Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প406 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৪. কর্ণেলিয়াস ফাজ

    ১৪. কর্ণেলিয়াস ফাজ

    হ্যারি, রন এবং হারমিওন সব সময়ই জানত যে বিরাট এবং দানবীয় জীবের প্রতি হ্যাগ্রিডের একটি দুঃখজনক পছন্দ রয়েছে। হোগার্টস-এ তাদের প্রথম বর্ষের সময় সে তার ছোট্ট কাঠের বাড়িটাতে ড্রাগন পালনের চেষ্ট করেছে। এবং তার সেই দৈত্যাকার তিন–মাথাওয়ালা কুকুর, যার নাম ও রেখেছিল ফ্লাফি, ওটার কথা ওরা অনেকদিন ভুলবে না। এবং বাল্যকালে হ্যাগ্রিড যদি শোনে কোথাও একটি দানব লুকনো রয়েছে তবে ওটাকে এক নজর দেখার জন্যে হ্যাগ্রিড সব কিছুই করতে পারে। সে হয়তো ভেবেছিল এতো দিন ধরে দানটাকে বন্দী করে রাখা হয়েছে, এটা একটা লজ্জার ব্যাপার, এবং ওটার একটা সুযোগ পাওয়া উচিৎ খোলা যায়গায় হাত পা–গুলো ছড়ানোর জন্য; হ্যারি কল্পনা করতে পারে তের বছরের হ্যাগ্রিড ওটার গলায় কলার পরাচ্ছে। এবং সে এটাও নিশ্চিত যে হ্যাগ্রিডের কখনও কাউকে হত্যা করার উদ্দেশ্য ছিল না।

    এখন হ্যারির মাঝে মাঝে আফসোস হয় রিডল-এর ডায়রি নিয়ে কাজ করার উপায় আবিস্কার করার জন্যে। বার বার রন এবং হারমিওন ওকে বলতে বলে কি সে দেখেছে, এক সময় সে মানসিক ভাবেই অসুস্থ হয়ে গেল এক ঘটনা বার বার বলতে বলতে এবং এরপর একই কথা বার বার আলোচনা করতে করতে।

    রিডল হয়তো ভুল লোকটাকে ধরেছিল, বলল হারমিওন। হয়তো অন্য কোন দানব মানুষের উপর হামলা চালাচ্ছিল…

    ঐ স্থানে কয়টা দানব রাখা যেতে পারে, তুমি কি মনে করো? রনের নির্বোধ প্রশ্ন। আমরা সবাই জানি হ্যাগ্রিডকে বহিস্কার করা হয়েছিল, বলল হ্যারি দুঃখের সঙ্গে। এবং হ্যাগ্রিডকে বের করে দেয়ার পর নিশ্চয়ই হামলা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। না হলে রিডল পদক পেত না।

    রন অন্য এক ধারায় প্রশ্ন করল।

    রিডলকে মনে হয় পার্সির মতোই–কিন্তু ওকে হ্যাগ্রিডের ওপর নজর রাখতে কে বলেছিল?

    কিন্তু, দানবটা একজনকে হত্যা করেছিল রন, বলল হারমিওন।

    এবং ওরা যদি হোগার্টর্স বন্ধ করে দেয় তবে, রিড়কে কোন এক মাগল এতিমখানায় যেতে হতো, বলল হ্যারি। ওখানে থাকার চেষ্টা করার জন্যে আমি ওকে দোষ দিতে পারি না…

    রন ওর ঠোঁট কামড়াল। তারপর দ্বিধাগ্রস্ত রন প্রশ্ন করল, হ্যাগ্রিডের সঙ্গে তোমার নকটার্ন অ্যালিতে দেখা হয়েছিল, তাই না, হ্যারি?

    সে একটা মাংস–খেকো শ্লাগের প্রতিরোধক কিনছিল, চটজলদি জবাব দিল হ্যারি।

    ওরা তিনজন নিরব হয়ে গেল। দীর্ঘক্ষণ চুপ করে থাকার পর হারমিওন একটু দ্বিধাভরে সবচেয়ে জটিল প্রশ্নটা করল: তোমরা কি মনে করো আমাদের গিয়ে হ্যাগ্রিডকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা উচিৎ?

    ওটা একটা আনন্দময় সাক্ষাৎ হবে, বলল রন। হালো, হ্যাগ্রিড, আমাদের বলো, সম্প্রতি তুমি কি কোন লোমওয়ালা এবং উন্মত্ত কিছু এখানে ছেড়ে রেখেছে?

    সবশেষে তারা ঠিক করল যে আরেকটা হামলা না হওয়া পর্যন্ত হ্যাগ্রিডকে তারা কিছুই বলবে না। এবং দিনের পর দিন চলে যাচ্ছে তবুও অশরিরী কন্ঠের কোন ফিসফিস শোনা যায়নি, ওরা আশা করল এরপর আর হ্যাগ্রিডকে জিজ্ঞাসা করবার দরকার হবে না, কেন তাকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল। প্রায় চার মাস হয়ে গেল জাস্টিন এবং প্রায়–মাথাহীন নিককে ভয়ে অসাড় করা হয়েছে, এবং প্রায় সকলেই ভাবতে শুরু করল, হামলাকারি যেই হোক না কেন, চিরদিনের জন্য থেমে গেছে। পিভস তার ওহ,পটার, তুমি পঁচা, গান গেয়ে গেয়ে হাঁপিয়ে উঠেছে, একদিন হার্বলজি ক্লাসে আর্নি ম্যাকমিলান অত্যন্ত বিনয়ের সাথে এক বালতি লাফানো ব্যাঙের ছাতা এগিয়ে দিতে অনুরোধ করল এবং মার্চ মাসে তিন নম্বর গ্রীন হাউজে কয়েকটি মেনড্রেক কর্কশ স্বরে পার্টি দিল। এতে প্রফেসর স্প্রাউট খুবই খুশি হলেন।

    যে মুহূর্তে ওরা একজন আর একজনের পটে যেতে শুরু করবে, আমরা জানব সেই মুহূর্ত থেকে ওরা পুরোপুরি সাবালক হয়ে গেছে, তিনি হ্যারিকে বললেন। তাহলে আমরা হাসপাতালের ওই অসুস্থদের সারিয়ে তুলতে পারব।

    ***

    ইস্টার ছুটির সময় দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রদের নতুন একটা কিছু ভাবতে বলা হলো। তৃতীয় বর্ষের বিষয় বেছে নেয়ার সময় তাঁদের এসে গেছে, বিষয়টা অন্তত হারমিওন সিরিয়াসলি গ্রহণ করল।

    এটা আমাদের পুরো ভবিষ্যতকেই প্রভাবিত করতে পারে, বলল সে হ্যারি আর রনকে, ওরা নতুন বিষয়ের তালিকা কেটে, মাঝে মাঝে টিক চিহ্ন দিচ্ছে।

    আমি পোশনস ছেড়ে দিতে চাই, বলল হ্যারি।

    আমরা তা পারি না, বলল রন বিষণ্ণভাবে। আমাদেরকে সবগুলো পুরনো বিষয়ই রাখতে হবে, নাহলে তো আমি ডিফেন্স এগেন ডার্ক আর্টস ছেড়ে দিতাম।

    কিন্তু ওটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বলল হারমিওন, মনে আঘাত পেয়েছে সে।

    লকহার্ট আমাদের যেভাবে পড়ান, সেভাবে নয়, বলল রন। ওঁর কাছ থেকে আমি কিছুই শিখিনি শুধু পিক্সিদের মুক্ত করে দিতে নেই–ছাড়া।

    নেভিল লংবটমকে তার পরিবারের সব জাদুকর আর ডাইনীর পক্ষ থেকে চিঠি পাঠানো হয়েছে, সবাই তাকে উপদেশ দিয়েছে বিষয় বাছাই করার ব্যাপারে।

    বিভ্রান্ত এবং উদ্বিগ্ন হয়ে ও বিষয়ের তালিকা নিয়ে বসল, ওর জিহ্বা বেরিয়ে রয়েছে ঠোঁটের ফাঁক দিয়ে। জিজ্ঞেস করছে একে ওকে এরিথম্যান্সি আর প্রাচীন টিউটনিক বর্ণমালার ভাষা রূপ এর মধ্যে কোনটা বেশি কঠিন। ডিন থমাস, হ্যারির মতোই যে মাগলদের মধ্যে বড় হয়েছে, বিষয় বাছাইয়ের কাজটা শেষ করেছে চোখ বন্ধ করে তালিকায় জাদুদণ্ড দিয়ে। যে বিষয়ের ওপর ওটা পড়েছে, সে বিষয়ই ও বেছে নিয়েছে। হারমিওন কারো কোনো উপদেশ নেয়নি সব গুলো বিষয়ই নিয়ে নিয়েছে।

    আঙ্কল ভারনন এবং আন্ট পেতুনিয়া কি ভাবতেন যদি এদেরকে জাদুবিদ্যায় তার ক্যারিয়ার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হতো, এটা ভেবে হ্যারি নিজের মনেই কঠোরভাবে হাসল। এমন নয় যে কেনো উপদেশ পায়নিঃ পার্সি উইসলি তার অভিজ্ঞতা বন্টন করতে খুবই আগ্রহী ছিল।

    নির্ভর করে তুমি কি করতে চাও হ্যারি, বলল সে। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে ভাবনা কখনোই খুব আগাম হয় না, সেই কারণে আমি সুপারিশ করবো ডিভাইনেশন অর্থাৎ ভবিষ্যৎ কথন নাও। লোকে বলে মাগল স্টাডি খুবই দূর্বল বিকল্প। কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমি বিশ্বাস করি অ–জাদুকর সম্প্রদায় সম্পর্কে জাদুকরদের গভীর জ্ঞান থাকা উচিৎ, বিশেষ করে যদি ওরা অ–জদুকরদের মধ্যে কাজ করতে চায়–আমার বাবাকে দেখে তাকে সবসময়ই মাগলদের ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাতে হচ্ছে। আমার ভাই চার্লি বাইরে বাইরে থাকা টাইপের, সে জন্যে সে ম্যাজিক্যাল জীবদের যন্ত্রাদির বিষয়ে পড়াশোনা করছে। তোমার নিজস্ব ক্ষমতা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নাও, হ্যারি।

    ***

    গ্রিফিল্ডরের পরবর্তী কিডিচ খেলা হাফলপাফদের সঙ্গে। প্রতি রাতে ডিনারের শেষে এ্যাকটিস করার জন্য চাপাচাপি করছে উড। হ্যারির এখন কিডিচ আর হোম ওয়ার্ক ছাড়া অন্য কিছুর জন্য সময়ই নেই। যাই হোক, ট্রেনিং সেশনটা আগের চেয়ে ভাল হচ্ছে, অন্তত শুকনো হচ্ছে। শনিবারের ম্যাচের আগের সন্ধ্যায় সে গেল হোস্টেলে ওর ঝাড়ুটা রাখতে, অনুভব করছে ও গ্রিফিল্ডারের কিডিচ কাপ জেতার সম্ভাবনা এখন যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি।

    কিন্তু ওর উৎফুল্লভাব বেশিক্ষণ থাকল না। হোস্টেলের সিঁড়ির মাথায় সে নেভিল লংটমের দেখা পেল, ওকে খুব ক্ষিপ্ত দেখাচ্ছে।

    হ্যারি–জানি না কে এটা করেছে। আমি শুধু এমন

    হ্যারির দিকে ভয়ে ভয়ে তাকিয়ে দরজাটা ঠেলে খুলল ও

    হ্যারির ট্রাঙ্কের ভেতরের জিনিস সব এদিক ওদিক সছড়ানো ছিটানো। ওর আলখিল্লাটা ছেঁড়া মেঝের ওপর পড়ে র টেনে নামানো হয়েছে এবং ওর ড্রয়ারটা টেনে বার করা হয়েছে বেড সাইড ক্যাবিনেট থেকে, ম্যাট্রেস-এর ওপর ভেতরের জিনিসগুলো ছড়ানো।

    হ্যারি বিছানার কাছে গেল, মুখ বিস্ময়ে হা, ঐভেল্স উইথ ট্রলস-এর কয়েকটা ছেঁড়া পাতা মাড়িয়ে যেতে হলো তাকে।

    সে এবং নেভিল চাদরগুলো বিছানায় তুলতে তুলতে, রন, ডিন আর সিমাস ঘরে ঢুকল। জোরে কসম খেল ডিন।

    কি হয়েছে, হ্যারি?

    কোন ধারণা নেই, বলল হ্যারি। কিন্তু রন হ্যারির পোশাকটা পরীক্ষা করছিল। সবগুলো পকেট বাইরের দিকে সের করা।

    কেউ একজন কিছু একটা খুঁজছিল, বলল রন। কোন কিছু কি পাওয়া যাচ্ছে না?

    হ্যারি একটা একটা করে তুলে ট্রাঙ্কে ছুঁড়ে মারছে। লকহার্টের শেষ বইটা ট্রাঙ্কে ছুঁড়ে দেয়ার পর সে বুঝতে পারল কি খোয়া গেছে।

    রিডল-এর ডায়রিটা নেই, নিম্ন কণ্ঠে বলল সে রনকে।

    কি?

    হ্যারি দরজার দিকে মাথা ঝাঁকালো, রন ওকে অনুসরণ করল। ওরা দ্রুত গ্রিফিল্ডর কমন রুমে চলে এলো, ওটা অর্ধেক খালি, ওখানে ওরা হারমিওন, ও একা বসে প্রাচীন রূনকে মেড ইজি পড়ছিল।

    বিস্ময়ে হতবুদ্ধি হয়ে গেল হারমিওন খবরটা শুনে।

    কিন্তু, শুধুমাত্র একজন গ্রিফিল্ডরই চুরিটা করতে পারে–আর কেউ তো আমাদের পাসওয়ার্ড জানে না…

    ঠিক তাই, বলল হ্যারি।

    ***

    পরদিন ঘুম ভাল চমৎকার সূর্যালোক, আলো এবং তাজা বাতাসে।

    কিডিচ খেলার একেবারে আদর্শ পরিবেশ, গ্রিফিল্ডর টেবিলে উৎসাহের সঙ্গে উড বলল টিমের সকলের প্লেটে ডিম তুলে দিতে দিতে। হ্যারি কি হলো বাক অপ, তোমার একটা ভাল নাস্তা দরকার।

    হ্যারি তাকিয়ে আছে গ্রিফিল্ডর টেবিলের ভীড়ের দিকে, ভাবছে রিলের ডায়রির নতুন মালিক একেবারে তার চোখের সামনে রয়েছে কি না। হারমিওন ওকে বলছে চুরি সম্পর্কে রিপোর্ট করার জন্যে, কিন্তু কথাটা হ্যারির পছন্দ হয়নি। তাহলে টিচারকে ডায়রি সম্বন্ধে সব কথাই বলে দিতে হবে এবং বলতে হবে কতজন জানত পঞ্চাশ বছর আগে কেন হ্যাগ্রিডকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছিল? সে সেই ব্যক্তি হিসেবে চিহ্নিত হতে চায় না, যে আবার বিষয়টা প্রকাশ্যে নিয়ে এসেছে।

    রন এবং হারমিওনের সঙ্গে গ্রেট হল ছেড়ে কিডিচ-এর জিনিসগুলি আনার জন্যে যাওয়ার পথে আরেকটি খুবই গুরুতর উদ্বেগ যোগ হলো হ্যারির তালিকায়। যেই মাত্র সিঁড়ির মাৰ্বল ধাপে পা দিয়েছে অমনি শুনতে পেলো আবার: এইবার হত্যা করো…আমাকে ছিঁড়তে দাও…হেঁড়ো…

    সে জোরে চিৎকার করে উঠল এবং রন আর হারমিওন দুজনেই ভয়ে তার কাছ থেকে লাফিয়ে দূরে সরে গেলো।

    ওই কণ্ঠস্বরটা! বলল হ্যারি, কাঁধের ওপর দিয়ে তাকিয়ে। আমি এইমাত্র আবার ওটা শুনলাম–তোমরা শোনোনি?

    রন মাথা নাড়ল, ওর চোখ ছানাবড়া। হারমিওন অবশ্য, ওর নিজের কপালে চাপড় দিল।

    হ্যারি–আমার মনে হয় এইমাত্র আমি কিছু বুঝতে পেরেছি! আমাকে লাইব্রেরীতে যেতে হবে।

    এবং দৌড়ে উঠে গেলো সিঁড়ি দিয়ে।

    ও কি বুঝল? বলল হ্যারি অন্যমনস্কভাবে, তখন ও চারদিক দেখছে, বলার চেষ্টা করছে কোত্থেকে কণ্ঠস্বরটা আসছে।

    সে আমার চেয়ে বেশি দায়িত্ব নায়, বলল রন মাথা ঝাঁকিয়ে। কিন্তু ওকে লাইব্রেরীতে যেতে হবে কেন?

    কারণ ওটাইতো হারমিওন করে, বলল রন কাধ আঁকিয়ে। যখনই কোন সন্দেহ, যাও লাইব্রেরীতে।

    হ্যারি দাঁড়িয়ে আছে, অস্থির সংকল্প, কণ্ঠস্বরটা আবার শোনার চেষ্টা করছে, কিন্তু এখন পেছনে গ্রেট হল থেকে লোকজন বেরিয়ে আসতে শুরু করেছে। কথা বলছে জোরে জোরে, সামনের দরজা দিয়ে বেরিয়ে কিডিচ পিচের দিকে যাচ্ছে।

    তুমি বরং যাও, বলল রন। প্রায় এগারোটা বাজে ভুল–ম্যাচটা।

    গ্রিফিল্ডর টাওয়ারে দৌড়ে উঠল হ্যারি, ওর নিশ্বাস দুই হাজারটা নিল এবং খেলার মাঠের ভিড়ের সঙ্গে যোগ দিল, কিন্তু ওর মন পড়ে আছে দূর্গ–প্রাসাদে অশরিরী কণ্ঠস্বরের সঙ্গে, এবং যখন সে ড্রেসিং রুমে রক্তলাল জার্সিটা পড়ছে তখন তার একমাত্র সান্তনা হচ্ছে সকলেই এখন মাঠে খেলা দেখবে বলে।

    প্রবল উত্তেজনা আর হাততালির মধ্যে দুই টীম মাঠে প্রবেশ করল। ওয়ার্ম আপের জন্য অলিভার উজ গোল পোস্টগুলোর চারদিকে ওড়ার জন্যে গেলো। মাদাম হু বলগুলো ছাড়লেন। ক্যানারী হলুদ জার্সি পরা হাফপাফ-এর প্লেয়াররা একত্রে গোল হয়ে কৌশল নিয়ে শেষ মুহূর্তের আলোচনা করছে।

    হ্যারি ওর ঝড়র ওপর উঠছিল, তখনই প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে দেখা গেল আসছেন বিরাট একটা রক্তলাল মেগাফোন হাতে, কিছুটা দৌড়ে, কিছুটা দ্রুত হেঁটে।

    হ্যারির হৃৎপিন্ডটা পাথরের মতো ভারি বোধ হলো।

    এই ম্যাচ বাতিল করা হয়েছে, মেগাফোনে বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল, দর্শক ভর্তি স্টেডিয়ামকে উদ্দেশ্য করে। চারদিক থেকে চিৎকার আর বুউউ ধ্বনি শোনা গেল। অলিভার উডকে মনে হলো বিধ্বস্ত, নামল এবং ও না খুলেই প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের দিকে দৌড়ে গেলো।

    কিন্তু প্রফেসর? চিৎকার করল ও, আমাদের খেলতে হবে…কাপ… গ্রিফিল্ডর…

    ওকে উপেক্ষা করলেন প্রফেসর, মেগাফোনে বলতে লাগলেন, সব ছাত্রকে তাদের হাউজ কমন রুমে যেতে হবে, যেখানে তাদের আরো তথ্য জানাবেন হেডস অফ হাউজ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, প্লিজ!

    তারপর মেগাফোন নামিয়ে তিনি ম্যারিকে ডাকলেন।

    পটার, আমার মনে হয় তুমি বরং আমার সাথে এসো…

    অবাক হয়ে ভাবছে হ্যারি এবারও কিভাবে তাকেই সন্দেহ করছেন তিনি, হ্যারি দেখল বিক্ষুব্ধ ভীড় থেকে নিজেকে বিচ্ছিন্ন করছে রন; ওরা রওয়ানা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গে রনও দৌড়ে এলো কাছে। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল আপত্তি করলেন না, হ্যারি অবাক হলো।

    হ্যাঁ, সেই ভাল, তুমিও আমাদের সঙ্গেই এসো, উইসলি।

    ওদের চারপাশ দিয়ে ভীড় করে যারা ফিরে যাচ্ছে খেলা বাতিল করায় অসন্তোষ প্রকাশ করছে। রন দের উদ্বিগ্ন দেখাচ্ছে। হ্যারি এবং রন প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে অনুসরণ করে স্কুলে ফিরল মার্বেল পাথরের সিঁড়ি ভেঙ্গে উপরে, কিন্তু এবার তাদেরকে কারো অফিসে নিয়ে যাওয়া হলো না।

    ওরা যাচ্ছে হাসপাতালের দিকে। কিছুটা আঘাত পেতে পারে তোমরা, আশ্চর্য নম্রভাবে বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল। আরেকটি হামলা হয়েছে…আরেকটি ডাবল হামলা।

    হ্যারির ভেতরটা ভয়াবহ ভাবে লাফিয়ে উঠল ভয়ানকভাবে। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল দরজাটা খুললেন, হ্যারি আর রন ভেতরে গেল।

    মাদাম পমফ্রে ঝুঁকে আছেন পঞ্চম বর্ষের একজন ছাত্রীর উপর, মেয়েটির চুল কোঁকড়ানো। মেয়েটিকে চিনতে পারল হ্যারি, র‍্যাভেনক্লর ভুল করে এই মেয়েটিকেই স্লিথারিনের কমন রুমের কথা জিজ্ঞাসা করেছিল। এবং ওর পাশের বিছানায়

    হারমিওন! আর্তনাদ করে উঠল রন।

    হারমিওন শুয়ে আছে একেবারে স্থির, ওর চোখ খোলা এবং কাঁচের মতো স্বচ্ছ।

    ওদেরকে লাইব্রেরীর কাছে পাওয়া গিয়েছে, বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল। আমার মনে হয় না তোমাদের কেউ এটা সম্পর্কে বলতে পারবে? এটা শুদের পাশে মেঝেতে পাওয়া গিয়েছে…

    তার হাতে একটা ছোট্ট গোল আয়না।

    হ্যারি আর রন মাথা নাড়ল, দুজনেই তাকিয়ে আছে হারমিওনের দিকে।

    আমি গ্রিফিল্ডর টাওয়ার পর্যন্ত তোমাদের সঙ্গে যাবো, বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল ভারী কণ্ঠে। যাই হোক আমাকে ছাত্রদের প্রতি কিছু বলতেই হবে।

    ***

    সব ছাত্রকে তাদের হাউজ কমন রুমে সন্ধ্যা ছয়টার মধ্যে ফিরতে হবে। ওই সময়ের পর কেউই হোস্টেল থেকে বাইরে যাবে না। ক্লাসে যাওয়ার সময় তোমাদের সঙ্গে একজন করে শিক্ষক যাবেন। কোন ছাত্ৰই শিক্ষকের সাহচর্য ছাড়া বাথরুম পর্যন্ত ব্যবহার করবে না। পরবর্তী সকল কিডি প্রশিক্ষণ এবং ম্যাচ স্থগিত করা হয়েছে। আর কোন সান্ধ্য কর্মকাণ্ড হবে না।

    কমন রুম ভর্তি গ্রিফিল্ডররা প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের বক্তব্য শুনল নিরবে। যে পার্চমেন্ট থেকে তিনি পড়ছিলেন সেটা গোল করে গুটিয়ে নিলেন, ধরা গলায় বললেন, আমার হয়তো বলার অপেক্ষা রাখে না যে খুব কম সময়ই আমি এমন বেদনাহত হয়েছি। মনে হচ্ছে এসব হামলার পেছনের অপরাধীকে ধরা না সম্ভব হলে স্কুল বন্ধ করে দেয়া হবে। যারাই এ সম্পর্কে কিছু জানেন আমি তাদেরকে এগিয়ে এসে আমাদের কাছে বলার জন্যে আবেদন জানাচ্ছি।

    ছবির গর্ত দিয়ে আনাড়ির মতো বেরিয়ে গেলেন তিনি। এবং গ্রিফিল্ডাররা সঙ্গে সঙ্গে কথা বলতে শুরু করল।

    দুজন গ্রিফিল্ডর হামলার শিকার, একজন গ্রিফিল্ডর ভূতকে না ধরেও বলা যায়, একজন র‍্যাভেন এবং একজন হাফলপাফ, আঙুল গুনে বলল জমজ উইসলিদের বন্ধু লী জর্ডান। কোন শিক্ষক কি খেয়াল করেননি যে স্লিথারিনা সবাই নিরাপদে রয়েছে? এটা কি স্পষ্ট নয় যে এই সব হামলা স্লিথারিনদের দিক থেকেই হচ্ছে? স্লিথারিনের বংশধর, স্লিথারিনের দানব–ওরা সব স্লিথারিকে বের করে দেয় না কেন? গর্জন করে উঠল সে।

    পার্সি উইসলি লী জর্ডানের ঠিক পেছনের চেয়ারেই বসে ছিল, কিন্তু এই একবারের জন্য তার মতামত শোনার আগ্রহ দেখা গেল না। ওকে বিবর্ণ এবং হতবাক লাগছিল।

    পার্সি সাংঘাতিক আঘাত পেয়েছে, জর্জ বলল হ্যারিকে আস্তে করে। ওই রাভেন মেয়েটা পেনেলোপ ক্লিয়ারওয়াটার–প্রিফেক্ট। আমার মনে হয় না ও ভেবেছে দানবটা একজন প্রিফেক্টকে আক্রমণ করতে সাহস পাবে না।

    কিন্তু পুরোপুরি শুনছে না ওর কথা। ওর চোখ থেকে হারমিওনের ছবিটা কিছুতেই সরছে না, হাপাতালের বিছানায় শুয়ে রয়েছে যেন পাথর খোদাই করে বানানো হয়েছে। এবং যদি তাড়াতাড়ি অপরাধীকে ধরা না যায়, তাহলে তার ভাগ্যে সারাজীবনের জন্য ডার্সলিদের সাথে কাটানোই রয়েছে ভাগ্যে। টম রিডল হ্যাগ্রিডকে ধরিয়ে দিয়েছে কারণ ওকে মাগল এতিমখানায় থাকতে হতো যদি স্কুল বন্ধ হতো। হ্যারি এখন বুঝতে পারছে ওর ঠিক কেমন লেগেছিল।

    আমরা এখন কি করবো? বলল রন হ্যারির কানে কানে। তুমি কি মনে করো ওর হ্যাগ্রিডকে সন্দেহ করছে?

    আমাদেরকে ওর সঙ্গে কথা বলতে হবে, বলল হ্যারি, ও মন ঠিক করে ফেলেছে। আমি বিশ্বাস করতে পারছি না এবারও সেই, কিন্তু শেষবার ও যদি দানবটাকে ছেড়ে দিয়ে থাকে তবে ও জানবে কি ভাবে চেম্বার অফ সিক্রেটস এর ভেতরে যেতে হয়, এবং সেটাই হবে শুরু।

    কিন্তু প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বলেছেন আমাদেরকে টাওয়ারেই থাকতে হবে, যদি না আমরা ক্লাসে যাই

    আমার মনে হয়, বলল হ্যারি, আরো শান্তভাবে, আবার ড্যাড-এর পুরনো আলখাল্লাটা বের করবার সময় এসেছে।

    ***

    হ্যারি তার বাবার কাছ থেকে একটাই মাত্র জিনিস উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে, আর সেটা হচ্ছে একটা লম্বা, রেশমী অদৃশ্য হওয়ার আলখাল্লা। স্কুল থেকে চুপিসারে বেরিয়ে কেউ যেন জানতে না পারে, হ্যাগ্রিডের সঙ্গে দেখা। করবার ওটাই একমাত্র উপায়। নির্ধারিত সময়ই ওরা শুতে গেল। নেভিল, ডিন এবং সিমাস চেম্বার অফ সিক্রেটস সম্পর্কে আলোচনা শেষ করে ঘুমিয়ে না পড়া পর্যন্ত ওরা অপেক্ষা করল। তারপর উঠল, কাপড় পরল এবং গায়ের ওপর আলখাল্লাটা চড়িয়ে নিল।

    অন্ধকার জনশূন্য করিডোর দিয়ে যাওয়াটা উপভোগ্য হয়নি। হ্যারি আগেও রাতে করিডোর দিয়ে অনেকবার ঘুরে বেড়িয়েছে কিন্তু কখনই সূর্যাস্তের পর এত ভিড় দেখেনি। শিক্ষক, প্রিফেক্টস এবং ভূত করিডোর ধরে সবাই টহল দিচ্ছে জোড়ায় জোড়ায়, যে কোন অস্বাভাবিক তৎপরতায়ই ঘুরে দেখছে। ওদের অদশ্য হওয়ার আলখাল্লা ওদের শব্দগুলো ঢেকে রাখতে পারেনি, বিশেষ করে একটা উদ্বেগের মুহূর্ত ছিল যখন রন তার পায়ের আঙুলে ব্যথা পেল, ঠিক ওই যায়গায় যেখানে স্নেইপ দাঁড়িয়ে পাহারা দিচ্ছিলেন। ইশ্বরকে ধন্যবাদ যে যে মুহূর্তে রন কসম খেল ঠিক সেই মুহূর্তেই স্নেইপও হাঁচি দিল। ওক কাঠের সদর দরজা পর্যন্ত পৌঁছে ওরা আস্তে করে ওটা খুলল।

    পরিস্কার তারা ভরা রাত। হ্যাগ্রিডের বাড়ির আলো জুলা জানালা লক্ষ্য করে ওরা দ্রুত হাঁটছে। এবং একেবারে সদর দরজার ঠিক সামনে গিয়ে তরে আলখাল্লাটা খুলল।

    দরজায় টোকা দেয়ার ঠিক মুহূর্ত পরই হ্যাগ্রিড দরজা খুলে দিল। একেবারে মুখোমুখি ওদের দিকে একটা ক্ৰসবো তাক করে রয়েছে সে, ফাং, হ্যাগ্রিডের বোরহাউন্ড, ওদের দেখে তারস্বরে চিৎকার জুড়ে দিল।

    ওহ, বলল সে, অস্ত্রটা নামিয়ে এবং ওদের দিকে সোজা দৃষ্টিতে তাকিয়ে। তোমরা দুজনে এখানে কি করছ?

    ওটা কিসের জন্য? ক্ৰসবো–টা দেখিয়ে প্রশ্ন করল হ্যারি ভেতরে যেতে যেতে।

    কিছু না…কিছু না, বিড় বিড় করল হ্যাগ্রিড। আমি আশা করছিলাম…কিছু এসে যায় না…বসো…চা বানাচ্ছি…।

    মনে হচ্ছে জানেই না কি করছে ও। প্রায় আগুনটা নিভিয়ে ফেলেছিল, কেটলি থেকে পানি ফেলে দিয়েছিল প্রায় এবং তার বিশাল হাতের ধাক্কায় টিপটটা ভেঙ্গে ফেলল।

    তুমি ঠিক আছে তো হ্যাগ্রিড? বলল হ্যারি। তুমি কি হারমিওনের কথা শুনেছ?

    ওহ, আমি শুনেছি, ঠিকই, বলল হ্যাগ্রিড, ওর স্বর একটু ভাঙ্গা।

    সন্ত্রস্ত সে, বারবার জানালার দিকে তাকাচ্ছে। ওদের দুজনকে বিরাট দুই মগে ফুটন্ত পানি ঢেলে দিল ও (চা–ব্যাগ দিতে ভুলে গেছে), এবং একটা প্লেটে ওদের জন্য দ্রুট কেক দিচ্ছিল সেই সময় দরজায় জোরে জোরে করাঘাত হলো।

    হ্রাগ্রিডের হাত থেকে ফ্রুট কেকটা খসে পড়ল। হ্যারি আর রন ভয় পেয়ে দৃষ্টি বিনিময় কলল, ওরা অদৃশ্য হওয়ার আলখাল্লাটা আবার জড়িয়ে নিয়ে এক কোণায় চলে গেল। হ্যাগ্রিড দেখে নিল ওরা ঠিক মতো লুকিয়েছে কি না। ক্রসবো তুলে নিল, আরেকবার দরজাটা খুলে দিল।

    গুড ইভিনিং হ্যাগ্রিড।

    ডাম্বলডোর এসেছেন। ভেতরে ঢুকলেন, তাকে ভীষণ সিরিয়াস দেখাচ্ছে, তাকে অনুসরণ করে ঢুকল একজন অদ্ভুত দেখতে লোক।

    আগন্তুক বেটে, মোটা, উস্কোখুস্কো সাদা চুল, চেহারায় উদ্বেগের ছাপ। অদ্ভূত মিশ্রণের কাপড় পরে রয়েছেন: চিকণ স্ট্রাইপের স্যুট, রক্তলাল টাই, লম্বা কালো আলখাল্লা এবং সূচালো লাল বুট পরনে। বগলের নিচে লেবুর মতো সবুজ বোলার হাট।

    উনিই ড্যাড-এর বস্! রন বলল। কর্ণেলিয়াস ফাজ, ম্যাজিক মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত মন্ত্রী।

    কনুই দিয়ে গুতো দিয়ে হ্যারি ওকে চুপ করিয়ে দিল।

    ফ্যাকাশে হয়ে গেছে হ্যাগ্রিডের চেহারা, ঘাম ছুটে গেছে। একটা চেয়ারে বসে পড়ল হ্যাগ্রিড, তাকালো ডাম্বলডোর থেকে কর্ণেলিয়াস ফাজ-এর দিকে।

    খারাপ কাজ, হ্যাগ্রিড, যা বললেন কাটা কাটা ভাবে। খুবই খারাপ কাজ। আসতেই হলো। মাগল–জাতদের ওপর চার চারটি হামলা। অনেকদূর গড়িয়েছে। মন্ত্রণালয়কে হস্তক্ষেপ করতেই হচ্ছে।

    আমি কখনো না, বলল হ্যাগ্রিড, ডাম্বলডোরের দিকে অনুনয়ের দৃষ্টিকে তাকিয়ে, আপনি তো জানেন আমি করিনি, প্রফেসর ডাম্বলডোর, স্যার…

    আমি বোঝাতে চাই, কর্নেলিয়াস, যে হ্যাগ্রিডের ওপর আমার পূর্ণ আস্থ রয়েছে, বললেন ডাম্বলডোর, ফাজের দিকে কুপাল কুঁচকে।

    দেখো, অ্যালবাস, বললেন ফাজ, অস্বস্তিতে। হ্যাগ্রিডের রেকর্ডই ওর বিরুদ্ধে। মন্ত্রণালয়কে তো কিছু একটা করতে হবে–স্কুলের গভর্ণররা আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

    তারপরও কর্ণেলিয়াস, আমি বলছি হ্যাগ্রিডকে নিয়ে গেলে পরিস্থিতির একটুও উন্নতি হবে না, বললেন ডাম্বলডোর। ওর নীল চোখে যেন আগুন জ্বলছে, এরকম আগে কখনো দেখেনি হ্যারি।

    আমার অবস্থান থেকে দেখো, বললেন ফাজ, বোলার হ্যাটটা অস্থিরভাবে নাড়ছেন। আমি অনেক চাপের মধ্যে আছি। কিছু কাজ হচ্ছে সেটা অন্তত দেখাতে হবে। যদি দেখা যায় হ্যাগ্রিড দোষী নয়, তাহলে ও ফিরে আসবে, সেটা আর বলাও লাগবে না। কিন্তু এখন আমার ওকে নিয়ে যেতেই হবে। আমার কর্তব্য পালন করা হবে না যদি না

    আমাকে নিয়ে যাবেন, বলল হ্যাগ্রিড কাঁপছে সে। কোথায় নিয়ে যাবেন?

    অল্প সময়ের জন্যে, বললেন ফাজ, হ্যাগ্রিডের চোখে চোখ রাখতে পারলেন না তিনি। কোন শাস্তি নয়, হ্যাগ্রিড, প্রাক সতর্কতা আর কি। যদি অন্য কেউ ধরা পড়ে, একেবারে ক্ষমা চে আপনাকে ছেড়ে দেয়া হবে…

    আজকাবান নয়? বিষণ্ণ কন্ঠে বলল হ্যাগ্রিড।

    ফাজ জবাব দেয়ার আগেই দরজায় আবার জোরে টোকা পড়ল।

    এবার ডাম্বলডোর দরজা খুললেন। এখন হ্যারি রনের পাঁজরে কনুই দিয়ে গুতো মারল: শোনা না যায় এমন একটা দম ফেলল বল।

    মিস্টার লুসিয়াস ম্যালফয় ঢুকছে হ্যাগ্রিডের বাড়িতে, লম্বা একটা ভ্রমণকালীন আলখাল্লা পরনে, মুখে শীতল কিন্তু সন্তুষ্টির হাসি। হ্যাগ্রিডের কুকুর ফ্যাং ঘিউ ঘেউ করে উঠল।

    ইতোমধ্যেই এসে গেছে, ফাজ, বলল সে সমর্থনের ভঙ্গিতে, বেশ, বেশ…

    তুমি এখানে কি করছ? ক্ষিপ্ত হয়ে বলল হ্যাগ্রিড, আমার বাড়ি থেকে বেরিয়ে যাও।

    মাই ডিয়ার, প্লিজ আমাকে বিশ্বাস করো, আমার মোটেও ইচ্ছা নেই তোমার এই কি বললে–তুমি এটাকে বাড়ি বললে, বাড়ীতে জাসার। বিদ্রুপের ভঙ্গিতে ঘরটা দেখতে দেখতে বললেন লুসিয়াস ম্যালফয়। আমি স্কুলে গিয়েছিলাম, আমাকে ওখান থেকে বলল, হেডমাস্টার সাহেব এখানেই রয়েছেন।

    এবং আমার সাথে, ঠিক কি চাচ্ছো লুসিয়াস? জিজ্ঞাসা করলেন ডাম্বলডোর। বললেন ভদ্ৰ ভাবেই কিন্তু ওর নীল চোখের সেই আগুনটা এখনো রয়ে গেছে।

    ভয়াবহ ব্যাপার, ডাম্বলডোর, অলসভাবে বললেন মিস্টার লুসিয়াস, পার্চমেন্টের একটা লম্বা রোল বের করলেন পকেট থেকে, গভর্ণররা মনে করেন তোমার পদত্যাগ করা উচিৎ। এই যে সাসপেনশনের আদেশ-এর মধ্যে বারো জনেরই স্বাক্ষর রয়েছে। আমার মনে হচ্ছে তুমি তোমার কর্মক্ষমতা হারাচ্ছ। এখন পর্যন্ত কয়টা হামলা হয়েছে? আরো দুটো আজ বিকেলে, তাই না? এই হারে হতে থাকলে হোগার্টস-এ কোন মাগল–জাত থাকবে না, এবং আমরা সকলেই জানি সেটা স্কুলের জন্য কি সাংঘাতিক ক্ষতির ব্যাপার হবে।

    ওহ, দেখো লুসিয়াস, বললেন ফাজ, শঙ্কিত মনে হচ্ছে তাকে, ডাম্বলডোর সাসপেনশনে…না..না এই মুহূর্তে যেটা একেবারেই চাই না…

    হেডমাস্টারের নিয়োগ–অথবা সাসপেনশন ব্যাপারটা গভর্ণরদের হাতে, ফাজ, বললেন মিস্টার ম্যালফয় শান্তভাবে। এবং ডাম্বলডোর এই হামলাগুলি ঠেকাতে ব্যর্থ হয়েছে…

    দেখো, লুসিয়াস, যদি ডাম্বলডোর না থামাতে পারে– বললেন ফাজ, ওর উপরের ঠোঁট ঘামছে, আমি বলতে চাচ্ছি, কে পারবে?

    সেটা দেখার অপেক্ষা, বললেন মিস্টার ম্যালফয়, মুখে একটা নোংরা হাসি। কিন্তু যেহেতু আমরা বারো জনই ভোট দিয়েছি…

    হ্যাগ্রিড লাফিয়ে উঠে দাঁড়াল, ওর লম্বা বিশৃংখল চুলের কালো মাথাটা সিলিং-এ গিয়ে ঠেকেছে।

    এবং কতজনকে তোমার ভয় দেখাতে হয়েছে বা ব্ল্যাকমেল করতে হয়েছে ওদের সম্মত করাতে, ম্যালফয়, এহ? গর্জন করে উঠল সে।

    ডিয়ার, ডিয়ার, তুমি জান, তোমার এই মেজাচটাই তোমাকে একদিন বিপদে ফেলবে, হ্যাগ্রিড, বললেন মিস্টার ম্যালফয়। আমি তোমাকে উপদেশ দিচ্ছি আজকাবান গার্ডদের উদ্দেশে অমনভাবে চিৎকার করো না। ওরা এটা মোটেই পছন্দ করবে না।

    তোমরা ডাম্বলডোরকে নিয়ে যেতে পারে! চিৎকার করে উঠল হ্যাগ্রিড, ফ্রাং–ওর কুকরটা ঝুড়িতে বসে আরো ভয় পেয়ে কুঁই কুঁই করে উঠল। ওঁকে নিয়ে যাও, এরপর মাগল–জাতদের আর বাচ্চার কোন সম্ভাবনাই নেই! এরপর খুন হতে থাকবে!

    নিজেকে সামলাও, হ্যাগ্রিড, তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বললেন ডাম্বলডোর। তাকালেন লুসিয়াস ম্যালফয়ের দিকে।

    যদি গভর্ণররা আমাকে সরাতে চান, লুসিয়াস, তাহলে অবশ্যই আমি সরে দাঁড়াবো।

    কিন্তু– তোতলাচ্ছেন ফাজ।

    না! গর্জন করল হ্যাগ্রিড।

    ম্যালফয়ের ঠান্ডা ধূসর চোখের ওপর থেকে ডাম্বলডোর তার নীল উজ্জ্বল চোখ সরাননি।

    যাই হোক, বললেন ডাম্বলডোর, অত্যন্ত পরিষ্কারভাবে এবং ধীরে, যেন কোন শব্দই শুনতে কারো অসুবিধা না হয়, তোমরা দেখবে আমি সত্যিকার অর্থে তখনই স্কুল ছেড়ে যাবে, যখন এখানে আমার অনুগত আর কেউই থাকবে না। এও দেখবে এই সাহায্যটা সব সময়ই হোগার্টস্-এ করা হয়, যখনই কেউ চায়।

    মুহূর্তের জন্য হ্যারি ভাবল সে আর রন যেখানে লুকিয়ে রয়েছে সেই দিকেই ডাম্বলডোরের চোখটা ঘুরে গেল।

    প্রশংসারযোগ্য সেন্টিমেন্ট, বললেন ম্যালফয় কুর্ণিশ করে। আমরা সকলেই তোমাকে মিস–মানে এককভাবে তোমার সব কিছু করার স্টাইলটাকে মিস করবো, অ্যালবাস, এবং আশা করবো তোমার উত্তরাধিকার খুন বন্ধ করতে সক্ষম হবে।

    কেবিনের দরজা পর্যন্ত গেলেন লুসিয়াস ম্যালফয়, খুললেন এবং কুর্নিশ করে ডাম্বলডোরকে বাইরে নিয়ে গেলেন। ফাজ তার বোলার হ্যাট হাতে নিয়ে নাড়ছেন, অপেক্ষা করলেন হ্যাগ্রিডকে তার আগে যাওয়ার জন্যে, কিন্তু হ্যাগ্রিড দাঁড়িয়েই রয়েছে, একটা গভীর শ্বাস নিয়ে সে বলল, কেউ যদি কোন কিছু খুঁজে পেতে চায়, তাকে শুধু মাকড়শাদের অনুসরণ করতে হবে। ওরাই কে ঠিক পথে নিয়ে যাবে! আমার এ পর্যন্তই বলা।

    বিস্মিত ফাজ তার দিকে তাকিয়ে রইল।

    এই যে, আমি আসছি, বলল হ্যাগ্রিড, ওর ওভারকোটটা গায়ে দিতে দিতে। ফাজের পেছন পেছন যেতে যেতে আবার থামল এবং জোরে বলল, আমি যখন থাকব না, তখন ফ্যাং–কে খাওয়া দেয়ার প্রয়োজন হবে।

    দড়াম করে দরজাটা বন্ধ হলো। অদৃশ্য হওয়ার আলখাল্লাটা রন খুলে ফেলল।

    আমরা এখন বিপদে আছি, বলল কর্কশ গলায়। ডাবলডোর নেই। আজ রাতে ওরা স্কুলও বন্ধ করে দিতে পারে। উনি না থাকলে প্রতিদিন একটা করে হামলা হবে।

    দরজায় গা ঘষা-ঘষি করছে ফ্যাং, ডাক ছাড়ছে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }