Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প937 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ৩৬. দ্য ফ্ল ইন দ্য প্ল্যান

    ৩৬. দ্য ফ্ল ইন দ্য প্ল্যান 

    হ্যারি আবারো মেঝের উপর মুখ থুবড়ে পড়ে আছে। বনের গন্ধ তার নাকে এসে লাগছে। সে থোতমার নিচে মাটির ঠাণ্ডা পরশ অনুভব করছে এবং চশমার কবজা অনুভব করল। পড়ে যাওয়ার সময় সেটি ছিটকে পড়েছিল এবং ওর কপালও কেটে গেছে। শরীরের প্রতি ইঞ্চি জায়গায় ব্যাথা অনুভূত হচ্ছে। এবং শরীরের যে জায়গাটিতে কার্স লেগেছে সেখানে মনে হচ্ছে যেন লোহার দস্তানা পরে ঘুষি মেরেছে। সে নড়াচড়া করেনি, ঠিক যেভাবে পড়েছে সেভাবেই উবু হয়ে আছে। বা হাতটি বাঁকা হয়ে পড়ে আছে, মুখটি হা করা।

    সে মনে করল, তার মৃত্যুতে চিৎকার, আনন্দ উল্লাসের শব্দ পাওয়া যাবে, কিন্তু দ্রুত চলার পায়ের শব্দ এবং ফিসফিস করে শব্দ শোনা যাচ্ছে। বাতাসে উদ্বিগ্ন কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

    মাই লর্ড…মাই লর্ড…

    বেলাট্রিক্সের গলা। তার কণ্ঠস্বরে মনে হল যেন সে প্রেমিকের সঙ্গে কথা বলছে। হ্যারি চোখদুটো খোলার সাহস পেল না। কিন্তু তার অন্য ইন্দ্রিয়গুলো সজাগ রেখে পরিস্থিতি অনুধাবন করতে চেষ্টা করল। সে বুঝতে পারল যে তার যাদুদণ্ডটি এখনো বুকের ভেতরে লুকানো আছে। কারণ উবু হয়ে থাকার ফলে যাদুদণ্ডটির চাপ লাগছে বুকে। পেটের কাছে সামান্য বালিশের মত অনুভব হওয়ায় বুঝতে পারল অদৃশ্য আলখাল্লাটিও গাউনের নিচে পেটের কাছে লুকানো আছে।

    মাই লর্ড…

    কাজ হবে, ভোল্ডেমর্টের গলা শোনা গেল।

    আরো পায়ের শব্দ। একই জায়গা থেকে যেন কয়েক জনের পেছনে সরে যাওয়ার শব্দ। কী ঘটছে সেটা বোঝার জন্য অস্থির হয়ে হ্যারি চোখটা অতি সামান্য, এক মিলিমিটার পরিমান খুলল।

    মনে হল ভোভেমটের পা দেখতে পেল। তার কাছাকাছি থেকে বেশ কয়েকটি ডেথ-ইটার দ্রুত সরে গেল। ভীড়ের ভেতর যেন জায়গা পরিস্কার করল। বেলাট্রিক্স হাঁটু গেড়ে ভোল্টেমর্টের পেছনেই অবস্থান করছে।

    হ্যারি আবার চোখ বন্ধ করল এবং যা দেখল তা বুঝতে চেষ্টা করল। ডেথ ইটাররা ভোল্টেমর্টের চারপাশে ভীড় করে আছে। মনে হল যেন ভোল্ডেমর্ট মাটিতে পড়ে আছে। সে যখন হ্যারিকে কার্স ছুঁড়ে দিয়েছে তখন কিছু একটা ঘটনা ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে। ভোল্ডেমর্টও কি আঘাত পেয়েছে? তাই তো মনে হচ্ছে। মনে হচ্ছে দুজনই পড়ে অচেতন হয়ে গিয়েছিল এবং দুজনই এখন আবার চেতনা ফিরে পাচ্ছে…

    মাই লর্ড, আমাকে দিন…

    আমার কোনো সাহায্যর দরকার নেই, ভোল্ডেমর্ট শান্তকণ্ঠে বলল। যদিও দেখতে পাচ্ছে না কিন্তু হ্যারির মনে হল বেলাট্রিক্স তার সাহায্যে বাড়িয়ে দেয়া হাতটি সরিয়ে নিল। এই ছোকরাটি…সে কি মরে গেছে?

    পুরো জায়গাটায় যেন নিরবতা নেমে এল। কেউ হ্যারির দিকে এগিয়ে এল না, কিন্তু সবগুলো চোখ তারদিকে মনোযোগের সঙ্গে তাকিয়ে আছে। মনে হল সে মাটির সঙ্গে আরো চাপ অনুভব করল। হ্যারি ভয় পেল হয়তো তার একটি আঙুল বা একটুখানি চোখের পলক নড়ে ওঠে কি না।

    তুমি, ভোল্ডেমর্ট বলল। তখনই একটি শব্দ হল এবং ছোট করে আহত চিৎকারের শব্দ শোনা গেল। তুমি ওকে পরীক্ষা করে দেখ? আমাকে জানাও সে মরে গেছে কি না।

    হ্যারি বুঝতে পারল না কাকে পরীক্ষা করতে পাঠানো হল। সে শুধু শুয়ে থাকতে পারে তার হৃদপিণ্ড বিশ্বাসঘাতকের মত জোরে জোরে লাফাচ্ছে। সে শুধু পরীক্ষার জন্য অপেক্ষা করছে। কিন্তু একই সময় একটুখানি স্বস্তির সঙ্গে হ্যারি অনুভব করল যে ভোল্ডেমর্ট নিজে সতর্ক হয়ে তার কাছে আসেনি। তারমানে ভোল্ডেমর্ট সন্দেহ করেছে যে সবকিছু ঠিকঠাক মত হচ্ছে না…

    হ্যারির প্রত্যাশার চেয়ে অনেক কোমল একটি হাত তার মুখ স্পর্শ করল। হ্যারির চোখের পাতা টেনে দেখল। শার্টের নিচে হাত ঢুকিয়ে দিল। বুক পর্যন্ত হাত নিয়ে হ্যারির হৃদপিণ্ডটা পরীক্ষা করল। হ্যারি মহিলার ঘণ নিঃশ্বাসের শব্দ শুনতে পেল। মহিলার চুলগুলো এসে মুখের উপর পড়ল। হ্যারি বুঝতে পারল যে মহিলা ওর বুকের হৃদপিণ্ড চলার শব্দটি শুনতে পেয়েছে।

    ড্র্যাকো কি বেঁচে আছে? সে কি ক্যাসলে?

    ফিসফিস করে কথাটা কোনোক্রমে শোনা গেল। তার মুখটি হ্যারির কান থেকে মাত্র ইঞ্চিখানেক দূরে। তার মাথাটি হ্যারির মুখের এতটা কাছে যে মহিলার চুলগুলো অন্যদের দেখাটা ঢেকে ফেলেছে।

    সে কোনোক্রমে নিঃশ্বাসের সঙ্গে বলল, হ্যাঁ।

    হ্যারি অনুভব করল যে মহিলার হাত তার পেটে এক ধরণের যোগাযোগ তৈরি করেছে। তার নখগুলো দিয়ে হ্যারির পেটের উপর একটু চাপ দিল। তারপর হাতটি তুলে নিয়ে সে উঠে বসল।

    সে মারা গেছে! তাকিয়ে থাকা অন্যদের দিকে চেয়ে নার্সিসা ম্যালফয় বলল।

    এবার তারা চিৎকার করতে শুরু তরল, উল্লাস করতে শুরু করল। পা বাড়ি দিতে থাকল। হ্যারি চোখের কোণ দিয়ে দেখল তারা আনন্দ করতে আকাশে নীল লাল আলো ছড়িয়ে দিচ্ছে।

    সে মরার মত ভান করে থেকে বুঝতে পারল। নার্সিসা জানে হোগার্টে প্রবেশের অনুমতি একমাত্র মিলবে এবং সন্তানকে খুঁজে পাওয়া যাবে যদি বিজয়ী আর্মির অংশ হিসাবে যাওয়া যায়। ভোল্ডেমর্ট জয় পেল কিনা সেটা তার কাছে এখন আর কোনো বিষয় নয়।

    তোমরা দেখেছ! ভোল্ডেমর্ট হট্টগোল করতে থাকাদের উদ্দেশে উচ্চস্বরে বলল। হ্যারি পটারের আমার হাতেই মৃত্যু হয়েছে। এখন জীবিত কোনো লোকই আমার জন্য হুমকী হয়ে দাঁড়াতে পারবে না! দেখ! ক্রুসিও!

    হ্যারি এটি ধারণা করছিল। সে জানতো যে তার শরীরটিকে এভাবে জঙ্গলের মাটিতে পড়ে থাকতে দেবে না। ভোল্টেমর্টের বিজয়কে প্রমাণের জন্য শরীরটিকে অপমান করতে চেষ্টা চলবে। হ্যারিকে শুন্যে তুলে ফেলা হল। হ্যারি দৃঢ়ভাবে চেষ্টা করে নিথর হয়ে থাকল। তারপরও যতটা ব্যথা সে আশা করেছিল ততটা হল না। তাকে একবার, দুবার, তিনবার শুন্যে ছুঁড়ে দেয়া হল। তার চোখের চশমাটি ছিটকে পড়ল। গাউনের নিচে কোমরে লুকিয়ে রাখা যাদুদণ্ডটি একটু খানি নড়ে গেল। কিন্তু সে তার শরীরটিকে নিথর এবং প্রাণহীন করে রাখল। শেষবার যখন তার শরীরটা মাটিতে পড়ল তখন উপস্থিত সবাই উচ্চস্বরে চিৎকার করে উঠল, উল্লাস করে হাসতে থাকল।

    এখন, ভোল্ডেমর্টে বলল। আমরা ক্যাসলে ফিরে যাব। এবং ওদেরকে দেখাবো যে তাদের হিরোর কি অবস্থা হয়েছে। দেহটি কে বয়ে নেবে? না, দাঁড়াও

    বেশ কয়েকজন হেসে উঠল এবং একটু পরেই হ্যারি অনুভব করল তার নিচের মাটি একটু কেপে উঠল।

    তুমি ওকে বয়ে নিয়ে যাবে, ভোল্ডেমর্ট বলল। তোমার কাঁধে তাকে সুন্দর দেখাবে, তাই না? তোমার ছোট্ট বন্ধুটিকে তুলে নাও, হ্যাগ্রিড! আর এই চশমাটি চশমাটি পরিয়ে দাও–তাকে যেন চেনা যায়।

    কেউ একজন হ্যারির চশমাটি তার চোখে ঠেসে পরিয়ে দিল। কিন্তু যে বিশাল হাতটি তাকে তুলে ধরল সেটি যথেষ্ট কোমল। হ্যারি অনুভব করল হ্যাগ্রিডের হাতটি কাপছে, সে কাঁদছে সেটি বোঝা গেল। ওকে হাতে তুলে নেয়ার সময় তার চোখের পানি হ্যারির গায়ে পড়ল। কিন্তু এখনো সব শেষ হয়ে যায়নি সেটা হ্যাগ্রিডকে বোঝানোর কোনো চেষ্টা করার সাহস দেখালো না। একটু নড়ল না বা কিছু বলতে চেষ্ট করল না।

    চলো, ভোল্ডেমর্টে বলল। হ্যাগ্রিড সামনের দিকে পা ফেলল। সে ঘোট ঘোট গাছ ঠেলে সামনের জঙ্গলের দিকে যেতে থাকল। গাছের শাখাগুলো হ্যাগ্রিডের চুল এবং গায়ের পোষাকে আটকে যাচ্ছে। আর হ্যাগ্রিডের কাঁদতে থাকার কারণে কেউ লক্ষ করতে পারল না যে হ্যারির একটু আধুট পালস চলছে কিনা

    ডেথ-ইটারদের পেছনে দৈত্য দুটি আসতে থাকল। হ্যারি তাদের চলার কারণে মড়মড় করে গাছে ভাঙার শব্দ শুনতে পেল। ওরা এমনভাবে উচ্চ শব্দ করতে থাকল যে গাছের পাখিগুলো উচ্চ আকাশে উঠে চিৎকার করতে থাকল। এমনকি ডেথ-ইটারদের উল্লাসের শব্দও চাপা পড়ে গেল। বিজয়ের মিছিল ফাঁকা জায়গার দিকে চলতে থাকল। এবং হ্যারি বন্ধ চোখে আলো পড়া থেকে বুঝতে পারল যে জঙ্গল পাতলা হয়ে এসেছে।

    বেইন।

    হ্যাগ্রিডের চিল্কারের কারণে হ্যারি প্রায় চোখ খুলে ফেলেছিল। তোমরা এখন সুখি তো, তোমরা যুদ্ধ করলে না, ভীতুর হদ্দগুলো! এখন খুশি যে হ্যারি পটার মরে গেছে…?

    হ্যাগ্রিড আর বলতে পারল না। আবার কেঁদে ফেলল। হ্যারি ভাবল কত প্রাণী ওদের এই মিছিল দেখছে? সে দেখার জন্য চোখ খোলার সাহস পেল না। পাশ দিয়ে যাবার সময় বেশ কিছু সেনটাউরকে ডেথ-ইটাররা তিরস্কার করল। একটু পরেই হ্যারি অনুধাবন করল যে ওরা জঙ্গলের এক প্রান্তে চলে এসেছে।

    থামো।

    হ্যারি ভাবল যে অবশ্যই হ্যাগ্রিডকে ভোল্ডেমর্টের আদেশ মানতে হবে। ওরা যেখানে দাঁড়িয়ে আছে সেখানে একটা ঠাণ্ডা ভাব অনুভূত হল। হ্যারি ডেমেনটরদের কর্কশ শব্দ শুনতে পেল, ওরা গাছগুলোর ভেতর দিয়ে পাহারা দিচ্ছিল। এখন ওরা হ্যারির জন্য কোনো সমস্যা নয়। ওর নিজের বেঁচে থাকাটাই হ্যারির ভেতরে এখন পোড়াচ্ছে, তাদের বিরূদ্ধে এক মন্ত্রপূত রক্ষাকবচ, যেন ওর বাবা হৃদয়টা রক্ষা করে চলছে।

    কেউ একজন হ্যারির পাশ দিয়ে চলে গেল। হ্যারি বুঝল যে এটা ছিল ভোল্ডেমর্ট। কারণ পর মুহূর্তেই ভোল্ডেমর্ট কথা বলে উঠল। তার কণ্ঠে এমন এক যাদুর মত চুম্বকায়িত করা যে মাটিতে ধাক্কা খেয়ে তা হ্যারির কানে এসে বাজল।

    হ্যারি পটার মারা গেছে। সে পালাবার চেষ্টা করলে তাকে হত্যা করা হয়। সে তোমাদেরকে তার নিজের জন্য মৃত্যুর মুখে ঠেলে দিয়ে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করেছিল। আমরা তার দেহটি প্রমাণ হিসাবে নিয়ে এসেছি যে তোমাদের হিরো শেষ হয়ে গেছে।

    যুদ্ধে জয় হয়ে গেছে। তোমরা তোমাদের অর্ধেক যোদ্ধাকে হারিয়েছ। আমার ডেথ-ইটাররা তোমাদের সংখ্যাকে একেবারে কমিয়ে দিয়েছে এবং বয়-ই-লিভড খতম হয়ে গেছে। এখন আর কোনো যুদ্ধ হবে না। পুরুষ, নারী বা শিশু যেই এখন প্রতিরোধ করতে চেষ্টা করবে তাকে হত্যা করা হবে, তাদের তাদের পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে। ক্যাসল থেকে বেরিয়ে আসো, মাথা নত করে আমার সামনে দাঁড়াও তাহলে তোমরা বেঁচে যাবে। তোমাদের পিতা-মাতা এবং সন্তানরা, তোমাদের ভাই-বোনরা বেচে যাবে। সবাইকে ক্ষমা করে দেয়া হবে এবং আমার সঙ্গে যোগদান করো। আমরা নতুন করে জগত তৈরি করবো।

    ক্যাসল এবং ক্যাসলের বাইরে গ্রাউন্ডে সুনসান নিরবতা। ভোভেমট হ্যারির এতটা কাছে চলে এসেছে যে হ্যারি চোখ খুলতে সাহস পাচ্ছে না।

    আসো, ভোল্ডেমর্ট বলে চলতে শুরু করল। হ্যাগ্রিড তাকে অনুসরণ করতে বাধ্য হল। এবার হ্যারি সামান্য একটু চোখের পলক ফাঁক করে দেখল ভোল্ডেমর্ট ওদের আগে আগে হাঁটছে এবং তার গলার সঙ্গে জড়িয়ে আছে নাগিনী। নাগিনীকে এখন যাদু করা চা থেকে মুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ডেথ-ইটারদের চোখ ফাঁকি দিয়ে হ্যারির গাউনের নিচে লুকানো যাদুদণ্ডটি বের করা কোনোক্রমেই সম্ভব নয়। ডেথ-ইটারগুলোও ওদের দুপাশে চলছে…।

    হ্যারি, হ্যাগ্রিড ফোপাতে থাকল, ওহ্ হ্যারি… হ্যারি…

    হ্যারি ওর চোখ আবার শক্ত করে বন্ধ করল।

    হ্যারি আবার শক্ত করে চোখের পাতা বন্ধ করল। হ্যারি বুঝতে পারল যে ওরা ক্যাসলের দিকে আগাচ্ছে। হ্যারি প্রচণ্ডভাবে চেষ্টা করল ডেথ-ইনারদের কোলাহলের মধ্যে ভেতরে জীবিতদের শব্দ শোনার জন্য।

    থামো।

    ডেথ-ইটাররা দাঁড়িয়ে পড়ল। হ্যারি বুঝতে পারল ওরা ছড়িয়ে পড়ছে স্কুলের দরোজার চারদিকে। সে চোখের পাতা বন্ধ অবস্থাতেই দেখতে পেল যে এনট্রান্স হলের ভেতর থেকে ওর উপর আলো এসে পড়েছে। সে অপেক্ষা করল। যাদের জন্য হ্যারি মরতে চেষ্টা করেছে তারা যে কোনো মুহূর্তে দেখতে পাবে যে দৃশ্যত হ্যারি মারা গেছে, এবং এখন হ্যাগ্রিডের কাধের উপর।

    না!

    এই চিৎকারটি তার কাছে ভয়ানক মনে হল, কারণ সে আশা করেনি বা স্বপ্নেও ভাবেনি যে প্রফেসর ম্যাকগোনাগল এভাবে আওয়াজ করতে পারেন। সে কাছে থেকেই অন্য একজন মহিলার উচ্চহাসির শব্দ শুনল। প্রফেসরের ওই হতাশ আওয়াজের উত্তরে বেলাট্রিক্স হেসে উঠেছে। সে মুহূর্তের জন্য চোখ খুলে দেখল যে দরোজার সামনে অনেকে জড়ো হয়েছে। যুদ্ধে যারা জীবিত আছে তারা সামনে। এগিয়ে এসেছে তাদের পরাজয়কারীকে এবং হ্যারির সত্যিকারের মৃতদেহটা দেখতে। হ্যারি দেখল ভোল্ডেমর্ট তার থেকে একটু সামনে দাঁড়িয়ে আছে। একটি সাদা আঙুল দিয়ে নাগিনীর মাথা বুলাচ্ছে। সে আবার চোখ বন্ধ করল।

    না!

    না!

    হ্যারি! হ্যারি!

    রন, হারমিয়ন এবং জিনির গলা প্রফেসর ম্যাকগোনাগলের চেয়েও আরো ভয়াবহ শোনালো। হ্যারির মনে হল ওদেরকে ডেকে উঠতে, কিন্তু সে নিথর হয়ে রইল। ওদের চিৎকার মনে হল একটি ট্রিগারের মত কাজ করল, অন্য বেঁচে থাকারাও চিৎকার করে

    ডেথ-ইটারদের গালিগালাজ করতে থাকল। যে পর্যন্ত।

    শান্ত হও! ভোল্ডেমর্ট উচ্চস্বরে বলল। একটি বিকট শব্দ হল এবং আলোর ঝলকানি দেখা গেল। নিরবতা ওদের উপর প্রয়োগ করা হল। খেলা শেষ হয়ে গেছে! ওকে নিচে আমার পায়ের কাছে নামিয়ে রাখো, হ্যাগ্রিড! এই স্থানের জন্য সে উপযুক্ত!

    হ্যারি বুঝতে পারল তাকে ঘাসের উপর নামিয়ে রাখা হল।

    তোমরা দেখেছ? ভোল্ডেমর্ট বলল। এবং হ্যারি অনুভব করতে পারল তাকে যেখানে নামিয়ে রাখা হয়েছে তার পাশেই লম্বা পা ফেলে ভোল্ডেমর্ট সামনে পেছনে হাঁটছে। হ্যারি পটার মৃত! এখন তোমরা বুঝতে পেরেছ বোকার দল? সে কোনো কিছুই ছিল না। সে একটা ছেলে যে নিজের জন্য অন্যদের ত্যাগের উপর নির্ভর করতো।

    সে তোমাকে পরাজিত করেছে! রনের চিৎকার শোনা গেল। যাদু ভেঙ্গে গেছে। ফলে স্কুল রক্ষাকারীদের চিৎকার চেঁচামেচি আবারো শোনা গেল। এবার আরো জোরে শব্দ হল। এবং আবারো সবার কণ্ঠ স্তব্ধ হয়ে গেল।

    সে নিহত হয়েছে যখন সে ক্যাসলের মাঠ দিয়ে চুপে চুপে পালিয়ে যাচ্ছিল তখন, ভোল্ডেমর্ট বলল। এ মিথ্যা বলার সময় তার কণ্ঠে একটা আত্মসুখ ফুটে উঠল। নিহত হয়েছে যখন সে শুধু নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করছিল-

    কিন্তু ভোল্ডেমর্ট হঠাৎ থেমে গেল : হ্যারি একটা শব্দ পেল এবং সঙ্গে একটি চিৎকার। তারপর আরো একটি ধুম করে শব্দ। একটা আলোর ঝলকানি দেখা গেল এবং তারপর ব্যাথায় ঘোৎ ঘোৎ শব্দ শোনা গেল। হ্যারি প্রায় শুন্যের কাছাকাছি পরিমান চোখ খুলল। কেউ একজন ভীড়ের ভেতর থেকে বের হয়ে এসেছে এবং ভোল্টেমর্টের দিকে কার্স ছুঁড়ে দিয়েছে। হ্যারি দেখল সে শরীরটি আঘাত পেয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে। সে পুরোপুরি নিরস্ত্র। ভোল্ডেমর্ট ওই চ্যালেঞ্জারের যাদুদণ্ডটি পাশে ছুঁড়ে দিয়ে হাসি দিল।

    এটা কে রে? সাপের মত হিসহিস শব্দ করে সে বলল। যুদ্ধে হেরে গিয়েও প্রতিরোধের চেষ্টা করলে কী হতে পারে তার প্রমাণ রাখল এটা কে?

    বেলাট্রিক্স উল্লসিত হয়ে হাসল।

    এটা হল নেভিল লঙবটম, মাই লর্ড! যে ছোকরাটি ক্যারোসকে বহু জ্বালাতন করেছিল। অবরোরের ছেলে, মনে করতে পারেন?

    আহ, হ্যাঁ মনে পড়েছে, ভোল্ডেমর্ট বলল। সে চোখ নামিয়ে নেভিলের নিচে নেভিলের দিকে দেখল। নেভিল উঠে দাঁড়াতে চেষ্টা করছে। সে পুরোপুরি নিরস্ত্র, এবং অরক্ষিত। ডেথ-ইটার এবং বেঁচে থাকা ওদের যোদ্ধাদের মাঝামাঝি জায়গায় সে অবস্থান করছে। কিন্তু তুমি তো একজন পিওর ব্লাড, তাই না সাহসী ছেলে? ভোল্ডেমর্ট নেভিলের কাছে জানতে চাইল। সে ভোল্টেমর্টের দিকে ফিরে আছে, তার খালি হাত মুষ্টিবদ্ধ করছে।

    আমি পিওর ব্লাড হলে কী হল? নেভিল উচ্চস্বরে বলল।

    তুমি তেজ ও সাহস দেখিয়েছ, এবং তোমার অনেক গুন আছে। তুমি একটি মুল্যবান ডেথ-ইটার হতে পারবে। তোমার মত ডেথ-ইটার আমাদের দরকার নেভিল লঙবটম।

    অমি তোমার পক্ষে যোগ দেব যখন নরক ঠাণ্ডা হয়ে যাবে, নেভিল বলল। ডাম্বলডোরের আর্মি! সে চিৎকার করে বলল। সঙ্গে সঙ্গে প্রত্যুত্তরে উল্লাস ধ্বনি শোনা গেল। ভোল্টেমর্টের নিরব করার যাদু কাজ করল না।

    ভাল কথা, ভোল্ডেমর্ট বলল। হ্যারির কানে তার কণ্ঠ শক্তিশালী কার্সের চেয়েও বিপদজনক শোনাল। সেটাই যদি তোমার সিদ্ধান্ত হয় লঙবটম, তাহলে আমরা আমাদের পূর্ব পরিকল্পনায় ফিরে যাই। ভোল্ডেমর্ট শান্ত কণ্ঠে বলল, তোমার মাথায় হয়ে যাক।

    হ্যারি পলকের মধ্যে নিচ দিয়ে দেখল ভোল্ডেমর্ট তার যাদুদণ্ডটি উপরে তুলেছে। এক সেকেন্ড পরেই ক্যাসলের ভাঙা জানালা দিয়ে পাখির মত কিছু একটা বের হয়ে উড়ে এসে ভোস্টেমর্টের হাতের উপর চলে এল। ভোস্টেমট সেটির এক প্রান্তে ধরে ঝাঁকি দিল এবং তা হাতে ঝুলিয়ে ধরল। এটা হল সটিং হ্যাট।

    হোগার্টস স্কুলে আর কোনো সর্টিং-এর ব্যবস্থা থাকবে না, ভোন্ডেট বলল। কোনো আলাদা আলাদা হাউস থাকবে না। সবার জন্য একমাত্র আমার মহান পূর্ব পুরুষদের সালাজার স্লিথারিনই থাকা যথেষ্ট। তাই না নেভিল লঙবটম?

    সে তার যাদুদণ্ডটি নেভিলের দিকে তাক করল। নেভিল স্থির এবং শক্ত হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। ভোল্ডেমর্ট যাদুদণ্ড দিয়ে নেভিলের মাথায় হ্যাটটি পরিয়ে দিল। সেটি তার চোখ পর্যন্ত ঢেকে দিল। ক্যাসলের সামনের ভীড় থেকে তাকিয়ে থাকা সবার মধ্যে নড়াচড়া লক্ষ করা গেল। ডেথ-ইটাররা যাদুদণ্ড তুলে ধরে রেখে যোদ্ধাদেরকে দূরে সরিয়ে রাখল।

    নেভিল এখন প্রমান করছে যে আমার বিরুদ্ধে বোকার মত প্রতিরোধ করলে তাঁর পরিণতি কী হয়, তোন্ডেমর্ট বলল। তার যাদুদণ্ডতে একটি চাপ দিতেই সটিং হ্যাটটিতে আগুনের মত ধোমা বের হতে শুরু করল।

    চারদিকে চিৎকার উঠল। নেভিল ধোয়ায় ডুবে গেল। সে জায়গায় গেথে গেছে, নড়তে পারছে না। হ্যারি আর বিষয়টি সহ্য করতে পারছে না : তাকে এখনই অবশ্যই কিছু করতে হবে

    ঠিক সেই মুহূর্তেই একসঙ্গে অনেকগুলো ঘটনা ঘটে গেল।

    স্কুলের দূরের দেয়ালের ওপাশ থেকে অনেক গর্জন শোনা যেতে থাকল। মনে হল যেন ঝাক ধরে শতশত লোক দেয়ালের ওপাশ থেকে ক্যাসলের দিকে ছুটে আসছে। তারা সবাই যুদ্ধের চিৎকার করছে। একই সময় গ্রাপ গাছ গাছালি ভেঙেচুরে ক্যাসলের পাশ দিয়ে বের হয়ে আসল। সে চিৎকার করে বলল, হ্যাগার! তার চিষ্কারের জবাবে ভোভেমর্টের দৈত্য দুটি চিৎকার করে উঠল। এ দু দৈত্য গ্ৰোপের দিকে বন্য হাতির মত দৌড়ে যেতে শুরু করল। ওদের পা ফেলার কারণে মনে হল যেন মাটিতে ভূমিকম্প হচ্ছে। এরপরই অনেক ঘোড়র পায়ের শব্দ এবং নাকের হোসহোস শব্দ পাওয়া গেল। এবং হঠাৎ ডেথ-ইটারদের ভেতর তীর এসে পড়তে থাকল। ওরা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়ল এবং বিস্মিত হয়ে চিৎকার করতে থাকল। হ্যারি দ্রুত ওর গাউনের নিচ থেকে অদৃশ্য আলখাল্লাটি বের করে ফেলল এবং গায়ের উপর ছড়িয়ে দিয়ে লাফিয়ে সরে গেল। নেভিলও নড়ে উঠল।

    এক ঝটকায় নেভিল কার্সের মাধ্যমে আটকে থাকা অবস্থা থেকে নিজেকে মুক্ত করে নিল। জ্বলতে থাকা হ্যাটটি থেকে নিজেকে মুক্ত করল এবং গভীর কোনো জায়গা থেকে সে চকচকে কোনো একটা কিছু হাতে তুলে নিল, যেটির হাতলটি পান্না দিয়ে তৈরি

    ছুটে আসতে থাকা গর্জনের শব্দে, অথবা লড়াই করতে থাকা দৈত্যগুলোর কারণে, কিংবা ঘোড়া ও মানুষের আকৃতির সেনটাউর পায়ের শব্দের কারণে সিলভারের ব্লেডের ঘোরানোর শব্দ শোনা গেল না, কিন্তু তারপরও সবার চোখে পড়ল। একটি মাত্র ঘোরানো কোপ দিয়ে নেভিল বিশাল সাপটির মাথা দেহ থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলল। সাপটি পাক খেয়ে শুন্যে লাফিয়ে উঠল। এন্ট্রান্স হলের আলোতে চিকচিক করে উঠল। কুদ্ধ চিৎকার দিতে গিয়ে ভোল্ডেমর্টর মুখটি হা হয়ে গেল। সাপটির দেহ ধপাস করে তার পায়ের সামনে মাটিতে আছড়ে পড়ল

    ভোল্ডেমর্ট যাদুদণ্ড তোলার আগেই আলখাল্লার নিচ থেকেই হ্যারি ভোল্ডেমর্ট এবং নেভিলের মাঝখানে একটি চার্জ ছুঁড়ে দিল। এবং তখনই সব চিৎকার চেঁচামেচি ছাপিয়ে, দৈত্যগুলোর গর্জন ছাপিয়ে হ্যাগ্রিডের কঠে চিৎকার শোনা গেল।

    হ্যারি! হ্যাগ্রিড বলল। হ্যারি–হ্যারি কোথায় গেল।

    চারদিকে বিশৃংখলা। সেনটাউরদের আঘাতে ডেথ-ইটাররা ছত্রভঙ্গ হয়ে পড়েছে, সবাই দৈত্যগুলোর পায়ের নিচে না পড়ার জন্য ছুটোছুটি করছে। এবং বজ্রপাতের মত শব্দ কাছে আসতে থাকল, কে জানে কোথা থেকে। হ্যারি দেখল একটি বিশাল পাখায় প্রাণীগুলো ভোল্ডেমর্টের দৈত্যগুলোর মাথার উপর দিয়ে উড়ছে।.ব্রেস্টাল, বাকবিক এবং হিপোথিক নখ দিয়ে আচড় দিচ্ছে আর গ্রোপ একের পর এক আঘাত করে যাচ্ছে। এবার যাদুকররা, হোগার্টসের রক্ষাকারী বা ভোভেমর্টের ডেথ-ইটাররা সব ক্যসলের ভেতর ঢুকে যেতে বাধ্য হল। হ্যারি ডেথ ইটার পেলেই সঙ্গে সঙ্গে জিকস এবং কার্স ছুঁড়ে দিচ্ছে। সঙ্গে সঙ্গে সেগুলো পড়ে যাচ্ছে। কিন্তু দেখতে পাচ্ছে না কে বা কোখেকে আঘাতটা আসছে। আর ওদের শরীর ভীড়ের ভেতর পায়ের নিচে পড়ছে।

    অদৃশ্য আলখাল্লার নিচে থেকেই হ্যারি এন্ট্রান্স হলের সামনে ধাক্কা খেল। সে ভোল্ডেমর্টকে খুঁজছিল এবং রুমের ভেতরে তাকে দেখতে পেল। সে গ্রেট হলে যেতে যেতে তার যাদুদণ্ড থেকে কার্স ছুড়ছে। ডানে বায়ে কার্স ছুঁড়তে ছুঁড়তে সে অনুসারীদের নানা নির্দেশ দিতে থাকল। ভোভেমর্টের কার্সের শিকারদের রক্ষার্ধে হ্যারি একের পর এক শিল্ড চার্ম ছুঁড়তে থাকল। সিমাস ফিনিগান এবং হান্না অ্যাবোট দ্রুত চোখের সামনে দিয়ে গ্রেট হলের দিকে ছুটে গেল। ভেতরে লড়াই করতে থাকা অন্যদের সঙ্গে গিয়ে যোগ দিল।

    এবার আরো অনেক লোক সামনের দরোজায় ছুটে আসছে। হ্যারি দেখল চার্লি উইসলি হোরাস স্লাগহর্নকে পার হয়ে এল। তার পরনে এখনো মনিমুক্তা খচিত পায়জামা। দেখে মনে হচ্ছে হোগার্টে যেসব ছাত্ররা এখনো লড়াই করছে তাদের আত্মীয় স্বজনরাও চলে এসেছে। এমনকি হাসমিডের দোকানদার এবং বাড়ির মালিকরাও এসে যোগ দিয়েছে। ঘোড়া ও মানুষের আকৃতির সেনটাউর বেন, রোনান এবং মগারিয়ান পায়ের খুরের শব্দ করে এসে হলের ভেতরে ঢুকল এবং হ্যারির পেছনের কিচেনের কপাট ধরাম করে খুলে গেল।

    হোগার্টের ঘরের ভূতগুলো ঝাক ধরে এন্ট্রান্স হলে প্রবেশ করতে থাকল। ওরা চাকু এবং ছোরা তুলে ধরে চিৎকার চেঁচামেচি করতে থাকল। একটির বুকের উপর ওদের রেগুলাস ব্লাকের লকেট লাফাচ্ছে। ক্রিচার! এত কোলাহলের ভেতরও তার ব্যাঙের মত কণ্ঠ শোনা গেল : লড়ে যাও! লড়ে যাও! আমার প্রভুর জন্য লড়ে যাও! তিনি হলেন আমাদের রক্ষাকারী। সাহসী রেগুলাসের নামে ডার্ক লর্ডের বিরুদ্ধে লড়ে যাও! লড়ে যাও!

    ওরা ডেথ-ইটারদের হাঁটুতে, পায়ে কেটে দিচ্ছে। কোপ দিতে থাকল। তাদের ছোট মুখগুলো কঠিন হয়ে উঠল। হ্যারি চারদিকে তাকিয়ে দেখল প্রচুর সংখ্যক ডেথ-ইটার স্পেল লেগে ধরাশায়ী হয়েছে। ক্ষত জায়গার থেকে তীর টেনে বের করছে অথবা ঘরের ভূতদের কোপ খাওয়া জায়গা ঘষছে। অথবা শুধু নিজেরা পালানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বিশাল দলের কাছে ধরা পড়ে যাচ্ছে।

    কিন্তু এখানেই সবকিছু শেষ হয়ে যায়নি। হ্যারি দৌড়ে লড়াই করতে থাকাদের ভেতরে চলে গেল। বন্দীদের পার হয়ে সে গ্রেট হলের ভেতর ঢুকল। ভোন্ডেমট একেবারে যুদ্ধের কেন্দ্রে রয়েছে। সে হাতের নাগালের কাছে যাকে পাচ্ছে তাকেই আঘাত করছে। হ্যারি ওকে আঘাত করার জন্য পরিস্কার জায়গা পাচ্ছে না। সে ভীড় ঠেলে কাছে যেতে চেষ্টা করল। তখনো ভোল্ডেমর্টকে দেখা যাচ্ছে। হলের ভেতরে দ্রুত ভীড় বেড়ে চলেছে। সবাই–যারা হাঁটতে পারছে তারাই ভেতরে ঢুকে পড়ছে।

    হ্যারি দেখল ইয়াক্সলিকে ফেলে দিয়েছে জর্জ এবং লি জর্ডান, দেখল দোহোলভ ফ্লিচিকের হাতে ধরাশায়ী হয়ে চিৎকার করছে। দেখল হ্যাগ্রিড ছুঁড়ে ফেলেছে ওয়ালডেন ম্যাকনায়ারকে। সে দেয়ালে বাড়ি খেয়ে অচেতন হয়ে মাটিতে আছড়ে পড়ল। হ্যারি দেখল রন এবং নেভিল ফেনরির গ্রেব্যাককে নিচে নামিয়ে আনছে, আবারফোর্থ রুকুডকে স্টান করেছে। আর্থার এবং পার্সি থিকনেসেকে ফেলে দিয়েছে। এবং লুসিয়াস আর নার্সিসা ভীড়ের ভেতর দিয়ে দৌড়াচ্ছে। তাদের মধ্যে যুদ্ধ করার কোনো ইচ্ছাই দেখা গেল না, চিৎকার করে নিজেদের ছেলেকে খুঁজছে।

    ভোল্ডেমর্ট এখন একসঙ্গে ম্যাকগোনাগল, স্লাগহর্ন এবং কিংসলের সঙ্গে লড়ছে। ওদেরকে চারপাশে ঘিরে ধরা দেখে ভোল্টেমর্টের চেহারায় একটি শীতল ঘৃণা ফুটে উঠেছে। ওরা তার সঙ্গে ঠিক কুলিয়ে উঠতে পারছেন না

    ভোল্ডেমর্টের কাছ থেকে পঞ্চাশ গজ দূরে বেলাট্রিক্স এখনো লড়ে যাচ্ছে। সেও তার প্রভুর মত তিনজনের সঙ্গে লড়ছে। হারমিয়ন, জিনি এবং লুনা তিনজনই আপ্রাণ চেষ্টা করে যাচ্ছে। কিম্ভ বেলাট্রিক্স একাই ওদের তিনজনের সমান। কিন্তু। হ্যারির মনোযোগ চলে গেল জিনির দিকে। তার দিকে একটি কিলিং কার্স ছুঁড়ে দেয়া হয়েছে, কিন্তু অল্পের জন্য, ইঞ্চিখানেকের জন্য সে বেঁচে গেছে

    হ্যারি দিক পরিবর্তন করল। ভোল্টেমর্টের দিকে যাওয়ার বদলে সে বেলাট্রিক্সের দিকে ছুটে গেল। কিন্তু কয়েক পা আগানোর সঙ্গে সঙ্গে হ্যারি ধাক্কা খেয়ে পাশে সরে গেল।

    আমার মেয়েকে না! কুত্তি!

    মিসেস উইসলি দৌড়াতে দৌড়াতে তার আলখাল্লাটি ছুঁড়ে ফেলে দিলেন। বেলাট্রিক্স জায়গার উপর ঘুরল। নতুন আরেকজন যোদ্ধাকে দেখে অট্টহাসিতে ফেটে পড়ল।

    আমার সামনে থেকে সরো! মিসেস উইসলি মেয়ে তিনটির দিকে তাকিয়ে চিৎকার করে বললেন। এবং তার নিজের যাদুদণ্ডটি ঘোরান দিয়ে তিনি বেলাট্রিক্সের সঙ্গে লেগে পড়লেন। হ্যারি আতঙ্কিত ভাবে এবং আনন্দের সঙ্গে দেখল মলি উইসলির যাদুদণ্ডটি দ্রুত চলছে এবং বেলাট্রিক্স-এর হাসি উবে গেছে। সে ঘোত ঘোত শব্দ করে ফুঁসছে। দুটি যাদুদণ্ড থেকেই তীব্র আলো ঝলকে উঠল। এই মহিলা যাদুকরদের পায়ের নিচের মেঝে গরম হয়ে উঠেছে এবং ফেটে যাচ্ছে। দুজন মহিলাই দুজনকে হত্যা করতে চেষ্টা করছে।

    না! কয়েকজন ছাত্র তাকে সাহায্য করতে এগিয়ে এসেছে দেখে. মিসেস উইসলি চিৎকার করে বললেন।

    তোমরা সরে যাও! সরে যাও! ওকে আমি দেখব!

    দেয়ালের পাশে এখন শতশত মানুষ দাঁড়িয়ে দুটি লড়াই দেখছে। একদিকে ভোল্টেমর্টের বিরুদ্ধে ওরা তিনজন এবং অন্যদিকে বেলাট্রিক্স আর মলি উইসলি। হ্যারি অদৃশ্য আলখাল্লার ভেতর ঠায় দাঁড়িয়ে আছে। হ্যারি আক্রমণ করতে চাচ্ছে কিন্তু ওদের নিরাপত্তার জন্য, সে বুঝতে পারছে না যে তার আক্রমণ অন্য জনের উপর পড়বে কিনা।

    আমি তোমাকে হত্যা করার পর তোমার ছেলে পেলের কি হবে?বেলাট্রিক্স বলল। সে মলির কার্স থেকে নিজেকে রক্ষার জন্য লাফিয়ে সরে সরে বলল, ফ্রেডির মত যখন মাম্মিও চলে যাবে?

    তুমি-আর-কখনো-আমার-বাচ্চাদের-ছুঁতে-পারবে না। মিসেস উইসলি চিৎকার করে বললেন।

    বেলাট্রিক্স হাসল। এই একই হাসি তার চাচাতো ভাই সিরিয়স পেছনের দিকে পড়ে যাওয়ার সময় দিয়েছিল। হ্যারি হঠাৎ মনে বুঝতে পারল যে কি ঘটতে যাচ্ছে।

    মলির ছুঁড়ে দেয়া কার্স বেলাট্রিক্সের ছড়িয়ে রাখা হাতের ফাঁক দিয়ে তার বুকের উপর ঠিক হৃদপিণ্ড বরাবর আঘাত করলো।  বেলাট্রিক্সের হাসি মুখটা যেন জমে গেল। তার চোখ দুটি বিস্ফারিত হয়ে গেল। খুব সামান্য সময়ের ভেতর সে বুঝতে পারল কি ঘটে গেছে। এবং সে ধপাস করে পড়ে গেল। ভীড় করে থাকা লোকদের মধ্যে উল্লাস, শোরগোল উঠল। এবং ভোল্ডেমর্টও চিষ্কার করে উঠল।

    হ্যারি অনুভব করল যে সে ধীরে ধীরে ঘুরে যাচ্ছে। দেখল ম্যাকগোনাগল, কিংসলে এবং স্লাগহর্ন লাফিয়ে পেছনের দিকে সরে গেল। ওরা ভোল্টেমর্টের ক্রোধের কারণে ছিটকে পড়ল। ভোল্ডেমর্টর শেষ বিশ্বস্ত সহযোগিকে ওভাবে পড়ে

    যেতে দেখে তার ক্রোধ বোমার মত বিকোরিত হয়েছে। সে সরাসির মলি উইসলির দিকে তার যাদুদণ্ডটি তুলে ধরল।

    প্রোটেগো! হ্যারি গর্জে উঠল। এবং হ্যারির চার্ম ভোল্ডেমর্ট এবং মলির মাঝখানে প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করল। ভোল্ডেমর্ট ফিরে তাকিয়ে উৎস খুঁজল। হ্যারি অদৃশ্য আলখাল্লা খুলে ফেলেছে।

    হতভম্ব হওয়ার উল্লাস করার শব্দ উঠল চারদিক থেকে। হ্যারি! এখনো জীবিত আছে! সবাই যেন আঁৎকে উঠল। ভীড় করে থাকা লোকগুলো ভয় পেল। ভোডেমর্ট এবং হ্যারি একে অপরের দিকে তাকালো। চারদিকে পুরোপুরি নিস্তব্ধতা নেমে এল। দুজন চক্রাকারে ঘুরতে থাকল।

    আমি চাই না কেউ সাহায্যের চেষ্টা করুক! হ্যারি উচ্চকণ্ঠে বলল। পুরোপু রি নিস্তব্ধতার মধ্যে তার কণ্ঠ বিউগলের ট্রাম্পেটের মত যেন বেজে উঠল। এটা এরকমই হবে, আমাকে বিষয়টি দেখতে হবে।

    ভোল্ডেমর্ট হিসহিস করে শব্দ করল।

    পটার তা মনে করে না, ভোল্ডেমর্ট বলল। তার লাল চোখ দুটো আরো বড় হয়ে গেল। তার কাজের ধরণ আসলে তা না। তাই না? কিন্তু এখন তুমি ঢাল হিসাবে ব্যবহার করবে কাকে, পটার?

    কাউকে না, হ্যারি বলল। আর কোনো হরক্রুক্স অবশিষ্ট নেই। শুধু তুমি আর আমি। আমাদের কোনো একজন বাঁচতে পারবে না যদি অন্য জন বেঁচে থাকে। এবং কল্যাণের স্বার্থে আমাদের একজনকে বিদায় নিতে হবে…

    আমাদের একজন? ভোল্ডেমর্ট উচ্চস্বরে বলল। তার পুরো শরীর স্থির হয়ে আছে। লাল চোখ দিয়ে সে তাকিয়ে আছে। তুমি মনে করছ তুমি বেচে থাকবে? যে নাকি দুর্ঘটনাক্রমে বেঁচে গেছে, কারণ ডাম্বলডোর পেছন থেকে রশি টেনেছে।

    আমার মা যখন আমাকে বাঁচাতে গিয়ে মারা যান সেটা কি দুর্ঘটনা ছিল? হ্যারি বলল। ওরা দুজনই তখনো চক্রাকারে ঘুরছে। দুজনই নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখেছে। হ্যারির চোখে এখন ভোল্ডেমর্ট ছাড়া আর কারো অস্তিত্ব নেই। আমি যখন কবরস্থানে যুদ্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম তাকি দুর্ঘটনা? আজ রাতে আমি নিজেকে বাঁচাতে চেষ্টা করিনি, কিন্তু এখনো বেঁচে আছি এবং যুদ্ধে ফিরে এসেছি সেটাও কি দুর্ঘটনা?

    দুর্ঘটনা! ভোল্ডেমর্ট চিৎকার করে বলল। কিন্তু এখনো সে আঘাত করতে চেষ্টা করছে না। ভীড় করে থাকা লোকজন স্তব্ধ হয়ে আছে। মনে হচ্ছে তারা দুজন ছাড়া হলের শতশত লোক কেউ নিঃশ্বাস নিচ্ছে না। দুর্ঘটনা এবং চান্স। এখানকার গ্রেট নারী এবং পুরুষকে তুমি ব্যথিত করেছ এবং আমাকে তাদেরকে হত্যা করতে উদ্বুদ্ধ করেছ, তোমার জন্য!

    তুমি এখানে কাউকে হত্যা করতে পারবে না, হ্যারি বলল। তারা দুজনই চক্রাকারে ঘুরতে থাকল। দুজনই দুজনের চোখের দিকে তাকিয়ে আছে। একজনের সবুজ আরেকজনের লাল চোখ। তুমি আর কখনোই এদের কাউকে হত্যা করতে পারতে না। এটা বুঝতে পারোনি? জনগণকে তোমার হাত থেকে নিষ্কৃতি দেয়ার জন্য আমি মরতেও রাজি ছিলাম

    কিন্তু তুমি তা করনি।

    সেটার জন্যই আমি সব কিছু করেছিলাম। আমি তাই করেছি আমার মা যা করেছেন। ওরা তোমার কাছ থেকে এখন নিরাপদ। তুমি কী লক্ষ করনি যে যত কার্স তাদের দিকে ছুঁড়েছ সব বিফলে গেছে? তুমি তাদেরকে নির্যাতন করতে পারবে না। তুমি তাদেরকে ছুতেও পারবে না। তুমি তোমার ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণ করনি রিডল, করেছ?

    তোমার সাহস-

    হ্যাঁ, আমি সাহস নিয়ে বলছি। হ্যারি বলল। আমি এমন কিছু জানি যা তুমি জানোনা না টম রিডল। আমি অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় জানি যা তুমি জানো না। আরো একটি বড় ভুল করার আগে তার কিছু শুনতে চাও?

    ভোভেমট কোনো কথা বলল না। কিন্তু চক্রাকারে ঘুরতে থাকল। হ্যারি জানে সে সাময়িকভাবে দূর থেকে হ্যারিকে ব্যস্ত রাখতে চেষ্টা করছে। তাকে দেরি করাচ্ছে যদি কোনো সম্ভাবনা থাকে যে হ্যারি সত্যিই হয়তো শেষ সময়ের গোপন কথা-

    তাহলে কি আবারো ভালবাসা? ভোল্ডেমর্ট বলল। তার সাপের মত মুখটিতে তিরস্কারের হাসি। ডাম্বলডোরের চুড়ান্ত সমাধান ভালোবাসা। সে দাবী করেছিল যে ভালবাসা দিয়েই সে মৃত্যুকে জয় করেছে। যদিও এই ভালবাসা তাকে টাওয়ারের উপর থেকে পতন ঠেকাতে পারেনি। মোমের মত পড়ে গিয়েছিল। ভালবাসা আমাকে ঠেকাতে পারেনি তোমার মাডব্লাড মাকে তেলাপোকার মত পিষে মারতে, পটার। আর এবার কেউ তোমাকে ভালবাসতে এগিয়ে এসে আমার কার্স গ্রহণ করবে না। তাহলে এখন আমি তোমাকে কার্স করলে তোমার মৃত্যু ঠেকাবে কে?

    শুধু একটা জিনিস, হ্যারি বলল। ওরা তখনো চক্রাকারে ঘুরছে। দুজন দুজনের ভেতর জড়িয়ে গেছে। শুধু শেষ সিক্রেট দ্বারা পৃথক হয়ে আছে।

    ভোল্ডেমর্ট বলল, যদি ভালবাসা তোমাকে এখন রক্ষা না করে, তাহলেও কি তুমি বিশ্বাস করবে যে তোমার কাছে এমন কিছু ম্যাজিক আছে যা আমার নেই, অথবা অন্য কেনো অস্ত্র আছে যা আমারটার চাইতে শক্তিশালী?

    আমি দুটোই বিশ্বাস করি, হ্যারি বলল। সে দেখল ভোল্ডেমর্টের সাপের মত মুখের উপর একটি আহত হওয়ার ছাপ পড়ল। কিন্তু অচিরেই আবার তা বিলীন হয়ে গেল। ভোল্ডেমর্ট উচ্চস্বরে হাসতে শুরু করল। এ হাসির শব্দ তার চিৎকারের চেয়েও ভয়ানক শোনা গেল। কর্কশ এবং উন্মাদ সে হাসি নিস্তব্ধ ঘরে প্রতিধ্বনি তুলল।

    ভোল্ডেমর্ট বলল, তুমি মনে করছ তুমি আমার চেয়ে বেশি যাদু জানো। এই আমি, আমি ভোল্ডেমর্ট এমন যাদুতে পারদর্শিতা দেখিয়েছি তা ডাম্বলডোর কখনো স্বপ্নে ভেবেছে?

    হ্যারি বলল, অবশ্যই তিনি ভেবেছেন। কিন্তু তিনি তোমার চেয়ে বেশি জানতেন। যথেষ্ট জানতেন কিন্তু তোমার মত ব্যবহার করতে যেতেন না।

    ভোল্ডেমর্ট চিৎকার করে বলল, তুমি বলতে চাচ্ছ সে খুব দুর্বল ছিল? দুর্বলতার কারণে সাহস করতে পারেনি সে সব তুলে নিতে যা আমার হবে!

    হ্যারি বলল, না, তিনি তোমার চেয়ে অনেক বেশি চতুর ছিলেন। তোমার চেয়ে অনেক বড় মাপের উইজার্ড ছিলেন এবং অনেক বড় মাপের মানুষ ছিলেন।

    আমি ডাম্বলডোরের হত্যার ব্যবস্থা করেছি।

    হ্যারি বলল, তুমি ভাবছ তুমি করেছ। কিন্তু এটা সম্পূর্ণরূপে ভুল।

    এই প্রথমবারের মত তাকিয়ে থাকা শতশত লোকের ভীড়ের ভেতর থেকে যেন স্বস্তির নিঃশ্বাস উঠল।

    ডাম্বলডোর মৃত! ভোল্ডেমর্ট চিৎকার করে বলল। যেন হ্যারি তাকে একটা অসহ্য ব্যথা দিয়েছে। তার দেহ শায়িত আছে মার্বেলের সমাধির ভেতর। আমি তা নিজের চোখে দেখেছি। পটার, ডাম্বলডোর ফিরে আসবে না!

    হ্যাঁ, ডাম্বলডোর মারা গেছেন, হ্যারি শান্ত কণ্ঠে বলল। কিন্তু তুমি তাকে হত্যা করতে পারেনি। তিনি তার ইচ্ছানুযায়ী এটা বেছে নিয়েছেন। তিনি মারা যাবার কয়েক মাস আগেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। সে আয়োজনে সাহায্য করেছিল এমন লোক যাকে তুমি তোমার বিশ্বস্ত চাকর বলে মনে করতে।

    এটি কী ধরণের ছেলে মানুষি স্বপ্ন? ভোল্ডেমর্ট বলল। সে এখনো আঘাত করার চেষ্টা করছে না। কিন্তু হ্যারির দিক থেকে লাল চোখ দুটো সরাচ্ছে না।

    হ্যারি বলল, সেভেরাস স্নেইপ তোমার লোক ছিল না। স্নেইপ ছিল ডাম্বলডোরের লোক। তুমি যখন আমার মাকে হত্যা করেছ তখন থেকেই সে ডাম্বলডোরের পক্ষ নিয়েছিল তিমি তা কখনো বুঝতে পারেনি। কারণ এসব বিষয় তুমি বুঝতে পারো না। তুমি কখনো দেখনি যে স্নেইপ প্যাট্রোনাস কাস্ট করেছে, দেখেছ কখনো রিডল?

    ভোল্ডেমর্ট কোনো উত্তর দিল না। তারা দুজনই দুজনকে লক্ষ করে চক্রাকারে ঘুরছে নেকড়ের মত, শিকারের সন্ধানে।

    হ্যারি আবার বলল, স্নেইপের প্যাট্রোনাসটি ছিল একটি মাদী হরিণ। আমার মায়েরটার মতই, কারণ সে তার সারাজীম আমার মাকে ভালবেসেছে। সে যখন অল্প বয়সের ছেলে ছিল তখন থেকেই মাকে ভালবাসতো। তোমার এটা বোঝ উচিত ছিল। হ্যারি দেখল–ভোল্টেমর্টের নাকটি পুড়ছে। সে তোমাকে আমার মায়ের জীবনটা রক্ষা করতে বলেছিল, তাইনা?

    ভোল্ডেমর্ট নাক সিটকে বলল, সে তাকে চাইত, এ পর্যন্তই। এবং সে যখন মারা যায় তখন স্নেইপ বলেছিল আরো অনেক পিওর ব্লাডের মহিলা আছে, তারা ওর কাছে অনেক মুল্যবান

    হ্যারি বলল, অবশ্যই সে তোমাকে এটা বলেছিল। কিন্তু যখনই তুমি আমার মাকে হুমকী দিয়েছিলে তখন থেকেই সে ডাম্বলডোরের স্পাই হিসাবে কাজ করতে থাকে। সে থেকে সে তোমার বিরুদ্ধেই কাজ করে গেছে। ডাম্বলডোর তখন এমনিতেই মরে যাচ্ছিলেন যখন স্নেইপ শেষ কাজটি করে দেয়।

    এটা কোনো ব্যাপার না! ভোল্ডেমর্ট চিষ্কার করে বলল। সে এতক্ষণ হ্যারির কথা একাগ্র মনে শুনছিল। কিন্তু এবার উন্মাদের মত হেসে উঠল। এটা কোনো অর্থ বহন করে না যে ইেপ আমার ছিল না ডাম্বলডোরের ছিল। অথবা কি ছোটখাটো বাধা তারা আমার পথে সৃষ্টি করতে চেয়েছিল। আমি ওকে হত্যা করেছি, যেভাবে স্নেইপের কথিত ভালবাসা, তোমার মাকে হত্যা করেছি। ওহ, এর একটা অর্থ আছে পটার, যেটা তুমি অন্যভাবে বুঝতে পারোনি।

    ডাম্বলডোর চেষ্টা করেছিল আমার কাছ থেকে এলডার ওয়্যান্ডটি নিয়ে নিতে!

    সত্যিকারের মাস্টার। কিন্তু আমি সেখানে তোমার আগে পৌঁছে গিয়েছিলাম। ছোট্ট বালক–আমি তোমার আগে যাদুদণ্ডটির উপর হাত রেখেছিলাম। তুমি ধরা পড়ার আগেই আমি প্রকৃত বিষয়টি বুঝে গিয়েছিলাম। আমি তিন ঘণ্টা আগে সেভেরাস স্নেইপকে হত্যা করেছি। এবং এখন এই এলডার ওয়্যান্ড, এই ডেথস্টিক, এই নিয়তির যাদুদণ্ডের সত্যিকারের উত্তরসুরী হলাম আমি। ডাম্বলডোরের শেষ পরিকল্পনাটি ছিল ভুল পটার!

    হ্যারি বলল, হ্যাঁ, সেটা ঠিক, কিন্তু আমাকে হত্যা করার আগে আমি তোমাকে উপদেশ দেব একবার ভেবে দেখ তুমি আসলে কী করেছ… চিন্তা করো এবং অনুতপ্ত হতে চেষ্টা করো রিডল।

    সেটা কি?

    হ্যারি তাকে যে সব কথা বলল তার কোনোটাই কোনো প্রতিশোধ গ্রহণ বা উস্কানি দেয়ার জন্য নয়। এতক্ষণ যা বলেছে তার কোনোটাতেই ভোল্ডেমর্ট এতটা আঘাত পায়নি। হ্যারি দেখল তার চোখের পাশের চামড়াগুলো সাদা হয়ে এসেছে।

    হ্যারি বলল, এটা তোমার শেষ চান্স। এই তোমার শেষ সময় পার হয়ে যাচ্ছে। আমি দেখতে পাচ্ছি তোমার কী পরিণতি হবে… একজন সত্যিকারের পুরুষের মত চেষ্টা করো… চেষ্টা করো অনুতাপ করতে…

    তোমার এত সাহস? ভোল্ডেমর্ট বলল।

    হ্যারি বলল, হ্যাঁ, আমার এত সাহস। কারণ ডাম্বলডোরের শেষ পরিকল্পনা আমার উপর কোনো কু-প্রভাব ফেলবে না। কিন্তু তোমার উপর পড়বে, রিডল।

    ভোল্ডেমর্ট এলডার ওয়্যাভটি ধরে আছে। তার হাত কাঁপছে। আর হ্যারি ধরে আছে ড্র্যাকোর যাদুদটি শক্ত করে।

    সে জানে যে কয়েকটি মুহূর্ত মাত্র সামনে আছে।

    ওই যাদুদণ্ডটি এখনো তোমার হয়ে কাজ করছে না, কারণ তুমি ভুল লোককে খুন করেছ। সেভেরাস স্নেইপ কখনোই ওই যাদুন্ডটির সত্যিকারের মাস্টার ছিল না। সে কখনোই ডাম্বলডোরকে হত্যা করেনি।

    সেই হত্যা করেছে

    তুমি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ না? স্নেইপ কখনোই ডাম্বলডোরকে হত্যা করেনি। ডাম্বলডোরের মৃত্যু নিয়ে তাদের মধ্যে পরিকল্পনা হয়েছিল মাত্র। ডাম্বলডোর অপরাজেয় অবস্থায় মরতে চেয়েছিলেন। তিনি ছিলেন ওই যাদুদণ্ডটির শেষ মাস্টার! যদি পরিকল্পনামতো সবকিছু হয়ে থাকে তাহলে যাদুদন্ডের ক্ষমতাও তার সঙ্গে সঙ্গে মরে গিয়ে থাকতে পারে। কারণ এটা কখনোই কেউ তার কাছ থেকে জয় করে নেয়নি!

    তাহলে পটার ডাম্বলডোর ভালই করেছে। সে আমাকে যাদুদণ্ডটি দিয়ে গেছে। ভোল্ডেমর্ট বলল। আমি যাদুদণ্ডটির শেষ মাস্টারের কবর থেকে এটিকে তুলে এনেছি। আমি এটিকে শেষ মাস্টারের ইচ্ছার বিরুদ্ধে তুলে এনেছি। এখন এর ক্ষমতা আমার!

    তুমি এখনো ধরতে পারোনি রিডল, তাই না? কাছে থাকাটাই যথেষ্ট নয়। এটিকে হাতে রাখলে, ব্যবহার করলেই এর মানে এটা তোমার তা নয়। তুমি অলিভ্যান্ডারের কথা শোনোনি? যাদুদণ্ড নিজে মাস্টার পছন্দ করতে পারে….ডাম্বলডোরের মৃত্যুর আগেই এলডার ওয়্যান্ড তার নতুন মাস্টার পছন্দ করে রেখেছিল। এমন একজনকে যে কখনো যাদুদণ্ডটি ধরেও দেখেনি। নতুন মাস্টার ডাম্বলডোরের কাছ থেকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধেই যাদুদণ্ডটি সরিয়ে নিয়েছিল। সে নিজে কখনো বুঝতে পারেনি যে কী করেছে। সে জানে না যে বিশ্বের সবচেয়ে বিপদজনক যাদুদণ্ডটি তার হস্তগত হয়েছে…।

    ভোল্টেমর্টের বুকটা দ্রুত ওঠানামা করছে। হ্যারি বুঝতে পারল যে কার্স আসছে, বুঝতে পারল যে তার মুখের দিকে ধরে রাখা যাদুদণ্ডটির ভেতর কার্স তৈরি হচ্ছে।

    যাদুদণ্ডটির সত্যিকারের মাস্টার হল ড্র্যাকো ম্যালফয়।

    ভোল্টেমর্টের মুখের উপর একটি অন্যরকম আঘাত ফুটে উঠল এবং সঙ্গেসঙ্গেই তা আবার সরে গেল।

    ভোল্ডেমর্ট, শান্ত কণ্ঠে বলল, তাতে কী হল? যদি তোমার কথা ঠিকও হয়, তাহলেও তোমার আমার ব্যাপারে কিছু আসে যায় না। তোমার কাছে এখন আর ফিনিক্সের যাদুদণ্ডটি নেই; আমরা লড়ব শুধু আমাদের দক্ষতা দিয়ে… এবং আমি তোমাকে হত্যা করার পর, তুমি হয়তো ড্র্যাকো ম্যালয়ের সঙ্গে মিলিত হতে পারবে।

    কিন্তু তোমার অনেক দেরি হয়ে গেছে, হ্যারি বলল। তুমি তোমার সুযোগ নষ্ট করেছ। তোমার আগে আমি সে সুযোগটি পেয়ে গেছি। কয়েক সপ্তাহ আগে আমি ড্র্যাকোকে পরাস্থ করেছি। আমি তার কাছ থেকে তার এই যাদুদণ্ডটি নিয়ে নিয়েছি।

    হ্যারি হথোর্ন যাদুদণ্ডটি ঝাঁকি দিল এবং হলে উপস্থিত সবাই সেটির দিকে তাকিয়ে থাকল।

    তাহলে সব এখানেই পরীক্ষা হয়ে যাবে, তাই না? হ্যারি বলল। তোমার হাতের যাদুদণ্ডটি কি জানে যে তার শেষ মাস্টার নিরস্ত্র ছিল? কারণ যদি এটি জানে… তাহলে আমি হলাম এখন ওটার সত্যিকারের মাস্টার।

    একটি লাল-সোনালী আলো ওদের উপরের যাদু করা শুন্যে বিস্ফোরিত হল। মনে হল সূর্যের উজ্জ্বল আলো জানালা দিয়ে প্রবেশ করেছে। আলোটি একই সময় দুজনেরই মুখের উপর পড়ল। ভোল্ডেমর্টের মুখের উপর হঠাৎ ধোয়ার প্রলেপ দেখা গেল। হ্যারি শুনল তার গলা থেকে চিৎকার, সেও চিৎকার দিয়ে ড্র্যাকোর যাদুদণ্ডটি তাক করল :

    অ্যাভাদা কেদাভ্রা!

    এক্সপেলিয়ারমাস

    কামানের গোলা ছোটার মত বিকট শব্দ হল। যে জায়গাটিকে মাঝখানে কেন্দ্র করে ওরা ঘুরছিল সে জায়গাটায় ওদের মাঝখানে সোনালী ধোয়া উঠল। হ্যারি দেখল ভোল্ডেমর্টের ছুঁড়ে দেয়া সবুজ ঝলকানি আলোর সঙ্গে ওর নিজের ছুঁড়ে দেয়া স্পেলের সংঘর্ষ হল। দেখল এলডার ওয়্যান্ডটি শুন্যে উঠে গেছে। সূর্য রশ্মির বিপরীতে কালো অন্ধকার হয়ে, নাগিনীর মাথার মত চক্রাকারে ঘুরতে ঘুরতে যাদুমন্ত্রে আচ্ছাদিত ছাদ পার হয়ে শূন্যে ঘুরতে ঘুরতে এর প্রকৃত মালিকের কাছে যাকে সে হত্যা করবে না এবং যে শেষ পর্যন্ত এর কর্তৃত্ব গ্রহণ করবে। এবং হ্যারি অব্যার্থ স্নিকারের মত যাদুদণ্ডটি তার খালি হাত দিয়ে লুফে নিল।

    ভোল্ডেমর্ট হাত দুটি দুপাশে ছড়িয়ে পেছনের দিকে চিত হয়ে পড়ে গেল। টম রিডল অতি সাধারণভাবে চুড়ান্তভাবে মাটিতে পড়ে গেছে। তার শরীর দুর্বল হয়ে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে। তার সাদা হাতটি খালি, তার সাপের মত মুখটি অভিব্যক্তিহীন। ভোল্ডেমর্ট মারা গেছে, নিজেরই ছুঁড়ে দেয়া কার্স উল্টে গিয়ে সে মারা গেছে। হ্যারি দাঁড়িয়ে আছে দু হাতে দুটি যাদুদণ্ড নিয়ে। নিচে তার শত্রুর পড়ে থাকা দেহের দিকে তাকিয়ে আছে।

    ঘটনার আকস্মিকতায় এক সেকেন্ডের কম সময় সব নিরব হয়ে রইল। তারপরই চারপাশে ভীড় করা দর্শকদের চিৎকার, চেঁচামেচি, গর্জনে কান ফেটে যাওয়ার অবস্থা হল। হ্যারির দিকে ছুটে আসা লোকদের কারণে জানালার থেকে ছুটে আসা তীব্র আলো বাধাগ্রস্থ হল। হ্যারির কাছে প্রথম এসে পৌঁছল রন এবং হারমিয়ন। ওরা দুজনই হাত বাড়িয়ে ওকে জড়িয়ে ধরল। ওদের আবেগময় চিৎকারে হ্যারির কান বন্ধ হয়ে যাবার মত অবস্থা হল। তারপর জিনি, নেভিল এবং লুনা এসে পৌঁছল, তারপর উইসলিরা এবং হ্যাগ্রিড, কিংসলে এবং ম্যাকগোনাগল, ফিচিক এবং স্প্রাউট কাছে এল। হ্যারি তাদের চিৎকারে একটি শব্দও বুঝতে পারছে না। কে তার হাত ধরে টানছে, কে জড়িয়ে ধরতে চেষ্টা করছে, কে উপরে এসে পড়েছে বোঝা গেল না। শতশত লোক জাপটে ধরেছে। সবাই একটু বয় হু লিভ কে একটু ছুঁয়ে দিতে চেষ্টা করছে। কারণ শেষ পর্যন্ত সব কিছুর অবসান হয়েছে

    হোগার্টের উপর উজ্জল সূর্যের আলো পড়েছে, গ্রেট হল আলোতে ঝলমল করছে। সব দুঃখ, সব বেদনা, সব আনন্দের সব উৎসবের কেন্দ্রে এখন হ্যারি।

    সবাই এখন হ্যারিকে তাদের মাঝে চায়। সে হল এখন তাদের নেতা, তাদের গাইড, তাদের প্রতীক এবং রক্ষাকারী। সে লড়াইকারী সহযোদ্ধাদের সঙ্গে কথা বলতে থাকল, তাদের হাত ধরল, চোখের জল মুছল, তাদের ধন্যবাদ গ্রহণ করল। চারদিক থেকে, সবার কাছ থেকে সংবাদ জানল। সকাল আরো বাড়তে থাকল। গোটা রাজ্যটি এখন ওদের। ডেথ-ইটাররা পালিয়ে গেছে অথবা ধরা পড়েছে। আজকাবানের নির্দোষদেরকে সঙ্গে সঙ্গে মুক্ত করে দেয়া হয়েছে। এবং ওই সময়েই স্যালবোল্টকে সাময়িকভাবে মিনিস্টার অব ম্যাজিক ঘোষণা করা হল….

    ওরা ভোল্টেমর্টের মৃতদেহ হলের বাইরের একটি চেম্বারে নিয়ে গেল। ফ্রেড, টঙ্কস, লুপিন, কলিন, ক্রিভিসহ আরো যে পঞ্চাশজন যুদ্ধে মারা গেছে তাদের কাছ থেকে ভোল্ডেমর্টকে দূরে সরিয়ে দেয়া হল। ম্যাকগোনাগল হাউস টেবিলগুলো আবার জায়গা মত সাজিয়েছেন। কিন্তু কেউ আর আগের হাউসের নিয়ম মত বসল না। শিক্ষক, ছাত্র, বাবা মায়েরা এবং ভূতগুলো, সেটাউর আর ঘরের ভূত সবাই এক জায়গায় জড়ো হল। ফিনজেকে উদ্ধার করা হয়েছে, গ্রোপ একটি ভাঙা জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে তাকিয়ে আছে। মানুষজন তাকে ভালবেসে খাবার ছুঁড়ে দিচ্ছে মুখে। কিছুক্ষণ পর নিঃশেষিত এবং দুর্বল হ্যারি দেখল সে নিজে একটি বেঞ্চে লুনার পাশে বসে আছে।

    আমি হলে এখন একটু বিশ্রাম এবং শান্তি চাইতাম, লুনা বলল।

    আমারও তা পেলে ভাল লাগত, হ্যারি উত্তরে বলল।

    লুনা বলল, আমি সবার মনোযোগ অন্যদিকে নিচ্ছি, তুমি তোমার আলখাল্লাটি ব্যবহার করো।

    সে কিছু বলার আগেই লুনা চিৎকার করে বলে উঠল, উউউ, দেখ দেখ! একটা বি-বারিং হামডিংগার! সে জানালার দিকে দেখাল। যারা তার কথা শুনতে পেল সবাই সেদিকে তাকালো। হ্যারি হুট করে তার নিজের গায়ের উপর আলখাল্লাটি চাপিয়ে দিল এবং উঠে দাঁড়ালো।

    এবার সে বাধাহীন হল থেকে সরে যেতে পারবে। সে দেখল দুটি টেবিলের পর একটি জায়গায় জিনি বসে আছে। সে তার মায়ের কাঁধে মাথা দিয়ে রেখেছে: পরে কথা বলা যাবে। ঘন্টা ভরে, সারাদিন ভরে, এমনকি হয়তো বছরের পর বছর ধরে কথা বলা যাবে। সে নেভিলকে দেখল। সামনে একটি প্লেটের উপর গ্রিফিনডোরের তলোয়ারটি নিয়ে বসে আছে। যেন এই মাত্র খেয়েছে। একদল উৎসুক লোক তাকে ঘিরে আছে। হ্যারি টেবিলের পাশ ধরে আগাতে থাকল। এক জায়গায় এসে দেখল তিনজন ম্যালফয় পরিবারের সদস্য বসে আছে। তারা বুঝতে পারছে না এখানে তাদের থাকা ঠিক হবে কি না। কিন্তু কেউ তাদের বিশেষ খেয়াল করছে না। সবদিকে সে তাকিয়ে দেখল বিভিন্ন পরিবারের লোকেরা নিজেরা সব এক জায়াগায় হচ্ছে। অবশেষে সে এমন দুজনকে দেখল যাদের সঙ্গ সে সবচেয়ে বেশি আশা করে।

    এই যে আমি! হ্যারি ওদের দুজনের মাঝখানে নিচু হয়ে মুখ রেখে বিড়বিড় করে বলল। তোমরা কি আমার সঙ্গে আসবে?

    ওরা দুজন উঠে দাঁড়ালো। এবং হ্যারি, রন আর হারমিয়ন গ্রেট হল থেকে বের হয়ে গেল। ওরা সিঁড়ি বেয়ে উঠতে গিয়ে দেখল সিঁড়ির রেলিঙের বড় বড় টুকরো খসে পড়েছে, কোথাও রঙ্গের দাগ পড়েছে, কোথাও ভাঙাচোরা স্তূপ।

    কোথাও দূর থেকে পিভসের বিজয়ের গানের শব্দ করিডোর ধরে কাছে আসছে। সে নিজে এই বিজয়ের গান লিখেছে :

    We did it, we bashed them, wee potters the one,
    And Voldys gone moldy, so now lets have fun!

    সত্যিই আশা এবং দুঃখের একটি অনুভূতি জাগায়, তাই না? রন বলল। সে দরোজাটা খুলে হ্যারি এবং হারমিয়নকে ঢোকার জন্য সরে দাঁড়ালো।

    হ্যারি ভাবল, সুখ হয়তো আসবে, কিন্তু এ মুহূর্তে সে একেবারে নিঃশেষিত। প্রতিটি পা ফেলার সময় শরীরে ব্যাথার মতই যন্ত্রণা দিচ্ছে ফ্রেড, লুপিন, টঙ্কসকে হারানোর বেদনা। সর্বপ্রথম তার একটি ঘুম দেয়া দরকার। কিন্তু তার আগে রন এবং হারমিয়নকে অনেক বিষয় ব্যাখ্যা করা দরকার। ওরাই তো দীর্ঘদিন সব অভিযানের সঙ্গে সঙ্গে ছিল। ওদের সত্যটা জানা দরকার। অতি সতর্কতার সঙ্গে হ্যারি হিসাব করল সে পেনসিভে কি দেখেছে এবং জঙ্গলে প্রবেশের পর কী কী ঘটেছে। তখনো ওদের ঘটে যাওয়া সব অবাক করা কাণ্ডগুলো বর্ণনা শুরু করেনি। ওরা একটি জায়গা দিয়ে হাঁটতে থাকল। কিন্তু কোথায় যাচ্ছে ওরা তা কেউ উল্লেখ করল না।

    হেডমাস্টারের কক্ষের সামনের মূর্তিটিকে দেখা গেল এক দিকে কাত হয়ে আছে। দেখে মনে হয় কোনো একটি আঘাত লেগেছিল। হ্যারি ভাবল এখন এটি পাসওয়ার্ড চিনতে পারবে কি না।

    আমরা কী ওপরে যেতে পারি? হ্যারি বলল।

    কোনো সমস্যা নেই, নিশ্চিন্তে যাও, মূর্তিটি বলল।

    ওরা মূর্তিটির উপর দিয়ে উঠে এসে পেচানো পাথরের সিঁড়িটিতে উঠল। সেটি লিফটের মত উপরের দিকে পেঁচিয়ে উঠতে থাকল। উপরে এসে হ্যারি ধাক্কা দিয়ে দরোজাটি খুলে ফেলল।

    সে পাথরে পেনসিভটি টেবিলে যেখানে রেখেছিল সেটার উপর কোনোক্রমে পলক পড়ল। তার সঙ্গে সঙ্গে কান ঝালাপালা করা শব্দ হল। আকস্মিকভাবে মনে হল কেউ কার্স ছুঁড়েছে, ডেথ-ইটাররা এবং ভোল্ডেমর্ট পুনরায় ফিরে এসেছে

    আসলে প্রচণ্ড করতালির শব্দ হল। দেয়ালের চারদিকে পোট্রইট থেকে হোগার্টের সব হেডমাস্টার এবং হেড মিস্ট্রেস ওকে অভিনন্দন জানিয়ে হাততালি দিয়েছেন। তারা মাথার হ্যাট খুলে, কেউ কেউ টুপি খুলে ওকে অভিনন্দন জানালেন। তারা ছবির ফ্রেমের ভেতর দিয়েই একজন আরেকজনের হাত ছুঁয়ে দিলেন। তারা যে চেয়ারে আঁকা আছেন সে চেয়ার থেকে লাফিয়ে উঠতে থাকলেন। ডিলিস ডেরওয়েন্ট লজ্জাহীনভাবে ফোপাতে থাকলেন। ডেক্সটার ফরটেক্স তার ইয়ার ট্রাম্পেট তুলে অভিবাদন জানালেন; পাইনিয়াস নাইজেলাস তার উঁচু ধারালো গলায় বললেন, মনে রেখ সিথারিন হাউস একটা ভুমিকা রেখেছে, আমাদের অবদানের কথা ভুলে যেওনা!

    কিস্তু হ্যারির চোখ শুধু ওই হেডমাস্টারের চেয়ারের পেছনের একটি বড় পোট্রেইটের দিকে স্থির হয়ে আছে। অর্ধচন্দ্রাকার চশমার ভেতর থেকে চোখের জল গড়িয়ে লম্বা রুপালি পঁড়িগুলোর উপর পড়ছে। তার কাছ থেকে গর্ব এবং কৃতজ্ঞতা ঠিকরে বের হয়ে আসছে। ফিনিক্স সঙ্গীতের মতই হ্যারি আপুত হয়ে পড়ল।

    অবশেষে হ্যারি তার হাতটি উঁচু করল এবং পোট্রেইটের ভেতর নিরবতা নেমে এল। তারা ঝুঁকতে থাকলেন, চোখ ঘোরাতে থাকলেন এবং আগ্রহ নিয়ে হ্যারির কথা শোনার জন্য অপেক্ষা করলেন। কিন্তু হ্যারি সরাসরি ডাম্বলডোরের পোট্রেইটের দিকে তাকিয়ে কথা বলতে শুরু করল। অসম্ভব দুর্বল এবং চোখ দুটো বুজে আসতে চাইছে। সে শেষবারের মত একটি উপদেশ শুনতে চায়।

    যে জিনিসটি স্নিচের ভেতর লুকানো ছিল তা আমি জঙ্গলের ভেতর কোথাও ফেলে দিয়ে এসেছি। ঠিক কোথায় তা আমি জানি না। কিন্তু আমি আর সেটি খুঁজতে যাবো না। আপনি কি এ ব্যাপারে সম্মত আছেন?

    আমি সম্মত আছি মাই ডিয়ার বয়, ডাম্বলডোর বললেন। তার সঙ্গের অন্যান্য ছবিগুলো থেকে সবাই উৎসাহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। এটি একটি ভাল বুদ্ধির এবং সঠিক সিদ্ধান্ত নিয়েছ। কিন্তু কোথায় ফেলেছ তা কি কেউ দেখেছে?

    কেউ দেখেনি, হ্যারি বলল। ডাম্বলডোর সম্ভষ্ট হয়ে মাথা নাড়লেন।

    আমি এখন ইগনোটাস রেখে দিচ্ছি, হ্যারি বলল। ডাম্বলডোর সামনে ঝুকলেন।

    কিন্তু অবশ্যই হ্যারি এটা চিরদিনের জন্যই তোমার, যতদিন পর্যন্ত তুমি অন্য কাউকে না দাও।

    এই যে সেটা।

    হ্যারি এলডার ওয়্যান্ডটি তুলে ধরল। রন এবং হারমিয়ন ভক্তির সঙ্গে তাকিয়ে থাকল। এই ঘুমহীন চোখে হ্যারি ঠিক ভাল করে দেখল না।

    আমি এটি চাই না, হ্যারি বলল।

    কি? রন বলল। তুমি কি পাগল নাকি?

    হ্যারি বলল, আমি জানি এটি শক্তিশালী। কিন্তু আমি আমার নিজেরটা নিয়েই সম্ভষ্ট। সুতরাং…

    সে তার গলায় বাধা ছোট ব্যাগটার ভেতর হাত দিয়ে খুঁজতে থাকল। তারপর দুটি অর্ধেক যাদুদণ্ড বের করে আনল যা একটি ফিনিক্স সুতা দিয়ে জোড়া দেয়া আছে। হারমিয়ন বলেছিল যে এটা মেরামত করা যাবে না, কারণ এটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সে শুধু একটা কথাই জানে, এবার যদি কাজ না করে তাহলে আর কোনো কাজ হবে না।

    সে ভাঙা যাদুদণ্ডটি হেডমাস্টারের ডেস্কের উপর রাখল। এটিকে সে এলডার ওয়্যান্ড এর অগ্রভাগ দিয়ে টাচ করল। এবং বলল, রিপারো?

    তার যাদুদণ্ডটি একত্রিত হওয়ার সময় একটি লাল আলোর ঝলকানি উঠল। হ্যারি জানে যে সে সফল হয়েছে। সে পবিত্র এবং ফিনিক্স যাদুদণ্ড হাতে তুলে নিল। সে হাতের মধ্যে একটি উষ্ণতা অনুভব করল। যেন হাতটি এবং যাদুদণ্ডটি অনেকদিন পর আবার একত্র হল।

    আমি এলডার ওয়্যান্ডটি রেখে দিতে চাই, হ্যারি ডাম্বলডোরের দিকে তাকিয়ে বলল। তিনি অতি আগ্রহ নিয়ে তাকিয়ে আছেন। রেখে দিতে চাই সেখানে, যেখান থেকে এটি এসেছে। সেখানে এটি অবস্থান করবে। আমি যদি ইগনোটাসের মত স্বাভাবিকভাবে মারা যাই, তাহলে এটির শক্তি স্বাভাবিকভাবেই নষ্ট হয়ে যাবে, তাই না? পুর্বের মাস্টারকে আর কেউ পরাজিত করতে পারবে না। এভাবেই এটির ক্ষমতা শেষ হয়ে যাবে।

    ডাম্বলডোর মাথা নাড়লেন। দুজন দুজনের দিকে তাকিয়ে হাসল।

    তুমি কি নিশ্চিত? রন বলল। সে যাদদণ্ডটির দিকে তাকালো। নিজের পাওয়ার একটি সামান্য আশা তার কণ্ঠে ফুটে ইঠল।

    হারমিয়ন শান্ত কণ্ঠে বলল, আমার ধারণা হ্যারির কথাই ঠিক।

    এই যাদুদণ্ডটি যতটা না মুল্যবান তারচেয়ে বেশি সমস্যার, হ্যারি বলল। সে পোট্রইট থেকে ঘুরে দাঁড়ালো। এখন একমাত্র তার গ্রিফিনডোর টাওয়ারে বিছানার কথা মনে হচ্ছে এবং ভাবছে ক্রিচার যদি একটা স্যান্ডউইচ নিয়ে আসতো। সত্যি কথা বলতে কি, আমি ইতিমধ্যেই অনেক সমস্যা মোকাবেলা করেছি।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30 31 32 33 34 35 36 37
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleদ্য ক্যাচার ইন দ্য রাই – জে ডি সালিঞ্জার, অনুবাদ – রাফায়েত রহমান রাতুল
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }