Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প937 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১০. ক্রেচারের কাহিনী

    ১০. ক্রেচারের কাহিনী

    পরদিন ভোরে ড্রইং রুমে স্লিপিং ব্যাগের ভেতর হ্যারির ঘুম ভেঙে গেল। ভারী পর্দার ফাঁক দিয়ে এক খণ্ড আকাশ দেখা যাচ্ছে। রাত এবং ভোরের মাঝামাঝি জলরঙের পরিচ্ছন্ন নীল আকাশ। চারদিকে শান্ত, নীরব। শুধু রন আর হারমিয়নের ধীর, গভীর নিঃশ্বাস নেয়ার শব্দ শোনা যাচ্ছে। হ্যারি তাকিয়ে তার পাশেই ওদের ছায়ার মতো অবয়ব দেখল। রন আড়ষ্ঠ হয়ে ঘুমিয়ে আছে কারণ তার পাশেই হার মিয়ন সোফার ওপর ঘুমিয়ে। এ কারণে রনের চেয়ে তার ছায়াটি একটু উঁচুতে। সোফা থেকে তার হাত নিচে মেঝেতে নেমে এসেছে। আঙুলগুলো রনের থেকে কয়েক ইঞ্চি দূরে। হ্যারি ভাবল, ওরা ঘুমানোর সময় একজন আরেকজনের হাত ধরে হয়তো ঘুমিয়েছিল। এই চিন্তা তার মধ্যে একটা একাকিত্বের অনুভূতি এনে দিল।

    হ্যারি উপরের সিলিংয়ের দিকে তাকাল। ঝাড়ুবাতিতে মাকড়শার জাল দেখা যাচ্ছে। মাত্র ২৪ ঘণ্টারও কম সময় আগে হ্যারি দাঁড়িয়েছিল রোদের আলোতে, সামিয়ানার প্রবেশ পথে। দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছিল অতিথিদের জন্য। মনে হচ্ছে এক জনম আগের কথা। এখন কি হবে। সে শুয়ে শুয়ে হরক্রুক্স-এর কথা চিন্তা করতে থাকল। ডাম্বলডোর তাকে ভয়াবহ এবং জটিল এই মিশনটি দিয়ে গেছেন…..ডাম্বলডোর…

    ডাম্বলডোরের মৃত্যুর পর তার মধ্যে যে বেদনাবোধ তৈরি হয়েছিল সেই বোধটা এখন অন্য রকম হয়ে যাচ্ছে। বিয়ে বাড়িতে মুরিয়েলের কাছ থেকে যে সব কথা সে শুনেছে তা মনে হয় মাথার ভেতর গেঁথে গেছে। যে যাদুকরকে সে তার আদর্শ বলে মনে করেছে তার স্মৃতিগুলো যেন অসুস্থ, পীড়িত করছে তাকে। ডাম্বলডোর কি করে এমন ঘটতে দিতে পারেন? তিনিও কি ডাডলির মতো, হ্যারির প্রতি অবহেলা আর অবজ্ঞা দেখেও তার ভিতরে কোনো প্রতিক্রিয়া হয়নি? তিনি কি তার বোনের বন্দি ও গোপন অবস্থা থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখতে পারেন?

    হ্যারি গোড্রিচহলো নিয়ে ভাবল। যে কবরস্থান সম্পর্কে ডাম্বলডোর কখনো কিছু তাকে বলেননি। সে ডাম্বলডোরের দলিলে উল্লেখিত রহস্যজনক বস্তুগুলো নিয়ে ভাবতে থাকল। এসব ভেবে অন্ধকারে তার বেদনা বাড়তে থাকল। কেন ডাম্বলডোর তাকে বলেননি? কেন তিনি এসব ব্যাখ্যা করেননি? ডাম্বলডোর কি সত্যিই হ্যারিকে গুরুত্ব দিতেন, ভালো জানতেন? অথবা হ্যারি কি তার কাছে এমন কিছু ছিল যে শুধুমাত্র হ্যারিকে শানিত করা এবং ধারালো করাই ছিল একমাত্র বিষয়, বিশ্বাস করা বা গোপনীয়তা রক্ষা করার মতো বিশ্বস্ত সে ছিল না?

    একটু পরেই হ্যারির বোধ হলো, সে বিনা কারণে শুয়ে শুয়ে আপনজনদের সম্পর্কে বাজে চিন্তা করে সময় কাটাতে পারে না। কিছু একটা করার জন্য মরিয়া হয়ে সে স্লিপিং ব্যাগের ভিতর থেকে বের হয়ে যাদুদণ্ডটি তুলে নিল এবং নিঃশব্দে রুম থেকে বেরিয়ে গেল। তারপর বাইরে এসে দাঁড়িয়ে নিচুঃস্বরে বলল, লিউমস, তারপর যাদুদণ্ডের আলো ধরে সিঁড়ি বেয়ে উঠতে থাকল।

    এবার হ্যারি যেখানে এসে দাঁড়াল এটি একটি বেডরুম। শেষবার হ্যারি এবং রন যখন এখানে এসেছিল তখন তারা এখানে ঘুমিয়েছিল। হ্যারি রুমের ভিতর তাকিয়ে দেখল। ওয়ারড্রবের দরোজা খোলা, বিছানার চাদর ওল্টানো। হ্যারির মনে পড়ল নিচে সে বড় বড় পায়ের ছাপ দেখেছে। অর্ডার চলে যাওয়ার পর কেউ একজন এখানে সার্চ করেছে। কে হতে পারে, স্নেইপ? অথবা মুন্ডজুস হতে পারে, যে সিরিয়াসের মৃত্যুর আগে এবং পরে এই বাড়িটি থেকে অনেক ছোটখাটো জিনিস চুরি করেছে। হ্যারি একটি পোট্রেইটের দিকে তাকিয়ে চিন্তা করল। এখানে সিরিয়াসের প্রপিতামহ পাইনিয়াস নিজেলাস ব্ল্যাকের ছবি দেখা যেত। জায়গাটা এখন খালি। সেখানে শুধু মেটে ধরনের পর্দা রয়েছে। পাইনিয়াস নিজেলাস রাত কাটাতেন হগোয়ার্টের হেডমাস্টারের স্টাডি রুমে।

    হ্যারি সর্বশেষ তলায় না পৌঁছা পর্যন্ত একের পর এক তলা উপরে উঠতে থাকল। উপরের তলাটিতে মাত্র দুটি দরোজা। একটি তার ঠিক সামনাসামনি যেটার নেমপ্লেটে লেখা আছে, সিরিয়স। হ্যারি আগে কখনো এই গডফাদারের রুমটিতে প্রবেশ করেনি। সে দরোজাটা ধাক্কা দিয়ে খুলল। আলো পাওয়ার জন্য যতটা সম্ভব উঁচু করে যাদুদণ্ডটি ধরে রাখল।

    বেশ বড় রুম, ভেতরে অনেক জায়গা। একটি বড় বিছানা পাতা আছে, যার মাথার দিকের হেডবোর্ডটি কাঠের। একটি লম্বা জানালা ভেলভেটের পর্দা দিয়ে ঢাকা। মাথার উপরের ঝাড়ুবাতিটায় ধুলোর পুরো আস্তরণ পড়ে আছে। কিন্তু এখনো ঝাড়ুবাতির মোমবাতিগুলো লাগানো আছে। সেই টিউবগুলো থেকে গলে পড়া মোম ঝুলে আছে বরফ গলে ঝুলে থাকার মতো। দেয়ালের ছবি এবং বিছানার হেডবোর্ডে ধুলোর মিহি আস্তর পড়ে আছে। ঝাড়ুবাতি থেকে ওয়ারড্রবের উঁচু অংশ পর্যন্ত একটি মাকড়শার জাল ছড়িয়ে আছে। হ্যারি আরো একটু ভিতরে ঢুকতেই ইঁদুরের দৌড়াদৌড়ি শুরু হলো।

    অল্প বয়স থাকতে সিরিয়স ঘরের দেয়াল ভরে পোস্টার এবং ছবি লাগিয়েছিল যার কিছু এখনো ধুসর রুপালি হয়ে দেয়ালে রয়েছে। হ্যারি ধারণা করল যে পার্মানেন্ট স্টিকিং চার্ম ব্যবহার করে ওসব লাগানো। তাই সিরিয়ুসের বাবা-মা তুলে ফেলতে পারেননি। সিরিয়স যাদু করে ওগুলো লাগিয়েছিল। কারণ সে জানত যে তার বাবা-মা পরিবারের বড় ছেলেটির এই ঘর সাজানোর ধরণটি পছন্দ করবেন নক। সিরিয়স বোধহয় এভাবেই ওর বাবা-মাকে বিরক্ত করে তুলেছিল। কয়েকটি গ্রিফিনডোরের ব্যানার দেখা গেল। টকটকে লাল এবং সোনালি রঙ অস্পষ্ট হয়ে গেছে। স্নিদারিন পরিবার থেকে সে যে আলাদা তা বোঝার জন্যই এই ব্যানার। বেশ কতগুলো মাগল মটরসাইকেলের ছবি দেখা যাচ্ছে। এছাড়াও (হ্যারি সিরিয়াসের নার্ভের কথা মনে মনে স্বীকার করল।) বিকিনি পড়া কিছু মাগল মেয়ের ছবি রয়েছে। হ্যারি বুঝতে পারল ওরা মাগল। কারণ ছবিতে ওরা স্থির-অচল। বিমর্ষ হাসি এবং প্রলেপ পড়া চোখগুলো নিরুত্তাপ। এর বিপরীতে দেয়ালে একটিমাত্র উইজার্ড জগতের ছবি রয়েছে। ছবিতে হগোয়ার্টের চারজন ছাত্র কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে দাঁড়িয়ে ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে হাসছে।

    হ্যারির মন হঠাৎ প্রসন্ন হয়ে উঠল। সে তার বাবার ছবিটা চিনতে পেরেছে। তার মাথার এলোমেলো কালো চুলগুলো হ্যারির মতোই পেছনের দিকে। তারও চোখে চশমা। তার পাশে দাঁড়ানো সিরিয়স। সহজাতভাবেই হ্যান্ডসাম চেহারায় সিরিয়ুসের কোথাও একটি রক্ষ্মভাব থাকলেও হ্যারি তাকে জীবিত যেমন দেখেছে তার চেয়ে এখানে অল্প বয়সী এবং সুখী মনে হচ্ছে। সিরিয়ুসের পাশে দাঁড়ানো পেটিগ্রিউ। অন্যদের চেয়ে একমাথা খাটো। ফোলা এবং ভাসা ভাসা তার চোখ দুটো। এই দলের সঙ্গে থাকায় তাকে বেশ আনন্দিত মনে হচ্ছে। জেমস এবং সিরিয়স তো তখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিদ্রোহী। জেমসের বাঁয়ে দাঁড়ানো লুপিন।

    তাকে আনন্দিত মনে হচ্ছে, নিজেকে ওদের মধ্যে থাকতে পেরে রীতিমতো সে বিস্মিত…..নাকি বিষয়টি এমন যে হ্যারি এসব জানে বলেই ছবিতে অমনটা মনে হচ্ছে? সে ছবিটা দেয়াল থেকে তুলতে চেষ্টা করল। এখন তো এগুলো হ্যারিরই। সিরিয়স সব কিছুই তাকে দিয়ে গেছে। কিন্তু সে ছবিটা একটুও নড়াতে পারল না। নিজের রুম সাজাতে মা-বাবার বাধা দেয়ার কোনো সুযোগই সে রাখেনি।

    হ্যারি মেঝের চারদিকে তাকালো। বাইরের আকাশের আলো ধীরে ধীরে উজ্জ্বল হয়ে উঠছে। একখণ্ড আলো এসে কার্পেটের উপর পড়াতে সেখানে কিছু কাগজ, বইপত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে দেখল। স্পষ্টই বোঝা যায় যে সিরিয়ুসের বেডরুমটিতেও তল্লাশি চালানো হয়েছে। পুরোপুরি না হলেও অধিকাংশ জায়গায় যে অযথাই পরখ করা হয়েছে তা বোঝা যাচ্ছে। কয়েকটি বই একেবারে এলোপাথারি করে খোঁজা হয়েছে। মলাট ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। বইগুলোতে লেখা একটি নির্দিষ্ট বিষয়ের পাতাগুলো ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে।

    হ্যারি নিচু হলো। কয়েকটি পাতা তুলে নিয়ে পরিক্ষা করল। সে বুঝতে পারল পাতাগুলো ছেঁড়া হয়েছে যে বই থেকে তার একটি হলো বাথিলডা ব্যাগশটের লেখা এ হিস্ট্রি অব ম্যাজিক-এর একটি পুরনো সংস্করণ, অন্য বইটি মটরসাইকেল মেইনটেন্যান্স মেনুয়াল। আর তৃতীয়টি একটি হাতে লেখা কাগজ। দুমড়ানো মোচড়ানো। হ্যারি সেটিকে টেনে সমান করল।

    প্রিয় প্যাডফুট,
    হ্যারির বার্থডে উপহারের জন্য অসংখ্য, অসংখ্য ধন্যবাদ! এখন পর্যন্ত এটাই ওর সবচেয়ে প্রিয় উপহার। মাত্র এক বছর বয়স, কিন্তু ইতিমধ্যেই সে খেলনা ব্রুমস্টিকে চড়তে শিখে গেছে। ব্রুমস্টিকে তাকে ভীষন খুশি মনে হয়। আমি একটি ছবিও পাঠালাম যাতে তুমি দেখতে পারো। তুমি ভালো করেই জানো ক্ৰমস্টিকটি মাত্র দুফুট উপরে ওঠে। কিন্তু হ্যারি সেটায় চড়ে বিড়ালটাকে প্রায় মেরেই ফেলেছিল। ক্রিসমাস উপলক্ষে পেটুনিয়া আমাকে একটি অসাধারণ রকমের ফুলদানী পাঠিয়েছিল। সে ওটা ভেঙে ফেলেছে। (এ নিয়ে কোনো দুঃখ নেই) তবে জেমস তার এসব দেখে আনন্দ পায় আর বলে, হ্যারি একজন বিখ্যাত কিডিচ খোলোয়াড় হবে, কিন্তু আমাদেরকে অন্য সবকিছু বাদ দিতে হলেও নিশ্চিত করতে হবে যে তার প্রয়োজনের দিকে নজর দেয়ার ক্ষেত্রে যাতে কোনো অনিহা না থাকে।
    আমাদের একটি খুবই ছোটো বার্থ ডে চায়ের ব্যবস্থা ছিল। শুধু আমরা এবং বৃদ্ধা বাথিলডা উপস্থিত ছিলেন। বাথিলডা আমাদের প্রতি খুবই আন্ত রিক। তিনি হ্যারিকে খুবই আদর করেন। আমরা খুবই দুঃখিত যে তুমি আসতে পারনি। কিন্তু অর্ডারের আসার কথা ছিল। যা হোক হ্যারির তো আর বোঝার বয়স হয়নি যে এটা ওর জন্মদিন। জেমস এখানে আটকে থাকায় ভিতরে ভিতরে হতাশ, মুখে না বললেও বুঝি আমি। হতাশ হওয়ার বিশেষ কারণ, ডাম্বলডোরের কাছে এখনো তার অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আলখাল্লা। সুতরাং তার বেড়ানোর কোনো সুযোগ নেই। তুমি যদি আসতে তাহলে খুবই ভালো হতো, তোমাকে পেয়ে তার মনমরা ভাবটা কাটত। গত সপ্তাহে ওয়ার্মি এখানে এসেছিল। তাকে খুবই নিপ্রভ দেখাচ্ছিল। মনে হয় ম্যাককিননসের সংবাদের কারণে; আমি খবরটি শোনার পর সারা বিকেল কেঁদেছি।
    বাথিলডা অধিকাংশ দিন গল্প করেই কাটিয়েছেন। তার কাছে বহু পুরনো বিষয় রয়েছে। ডাম্বলডোর সম্পর্কে অনেক কাহিনী তার জানা। ডাম্বলডোর সেগুলো শুনলে খুশি হবেন কি না তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে। আমরা বুঝতে পারি না এর কতটা বিশ্বাস করা যায়, কারণ শুনলে মনে হয় ভয়াবহ ব্যাপার যে ডাম্বলডোর

    হ্যারির হাত-পা যেন অবশ হয়ে আসল। সে বোধহীন আঙুলে কাগজটি ধরে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকল। অন্যদিকে তার ভিতরে আনন্দ ও বেদনার এক নীরব ঝড় বয়ে গেল। সে ধপাস করে বিছানার ওপর বসে পড়ল।

    হ্যারি আবার চিঠিটা পড়ল। কিন্তু প্রথমবার চিঠিটা পড়ে যা বুঝেছে তার চেয়ে বেশি কিছু বুঝতে পারল না। এবং হাতের লেখাটির আরো অস্পষ্ট মনে হলো। তিনি কিছু কিছু শব্দ লিখেছেন ঠিক হ্যারি যেমন করে লেখে। সে পুরো চিঠিটার ভেতর এমন প্রত্যেকটি শব্দ খুঁজে দেখল। প্রতিটি শব্দই যেন পর্দার আড়াল থেকে তাকে একটি করে শুভেচ্ছার হাতছানি দিয়ে গেল। এই চিঠিটা একটা অমূল্য সম্পদ। লিলি পটার যে এই পৃথিবীতে সত্যিই বেঁচে ছিলেন তার একটি নজির হলো এই চিঠি। এক সময় তার উষ্ণ হাত এই চিঠির কাগজটি ছুঁয়েছে। চিঠির ওপর কালির দাগে এই বাক্যগুলো লিখেছেন। লিখেছেন হ্যারির তার সন্তানের কথা।

    অস্থিরভাবে হ্যারি তার ভিজে ওঠা চোখ দুটো মুছল। সে আবার চিঠিটা পড়ল। এবার অর্থ উদ্ধারে সে মনোনিবেশ করল। যেন সে একটু একটু মনে থাকা গলার শব্দ শুনতে পাচ্ছে।

    ওদের একটি বিড়াল ছিল। হয়তো সেটি গোড্রিচ হলোতে তার বাবা-মায়ের মতোই মরে গেছে…. অথবা সেখানে তাকে খাবার দেয়ার জন্য কেউ না থাকার কারণে কোথাও চলে গেছে….হ্যারির জন্য সিরিয়স প্রথম ব্রুমস্টিক এনেছিলেন…… হ্যারির বাবা-মায়ের সঙ্গে বাথিলডা ব্যাগশটের জানাশোনা ছিল; ডাম্বলডোর পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন? ডাম্বলডোরের কাছে এখনো অদৃশ্য হওয়ার আলখাল্লা আছে…..এর মধ্যে কোনো মজার বিষয় আছে….

    হ্যারি থামল। মায়ের বাক্যগুলো নিয়ে চিন্তা করল। ডাম্বলডোর কেন জেমসের অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার আলখাল্লাটি নিয়েছিলেন? হ্যারির পরিষ্কার মনে আছে কয়েক বছর আগে তার হেডমাস্টার তাকে বলেছিলেন, অদৃশ্য হয়ে যাওয়ার জন্য আমার কোনো আলখাল্লা দরকার নেই। হয়তো অন্য কোনো সাধারণ অর্ডার সদস্যের সাহায্যের প্রয়োজন হয়েছিল। তাই ডাম্বলডোর শুধু বাহক হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন? হ্যারি আবার পড়তে শুরু করল…

    ওয়ার্মি এখানে এসেছিল.. পেটিগ্রিউ বেঈমানটাকে নিস্প্রভ মনে হয়েছে, সত্যিই কি? তার কি জানা ছিল যে জেমস এবং লিলি পটারকে সে শেষবারের মতো দেখছে?

    সবশেষে আবার বাথিলডার কথা, যিনি ডাম্বলডোরের অদ্ভুত সব কাহিনী বলেছেন: অবিশ্বাস্য মনে হয় যে ডাম্বলডোর……

    যে ডাম্বলডোর কি? ডাম্বলডোরের অনেক কাহিনীই অবিশ্বাস্য মনে হতে পারে; যেমন একবার তিনি ট্রান্সফিগার টেস্টে সবচেয়ে কম নাম্বার পেয়েছিলেন, অথবা আবারফোর্থের মতো গোট চার্মিং শুরু করেছিলেন।

    হ্যারি উঠে দাঁড়াল। ঘরের মেঝেটা ভালো মতো পরখ করল; হয়তো চিঠির বাকী অংশ এখানেই কোথাও পড়ে আছে। সে সত্যিকারের তল্লাশিকারীর মতোই কাগজগুলো অতি যত্ন নিয়ে খুঁজল। ড্রয়ারগুলো টেনে খুলল, বইগুলো ঝেড়ে ঝেড়ে দেখল, একটি চেয়ারের উপর দাঁড়িয়ে ওয়ারড্রবের ওপরে হাত চালিয়ে দেখল। এবং বিছানার নিচে, চেয়ারের নিচে উবু হয়ে খুঁজে দেখল।

    অবশেষে মেঝেতে মাথা নিচু করে ড্রয়ারগুলোর নিচে কিছু ছেঁড়া কাগজের মতো টুকরা দেখতে পেল। সেগুলো টেনে বের করে দেখল লিলির চিঠিতে বর্ণিত সেই ছবি। কালো চুলের একটি শিশু ছোট একটি ব্রুমের উপরে বসে হাসিতে ফেটে পড়েছে। ছবিতে একজোড়া পা দেখা যাচ্ছে। ওগুলো জেমসেরই হবে। বাচ্চা ছেলেটির পেছনে ছুটছেন। হ্যারি ছবি আর চিঠি একসঙ্গে করে পকেটে পুরে রাখল। তারপর চিঠির বাকী অংশ খুঁজতে শুরু করল।

    আরো মিনিট পনেরো খোঁজাখুঁজির পর হ্যারি মেনে নিতে বাধ্য হলো যে চিঠির বাকী অংশ আর পাওয়া যাবে না। চিঠি লেখার পর মোলোটি বছর পার হওয়ায় এই সময়ের ব্যবধানে কি বাকী অংশ হারিয়ে গেছে, নাকি যে এই রুমটি তল্লাশি করেছে সে নিয়ে গেছে? হ্যারি চিঠির প্রথম অংশটি আবার খুলে পড়ল। এবার সে চিঠির মধ্যে খুঁজে দেখতে চেষ্টা করল পরের অংশে কোনো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের কু আছে কি না। তার খেলনা ক্ৰমস্টিকটি বড়জোর ডেথ-ইটাররা ইন্টারেস্টিং মনে করতে পারে….একমাত্র গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থাকতে পারে ডাম্বলডোরের ব্যাপারে কোনো ইনফরমেশন। এটা অবিশ্বাস্য যে ডাম্বলডোর–এই বিষয়টি কি?

    হ্যারি! হ্যারি! হ্যারি!

    হ্যারি বলল, আমি এখানে, কি হয়েছে?

    বাইরে খটখট করে পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল। হারমিয়ন ঝটপট করে ভিতরে ঢুকল।

    আমরা ঘুম থেকে উঠে দেখি তোমার কোনো পাত্তা নেই! সে একটানে বলতে থাকল। তারপর দরোজার দিকে মুখ করে উচ্চস্বরে বলল, রন, ওকে পাওয়া গেছে!

    রনের বিরক্ত গলার আওয়াজ কয়েক তলা নিচ থেকে প্রতিধ্বনিতে হয়ে উপরে এলো।

    ভালো কথা, আমার পক্ষ থেকে বলে দাও ও একটা ঝামেলা!

    হ্যারি, এভাবে না বলে আড়াল হয়ে যেও না প্লিজ, আমরা ভীষণ ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম! যা হোক, এখানে এসেছ কেন, হারমিয়ন রুমের চারদিকে তাকিয়ে সবকিছু বিশৃঙ্খল দেখে বলল, এখানে কি করছিলে?

    দেখ এখানে আমি কী পেয়েছি।

    হ্যারি তার মায়ের চিঠিটা বের করল। হারমিয়ন চিঠিটা মন দিয়ে পড়ল এবং হ্যারি ওর দিকে তাকিয়ে থাকল। চিঠিটা শেষ করে হারমিয়ন মুখ তুলে হ্যারির দিকে তাকাল।

    ওহ! হ্যারি…

    এখানে এটাও ছিল।

    হ্যারি ছিঁড়ে যাওয়া ছবিটি দেখালো। হারমিয়ন ব্রুমস্টিকের উপর বসা শিশুটিকে একবার কাছে আসতে আবার দূরে চলে যেতে দেখে স্মিত হাসল।

    হ্যারি বলল, আমি চিঠির বাকী অংশ খুঁজছিলাম। কিন্তু সে অংশটি এখানে নেই।

    হারমিয়ন চারদিকে ঘুরে তাকাল।

    তুমিই কি এগুলো এমন এলোমেলো করেছ, নাকি তুমি ঢোকার আগেই এলোমেলো ছিল?

    হ্যারি বলল, কেউ আমি ঢোকার আগেই এগুলো তল্লাশি করেছে।

    হারমিয়ন বলল, আমারও তাই ধারণা। উপরে আসতে আসতে যে কয়টা রুম দেখেছি তার প্রত্যেকটিই এমন এলোমেলা। বিষয়টা কী হতে পারে বলে তুমি মনে করো?

    যদি স্নেইপ হয়ে থাকে, তাহলে অর্ডারের ব্যাপারে তথ্যের জন্য।

    কিন্তু তুমি ভেবেছিলে তার কাছে প্রয়োজনীয় সব তথ্যই আছে। অর্থাৎ সে তো নিজেই অর্ডারে ছিল, তাই না?

    হ্যারি তার থিওরি নিয়ে আলোচনায় আগ্রহী। সে বলল, ডাম্বলডোরের ব্যাপারে ইনফরমেশনের বিষয়টি কি? এই চিঠির দ্বিতীয় পৃষ্ঠার কথাই ধর। তুমি কি আমার মা যে বাথিলডার কথা উল্লেখ করেছেন তাকে চেন? তুমি জান তিনি কে?

    কে?

    বাথিলডা ব্যাগশট, তার লেখা বইটি হলো

    দ্য হিস্ট্রি অব ম্যাজিক, হারমিয়ন বলল। তাকে আগ্রহী মনে হলো। তোমার বাবা-মা তাকে চিনতেন? তিনি ছিলেন ম্যাজিক ইতিহাসের অসাধারণ এক ঐতিহাসিক।

    হ্যারি বলল, এবং তিনি এখনো জীবিত আছেন। তিনি গোড্রিচ হলোতে বাস করেন। বিয়ের সময় রনের খালা মুরিয়েল তার ব্যাপারে আলোচনা করছিলেন। তিনি ডাম্বলডোরের পরিবারকেও ভালো করে জানেন। তার সঙ্গে কথা বললে অনেক কিছু জানা যাবে, তাই না?

    হ্যারির দিকে তাকিয়ে হরমিয়ন যে হাসিটা দিল সেটা হ্যারির কাছে খুবই পরিচিত। সে ছবি এবং চিঠিটা হাতে ফিরিয়ে নিল এবং গলার সঙ্গে ঝোলানো ছোট ব্যাগটার ভিতরে রাখল। গলার ব্যাগের ভিতরে রাখার কারণ হলো যাতে হার মিয়নের দিকে তাকাতে না হয়।

    হারমিয়ন বলল, আমি বুঝতে পারি কেন তুমি তোমার মা-বাবা এমনকি ডাম্বলডোরকে নিয়েও তার সঙ্গে কথা বলতে চাও। কিন্তু হরক্রুক্স খুজে বের করার জন্য এই আলোচনা কোনো কাজে আসবে না, আসবে কি?

    হ্যারি কোনো উত্তর দিল না। হারমিয়ন আবার বলতে শুরু করল, হ্যারি, আমি জানি তুমি সত্যিই গোড্রিচ হলোতে ফিরে যেতে চাও। কিন্তু আমার ভয় হয়…. গতকাল ডেথ ইটাররা আমাদের কীভাবে খুঁজে বের করেছে তা নিয়ে আমি সত্যিই ভীত। এর ফলে আমার খুব বেশি বেশি করে মনে হচ্ছে যে তোমার বাবা-মায়ের কবরের স্থানটিতে আমাদের কোনোক্রমেই যাওয়া উচিৎ নয়। আমি নিশ্চিত যে ওরা আশা করবে তুমি ওখানে যাবে।

    হ্যারি তখনো হারমিয়নের দিকে তাকাচ্ছে না। বলল, বিষয়টা শুধু তা নয়। মুরিয়েল বিয়ে অনুষ্ঠানে ডাম্বলডোরকে নিয়ে অনেক কথা বলেছেন। আমি শুধু সত্যটা জানতে চাই….।

    মুরিয়েল যা বলেছেন তার প্রতিটি কথা হারমিয়নকে বলল হ্যারি। তার কথা শেষ হলে হারমিয়ন বলল, অবশ্যই আমি বুঝতে পারি কেন কথাগুলো তোমাকে আপসেট করেছে, হ্যারি

    আমি মোটেই আপসেট হইনি, হ্যারি মিথ্যা বলল। আমি শুধু জানতে চাই কথাগুলো কি সত্যি নাকি

    হ্যারি, তুমি কি সত্যিই মনে কর যে মুরিয়েলের মতো একজন খারাপ মহি লার কাছ থেকে অথবা রিটা স্কিটারের কাছ থেকে তুমি সত্যি কথাটা জানতে পারবে? তুমি তাদেরকে বিশ্বাস করো কীভাবে? তুমি নিজতো ডাম্বলডোরকে চেন!

    আমি ভেবেছিলাম আমি চিনি! হ্যারি শান্ত কণ্ঠে বলল।

    কিন্তু তুমি ভালো করেই জানো রিটা স্কিটার তোমাকে নিয়ে যা লিখেছেন তার কতটা সত্য! ডোজের কথাই ঠিক, এসব মানুষদের কথা বিশ্বাস করে ডাম্বলডোর সম্পর্কে তোমার উজ্জল-আলোকিত স্মৃতিকে তুমি খাটো করার সুযোগ দাও কীভাবে?

    হ্যারি অন্যদিক তাকিয়ে রইল। যে দুঃখবোধ তার মধ্যে প্রবেশ করেছে তাকে দূরে সরিয়ে দিতে চাচ্ছে না। সে বিশ্বাস করবে তবে সত্যতা পরখ করার পর। সে সত্যটা জানতে চায়। সবাই কেন এতটা মরিয়া যে সে যাতে তা না জানে?

    একটু সময় পার হওয়ার পর হারমিয়ন বলল, আমরা কি নিচের কিচেনে যাব, কিছু ব্রেকফাস্ট পাওয়া যায় কি-না দেখতে?

    হ্যারি অনিচ্ছার সঙ্গে রাজি হলো। সে হারমিয়নের পেছন পেছন সিঁড়ির ল্যান্ডিং-এ নেমে এলো। দ্বিতীয় দরোজাটি পার হয়ে দাঁড়াল। একটি চিত্রকর্মের নিচের দিকে স্বাক্ষরের ওপর কাটাকুটি দাগ। রাতের অন্ধকারে হ্যারি তা লক্ষ্য করেনি। সেটা পড়ার জন্য সিঁড়ির উপরের ধাপে সে একটু সময় নিল। হাতের লেখায় ইচ্ছা প্রকাশ করা, প্রায় এ রকমই একটি সম্ভবত পার্সি উইসলির বেডরুমের দরোজায় লাগানো ছিল।

    রেগুলাস আর্কটুস ব্যাকের
    অনুমতি ছাড়া
    প্রবেশ নিষেধ

    হ্যারির মধ্যে উত্তেজনার স্রোত বয়ে গেল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে এর কারণ বুঝতে পারল না। সে লেখাটি আবার পড়ল। হারমিয়ন ইতিমধ্যেই তার থেকে কয়েক সিঁড়ি নিচে নেমে গেছে।

    হারমিয়ন, হ্যারি ডাকল। তার গলা শান্ত শোনা গেল সে নিজেই অবাক হলো। এদিকে উঠে এসো।

    কি ব্যাপার?

    আর এ বি। আমার মনে হয় আমি তাকে ধরতে পেরেছি।

    একটি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে হারমিয়ন উপরে উঠে এলো।

    তোমার মায়ের চিঠিতে এই নামটি কিন্তু আমি ঠিক লক্ষ্য করিনি।

    হ্যারি মাথা নাড়ল এবং রেগুলাসের লেখাটির দিকে দেখালো। হারমিয়ন লেখাটি পড়ল। সে হ্যারির হাত এত জোড়ে চেপে ধরল যে ব্যথা অনুভব করল।

    হারমিয়ন ফিস ফিস করে বলল, সিরিয়ুসের ভাই?

    হ্যারি বলল, সে ছিল একজন ডেথ-ইটার। সিরিয়স তার সম্পর্কে আমার কাছে বলেছে। সে খুব ছোট থাকতেই যোগ দিয়েছিল। এরপর সাহস হারিয়ে ফেলে এবং ছেড়ে দিতে চেষ্টা করে। তাই ওরা তাকে হত্যা করে।

    হারমিয়ন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ছেড়ে বলল, এটা ঠিক যুক্তি। তবে সে যদি একজন ডেথ-ইটার হয়ে থাকে তাহলে তার সুযোগ হয়েছিল ভোস্টেমর্টের কাছে যাওয়ার। আর যদি তার মন্ত্রশক্তি তুলে নেয়া হয় তাহলেই সে একমাত্র ভোল্ডেমর্টকে শেষ করতে চাইবে।

    হারমিয়ন হ্যারিকে ছেড়ে দিয়ে সিঁড়ির রেলিংএর দিকে উবু হয়ে চিৎকার করে ডাকল, রন! র-ন! তাড়াতাড়ি উপরে এসো!

    এক মিনিট পর রন হাঁপাতে হাঁপাতে উপরে আসল। তার হাতে যাদুদণ্ডটি প্রস্তুত।

    কি হয়েছে! আবার বড় কোনো মাকড়শা দেখেছো! এসব করার আগে আমার ব্রেকফাস্ট

    হারমিয়নের আঙুলের ইশারা অনুসরণ করে দরোজায় রেগুলাসের হাতের লেখার দিকে তাকিয়ে স্থির হয়ে গেল।

    কি? সিরিয়াসের ভাই, তাই না? রেগুলাস আর্কতুরুস…রেগুলাস…আর এ বি! সেই লকেটটা ভেবে দেখেছ…?

    চলো খুঁজে দেখি, হ্যারি বলল। সে দরোজায় ধাক্কা দিল। কিন্তু দরোজাটি বন্ধ। হারমিয়ন ওর যাদুদণ্ডটি দরোজার হাতলের দিকে তাক করে বলল, আলোহোমোরা! একটা ক্লিক শব্দ করে দরোজাটি খুলে গেল।

    ওরা একসঙ্গে খোলা দরোজার মাঝে দাঁড়াল। রেগুলাসের ঘরটির চারদিকে সতর্কভাবে তাকাল। এই ঘরটি সিরিয়ুসের ঘরের চেয়ে একটু ছোট। কিন্তু একই রকম সুসজ্জিত ছিল বোঝা যায়। সিরিয়স নিজেকে পরিবারের অন্যদের চেয়ে আলাদা হিসাবে প্রচার করতে চাইত, আর রেগুলাস জোর দিত এর বিপরীতটায়। পান্না ও রুপালি রঙ চারদিকে। বিছানার আচ্ছাদন, দেয়াল এবং জানালায় –স্লিদারিনদের রঙ। বিছানার ওপর যত্নসহকারে ব্ল্যাক পরিবারের ক্রেস্ট আঁকা হয়েছে, সঙ্গে পরিবারের মোটো তোজোরসপুর। বিছানার নিচে বেশ কিছু হলদে রঙের নিউজপেপার কাটিং। সব থাক করে রাখা হয়েছে সংরক্ষণের জন্য। হার মিয়ন অন্যপ্রান্ত থেকে এগিয়ে গেল ওগুলো পরীক্ষা করার জন্য।

    হারমিয়ন বলল, এ সবই তো ভল্ডেমের্টের উপর। রেগুলাস ডেথ-ইটার হওয়ার কয়েক বছর আগেই ভোল্ডেমর্টের ভক্ত হয়েছিল বলে মনে হয়…

    কাগজের টুকটাগুলো পড়ার জন্য হারমিয়ন বিছানায় বসল। সঙ্গে সঙ্গে একটি হালকা ধুলোর ধোঁয়া উঠল। অন্য একটি ফটোগ্রাফের ওপর হ্যারির চোখ পড়ল। একটি ফ্রেমের মধ্যে হগোয়ার্টের একটি কিডিচ টিম হাসিমুখে হাত নাড়ছে। হ্যারি আরো কাছে এগিয়ে গেল এবং লক্ষ করল ওদের বুকের উপর সাপের প্রতীক আঁকা; স্নিদারিন। রেগুলাসকে সহজেই চেনা যায়। সে বসে আছে প্রথম সারির মাঝের দিকে। তার ভাইয়ের মতো তারও কালো চুল এবং চেহারায় একটু উদ্ধত ভাব। যদিও সে সিরিয়ুসের চেয়ে কম হ্যান্ডসাম ছিল তার তুলনায় একটু খাটো এবং হালকা প্রকৃতির।

    হ্যারি বলল, সে সিকার খেলত।

    কি, অস্পষ্ট স্বরে হারমিয়ন জানতে চাইল। কারণ তখনো সে ভোল্টেমর্টের বিষয়ে সংবাদগুলোর ভিতর ডুবে ছিল।

    সে বসেছে প্রথম সারির মাঝখানে, যেখানে সিকারদের….হায়রে কপাল, হ্যারি বলল। সে বুঝতে পারল তার কথা কেউ শুনছে না : রন হাত এবং পায়ের ওপর ভর করে ওয়ারড্রবের নিচে তল্লাশি করছে। হ্যারি লুকোনোর সম্ভাব্য জায়গা দেখতে চারদিকে মাথা ঘুরিয়ে তাকিয়ে ডেস্কের কাছে গেল। এখানেও তাদের আগে কেউ তল্লাশি চালিয়েছে। সম্প্রতি ড্রয়ারের জিনিসগুলো ওলোটপালট করা হয়েছে। ড্রয়ারের ওপর পড়া ধুলো-ময়লা নড়েচড়ে আছে। কিন্তু এখানে গুরুত্বপূর্ণ কিছু নেই: পুরাতন লেখার পালক, অকেজো টেক্সবুক যা অযত্নে হাতাহাতি করা হয়েছে, সম্প্রতি ভেঙে যাওয়া কালির দোয়াত। এর আঁঠালো কালি ড্রয়ার জিনিসপত্রগুলো ভিজিয়ে দিয়েছে।

    একটি সহজ উপায় আছে, হারমিয়ন বলল। হ্যারি আঙুলে লেগে যাওয়া কালিগুলো জিনসের প্যান্টে মুছল। হারমিয়ন তার যাদুদণ্ডটি তুলে বলল, অ্যাকসিও লকেট!

    কিছুই হলো না। রন তখন মলিন হয়ে যাওয়া পর্দার ভাঁজগুলো পরীক্ষা করছিল। তাকে হতাশ দেখা গেল।

    তাহলে এই হলো ফল, ওটা এখানে নেই?

    হারমিয়ন বলল, না, ওটা এখনো এখানে থাকতে পারে, কিন্তু বিপরীত মন্ত্রের নিয়ন্ত্রণে। যাদুর মাধ্যমে ওটাকে তুলে নেয়ার ব্যাপারে চার্ম ব্যবহার করা হতে পারে।

    যেভাবে ভোল্ডেমর্ট গুহায় পাথরের ওপর ব্যবহার করেছিল, হ্যারি বলল। ওর মনে পড়ল নকল লকেটটি ও সামন চার্ম ব্যবহার করে আনতে পারেনি।

    রন জানতে চাইল, তাহলে আমরা এটা খুঁজে বের করব কীভাবে?

    হারমিয়ন বলল, আমাদের যাদুর সাহায্য ছাড়া খালি হাতে খুঁজতে হবে।

    এটা একটা ভালো আইডিয়া, চোখ নাচিয়ে রন বলল। তারপর আবার পর্দা পরীক্ষা করতে শুরু করল।

    এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে ওরা তন্ন তন্ন করে তল্লাশি করল। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মেনে নিতে বাধ্য হলো যে লকেটটি ওখানে নেই।

    সূৰ্য্য পুরোপুরি উঠে গেছে। পর্দার ভেতর দিয়েও ওদের ওপর আলো এসে পড়েছে।

    তবে এটা এ বাড়িতেই কোথাও আছে, নিচের তলায় ফিরে আসার সময় হারমিয়ন বলল। যেখানে হ্যারি এবং রনকে হতাশ মনে হলো সেখানে হারমিয়নকে আরো দৃঢ় দেখা গেল। সে ওটা ধ্বংস করে থাকুক আর না থাকুক, ভোল্টেমর্টের কাছ থেকে সরিয়ে ফেলতে চাইত, তাই না? মনে করতে পারো শেষবার আমরা যখন এখানে এসেছিলাম তখন কত ভয়াবহ জিনিসের হাত থেকে রক্ষা পেয়েছিলাম? সেই ঘরিটি সবার ওপর পাথড় ছুঁড়ে দিয়েছিল, আর পুরনো। গাউনগুলো রনকে জড়িয়ে ধরতে চেয়েছিল: রেগুলাস হয়তো লকেটটি লুকিয়ে রাখতে সেগুলো ব্যবহার করেছে। এমনকি হতে পারে আমরা সে সময়….

    হ্যারি এবং রন দুজনেই হারমিয়নের দিকে তাকাল। হারমিয়ন এক পা শূন্যে তুলে হতবাক হয়ে রইল। যেন সে পাটা নামাতে ভুলে গেছে। চোখের চাহনি যেন থেমে গেছে।

    .. সে সময় বুঝতে পারিনি। সে ফিসফিস করে বাক্য শেষ করল।

    কোনো সমস্যা দেখা দিয়েছে? রন জানতে চাইল।

    তখন একটি লকেট দেখেছিলাম।

    কি? হ্যারি এবং রন একসঙ্গে বলে উঠল।

    ড্রইং রুমের একটি কেবিনেটের ভেতর। সেটা তখন কেউ খুলতে পারেনি এবং আমরা…আমরা..

    হ্যারির মনে হলো আস্ত একটা ইট তার বুক থেকে পেটের দিকে নেমে গেল। তার মনে পড়ল–ওরা সবাই মিলে একে একে চেষ্টা করেছিল সেটা খুলতে। সেটি নস্যির কৌটা এবং ঘুম পাড়ানো মিউজিক বক্সের সঙ্গে আবর্জনার বস্তার মধ্যে ছিল…

    ক্রেচার আমাদের ভার লাঘব করতে পারে। হ্যারি বলল। এখন ওদের একটাই চান্স, একটাই ক্ষীণ আশা আছে। আর সেটার সঙ্গেই হ্যারি লেগে থাকল। কিচেনে আলমিরার ভেতর অনেক জিনিস লুকানো আছে। চলো যাই।

    হ্যারি দুটি করে সিঁড়ি লাফিয়ে একসঙ্গে পার হয়ে নিচে নেমে এলো। রন এবং হারমিয়নও ওর সঙ্গে তাল মিলিয়ে নামল। ওরা এত সোড়গোল করে নামল যে হলরুমে পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় সিরিয়ুসের মায়ের ছবিটি জেগে উঠল।

    নোংরা! মাডরাড! বাজে লোকজন! ওরা বেসমেন্টে কিচেনের দিকে যেতে থাকলে পেছন থেকে সিরিয়ুসের মা চিৎকার করে বলতে থাকলেন। ওদের পেছনে দরোজাটি বন্ধ হয়ে গেল।

    হ্যারি দৌড়ে কক্ষের অন্য প্রান্তে গেল এবং দুপায়ে পি করে ক্রেচারের আলমিরার কাছে দাঁড়ালো। টেনে আলমিরার কপাট খুলল। ভেতরে ময়লা কম্বল দেখা গেল। গৃহপালিত ভুত এ কম্বলে এক সময় ঘুমাতো, কিন্তু তার সঙ্গে ক্রেচারের সংগ্রহ করা ছোটখাটো জিনিসগুলো দেখা গেল না। একটি মাত্র জিনিস রয়েছে। তা হলো ন্যাচার নোবিলিটি: এ উইজার্ডিং জিনিওলোজির একটি পুরাতন কপি। হ্যারি নিজের চোখকে বিশ্বাস করতে পারল না। সে কম্বল টেনে তুলে নিল এবং ঝারা দিল। কম্বলের ভাঁজ থেকে একটি মরা ইঁদুর নিচে পড়ল। রন বিড়বিড় করে কিচেনের একটি চেয়ারে বসে পড়ল। হারমিয়ন হতাশ হয়ে চোখ বন্ধ করল।

    এখনো শেষ হয়ে যায়নি, হ্যারি বলল। সে গলার স্বর উঁচিয়ে ডাকল, ক্রেচার?।

    ক্র্যাক করে একটি শব্দ হলো এবং আগুনহীন ফায়ার প্লেস থেকে ঘরের ভুত বের হয়ে এলো। এই ভুতটিকে হ্যারি ইচ্ছা না থাকা সত্বেও সিরিয়াসের কাছ থেকে উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছিল। ছোটখাটো, মানুষের অর্ধেক সাইজের এই ভুতটির গায়ের চামড়া ফ্যাকাশে হয়ে ঝুলে পড়েছে। বাদুরের মতো কানের পাশ দিয়ে সাদা চুলের গোছা। তার পরনে এখনো সেই পুরনো ময়লা নেকড়া কাপড় যেটি প্রথমদিন হ্যারি দেখেছিল। হ্যারির দিকে তার বিরক্তি নিয়ে তাকানো দেখে বোঝা যায় মালিকানা বদল হলেও তার কাপড়ের মতোই আচরণেও কোনো পরিবর্তন আসেনি।

    কোলা ব্যাঙের মতো কণ্ঠে হাঁটুর কাছে মাথা নুইয়ে বলল, প্রভু, ব্লাড ট্রেইটর উইসলি এবং মাডব-ডি নিয়ে আমার মিস্ট্রেসের পুরাতন বাড়িতে ফিরে এসেছেন

    আমি তোমাকে নিষেধ করেছি কাউকে মাডরাড বা ব্লাড ট্রেইটর না বলতে, হ্যারি ধমকের স্বরে বলল। সে লক্ষ করলে দেখতে পেত লম্বা শুরের মতো নাক আর লাল চোখের ক্রেচারের মধ্যে অপছন্দের ভাব। যদিও ভুতটি সিরিয়স থেকে শুরু করে ভোল্ডেমর্ট কারো সঙ্গেই বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।

    তোমার কাছে আমার একটা প্রশ্ন আছে, হ্যারি বলল। ভুতটির দিকে মাথা নিচু করে তাকাল। তার বুকের ভেতর দ্রুত ধুককুক করছে। আমি তোমাকে প্রশ্নের সত্যি উত্তর দিতে আদেশ করছি, ঠিক আছে?

    ঠিক আছে প্রভু, আবারও মাথা নুয়ে ক্রেচার বলল। হ্যারি দেখল তার মুখটা বিড়বিড় করে নড়ছে। হ্যারি নিশ্চিত যে তিরস্কার করে কিছু বলছে, হ্যারি নিষেধ করার কারণে জোরে বলতে পারছে না।

    হ্যারির হৃদপিন্ড এখন এতটাই ধুক ধুক করছে যে রীতিমতো বুকের পাঁজরের সঙ্গে বাড়ি খাচ্ছে। বলল, দুই বছর আগে উপরের ড্রইং রুম থেকে একটি বড় লকেট আমরা জানালা দিয়ে ছুঁড়ে ফেলেছিলাম। তুমি কী সেটা চুরি করে রেখে দিয়েছিলে?

    এক মুহূর্ত নীরবতা দেখা দিল। এ সময় ক্রেচার সোজা হয়ে হ্যারির মুখের দিকে মুখ তুলে তাকাল। তারপর বলল, হ্যাঁ।

    রন, হারমিয়ন এবং হ্যারির মধ্যে আনন্দ বয়ে গেল। অতি উৎসাহ নিয়ে হ্যারি বলল, সেটা এখন কোথায়?

    ক্রেচার চোখ বন্ধ করল। তার উত্তরে ওদের মধ্যে যে প্রতিক্রিয়া হবে সেটা যেন তাকে দেখতে না হয়।

    খোয়া গেছে।

    খোয়া গেছে!, হ্যারির কণ্ঠে প্রতিধ্বনি হলো। তার ভেতর থেকে সব সুখ যেন বেরিয়ে গেল, খোয়া গেছে বলতে তুমি কী বোঝাচ্ছে!

    ভুতটি কাঁপছে। সে দুলতে থাকল।

    হ্যারি তীব্র কণ্ঠে বলল, ক্রেচার! আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি-

    ক্রেচারের চোখ দুটো তখনো বুজে আছে। বিড়বিড় করে বলল, মুন্ডুঙ্গুস ফ্লেচার সব চুরি করে নিয়ে গেছে। মিস বেলা এবং মিস সিজির ছবি, আমার মিস্ট্রেসের গ্লাভস, অর্ডার অব মারলিন, ফ্যমিলি ক্রেস্টসহ গবলেট এবং

    ক্রেচার দম নেয়ার জন্য ঢোক গিলল। ওর ভিতরের দিকে ঢুকে যাওয়া বুক ওঠা-নামা করতে থাকল। এরপর সে চোখ খুলল এবং চিৎকার করে উঠল।

    -এবং ওই লকেটটি, প্রভু রেগুলাসের লকেটটি, ক্রেচার ভুল করেছে। ক্রেচার ঠিক মতো আদেশ পালন করতে পারেনি!

    ক্রেচার দৌড়ে ফায়ার প্লেসে আগুন জ্বালানোর রডটি ধরতে গেল। হ্যারি দ্রুত গতিতে গিয়ে ওকে ধরে ফেলল। গায়ের উপর পড়ে ওকে শুইয়ে ফেলল। হার মিয়ন চাপা গলায় চিৎকার করল ক্রেচারের উদ্দেশ্যে। তার চেয়েও উঁচু গলায় হ্যারি বলল, ক্রেচার! আমি তোমাকে আদেশ দিচ্ছি স্থির হয়ে থাকতে!

    সে বুঝতে পারল ভুতটি স্থির হয়ে গেছে। হ্যারি ওকে ছেড়ে দিল। ক্রেচার ঠাণ্ডা মেঝেতে টানটান হয়ে শুয়ে রইল। তার দুর্বল হয়ে আসা চোখ দিয়ে টপটপ করে পানি গড়িয়ে পড়তে থাকল।

    হারমিয়ন বলল, হ্যারি, ওকে তুলে দাঁড় করাও।

    হ্যারি ভূতটির পাশে হাটু গেড়ে বসে নাক টেনে বলল, যাতে সে রডটি দিয়ে নিজেকে পেটাতে পারে? আমরা সেটা চাই না। ঠিক আছে, ক্রেচার, আমি শুধু সত্যি কথাটা জানতে চাই। তুমি কী করে জানলে যে মুন্ডুঙ্গুস ওগুলো চুরি করেছে?

    ক্রেচার তাকে দেখেছে!, ক্রেচার নিজের কথা ফুঁপিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলল। তার চোখের পানি লম্বা নাক বেয়ে পড়তে থাকল। ক্রেচার তাকে দেখেছে ক্রেচারের আলমিরা থেকে হাত ভরে জিনিসপত্র নিয়ে যেতে! ক্রেচার চোরকে থামতে বলেছিল, কিন্তু মুন্ডুস ফ্লেচার হো হো করে হেসে দৌড়ে পালিয়ে গেছে…..

    হ্যারি বলল, তুমি ওই লকেটটির কথা বলছিলে প্রভু রেগুলাসের, কেন? ওটি কোথেকে এসেছে? রেগুলাস ওটা দিয়ে কি করত? ক্রেচার, উঠে বসো, এবং তুমি লকেটটি সম্পর্কে যা জানো তার সবকিছু আমাকে খুলে বলো। এবং রেগুলাস ওটা দিয়ে কী করত তাও খুলে বল।

    ক্রেচার উঠে বসল। বলের মতো গোলাকৃতি হয়ে বসল। চোখের জলে ভেজা মুখটা দুই হাঁটুর মাঝে রাখল। তারপর একখণ্ড পাথরের মতো সামনে-পেছনে দুলতে থাকল। কথা বলতে শুরু করল নিস্তেজভাবে, কিন্তু পরিষ্কারভাবে কিচেনে নীরবতার মধ্যে তার কথাগুলো প্রতিধ্বনি তুলতে থাকল।

    মাস্টার সিরিয়স পালিয়ে গিয়েছিলেন এটা বোঝাতে যে তিনি একজন খারাপ ছেলে। তিনি পালিয়ে যাওয়ার কারণে আমার মিস্ট্রেস ভীষণ হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। কিন্তু মাস্টার রেগুলাস আসল জায়গায় ঠিক ছিলেন; তিনি ব্ল্যাক পরিবারের আভিজাত্য এবং মর্যাদার ব্যাপারে সচেতন ছিলেন। কয়েক বছর ধরে তিনি ডার্ক লর্ডের কথা বলে আসছিলেন, যে ডার্ক লর্ড গোপন জায়গা থেকে উইজার্ডদের বের করে আনতে চেষ্টা করছিলেন মাগল এবং মাগল বর্নদের শাসন করার জন্য… এবং মাস্টার রেগুলাসের বয়স ষোল বছর হলে তিনি ডার্ক লর্ডের সঙ্গে যোগ দেন। খুবই গর্বিত… খুবই গর্বিত এবং খুশি তাকে সেবা…

    এবং একদিন, তিনি যোগদানের এক বছর পর মাস্টার রেগুলাস নিচে কিচেনে নেমে এলেন ক্রেচারকে দেখতে। মাস্টার রেগুলাস ক্রেচারকে সবসময় ভালো জানতেন। মাস্টার রেগুলাস বললেন… বললেন।

    বৃদ্ধ ভুতটি আরো জোরে দুলতে থাকল।

    তিনি বললেন ডার্ক লর্ডের একটি ভুতের দরকার।

    ভোল্টেমর্টের ভুতের দরকার পড়েছিল? হ্যারি রন এবং হারমিয়নের দিকে তাকিয়ে বলল। হ্যারিকে অবাক হতে দেখা গেল।

    ক্রেচার বিড়বিড় করে বলল, হ্যাঁ, এবং মাস্টার রেগুলাস ক্রেচারের তদারকি করতেন। মাস্টার রেগুলাস বলেছিলেন, এটা গর্বের বিষয়। এটা তার এবং ক্রেচার দুজনের জন্যই ছিল গর্বের বিষয়। ডার্ক লর্ড যা-ই বলতেন সেটা নিশ্চিতভাবেই তিনি পালন করতেন…তারপর ঘরে ফিরতেন।

    ক্রেচার আরো জোরে নড়তে থাকল। তার শ্বাস-প্রশ্বাস আরো ঘন হয়ে উঠল।

    এরপর ক্রেচার ডার্ক লর্ডের কাছে চলে গেল। ডার্ক লর্ড ক্রেচারকে কিছুই বললেন না কি করবেন সে বিষয়ে। তিনি ক্রেচারকে নিয়ে সমুদ্রের পাড়ে একটি গুহায় গেলেন। এবং সেই গুহার পরে আরেকটি বড় গোপন গুহাপথ ছিল। সেই গুহাপথের ভেতর ছিল একটি বিশাল কালো লেক…

    হ্যারির মাথার পেছনের ঘারের কাছের চুলগুলো শক্ত হয়ে গেল। মনে হলো ক্রেচারের কণ্ঠস্বর কালো জলের ভেতর থেকে উঠে আসছে। হ্যারি এত পরিষ্কারভাবে সবকিছু বুঝতে পারল যেন সে নিজে উপস্থিত ছিল।

    …সেখানে ছিল একটি নৌকা…।

    হ্যাঁ, অবশ্যই একটি নৌকা ছিল। হ্যারি সে নৌকাটি চেনে। একটি ছোট ভুতুরে সবুজ রঙের নৌকা। এমনভাবে নৌকাটিকে মন্ত্র দিয়ে রাখা যে একজন মাত্র যাদুকরকে নিয়ে বা একজন শিকারকে দ্বীপের মাঝখানের ছোট সেন্টারে নিয়ে যেতে পারে। সে কারণেই ঘরের ভুতের মত একটি প্রাণীকে ব্যবহার করে ভোল্ডেমর্ট হরক্রুক্সের চারদিকে প্রতিরক্ষা পরীক্ষা করেছে…

    ছোট আইল্যান্ডটিতে একটি বেসিন পূর্ণ ছিল পোশন দিয়ে। ডার্ক লর্ড সেই পোশন ক্রেচারকে খেতে বাধ্য করেছে…

    সে কথা চিন্তা করে ভয়ে ক্রেচারের পা থেকে মাথা পর্যন্ত কেঁপে উঠল।

    ক্রেচার বলতে থাকল, ক্রেচার সে পোশন পান করেছে। সেই পোশন পান করার সঙ্গে সঙ্গে ভয়ঙ্কর ব্যাপার ঘটতে শুরু করল। ক্রেচারের ভেতরটা পুড়তে শুরু করল… ক্রেচার চিৎকার করে তার মাস্টার রেগুলাসকে ডাকতে থাকল তাকে রক্ষা করার জন্য। তার মিস্ট্রেস ব্ল্যাকের জন্য সে কাঁদতে থাকল। কিন্তু ডার্ক লর্ড শুধু হাসতে থাকল……ডার্ক লর্ড সবটুকু পোশন তাকে পান করতে বাধ্য করল…সে একটি লকেট খালি বেসিনের ভেতর ফেলে দিল….সে আবার বেসিনটি পোশন দিয়ে ভরে দিল……..তারপর ডার্ক লর্ড ক্রেচারকে ওই ছোট দ্বীপে রেখে নৌকা চালিয়ে চলে গেল….

    হ্যারি ঘটনাটি অনুধাবন করল। হ্যারি দেখেছে ভোল্টেমর্টের সাদা সাপের মতো মুখটি অন্ধকারে মিলিয়ে গেল। নিষ্ঠুর লাল চোখ দুটি তাকিয়ে আছে ছুঁড়ে দেয়া ভুতটির দিকে। ভুতটির মৃত্যু হতে পারত কয়েক মিনিটের মধ্যেই। ভুতটি পোশনের জ্বালাপোড়ার কারণে তৃষ্ণায় মরে যাচ্ছে…হ্যারি এর পরের দৃশ্য আর কল্পনায় দেখতে পেল না। সে দেখতে পেল না যে ক্রেচার কী করে রক্ষা পেল।

    ক্রেচার বলতে থাকল, ক্রেচারের পানির প্রচণ্ড তৃষ্ণা হলো। সে হামাগুড়ি দিয়ে দ্বীপের প্রান্তে গিয়ে পৌঁছল এবং কালো লেকের থেকে যে-ই পানি তুলে মুখে দিল…অমনি পানির ভেতর থেকে মৃত হাতগুলো বের হয়ে এসে তাকে পানির তলে নিয়ে গেল….

    তুমি রক্ষা পেলে কী করে, হ্যারি জানতে চাইল। হ্যারির নিজের কাছেই নিজের গলা ফিসফিস শোনা গেলেও সে অবাক হলো না।

    ক্রেচার কুৎসিত মাথাটা তুলল এবং রক্তলাল চোখ দুটো বিস্তৃত করে হ্যারির দিকে তাকাল। তারপর বলল, প্রভু রেগুলাস ক্রেচারকে ফিরে আসতে বলেছেন।

    আমি জানি, কিন্তু তুমি ভয়ানক জায়গা থেকে রক্ষা পেলে কীভাবে? ক্রেচার বুঝতে পেরেছে বলে মনে হলো না।

    ক্রেচার আবার বলল, প্রভু রেগুলাস ক্রেচারকে ফিরে আসতে বলেছেন।

    আমি সেটা জানি

    রন বলল, বুঝতে পেরেছি, বিষয়টি পরিষ্কার, সে অদৃশ্য হয়ে গেছে! হ্যারি বলল, কিন্তু তুমি গুহা থেকে ইচ্ছা করলেই ঢুকতে বা বের হতে পারবে। অন্যথায় ডাম্বলডোর-

    রন জানতে চাইল, ভুতদের ম্যাজিক এবং উইজার্ডদের ম্যাজিক এক রকম নয়, তাই না? আমি বলতে চাচ্ছি, ওরা ইচ্ছা করলে দৃশ্যমান হতে পারে আবার অদৃশ্য হতে পারে যা আমরা পারি না।

    সবাই চুপচাপ। হ্যারি রনের কথা অনুধাবন করতে চেষ্টা করল। ভোল্টেমর্টের কি এত বড় ভুল করার কথা? হ্যারি যখন এ নিয়ে ভাবতে থাকল তখন হারমিয়ন কথা বলে উঠল। তার গলার স্বর বরফ শীতল মনে হলো।

    অবশ্যই ভোল্ডেমর্ট তার চিন্তার চেয়ে ঘরের ভুতদেরকে কম গুরুত্ব দিয়েছে, ঠিক যেমন পিওর ব্লাডরা ঘরের ভুতদেরকে জম্ভ মনে করে তেমনি। তার কাছে কখনোই মনে হয়নি যে ওরা এমন কোনো যাদু জানে যা তার নিজের জানা নেই।

    ক্রেচার বলল, ঘরের ভুতদের কাছে সবচেয়ে বড় কাজ হলো তার প্রভুর কথা শোনা। ক্রেচারকে বলা হয়েছে চলে আসতে, তাই ক্রেচার চলে এসেছে…।

    হারময়িন নরম সুরে বলল, তাহলে তোমাকে যা বলা হয়েছে তুমি তাই করেছ, ঠিক না? তুমি তোমার প্রভুর আদেশ মোটেও অমান্য করনি?

    ক্রেচার মাথা দোলালো। সে আগের চেয়ে আরো জোরে দুলতে থাকল।

    হ্যারি বলল, তুমি ফিরে আসার পর কী হলো? তুমি ঘটনা খুলে বলার পর রেগুলাস কী বলেছিল?

    প্রভু রেগুলাস ভীষণ উদ্বিগ্ন হয়ে উঠেছিলেন, ক্রেচার বলতে থাকল। প্রভু রেগুলাস ক্রেচারকে লুকিয়ে থাকতে বললেন। এবং ঘর থেকে বের হতে নিষেধ করলেন। এরপর…বেশ কয়েকদির পর একরাতে প্রভু রেগুলাস অস্থির হয়ে ক্রেচারকে তার আলমারিতে খুঁজতে এলেন। ক্রেচারকে পেয়ে বললেন তাকে সেই গুহায় নিয়ে যেতে যেখানে ভোল্টেমর্টের সঙ্গে ক্রেচার গিয়েছিল…

    এরপর তারা রওয়ানা হলো। হ্যারি দৃশ্যগুলো পরিষ্কার দেখতে পাচ্ছে। একটি বৃদ্ধ ভুত এবং হালকা পাতলা ডার্ক সিকার যাকে দেখলে সিরিয়স বলে মনে হয়…. ক্রেচার জানত কীভাবে গুহার ভিতরের গোপন গুহাপথটির বন্ধ দরোজা খুলতে হয়, সে জানত নৌকাটি তুলতে হবে। এবার তার প্রিয় রেগুলাস তার সঙ্গে নৌকায় যাচ্ছে দ্বীপের বেসিনে রাখা পোশনের দিকে….

    তিনিও কি তোমাকে পোশন পান করতে বললেন? হ্যারি বিরক্তির সঙ্গে বলল।

    ক্রেচার মাথা নেড়ে কাঁদতে থাকল। হরমিন মুখের উপর হাত তুলে এনেছে। সে একটা কিছু ধারণা করে নিয়েছে।

    মাস্টার রেগুলাস ভোল্টেমর্টের লকেটার মতোই একটা লকেট পকেট থেকে বের করলেন, ক্রেচার বলতে থাকল। তার লম্বা, সরু নাকের দুপাশ দিয়ে চোখের পানি গড়িয়ে পড়ছে। এবং তিনি সেটি ক্রেচারের হাতে দিয়ে বললেন বেসিনটি খালি হলে লকেটটি তার ভেতর ফেলে দিতে….।

    ক্রেচারের কান্না বেড়ে গেল। হ্যারি আরো মনোযোগ দিয়ে তার কথা বুঝতে চেষ্টা করল।

    এবং তিনি আদেশ দিলেন ক্রেচারকে……তাকে ছাড়াই ফিরে যেতে। তিনি ক্রেচারকে বললেন–ঘরে ফিরে যেতে এবং কখনো যেন এ কথা মিস্ট্রেসকে না বলি–তিনি যা করেছেন। প্রথম লকেটটি ধ্বংস করার জন্য। তিনি পান করলেন, সবটুকু পোশন পান করলেন–ক্রেচার লকেট বদল করল-এবং দেখতে থাকল–প্রভু রেগুলাসকে পানির ভেতরে টেনে নিয়ে গেল এবং…

    চোর! হারমিয়ন চিৎকার করে উঠল। সে কাঁদছে। হাঁটু গেড়ে হারমিয়ন ঘরের ভূতটির পাশে বসল, ওকে জড়িয়ে ধরতে চেষ্টা করল। সঙ্গে সঙ্গে ক্রেচার। পায়ের উপর উঠে দাঁড়ালো এবং লাফ দিয়ে পেছনের দিকে সরে গেল। সরাসরি হারমিয়নকে প্রত্যাখ্যান করল।

    ক্রেচার বলল, মাডব্লাড ক্রেচারকে ছুঁয়ে দেবে, এটা ক্রেচার মেনে নেবে না তার মিস্ট্রেস কি বলবে?

    রাগত স্বরে হ্যারি বলল, আমি তোমাকে আদেশ দিয়েছি তাকে মাডব্লাড না বলতে! কিন্তু ততক্ষণে ভুতটি নিজেই এ অপরাধের জন্য নিজেকে সাজা দিতে শুরু করেছে। সে মেঝের উপর পড়ে নিজের কপাল মেঝেতে ঠুকতে লাগল।

    হারমিয়ন চিৎকার করে বলল, ওকে থামাও! ওকে থামাও! তুমি দেখতে পাচ্ছ ও কতটা অসুস্থ, আদেশ পালন করার ধরণ দেখেছ?

    হ্যারি উঁচুস্বরে বলল, ক্রেচার! থামো, থামো!

    ঘরের ভুতটি মেঝের উপর শুয়ে পড়ল। সে হাপাচ্ছে এবং সারা শরীর তার কাঁপছে। নাকের চারদিকে সবুজ ধরনের পিচ্ছিল পদার্থ বের হয়ে এসেছে। শীর্ণ কাপালের যে জায়গাটা মেঝেতে ঠুকেছে সে জায়গায় ইতিমধ্যেই একটি দাগ বসে গেছে। হ্যারি এমন বেদনাদায়ক দৃশ্য কখনো দেখেনি।

    হ্যারি প্রকৃত ঘটনা জানতে দৃঢ় হয়ে আছে। সে অমন দুঃখজনক অবস্থায়ও জানতে চাইল, তাহলে তুমি লকেটটি নিয়ে এসেছ? এবং সেটিকে ধ্বংস করতে চেষ্টা করেছ?

    ক্রেচার ওটার কিছুই করতে পারেনি। ক্ষোভের সঙ্গে ক্রেচার বলল। যত রকমের উপায় জানা আছে ক্রেচার সেই সব রকমের চেষ্টা করেছে। কিন্তু কিছুতেই কোনো কাজ হয়নি। লকেটের ছোট বক্সটির উপর সব ধরনের স্পেল প্রয়োগ করা আছে। ক্রেচার নিশ্চিত ছিল যে ওটা ধ্বংস করতে বক্সটি খুলতে হবে। কিন্তু কোনোক্রমেই তা খোলা গেল না। ক্রেচার নিজেকে শাস্তি দিল, সে আবার চেষ্টা করল, সে আবার চেষ্টা করল, আবার নিজেকে শাস্তি দিল। ক্রেচার আদেশ পালন করতে ব্যর্থ হলো। সে ওই লকেটটি ধ্বংস করতে পারেনি! প্রভু রেগুলাস নিখোজ হওয়ার কারণে ক্রেচারের মিস্ট্রেস দুঃখে প্রায় পাগল হয়ে গিয়েছিলেন। ক্রেচার তাকে বলতে পারল না প্রকৃত ঘটনা কি ঘটেছে। কারণ মাস্টার রেগুলাস তাকে নিষেধ করে দিয়েছেন গুহায় কী ঘটেছে তা পরিবারের কাউকে না বলতে….

    ক্রেচার এত বেশি ফোঁপাতে লাগল যে আর কোনো পরিপূর্ণ বাক্য সে বলতে পারল না। হারমিয়ন ক্রেচারের দিকে তাকিয়ে আছে। তার গাল বেয়ে চোখের পানি পড়ছে। কিন্তু সে আর ক্রেচারকে ছোঁয়ার সাহস পেল না। এমনকি রন, যার ক্রেচারের জন্য বিশেষ কোনো দুর্বলতা নেই তাকেও বিমর্ষ মনে হলো। হ্যারি পায়ের গোড়ালির ওপর ভর করে বসল এবং মাথা ঝাঁকি দিয়ে বিষয়টি মাথা থেকে পরিষ্কার করতে চেষ্টা করলো।

    অবশেষে হ্যারি বলল, আমি তোমাকে ঠিক বুঝতে পারি না ক্রেচার, ভোল্ডেমর্ট তোমাকে হত্যা করতে চেষ্টা করেছে, ভোল্টেমর্টের বিরোধিতা করতে গিয়ে রেগুলাস মারা গেছেন। তারপরও তুমি ভোল্টেমর্টের পক্ষ হয়ে সিরিয়ুসের সঙ্গে বেঈমানি করে স্বাচ্ছন্দ বোধ করেছ? তুমি নির্দ্বিধায় নারসিসা এবং বেলাট্রিক্সের কাছে গিয়েছ এবং তাদের মাধ্যমে ভোল্টেমর্টের কাছে তথ্য প্রদান। করেছ…

    হারমিয়ন বলল, হ্যারি, ক্রেচার বিষয়টিকে সেভাবে দেখেনি, সে হলো শুধুমাত্র একজন দাস। ঘরের ভুতরা খারাপ, এমনকি নিষ্ঠুর আচরণ পেয়ে থাকে।

    ভোল্ডেমর্ট ক্রেচারের সঙ্গে যা করেছে তা খুব একটা ব্যতিক্রম কিছু নয়। ক্রেচারের মতো ঘরের ভুতকে উইজার্ড যযাদ্ধারা কীভাবে দেখে? ওকে যারা ভালো জানে তাদের প্রতি ও ভীষণ অনুগত। মিসেস ব্ল্যাক এবং রেগুলাস অবশ্যই তাকে ভালো জানত। সুতরাং ক্রেচার মন দিয়ে তাদের একই রকম সেবা করেছে, তাদের বিশ্বাস অক্ষুন্ন রেখেছে। হ্যারি প্রতিবাদ করে কিছু একটা বলতে চাইল। হারমিয়ন বলল, আমি জানি তুমি কী বলবে। তুমি বলবে যে রেগুলাস তার মনটাকে পরিবর্তন করে দিয়েছে। কিন্তু সেটা তো রেগুলাস ক্রেচারকে জানিয়েছে বলে মনে হয় না। আমার ধারণা আমি বুঝতে পেরেছি কেন ক্রেচার এবং ব্যাক পরিবার নিরাপদে থেকেছে–যদি তারা পুরনো পিওর ব্লাড লাইনের হয়ে থাকে। রেগুলাস তাদেরকে নিরাপদ রাখতে চেষ্টা করেছেন।

    সিরিয়স-

    সিরিয়স ওর প্রতি ভীষণ নাখোশ ছিল। বিষয়টি মোটেই সুখের ছিল না। তুমি এর সত্যতা সম্পর্কে জানো। সিরিয়স যখন এখানে থাকতে এসেছেন তখন ক্রেচার দীর্ঘ সময়ের জন্য একা হয়ে গিয়েছিল। সে একটু ভালোবাসার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছিল। আমি নিশ্চিত সিরিয়স চলে যাওয়ার পর মিস সিজি এবং মিস বেলা ক্রেচারের প্রতি সদয় ব্যবহার করেছেন। তাই সে তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রদর্শন করেছে এবং তারা যা জানতে চেয়েছেন তা ও যতটা জানত সব বলে দিয়েছে। আমি সবসময় বলে আসছি উইজার্ডরা ঘরের ভুতদের সঙ্গে যেমন আচরণ করবে ঠিক তেমনি ফল পাবে। এই দেখ ভোল্ডেমর্ট-সিরিয়সও তাই করেছেন।

    হ্যারির মুখে কোনো ভাষা নেই। সে মেঝেতে পড়ে ফুঁপিয়ে কান্না করতে থাকা ক্রেচারের দিকে তাকিয়ে থাকল। মনে পড়ল ডাম্বলডোর হ্যারিকে কী বলেছিলেন। সিরিয়াসের মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা পর ডাম্বলডোর বলেছিলেন, আমার মনে হয় না যে সিরিয়স কখনো ক্রেচারকে মানুষের মতো বুদ্ধি আছে ভেবে সহানুভূতির চোখে দেখেছে…

    কিছুক্ষণ পর হ্যারি বলল, ক্রেচার, পারলে তুমি দয়া করে উঠে বসো।

    ক্রেচার কয়েক মিনিট ডুকরে কাঁদে নীরব হলো। তারপর আবার নিজে পেছনের দিকে সরে ঠিক হয়ে বসল। হাতের আঙুলগুলো উল্টো পিঠ দিয়ে ঠিক একটি ছোট শিশুর মতো চোখ মুছতে থাকল।

    হ্যারি বলল,  ক্রেচার, আমি তোমাকে একটা কাজ করতে বলব।

    হ্যারি হারমিয়নের দিকে সাহায্যের জন্য তাকালো। হ্যারি খুব বিনয়ের সঙ্গে ওকে আদেশটা দিতে চাইল। কিন্তু একই সঙ্গে এটা যে কোনো আদেশ নয় সে ভাবটা নিজের ভেতর আনতে পারল না। হারমিয়ন হ্যারির দিকে তাকিয়ে প্রশ্রয়ের হাসি দিল।

    ক্রেচার, আমি চাই তুমি গিয়ে মুন্ডুঙ্গুস ফ্লেচারকে খুঁজে নিয়ে আসো। আমাদের বের করা দরকার যে লকেটটা কোথায় আছে, মাস্টার রেগুলাসের লকেটটি কোথায়। এটা খুঁজে বের করা সত্যিই খুব জরুরি। মাস্টার রেগুলাস যে কাজ শুরু করেছিলেন আমরা সেটা শেষ করতে চাই। আমরা এটা নিশ্চিত করতে চাই যে তিনি একেবারে বৃথা মারা যাননি।

    ক্রেচার হাত দুটো নামালো এবং হ্যারির দিকে মুখ তুলে তাকালো।

    বিড়বিড় করে বলল, মুন্ডুঙ্গুস ফ্লেচারকে খুঁজে বের করতে হবে?

    হ্যারি বলল, তাকে এখানে, এই গ্রিমোল্ড প্লেসে নিয়ে আসবে। আমাদের জন্য কাজটি করতে পারবে না?

    ক্রেচার মাথা দোলালো এবং উঠে দাঁড়াল। এতে হ্যারি হঠাৎ করে প্রাণ ফিরে পেল। সে হ্যাগ্রিডের পার্সটি বের করে সেটা থেকে একটি নকল হরক্রুক্স এবং অন্য একটি লকেট বের করল যেটির ভিতরে ভোল্টেমর্টের জন্য রেগুলাস কিছু নোট রেখেছিলেন।

    হ্যারি সেগুলো ক্রেচারের হাতে গুঁজে দিয়ে বলল, ক্রেচার, আমি এগুলো তোমাকে দিচ্ছি। এগুলো রেগুলাসের ছিল। আমি নিশ্চিত তিনিও এগুলো তোমাকে দিতেন কৃতজ্ঞতার নিদর্শন স্বরূপ। তুমি যা করেছ

    ঘরের ভুতটি লকেটটার দিকে একবার তাকালো। তারপর গভীর বেদনায় হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। আবার মাটিতে গড়িয়ে পড়ল।

    বাড়াবাড়ি হচ্ছে, রন বলল।

    প্রায় আধ ঘণ্টা সময় পার হয়ে গেল ক্রেচারকে শান্ত করতে। ব্ল্যাক পরিবারের ঐতিহ্যবহনকারী মূল্যবান সামগ্রী উপহার পেয়ে ক্রেচার এতটাই অভিভূত হলো যে নিজের পায়ে ভর করে সে দাঁড়াতে পারছে না। শেষ পর্যন্ত যখন কোনক্রমে কয়েক পা আগালো তখন হ্যারিরা তিনজনই তার সঙ্গে আলমিরার দিকে পা বাড়ালো। ক্রেচার যত্ন করে লকেটটি তার নোংরা কম্বলটির ভেতর খুঁজে রাখল। ক্রেচারকে ওরা আশ্বস্ত করল যে সে বাইরে থাকতে লকেটটি তারা নিরাপদে রাখবে। ক্রেচার হ্যারি এবং রনের দিকে ফিরে মাথা নামিয়ে বো করল। হারমিয়নের দিকে ফিরে এমন একটা ভঙ্গী করল যাতে বোঝা গেল সে হারমিয়নকে সম্মান জানিয়ে স্যালুট করছে। তারপর ক্র্যাক শব্দ করে অদৃশ্য হয়ে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই – জে ডি সালিঞ্জার, অনুবাদ – রাফায়েত রহমান রাতুল
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }