Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প937 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৩. ম্যালফয় ম্যানর

    ২৩. ম্যালফয় ম্যানর

    হ্যারি অন্য দুজনের দিকে ঘুরে তাকালো। গাঢ় অন্ধকারে ওদের কোনোক্রমে একটু দেখা যাচ্ছে। সে দেখল হারমিয়ন তার যাদুদণ্ডটি তাক করেছে। বাইরের দিকে নয়, সোজা হ্যারির মুখের দিকে। জুম করে একটি শব্দ হল এবং আলো জ্বলে উঠল। হ্যারি যন্ত্রণায় বাঁকা হয়ে গেল। সে চোখে কিছুই দেখতে পাচ্ছে না। সে অনুভব করতে পারল যে তার হাত দুটোর নিচে মুখটি কেমন আকার পরিবর্তন হচ্ছে। তার চারপাশে পায়ের আওয়াজ পেল।

    উঠে দাঁড়াও ভারমিন।

    একটি অজানা হাত হ্যারিকে শক্ত করে টেনে মাটি থেকে তুলল। সে বাধা দেয়ার আগেই কেউ একজন তার পকেটে হাত দিয়ে খুঁজতে থাকল এবং ব্ল্যাকহর্ণ যাদুদণ্ডটি বের করে আনল। হ্যারি প্রচণ্ড ব্যথায় মুখটি খামচে ধরে আছে। সে তার আঙুলের নিচে আকার পরিবর্তন হওয়া মুখটি অনুভব করল। যেন কোনো ভয়ানক এলার্জি হয়েছে। তার চোখের কোণে কেটে গেছে। সে এখন কিছুই স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছে না। তাকে ধরে তাবুর বাইরে নিয়ে আসার সময় চোখের চশমাটি কোথাও পড়ে গেছে। সে শুধু যেটুকু দেখতে পেল তা হল রন এবং হারমিনের শরীরের আকার, চার বা পাঁচজন লোক ওদের ধরে রেখেছে।

    ওকে ছেড়ে দাও! রন চিৎকার করে বলল। হ্যারি প্রচণ্ড জোরে শরীরের উপর ঘুষি পড়ার শব্দ শুনতে পেল। রন ব্যথায় ককিয়ে উঠল। হারমিয়ন চিৎকার করে বলল, না! ওকে ছেড়ে দাও!, ওকে ছেড়ে দাও!

    তোমার বয়ফ্রেন্ড এরচেয়ে ভাল কিছু পাবে যদি আমার তালিকায় ওর নামটি থাকে, কর্কশ এবং ভয়ঙ্কর একটি পরিচিত গলা বলল। সুস্বাদু মেয়ে!…কি ভাল কথা….আমি নরম চামড়া সব সময় পছন্দ করি…

    হ্যারির পেটের ভেতর মোচড় দিয়ে উঠল। ও জানে গলাটি কার! ফেনরির গ্রেব্যাক! সে একটা ওয়্যারও! তার নিষ্ঠুরতার জন্য সে ডেথ-ইটারদের গাউন পরার অনুমতি পেয়েছে।

    তাবুর ভেতর ভাল করে চেক করো! অন্য একটি কণ্ঠ বলল। হ্যারিকে ছুঁড়ে ফেলা হয়েছে। বুঝতে পারল রনকেও তার পাশে ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে। ওরা পায়ের শব্দ এবং ভাঙাচুরার শব্দ পেল। ওরা তল্লাশি চালানোর সময় চেয়ারগুলো ছুঁড়ে ফেলছে।

    এখন দেখা যাক আমরা কাদেরকে ধরেছি, মাথার উপর থেকে গ্রেব্যাক বলে উঠল। হ্যারির পিঠে লাথি দিয়ে চিৎ করে ফেলা হল। বেশ কয়েকটি যাদুদণ্ডের আলো এসে ওর মুখের উপর পড়ল। গ্রেব্যাক উচ্চশব্দে হেসে উঠল।

    এটাকে পরিস্কার করতে আমার বাটার বিয়ার লাগবে। তোর কি হয়েছে রে কুৎসিত? হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে কোনো উত্তর দিতে পারল না।

    আমি বলেছি!, হ্যারি পাজরের নিচে প্রচণ্ড লাথি হজম করল। তোর কি হয়েছে।

    বিষ, বিষ লেগেছে, হ্যারি বিড়বিড় করে বলল।

    হ্যাঁ, দেখে তাই মনে হচ্ছে, আরেকটি কণ্ঠ বলল।

    তোর নাম কি, গ্রেব্যাক তিক্ত কণ্ঠে বলল।

    ডাডলি, হ্যারি বলল।

    প্রথম নাম?

    আমি–ভারনন, ভারনন ডাডলি।

    লিস্টটা চেক করে দেখ স্ক্যাবিওর, গ্রেব্যাক বলল। হ্যারি শব্দ পেল সে পাশেই রনের দিকে হেঁটে গেল। আর তোর ব্যাপারটি কি জিনজার?

    স্ট্যান সানপাইক, রন বলল।

    সে রকমই তো তোকে মনে হয়, অন্য কণ্ঠ বলল। আমরা স্ট্যান সানপাইককে চিনি।

    ঘোৎ করে একটি শব্দ হল।

    আম.. মি বার্দি, রন বলল। তার কথা শুনে হ্যারি বুঝতে পারল রক্তে তার মুখ ভরে আছে। বার্দি উইসলি

    একজন উইসলি? ক্ষোভের সঙ্গে গ্রেব্যাক বলল। তারমানে মাডব্লাড় না হলেও তুই একজন ব্লাড ট্রেইটর? আর তোর এই সুন্দর গার্লফ্রেন্ডটি… তার আনন্দিত গলার স্বর শুনে হ্যারির শরীর মাটির সঙ্গে মিশে গেল।

    ইজি গ্র্যোক, অন্যদের গুঞ্জন ছাপিয়ে স্ক্যাবিওর বলল।

    আহ্, আমি তো এক্ষনি কামড় দিতে যাচ্ছি না, আমি দেখব সে বার্নির চেয়ে তাড়াতাড়ি নামটি মনে করতে পারে কি না। তুমি কে গো মেয়ে?।

    পেনেলোপ ক্লিরওয়াটার, হারমিয়ন বলল। সে ভয় পাওয়া কণ্ঠে বলল, কিন্তু দৃঢ়তার সঙ্গে।

    তোমার ব্লাড স্ট্যাটাস কি?

    হাফ রাড, হারমিয়ন বলল।

    চেক করা হয়ে গেছে, নস্ক্যাবিওর বলল। কিন্তু ওদের সবগুলোকেই মনে হয় এখনো হোগার্টসের স্কুলের বয়সী-

    আমরা স্কুল ছেড়েছি, রন বলল।

    ছেড়ে এসেছিস, জিনজার? স্ক্যাবিওর বলল। তারপর ক্যাম্পিং এ আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছিস? আর তোরা ভেবেছিস শুধু হাসাহাসি করার জন্য ডার্ক লর্ডের নাম নিবি?

    হাসার জন্য না, রন ভরাক্রান্ত কণ্ঠে বলল, অ্যাকসিডেন্ট!

    অ্যাকসিডেন্ট! ওদের মধ্যে আরো গুঞ্জন উঠল।

    তুই জানিস ইউ-নো-হুর নামোচ্চারণ করে কে উইসলি? ঘর ঘর করে বলল গ্রেব্যাক। দ্য অর্ডার অব দ্য ফিনিক্স এখন যে কোনো কিছু করতে পারে!

    করো!

    তার মানে ওরা ডার্ক লর্ডকে যথাযথ সম্মান দেখায় না। তাই নামটি ট্যাবু হয়েছে। এভাবেই কিছু অর্ডার মেম্বর চিহ্নিত হয়েছে। আমরা দেখব। এদেরকে বেধে ফেল অন্য দুই বন্দীর সঙ্গে!

    কেউ একজন ঝাঁকি দিয়ে হ্যারিকে তুলে ফেলল একটু খানি টেনে নিয়ে একটি জায়গায় ঠেলে বসিয়ে দিল। তারপর অন্যদের সঙ্গে পিঠ মোড়া করে বাধল। হ্যারি এখনো চোখে তেমন কিছু দেখতে পাচ্ছে না। বড় হয়ে যাওয়া চোখে অল্পঅল্প দেখতে পাচ্ছে। লোকটি যখন ওদেরকে বেধে একটু দূরে গেল তখনই হ্যারি অন্যদের উদ্দেশে বলল

    কারো কাছে একটি যাদুদণ্ড আছে!

    দুপাশ থেকে রন এবং হারমিয়ন বলল, না!

    এটি সম্পূর্ণ আমারই ভুল হয়েছে, আমি নামটি ফট করে উচ্চারণ করে ফেলেছি, আমি খুবই দুঃখিত।

    হ্যারি?

    একটি নতুন পরিচিত কণ্ঠ বলে উঠল। কণ্ঠস্বরটি এল সরাসরি ওর পেছনের থেকে। যাকে হারমিয়নের বাম পাশে বাধা হয়েছে।

    ডিন?

    তুমি! ওরা যেন বুঝতে না পারে যে ওরা কাকে ধরেছে! ওরা হল স্ন্যাচার, শুধু স্কুল পালানোদের ধরছে ওরা কিছু ফাও সোনা কামানোর আশায়-

    এক রাতের জন্য কমগুলোকে ধরিনি, গ্রেব্যাক বলতে থাকল। একজোড়া বুটের শব্দ হ্যারির দিকে আগাতে থাকল। এখনো তাবুর ভেতর ভাঙার আওয়াজ পাওয়া যাচ্ছে। একটি মাডব্লাড, একটি পালানো গবলিন এবং তিনটি স্কুল পলাতক ধরতে পেরেছি। সবগুলো নাম চেক করা হয়েছে স্ক্যাবিওর? সে চিৎকার করে বলল।

    হ্যাঁ, কিন্তু ভারনন ডাডলির নাম পাওয়া যায়নি।

    ইন্টারেস্টিং, ভেরি ইন্টারেস্টিং।

    সে উবু হয়ে হ্যারির পাশে বসল। সে ভুরুর নিচের ছোটো গোলাকার চোখ দিয়ে তাকালো। মুখটি তার ঢাকা। চুল এবং মুখের পশমগুলো ধুসর রঙের। চোখা দাঁত, মুখের এককোণ দিয়ে দাগ।

    তারমানে তুই ওয়ান্টেড না, ভারনন? নাকি ওই লিস্টে অন্য কোনো নাম আছে তোর? হোগার্টসের কোন হাউসে তুই ছিলি?

    স্লিদারিন, হারমিয়ন সোজা উত্তর দিল।

    ফানি, ওরা ভাবল কীভাবে যে আমরা এমন উত্তরই শুনতে চাই, ছায়ার ভেতর থেকে স্ক্যারবিয়ন গুনগুন করে বলল। কিন্তু ওদের কেউই বলতে পারবে না যে ওদের কমন রুম ছিল কোনটি…।

    হ্যারি পরিস্কারভাবে বলল, আমাদেরটি ছিল প্রিজন সেলে, হ্যারি পরিস্কার উত্তর দিল। দেয়ালের ভেতর দিয়ে ঢুকতে হবে, সেখানে আছে প্রচুর খুলি এবং জিনিসপত্র এবং এটি লেকের নিচে। তাই সেখানে আলো সবুজ।

    একটু সময়ের জন্য নিরবতা নেমে এল। ওয়েল আমার মনে হচ্ছে একটি পিচ্চি স্নিদারিনই ধরে ফেলেছি, স্ক্যাবিওর বলল। তোমার জন্য ভাল ভারনন, কারণ খুব বেশি মাডব্লাড স্নিদারিন নেই। তোর বাবা কে?

    তিনি মিনিস্ট্রিতে কাজ করেন, হ্যারি মিথ্যা বলল। সে জানে যে একটি ছোট অনুসন্ধানই তার সব কাহিনী জেনে যেতে পারে। অন্যদিকে তার স্বাভাবিক চেহারা চলে আসতে পারে এসব চলাকালেই। ডিপার্টমেন্ট অব ম্যাজিক্যাল অ্যাকসিডেন্টে তিনি কাজ করেন।

    তুমি একটা বিষয় জানো গ্রেব্যাক, স্ক্যাবিওর বলল। আমার ধারণা এদের ভেতর কেউ ডাডলি পরিবারের আছে।

    হ্যারি কোনোক্রমে দম নিতে পারছে। কোনো ভাগ্য কি ওদের এখান তেকে। ছুটিয়ে নিতে পারবে?

    ওয়েল ওয়েল, গ্রেব্যাক বলল। হ্যারি শুনতে পেল গ্রেব্যাকের কণ্ঠে যে সে ওদের কাছে ধরা না দিয়ে উপলব্ধি করতে চেষ্টা করছে, কোনো মিনিস্ট্রি অফিসিয়ালের ছেলেকে ধরে আবার ঝামেলায় পড়বে কি না। হ্যারির বুক বাধা দড়ির নিচে ধুকধুক করছে। সে মোটেও অবাক হবে না বিষয়টি যদি গ্রেব্যাকের চোখে পড়ে। তুই যদি সত্যি কথা বলিস কুৎসিত, তাহলেও মিনিস্ট্রি আমাদের কোনো ক্ষতি করবে না। আমি মনে করি তোর বাবা বরং ছেলেকে তুলে নেয়ার জন্য আমাদের পুরস্কৃত করবে।

    কিন্তু, হ্যারি বলল, তুমি যদি আমাদের ছেড়ে দাও।

    হেই! হ্যারির কথা শেষ হওয়ার আগেই তাবুর ভেতর থেকে একটি কণ্ঠ উচ্চস্বরে বলল। এই জিনিসটি দেখ, গ্রেব্যাক!

    একটি কালো শরীর ওদের দিকে দৌড়ে এল। হ্যারি তার যাদুদণ্ডের আলোতে দেখল রুপালি রঙ চকচক করছে। ওরা গ্রিফিনডোরের তলোয়ারটি খুঁজে পেয়েছে।

    খুব ভাল কথা, গ্রেব্যাক বলল। সে ওটি তার সঙ্গীর হাত থেকে নিল। সত্যিই খুব ভাল কথা। দেখে মনে হচ্ছে গবলিনদের তৈরি। এমন একটি জিনিস তোরা কোথায় পেলি?

    এটি আমার বাবার, হ্যারি মিথ্যা বলল। ক্ষীণ আশা করল যে এই অন্ধকারে হয়তো গ্রেব্যাক হাতলের উপর লেখাটি দেখতে পাবে না। আমি এটি কাঠ কাটার জন্য চেয়ে এনেছি-

    এক মিনিট ধরো গ্রেব্যাক, দ্য প্রফেটে এটা দেখ!

    স্ক্যারবিওনের এই কথার প্রায় একই সঙ্গে হ্যারির স্কারটিতে ভয়ানক জ্বালাপোড়া করতে থাকল। চারপাশের দৃশ্যের চেয়েও অনেক পরিস্কারভাবে সে দেখতে পেল একটি উঁচু টাওয়ার, একটি লাল দূর্গ। কালো কুচকুচে এবং নিষিদ্ধ এলাকা। ভোল্টেমর্টের চিন্তা হঠাৎ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকল, সে পিছলে একটি বিশাল বিল্ডিং-এর ভেতর দিয়ে মহা আনন্দে যাচ্ছে… আরো কাছে… আরো কাছে….

    হ্যারি প্রচণ্ড ইচ্ছা শক্তি দিয়ে নিচের মনটাকে ভল্টেমর্টের কাছ থেকে সরিয়ে রাখতে চেষ্টা করল। নিজেকে টেনে আনতে চেষ্টা করল যেখানে হারমিয়ন, রন, ডিন এবং গ্রিপহুক অন্ধকারে আছে সেখানে। শুনতে চেষ্টা করল স্ক্যাবিওর এবং গ্রেব্যাকের কথা…

    ….হারমিয়ন গ্র্যাজার, স্ক্যারবিওনের বলতে থাকল। এই মাডব্লডটির হ্যারি পটারের সঙ্গে ভ্রমনে থাকবার কথা।

    হ্যারির স্কারটি নিরবে জ্বলতে থাকল। কিন্তু সে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে থাকল ভন্ডেমর্টের কাছ থেকে মনকে সরিয়ে রাখতে। সঠিক জায়গায় উপস্থিত থাকতে।

    হ্যারি গ্রেব্যাকের বুটের মচমচ শব্দ শুনতে পল। সে হারমিয়নের সামনে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।

    তুমি জানো ছোট্ট মেয়েটি? এই ছবিটি দেখতে একেবারেই তোমার মত?

    এটা না! এটা আমি না!

    হারমিয়নের চিল্কারের ধরণ থেকেই মনে হল সে স্বীকার করছে।

    ….হ্যারি পটারের সঙ্গে ভ্রমণে থাকবার কথা, গ্রেব্যাক শান্ত কণ্ঠে রিপিট করলো।

    সবাই স্থির হয়ে আছে। হ্যারির স্কারটিতে অসহ্য যন্ত্রণা বোধ হচ্ছে। কিন্তু সে সমস্ত শক্তি ব্যবহার করে ভোল্ডেমর্ট থেকে দূরে থাকতে চেষ্টা করছে। এমন নিজের মধ্যে থাকার প্রয়োজন আর কখনো হয়নি।

    তাহলে এটা পরিবর্তন হয়ে গেছে, তাই না? ফিসফিস করে গ্রেব্যাক বলল।

    কেউ কথা বলছে ন। হ্যারি অনুভব করল যে স্ন্যাচারের দলটি ওদের স্থিরভাবে পরখ করছে। অনুভব করল হারমিয়নের হাত ওর গায়ের সঙ্গে থরথর করে। কাঁপছে। গ্রেব্যাক উঠে দাঁড়ালো এবং হ্যারির দিকে কয়েক পা এগিয়ে এল। উবু হয়ে বসল এবং কাছে থেকে ওর দুর্ভাগা মুখটির দিকে তাকালো।

    তোর কপালের উপর ওটা কি ভারনন? সে শান্ত কণ্ঠে বলল। তার নিঃশ্বাস হ্যারির নাকের উপর এসে পড়ছে। সে নোংরা আঙুল দিয়ে হ্যারির কপালের স্কারটিতে স্পর্শ করল।

    এটা স্পর্শ করো না, হ্যারি চিৎকার করে উঠল। সে নিজেকে থামাতে পারেনি। সে চিন্তা করেছে এটায় হাত দিলে ব্যথায় সে অসুস্থ হয়ে যাবে।

    আমি ভেবেছিলাম তুমি চশমা পড় হ্যারি পটার! গ্রেব্যাক বলল।

    আমি একটি চশমা পেয়েছি!, পেছন থেকে একজন স্ন্যাচার বলল। তাবুর মধ্যে গ্লাসটি ছিল গ্রেব্যাক, দাঁড়াও।

    কয়েক সেকেন্ডের ভেতর তার চশমা এনে চোখে পরিয়ে দেয়া হল। স্ন্যাচাররা কাছে থেকে ওর দিকে তাকিয়ে থাকল। এটাই! উচ্চস্বরে গ্রেব্যাক বলল। আমরা পটারকে ধরে ফেলেছি!

    ওরা মুহূর্তের ভেতর কয়েক পা পিছিয়ে গেল। যে কাজ তারা করে ফেলেছে সে জন্য হতবাক হয়ে গেছে। হ্যারি তখনো নিজের সঙ্গে যুদ্ধ করছে স্থির থাকতে।

    কিছু বলার খুজে পেল না। তার ভেতরে এখনো ভাঙা ভাঙা ছবি আসছে

    ……সে কালো দূর্গটির উঁচু দেয়াল দিয়ে পিছলে যাচ্ছে…।

    না, সে হ্যারি, যাদুদণ্ডহীন বাধা অবস্থায় আছে, ভয়ানক বিপদে পড়েছে… …..

    উপরের দিকে তাকাচ্ছে, টাওয়ারের সবচেয়ে উপরের জানালাটি দিয়ে…

    সে হল হ্যারি, এবং ওরা তার সামনে নিচু গলায় আলোচনা করছে ভাগ্য নিয়ে….

    …এখন উড়াল দেয়ার সময় এসেছে…..

    ..মিনিস্ট্রিতে?

    গোল্লায় যাক মিনিস্ট্রি, গর্জন করে উঠল গ্রেব্যাক। ওরাই সব কৃতিত্ব নিয়ে নেবে। আর আমরা একবার ভেতরে দেখারও সুযোগ পাবো না। আমি বলছি আমরা ওকে সোজা ইউ-নো-হুর কাছে নিয়ে যাবো।

    তাকে কি সামন করবে? বলল স্ক্যাবিওর। তার গলায় ভয়ের সুর।

    না, ক্ষোভের সঙ্গে গ্রেব্যাক বলল। আমি সামন করতে পারি না..ওরা বলেছে তিনি ম্যালয়ের জায়গাটি ঘাটি হিসাবে ব্যবহার করেন। আমরা এই ছেলেকে সেখানে নিয়ে যাবো।

    হ্যারি বুঝতে পারল কেন গ্রেব্যাক ভন্ডেমটের নামোচ্চারণ করে না। একমাত্র তাকে যখন ব্যবহার করতে চায় তখনই মাত্র এই ওয়্যারও ডেথ ইটারদের গাউন পরতে পারে। শুধুমাত্র ভন্ডেমর্টের ভেতরের সার্কেলেই ডার্ক মার্ক ব্যবহার করতে পারে। গ্রেব্যাকের এই মর্যাদা নেই।

    হ্যারির স্কারটি আবার জ্বলতে শুরু করেছে।

    …এবং সে উপরের দিকে উঠে গেল, টাওয়ারের একেবারে চুড়ায় অবস্থিত জানালার দিকে উড়ে যাচ্ছে…

    …এখন পুরোপুরি পরিস্কার যে এটাই সে, এটা সে না হলে গ্রেব্যাক, আমাদের মরতে হবে।

    এখানের ইনচার্জ কে? নিজের দুর্বলতা ঢাকতে চেষ্টা করে গ্রেব্যাক বলল। আমি বলছি এটা হ্যারি পটার, এবং তার যাদুদণ্ড, এখানেই দু লাখ গ্যালিওন পাওয়া যাবে। কিন্তু আমাদের কেউ যদি দুর্বল হই, তোমরা কেউ দুর্বলতা দেখাও তাহলে সব পাওনা আমার। এবং আমি মেয়েটিকে নিয়ে নেব।

    …জানালাটির কালো পাথরের ভেতর দিয়ে ফাঁকাটি ছোট, একজন মানুষের প্রবেশের জন্য যথেষ্ট নয়….জানালার ভেতর দিয়ে একটি কঙ্কালের মত দেহ দেখা যাচ্ছে, গুটিয়ে আছে কম্বলের নিচে…মৃত নাকি ঘুমিয়ে?

    ঠিকাছে, স্ক্যাবিওর বলল। আমরা আছি এবং বাকীগুলোর কী হবে গ্রেব্যাক, ওদের নিয়ে আমরা কী করবো?

    সবগুলোকেই নিয়ে নেব। আমরা পেয়েছি দুটি মাডব্লাড সেখানে পাবো আরো দশ গ্যালিয়ন, তলোয়ারটি আমার কাছে দাও। ওটার হাতল যদি রুবি পাথরের হয়, তাহলে তো ভাগ্য আরো একটু খুলে গেল।

    বন্দীদেরকে টেনে নেয়া হতে থাকল। হ্যারি হারমিয়নের দ্রুত ও ভয় পাওয়া নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পাচ্ছে।

    টেনে ধরো, আরো শক্ত করো বাধন, আমি পটারকে ধরে রাখছি! গ্রেব্যাক বলল। সে শক্ত করে হাতের মুষ্ঠিতে হ্যারির চুল ধরে রাখল। হ্যারি তার লম্বা হলুদ আঙুলের আচড় মাথায় অনুভব করতে থাকল। এক..দুই….তিন….

    ওরা ডিসপারেট করলো। টেনে বন্দীদের সঙ্গে নিয়ে গেল। হ্যারি প্রচণ্ড চেষ্টা করতে থাকল। গ্রেব্যাকের হাত থেকে ছুটতে চেষ্টা করল। কিন্তু কোনো ফল হল না। রন এবং হারমিয়ন ওর সঙ্গে একেবারে সেঁধে আছে। সে গ্রুপ থেকে পৃথক হতে পারল না। নিঃশ্বাস আরো ঘন হয়ে আসায় স্কারটিতে আরো যন্ত্রণা শুরু হল

    ….সে নিজেকে জানালা দিয়ে ঢোকাতে চেষ্টা করল একটি সাপের মত করে, এবং পিছলে ভেতরে ঢুকল একটি চিলেকোঠা ধরণের ছোট রুমে….

    ওরা একটি গ্রামের একপ্রান্তে অবতরণ করার সময় বন্দীরা একজন আরেকজনের গায়ের উপর পড়ল। হ্যারির চোখদুটো এখনো স্ফীত। ধাতস্ত হতে একটু সময় নিল। ঠিক তারপরই দেখল একজোড়া লোহার গেট সামনে। হ্যারির ভেতরে একটু ছোট অন্তশিল শীতল স্রোত বয়ে গেল। এখনো সবচেয়ে ভয়াবহ বিপদটি আসেনি ভোল্ডেমর্ট এখানে নেই। সে এখন অদ্ভুত ধরণের একটি দূর্গের টাওয়ারের চুড়ায় অবস্থান করছে, হ্যারি তা জানে। সে এতক্ষণ ধরে সে দৃশ্য থেকেই নিজেকে বিরত রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছে। সে যদি জানে যে হ্যারিকে নিয়ে আসা হয়েছে তাহলে কতক্ষণ লাগবে তার সেখান থেকে ফিরে আসতে? অন্য একটি ব্যাপার হল

    অন্য একটি স্ন্যাচার লম্বা পা ফেলে গেটের কাছে গেল এবং গেটটি ঝাঁকি দিল।

    আমরা ভেতরে ঢুকব কী করে? গেট তো তালা দেয়া গ্রেব্যাক! আমি পারছি –হায় হায়!

    সে ভয়ে তার হাত ঝাঁকি দিল। লোহার গেটটির ভেতর থেকে একটি স্তর পেঁচিয়ে একটি ভয়ানক মুখের মত আকার ধারণ করল। সেটি ধাতব কণ্ঠে কথা বলে উঠল : তোমাদের আসার উদ্দেশ্য কি ব্যাখ্যা করো!

    আমরা হ্যারি পটারকে পেয়েছি! গ্রেব্যাক বলল আমরা হ্যারি পটারকে বন্দী করে এনেছি!

    গেটটি বেঁকে খুলে গেল।

    ভেতরে আসো! গ্রেব্যাক তার লোকদেরকে বলল। বন্দীদেরকেও ওরা তুলে নিল। ওরা উচ ঝোঁপের ভেতর দিয়ে আগালো। হ্যারি দেখল একটি ভৌতিক সাদা আকৃতি তার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে। ও বুঝতে পারল যে এটি আলবিনো ময়ুর। সে হোঁচট খাচ্ছে এবং গ্রেব্রাক ওকে টেনে নিয়ে যাচ্ছে। বাকী চারজনের সঙ্গে বাধার কারণে পাশে পড়ে যাওয়ার অবস্থা হল। এবার সে ওর স্কারটাকে পুড়তে দিল সামান্য সময়ের জন্য। ও দেখতে চায় ভোল্ডেমর্ট এখন কোথায়, কী করছে।

    সে কি ইতিমধ্যেই জেনে গেছে কি না যে হ্যারি ধরা পড়েছে।

    …..শীর্ণকায় শরীরটি মোটা কম্বলের ভেতর থেকে উঠে এসেছে, এবং তার দিকে ঘুরেছে। একটি মুখের খুলির ভেতর থেকে চোখ দুটো বের হয়ে আছে। ক্ষীণ শরীরের লোকটি বসল। গভীর চোখ দুটো স্থির করল তার দিকে, অর্থাৎ ভল্টেমর্টের দিকে। তারপর সে হাসল, তার অধিকাংশ দাঁতই নেই….

    তাহলে তুমি এসেছ..আমি ভেবেছিলাম তুমি আসবে….একদিন। কিন্তু তোমার এ আসাটা নিরর্থক। জিনিসটি আমার কাছে কখনোই ছিল না।

    তুমি মিথ্যা বলছ!

    ভন্ডেমর্টের রেগে যাওয়াটা হ্যারির তের নাড়িয়ে দিল। হ্যারির স্কার যেন ফেটে যেতে চাইছে ব্যাথায়! সে চেস্টা করে নিজের ভেতর মনটাকে নিতে চেষ্টা করল। বর্তমান অবস্থানে এই বন্দী অবস্থায়।

    ওদের সবার উপর আলো পড়ল।

    এটা কি হচ্ছে? ঠাণ্ডা কণ্ঠে একজন মেয়েলোক বলল।

    আমরা এসেছি তার সঙ্গে দেখা করতে যার নাম অবশ্যই মুখে আনা যাবে! গ্রেব্যাক বলল।

    তোমরা কারা?

    আপনি আমাকে চেনেন! ওয়্যারও-এর কণ্ঠে আহত হওয়ার সুর। আমার নাম ফেনরির গ্রেব্যাক! আমরা হ্যারি পটারকে আটক করেছি!

    গ্রেব্যাক হ্যারিকে ধরল এবং টেনে সামনে নিয়ে গেল, অন্য আটকদেরও টেনে সামনে নেয়া হল।

    আমি জানি সে মুখটি স্ফীত করেছে, মাম, কিন্তু আসলে এটাই সে!, স্ক্যাবিওর সঙ্গে তালদিয়ে বলল। আপনি যদি আরও একটু কাছে থেকে দেখেন, তাহলে ওর কপালের উপরের স্কারটি দেখতে পাবেন। আর এই যে দেখুন মেয়েটি। এই মাডব্লাড মেয়েটি ওর সঙ্গে ছিল, মাম। সুতরাং কোনো সন্দেহ নেই। যে এটাই হ্যারি পটার। আমরা ওর যাদুদণ্ডটিও পেয়েছি মাম। এই যে সেটা-

    হ্যারি দেখল নারসিসা ম্যালফয় ওর মুখটা ভাল করে পরিক্ষা করে দেখছে। স্ক্যাবিওর ওর যাদুদণ্ডটি তার কাছে ছুঁড়ে দিল। সে চোখ তুলে তাকালো।

    ওদেরকে ভেতরে নিয়ে এস, সে বলল।

    হ্যারিরা ঢুলতে ঢুলতে পাথরে গুতো খেয়ে একটি হলের ভেতর দিয়ে আগালো। সেখানে একের পর এক পোট্রইট।

    আমার পেছনে আসো, নার্সিসা বলল। হলের ভেতর দিয়ে পথ দেখিয়ে নিতে থাকল। আমার ছেলে ড্র্যাকো ইস্টার হলিডের কারণে বাড়িতে। যদি এটা হ্যারি পটার হয় তাহলে সে নিশ্চয়ই চিনতে পারবে।

    বাইরে অন্ধকারের পর ড্রইংরুমে ঢুকতেই ঝলমল করে উঠল। প্রায় বুজে থাকা চোখেও হ্যারি রুমের অধিকাংস অংশ দেখতে পেল। একটি ক্রিস্টালের ঝাড়ুবাতি মাথার উপরে ঝুলছে। কালো দেয়ালের উপর আরো বেশি পোট্রেইট। স্ন্যাচাররা ওদের ধাক্কা দিয়ে ভেতরে ঢোকানোর সঙ্গে সঙ্গে দুটো শরীর ফায়ার প্লেসের সামনের সাজানো জায়গার চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়ালো।

    এটা কি?

    ভয়ানক একটি পরিচিত কণ্ঠের আওয়াজ শুনতে পেল হ্যারি। লুসিয়াস ম্যালফয়ের কণ্ঠ হ্যারির কানে ভেসে এল। হ্যারি প্রচণ্ড অস্থির হয়ে উঠল। সে জানে এখন কোনো উপায় নেই। তার ভয় বেড়ে যাওয়ার কারণে ভন্ডেমর্টের ছবিটি নিজের ভেতর থেকে সরিয়ে রাখা সহজ হল। যদিও স্কারটি এখনো জ্বালাপোড়া করছে।

    ওরা বলছে ওরা হ্যারি পটারকে ধরে এনেছে, নারসিসা ঠাণ্ডা গলায় বলল। ড্র্যাকো, এদিকে আসো।

    হ্যারি সরাসরি ড্র্যাকোর দিকে তাকানোর সাহস পেল না। কিন্তু তাকে চোখের কোণ দিয়ে দেখল। শরীরটি হ্যারির চেয়ে একটু লম্বা। একটি হাতলওয়ালা চেয়ার থেকে উঠে দাঁড়াচ্ছে। তার মুখটি চোখা, সাদা-সোনালী চুলের নিচে অনেকাংশেই ঢাকা।

    গ্রেব্যাক জোর করে বন্দীদের একটু ঘুরিয়ে দিল যাতে হ্যারির মুখটা একেবারে সরাসরি ঝাড়ুবাতির সোজা আলোতে থাকে।

    ওয়েল বয়? কর্কশ স্বরে গ্রেব্যাক বলল।

    হ্যারির মুখটি ফায়ার প্লেসের একটি আয়নার দিকে ফেরানো। একটি উজ্জল জিনিস আয়নাটির চারদিকে ঘোরানো। চোখের কোণা দিয়ে হ্যারি ওর নিজের চেহারাটা এই প্রথম গ্রিমোল্ড প্লেস থেকে আসবার পর দেখতে পেল।

    মুখটি বিশাল। গোলাপী এবং উজ্জ্বল। সবকিছু বদলে গিয়েছে হারমিয়নের প্রচেষ্টায়। হ্যারির কালো চুলগুলো নেমে এসেছে ঘাড় পর্যন্ত। এবং তার চোয়ালের চারপাশে কালো দাগ। হ্যারির জানা ছিল না যে এটা সেই দাঁড়িয়ে আছে, সে হয়তো ভাবতে পারতো যে তার চশমা পরা এটা কে দাঁড়ানো। সে সিদ্ধান্ত নিল যে কোনো কথা বলবে না। কারণ তার গলার কণ্ঠ তাকে ধরিয়ে দেবে। হ্যারি চেষ্টা করে গেল ড্র্যাকোর সঙ্গে সরাসরি যাতে চোখে চোখ না পড়ে।

    ওয়েল ড্র্যাকো? লুসিয়াস ম্যালফয় বলল। তার কণ্ঠে আগ্রহ ফুটে উঠল। এটাই কি, এটাই কি হ্যারি পটার?

    আমি ঠিক …আমি ঠিক বুঝতে পারছি না, ব্র্যাকো বলল। সে গ্রেব্যাকের কাছ থেকে দূরে সরে থাকছে। এবং তাকে দেখে মনে হচ্ছে হ্যারির দিকে তাকাতে ভয় পাচ্ছে। হ্যারি তার দিকে তাকাচ্ছে।

    কিন্তু ভাল করে তাকে দেখ, কাছ থেকে দেখ!

    হ্যারি লুসিয়াস ম্যালফয়কে এতটা উত্তেজিত কখনো দেখেনি বা শোনেনি।

    ড্র্যাকো, আমরা যদি হ্যারি পটারকে ডার্ক লর্ডের কাছে হস্তান্তর করি, তাহলে সবকিছু ক্ষমা-

    মি, ম্যালফয়, আমি আশা করি আমরা ভুলে যাবো না যে কে আসলে হ্যারি পটারকে গ্রেফতার করেছে? গ্রেব্যাক ভয়ের সঙ্গে বলল।

    অবশ্যই না, অবশ্যই না! অধৈর্য হয়ে লুসিয়াস বলল। সে হ্যারির দিকে নিজে এগিয়ে এলো। এত কাছে এলো যে হ্যারি স্কীত চোখেও দেখতে পেল তার বিবর্ণ ও দুর্বল মুখটি। তার মুখে একটি ঢিলে মুখোশ। হ্যারির কাছে মনে হল যেন সে একটি খাঁচার দুটো রডের মাঝখান দিয়ে তাকিয়ে আছে।

    তুমি ওকে কী করেছ, লুসিয়াস গ্রেব্যাককে জিজ্ঞেস করল।

    সে কীভাবে এই অঞ্চলে এলো?

    সেটা আমরা করিনি..

    তাকে মনে হচ্ছে আঠালোভাবে স্ফীত হয়েছে, লুসিয়াস বলল।

    তার ধুসর চোখ দিয়ে সে তীব্রভাবে হ্যারির কপালের দিকে দেখল।

    সে ফিসফিস করে বলল, কপালে কিছু একটা দেখা যাচ্ছে। হতে পারে এটি একটি স্কার….ড্র্যাকো, ঠিকমত দেখ! তোমার কি মনে হয়?

    হ্যারি কাছে থেকে ড্র্যাকোর মুখটি দেখল। এখন বাপ বেটা পাশাপাশি দাঁড়ানো। ওরা সত্যিই অস্বাভাবিক রকমের একরকম। তফাত শুধুমাত্র ওর বাবা দারুণ উত্তেজিত আর ড্র্যাকো অমনোযোগী, এমনকি ভয়ে ভয়ে আছে।

    আমি জানি না, সে হেঁটে তার মা যেখানে দাঁড়িয়ে সব দেখছে সেখানে চলে গেল।

    নার্সিসা ঠাণ্ডা এবং পরিস্কার গলায় তার স্বামীকে বলল, সবচেয়ে ভালো হয় যে আমরা এটাকে নিয়ে বরং নিশ্চিন্ত হই। পুরোপুরি ধরে নেই যে এটাই হ্যারি পটার। আমরা ডার্ক লর্ডকে সামন করি…ওরা বলছে যখন এটাই সে, সে হেঁটে ব্ল্যাকহর্ন যাদুদণ্ডটির কাছে গেল, কিন্তু অলিভ্যানডারের বর্ণনার সঙ্গে ঠিক মিলছে না। যদি আমরা ভুল করি, যদি আমরা তাকে খামোখা ডেকে আনি, তাহলে ভুলে যেও না তিনি রাগলে কি করেন এবং দোহবের বেলায় কী করেছিলেন।

    তাহলে মাডব্লাডটির ব্যাপারে কী হবে? গ্রেব্যাক বলল। হ্যারি প্রায় পড়েই গিয়েছিল যখন স্ন্যাচাররা ওদেরকে ঘুরিয়ে ফেলল। যাতে আলোটা হারমিয়নের মুখের উপর পড়ে।

    দাঁড়াও, নার্সিসা বলল। হা…হা..সেই তো ছিল মেডাম আকিনসের বর্ণনায়। আমি ওর ছবি দ্য প্রফেটে দেখেছি! তেমনই তো দেখা যাচ্ছে। এটাই সেই গ্র্যানজারদের মেয়েটি না?

    হয়তো বা….হতে পারে…

    তাহলে এটাই সেই উইসলি ছেলেটি! লুসিয়াস চিৎকার করে বলল। ঘুরে রনের মুখোমুখি গেল। এরাই ওরা, পটারের বন্ধুরা? ওর দিকে দ্যাখো, এটাই আর্থার উইসলির ছেলে-কী নাম যেন-

    হ্যাঁ, ড্র্যাকো বলল। সে বন্দীদের দিকে পেছন ফিরে আছে। এটা হতে পারে।

    হ্যারির পেছনে ড্রইং রুমের দরোজাটি খুলে গেল। একজন মেয়েলোক প্রবেশ করেছে। হ্যারি তার গলা শুনে আরো ভীত হয়ে পড়ল।

    কি হয়েছে? কি ব্যাপার সিশি?

    বেলাট্রিক্স লেস্ট্র্যাঙ ধীরে ধীরে হেঁটে বন্দীদের কাছে এলো। এবং হ্যারির পাশে এসে দাঁড়ালো। হারমিয়নের দিকে বিস্ফারিত চোখে তাকালো।

    অবশ্যই, সে শান্ত কণ্ঠে বলল। এটি সেই মাডব্লাড মেয়ে? সে হল এ্যাঞ্জার?

    হ্যাঁ, হ্যাঁ, সে গ্র্যাঞ্জার! রুসিয়াস উচ্চস্বরে বলল। এবং তারপাশে, আমরা চিন্তা করছি এটি হ্যারি পটার! পটার এবং তার বন্ধুরা, শেষ পর্যন্ত ধরা পড়েছে!

    পটার! তীব্র কণ্ঠে বেলাট্রিক্স বলল। সে একটু দূরে সরে গেল। তোমরা কী নিশ্চিত? ওয়েল, তাহলে ডার্ক লর্ডকে এক্ষণি খবর দিতে হবে!

    সে তার বা হাতের ভিটি সরিয়ে ফেলল। তার হাতের মাংশে একটি কালো পোড়া দাগ। হ্যারি জানে এটি সে এখন ছুতে যাচ্ছে, তার প্রিয় মাস্টারকে ডেকে আনার জন্য

    আমি তাকে প্রায় ডেকে আনতে গিয়েছিলাম, লুসিয়াস বলল। তার হাত বেলাট্রিক্সের হাতের কাছে। ওই কালো দাগটি ছোঁয়া থেকে বেলাট্রিক্সকে বিরত করল। আমি তাকে সামন করবো বেলা, পটারকে আনা হয়েছে আমার বাড়িতে, সে কারণেই কাজটি আমার

    তোমার কাজ!, বেলা নাক সিটকে বলল। তার হাতটি ছাড়িয়ে নিতে চাইল।

    তুমি তোমার দায়িত্ব হারিয়েছ যখন তুমি তোমার নিজের যাদুদণ্ডটি হারিয়েছ রুসিয়াস! তোমার কত বড় সাহস! আমার গা থেকে তোমার হাতটি সরাও!।

    এ ব্যাপারে তোমার কিছু করার নেই, তুমি ওকে ধরোনি-

    গ্রেব্যাক বাধা দিয়ে মাঝখান থেকে বলল, আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, হ্যারি ধরা পড়েছে আমাদের হাতে, আমরা ওকে ধরেছি। এবং আমরাই সোনার দাবীদার।

    সোনা! বেলাট্রিক্স হাসল। সে এখনো তার দেবরকে ছিটকে দূরে সরিয়ে দিতে চেষ্টা করছে। সে তার খালি হাতটা পকেটে পুরল যাদুদণ্ড বের করার জন্য। তুই তোর সোনা নে গিয়ে মরা খেকো পশু, আমি সোনা টোনা বুঝি না! আমি শুধু তার সম্মান-তার-

    সে নড়াচড়া বন্ধ করল। কারো চোখ দিয়ে সে কিছু একটার দিকে স্থির হল। হ্যারি দেখতে পাচ্ছে না। সে আনন্দের সঙ্গে নিজের প্রচেষ্টা ত্যাগ করল। লুসিয়াস তার হাত নিজের কাছ থেকে দূরে ঠেলে দিল এবং নিজের জামার হাতা ছিঁড়ে ফেলল

    থামো! বেলাট্রিক্স বলল। ও জায়গায় স্পর্শ করো না, ডার্ক লর্ড এখন চলে আসলে আমরা সবাই খতম হয়ে যাবো!

    লুসিয়াস স্থির হয়ে গেল। তার নিজের তর্জনী নিজের হাতের উপর দিয়ে ঘোরালো। বেলাট্রিক্স বড় করে পা ফেলে হ্যারি যেটুকু জায়গা দেখতে পাচ্ছে তার থেকে আড়াল হয়ে গেল।

    ওটা কি? সে শুনতে পেল বেলাট্রিক্সের কণ্ঠ।

    তলোয়ার, চোখের আড়ালে থাকা একজন স্ন্যাচার বলল।

    ওটি আমার কাছে দাও!

    এটা আপনার না মিসেস, এটা আমার। আমি মনে করি এটা আমি খুঁজে পেয়েছি!

    ধাম করে একটি আওয়াজ হল। লাল আলো জ্বলে উঠল। হ্যারি বুঝতে পারল স্ন্যাচারটিকে স্টান করা হয়েছে। স্ন্যাচারের সঙ্গীরা সব গুমগুম করে উঠল। স্ক্যাবিওর টেনে তার যাদুদণ্ড বের করল।

    তুমি কী মনে করেছ মহিলা!

    স্টুপিফাই! বেলাট্রিক্স বলল। স্টুপিফাই!

    যদিও ওরা তার বিরুদ্ধে চারজন, কিন্তু তার জন্য এটা কোনো কষ্টকর কিছু হল না। হ্যারি জানে সে হল একজন মহিলা যাদুকর। তার আছে অসাধারণ দক্ষতা। ওরা যেখানে ছিল সেখানেই পড়ে গেল, শুধু গ্রেব্যাক ছাড়া। গ্রেব্যাককে। উবু করে ফেলা হয়েছে। তার হাত দুটো দুপাশে ছড়ানো। চোখের এক কোণ দিয়ে হ্যারি আবার বেলাট্রিক্সকে দেখতে পেল। সে গ্রেব্যাককে ঠেলে ধরে রেখেছে। তার হাতে তলোয়ারটি শক্ত করে ধরা। মুখটি চিকচিক করছে।

    সে গ্রেব্যাকের খসে পড়া মুঠের ভেতর থেকে যাদুদণ্ডটি বের করে নিতে নিতে ফিসফিস করে বলল, এই তলোয়ার কোথায় পেয়েছ?

    তোমার সাহস কত! সে বলল। সে শুধু মুখটিই নাড়াতে পারছে। তাকে বাধ্য করা হয়েছে বেলাট্রিক্সের দিকে চোখ বাকিয়ে তাকাতে। সে তার চোখা দাঁত বের করে বলল, আমাকে ছেড়ে দাও বলছি!

    তুমি এটা কোথায় পেলে? সে আবার প্রশ্ন করল। তার মুখের উপর যাদুদণ্ড ধরে বলল। স্নেইপ এটি আমার গ্রিনর্গেটস-এর ভল্টে পাঠিয়েছিল।

    এটা ওদের তাবুর ভেতরে ছিল, গর্জন করে গ্রেব্যাক বলল। ছেড়ে দাও আমাকে ছেড়ে দাও বলছি!

    বেলাট্রিক্স তার যাদুদণ্ডটি সরিয়ে নিল। এবং ওয়্যারও লাফ দিয়ে উঠে দাঁড়ালো। কিন্তু বেলাট্রিক্সের ব্যাপারে সতর্ক হয়ে উঠল। সে ঘুরে হাতলওয়ালা চেয়ারের পেছনে চলে গেল। তার বিশ্রী বাকানো নখগুলো দিয়ে চেয়ারের পেছনটা চেপে ধরল।

    ড্র্যাকো, এই আবর্জনাগুলোকে বাইরে ছুঁড়ে ফেল, অচেতন স্ন্যাচারগুলোকে দেখিয়ে বেলাট্রিক্স বলল। তুমি যদি এগুলোকে ফিনিশ করতে না পারো তাহলে আমার জন্য উঠানে ফেলে রাখো।

    ড্র্যাকোর সঙ্গে তুমি এভাবে কথা বলো না- নার্সিসা ক্ষুব্ধ হয়ে বলল। কিন্তু বেলাট্রিক্স ধমকে উঠল, চুপ করো! পরিস্থিতি খুবই ভয়াবহ, যা তুমি কল্পনা করতে পারছ নার্সিসা! আমরা মারাত্মক ঝামেলায় পড়েছি।

    সে উঠে দাঁড়ালো। ঘনঘন নিঃশ্বাস নিতে থাকল। তলোয়ারটির দিকে তাকালো। তলোয়ারের বাটটি ভাল করে পরীক্ষা করল। তারপর সে নিরব হয়ে থাকা বন্দীদের দিকে তাকালো।

    যদি এটি সত্যিই পটার হয়ে থাকে, তাকে অবশ্যই আঘাত করা যাবে না, সে বিড়বিড় করে বলল। অন্যের চেয়ে হয়তো নিকেই বেশি করে কথাটি বলল। ডার্ক লর্ড নিজে পটারের বিষয়টি দেখতে চান…কিন্তু যদি তিনি বুঝতে পারেন…অবশ্যই …অবশ্যই আমি জানি…

    সে তার বোনের দিকে ফিরল।

    বন্দীদেরকে অবশ্যই সেলারের ভেতর রাখতে হবে। এর মধ্যে আমি ভেবে দেখব কী করা যায়।

    এটি আমার বাড়ি বেলা, তুমি, এখানে আদেশ দিতে পারো না।

    যা বলছি করো! তুমি ভাবতে পারছ না আমরা কতটা বিপদে আছি! বেলাট্রিক্স চিৎকার করে বলল। তাকে ভয় পাওয়া এবং উন্মাদের মত মনে হল।

    তার যাদুদণ্ড থেকে একটি চিকন আগুনের রশ্মি বের হয়ে কার্পেটের খানিক জায়গা পুড়িয়ে দিল।

    নার্সিসা এক মিনিট দ্বিধা করল। তারপর ওয়্যারও এর দিকে ফিরল।

    এই বন্দীদেরকে নিচে সেলারের ভেতর নিয়ে যাও, প্লেব্যাক!

    দাঁড়াও! বেলাট্রিক্স বলল। সবাইকে… তবে মাডব্লাডটি বাদে..

    গ্রেব্যাক যেন একটি স্বস্তি বোধ করল।

    না! রন চিৎকার করে বলল। তোমরা আমাকে রাখো, আমাকে!

    বেলাট্রিক্স তার মুখের উপর প্রচণ্ড আঘাত করল। সেই শব্দ চারদিকে প্রতিধ্বনিত হল।

    সে যদি প্রশ্ন করার সময় মারা যায়, তারপর তোমাকে নেব! বেলাট্রিক্স বলল। আমার হিসাব মতে মাডব্লাডের পর হল ব্লাড ট্রেইটর। এগুলোকে নিচে নিয়ে যাও, গ্রেব্যাক। নিশ্চিত করো যে ঠিকঠাক থাকবে। কিন্তু ওদের কিছুই করা যাবে ন এখন।

    সে গ্রেব্যাকের যাদুদণ্ডটি ফিরিয়ে দিল। তারপর একটি ছোট সিলভারের চাকু গাউনের ভেতর থেকে বের করে আনল। সে হারমিয়নকে অন্য বন্দীদের থেকে আলাদা করল। তারপর তার চুল ধরে সরিয়ে নিল রুমের মাঝখানে। আর অন্যদেরকে জোর করে ঠেলে গ্রেব্যাক অন্য একটি দরোজা দিয়ে নিয়ে গেল। একটি অন্ধকার কালো প্যাসেজ ধরে ওদের এগিয়ে নিল। সে তার সামনে যাদুদণ্ডটি ধরে আছে। একটি অদৃশ্য শক্তি অন্ধকারের ভেতর কাজ করছে।

    কী মনে করো, তার কাজ শেষ হলে সে মেয়েটিকে একটু আমার কাছে দেবে? গ্রেব্যাক আনন্দের সঙ্গে সুর করে বলল। সে ওদেরকে তাড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে করিডোরের ভেতর দিয়ে। আমি আগেই বলেছি আমি একটি বা দুটি কামড় দেব, তুমি কী বলো জিনজার?

    হ্যারি বুঝতে পারল রন ঝাঁকি দিয়ে উঠছে। ওদেরকে একটি সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে নেয়া হল। এখনো ওরা এত শক্ত করে বাধা যে, যে কোনো সময় সিঁড়ি থেকে স্লিপ করে পড়ে যেতে পারে। সিঁড়ির শেষে নিচে একটি ভারি দরোজা। গ্রেব্যাক সেটি খুলল তারি যাদুদণ্ড দিয়ে ট্যাপ করে। তারপর ধাক্কা দিয়ে ওদের স্যাঁতস্যাঁতে রুমটির ভেতর ঢোকালো। এবং তাদেরকে পুরোপুরি অন্ধকারে রেখে চলে গেল। সেলারের দরোজাটি দাম করে আটকে যাওয়ার আগেই ওরা হার মিয়নের ভয়ঙ্কর চিৎকার শুনতে পেল।

    হা-র-মি-য়-ন! রন চিৎকার করে উঠল। সে বাধা অবস্থায় গা হাত পা ছেড়ে দিল। হ্যারিও সঙ্গে ঢলে পড়তে থাকল। হা-র-মি-য়ন।

    শান্ত হও! হ্যারি বলল। চুপ করো! আমাদের পথ বের করতে হবে

    হা-র-মি-য়-ন! হার-মি-য়-ন!

    আমাদের বুদ্ধি আটতে হবে রন! আমাদের আগে এই দড়ি খুলতে হবে।

    হ্যারি? অন্ধকারের ভেতর একটি ফিসফিস গলা শুনতে পেল। রন, এখানে তোমরা?

    রন চিৎকার থামিয়ে দিল। কাছেই ওরা শব্দ শুনতে পেল। তখনই হ্যারি দেখতে পেল একটি ছায়া ওদের দিকে আসছে।

    হ্যারি? রন?

    লুনা?

    হ্যাঁ, আমি! ওহ না! আমি আশা করিনি তোমরা ধরা পড়বে!

    লুনা তুমি আমাদের এই দড়ি থেকে ছোটার জন্য সাহায্য করতে পারো? হ্যারি বলল।

    ওহ্, হ্যাঁ, আশা করি পারব…একটি পুরোনো নেইল আছে। আমরা কিছু ভাঙার জন্য …একটু দাঁড়াও…।

    উপর থেকে আবার হারমিয়নের চিল্কারের শব্দ শোনা গেল। ওরা শুনতে পেল বৈলাট্রিক্সও চিৎকার করছে। কিন্তু তার কথাগুলো শোনা গেল না রনের চিল্কারের জন্য হা-র-মি-য়-ন! হা-র-মি-য়-ন!

    মিস্টার অলিভ্যান্ডার? হ্যারি শুনতে পেল লুনা বলছে। মি. অলিভ্যানডার, আপনার কাছে নেইলটি আছে? যদি একটু সরে যান… আমার ধারণা সেটি আছে ওই পানির জগের কাছে…।

    সে কয়েক সেকেণ্ডের ভেতর ফিরে এল।

    তোমাদের স্থির হয়ে থাকতে হবে, সে বলল।

    হ্যারি অনুভব করল সে ভয়ানক শক্ত রশি কাটতে চেষ্টা করছে। ওরা ওপর থেকে বেলাট্রিক্সের গলার আওয়াজ শুনতে পেল।

    আমি আবার তোমাকে জিজ্ঞেস করছি! এই তলোয়ারটি কোথায় পেয়েছ? কোথায়?

    আমরা এটি পেয়েছি… এটি পেয়েছি… প্লিজ! হারমিয়ন আবার চিৎকার করল। রন আবার ঝাড়া দিল, চোখা নেইলটি হ্যারির হাতে এসে লাগল।

    রন, প্লিজ স্থির থাকো! লুনা ফিসফিস করে বলল। আমি দেখতে পাচ্ছি না কি করছি

    আমার পকেটে! রন বলল। আমার পকেটে একটি ডেলুমিনেটর আছে,প্রচুর আলো দেয়!

    কয়েক সেকেন্ড পর একটি ক্লিক শব্দ করে ডেলুমিনেটর তাবু থেকে শুষে নেয়া আলো, সেলারের ভেতর কোনো স্থান না থাকায় ডেলুমিনেটর থেকে লাফিয়ে গিয়ে ঝুলে রইল ছাদের সঙ্গে, যেন একটি ছোট সূর্য। হ্যারি লুনাকে দেখল সব চোখ তার সাদা মুখটির উপর। নির্জিব পড়ে আছেন যাদুদণ্ডপ্রস্তুতকারী অলিভ্যান্ডার। হ্যারি বাঁকা হয়ে মেঝের এক পাশে ঘুরে সঙ্গের বন্দীদের দেখল। ডিন এবং গ্ৰিফুক নামের গবলিন। প্রায় অজ্ঞান হয়ে আছে। দড়ির কারণে মানুষগুলোর সঙ্গে সে দাঁড়িয়ে আছে।

    ওহ, এখন অনেক সহজ হল,ধন্যবাদ রন, লুনা বলল এবং সে আবার দড়িটির নট খুটিয়ে খুলতে চেষ্টা করতে থাকল। হ্যালো ডিন!

    ওরা আবার ওপর থেকে বেলাট্রিক্সের গলার আওয়াজ পেল।

    তুই মিথ্যা কথা বলছিস! নোংরা মাডব্লাড! আমি সেটা জানি! তুই গ্রিনগোটে আমার ভল্টে ছিলি, বল! সত্যি করে বল! সত্যি কথা বল!

    আবার চিৎকারের শব্দ শোনা গেল।

    হারমিয়ন!

    তোরা আর কি নিয়েছিস? অর কি পেয়েছিস? সত্যি করে বল, না হলে এই চাকু ঢুকিয়ে তোকে শেষ করে দেব।

    এই তো!

    হ্যারি অনুভব করল দড়িটি খুলে গেছে। সে কব্জি ঘষল। দেখল রন ঘর ভরে দৌড়াচ্ছে। উপরের সেলারে দিকে পথ খুঁজছে। কোনো গোপন দরজা আছে কি

    তা খুজতে চেষ্টা করছে। ডিনের মুখটি এখনো ক্ষতবিক্ষত এবং রক্তাক্ত। লুনাকে বলল ধন্যবাদ! সে দাঁড়িয়ে থাকল। থরথর করে কাঁপছে। পনিক ঢলে মেঝেতে পড়ে গেছে। তাকে ভীষণ দুর্বল মনে হচ্ছে। তার মুখের উপর অনেক দাগ দেখা যাচ্ছে।

    রন এখন কোনো যাদুদণ্ড ছাড়াই ডিসপারেট করার চেষ্টা করছে।

    কোনো উপায় নেই রন, ওর বৃথা চেষ্টা দেখে লুনা বলল।

    সেলারটি পুরোপুরি পলায়ন প্রতিরোধক। আমি প্রথমে চেষ্টা করেছি। মি, অলিভ্যানডার বহুদিন ধরে এখানে আছেন। তিনি সব চেষ্টাই করে দেখেছেন।

    হারমিয়ন, আবার চিৎকার করে উঠল : হ্যারির কাছে সে শব্দ শরীরে যন্ত্রণার মত বিধতে থাকল। স্কারটিতে জ্বালাপোড়া করার কারণে সে প্রায় অজ্ঞান হয়ে পড়ছে। সেও সেলারের চারদিকে দৌড়াতে থাকল। সে জানে কোনো উপায় নেই তারপরও সে দৌড়াতে থাকল।

    তোরা আর কি পেয়েছিস বল? আমার কথার উত্তর দে! ক্রুসিও!

    হারমিয়নের চিৎকারের শব্দ প্রতিধ্বনিত হয়ে সেলারের উপর এসে বাড়ি খেল। রন কাঁদতে কাঁদতে দেয়াল আঁকড়ে ধরতে চেষ্টা করছে। হ্যারি প্রচণ্ড হতাশা থেকে হ্যাগ্রিডের দেয়া পোচটি গলা থেকে নামিয়ে ভেতরে হাতড়াতে শুরু করল। সে ভেতর থেকে ডাম্বলডোরের সিঁচটি বের করল এবং ঝাঁকি দিল। আশা করল কিছু একটা ঘটে কি না–কিছুই ঘটল না। সে ভাংগা ফিনিক্স যাদুদণ্ডটি হাতে নিল। কিন্তু সেটি একেবারে নিস্তেজ। একটি ভাঙা আয়নার টুকরো মেঝেতে পড়ে ডেলুমিনেটরের আলোতে চিকচিক করে উঠল। সে উজ্বল নীল জ্বোতি দেখতে পেল।

    ডাম্বলডোরের চোখ আয়নাটির ভেতর থেকে তার দিকে তাকালো।

    হেল্প আস! সে চিৎকার করে বল। আমরা ম্যালফয় ম্যানরের সেলারে আটকা পড়েছি। হেল্প আস!

    ডাম্বলডোরের চোখ পিটপিট করল। তারপর উধাও হয়ে গেল।

    হ্যারি নিশ্চিত হলো না, আসলে তাকে দেখেছে কিনা। সে ভাঙা আয়নাটিকে চারদিকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখল। কিন্তু কিছুই দেখতে পেল না। কিন্তু হারমিয়নের চিৎকার আগের তুলনায় বহুগুন বেড়ে গেছে। রন আবারো চিৎকার করে ডাকতে থাকল, হামিয়ন!, হারমিয়ন!

    তোরা আমার ভল্টে প্রবেশ করেছিলি কীভাবে? বেলাট্রিক্স চিৎকার করে বলছে। ওই সেলারে আটকে রাখা নোংরা গবলিন তোদের সাহায্য করেছিল?

    আমরা আজ রাতেই তাকে দেখেছি! হারমিয়ন কাঁদতে কাঁদতে বলল। আমরা কখনোই তোমার ভন্টে প্রবেশ করিনি…এটা আসল তলোয়ার না! এটি একটি কপি! জাস্ট একটা কপি!

    একটি কপি? বেলাট্রিক্স চিৎকার করে বলল। ওহ ভালো গল্প!

    সেটা আমরা সহজেই খতিয়ে দেখতে পারি! লুসিয়াস বলল। ড্র্যাকো! গবলিনটাকে নিয়ে এস! সেটাই আমাদের বলতে পারবে এটা আসল কি না!

    হ্যারি সেলারের অন্য প্রান্তে চলে এল যেখানে গ্রিপহুক মেঝের সঙ্গে মিশে আছে।

    গ্রিপন্থক! সে গবলিনের কানের কাছে বলল। তুমি অবশ্যই ওদের বলবে যে তলোয়ারটি একটি নকল তলোয়ার! ওদের কোনোক্রমেই জানানো যাবে না যে এটি আসল তলোয়ার গ্রিপহুক! প্লিজ-

    সে শুনতে পেল কেউ একজন সেলারের দিকে নেমে আসছে। পরমুহূর্তেই ড্র্যাকো বাইরে থেকে আওয়াজ করল।

    ঘুরে দাঁড়াও! পেছনের দেয়ালের সঙ্গে ঠেসে দাঁড়িয়ে থাকো! কোনো চাতুরি করতে চেষ্টা করবে না, করলে সঙ্গে সঙ্গে মেরে ফেলব।

    ওরা যেভাবে ওদেরকে বেধে রেখেছিল সেভাবে দাঁড়ালো। দরোজা খোলার মুহূর্তেই রন ক্লিক করে ডেলুমিনেটরটির আলো বন্ধ করে নিজের পকেটে রাখল।

    সেলার আবার অন্ধকারে পরিপূর্ণ হয়ে গেল। দরোজা খুলে গেল। ম্যালফয় ভেতরে প্রবেশ করল। তার হাতের সামনের দিকে যাদুদণ্ড ধরা। দৃঢ় কিন্তু নির্লিপ্ত। সে গবলিনটিকে তুলে নিল এবং নিজের সঙ্গে টেনে নিয়ে গেল। দরোজা দড়াম করে বন্ধ হয়ে গেল। এবং একই মুহূর্তে বিকট একটি শব্দ হল এবং সেলারের ভেতর প্রতিধ্বনি তুলল।

    রন ডেলুমিনেটরটি চাপ দিল। পকেট থেকে তিনটি আলোর বল লাফিয়ে শন্যে জ্বলে রইল। ওরা দেখতে পেল সেই ঘরের ভূত ডোবি ওদের মধ্যে অ্যাপারেট করেছে!

    ডোব!

    হ্যারি রনের হাতের উপর আঘাত করল চুপ করার জন্য। রন ভুল করার জন্য আতঙ্কিত হয়ে গেল। সেলারে ওদের মাথার উপর দিয়ে পায়ের শব্দ শোনা গেল। ড্র্যাকো গ্রিপহুককে নিয়ে বেলাট্রিক্সের কাছে যাচ্ছে।

    ডোবির বিশাল, টেনিস বল সাইজের চোখ বিস্ফারিত হয়ে আছে। তার পা থেকে মাথা পর্যন্ত কাঁপছে। সে তার পুরোনো মাস্টারের কাছে ফিরে এসেছে। এবং বোঝা যাচ্ছে যে সে ভয় পেয়েছে।

    হ্যারি পটার! সে তীব্র স্বরে বলল। ডোবি তোমাকে উদ্ধার করতে এসেছে!

    কিন্তু, তুমি–কীভাবে?

    হ্যারির গলায় শব্দ ছাপিয়ে গেল একটি চিৎকারের শব্দে; হারমিয়নকে আবার নির্যাতন করা হচ্ছে। সে প্রয়োজনের দিকে নজর দিল।

    তুমি এই সেলার থেকে ডিসাপ্যারেট করতে পারবে? হ্যারি ডোবিকে জিজ্ঞেস করল। ডোবি মাথা নাড়ল। তার কানদুটি নড়ল।

    আর তুমি সঙ্গে মানুষদের নিতে পারবে?

    ডোবি আবার মাথা নাড়ল।

    ঠিকাছে ডোবি! আমি চাই তুমি লুনা, ডিন এবং মি. অলিভ্যান্ডারকে নিয়ে ডিসাপ্যারেট করো! তাদেরকে নিয়ে যাও–নিয়ে যাও

    বিল এবং ফ্লয়ার, রন বলল। টিনওয়ার্থ এর পাশে শেল কটেজে ওরা আছে।

    তৃতীয় বারেরমত ঘরের ভুত মাথা নাড়ল।

    তারপর ফিরে আসবে! হ্যারি বলল। কাজটি করতে পারবে ডোবি?

    অবশ্যই হ্যারি পটার! ফিসফিস করে ছোট ঘরের ভূতটি বলল। সে দ্রুত অলিভ্যানডারের কাছে গেল। তিনি প্রায় অচেতন হয়ে আছেন। সে যাদুদণ্ড প্রস্তুতকারীর একটি হাত তার নিজ হাতে তুলে নিল। তারপর লুনা এবং ডিনের হাত ধরল। তাদের কেউ নড়তে চাচ্ছে না।

    হ্যারি! আমরা তোমাকে সাহায্য করতে চাই! লুনা বলল।

    আমরা তোমাকে এখানে রেখে যেতে পারি না, ডিন বলল।

    যাও! তারাতাড়ি! আমাদের দেখা হবে বিল এবং ফ্লয়ারের ওখানে!

    হ্যারি কথা বলার সময় তার স্কারটি আগের চেয়ে অনেক বেশি জ্বালা করতে থাকল। সে কয়েক মুহূর্ত নিচের দিকে তাকিয়ে থাকল। যাদুদণ্ড প্রস্তুতকারকের দিকে নয় কিন্তু একটি পাতলা শরীরের বৃদ্ধ লোকের দিকে তাকিয়ে লোকটি হাসছে..

    আমাকে হত্যা করো ভোল্ডেমর্ট, আমি বরং মৃত্যুকে স্বাগত জানাই। কিন্তু আমার মৃত্যু তুমি যা চাও তোমাকে তা দিতে পারবে না…অনেক কিছুই তুমি বুঝতে পারো না…

    হ্যারি ভল্টেমর্টের ক্রোধ অনুভব করতে পারল। কিন্তু হারমিয়ন আবার চিৎকার করে উঠলেই সে দৃশ্য বন্ধ হয়ে গেল। সে সেলারের ভেতর এই ভয়ানক পরিবেশে সম্বিত ফিরে পেল।

    যাও! হ্যারি লুনা এবং ডিনের উদ্দেশে বলল। যাও! আমরা তোমাদের পেছনে আসব! যাও!

    ওরা ঘরের ভূতটির বেরিয়ে থাকা আঙুলগুলো ধরল। আরেকটি ক্র্যাক করে শব্দ হল। ডোবি, লুনা, ডিন এবং অলিভ্যানডার অদৃশ্য হয়ে গেল।

    কিসের শব্দ? লুসিয়াস ম্যালফয় ওদের সেলারের মাথার উপর থেকে বলে উঠল। শব্দ শুনেছ? সেলারে ওটা কীসের আওয়াজ?

    হ্যারি এবং রন দুজনের দিকে দুজন তাকালো।

    ড্র্যাকো না–ভর্মটেইলকে ডাকো! ভর্মটেইলকে দেখতে পাঠাও।

    মাথার উপর দিয়ে পায়ের আওয়াজ পাওয়া গেল। তারপর সব নিশ্ৰুপ। হ্যারি জানে ড্রইং রুমের লোকেরা সেলার আরো শব্দ হয় কি না সে জন্য অপেক্ষা করছে।

    আমরা ওকে ধরতে চেষ্টা করবো, সে ফিসফিস করে রনকে বলল। এ ছাড়া ওদের আর কোনো উপায় নেই। যদি ঘরে ঢুকে দেখে যে অন্য আরো তিনজন নেই, তাহলে সব শেষ হয়ে যাবে। লাইটটি জ্বালিয়ে রাখো, হ্যারি বলল। ওরা যখন শুনল যে কেউ একজন কাছাকাছি চলে এসেছে তখন ওরা দরোজার দুপাশে দেয়ালের সঙ্গে লেগে থাকল।

    স্থির থাকো, ভর্মটেইল বলল। দরোজা থেকে দূরে থাকো, আমি ভেতরে ঢুকছি।

    দরোজাটি হা করে খুলে গেল। সেকেন্ডের কয়েকভাগের একভাগ সময় ভর্মটেইল দৃশ্যত খালি রুমটির দিকে তাকালো। সিলিং এর কাছাকাছি শুন্যে তিনটি চোখ ধাঁধানো আলো জ্বলছে। হ্যারি এবং রন দুপাশ থেকে তার উপর ঝাঁপিয়ে পড়ল। রন ভর্মটেইলের যাদুদণ্ড ধরা হাতটি মুহূর্তের ভেতর উপরের দিকে ঠেলে দিল। একই সঙ্গে হ্যারি ভর্মটেইলের মুখের ভেতর হাত ভরে দিল। যাতে সে শব্দ করতে না পারে। নিরবে ওরা ধস্তাধস্তি করতে থাকল। ভর্মটেইলের যাদুদণ্ড থেকে আলো ঝলকে বের হল। তার হাতটি হ্যারির গলার কাছাকাছি।

    কি ব্যাপার ভর্মটেইল? লুসিয়াস ম্যালফয় উপর থেকে বলল।

    কিছুই না! রন যতটা পারে ভর্মটেইলের মত গলায় শব্দ করে বলল। সব কিছু ঠিক আছে।

    হ্যারি দম নিতে পারছে না।

    হ্যারি দম বন্ধ করে বলল, তোমরা আমাকে মেরে ফেলতে চাচ্ছ? সিলভারের নখগুলোর উপর চাপ দিল। আমি তোমার জীবন বাঁচিয়েছিলাম, তুমি তার দাম দিতে চাচ্ছ?

    সিলভার নখগুলো শিথিল হয়ে গেল। হ্যারি এত দ্রুত কাজ দেবে আশা করেনি। সে নিজের হাতটি সরিয়ে নিল। অন্য একটি হাত ভর্মটেইলের মুখের উপর রাখল। সে দেখল ভর্মটেইলের চোখ দুটি বিস্ময়ে ভরে আছে। হ্যারি ওর যাদুদণ্ড ধরা হাতটি বাকা করে দিল। সে প্রতিহত করতে চেষ্টা করল কিন্তু দুর্বল হওয়ায় তা ব্যর্থ হল।

    এবং এটা আমাদের কাজে লাগবে, রন ফিসফিস করে বলল। সে ভর্মটেইলের হাত থেকে যাদুদণ্ডটি টেনে নিল।

    যাদুদণ্ডহীন, অসহায় পেটিগ্রিউ ভয় পেল। তার চোখ দুটো হ্যারির দিক থেকে অন্য কোনোদিকে সরে গেল। তার নিজের সিলভার আঙুলগুলো নিজের গলার দিকে উঠে গেল।

    না

    রনও ভর্মটেইলকে ছেড়ে দিল। সে এবং হ্যারি চেষ্টা করল তার সিলভারের ধাতুর হাত দুটো তার গলা থেকে সরাতে। কিন্তু তা কোনো কাজে আসল না। ভর্মটেইল নীল বর্ন ধারণ করল।

    রিলাশিও!, রন যাদুদণ্ড ওর সিলভারের হাতের দিকে তাক করে বলল। তাতে কোনো কাজ হল না। সে হাটু গেড়ে পড়ে গেল। ঠিক একই সময় হারমিয়ন ভয়ানক জোরে চিৎকার করল। ভর্মটেইলের চোখ দুটো উপরের দিকে উঠে গেল। মুখটা রক্তিম হয়ে গেল। সে একটি ঝাঁকি দিয়ে স্থির হয়ে গেল।

    হ্যারি এবং রন একে অপরের দিকে তাকালো। ভর্মটেইলের দেহটি মেঝেতে রেখেই ওরা ওপরে সিঁড়ি বেয়ে উঠে এল। তারপর অন্ধকার করিডোর ধরে ড্রইং রুমের দিকে আগালো। রুমটির দরোজা খোলা। এবার ওরা পরিস্কার দেখতে পেল বেলাট্রিক্স গ্রিপহুকের দিকে তাকিয়ে আছে। সে তার লম্বা হাতে গ্রিফিনডোরের তলোয়ারটি ধরে আছে। হারমিয়ন পড়ে আছে বেলাট্রিক্সের পায়ের কাছে। সে নড়াচড়া করছে না।

    ওয়েল? বেলাট্রিক্স গ্রিপহুকের উদ্দেশে বলল। এটাই কি আসল তলোয়ার? হ্যারি দম বন্ধ করে অপেক্ষা করতে থাকল। ওর স্কারটির জ্বালাপোড়া সহ্য করতে চেষ্টা করছে।

    না, গ্রিপহুক বলল। এটি হল নকল তলোয়ার।

    বেলাট্রিক্স রাগে ঘন ঘন নিঃশ্বাস নিতে নিতে বলল, তুমি কী নিশ্চিত? পুরোপু রি নিশ্চিত?

    হ্যাঁ, গবলিনটি বলল।

    তার চেহারায় স্বস্তির ভাব ফুটে উঠল। যেন সব চিন্তা দূর হয়ে গেছে।

    গুড, সে বলল। তার যাদুদণ্ডটি দিয়ে ছোট একটি ক্লিক করলো এবং গবলিনের মুখে আরো একটি গভীর কাটা দাগ বসে গেল। সে চিৎকার করে বেলাট্রিক্সের পায়ের কাছে বসে পড়ল। বেলাট্রিক্স তাকে লাথি দিয়ে পাশে ফেলে দিল। এখন, সে শেষ প্রচেষ্টা চালাতে চাইল। আমরা এখন ডার্ক লর্ডকে ডাকব!

    সে তার জামার হাতা টেনে সরালো এবং কালো দাগটির উপর আঙ্গুল ছোঁয়ালো।

    সঙ্গে সঙ্গে হ্যারির স্কারটি যেন ফেটে বের হতে চাইল। আশপাশের পরিস্থিতি আবার উধাও হয়ে গেল। সে যেন এখন ভন্ডেমটে পরিণত হয়েছে। তার সামনে সেই ক্ষীণ শরীরের কঙ্কালটি হাসছে। সে সামনটি অনুভব করতে পেরে রেগে গেল। সে তার লোকদেরকে বলেছে একমাত্র হ্যারি পটার ছাড়া কোনো কারণে তাকে সামন করা যাবে না। ওরা যদি ভুল করে সামন করে থাকে…

    তাহলে আমাকে হত্যা করো! বৃদ্ধ লোকটি বলল। তুমি কখনো জিততে পারবে না। তুমি জিততে পারো না! যাদুদণ্ডটি কোনোদিনও তুমি পাবে না!

    ভোল্ডেমর্ট ক্রোধে ফেটে গেল : একটি সবুজ আলো জ্বলে উঠল। রুমটির ভেতরে আলো ভরে গেল। বৃদ্ধের দুর্বল শরীরটি শক্ত বিছানায় লাফিয়ে উঠে নিস্তে জ হয়ে পড়ল। ভোল্ডেমর্ট জানালার কাছে ফিরে এলো। তার ক্রোধকে কোনোক্রমে সামলানো যাচ্ছে না….তাকে ডেকে আনার কারণ যদি যুক্তিযুক্ত না হয় তাহলে তাদেরকে ভয়ানক শাস্তি পেতে হবে…

    এবং আমি মনে করি, বেলাট্রিক্স বলল। আমরা গ্রেব্যাকের আশাটি পুরণ করতে পারি। গ্রেব্যাক মেয়েটিকে নিয়ে যাও যদি নিতে চাও!

    ন-া-া-া-া-া-া-!

    রন ঝট করে ড্রইং রুমের ভেতর ঢুকে গেল। বেলাট্রিক্স বিস্মিত হয়ে ঘুরে তাকালো। সে তার যাদুদণ্ডটি ঘুরিয়ে বনের দিকে ধরল

    এক্সপেলিয়ারমাস! রন গর্জন করে উঠল। ভর্মটেইলের যাদুদণ্ডটি বেলাট্রিক্সের দিকে ধরে কার্স করল। বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি শুন্যে উড়ে গেল। হ্যারি ঝাঁপ দিয়ে পড়ে সেটি ধরে ফেলল। সেও লাফিয়ে রনের পেছনে চলে এসেছিল। লুসিয়াস, নার্সিসা, ড্র্যাকো এবং গ্রেব্যাক ঘুরে দাঁড়াতেই, হ্যারি চিৎকার করে বলল, স্টুপিফাই!

    সঙ্গে সঙ্গে লুসিয়াস ম্যালফয় চুলার উপর গিয়ে পড়ল। ড্র্যাকো, নার্সিসা এবং গ্রেব্যাকের যাদুদণ্ড দিয়ে আলোর ঝলক বের হল। হ্যারি দেরও ছোঁড়া কার্স থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য সোফার পেছনে ঝাঁপিয়ে পড়ল।

    থামো! না হলে সে মারা যাবে?

    হাপাতে হাপাতে হ্যারি সোফার এক প্রান্তে এল। বেলাট্রিক্স হারমিয়নকে আগলে আছে। হারমিয়নকে দেখে মনে হচ্ছে অজ্ঞান হয়ে আছে। বেলাট্রিক্স তার হাতের সিলভার চাকুটি হারমিয়নের গলায় ধরে আছে।

    তোমার যাদুদণ্ড ফেলে দাও! সে ফিসফিস করে বলল।

    ফেলে দাও, তা না হলে আমরা দেখব ওর রক্ত কতটা নোংরা!

    রন দৃঢ়ভাবে দাঁড়িয়ে আছে। তার হাতে শক্ত করে ধরা ভর্মটেইলের যাদুদণ্ডটি। হ্যারি সোজা হয়ে দাঁড়ালো। তার হাতে বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ড।

    আমি বলেছি ফেলে দাও! বেলাট্রিক্স বলল। সে চাকুটি হারমিয়নের গলায় আরো দাবিয়ে ধরল। হ্যারি দেখল তার গলা থেকে রক্ত বের হয়ে আসতে শুরু করেছে।

    ঠিকাছে! সে চিৎকার করে বলল। বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি তার পায়ের কাছে মেঝেতে ফেলে দিল। রনও ভর্মটেইলের যাদুদণ্ডটি ফেলে দিল। দুজনই হাত উঁচু করে দাঁড়ালো।

    গুড!, বেলাট্রিক্স বলল। ড্র্যাকো, ওগুলো তুলে নাও! ডার্ক লর্ড আসছে হ্যারি পটার, তোমার মৃত্যু ঘনিয়ে আসছে!

    হ্যারি জানে যে ডার্ক লর্ড আসছে। তার স্কারটিতে ভয়ানক যন্ত্রণা শুরু হয়েছে। সে অনুভব করতে পারল যে ভোল্ডেমর্টে আকাশে উড়ে অনেক দূর থেকে পাড়ি দিয়ে আসছে। সে একটি কালো বিক্ষুব্ধ সমুদ্রের উপর দিয়ে আসছে। এবং সে অ্যাপারেট করলে আর কোনো পথ খোলা থাকবে না।

    এখন, বেলাট্রিক্স বলল। ড্র্যাকো যাদুদণ্ড দুটি তুলে নিয়ে তার কাছে গেল। আমার মনে হয় এই ক্ষুদে হিরোদের আবার বেধে ফেলা দরকার। ততক্ষণে গ্রেব্যাক মিস মাডব্লাডের যত্ন নিক। আমি নিশ্চিত যে ডার্ক লর্ড গ্রেব্যাককে এটি দেয়ায় নারাজ হবেন না। তারপরও তুমি আজ রাতে আমাদের জন্য যা করলে।

    বাক্যটি শেষ হতেই একটি অদ্ভুত শব্দ হল উপরের দিক থেকে। সবাই চোখ তুলে তাকালো। দেখল ক্রিস্টালের ঝাড়ুবাতিটা নড়ছে। তারপর একটি ক্রিক শব্দ করে সেটি খসে পড়ে যেতে থাকল। বেলাট্রিক্স ঠিক ঝাড়ুবাতিটার নিচে ছিল। হার মিয়নকে ছেড়ে সে চিৎকার করে লাফ দিয়ে সরে গেল। ঝাড়ুবাতিটা পড়ে ক্রিস্টাল এবং চেইনগুলো ঝনঝন করে ভেঙে গেল। ঝাড়ুবাতিটা পড়েছে ঠিক গবলিন এবং হারমিয়নের থেকে একটু উপরে। গবলিন এখনো গ্রিফিনডোরের তলোয়ারটি ধরে আছে। চকচকে ক্রিস্টালের টুকরোগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। ড্র্যাকো ব্যথা পেয়ে হাত দিয়ে তার মুখ চেপে ধরল।

    রন দৌড়ে হারমিয়নের কাছে গেল তাকে টুকরোগুলোর ভেতর থেকে সরিয়ে আনতে। ঠিহ হ্যারি তখনই সুযোগটি নিল। সে পলকের ভেতর লাফিয়ে গিয়ে ড্র্যাকোর হাত থেকে তিনটি যাদুদণ্ড ছিনিয়ে নিল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে গ্রেব্যাকের দিকে তাক করে বলল, স্টুপিফাই! ওয়্যারটির তিনটি স্পেল একসঙ্গে লেগে সে ছিটকে উপরে সিলিঙের সঙ্গে গিয়ে লাগল এবং দড়াম করে মেঝেতে পড়ল।

    নার্সিসা ড্র্যাকোকে টেনে নিল যাতে সে আরো আঘাত না পায়। বেলাট্রিক্স লাফিয়ে উঠল। তার চুলগুলো শূন্যে উড়ছে, হাতে ধরে আছে সিলভার নাইফটি। কিন্তু নার্সিসা তার যাদুদণ্ডটি দরোজার দিকে ধরে আছে।

    ডোবি! সে চিৎকার করে বলল। বেলাট্রিক্স স্থির হয়ে গেল। তুই! তুই ঝাড়ুবাতিটা ফেলে দিয়েছিস!

    ছোট ঘরের ভূতটি চারদিক ঘুরতে থাকল। তার কাঁপা হাত উঁচু করে রেখেছে। তার সাবেক মনিবের দিকে।

    তুমি অবশ্যই হ্যারি পটারের ক্ষতি করতে পারবে না! ঘরের ভূত বলল। ওকে হত্যা কর! সিশি, বেলাট্রিক্স চিৎকার করে বলল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে একটি বিকট শব্দ হল। এবং নার্সিসার যাদুদণ্ডটি ছিটকে শুন্যে উঠে গেল। রুমের অন্য প্রান্তে গিয়ে পড়ল।

    নোংরা ছোট বানর! বেলাট্রিক্স চিৎকার করে উঠল। তোর কত বড় সাহস তুই একজন যাদুকরের যাদুদণ্ড তুলে নিস! কত সাহস যে প্রভুর বিরুদ্ধে লড়িস!

    ডোবির কোনো প্রভূ নেই, উচ্চস্বরে ঘরের ভূত বলল।

    ডোবি একটি স্বাধীন ঘরের ভূত! এবং ডোবি এসেছে হ্যারি পটার আর তার বন্ধুদের রক্ষা করতে!

    হ্যারির স্কারটি প্রচণ্ডভাবে যন্ত্রণা করছে। ব্যাথায় চোখমুখ অন্ধকার হয়ে আসছে। সে জানে যে হাতে মাত্র কয়েক মুহূর্ত আছে। যে কোনো মুহূর্তে ভোল্ডেমর্ট এসে উপস্থিত হবে।

    রন ধর-এবং চলো!, সে চিৎকার করে বলল। একটি যাদুদণ্ড রনের দিকে ছুঁড়ে দিল। তারপর সে নিচু হয়ে ভাঙা ঝাড়ুবাতির নিচ থেকে গ্রিপহুককে তুলে নিল। ব্যাথ্যায় কোকানো গবলিনকে টেনে নিল। সে এখনো তলোয়ারটি তার কাঁধের উপরে রেখেছে। হ্যারি ডোবির হাত ধরে টান দিল এবং জায়গার উপর চক্কর দিয়ে ওরা ডিসাপ্যারেট করল।

    অন্ধকারের ভেতর ঢুকে যাওয়ার সময় শেষ মুহূর্তে হ্যারি ড্রইং রুমের দিকে তাকালো। নার্সিসা এবং ড্র্যাকোর শরীর স্থির হয়ে আছে। রনের লাল চুল এবং অস্পষ্ট একটি সিলভার উড়তে দেখল। বেলাট্রিক্সের চাকুটি রুমের যে প্রান্ত থেকে ওরা উধাও হয়ে যাচ্ছে সেদিকে এসে উধাও হয়ে গেল….

    বিল এবং ফ্লয়ারের কটেজ….বিল এবং ফ্লয়ার…

    সে একটি অজানা জায়গায় ডিসাপ্যারেট করল: সে যা পারছিল তা হল নাম দুটো বারবার উচ্চারণ করতে ধারণা করল যে তারা সেখানে গিয়ে নামবে। তার কপালের স্কারটি প্রচণ্ডভাবে যন্ত্রণা করছে। গবলিনের পুরো শরীরের ভার তার উপর পড়েছে। গ্রিফিনডোরের তলোয়ারের খোচা লাগছে পিঠে। ডোবির হাতটি তার হাতের ভেতর ঝাঁকি খাচ্ছে। সে ভাবতে থাকল ঘরের রূতটি তাদেরকে সঠিক জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তার কাছ থেকে দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে কি না। এবং তার হাত দেখে মনে হল ওরা সঠিক আছে এটা বোঝাতে চাচ্ছে….।

    ওরা পরিস্কার মাটিতে আছড়ে পড়ল। চারদিকে লবন জাতীয় গন্ধ। হ্যারির হাটু গিয়ে মাটিতে পড়ল। সে ডোবির হাতটা ছেড়ে দিল। এবং গবলিনকে আস্তে করে নামালো।

    তুমি ঠিক আছো? সে বলল। গবলিনটি কোনোক্রমে তাকালো এবং মুখ দিয়ে একটি শব্দ করল।

    হ্যারি অন্ধকারের ভেতর চারদিকে ভ্রু কুচকে তাকালো। অল্প কিছু দূরেই মনে হল একটি কটেজ দেখা যাচ্ছে। এবং তার মনে হল লোকজনের চলাফেরাও দেখতে পেল।

    ডোবি, এটাই কি সেল কটেজ?, হ্যারি ফিসফিস করে বলল। দু হাতে সে ম্যালফয়দের ওখান থেকে আনা দুটি যাদুদণ্ড ধরে আছে। সে লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত হয়ে রইল। তুমি কী ঠিক জায়গায় এসেছো ডোবি?

    হ্যারি চারদিকে তাকালো। ডোবি তার থেকে একটু দূরে দাঁড়িয়ে আছে।

    ডোবি!

    ঘরের ভূতটি সামান্য দুলতে থাকল। তার চকচকে বড় চোখ দুটো তারার মত উজ্জ্বল। একই সঙ্গে সে এবং হ্যারি দুজনেই তার বুকে রুপালি বাটটার দিকে তাকালো। বাটটি ঘরের ভেতরের দিকে ঢোকানো ভূতের বুকের ভেতর থেকে বেরিয়ে আছে।

    ডোবি–না! –হেল্প!, হ্যারি কটেজের লোকদের উদ্দেশে চিৎকার করল। যেদিকে মানুষের নড়াচড়া দেখতে পেয়েছিল সেদিক তাকিয়ে আবার বলল, হেল্প!

    সে জানে না সেখানে কারা, কিংবা হ্যারি গায়ে মাখল না সেখানে শত্রু আছে না সাহায্যকারী, উইজার্ড নাকি মাগলরা আছে। তার একমাত্র চিন্তা অন্ধকারে ডোবির সামনে দিয়ে একটি কালো রেখা নেমে যাচ্ছে! হ্যারির দিকে তাকিয়ে সে তার হাতদুটো বাড়িয়ে দিয়েছে। হ্যারি তাকে ধরে ফেলল এবং পাশেই নরম ঘাসের উপর শুইয়ে দিল।

    ডোবি না! তুমি মরবে না! মরবে না।

    ঘরের ভূতটি আবার হ্যারির দিকে তাকালো। তার ঠোঁট দুটো কাপছে কিছু একটা বলার জন্য।

    হ্যারি…পটার….

    এরপর ছোট একটি কাকি দিয়ে সে পুরোপুরি স্থির হয়ে গেল। তার চোখ দুটো কাঁচের দুটো বলের মত নিথর হয়ে গেল…

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই – জে ডি সালিঞ্জার, অনুবাদ – রাফায়েত রহমান রাতুল
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }