Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প748 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০২. স্পিনার্স এন্ড

    ০২. স্পিনার্স এন্ড

    মাগলদের প্রধানমন্ত্রী তার কুয়াশা আবৃত যে ঘরের জানালার কাছে বসেছিলেন, সেখান থেকে অনেক দূরে একটা নদী বয়ে চলেছে। নদীর স্রোতের জলে ভাসিয়ে নিয়ে চলেছে অনেক নোংরা জিনিসপত্র, গাছপালা, নদীর দুপারেও নোংরা জমেছে। নদীর ধারে অনেক ছোটবড় গাছ, ঝোঁপঝাড়ু, জঙ্গল। অদরে বিশাল আকারের চিমনি, সেটা একটা পরিত্যক্ত মিলের স্মৃতি বহন করছে। সেই চিমনির কালো ছায়া পড়েছে নদীর পাড়ে, দেখলেই মনে হয় অশুভ এক ছায়া, গা ছম ছম করে। নদী আপন মনে রাজ্যের নোংরা বয়ে চলেছে, শোনা যায় নদীর কালো জলের কল কল শব্দ। কাছে পিঠে কোনো জনপ্রাণী আছে বা থাকে বলে মনে হয় না। মাঝেমধ্যে শেয়ালের তীব্র ডাক। ওরা হালকা পা ফেলে লম্বা লম্বা ঘাস আগাছার মধ্যে পড়ে থাকা মৃত মাছের সন্ধানে নাক ঘষে চলেছে।

    তখন সেই নির্জন ভূতুড়ে ভূতুড়ে ভাবে নদীর পারে একটি মেয়ে দাঁড়ালো। তার মুখ কালো কাপড়ে ঢাকা, পাতলা শরীর। শেয়ালগুলো তাদের ডাক থামিয়ে, সতর্ক চোখে সেই আগত অদ্ভুত মূর্তির দিকে তাকালো। সেই মূর্তি কোনদিকে যাবে ঠিক করার জন্য কয়েক মুহূর্ত দাঁড়ালো, তারপর লঘুপায়ে দ্রুত হাঁটতে লাগলো। হাঁটার সময় তার লম্বা ঢিলে আলখেল্লার শেষ প্রান্ত ঘাসের ওপর পড়ে মর্মর ধ্বনি সৃষ্টি করতে লাগলো।

    পর মুহূর্তেও সামান্য শব্দ করে আর একটি সর্বাঙ্গ ঢাকা মূর্তি দেখা দিলো। তারও মুখ ঢাকা।

    দাঁড়াও!

    সেই কর্কশ স্বর শুনে একটা শেয়াল চমকে উঠলো, মাটিতে মুখ গুঁজে গুটিসুঁটি মেরে ঝোঁপঝাড়ের কোলে বসে রইলো। তারপরই তারা নদী কিনারে দৌড় দিলো। কিন্তু বেশি দূর তারা যেতে পারলো না। তারপরই দেখা গেলো এক সবুজ আলোর ঝলক, তীক্ষ্ণ কণ্ঠে তাদের ডাক, তারপরই মাটিতে পড়ে গেলো। তারা বেঁচে রইলো না।

    সেই দ্বিতীয় মূর্তি মৃত শেয়ালের কাছে ধীরে ধীরে এসে দাঁড়ালো।

    শেয়ালটাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে তাদের মধ্যে এক মহিলা কণ্ঠ বললো, শেয়াল! ওহো আমি ভেবেছিলাম একজন অউরর, কেসি যেও না দাঁড়াও!

    প্রথম নারীমূর্তি পিছন ফিরে তাকালো, সবুজ আলোর ঝলকে দেখলো শেয়াল মরে পড়ে রয়েছে।

    কেসি, নারসিসা, আমার কথা শোনো। কথাটা বলে ও দৌড়ে গিয়ে প্রথম মূর্তিটির একটা হাত চেপে ধরলো। অন্যটি দূরে সরে গেল।

    তুমি ফিরে যাও বেল্লা! তোমাকে আমার কথা শুনতেই হবে!

    আমি আজ পর্যন্ত তোমার অনেক কথা শুনেছি বেল্লা। আমি যা বলার, যা করার ঠিক করে নিয়েছি। আমাকে যেতে দাও।

    নারসিসা নামের মহিলাটি নদীর ধারে দাঁড়ালো, নদীর ধার দিয়ে চলে গেছে সারবদ্ধ পুরনো রেলিং। রেলিংয়ের ধার ঘেঁষে খোয়া দিয়ে বাঁধানো সরু একটা রাস্তা। নদী আর রাস্তার মাঝামাঝি মরচে পড়া পুরনো রেলিং। রাস্তার এক ধারে জীর্ণ পরিত্যক্ত ইটের সারি সারি বাড়ি। বেলা বাড়িগুলোর দিকে তাকালো, বাড়ির একটাও জানালা খোলা নেই, আলো জ্বলছে না, অন্ধকার। অন্ধকার রাস্তার ধারে ভগ্নপ্রায় বাড়িগুলো ভূতের মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে।

    উনি এখানে থাকেন? বেল্লা ঘৃণামিশ্রিত স্বরে বললো, এখানে? এখানে মাগলদের গোবর-গাদায়? আমরাই বোধহয় প্রথম এই চত্বরে পা রাখলাম।

    মনে হয় নারসিসার বেল্লার কথা কানে গেল না। রেলিংটার একটা ফাঁকা জায়গা দিয়ে তখন ও রাস্তায় নেমে পড়েছে।

    কেসি, দাঁড়াও।

    কথাটা বলে বেলা ওর পিছু পিছু চললো। চলার সময় ওর লম্বা ক্লোকের ঝুল রাস্তায় লুটোতে লাগলো। দেখলো নারসিসা দুটো বাড়ির মাঝে একটা কানাগলির মধ্যে ঢুকলো। সব কানাগলিগুলো একই রকমের। রাস্তায় আলো নেই, স্ট্রিট ল্যাম্পগুলো ভেঙ্গে গেছে, ওরা দুজনে বলতে গেলে এক রকম আলো-আঁধারি আর অন্ধকারে মোড়া গলিতে দৌড়তে লাগলো। একটা গলির কাছে এসে বাঁক নেবার আগেই বেল্লা, নারসিসাকে ধরে ফেললো এবং টান দিয়ে ওর মুখোমুখি দাঁড় করালো।

    কেসি আমার কথা শোনো, এমন কাজ তুমি করবে না, ওর কাছে যাবে না, ওকে বিশ্বাস করা যায় না।

    তুমি বলছো? কিন্তু ডার্কলর্ড ওকে বিশ্বাস করেন, তাই না?

    মনে হয় ডার্কলর্ড চিনতে ভুল করেছেন, আমার বিশ্বাস ভুল করেছেন, বেল্লা হাঁফাতে হাফাতে বললো। ওখানে ওরা দুজনে সেই নির্জন রাস্তায় দাঁড়িয়ে কাছে পিছে আর কেউ তাদের ফলো করছে কি না দেখার জন্য ঘোমটা সামান্য সরালো। তুমি তো ভালো করেই জানো পরিকল্পনার বিষয়ে আমাদের কারও সঙ্গে কিছু বলার নিষেধ আছে। বললে ডাকলডের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।

    আ… আমাকে যেতে দাও বেল্লা! নারসিসা তিক্ত কণ্ঠে কথাটা বলে তার ক্লোকের ভেতর থেকে একটা জাদুদণ্ড টেনে বার করে সেটা বেল্লার মুখের সামনে ধরলো। বেল্লা শুধুমাত্র হাসলো।

    কেসি মনে রেখো আমি তোমার বোন। আর আমি বলছি এমন কাজ তুমি করো না।

    এমন কোনো কাজ নেই যা এখন আমি করতে পারি না! নারসিসা গভীর নিঃশ্বাস ফেললো, ওর গলার স্বরে হিস্টেরিয়ার সুর, কথাটা শুনে চাকুর মতো দণ্ডটা নামিয়ে নিলো, আবার একটা আলোর ঝলকানি। বেল্লা ওর বোনের হাত ছেড়ে দিলো। ওর হাতটা গনগনে আগুনের মতো উত্তপ্ত।

    নারসিসা!

    কিন্তু নারসিসা এগিয়ে চললো। বেল্লা কোলাগা হাতটা ঘষতে ঘষতে ওর পিছু পিছু দূরত্ব বজায় রেখে চললো, গোলক ধাঁধার মতো রাস্তা। রাস্তার পাশে ইটের বাড়ি। নারসিসা আরো ভেতরের দিকে ঢুকে গেল। সবশেষে নরাসিসা একটা রাস্তায় দাঁড়ালো, রাস্তার নাম দেখলো স্পিনার্স এন্ড, ওখান থেকে বিরাট মিলের চিমনিটা দেখে মনে হয় একটা দৈত্য তার লম্বা একটা আঙ্গুল তুলে সতর্ক করে দিচ্ছে। কাঠের ভাঙ্গা ভাঙ্গা জানালাগুলো পাশে রেখে খোয়া ফেলা রাস্তায় হাঁটার সময় গভীর নিস্তব্ধতাকে খটখট শব্দ প্রতিধ্বনি করছে। শেষ পর্যন্ত গলির শেষে একটা বাড়ির সামনে নারসিসা দাঁড়ালো। ওর পেছনে বেল্লা। সেই বাড়িটা দোতলা। একতলার জানালায় পর্দা খোলা। ফাঁক দিয়ে ঘরের আলো রাস্তায় এসে পড়ছে।

    খুব জোরে ঘন ঘন নিঃশ্বাস ফেলতে ফেলতে ও বন্ধ দরজায় টোকা দিলো। ওর পাশে বেল্লা নীরবে দাঁড়িয়ে রইলো। দুজনেই সামান্য চিন্তিত, দ্রুত গতিতে নিঃশ্বাস ফেলে চলেছে। রাতের বাতাস সেই নদীর নোংরা জলের গন্ধ বয়ে নিয়ে আসছে। কয়েক সেকেন্ড দাঁড়ানোর পর ওরা বন্ধ দরজার ভেতর ওপার থেকে পদশব্দ শুনতে পেল। তারপরই দরজাটা কাঁচ কাঁচ শব্দ করে খুলে গেল। দরজার ফাঁক থেকে একজনের এক ফালি মুখ দেখা গেল। মাথায় তার লম্বা লম্বা কালো চুল মাঝখানে সিথি, পান্ডুর মুখ, কালো দুই চোখ। লোকটি ওদের দিকে তাকালো।

    নারসিসা ওর মাথার ঘোমটা খুলে ফেললো। ও এতো রক্তহীন, বিবর্ণ যে। অন্ধকারে তার মুখ জ্বল জ্বল করে উঠলো। ওর মাথার লম্বা সোনালি চুলগুলো পিঠের দিকে ঝুলে পড়েছে, দেখে মনে হয় সদ্য স্নাত।

    নারসিসা, লোকটি উচ্চারণ করে দরজাটা আরো একটু ফাঁক করলো, যাতে ঘরের আলো ওদের ওপর পড়ে। বাঃ তোমাদের দেখে খুব ভালো লাগছে!

    সেভেরাস, নারসিসা চাপা গলায় বললো। আমি কি আপনার সঙ্গে কথা বলতে পারি? খুবই দরকারি কথা।

    হা হা নিশ্চয়ই।

    সামান্য পাশে সরে গিয়ে ওদের দুজনকে ঘরের ভেতরে ঢোকার জায়গা করে দিলেন। ওরা দুজনে ঘরে ঢুকলো।

    স্নেইপ, গম্ভীর স্বরে বেল্লাট্রিক্স বললো ভেতরে ঢুকেই।

    বেল্লাট্রিক্স, স্নেইপ বললেন, মুখে সামান্য বিনয়ের হাসি। স্নেইপ দরজাটা বন্ধ করে দিলেন। ঘরটা ছোট একটা শয়ন কক্ষের মতো। ঘরের দেয়ালের র‍্যাক ভর্তি বই সবই কালো অথবা চামড়ার কভারে বাঁধানো। কোনোটাই নতুন নয়। একটা জীর্ণ দশাপ্রাপ্ত সোফা। সোফা ঢাকার কাপড় ছেঁড়া, অতি পুরনো একটা হাতাওয়ালা চেয়ার ও একটা নড়বড়ে টেবিল। সিলিংয়ে ঝোলানো মোমবাতির লণ্ঠনে ঘরে মৃদু আলো। ঘরের এমন দৈন্যদশা যে দেখলে মনে হয় সেখানে কেউ বড় একটা থাকে না।

    স্নেইপ নারসিসাকে সোফাতে বসার জন্য ইঙ্গিত করলেন। নারসিসা গায়ের ক্লোকটা খুলে সোফার একপাশে ছুঁড়ে রেখে তার পাশেই বসলো। তার কোলে রাখা ফর্সা দুহাতের দিকে তাকালো। ওর হাত দুটো কাঁপছে স্নেইপ লক্ষ্য করলেন। বেল্লাট্রিক্স ওর ক্লোকের হুড ধীরে ধীরে নিচে নামালো। গায়ের রং ওর বোনের মতো নয়, কালো, বড় বড় চোখ আর শক্ত চোয়াল। ও নারসিসার পেছনে দাঁড়িয়ে রইলো। একবারও স্নেইপের দিক থেকে দৃষ্টি সরালো না।

    তো আমরা তোমাদের জন্য কি করতে পারি? দুবোনের সামনে রাখা একটা হাতলওয়ালা চেয়ারে বসে বললেন।

    আমরা মানে, আমরা ছাড়া তো এখানে, আর কেউ নেই। নারসিসা ধীর শান্ত স্বরে বললো।

    না অবশ্যই আর কেউ নেই, তবে ওয়ার্ম টেল আছে। আমরা কী খুবই গোপন বিষয়ে কথা বলতে যাচ্ছি?

    স্নেইপ তার হাতের দণ্ডটা যেদিকে বইগুলো রাখা আছে সেদিকে প্রসারিত করলেন। সঙ্গে সঙ্গে শব্দ করে একটা গোপন দরজা খুলে গেল। ওরা দেখতে পেল সেখানে একটা সরু সিঁড়ি উপরের দিকে চলে গেছে। সিঁড়ির প্রথম ধাপে ছোটো খাটো একজন লোক নিচুপ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

    স্নেইপ কোনো ভূমিকা না করে বললেন, ওয়ার্মটেল দেখতে পাচ্ছো আমার ঘরে এখন দুজন অতিথি এসেছেন।

    লোকটি সামান্য কুঁজো হয়ে স্নেইপের ঘরে ঢুকলো। লোকটার চোখ দুটি জলভরা, লম্বা নাক আর মুখে ছেয়ে রয়েছে বোকা বোকা হাসি। ও বাঁ হাত দিয়ে ডান হাতটায় এমন আলতোভাবে স্পর্শ করছিলো যেন সেখানে ব্যথা আছে। দস্তানা পরার জন্য ব্যথার জায়গাটা দেখা যাচ্ছে না।

    দুই বোনকে দেখে, খোনা শোনা গলায় ও বললো, ওহো নারসিসা, বেল্লাট্রিক্স তোমরা? অনেকদিন পর তোমাদের দেখে খুব ভালো লাগছে।

    ওয়ার্মটেল আমাদের জন্য ড্রিঙ্কস নিয়ে আসবে, অবশ্য যদি তোমরা চাও, স্নেইপ বললেন। তারপর ও নিজের বেডরুমে চলে যাবে।

    ওয়ার্মটেল দুপা পিছিয়ে গেলো, এমন ভাবে যেন স্নেইপ ওকে কিছু ছুঁড়ে মেরেছেন।

    ওয়ার্মটেল স্নেইপকে রাগতঃ স্বরে বললো, আমি আপনার ভৃত্য নই! বলার সময় স্নেইপের চোখের দিকে তাকাল না।

    তাই? আমি যতদূর জানি ডার্কলর্ড আমাকে সাহায্য করার জন্যই তোমাকে এখানে পাঠিয়েছেন।

    সাহায্য করার জন্য; কিন্তু আপনার ড্রিঙ্কস আনার জন্য, আর ঘরদোর সাফ করার জন্য অবশ্যই না।

    দুঃখিত ওয়ার্মটেল! সে সম্বন্ধে আমার কোনো আইডিয়া ছিলনা যে তুমি কোন সাংঘাতিক বড় কাজে আমাকে সাহায্য করার জন্য অপেক্ষা করছে। স্নেইপ চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন। যে কাজটা বললাম সেটা করতে তোমার বোধহয় বেশি কষ্ট হবে না। যাকগে এ সম্বন্ধে আমি ডার্কলর্ডের সঙ্গে আলাপ করবো।

    আমি নিজেও ডার্কলর্ডের সাথে কথা বলতে পারি।

    অবশ্যই, অবশ্যই পারো, স্নেইপ অবজ্ঞা প্রকাশ করে বললেন। সে পরে হবে, আপাতত আমাদের জন্য ড্রিঙ্কস তৈরি করে আনো, আপাতত এলফদের তৈরি ওয়াইন হলেই চলবে।

    ওয়ার্মটেল স্নেইপের কথা শুনে দোনোমনো করলো। স্নেইপের মুখের দিকে এমনভাবে তাকালো যেন ডাকলর্ড যা বলেছেন সে সম্বন্ধে তর্ক করতে প্রস্তুত; কিন্তু সামান্য সময় দাঁড়িয়ে থেকে ঘরের অন্য একটি গোপন দরজা দিয়ে ভেতরে চলে গেলো। ওরা বাইরের ঘর থেকে ধুপ ধাপ আর বাঁচের গ্লাসের ঠন ঠন শব্দ শুনতে পেলো। একটু পরে ওয়ার্মটেল একটা ট্রেতে ধুলো মাখানো একটা বোতল আর তিনটে গ্লাস হাতে করে ঘরে ঢুকলো। তারপর ট্রেটা নড়বড়ে টেবিলের ওপর রেখে একবার ওদের দিকে তাকিয়ে সেখানে বই-এর তাকের দরজা খুলে সশব্দে বন্ধ করে ভেতরে চলে গেল।

    স্নেইপ বোতল থেকে রক্ত বর্ণের ওয়াইন তিনটে গ্লাস ঢেলে দুটো গ্লাস দুবোনের দিকে এগিয়ে দিলেন। নারসিসা বিড় বিড় করে ধন্যবাদ জানালো, বেলাট্রিক্স কোন কথা না বলে স্নেইপের দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলো। স্নেইপ বেলাট্রিক্সের অসন্তুষ্ট দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে কোনো তাপ উত্তাপ দেখালেন না। কিন্তু মৃদু মৃদু হাসতে লাগলেন।

    স্নেইপ ডার্ক লর্ডের উদ্দেশ্যে গ্লাসটা তুলে ধরলেন, এক চুমুকে গ্লাসটা শূন্য করে দিলেন। তার দেখাদেখি নারসিসা, বেল্লাট্রিক্স তাদের গ্লাস শূন্য করতেই স্নেইপ বোতল থেকে ওদের গেলাসে ওয়াইন ঢাললেন।

    নারসিসা দ্বিতীয় ড্রিঙ্ক হাতে নিয়ে অস্থির চিত্তে বললো, সিভেরাস আগে না জানিয়ে হঠাৎ আপনার কাছে আসার জন্য আমি দুঃখিত, কিন্তু আপনার কাছে আসতে আমি বাধ্য হয়েছি। একমাত্র আপনিই আমাকে সাহায্য করতে পারেন।

    স্নেইপ হাত তুলে ওকে চুপ করতে ইশারা করলেন, তারপর আবার হাতের দণ্ডটা বই-এর তাকের দেওয়ালের দিকে প্রসারিত করলেন। তার পেছনেই রয়েছে লুকোনো সিঁড়ি। তারপরই শুনতে পাওয়া গেল খুব জোরে ধপাস করে পড়ার শব্দ আর উচ্চস্বরে চিৎকার। এরপর ওয়ার্মটেলের ধপ ধপ করে সিঁড়ি দিয়ে ওপরে ওঠার শব্দ।

    কিছু মনে করো না, ইদানীং ওয়ার্মটেলের লুকিয়ে লুকিয়ে আড়ি পেতে অন্যের কথা শোনার অভ্যাস হয়েছে, আমি জানি না কেন ওইরকম করছে, যাকগে নারসিসা কিছু বলেছিলে তুমি, এবার বলো।

    নারসিসা খুব বড় দেখে একটা শ্বাস নিয়ে আবার বললো, সিভেরাস আমি জানি আমার আপনার কাছে আসাটা ঠিক হয়নি, কাউকে কিছু বলতে নিষেধ করা হয়েছে আমাকে, কিন্তু…।

    তাহলে তো তোমার চুপ করে থাকা উচিত, বেল্লাট্রিক্স বললো। বিশেষ করে এখানে এসে সকলের সামনে।

    এখানে এসে, সকলের সামনে? কথাটা স্নেইপ চিবিয়ে চিবিয়ে বললেন। বেল্লাট্রিক্স তুমি কি বললে ঠিক বুঝতে পারলাম না?

    আপনাকে আমি মোটেই বিশ্বাস করি না, তা আপনি ভালো করেই জানেন স্নেইপ!

    নারসিসা ফোঁস ফোঁস করে কাঁদতে লাগলো। দুহাতে মুখ ঢাকলো। স্নেইপ তার হাতের শূন্য গ্লাসটা টেবিলে রাখলেন। বেল্লাট্রিক্সের ব্যাঙ্গ মাখানো মুখের দিকে তাকিয়ে চেয়ারে বসে হাতলে একটা হাত রেখে হাসলেন।

    নারসিসা, আমার মনে হয় বেল্লাট্রিক্স কি বলতে চাইছে তা আমাদের অবশ্যই শোনা উচিত, তাহলে সে আলাপ-আলোচনায় কোনো বাধা সৃষ্টি করবে না, বেল্লাট্রিক্স তুমি যা বলতে চাইছিলে বলল, হ্যাঁ তার আগে বলো তো কেন তুমি আমাকে বিশ্বাস করো না?

    শত শত কারণ আছে। বেল্লাট্রিক্স খুব চেঁচিয়ে বললো। সোফা ছেড়ে উঠে টেবিলে শব্দ করে শূন্য গ্লাসটা রাখল। হ্যাঁ কোথা থেকে শুরু করা যায়! বলছি ডার্কলর্ড যখন হেরে গেলেন তখন কোথায় ছিলেন আপনি? তারপর ডার্কলর্ড যখন অন্তর্হিত হলেন, তখন তার খোঁজ করার কোনো চেষ্টা করেননি কেন? ডাম্বলডোরের, ছত্রছায়ায় বসে এতো বছর কি করেছেন। ডার্কলর্ড ফিলোসফার স্টোন সংগ্রহ করতে গেলে তাকে বাধা দিয়েছিলেন কেন? ডার্কলর্ড পুনর্জীবিত হবার সাথে সাথে আপনি চলে আসেননি কেন? কয়েক সপ্তাহ আগে আপনি কোথায় ছিলেন, যখন আমরা সকলে মিলে ডাকলর্ডের জন্য প্রফেসী উদ্ধার করতে যুদ্ধ করছিলাম? আরো বলুন স্নেইপ, হ্যারি পটার এখনও কেন বেঁচে রয়েছে, পাঁচ বছর ধরে ও কি আপনার অনুকম্পায় বেঁচে আছে না?

    কথাগুলো বলতে বলতে বোট্রিক্স থামলো। বেশি কথা আর উত্তেজনার জন্য ওর বুকটা খুব জোরে ওঠানামা করছিলো ওর পেছনে নারসিসা চুপ করে বসে রইলো, তখনও ও মুখ দুহাতে ঢেকে রেখেছে।

    বেল্লাট্রিক্স, তোমার অতোগুলো প্রশ্নের জবাব দেবার আগে আমি বলতে চাই! যারা আমার পেছনে কথা বলে তাদেরকে তুমি নির্ভাবনায় আমার উত্তর বলতে পারো, এমন কি ডাকলর্ডকেও। তবে তোমার সব প্রশ্নের জবাব দেবার আগে আমি তোমাকে প্রশ্ন করি, তুমি কী সত্যই ভেবেছো, ডার্ক লর্ড তোমার ওই প্রশ্নগুলো আমাকে করেননি? একথাও কী তুমি ভাবছো তাকে আমি ওই প্রশ্নগুলোর যথাযথ জবাব না দিয়ে তোমাদের সঙ্গে আজ আমি কথা বলছি?

    বেল্লাট্রিক্স ইতস্তত করে বললো, আমি জানি ডাকলর্ড আপনাকে বিশ্বাস করেন, কিন্তু…।

    তাহলে তুমি কি মনে করো তিনি ভুল করেছেন, অথবা আমি তাকে প্রতারণা করছি? পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী জাদুকরকে বোকা বানানো, আজ পর্যন্ত পৃথিবীতে এতো মহান লেজিলেমেন্সের আবির্ভাব দেখেনি।

    বেলাট্রিক্স নীরব রইলো। এই প্রথম ওকে সামান্য অস্বস্তিতে বসে থাকা দেখা গেল। স্নেইপও আর অগ্রসর হলেন না। তারপর ড্রিঙ্কের গ্লাসটা হাতে নিলেন, এক চুমুক দিয়ে বলতে লাগলেন, তুমি জানতে চাইছো ডার্কলর্ডের পতনের পর আমি কোথায় ছিলাম? ডার্কলর্ড যেখানে আমাকে থাকতে বলেছিলেন, সেখানেই ছিলাম, হোগার্টস স্কুল অফ উইচক্র্যাফট অ্যান্ড উইজারডিতে। কারণ তিনি আমাকে ডাম্বলডোরের বিরুদ্ধে গুপ্তচরের কাজ করতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তুমি জানো, আর আমিও জানি, ডার্কলর্ডের আদেশ অনুসারেই আমি হোগার্টস স্কুলে কাজ নিয়েছিলাম।

    বেল্লাট্রিক্স মাথা নাড়লো। বোঝা গেল না স্নেইপের কথাটা বিশ্বাস করল কি করল না। কিছু একটা বলতে যাচ্ছিল স্নেইপ বাধা দিলেন।

    তুমি জানতে চেয়েছে তিনি অন্তর্ধান হবার পর কেন আমি তার খোঁজ করার চেষ্টা করিনি। আমি ভেবেছিলাম তিনি শেষ হয়ে গেছেন, অবশ্যই এই ভাবনার জন্য আমি গর্বিত নই, আমি ভুল করেছিলাম কিন্তু একটা কথা মনে রাখবে যে, আমারই মতো যারা মনে করেছিল তিনি ফিরে আসবেন না, আমাদের যদি তিনি ক্ষমা না করতেন, তাহলে এখন কজনই বা তার অনুগামী থাকতো।

    আমার ওপর তার অগাধ বিশ্বাস আগেও ছিলো, এবং এখনও আছে! বেল্লাট্রিক্স ভাবাবেগে বললো। আমি তার জন্য বহুবছর আজকাবান জেলে বন্দি অবস্থায় কাটিয়েছি!

    অবশ্যই প্রশংসার যোগ্য, স্নেইপ একঘেয়ে সুরে বললেন। তাহলেও জেলে থেকে তার বিশেষ কোনো উপকারে আসোনি, কিন্তু তার ওপর তোমার আনুগত্য প্রদর্শন নিঃসন্দেহে ভাল।

    প্রদর্শন! বেল্লাট্রিক্স রেগে গেল, মুখ দেখে মনে হয় মাথার ঠিক নেই। আমি যখন ডিমেন্টরদের অত্যাচারে জর্জরিত তখন আপনি হোগার্টসে ডাম্বলডোরের সঙ্গে আরামে দিন কাটিয়েছেন, বলা যেতে পারে তার পরম প্রিয় হয়ে।

    ঠিক তা নয়, স্নেইপ শান্ত সুরে বললেন। তাই যদি হতো তাহলে তিনি আমাকে ডার্ক আর্টের বিরুদ্ধে প্রতিরোধের কাজ দিতেন না। আর ঐ কাজ দিয়েছিলেন আমার অতীতকে ব্যঙ্গ করার জন্য।

    শেখালেই পারতেন আপনার প্রিয় সাবজেক্ট, তাহলে ডাকলর্ডের জন্য আপনার স্যাকরিফাইস, ভালোভাবেই বোঝা যেতো, তাই না? বেল্লাট্রিক্স ব্যাঙ্গ করে বললো। তো সেখানে দীর্ঘকাল টিকে রইলেন কেমন করে স্নেইপ? আমাদের প্রভু মৃত জেনেও হোর্টসে দিব্যি ডাম্বলডোরের বিরুদ্ধে স্পাইং করে গেলেন?

    কথাটা ঠিক বললে না, স্নেইপ বললেন। যে কাজের ভার ডার্কলর্ড আমাকে দিয়েছিলেন, তা সুষ্ঠভাবে করেছি জেনে তিনি বরং খুশি হয়েছেন। তার মৃত্যুর খবর শুনেও কিন্তু কাজটা অর্ধসমাপ্ত করে হোগার্টস ছেড়ে চলে আসিনি। দীর্ঘ মোল বছর আমি ডাম্বলডোর সম্বন্ধে যেসব তথ্য সংগ্রহ করে রেখেছিলাম সেগুলো ডার্কলর্ড ফিরে আসার পর উপহার স্বরূপ তার হাতে তুলে দিয়েছি। তোমার আজকাবান জেলের স্মৃতির চাইতে সেসব অনেক বেশি দরকারি ছিলো।

    কিন্তু ডাকলর্ডের মৃত্যু হয়েছে শুনেও হোগার্টসে থেকে গিয়েছিলেন?

    হ্যাঁ ছিলাম বেলাট্রিক্স, এই প্রথম তার কথায় বিরক্তির সুর শোনা গেল। স্বীকার করছি আজকাবানের অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের চেয়ে হোগার্টস অনেক ভালো। তুমি তো জানো সেই সময়ে রক্তচোষাদের প্রচুর ধরপাকড় হচ্ছিলো, ডাম্বলডোর আমাকে প্রোটেকশন দিয়েছিলেন, আমাকে তাই রক্তচোষা হিসেবে আজকাবানে যেতে হয়নি। আমি সেই সুবিধের সম্পূর্ণ সদব্যবহার করেছি। আমি সেখানে থেকে গেছিলাম বলে ডাকলর্ড কণামাত্র অখুশি হননি, এসব এখন কেন তুমি প্রশ্ন করছো ঠিক বোধগম্য হচ্ছে না।

    তুমি বোধহয় জানতে উৎসুক, বেশ জোর দিয়েই স্নেইপ বললেন, বেলাট্রিক্স স্নেইপকে থামাতে চাইলো। কেন আমি ডার্কলর্ড আর ফিলোসফার স্টোনের মাঝখান দাঁড়িয়েছিলাম। তার জবাব খুবই সহজে দেয়া যায়। তিনি বুঝতে পারেননি আমাকে বিশ্বাস করা চলে কি না। খুব সম্ভব তিনি তোমারই মতো ভেবেছিলেন যে আমি বিশ্বস্ত ডেথইটার থেকে ডাম্বলডোরের চামচা হয়েছি। সেই সময় তার মনের ও শারীরিক অবস্থা খুবই দুর্ভাগ্যজনক করুণ ছিলো। নিজের দেহের বদলে এক অতি-সাধারণ জাদুকরের দেহের মধ্যে ছিলেন। যে কথা তিনি তার প্রাক্তন মিত্রের কাছে প্রকাশ করেননি, তিনি আশঙ্কা করেছিলেন তার প্রাক্তন মিত্রটি জানতে পারলে হয়তো তাকে ডাম্বলডোর অথবা মন্ত্রণালয়ের হাতে তুলে দেবে। সেই সময়ে তিনি আমার ওপর তার আস্থা রাখতে পারেননি, এখনও বিষয়টি মনে পড়লে গভীরভাবে দুঃখ পাই। না হলে তিন বছর আগে তিনি ক্ষমতায় ফিরে আসতে পারতেন। সেই রকম পরিস্থিতিতে আমি অকর্মন্য ও লোভী কুইলের পাথরটা চুরি করার প্রচেষ্টা লক্ষ্য করে ছিলাম এবং আজ তোমাকে বলছি আমি যথাসাধ্য শক্তি প্রয়োগ করে ওর প্রচেষ্টা বানচাল করেছিলাম।

    কথাটা শুনে বেলাট্রিক্স এমন এক মুখভঙ্গি করলো যেন ও একটা তেতো ওষুধের ডোজ গলাধকরণ করেছে।

    কিন্তু যখন উনি ফিরে এলেন তক্ষুণি আপনি তার কাছে যাননি, সময় ক্ষেপণ করেছেন, তখন কী আপনি ডার্কৰ্মৰ্কের জ্বালা অনুভব করেননি?

    ঠিক বলেছো, আমি দুঘণ্টা পরে পৌঁছেছিলাম। ডাম্বলডোরের আদেশের পরে গিয়েছিলাম।

    কী বলছেন, ডাম্বলডোরের…? বেল্লাট্রিক্স ক্ষিপ্তস্বরে বললো।

    ভাবো স্নেইপ আবারা অধৈর্য হয়ে বললেন। চিন্তা করো! দুঘণ্টা… শুধুমাত্র দুঘণ্টা। আমি দুঘণ্টা থেকে যেয়ে ভবিষ্যতেও হোগার্টসে গুপ্তচরের কাজ করার সুযোগটা রক্ষা করতে পেরেছি! ডাম্বলডোরকে বুঝতে দিয়েছি যে আমি তার জন্যই–ডার্কর্ডের আবির্ভাবের খবর পেয়ে সেখানে যাচ্ছি। আমি সেটা করেই ডার্কর্ডকে অনবরত ডাম্বলডোর আর তার হেডকোয়ার্টার অর্ডার অফ ফিনিক্সের তথ্য পাঠিয়ে গেছি। ডার্কমার্ক যখন কয়েক মাস ধরে শক্তিশালী হচ্ছিলো তখনই আমার বিশ্বাস হয়েছিলো ডার্কলর্ড আবার প্রবল শক্তিশালী হয়ে ফিরে আসছেন, সব রক্তচোষারা (ডেথ ইটাররা) জানতো। আমি তখন ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনা সম্বন্ধে চিন্তা করার সময় পেয়েছি, আমার পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে ভেবেছি, কারকারফের মতো পালিয়ে যেতে আমি চাইনি।

    ডাকলৰ্ড আবার শক্তিশালী হয়ে ফিরে এসেছেন খবরটা জানার পর খানিকটা দেরিতে আমি তার কাছে যাওয়ায় তিনি প্রথমে আমার ওপর অবশ্য চটেছিলেন সন্দেহ নেই; কিন্তু পরে তার কাছে গিয়ে, কেন এবং কিসের জন্য দেরি হয়েছে, ব্যাখ্যা করার পর তিনি পরিষ্কার বুঝেছিলেন–আমি তার বিশ্বস্ত অনুচর। ডাম্বলডোরের সঙ্গে হোগার্টসে থাকার একমাত্র উদ্দেশ্য ছিলো ডাম্বলডোর ও তার হেডকোয়ার্টার অর্ডার অফ ফিনিক্স সম্বন্ধে তথ্য সংগ্রহ করে প্রভুকে জানানো।

    কিন্তু সেখানে কি এমন দরকারি তথ্য সংগ্রহ করতে ব্যস্ত ছিলেন? বেল্লাট্রিক্স তিক্ত কণ্ঠে বললো। সেগুলো আমাদের কোন কাজে লেগেছে?

    আমার সংগৃহীত তথ্য সরাসরি ডার্কলর্ডের কাছে পাঠিয়েছি, স্নেইপ বললেন। তোমাকে তিনি জানাবেন কি না জানাবেন সম্পূর্ণ তাঁর বিষয়।

    ডার্কলর্ড সবকিছুই আমাকে জানান, বেল্লাট্রিক্স রেগে গিয়ে বললো। উনি সব সময়ই বলেন, আমি তার অতি কর্তব্যনিষ্ঠ ও বিশ্বস্ত অনুগামী।

    সত্যিই তিনি…? কথাটা খুবই হেলাফেলা ও অবিশ্বাসের সুরে বললেন। মন্ত্রণালয়ে কলঙ্ককর ঘটনার পরও বলেছেন?

    সেই ব্যাপারে আমার বিন্দুমাত্র দোষ ছিলো না। বেল্লাট্রিক্সের মুখ লাল হয়ে গেলো। ডার্ক লর্ড দীর্ঘদিন ধরেই আমাকে তার বিশ্বাসের পাত্র মনে করে আসছেন–তবে লুসিয়াস যদি না…।

    কথাটা শুনে নারসিসা চাপা অথচ ক্ষুব্ধ গলায় বোনের দিকে তাকিয়ে বললো, তোমার সাহস তো কম নয়। আমার সামনে আমার স্বামীকে সন্দেহ করছো?

    পরস্পরকে এখন দোষারোপ করে কোনো লাভ নেই, স্নেইপ শান্ত স্বরে বললেন। যা হবার তাতো হয়ে গেছে।

    কিন্তু আপনার মুখে এসব কথা মানায় না! বোট্রিক্স রাগে গর গর করতে করতে বললো। আমরা যখন বিপদ মোকাবিলা করছিলাম, তখন কী সেখানে আপনি উপস্থিত ছিলেন স্নেইপ?

    আদেশ ছিলো পেছনে থাকার, স্নেইপ বললেন। হয়তো তুমি ডার্কলর্ডের সঙ্গে একমত নও, সম্ভবত তুমি ভাবতে পারো আমি রক্তচোষাদের সঙ্গে যোগ দিয়ে অর্ডার অফ ফিনিক্সের বিরুদ্ধে লড়াই করলেও, তা ডাম্বলডোরের চোখে পড়বে না? আর আমাকে ক্ষমা করবে, তাহলে বলতেই হয়, তুমি বিপদের কথা বলছিলে, তুমি তো মাত্র ছটি বালক-বালিকার বিরুদ্ধে লড়াই করছিলে, তাই না?

    আপনি ভালো করেই জানেন ওরা অর্ডারে অনেক আগেই যোগ দিয়েছিলো! বেল্লাট্রিক্স বিরক্তি মাখা মুখে বললো। আমরা অর্ডারের কথা বলছি, দুঃখের বিষয় আজ পর্যন্ত হেড কোয়ার্টারের ঠিকানাটা আপনি জানেন না। বলুন জানেন কি?

    আমি সিকরেট কীপার নই, তাই আমি বলতে পারছি না। বোধকরি, কাজের গতি বা কতো শিঘ্র কাজ করা যায় সে সম্বন্ধে তোমার জ্ঞান আছে। অর্ডার সম্বন্ধে আমার দেয়া তথ্য পেয়ে ডাকলর্ড খুবই খুশি। তারই ভিত্তিতে সাম্প্রতিক এম্মেলাইনের অপহরণ ও হত্যার খবর সম্বন্ধে অনুমান করতে পারো। এবং সিরিয়স ব্ল্যাকের হত্যার ব্যাপারেও আমার দেয়া তথ্য কাজ করেছিলো, অবশ্য সিরিয়াস ব্ল্যাককে নির্মূল করার ব্যাপারে সম্পূর্ণ ক্রেডিট তোমার!

    স্নেইপ বেল্লাট্রিক্সকে শান্ত করার যথাসম্ভব চেষ্টা করতে লাগলেন, কিন্তু ওর মুখ দেখে বোঝা গেল না স্নেইপ সফল হয়েছেন।

    কিন্তু স্নেইপ আপনি আমার মূল ও শেষ প্রশ্নের জবাব দিচ্ছেন না, পাশ কাটিয়ে যাচ্ছেন। হ্যারি পটার। গত পাঁচ বছরে একবারও কি সুযোগ পেলেন না ওকে হত্যা করার, তা আপনি করেননি, কিন্তু কেন?

    এই ব্যাপারটা কি ডাকলর্ডের সঙ্গে আলাপ করেছো? স্নেইপ প্রশ্ন করলেন। তার সঙ্গে… সাম্প্রতিক… আমরা… প্রশ্নটা আমি আপনাকে করছি, স্নেইপ?

    আমি যদি হ্যারি পটারকে হত্যা করতাম, তাহলে ডাকলর্ড তার রক্ত ব্যবহার করে পুনর্জন্ম লাভ করতে পারতেন না, অজেয় হতে পারতেন না।

    হ্যারি পটার যে ডার্কলর্ডের কাজে আসবে তা কি আপনি আগেই জানতেন, বেল্লাট্রিক্স বিদ্রূপ করলো।

    তেমন কোনো দাবি তো আমি করিনি; আমি ডাকলর্ডের পরিকল্পনা সম্বন্ধে কিছুই জানি না, কোন ধারণাই নেই। আমি তো আগেই স্বীকার করেছি যে আমি ভেবেছিলাম ডাকলর্ড মারা গেছেন। আমি শুধু ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করছি, ডার্কলর্ড, হ্যারিপটার মরে না যাওয়াতে কেন দুঃখিত হননি, অন্তত এক বছর আগেও।

    কিন্তু আপনি কেন ওকে বাঁচিয়ে রাখলেন?

    তুমি কী আমার কথা বুঝতে পারোনি? ডাম্বলডোর আমাকে প্রোটেকশন দেওয়ার ফলেই আমাকে আজকাবানের জেলখানায় যেতে হয়নি! এটা কেন তুমি বুঝতে পারছে না, তার প্রিয় ছাত্রকে হত্যা করলে ডাম্বলডোর অবশ্যিই আমার বিরুদ্ধে যেতেন। আরো কিছু বিষয় ছিল। আমি তোমাকে একটা কথা মনে করিয়ে দিতে চাই, প্রথম যখন ও হোগার্টসে আসে তখন ওর সম্বন্ধে অনেক গল্প প্রচারিত ছিল, অনেক গুজবও, যেমন সে একজন বিরাট জাদুকর, সেই জন্যই ও ডার্কলর্ডের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলো, মারা গিয়েছে ওর বাবা-মা। এ কথাটাও সত্যি যে ডাকর্ডের অনেক পুরনো বিশ্বস্ত অনুগামীরা ভেবেছিলো যে ভবিষ্যতে হ্যারি পটারের পতাকাতলে ওরা দাঁড়াবে। আমিও অকপটে স্বীকার করছি ও যখন ক্যাসেলে প্রথমে পা রেখেছিলো আমারও ওকে দেখে হত্যা করার ইচ্ছে হয়নি।

    সে যাহোক আমার ওকে বুঝতে বেশি সময় লাগেনি। হ্যারির ভেতরে উঁচু মাপের ট্যালেন্ট নেই। আমি দেখেছি ও অনেক বাধা বিপত্তি, আকস্মিক সংকট থেকে লড়াই করে বেরিয়ে আসতে পেরেছে; এক, ট্যালেন্টেড বন্ধু, দুই, ভাগ্যের জোরে। ও অতি সাধারণ বুদ্ধি সম্পন্ন ছেলে, যাকে মিডিওকার বলা যেতে পারে। ওর বাবার মতোই বিরক্তিকর আত্মতৃপ্তি সম্পন্ন ছেলে। আমি ওকে হোগার্টস থেকে বিতাড়িত করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছি, এটাই তার প্রাপ্য ছিলো; কিন্তু তাকে হত্যা করা বা হত্যা করতে দেয়া আমার উপস্থিতিতে? কখনোই না, ওই রকম কিছু একটা করলে মারাত্মক ভুল হতো, কারণ, ডাম্বলডোর ওকে কাছাকাছি রেখে প্রতিনিয়ত আগলে রেখেছিলেন।

    আমরা কি বুঝবো ডাম্বলডোর আপনাকে কখনো সন্দেহে করেননি? বেল্লাট্রিক্স প্রশ্ন করলো। আপনার আসলে কার ওপর আনুগত্য আছে এর কি কোনো ধারণাই তার ছিলো না, এখনও কী তিনি আপনাকে বিশ্বাস করেন?

    আমি আমার ভূমিকা দায়িত্বের সঙ্গে পালন করেছি, স্নেইপ বললেন। তুমি ডাম্বলডোরের দুর্বলতার দিক জানো, তিনি সর্বদাই ভালো ছাত্রদের বিশ্বাস করেন। আমি যখন স্কুলে শিক্ষক হিসেবে যোগ দিয়েছিলাম, তখন তাকে দেখে আমার খুবই বিবেক দংশন হয়েছিলো, রক্তচোষার দল থেকে নতুন এসেছি, ডাম্বলডোর আমাকে দুহাতে জড়িয়ে ধরেছিলেন, আমি তখন ডার্কটের (কালো জাদুর) কাছাকাছিও যাইনি, তিনি আমাকে অনেক শেখাতে পারতেন। ডাম্বলডোর যে একজন বিরাট জাদুকর সে সম্পর্কে কোনো সন্দেহ নেই, –ও হ্যাঁ, বেল্লাট্রিক্স তখন স্নেইপের কথাগুলো শুনতে ভালো লাগছে না সেই রকম মুখে একটা শব্দ করলো। ডার্কলর্ডও সেটা স্বীকার করেন। ডাম্বলডোরের বয়স বাড়ছে, শরীরে শক্তি কমছে। গত মাসে ডাকলর্ডের সঙ্গে দ্বন্দ্বযুদ্ধ তাকে খুবই দুর্বল করেছে। আগের মতো শক্তি নেই বলে তার স্পেল ইত্যাদি খুব দুর্বল। আঘাত পেয়েছেন দ্বন্দ্ব যুদ্ধে। কিন্তু তিনি কখনো সিভেরাস স্নেইপকে বিশ্বাস করা বন্ধ রাখেননি, আস্থা হারননি। এই জন্যই ডার্কলর্ডের কাছে আমার মূল্য একটু বেশি।

    বেল্লাট্রিক্স তখনও গম্ভীর মুখে বসে রয়েছে। ভাবছেন কেমন করে নতুন পথে স্নেইপকে আক্রমণ করা যায়। ওকে নীরবে বসে থাকতে দেখে, স্নেইপ নারসিসার দিকে তাকালেন।

    হ্যাঁ, এবার বলো আমি তোমার কি সাহায্যে আসতে পারি নারসিসা?

    নারসিসা স্নেইপের দিকে তাকালো। বিষাদ, কালো মুখ। হ্যাঁ, সেভেরস, আমার স্থির বিশ্বাস একমাত্র আপনিই আমার বিপদে সাহায্য করতে পারেন। আমি যে কি করবো ভেবে পাচ্ছিনে, কোথায় যাবো কার কাছে যাবো, লসিয়াস জেলে, কথাটা বলে নারসিসা ওর চোখ বন্ধ করলো। দুচোখের কোল দিয়ে বড় বড় চোখের জল বেরিয়ে এলো।

    ডার্কলর্ড আমাকে এ বিষয়ে কারও সঙ্গে আলাপ আলোচনা করতে নিষেধ করেছেন, নারসিসা যেমন চোখ বন্ধ করেছিলো তেমনই ভাবে চোখ বন্ধ করে বললো। তার পরিকল্পনা কেউ জানতে পারে তিনি তা চান না। পরিকল্পনাটা, খুবই গোপনীয়, কিন্তু…।

    তিনি যদি নিষেধ করে থাকেন, তাহলে তোমার বলা উচিত হবে না, স্নেইপ বললেন, ডার্কলর্ডের কথাই হলো আইন। নারসিসা কথা থামালো। চোখ দিয়ে তখনও চোখের জল স্রোতের মতো বেরিয়ে আসছে। বেল্লাট্রিক্স বোনের দিকে তাকালো। স্নেইপের বাড়িতে আসার পর এই প্রথম বেল্লাট্রিক্সের মুখে খুশির আভা দেখা গেল।

    ঠিক আছে। ও বোনের মুখের দিকে তাকিয়ে বিজেতার মতো হাসলো। স্নেইপও তো এই একই কথা বলেছেন, তোমাকে নিষেধ করা হয়েছে কারও সঙ্গে এ বিষয়ে কথা না বলতে, তাই চুপ করে থাকো!

    কিন্তু স্নেইপ বসে রইলেন না। সোফা থেকে উঠে ঘরের ছোট জানালার ধারে দাঁড়ালেন। জানালার পর্দার ফাঁক দিয়ে বাড়ির সামনের অন্ধকার, নির্জন রাস্তার দিকে তাকালেন। তারপরই জানালাটা শব্দ করে বন্ধ করলেন। চোখ দুটো কুঁচকে নারসিসার দিকে তাকালেন–সৌভাগ্যবশত আমি পরিকল্পনাটা জানি, স্নেইপ খুব আস্তে আস্তে বললেন, ডাকলর্ড ওই পরিকল্পনাটা যে কয়েকজনকে বলেছেন, আমি তার মধ্যে একজন। আমি যদি ওই গোপন ব্যাপারটা না জানতাম, তাহলে আমাকে কথাটা বলার জন্য তুমি যে ডার্কলর্ডের সঙ্গে চরম বিশ্বাসঘাতকতা করতে তাতে কোনো সন্দেহ নেই।

    আমি জানি আপনি অবশ্যই পরিকল্পনাটা জানেন! নারসিসা খুব জোরে জোরে শ্বাস ফেলতে ফেলতে বললো। আপনি তার পরম বিশ্বাসের পাত্র, আপনাকে সম্পূর্ণ বিশ্বাস করেন।

    তাহলে আপনিও জানেন? বেল্লাট্রিক্স তার মুখের ভাব বদলে ফেলে, অপমানে ছেয়ে গেল।

    অবশ্যই, স্নেইপ বললেন। কিন্তু কী ধরনের সাহায্য তোমার দরকার নারসিসা? তুমি যদি ধরে নিয়ে থাকো, আমি যুক্তি দিয়ে ডার্কলর্ডের মনোভাব পরিবর্তিত করতে পারি, তাহলে কোনো রকম না রেখে-ঢেকে বলতে পারি সে আশা না করাই ভালো, একেবারেই না।

    সেভেরাস, নারসিসা বিড়বিড় করলো, ওর বিবর্ণ গালের ওপর চোখের জল গড়িয়ে পড়লো, আমার ছেলে, একমাত্র ছেলে…।

    ড্র্যাকোর তো গর্ব হওয়া উচিত, বেলাট্রিক্স শুষ্ক কণ্ঠে বললো। ডাকলর্ড তো ওকে দারুণভাবে সম্মানিত করছেন। ও নিজে তো কর্তব্যচ্যুত হতে চাইছে না। মনে হয়, ও খুব খুশি ওর যোগ্যতার প্রমাণ দেখানোর সুযোগ পেয়েছে বলে, ভবিষ্যতের কথা ভেবে দারুণ উত্তেজিত।

    নারসিসা অঝোরে কাঁদতে লাগলো, একবারও স্নেইপের মুখ থেকে ওর দৃষ্টি সরালো না।

    ও খুব ছেলে মানুষ। মাত্র ষোল বছর বয়স, ও জানে না ওর ভাগ্যে কি রয়েছে? কিন্তু সেভেরাস, কেন? কেন আমার ছেলেকে বেছে নিলেন? দারুণ বিপজ্জনক কাজ! এটা লুসিয়াসের ভুলের বদলা ছাড়া আর কিছু নয়, আমি জানি, ভালো করেই জানি।

    স্নেইপ চুপ করে রইলেন। নারসিসার মুখের দিকে তাকালেন না। হয়তো তিনি মনে করছেন কান্নাটা খুবই অরুচিকর। কিন্তু তাহলেও নারসিসার কথাগুলো মন দিয়ে শুনলেন। না শোনার কোনো ভঙ্গী করলেন না।

    সেই কারণেই ডার্কলর্ড ড্র্যাকোকে ঠিক করলেন, তাই না? ওর বক্তব্য থেকে একচুলও সরে এলো না নারসিসা। তার একমাত্র উদ্দেশ্যে লুসিয়াসকে শাস্তি দেওয়া।

    শোনো, যদি ড্র্যাকো কৃতকার্য হয়, নারসিসার মুখের দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে স্নেইপ বললেন। তাহলে তো অন্যদের চাইতে অনেক অনেক বেশি সম্মানিত হবে।

    নারসিসা ফোঁপাতে ফোঁপাতে বললো, ও কৃতকার্য হবে না! ডার্কলর্ড যেখানে সব ঠিক করে রেখেছেন

    বেল্লাট্রিক্সের ভয় হলো, নারসিসাতো পাগল হয়ে যায়নি?

    আমি এই কথাটা বলতে চাই সেভেরাস, আজ পর্যন্ত কেউ কৃতকার্য হয়নি, সেভেরাস ড্র্যাকোতো আপনার সবচাইতে প্রিয় ছাত্র, তাছাড়া আপনি তো লুসিয়াসের বহুদিনের বন্ধু, আপনি ডার্কলর্ডের প্রিয়পাত্র বলেই আপনার কাছে ওর প্রাণ ভিক্ষা চাইতে এসেছি। শুধু প্রিয়পাত্র নন, আপনি তার অতি বিশ্বস্ত উপদেষ্টা, তাকে বলুন, আপনি একটু ভালভাবে চেষ্টা করলে তিনি আপনার কথা শুনবেন।

    তুমি তো জানো নারসিসা, ডাকলৰ্ডকে কোনো যুক্তিতর্ক দিয়ে মত পরিবর্তন করানো সম্ভব নয়। আমি বোকা নই যে তাই করতে যাবো, স্নেইপ কোন কথা না চেপেই বললেন। আমি কোনো রকম নিজেকে জাহির না করেই বলতে চাই যে ডাকলৰ্ড লুসিয়াসের ওপর অসম্ভব রেগে আছেন। লড়াইয়ে লুসিয়াসের নেতৃত্ব দেবার কথা ছিলো, দুঃখের বিষয় ও আরো অনেকের সঙ্গে ধরা পড়লো শুধু নয়, প্রফেসিকে উদ্ধার করতেও ব্যর্থ হয়েছিলো! আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ডার্কলর্ড ওর ওপর ভীষণ ক্রুদ্ধ নারসিসা।

    তাহলে আমার কথাই ঠিক। তাই তিনি প্রতিশোধ নেবার জন্য ড্র্যাকোকে নির্বাচন করেছেন! নারসিসার কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে গেল। তিনি নিশ্চিত জানেন ড্র্যাকো কৃতকার্য হবে না, তিনি চান কাজটি করতে গিয়ে তার মৃত্যু হোক।

    স্নেইপ কথাগুলো শুনে চুপ করে রইলেন। নারসিসা তখন বেপরোয়া। কোনো ভাবেই তার আত্মসংযম নেই। নারসিসা উঠে দাঁড়ালো। সোজা স্নেইপের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে তার আলখেল্লার বুকের সামনের প্রান্ত চেপে ধরলো। মুখটা স্নেইপের মুখের অনেক কাছে নিয়ে গেল। ওর চোখের জল স্নেইপের বুক স্পর্শ করলো, ও হাঁফাতে লাগলো। আপনি একমাত্র পারেন, ড্র্যাকোর বদলে আপনি পারেন কৃতকার্য হতে, অবশ্যই হবেন আপনি, তখন তিনি অনেক অনেক ভাবে, আমাদের কল্পনার বাইরে আপনাকে পুরস্কৃত করবেন।

    স্নেইপ খানিকক্ষণ নারসিসার হাত চেপে ধরে, হাত ছাড়িয়ে নিলেন, এরপর ওর ক্রন্দনরত মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, তিনি চান সর্বশেষে আমিই কাজটা করি, অবশ্য এটা আমার ধারণা; কিন্তু ড্র্যাকো প্রথমে চেষ্টা করুক এটাই তিনি চান। এ বিষয়ে তিনি বদ্ধপরিকর। ড্র্যাকোর কৃতকার্য হওয়া বলা যায় একেবারেই অসম্ভব। যাহোক আমাকে হোগার্টসে একটু বেশি সময় থাকতে হতে পারে, গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দাগিরির কাজ আছে।

    তার মানে একটাই, ড্র্যাকো যদি মরে যায় তাহলে তার কিছু যায় আসবে না।

    স্নেইপ আবার শান্তস্বরে বললেন, ডাকলৰ্ড প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ। ও প্রফেসির কথা শুনতে পায়নি। তুমি জানো, আমিও জানি নারসিসা, তিনি সহজে কাউকে ক্ষমা করেন না।

    নারসিসা স্নেইপের পায়ের কাছে বসে ডুকরে ডুকরে কাঁদতে লাগলো। আমার ছেলে… আমার একমাত্র ছেলে…।

    বেল্লাট্রিক্স দয়ামায়াহীন কণ্ঠে বললো, তোমার তো গর্বিত হওয়া উচিত নারসিসা। আমার যদি ছেলে থাকতো, তাহলে তো আমি ডার্কলর্ডের সেবার জন্য উৎসর্গ করতাম।

    নারসিসা স্নেইপের পায়ের ওপর পড়ে, পাগলের মতো, ওর মাথার লম্বা লম্বা সোনালি চুলগুলো মুঠোতে ধরে টানতে লাগলো। স্নেইপ, ওকে দুহাতে ধরে দাঁড় করালেন, তারপর সোফায় বসালেন। গ্লাস ভর্তি ওয়াইন ওর হাতে এক রকম জোর করে ধরিয়ে দিলেন।

    নারসিসা তুমি অনেক কান্নাকাটি করেছো। ধরো গ্লাসটা, ওটা খাও… আমার কথা শোনো।

    নারসিসা কাঁপা কাঁপা হতে ওয়াইন ভর্তি গ্লাস সামান্য সময়ে ধরে এক চুমুকে শেষ করে দিলো।

    মনে হচ্ছে, আমি ড্র্যাকোকে সাহায্য করতে পারবো, কথাটা শোনা মাত্র নারসিসা স্নেইপের দিকে তাকালো। ওর মুখটা কাগজের মতো সাদা, চোখ দুটো যেন ঠেলে বেরিয়ে আসছে।

    সেভেরাস, দয়া করে আপনি ওকে বাঁচান সেভেরাস, ওতো কারো কোনো ক্ষতি করেনি?

    আমি চেষ্টা করতে পারি।

    নারসিসা হাত থেকে গ্লাসটা ছুঁড়ে ফেলে দিলো। গ্লাসটা টেবিল টপকে মেঝেতে পড়ে গেলো। নারসিসা আবার স্নেইপের কাছে হাঁটু গেড়ে বসে ওর হাত দুটো চেপে ধরে ঠোঁটে ছোঁয়ালো।

    সত্যি চেষ্টা করবেন? সেভেরাস আপনি কী প্রতিজ্ঞা করবেন? আপনি আনব্রেকেবল শপথ নেবেন? (ঈশ্বরের নামে সাক্ষী রেখে অলঙ্ঘনীয় শপথ)

    কী বললে আনব্রেকেবল শপথ? স্নেইপ উদাস ভাবে তাকিয়ে বললেন। বেল্লাট্রিক্স বিজেতার মতো হো : হো : করে হেসে উঠলো।

    নারসিসা তুমি মন দিয়ে শুনতে পেলে না? স্নেইপ বলছেন, চেষ্টা করবেন, আমি নিশ্চিত, ফাঁকাবুলি, যেমন স্নিদারিনরা মাঝে মাঝে বলেন। ওটাও কী ডার্কলর্ডের আদেশ মতো কথা?

    স্নেইপ বেল্লাট্রিক্সের দিকে তাকালেন না। ওর দুগভীর কালো চোখ তখন নারসিসার অশ্রুভারাক্রান্ত দুই নীল চোখের ওপর ন্যস্ত, নারসিসা এখনও স্নেইপের হাত শক্ত করে ধরে রয়েছে।

    অবশ্যই নারসিসা, আমি আনব্রেকেবল (অলঙ্ঘনীয়) শপথ নেবো। স্নেইপ শান্তভাবে বললেন। তাহলে তোমার বোন আমাদের শপথে সাক্ষী থাকতে রাজি হবে।

    কথাটা শুনে বোট্রিক্স হাঁ করে তাকিয়ে রইলো। স্নেইপ নারসিসার সামনে হাঁটুগেড়ে বসলেন। বেল্লাট্রিক্সের সামনে ওরা দুজনে দুজনের ডান হাত ধরলো।

    স্নেইপ বললেন, বেল্লাট্রিক্স তোমার জাদুদণ্ডের প্রয়োজন হবে।

    বেল্লাট্রিক্স চোখ বড় বড় করে আশ্চর্য হয়ে জাদুদণ্ড বার করলো। তোমাকে আরো একটু কাছে আসতে হবে, স্নেইপ বেল্লাট্রিক্সকে বললেন।

    বেল্লাট্রিক্স এগিয়ে এসে তদারকি করার জন্য বসে পড়লো। তারপর ওদের দুজনের ডান হাতের মুঠোর ওপর জাদুদণ্ডের মুখটা ছোঁয়ালো। নারসিসা বললো, সেভেরাস, যখন ড্র্যাকো ডার্কলর্ডের আদেশ পালন করতে যাবে, আপনি কী তখন আমার ছেলের প্রতি লক্ষ রাখবেন?

    হ্যাঁ, আমি দেখবো, স্নেইপ বললেন।

    নারসিসার হাতের দণ্ড থেকে উজ্জ্বল সবুজ এক অগ্নিশিখা বেরিয়ে এসে একটা গোলাকৃতি রিঙ করে দুজনের হাত বেঁধে দিলো।

    আপনি কী আপনার সর্বশক্তি প্রয়োগ করে ওকে সকল ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাবেন?

    অবশ্যই বাঁচাবো, স্নেইপ বললেন।

    দ্বিতীয় বার একটা অগ্নিশিখা জাদুদণ্ড থেকে বেরিয়ে এসে সেই লাল বলয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে একটা শেকল সৃষ্টি করলো। সরু, চকচকে উজ্জ্বল শেকল!

    ড্র্যাকো পারছে না মনে হলে; স্নেইপের হাতটা নিজের হাত দিয়ে দ্রুত টেনে এনে নারসিসা বললো। স্নেইপ ওর হাতটা সরিয়ে নিলো না। ডার্কলর্ড যে কাজটা ড্র্যাকোকে করতে বলেছেন আপনি কী তার বদলে সেটা নিজে করবেন?

    কয়েক মুহূর্ত তিন জনেই নীরব। বেল্লাট্রিক্স বিস্ফারিত চোখে তাকিয়ে রইলো। ওর হাতের জাদুদণ্ডটা ওদের হাতের ওপর ছুঁয়ে রইলো।

    অবশ্যই আমি করবো, স্নেইপ বললেন।

    বেল্লাট্রিক্সের আশ্চর্য হয়ে যাওয়া মুখ আগুনের মতো উজ্জ্বল লাল হয়ে উঠলো। জাদুদণ্ড থেকে তৃতীয় অগ্নিশিখা বিচ্ছুরিত হলো। সেই অগ্নিশিখা ওদের হাত দুটোকে দৃঢ়ভাবে সাপের মতো বেস্টন করলো।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }