Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প748 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ১৫. দ্য আনব্রেকেবল ভাউ

    ১৫. দ্য আনব্রেকেবল ভাউ

    ক্রিসমাসের সময়টা যতই এগিয়ে আসছে ঘরের সব জানালায় তুষার গড়িয়ে ন গড়িয়ে পড়ছে। হ্যাগ্রিড প্রতিবারের মতো একাই গ্রেট হলে বারোটা। ক্রিসমাস ট্রি রেখে গেছে। সিঁড়ির রেলিংয়ে ঘাস আর জাম রঙের ফুলের পেচানো মালা দিয়ে সাজানো হয়েছে… করিডর বড় বড় মোমবাতিতে ভরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট ছোট মেয়েরা তাদের হাতে মিসলটো ফুলের (চিরহরিত এক রকম গুল্ম) তোড়া নিয়ে ঘুরছে-ফিরছে। করিডর দিয়ে বিনা বাধায় হাঁটা দায়। হ্যারিকেও করিডরে হাঁটার সময় অসুবিধের সম্মুখীন হতে হলেও তার রাতের গোপনে যাতায়াতের অভ্যাসের কারণে গোপনীয় রাস্তাগুলি কোথায় হ্যারি তা জানে। সে কারণে তার যাতায়াতের অসুবিধা কম, প্রয়োজনে গোপন রাস্তা সে ব্যবহার করে। আসন্ন ক্রিসমাসের সাজ সাজ রব, সুসজ্জিত ঘর, হলঘর সকলের মনে চাঞ্চল্য এনে দিয়েছে।

    আগে রন ছিলো অন্যরকম। ক্রিসমাসের সাজানো গোছানো কাজ কর্ম দেখে মুখ বাঁকাতো, আর যারা ওই গোছগাছ করে করে হন্যে হয়ে যেতো তাদের খালি টিটকারি দিয়ে যেতো। এইসব কিছু পছন্দ করা তো দুরের কথা খালি তুচ্ছতাচ্ছিল্য উপহাস করেই চলতো রন। এখন খুব বদলে গেছে ও। এখন ওর ভালো লাগে ক্রিসমাসের এই দৌড় ব্যস্ততা ছুট। রন এখন এইসব ভালোবাসে, এইসবে অংশ নেয়, আর মন ভরে হুল্লোড় করে। সকলের সঙ্গে মিলে হাসি আনন্দে কাটায় ক্রিসমাস। রনের এই রকম পরিবর্তন দেখতে পেয়ে হ্যারির খুবই ভালো লাগে। লেভেন্ডার ব্রাউনকেও খুব একটা দেখা যায় না। রনকে চুম্বন করে সময় অপচয় করতে চায় না। হ্যারি ভাবতেই পারেনি যে আবার ওর দুই বন্ধুর মনোমালিন্য মিটে যাবে, কথাবার্তা হবে।

    তখনো রনের মুখে হারমিওনের ছোট ছোট পাখির আক্রমণে আঁচড়ের দাগ মুছে যায়নি। ওর কথাবার্তায় সব সময় নিজেকে রক্ষার চেষ্টা ও উম্মা।

    ওর কোনো বলার মুখ নেই, রন হ্যারিকে বলে। ও ক্রামের সঙ্গে প্রেম করেনি, তো কেউ যদি আমার সঙ্গে প্রেম করে, আমাকে চুম্বন করে তাতে ওর রাগ করার কোনো কারণ নেই। আমাদের দেশটাতো স্বাধীন দেশ, কোনো খারাপ কাজ করছি বলে মনে হয় না।

    হ্যারি রনের কথায় কান দেয় না। পরের দিন সকালে কুইন্টসেন্স অ্যা কোয়েস্ট চার্মসের পড়াশুনায় ব্যস্ততার ভান দেখায়। রন ও হারমিওন দুজনেই তার বন্ধু। তাই সে কারও পক্ষ নিতে চায় না। ওদের কথার মধ্যে না থেকে চুপ করে থাকে।

    হ্যারি কুইন্টসেন্সের একটা পাতা ওল্টালো, ও জানে রন ওকে লক্ষ্য করে চলেছে। রন বিড়বিড় করে কিছু বলে চলেছে, হ্যারি তা শুনতে পাচ্ছে না, কাঠের আগুন জ্বলার জন্য কট কট শব্দ হচ্ছে। তবে মাঝে মাঝে ক্রাম শব্দটা কানে আসছে।

    হারমিওনের পড়াশুনোর চাপ এতো বেশি যে হ্যারি সম্বন্ধে রনও ওর সঙ্গে কথা বলতে পারে না। রন যদি কমনরুমে বসে থাকে তো সেখানে হারমিওন থাকে না। তো হারমিওনের সঙ্গে দেখা করার একটি মাত্র জায়গা লাইব্রেরি। সেখানেও কথাবার্তা বলতে হয় ফিস ফিস করে।

    আমার ওর ব্যাপারে নাক গলাবার কোনো কারণ দেখি না, ও যাকে ইচ্ছে জড়িয়ে ধরে চুম্বন করতে পারে, হারমিওন বললো। সেই সময় মাদাম পিনসে পেছনে দাঁড়াতে ও বললো, আমি অবশ্য কিছু না মনে করে পারি না।

    ও কুইলটা হাতে নিয়ে পার্চমেন্টে আমি শব্দটা এতো জোরে চেপে লিখলো যে পার্চমেন্টটা ফুটো হয়ে গেলো। হ্যারি চুপ করে রইলো। চুপ করে থাকতে থাকতে হ্যারির মনে হলো, ভবিষ্যতে ও বোধহয় আর কথা বলার ক্ষমতা পাবে না। হ্যারি মুখ নিচু করে অ্যাডভান্সড পোশান মেকিং থেকে এভারলাস্টিং এলিজার সম্পর্কে নোট লিখতে শুরু করলো। মাঝে মাঝে প্রিন্সের কোড ওয়ার্ড উদ্ধারে ডি সাইফার করার জন্য মন দিয়ে পড়তে লাগলো–প্রিন্স লিবাটিয়স বোরেজেস লেখার কিছু নতুন সংযোজনা করেছে।

    ও, একটা কথা বলার আছে। একটু পর হারমিওন বললো। তুমি কিন্তু সাবধানে থাকবে।

    প্রায় পৌনে এক ঘন্টা মোটামুটি নীরব থাকার পর হ্যারি একটু জোরে বললো, শেষবারের মতো বলেছিলাম, আমি কিন্তু বইটা না পড়ে ছাড়বো না। আমি স্নেইপ, অথবা স্লাগহর্নের কাছ থেকে যা যা শিখেছি তার চেয়ে হাফ-ব্লাড়-প্রিন্সের এই বইটা পড়ে অনেক কিছু বেশি শিখতে পেরেছি।

    আমি তোমার ওই মূর্খ তথাকথিত প্রিন্স সম্পর্কে কিছু বলছি না, হারমিওন হ্যারির হাতে ধরা বইটার দিকে বিরক্তিতে তাকিয়ে বললো। শোনো, কান দিয়ে শোনো, আমি একটু আগে মেয়েদের বাথরুমে গিয়েছিলাম, সেখানে রোমিলা আর কয়েকটা মেয়ে জটলা করছিলো। ওরা প্ল্যান করেছে তোমাকে কেমন করে লাভ পোশান খাওয়াবে। ওরা তোমার সঙ্গে স্লাগহর্নের পার্টিতে যাবে তারপর সুযোগ বুঝে ফ্রেড-জর্জের পোশান খাইয়ে দেবে, তুমি যদি সাবধান না থাকো তাহলে ওরা তোমাকে যেমন করেই হোক খাইয়ে দেবে কিন্তু।

    তুমি ওদের ধরে ওগুলো বাজেয়াপ্ত করলে না কেন? হ্যারি জানতে চাইলো। হ্যারির মনে হলো হারমিওন শৃঙ্খলা ভঙ্গের ব্যাপারে সম্পূর্ণ নির্লিপ্ত হয়ে গেছে। এমন একটা অবস্থায় দাঁড়িয়েছে সেখানে সব কিছু ওর কাছে তালগোল পাকিয়ে গেছে।

    বাথরুমে ওদের কাছে কি পোশান ছিলো যে বাজেয়াপ্ত করবো? হারমিওন অবজ্ঞার কণ্ঠে বললো। ওরা কেমন করে করবে সেই আলোচনা করছিলো। হারমিওন বইটার দিকে তাকিয়ে বললো, আমার মনে হয় তোমার হাফ-ব্লাড়-প্রিন্স নানা রকমের ডজনখানেক লাভ পোশানের কোনো প্রতিষেধক দিতে পারবে কি না। আমি ভাবছি তোমার সঙ্গে পার্টিতে কাউকে যেতে বলবো, তাহলে ওরা ভাববে তোমাকে লাভ পোশান খাইয়ে লাভ নেই। মনে থাকে যেন আগামীকাল রাত্রে, ওরা কিন্তু তোমাকে নাকাল করতে মরিয়া হয়ে আছে। যাকগে তুমি কিছু ড্রিঙ্ক করার সময় সজাগ থাকবে, কারণ রোমিলদা অত্যন্ত চালাক মেয়ে। হারমিওন আবার সাবধান করে দিল হ্যারিকে।

    একটু চুপ থাকো তো, হ্যারি খুব আস্তে আস্তে বললো। বাইরে থেকে উইসলিদের উইজার্ড হুইজিস এখানে যাতে আসতে না পারে ফিলচ তার সব কড়া ব্যবস্থা করেছেন।

    তোমার ফিলচের নিষেধের কথা বন্ধ করতো, কে ওর কথায় কান দিয়েছে বলতে পারো? কথাটা বলে হারমিওন নিজের কাটা দাগ দেওয়া লম্বা পার্চমেন্টটা দেখতে লাগলো।

    আমি তো জানি প্রতিটি পেঁচা পর্যন্ত সার্চ করা হচ্ছে। তাহলে মেয়েগুলো লাভ পোশান স্কুলে আনবে কেমন করে?

    ফ্রেড আর জর্জ খুব চালাক। পারফিউম আর কাসির ওষুধের বোতলে ভরে লাভ পোশান পাঠিয়েছে। এগুলো ওদের আউল অর্ডার সার্ভিসের একটি অংশ।

    তুমি দেখছি অনেক খবর রাখো।

    হারমিওন আবার অ্যাডভান্সড পোশান-মেকিংএর কপির দিকে অবজ্ঞাভরে তাকিয়ে বললো, ওরা জিনি আর আমাকে বোতলগুলো দেখিয়েছে তাই। আমি কিন্তু কারো ড্রিংকসে কখনো পোশান মিশিয়ে দিই না। অথবা দেওয়ার ভানও কখনো করিনি। দুটোই অন্যায়।

    তাহলে তুমি বলছো ফিলচকে সকলেই বোকা বানাচ্ছে! তাহলে মেয়েরা অন্য বোতলে বেআইনি জিনিসপত্র আনছে, ফিলচ ধরতে পারছে না। তাহলে ম্যালফয় স্কুলের ভেতর নেকলেসটা কেন আনতে পারবে না।

    প্লিজ হ্যারি, ওই কথা আর মনে করিয়ে দিও না। তাহলে পথে এসো, কেন নয়! হ্যারি বললো।

    বিষয়টা হলো, হারমিওন নিঃশ্বাস ফেলে বললো। জিনস, কার্স এবং লুকিয়ে রাখা চার্মস গোপন সেন্সর ধরতে পারে, পারে না? ডার্ক ম্যাজিক (কালো জাদ) এবং ডার্ক অবজেক্টসও। ধরতে বেশি সময় নেয় না। নেকলেসটার মত শক্তিশালী কার্স ধরতে খুব বেশি হলে তো এক সেকেন্ড সময় লাগবে। কিন্তু কিছু জিনিস যদি অন্য বোতলে পাঠায় তাহলে ধরা শক্ত, লাভ পোশানও হয়তো সেই রকম ভাবে পাঠিয়েছে। লাভ পোশান সে রকম কালো বা বিপজ্জনক নয় যে ধরা পড়বে।

    তোমার পক্ষে বলা খুবই সহজ, রোমিলদার কথা ভাবতে ভাবতে হ্যারি বললো।

    আমার মতে ফিলচ তো খুব ভালো জাদুকর নয়, অন্য বোতলে বা কাফ সিরাফের বোতলে ভরে পাঠালে ধরতে নাও পারে।

    হারমিওন হঠাৎ চুপ করে গেলো, হ্যারিও হারমিওনের মতো শব্দটি শুনতে পেয়েছে। অন্ধকার বই এর তাক থেকে কেউ একজন ওদের পেছনে দাঁড়িয়েছে, তারই পেছনে। অযথা ভয় পেলো ওরা। অন্ধকারে মাদাম পিনসে এসে দাঁড়িয়েছেন। মাদাম পিনসের ভোবড়া গাল, পার্চমেন্টের মতো শুকনো গায়ের চামড়া আর লম্বা বাঁকা নাক হাতে ল্যাম্পের আবছা আলো পড়ে ভূতুড়ে ভূতুড়ে দেখাচ্ছে।

    তোমরা এখনো এখানে কেন? লাইব্রেরি তো বন্ধ হয়ে গেছে। মাদাম পিনসে বললেন। তোমরা যে সমস্ত বই নিয়েছে ঠিক মতো ফেরত দেবে। আরে দুষ্টু ছেলে ওই বইটা নিয়ে তুমি কি করছো?

    মাদাম পিনসে টেবিলে ঝুঁকে থাবা মেরে অ্যাডভান্সড পোশান মেকিংর কপিটা নিয়ে নিলে হ্যারি বললো এটা আমার বই, লাইব্রেরির নয়।

    হাতিয়েছো! পিনসে ফাঁচ ফাঁচ করে বললেন। অপবিত্র! কলুষিত!

    হ্যাঁ বইটাতে তাই লেখা আছে, হ্যারি বইটা মাদাম পিনসের হাত থেকে কেড়ে নিলো।

    মাদাম পিনসের মুখ দেখে মনে হলো যেন একটা বই চোরকে ধরেছেন। হারমিওন যতো তাড়াতাড়ি পারে ওর জিনিসপত্র ব্যাগে ভরে নিয়ে হ্যারিকে টানতে টানতে বাইরে নিয়ে গেল।

    তোমাকে উনি লাইব্রেরিতে আসা বন্ধ করে দিতে পারেন যদি তুমি সাবধান না হও। শুনি কে তোমাকে ওই স্টুপিড বইটা লাইব্রেরিতে আনতে বলেছে?

    মোটেই আমার কোনো দোষ নেই। উনিই তো পাগলের মতো চেঁচামেচি করছিলেন। তোমার কি মনে হয় মাদাম আমাদের ফিলচ সম্পর্কে আলোচনা শুনেছেন? আমি ভাল করেই জানি দুজনের মধ্যে কিছু চলছে।

    ওহো… হাঃ হাঃ…। হারমিওন হেসে উঠলো।

    ওরা করিডরে এসে দাঁড়ালো। করিডর ফাঁকা। ল্যাম্প জ্বালানো করিডর থেকে ওরা কমনরুমের দিকে গেল। ফিলচ আর পিনসের গোপন ভালোবাসা নিয়ে ওরা হাসাহাসি করতে লাগলো।

    হ্যারি ফ্যাটলেডিকে বললো, বউব্রেস। ওটা ফেস্টিভ্যালের জন্য নতুন পাসওয়ার্ড।

    তোমাকেও, ফ্যাট লেডি বললেন, ওদের ঘরে ঢোকার জন্য সরে গেলেন। পোট্রট হোল দিয়ে ভেতরে ঢুকতে যাবে তখন ওদের রোমিলদার সঙ্গে দেখা হয়ে গেল।

    হায় হ্যারি! রোমিলদা বললো। জিল্লি ওয়াটার খাবে?

    হারমিওন হ্যারির দিকে তাকালো। তাকানোটা আগেই সাবধান করে দিয়েছির মতো। কি বলেছি মনে নেই?

    হ্যারি হেসে সঙ্গে সঙ্গে বললো, ধন্যবাদ! আমি ওই ড্রিঙ্কসটা তেমন পছন্দ করি না।

    তাহলে, এইগুলো খাও আমার গ্রান্ডমা পাঠিয়েছে, রোমিলা গদগদ হয়ে এক বাক্স চকলেট কলড্রন হ্যারির দিকে এগিয়ে দিয়ে বললো।

    অনেক ধন্যবাদ, হ্যারি বললো। ধন্যবাদ দেয়া ছাড়া হ্যারি আর কি বলবে। আমি এখন হারমিওনের সঙ্গে ভেতরে যাচ্ছি।

    হ্যারি কথাটা শেষ করেই হারমিওনের সঙ্গে ভেতরে গেল।

    কি তোমায় আগেই বলেছিলাম না? মেয়েদের মধ্যে কাউকে তুমি ডাকো, যাকেই ডাকবে তাকে তোমার কাছে রেখে চলে যাবে।

    কথাটা শেষ হতেই হারমিওনের মুখটা অন্ধকারে ছেয়ে গেল। তখনই চোখে পড়েছে রন আর লেভেন্ডরকে। ওরা দুজনে একই চেয়ারে গাদাগাদি করে বসে রয়েছে।

    আচ্ছা চলি হ্যারি–গুডনাইট। তখন সবে মাত্র সন্ধে সাড়ে সাতটা। হারমিওন আর একটি কথা না বলে মেয়েদের ডরমেটরির দিকে চলে গেল।

    হ্যারি আর সময় নষ্ট না করে নিজের ঘরে শুতে চলে গেল। রন ও হারমিওনের ব্যাপারটা ওর ভালো লাগছে না। যাকগে আর মাত্র দুটো দিন আছে, তারপরই দ্য ব্যারোতে চলে যাবো। আগামীকাল একটা ক্লাস তারপর স্লাগহর্নের পার্টি! ছুটি শুরু হবার আগে রন আর হারমিওনের মিটমাট সম্ভব বলে মনে হলো না। কিন্তু ওর মনে হলো ছুটি হয়ে এক রকম ভালই হচ্ছে। কিছুদিন দেখা সাক্ষাৎ না হলে আবার সখ্যতা গড়ে উঠবে। এখন চুপচাপ থাকলে সব ঠিক হয়ে যাবে।

    কিন্তু হ্যারির সবই ভুল ধারণা। পরের দিন ট্রান্সফিগারেশন লেসনে ওদের ভুরুর রং বদলানোর ব্যাপারে তর্কাতর্কি শুরু হয়ে গেল। রন প্রথম প্রয়াসে ব্যর্থ হতেই হারমিওন হাসতে শুরু করলো। হাসিটা অনেকটা হেয় করার মতো। হ্যারি ভুরুর রঙের বদলে বিরাট একটা পাকানো গোঁফ করতে পারলো। হারমিওন পারলো না। প্রফেসর ম্যাকগোনাগল অসম্ভষ্ট হলেন। হারমিওনের দুচোখ জলে ভরে গেল। তার ওপর লেভেন্ডার আর পার্বতীর টিটকিরি! ও একরকম কাঁদতে কাঁদতে ক্লাশরুম ছেড়ে চলে গেল, এমনকি জিনিসপত্রও নিলো না। হ্যারির মনে হলো হারমিওনের সবচেয়ে প্রয়োজন ওকে, তাই হারমিওনের সব জিনিসপত্র গুছিয়ে নিয়ে ওর পেছনে পেছনে চললো।

    অনেক খোঁজাখুঁজির পর হ্যারি ওকে মেয়েদের বাথরুম থেকে বেরিয়ে আসতে দেখলো। ওর সঙ্গে ছিলো লুনা লাভগুড। মনে হলো লাভগুড ওর পিঠে হাত দিয়ে সান্ত্বনা দিচ্ছে।

    হ্যারিকে দেখে লুনা বললো, হ্যালো হ্যারি, তুমি কি জানো তোমার এক চোখের ভুরু উজ্জ্বল হলুদ?

    হ্যারি বললো, হাই লুনা, হারমিওন তুমি তোমার বই খাতা সব ক্লাসরুমে ফেলে এসেছে। হ্যারি ওর বইগুলো এগিয়ে দিলো।

    ও হা হা, ভুলে গিয়েছিলাম, হারমিওন বাস্প রুদ্ধ কণ্ঠে বললো। ওর চোখের জল হ্যারি যাতে দেখতে না পায়, তাই মুখটা ঘুরিয়ে নিলো। পেনসিলের বাক্স দিয়ে চোখ দুটো ও মুছলো। ধন্যবাদ হ্যারি, যাই, আমার একটু কাজ আছে।

    হারমিওন হন্তদন্ত হয়ে চলে গেল। ওকে যে সান্ত্বনা দেবে তারও সুযোগ পেল না হ্যারি। কিন্তু কি করে সান্ত্বনা দেবে ও জানে না।

    মনে হয় ও খুব আপসেট, লুনা বললো। বাথরুমে ঢুকে কান্না শুনে ভেবে ছিলাম মোনিং মার্টল; পড়ে দেখলাম মোনিং মার্টল নয় হারমিওন। ও রন উইসলি সম্পর্কে কিছু বললো।

    হ্যাঁ, ওদের মধ্যে মনোমালিন্য চলছে।

    রন মাঝে মাঝে হাস্যকর কথা বলে, তাই না? লুনা বললো। ওরা আবার করিডরের দিকে চললো। রন মায়ামমতাহীন, এর আগেও আমি লক্ষ্য করেছি।

    আমারও তাই মনে হয়, হ্যারি বললো। লুনা মাঝে মাঝে অপ্রিয় সত্য বলে ফেলে। ওর মতো অদ্ভুত চরিত্রের মেয়ে হ্যারি খুবই কম দেখেছে। প্রসঙ্গ পাল্টে হ্যারি বললো, তো তোমার এই টার্মটা ভালই হয়েছে কি বলো?

    হ্যাঁ মোটামুটি ভালই হয়েছে, লুনা বললো। ডিএ নেই, তাই একটু একা একা লাগছে। জিনি খুব ভালো মেয়ে সেদিন ট্রান্সফিগারেশন লেসনে দুটো ছেলে লুনী লুনী বলে আমার পেছনে লেগেছিলো, ও ওদের ধমকে ঠান্ডা করে দিয়েছে।

    তুমি আমার সঙ্গে আজ রাতে স্লাগহর্নের পার্টিতে যাবে?

    হ্যারি প্রস্তাবটা অজান্তে করে ফেললো। নিজের গলার স্বর নিজেই চিনতে পারলো না মনে হলো। লুনা ওর স্ফীত চোখ দুটি দিয়ে হ্যারির দিকে আশ্চর্য হয়ে তাকালো।

    স্লাগহর্নের পার্টি? তোমার সঙ্গে?

    হ্যাঁ তাইতো বললাম। আমরা আমাদের গেস্ট সঙ্গে করে নিয়ে যেতে পারি, তাই আমি ভাবলাম তুমি যদি যাও। হ্যারি ওর বক্তব্য পরিষ্কারভাবেই বললো। আমি বলছি বন্ধুর মতো, তবে তুমি যদি না যেতে চাও…।

    না না, আমি তোমার সঙ্গে তোমার বন্ধু হিসেবেই পার্টিতে যাবোয় লুনা বললো। হ্যারি এর আগে লুনাকে এতো উচ্ছ্বসিত দেখেনি। বিশ্বাস করো আজ পর্যন্ত কেউ আমাকে বন্ধু হিসেবে কোনো পার্টিতে যেতে বলেনি! এই জন্যই কি তুমি তোমার ভুরু ডাই করেছো? আমি কি তোমার মতো করবো?

    মোটেই না, হ্যারি দৃঢ় স্বরে বললো। ভুলবশত হয়ে গেছে। আমি হারমিওনকে আমার ভুরু ঠিক করে দিতে বলব। তাহলে কথা রইলো তোমার সঙ্গে আটটার সময় এনট্রেন্স হলে দেখা হবে।

    আহা-হা! কে যেন ওদের মাথার ওপর থেকে বললো। জনেই লাফিয়ে উঠলো। ওরা পিভসের তল দিয়ে চলেছে খেয়াল করেনি। পিভস একটা ঝাড়ু লণ্ঠন এক হাতে ধরে মাথা নিচু করে দুলছিল। মুখের হাসিটাও অশুভ বিদ্বেষপরায়ণ!

    পট্টি বলে লুনি তুমি যাবে পার্টিতে?
    পট্টি লুনিকে ভালোবেসে ফেলেছে।
    পট্টি ভা… লো… বে… সে… ফে… লে… ছে
    লু… উ… উ… উ.. নি কে!

    তারপর ও বোঁ বোঁ শব্দ করে উড়ে গেলো, পট্টি লুনিকে ভালোবাসে।

    ব্যাপারটা গোপন রাখাই ভালো, হ্যারি বললো। তাহলেও যতোই গোপন রাখার চেষ্টা করুক না কেন, স্লাগহর্নের পার্টিতে স্কুলের সকলেই জেনে যাবে হ্যারি লুনার সঙ্গে কথা বলছে।

    তুমি তো অন্য কাউকে সঙ্গে নিতে পারতে! রনের ভাল লাগেনি তাই হ্যারিকে বললো, তুমি লুনা লাভগুডকে নেবে কেন ডিনার পার্টিতে?

    জিনি সেখান দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে যাচ্ছিল। কথাটা কানে যেতেই থমকে দাঁড়িয়ে রনকে বললো, শোনো ওকে হেয় করবে না। সত্যি বলছি তুমি ওকে নিয়ে যাচ্ছো শুনে আমার খুব ভাল লাগছে, হ্যারি, ও খুব আনন্দে উত্তেজিত হয়ে আছে।

    তারপর, কথাটা বলে ডিনের টেবিলের সামনে চলে গেল ওর সঙ্গে বসার জন্য। লুনার সঙ্গে পার্টিতে হ্যারি কথা বলছে দেখে জিনির খুব ভালো লাগলো। একটা লম্বা টেবিলের শেষ প্রান্তে হারমিওন একা বসে রয়েছে। ওর সামনে রয়েছে একটা স্টু-এর বাটি, একটা স্টিক দিয়ে স্টুটা ঘোলাচ্ছে। হ্যারি দেখলো রন হারমিওনের দিকে আড়ে আড়ে তাকাচ্ছে।

    এতো রাগ কিসের তোমার? একবার আমি দুঃখিত বললেই তো সব ভুল বোঝাবুঝির অবসান হয়ে যায়। হ্যারি রনকে বললো।

    আবার ক্যানারি পাখির আঁচড়-কামড় খেতে হবে? রন বললো। ও তোমায় ব্যঙ্গ করেছে? হ্যাঁ ও আমার গোঁফ দেখে হেসেছে! আমিও তো হেসেছি।

    রন হ্যারির কথাটা শুনেছে বলে মনে হলো না; ল্যাভেন্ডার পার্বতাঁকে সঙ্গে নিয়ে এসে দাঁড়ালো। হ্যারি আর রনের মধ্যে সামান্য ফাঁকা জায়গা, ল্যাভেন্ডর সেখানে চাপাচাপি করে বসে রনের গলা জড়িয়ে ধরলো।

    হায় হ্যারি, পার্বতী বললো, ওর দুই বন্ধু ল্যাভেন্ডার ও রনের আচরণে অস্বস্তী ও বিরক্তিবোধ করছে বলে মনে হলো।

    হায়, হ্যারি বললো। কেমন আছো? তুমি এখনো হোগার্টসে আছো? শুনেছিলাম তোমার বাবা-মা তোমায় স্কুল ছাড়িয়ে নিয়ে যাবেন।

    পার্বতী বললো, অনেক বলে-কয়ে আপাতত বন্ধ রেখেছি। কেটির ঘটনার পর ওরা খুব ঘাবড়ে গিয়েছিলেন, তবে এরপর আর কিছু ঘটেনি দেখে আপাতত চুপ আছেন। আরে হারমিওন তুমি? ওখানে একা একা বসে আছো কেন?

    পার্বতীর মুখ দেখে হ্যারি, বুঝতে পারলো ট্রান্সফিগারেশনে হারমিওনকে দেখে ও নিজেকে অপরাধী মনে করছে। পার্বতীর মুখে হাসি দেখে হারমিওনও হাসলো। পার্বতীর চেয়েও বেশি। মেয়েরা মাঝে মাঝে খুবই অদ্ভুত হয়ে যায়।

    হায় পার্বতী, রন আর ল্যাভেন্ডারকে ধর্তব্যের মধ্যে না এনে হারমিওন বললো। তুমি আজ স্লাগহর্নের পার্টিতে আসছো তো?

    নিমন্ত্রণ পাইনি, পার্বতী, হতাশ কণ্ঠে বললো। অনেকে যাচ্ছে শুনে আমার যেতে খুব ইচ্ছে ছিলো; কিন্তু ডাকেনি, কেমন করে যাই। তুমি নিশ্চয়ই যাবে?

    হ্যাঁ যাবো। করম্যাক আটটার সময় আসবে বলেছে, ওর সঙ্গে যাবো।

    করম্যাক? পাবতী বললো। করম্যাক মানে তুমি করম্যাক ম্যাকলেগেনের কথা বলছো?

    ঠিক ধরেছো, হারমিওন অতি মিষ্টি স্বরে বললো। সেই ছেলেটা যে একবার গ্রিফিন্ডরের কীপার হয়েছিলো।

    তুমি ওর সঙ্গে যাচ্ছো তাহলে? পার্বতী বড়ো বড়ো চোখ করে একটু যেন অবাক হয়ে বললো।

    হা তুমি, ও তুমি জানতে না? হারমিওন অদ্ভুতভাবে হেসে হেসে বললো। ওর সেই হাসি খুবই অপরিচিত।

    না! পার্বতী বললো। তুমি দেখছি কিডি প্লেয়ারদের খুব পছন্দ করো। আগে ছিলো ক্রাম, আর এখন ম্যাকলেগেন।

    সেইরকম ভাবেই হাসতে হাসতে হারমিওন বললো, ও তুমি জানো না আমি সত্যি সত্যি ভাল কিডিচ প্লেয়ারদের পছন্দ করি। এবার আমাকে উঠতে হয়, পার্টির জন্য প্রস্তুত হতে হবে।

    ও চলে গেল। তারপরই পার্বতী আর ল্যাভেন্ডার নতুন এক খবরে চঞ্চল হয়ে উঠলো। ম্যাকলেগেন সম্পর্কে ওরা কিছুই শোনেনি, হারমিওনের এই বিষয়টি তারা আন্দাজও করতে পারেনি। রন ভাসা ভাসা দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো, মুখ থেকে একটি শব্দও বের হলো না। হ্যারি চুপচাপ ভাবতে লাগলো মেয়েরা প্রতিশোধ নিতে জলের কতোটা গভীরে নামতে পারে।

    ঠিক রাত আটটার সময় হ্যারি এনট্রেন্স হলে গিয়ে দেখলো হলে মেয়েদের সংখ্যা বেশি। সকলেই কারণে অকারণে হাসছে হৈচৈ করছে। লুনার দিকে এগিয়ে যেতে শুরু হয়ে গেল গা টেপাটিপি, হাসাহাসি। লুনা পরেছে রূপালি চুমকি লাগানো রোবস। রোবসের চাকচিক্য সকলেরই দৃষ্টি আকর্ষণ করছে। ওকে বেশ ভালোও দেখাচ্ছে। হ্যারিও খুশি হলো ওর পোশাক দেখে। শেষ পর্যন্ত ও লালচে রঙ-এর ইয়ররিংস পরেনি, বাটারবিয়র কর্কের (ছিপি) নেকলেস আর ওর স্পেকট্রেসপেকস।

    হ্যারি লুনাকে বললো, তাহলে চলা যাক কি বলে?

    লুনা আনন্দে লাফিয়ে উঠে বললো, পার্টি কোথায় হচ্ছে?

    স্লাগহর্নের অফিসে, হ্যারি বললো। তারপর সকলের চোরা চাহনি আর হৈ চৈ উপেক্ষা করে। ওর হাত ধরে মাৰ্বল পাথরের সিঁড়ির দিকে এগিয়ে গেল, তুমি কি শুনেছো একজন রক্তচোষা আসছে? রুফাস স্ক্রিমগৌর? লুনা প্রশ্ন করলো। মানে, মানে তুমি বলছো ম্যাজিক মন্ত্রী?

    হ্যাঁ, উনি একজন রক্তচোষা, লুনা সাদাসিধেভাবে বললো। কর্নেলিয়স ফাজের বদলে স্ক্রিমগৌর ম্যাজিক মন্ত্রী হলে আমার বাবা ওই সম্পর্কে তার পত্রিকায় বড় একটা প্রবন্ধ লিখেছিলেন। কিন্তু উনি সেই প্রবন্ধটা যাতে ছাপা না হয় তার জন্য একজনকে পাঠিয়ে চাপ সৃষ্টি করেছিলেন, মিনিস্ট্রি সত্য কথাটা প্রকাশ করতে চায়নি।

    হ্যারি অবশ্য লুনার মন্তব্য ফ্রিমগৌর একজন রক্তচোষা বিশ্বাস করতে চাইলো না। কিন্তু লুনা এমনভাবে ওর বাবার লেখা প্রবন্ধের ব্যাপারটা বারবার বলতে লাগলো, যেন যা বলছে তা কোনো ভাবেই মিথ্যে নয়। কথা বলতে বলতে ওরা স্লাগহর্নের অফিসে পৌঁছে গেছে। বাইরে থেকে ওরা পার্টির হাসি-গান যন্ত্রসঙ্গীত উচ্চস্বরে আলোচনা শুনতে পেল। তাই ওদের আলোচনা আর এগোয়নি। হাঁটি হাঁটি পা পা করে ওরা স্লাগহর্নের অফিসে ঢুকলো।

    ঐন্দ্রজালিক শক্তিতে না সত্যসত্যই স্লাগহর্নের অফিস ঘরটা অন্যান্য টিচারদের অফিস ঘরের চেয়ে অনেক বড় সেটা হ্যারি দেখে বুঝতে পারলো না। সবুজ, লাল আর সোনালী বাতি দিয়ে ঘরের সিলিং আর দেওয়াল অপূর্ব করে সাজানো হয়েছে। দেখে মনে হয় একটা বিরাট টেন্টের তলায় তারা জমায়েত হয়েছে। ঘরে প্রচুর লোক তিল ধারণের স্থান নেই। চতুর্দিক লাল আলোতে উদ্ভাসিত। লাল আলোটা আসছে ঘরের মাঝখানে সিলিং থেকে। ঘরের এক কোণে একজন দাঁড়িয়ে উচ্চস্বরে গান গাইছে। গানের সুরের সঙ্গে বেজে চলেছে মেন্ডোলিন। বয়স্ক লোকেরা পাইপ খাচ্ছেন তারই ধোয়াতে বেশ খানিকটা জায়গা ধুমায়িত। সেখানে কিছু বৃদ্ধ জাদুকর নিজেদের মধ্যে গভীর আলোচনায় মগ্ন। তাছাড়া অনেক গৃহ ডাইনি নিঃশব্দে তাদের কাজ করে চলেছে। ওদের হাতে রূপোর ট্রে। ট্রেতে নানা রকমের খাবার। দূর থেকে মনে হয় কিছু চলমান ছোটো ছোটো টেবিল।

    লুনা আর হ্যারি দরজা খুলে দাঁড়াতেই স্লাগহর্ন ওদের দেখে দ্রুত ছুটে এসে বললেন, হ্যারি, আমার দুষ্টু ছেলে, এসো এসো ভেতরে এসো, অনেক লোকজনেরা এসেছেন তাদের সঙ্গে তোমার পরিচয় করিয়ে দেই।

    স্লাগহর্নের মাথায় ভেলভেটের ফিতে দিয়ে বাধা হ্যাট, তার সঙ্গে মিলিয়ে স্মোকিং জ্যাকেট পরেছেন। হ্যারির হাতটা স্লাগহর্ন এতো শক্ত করে ধরে থাকলেন যেন ওকে নিয়ে অদৃশ্য হয়ে যাবেন। স্লাগহর্ন ওর হাত চেপে ধরে পার্টির মধ্যে নিয়ে গেলেন। হ্যারি লুনার হাত ধরেই পার্টির ভেতরে ঢুকলো।

    হ্যারি তোমার সঙ্গে এলড্রেড ওরপলের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি। আমার এক ছাত্র ব্লাড বাদার্স মাই লাইফ এমংস্ট দ্যা ভ্যাম্পায়ার্সএর লেখক, এবং সঙ্গে রয়েছেন ওর বন্ধু স্যাংগুইনি।

    ওরপল ছোটো খাটো চশমাবিহীন মানুষ। হ্যারির হাতটা চেপে ধরে প্রবলভাবে নাড়া দিলেন। পাশেই ভ্যাম্পায়ার (রক্তচোষা) স্যাংগুইনি। লম্বা চোখের নিচে কালো ছায়া বা দাগ, খুবই খুশির সঙ্গে মাথা ঝাঁকালেন। মনে হয় পার্টি ওর তেমন ভাল লাগছে না। এক ঝাঁক মেয়ে ওর খুব কাছে দাঁড়িয়ে রয়েছে, ওদের চোখে কৌতূহল এবং সবাই উত্তেজিত।

    হ্যারি পটার তোমায় দেখে আমার খুব ভাল লাগল, ওরপল বললেন। চোখ কুঁচকে হ্যারির দিকে তাকালেন। এই সেদিন প্রফেসর স্লাগহর্নকে বলছিলাম, হ্যারি পটারের আত্মজীবনী লেখা দরকার। যে বইটির জন্য আগ্রহে অপেক্ষা করছি।

    হ্যারি পটার উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো, সত্যি?

    হোরেস যেমনটি বলেছিলেন তুমি সেরকমই! ওরপল বললেন। কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি, ওর কথার ঢং বদলে গেল। সহসা পেশাদার সুলভ ভঙ্গিতে বললেন, আমি তোমার আত্মজীবনী লিখতে পারলে সত্যই আনন্দিত হবো, লোকেরা তোমার অতীত, বর্তমান জানার জন্য ব্যাপক আগ্রহ নিয়ে অপেক্ষা করছে। তুমি যদি আমাকে কয়েকটি সাক্ষাৎকার দাও, ধরো সব মিলিয়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা তাহলে মনে হয় এক মাসের মধ্যে বইটা শেষ করতে পারবো। মনে হয় তার জন্য তোমার কোনো অসুবিধা হবে না। স্যাংগুইনিকে তুমি জিজ্ঞেস করো, যা বললাম সম্ভব কি না, এই স্যাংগুইনি কোথায় চললে, এখানে দাঁড়াও। হঠাৎ ওরপল কঠিন হয়ে গেলেন। ভ্যাম্পায়ার মেয়েদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে, চোখে ক্ষুধার্তের ছাপ।

    এই নাও একটা পেস্ট্রি খাও, ওরপল গৃহডাইনির হাত ধরা প্লেট থেকে একটা পেস্ট্রি নিয়ে বললেন। পেস্ট্রিটা স্যাংগুইনির হাতে দিয়ে হ্যারির দিকে তাকালেন।

    প্রিয় হ্যারি তুমি যে সোনা ফলাতে পারো সে সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণাও। নেই।

    হ্যারি সংযত হয়ে দৃঢ়স্বরে বললো, আমার কোনো ইচ্ছে নেই। আমার এক বন্ধুর সঙ্গে সঙ্গ দিতে হবে, দুঃখিত। বলেই হ্যারি হাঁটতে শুরু করলো।

    হ্যারি লুনার হাত ধরে ভিড়ের ভেতরে চললো। ও এইমাত্র একজনকে দেখেছে যার আছে বাদামী চুল, দেখতে অনেকটা ওইর্ডের দুই বোনের মতো।

    হারমিওন। হারমিওন! হ্যারি, হ্যারি তুমি কোথায়? এই তো আমি এখানে, কি হয়েছে তোমার?

    ঈশ্বরকে ধন্যবাদ! হায় লুনা!

    কি হয়েছে তোমার হারমিওন? হ্যারি হারমিওনের মুখের দিকে তাকিয়ে বললো। হারমিওনের বিপর্যস্ত চেহারা, যেন ও এই মাত্র কোনো শয়তানের ঘন কোঠর থেকে প্রবল লড়াই করে এসে দাঁড়িয়েছে।

    ওহো, আমি কোনো রকমে পালিয়ে এসেছি, আমি মানে করম্যাককে এই মাত্র ছেড়ে এসেছি, ও বললো। মিসলটোর (চির হরিৎ পরাশ্রয়ী গুল্ম) ভেতরে। হারমিওন যেন হ্যারিকে কৈফিয়ৎ দিতে চায়, হ্যারি ওর দিকে জিজ্ঞাসু চোখে তাকিয়ে থাকে।

    হয়েছে তো আমার সঙ্গে না আসার ফল, হ্যারি ওকে কঠিন স্বরে বললো। আমি ভেবেছিলাম ওর সঙ্গে গেলে রন হিংসে করবে, হারমিওন কোনো চিন্তা করে বললো। আমি জ্যাকেরিয়া স্মিথ সম্পর্কে তর্ক করছিলাম, আমি কিন্তু অন্যরকম ভেবেছিলাম ওকে।

    ওরা তিনজনে ঘরের অন্য এক পাশে চলে গেল। গ্রপের সঙ্গে দেখা করতে যেতে যেতে মাঠের গর্ত, গুলের ঝাড়ু ইত্যাদি লাফিয়ে লাফিয়ে চলল। হারমিওন বললো, করম্যাক ম্যাকলেগেন গ্রুপকে অনেকটা সভ্যভব্য করেছে। সেই কারণেই পার্টিতে আমি করম্যাকের সঙ্গে আসতে চেয়েছিলাম। ওদের যেতে যেতে একটুও খেয়াল ছিলো না যে প্রফেসর ট্রিলনি নিঃসঙ্গভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছেন।

    হ্যালো, লুনা খুবই ভদ্র ও নরম সুরে বললো।

    ট্রিলনি লুনাকে স্পষ্টভাবে দেখতে পেলেন না, আন্দাজ করে বললেন, শুভ সন্ধ্যা। তারপর বললেন, আমি তোমাকে অনেকদিন হয়ে গেল আমার ক্লাসে দেখতে পাই না।

    ফিরেঞ্জের সঙ্গে আমার কাজ চলছে এই বছর, তাই। লুনা বললো।

    ও হা হা, তাইতো বটে, ট্রিলনি একটু রাগত স্বরে চাপা হাসিতে বললেন।

    লুনা চুপ করে রইলো। ট্রিলনি মদ্যপান করে বেসামাল। অনেক আজেবাজে কথা বলতে শুরু করলেন, এমন কি হ্যারিকেও চিনতে পারলেন না। হ্যারি হারমিওনের কাছে এসে বললো, যাক একটা সোজা প্রশ্ন করি, তুমি কি রনকে বলতে পারবে কীপার নির্বাচনের সময় তুমি বাধা সৃষ্টি করেছিলে?

    কথাটা শুনে হারমিওন ভুরু কুঁচকালো।

    তুমিও কি মনে করো ওই রকমভাবে আমি নিজেকে ছোটো করবো? হ্যারি হারমিওনের মুখের দিকে তাকালো।

    হারমিওন তুমি ম্যাকলেগেনকে জিজ্ঞেস করতে পারো।

    শোনো হ্যারি তোমার টিমে কে কীপার হবে বা না হবে তা নিয়ে রনকে কিছু বলার আমার কোনো ইচ্ছে কখনো ছিলো না।

    খুব ভালো, হ্যারি জোর দিয়ে বললো। তাহলে আবার ওর মাথা বিগড়ে যাবে, পরের ম্যাচে আমরা হেরে যাবো। ওদের কথা বেশি এগোলো না। হ্যারির দিকে ট্রিলনির চোখ পড়ে গেল।

    হ্যারি পটার! ট্রিলনি কাঁপা কাঁপা গলায় বললেন। যেন প্রথম বারের মতো সতর্ক করে দেয়া।

    ওহ হ্যালো; হ্যারি দায়সারা গোছে বললো।

    শোনো, আমার প্রিয় ছেলে। খুবই চাপা গলায় বললেন। গুজব!… নানা গল্প!… দ্যা চুজেন ওয়ান! আমি তোমাকে অনেকদিন থেকে দেখে আসছি। হ্যারি, অশুভের পূর্বাভাস…, কিন্তু তুমি কেন ডিভিনেসনে আসো না? অন্যদের কথা বাদ দাও, তোমার জন্য সাবজেক্টটা খুবই জরুরি।

    আহ্ সিবিল, আমরা প্রত্যেকেই নিজের ব্যাপারটা সব সময় বেশি জরুরি মনে করি, ওদের কানে কথাটা গুরুগম্ভীরভাবে ভেসে এলো। পর মুহূর্তে ওরা দেখলো স্লাগহর্ন, ট্রিলনির পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছেন। স্লাগহর্নের মুখটা লাল, মাথার ভেলভেট হ্যাটটা স্থানচ্যুত। ওর এক হাতে এক গ্লাস ড্রিংকস, অন্য হাতে গাদাগুচ্ছের পাই। কিন্তু আমি ওকে পোশান ক্লাসে কখনো এতো বেশি স্বাভাবিক দেখিনি। স্লাগহর্ন বললেন।

    আমি ওর মাকে পড়িয়েছি, মায়ের মতোই ও সহজ প্রবৃত্তিজাত! ওই রকম শক্তিসম্পন্ন ছাত্রছাত্রী আমি আমার শিক্ষক জীবনে খুবই কম দেখেছি। আমি তোমাকে বলতে পারি সিবিল, এমনকি সেভেরাস পর্যন্ত।

    হ্যারি আঁতকে উঠলো যখন স্লাগহর্ন একটা হাত শূন্যে প্রসারিত করে খুব সম্ভব শূন্য থেকে ওদের মাঝে ধরে আনতে উদ্যত হলেন।

    বিপদের সময় এড়িয়ে যাওয়া বন্ধ করো, সেভেরাস এখনি এসে আমাদের সঙ্গে আলোচনায় যোগ দাও, স্লাগহর্ন হেঁচকি তুলতে তুলতে যেন মজা করে বললেন। আমি এইমাত্র হ্যারির পোশান বানানোর অসামান্য ক্ষমতা সম্পর্কে কথা বলছিলাম। অবশ্য তাতে তোমার কিছুটা অবদান আছে, তুমি তো ওকে পাঁচটা বছর পড়িয়েছে!

    স্নেইপকে স্লাগহর্ন ওর কাঁধে হাত দিয়ে জড়িয়ে রয়েছেন। স্নেইপ এক রকম যতা কলের মধ্যে পড়েছেন। উপায় নেই, হাত ছাড়িয়ে যেতে পারছেন না। স্নেইপের বাঁকা নাক আরো বেঁকে গেলো, কালো দুই চোখ ছোটো ছোটো করে হ্যারিকে দেখতে লাগলেন। দেখলেই বোঝা যায় হ্যারি তার খুবই অপছন্দের কিন্তু স্লাগহর্নের সামনে প্রকাশ করতে পারছেন না।

    আশ্চর্য! আমার তো মনে হয় পটারকে আমি কোনো কিছু শেখাইনি। তাই? তাহলে তো বলতে হবে, সব কিছুই ওর জন্মগত যোগ্যতা। স্লাগহর্ন উচ্চস্বরে বললেন।

    তুমি জানো ও প্রথম লেসনে কি বানিয়েছিল, ড্রাক্ট অফ লিভিং ডেথ বুঝলে। আজ পর্যন্ত আমার কোনো ছাত্র প্রথম চেষ্টায় এতো সূক্ষ্মভাবে বানাতে পারেনি। আমার তো মনে হয় তুমিও পারোনি সেভেরাস।

    তাই? কোনো তাপ উত্তাপ না দেখিয়ে স্নেইপ বললেন। ওর চোখ তখনো কিন্তু হ্যারির ওপর। হ্যারির খুবই অশান্তি লাগে। স্লাগহর্ন যেন আশা করছেন স্নেইপ এই নতুন ছেলেটির পোশান তৈরির দক্ষতার ব্যাপারে কিছু অনুসন্ধান করেন।

    হ্যারি, আমাকে একবার তুমি বলেছিলে; কিন্তু আমার মনে আসছে না, আর কি কি সাবজেক্ট নিয়ে পড়াশোনা করছো বলতো?

    ডিফেন্স এগেন্সট ডার্ক আর্ট (কালো জাদুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ), চার্মস (জাদুমন্ত্র), ট্রান্সফিগারেসন (চেহারার পরিবর্তন), হারাবোলজি।

    ওই সব তো সংক্ষেপে বলা যায় অররদের যা প্রয়োজন হয়, স্নেইপ ঘোৎ ঘোৎ করে বললেন।

    হ্যারি একগুয়ের মতো বললো, তাইতো হতে চাই আমি। তুমি একদিন খুব নামী দামী লোক হবে, স্লাগহর্ন ঝড়ের বেগে বললেন।

    আমি কিন্তু মোটেই চাই না তুমি অরর হও, হ্যারি। লুনা হঠাৎ ওদের কথার মধ্যে বলে ফেললো। সকলেই ওর দিকে তাকালো। ওদের কাজই চক্রান্ত আর ষড়যন্ত্র করা, আমার মনে হয় আপনারা সবাই জানেন। ওরা মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকের ভেতরে আছে আবার বাইরেও আছে। মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিককে ফেলে দিতে ওরা ডার্ক ম্যাজিক আর গাম ডিজিজ মিশিয়ে কাজ করে।

    হ্যারি ওর খাবার প্লেট হাতে নিয়ে হাসতে থাকে। হাসতে হাসতে ওর চোখে পড়লো আরগাস ফিলচ, ম্যালয়ের কান ধরে নিয়ে আসছে।

    প্রফেসর স্লাগহর্ন, ফিলচ উত্তেজিত হয়ে বললো। একজনকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছে সেই আনন্দে ওর সারা শরীর উত্তেজনায় কাঁপছে। আমি এই ছেলেটাকে ওপরের সিঁড়ির করিডরে দেখলাম উঁকিঝুঁকি মারছে। জিজ্ঞেস করতে এই ছেলেটা বললো, ও নাকি আপনার পার্টিতে আসার নেমন্তন্ন পেয়েছিল, আসতে একটু দেরি হওয়াতে ঘরে ঢুকবে কি না ভাবছিল। আপনি কি নেমন্তন্ন করেছিলেন প্রফেসর?

    ম্যালফয় সজোরে ফিলচের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে নিল। মুখ দেখে মনে হয় অসম্ভব রেগে গেছে।

    ঠিক আছে, ঠিক আছে, আমাকে ডাকা হয়নি, আমি ফটক ডিঙ্গিয়ে প্রবেশ করেছিলাম, খুশি তো?

    না, আমি একটুও খুশি নই, ফিলচ বললো, চোখে মুখে বিরক্তি মেশান হাসি। ধরা পড়েছে, ধরা পড়েছে, তোমায় কি হেডমাস্টার বলেননি, রাত্রে ঘুরেফিরে।

    বেড়ানো নিষিদ্ধ? তোমার কি অনুমতি আছে?

    যাকগে, সব ঠিক আছে আরগাস, ঠিক আছে, স্লাগহর্ন হাত দোলাতে দোলাতে বললেন। এখন ক্রিসমাস পার্টিতে আসা অপরাধ নয়। তোমার শাস্তির কথা ভুলে যাও, তুমি আমাদের সঙ্গে থাকতে পারো ড্রেকো।

    ফিলচের চোখে মুখে হতাশা ও দারুণ রাগের অভিব্যক্তি প্রকাশ যার সহজেই বোধগম্য। কিন্তু কেন, হ্যারির ওর দিকে তাকিয়ে মনে হলো, তাহলে কী ম্যালফয়ের ওপর ওর মতো ফিলচও অখুশি? স্নেইপ ও ম্যালফয় দুজনে দুজনকার মুখের দিকে রাগত দৃষ্টিতে তাকিয়ে কেন, এ তো স্বাভাবিক নয়? তাহলে কি ভীত?

    হ্যারি চোখের সামনে যা দেখছে সেটা মনে গাঁথবার আগেই ফিলচ আপন মনে বিড় বিড় করতে করতে চলে গেল। ম্যালয়ের মুখে হাসি, অবশ্যই স্লাগহর্নকে তার ঔদার্যের জন্য হাসিটা, স্নেইপের চোখ মুখের ভাব আবার অবর্ণনীয় হয়ে গেল।

    ম্যালফয়ের ধন্যবাদ জানানোর প্রত্যুত্তরে স্লাগহর্ন হাত দোলাতে দোলাতে বললেন, আরে এটা কোনো ব্যাপারই নয়, আমি তোমার গ্র্যান্ডফাদারকে যথেষ্ট জানি, কারণ…।

    ম্যালফয়, স্লাগহর্নের কথা শেষ হবার আগেই বললো, উনি সব সময় আপনার কথা বলতেন স্যার, তিনি বলছেন আপনার মতো এতো ভালো পোশান বানাতে আর কাউকে দেখেননি।

    হ্যারি ম্যালফয়ের দিকে তাকালো। কোনো ঔৎসুক বা কৌতূহল টেনে বার করার জন্য নয়। আসলে স্নেইপের দৃষ্টি ম্যালয়ের দিকে সামান্য সময় নয় অনেকটা সময় ধরে। হ্যারি অনেক দিন ম্যালফয়কে সামনে থেকে খুঁটিয়ে দেখেনি। এখন দেখলো ম্যালফয়ের দুচোখের তলায় গভীর কালো ছায়া, গায়ের চামড়া ঈষৎ ধূসর বর্ণ হয়ে গেছে।

    হঠাৎ স্নেইপ মৌনতা ভঙ্গ করে বললেন, ড্রেকো তোমার সঙ্গে দুএকটি কথা বলা প্রয়োজন আমার।

    ওহো, না না সেভেরাস ওসব কথা এখানে নয়, স্লাগহর্ন আবার হেঁচকি তুলতে তুলতে বললেন। এখন ক্রিসমাস, কঠোরতা বিসর্জন দাও।

    আমি ওর হেড অফ হাউজ, তাই আমিই ঠিক করবো কতোটা কঠোর হবো অথবা অন্যকিছু, স্নেইপ চাঁচাছোলা কণ্ঠে বললেন। এসো আমার সঙ্গে ড্রেকো।

    স্নেইপের সঙ্গে ম্যালফয় চলে গেল। ম্যালয়কে খুবই ক্ষুব্ধ দেখাচ্ছে। হ্যারি সেখানে অস্থির মনে দাঁড়িয়ে রইলো, তারপর বললো, লুনা, আমি বাথরুম থেকে এখনি আসছি।

    লুনা বললো, ঠিক আছে, তুমি যাও আমি এখানে থাকছি। হ্যারি হন্তদন্ত হয়ে ভিড়ের মধ্যে চলে গেল। লুনা জানেও না হ্যারি ওর কথা শুনতে পেল কি পেল না। লুনা আবার অররের প্রসঙ্গে ফিরে এলো। প্রফেসর ট্রিলনির সঙ্গে রটফ্যাংগ ষড়যন্ত্র সম্বন্ধে আলোচনা শুরু করলো। ট্রিলনি মনে হয় শোনার জন্য খুবই উৎসুক।

    ভিড়ভাট্টা থেকে বেরিয়ে এসে নিরিবিল দাঁড়িয়ে অদৃশ্য হবার ক্লোকটা পরা খুবই সহজ। হ্যারি পকেট থেকে ক্লোকটা বের করে চটপট পরে নিলো। অদৃশ্য হবার ক্লোক তো পরে নিলো ও কিন্তু ম্যালফয় আর স্নেইপকে খুঁজে পাওয়া খুবই দুষ্কর। তবুও হ্যারি করিডরে ধরে ছুটলো। ওর পদশব্দ স্লাগহর্নের পার্টির গান বাজনার সঙ্গে মিলেমিশে গেল। খুব সম্ভব স্নেইপ, ম্যালফয়কে নিয়ে ওর ভূগর্ভস্থ অন্ধকার অফিস ঘরে গেছেন, অথবা স্নিদারিনদের কমনরুমে গেছেন। জানার জন্য হ্যারি করিডরের লাগোয়া সব ঘরের দরজায় কান পাতলো, শেষ ঘরটার ভেতর থেকে কিছু শব্দ কানে এলো। দারুণ এক উত্তেজনায় ও দরজার চাবির গর্তে হাঁটু গেঁড়ে বসে দেখতে চেষ্টা করলো।

    এমন মারাত্মক ভুল তোমার করা ঠিক হয়নি ড্রেকো। যদি তোমাকে স্কুল থেকে এক্সপেল করা হয়।

    এমন কিছু আমি করিনি যার জন্যে… ঠিক আছে?

    আশা করি তুমি সত্যি কথা বলছে, কারণ, ব্যাপারটা বিশৃংখল আর বিচারবুদ্ধিহীন। ভুলে যেও না, এখানকার বিভিন্ন দুর্ঘটনার বিষয়ে তোমার হাত থাকতে পারে বলে তোমাকে সন্দেহ করা হচ্ছে।

    কে আমাকে সন্দেহ করছে বলবেন স্যার? ম্যালফয় খুব রেগে গিয়ে বললো। গতবার আমি কিছু করিনি ঠিক আছে? সেই হোটেলের মেয়েটির একটি শত্রু আছে, সে সম্পর্কে কেউ জানে না, অনুগ্রহ করে আমার দিকে ওই রকমভাবে তাকাবেন না। আমি খুব ভালো করেই জানি আপনি কি করছেন, না করছেন। আমাকে যতোটা গাধা মনে করেছেন তা আমি নই, কিন্তু আপনি যা করতে চাইছেন তা ফলপ্রসূ হবে না, আমি আপনার কাজ বন্ধ করাতে পারি।

    আবার নীরবতা! স্নেইপ শান্ত কণ্ঠে বললেন, তাহলে আল্ট বেল্লাট্রিকস তোমাকে অকলামেন্সি শেখাচ্ছেন? বাঃ বাঃ, কিন্তু কিসের অজুহাতে সেটা তুমি তোমার মাস্টারকে লুকাচ্ছো ড্রেকো।

    আমি আপনার কাছে অবশ্যই কোন কিছুই লুকাচ্ছি না, আসলে আমি চাই না মাঝখানে এসে আপনি দাঁড়ান।

    হ্যারি আরো ভাল করে শুনতে চায় তাই ওর কানটা চাবির গর্তের কাছে চেপে রাখলো, ম্যালফয় কি এমন ঘটনা ঘটিয়েছে যার জন্য স্নেইপের সঙ্গে বলতে গেলে কুব্ধ স্বরে কথা বলছে। ম্যালয়কে সকল-সময়েই স্নেইপকে শ্রদ্ধা করতে দেখেছে হ্যারি, স্নেইপকে ও পছন্দও করে।

    ও তাই তুমি এই টার্মে আমাকে অবজ্ঞা করে চলেছো? তুমি আমার ইন্টারফিয়ারেন্স ভয় পেয়েছো? তুমি বুঝতে পারো কেউ কখনো কি আমার অফিসে আমার ডাকা সত্ত্বেও আসেনি, একবার নয় বার বার, ড্রেকো।

    তাহলে আমাকে ডিটেনসনে রাখুন! ডাম্বলডোরের কাছে রিপোর্ট করুন। ম্যালফয় ব্যঙ্গ করে বললো।

    আবার দুজনেই চুপচাপ। তারপর স্নেইপের কণ্ঠস্বর, তুমি কিন্তু ভালো করেই জানো, আমি ওই রকমের কোনো কাজ করতে চাই না।

    তাহলে আপনি আমাকে আপনার অফিসে ডেকে পাঠাবেন না!

    আমার কথা শোনো, স্নেইপ বললেন। এতো আস্তে কথাটা বললেন যে হ্যারির শোনার জন্য গর্তের মুখে কানটা আরো চেপে ধরতে হলো। আমি তোমাকে যথাসাধ্য সাহায্য করার চেষ্টা করে চলেছি। আমি তোমার মায়ের কাছে তোমাকে রক্ষা করার জন্য প্রতিজ্ঞাবদ্ধ, অভঙ্গনীয় প্রতিজ্ঞা, ড্রেকো।

    সবকিছু দেখে মনে হচ্ছে, আপনাকে প্রতিজ্ঞাভঙ্গ করতেই হবে, কারণ আমি আপনার কাছ থেকে কোনো নিরাপত্তার দরকার মনে করছি না। ওই কাজটা আমার, তিনি আমাকে দিয়েছেন, আর সেটা আমি করছি। অবশ্য, আমি যে সময়ের মধ্যে শেষ করবো ভেবেছিলাম তার চেয়ে বেশি সময় নিচ্ছে।

    তা তোমার কি পরিকল্পনা, জানতে পারি? এই বিষয়ে আপনার নাক গলাবার প্রয়োজন আছে বলে আমি মনে করি না।

    কি করতে চাও, তুমি যদি আমাকে জানাও, তাহলে আমি তোমাকে সাহায্য করতে পারি।

    ধন্যবাদ, আমি সব রকমের সহযোগিতা পাচ্ছি, যা আমার দরকার, আমি একা সেই কাজ করছি না।

    মনে রাখবে আজকে কিন্তু তুমি একাই ছিলে, মূর্খের মতো এই কাজ কে করবে। করিডরে কারো সাহায্য ছাড়া ঘুরে বেড়াচ্ছো, সামনে পেছনে কি রয়েছে খেয়াল কর না। এগুলো হলো ছেলেমানুষী ভুল।

    আপনি যদি জেব আর গোয়েলকে ডিটেনসনে না রাখতেন তাহলে ওরা আমার সঙ্গে থাকতো।

    আঃ আস্তে আস্তে কথা বলো ম্যালফয়, স্নেইপ থুতু ফেললেন। যদি তোমার বন্ধু ক্রেব আর গোয়েল ডিফেন্স অ্যাগেন্সট ডার্ক আর্টসে 0.WL এ পাস করতো, বা এবার পাস করতে চায় তাহলে ওদের আরো একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে।

    তাতে কি আসে যায়। ডার্ক আর্টসের বিরুদ্ধে লড়াই করা তামাসা ছাড়া কিছু নয়। আমাদের মতো লোকদের ডার্কআর্টের বিরুদ্ধে লড়াই শেখার প্রয়োজন আছে ড্রেকো এটা এমন একটা কাজ, তা যেমন বিপজ্জনক, তেমনি কৃতকার্য হওয়া খুবই কঠিন, স্নেইপ বললেন। যদি আমি করতে না জানি তাহলে এই দীর্ঘ বছর এখানে আছি কেন? নাও, এখন আমার কথা শোনো। তুমি খুবই অসাবধানি, রাত্রে একা একা এখানে সেখানে ঘুরে বেড়াও, তোমাকে ধরার পর তুমি এখন ক্রেব আর গোয়েলের মতো বন্ধুদের সাহায্যের ওপর নির্ভর করতে চাও।

    ওরা ছাড়াও আরো অনেকেই আমার পাশে আছে, ওরা অনেক ভালো লোক। তাহলে আমার ওপর আস্থা নেই কেন, এবং আমি পারি…।

    আমি জানি আপনি কতদূর কি করতে পারেন! আপনি আমার গৌরব চুরি করতে চান!

    আবার নিস্তব্ধতা। তারপর স্নেইপ তীক্ষ্ণস্বরে বললেন, তুমি একটি বাচ্চা ছেলের মতো কথা বলছো। আমি পরিষ্কার বুঝতে পারছি তোমার বাবাকে ধরে জেলে পাঠানোর জন্য তুমি বিভ্রান্ত, কিন্তু…। |

    হ্যারিও এক সেকেন্ডের কম সময় পেল দরজার কাছ থেকে সরে যেতে। শুনতে পেল ম্যালয়ের পদধ্বনি এবং দরজার ওপাশ থেকে ম্যালফয়কে আসতে দেখলো। তারপর ম্যালফয় দরোজাটা সজোরে খুলে বাইরে এসে দাঁড়ালো এবং করিডর ধরে চলতে লাগলো, স্লাগহর্নের অফিস ঘরের খোলা দরজা অতিক্রম করে এগিয়ে যেতে লাগলো। এক সময় হ্যারির দৃষ্টি অতিক্রম করে আড়ালে চলে গেল ম্যালফয়। হ্যারি তখনো মেঝেতে বসে, মন জুড়ে ভাবনার ঝড়।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }