Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প937 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৬. গ্রিনগোটস

    ২৬. গ্রিনগোটস

    পরিকল্পনা তৈরি হয়ে গেল। প্রস্তুতিও সম্পন্ন হল। ছোট বেডরুমটাতে একটি লম্বা আঁকাবাকা চুল পড়ে আছে একটি শিশির উপর। সেটি ফায়ার প্লেসের উপর রাখা আছে। চুলটি ম্যালফয় ম্যানোরের সোয়েটার থেকে হারমিয়ন তুলে নিয়েছিল।

    তাহলে, তুমি তার আসল যাদুদণ্ডটিই ব্যবহার করবে, হ্যারি যাদুদণ্ডটির দিকে মাথা নেড়ে বলল। আমি মনে করি তুমি একেবারে খাটি হয়ে যাবে।

    হারমিয়নকে ভীত দেখা গেল। যাদুদণ্ডটি তোলার সময় মনে হল তাকে সেটি কামড়ে দিতে পারে।

    এই জিনিসটাকে আমি ঘৃণা করি, হারমিয়ন নিচুস্বরে বলল। আমি সত্যিই এ জিনিস ঘৃণা করি। মনে হয় এর সবকিছু উল্টোপাল্টা। এ জিনিস আমার কাছে ঠিকমত কাজ করে না…মনে হয় এটা আসলে তারই।

    হ্যারি কিছু বলল না কিন্তু মনে পড়ল ব্ল্যাকহর্ন যাদুদণ্ড নিয়ে আপত্তি করায় হারমিয়ন কিভাবে সেটা নাকচ করে দিয়েছিল। বলেছিল যে হ্যারি চিন্তা করছে যা তার করা উচিত নয়। বলেছিল প্র্যাকটিস করতে। হ্যারি আর হারমিয়নের ব্যাখ্যাটি তাকে ফেরত দিতে চাইল না। গ্রিনগোটস আক্রমণের শেষ মুহূর্তে আর তাকে আঘাত দেয়া উচিত হবে না।

    কিন্তু এটা তোমাকে তার চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে সাহায্য করবে, আর এর সক্ষমতা জানতে, রন বলল। চিন্তা করে দেখ এই যাদুদণ্ডটি কী করেছে!

    কিন্তু সেটাই তো আমার মূল কথা! হারমিয়ন বলল। এই যাদুদণ্ডটিই নেভিলের মা এবং বাবাকে নির্যাতন করেছে, কে জানে আরো কত মানুষকে অত্যাচার করেছে। এই যাদুদণ্ডটিই সিরিয়সকে হত্যা করেছে কি না?

    হ্যারি এ বিষয়টি চিন্তা করেনিঃ সে মাথা নিচু করে যাদুদণ্ডটির দিকে তাকালো। হ্যারি এগিয়ে গিয়ে গ্রিফিনডোরের তলোয়ার দিয়ে সেটিকে খণ্ড খণ্ড করে ফেলল। একটি খণ্ড দেয়ালের সঙ্গে বাড়ি খেয়ে হ্যারির পাশে এসে পড়ল।

    আমি আমার যাদুদণ্ডটি খুইয়েছি, হারমিয়ন দুঃখভরা কণ্ঠে বলল। আমার ইচ্ছা মি. অলিভ্যান্ডার যদি আমাকে একটি যাদুদণ্ড বানিয়ে দিতেন!

    আজ সকালেই মি, অলিভ্যান্ডার লুনার জন্য একটি নতুন যাদুদণ্ড পাঠিয়েছেন। সে ওটি বাইরের লনে পরীক্ষা করে দেখছে এটি বিকেলের পড়ন্তো রোদে কেমন কাজ করে। ডিনের যাদুদণ্ডটি স্ন্যাচাররা নিয়ে গেছে। সে মুখ কালো করে দাঁড়িয়ে লুনারটা দেখছে।

    হ্যারি তাকিয়ে হওথর্ন গাছের ডাল দিয়ে বানানো যাদুদণ্ডটি দেখল। এটি ছিল ড্র্যাকো ম্যালফয়ের। সে এটা দেখে অবাক যেমন হয়েছে এবং সেই সঙ্গে খুশিও হয়েছে যে যাদুদণ্ডটি হারমিয়নেরটার মত অন্তত কাজ দেয়। মনে পড়ল অলিভ্যান্ডার যাদুদণ্ডের সিক্রেটভাবে কাজ করা নিয়ে কী বলেছেন। হ্যারি চিন্তা করল যে হারমিয়নের সমস্যাটি সে জানে। বেলাট্রিক্সের কাছ থেকে ওয়ালনাট যাদুদণ্ডটি নেয়ার পর এটাকে সে অনুগত করতে পারেনি।

    বেডরুমের দরোজা খুলে গেল এবং গ্রিপহুক প্রবেশ করল। হ্যারির হাতটি আপনাতেই তলোয়ালের বাটের কাছে চলে গেল এবং সে তলোয়ারটি কাছে টেনে নিল। কিন্তু সঙ্গে সঙ্গে সে একটু বিব্রত হল। হ্যারি বুঝতে পারল যে গ্রিপহুক বিষয়টি লক্ষ করেছে। আমরা শেষবারের মত সবকিছু চেক করে দেখছি, গ্রিপহুক। আমরা বিল এবং ফ্লয়ারকে বলেছি যে আগামীকাল আমরা রওয়ানা হবো। আমরা বলেছি যে আমাদের বিদায় দিতে তোমাদের সকালে ঘুম থেকে উঠতে হবে না।

    এ বিষয়টিতে ওরা খুবই সতর্ক। কারণ যাবার আগে হারমিয়নকে বেলাট্রিক্সের রুপ গ্রহণ করতে হবে। বিল আর ফ্লয়ার যত কম বুঝতে পারে এবং অনুমান করতে পারে তত ভালো। ওরা অরো বলেছে যে ওরা আর ফিরে আসবে না। যে রাতে স্ন্যাচাররা ওদেরকে ধরেছিল সে রাতে ওরা পারকিনসের তাবুটি হারিয়েছে। বিল ওদেরকে একটি তাবু ধার দিতে চেয়েছে। সেটি এখন বেডেড ব্যাগে রাখা হয়েছে। হ্যারির স্বস্তি বোধ হচ্ছে যে হারমিয়ন কিছু জিনিস সংগ্রহ করেছে স্ন্যাচারদের কাছ থেকে নিরাপদে থাকার জন্য। সেগুলো তার মোজার ভেতরে রেখে দিয়েছে।

    শেষ কয়েক সপ্তা বেশ আরামে এই বাড়িতে কাটিয়েছে। এ কথা বিল, ফ্লয়ার, লুনা এবং ডিনকে বলে যেতে পারবে না। হ্যারি শেল কটেজ থেকে চলে যাওয়ার বিষয়টি নিয়ে ভাবছে। হ্যারি এ কদিন বেশ চেষ্টা করেছে যেন ওদের কোনো অসুবিধা না হয়। সে ছোট এবং অন্ধকার রুমে আটকা থেকে হাপিয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বড় কথা গ্রিপহুককে নিয়ে আর কাটাতে হবে না। কিন্তু কখন এবং কীভাবে সে গ্রিফিনডোরের তলোয়ারটি না দিয়ে গবলিনের কাছ থেকে আলাদা হয়ে যাবে এ প্রশ্নের উত্তর তার জানা নেই। ওরা যেভাবে চিন্তা করেছে সেভাবে কাজ করা প্রায় অসম্ভব বলে মনে হচ্ছে। কারণ গবলিন পাঁচ মিনিটের জন্যও হ্যারি, রন এবং হারমিয়নকে একা থাকতে দিচ্ছে না। দরোজার প্রান্ত দিয়ে ঠেলে ভেতরে প্রবেশ করার সময় যখন গবলিনের লম্বা আঙুলগুলো দেখা গেল তখন রন বলল, সে আমাকে মায়ের শিক্ষা দিচ্ছে। বিলের কথাগুলো মনে রেখে হ্যারির সন্দেহ হল যে, গবলিন ওদেরকে পাহারা দিচ্ছে যাতে ওরা কৌশলে তাকে প্রতারিত না করতে পারে। হ্যারি চাপাচাপি করলেও হারমিয়ন ওদের গবলিনের সঙ্গে থোকা দেয়ার প্ল্যানটি ভাল ভাবে নেয়নি। যে অল্প খানিক সময় পাওয়া যায় গবলিনকে ছাড়া এমন একটি সময় রন বলেছে, আমাদের এটি ব্যবহার করতে হবে, হার মিয়ন।

    এই রাতে হ্যারির ভাল ঘুম হল না। প্রায় সকাল পর্যন্ত জেগে রইল। তার সেই রাতের কথা মনে হল, যে রাতে ওরা চুপি চুপি মিনিস্ট্রি অব ম্যাজিকের ভেতর প্রবেশ করেছিল। সে সময়ের প্রবল ইচ্ছা এবং উত্তেজনার কথা মনে পড়ল। এখন আবার তার ভেতর উত্তেজনা কাজ করছে। বারবার সন্দেহ এসে প্রবেশ করছে। সে মাথা থেকে এ কথা ঝেড়ে ফেলতে পারছে না যে, যা করতে যাচ্ছে তার সবই ভুল হতে পারে। সে নিজেকে বারবার বোঝাতে চেষ্টা করল যে তাদের পরিকল্পনাটি ভালই হয়েছে। গ্রিপহুক জানে যে তারা কোন ধরণের বিষয় মোকাবেলা করতে যাচ্ছে। সব ধরণের বিপদ বা সমস্যা মোকাবেলার জন্য তারা সব প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে। কিন্তু তারপরও হ্যারির অস্বস্তি লাগতে থাকল। একবার বা দুবার সে রনকে নড়েচড়ে উঠতে শুনল। হ্যারি নিশ্চিত যে সেও জেগে আছে। কিন্তু ওরা যেহেতু ডিনের সঙ্গে বসার ঘরটিতে ঘুমিয়েছে তাই সে কোনো কথা বলল না।

    ভোর ছয়টার সময় অস্বস্তি কাটলো। ওরা স্লিপিং ব্যাগের ভেতর থেকে বের হয়ে এল। আলো অন্ধকারের ভেতর ওরা পোষাক পরে নিল। তারপর নিঃশব্দ পায়ে গার্ডেনে বের হয়ে এল। ওখানেই গ্রিপহুক এবং হারমিয়নের দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করার কথা। ভেজা ভেজা ভোর। কিন্তু একটু একটু বাতাস বয়ে যাওয়া থেকে বোঝা যাচ্ছে যে এখন মে মাস চলছে। হ্যারি আকাশের দিকে মুখ তুলে তাকিয়ে দেখল তারাগুলো এখনো অন্ধকার আকাশে মিটি মিটি করে জ্বলছে। ঢেউ সমুদ্রের কিনারায় এসে পড়েছে আবার দূরে চলে যাচ্ছে। সমুদ্রের এই শব্দটি হ্যারি ভীষণভাবে মিস করবে।

    ছোট ছোট চারাগাছগুলো ওদের বাধ্য করল ডোবির কবরটির ধার দিয়ে যেতে। এক বছরের মধ্যেই কবরের উপরের লাল মাটি ঢেকে যাবে। সাদা যে পাথরটিতে ডোবির নাম খোদাই করা আছে সেটি এখই অনেকটা পাল্টে গেছে। সে এখন উপলব্ধি করতে পারছে যে ওরা তো ডোবিকে অন্য কোথাও কবর দিতে পারতো না। কিন্তু হ্যারির ভেতর একটা মোচড় দিয়ে উঠল ডোবিকে পেছনে রেখে যাওয়ার কারণে।

    হ্যারি কবরের দিকে তাকিয়ে ভাবল, ঘরের ভুতটি জানলো কী করে যে উদ্ধার করতে কোথায় যেতে হবে? হ্যারি নখগুলো অজান্তেই নিজের গলায় ঝোলানো ব্যাগটির কাছে নাড়া চাড়া করলো। ওই ব্যাগটির ভেতরই সেই ভাঙা আয়নাটি আছে যেটিতে সে নিশ্চিত ডাম্বলডোরের চোখ দেখেছিল। ঠিক তখনই দরোজায় একটি শব্দ হওয়ায় হ্যারি ফিরে সেদিকে তাকালো।

    হ্যারি দেখল বেলাট্রিক্স লেস্টারে লম্বা পা ফেলে ওদের দিকে আসছে। সঙ্গে গ্রিপহুক। সে হাঁটতে হাঁটতে তার বেডেড ব্যাগটি অন্য একটি গাউনের ভেতরের পকেটে রাখছে। এই পুরাতন গাউনটি গ্রিমোন্ড প্লেস থেকে নিয়ে আসা হয়েছিল। যদিও হ্যারি একশ ভাগ নিশ্চিত যে এটা হারমিয়ন, তারপরও ওর ভেতর ভয়ের একটি স্রোত নেমে গেল। সে হ্যারির চেয়ে লম্বা। তার লম্বা কালো চুলগুলো পেছনে ঝুলছে। তার গাঢ় করে লিড দেয়া চোখগুলো ওদের উপর ফেলতেই মনে হল চোখে হিংসা জ্বলছে। সে কথা বলল। তখন বেলাট্রিক্সের কণ্ঠের ভেতর দিয়ে ওরা হারমিয়নের কথা শুনতে পেল।

    তার পছন্দটা একবারে বিরক্তিকর, গুরডিরুটের চেয়েও জঘন্য! ওকে রন, এদিকে এসো আমি তোমাকে বানিয়ে

    ঠিকাছে, কিন্তু মনে রাখবে, আমি খুব লম্বা দাড়ি পছন্দ করি না…

    ওহ ঈশ্বরের কছম, এটা হাওসাম দেখানোর কোনো ব্যাপার না..

    না সেটা নয়, কিন্তু এতে সমস্যা হয়। কিন্তু আমি নাকটা একটু খাটো চাই। শেষ বার যেমন করেছিলে তেমন করে দাও।

    হারমিয়ন নিঃশ্বাস ছেড়ে কাজ করতে শুরু করল। বিড়বিড় করে কিছু বলল রনের চেহারা বিভিন্নভাবে পাল্টে যেতে দেখে। তাকে পুরোপুরি একটি নকল পরিচয় বানিয়ে দিতে হবে। ওরা মালেভলেন্ট কাস্ট করেছে নিরাপত্তার জন্য এদিকে হ্যারি এবং গ্রিপহুক অদৃশ্য আলখাল্লার ভেতর ঢুকে গেছে।

    এই দেখ, হারমিয়ন বলল। এখন কেমন দেখাচ্ছে তাকে?

    তার ছদ্মবেশের মধ্য দিয়ে রনকে একেবারে একটু একটু চেনা যাচ্ছে। হ্যারি বুঝতে পারল রনকে জানার কারণে মনে হচ্ছে একটু একটু চেনা। রনের চুলগুলো এখন লম্বা এবং ঢেউ খেলানো। মুখে ঘন বাদামী দাড়ি এবং মোচ। মুখে কোনো দাগ নেই। একটি খাটো ছড়ানো নাক। চোখের উপরের ভুরু জোড়া বেশ ভারি।

    ওয়েল সে আমার মতো না, কিন্তু তার হবে, হ্যারি বলল। তাহলে এখন আমরা রওয়ানা হবো?

    ওরা তিনজনই শেল কটেজের দিকে ঘুরে তাকালো। নিভু নিভু তারার নিচে অন্ধকারে নিঃশব্দে বাড়িটি শুয়ে আছে। ওরা হেঁটে হেঁটে বাউন্ডারি দেয়ালের কাছে গেল। যেখানে ফিডেলাস চার্ম কাজ করে না। ওরা থামল। এখান থেকে ওরা ডিসাপ্যারেট করতে পারবে। গেট পার হতেই গ্রিপহুক কথা বলে উঠল।

    এখন আমার উপরে ওঠা দরকার, হ্যারি পটার?

    হ্যারি নিচু হল এবং গবলিন ওর পিঠ বেয়ে উঠল। সে হ্যারির গলার কাছটায় হাত দিয়ে আটকে ধরে থাকল। সে খুব একটা ভার না, কিন্তু গবলিনের ভরটা হ্যারির ঠিক পছন্দ হচ্ছে না। তবে যে হাত দিয়ে ধরে রেখেছে সেই হাতে অবাক করার মত শক্তি। হারমিয়ন টেনে বেডেড ব্যাগ থেকে অদৃশ্য আলখাল্লা বের করল এবং ওদের গায়ের উপর চাপিয়ে দিল।

    পারফেক্ট, সে বলল। নিচু হয়ে হ্যারি পা বের হয়ে আছে কি না দেখল। আমি কিছুই দেখতে পাচ্ছি না। এবার চলো।

    গ্রিপহুককে কাঁধে নিয়ে হ্যারি স্থানটির উপর ঘুরে গেল। মনের সবটুকু জোর দিয়ে লিকি কলড্রোনের কথা মনে রাখল। ডিয়াগন অ্যালিতে প্রবেশমুখের সেই বারটি। নিকষ অন্ধকারের মধ্যে গবলিন আরো জোরে চেপে ধরেছে। এবং কয়েক সেকেন্ডে ভেতর হ্যারির পা পেভমেন্টের উপর পড়ল। সে চোখ খুলে দেখল মাগলরা সব সকালের রাস্তায় হাঁটছে চোখে মুখে অপরাধির ভাব নিয়ে। ছোট বারটির অস্তিত্ব সম্পর্কে একেবারে চেতনাহীন।

    লিকি কলড্রোনের বারটি প্রায় ফাঁকা। কুজো এবং দাঁতহীন মালিক টম বার কাউন্টারের পেছনে দাঁড়িয়ে গ্লাস পরিস্কার করছে। দুজন উইজার্ড নিচু স্বরে এক কোনায় বিড়বিড় করে আলোচনা করছে। হারমিয়নের দিকে তাকিয়ে ওরা এক কোণে ছায়ার ভেতর চলে গেল।

    ম্যাডাম লেস্ট্যারেঞ্জ, বিড়বিড় করে টম বলল। হারমিয়ন সামনে যাবার সময় সে মাথা নিচু করে সম্মান জানালো।

    গুড মর্নিং, হারমিয়ন বলল। হ্যারি নিচু হয়ে পাশ দিয়ে গেল। এখনো তার কাঁধে গ্রিপহুক। সে দেখল টম বিস্ময় ভরা চোখে হারমিয়নের দিকে তাকিয়ে আছে।

    অতি বিনয়! হ্যারি বিড়বিড় করে হারমিয়নের কানের কাছে বলল। সে অদৃশ্য আলখাল্লার ভেতর থেকেই বারের পেছনের দিকে যাচ্ছে। তুমি আশেপাসের লোকজনদের একেবারে পাত্তা দেবেনা!

    ওকে! আমি তাই করবো!

    হারমিয়ন বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি বের করল এবং ওদের সামনে একটি অদৃশ্য দেয়াল তৈরি করল। প্রায় সঙ্গে সঙ্গে সেই দেয়াল ঘুরতে থাকল এবং বড় হতে থাকল। তারপর একটি বাকা পথ তৈরি করল ডিয়াগন অ্যালির উল্টো দিকে।

    চারদিকে শান্ত। এখনো দোকান খোলার সময় হয়নি। এবং কোনো দোকানদারকেও বাইরে দেখা গেল না। যেখান থেকে শুরু করেছে সেখান থেকে এখন অনেক দূর বাকিয়ে গেছে। হ্যারি অনেক বছর আগে প্রথম বছরে থাকতে এখানে সফর করেছিল। অনেক দোকান বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। যদিও ডার্ক আর্টে বেশ কিছু নতুন করে তৈরি করা হয়েছে। হ্যারির নিজের মুখটিই অনেক জানালার উপর পোস্টারের ভেতর থেকে তার দিকে যেন তাকিয়ে আছে। প্রত্যেকটিতে লেখা আছে, আনডিসায়ারেবল নাম্বার ওয়ান।

    বেশ কয়েকজন ভিক্ষুক ধরণের লোক বসে আছে দরোজার কাছে। ওরা পথিকদের কাছে সোনা চাচ্ছে। আবেদন করে বলছে ওরা সত্যিই উইজার্ড। একজনের চোখের উপর রক্তাক্ত ব্যান্ডেজ দেখা যাচ্ছে।

    ওরা রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় দেখল ভিক্ষুকগুলো হারমিয়নের দিকে তাকাল। ওকে দেখেই ওরা নিস্তেজ হয়ে গেল। মুখের উপর পর্দা টেনে যার যার মত দৌড়ে পালালো। হারমিয়ন ওদের দিকে আগ্রহ নিয়ে তাকালো। কিন্তু ব্যান্ডেজ বাধা লোকটি খোড়াতে খোড়াতে ওর সামনে চলে এল।

    আমার সন্তান! সে হারমিয়নের দিকে হাত উঁচু করে চিৎকার দিয়ে বলল। তার গলা ভেঙে গেছে। তার কণ্ঠ সত্যিই আহত। আমার সন্তানরা কোথায়! সে আমার সন্তানদের কী করেছে! তুমি জানো, তুমি জানো!

    আমি, আমি সত্যি- হারমিয়ন তোতলাতে থাকল।

    লোকটি হারমিয়নের প্রতি ফুসতে থাকল। হারমিয়নের গলা চেপে ধরতে চাইল। একটি শব্দ হল এবং লাল আলো জ্বলে উঠল। লোকটি ছিটকে পেছনের দিকে পড়ে অচেতন হয়ে গেল। রন দাঁড়িয়ে আছে। তার যাদুদণ্ডটি তখনো ধরা। তার মুখটায় আহত ভাব ফুটে উঠেছে। রাস্তার দুপাশের জানালা দিয়ে মুখগুলো উঁকি দিচ্ছে। রাস্তায় কয়েকজন পথিক ভদ্রভাবে ধীরে ধীরে সরে গেল।

    ড্রাগন অ্যালিতে প্রবেশ আরো মানুষ খেয়াল করতে পারে। একবার সে ভাবল ফিরে গিয়ে অন্য কোনো পরিকল্পনা করা যায় কি না। এ বিষয় নিয়ে আলোচনার জন্য সামনের দিকে যেতেই পেছন থেকে একটি কণ্ঠের শব্দ শুনতে পেল।

    কেন, ম্যাডাম লেস্ট্যারেঞ্জ?

    হ্যারি ঘুরে দাঁড়ালো এবং গ্রিপহুক আরো শক্ত করে ওর গলাটা ধরল। একটি লম্বা উইজার্ড। মাথা ভরতি ধুসর চুল, চোখা নাক। লম্বা পা ফেলে ওদের দিকে অসছে।

    এ হচ্ছে ট্রাভার! হ্যারির কানের কাছে গবলিন বলল। কিন্তু ওই মুহূর্তে হ্যারি চিন্তা করতে পারল না কে ট্রাভার। হারমিয়ন পুরো টানটান হয়ে দাঁড়ালো এবং বলল, তুমি কী চাও!

    ট্র্যাভাস দাঁড়িয়ে পড়ল। পরিস্কারভাবে বিদ্রুপের ছাপ।

    সে একটি ডেথ-ইটার! গ্রিপহুক ফিসফিস করে বলল। হ্যারি নিরবে আগালো হারমিয়নের কানে কানে কথা বলার জন্য।

    আমি শুধু আপনাকে শুভেচ্ছা জানাতে চাই! ট্রাভার বলল। যদি আমার আসার ব্যাপারে আপত্তি থাকে… —

    হ্যারি এবার তার কণ্ঠটা চিনতে পারল। ট্রাভার হল সেই ডেথ-ইটারদের একজন যাকে সামন করে জেনোফিলিয়াসের বাড়িতে নেয়া হয়েছিল।

    না, না, মোটেই তা নয় ট্র্যাভাস, হারমিয়ন দ্রুত বলল। তাড়াতাড়ি ভুল শুধরে নিতে চেষ্টা করল এবং বলল, তুমি কেমন আছো?

    আমি আপনার ফিরে আসা দেখে সত্যিই অবাক হয়েছি বেলাট্রিক্স।

    সত্যিই, কেন? হারমিয়ন জানতে চাইল।

    ওয়েল, সে গলা পরিস্কার করে বলল। আমি শুনেছি যে ম্যালফয় ম্যানোরের বাসিন্দারা বন্দী হয়ে আছে। ওই হা..পালিয়ে যাবার পর…

    হ্যারি চাইল হারমিয়নের মাথা ঠাণ্ডা থাকুক। যদি কথাটি সত্যি হয় তাহলে বেলাট্রিক্সদের জনসম্মুক্ষে আসার কথা না…।

    ডার্ক লর্ড তাদের ক্ষমা করে দিয়েছেন যারা অতিতে বিশ্বস্ততার সঙ্গে কাজ করেছে, হারমিয়ন বলল। বেলাট্রিক্সের হিংসাত্মক ভাবটা চমৎকার ফুটিয়ে তুলেছে। হয়তো তোমার কাজ আমার মত এতটা বিশ্বস্ত নয় তার কাছে।

    যদিও তাকে উদ্যোত মনে হচ্ছে কিন্তু সে কিছু সন্দেহ করেনি। সে এই মাত্র স্টান করা লোকটি অর্থাৎ রনের দিকে তাকালো।

    এটা তোমাকে এতটা ক্ষিপ্ত করে কিভাবে?

    সেটা কোনো ব্যাপার না, সে আর এরকম করবে না, হারমিয়ন ঠাণ্ডা মাথায় বলল।

    এসব যাদুদণ্ডবিহীনরা মাঝে মাঝে এমন ঝামেলা করে, ট্র্যাভাস বলল। ওরা কিছু না করেই শুধু ভিক্ষা করে। এতে আমার কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু ওদের একজন গত সপ্তাহে আমার কাছে ভীষণ আবেদন করেছে আমি একজন মহিলা যাদুকর আমাকে এটি প্রমাণ করতে দিন? সে বলল। এমন একটা ভাব যে আমি আমার যাদুদণ্ডটি তাকে দিয়ে দেব–কিন্তু আপনি কার যাদুদণ্ড এ মুহূর্তে ব্যবহার করছেন বেলাট্রিক্স? ট্র্যাভাস উৎসাহ নিয়ে জানতে চাইল। আমি শুনেছি আপনার যাদুদণ্ডটি….।

    আমারটিই আমি ব্যবহার করছি, হারমিয়ন ঠাণ্ডা মাথায় বলল। সে বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি তুলে ধরেছে। আমি জানি না কী ধরণের কথা তোমরা শুনেছ ট্র্যাভার, কিন্তু মনে হচ্ছে তোমরা কোনো ভুল তথ্য পেয়েছ।

    ট্রাভারকে মনে হল একটি পিছুটান দিল। এর বদলে সে রনের দিকে ঘুরল।

    আপনার এই বন্ধুটি কে? আমি তো একে চিনতে পারছি না?

    এ হল ড্রাগোমির ডেসপার্ড, হারমিয়ন বলল। ওরা সিদ্ধান্ত নিয়ে এসেছে যে রনকে একজন বিদেশি সাজানোটাই ভাল হবে। সে খুব অল্প ইংরেজি বলতে পারে। কিন্তু ডার্ক লর্ডের কর্মকাণ্ডের প্রতি দারুন প্রীত। সে ট্রানসিলভানিয়া থেকে আমাদের নতুন শাসনামল দেখতে এসেছে।

    তাই নাকি? আপনি কেমন আছের ড্রগোমির?

    ও ও, আপনি? রন বলল। সে ট্রাভারের দিকে হাত বাড়িয়ে দিল।

    ট্রাভার্স দুটি নখ বাড়ালো এবং রনের সঙ্গে হাত মেলালো।

    তাহলে কী বিষয়টা তোমাকে এবং তোমার বন্ধুকে এ সকালে ড্রাগন অ্যালিতে নিয়ে এল? ট্রাভার্স জানতে চাইল।

    আমি গ্রিনগোটে যাবো। হারমিয়ন বলল।

    ট্রাভার্স বলল, ও, আমিও তো যাবো সেখানে। গোল্ড, এই অভিশপ্ত গোল্ড। আমরা এটা ছাড়া এক মুহূর্ত বাঁচতে পারি না। তারপরও আমি স্বীকার করি লম্বা আঙুলের বন্ধুদের সঙ্গে চলতে এটার প্রয়োজন আছে।

    হ্যারি লক্ষ করল তার গলার কাছে গ্রিপহুকের ধরে থাকাটা মুহূর্তের জন্য শক্ত হয়ে উঠল।

    আমরা যেতে পারি? ট্রাভার্স বলল। সে হাত দিয়ে হারমিয়নকে সামনের দিকে আগানোর ইশারা করল।

    তার পাশ দিয়ে আকাবাকা রাস্তা দিয়ে হেঁটে আগানো ছাড়া হারমিয়নের কিছু করার নেই। কিন্তু কঠিন কাজ হল বেলাট্রিক্স হিসাবে ট্রাভার্সের পাশে হেঁটে যাওয়া। এখন আর হারমিয়ন এবং রনের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ নেই ওরা। অতি দ্রত মার্বেলের সিঁড়িতে প্রবেশ করল। ওদের সামনেই ব্রঞ্জের দরোজা।

    গ্রিপহুক আগেই ওদের সতর্ক করে দিয়েছিল যে দুজন ইউনিফর্ম পরা গবলিন প্রহরীর পরিবর্তে সেখানে দুজন উইজার্ড পাহারায় বসানো হয়েছে। দু জনের হাতেই লম্বা সোনালী রড।

    আহ প্রোবিটি প্রোভ, ট্রাভার্স নাটকীয়ভাবে বলল। খুবই বিরক্তিকর। কিন্তু কার্যকর!

    এবং সে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠে গেল দু পাশের দুই প্রহরীকে মাথা দুলিয়ে নোড করল। ওরা দুজন সোনালী রড তুলে ঐভার্সের শরীরে মাথা থেকে পা পর্যন্ত সেটা দিয়ে পরীক্ষা করল। হ্যারি জানে এই প্রোবস স্পেল এবং লুকানো যাদুর উপকরণ ধরে ফেলে। হ্যারি বুঝতে পারল তার হাতে সময় খুব কম। সে ড্র্যাকোর যাদুদণ্ডটি প্রহরী দুজনের দিকে তাক করল এবং দুবার বিড়বিড় করে কনফুনভো বলল। স্পেল আঘাত করায় গার্ড দুজন হঠাৎ নড়ে উঠল। ট্রাভার্স বিষয়টি লক্ষ করেনি। তার চোখ সামনের ব্রোঞ্জের দরোজা ভেদ করে হলের ভেতরে।

    হারমিয়ন সিঁড়ি বেয়ে ওঠার সময় তার লম্বা চুলগুলো পেছনে ঝিরঝির করে নড়ল।

    এক মিনিট ম্যাডাম, প্রহরী হাতের পোর্কটি তুলে বলল।

    তুমি তো এইমাত্র পরীক্ষা করলে! কর্কশ গলায় ধমকের সুরে হারমিয়ন বলল। ট্রাভার্স ভুরু কুচকে তাকালো। সে সিঁড়ি দিয়ে একটু নিচে নেমে এল। সে। একটু দ্বিধান্বিত কণ্ঠে বলল, হ্যাঁ, তুমি তো এই মাত্রই পরীক্ষা করলে মারিয়া।

    হারমিয়ন দ্রুত উপরে উঠে গেল। তার পাশে রনও উঠে গেল। হ্যারিও অদৃশ্য আলখাল্লার ভেতর থেকে ওদের পেছনে পেছনে উঠে এল। ঘুরে তাকিয়ে দেখল দুই প্রহরী মাথা চুলকাচ্ছে। দরোজার ভেতরের দিকে দুজন প্রহরী দাঁড়িয়ে আছে। তাদের হাতে চোরদের জন্য কঠিন শাস্তির কথা লেখা কবিতা রয়েছে। হ্যারি। সেদিকে তাকালো। হঠাৎ তীক্ষ্ণভাবে তার মনে পড়ল। যেদিন তার বয়স ১১ বছর হয়েছিল, জীবনের অন্যতম জন্মদিন ছিল সেটি। সে সময় গ্রিনর্গেটসকে একটি আশ্চর্য জায়গা মনে হয়েছিল। এখানে রাখা সম্পদ যে তারও আছে সেটা সে জানতো না। এবং কখনো ভাবেনি যে সে জায়গাটায় সে চুরি করতে আসবে….কিন্তু কয়েক সেকেন্ডের ভেতর ওরা বিশাল মার্বেলের হলের ভেতর দাঁড়ালো।

    লম্বা কাউন্টারে গবলিনরা উঁচু টুলে বসে আছে। দিনের প্রথম ক্লায়েন্টদের সেবা প্রদান করছে। হারমিয়ন, রন এবং ট্রাভার্স একটি বৃদ্ধ গবলিনের কাছে গেল। সে বসে মোটা স্বর্ণ মুদ্রাগুলো ভারি চশমার নিচ দিয়ে পরীক্ষা করছে। হার মিয়ন ট্রাভার্সকে সামনে যেতে দিল। সে রনকে হলরুমের সব অবস্থা বুঝিয়ে দিতে তাকে সামনে দিল।

    গবিলন তার পাশে রাখা কয়েনগুলো উল্টেপাল্টে দেখছে। সে একা একাই বলল, লেপ্রেচাইন। তারপর ট্রাভার্সকে একঠি ছোট সোনার চাবি পরীক্ষা করে। হাতে দিল।

    হারমিয়ন পা বাড়ালো।

    ম্যাডাম লেস্ট্যারেঞ্জ! তাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে যে অবাক হয়েছে। কী সৌভাগ্য! আপনাকে কীভাবে কীভাবে আজ সাহায্য করতে পারি!

    আমি আমার ভল্টে প্রবেশ করতে চাই, হারমিয়ন বলল।

    বৃদ্ধ গবলিন যেন একটু দমে গেল। হ্যারি চারদিকে তাকিয়ে দেখল। শুধু যে ট্রাভার্স ফিরে তাকিয়েছে তাই না, হলরুমের অনেক গবলিন তাদের যার যার কাজের জায়গা থেকে লক্ষ করছে। হারমিয়নকে দেখছে।

    আপনার…আপনার প্রমাণ? গবলিন বলল।

    প্রমাণ? আমাকে কখনোই প্রমাণের কথা জিজ্ঞেস করা হয় না! হারমিয়ন বলল।

    ওরা জানে! গবলিন হ্যারির কানের কাছে বলল। ওদেরকে অবশ্যই সতর্ক করা হয়েছে যে নকল কেউ ঢুকতে পারে?

    আপনার যাদুদণ্ডটি হলেই চলবে, বৃদ্ধ গবলিন তার একটু একটু কাঁপা হাত বাড়িয়ে দিল। হ্যারি বাস্তবতা বুঝে ফেলল যে এখানকার গবলিনরা জানে যে বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি খোয়া গেছে।

    এখনই কর! এখনই কর! গ্রিপহুক হ্যারির কানের কাছে বলল। ইমপেরিয়স কার্স ছুঁড়ে দাও!

    হ্যারি আলখাল্লার নিচে হাউথর্ন যাদুদণ্ডটি তুলল এবং গবলিনটির দিকে ধরে জীবনে প্রথমবারের মত বলল, ইমপেরিও!

    একটি বিশেষ ধরণের ধাক্কা লাগল হ্যারির হাতে। একটি কেমন যেন উষ্ণ জড়ানো অনুভূতি হ্যারির মনের ভেতর থেকে বেরিয়ে আসল। তার শিরা উপশিরাগুলো যেন কার্সের সঙ্গে মিশে গেছে। গবলিনটি হারমিয়নের হাত থেকে যাদুদণ্ডটি নিল এবং পরীক্ষা করল। তারপর বলল, আহ্ আপনি নতুন একটি যাদুদণ্ড পেয়েছেন ম্যাডাম লেস্ট্যারেঞ্জে!

    কি! হারমিয়ন বলল। না না, এটাই আমারটা-

    একটি নতুন যাদুদণ্ড? ট্রাভার্স আবার পিছিয়ে কাউন্টারের দিকে এল। এখনো গবলিনরা খেয়াল করছে। কিন্তু আপনি এটা কীভাবে বানিয়েছেন, কোন প্রস্তুতকারীকে কাজে লাগিয়েছেন?

    হ্যারি কোনো চিন্তা না করেই আবার যাদুদণ্ডটি ট্র্যাভার্সের দিকে তাক করল এবং বিড়বিড় করে কার্স করল, ইমপেরিও!

    ওহ, আচ্ছা, বুঝতে পেরেছি, ট্রাভার্স বলল। বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটির দিকে তাকিয়ে বলল, হ্যাঁ, খুবই চমৎকার। এবং এটি ভাল কাজ করছে? আমার সব সময় মনে হয় যেন যাদুদণ্ড একটু ভাঙা থাকা ভালো। আপনার মনে হয় না?

    হারমিয়নকে বিস্মিত দেখা যাচ্ছে। কিন্তু হ্যারি দেখে স্বস্তি বোধ করল যে এই অদ্ভুত কথায় হারমিয়ন কোনো মন্তব্য করল না।

    গবলিনটি কাউন্টারের পেছন থেকে উঠে আসল। সে তার হাতে তালি দিল এবং অল্প বয়সী একটি গবলিন এসে দাঁড়ালো।

    আমার একটি ক্ল্যাঙ্কার দরকার, সে ছোট গবলিনটিকে বলল। গবলিন দৌড়ে বের হয়ে গেল এবং মুহূর্তের ভেতর একটি চামড়ার ব্যাগ নিয়ে উপস্থিত হল। দেখে বোঝা যায় ভেতরে ধাতব জিনিসপত্র। সে ব্যাগটি সিনিয়র গবলিনের কাছে দিল।

    গুড, গুড! সো, ম্যাডাম যদি আমার সঙ্গে একটু আসেন, বৃদ্ধ গবলিন বলল। সে তার সিট থেকে নামল এবং চোখের বাইরে চলে গেল। আমি আপনাকে আপনার ভল্টে নিয়ে যাচ্ছি।

    তাকে আবার দেখা গেল কাউন্টারের পাশটায়। সে আনন্দে সঙ্গে বেলাট্রিক্সে দিকে লাফিয়ে লাফিয়ে হাসছে এবং চামড়ার ব্যাগটার ভেতরের জিনিসগুলো ঝনঝন করতে থাকল। ট্রাভার্স স্থির দাঁড়িয়ে আছে, তার মুখটা হা করে আছে। রন সেদিকে তাকিয়ে এই অস্বাভাবিক অবস্থাটা লক্ষ করতে থাকল।

    একটু, বোগ্রোট!

    অন্য একটি গবলিন কাউন্টারের পাশ দিয়ে বের হয়ে আসল।

    আমাদের কাছে নির্দেশ আছে, সে বলল। হারমিয়নের দিকে তাকিয়ে সম্মান জানিয়ে বো করল। আমাকে ক্ষমা করবেন ম্যাডাম, লেট্র্যাঞ্জে ভল্টের উপর একটি বিশেষ আদেশ আছে।

    সে জরুরিভাবে বোগ্রোটের কানে কানে কথা বলল। কিন্তু ইমপেরিয়াস করা গবলিন মাথা নাড়ল।

    আমি সে নির্দেশ সম্পর্কে জানি, ম্যাডাম লেস্ট্যারেঞ্জ তার ভল্টটি দেখতে চান….তারা খুবই পুরাতন পরিবার… পুরাতন গ্রাহক….এদিক দিয়ে প্লিজ…

    সে ঝনঝন শব্দ করে অনেকগুলো দরোজার একটি দরোজা দিয়ে প্রবেশ করল। হ্যারি ফিরে ট্রাভার্সকে দেখল। সে ঠায় এক জায়গায় দাঁড়িয়ে আছে, যেন তার মাথায় কিছু নেই। তখনই হ্যারি তার যাদুদণ্ডটিতে একটি ক্লিক করে তাকে ওদের সঙ্গে পাঠানোর জন্য প্ররোচিত করল। সে দুর্বলভাবে হাঁটতে থাকল। দরোজার কাছে পৌঁছল এবং টর্চের মতো আলো জ্বালালো এবং পাথরের পথে হটাত থাকল।

    আমরা বিপদে পড়েছি, ওরা সন্দেহ করেছে! হ্যারি বলল। ওদের পেছনে ধাম করে দরোজা বন্ধ হয়ে গেছে। হ্যারি টান দিয়ে অদৃশ্য আলখাল্লাটি খুলে ফেলল। গ্রিপহুক লাফ দিয়ে কাঁধের থেকে নেমে পড়ল। হ্যারিকে আকস্মিকভাবে ওদের মাঝখানে দৃশ্যমান হতে দেখে বোগ্রোট বা ট্রাভার্স কেউ সামান্যতম অবাক হল না। রন এবং হারমিয়নকে বিষয়টি নিয়ে হতবাক হতে দেখে হ্যারি বলল, ওদেরকে ইমপেরিয়াস কার্স করা হয়েছে। দেখা গেল কার্সের ফলে দুজনই অর্থহীন চোখে তাকিয়ে আছে। আমার মনে হয় না যে আমি যথেষ্ট শক্তভাবে করতে পেরেছি, আমি ঠিক জানি না….।

    অন্য একটি স্মৃতি হ্যারির মনে এল। সে যখন আনফরগিভাবল কার্স করতে চেষ্টা করেছিল তখন আসল বেলাট্রিক্স ওর উদ্দেশে চিৎকার করে উঠেছিল: ইউ নিড টু মিন দেম হ্যারি!

    আমরা কী করছি? রন বলল। আমরা কি এখন বের করতে পারি?

    যদি আমরা পারি, হারমিয়ন বলল। সে ফিরে হল রুমের দরোজার দিকে তাকালো। দরোজার বাইরে কী হচ্ছে কে জানে!

    আমরা অনেক দূর চলে এসেছি, হ্যারি বলল। আমি বলছি আমরা কাজ চালিয়ে যাব।

    গুড! গ্রিপহুক বলল। তাহলে বোগ্রোটকে আমাদের লাগবে কার্টটা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য। আমার এখন অথোরিটি নেই। কিন্তু উইজার্ডদেরও কোনো সুযোগ নেই।

    হ্যারি ট্র্যাভার্সের দিকে যাদুদণ্ড তাক করল।

    ইমপেরিও!

    একটি অন্ধকার জায়গার দিকে ট্রাভার্স ঘুরল।

    ওকে দিয়ে কী করাচ্ছ?

    লুকিয়ে রাখলাম, সে যাদুদণ্ডটি বোগ্রোটের দিকে তাক করল। সে শিস দিয়ে একটি ছোট কার্টকে সামন করলো। কার্টটি চাকার উপর ঘরঘর করে অন্ধকার থেকে ওদের দিকে এল। হ্যারি নিশ্চিত যে ওদের পেছন থেকে চিন্তার চেঁচামেচির আওয়াজ হচ্ছে। ওরা সবাই কার্টটিতে উঠে বসল। প্রথমে বোগ্রোট, তার পেছনে গ্রিপহুক, হ্যারি, রন এবং হারমিয়ন। পেছনে ওরা জড়োসড়ো হয়ে বসেছে।

    একটি ঝাঁকি দিয়ে কাটটি চলতে শুরু করল। আস্তে আস্তে গতি বাড়ছে। ওরা দ্রুত ট্যাভার্সের পাশ দিয়ে গেল। সে ছিটকে দেয়ালের উপর গিয়ে পড়ল। তারপর কার্টটি লাফিয়ে বাক নিল প্যাসেজের ভেতর দিয়ে। সেটি শুধু নিচের দিকে নামতে থাকল। হ্যারি কার্টের ঘরঘর শব্দের জন্য অন্য কোনো শব্দ শুনতে পাচ্ছে না। তার চুলগুলো পেছন দিকে উড়ছে। একের পর এক পোস্ট পার হয়ে ওরা যেন গভীর থেকে গভীরে প্রবেশ করছে। কিন্তু হ্যারি ঘুরে ঘুরে পেছনে তাকাতে থাকল। ওরা হয়তো অসংখ্য পায়ের ছাপ পেছনে ফেলে এসেছে। হয়তো আরো বেশিষ বোকামি করেছে, হয়তো হারমিয়নকে বেলাট্রিক্স সাজানোতে বোকার মত ভুল ছিল। বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি ব্যবহার করায় ডেথ-ইটাররা জানে এটা কার কাজ

    হ্যারি আগে গ্রিনগেটসের যতটুকু গভীরে গেছে এখন ওরা তার চেয়েও গভীরে। ওরা এই গতির ভেতরও চুল বেধে নিল যাতে সবকিছু দেখতে পারে। সেকেন্ড কয়েকের ভেতর ওরা দেখল কার্টের ট্রাকের উপর ঝরনার পানি পড়ছে। হ্যারি গ্রিপহুককে চিৎকার করতে শুনল, না! কিন্তু কোনো গতি রোধ হল না। ওরা। সে ঝরনার পানির ভেতর দিয়ে প্রবেশ করল। পানি হ্যারির চোখ মুখ ভিজিয়ে দিল। সে না পারছে দম নিতে না পারছে দেখতে। কার্টটি একটি ঝাঁকি খেয়ে লাফিয়ে উঠল। ওরা সবাই সেটি থেকে ছিটকে পড়ল। কার্টটি গিয়ে একটি দেয়ালের উপর পড়ল এবং টুকরো টুকরো হয়ে গেল। হ্যারি শুনল হারমিয়ন চিৎকার করল। এবং হ্যারি বুঝতে পারল সে মাটির উপর, পাথরের মেঝের উপর পড়েছে কিন্তু ব্যাথা নেই।

    কু-কুশনিং চার্ম, হারমিয়ন কোনো রকমে বলল। রন তাকে টেনে তুলল। কিন্তু হ্যারি ভয়ানক দৃষ্টিতে দেখল যে সে আর বেলাট্রিক্সের ছদ্মবেশে নেই। বরং সে গায়ের চেয়ে বড় একটি গাউন পরা হারমিয়ন। সে পুরোপুরি ভেজা। রনের চুলগুলো লাল এবং দাড়ি উধাও হয়ে গেছে। ওরা ব্যাপারটি বুঝতে পারল একজন আরেকজনের দিকে তাকিয়ে।

    চোরদের ব্যর্থতা, গ্রিপহুক বলল। সে পায়ের উপর উঠে দাঁড়ালো এবং ট্র্যাকের উপরের প্রচুর পানি দেখতে পেল। হ্যারি এখন জানে যে পানির বদলে এটা অন্য কিছু। গ্রিপহুক আবার বলল, এই পানি সব যাদুর চার্ম ধুয়ে নিয়েছে! সব ধুয়ে নিয়েছে! ওরা জানে যে ছদ্মবেশে কেউ ঢুকেছে। তাই ওরা সব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা করে রেখেছে!

    হ্যারি দেখল হারমিয়ন চেক করে দেখছে তার এমবেডেড ব্যাগটি আছে কিনা। হ্যারি নিজেও দ্রুত জ্যাকেটের নিচে হাত দিয়ে দেখল অদৃশ্য আলখাল্লাটি ঠিক আছে কিনা। সে বোগোটের দিকে তাকিয়ে দেখল অবাক হয়ে সে মাথা নাড়ছে। চোরদের ব্যর্থতায় ইমপেরিয়াস কার্স মুছে গেছে।

    ওকে আমাদের দরকার! গ্রিপহুক বলল। একজন গ্রিনগোটস গুরলিন ছাড়া আমরা ভল্টের ভেতর ঢুকতে পারব না। এবং আমাদের ওই যন্ত্রপাতিও দরকার হবে!

    ইমপেরিও! হ্যারি আবার বলল। তার গলার শব্দ পাথরের প্যাসেজের ভেতর দিয়ে প্রতিধ্বনি তুলল। হ্যারি লক্ষ করল তার মাথা এবং যাদুদণ্ডের ভেতর দিয়ে একটি প্রবাহ চলে গেল। বোগ্রোট আবার আগেরমত অনুগত হয়ে গেল। রন নিচু হয়ে দ্রুত ধাতুর ব্যাগটি তুলে নিল।

    হ্যারি, আমি লোকজনের ধেয়ে আসার শব্দ শুনতে পাচ্ছি! হারমিয়ন বলল। সে বেলাট্রিক্সের যাদুদণ্ডটি ঝরনার সেই পানির দিকে ধরল এবং চিৎকার করে বলল, প্রোটেগো!

    ওরা দেখল শিল্ড চার্ম ভেঙে গেছে এবং যাদু করা ঝরনার পানি বন্ধ হয়ে গেছে।

    ভাল চিন্তা!, হ্যারি বলল। গ্রিপহুক পথ দেখিয়ে চলল।

    আমরা আবার বের হবো কীভাবে? রন বলল। ওরা দ্রুত হেঁটে চলছে। অন্ধকারের ভেতর দিয়ে। বোগ্রোট রীতি মতো একটি বুড়ো কুকুরের মত হাপাচ্ছে।

    সেটা সময় মত চিন্তা করো! হ্যারি বলল। সে কিছু একটা শুনতে চেষ্টা করছে। তার মনে হল কাছাকাছি কিছু ধাতব এবং কিছু নড়াচড়ার শব্দ পেল। সে গ্রিপহুককে জিজ্ঞেস করল, আর কতদূর!

    খুব বেশি দূর না হ্যারি পটার! খুব দূর না-

    ওরা একটি কোণের দিকে বাক নিল এবং যা দেখল সে জন্য হ্যারি প্রস্তুত ছিল। ওই কারণে ওদের দাঁড়িয়ে পড়তে হলো।

    একটি বিশাল দর্শন ড্রাগন আটকে আছে মাটির সঙ্গে। চার অথবা পাঁচটি ভন্টে প্রবেশের পথ আগলে আছে। এর পেছনের দিকটা আটকানো মাটির সঙ্গে। চোখ দুটো গোলাপি। পা দুটি শেকলের সঙ্গে বাধা এবং সেই শেকল পাথরের মেঝের মধ্যে প্রোথিত। এর বিশাল চোখ পাখা দুটো শরীরের সঙ্গে লেগে আছে। পাখা দুটো খুললে পুরো চেম্বার পর্যন্ত পৌঁছে যাবে। ড্রাগনটি ওদের দিকে কুৎসিৎ মাথাটি ফেলালো। এমন একটি বিকট শব্দ করল যে পাথরগুলো কাপতে থাকল। মুখ হা করতেই এমন বেগে আগুন বের হতে থাকল যে ওরা দৌড়ে প্যাসেজের কাছে চলে গেল।

    এটি আংশিক অন্ধ, হাপাতে হাপাতে গ্রিপহুক বলল। কিন্তু সে কারণেই এটি আরো নিষ্ঠুর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু আমাদের এটাকে যে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। এটা ক্ল্যাঙ্কারের শব্দ বোঝে। আমার কাছে দাও।

    রন গবলিনের হাতে ব্যাগটি দিল এবং সে ভেতর থেকে কয়েকটি যন্ত্র বের করল। ঝাঁকি দিলে এগুলো থেকে উচ্চ শব্দ হয়। গ্রিপহুক সেগুলো বের করলো বোগ্রোটের দিকে বাড়িয়ে দিল এবং বোগ্রোট সেগুলো দুর্বল হাতে নিল।

    তুমি জানো কি করতে হবে, গ্রিপহুক, রন, হারমিয়ন এবং হ্যারিকে বলল। এগুলো থেকে যখন শব্দ বের হবে তখন ড্রাগনটি যন্ত্রণা অনুভব করবে। আর সে থেমে যাবে। তখন বোগ্রোট হাত দিয়ে ভল্টের কপাট খুলে ফেলবে।

    ওরা আবার কোণার দিকে এগিয়ে গেল। ক্ল্যাঙ্কার্স ঝাঁকি দিতেই এক ধরণের আওয়াজ বের হয়ে পাথরের দেয়ালের উপর প্রতিধ্বনি তুলল এত বেশি আকর্ষণ করে যে হ্যারির মাথার ভেতর মনে হল কাঁপছে।

    ড্রাগনটি একটি বিকট আওয়াজ করল। তারপর শান্ত হয়ে গেল। হ্যারি দেখল ড্রাগনটি কাঁপছে। ওরা কাছে গেল এবং হ্যারি দেখল সেটির মুখের উপর অনেক দাগ। বুঝতে পারল যে এই শব্দের সঙ্গে থেমে যাওয়ার ব্যাপারে এটিকে ওভাবেই প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে।

    ওর হাত দিয়ে দরোজার উপর চাপ দেয়াও, গ্রিপহুক হ্যারিকে বলল। হ্যারি ওর যাদুদণ্ড আবার বোগ্রোটের উপর ধরল। বৃদ্ধ গবলিনটি কথামতো কাজ করল। কাঠের উপর হাতের তালু দিয়ে চাপ দিল। ভল্টের দরোজা নরম হয়ে খুলে গেল। দেখল একটি গুহার মত জায়গায় মেঝে থেকে সিলিং পর্যন্ত ভর্তি সোনার মুদ্রা, বড়বড় মগ, সিলভার হাতিয়ার, অদ্ভুত কোনো প্রাণীর চামড়া রয়েছে। কোনো কোনো চামড়ার সঙ্গে লম্বা, চোখা কাঁটা। ফেলে রাখা পাখা। মনিমুক্তার ফ্লাস্কের ভেতর পোশন এবং একটি মাথার খুলি, যার উপর একটি মুকুট চড়িয়ে দেয়া আছে।

    আগে সার্চ করো! ওরা ভল্টের ভেতরে ঢুকতেই হ্যারি বলল। সে আগেই হাফপাফ কাপের বর্ণনা করেছে রন এবং হারমিয়নের কাছে। কিন্তু ভল্টে যদি অন্য কোনোভাবে, কোনোকিছুর ভেতর হরক্রুক্স রাখা থাকে তাহলে সেটা দেখতে কেমন হবে হ্যারির জানা নেই। চারদিকে দেখার সময় প্রায় নেই। কোনো কিছু মোড়ানোর শব্দ হল। কিন্তু ততক্ষণে ওদের পেছনে দরোজাটি আবার দেখা দিল এবং ওদেরকে ভেতরে রেখেই সেটি লেগে গেল। ওরা গভীর অন্ধকারে নিমজ্জিত হল।

    কোনো ব্যাপার না, বোগ্রোট আমাদেরকে বের করে নিতে পারবে, রন চিৎকার করে উঠলে গ্রিপহুক বলল।

    তোমার যাদুদণ্ডটি জ্বালাও, পারবে না? এবং হ্যারি, আমাদের হাতে সময় খুবই কম।

    লিউমাস!

    হ্যারি ওর যাদুদণ্ডের আলো জ্বালল। ঘরে জুয়েলারির উপর আলো পড়ে সেগুলো জ্বল জ্বল করতে থাকল। সে দেখল এক কোনায় উঁচু শেলভে গ্রিফিনডোরের নকল তলোয়ারটি অকেজো চেইনের ভেতর রেখে দেয়া। রন এবং হারমিয়নও ওদের যাদুদণ্ডের আলো জ্বেলেছে। ওরা চারপাশে খুঁজতে থাকল।

    হ্যারি, এটা হতে পারে?-আর্গ! হারমিয়ন ব্যাথা পাওয়ার শব্দ করে উঠল এবং হ্যারি দ্রুত ঘুরে যাদুদন্দের আলোতে দেখল তার হাত থেকে একটি মনি–মানিক্যের মগ পড়ে যাচ্ছে। এক সেকেন্ড পরেই সারা ঘর একই রকম অসংখ্য কাপ দিয়ে ভরে গেল। চারদিকে ছড়িয়ে পড়ল। এর ভেতর থেকে আসলটা খুঁজে বের করা অসম্ভব।

    এটি আমার হাত পুড়িয়ে দিয়েছে! হারমিয়ন ককিয়ে বলল। সে তার আঙুলগুলো চুষছে।

    ওরা জেমিনো এবং ফ্লাগরান্টে কার্স দিয়ে রেখেছে, গ্রিপহুক বলল। তুমি যাই ছোবে সেটিতেই হাত পুড়বে এবং অসংখ্য কপি হয়ে যাবে কিন্তু ওই কপিগুলো মূল্যহীন। কিন্তু যদি তুমি অব্যাহতভাবে হাতাহাতি করতে থাকো তাহলে সোনার জিনিসের চাপে পড়ে তোমাকে মরতে হবে।

    ওকে, তোমরা কোনো কিছু ছুঁয়ে দিও না! হ্যারি বলল। সে কথা বলার প্রায় সাথে সাথেই রন দুর্ঘটনাবশত একটি কাপের উপর পা দিয়ে বসল। বিশগুণ বড় হয়ে বিস্ফোরিত হল কাপটি। রন লাফ দিয়ে জায়গাটি থেকে সরে গেল। গরম ধাতুর স্পর্শে তার জুতোর খানিকটা পুড়ে গেল।

    এই জায়গায় দাঁড়িয়ে থাকো! একটু নড়বে না! হারমিয়ন রনকে আকড়ে ধরে বলল।

    হ্যারি বলল, শুধু চারদিকে দেখতে থাকো। কাপগুলো হল ঘোট এবং গোলাকার। এর উপর বেজির ছবি খোদাই করা আছে। এর দুটি হাতল। অথবা দেখ র‍্যাভেনক্লোর কোনো প্রতীক দেখতে পাও কি না, একটি ঈগল-

    ওরা ওদের যাদুদণ্ড ধরে ধরে প্রতিটি কোণায় দেখল। তারপর অতি সতর্কতার সঙ্গে এক জায়গায় দাঁড়িয়ে ঘুরল। কোনো কিছু পায়ে মাড়িয়ে না দিয়ে উপায় নেই। হ্যারি নকল গ্যালিয়ন দিয়ে মেঝেতে বিছিয়ে দিল। মগগুলো একত্র হল। এখন সামান্য জায়গা তৈরি হল ওদের পা ফেলার মত। জ্বলজ্বলে সোনাগুলো তাপে পুড়ছে। মনে হল যেন আটকা জায়গা পুড়ছে। হ্যারির যাদুদণ্ডের আলো গবলিনদের তৈরি ঢাল, শিরোস্ত্রানের উপর দিয়ে উঠতে থাকল। সেগুলো সিলিং পর্যন্ত উঠে গেছে। হ্যারি বিমের কাছাকাছি আলো ফেলতেই হঠাৎ তার বুকের ভেতর প্রচণ্ড জোরে নাড়া দিয়ে উঠল। ওর হাত কেঁপে গেল।

    ওইখানে! জিনিসটা উপরে ওইখানে!

    রন এবং হারমিয়ন ওদের যাদুদণ্ডের আলো ফেলল, ফলে ছোট সোনার কাপটির উপর তিনটি আলো এসে পড়ল। ঝলমল করে উঠল, এই কাপটি ছিল হেলগা হাফপাফের। এটি পড়ে পেয়েছিল হেপজিভ স্মিথ। এবং তার কাছ থেকে জিনিসটি চুরি করে নিয়েছিল টম রিডল।

    এবং কোনোকিছু না ছুঁয়ে আমরা ওটাকে আনব কীভাবে? রন বলল।

    অ্যাকসিও কাপ! হারমিয়ন অস্থির হয়ে বলে বসল। সে গ্রিপহুকের বলে দেয়া কথাটা ভুলে গিয়েছিল।

    না এটা ব্যবহার করো না! গবলিন বলল। তাহলে কী করা যাবে? হ্যারি গবলিনের দিকে তাকিয়ে বলল। যদি তুমি তলোয়ারটি চাও, গবলিন, তাহলে আমাদেরকে সাহায্য কর। কী হবে যদি তলোয়ারটি দিয়ে আমি ওটা স্পর্শ করি? হারমিয়ন ওটা আমার কাছে দাও!

    হারমিয়ন তার গাউনের ভেতর থেকে টেনে ব্যাগটি বের করল। কয়েক সেকেন্ড ভেতরে হাত দিয়ে খুঁজল। তারপর জ্বলজ্বল করতে থাকা তলোয়ারটি বের করে আনল। হ্যারি তার হাত থেকে সেটি নিল এবং বাটের কাছে ধরল। সে তলোয়ালের ধারালো আগা দিয়ে একটি কৌটার উপর ছোঁয়া দিয়ে দেখল। কিন্তু কোনো কিছুই হল না।

    যদি আমি তলোয়ারের আগা দিয়ে খোঁচা দিতে পারতাম। কিন্তু ওখানে উঠব কি করে?

    কাপটি যে তাকে রয়েছে তা এত উপরে যে ওদের হাতের নাগালের বাইরে। ওর মধ্যে সবচেয়ে লম্বা রনও নাগাল পাচ্ছে না। ভেতরের জিনিসপত্র থেকে তাপ ছলকে বের হচ্ছে। হ্যারির মুখ এবং পিঠ বেয়ে ঘাম ঝরে পড়ছে। সে চিন্তা মগ্ন হয়ে গেছে কী করে ওই কাপটি নিচে নামানো যায় তা নিয়ে। ঠিক তখনই হ্যারি শুনতে পেল দরোজার ওপাশ থেকে ড্রাগনটি গর্জন শুরু করেছে। এবং ক্ল্যাঙ্কিং-এর শব্দ আরো স্পষ্ট হয়ে উঠছে।

    ওরা এখন সম্পূর্ণ আটকা পড়ে গেছে। দরোজা দিয়ে ছাড়া বের হওয়ার আর কোনো উপায় নেই। মনে হচ্ছে একদল গবলিন দরোজার অন্য প্রান্তে জড়ো হয়েছে। হ্যারি রন এবং হারমিয়নের দিকে তাকিয়ে দেখল ওরা ভয়ে কাতর হয়ে গেছে।

    ধাতব শব্দ আরো বাড়তে থাকলে হ্যারি বলল, হারমিয়ন, আমি উপরে উঠব, ওটা আমাদেরকে তুলে নিতেই হবে

    হারমিয়ন ওর যাদুদণ্ড তুলল। হ্যারির দিকে তাক করে বলল, লেভিকরপাস!

    হাটুতে ভর করে হ্যারি শুন্যে উপরে উঠে গেল। হ্যারি বেশ কয়েকটি হাতিয়ার এবং রেপ্লিকাকে আঘাত করার সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরিত হতে থাকল। সেগুলো গায়ের উপর গিয়ে পড়ায় রন, হারমিয়ন এবং গবলিন দুটি যন্ত্রণায় চিৎকার করে উঠল। ওরা অন্যান্য জিনিসগুলোর উপর গিয়ে পড়ল। সেগুলো থেকেও বিস্ফোরণের মত রেপ্লিকা বের হতে থাকল। লাল তপ্ত জিনিসগুলোর ভেতর থেকে তলোয়ারের আগাটি কাপের হাতলে ঢোকাতে প্রচণ্ড চেষ্টা করল, চিৎকার করল। হ্যারি হুকের মত ঢুকিয়ে ফেলল।

    ইমপারভিয়াস! চিৎকার করে হারমিয়ন বলল। নিজেকে রন এবং গবলিনদের তপ্ত জিনিসগুলো থেকে রক্ষা করতে চাইল।

    এরপরই হ্যারি আরো ভয়ানক চিৎকারের শব্দ শুনতে পেল। নিচের দিকে তাকিয়ে হ্যারি দেখল রন এবং হারমিয়ন কোমোর পর্যন্ত জিনিসগুলোর ভেতর দাঁড়িয়ে বোগ্রোটকে জিনিসের স্রোতের ভেতর থেকে টেনে তুলতে চেষ্টা করছে। কিন্তু গ্রিপহুক ডুবে গেছে, শুধু তার লম্বা আঙুলগুলো শেষবারের মত দেখা যাচ্ছে।

    হ্যারি দ্রুত গ্রিপহুকের আঙুলগুলো ধরল এবং টেনে তুলল। প্রচণ্ড যন্ত্রণা কাতর গবলিনটি বেশ খানিকটা বের হয়ে গোঙাতে থাকল।

    লিবারাকারপাস! চিৎকার করে হ্যারি বলল। সে এবং গ্রিপহুক মেঝেতে দ্রুত ছড়িয়ে পড়া জিনিসগুলোর ভেতরে পড়ল। তলোয়ারটি হ্যারির হাত থেকে ছিটকে পড়ে গেল।

    ওটা ধর! হ্যারি গায়ের উপর থেকে তপ্ত জিনিসগুলো সরাতে সরাতে চিৎকার করে বলল। গ্রিপহুক ওর কাঁধে উঠে বসেছে ছড়িয়ে পড়া জিনিসগুলো থেকে নিজেকে রক্ষা করার জন্য। তলোয়ারটি কই! এটার সঙ্গেই কাপটি আছে!

    দরোজার ওপাশের ক্ল্যাঙ্কিং এর শব্দ কান ফাটিয়ে দিচ্ছে। অনেক দেরি হয়ে যাচ্ছে

    ওই তো!

    পিহুক ওটা দেখেছে এবং ঝাঁপিয়ে সেটা ধরল। এবং তাৎক্ষণিক হ্যারির মনে পড়ল যে গবলিনরা কখনো বিশ্বাস করে না যে ওরা কথা রাখবে। একহাত দিয়ে শক্ত করে হ্যারির চুল ধরে রেখে অন্য হাত দিয়ে তলোয়ারের বাটটি গ্রিপহুক ধরল এবং ঘুরিয়ে সেটি হ্যারির নাগালের বাইরে নিয়ে গেল।

    তলোয়ারের গেথে থাকা ছোট কাপটির হাতল ছুটে শুন্যে উঠে গেল। গবলিন তখনো হ্যারিকে শক্ত করে পেচিয়ে ধরে আছে। হ্যারি লাফ দিয়ে কাপটি ধরল। যদিও সেটি হ্যারির চামড়া পুড়িয়ে দিচ্ছে, কিন্তু হ্যারি ছাড়ল না। তার হাতের ভেতর থেকে হাফলপাফ কাপের অসংখ্য রেপ্লিকা ছড়িয়ে পড়ছে। তার গায়ের উপর পড়ছে। ঠিক তখনই ভল্টের দরোজাটি খুলে গেল। তখনই হ্যারি, রন এবং হারমিয়ন পিছলে ভল্ট থেকে বাইরের চেম্বারে এসে পড়ল।

    সারা শরীরে যে পোড়া যন্ত্রণা হচ্ছে সেকথা ভুলে গেল। এখনো রেপ্লিকাগুলো ভল্ট থেকে বের হচ্ছে। হ্যারি কাপটি পকেটে ভরে ফেলল এবং তলোয়ারটি নেয়ার জন্য হাত বাড়ালো। কিন্তু গ্রিপহুক সরে গেছে। হ্যারির কাঁধ থেকে সরে গিয়ে চারদিকের গবলিনদের ভেতরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তলোয়ারটি উঁচু করে ধরে চিৎকার করে বলতে থাকল, চোর! চোর! তোমরা সাহায্য কর! চোর! সে এগিয়ে আসা গবলিনদের ভীড়ের ভেতর মিশে গেল। সবার হাতে বড়বড় ছোরা। তারা ওকে কোনো প্রশ্ন ছাড়াই চোর হিসাবে নিয়েছে। হ্যারির পা পিছলে যাচ্ছে। দাঁড়িয়ে থাকতে বেগ পেতে হচ্ছে। সে জানে যে একমাত্র সামনের পথ দিয়ে বের হওয়া ছাড়া উপায় নেই।

    স্টুপিফাই! হ্যারি বলল। রন এবং হারমিয়নও তার সঙ্গে যোগ দিল। একটি লাল আলো গবলিনদের ভেতর গিয়ে পড়ল। বেশ কয়েকটি গবলিন ছিটকে পড়ল। কিন্তু বাদবাকীগুলো এগিয়ে আসতে থাকল। হ্যারি দেখল এক পাশ দিয়ে বেশ কয়েকটি উইজার্ড প্রহরী দৌড়ে আসছে।

    আটকে থাকা ড্রাগনটি গর্জন করে উঠল এবং তার মুখ থেকে আগুন বের হয়ে গবলিনদের মাথার উপর দিয়ে উইজার্ডদের দিকে গেল। হ্যারি এতে উৎসাহী হয়ে, কী মনে করে তার যাদুদণ্ডটি ড্রাগনের আটকানো দরোজার কাগুলোর দিকে ধরল এবং বলল, রেলাশিও!

    একটি শব্দ করে ড্রাগনের আটকে রাখা কজাগুলো খুলে গেল।

    এই দিকে দিয়ে আসো! সে চিৎকার করে বলল। একই সঙ্গে এগিয়ে আসা গবলিনদের দিকে স্টান ছুঁড়তে থাকল। সে প্রায় অন্ধ ড্রাগনটার দিকে দৌড়াতে থাকল।

    হ্যারি, হ্যারি! তুমি কি করতে যাচ্ছ? হারমিয়ন চিৎকার করে বলল।

    আসো! উঠে পড়! চলে এস!-।

    ড্রাগনটি বুঝতে পারেনি যে মুক্ত হয়ে গেছে। হ্যারি পা দিয়ে ড্রাগনের পেছনের পায়ের হুকের স্পর্শ পেল। সে সেটির উপর ভর করে নিজেকে ড্রাগনের পিঠের দিকে তুলে নিল। জটার পিঠ স্টিলের মত শক্ত। ফলে এটি বুঝতে পারেনি যে পিঠে কিছু আছে। সে হাত বাড়িয়ে দিল এবং হারমিয়ন তার হাত ধরে উঠে এল। রন ওদের পেছনে বেয়ে উঠল। কয়েক মুহূর্তের ভেতর ড্রাগনটি বুঝতে পারল যে সে আর মাটির সঙ্গে গেঁথে নেই।

    একটি গর্জন করে ড্রাগনটি উঠে দাঁড়ালো। হ্যারি হাঁটু গেড়ে শক্ত করে ধলে থাকল। ড্রাগন দুই পাখা মেলে দিল। গবলিনগুলো দু পাশে ছিটকে পড়ল। ড্রাগন উড়াল দিল। হ্যারি, হারমিয়ন এবং রন পিঠে বসে আছে। সামনে প্যাসেজ দিয়ে যাওয়ার সময় উপরের সিলিঙের সঙ্গে ড্রাগনের বিশাল শরীর ঘষে যেতে লাগল। দুপাশে গবলিনের ছুঁড়ে দেয়া ছোরাগুলো চোখের কোণে চিক চিক করে উঠছে।

    আমরা বের হতে পারব না, এটার শরীর অনেক বড়! হারমিয়ন চিৎকার করে বলল। কিন্তু ড্রাগনটি মুখ হা করে আগুনের হলকা ছাড়ল টানেলটি বড় করার জন্য। টানেলের মেঝে এবং সিলিং ভেঙে ভেঙে পড়তে থাকল। ড্রাগনটি ওর সামনের পায়ের নখ দিয়ে প্রচণ্ড শক্তিতে ঢুকতে চেষ্টা করল। হ্যারি চোখ আটকে রাখল উপর থেকে পাথরের খণ্ড পড়ার সময় ধুলো এবং টুকরো থেকে চোখ রক্ষা করার জন্য। সে শুধু ধরে বসে থাকা ছাড়া কিছু করার দেখছে না। যে কোনো সময় অতি জোরে ঝাঁকিতে খসে পড়ে যেতে পারে। ঠিক তখনই শুনল হারমিয়ন চিৎকার করে বলল, ডিফেডিও!

    সে ড্রাগনটিকে প্যাসেজের পথ বড় করতে সাহায্য করছে। ড্রানটি উপরে ওঠার চেষ্টা করছে আর ছাদের অংশ ভাঙছে। গবলিনরা পেছনে পড়ে গেছে। হ্যারি এবং রনও তার দেখাদেখি তাই করল। আরো বেশি স্পেলের কারণে সিলিং ফেটে আলাদা হয়ে যেতে থাকল। ড্রাগনসহ ওরা আন্ডারগ্রাউন্ডের লেকটি পার হল। হামাগুড়ি দিয়ে আগানো ড্রাগনটি মুক্তির স্বাদ পেয়েছে, সামনে সে জায়গা দেখতে পাচ্ছে। প্যাসেজে ড্রাগনের লেজের বাড়িতে পাথরের খণ্ডগুলো সব পেছনের পথ বন্ধ করে দিচ্ছে। গবলিনদের ধাতব শব্দ অনেকটাই ঢাকা পড়ে যাচ্ছে। আর সামনের দিকে ড্রাগনের ভয়ানক আগুন রাস্তা পরিস্কার করে ফেলছে

    অবশেষে ড্রাগনের বন্য শক্তিতে এবং ওদের সবগুলো যাদুদণ্ডের স্পেলের কারণে সামনে মার্বেল হলের দিকে ভেঙে ওদের পথ পরিস্কার হয়ে গেল। গবলিন এবং উইজার্ডরা চিৎকার চেঁচামেচি করে চারদিকে দৌড়ে নিজেদের রক্ষা করতে চেষ্টা করল। শেষমেষ ড্রাগন পাখা মেলার জন্য যথেষ্ট জায়গা পেল। শিং এর মত মাথাটি বাইরের ঠাণ্ডা বাতাসের দিকে ফেরালো। ভেতর থেকেই হয়তো সে বাতাসের ঘ্রাণ পেয়ে থাকবে। ওদের সবাইকে পিঠে এখনো শক্ত করে বসে আছে। ড্রাগনটি তার শক্তি দিয়ে ধাতব দরোজা ভেঙে বের হয়ে গেল। পেছনে ধাতব অবকাঠামো আধা ভাঙা রেখে ড্রাগন আকাশে উঠে এল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই – জে ডি সালিঞ্জার, অনুবাদ – রাফায়েত রহমান রাতুল
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }