Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প406 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৬. গিল্ডরয় লকহার্ট

    ০৬. গিল্ডরয় লকহার্ট

    পরদিন অবশ্য হ্যারি একবারও হাসে নাই। গ্রেট হলে নাস্তার সময় থেকেই কেমন যেন সব গোলমাল পাকাতে শুরু করে। জাদু–করা সিলিংটার (আজ, অবশ্য অনুজ্জ্বল, মেঘ ধুসর) নিচে পাতা চারটে লম্বা হাউজ টেবিল সাজানো, ওতে রয়েছে পরিজ ভর্তি ভাণ্ড, নোনা শুঁটকির প্লেট, টোস্টের পাহাড় এবং ডিম আর বেকন। হ্যারি আর রন যেয়ে বসল গ্রিফিল্ডর টেবিলে হারমিওনের পাশে, ওর ভয়েজেস উইথ ভ্যাম্পায়ার বইটি খোলা অবস্থায় একটা দুধের জগের গায়ে হেলান দিয়ে রাখা। ও যেমন শুকনো গম্ভীর গলায় ওদের মর্ণিং বলেছে, তাতে মনে হয় ও এখনো ওদের ওইভাবে গাড়িতে উড়ে আসাটা মেনে নিতে পারছে না। অন্যদিকে নেভিল লংবটম ওদের বেশ আনন্দের সঙ্গেই শুভেচ্ছা জানালো। নেভিল হলো গোলমুখো দুর্ঘটনা প্রবণ এবং হ্যারির দেখা সবচেয়ে কম স্মরণ শক্তির ছেলে।

    নেভি বলল, যে কোন মুহূর্তে ডাক চলে আসবে মনে হয় যে কয়েকটা জিনিস ভুলে বাড়িতে ফেলে এসেছি সেগুলো দাদী পাঠিয়ে দেবে।

    সবেমাত্র হ্যারি তার পরিজটা মুখে দিয়েছে ঠিক সেই সময় মাথার ওপরে দ্রুত কিছু ওড়ার শব্দ শোনা গেল এবং প্রায় একশর মতো পেঁচা সাঁ করে উড়ে এলো এবং ঘরটা চক্কর দিতে দিতে নিচের খোশগল্পরতদের মাঝে চিঠি আর প্যাকেট ফেলতে শুরু করল। একটা বড়সড় প্যাকেট নেভিলের মাথায় পড়ে বাউন্স করল, এক মুহূর্ত পরেই বড় এবং ধূসর একটা কিছু পড়ল হারমিওনের জগের মধ্যে, ওদের গায়ে দুধ আর পাখা ছড়িয়ে সারা।

    এরল। বলল রন, পা ধরে নোংরা হয়ে যাওয়া পেঁচাটাকে টেনে তুলল ও। জ্ঞান হারিয়ে লুটিয়ে পড়ল এর টেবিলের ওপর। ওর পা আকাশের দিকে, ঠোঁটে একটা ভেজা লাল খাম।

    ওহ না দম বন্ধ হয়ে এলো রনের।

    সব ঠিক আছে, ও এখনো বেঁচে আছে, আঙুলের মাথা দিয়ে আস্তে করে এরলকে খোঁচা দিয়ে বলল হারমিওন।

    ওই কখা না–ওটার কথা বলছি।

    রনের আঙুল তাক করে দেখাল লাল খামটার দিকে। হ্যারির কাছে ওটা আর দশটা সাধারণ খামের মতোই লাগছে কিন্তু রন আর নেভিল এমনভাবে তাকিয়ে রয়েছে যেন এক্ষুণি ওটা বিস্ফোরিত হবে বা এমন সাংঘাতিক কিছু।

    কি হয়েছে? জিজ্ঞাসা করল হ্যারি।

    আমাকে আমাকে একটা হাউলার পাঠিয়েছে মা, অস্কুটস্বরে বলল রন।

    তোমার ওটা খোলাই ভাল, বলল ফিস ফিস করে ভীত নেভিল। তুমি যদি না খোল তবে আরো খারাপ হবে। আমার দাদু একবার আমাকে পাঠিয়েছিলেন, আমি ওটা পাত্তা দিইনি আর তারপর– ঢোক গিলল নেভিল, ভয়াবহ।

    ওদের ভীত চেহারা থেকে লাল খামটার দিকে চোখ ফেরাল হ্যারি।

    হাউলারটা কি? জানতে চাইল ও।

    কিন্তু রনের সমস্ত মনোযোগ চিঠিটার ওপর, ওটার এক কোণ থেকে এরই মধ্যে ধোয়া উঠতে শুরু করেছে।

    খোল ওটা, নেভিলের আর্জি। কয়েক মিনিটেই ব্যাপারটা চুকে বুকে যাবে…

    কাঁপা হাত বাড়িয়ে রন এরলের ঠোঁট থেকে আস্তে করে খামটা বের করল, এরপর ভয়ে ভয়ে খুলল। নেভিল কানে আঙুল দিল। মুহূর্ত পরই, হ্যারি জানতে পারল কেন। প্রথমে সে ভাল একটা বিস্ফোরণ হয়েছে; একটা বিকট গর্জন। পুরো হল ঘরটা কাঁপিয়ে দিল, সিলিং থেকে ধুলা পর্যন্ত পড়ল।

    .. গাড়ি চুরি করা, ওরা যদি তোমাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার করত আমি অন্তত অবাক হতাম না, দাঁড়াও তোমাকে পেয়েনি, যখন দেখা গেল গাড়িটা নেই তখন তোমার বাবা আর আমার যে কি অবস্থা হয়েছিল নিশ্চয়ই সেটা একবারও ভাবোনি …

    মিসেস উইসলির চিৎকার স্বাভাবিকের চেয়ে একশ গুণ বেশি জোরে হচ্ছে, টেবিলের ওপর প্লেট আর চামচ কাঁপছে, দেয়ালে প্রতিধ্বনিত হয়ে কানে তালা লাগিয়ে দিচ্ছে। হলের মধ্যে সবাই চেয়ার ঘুরিয়ে দেখার চেষ্টা করছে হাউলারটা পেয়েছে কে। আর রন চেয়ারের ভেতর এতটাই সেধিয়ে গেলো যে শুধু ওর কপালের টকটকে লাল চুলই শুধু দেখতে পাওয়া গেল।

    … গতরাতে ডাম্বলডোরের কাছ থেকে চিঠি পেয়েছি, মনে হচ্ছিল লজ্জায় তোমার বাবা মারাই যাবেন, এ রকম ব্যবহার পাওয়ার আশায় নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে বড় করিনি, তুমি আর হ্যারি দুজনেই মারাও যেতেও পারতে …

    হ্যারি ভাবছিল কখন যে তার নামটা আসে, শেষ পর্যন্ত এলো। সে ভান করল যেন কানের পর্দা ফাটানো শব্দাবলী ও শুনতেই পাচ্ছে না।

    .. একেবারেই বিরক্তিকর, অফিসে তোমার বাবাকে ইনকোয়ারির মুখোমুখি হতে হচ্ছে, পুরোটাই তোমার দোষ, এরপর যদি কখনও বেলাইনে এক পাও দাও তবে নিশ্চয়ই আমরা তোমাকে বাড়ি ফিরিয়ে আনব।

    স্তব্ধতা নেমে এলো হল ঘরে ৷ রনের হাত থেকে পড়ে লাল খামটায় আগুন ধরে গেলো, দেখতে দেখতে এটা ছাই হয়ে গেলো। পাথরের মূর্তির মতো বসে রইল হ্যারি আর রন যেন এইমাত্র ওদের ওপর দিয়ে একটা প্রচণ্ড সমুদ্র জোয়ারের ঢেউ ধাক্কা দিয়ে ওদের বিধ্বস্ত করে গেছে। দুএকজন হাসল এবং ক্রমশ আবার শুরু হলো বকবকানি।

    হারমিওন ভয়েজেস উইথ ভ্যামপায়ার বন্ধ করে রনের দিকে অবজ্ঞাভরে তাকাল।

    বেশ, আমি ঠিক জানি না তুমি ঠিক কি আশা করেছিলে, রন, কিন্তু তুমি এখন বলো না আমার এটা পাওনা ছিল, চট করে বলল রন।

    পরিজটা ঠেলে দূরে সরিয়ে দিল হ্যারি। ভেতরটা তার অপরাধবোধে পুড়ে যাচ্ছে। মিস্টার উইসলির বিরুদ্ধে অফিসে তদন্ত হচ্ছে। গ্রীষ্মে তার জন্যে মিস্টার অ্যান্ড মিসেস উইসলি কত কিছু না করেছেন…

    কিন্তু এটা নিয়ে ভাববার সময় পেলো না সে, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল

    গ্রিফিল্ডর টেবিল ধরে এগিয়ে আসছেন, রুটিন বিলি করছেন। হ্যারি ওরটা নিল, দেখল ওদের রয়েছে হাফলপাফস প্রথমের সঙ্গে ডাবল হারবলজি।

    হ্যারি, রন আর হারমিওন এক সঙ্গে ক্যাসল থেকে বেরিয়ে এলো, শজির ক্ষেত্রটা পেরিয়ে গ্রীন হাউজের দিকে অগ্রসর হলো, যেখানে ম্যাজিক্যাল চারাগুলো রাখা রয়েছে। হাউলারটা অন্তত একটি ভাল কাজ করেছে : হারমিওন মনে হচ্ছে ভাবছে যে তাদের যথেষ্ট শাস্তি হয়েছে এবং আবার খাঁটি বন্ধুতে পরিণত হয়েছে।

    গ্রিন হাউজের কাছে গিয়ে দেখল ক্লাসের অন্যরা সব বাইরে দাঁড়িয়ে, প্রফেসর স্প্রাউট-এর জন্যে অপেক্ষা করছে। হ্যারি, রন আর হারমিওন সবেমাত্র অন্যদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে, দেখা গেল উনি আসছেন লটার ওপর দিয়ে হেঁটে সঙ্গে গিল্ডরয় লকহার্ট। প্রফেসর উটের হাত পুরোপুরি ব্যান্ডেজ করা, আরেকটি অপরাধবোধে আহত হলো হ্যারি, উইলো গাছটা দেখতে পেলো একটু দূরে, ওটার কয়েকটা শাখা এখন স্লিং-এ ঝুলছে।

    প্রফেসর স্প্রাউট ছোটখাট স্থূলকায়া ডাইনী, উড়ন্ত চুলের ওপর একটা তালি দেয়া টুপি পরনে; ওঁর কাপড়ে প্রচুর কাদা লেগে রয়েছে, এবং ওঁর আঙুলের নখ দেখলে আন্ট পেতুনিয়াকে অজ্ঞান করে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট। গিল্ডরয় লকহার্ট অবশ্য অনবদ্য ওর ফিরোজার পোষাকে, একবারে মাপমত বসানো সোনা সুবিন্যস্ত ফিরোজার হাটের নিচে ওর সোনালি চুল চকচক করছে।

    হ্যালো, এই যে সব, বললেন লকহার্ট সমবেত ছাত্রদের দিকে উৎফুল্লভাবে তাকিয়ে। এই মাত্র প্রফেসর স্প্রাউটকে সঠিকভাবে উওমপিং উইলোর চিকিৎসা করা দেখচ্ছিলাম। কিন্তু আমি চাই না যে তোমরা ভাবো হারবলজিতে আমার জ্ঞান ওঁর চেয়ে ভালো! আমার শুধু ভ্রমণের সময় এরকম কিছু উদ্ভট গাছের সঙ্গে দেখা হয়েছিল…

    আজ গ্রিনহাউজ তিন, বললেন প্রফেসর স্প্রাউট, ওঁকে আজ একেবারেই বিরক্ত আর হতাশ দেখাচ্ছিল মোটেই তার স্বাভাবিক আনন্দময়ীর মতো দেখাচ্ছিল না।

    মৃদু গুঞ্জন শোনা গেলো। এর আগে ওরা শুধু গ্রিণহাউজ এক এ কাজ করেছে–গ্রিনহাউজ তিনে রয়েছে আরো অনেক বেশি আকর্ষণীয় এবং বিপদজনক গাছ। বেল্ট থেকে একটা বড় চাৰি বের করে প্রফেসর স্প্রাউট দরজা খুললেন। হাওয়ায় ভেসে এলো সোঁদা মাটি আর সারের এক ঝলক গন্ধ, সঙ্গে মেশানো ছাতার মতো দেখতে দৈত্যাকার ফুলের ঘন গন্ধ, ফুলটা ঝুলছে সিলিং থেকে। রন আর হারমিওনকে অনুসরণ করে সেও ভেতরে ঢুকতে যাচ্ছিল এমন সময় লকহার্টের হাত ওকে ধরে ফেলল।

    হ্যারি। তোমার সঙ্গে একটা কথা ছিল–ওর যদি কয়েক মিনিট দেরি হয় তাহলে আপনি নিশ্চয়ই কিছু মনে করবেন না, প্রফেসর স্প্রাউট, করবেন কি?

    প্রফেসরের ভ্রূকুটি দেখে সহজেই অনুমান করা যাচ্ছে অবশ্যই তিনি মনে অনেক কিছু করবেন, কিন্তু লকহার্ট, ওই টিকেট সম্পর্কে বলেই প্রফেসরের মুখের ওপর দরজাটা বন্ধ করে দিলেন।

    হ্যারি, বললেন লকহার্ট, ওর বড় বড় দাঁতগুলো সূর্যালোকে চকচক করল ওর মাথা নাড়ার সঙ্গে সঙ্গে হ্যারি, হ্যারি, হ্যারি।

    সম্পূর্ণ কিংকর্তব্যবিমূঢ় হ্যারি কিছুই বলল না।

    যখন শুনলাম–মানে, নিশ্চয়ই ওটা আমারই দোষ ছিল। নিজেকে চড় মারা উচিত ছিল।

    হ্যারির কোনো ধারণাই নেই কি যে বলছেন লকহার্ট। সে কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল যখন আবার লকহার্ট বলে উঠলেন, জানি না এর চেয়ে বেশি মর্মাহত আর কখনও হয়েছিলাম কি না। উড়ন্ত গাড়ি চালিয়ে হোগার্টস-এ আসা! আমি অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই বুঝতে পারছিলাম তুমি কেন এটা করেছ। সবার চেয়ে একেবারে এক মাইল এগিয়ে গেছ। হ্যারি, হ্যারি, হ্যারি।

    লক্ষ্যণীয় যে যখন কথা বলেন না তখনও তিনি তার অপূর্ব দাঁতগুলো সবাইকে দেখাতে পারেন।

    আমি তোমাকে প্রচারের একটা স্বাদ পাইয়ে দিয়েছিলাম, তাই না? বললেন লকহার্ট। পোকাটা ঢুকিয়ে দিয়েছিলাম মাথায়। আমার সঙ্গে পত্রিকার প্রথম পাতায় ছবি, আবার ওটার লোভ ছাড়তে পারনি।

    ওই না, প্রফেসর, দেখুন—

    হ্যারি, হ্যারি, হ্যারি, বললেন লকহার্ট, হাত বাড়িয়ে ওর কাঁধটা ধরলেন। আমি বুঝতে পারি। প্রথম স্বাদের পর আরো একটু পাওয়াটা স্বাভাবিক এবং আমি নিজেকেই দোষ দিচ্ছি তোমাকে প্রথম স্বাদটা দেওয়ার জন্যে, কারণ ওটা তোমার মাথা বিগড়ে দেবেই–কিন্তু দেখো, ইয়ং ম্যান, নজরে পড়ার জন্যে তুমি উড়ন্ত গাড়ি চালাতে পারো না। শান্ত হও, বুঝতে পারছ? বড় হলে ওসব করার জন্যে অনেক সময় পাবে। হ্যাঁ, হ্যাঁ, আমি জানি তুমি কি ভাবছ? ওঁর জন্যে এসব কিছু ঠিকই আছে, এরই মধ্যে তিনিতো আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন জাদুকর! কিন্তু যখন আমার বয়স বারো ছিল তখন আমি তোমারই মতো তুচ্ছ ব্যক্তি ছিলাম, এখনকার তোমার মতো। বস্তুত আমার বলা উচিত আরও বেশি তুচ্ছ ছিলাম! আমি বলতে চাচ্ছি কিছু লোক তোমার কথা শুনেছে, শোনেনি? ওই যে যার নাম নেয়া যাবে না সেই তার সাথে সব ঘটনা! হ্যারির কপালের দাগটার ওপর চোখ বোলালেন তিনি। আমি জানি, আমি জানি, পর পর পাঁচবার উইচ উইকলির সবচেয়ে–মনোহর–হাসির পদক জেতার মতো নয়, যেমন আমি জিতেছিলাম–কিন্তু এটাতো শুরু, হ্যারি, এটা শুরু।

    তিনি হ্যারির উদ্দেশে একটা উষ্ণ দৃষ্টি ছুঁড়ে দীর্ঘ পদক্ষেপে স্থান ত্যাগ করলেন। হতভম্বের মতো দাঁড়িয়ে থাকল হ্যারি কয়েক মুহূর্ত, মনে পড়ল তার তো গ্রিনহাউজে থাকা উচিত, দরজাটা খুলে চুপিসারে ভেতরে ঢুকে পড়ল।

    গ্রিনহাউজের মাঝখানে কাঠের পায়ার ওপর তক্তা বসিয়ে বানানো একটা বেঞ্চের ওপাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন প্রফেসর স্প্রাউট। বিভিন্ন রঙের প্রায় কুড়ি জোড়া ইয়ারমাফ বেঞ্চের ওপর ছড়ানো। রন এবং হারমিওনের মাঝখানে বসলে, তিনি বললেন, আমরা আজ ম্যান্ড্রেক পুনঃ পটিং করবো, এখন কে আমাকে ম্যান্ড্রেকের গুণাবলী সম্পর্কে বলতে পারে?

    হারমিওনের হাত প্রথমেই উঠল, কেউ অবাক হলো না।

    ম্যান্ড্রেক অথবা ম্যান্ড্রাগোরা একটি শক্তিশালী সঞ্জিবনী, বলল হারমিওন, এমনভাবে যেন সে বইটাই গিলে খেয়েছে। এটা ব্যবহার করা হয় আত্মিকভাবে পরিবর্তিত বা অভিশপ্ত মানুষকে তাদের আদি অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে।

    চমৎকার। গ্রিফিন্ডরের জন্য দশ পয়েন্ট, বললেন প্রফেসর স্প্রাউট। প্রায় সব প্রতিষেধকেরই অপরিহার্য উপাদান হচ্ছে ম্যান্ড্রেক। এটা আবার বিপদজনকও বটে। কে বলতে পারে কেন?

    হারমিওনের হাত আবার দ্রুত ওপরে উঠার সময় অল্পের জন্যে হ্যারির চশমাটায় লাগেনি। অল্পের জন্য বেঁচে গেল ওর চশমাটা।

    যে কেউ শুনবে তার জন্যেই ম্যান্ড্রেকের কান্না মৃত্যুর কারণ হবে, দ্রুত বলল সে।

    একেবারে সঠিক। আরো দশ পয়েন্ট পেলে। বললেন প্রফেসর স্প্রাউট। এখন, যে ম্যান্ড্রেকগুলো আমরা পেয়েছি সেগুলো এখনো খুব কচি।

    এক সারি গভীর ট্রের দিকে দেখালেন তিনি, ভাল করে দেখবার জন্যে সকলেই এগিয়ে এলো। প্রায় একশর মতো গুচ্ছবদ্ধ ছোট ছোট চারা, সবুজাভ রক্তবর্ণ, সারিবদ্ধভাবে জিয়ে উঠছে। হ্যারির কাছে গাছগুলোকে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য বলে মনে হলো না, ম্যান্ড্রেকের কান্না বলতে হারমিওন কি বোঝাতে চেয়েছে এ বিষয়ে তার বিন্দুমাত্র ধারণা নেই।

    কান বন্ধ করার জন্য প্রত্যেকে এক জোড়া করে ইয়ারমাফ নাও, বললেন প্রফেসর স্প্রাউট।

    টানাটানির শব্দ শোনা গেল, প্রত্যেকেই একটা করে জোড়া নেয়ার চেষ্টা করছে, অবশ্য গোলাপী এবং তুলতুলে জোড়াটা বাদ দিয়ে।

    যখন বলব তখন ওগুলো কানে লাগাবে এবং কান যেন সম্পূর্ণ ঢাকা থাকে সেটা নিশ্চিত করতে হবে, বললেন প্রফেসর স্প্রাউট। যখন ওগুলো কান থেকে সরানো নিরাপদ হবে তখন আমি বুড়ো আঙুল ওপর দিকে করবো, ঠিক আছে–ইয়ারমাফ লাগাও।

    হ্যারি ওর কানের ওপর ইয়ারমাফগুলো লাগালো। প্রফেসর স্প্রাউট তার নিজের কানে এক জোড়া গোলাপী তুলতুলে ইয়ারমাফ লাগালেন। জামার হাতা গুটিয়ে নিলেন। একটা গুছো চারা ধরলেন দৃঢ়ভাবে আর টানলেন।

    বিস্মিত শ্বাস ছাড়ল একটা হ্যারি, আশ্চর্য কেউই শুনতে পারছে না।

    মাটির ভেতর থেকে শেকড়ের পরিবর্তে একটা ছোট্ট, কাদা মাখা খুবই কুৎসিৎ দেখতে শিশু বেরিয়ে এলো। ওটার একেবারে মাথা থেকে পাতা বেরোচ্ছে। ফ্যাকাসে সবুজ, বিচিত্রবর্ণের চামড়া চিৎকার করছে গলা ফাটিয়ে।

    প্রফেসর স্প্রাউট টেবিলের নিচে থেকে একটা বড় ফুলের টব নিলেন, ম্যান্ড্রেকটাকে ওটার ভেতরে ছুঁড়ে মারলেন, কালো স্যাঁতস্যাঁতে জৈবসারের নিচে প্রোথিত করে দিলে, শুধু গোছবদ্ধ পাতাগুলি শুধু দৃশ্যমান থাকল। হাত ঝেড়ে নিলেন প্রফেসর, বুড়ো আঙুল ওপরের দিকে ইশারা করলেন এবং তার নিজের ইয়ার–মাফটা কান থেকে সরালেন।

    যেহেতু আমাদের ম্যান্ড্রেকগুলো এখনও বাচ্চা, ওদের কান্না তোমাদের মেরে ফেলবে না, বললেন তিনি শান্তভাবে, যেন এই মূহুর্তে বেগোনিয়ার শেকড়ে পানি দেয়ার চেয়ে বেশি কিছু করেননি। অবশ্য কয়েক ঘণ্টার জন্যে তোমাদেরকে অজ্ঞান করে রাখতে পারে ওরা, এবং আমি নিশ্চিত যে প্রথম দিনটাকে তোমরা কেউই মিস করতে চাও না, সে কারণে কাজ করার সময় তোমাদের ইয়ার–মাফ সঠিক জায়গায় থাকে এটা নিশ্চিত করে নিও। শেষ হলে আমিই তোমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করবো।

    এক ট্রেতে চারজন–ওখানে অনেক টব রয়েছে আর ওইদিকে ছালাতে জৈব সার রয়েছে–আর বিষাক্ত টেন্টকুলার থেকে সাবধান, ওটার দাঁত বেরোচ্ছে।

    কথা বলতে বলতে চুপি চুপি কাঁধ বেয়ে উঠে আসা ঘন লাল চাড়াটাকে একটা চড় লাগিয়ে দিলেন প্রফেসর, চাড়াটা ওর লম্বা শুঙ্গগুলো সঙ্গে সঙ্গে গুটিয়ে নিল।

    হ্যারি, রন আর হারমিওনের সঙ্গে ট্রেতে যোগ দিল কোকড়ানো চুলের একটি হাফলপাফ ছেলে, যার সঙ্গে হ্যারি কোনদিনই কথা বলেনি।

    জাস্টিন ফিঞ্চ–ফ্লেচলি, বলল সে সপ্রতিভভাবে হ্যারির হাত ঝাঁকিয়ে। জানি তুমি কে, অবশ্যই বিখ্যাত হ্যারি পটার… আর তুমি হচ্ছ হারমিওন গ্রেঞ্জার–সব কিছুতেই প্রথম… (উজ্জ্বল হাসিতে ভরে গেলো হারমিওনের মুখখানা, যখন তার সাথেও হাল্ডশেক করা হলো) আর রন উইসলি। ওটা তো তোমারই উড়ন্ত গাড়ি ছিল?

    রন হাসল না। মায়ের পাঠানো হাউলারটা তখনও ওর মনকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিল।

    উনি লকহার্ট কিছু একটা, তাই না? বলল জাস্টিন আনন্দের সঙ্গে, ওরা তাদের চারাগাছের টবগুলো ড্রাগনের গোবরের সার দিয়ে ভরছে। অসাধারণ সাহসী ব্যক্তি। তোমরা ওর বই পড়েছ? ভয়েই আমি মরে যেতাম যদি আমাকে টেলিফোন বক্সে কোনঠাসা করে রাখত একটা নেকড়ে মানুষ (নেকড়েতে রূপান্ত রিত মানব সন্তান)। কিন্তু উনি ছিলেন একেবারে অকম্পিত–জাপ একেবারেই দারুণ তাই না।

    জানো ইটনেও আমার নাম পাঠানো হয়েছিল, ইটনের বদলে এখানে এসে আমি যে কত খুশি তোমাদের বলে বোঝাতে পারব না। অবশ্য মা সামান্য হতাশ হয়েছিলেন, কিন্তু যখন থেকে তাকে লকহার্টের বই পড়িয়েছি তখন থেকে মা বুঝতে পেরেছে পরিবারে একজন পুরোদস্তুর প্রশিক্ষণ নেয়া জাদুকর থাকা দরকার…

    এরপর কথা বলার তাদের আর সুযোগ হয়নি। আবার পড়তে হয়েছে ইয়ার–মাফ আর মনোযোগ দিতে হয়েছে ম্যান্ড্রেকের এর দিকে। প্রফেসর স্প্রাউট ব্যাপারটাকে একেবারে সহজ করে বুঝিয়ে ছিলেন কিন্তু আসলে ততটা সোজা ছিল না। ম্যানড্রেক্সগুলো যেমন মাটি থেকে বেরোতে চাচ্ছিল না তেমনি আবার মাটির ভেতর যেতেও চাচ্ছিল না। ওরা শরীর মোচড়ালো, লাথি মারল, ছোট ছোট মুষ্টিগুলো ছুঁড়ল, দাঁত খিচালো একটা বেশ মোটা ম্যান্ড্রেক্সকে টবে ঢোকাতে হ্যারির পাক্কা দশ মিনিট লাগল।

    ক্লাসের শেষ দিকে আর সবার মতো হ্যারিও ঘেমে নেয়ে একাকার, সারা গায়ে ব্যথা আর মাটিতে মাখা। ক্যাসেলে ফিরে গেলো ওরা ক্লান্তু পায়ে শুধু দ্রুত গা ধোয়ার জন্য, তারপর গ্রিফিল্ডররা দৌড় লাগাল ট্রান্সফিগিউরেশনে।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের ক্লাসে প্রচুর খাটতে হয়, কিন্তু আজ একেবারেই অনেক বেশি। গত বছর যা কিছু হ্যারি শিখেছিল মনে হচ্ছে গ্রীষ্মে সব যেন বেরিয়ে গেছে মাথার ফুটো দিয়ে। একটা গুবড়ে পৌকাকে বোতাম বানাবার কথা তার, কিন্তু সে শুধু পোকাটাকে ব্যায়ামই করাতে পারল, কারণ ওটা বার বারই ওর জাদুদণ্ডটা এড়িয়ে টেবিলের ওপর দিয়ে দ্রুত এদিক ওদিক সটকে পড়তে লাগল।

    রনের সমস্যা আরো খারাপ। সে ওর জাদুদণ্ডটাকে ধার করা টেপ দিয়ে জোড়া লাগিয়েছে ঠিকই কিন্তু মনে হলো ওটা আর সারাবার যোগ্য নেই। বেখাপ্পা মুহূর্তে ওটা পট পট শব্দ আর স্ফুলিঙ্গ ছড়ায় এবং যতবারই রন ওর গুবরেপোকাকে অন্য কিছু বানাতে চেয়েছে ততবারই ওটা ডিম পচা গন্ধে ভরা ঘন ধোয়া ঢেকে দিয়েছে। না দেখে রন একবারতে কনুই দিয়ে ওর গুবরেপোকাটা পিষেই ফেলল। আরেকটি চাইতে হলো তাকে। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল খুব খুশি হলেন না।

    লাঞ্চের ঘণ্টা বাজল। হ্যারি হাঁপ ছেড়ে বাঁচল। মনে হচ্ছে ওর মাথাটা মুচড়ে দেয়া স্পঞ্জের মতো হয়ে গেছে। সে আর রন ছাড়া আর সকালেই ক্লাস ছেড়ে বেরিয়ে গেলো। তখনও রন ওর জাদুদণ্ডটা পাগলের মতো ওর ডেস্কের দিকে বার বার তাক করছে।

    স্টুপিড,ফালতু জিনিস…

    বাড়িতে আরেকটার জন্যে লেখো, হ্যারি বুদ্ধি দিল, জাদুদণ্ডটা আতশবাজির মতো অনেকগুলো বাজি ছুড়ল।

    হ্যা ঠিকই বলেছ, চেয়ে পাঠাই আর একটা হাউলার পাই আর কি, বলল রন, হিস হিস করা জাদুদণ্ডটা নিজের ব্যাগে ঠেসে ধরতে ধরতে। ‘তোমার জাদুদণ্ড ভেঙেছে তোমার নিজের দোষে’।

    ওরা দুপুরের খাবার খেতে গেল। ওখানে হারমিওনের দেখানো ট্রান্সফিগিউরেশনে ওর তৈরি কোট বোতাম দেখেও রনের মেজাজ ঠিক হলো না।

    আজ দুপুরে কি ক্লাস হচ্ছে? বলল হ্যারি দ্রুত বিষয় পরিবর্তন করে। কালো জাদুর বিরুদ্ধে আত্মরক্ষা, সঙ্গে সঙ্গে জবাব দিল হারমিওন।

    কেন, জানতে চাইল রন, ওর রুটিনটা হাত থেকে সজোরে নিয়ে, তুমি কি লকহার্টের সব পড়া মনে গেঁথে নিয়েছ?

    ওর থেকে রুটিনটা আবার ছিনিয়ে নিল হারমিওন। রাগে লাল হয়ে গেছে

    দুপুরের খাবার শেষ করে ওরা বাইরে ছায়ায় ঢাকা উঠোনে গেল। হারমিওন একটা পাথরের ধাপে বসল, নাক ডুবিয়ে দিল আবার ওর ভয়েজেস উইথ ভ্যাম্পায়ার-এ। হ্যারি আর রন কয়েক মিনিট দাঁড়িয়ে কিডিচ খেলা সম্পর্কে কথা বলল, এক সময় ওর মনে হলো ওর দিকে কে যেন খুব কাছে থেকে নজর রাখছে। মুখ তুলে ও দেখতে পেলো গতরাতের সর্টিং হ্যাট পরবার সময়কার ইঁদুর–চুলো ছোট্ট ছেলেটা চেয়ে আছে ওর দিকে একেবারে পাথরের মতো। ওর হাতে ধরা মাগল ক্যামেরার মতো দেখতে কি একটা, এবং যেই হ্যারি সরাসরি ওর দিকে তাকাল ছেলেটা একেবারে লাল হয়ে গেলো।

    বেশ হ্যারি? আমি–আমি কলিন ক্রিভি, সে বলল একদমে, সামনের দিকে দ্বিধাগ্রস্ত এক পা অগ্রসর হলো। আমিও গ্রিফিল্ডরে। আমি কি তোমার একটা ছবি তুলতে পারি কি বলো–কোনো অসুবিধা হবে না তো? বলল সে ক্যামেরাটা তুলল আশা করে।

    একটা ছবি? হ্যারি পুনরাবৃত্তি করল অনিশ্চিতভাবে।

    যেন আমি প্রমাণ করতে পারি তোমার সঙ্গে আমার দেখা হয়েছিল, আগ্রহভরে বলল কলিন ক্রিভি, আরো একটু অগ্রসর হয়ে। তোমার সম্পর্কে আমি সব কিছু জানি। সবাই আমাকে বলেছে। যখন ইউ নো হু তোমাকে মারবার চেষ্টা করেছিল তখন কিভাবে বাঁচলে এবং কিভাবে অদৃশ্য হয়ে গিয়েছিল আর সব কিছু এবং কিভাবে তোমার কপালে বিদ্যুতের মতো দাগ হলো ওর চোখ যেন হ্যারির চুল আঁচরে দিল, এবং আমার হোস্টেলের একটি ছেলে বলেছে আমি যদি ফিল্মটা সঠিকভাবে ডেভেলপ করতে পারি তবে ছবিগুলো নড়াচড়া করবে। উত্তেজনায় কলিন একটি গা কাঁপানো শ্বাস নিল, বলল, এ জায়গাটা চমৎকার, তাই না? হোগার্টস থেকে চিঠি না পেলে আমি জানতামই না যে বেখাপ্পা জিনিসগুলো আমি করছি ওগুলো ম্যাজিক। আমার বাবা একজন গোয়ালা, উনি নিজেও সেরকম কিছু বিশ্বাস করেনি। সে কারণে আমি অনেক ছবি তুলছি বাড়িতে ওঁকে পাঠাবার জন্যে। এবং খুব ভাল হবে যদি তোমার একটি ছবি আমি পাঠাতে পারি সে অনুনয়ের ভঙ্গিতে হ্যারির দিকে তাকাল, হয়তো তোমার বন্ধুই ছবিটা তুলতে পারবে আর আমি দাঁড়ব তোমার পাশে? এরপর তুমি ছবিটায় স্বাক্ষর দিতে পারবে?

    স্বাক্ষর করা ছবি? তুমি স্বাক্ষর করা ছবি বিলিয়ে বেড়াচ্ছ, পটার?

    উচ্চস্বরে এবং কঠোর উপহাসে, ড্র্যাকো মালফয়ের কথা উঠোনজুড়ে প্রতিধ্বনিত হতে লাগল। সে থামল একেবারে কলিনের পেছনে, দুই পাশে, যেমন হোগার্টস-এ বরাবর সে চলে তেমনি তার দুই বিশালকায় বদমায়েশের মতো দেখতে অনুগত অনুচর–ক্র্যাব আর গোয়েল।

    এই সবাই লাইন ধরে দাঁড়াও! ম্যালফয় ভিড়ের উদ্দেশে চিৎকার করে জানালো। হ্যারি পটার স্বাক্ষর করা ছবি বিলিয়ে বেড়াচ্ছে!

    না, আমি বিলি করছি না, হ্যারি রেগে বলল, ওর হাত মুষ্টিবদ্ধ হচ্ছে। চুপ করো, ম্যালফয়।

    তুমি বড় হিংসুটে, চিকন স্বরে বলল কলিন, যার গোটা শরীরটা ক্র্যাব এর গলার সমান মোটা।

    হিংসা? বলল ম্যালফয়, ওর আর চিৎকার করবার দরকার নেই, উঠোনের অর্ধেকটা ওর কথা এমনিতেই শুনতে পাচ্ছে। কিসের? আমি আমার কপাল জুড়ে একটা খারাপ দাগ চাই না, ধন্যবাদ। আমি মনে করি না মাথাটা অর্ধেক কাটা গেলে বিশেষ কেউ হওয়া যায়।

    ক্র্যাব আর গোয়েল দুজনেই বোকার মতো বিদ্রুপের চাপা হাসি হাসছিল।

    পোকা খাও, ম্যালফয়, রনের ক্রুদ্ধ প্রতি উত্তর। হাসি বন্ধ হয়ে গেলো ক্র্যাবের, ও এখন গাছের গাটের মতো ওর গাটগুলোর ওপর ভীতিজনিতভাবে হাত বুলাচ্ছে।

    সাবধান উইসলি, দাঁত খিচালো ম্যালফয়। তুমি নিশ্চয়ই এখন কোনো ঝামেলা বাঁধাতে চাও না, বাঁধালেই তোমার মা এসে তোমাকে স্কুল থেকে নিয়ে যাবে। তীক্ষ্ণ কর্ণবিদারী স্বরে আরো যোগ করল। যদি তুমি আর এক পা তোমার গণ্ডির বাইরে দাও

    স্লিথারিন পঞ্চম–বর্ষীয়দের একটা দল হেসে উঠল কাছে থেকে।

    উইসলি একটা স্বাক্ষর করা ছবি চাচ্ছে পটার, আত্মতৃপ্তির হাসি হাসল ম্যালফয়। ওর পুরো পারিবারিক বাড়িটার চেয়েও ওটার দাম বেশি হবে।

    রন ওর সেলোটেপ দিয়ে জোড়া লাগানো জাদুদণ্ডটা একটানে বের করে আনল, কিন্তু হারমিওন চট করে তার ভয়েজেস উইথ ভ্যামপায়ার বন্ধ করে ফিসফিস করে বলল, কে আসছে দেখো!

    কি হচ্ছে, কি হচ্ছে এ সব? গিল্ডরয় লকহার্ট এগিয়ে আসছেন ওদের দিকে দীর্ঘ পদক্ষেপে, ওর ফিরোজা রঙের পোষাকটা উড়ছে ওর পেছনে। কে ছবিতে স্বাক্ষর করছে?

    কথা বলতে শুরু করেছিল হ্যারি কিন্তু পারল না, ওর কাঁধের ওপর দিয়ে একটা ঘুরিয়ে এনে হাসিখুশি লকহার্ট বললেন, জিজ্ঞাসা করাই উচিত ছিল না! আবার হ্যারির সঙ্গে আমাদের দেখা হলো!

    হ্যারি দেখল লকহার্টের কথায় বিদ্ধ হয়ে অপমানে পুড়তে পুড়তে ম্যালফয় বিদ্রুপের হাসি মুখে নিয়ে অন্যদের দিকে সরে যাচ্ছে।

    তাহলে, মিস্টার ক্রিভি ছবি তোলা যাক, বললেন লকহার্ট, কলিনের দিকে উজ্জ্বল হাসি দিয়ে। একটা ডাবল ছবি, এর চেয়ে ভাল কিছু বলা গেল না, আর আমরা দুজনেই ওটা তোমাকে স্বাক্ষর করে দেব।

    কলিন আনাড়ির মতো ওর ক্যামেরা হাতড়িয়ে ঠিক–ঠাক করে ছবিটা যখন তুলল তখন ক্লাসের বেল বাজতে শুরু করেছে। দুপুরের পরের ক্লাসগুলি শুরু হবে।

    তোমরা এখন যাও, ওখান থেকে সরে যাও, লকহার্ট জটলাটার উদ্দেশে বললেন এবং তিনি নিজেও হ্যারিকে নিয়ে রওয়ানা হলেন, তখনও ও লকহার্টের পাশেই ধরা, আর আশা করছে যদি অদৃশ্য হওয়ার একটা ভাল বিদ্যা জানা থাকত।

    জ্ঞানীর উদ্দেশে একটা কথা, হ্যারি, বললেন লকহার্ট পিতৃসুলভ স্বরে পার্শ্ব দরজা দিয়ে বিল্ডিং-এ ঢুকতে ঢুকতে। ওখানে ক্রিভির সামনে আমি তোমাকে আড়াল করলাম বটে–ও যদি আমার দুবিও তোলে, তাহলে তোমার স্কুলের বন্ধুরা ভাববে না যে তুমি নিজেই নিজেকে এত উপরে ওঠাচ্ছো…

    হ্যারি তোতলাতে তোতলাতে কি যেন বলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কে দেয় কান তার কথায়, একদল ছাত্রের চোখের সামনে দিয়ে করিডোর দিয়ে নিয়ে সিঁডি বেয়ে ওঠালো ওকে লকহার্ট।

    আমাকে একটা কথা খোলাখুলি বলতে দাও হ্যারি, তোমার ক্যারিয়ারের এই সময় ছবি স্বাক্ষর করে দেয়ার কোনো মানে হয় না। মানে ইচড়ে পাকা। একটা সময় আসবে, আমার মতো, তুমি যেখানেই যাবে, সেখানেই এক বোঝা স্বাক্ষর করা ছবি তোমাকে বইতে হবে, কিন্তু ছোট করে খল খল হাসলেন তিনি, আমার মনে হয় না তুমি ওখানে পৌঁছে গেছ।

    ওরা লকহার্টের ক্লাসের সামনে পৌঁছল। তিনি এবার ওকে মুক্ত করে দিলেন। হ্যারি ওর পোষাক সমান করে ক্লাসের একেবারে পেছনের একটা বেঞ্চের দিকে রওয়ানা হলো। লকহার্টের সাতটা বইই স্তূপ করে নিজের সামনে রাখল হ্যারি, যেন আসল লোকটাকে দেখতে না হয়।

    ক্লাসের অনারা ঢুকল বকবক করতে করতে এবং রন আর হারমিওন দুজন হ্যারির দুপাশে বসল।

    তোমার মুখের ওপর এখন একটা ডিম ভাজা যাবে, বলল রন। দোয়া কর যেন ক্রিভির সঙ্গে জিনির দেখা না হয়ে যায়, তাহলে ওরা একটা হ্যারি পটার ফ্যান ক্লাব খুলে বসবে।

    শাট আপ, ধমকে উঠল হ্যারি। সে যেটা একেবারেই পছন্দ করে না সেটাই হচ্ছে হ্যারি পটার ফ্যান ক্লাব–কথাটা লকহার্টের কানে যাক আর কি।

    পুরো ক্লাস আসন গ্রহণ করলে লকহার্ট জোরে গলা খাকারি দিলেন, নিরবতা নেমে এলো ক্লাসে। হাত বাড়িয়ে তিনি নেভিল লংবটমের সামনে থেকে ট্র্যাভেল উইথ ট্রলস বইটা তুলে নিলেন এবং ওর নিজের চোখ পিট পিট করা ছবিটা দেখানোর জন্যে সামনে মেলে ধরলেন।

    আমি ওটার দিকে আঙুল তাক করে বললেন তিনি, সঙ্গে সঙ্গে চোখেরও ইশারা করলেন, গিল্ডরয় লকহার্ট, অর্ডার অফ মারলিন, তৃতীয় শ্রেণী, ডার্ক ফোর্স ডিফেন্স লীগের অবৈতনিক সদস্য এবং পাঁচবার উইচ উইকলির সবচেয়ে–মনোহর–হাসি পদক বিজয়ী–কিন্ত্র আমি ও নিয়ে কথা বলি না। কিন্তু হাসি দিয়ে আমি ব্যান্ডন বানশিকে এড়াতে পারিনি?

    অপেক্ষা করলেন লকহার্ট ওরা যেন হাসে; দুএকজন দুর্বলভাবে হাসল।

    দেখা যাচ্ছে তোমরা সবাই আমার বইয়ের পুরো সেট কিনেছ–ভাল করেছ। একটা ছোট্ট কুইজ দিয়ে আজকের ক্লাস শুরু করব। ঘাবড়াবার কিছু নেই–তোমরা বইগুলো কত ভালোভাবে পড়েছ, কতটা বুঝতে পেরেছ, শুধু সেটাই একটু পরখ করে নেয়া আর কি…

    সবার হাতে প্রশ্নপত্র দিয়ে তিনি ক্লাসের সামনে এসে বললে তোমাদের সময় তিরিশ মিনিট, শুরু করো-এখন!

    হ্যারি ওর প্রশ্নপত্রটা দেখল :

    ১। গিল্ডরয় লকহার্টের প্রিয় রং কি?
    ২। গিরয় লকহার্টের গোপন আকাঙ্ক্ষা কি?
    ৩। তোমার মতে এ পর্যন্ত গিল্ডরয় লকহার্টের সবচেয়ে বড় অর্জন কি?

    প্রশ্নের পর প্রশ্ন, কাগজের তিন দিকে একেবারে শেষ প্রশ্নটা :

    ৫৪। গিল্ডয় লকহার্টের জন্মদিন কবে এবং তার জন্য উপযুক্ত উপহার কি হবে?

    আধ ঘণ্টা পর, লকহার্ট উত্তরপত্রগুলো সংগ্রহ করলেন এবং ক্লাসের সামনেই ওগুলো নিরীক্ষা করলেন।

    টাট, টাট–তোমাদের একজনও যে মনে রাখতে পেরেছ আমার প্রিয় রং হচ্ছে লাইলাক (বেগুনি গোলাপী) এ বিষয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে। এটা আমি লিখেছি ইয়ার উইথ আ ইয়েটি বইয়ে। এবং তোমাদের কয়েকজনের ওয়াল্ডারিংস উইথ ওয়েরউল্ফ বইটা আরো যত্নের সাথে পড়তে হবে–আমি পরিষ্কারভাবে ওখানে লিখেছি যে আমার জন্মদিনের আদর্শ উপহার হবে ম্যাজিক এবং নন–ম্যাজিক মানুষের মধ্যে মিল—যদিও আমি ওগডেন-এর পুরনো ফায়ারহুইস্কির একটা বড় বোতলে না বলবো না!

    আবার একটা বদমায়েশি চোখ ঠারলেন তিনি। রন এখন তাকিয়ে আছে লকহার্টের দিকে ওর চোখে অবিশ্বাস; সামনে বসা সিমাস ফিনিপান আর ডিন থমাস নীরব হাসিতে মাথা ঝাঁকাচ্ছে। অন্যদিকে অখন্ড মনোযোগ দিয়ে লকহার্টের প্রতিটি কথা শুনছে হারমিওন, তার নাম কানে যেতেই চমকে উঠল।

    … কিন্তু মিস হারমিওন গ্রেঞ্জার জানে যে আমার গোপন আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে দুনিয়া থেকে সব খারাপ দূর করা এবং আমার নিজের মাপের হেয়ার–কেয়ার পোশন (ঐন্দ্রজালিক উপাচারের মাত্রা তৈরি করা ভাল মেয়ে! বস্তুত– ওর উত্তরপত্রের পাতাগুলো ওল্টাচ্ছেন লকহার্ট, পুরো নম্বর! মিস হারমিওন গ্রেঞ্জার কোথায়?

    একটা কাঁপা হাত তুলল হারমিওন।

    চমৎকার! উজ্জ্বল হাসি লকহার্টের। অতি চমৎকার। গ্রিফিল্ডরের জন্য দশ পয়েন্ট! তাহলে এবার কাজে কথায় আসা যাক…

    ডেস্কের পেছনে উবু হয়ে একটা বড় খাঁচা তুললেন, খাঁচাটা আবরণ দিয়ে ঢাকা।

    এখন সাবধান হও। আমার কাজ হচ্ছে জাদুর জগতের সবচেয়ে খারাপ জীবের বিরুদ্ধে তোমাদেরকে আত্মরক্ষার জন্য প্রস্তুত করা! তোমরা এ রুমে সবচেয়ে খারাপ ধরনের ভয়ের মুখোমুখি হতে পারো। শুধু এটুকু জেনে রাখো আমি যতক্ষণ রয়েছি ততক্ষণ তোমাদের কোনো ক্ষতি হবে না। আমি শুধু তোমাদেরকে শান্ত থাকার জন্যে অনুরোধ করব।

    হ্যারি আর নিজেকে সামলাতে পারল না, বইয়ের স্তূপের পাশ দিয়ে উঁকি দিল খাঁচাটাকে আরো ভালো করে দেখাবার জন্যে। লকহার্ট খাঁচাটার আগে হাত রাখল। ডিন এবং সিমাসের হাসি ততক্ষণে বন্ধ হয়ে গেছে। নেভিল ওর সামনের সীটে কুঁকড়ে গেছে।

    আমি তোমাদের বলব চিৎকার না করার জন্যে, বললেন লকহার্ট নিচু স্বরে। চিৎকার ওদের উস্কে দিতে পারে।

    সমস্ত ক্লাস দম বন্ধ করে আছে, লকহার্ট এক ঝটকায় খাঁচার আবরণটা সরিয়ে নিলেন।

    হ্যাঁ, নাটকীয়ভাবে বললেন তিনি। সদ্য ধরা কর্ণিশ পিক্সি (ক্ষুদে পরী)।

    সিমাস ফিনিগান নিজেকে আর নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারলো না। একটা নাকি হাসি দিল সে, লকহার্টও ভুলে একে ভয়ের চিৎকার ছাড়া অন্য কিছু ভাবতে পারলেন না।

    হ্যাঁ? সিমাসের দিকে তাকালেন তিনি।

    মানে, ওগুলো–ওগুলো তো আর ততটা–বিপদজনক নয়, তাই না? শ্বাসরুদ্ধ সিমাস বলল।

    অত নিশ্চিত হয়ো না। বিরক্ত ভরে সিমাস এর দিকে আঙুল সঞ্চালন করে বললেন লকহার্ট। শয়তানের মতো চালাক সব ক্ষুদে সর্বনাশীও হতে পারে ওগুলো।

    পিক্সিগুলো বৈদ্যুতিক নীল, আট ইঞ্চি লম্বা, সরু মুখ থেকে নির্গত শব্দ এত কর্কশ আর গগণবিদারী যে মনে হবে অসংখ্য টিয়া এক সঙ্গে কথা বলছে। খাঁচার আবরণ সরানো হতেই পিক্সিগুলো হড়বড়াতে শুরু করল, এদিক–ওদিক ছুটতে শুরু করল, খাঁচার শিকগুলো ধরে ঝাঁকাতে লাগল আর কাছে যারা বসে আছে ওদের দিকে তাকিয়ে উদ্ভট মুখভঙ্গি করতে লাগল।

    ঠিক আছে তাহলে, উচ্চস্বরে বললেন লকহার্ট। দেখা যাক তোমরা ওদের কি করতে পারো! খাঁচাটা খুলে দিলেন লকহার্ট।

    এরপর শুধু বিশৃঙ্খলা। রকেটের মতো ছুটছে পিক্সিগুলো এদিক–ওদিক সবদিক। দুজন আবার কান ধরে নেভিলকে একেবারে শূন্যে তুলে ফেলল। কেউ কেউ আবার সোজা জানালা দিয়ে বেরিয়ে গেলো, পেছনের সারির বেঞ্চগুলোতে ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো ছড়িয়ে। বাদবাকি যে কজন ছিল তারা লেগে গেলো ক্লাস রুমটাকে ভাঙচুর করার কাজে, এমনভাবে যে একটা তেড়ে আসা গণ্ডারও করতে পারবে না। কালির বোতল তুলে পুরো ক্লাসে ছড়িয়ে দিল। বই আর কাগজ ছড়িয়ে–ছিটিয়ে দিল ক্লাস জুড়ে। দেয়াল থেকে ছবি ছিঁড়ে, বর্জ্য ফেলার পাত্রটাকে উল্টিয়ে, খপ করে বই আর ব্যাগ নিয়ে কাঁচ ভাঙ্গা জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলতে লাগল। কয়েক মিনিটের মধ্যেই ক্লাসের অর্ধেক ডেস্কের নিচে গিয়ে আশ্রয় নিল আর নেভিলকে দেখা গেল ঝুলছে সিলিং থেকে মোমের ঝাড়টায়।

    ওগুলোকে ধরো, ধরো, ওগুলো তো শুধু পিক্সি… চিৎকার করে উঠলেন লকহার্ট।

    জামার হাতা গুটিয়ে, জাদুদণ্ড নেড়ে তিনি চিৎকার করে আওড়ালেন, পেসকিপিকসি পেস্টেরনমি!

    কিন্তু ওতে কিসসুই হলো না; একটা পিক্সি লকহার্টের জাদুদণ্ডটাই ছিনিয়ে নিয়ে জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলে দিল। লকহার্ট ঢোক গিলল এক ডাইভ দিল সোজা একেবারে নিজের ডেস্কের নিচে, অল্পের জন্য নেভিলের ওজনে চ্যাপ্টা হওয়া থেকে বেঁচে যান, এক সেকেন্ড পরেই সেখানে নেভিল পড়ে, মোমবাতির ঝাড়টা ছিঁড়ে যাওয়ায়।

    ঘণ্টা বাজল। দরজার দিকে পাগলের মতো ছুটল সবাই। রুমে একটু শান্তি ফিরে এলে, লকহার্ট উঠে দাঁড়ালেন, দেখলেন হ্যারি, রন আর হারমিওন দরজা দিয়ে প্রায় বেরিয়ে যাচ্ছে। ওদেরকে বললেন, বাকি পিক্সিগুলোকে খাঁচায় পোরার জন্যে আমি তোমাদের তিনজনকে বলছি। ওদের বেরিয়ে যাওয়ার দরজাটা বন্ধ করে দিলেন লকহার্ট।

    অবিশ্বাস্য! কি বলে গেলেন লকহার্ট? গর্জন করে উঠল রন, একটা পিক্সি ওর কান কামড়ে দিয়েছে, ব্যথা করছে প্রচণ্ড।

    উনি আমাদের কিছু বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করার সুযোগ দিয়েছেন, বলতে বলতে হারমিওন চতুর একটা ফ্রিজিং মায়া প্রয়োগ করে দুটো পিক্সিকে নিশ্চল করে খাঁচায় পুরে ফেলল।

    হাত লাগাও? বলল হ্যারি, হাতের নাগালের বাইরে জীব বের করা নৃত্যরত একটা পিক্সিংকে ধরবার চেষ্টা করছিল ও। হারমিওন ও কি করছে সে সম্পর্কে ওর কোনো ইঙ্গিত ছিল না।

    রাবিশ, বলল হারমিওন। তুমি ওর বই সব পড়েছ–চিন্তাকর উনি যে কত আশ্চর্যজনক ঘটনা ঘটিয়েছেন…

    উনি বলেন উনি করেছেন, বিড় বিড় করে বলল রন।

    ০৭. মাডব্লাড এবং মর্মর

    ০৭. মাডব্লাড এবং মর্মর

    পরের কয়েকটা দিন হ্যারি কাটালো গিল্ডরয় লকহার্টকে এড়িয়ে। যখনই সে দেখেছে গিল্ডরয় লকহার্টকে করিডোর দিয়ে আসছে তখনই সে তার দৃষ্টির আড়ালে যাওয়ার জন্যে সচেষ্ট থেকেছে। তবে কঠিন ছিল কলিন ক্রিভিকে এড়ানো। ও যেন হ্যারির সময়গুলো মুখস্থ করে রেখেছে। ওকে দিনে কয়েকবার, ঠিক আছে, হ্যারি? বলা আর জবাবে, হ্যালো, কলিন, শোনা কলিনের কাছে যেন বিরাট একটা রোমাঞ্চকর ব্যাপার। হ্যারির গলার স্বরে যতই ধৈর্যচ্যুতি বোঝাক না কেন।

    হেডউইগ তখনও রেগে আছে হ্যারির ওপর। কারণ সেই গাড়িতে করে বিপর্যয়কর যাত্রাটা। রনের জাদুদণ্ডটা এখনও ঠিকমত কাজ করছে না। শুক্রবার সকালে রনের হাত থেকে ছুটে বেরিয়ে গিয়ে সোজা গিয়ে বেঁটেখাটো প্রফেসর ফ্লিটউইকের দুই চোখের মাঝখানে আঘাত করল। ফুলে গেল জায়গাটা সবুজ হয়ে যাওয়া। এই ভাবে একটা না আরেকটা ঘটনার মধ্য দিয়ে যখন উইকএন্ড এলো তখন হ্যারি খুশিই হলো। সে, রন আর হারমিওন প্ল্যান করল শনিবার সকালে হ্যাগ্রিডের সঙ্গে দেখা করতে যাবে। হ্যারিকে অবশ্য তার ওঠার কয়েক ঘন্টা আগেই গ্রিফিল্ডর কিডিচ টিমের ক্যাপ্টেন অলিভার উড ঝাঁকিয়ে ঘুম থেকে জাগল।

    কি হয়েছেএএএ? আলসে গলায় বলল হ্যারি।

    কিডিচ প্র্যাকটিস! বলল উড। এসো!

    চোখ কুচকে হ্যারি জানালার দিকে তাকাল। গোলাপী এবং সোনালি আকাশ থেকে ক্ষীণ একটা কুয়াশা ঝুলে রয়েছে। এখন সে সম্পূর্ণ জেগে আছে, সে বুঝতে পারছে না কি করে সে পাখীর কলকাকলির মধ্যে সে ঘুমাতে পেরেছে।

    অলিভার, মাত্র তো ভোর হয়েছে, হ্যারির গলা থেকে কোলা ব্যাঙের স্বর বের হলো।

    একেবারে ঠিক, বলল উড। লম্বা এবং স্থূলকায় ও, উন্মাদ উৎসাহে চোখ জোড়া জ্বলছে। এটা আমাদের নতুন ট্রেনিং কর্মসূচির অংশ। জলদি ওঠো, ঝাড়ু নাও, চলে যাওয়া যাক, বলল উড উত্সাহের সঙ্গে। অন্য কোন টিমই প্র্যাকটিস শুরু করেনি, আমরাই এ বছর সবার আগে শুরু করবো…

    হাই তুলতে তুলতে আর একটু কেঁপে উঠতে উঠতে হ্যারি বিছানা ছেড়ে উঠল এবং ওর কিভিচ পোশাক খোঁজার চেষ্টা করল।

    এই তো লক্ষ্মী ছেলে, বলল উড। পনরো মিনিটের মধ্যে পিচে তোমার সঙ্গে দেখা হচ্ছে।

    টকটকে লাল টিম পোশাকটা পেয়ে আলখাল্লাটাও গায়ে চাপিয়ে নিল হ্যারি। সে কোথায় কোথায় যাচ্ছে সে ব্যাপারে রনের উদ্দেশে একটা ছোট্ট চিরকুট লিখল। নিম্বাস দুহাজারটা কাঁধে ফেলে ঘোরানো সিঁড়ি বেয়ে নেমে একেবারে কমন রুমে। ছবির গর্তটার কাছে যেই পৌঁছেছে পেছনে ঠনঠন শব্দ শুনতে পেলো হ্যারি। দৌড়ে আসছে কলিন ক্রিভি পাগলের মতো। ওর ক্যামেরাটা ঝুলছে গলায়। হাতে যেন কি ধরা।

    সিঁড়িতে কে যেন তোমার সম্পর্কে কথা বলছে হ্যারি! এটা দেখো ডেভেলপ করিয়েছি, তোমাকে দেওয়ার জন্যে এনেছি

    ওর নাকের নিচে ছবিটা দোলাচ্ছে কলিন, হ্যারিকে হতবুদ্ধি দেখাচ্ছে।

    সাদা কালো ছবিতে নড়ছেন লকহার্ট, একটা হাতকে সবলে টানছেন তিনি, চিনতে পারল হ্যারি, হাতটা ওর নিজের। ছবিতে দেখা যাচ্ছে ও আসতে চাচ্ছে না, ক্যামেরার সামনে টানার বিরুদ্ধে বেশ বাধাই দিচ্ছে, খুশি হলো হ্যারি। হ্যারি দেখছে, লকহার্ট শেষ পর্যন্ত নিরস্ত হলেন এবং ছবির সাদা কোণাটায় গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে ধপ করে বসে পড়লেন।

    তুমি কি এটা সই করবে? আগ্রহের সঙ্গে বলল কলিন।

    না। সোজাসাপটা বলল হ্যারি। ঘাড় ঘুরিয়ে চারদিকটা একবার দেখে নিল, সত্যিই কেউ নেইতো। সরি কলিন, আমাকে যেতে হবে–কিডিচ প্র্যাকটিস আছে।

    ছবির গর্তের ভেতর উঠে গেল হ্যারি।

    ওহ ওঔ! আমার জন্যে অপেক্ষা করো! আমি কখনো আগে কিডিচ খেলা দেখিনি।

    কলিনও ওর পেছন পেছন গর্তে উঠল।

    সত্যি ওটা একেবারেই বিরক্তিকর হবে, বলল হ্যারি, কিন্তু কলিন ওর কথায় কান দিল না, ওর চোখমুখ উত্তেজনায় জ্বল জ্বল করছে।

    একশ বছরের মধ্যে তুমিই তো সর্বকনিষ্ঠ প্লেয়ার, তাই না হ্যারি? তাই? বলল কলিন তার পাশে হাঁটতে হাঁটতে। তুমি নিশ্চয়ই অসাধারণ। আমি কখনও উড়িনি। ব্যাপারটা কি সহজ? ওটা কি তোমার নিজের ঝাড়ু? এখানে যতগুলো আছে ওর মধ্যে ওটাই কি সবচেয়ে ভাল?

    ওর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার উপায় হ্যারির জানা ছিল না। যেন একটা সাংঘাতিক রকমের বাচাল ছায়া।

    আমি সত্যিই কিডিচ খেলাটা বুঝি না, বলল কলিন এক নিঃশ্বাসে। এটা কি সত্যি যে এই খেলায় চারটি বল ব্যবহার হয় এবং এর মধ্যে দুটো আকাশে উড়তে থাকে প্লেয়ারদেরকে তাদের ঝাড়ু থেকে ফেলে দেয়ার জন্য?

    হা, ভারি গলায় বলল হ্যারি, হাল ছেড়ে দিয়ে কিডিচ খেলার জটিল নিয়মগুলো ব্যাখ্যা করতে উদ্যোগী হলো। ওগুলোকে ব্লাজার্স বলে। প্রত্যেক টিমে দুজন করে বিটার থাকে, এদের কাজই হলো ওদের দিক থেকে ব্লাজার্স দুটোকে পিটিয়ে দূরে রাখা। গ্রিফিল্ডরের দুজন বিটার হচ্ছে ফ্রেড এবং জর্জ উইসলি।

    অন্য বল দুটো কি জন্যে? কলিন জিজ্ঞাসা করল। হোঁচট খেল সে, হা করে হ্যারির দিকে চেয়ে হাঁটছিল বলে।

    বেশ, কোয়াফল মানে–ওই বড় লাল বলটা ওটাই গোল করে। এক এক টিমের তিনজন করে চেসার, নিজেদের মধ্যে কোয়াফলটা ছুঁড়ে পিচের শেষ প্রান্তের পোস্টে গোল করার চেষ্টা করে গোল পোস্টে তিনটি লম্বা খুঁটি মাথায় ধাতব বলয় আটকানো থাকে।

    আর চতুর্থ বলটা

    -এটা হচ্ছে গোল্ডেন স্নিচ, বলল হ্যারি, এটা খুবই ছোট, খুবই দ্রুত এবং ধরা অত্যন্ত কঠিন। কিন্তু ওই কাজটিই সিকারদের করতে হয়, কারণ কিডিচ খেলা কখনই শেষ হয় না যতক্ষণ না স্নিচটা ধরা হচ্ছে। যখনই একজন সিকার স্নিচটাকে ধরবে, তখনই সে তার দলের জন্যে অতিরিক্ত দেড়শত পয়েন্ট অর্জন করবে।

    এবং তুমিই হচ্ছে গ্রিফিন্ডরের সিকার, তাই না? বলল কলিন বিস্ময়ে।

    হ্যাঁ, বলল হ্যারি, প্রাসাদ থেকে বেরিয়ে ওরা শিশির ভেজা মাঠ পেরোতে শুরু করল। একজন কীপারও রয়েছে, সে গোলপোস্ট রক্ষা করে। ব্যস এটাই কিডিচ খেলা।

    কিন্তু লন পেরিয়ে একেবারে কিডিচ পিচ পর্যন্ত যেতে যেতে কলিনের প্রশ্ন থামল না কিছুতেই, শুধু মাত্র ড্রেসিং রুমে যাওয়ার সময় হ্যারি ওকে পিছু ছাড় করতে পারল। তবুও ওকে পেছন থেকে চিকন গলায় ডেকে বলল কলিন, যাই আমি একটা ভাল বসার জায়গায় যাই, হ্যারি! দ্রুত চলে গেলে ও স্ট্যান্ডের দিকে।

    গ্রিফিল্ডর টিমের অন্যরা আগেই ড্রেসিং রুমে চলে এসেছে। এর মধ্যে উডই একমাত্র ব্যক্তি যাকে দেখা যাচ্ছিল সম্পূর্ণ জাগ্রত। ফ্ৰেড় আর জর্জ উইসলি বসে আছে, চোখ ফোলা আর উস্কোখুস্কো চুল, পাশেই ফোর্থ ইয়ারের অ্যালিসিয়া স্পিনেট, মনে হচ্ছে ও ঘুমেও ঢলেই পড়ে যাবে। ওর সাথের চেসার ক্যাটি বেল আর অ্যাঞ্জেলিনা জনসন পাশাপাশি বসে হাই তুলছে।

    এই যে হ্যারি, এত দেরি হলো যে? উড বলল দ্রুত। পিচে যাওয়ার আগে তোমাদের সকলে সঙ্গে আমি জরুরি কিছু কথা বলে নিতে চাই, কারণ এই গ্রীষ্মে আমি ট্রেনিং-এর একটা সম্পূর্ণ নতুন কর্মসূচি বের করেছি, আমার মনে হয় এটাই একেবারে অন্য স্তরে নিয়ে যাবে…

    কিডিচ পিচের একটা বড়সড় ডায়গ্রাম বোর্ড উডের হাতে, বিভিন্ন রঙের কালিতে লাইন টেনে, তীর আর ক্রস আঁকা হয়েছে। জাদুদণ্ডটা বের করে বোর্ডের ওপর টোকা দিতেই তীরগুলো ডায়গ্রামের ওপর শুয়োপোকার মতো চলতে শুরু করল। এবার উড তার নতুন কৌশল সম্পর্কে ছোটখাট একটা বক্তৃতা দিতে শুরু করতেই আলিসিয়ার কাঁধের ওপর ঝুঁকে পড়ল প্যেড উইসলির মাথা এবং নাক ডাকতে শুরু করল তার।

    প্রথম বোর্ডটা বোঝাতে প্রায় কুড়ি মিনিট লেগে গেল, এর নিচে আরো একটি বোর্ড ছিল এবং তারও নিচে তৃতীয় আরো একটা বোর্ডও ছিল। উড একঘেয়ে স্বরে বলে যেতেই লাগল এদিকে হ্যারিকে মনে হচ্ছে, প্রায় অচেতন।

    তাহলে, বলল উড অবশেষে, হ্যারিকে একটা স্বপ্ন থেকে জাগিয়ে, বেচারা হ্যারি এইমাত্র স্বপ্ন দেখছিল ক্যাসল-এ বসে সে কি নাস্তা খাবে, সব পরিস্কার তো, কোন প্রশ্ন আছে?

    আমার একটি প্রশ্ন আছে, অলিভার, বলল জর্জ, চমকে উঠে। কাল যখন আমরা জেগে ছিলাম তখন এসব আমাদের কেন বললে না?

    খুব খুশি হলো না উড।

    এখন, আমার কথা শোন সবাই,ক্রুদ্ধভাবে সকলের দিকে তাকিয়ে বলল সে, গত বছরই আমাদের কিডিচ কাপ জেতা উচিৎ ছিল। আমরাই ছিলাম সবার সেরা টিম। কিন্তু আমাদের নিয়ন্ত্রণের বাইরের সব অবস্থার জন্যে…

    হ্যারি অপরাধীর মতো নিজের সিটে নড়ে বসল। সে অচেতন অবস্থায় হাসপাতালে ছিল, তার মানে গ্রিফিল্ডর হাউজকে একজন প্লেয়ার কম নিয়ে খেলতে হয়েছে। এবং গত তিনশ বছরের ইতিহাসে তাদেরকে সবচেয়ে বিপর্যকরভাবে হারতে হয়েছিল।

    এক মুহূর্ত ব্যয় করল উড নিজেকে সামলে নিতে। সর্বশেষ পরাজয়টা ওকে এখনও পীড়া দিচ্ছে।

    তাহলে, এ বছর আমরা আগের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি প্র্যাকটিস করবো…ও,কে, এখন চলো আমাদের নতুন থিওরিগুলো প্র্যাকটিস করে দেখি! উড চিৎকার করে উঠল, নিজের ঝাড়ুদণ্ডটা সবেগে তুলে নিয়ে নেতৃত্ব দিয়ে সকলকে ড্রেসিং রুমের বাইরে নিয়ে গেল। পা তখনও জমে আছে হাই তুলতে তুলতে তার টিম অনুসরণ করল।

    এত দীর্ঘ সময়ের জন্য ওরা ড্রেসিং রুমে ছিল যে ততক্ষণে সূর্য উঠে গেছে। যদিও স্টেডিয়ামের মাঠের ঘাসে এখনও কুয়াশার পাতলা আবরণ লেগে আছে। পিচে গিয়ে হ্যারি দেখল রন আর হারমিওন ওদের জন্যে অপেক্ষা করছে।

    তোমাদের এখনও শেষ হয়নি? জানতে চাইল রন অবিশ্বাসের সঙ্গে।

    শুরুই হয়নি এখনও, বলল হ্যারি, গ্রেট হল থেকে আনা রন আর হারমিওনের টোস্ট আর মোরব্বার দিকে ঈর্ষার দৃষ্টিতে তাকিয়ে। উড আমাদের নতুন কিছু কৌশল শেখাচ্ছিল।

    ঝাড়ুদণ্ডে চড়ে মাটিতে লাথি মারল হ্যারি, সা করে অনেক উঁচুতে উঠে গেলো। সকালের ঠান্ডা বাতাস ওকে একেবারে পুরোপুরি জাগিয়ে দিল, উডের দীর্ঘ আলোচনার চেয়ে অন্তত বেশি কার্যকরভাবে। কিডিচ পিচে ফিরে এসে চমৎকার লাগছে। ফ্রেড আর জর্জের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সে ডান দিকে ঘুরে পূর্ন গতিতে স্টেডিয়াম চক্কর দিল।

    ওই অদ্ভুত শব্দটা কি ক্লিক করছে? জিজ্ঞাসা করল ফ্রেড কোনাটা সবেগে ঘুরে আসতে আসতে।

    হ্যারি স্ট্যান্ডের দিকে তাকাল। সবচেয়ে উঁচু সিটগুলোর একটাতে কলিন বসে আছে। ছবির পর ছবি তুলছে। ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দটা প্রায় জনশূন্য স্টেডিয়ামে অদ্ভুতভাবে বহুগুণে বর্ধিত হয়ে যাচ্ছে।

    এদিকে তাকাও, হ্যারি! এদিকে? চিকন গলায় চিৎকার করছে ও।

    কে ওটা? বলল ফ্রেড।

    কোন ধারণা নেই, মিথ্যা বলল হ্যারি, গতি বাড়িয়ে দিল যে কলিনের কাছ থেকে যতটা সম্ভব দূরে যাওয়া যায়।

    কি হচ্ছে এখানে? ঊড জিজ্ঞাসা করল, ভ্রূ কুঁচকে, বাতাস কেটে ওদের দিকে যেতে যেতে। ওই ফাস্ট–ইয়ারটা ছবি তুলছে কেন? আমার এটা পছন্দ হচ্ছে না। ও সিথারিনদের চরও হতে পারে, আমাদের নতুন ট্রেনিং প্রোগ্রাম সম্পর্কে জেনে নিচ্ছে।

    গ্রিফিল্ডরেই আছে ও, তাড়াতাড়ি বলল হ্যারি। এবং গ্রিফিন্ডরদের কোন চরেরও দরকার হবে না, অলিভার, বলল জর্জ।

    কি দেখে ওরকম বলছ, বলল উড।

    কারণ, ইতোমধ্যে ওরা সশরীরেই এখানে চলে এসেছে, বলল জর্জ ওদেরকে দেখিয়ে।

    সবুজ পোশাক পরা কয়েকজন পিচে চলে আসছে হেঁটে, কাঁধে ঝাড়ুদণ্ড।

    আমি বিশ্বাস করতে পারছি না! রাগে হিসহিস করে উঠল ঊড। আমি সারা দিনের জন্য পিচটা বুক করেছি! ঠিক আছে দেখা যাবে।

    উড মাটির দিকে সবেগে নামল, রাগের কারণে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি জোরে। একটু টলমল করে ঝাড়ু থেকে নামল ও। হ্যারি, ফ্রেড এবং জর্জ ওকে অনুসরণ করল।

    ফ্লিন্ট! স্লিথারিনের ক্যাপ্টেনের উদ্দেশে গর্জন করে উঠল উড। এটা আমাদের প্র্যাকটিসের সময় এর জন্যে আমরা মাঠে এসেছি! তোমরা এখন যেতে পারো!

    মার্কাস ফ্লিন্ট উডের চেয়েও বিশাল। জবাব দেয়ার সময় দুবৃত্তসুলভ ধূর্ততা ওর মুখে, আমাদের সকলের জন্যেইতো অনেক জায়গা রয়েছে,উড়।

    অ্যাঞ্জেলিনা আলিসিয়া এবং কেটিও এগিয়ে এসেছে। মিথারিন টিমে এনি কোন মেয়ে নেই–যারা পাশাপাশি দাঁড়িয়ে, গ্রিফিল্ডরের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে অপাঙ্গে তাকাতে পারে।

    কিন্তু আমিই তো পিচটা বুক করেছি! বলল উড, রাগের সঙ্গে থুতু ফেলে। আমি বুক করেছি।

    আহ, বলল ফ্লিন্ট, কিন্তু আমার কাছে তো রয়েছে প্রফেসর স্নেইপ-এর বিশেষভাবে স্বাক্ষর করা একটি চিরকুট। আমি প্রফেসর এস.স্নেইপ, স্লিথারিন টিমকে, ওদের নতুন সিকারকে ট্রেনিং দেয়ার প্রয়োজনে কিডিচ পিচে আজ প্র্যাকটিস করবার জন্যে অনুমতি দিচ্ছি।

    তোমরা একজন নতুন সিকার নিয়েছ? বলল উড মূল বিষয় থেকে সরে গিয়ে। কোথায়?

    এবং দশাসই মানুষের পেছন থেকে বেরিয়ে এলো সপ্তম জন, ছোট্ট একজন বালক, পান্ডুর সূচালো মুখে আত্মতৃপ্তির হাসি। বালকটি ড্র্যাকো ম্যালফয়।

    তুমি কি লুসিয়াস ম্যালফয়-এর পুত্র নও? বলল ফ্রেড, ম্যালফয়ের দিকে তাকিয়ে, দৃষ্টিতে পরিষ্কার অপছন্দের ছাপ।

    মজার ব্যাপার তুমি ড্র্যাকোর বাবার নামটাই বললে, বলল ফ্লিন্ট, পুরো স্লিথারিন টিমটারই মুখের হাসি আরো চওড়া হলো। তিনি সিথারিন টিমকে যে সহৃদয় উপহারটা দিয়াছেন দাঁড়াও সেটা তোমাকে দেখাই।

    সাতজনই তাদের ঝাড়ুলাঠি বাড়িয়ে ধরল। সাতটি অত্যন্ত উজ্জ্বলভাবে চকচক করা, একেবারে নতুন হ্যান্ডল এবং সাত সেট চমৎকার সোনালি অক্ষরে লেখা নিম্বাস দুই হাজার এক সকালের রোদ্দুরে ঝলসে উঠল গ্রিফিল্ডরদের নাকের সামনে।

    একেবারে লেটেস্ট মডেলের। মাত্র বেরিয়েছে গত মাসে, বলল ফ্লিন্ট নিস্পৃহভাবে, ওর নিজের ঝাড়ুলাঠির প্রান্ত থেকে এক কণা ধুলো ঝাড়ুতে ঝাড়ুতে। আমার বিশ্বাস এটা বেশ উল্লেখযোগ্যভাবেই পুরনো নিম্বাস দুই হাজারকে ছাড়িয়ে যাবে। আর পুরনো ক্রিমসুইপগুলো, সে নোংরাভাবে ফ্রেড আর জর্জের দিকে তাকিয়ে হসল, ওরা দুজনেই ওদের ক্লিনসুইপ পাঁচ আঁকড়ে ধরুল, নিশ্চয়ই ওদের সঙ্গে সঙ্গে ক্লাসের বোর্ডও মুছে।

    এক মুহূর্তের জন্যে গ্রিফিল্ডরের কেউই বলার মতো কথা খুঁজে পেলো না। ম্যালফয়ের আত্মতৃপ্তির হাসিটা বড় হতে হতে, ওর চোখ জোড়া একেবারে সরু হয়ে গেছে।

    ওহ! দেখো, বলল ফ্লিন্ট। পিচ দখলের হামলা।

    রন আর হারমিওন ঘাসের ওপর দিয়ে হেঁটে আসছে, কি ঘটছে তা পরখ করার জন্যে।

    কি হচ্ছে? রন জিজ্ঞাসা করল হ্যারিকে। তোমরা খেলছ না কেন? আর ও এখানে কি করছে?

    ম্যালফয়ের দিকে তাকিয়ে আছে ও, চোখটা স্লিথারিন কিডিচ জার্সির দিকে।

    আমি নতুন স্লিথারিন সিকার, উইসলি, বলল ম্যালফয় তৃপ্ত স্বরে। আমার বাবা আমাদের টিমের জন্য যে ঝাড়ুগুলো কিনে দিয়েছেন সকলেই সেগুলোর প্রশংসা করছে।

    রন ঢোক গিলল, হা করে তাকিয়ে থাকল তার সামনের সাতটি অপূর্ব ঝাডুলাঠির দিকে।

    ভাল, তাই না? আস্তে করে বলল ম্যালফয়। হয়তো গ্রিফিল্ডর টিমও হয়তো কিছু স্বর্ণমুদ্রা জোগাড় করে নতুন কিনে নিতে পারবে। ওই ক্লিনসুইপ পাঁচ গুলোকে এবার ছুঁড়ে ফেলে দিতে পারবে। আমার মনে হয় হয়তো কোন জাদুঘর ওগুলোর নেয়ার জন্যে আগ্রহী হবে।

    স্লিথারিন টিম এবার অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।

    গ্রিফিল্ডর টিমে অন্তত কাউকে পয়সা দিয়ে নিজের জায়গা কিনতে হয় না। তীক্ষ্ণ কণ্ঠে বলল হারমিওন। তারা জায়গা পায় শুধু প্রতিভার জোরে।

    ম্যালফয়ের চেহারা থেকে আত্মতৃপ্তির হাসিটা নিভে গেল। তোমার মতামত কেউ চায়নি, নোংরা মাডব্লাড, থু থু ফেলল ম্যালফয়।

    সঙ্গে সঙ্গে হ্যারি বুঝতে পারল, ম্যালফয় সাংঘাতিক খারাপ কিছু বলেছে। কারণ ওর কথা শেষ না হতেই তুমুল হট্টগোল শুরু হয়ে গেল। ফ্লিন্টকে ম্যালফয়ের সামনে ঝাঁপিয়ে পড়ে ওকে ফ্রেড আর জর্জের আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে হলো। অ্যালিসিয়া চিৎকার করে উঠল, তোমার এত বড় সাহস রন পোশাকের মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিল, বের করে আনল ওর জাদুদণ্ডটা, চিৎকার করে ঊঠল, তোমাকে এর জন্যে মূল্য দিতে হবে, ম্যালফয়! ফ্লিন্টো হাতের নিচ দিয়েই ওটা সে ম্যালফয়ের মুখের দিকে তাক করল ক্ষিপ্ত রন।

    আকস্মিক প্রচণ্ড শব্দে কেঁপে উঠল গোটা স্টেডিয়াম জাদুদরে উল্টো দিক থেকে সবুজ আলোর একটা তীব্র ঝলক বেরিয়ে রনেরই পেটে আঘাত করে ওকে একেবারে ঘাসের ওপর আছড়ে ফেলল।

    রন। রন! তুমি ঠিক আছে তো? আর্ত চিৎকার করে উঠল হারমিওন।

    কথা বলার জন্যে মুখ খুলল রন, কি কোন কথা বের হলো না। পরিবর্তে সর্বশক্তি দিয়ে ঢেকুর দিল রন আর তার মুখ দিয়ে কয়েকটা অসম আকৃতির বুলেট বেরিয়ে কোলের উপর পড়ল।

    হাসিতে যেন পক্ষাঘাতগ্রস্ত হয়ে গেলো স্লিথারিন টিম। হাসির দমকে বেঁকে একেবারে দ্বিগুণ হয়ে গেলো ফ্লিন্ট, ভর করে আছে নতুন তার ওপর। চার হাতপায়ে ভর করে মাটিতে সজোরে ঘুষি মারছে ম্যালফয়। গ্রিফিনরা রনকে চারদিক থেকে ঘিরে রেখেছে, আরো বড় বড় চকচকে বুলেট মুখ দিয়ে উদগিরণ করছে সে। তবুও কেউ যেন ওকে ধরতে চাইছে না।

    ওকে হ্যাগ্রিডের কাছেই নিয়ে যাওয়া ভাল, কারণ ওর বাসাটাই কাছে, বলল হ্যারি হারমিওনকে, সাহসের সঙ্গে মাথা নাড়ল সে, ওরা দুজন মিলে রনকে হাত ধরে টেনে তুলল।

    কি হয়েছে, হ্যারি? কি হয়েছে? ও কি অসুস্থ কিন্তু তুমি তো ওকে সুস্থ করে তুলতে পারবে, পারবে না? আসন ছেড়ে দৌড়ে এসে ওরা যখন পিচ ত্যাগ করছে তখন ওদের পাশে যেতে যেতে বলছে কলিন। রন একটা শ্বাস ছাড়ল আরো কয়েটা বুলেট ওর মুখ গলে সামনে পড়ল।

    উহহহ, বলল চমৎকৃত কলিন ক্যামেরা তুলে, ওকে একটু স্থির করে ধরতে পারো?

    সামনে থেকে সরো কলিন! ক্ষেপে গেছে হ্যারি। সে আর হারমিওন রনকে ধরে স্টেডিয়াম থেকে বের করে বনের কিনারার দিকে নিয়ে এলা।

    ওই তো ওর কাছেই, রন, বলল হারমিওন, যখন খেলার শিক্ষকের কেবিনটা নজরে পড়ল। এক মিনিটের মধ্যেই ঠিক হয়ে যাবে…প্রায় পৌঁছে গেছি…

    ওরা যখন হ্যাগ্রিডের বাসার কুড়ি গজের মধ্যে এসে পড়েছে, তখন সামনের দরজাটা খুলে গেলো, কিন্তু যিনি বেরিয়ে এলে তিনি হ্যাগ্রিড নন। গিল্ডরয় লকহার্ট উজ্জ্বল বেগুনি রঙের সবচেয়ে ফ্যাকাসে পোশাকটা পড়ে বেরিয়ে এলেন।

    জলদি করো, এই যে এখানে, চাপা স্বরে বলল, হ্যারি, রনকে টেনে কাছের একটা ঝোপের আড়ালে নিয়ে যেতে যেতে। অনিচ্ছা সত্ত্বেও হারমিওন ওকে অনুসরণ করল।

    তুমি যদি জানো ঠিক কি করছ, তবে ব্যাপারটা অত্যন্ত সহজ! লকহার্ট উচ্চস্বরে হ্যাগ্রিডের উদ্দেশে বলছেন। যদি সাহায্যের দরকার হয়, তুমি জানো আমি কোথায় থাকব! আমার বইয়ের একটা কপি তোমাকে দেবো–আশ্চর্য তুমি এখনও পাওনি। আজ রাতে স্বাক্ষর করে পাঠিয়ে দেবো। আচ্ছা, বিদায়! হেঁটে প্রাসাদের দিকে চলে গেলেন লকহার্ট।

    লকহার্ট দৃষ্টির বাইরে না যাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করল, রনকে ঝোপ থেকে তুলে বের করে হ্যাগ্রিডের দরজা পর্যন্ত নিয়ে এলো। দ্রুত নক করল।

    হ্যাগ্রিড এলো সঙ্গে সঙ্গে। মেজাজ খারাপ। কিন্ত্র দরজা খুলে আগন্তুককে দেখে চেহারা উজ্জ্বল হয়ে গেল।

    ভাবছিলাম তোমরা কখন আমাকে দেখতে আসবে–ভেতরে এসো, ভেতরে এসো, ভেতরে এসো ভেবেছিলাম প্রফেসর লকহার্টই আবার এসেছেন।

    হ্যারি আর হারমিওন দরজা দিয়ে রনকে নিয়ে গেল এক রুমের কেবিনের ভেতরে। এক কোণায় একটি মাত্র বিশাল একটা খাট আরেক কোণায় চুলীতে আগুন জ্বলছে শব্দ করে। বনের সমস্যায় হ্যাগ্রিডকে খুব একটা বিচলিত দেখালো না। এর আগে হ্যারি ব্রনকে একটা চেয়ারে বসিয়ে সমস্যাটা সংক্ষেপে হ্যাগ্রিডের কাছে ব্যাখ্যা করেছে।

    ভেতরে থাকার চেয়ে বেরিয়ে যাওয়াই ভাল, খোশ মেজাজে বললেন হ্যাগ্রিড, রনের সামনে বড় একটা তামার গামলা বসাতে বসাতে। সবগুলো বের করে দাও।

    আমার মনে হয় না ওগুলো নিজে থেকে সব বেরিয়ে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের আর কিছু করার নেই, উদ্বেগের সাথে বলল হারমিওন। জন আবার উবু হলো গামলার ওপর। ভাল সময়ই অমন একটা শাপ কার্যকর করা খুবই কঠিন আর একটা ভাঙ্গা জাদুদণ্ড দিয়ে…

    এদিক ওদিক ব্যস্ত হ্যাগ্রিড। ওর কুকুর ফ্যাং হ্যারির দিকে তাকিয়ে লালা ঝরাচ্ছে।

    ফ্যাঙের কান চুলকে দিয়ে হ্যারি জিজ্ঞাসা করল, প্রফেসর লকহার্ট আপনার কাছে কি চেয়েছিল, হ্যাগ্রিড?

    আমাকে উপদেশ দিচ্ছিলেন, কি করে কুয়া থেকে সামুদ্রিক গুল্ম তুলতে হয়, ক্ষিপ্ত হ্যাগ্রিড বললেন। টেবিলের ওপর থেকে অর্ধেক পাখা তোলা মুরগীটা সরিয়ে টি–পটটা রাখলেন। যেন আমি জানি না আরকি। যেন কোন অশরিরী আত্মা যাকে সে নির্বাসিত করেছে তার ওপর আমি ঝাঁপিয়ে পড়ছি। এর এক বর্ণও যদি সত্যি হয় তাহলে আমি আমার কেটলি খাব।

    হোগার্টস্-এর কোন শিক্ষকের সমালোচনা করা, হ্যাগ্রিডের জন্য অস্বাভাবিক বটে, অবাক হয়ে তারি তাকিয়ে রইল। হারমিওনও কথা বলল, তবে তার চেয়ে যা স্বাভাবিক তার চেয়ে উচ্চস্বরে, আমার মনে হচ্ছে আপনিও ঠিক করছেন না। প্রফেসর ডাম্বলডোর স্বাভাবিকভাবেই ভেবেছেন তিনিই কাজটির জন্যে সবচেয়ে উপযুক্ত

    সেই কাজটার জন্যে একমাত্র ব্যক্তি, বললেন হ্যাগ্রিড ওদের দিকে এক প্লেট গুড়ের সন্দেশ এগিয়ে দিতে দিতে, রন তখনও গামলার ভেতর উগড়ে চলেছে। এবং আমি বোঝাতে চাইছি একমাত্রই। কালো জাদু প্রতিরোধ বিষয়ে কাউকে খুঁজে পাওয়াও কঠিন। দেখো এই বিষয়টা পড়ার ব্যাপারে কেউ খুব বেশি আগ্রহীও নয়। সবাই ভাবতে শুরু করেছে বিষয়টা দুর্লক্ষণযুক্ত, দুর্ভাগ্য বয়ে আনে। এখন আর কেউ এ বিষয়ে বেশিদিন টেকে না। এখন আমাকে বলো তো, বলল হ্যাগ্রিড, রনের দিকে মাথা ঝাঁকিয়ে, ও কাকে শাপগ্রস্ত করতে যাচ্ছিল?

    ম্যালফয় হারমিওনকে গালি দিয়েছে, গালিটা নিশ্চয়ই খুব খারাপ হবে, কারণ ওটা শোনার পর সবাই ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিল।

    সত্যিই খারাপ ছিল বলল, টেবিলের ওপর মাথা তুলে ভাঙ্গা গলায় বলল রন, ফ্যাকাশে হয়ে গেছে চেহারা ঘাম ঝরছে। ম্যালফয় ওকে মাডব্লাড বলে গালি দিয়েছে, হ্যাগ্রিড–

    রন আবার উবু হয়ে ভেতর থেকে উঠে আসা ধাতব গুলি ওগলাতে শুরু করল। হ্যাগ্রিডকে ক্ষিপ্ত দেখাচ্ছে।

    দিয়েছে! হারমিওনের দিকে চেয়ে গর্জে উঠল হ্যাগ্রিড।

    হ্যা দিয়েছে, বলল সে, কিন্তু আমি এর মানে জানি না। আমি শুধু বলতে পারি সত্যি অভদ্র ছিল ওর আচরণ, অবশ্য–

    ওটা ছিল সবচেয়ে অপমানকর ব্যাপার, দম নিয়ে বলল রন, আবার সোজা হয়ে বসেছে সে। মাডব্লাড হচ্ছে মাগল পরিবারে মানে যার বাবা-মা জাদুকর নয়, তেমন এক বাবা-মায়ের সন্তানের জন্য সবচেয়ে জঘন্য খারাপ গালি। কোন কোন জাদুকর রয়েছে–যেমন ম্যালফয়ের ফ্যামিলি–যারা ভাবে যে তারা হচ্ছে ওই যে কি বলে না বিশুদ্ধ রক্ত–সে জন্যেই অন্যদের চেয়ে শ্ৰেষ্ঠ। একটা ঢেকুর দিল রন, ওর বাড়ানো হাতে একটা গুলি পড়ল। ওটা গামলায় ফেলে ও বলতে লাগল, অবশ্য অবশিষ্ট আমরা জানি এর কোন মানে নেই এবং এর ফলে কোন পার্থক্যও হয় না। নেভিল লংবটমকে দেখো ও তো বিশুদ্ধ রক্ত তবুও তো একটা বড় কড়াই পর্যন্ত সঠিকভাবে খাড়া করে রাখতে পারে না।

    এবং এখনও এমন কোন মায়া আবিস্কৃত হয়নি যা কি না হারমিওন করতে পারে না, হ্যাগ্রিড বলল গর্বভরে, সঙ্গে সঙ্গে হারমিওনের চেহারাটা একেবারে টকটকে লাল।

    খুবই বিরক্তিকর ব্যাপার কাউকে,কাঁপা হাতে ঘামে ভেজা ভ্রূ দুটো মুছে বলল রন। বদ রক্ত, মানে সাধারণ রক্ত। এটা পাগলামি। আজকাল বেশিরভাগ জাদুকর যেভাবেই হোক মিশ্রিত রক্তের। আমরা যদি মাগলদের বিয়ে না করতাম, তাহলে কবে মরে ভূত হয়ে যেতাম।

    আবার উবু হয়ে মাথা নোয়ালো সে।

    বেশ, ওকে শাপ দেয়ার চেষ্টা করবার জন্যে আমি তোমাকে দোষ দিচ্ছি রন, বলল হ্যাগ্রিড উচ্চস্বরে, গামলায় ধাতব গুলি পড়ার শব্দকে ছাপিয়ে। ভালই বোধহয় হয়েছে যে তোমার জাদুদণ্ডটা উল্টো তোমাকেই শাপগ্রস্ত করেছে। না হলে, লুসিয়াস ম্যালফয় দৌড়ে স্কুলে চলে আসত, তুমি ওর ছেলেকে শাপগ্রস্ত করলে। আর যাই হোক তুমি মুশকিলে তো পড়নি।

    হ্যারি বলতে চেয়েছিল সমস্যা যা হয়েছে তা শুধু মুখ দিয়ে ধাতব গুলি ওগলানো এর বেশি কিছু নয়, কিন্তু বলতে পারল না, হ্যাগ্রিডের মিষ্টি টফি ওর চোয়ালগুলো যেন আঠা দিয়ে লাগিয়ে দিয়েছে।

    হ্যারি, বলল হ্যাগ্রিড হঠাৎ, যেন কোন আকস্মিক চিন্তা ওর মনে খেলে গিয়েছে, তোমার কাছে কি খোঁচা দেয়ার মতো কাটা রয়েছে। শুনেছি তুমি আজকাল ছবিতে সই দিতে শুরু করেছে। আমি একটাও পেলাম না এটা কেমন কথা?

    এতই রাগ হলো হ্যারির যে, যেন চোয়াল টেনে দাঁত আলাদা করল সে।

    আমি কোন ছবিতে সই দিইনি, উত্তপ্ত স্বরে বলল সে। যদি এখনও লকহার্ট ওসব বলে বেড়াতে থাকে

    এতক্ষণে খেয়াল করল সে, হ্যাগ্রিভ হাসছে।

    আমি জোক করছিলাম, বলল সে, আদর করে হ্যারির পিঠে চাপড় দিয়ে। ওকে টেবিলের দিক মুখ করে ঠেলে দিয়ে যোগ করল, আমি জানি তুমি সে রকম কিছু করনি। আমি লকহার্টকে বলেছি তোমার ওরকম করারই দরকার নেই। চেষ্টা না করেই তুমি ওর চেয়ে বেশি বিখ্যাত হয়ে গেছ।

    বাজি ধরে বলতে পারি তিনি সেটা পছন্দ করেননি, উঠে বসে বলল হ্যারি, এক হাতে থুতনিটা ঘষতে ঘষতে।

    মনে হয় না পছন্দ করেছে, বলল হ্যাগ্রিড ওর চোখ পিট পিট করছে। এরপর আমি বললাম ওর একটাও বই পড়িনি এবং সে চটে গেল। গুড়ের টফি? শেষের কথাটা রনের উদ্দেশে বলা, উবু হয়ে থাকা রন আবার সোজা হয়ে মাথা তুলেছিল।

    না ধন্যবাদ, বলল রন, ঝুঁকি না নেয়াই ভাল।

    হ্যারি আর হারমিওন ওদের চা শেষ করল, হ্যাগ্রিড ডাকল ওদের, এসে দেখে যাও আমি যে সবজির চাষ করছি।

    বাড়ির পেছনের শব্জির ছোট্ট বাগানটায় প্রায় এক ডজন মিষ্টি কুমড়ো, এক একটার সাইজ বিরাট বিরাট পাথরের চাঁইয়ের সমান। হ্যারি এত বড় কুমড়ো আগে কোনদিন দেখেনি।

    বেশ বড়সড় হয়েছে তাই না? বলল হ্যাগ্রিড খুশি হয়ে। ওগুলো হ্যালোঈন উৎসবের জন্যে… ততদিনে যথেষ্ট বড় হয়ে যাবে সন্দেহ নেই।

    গাছ গুলোকে কি খাওয়াচ্ছো? জিজ্ঞাসা করল হ্যারি।

    ঘাড় ঘুরিয়ে দেখে নিল হ্যাগ্রিড ওরা একা কি না।

    খাওয়া, মানে আমি ওদেরকে দিচ্ছিলাম–তুমি জানোতো মানে এই একটু বাড়তি সাহায্য আর কি।

    হ্যারি লক্ষ্য করেছে হ্যাগ্রিডের ফুল ছাপানো গোলাপী ছাতাটা কেবিনের পেছনের দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড় করানো। হ্যারির বিশ্বাস করার যথেষ্ট কারণ রয়েছে যে হ্যারির ছাতাটা যা দেখায় শুধু তাই নয় অর্থাৎ শুধু ছাতা নয়; বস্তুত, ওর দৃঢ় বিশ্বাস যে হ্যাগ্রিডের পুরনো স্কুল–জাদুদণ্ডটা ওটার ভেতরেই লুকনো রয়েছে। হ্যাগ্রিডের ম্যাজিক ব্যবহার করার কথা নয়। থার্ড ইয়ারে পড়ার সময়ই হোগার্টস থেকে তাকে বের করে দেয়া হয়েছিল। হ্যারি অবশ্য কোন সময়ই কারণটা জানতে পারেনি। এ প্রসঙ্গে কখনও কথা উঠলেই হ্যাগ্রিড জোরে গলা খাকারি দিত এবং প্রসঙ্গ পাল্টানো না পর্যন্ত রহস্যজনকভাবে চুপ হয়ে যেত।

    আমার মনে হয় ভেতর থেকে বড় করার জাদুর প্রয়োগ করা হয়েছে? বলল হারমিওন, অর্ধেক অননুমোদন অর্ধেক মজা পাওয়ার স্বরে। বেশ, কাজটা ভালই করেছ।

    তোমার ছোট বোনটিও ঠিক তাই বলেছিল,রনের দিকে মাথা নেড়ে বলল হ্যাগ্রিড। গতকালইমাত্র ওর সঙ্গে দেখা হয়েছে। হ্যাগ্রিড বাঁকা চোখে হ্যারির দিকে একটু তাকাল, ওর দাঁড়ি মোচড়াচ্ছে। আমাকে অবশ্য ও বলেছিল ও শুধু জায়গাটা দেখে বেড়াচ্ছে, কিন্তু আমার মনে হয় ও আশা করেছিল আমার বাড়িতে অন্য কারো দেখা পাবে। ও হ্যারির দিকে চেয়ে চোখ টিপল। আমাকে যদি জিজ্ঞাসা কর তাহলে, ও স্বাক্ষর করা একটা

    ওহ, চুপ করো তো, বলল রন। রন হেসে উঠল, মাটিতে অনেকগুলো বুলেট ছড়িয়ে পড়ল।

    সাবধান! দেখে, হ্যাগ্রিড চিৎকার করে উঠল, রনকে ওর মহামূল্যবান কুমড়ার কাছ থেকে সরিয়ে আনল।

    দুপুরের খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, সকালে হ্যারি একটা মাত্র গুড়ের পিঠা খেয়েছে, খিদেয় ওর পেট চো চো করছে, খাওয়ার জন্যে স্কুলে ফিরে যাওয়ার ব্যাপারেই এখন ওর আগ্রহ বেশি। হ্যাগ্রিডের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে ওরা ক্যাসলের ফিরে এলো। মাঝে মাঝে কাশছে রন। মাত্র দুটো খুবই ছোট বুলেট বের হলো ওর পেট থেকে।

    সবেমাত্র ওরা হলে পা রেখেছে, অমনি শোনা গেলো কন্ঠস্বর। এই যে পটার এবং উইসলি, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল ওদের দিকে হেঁটে আসছেন, চেহারায় কাঠিন্য ফুটে রয়েছে। আজ সন্ধ্যাতেই তোমাদের শাস্তি শুরু হচ্ছে।

    আমাদের কি করতে হবে প্রফেসর? বন জিজ্ঞাসা করল, নার্ভাস সে, পেট থেকে উঠে আসা আরেকটা ধাক্কা সামলে নিল কোনরকমে।

    মিস্টার ফিলচের সঙ্গে ট্রফি রুমের রূপার ট্রফিগুলো পলিশ করবে, বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল। কিন্তু কোন ম্যাজিক নয়, উইসলি–

    রন ঢোক গিলল। অরগাস ফিলচ, কেয়ারটেকার, স্কুলের সব ছাত্রই যাকে ঘৃণা করে।

    আর তুমি পটার, প্রফেসর লকহার্টকে তার চিঠির জবাব দিতে সাহায্য করবে।

    ওহ না– আমিও কি ট্রফি রুমে যেতে পারি না? হ্যারি মরিয়া হয়ে বলল।

    নিশ্চয়ই না, বললেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল ভ্রূ কুঁচকে। প্রফেসর লকহার্ট ঠিক তোমার জন্যেই অনুরোধ জানিয়েছেন। ঠিক কাটায় কাটায় আটটায়, তোমরা দুজনেই।

    গম্ভীর হতাশায় শ্রান্ত দু,জন দাঁড়িয়ে রইল, ওদের পেছনে হারমিওন, তোমরা–সকালের–নিয়ম–গোছের ভাব চেহারায়। হ্যারির কাছে খাবার আর ভাল লাগল না, খাওয়ার ইচ্ছেটাই যেন উবে গেছে। সে আর রন দুজনেই ভাবল সবচেয়ে খারাপ শাস্তিটাই ওরা পেয়েছে।

    ফিলচ তো আমাকে সারারাতই খাটাবে, রন বলল ভারি গলায়। কোনো ম্যাজিক নয়! ওই রুমে নিশ্চয়ই একশ কাপ রয়েছে। মাগল বস্তু পরিস্কার করার ব্যাপারে আমি কোন দক্ষ নই।

    আমি যে কোন সময়ই আমাদের কাজ বদল করব, বলল হ্যারি ফাঁকা স্বরে। ডার্সলিদের ওখানে আমার এ ব্যাপারে প্রচুর প্র্যাকটিস হয়েছে। কিন্তু লকহার্টের হয়ে ভক্তদের চিঠির জবাব দেওয়া… ওটা একটা দুঃস্বপ্ন হবে…

    শনিবারের বিকেলটা যেন দ্রুত চলে গেল চুপিসারে এবং মনে হলো যেন কোন সময় না দিয়েই রাত আটটা বাজতে পাঁচ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেল। দ্বিতীয় তলার করিডোর দিয়ে হ্যারি পা টেনে রওয়ানা হলো লকহার্টের অফিসের উদ্দেশে। দাঁত কামড়ে সে লকহার্টের অফিসের দরজায় নক করল।

    সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে গেল। লকহার্ট ওর দিকে তাকালো সহাস্যে।

    আহ, এই যে এসেছে অপদার্থটা! বললেন তিনি। ভেতরে এসো, হ্যারি, ভেতরে এসো।

    অনেক মোমবাতির আলো। ফ্রেমে বাঁধানো লকহার্টের অসংখ্য ছবি। কয়েকটি আবার স্বাক্ষরও করেছেন তিনি। ডেস্কের ওপর আরেকটি স্তূপ পড়ে রয়েছে।

    তুমি এনভেলাপগুলিতে ঠিকানা লিখতে পারো! লকহার্ট এমনভাবে বললেন হ্যারিকে যেন বিরাট একটা মজার ব্যাপার। প্রথমটা যারে গ্লাডিস গাজিওনের কাছে, ইশ্বর তার মঙ্গল করন–আমার বিরাট ভক্ত।

    শম্বুকের গতিতে সময় পার হচ্ছে। লকহার্ট বক বক করে যাচ্ছে, হ্যারি শুধু মাঝে মাঝে হুমম এবং ঠিক এবং ইয়েহ করছে। কখনও সখনও হ্যারি কানে একটা দুটো বাক্যাংশ আসছে, যেমন, খ্যাতি হচ্ছে ক্ষণস্থায়ী, হ্যারি অথবা মনে রাখবে খ্যাতিমান হচ্ছে যেমন করবে তেমন।

    মোমবাতি পুড়তে পুড়তে ছোট হয়ে এসেছে। আলো নাচছে লকহার্টের ছবিগুলোর ওপর, ওরা তাকিয়ে তাকিয়ে লকহার্টকেই দেখছে। ব্যাথায় জর্জর আঙুল, হ্যারি সম্ভবত হাজারতম এনভেলাপে ভেরোনিকা স্মেথলির ঠিকানা লিখেছে। এখন নিশ্চয়ই প্রায় যাবার সময় হয়ে এসেছে। হ্যারি, বিমর্ষভাবে ভাবল, এখনই যাওয়ার সময় হোক…।

    এবং তারপর সে যেন কি শুনতে পেলো–নিভু নিভু মোমবাতির আওয়াজ এবং ভক্তদের সম্পর্কে লকহার্টের বকবকের চেয়ে আলাদা কিছু।

    একটা গলার স্বর, এত শীতল যে হাড়ে কাঁপুনি ধরিয়ে দেয়ার জন্যে যথেষ্ট, একটা স্বর বরফ–শীতল বিষের চেয়েও ভয়ংকর, শ্বাসরুদ্ধকর।

    এসো… আমার কাছে এসো… তোমাকে একটানে ছিঁড়ে ফেলি…তোমাকে ছিঁড়ে..তোমাকে হত্যা করি…

    লাফিয়ে উঠল হ্যারি এবং ভেরোনিকা স্মেথলির স্ট্রীটে বিশাল একটা লাইলাকের ছাপ ভেসে উঠল।

    কি হলো? জোরে বলল সে।

    আমি জানি! বললেন লকহার্ট। ছয় মাস ধরে বেস্ট–সেলার তালিকার শীর্ষে! সব রেকর্ড ভঙ্গ হয়ে গেছে।

    না, বলল হ্যারি উন্মত্তের মতো, ওই কণ্ঠস্বরটা!

    সরি? বলল লকহার্ট, ওঁকে বিমূঢ় দেখাচ্ছে। কোন কণ্ঠস্বর?

    ওই–ওই যে কণ্ঠস্বর যে বলল–আপনি শোনেন নি?

    অপার বিস্ময়ে লকহার্ট তাকিয়ে রইল হ্যারির দিকে।

    তুমি কি বলছ, হ্যারি? মানে তোমার ঝিমুনি আসছে? হা ঈশ্বর–সময় দেখো কত হয়ে গেছে! আমরা এখানে প্রায় চার ঘণ্টা! আমার কখনই বিশ্বাস হয় না–সময় সত্যিই যেন উড়ে চলে গেছে, তাই না?

    হ্যারি কোন জবাব দিল না। ওই ভয়ঙ্কর কণ্ঠস্বর শোনার জন্যে হ্যারি কান পেতে চেষ্টা করছে, কিন্তু কোন কিছুই সে শুনতে পেল না। শুধু শুনল লকহার্ট বলছেন, পরবর্তীকালে শাস্তির এ রকম ভাল ব্যবহার সে আশা করতে পারে না। ঘুম পাচ্ছে, হ্যারি চলে এলো লকহার্টের অফিস থেকে।

    এত রাত হয়েছে যে গ্রিফিল্ডর কমন রুম প্রায় খালি হয়ে গেছে। হ্যারি সোজা হোস্টেলে চলে গেলো। রন তখনও ফেরেনি। পাজামা পরে হ্যারি বিছানায় চলে গেলো। অপেক্ষা করছে হ্যারি। আধঘণ্টা পর রন এলো, ডান হাত মালিশ করতে করতে, অন্ধকার ঘরটায় পলিশের তীব্র গন্ধ নিয়ে।

    আমার সবগুলো মাসল জাম হয়ে গেছে, কঁকিয়ে উঠল বিছানায় শুয়ে। চোদ্দবার সে আমাকে দিয়ে ওই কিডিচ কাপটা মুছিয়ে তারপর সন্তুষ্ট হয়েছে। তারপর আবার বুলেট–বমি হতে শুরু করল সবগুলো গিয়ে পড়ল, স্কুলে সার্ভিস দেয়ার জন্যে বিশেষ পদকটির উপর। এক যুগ লেগে গেল সব পরিস্কার করতে..লকহার্টের ওখানে কেমন ছিল?

    গলা খাটো করে, যেন নেভিল, ডিন এবং সিমাস জেগে না উঠে, রনকে বলল হ্যারি সে যা শুনেছে।

    আর লকহার্ট বললেন যে ওই কথাগুলো শুনতেই পাননি? রনের জিজ্ঞাসা। চাঁদের আলোয় হ্যারি দেখতে পেলো যে সে ক্ষুব্ধ হচ্ছে। তোমার কি মনে হয় উনি মিথ্যা বলছেন কিন্তু আমি এটা বুঝতে পারছি না-এমনকি যিনি অদৃশ্য তাকেও ঘরে ঢুকতে হলে দরজাটা খুলতে হয়।

    আমি জানি, বলল হ্যারি, ওর মশারী টানানোর চার খুটিওয়ালী খাটে চিৎ হয়ে শুয়ে তার মাথার ওপরের চাদোয়াটার দিকে অপলকে তাকিয়ে থেকে। আমিও ব্যাপারটা বুঝতে পারছি না।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }