Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প406 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৫. দ্য হোমপিং উইলো

    ০৫. দ্য হোমপিং উইলো

    গ্রীষ্মের ছুটিটা দ্রুতই শেষ হয়ে গেলো। এটাই হ্যারি চায়। হোগার্টস-এ ফিরে যাওয়ার জন্যে সে অস্থির হয়ে পড়েছিল, কিন্তু এটাও ঠিক যে দ্য বারোতে কাটানো এই এক মাসই ছিল তার জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়। যখনই সে ডার্সলিদের কথা মনে করে আর এর পরে প্রিভেট ড্রাইভে ফিরে গেলে তার সম্বর্ধনার কথা ভাবে তখনই রনের প্রতি একটু হলেও ইর্ষা বোধ করে।

    শেষের সন্ধ্যায় মিসেস উইসলি আয়োজন করলেন ব্যয়বহুল এক ডিনারের, হ্যারির প্রিয় ডিশ সবগুলোই ছিল ওতে, আর শেষে ছিল মুখে জল আসা গুড়ের পুডিং। সন্ধ্যায় ফ্রেড আর জর্জ ফিলিবাস্টার আতশবাজি দেখালো, কিচেনে তাদের তৈরি লাল–নীল তারাগুলো অন্তত আধঘন্টা ধরে দেয়াল আর সিলিং জুড়ে নাচানাচি করল। সবশেষে এক মগ গরম চকলেট খেয়ে বিছানায় গেলো ওরা।

    পরদিন সকালে রওয়ানা হতে হতেই অনেক দেরী হয়ে গেলো। সেই মোরগ–ডাকা ভোরে উঠল ওরা, তারপরও যেন গোছানোই শেষ হয় না। মিসেস উইসলির মেজাজ খারাপ, খুঁজছেন অতিরিক্ত জোড়া মোজা এবং বড় পালক। সবাই অতি ব্যস্ত সিঁড়িতে এ ওর সাথে ধাক্কা খাচ্ছে, কারো কাপড় পরা হয়েছে অর্ধেক হাতে টোস্টের একটু টুকরো, জিনির ট্রাংক নিয়ে উঠোন পেরোবার সময় হঠাৎ মুরগীর বাচ্চা সামনে পড়ায় টপকাবার সময় মিস্টার উইসলি তো নিজের ঘাড়টাই মটকাবার ব্যবস্থা করেছিলেন।

    হ্যারি ভাবতেই পারছে না কি করে আটজন মানুষ, ছয়টা বড় ট্রাংক, দুটো পেঁচা আর একটা ইঁদুর ছোট্ট একটা ফোর্ড অ্যাংলিয়ার মধ্যে আঁটবে। অবশ্য মিস্টার উইসলি যে বিশেষ বৈশিষ্ট্য গাড়িতে যোগ করেছেন সেগুলো হিসাবে নিলে অন্য কথা।

    মলিকে একটি শব্দও বলা যাবে না, ফিস ফিস করে বললেন তিনি, গাড়ির পেছনের ডালাটা তুললেন, হ্যারি দেখল জাদুবলে ওটা এত বড় হয়েছে যে ট্রাংকগুলো সহজেই ওতে ধরে গেছে।

    সবাই গাড়িতে উঠল, মিসেস উইসলি পেছনের সিটের ওপর একবার চোখ বুলিয়ে নিলেন, ওখানে হ্যারি, রন, ফ্রেড, জর্জ এবং পার্সি পাশাপাশি খুব আরামেই বসেছে, বললেন, আমরা যতটা ভাবি মাগলরা এর চেয়ে বেশি জানে তাই না? তিনি আর জিনি সামনের সিটে ওঠে বসলেন, ওটাও এতই লম্বা হয়ে গেছে যেন পার্কের বেঞ্চ একটা। আমি বলতে চাচ্ছি বাইরে থেকে তুমি ভাবতেও পারো না যে এতে এত জায়গা রয়েছে, পারো?

    মিস্টার উইসলি গাড়ির ইঞ্জিন চালু করলেন, উঠোন থেকে ধীরে ধীরে গড়িয়ে বের হলো গাড়ি, ঘাড় ঘুরিয়ে হ্যারি শেষবারের মতো বাড়িটা দেখে নিল। ফিরে এসে কখন যে আবার বাড়িটাকে দেখতে পাবে ভাববারও সময় পেলো না হ্যারি। জর্জ তার ফিলিবাস্টার আতশবাজির বাক্সটা ছেড়ে এসেছে, থামতে হলো। এর পাঁচ মিনিট পর আবার গাড়ি থামাতে হলো, এবার ব্রেকটা জোরেই কষতে হলো বলে পিছলে গেলো গাড়িটা, ফ্রেড দৌড়ে গিয়ে ওর ঝাড়ুলাঠিটা নিয়ে এলো। বড় সড়কে প্রায় যখন পৌঁছে গেছে ওরা তখন জিনির তীক্ষ্ণ চিৎকার ডায়রি ফেলে এসেছে ও। এরপরে এসে ও যখন গাড়িতে উঠল, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে ওদের এবং মেজাজ সবার চড়তে শুরু করেছে। মিস্টার উইসলি একবার ঘড়ির দিকে তাকালেন একবার স্ত্রীর দিকে।

    মলি, ডিয়ার

    না, আর্থার।

    কেউ দেখতে পাবে না। এই ছোট্ট বোতামটা এখানে আমি লাগিয়েছি এটা একটা অদৃশ্য বুস্টার–ওটা আমাদের শূন্যে তুলে দেবে–এরপর আমরা মেঘের ওপর দিয়ে উড়ে যাবো। দশ মিনিটে ওখানে পৌঁছে যাবো এবং কেউ এটা ভাবতেও পারবে না।

    আর্থার না, প্রকাশ্যে দিনের বেলা না।

    পৌনে এগারোটায় ওরা কিংস ক্রসে পৌঁছল। মিস্টার উইসলি ছুটলেন ওদের ট্রাংকগুলোর জন্য ট্রলি আনতে বাকীরা সব দ্রুত স্টেশনে ঢুকল।

    গতবছরও হ্যারি হোগার্টস এক্সপ্রেস-এ চড়েছে। ও জানে কৌশলটা। প্লটফর্ম নম্বর পৌনে দশ-এ যেতে হবে এবং মাগলদের চোখে ওটা ধরা পড়ে না। প্লাটফর্ম নয় এবং দশ এর মাঝখানের পাকা দেয়ালের মধ্য দিয়ে হেঁটে যেতে হবে। ব্যথা পাওয়া যায় না ঠিকই কিন্তু সাবধান হতে হবে যেন মাগলরা অদৃশ্য হতে না দেখে ফেলে।

    প্রথমে পার্সি, মাথার ওপরের ঘড়িটার দিকে নার্ভাস দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললেন মিসেস উইসলি। মাত্র পাঁচ মিনিট রয়েছে ওদের দেয়ালের মধ্য দিয়ে অদৃশ্য হওয়ার।

    পার্সি দ্রুত সামনে হেঁটে গিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো। পরে গেলেন মিস্টার উইসলি, তাকে অনুসরণ করল ফ্রেড এবং জর্জ।

    আমি জিনিকে নিয়ে যাচ্ছি, আর তোমরা দুজন ঠিক আমার পেছন পেছন এসো, মিসেস উইসলি হ্যারি এবং রনকে বললেন। জিনির ডান হাত ধরে তিনি চোখের পলকে অদৃশ্য হয়ে গেলেন।

    রন হ্যারিকে বলল, আমাদের হাতে আর মাত্র এক মিনিট রয়েছে, চলো আমরা একসঙ্গে যাই।

    হ্যারি নিশ্চিত হয়ে নিল যে হেডউইগের খাঁচাটা ওর ট্রাংকের ওপর নিরাপদেই রয়েছে তারপর ট্রলিটাকে এগিয়ে নিয়ে দেয়ালের মুখোমুখি হওয়ার উপক্রম হলো। ও মোটামুটি আত্মবিশ্বাসী ছিল, এটা ফ্লু পাউডার ব্যবহারের মতো অস্বস্তিকর ছিল না। ওরা দুজনেই ওদের ট্রলির হ্যান্ডেলের ওপর ঝুঁকে সোজা দেয়াল লক্ষ্য করেই এগিয়ে গেল, গতি বাড়িয়ে দিল। কয়েক ফিট দূরে থাকতে দৌড়াতে শুরু করল ওরা এবং

    ক্র্যাশ। বিকট শব্দ।

    দুটো ট্রলিই দেয়ালের সঙ্গে প্রাচণ্ড ধাক্কা খেল এবং ফিরে এলো। প্রচণ্ড শব্দে রনের ট্রাংকটা গেল পড়ে, হ্যারি নিজেই পড়ে গেল মাটিতে, হেডউইগের খাঁচাটা উড়ে গিয়ে পড়ল মাটিতে এবং অপমানে তীক্ষ্ণ চিৎকার করতে করতে সে গড়িয়ে গেল। বিস্ময়ে চারদিকের সব লোক ওদের দিকে তাকিয়ে রইল, ওদের কাছে দাঁড়ানো গার্ডটা চিৎকার করে উঠল, দোজখের কসম! এই যে তোমরা দুজন কি করছ?

    ট্রলিটা হাত ফস্কে গিয়েছিল,হাঁপাতে হাঁপাতে বলল হ্যারি। উঠতে উঠতে পাঁজরের হাড় চেপে ধরল ব্যথায়। রন দৌড়ে গেলো হেডউইগকে তোলার জন্য, এরই মধ্যে যা সিন ক্রিয়েট করে ফেলছে ওটা, উপস্থিত লোকজন পশু পাখির প্রতি নিষ্ঠুরতা নিয়ে এরই মধ্যে কথা বলতে শুরু করে দিয়েছে।

    আমরা যেতে পারছি না কেন? চাপা স্বরে হ্যারি জিজ্ঞাসা করল রনকে।

    আমি জানি না।

    রন এদিক ওদিক তাকাল তখনও ডজন খানেক কৌতূহলী ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে।

    আমরা ট্রেনটা মিস করছি, রন ফিস ফিস করে বলল। বুঝতে পারছি না প্রবেশপথটা কেন নিজেকে বন্ধ করে দিয়েছে।

    বিশাল ঘড়িটার দিকে তাকাল হ্যারি, ওর পেটে যেন কে সুড়সুড়ি দিল। দশ সেকেন্ড….. নয় সেকেন্ড…

    ও এবার ট্রলিটাকে সাবধানে একেবারে দেয়ালের মুখোমুখি নিয়ে দাঁড় কাল, গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে ধাক্কা দিল। ধাতব দেয়ালটা অটল রইল।

    তিন সেকেন্ড…দুই সেকেন্ড…এক সেকেন্ড….

    চলে গেছে, বলল রন, চলে গেছে, বলল রন পাথরের স্বরে। ট্রেনটী চলে গেছে। মাম আর ড্যাড যদি আমাদের কাছে গেট দিয়ে ফিরে না আসতে পারে তাহলে কি হবে? তোমার কাছে কি কোনো মাগল টাকা রয়েছে?

    অর্থহীনভাবে হাসল হ্যারি। বলল, প্রায় ছয় বছর হয়ে গেলো ডার্সলিরা আমাকে কোনো পকেট খরচা দেয়নি।

    শীতল নীরব দেয়ালটার গায়ে কান ঠেকাল রন।

    কোনকিছুই শুনতে পাচ্ছি না, চাপা উত্তেজনায় বলল ও। আমরা এখন কী করব? জানি না মাম আর ড্যাড-এর ফিরে আসতে কতক্ষণ লাগবে।

    চারদিকে তাকাল ওরা। লোকজন তখনও ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছে, বিশেষ করে হেডউইগের বিরামহীন চিৎকারের জন্য।

    আমার মনে হয় আমদের গাড়ির কাছে গিয়েই অপেক্ষা করা উচিত, বলল হ্যারি। এখানে আমরা দৃষ্টি আকর্ষণের বস্তুতে পরিণত হয়েছি

    হ্যারি! বলল রন, ওর চোখ জোড়া চক চক করছে। গাড়িটা!

    ওটার আবার কি হলো?

    আমরা গাড়িটা উড়িয়ে হোগার্টস-এ যেতে পারি।

    কিন্তু আমার মনে পড়ছে—

    আমরা এখানে আঁটকে গেছি, ঠিক তো? এবং আমাদের স্কুলে যেতেই হবে, তাই না? আর অপ্রাপ্তবয়স্ক উইজার্ডরাও জাদুবিদ্যা প্রয়োগ করতে পারে, রেস্ট্রিকশন অফ খিঙ্গি… আইনের উনিশ ধারা বা ওরকমই একটা কিছু..

    হ্যারির ভয় হঠাৎ করেই যেন আগ্রহ আর উত্তেজনায় পরিণত হলো।

    তুমি ওটা ওড়াতে পারবে?

    কোনো সমস্যা নেই, বলল রন, ট্রলিটা ঘোরালো বেরিয়ে যাওয়ার জন্যে। এসো, চলো যাই, তাড়াতাড়ি করলে আমরা হোগার্টস এক্সপ্রেসকে অনুসরণ করতে পারব।

    কৌতূহলী মাগলদের ভীড় ঠেলে ওরা বেরিয়ে গেলো, স্টেশনের বাইরে, গলিটার ওখানে, একেবারে যেখানে পুরনো ফোর্ড অ্যাংলিয়াটা পার্ক করা রয়েছে।

    হাতের জাদুদণ্ডটার কয়েকটা টোকায় রন গুহার মতো দেখতে ওটার পেছনের ডালাটা খুলল। ওদের ট্রাংকগুলো ওখানে রাখল, হেডউইগকে রাখল পেছনের সীটে, নিজেরা বসল সামনের সীটে।

    লক্ষ্য করো কেউ আমাদের খেয়াল করছে কি না, বলল রন। জাদুদণ্ডের আরেক টোকায় গাড়ি স্টার্ট করল। জানালা দিয়ে মাথা বের করে হ্যারি দেখল সামনের বড় রাস্তায় গাড়ি ঘোড়া চলছে কিন্তু ওদের গলিটা একেবারে খালি।

    ঠিক আছে, বলল সে।

    ড্যাশবোর্ডের একটা ছোট্ট রূপালি বোতামে চাপ দিল রন। ওদের গাড়ি আর ওরা অদৃশ্য হয়ে গেলো। হ্যারি অনুভব করছে ওর সীটটা কাঁপছে। ইঞ্জিনের শব্দও শুনতে পেলো। হাঁটুর ওপর নিজের হাত দুটেকে অনুভব করতে পারল ও। নাকের ডগায় চশমাটাও রয়েছে বুঝতে পারল। কিন্তু যা দেখল তা হচ্ছে ও নিজে এক জোড়া চোখ হয়ে গেছে, ভাসছে মাটি থেকে কয়েক ফিট ওপরে পার্ক করা গাড়ি ভর্তি ছোট্ট একটা নোংরা রাস্তায়।

    চলো যাওয়া যাক, ওর ডান দিক থেকে শোনা গেল রনের স্বর।

    গাড়িটা উপরে উঠতেই নিচের মাটি আর দুপাশের নোংরা বিল্ডিংগুলো দৃষ্টির বাইরে চলে গেলো, মুহূর্তের মধ্যেই ওদের নিচে গোটা লন্ডন নগরী ধোঁয়াটে আর চিকমিক করছে।

    তারপর একটা ফট শব্দ, আবার দৃশ্যমান হলো হ্যারি, রন এবং গাড়িটা। আহ, ওহ, চিৎকার করে উঠল রন, অদৃশ্য হওয়ার বুস্টারটি থাপড় মেরে। এটা খারাপ।

    ওরা দুজনেই ওটার উপর উপর্যুপরি ঘুষি মারল। গাড়িটা অদৃশ্য হয়ে গেলো। আবার দৃশ্যমান হলো।

    দাঁড়াও! রন চিৎকার করল, অ্যাকসেলেটার দাবিয়ে ধরল, সোজা নীচু পেজার মতো মেঘের ভেতর প্রবেশ করল ওরা। সবকিছুই নিষ্প্রভ আর কুয়াশাচ্ছন্ন হয়ে গেলো।

    এখন কী? বলল হ্যারি, চারদিকের ঘনিয়ে আসা ঘন মেঘের দিকে তাকিয়ে।

    ট্রেনটাকে দেখতে হবে, তাহলে বোঝা যাবে কোনদিকে যেতে হবে, বলল রন।

    আবার নিচে নামো দ্রুত

    মেঘের নিচে নামল ওরা, সীটের ওপর বাঁকা হয়ে চোখ কুঁচকে নিচে মাটিতে দেখার চেষ্টা করল

    আমি ওটাকে দেখতে পাচ্ছি! চিৎকার করে উঠল হ্যারি। একেবারে লোজা–ওইখানে!

    ওদের নিচে দৌড়চ্ছে হোগার্টস এক্সপ্রেস টকটকে লাল একটা সাপের মতো।

    উত্তর দিকে যাচ্ছে, বলল রন, ড্যাশবোর্ডের কম্পাসটা দেখে নিয়ে। ঠিক আছে, আধ ঘন্টা পর পর এটার গতিপথ চেক করলেই চলবে। দাঁড়াও–ওরা আবার মেঘের উপরে উঠে গেল এবং চোখ ধাঁধানো রোদের বন্যায় গিয়ে পড়ল ওরা।

    যেন এক ভিন্ন জগত। গাড়ির চাকা তুলোর মতো মেঘ কাটছে, উজ্জ্বল আকাশ সীমাহীন নীল চোখ ধাঁধানো সাদা সূর্যের নিচে।

    আমাদের এখন একটাই দুশ্চিন্তা, অ্যারোপ্লেন, বলল রন।

    ওরা পরস্পরের দিকে তাকাল, হাসিতে ফেটে পড়ল; অনেকক্ষণ ওদের হাসি থামল না।

    যেন ওরা একটা অবিশ্বাস্য স্বপ্নের মধ্যে রয়েছে। এটাই, ভাবল হ্যারি, হোগার্টস-এ যাওয়ার একমাত্র নিশ্চিত উপায়। তুষার সদৃশ মেঘের ঘূর্ণি পেরিয়ে, উষ্ণ উজ্জ্বল সূর্যালোকে আলোকিত গাড়িতে, হাতমোজা রাখার ঘোপে বড়সড় একটা টফির প্যাকেট। হোগর্টস দুর্গের সামনে ওদের দর্শনীয় অবতরণে ফেড্র আর জর্জের ঈর্ষাপূর্ণ দৃষ্টির সম্ভাবনার কথা কল্পনা করছিল হ্যারি।

    আরো আরো উত্তরে উড়ে যেতে যেতে ওরা ট্রেনটাকে নিয়মিত চেক করল, যতবার মেঘের নিচে নেমেছে ততবারই একটা নতুন দৃশ্য দেখেছে। দ্রুতই লন্ডন ওদের চোখের আড়ালে চলে গেল, তার জায়গায় দেখা যেতে লাগল পরিষ্কার সবুজ মাঠ, তারপর প্রশস্ত গোলাপি পতিত জমি, গ্রাম, খেলনার মতো ক্ষুদ্র চার্চ এবং এরপর একটি বড় নগরী, বহুবর্ণের পিঁপড়ার মতো অসংখ্য গাড়ি।

    কোনরকম অঘটন ছাড়াই কয়েক ঘন্টা পেরিয়ে যাওয়ার পর হ্যারিকে মনে মনে স্বীকার করতেই হলো, আনন্দের অনেকখানিই উবে গেছে। টফি খেতে খেতে ওদের যারপরনাই তেষ্টা পেয়েছে, কিন্তু পান করবার কিছুই নেই। সে আর রন গা থেকে ওদের জাম্পার খুলে ফেলেছে, কিন্তু হ্যারির টি-শার্ট সীটের পেছনে লেগে যাচ্ছিল আর চশমাটা বার বার পিছলে তার ঘামে ভেজা নাগের ডগায় চলে আসছিল। এখন আর মেঘের অপূর্ব আকৃতি দেখছে না সে, বরং নিচের ট্রেনটার কথাই ভাবছিল, যেখানে মোটসোটা ডাইনীরা ট্রলিতে করে বরফ-শীতল কদুর জুস বিক্রি করে। কি হয়েছিল? কেন ওরা প্লটফরমে পৌনে দশ-এ ঢুকতে পারল না?

    আর খুব বেশি দূরে হবে না, কি বলো? যেন যন্ত্রণায় কাতরে বলল রন, কয়েক ঘন্টা পর, সূর্য যখন মেঘের মধ্যে ডুবতে শুরু করেছে ঘন গোলাপী রঙ্গে রাঙিয়ে। ট্রেনটাকে আরেকবার চেক করবার জন্য প্রস্তুত?

    তখনও ওটা ওদের নিচেই রয়েছে, এঁকে-বেঁকে একটি তুষার আবৃত পাহাড় পেরোচ্ছে। মেঘের আচ্ছাদনের নিচে অনেক বেশি অন্ধকার।

    একসেলেটারে পা দাবিয়ে রন আবার উপরে উঠে এলো, সঙ্গে সঙ্গে কঁকিয়ে উঠল ইঞ্জিন।

    হ্যারি আর রন সন্ত্রস্ত দৃষ্টি বিনিময় করল।

    সম্ভবত ক্লান্ত হয়ে গেছে, বলল রন। এর আগে কখনো এতদূরে আসেনি গাড়িটা

    গাড়ির আর্তনাদের শব্দ ক্রমেই বাড়ছে, ওরা না শোনার ভান করল। আকাশ ক্রমেই অন্ধকার হয়ে আসছে। একটা দুটো করে তারা ফুটছে। হ্যারি ওর আবার জাম্পার গায়ে চড়ানো। গাড়ির উইন্ডস্ক্রীন ওয়াইপারগুলো ধীরে ধীরে দুর্বলভাবে নড়ছে, যেন প্রতিবাদ করছে। না দেখার ভান করল হ্যারি।

    আর খুব বেশি দূর নয়, বলল রন, যতটা না হ্যারিকে তার চেয়েও বেশি গাড়িটাকে শোনাবার জন্যে। এখন আর দূরে নেই, ড্যাশবোর্ডে আস্তে করে চাপড় মারছে রন বিচলিতভাবে।

    একটু পরে আবার যখন ওরা মেঘের নিচে নেমে এলো, অন্ধকারের মধ্যে চোখ কুঁচকে ওদেরকে পরিচিত চিহ্নগুলো খুঁজতে হলো।

    ওই যে! ওখানে! হ্যারি চিৎকার করে উঠল, লাফিয়ে উঠল রন আর হেডউইগ। সোজা নাক বরাবর।

    অন্ধকার দিগন্তের পটভূমিতে আবছা, লেকের ধারে খাড়া পাহাড়টার ওপরে দাঁড়িয়ে হোগার্টস ক্যাসল-এর টাওয়ারগুলো।

    কিন্তু গাড়ি ততক্ষণে কাঁপতে শুরু করেছে, গতি কমছে।

    এই তো এসে পড়েছি, বলল রন আদর করে, স্টিয়ারিংটাকে ছোট্ট একটা ঝাঁকুনি দিয়ে, প্রায় পৌঁছে গেছি, অমন করে না–

    ইঞ্জিনটা আর্তনাদ করে উঠল। বনেটের নিচ থেকে ধোয়ার সরু কুণ্ডলী বেরুচ্ছে সবেগে। লেকের দিকে উড়ে যাচ্ছ ওরা। হ্যারি খুব জোরে ওর সীটের ধার আঁকড়ে ধরল।

    গাড়িটা বিচ্ছিরিভাবে এপাশ-ওপাশ নড়ে উঠল। জানালার বাইরে তাকিয়ে মাইলখানেক নিচে হ্যারি দেখতে পেল মসৃণ, কালো কাঁচের মতো স্বচ্ছ পানি। প্রাণপনে ঠেসে ধরার কারণে স্টিয়ারিং-এর উপর রনের আঙুলের নখ সাদা হয়ে গেছে। গাড়িটা আবার প্রবলভাবে এপাশ-ওপাশ ঝাঁকি খেলো।

    এই তো এসে গেছি, বিড় বিড় করে বলল রন।

    ওরা এখন লেকের উপর, হোগার্টস ঠিক বরাবর সামনে… রন ওর পা দাবালো একসেলিটারে।

    প্রচণ্ড জোরে একটা ধাতব শব্দ হোলো। ফুত ফুত শব্দ করে ইঞ্জিন একেবারেই বন্ধ হয়ে গেলো।

    আহ ওহ, নীরবতার মধ্যে বলল রন।

    গাড়ির সামনের দিকটা নিচের দিকে খাড়া ডাইভ দিল। ওরা পড়ছে, গতি বাড়ছে, একেবারে হোগার্টস ক্যাসেলের কঠিন দেয়ালের দিকে।

    না আ আ আ আ! চেঁচিয়ে উঠল রন, স্টিয়ারিং ঘোরালো; গাড়িটা বিরাট একটা বাঁক নেয়াতে মাত্র কয়েক ইঞ্চির জন্য ওরা পাথরের দেয়ালটা এড়িয়ে যেতে পারল। অন্ধকার গ্রিনহাউজগুলোর উপর দিয়ে উড়ে গিয়ে সব্জির মাঠগুলো পেরিয়ে বেরিয়ে এলো ওরা কালো লনগুলোর ওপর। যত এগোচ্ছে তত নিচে নামছে ওরা।

    স্টিয়ারিংটা পুরোপুরি হাত থেকে ছেড়ে দিল রন। পেছনের পকেট থেকে জাদুদণ্ডটা বের করল।

    থামো! থামো! চীৎকার করে উঠল সে, দণ্ড দিয়ে গাড়ির ড্যাশবোর্ড আর উইন্ডস্ক্রীনে টোকা দিতে দিতে। কিন্তু তখনও ওরা দ্রুত নিচে নামছে, মাটি যেন ওদের দিকে উড়ে আসছে…

    সাবধান ওই গাছটা খেয়াল রেখো! এবার হ্যারি চিৎকার করে উঠল, লাফ দিয়ে স্টিয়ারিংটা ধরবার চেষ্টা করল, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে

    ক্রাংক।

    ধাতু আর কাঠের সংঘর্ষের কান ফাটানো শব্দের মধ্য দিয়ে তারা গাছের গুঁড়িটাতে গিয়ে সজোরে আঘাত করল, মাটিতে যখন পড়ল কেঁপে উঠল গাড়িটা। বেড়ানো বনেটের নিচ থেকে প্রচুর বাষ্প বেরুচ্ছে; ভয়ে কাঁপছে হেডউইগ, উইভীনের সঙ্গে যেখানে হ্যারির মাখার সংঘর্ষ হয়েছে সেখানে গলফ বলের সাইজের একটা আলু দপ দপ করছে, ডান দিকে শোনা গেল রনের নিচু স্বরের হতাশাকাতর যন্ত্রণার আওয়াজ।

    তুমি ঠিক আছ তো? বিচলিত হয়ে জিজ্ঞাসা করল হ্যারি।

    আমার জাদুদণ্ড, বলল রন, ওর স্বর কাঁপছে। আমার জাদুদণ্ডটা খোঁজ।

    ওটা ভেঙ্গে গেছে, প্রায় দুই ভাগ, কোনরকমে জোড়া লেগে আলগাভাবে ঝুলছে।

    হ্যারি বলতে যাচ্ছিল ওটা নিশ্চয়ই স্কুলে ঠিক করা যাবে, কিন্তু বলতে পারল না। ঠিক সেই মুহূর্তে তার দিকে কে যেন আক্রমণ করল তেড়ে আসা ষাড়ের মতো। ছিটকে পড়ল সে বনের দিকে, প্রায় সঙ্গে সঙ্গেই একই শক্তিতে গাড়ির ছাদেও হামলা হলো।

    কি হচেছ?

    ঘন ঘন শ্বাস টানছে রন। উইন্ডস্ক্রীন দিয়ে বাইরে দেখার চেষ্টা করছে। আর হ্যারি যেন সময়মতোই মাথা ঘুরিয়েছিল পাইথনের মতো গাছের ডালটাকে উইস্ক্রীন চুরমার করতে দেখার জন্যে। যে গাছটাকে ওরা গাড়ি দিয়ে মেরেছে ওই গাছটাই ওদের আক্রমণ করেছে। ওটার গুঁড়িটা বাঁকা হয়ে প্রায় অর্ধেক হয়ে গেছে, ওটার গাঁটযুক্ত শাখাগুলো গাড়ির যেখানে যেখানে নাগাল পাচ্ছে সেখানেই উপর্যপুরি ঘুষি মারছে।

    আ আ র ঘ! বলল রন, ওর দিকের দরজাটা দাবিয়ে দিল অরেকটি বাঁকানো শাখা; আঙুলের গাঁটের মতো গাছের ছোট ছোট ডাল ঘুষি মারছে ক্রমাগত আর উইন্ডস্ক্রীনটা কাঁপছে, লোহার মুগুরের মতো মোটা আর একটি শাখ পিটছে গাড়ির ছাদটাকে, ওটা দেবে যাচ্ছে

    বাঁচতে হলে দৌড়াও! নিজের দিকের দরজায় ঝাঁপিয়ে পড়ে চিৎকার করে উঠল রন, পর মুহূর্তেই আক্রোশে আরেকটি বৃক্ষ শাখা মারল এক আপারকাট উড়ে গিয়ে হ্যারির কোলের উপর আছড়ে পড়ল ও।

    আমাদের কাজ সারা! গুঙিয়ে উঠল ও, গাড়ির ছাদটা নিচে ঝুলে পড়েছে, কিন্তু হঠাৎ গাড়ির মেঝেটা কাঁপতে শুরু করল–ইঞ্জিনও আবার স্টার্ট হয়ে গেলো।

    পেছন দিকে চেঁচিয়ে উঠল হ্যারি, গাড়িটা তীরের মতো পেছনে ছুটল। গাছটা তখনও ওদের আঘাত করবার চেষ্টা করছে; ওরা শুনতে পেলো ওটার শেকড় মড়মড় করে মাটি থেকে যেন উপড়ে আসছে, গাছটা ওদের ধরার জন্য ধেয়ে আসতে আসতে ওরা নাগালের বাইরে চলে গেলো।

    প্রায়, হাঁপাচ্ছে রন, গিয়েছিলাম আর কি! সাবাশ, বাছা গাড়ি।

    ক্ষমতার শেষ সীমায় পৌঁছে গেছে গাড়িটা। দুবার ঘটাং ঘটাং করে দরজাগুলো খুলে গেলে হ্যারির মনে হলো ওর সীটটা একদিকে কাত হয়ে গেছে। এরপর সে যা মনে করতে পারল সেটা হচ্ছে সে ভেজা মাটিতে হাত পা ছড়িয়ে পড়ে আছে। জোরে জোরে ভোতা আওয়াজ শুনে বুঝতে পারল গাড়িটা ওদের বাক্স পেটরা পেছন থেকে ছুঁড়ে বাইরে ফেলছে। বাতাসে উড়তে উড়তে হেডউইগের খাঁচাটা খুলে গেলো; ক্ষিপ্ত পাখিটা বিকট একটা চিক্কার দিয়ে একেবারে সোজা উড়ে চলে গেলো হোগার্টস ক্যাসল-এর দিকে, একবারও পেছন ফিরে তাকাল না। তারপর বেড়ানো, খামচানো গাড়িটা বাষ্প ছাড়তে ছাড়তে অন্ধকারে হারিয়ে গেলো পেছনের বাতিগুলো জুল জুল করছে রাগে।

    ফিরে এসো! চিৎকার করে ডাকল রন ওর ভাঙ্গা জাদু দণ্ডটা দিয়ে ভয় দেখানোর চেষ্টা করল। ড্যাড মেরে ফেলবে আমাকে।

    কিন্তু গাড়িটা অদৃশ্য হয়ে গেলো। চোখের আড়াল হওয়ার আগে অবশ্য একজস্ট পাইপে শেষ বারের মতো একবার ফোঁস করে গেলো।

    ভাগ্য আর কাকে বলে? বলল রন, নিচু হয়ে ওর ইঁদুর স্ক্যাবাসকে তুলে নিল। এত গাছ থাকতে কি না আমরা ওই গাছটাকেই মারলাম যেটা পাল্টা মারতে আসে।

    কাঁধের ওপর দিয়ে গাছটার দিকে তাকাল ও, ওটা তখনও মারার জন্য ভীতিকরভাবে তড়পাচ্ছে।

    চলে এসো, বলল হ্যারি ক্লান্তভাবে, এর চেয়ে আমাদের স্কুলে চলে যাওয়াই উচিত …

    ওরা মনে মনে যে ছবি এঁকে রেখেছিল সে রকম বিজয়ীর আগমন তাদের হচ্ছে না। ঠাণ্ডায় জমে যাওয়া ও ক্ষত-বিক্ষত শরীরে ট্রাংকের প্রান্ত টেনে ঢাল বেয়ে হোগার্টস-এর বিশাল ওক কাঠের সম্মুখ দরজার দিকে অগ্রসর হলো।

    আমার মনে হচ্ছে এরই মধ্যে ফিস্ট শুরু হয়ে গেছে, বলতে বলতে রন সামনের সিঁড়িতে ওর ট্রাংকটা ফেলে নীরবে এগিয়ে গেলো উজ্জ্বল আলোজ্বলা একটি জানালা দিয়ে উঁকি মেরে দেখার জন্য। এই হ্যারি, দেখবে এসো–সর্টিং হচ্ছে।

    দ্রুত এগিয়ে হ্যারি রনের সঙ্গে উঁকি মারল গ্রেট হলটার ভেতরে।

    চারটে লম্বা ঠাসা টেবিলের উপর বাতাসে অসংখ্য জুলন্ত মোমবাতি ঝুলছে, সোনালি প্লেট আর পানপাত্রগুলো জ্বলজ্বল করছে। মাথার উপর জাদু করা সিলিংটায় সব সময়ই আয়নার মতো আকাশ দেখা যায়, এখন এখানে তারা জ্বল জ্বল করছে।

    হোগার্টস-এর সরু হ্যাট-এর ভীড়ের মধ্য দিয়ে ওরা দেখতে পেলো দীর্ঘ একটা ভীত–সন্ত্রস্ত প্রথম বর্ষ লাইন। ওর মধ্যে জিনিও রয়েছে, সহজেই চোখে পড়ছে ওর বিশেষ উইসলি চুলের জন্য। ইতোমধ্যে, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল, চশমা পরা এক ডাইনী চুল টানা করে বাধা পেছনে, নবাগতদের সামনে একটা টুলের ওপর হোগার্টস-এর বিখ্যাত সর্টিং হ্যাটটা রাখছেন।

    প্রতি বছর এই পুরনো তালি দেয়া, ক্ষয়ে যাওয়া এবং ময়লা হ্যাটটাই নবাগত ছাত্রদের জন্য চারটি হোগার্টস হাউজে (গ্রিফিন্ডর, হাফপাফ, র‍্যাভেনক্ল এবং স্লিারিন) ওদের স্থান নির্ধারণ করে থাকে। হ্যারির খুব মনে পড়ছে, এক বছর আগে ও নিজেও ওটা পড়েছিল মাথায়, ভয়ে জড়সড় হয়ে অপেক্ষা করছিল, ওর কানে কানে জোরে হার্টটা ওর সিদ্ধান্ত জানিয়েছিল। কয়েক ভয়াবহ মুহূর্তের জন্যে ওর মনে হয়েছিল হ্যাটটা বোধহয় ওকে স্লিারিন হলে পাঠাচ্ছে, যে হাউজ অন্য যে কোনো হাউজের চেয়ে বেশি সংখ্যায় কালোজাদুর জাদুকর এবং ডাইনী তৈরি করেছে–কিন্তু শেষ পর্যন্ত তার ভাগ্যে জুটেছিল রন, হারমিওন এবং অন্যান্য উইসলিদের সঙ্গে গ্রিফিল্ডর হাউজ। গত টার্মে স্রিদারিন হাউজকে গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো হারিয়ে গ্রিফিল্ডর হাউজের চ্যাম্পিয়নশীপ অর্জন করতে সে আর রন অবদান রেখেছে।

    একটি খুব ছোট, ইঁদুর-চুলো ছেলেকে ডাকা হলো মাথায় হ্যাট পড়বার জন্যে। হ্যারির চোখ ওকে পেরিয়ে চলে গেলো যেখানে প্রধান শিক্ষক, প্রফেসর ডাম্বলডোর, স্টাফ টেবিলে বসে সর্টিং দেখছিলেন, ওঁর দীর্ঘ রূপালি শ্মশ্রু আর অর্ধ চন্দ্র চশমা মোমের আলোয় চকচক করছে। কয়েক সীট পর হ্যারি দেখতে পেলো গিল্ডরয় লকহার্টকে, অ্যাকোয়ামেরিন রঙের পোষাক পড়েছেন। সব শেষে বসে আছেন হ্যাগ্রিড, বিশাল এবং লম্বা চুল, গভীর চুমুক দিয়ে পান করছেন।

    দাঁড়াও… বিড় বিড় করে হ্যারি বলল রনকে। স্টাফ টেবিলে একটি চেয়ার খালি রয়েছে…স্নেইপ কোথায়?

    প্রফেসর সেভেরাস স্নেইপ হচ্ছে হ্যারির সবচেয়ে কম পছন্দের শিক্ষক। হ্যারিও অবশ্য প্রফেসর স্নেইপ-এর সবচেয়ে কম পছন্দের ছাত্র। নিষ্ঠুর, ব্যঙ্গাত্মক এবং সবার অপছন্দের, শুধু তার নিজের হাউজ স্লিথেরিনের ছাত্র ছড়া, স্নেইপ পড়ান পোশন অর্থাৎ বিষ জাতীয় জাদুবিদ্যার উপাচার সম্পর্কে।

    সম্ভবত তিনি অসুস্থ! বলল রন।

    হয়তো তিনি চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন বলল হ্যারি। কারণ কালোজাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরক্ষার চাকরিটা আবার তিনি উপভোগ করতে পারেননি।

    অথবা তাকে হয়তো চাকরি থেকে বাদ দেয়া হয়েছে, উৎসাহের সঙ্গে বলল রন। মানে সবাইতো তাকে ঘৃণা করে–

    অথবা হয়তো, ঠিক ওদের পেছন থেকে বলল একটি শীতল কণ্ঠস্বর, তোমরা দুজন কেন স্কুলের ট্রেনে আসোনি এটা শোনার জন্য তিনি হয়তো অপেক্ষা করছেন।

    চট করে ঘুরে দাঁড়াল হ্যারি। ওই যে, তার কালো পোষাক ঠাণ্ডা বাতাসে এলোমেলো, দাঁড়িয়ে আছেন সেভেরাস স্নেইপ। চিকন মানুষ, গায়ের চামড়া ফ্যাকাশে, বাঁকা নাক এবং কাঁধ পর্যন্ত লম্বা তেলতেলা চুল। এই মুহূর্তে এমনভাবে হাসছেন যে তার হাসিটাই হ্যারিকে বলছে ও আর রন অনেক গভীর সমস্যায় পড়েছে।

    আমার পেছন পেছন আসো, বললেন স্নেইপ।

    পরস্পরের দিকে তাকাবার পর্যন্ত সাহস নেই ওদের, হ্যারি আর রন স্নেইপকে অনুসরণ করে সিঁড়ি দিয়ে মশালের আলোয় আলোকিত বিশাল এন্ট্রান্স হলটায় প্রবেশ করল। গ্রেট হল থেকে সুস্বাদু চমৎকার খাবারের গন্ধ আসছে, কিন্তু স্নেইপ আলো আর উষ্ণতা থেকে সরিয়ে ওদেরকে সরু পাথরের সিঁড়ি দিয়ে ভূগর্ভস্থ অন্ধকার কক্ষে নিয়ে গেলো।

    ভেতরে, নিচের ঠাণ্ডা পথের দিকে দরজাটা অর্ধেক খুলে আঙুল তুলে বললেন তিনি।

    ওরা স্নেইপ-এর অফিসে ঢুকল, ভয়ে কাঁপছে। আবছা দেয়ালগুলোতে শেলফ ভর্তি কাঁচের জার, ওগুলোর ভেতর ভাসছে এমন সব ঘৃণ্য জিনিস যেগুলোর নাম এই মুহূর্তে হ্যারি জানতেও চায় না। ঘর উষ্ণ রাখার ফায়ারপ্লেসটা অন্ধকার এবং শূন্য। স্নেইপ দরজাটা বন্ধ করে ওদের মুখোমুখি হলেন।

    তাহলে, নরম সুরে বললেন তিনি, বিখ্যাত হ্যারি পটার এবং তার বিশ্বস্ত অনুচর উইসলির জন্য ট্রেনটা যথেষ্ট ভাল ছিল না। দর্শনীয়ভাবে আসতে চেয়েছিলে তাই কি?

    না, স্যার, মানে কিংস ক্রসের রেলওয়ে স্টেশনের দেয়ালটা, ওটা

    চুপ! ঠাণ্ডা গলায় বললেন স্নেইপ। গাড়িটার কি করেছ তোমরা?

    রন ঢোক গিলল। স্নেইপ মানুষের মন পড়তে পারেন, এই ধারণাটা হ্যারির এই প্রথম হলো না। কিন্তু মুহূর্ত পর স্নেইপ যখন আজকের ইভিনিং প্রফেটটা মেলে ধরলেন, তখন হ্যারির কাছে সব কিছুই পরিষ্কার হলো।

    তোমাদেরকে দেখেছে, হেড লাইনটা ওদের দেখিয়ে হিসহিসিয়ে বললেন স্নেইপ : উড়ন্ত ফোর্ড অ্যাংলিয়া মাগলদেরকে ধাঁধা লাগিয়ে দিয়েছে।

    জোরে জোরে পড়তে লাগলেন তিনিঃ

    লন্ডনের দুজন মাগল নিশ্চিত করেছেন যে, ওরা দেখেছেন পোস্ট অফিস টাওয়ারের উপর দিয়ে ওরা একটি পুরনো গাড়িকে উড়তে দেখেছেন…দুপুরে নরফক-এ, মিসেস হেটি বেলিস, যখন বাইরে তার ধোয়া কাপড় নাড়ছিলেন…পিবলস-এর মিস্টার অ্যাঙ্গাস ফ্লিট পুলিশের কাছে রিপোর্ট করেছেন…ছয় থেকে সাতজন মাগল সব মিলিয়ে।

    আমার বিশ্বাস তোমার বাবা মাগল দ্রব্য অপব্যবহার সংক্রান্ত অফিসে কাজ করেন? রনের দিকে তাকিয়ে আরো নোংরাভাবে হেসে বললেন তিনি। আহা আহা… তার নিজের ছেলে…।

    হ্যারির মনে হলো পাগল গাছগুলোর একটি সজোরে তার পেটে আঘাত করল। যদি কেউ জানতে পারে মিস্টার উইসলি গাড়িটাকে জাদু করেছে…সে এই সম্ভাবনার কথা একবারও ভাবেনি….

    পার্কে তল্লাশি করবার সময় দেখেছি একটি অত্যন্ত মূল্যবান হোমপিং উইলো গাছের প্রচুর ক্ষতি করা হয়েছে, বলে চলেছেন স্নেইপ।

    ওই গাড়িটা আমাদের অনেক বেশি ক্ষতি করেছে আমরা– রনের মুখ ফস্কে বের হয়ে গেলো।

    চুপ করো! আবার ধমক দিল স্নেইপ। আফসোসের ব্যাপার হলো তোমরা আমার হাউজে নেই, তোমাদের বহিষ্কার করার সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা আমার নেই। আমি এখন ওদের ধরে নিয়ে আসছি যাদের এই আনন্দের সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা রয়েছে। তোমরা এখানেই অপেক্ষা করবে।

    মুখ ফ্যাকাশে হয়ে গেলো হ্যারি আর রনের, দুজনে দুজনের দিকে তাকিয়ে রইল। হ্যারির ক্ষিধে গায়েব হয়ে গেছে। খুব অসুস্থ বোধ করছে সে। স্নেইপ যেখানে বসেন তার পেছনে একটা শেলফে সবুজ তরলের মধ্যে বিরাট একটি সরু জিনিস ঝোলানো রয়েছে। হ্যারি চেষ্টা করছে যেন ওটার উপর চোখ না পড়ে। স্নেইপ যদি গ্রিফিল্ডর হাউজের প্রধান প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে আনতে গিয়ে থাকেন, তবে তাদের অবস্থা এর চেয়ে ভাল কিছু হওয়া মুশকিল। তিনি হয়তো স্নেইপ-এর চেয়ে ভাল, কিন্তু তিনি সাংঘাতিক রকমের কড়া।

    দশ মিনিট পর স্নেইপ ফিরে এলেন এবং নিশ্চিতভাবেই প্রফেসর ম্যাকগোনাগল রয়েছেন তার সঙ্গে। হ্যারি এর আগেও প্রফেসর ম্যাকগোনাগলকে রাগতে দেখেছে, কিন্তু হয় সে মনে করতে পারছে না রেগে গেলে প্রফেসরের মুখ এত সরু হতে পারে অথবা সে এর আগে তাকে এমন রাগ হতে দেখেনি। ঘরে ঢোকা মাত্র তিনি তার জাদুদণ্ড তুললেন। হ্যারি আর রন দুজনই ভয়ে কুচকে গেল। কিন্তু তিনি এটা শুধু শূন্য ফায়ারপ্লেসটার দিকে নিশানা করলেন, হঠাৎ করেই ওটায় আগুন জ্বলে উঠল।

    বসো, বললেন তিনি। দুজনেই আগুনের পাশে চেয়ারে বসল।

    ব্যাখ্যা করো, তিনি বললেন, অশুভ লক্ষণের মতো তার চশমা জোড়া চকচক করছে।

    রন বলতে শুরু করল, স্টেশনে দেয়ালটা যে তাদের ভেতরে যেতে দেয়নি। সেখান থেকে শুরু করল।

    …সে কারণেই আমাদের আর কোনো উপায় ছিল না প্রফেসর, আমরা ট্রেনে উঠতে পারিনি।

    পেঁচাকে দিয়ে আমাদের কাছে চিঠি পাঠালে না কেন? আমার বিশ্বাস তোমার একটা পেঁচা রয়েছে বললেন তিনি হ্যারিকে উদ্দেশ্য করে ঠাণ্ডা স্বরে।

    হ্যারি ঢোক গিলল। এখন যে তিনি চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিলেন, মনে হচ্ছে সেটাই করা উচিত ছিল।

    আমি–আমি ভাবিনি—

    সেটা, বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল,বোঝাই যাচ্ছে।

    দরজায় টোকা পড়ল এবং প্রাফেসর স্নেইপ, যাকে আগের যে কোনো সময়ের চেয়ে এই মুহূর্তে বেশি খুশি দেখাচ্ছিল, দরজাটা খুললেন। দরজায় দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রধান শিক্ষক প্রফেসর ডাম্বলডোর।

    হ্যারির শরীর যেন বোধশক্তি হারিয়ে ফেলল। ডাম্বলডোরকে অস্বাভাবিক রকমের গম্ভীর দেখাচ্ছে। ডাম্বলডোর তার লম্বা বাঁকা নাক বরাবর তাকিয়ে আছেন ওদের দিকে। হ্যারির ইচ্ছে হলো এখনও যদি সে আর রন উইলো গাছটার মার খেতো তাহলেই বরং ভাল ছিল।

    দীর্ঘ একটা নীরবতা। তারপর ডাম্বলডোর বললেন,প্লিজ, ব্যাখ্যা করো, তোমরা এমন করলে কেন?

    ভাল হত তিনি যদি চিৎকার করতেন, বকতেন। কিন্তু তার স্বরে হতাশার সুরটা হ্যারিকে বেশি কষ্ট দিল। কোনো কারণে সে প্রফেসর ডাম্বলডোরের চোখের দিকে তাকাতে পারছে না, নিজের হাঁটুর দিকে তাকিয়ে কথা বলছে সে। সে ডাম্বলডোরকে সবই বলল, শুধু মিস্টার উইসলি যে গাড়িটার মালিক সে কথাটা বাদ দিয়ে। যে চিত্রটা সে দিল তাতে মনে হতে পারে যেন সে আর রন স্টেশনের বাইরে একটা উড়ন্ত গাড়ি পার্ক করা অবস্থায় পেয়ে গিয়েছিল। সে জানত ডাম্বলডোর ওটা ঠিকই ধরতে পারবেন, কিন্তু তিনি গাড়ির ব্যাপারে কোনো প্রশ্ন করলেন না। হ্যারি তার বক্তব্য শেষ করার পর তিনি শুধু তার চশমার ফাঁক দিয়ে চেয়ে রইলেন।

    যাই আমাদের জিনিসগুলো নিয়ে আসি, হতাশার সুরে বলল রন।

    কি বলছ তুমি, উইসলি? ধমকে উঠলেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল।

    আপনারা তো আমাদের বহিস্কার করছেন, করছেন না? জিজ্ঞাসা করল রন।

    হ্যারি দ্রুত প্রফেসর ডাম্বলডোরের দিকে তাকলি।

    আজকে নয়, মাস্টার উইসলি, বললেন ডাম্বলডোর। কিন্তু তোমাদের দুজনইে, আজকে তোমরা যা করেছ তার গুরুত্ব বুঝিয়ে দিতে চাই। তোমাদের গার্ডিয়ানদের আজ রাতে চিঠি লেখা হবে। তোমাদেরও আমি সাবধান করে দিচ্ছি এরপর যদি এ ধরনের কিছু তোমরা করো, তোমাদের বহিস্কার করা ছাড়া আমার আর কোনো উপায় থাকবে না।

    সেভেরাসের মনে হলো যেন ক্রিস্টমাস উৎসব বাতিল করা হয়েছে। একটু কেশে তিনি বললেন, প্রফেসর ডাম্বলডোর, এই ছেলে দুটো অপ্রাপ্তবয়স্কদের জাদুপ্রয়োগের নিষেধাজ্ঞা সম্পর্কিত আইন ভঙ্গ করেছে, একটি প্রাচীন এবং মূল্যবান গাছের ব্যাপক ক্ষতি করেছে…এই ধরনে আচরণ নিশ্চয়ই আ…

    এই ছেলেগুলির শাস্তির ব্যাপারে প্রফেসর ম্যাকগোনাগল স্থির করবেন, সেভেরাস, শান্তভাবে বললেন প্রফেসর ডাম্বলডোর। ওরা তার হাউজের ছাত্র, এবং সে কারণে তার দায়িত্ব। তিনি প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের দিকে ফিরলেন। আমাকে ভোজসভায় ফিরতে হচ্ছে মিনারভা, কয়েকটা নোটিস জারি করতে হবে। আসুন সেভেরাস, সু–স্বাদু এবং দেখতে চমৎকার একটি কাস্টার্ড চাটনি রয়েছে ওটা চেখে দেখতে হবে।

    বিষের দৃষ্টিতে হ্যারি আর রনের দিকে তাকালেন স্নেইপ, তারপর নিজের অফিস থেকে বের হয়ে গেলেন। ওরা এখন প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের মুখোমুখি। তখনও তিনি চেয়ে আছেন ওদের দিকে দৃষ্টিটা ক্ষিপ্ত ঈগলের।

    তোমার রক্তক্ষরণ হচ্ছে, উইসলি, হাসপাতাল উইং-এ যাওয়াই ভাল।

    খুব বেশি না, বলল রন দ্রুত চোখের ওপরে কাটাটা জামার হাত দিয়ে মুছতে মুছতে। প্রফেসর, আমি বরং আমার বোনের হল বাছাইটা চেয়েছিলাম

    হল বাছাই অনুষ্ঠান শেষ হয়ে গেছে, বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল। তোমার বোনও গ্রিফিল্ডরেই।

    ওহ, খুব ভাল হলো। রন বলল।

    আর গ্রিফিল্ডরের কথা বলতে গেলে–তীক্ষ্ণ স্বরে বললেন প্রফেসর কিন্তু হ্যারি মাঝখানে বাধা দিল, প্রফেসর, আমরা যখন গাড়িটা নিয়েছিলাম তখন স্কুলের টার্ম তখনও শুরু হয়নি, তাহলে এর জন্যে গ্রিফিল্ডরের পয়েন্ট কাটা উচিত হবে না, কাটা উচিত? শেষ করে সে আগ্রহভরে প্রফেসর ম্যাকগোনাগল-এর দিকে তাকাল।

    প্রফেসর তার দিকে একটি অন্তর্ভেদি দৃষ্টি দিলেন, কিন্তু হ্যারি নিশ্চিত যে তিনি প্রায় হাসলেন। তবে ওর মুখটা আর আগের মতো সরু নেই।

    গ্রিফিল্ডর থেকে কোনো পয়েন্ট নিতে আমি দেব না, বললেন প্রফেসর, হ্যারির বুকটা একটু হালকা হলো। তবে তোমাদের দুজনকেই আটক থাকার শাস্তি পেতে হবে।

    হ্যারি যত ভয় পেয়েছিল ততখানি হয়নি। ডার্সলিদের কাছে ডাম্বলডোর চিঠি লিখলেই বাকি কিছুই হবে না। হ্যারি ভাল করেই জানে ওরা বরং যারপরনাই হতাশ হবে এই ভেবে যে কেনুইলো গাছটা ওকে পিটিয়ে কেন তক্তা বানায়নি।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল আবার তার জাদুদন্ডটা তুললেন ওটাকে স্নেইপ-এর ডেস্কের দিকে তাক করলেন। বিরাট এক প্লেট স্যান্ডউইচ, দুটো রূপালি পানপাত্র আর এক জগ ভর্তি বরফ মেশানো কদুর রস এসে গেলো টেবিলে।

    তোমরা এখানেই খাবে, তারপর সোজা হোস্টেলে যাবে, আমাকেও ভোজসভায় ফিরতে হবে।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল-এর পেছনে দরজাটা বন্ধ হতেই রন নিচু স্বরে একটা দীর্ঘ শিষ বাজালো।

    একটা স্যান্ডউইচ তুলে নিয়ে ও বলল, আমি মনে করেছিলাম আমাদের এখানেই শেষ হয়ে গেলো।

    আমিও তাই ভেবেছিলাম, বলল হ্যারিও একটি স্যান্ডউইচ উঠিয়ে নিতে নিতে।

    আমাদের মন্দ ভাগ্যকে কি বিশ্বাস কর? মুখ ভর্তি চিকেন আর হ্যাম এর মধ্যে দিয়ে বলল রন। ফ্রেড আর জর্জ কমপক্ষে ছয় সাত বার গাড়িটা চালিয়েছে কিন্তু কোনো মাগল ওদের দেখতে পায়নি। মুখের খাবারটা পেটে চালান করে দিয়ে আর এক কামড় মুখে পুরল সে। আমরা কেন স্টেশনের বাধা পেরোতে পারলাম না?

    কাঁধ ঝাঁকাল হ্যারি। এখন থেকে আমাদেরকে দেখেশুনে সাবধানে চলতে হবে, বলল ও কদুর জুসের একটা চুমুক নিয়ে। যদি আমরা ভোজে যেতে পারতাম…

    তিনি চাননি যে আমরা জাহির করি, রন বলল দার্শনিকের মতো। চাননি যে লোকে ভাবুক উড়ন্ত গাড়িতে করে আসাটা খুব বুদ্ধিমানের কাজ।

    পেটপুরে স্যান্ডউইচ খেয়ে প্লে(টটা খালি হলে নিজে নিজেই আবার পূর্ণ হয়ে যাচ্ছিল) ও অফিস ত্যাগ করল, পরিচিত পথ ধরে গ্রিফিল্ডর হাউজের দিকে এগিয়ে গেলো। পুরো মহলটাই চুপচাপ; মনে যেন ভোজ শেষ হয়ে গেছে। ওরা বিড়বিড় করা ছবি, ক্যাচম্যাচ করা ধাতব বর্মের পাশ দিয়ে এগিয়ে চলল। পাথরের সিঁড়ির সরু ধাপ বেয়ে উঠল। এক সময় গ্রিফিল্ডর হাউজের গোপন পথটা যেখানে গোলাপী সিল্কের পোষাক পরিহিত স্কুল মহিলার অয়েল পেইন্টিং-এর পেছনে লুকিয়ে রয়েছে সেখানে পৌঁছল।

    পাসওয়ার্ড, বলল স্থূল মহিলা, ওরা ওখানে পৌঁছতেই।

    ইয়ে মানে– বলল হ্যারি।

    ওরা নতুন বছরের পাসওয়ার্ড জানে না। কোনো গ্রিফিল্ডর প্রিফেক্ট এর সঙ্গে ওদের তখনও দেখা হয়নি। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সাহায্যও হাজির হলো। ওরা দ্রুত পায়ের শব্দ শুনতে পেলো ওদের পেছনে। ঘুরে দেখল ওদের দিকে দৌড়ে আসছে হারমিওন।

    এই যে তোমরা! কোথায় ছিলে? অবিশ্বাস্য সব গুজব-একজন বলল উড়ন্ত একটি গাড়ি আকসিডেন্ট করার জন্য তোমাদেরকে স্কুল থেকে বহিস্কার করা হয়েছে।

    আমাদেরকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করা হয়নি, হ্যারি ওকে নিশ্চিত করল।

    তুমি নিশ্চয়ই বলতে চাচ্ছ না যে তোমরা এখানে উড়ে এসেছ? জিজ্ঞাসা করল হারমিওন, একেবারে প্রফেসর ম্যাকগোনাগল-এর মতো সিরিয়াস।

    বক্তৃতা বাদ দাও এখন আমাদের নতুন পাসওয়ার্ডটা বলো দেখি, বলল রন অধৈর্য হয়ে।

    ওয়টলবার্ড, হারমিওনও বলল অধৈর্য হয়ে, কিন্তু সেটা কোনো কথা নয়

    ওরা কথাটা কেটে গেল। স্কুল মহিলার অয়েল পেইন্টিংটা সড়াৎ করে সরে গেলো এবং হাততালির একটা ঝড় ওদের কানে এলো। মনে হচ্ছে যেন পুরো গ্রিফিল্ডর হাউজটাই এখনও জেগে আছে, বৃত্তাকার কমন রুমে, ভারসাম্যহীন টেবিলে, গাদাগাদি করে আরাম কেদারায়, অপেক্ষা করছে ওদের আগমনের জন্যে। পেইন্টিং-এর গর্তটার মধ্য দিয়ে হাত বের হয়ে হ্যারি আর রনকে ভেতরে টেনে নিল। হারমিওনকে অবশ্য ওদের পেছনে নিজে নিজেই হামাগুড়ি দিয়ে যেতে হলো।

    ব্রিলিয়ান্ট, চিৎকার করে উঠল লি জর্ডান। দারুণ ব্যাপার! কি একটা আসা! উওমপিং উইলোর একেবারে ওপরে গাড়ি চালিয়ে অবতরণ, মানুষ বহু দিন এ ঘটনা আলোচনা করবে!

    তোমার ভালো হোক, বলল পঞ্চম বর্ষের একজন, যার সঙ্গে হ্যারি কোনদিন কথাই বলেনি। কেউ একজন ওর পিঠ চাপড়ে দিল যেন সে এই মুহূর্তে ম্যারাথন জয় করে এসেছে। ফ্রেড আর জর্জ ভিড় ঠেলে একেবারে সামনে এসে একসঙ্গে জিজ্ঞাসা করল, এই, তোমরা আমাদের ফোন করনি কেন? লাল টকটকে হয়ে গেলো রনের চেহারা, বিব্ৰত। কিন্তু হ্যারি দেখতে পারছে একজনকে যে মোটেই খুশি নয়। পার্সিকে দেখা যাচ্ছে উত্তেজিত কয়েকজন প্রথম বর্ষীয়র মাথার ওপর দিয়ে, ওদের কাছাকাছি আসার চেষ্টা করছে, এখন বলবে ওদের রুমে যেতে। হ্যারি রনের পাঁজরে গুতো মারল, পার্সিকে দেখিয়ে মাথা নাড়ল। ইশারা সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারল রন।

    আমরা ক্লান্ত উপরে যেতে হবে–রুমে, বলল ও, দুজনে রুমের অপর দিকে দরজাটার দিকে অগ্রসর হলো ভিড় ঠেলে। দরজার বাইরে ঘোরানো সিঁড়ি রয়েছে রুমে যাওয়ার জন্য।

    শুভ রাত্রি, হ্যারি হারমিওনের উদ্দেশে বলল, পার্সির মতো ওর চোখেও ক্রুদ্ধ চাহনি।

    কোনরকমে ওরা কমনরুমের আরেক প্রান্তে যেতে পারল। যেত যেতে পিঠে উৎসাহের চাপড়ও পড়েছে। সিঁড়ির ধাপটাও পেয়ে গেলো। দ্রুত উপরে উঠল ওরা, একেবারে উপরে, অবশেষে পৌঁছল ওদের সেই পুরনো রুমে, এখন ওটার দরজায় দ্বিতীয় বর্ষ। সেই পরিচিত বৃত্তাকার রুমটায় ঢুকল ওরা, পাঁচটি চার স্ট্যান্ড–ওয়ালা খাটে মখমল ঝোলানো, উঁচু সরু জানালা। তাদের ট্রাংকগুলো আগেই নিয়ে আসা হয়েছে এবং বিছানার কিনারায়ই রাখা।

    হ্যারির দিকে তাকিয়ে দাঁত বের করে হাসল রন, অপরাধীর হাসি।

    আমি জানি ওসব বা অন্য কিছু আমার এনজয় করা অনুচিত হয়েছে, কিন্তু

    রুমের দরজাটা সজোরে খুলে গেলো এবং ঢুকল আরো তিনজন ড্রিফিল্ডর ছাত্র সিমাস ফিনিগান, ডিন থমাস এবং নেভিল লংবটম।

    অবিশ্বাস্য খুশিতে জ্বল জ্বল করছে সিমাস। শান্ত হও, সিমাসের উত্তেজনা দেখে বলল ডিন। বিস্ময়কর, বলল নেভিল অভিভূত হয়ে। হ্যারিও আর নিজেকে চেপে রাখতে পারল না। দাঁত বের করে হাসল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }