্রায় একটা পর্যন্ত জেগে জেগে টুপি বানিয়েছি। টুপিগুলো পাগলের মতো উধাও হয়ে যাচ্ছে।

    হ্যারি বললো, খুব ভাল। ওর মনের কথা যদি কারও কাছে না বলে তো ফেটে চৌচির হয়ে যাবে। তাই ধীরে ধীরে বললো, শোন হারমিওন আমি একটু আগে আমব্রিজের ঘরে আটক হয়ে ছিলাম। শাস্তি শেষ হবার পর আমব্রিজ আমার হাত স্পর্শ করেছিলেন।

    হারমিওন ওর খুব কাছ ঘেঁষে বললো, আমি জানি একটা কথা শুনলে তুমি বেশ চিন্তিত হবে। ইউ-হুঁ-তো মনে হয় ঠিক কুইরেলের মতো আমব্রিজকে দিয়ে ওর কাজ করিয়ে নিচ্ছে। সম্পূর্ণভাবে আয়ত্তে এনেছে ওকে। হ্যারি চারদিকে তাকিয়ে আরও আস্তে বললো, অসম্ভব নয়, তাই হতে পারে।

    তবে আমার মনে হয় শেষ পর্যন্ত কুইরেলের মতো ওকে কজা করতে পারবে। হারমিওন বললো, এখন ও আবার ওর পুরনো দেহ ফিরে পেয়েছে, এখন আর কারও সাহায্য নেবে বলে মনে হয় না। ওকে ইমপেরিয়স কার্স দিয়ে (উদ্ধত অভিশাপে) বশে আনতে পারে।

    হ্যারি দেখল ফ্রেড, জর্জ আর লী জোর্ডান বোতলের ছিপি নিয়ে জাগলিং করছে।

    হারমিওন একটু চুপ থেকে আবার বললো, কিন্তু গত বছর তোমার ওই কাটা জায়গাটা কেউ স্পর্শ না করলেও ব্যথা পেতে। ডাম্বলডোরও বলতেন, ইউ-নো-হু কিছু ভাবছে তার জন্য। ওটা হয়। আমার মনে হয় ওই ব্যথার সঙ্গে আমব্রিজের কোনও সম্পর্ক নেই। ব্যাপারটা একরকম কাকতালীয় হতেও তো পারে?

    –আমব্রিজ একজন অশুভ মহিলা, হ্যারি সোজাসুজি বললো।

    –হতে পারে তিনি সাংঘাতিক। কিন্তু হ্যারি, তোমার কিন্তু ডাম্বলডোরকে জানানো উচিত তোমার কাটা দাগটা ব্যথা করে, চুলকোয়।

    এই নিয়ে দুবার ওকে বলা হল ডাম্বলডোরের কাছে যেতে। কিন্তু ও রনকে যেমন জবাব দিয়েছিল তেমনই জবাব দিল হারমিওনকে।

    –আমি কাটা দাগে ব্যথা, চুলকানি নিয়ে মোটেই মাথা ঘামাচ্ছি না। গরমকালে এমন হয়। গত রাতে একটু বেশি হয়েছিল এই যা।

    –হ্যারি আমার কোনও সন্দেহ নেই ডাম্বলডোর ব্যাপারটা সহজভাবে নেবেন না।

    হরি বললো, তাহলে আমার কপালের কাটা দাগ ছাড়া অন্য কিছুতে তার যায় আসে না, কি বল?

    –যা সত্য নয় তা বলবে না হ্যারি!

    –আমি ভাবছি সিরিয়সকে সব ব্যাপারটা লিখে জানাব, দ্যাখা যাক উনি কি বলেন।

    –হ্যারি আমার কথা শোনো, ব্যাপারটা চিঠিতে লেখা ঠিক হবে না। হারমিওনের মুখ দেখে মনে হয় খুব চিন্তিত।

    –মনে আছে মুডির কথা? উনি বলেছিলেন, যা লিখবে খুব সতর্কতার সঙ্গে লিখবে! আমাদের প্যাচাকে চিঠি নিয়ে যাবার সময় আটকে দিতে পারে সে সম্ভাবনা তো উড়িয়ে দেওয়া যায় না।

    হ্যারি বললো, আচ্ছা বাবা চিঠি লিখব না। যাকগে আমার ঘুম পেয়েছে শুতে চলোম।

    হারমিওন বললো, আমিও ক্লান্ত। আমি শুতে চলোম। আগামীকাল অনেকগুলো টুপি বানাতে হবে। সেলাইয়ের ব্যাপারে তুমি যদি চাও তো আমাকে সাহায্য করতে পার। আমি এখন নতুন নতুন প্যাটার্ন বানাতে শিখেছি।

    হারমিওনের উজ্জ্বল হাসিমুখের দিকে তাকিয়ে হ্যারি বললো, দুঃখিত আমার সময় হবে না। জান তো আমার অনেক হোমওয়ার্ক বাকি, সেগুলো শেষ করতে হবে।

    হারমিওনকে অখুশি করে হ্যারি চলে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37 38
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }