Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প474 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৬. প্রফেসর ট্রিলনির ভবিষ্যদ্বাণী

    ১৬. প্রফেসর ট্রিলনির ভবিষ্যদ্বাণী

    হ্যরির কুইডিচ কাপ জেতার অন্তহীন আনন্দ সপ্তাহ খানেক থাকল। মনে হচ্ছে আবাহওয়া যেন বিজয়টাকে উপভোগ করছে। জুন মাস আসছে, দিনগুলো মেঘহীন এবং বাতাসে লোনা ভাব। সবারই এখন আস্তে ধীরে হেঁটে বেড়াতে, ধপ করে ঘাসের উপরে বসে পড়তে ইচ্ছে করে। সঙ্গে বরফ দেয়া কুমড়োর জুস, হয়তো কোন খেলা অথবা লেকে দৈত্যাকার স্কুইডকে পানির মধ্যে দিয়ে সাঁতরে যেতে দেখাতেই আনন্দ।

    কিন্তু ওরা পারছে না। মাথার ওপর পরীক্ষা, বাইরে অলস সময় কাটানোর চেয়ে ছাত্ররা ভেতরে খোলা জানালায় বসে গ্রীষ্মের বাতাসের মধ্যে পরীক্ষার জন্য মাথা পরিষ্কারেই বেশি ব্যস্ত থাকল। এমনকি ফ্রেড এবং জর্জ উইজলিকেও দেখা গেছে পড়তে। হোগার্টস-এর সর্বোচ্চ ডিগ্রির জন্য প্রস্তুত হচ্ছে পার্সি। এবং যেহেতু সে ম্যাজিক মন্ত্রণালয়ে যোগ দিতে চায়, তার ফলাফল খুব ভালো হওয়া দরকার। ক্রমেই যেন সে অসহিষ্ণু হয়ে উঠছে, কমনরুমে সন্ধ্যা বেলায় যারাই একটু ডিস্টার্ব করছে তাদেরকে কঠিন শাস্তি দিচ্ছে। বস্তুত পার্সির চেয়ে যে মানুষটি বেশি উদ্বিগ্ন সে হচ্ছে হারমিওন।

    হ্যারি এবং রন এখন আর ওকে জিজ্ঞাসা করে না যে একই সঙ্গে কয়েকটি ক্লাস কিভাবে সে করতে পারছে, ওরা হাল ছেড়ে দিয়েছে কিন্তু ওর নিজের পরীক্ষা সূচি দেখে ওরা আর ঠিক থাকতে পারল না।

    পরীক্ষা সূচি
    সোমবার সকাল নটা, অ্যারিথম্যান্সি
    সকাল নটা, ট্রান্সফিগিউরেশন
    লাঞ্চ
    দুপুর ১টা, চার্মস
    দুপুর ১টা, প্রাচীন ঐন্দ্রজালিক বর্ণমালা

    হারমিওন? সতর্কতার সঙ্গে জিজ্ঞাসা করল রন, কারণ আজকাল কোন কিছুতে বাধা পেলেই ও একেবারে রাগে ফেটে পড়ে। ইয়ে–মানে, তুমি কী নিশ্চিত যে সময়গুলো ঠিকমত লিখেছো?

    কী? চট করে জিজ্ঞাসা করল হারমিওন, পরীক্ষা সূচিটা তুলে নিয়ে পরীক্ষা করছে। হ্যাঁ, নিশ্চয় আমি ঠিকই লিখেছি।

    তোমাকে এখন এটা জিজ্ঞাসা করা কী কোন মানে আছে যে তুমি একই সময়ে দুটো পরীক্ষা কীভাবে দেবে? বলল হ্যারি।

    না, সংক্ষেপে বলল হারমিওন। তোমাদের কেউ কী আমার নিউমোরলজি এবং গ্রামাটিকা বই দুটো দেখেছো?

    ওহ্, হ্যাঁ, বিছানায় শুয়ে শুয়ে পড়ার জন্য আমি ও দুটো নিয়েছিলাম। বলল রন, শান্তস্বরে। টেবিলের ওপর থেকে পার্চমেন্টের পাহাড় সরিয়ে খুঁজছে হারমিওন। ঠিক সেই সময় জানালায় একটা খসখস শব্দ শোনা গেল এবং হেডউইগ উড়ে এল জানালা দিয়ে, ওর ঠোঁটে শক্ত করে ধরা একটা কাগজ।

    হ্যাগ্রিড পাঠিয়েছে, বলল হ্যারি, চিঠিটা খুলতে খুলতে। বাকবিকের আপিল ছয় তারিখ।

    ওইদিনই আমাদের পরীক্ষা শেষ হবে, বলল হারমিওন, এখনও খুঁজছে তার বই।

    এবং এখানেই আসছেন ওরা আপিলের জন্য, বলল হ্যারি তখনও চিঠিটা পড়ছে ও। ম্যাজিক মন্ত্রণালয় থেকে কেউ একজন-এবং একজন জল্লাদ।

    হকচকিয়ে তাকাল হারমিওন।

    আপিল শুনানিতে জল্লাদকে নিয়ে আসছে। মনে হচ্ছে যে এরই মধ্যে ওরা সব ঠিক করে ফেলেছে!

    হ্যাঁ, তাই মনে হচ্ছে, বলল হ্যারি ধীরে ধীরে।

    ওরা সেটা পারে না! গর্জন করে উঠল রন। এই আপিলের জন্যে অনেক কিছু আমি করে ফেলেছি, ওরা এটা করতে পারে না।

    কিন্তু হ্যারির মনে হচ্ছে যে কমিটি মিস্টার ম্যালফয়ের পক্ষে মন স্থির করে ফেলেছে। ড্র্যাকো, কুইডিচ হারার পর মন মরা হয়েই ছিল এতদিন, এখন যেন কয়েকদিন ধরে আবার চাঙ্গা হয়ে উঠেছে। ওর বিদ্বেষমূলক মন্তব্য থেকে বোঝা যাচ্ছে ও নিশ্চিত বাকবিককে মেরে ফেলা হবে। এবং এই ঘটনা ঘটানোর জন্য সে নিজে মহা খুশি। হ্যারি শুধু যেন একটাই কাজ এখন করতে পারে হারমিওনের মতো ম্যালফয়ের মুখে চড় মারা। এবং সবচেয়ে খারাপ ব্যাপার হচ্ছে এখন হ্যাগ্রিডকে গিয়ে দেখে আসারও সময় নেই, কারণ নতুন নিরাপত্তা নিয়মগুলো এখনও রয়ে গেছে। এবং নিজের অদৃশ্য হওয়া জামাটা একচক্ষু ডাইনির ভেতর থেকে নিয়ে আসার সাহস এখন হ্যারির নেই।

    ***

    পরীক্ষা সপ্তাহটা শুরু হতেই পুরো প্রাসাদ জুড়েই নেমে এল নীরবতা। তৃতীয় বর্ষের ছাত্ররা সোমবার ট্রান্সফিগিউরেশন পরীক্ষার হল থেকে বেরিয়ে নিজেদের মধ্যে ফলাফল বিনিময় করছে আর ক্ষোভ প্রকাশ করছে যে তাদেরকে অনেক কঠিন প্রশ্ন দেয়া হয়েছিল, এর মধ্যে একটা ছিল চায়ের পটকে কচ্ছপে রূপান্তরিত করা। ওর নিজের বানানো কচ্ছপটা কেমন কাছিমের মতো লাগছিল বলে হারমিওন অন্য সবাইকে আরও বিরক্ত করছিল।

    আমারটার তখনও চায়ের পটের নলটাই লেজ হিসেবে থেকে গিয়েছিল, একেবারে দুঃস্বপ্ন আর কি…

    কচ্ছপের নিঃশ্বাসে কী জলীয় বাষ্প বের হয়?

    ওটার পিঠে তখনও চায়ের পটের আকৃতির ঢাকনা, তোমার কী মনে হয় যে এর ফলে আমার নাম্বার কাটা যাবে?

    তারপরে দ্রুত লাঞ্চ শেষ করে ওরা সোজা উপরতলায় গেল চার্মস পরীক্ষার জন্যে। হারমিওন ঠিকই বলেছিল; প্রফেসর ফ্লিটউইক সত্যিই আনন্দের চার্মস সম্পর্কে প্রশ্নই করেছেন। হ্যারিরটা একটু বেশি হয়ে গেল আর রন যে ওর পার্টনার ছিল হাসতে হাসতে ওর দম ফাটার যোগাড়। ওকে ক্লাস থেকে বের করে নিয়ে যেতে হয়েছিল, এক ঘণ্টা পর ওর হাসি কমলে নিজে চার্ম পরীক্ষা দেয়ার জন্য তৈরি হলো। ডিনারের পর সবাই দ্রুত চলে এল কমনরুমে, গল্পগুজব করার জন্যে নয়, পোশন, জ্যোতির্বিদ্যা এবং ম্যাজিক্যাল জীবের যত্ন নেয়া বিষয়গুলো আবার রিভিশন দেয়ার জন্য।

    পরদিন সকালে ম্যাজিক্যাল জীবের যত্ন নেয়ার বিষয়ে পরীক্ষা নিল হ্যাগ্রিড কিন্তু পরীক্ষায় যেন ওর কোন মনোযোগ নেই। ওদের জন্য সবচেয়ে সহজ পরীক্ষাটা বেছে নিল হ্যাগ্রিড। এবং সেই কারণেই হ্যারি, রন এবং হারমিওন ওর সঙ্গে কথা বলার প্রচুর সুযোগ পেল।

    বিকি একটু যেন হতাশাগ্রস্ত হচ্ছে, ওদেরকে বলল হ্যাগ্রিড, এমন একটা ভান করে যেন নিচু হয়ে হ্যারির ফ্লোবার ওয়ার্ম পরীক্ষা করে দেখছে ওগুলো তখনও বেঁচে আছে কি না। অনেক দিন ধরেই ব্যাপারটা চলছে। যাইহোক… কাল বাদ পরশু-একভাবে না একভাবে আমরা পরিণতিটা জানতে পারব।

    বিকেলে হলো পোশন পরীক্ষা, এবং সেটা ছিল বিপর্যয়কর। হ্যারি অনেক চেষ্টা করেও ওর পোশনটাকে ঘন করতে পারল না, এবং স্নেইপ দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ওকে দেখছিল চোখে প্রতিশোধের আনন্দ,ওখান থেকে সরে যাওয়ার আগে ওর খাতায় শূন্য-এর মতো কি যেন একটা লিখে গেল।

    মধ্যরাতে জ্যোতির্বিদ্যা পরীক্ষা, বুধবার সকালে ম্যাজিকের ইতিহাস। বুধবার বিকেলে হার্বোলজি, তার মানে হচ্ছে উত্তপ্ত রোদে গ্রিন হাউজে যেতে হবে, আবার ফিরতে হবে কমনরুমে, মনে হবে গা যেন পুড়ে গেছে।

    সবশেষের আগের পরীক্ষাটা বৃহস্পতিবার সকালে, ডিফেন্স এগেনস্ট দ্য ডার্ক আর্টস। প্রফেসর লুপিন ওদের জন্যে খুবই একটা অস্বাভাবিক পরীক্ষা ঠিক করেছেন; বাইরে সূর্যালোককে একভাবে বাধা দেয়ার পরীক্ষা, যেখানে একটা গভীর জলাশয় ওদেরকে হেঁটে পেরুতে হবে, পানি ভর্তি থাকবে গ্রিনডিলো, লাল টুপি ভর্তি গর্ত পেরুতে হবে, জলাভূমি হেঁটে পেরুতে হবে, হিংকিপাংকের দেয়া ভুল দিকনির্দেশনা এড়িয়ে গিয়ে তারপরে একটা পুরনো গাছের গুঁড়িতে উঠে নতুন একটা বোগার্টের মোকাবিলা করতে হবে।

    অতি চমৎকার, হ্যারি, বিড়বিড় করলেন লুপিন, দাঁত বের করে হ্যারি যখন গাছের গুঁড়ির ওখান থেকে বেরিয়ে এল। পুরো নম্বর।

    সাফল্যে উজ্জীবিত হ্যারি অপেক্ষা করল রন এবং হারমিওন কি করে দেখার জন্য। হিংকিপাংকের কাছে পৌঁছনো পর্যন্ত রন খুব ভালো করল কিন্তু ওটা ওকে একেবারে কোমর পর্যন্ত ডুবিয়ে দিল জলাভূমির মধ্যে। হারমিওনও গাছের গুঁড়িতে পৌঁছনো পর্যন্ত খুব ভালো করল, গুঁড়ির মধ্যে বোগার্ট। ওটার ভেতরে মিনিট খানেক থাকার পরে ও বেরিয়ে এলো চিৎকার করতে করতে।

    হারমিওন! বললেন প্রফেসর লুপিন হকচকিয়ে। কী হয়েছে?

    পপপ প্রফেসর ম্যাকগোনাগল! দম নিল হারমিওন, গাছের গুঁড়িটাকে দেখিয়ে। উনি বললেন আমি সবকিছুতে ফেল করেছি!

    ওকে শান্ত করতে বেশ খানিকটা সময় লাগল। অবশেষে যখন নিজেকে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আনতে পারল, তখন সে, হ্যারি আর রন প্রাসাদে ফিরে এল। রন তখনও হারমিওনের বোগার্ট নিয়ে একটু হাসি তামাশা করতে চেয়েছিল, কিন্তু এমন একটা দৃশ্য ঠিক তখনই ওরা সিঁড়ির ধাপে দেখতে পেল যে, তখন আর ওরকম কিছু করা যায় না।

    কর্নেলিয়াস ফাজ, ঘামছেন, ওখানে দাঁড়িয়ে আছেন মাটির দিকে তাকিয়ে। হ্যারিকে দেখে কথা বলতে শুরু করলেন।

    হ্যালো, হ্যারি! তিনি বললেন। এই মাত্র পরীক্ষা শেষ হলো? প্রায় শেষ হলো?

    হ্যাঁ, বলল হ্যারি। হারমিওন এবং রন ম্যাজিক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীকে দেখে ব্ৰিতভাবে পেছনে রয়ে গেল।

    চমৎকার দিন তাই না, বললেন ফাজ, লেকটার উপরে চোখ বুলিয়ে। আহহা আহহা

    গভীর একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে তিনি হ্যারির দিকে তাকালেন।

    আমি এখানে একটি অপ্রীতিকর কাজে এসেছি হ্যারি। বিপদজনক জীবের ব্যবস্থাকরণ কমিটি হিপোগ্রিফ হত্যার একজন চাক্ষুষ সাক্ষী চায়। এবং যেহেতু ব্ল্যাক বিষয়ক জটিলতার কারণে আমাকে হোগার্টসে আসতেই হতো, সে কারণে এ ব্যাপারে আমাকেই থাকতে বলা হয়েছে।

    তার মানে কি ইতোমধ্যেই আপিলের শুনানি শেষ হয়ে গেছে? বাধা দিয়ে বলল রন, সামনে এগিয়ে এসে।

    না, না, আজ বিকেলে হবে এটা, বললেন ফাজ, কৌতূহলের সঙ্গে রনকে দেখে।

    তাহলে আপনাকে হয়তো কোন হত্যাকাণ্ড দেখতেই হবে না! দৃঢ়ভাবে বলল রন। হিপোগ্রিফ মুক্তি পেয়েও যেতে পারে!

    ফাজ কোন উত্তর দেয়ার আগেই, ওর পেছনের দরজা দিয়ে প্রাসাদ থেকে দুজন জাদুকর এল। তাদের একজন এত প্রাচীন যেন ওদের চোখের সামনেই যেন মিলিয়ে যাবে। অন্যজন দীর্ঘ, চিকন গোঁফ রয়েছে তার। হ্যারির মনে হলো ওরা দুজনেই কমিটির প্রতিনিধি। কারণ, খুব বুড়ো জাদুকরটি চোখ কুচকে হ্যাগ্রিডের কেবিনের দিকে তাকাল, দুর্বল স্বরে বলল, ডিয়ার, ডিয়ার, এ কাজের জন্য আমি সত্যিই খুব বুড়ো হয়ে গেছি … দুটোর সময় তাই না ফাজ?

    কালো গোঁফওয়ালা লোকটি ওর বেল্টে কোন একটা কিছু আঙুল বুলাচ্ছেন; হ্যারি দেখল যে ওর বুড়ো আঙুলটা একটা চকচকে কুড়ালের ওপর বুলাচ্ছে। কিছু একটা বলার জন্য রন মুখ খুলতে যাচ্ছিল, কিন্তু কনুইয়ের এক ধাক্কায় হারমিওন ওকে চুপ করিয়ে দিল। মাথা ঝাঁকাল বাইরের হলের দিকে।

    তুমি আমাকে চুপ করিয়ে দিলে কেন? রাগতস্বরে বলল রন গ্রেট হলে লাঞ্চের জন্য ঢুকতে ঢুকতে। ওদেরকে দেখেছো তুমি? ওরা কুড়ালটা পর্যন্ত নিয়ে এসেছে, একেবারে তৈরি! এটা ন্যায়বিচার নয়!

    রন, তোমার বাবা এই মন্ত্রণালয়েই কাজ করেন। তার মন্ত্রীকে তুমি এভাবে ওরকম কথা বলতে পার না! বলল হারমিওন, কিন্তু ওকে খুব বিপর্যস্ত দেখাচ্ছে। যদি এবার মাথা ঠিক রেখে ঠিকভাবে যুক্তি দিতে পারে হ্যাগ্রিড, তাহলে সম্ভবত বাকবিককে ওরা মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিতে পারবে না

    কিন্তু হ্যারি বলতে পারে হারমিওন যা বলছে সেটা ও নিজেই বিশ্বাস করে না। এই বিকেলেই পরীক্ষা শেষ হয়ে যাবে ওদের চারদিকে সবাই উত্তেজিত স্বরে কথা বলছে। কিন্তু হ্যারি, রন এবং হারমিওন–হ্যাগ্রিড এবং বাকবিকের দুঃশ্চিন্তায় অন্যমনস্ক, ওদের সঙ্গে যোগ দিতে পারল না।

    হ্যারি এবং রনের সবশেষ পরীক্ষা ছিল ডিভাইনেশন। হারমিওনের মাগল স্টাডিজ। এক সঙ্গে ওরা মার্বেলের সিঁড়িটা ভেঙ্গে উঠল। দোতলায় হারমিওন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেল এবং হ্যারি ও রন একেবারে আটতলা পর্যন্ত উঠে গেল। ওখানে অনেকেই তখনও অপেক্ষা করছে ঘোরানো সিঁড়িটার উপরে বসে, শেষ মুহূর্তের রিভিশন দিচ্ছে।

    আমাদেরকে সবাইকে তিনি আলাদা আলাদাভাবে ডাকবেন, নেভিল বলল ওদেরকে। ওরা গিয়ে ওর পাশে বসল। ওর সামনে ক্রিস্টাল বল দিয়ে ভবিষ্যৎ দেখার অধ্যায়টা খোলা। তোমরা কী কখনও ক্রিস্টাল বলের ভেতর দিয়ে কিছু দেখতে পেয়েছো?

    না বলল রন, যেন কোন ব্যাপারই না। ঘড়ি দেখছে বার বার সে; হ্যারি। জানে ও বাকবিকের আপিল শুনানির সময়টা গুনছে।

    ক্লাসরুমের বাইরের লাইনটা ছোট হচ্ছে ধীরে ধীরে। এক একজন রূপালী সিঁড়িটা বেয়ে নেমে আসছে আর অপেক্ষমাণ সবাই চাপাস্বরে জিজ্ঞেস করছে, কী জিজ্ঞাসা করেছিল? ঠিকঠাক হয়েছে তো?

    কিন্তু কেউই কথা বলেনি।

    উনি বলেছেন যে ক্রিস্টাল বলটি তাকে বলেছে, যদি আমি তোমাদেরকে কিছু বলি, আমার একটা ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটবে! চিকন স্বরে বলল নেভিল, সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে।

    এটা খুব সুবিধার হলো, নাক টেনে বলল রন। তুমি জান আমার এখন মনে হচ্ছে ওঁর সম্পর্কে হারমিওনের চিন্তাটাই সঠিক, উনি একটা ভণ্ড।

    হু, বলল হ্যারি নিজের ঘড়ির দিকে তাকিয়ে। এখন দুটো বাজে। ইস যদি আরও তাড়াতাড়ি করতেন

    সিঁড়ি দিয়ে নেমে আসছে পার্বতী, খুশিতে ডগমগ।

    উনি বলেছেন একজন একজন ঋটি ভবিষ্যৎ বক্তা হওয়ার সকল লক্ষণই আমার মধ্যে রয়েছে, ও বলল হ্যারি এবং রনকে লক্ষ্য করে। আমি অনেক কিছু দেখতে পেয়েছি … আচ্ছা, গুড লাক!

    সিঁড়ি দিয়ে দ্রুত নেমে ল্যাভেন্ডরের কাছে চলে গেল ও।

    রোনাল্ড উইজলি, পরিচিত রহস্যময়ী স্বরটা শোনা গেল মাথার উপর থেকে। হ্যারির দিকে তাকিয়ে মুখ ভেঙচালো রন এবং রূপালী মইটা বেয়ে উপরে হারিয়ে গেল। এখন পরীক্ষা দিতে একমাত্র হ্যারি বাকি থাকল। দেয়ালে পিঠ দিয়ে মেঝেতে বসল ও, রৌদ্রালোকিত জানালায় একটা মাছি ভনভন করছে, ওর মন পড়ে রয়েছে মাঠে, হ্যাগ্রিডের সঙ্গে।

    অবশেষে, প্রায় বিশ মিনিট পর, মইয়ের মাথায় রনের বিশাল পা দেখা গেল।

    কেমন হলো? উঠে দাঁড়িয়ে ওকে জিজ্ঞাসা করল হ্যারি।

    যাচ্ছেতাই, বলল রন। কিছুই দেখতে পাইনি, সে কারণে আমি কিছু গপ্পো বানিয়ে বলেছি, যদিও মনে হচ্ছিল তিনি খুব একটা বিশ্বাস করছেন না…

    কমনরুমে দেখা হবে তোমার সঙ্গে, বিড়বিড় করে বলল হ্যারি, প্রফেসর ট্রিলনির গলা শোনা গেল, হ্যারি পটার!

    ক্লাসরুমটা অন্য যে কোন সময়ের চেয়ে বেশি গরম; পর্দাগুলো দেয়া, আগুন জ্বলছে, এবং একটা দুর্গন্ধে হ্যারি প্রায় বমি করে ফেলেছিল আর কি, চেয়ার টেবিলের মধ্যে দিয়ে হোঁচট খেয়ে এগিয়ে গেল সে, প্রফেসর ট্রিলনি ওর জন্য অপেক্ষা করছেন বড় একটা ক্রিস্টাল বল সামনে নিয়ে।

    শুভ দিন, মাই ডিয়ার, আস্তে করে বললেন তিনি। তুমি যদি এখন দয়া করে ক্রিস্টাল বলটার দিকে চেয়ে থাক সময় নাও, এখন … আমাকে বল দেখি ওটার ভেতরে কি দেখতে পাচ্ছ…।

    ক্রিস্টাল বলটার উপরে নুয়ে পড়ে একদৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকল হ্যারি, যতটা পারে ততটা মনোযোগের সঙ্গে তাকিয়ে থাকল, মনে মনে ইচ্ছা করছে ওটা ওকে ঘুরন্ত সাদা কুয়াশা ছাড়া আর কিছু দেখাক, কিন্তু কিছুই হলো না।

    আচ্ছা? বললেন প্রফেসর ট্রিলনি। কি দেখতে পাচ্ছ?

    প্রচণ্ড গরম, নাকে এসে লাগছে আগুনের পেছন থেকে আসা ধোয়ার দুর্গন্ধ। একটু আগে রন যা বলে গিয়েছে সেটা তার মনে পড়ল, ভান করল হ্যারি।

    ইয়ে–, বলল হ্যারি, একটা কালো আকৃতি… মানে…

    কিসের মতো দেখতে? ফিসফিস করে জিজ্ঞাসা করলেন প্রফেসর ট্রিলনি। ভাবো, এখন…

    হ্যারি আবার ওতে মন দিল এবং ওর মনে চলে এলো বাকবিক।

    একটা হিপোগ্রিফ, ও দৃঢ়ভাবে বলল।

    সত্যিই! ফিসফিস করলেন প্রফেসর ট্রিলনি, হাঁটুর উপরে রাখা পার্চমেন্টের উপরে কিছু লিখলেন। মাই বয়, তুমি হয়তো ম্যাজিক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে হ্যাগ্রিডের বিপদের পরিণতিটাই দেখতে পাচ্ছ! আরও কাছে থেকে দেখ… হিপোগ্রিফটাকে কি মনে হচ্ছে … ওটার মাথাটা কি আছে?

    হ্যাঁ, বলল হ্যারি দৃঢ়ভাবে।

    তুমি নিশ্চিত? প্রফেসর ট্রিলনি ওকে আগ্রহের সঙ্গে জিজ্ঞাসা করল। তুমি কী নিশ্চিত, ডিয়ার? তুমি কী ওটাকে মাটিতে গড়াগড়ি খেতে দেখছ না, এবং সম্ভবত, ছায়ার মতো কেউ একজন একটা কুড়াল তুলছে পেছন থেকে?

    না! বলল হ্যারি, এখন ওর অসুস্থ লাগছে।

    কোন রক্ত নেই? হ্যাগ্রিডের কান্নাকাটি নেই?

    না! আবার বলল হ্যারি, এখন এই রুমটা ছেড়ে বাইরে যেতে চাচ্ছে হ্যারি। ওটাকে চমৎকার লাগছে, ওটা–উড়ছে, চলে যাচ্ছে…।

    প্রফেসর ট্রিলনি একটি দীর্ঘশ্বাস ছাড়লেন।

    বেশ, আমার মনে হচ্ছে এখানেই শেষ করা ভালো… একটু হতাশার মতো হলেও… কিন্তু আমার মনে হচ্ছে তুমি তোমার চুড়ান্ত চেষ্টাই করেছে।

    ছাড়া পাওয়ায় উঠে দাঁড়াল হ্যারি, ওর ব্যাগটা তুলে নিল, ঘুরল ফিরে যাওয়ার জন্যে, এবং তারপর, ভীষণ জোরে একটা কর্কশ স্বর ওর পেছন থেকে বলে উঠল।

    আজ রাতেই ঘটবে।

    পাঁই করে ঘুরে দাঁড়াল হ্যারি। আর্মচেয়ারে বসা প্রফেসর ট্রিলনি যেন শক্ত হয়ে গেছেন; চোখে কোন দৃষ্টি নেই এবং মুখটা ঝুলে পড়েছে।

    স–সরি? বলল হ্যারি।

    কিন্তু মনে হচ্ছে প্রফেসর ট্রিলনি ওর কথা শুনতে পাননি। ওর চোখ ঘুরতে শুরু করেছে। ভয় পেয়ে গেল হ্যারি। ওর মনে হচ্ছে উনি যেন অজ্ঞান হয়ে যাবেন। ইতস্তত করল ও, হাসপাতালে দৌড়ে যাওয়ার চিন্তা করল–কিন্তু প্রফেসর ট্রিলনি আবার কথা বলে উঠলেন, ওইরকমই কর্কশ কণ্ঠস্বরে, যেটা মোটেই তার মতো নয়।

    ডার্ক লর্ড একাকী এবং বন্ধুহীন, তার অনুসারীরা তাকে পরিত্যাগ করেছে। বার বছর ধরে তার দাসকে শেকলে বদ্ধ করে রাখা হয়েছে। আজ রাতে, মধ্য রাতের আগে, তার দাস শেকল ছিঁড়ে বেরিয়ে আসবে এবং যোগ দেবে প্রভুর সঙ্গে। দাসকে সঙ্গে নিয়ে ডার্ক লর্ড আবার জেগে উঠবেন, আগের যেকোন সময়ের চেয়ে ভয়াবহ রূপে। আজ রাতে… মধ্য রাতের আগে… দাস… বেরিয়ে পড়বে… তার প্রভুর সঙ্গে… যোগ দেয়ার জন্য…

    প্রফেসর ট্রিলনির মাথাটা সামনের দিকে বুকের উপরে ঝুঁকে পড়ল। এক ধরনের ঘোৎ করে শব্দ করল। তারপর, হঠাৎ, তার মাথাটা আবার সোজা হয়ে গেল।

    আমি খুব দুঃখিত, যেন স্বপ্নের ঘোরে বললেন তিনি। দিনের উত্তাপ, বুঝতেই পারছ … ক্ষণিকের জন্য যেন আমি দূরে সরে গিয়েছিলাম…

    হ্যারি তখনও ওখানে দাঁড়িয়ে আছে, নিশ্চল, তাকিয়ে আছে অপলক।

    কোন কিছু হয়েছে?

    এই মাত্র-এই মাত্র আপনি আমাকে বললেন–যে ডার্ক লর্ড আবার জেগে উঠবেন যে তার দাস আবার তার কাছে ফিরে যাবে…

    প্রফেসর ট্রিলনিকে সন্ত্রস্ত দেখাচ্ছে।

    ডার্ক লর্ড? যার নাম নেয়া যায় না? মাই ডিয়ার বয়, এটা এমন একটা বিষয় যা নিয়ে কখনই ঠাট্টা করা যায় না… আবার জেগে উঠবেন, সত্যিই…

    কিন্তু এইমাত্র আপনি বললেন! আপনি বললেন যে ডার্ক লর্ড।

    আমার মনে হচ্ছে তুমিও যেন কোথায় চলে গিয়েছিলে! বললেন প্রফেসর ট্রিলনি। আমি নিশ্চয়ই এত দূরের কোন বিষয় সম্পর্কে ভবিষ্যদ্বাণী করতে পারব না!

    মই দিয়ে নেমে ঘুরানো সিঁড়িটা ভেঙে নামছে হ্যারি, ভাবছে ও… এই মাত্র ও শুনে এলো প্রফেসর ট্রিলনি সত্যিকারের একটা ভবিষ্যদ্বাণী করলেন? অথবা ওটা কি পরীক্ষার কোন মনে রাখার মতো সমাপ্তি ছিল?

    পাঁচ মিনিট পর ও গ্রিফিন্ডর টাওয়ারে নিরাপত্তা দলটিকে পেরিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, ওর মাথায় তখনও বাজছে প্রফেসর ট্রিলনির কথাগুলো। ওর উল্টো দিক থেকে সবাই আসছে হাসতে হাসতে, ঠাট্টা করতে করতে মাঠের দিকে যাচ্ছে যেন অনেক দিনের পর পাওয়া স্বাধীনতা; ও কমনরুমে পৌঁছতে পৌঁছতে দেখল ওটা জনশূন্য হয়ে গেছে। অবশ্য এক কোণায় বসেছিল রন এবং হারমিওন।

    প্রফেসর ট্রিলনি, হ্যারি হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, এই মাত্র আমাকে বললেন।

    কিন্তু ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে মাঝপথে থেমে যেতে হলে ওকে।

    বাকবিক হেরে গেছে, দুর্বল স্বরে বলল রন। এইমাত্র হ্যাগ্রিড এটা পাঠিয়েছে।

    এবার হ্যাগ্রিডের চিঠিতে চোখের পানির কোন দাগ নেই, তবুও যেন মনে হচ্ছে লেখার সময় ওর হাতটা এতো কেঁপেছিল যে চিঠিটা প্রায় পড়াই যাচ্ছে না।

    আপিলে হেরে গেছি। সূর্যাস্তের সময় বাকবিকের মৃত্যুদণ্ডাদেশ কার্যকর করা হবে। এখন তোমাদের আর কিছুই করার নেই। নিচে এসো না। আমি চাই না তোমরা দেখ।
    হ্যাগ্রিড।

    আমাদেরকে যেতে হবে, সঙ্গে সঙ্গে বলল হ্যারি। ওখানে একা একা বসে ও জল্লাদের জন্য অপেক্ষা করতে পারে না!

    সূর্যাস্ত, বলল রন, জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে আছে ও। আমাদেরকে তো বাইরে যেতে দেয়া হবে না বিশেষ করে, হ্যারি তোমাকে।

    চলে হাত ভোবাল হ্যারি, ভাবছে।

    যদি শুধু অদৃশ্য হওয়ার জামাটা থাকতো

    ওটা কোথায়? বলল হারমিওন।

    একচক্ষু ডাইনিটার নিচে পথের ওপর ওটা রেখে আসার কথা হারমিওনকে বলল হ্যারি।

    …স্নেইপ যদি ওটার ধারে কাছে আর কখনও দেখতে পায়, তাহলে আমি ভয়ানক সমস্যায় পড়ব, বলল হ্যারি।

    সেটা অবশ্য সত্যি, বলল হারমিওন, উঠে দাঁড়িয়ে। যদি সে তোমাকে দেখে একচক্ষু ডাইনিটার কুজ কীভাবে খোলো তোমরা?

    ওটাকে জাদুর কাঠি দিয়ে ছুঁয়ে বলতে হবে ডিসেন্টডিয়াম, বলল হ্যারি। কিন্তু–

    বাক্যের বাকিটা শোনার জন্য দাঁড়াল না হারমিওন; দ্রুত রুমটা পেরিয়ে স্থূলকায় মহিলার ছবিটা সরিয়ে দৃষ্টির বাইরে চলে গেল।

    ও কী ওটা আনতে গেছে? ওর পেছনে তাকিয়ে বলল রন।

    তাই গেছে সে। পনের মিনিট পর ফিরে এল হারমিওন ওর কাপড়ের নিচে রূপালী জামাটা সযত্নে ভাঁজ করা।

    হারমিওন, ইদানীং যে তোমার কি হয়েছে আমি বুঝতেই পারছি না! বলল বিস্মিত রন। প্রথমে তুমি মারলে ম্যালফয়কে, তারপর প্রফেসর ট্রিলনির ক্লাস থেকে বেরিয়ে এলে–

    হারমিওনকে দেখে মনে হচ্ছে প্রশংসায় যেন বিগলিত সে।

    ***

    সবার সঙ্গে ডিনারে গেল ওরা, কিন্তু ডিনারের পর গ্রিফিন্ডর টাওয়ারে ফিরে এল না। পোশাকের নিচে হ্যারির আলখাল্লাটা লুকানো; হাত ভাঁজ করে রেখেছে যেন ওটা দেখা না যায়। বাইরের হলটার সামনে এসে কান পেতে নিশ্চিত হয়ে নিল ভেতরে কেউ নেই। দরজা দিয়ে মাথা গলিয়ে দেখল হারমিওন।

    ঠিক আছে, ফিসফিস করে বলল, কেউ নেই–জামাটা।

    বড়সড় জামাটার ভেতর জড়াজড়ি করে পা টিপে টিপে ওরা হলটা পার হলো, সামনের পাথরের ধাপগুলো পেরিয়ে মাঠে এসে দাঁড়াল। নিষিদ্ধ বনের আড়ালে সূর্য অস্ত যাচ্ছে, গাছের উপরের শাখাগুলোকে রাঙিয়ে দিয়েছে।

    হ্যাগ্রিডের কেবিনে পৌঁছে নক করল ওরা। মিনিটখানেক লাগল ওর জবাব দিতে, দরজা খুলে আগন্তুকদের খুঁজল সে চেহারা ফ্যাকাশে হয়ে গেছে এবং কাঁপছে হ্যাগ্রিড।

    আমরা এসেছি, ফিসফিস করে হ্যারি বলল। অদৃশ্য হওয়ার জামা আমাদের গায়ে। আমাদের ভেতরে আসতে দাও ওটা খুলে ফেলা যাক।

    ইয়ে–তোমাদের আসা উচিত হয়নি! ফিসফিস করে হ্যাগ্রিড বলল। কিন্তু পেছনে সরে গেল, যেন ওরা ভেতরে ঢুকতে পারে। দ্রুত দরজাটা বন্ধ করে দিল হ্যাগ্রিড, আলখাল্লাটা খুলে ফেলল হ্যারি।

    হ্যাগ্রিড কাঁদছিল না, ওদেরকে জড়িয়ে ধরেনি। কিন্তু ওকে এমন দেখাচ্ছিল, যেন জানে না ও কোথায় আছে এবং কি করবে। কাদার চেয়ে এই অসহায়ত্ব দেখা ওদের কাছে আরও অসহনীয় মনে হলো।

    চা খাবে? বলল সে। কেটলির দিকে বাড়ানো ওর বিশাল হাতটা কাঁপছে।

    বাকবিক কোথায়, হ্যাগ্রিড? হারমিওন জিজ্ঞাসা করল ওর স্বরে দ্বিধা।

    আ–আমি ওকে বাইরে নিয়ে গিয়েছি, বলল হ্যাগ্রিড, জগে দুধ ঢালতে গিয়ে কিছুটা ফেলে দিল টেবিলের উপরে। ভাবলাম ওর এখন গাছ দেখা উচিত–বিশুদ্ধ। বাতাসে শ্বাস নেয়া উচিত। কারণ এর পর

    হ্যাগ্রিডের হাত এত জোরে কাঁপছিল যে সে দুধের জগটাই ফেলে দিল এবং ওটা ভেঙে সমস্ত মেঝে দুধে ভেসে গেল।

    আমি সব দেখছি হ্যাগ্রিড, তাড়াতাড়ি বলল হারমিওন, দ্রুত মেঝেটা পরিষ্কার করতে শুরু করল সে।

    কাবার্ডে আরেকটা রয়েছে, হ্যাগ্রিড বলল, বসে জামার হাতা দিয়ে কপালের ঘাম মুছতে মুছতে। রনের দিকে তাকাল হ্যারি, অসহায়ভাবে দৃষ্টি ফিরিয়ে নিল রন।

    কারো কী কিছু করার নেই? তীক্ষ্ণ স্বরে জিজ্ঞেস করল হ্যারি, হ্যাগ্রিডের পাশে বসতে বসতে। ডাম্বলডোর

    উনি চেষ্টা করেছিলেন, বলল হ্যাগ্রিড। কিন্তু কমিটির সিদ্ধান্তকে পাল্টানোটা তার ক্ষমতার বাইরে। উনি বলেছিলেন ওদেরকে যে বাকবিকের কোন সমস্যা নেই, কিন্তু ওরা ভয় পায় মানে তোমরা জান তো লুসিয়াস ম্যালফয় কি রকম মানুষ

    ওদেরকে হুমকি দিয়েছে, তাই আমার ধারণা… এবং যে ঘাতকের ভূমিকায় এসেছে সে নিজে ম্যালফয়ের পুরনো বন্ধু… যাইহোক, ব্যাপারটা বিনা ঝঞ্ঝাটেই শেষ হবে… এবং আমি ওর পাশেই থাকব…।

    ঢোক গিলল হ্যাগ্রিড। কেবিনটায় ঘুরছে ওর চোখজোড়া, যেন আশার ক্ষীণ কোন সম্ভাবনা খুঁজছে।

    যখন ওকে–মানে ঘটনাটা ঘটবে, ডাম্বলডোরও থাকবেন ওখানে। আজ সকালে চিঠি দিয়ে আমাকে জানিয়েছেন। বলেছেন তিনি আমার সঙ্গে থাকতে চান। মহৎ হৃদয়ের মানুষ, ডাম্বলডোর…।

    হ্যাগ্রিডের কাবার্ডে আরেক জগ দুধ খুঁজছিল হারমিওন, ওর কণ্ঠ থেকে চাপা কান্নার আওয়াজ শোনা গেল। নতুন জগটা নিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়াল, অনেক কষ্টে চোখের পানি আটকে রেখেছে।

    আমরাও তোমার সঙ্গে থাকব, হারমিওন বলতে শুরু করল, কিন্তু হ্যাগ্রিড মাথা নাড়তে শুরু করল।

    তোমাদেরকে প্রাসাদে ফিরে যেতে হবে। আমি তোমাদের বলেছি আমি চাই না তোমরা এটা দেখ। এবং কোন অবস্থাতেই তোমরা নিচে থাকবে না… যদি ফাজ এবং ডাম্বলডোর তোমাদেরকে অনুমতি ছাড়া নিচে ঘুরতে দেখে, তাহলে হ্যারি, তুমি খুব মুশকিলে পড়ে যাবে।

    হারমিওনের চোখ থেকে নীরবে পানি গড়াচ্ছে, অবশ্য হ্যারি ওগুলো সে আড়াল করে রেখেছে। কিন্তু জগে ঢালবার জন্যে দুধের বোতলটা হাতে নিতেই তীক্ষ্ণ একটা চিৎকার বেরিয়ে এল ওর মুখ থেকে।

    রন! আ–আমি বিশ্বাস করতে পারছি না–স্ক্যাবার্স!

    হা করে ওর দিকে তাকিয়ে রয়েছে রন।

    কী বলছ তুমি? হারমিওন দুধের জগটা টেবিলের ওপরে নিয়ে ওটাকে উল্টো করে দিল। ইঁদুরটা তখন পাগলের মতো চি চি করছে আর ভেতরে যাওয়ার জন্য চার পায়ে প্রাণপণ চেষ্টা করছে। কিন্তু জগের ভেতর থেকে গড়িয়ে নিচে নামল স্ক্যাবার্স।

    স্ক্যাবার্স! ফাঁকা স্বরে বলল রন। স্ক্যাবার্স, ওখানে তুমি কী করছ?

    ইঁদুরটাকে ধরে আলোতে নিয়ে এল সে। ওটাকে ভয়াবহ রকম বিপর্যস্ত দেখাচ্ছে। শুকিয়ে গেছে, লোম পড়ে গেছে অনেক। রনের মুঠোর মধ্যে থেকে নিজেকে মুক্ত করার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করছে ইঁদুরটা।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে স্ক্যাবার্স! বলল রন। কোন বিড়াল নেই! এখানে কোন কিছুই তোমার ক্ষতি করবে না!

    হঠাৎ হ্যাগ্রিড উঠে দাঁড়াল। ওর চোখ জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে রয়েছে। ওর স্বাভাবিক লাল মুখটা পার্চমেন্টের রঙ হয়ে গেছে।

    ওরা আসছে…।

    হ্যারি, রন ও হারমিওন চট করে ঘুরে দাঁড়াল। দূরে প্রাসাদের সিঁড়ি দিয়ে কয়েকজন মানুষ হেঁটে আসছে। সবার সামনে অ্যালবাস ডাম্বলডোর, ডুবন্ত সূর্যে ওর রূপালী দাড়িটা চিকমিক করছে। ওর পাশে পা টেনে টেনে হাঁটছে কর্নেলিয়াস ফাজ। পেছনে আসছে কমিটির বুড়ো সদস্য এবং জল্লাদ ম্যাকনেয়াচ।

    তোমাদের চলে যাওয়াই ভালো, বলল হ্যাগ্রিড। ওর শরীরের প্রতিটি ইঞ্চি যেন কাঁপছে। তোমাদেরকে এখানে দেখে ফেলা উচিত না… যাও জলদি এখনই…

    পকেটে স্ক্যাবার্সকে ভরল রন, অদৃশ্য হওয়ার জামাটা তুলে নিল হারমিওন।

    পেছনে দরজা দিয়ে তোমাদেরকে বের করে দিচ্ছি, বলল হ্যাগ্রিড।

    ওর পেছন পেছন বাগানে এলো ওরা। হ্যারির কাছে সবকিছুই যেন অবিশ্বাস্য মনে হচ্ছে, বিশেষ করে কয়েক গজ দূরে বাকবিককে দেখে, হ্যাগ্রিডের কুমড়োর বাগানের পেছনে বাধা। মনে হচ্ছে ও যেন টের পেয়েছে কিছু একটা ঘটতে যাচ্ছে। মাথাটাকে এদিক ওদিক দোলাচ্ছে, পা দিয়ে মাটি আঁচড়াচ্ছে ভয়ে।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে বিকি, নরম স্বরে বলল হ্যাগ্রিড। ঠিক আছে…হ্যারি রন আর হারমিওনের দিকে ফিরে বলল, এখন যাও, যেতে থাক।

    কিন্তু ওরা নড়ল না।

    হ্যাগ্রিড, আমরা পারব না।

    আসল ঘটনাটা আমরা ওদের বলব।

    ওরা ওকে মেরে ফেলতে পারে।

    যাও! ক্ষিপ্ত হয়ে বলল হ্যাগ্রিড। তোমরা বিপদে পড়া ছাড়া এমনিতেই অনেক ঝামেলা হচ্ছে!

    ওদের আর কিছু করার নেই। হ্যারি এবং রনের গায়ের ওপর জামাটা ছড়িয়ে দিতে দিতে হারমিওন শুনতে পেল কেবিনের সামনের দিকে কারা যেন কথা বলছে। ওরা যেখানে অদৃশ্য হয়ে গেল সেদিকে একবার তাকাল হ্যাগ্রিড।

    জলদি যাও, ভাঙা গলায় বলল সে।এবং কিছু শোনার চেষ্টা করো না…।

    হেঁটে কেবিনে ফিরে গেল সে, শুনতে পেল সামনের দরজায় নক করছে কেউ।

    ভীতসন্ত্রস্ত, হ্যারি, রন এবং হারমিওন ধীরে ধীরে নিঃশব্দে হ্যাগ্রিডের বাড়িটা ঘুরে রওনা হলো। সামনে আসতে আসতে ওরা শুনতে পেল দরজাটা সশব্দে বন্ধ হয়ে গেছে।

    প্লিজ, জলদি চল, ফিসফিস করে বলল হারমিওন। আমার আর সহ্য হচ্ছে না, আমি পারছি না…।

    ঢালু লনটা পেরিয়ে প্রাসাদের দিকে রওনা হল ওরা। সূর্য এখন দ্রুতই অস্ত যাচ্ছে; আকাশের লাল ছোপে ধূসর হয়ে গেছে, কিন্তু পশ্চিম দিকে এখনও চুনির মতো টকটকে লাল।

    হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়ল রন।

    ওহ, প্লিজ রন, হারমিওন বলল।

    স্ক্যাবার্স, ও থাকতে চাচ্ছে না– রন একটু বাঁকা হয়ে ওটাকে ওর পকেটে রাখার চেষ্টা করছে, কিন্তু ইঁদুরটা যেন পাগল হয়ে গেছে; চিৎকার করছে, গা মোচড়াচ্ছে এমনকি রনের আঙুলে কামড় দেয়ার চেষ্টা করছে।

    স্ক্যাবার্স, আমি রন, ইডিয়ট বুঝতে পারছ না, ফিসফিস করে বলল রন।

    ওদের পেছনে একটা দরজা খুলে গেল, আরেকটা গলার স্বর শোনা গেল।

    ঠিক আছে–স্ক্যাবার্স চুপ কর।

    সামনের দিকে হেঁটে গেল ওরা; হারমিওনের মতোই হ্যারিও ওদের পেছনের কথাগুলো শোনার চেষ্টা করছে। রন আবার থেমে দাঁড়াল।

    আমি এটাকে ধরে রাখতে পারছি না–স্ক্যাবার্স, মুখ বন্ধ কর, সবাই শুনতে পাবে–

    বন্যপ্রাণীর মতো চিৎকার করছে ইঁদুরটা, কিন্তু হ্যাগ্রিডের বাগানের ভেতরে থেকে যে আওয়াজটা আসছে তার চেয়ে জোরে নয়। অস্পষ্ট কয়েকটি পুরুষ কণ্ঠ শোনা যাচ্ছে, তারপরে সব নীরব, এরপর কোনরকম সতর্কতা ছাড়াই শোনা গেল স্যাৎ করে এক কুড়ালের আঘাত করার শব্দ।

    মাথা ঘুরে গেল হারমিওনের।শেষ পর্যন্ত ওরা মেরেই ফেলল! ফিসফিস করে হ্যারিকে বলল সে। আ আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না–ওরা এরকম একটা জঘন্য কাজ করতে পারল!

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }