Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প748 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২২. আফটার দ্য বেরিয়্যাল

    ২২. আফটার দ্য বেরিয়্যাল

    কাসেলের গম্বুজের উপরে উজ্জ্বল নীল আকাশ উঁকি দিতে শুরু করল।  গ্রীষ্মকাল আসছে; কিন্তু এমন ভাল আবহাওয়ায়ও হ্যারির মনের অবস্থার কোনো পরিবর্তন হলো না। একদিকে ম্যালফয় কী করছে না জানতে পারা অন্যদিকে স্লাগহর্নের কাছ থেকে তার বছরের পর বছর চেপে রাখা মেমরিটা না জানতে পারা।

    হারমিওন হ্যারির মানসিক অবস্থা দেখে কঠিনভাবে বললো, এই শেষবারের মতো তোমায় বলছি হ্যারি, ম্যালফয়ের ভূত মাথা থেকে বিদায় করো।

    ওরা লাঞ্চ সেরে মাঠের এককোণে রোদে বসেছিলো। রন আর হারমিওনের হাতে মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকের ছোট প্রচারপত্র কমন অ্যাপারেশন মিসটেকস অ্যান্ড হাউ টু অ্যাভয়েড দেম (অ্যাপারেসন করার সময় সাধারণ ভুল ত্রুটি ও কেমন করে তা পরিহার করা যায়)। সেদিন বিকেলে তাদের পরীক্ষা দিতে হবে; কিন্তু ওই প্রচারপত্রটি ওদের কাছে তেমন কাজের মনে হলো না। রন দাঁড়াতে গিয়ে ওধার থেকে একটি মেয়েকে ওদের দিকে আসতে দেখে টুক করে হারমিওনের আড়ালে দাঁড়ালো।

    ল্যাভেন্ডর না? হারমিওন মেয়েটিকে দেখে ক্লান্ত সুরে বললো। রন হতাশ হয়ে বললো, হ্যাঁ ঈশ্বর! হ্যারিপটার? মেয়েটি জিজ্ঞেস করলো। এই নাও… তোমাকে এটা দিতে বলা হয়েছে।

    ধন্যবাদ…।

    ছোট পাকানো পার্চমেন্টটা ওর হাত থেকে নিয়ে মেয়েটি বেশ দূরে চলে গেলে হ্যারি বললো, ডাম্বলডোর নিশ্চয়ই লিখেছেন স্লাগহর্নের কাছ থেকে মেমরি না পাওয়া পর্যন্ত আমি আর কোনো লেসন পাবো না!

    হ্যারি চিঠি খেলার সময় হারমিওন বললো, উনি হয়তো জানতে চান তোমার প্রোগ্রেস! কত দূর এগোলে।

    ডাম্বলডোরের লম্বা, সরু ও গোটাগোটা হাতের লেখার পরিবর্তে, এবড়ো থেবড়ো লেখা ও চিঠির ওপর বেশি করে কালি পড়ার জন্য পুরো চিঠিটা ভালো করে পড়তে হ্যারির খুবই অসুবিধে হলো।

    চিঠিটা এই রকম

    প্রিয় হ্যারি,
    রন ও হারমিওন, গতরাতে অ্যারাগগ মারা গেছে। হ্যারি, রন তোমরা তো ওকে জানতে ও আমার কাছে কতো প্রিয় ছিলো। হারমিওন আমি জানি তুমি ওকে খুবই পছন্দ করতে। আজ সন্ধের পর ওকে কবর দেওয়া হবে, তোমরা যদি সেই সময়ে ওখানে আসতে পারো তাহলে আমার খুবই ভালো লাগবে। আমি ঠিক করেছি সন্ধ্যায় ওকে চিরদ্রিায় শায়িত করবো, কারণ এই সময়টাই ওর সবচেয়ে প্রিয় ছিলো। আমি জানি ওই সময়টা তোমাদের স্কুলের বাইরে যাওয়ার কথা নয়, তাই তোমরা ক্লোক ব্যবহার করতে পারো। আমি তোমাদের আসতে বলতাম না; কিন্তু আমি তো একা এটা সহ্য করতে পারবো না।
    হ্যাগ্রিড

    এই চিঠিটা পড়ো, হ্যারি পার্চমেন্টটা হারমিওনের হাতে দিয়ে বললো।

    হায় ঈশ্বর, চিঠিটা আদ্যপ্রান্ত পড়ে হারমিন রুদ্ধ কণ্ঠে বললো। তারপর ওটা রনের হাতে দিলো।

    পাগল হয়ে গেছেন! রন রেগেমেগে বললো। আমাদের লেখা মানে হ্যারি আর আমাকে ব্ৰিত করা! আমাদের ডাকা মানে… হ্যাগ্রিড ভাবছেন আমরা গিয়ে সেই বীভৎস চুলওয়ালা শরীরটার ওপর উপুর হয়ে শুয়ে কেঁদে আকুল হবো!

    ব্যাপারটা তা নয়, হারমিওন বললো। উনি একা তাই আমাদের সাহায্য চাইছেন। তাছাড়া উনি জানেন সিকিউরিটি এখন মিলিয়ন টাইম দৃঢ়… আমরা যদি ধরা পড়ে যাই তাহলে বিপদের অন্ত থাকবে না, তাই ক্লোক পরে যেতে বলেছেন।

    আমরা তো বিকেল বিকেল হাগ্রিডের কাছে যেতে পারি, হ্যারি বললো। হ্যাঁ, কিন্তু ব্যাপারটা অন্যরকম তাই না? হারমিওন বললো। আমরা হ্যাগ্রিডকে আজকাবান থেকে আনতে অনেক বিপদ মাথায় নিয়েছি, কিন্তু অ্যারাগগ তো আর নেই–ও মরে গেছে–প্রশ্নটা তাকে রক্ষা করার নয়।

    আমার যাবার মোটেই ইচ্ছে নেই, রন বললো জোর দিয়ে। ওর কাছে না যাওয়াই ভালো, হারমিওন। বিশ্বাস করো অ্যারাগগ মরে গিয়ে হ্যাগ্রিডের জন্য ভাল হয়েছে।

    হ্যারি হ্যাগ্রিডের চিঠিটা মুখের সামনে ধরলো। বুঝতে পারলো চোখের জল পড়ে অক্ষরগুলো ঝাপসা হয়ে গেছে।

    হ্যারি তুমি ওখানে যাবার চেষ্টা করো না, হারমিওন বললো। ওখানে গিয়ে আবার ডিটেনশনের শাস্তি পাওয়ার কোনো মানে হয় না।

    কথাটা শুনে হ্যারি দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেললো।

    হ্যাঁ, তোমরা যা বলতে চাও আমি বুঝতে পেরেছি, হ্যারি বললো। তার মানে যদি আমরা না যাই, তাহলে হ্যাগ্রিডকে একাই ওকে কবর দিতে হবে। হ্যাঁ তাতে করতেই হবে, হারমিওন বললো। হ্যারির কথা শুনে ও খানিকটা আশ্বস্ত হলো। শোনো আজ বিকেলের মধ্যে তোমার পোশান খতম হয়ে যাবে। সকালেতো ওটা নিয়ে আমরা কাজ করছি… চেষ্টা করো স্লাগহর্নের মন নরম করতে!

    তুমি মনে করছে সাতান্ন বারে সফল হবো? হ্যারি তিক্ত সুরে বললো। সফল, রন আচমকা বললো। হ্যারি, ঠিক আছে, সফল হও! মানে তুমি কি বলতে চাও? তোমার লাকি পোশান ব্যবহার করতে পারো।

    রন ঠিক বলেছো, ঠিক বলেছো। হারমিওন বললো। অনেক আগে কথাটা ভাবা উচিত ছিলো।

    হ্যারি স্থিরভাবে দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে রইলো। ফিলিক্স ফিলিসিস? হ্যারি বললো। আমি বলতে পারছি না খুবই সামান্য মনে হয় আমার কাছে এখন আছে, আমি এটুকু রেখে দিতে চাই।

    কেন এতো কম থাকবে? রন আশ্চর্য হয়ে বললো। তোমার ওই মেমরি সংগ্রহের চাইতেও প্রয়োজনীয়? হারমিওন বললো।

    হ্যারি ওর কথার কোনো জবাব দিলো না। ওর চোখের সামনে ছোট্ট সোনালী বোতলটা ভেসে বেড়াতে লাগলো… বেশ খানিকটা সময়। অদ্ভুত সব কল্পনার কথা… জিনির সঙ্গে ডিনের ছাড়াছাড়ি, রন, জিনির নতুন বয়ফ্রেন্ডের জন্য খুশি… সব অদ্ভুত চিন্তা… স্বপ্নের মতো। বুঝতে পারছে না কেন ও স্বপ্নের জগতে চলে গেছে।

    হ্যারি? তুমি কি এখন এই জগতে আছো? হারমিওন জিজ্ঞেস করলো। কি বললে? আছি নিশ্চয়ই আছি, হ্যারি বললো। সোজা হয়ে বসলো। ঠিক আছে, আজ বিকেলে যদি আমি স্লাগহর্নের সঙ্গে কথা বলতে না পারি, আমি সামান্য ফেলিক্স খাবো, তারপর সন্ধেবেলা যাবো।

    তাহলে পাকা কথা রইলো। হারমিওন সংক্ষেপে কথাটা বলে বললো, ডেস্টিনেসন ডিটারমিনেসন ডেলিবারেসন।

    উঃ থামাও, রন বললো। সত্যি ওই কথাগুলো শুনে শুনে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি, ওহো হো তাড়াতাড়ি, আমার সামনে দাঁড়াও, আমাকে যেনো দেখতে না পায়।

    আরে ভয় পেও না, ল্যাভেন্ডার নয়, হারমিওন কপট রাগ দেখিয়ে বললো। দুটি মেয়েকে ওদের দিকে আসতে দেখে রন হারমিওনের পেছনে নিজেকে আড়াল করে দাঁড়ালো।

    বাচলাম… কিন্তু ওদের মুখ এতো বিষণ্ণ কেন?

    হারমিওন বললো, মন্টোগোমারিরা… ওরা দুবোন। তুমি জানো না ওদের ছোটো ভাইয়ের কি হয়েছে?

    সত্যি… রোজ একটা না, এতো ঘটনা ঘটছে যে… মনে রাখাই কঠিন রন বললো।

    ওদের ভাইকে একটা ওয়েরউলফ হত্যা করেছে। লোকে বলছে ও নাকি ডেথ ইটারদের সাহায্য করতে চায়নি তাই…। ভাইটার বয়স খুব বেশি হলে পাঁচ বছর। বেচারি সেন্ট মাংগোস হাসপাতালে মারা গেছে। অনেক চেষ্টা করেও বাঁচানো যায়নি।

    মারা গেছে? হ্যারি বললো। শুনেছি ওয়েরউলফরা মেরেফেলে না।

    সব সময় মেরেফেলে না, রন ব্যথিত মনে বললো। শুনেছি একটা ওয়েরউলফ ছেলেটাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো।

    সেই ওয়েরউলফের নামটা জানা গেছে? হ্যারি বললো।

    ঠিক জানি না, তবে সবাই বলছে ওর নাম ফেনরির গ্রে ব্যাক, হারমিওন বললো।

    আমি জানি, ও বেছে বেছে বাচ্চা ছেলেদের ধরে নিয়ে যায়, লুপিন আমাকে বলেছেন, হ্যারির চোখ রাগে লাল হয়ে গেলো।

    হারমিওন হ্যারির দিকে বিবর্ণ মুখে তাকালো।

    হ্যারি তোমার স্লাগহর্নের মেমরির কথা মনে আছে তো? হারমিওন বললো। ওটা পেলে ভোল্টেমর্টের শয়তানী বন্ধ করা যাবে… তাই তো আমার মনে হয়। যেসব পৈশাচিক বীভৎস ঘটনা ঘটছে তার উৎস ভোল্টেমর্টের শয়তানী।

    হঠাৎ ক্যাসেলের উপরের ঘণ্টা বেজে উঠতেই রন হারমিওন লাফিয়ে উঠলো। ভয়ে মুখ শুকিয়ে গেলো।

    ভয় পাচ্ছো কেন, তোমরা ভালোই করবে, ওরা একদল ছেলে–মেয়েদের সঙ্গে অ্যাপারিসন টেস্টের জন্য এনট্রেন্স হলের দিকে চললো। গুড লাক হ্যারি বললো।

    তোমাকেও, হ্যারি ডানজিওনের দিকে চললো হারমিওনের শুভেচ্ছা শোনার পর।

    সেদিন পোশানের ক্লাসে মাত্র তিনজন ছিল হ্যারি, এরনি আর ড্রেকো ম্যালফয়।

    তোমাদের তাহলে অ্যাপারেট করার বয়স হয়নি, স্লাগহর্ন হাসতে হাসতে বললেন। সতের হয়নি?

    ওরা তিনজনেই তাদের মাথা নাড়লো।

    খুব ভালো, স্লাগহর্ন আনন্দে বললেন। আজ আমরা সংখ্যায় কম… এসো একটু মজার কিছু করা যাক। তোমরা আমাকে চোলাই করে মজার পানীয় দেবে।

    খুব ভালো হবে স্যার, এরনি ওর দুহাত ঘষতে ঘষতে মোসাহেবী সুরে বললো। ম্যালফয় গম্ভীর মুখে দাঁড়িয়ে রইলো। স্লাগহর্নের কথা শুনে হাসলো না,

    মজার মানে স্যার, ম্যালফয় বিকৃত স্বরে বললো। ওহো, আমাকে চমকে দিলে, স্লাগহর্ন ওর কথায় গুরুত্ব না দিয়ে বললেন।

    ম্যালফয় নাখোশ মুখে অ্যাডভান্সড পোশান মেকিং বইটা বের করলো। ও মোটেই ভাবেনি আজকের লেসনটা তেমন গুরুত্বপূর্ণ হবে না।

    হ্যারির বইয়ের ফাঁক থেকে ওর মুখ দেখে মনে হলো, স্লাগহর্নের ঘরে সময় অপচয় না করে ওর সেই রিকোয়ারমেন্টের ঘরে যাওয়া যেনো অনেক কাজের হতো।

    ম্যালফয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে হ্যারির মনে হলো, সত্যি কি ওর মুখ ফ্যাকাশে, অনেক রোগা হয়ে গেছে, গায়ের রং সামান্য ধূসর হয়ে গেছে। যা দেখছে, যা ভাবছে তার মধ্যে সত্য নেই… হয়তো টোংকসকে দেখে যা মনে হয়েছিলো তেমনই কল্পনা। এমনও হয়তো হতে পারে দিনের বেলায় ওকে দেখতে পায় না বলে এমন মনে হচ্ছে। তবে হোগার্টস এক্সপ্রেসে যেমন উদ্ধত চেহারা ছিলো, ভাবভঙ্গি ছিলো তেমন যেনো আর ওর মধ্যে নেই। মনে আছে হ্যারির, ম্যালফয় কড়া ও উদ্ধত স্বরে বলেছিলো ভোল্ডেমর্ট আমাকে যে বিশেষ কাজ করতে বলেছেন তা আমি যথার্থভাবে পালন করবো। তবে হ্যারির মনে কোনো সংশয় নেই ও যে কাজটা করতে চলেছে তা সে ভালভাবে করতে পারছে না।

    কথাগুলো ভাবতে ভাবতে হ্যারি মনে মনে খুব খুশি হলো। ওর অ্যাডভান্সড পোশান মেকিং বইটা খুলে হাফব্লাড প্রিন্সের বইতে অনেক কাটাকুটি করা অ্যান এলিকসার টু ইনডিউস ইউফোরিয়ার (ধাতুকে অন্যভাবে ইউফোরিয়াতে পরিণত করা) বিশেষ দৃষ্টিভঙ্গি খুব মন দিয়ে পড়তে পড়তে ওর মনে হলো, স্লাগহর্নের নির্দেশ ঠিক মতো পালন করতে (কথাটা ভাবতেই হ্যারির মন আনন্দে ভরে উঠলো) পারলে সেটা হাতে পেয়ে হয়তো খুশি হবেন যে হ্যারি যদি সেই সময়ে তার মনে বিশ্বাস জন্মাতে পারে তাহলে হয়তো সেই মেমরির কিছুটা পেয়ে যেতে পারে।

    বাঃ বাঃ খুব সুন্দর দেখাচ্ছে, হ্যারির বানানো কলড্রনে সূর্যালোকের মতো হলুদ পদার্থটা ঘণ্টা দেড়েক পরে দেখে ঘ্রাণ নিয়ে স্লাগহর্ন হাত ঘষতে ঘষতে বললেন। ইউফোরিয়া সন্দেহ নেই? গন্ধটা কি পাচ্ছি? হুম… মনে হয় তুমি সামান্য পিপারমেন্ট মিশিয়েছে… তাই কি? অপ্রচলিত, কিন্তু কি দারুণ অনুপ্রেরণা… হ্যারি। অবশ্যই এটা ব্যবহারে সামান্য প্রতিক্রিয়া হবে, বেশি গান গাওয়া, নাকে হেঁচকা টান… আমি সত্যি সত্যি বুঝতে পারছি না কোথা থেকে তোমার মাথায় এসব উদ্ভব হলো মাই বয়, যদি না…।

    হ্যারি স্লাগহর্নের কথা শুনে হাফব্লাড প্রিন্সের বইটা ব্যাগের ভেতরে ভালোভাবে লুকিয়ে রাখলো।

    আ… হাঃ হাঃ মনে হয় তোমার মায়ের গুণ তোমার মধ্যে ফুটে উঠছে। হ্যারি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে বললো, ও হ্যাঁ তাই হয়তো! এরনি আর ম্যালফয়ের বানানো পোশান দেখে স্লাগহর্ন একটুও খুশি হলেন।

    ক্লাস শেষের ঘণ্টা বাজতেই ওরা একটুও দেরি না করে ক্লাসরুম ছেড়ে চলে গেলো।

    স্যার, হ্যারি শুরু করতে যাবে; কিন্তু হ্যারির মনের স্বপ্ন পূর্ণ হলো না। স্লাগহর্ন ওর দিকে একবার তাকিয়ে, ঘরে একমাত্র হ্যারিকে দেখে হন্তদন্ত হয়ে চলে গেলেন।

    হ্যারি বেপরোয়া হয়ে বলে উঠলো, প্রফেসর, প্রফেসর… আমার বানানো পোশান আপনি একটুও খাবেন না?

    কিন্তু সেখানে আর স্লাগহর্ন নেই… চলে গেছেন। হ্যারি নিরাশ হয়ে কলড্রনটা খালি করে দিয়ে বইপত্র গুছিয়ে ডানজিওন ছেড়ে ধীরে ধীরে সিঁড়ি বেয়ে কমনরুমে চলে এলো।

    বিকেলের দিকে রন, হারমিওন ফিরে এলো।

    হ্যারি! প্রোর্টেট হোল দিয়ে ঢুকতে ঢুকতে হারমিওন উচ্ছ্বসিত হয়ে বললো, হ্যারি, আমি পাস করেছি।

    বাঃ বাঃ চমৎকার, হ্যারি বললো। আর রন? রন–রন যথারীতি ফেল করেছে, হারমিওন চাপা গলায় বললো। রন পরাজিত সৈনিকের মতো ঘরে ঢুকলো। দারুণ হতাশ, বিষণ্ণও। অল্পের জন্য পরীক্ষক ওকে ফেল করিয়ে দিয়েছে। দারুণ খারাপ ভাগ্য ওর। তারপর বললো, স্লাগহর্নের ব্যাপার, কিছু হলো-টলো?

    আনন্দের খবর নেই, হ্যারি বললো।

    রন ওর পাশে বসলে বললো, দুর্ভাগ্য বন্ধু… যাকগে আসছে বার পাস করবে, তখন তুমি আর আমি একই সাথে পরীক্ষা দেবো।

    রন মুখটা কালো করে বললো, দুর্ভাগ্য আর কাকে বলে… মাত্র অল্পের জন্য পাস করতে পারলাম না।

    আমি জানি, হারমিওন সান্ত্বনা দিলো। সত্যি খুবই কটু ব্যবহার করেছে।

    ওরা তিনজনে ডিনার খেতে খেতে অ্যাপারিসন পরীক্ষকের মুণ্ডুপাত করলো। পরীক্ষকের মুণ্ডুপাত রনের ভালো লাগলো। তারপর ওরা স্লাগহর্নের সঙ্গে মেমরি সংক্রান্ত সমস্যা নিয়ে খানিকটা সময় আলাপ আলোচনা করে কমনরুমে চলে এলো।

    তো হ্যারি তুমি ফিলিক্স ফিলিসিস না আর কিছু ব্যবহার করবে ঠিক করলে? রন হ্যারির কাছে জানতে চাইলো।

    হ্যারি বললো, মনে হয় সবটা খরচ না করে একটুখানি করা ভালো হবে। দুতিন ঘণ্টা কাজ করলেই চলবে, অ্যথা বারো ঘণ্টা করে লাভ নেই।

    রন বললো, দারুণ জিনিস খাবার পর বুঝতে পারবে। খেলে মনে হবে তুমি কোনো অন্যায় কাজ করছে না, করতে পারো না।

    হারমিওন হাসতে হাসতে বললো, এমনভাবে তুমি বললে যেনো ওটা তুমি আগে কখনো খেয়েছো।

    খেয়েছি, কে বললে, খাইনি? এমনভাবে রন বললো যেন আগে ও খেয়েছে।

    একটু পরে স্লাগহর্ন গ্রেট হলে ঢুকলেন। ওরা জানে স্লাগহর্ন অনেকটা সময় বসে খাবার খাবেন। ওরা জানে স্লাগহর্ন খাওয়া শেষ করে ঘরে না ফেরা পর্যন্ত ওর অফিস ঘরে থাকবে যখন নিষিদ্ধ অরণ্যের বড় বড় গাছের আড়ালে মুখ লুকিয়েছে তখন ওরা ঠিক করলো সময় হয়েছে। অফিস ঘরে যাবার আগে নেভিল, ডিন আর সিমাস কমনরুমে চলে গেলে ওরা ছেলেদের ডরমেটরিতে গেলো।

    হ্যারি ট্রাঙ্ক খুলে চটপট মোজার মধ্যে লুকিয়ে রাখা ক্ষণে ক্ষণে জ্বলে ওঠা ছোট বোতলটা বের করলো।

    ব্যস, কাজ শুরু। কথাটা বলে খানিকটা তরল পদার্থ খুব সাবধানে মুখের ভেতর ঢেলে গিলে ফেললো।

    হারমিওন হ্যারির মুখের দিকে তাকিয়ে বললো, খেতে কেমন লাগলো?

    হ্যারি প্রথমে কোনো জবাব দিলো না, চুপ করে বসে রইলো। একটু পরেই ওর মনে হলো, অভূতপূর্ব আত্মশক্তিতে চমৎকৃত হলো… সেই শক্তিতে জগৎ সংসারে হেন কোনো কঠিন কাজ নেই যা ও করতে পারবে না। স্লাগহর্নের কাছ থেকে মেমরি সংগ্রহ করা অতি তুচ্ছ ব্যাপার, যা ওর পক্ষে করা অসম্ভব নয়।

    হ্যারি তড়াক করে উঠে দাঁড়ালো, মুখে হাসি, অদম্য আত্মবিশ্বাস!

    দারুণ, ও বললো। সত্যি দারুণ… ঠিক আছে আমি হ্যাগ্রিডের কাছে চললাম।

    হারমিওন বললো, না হ্যারি, না… তোমার স্লাগহর্নের কাছে যাওয়ার কথা মনে নেই?

    না, হ্যারি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে জোর দিয়ে বললো। আমার মন চাইছে। হ্যাগ্রিডের কাছে যেতে।

    তোমার বিরাট এক মাকড়সার মৃতদেহের কাছে যেতে মন চাইছে? রন। হ্যারির দিকে তাকিয়ে বিহ্বল হয়ে বললো।

    ঠিক ধরেছো, হ্যারি বললো ওর অদৃশ্য হবার ক্লোকটা টেনে নিয়ে। আমার মন বলছে আজ রাতে হ্যাগ্রিডের কাছে থাকা ঠিক হবে, আমি কি বলছি নিশ্চয়ই তোমরা বুঝতে পারছো?

    রন, হারমিওন একসঙ্গে বললো, হ্যারি, না তুমি যেও না। ওদের মুখে চিন্তার ছাপ!

    আমার মনে হয় ওর ওপর ফিলিক্স ফিলিসিসের প্রভাব পড়েছে। হারমিওন চিন্তিত হয়ে বললো বোতলটা হাতে নিয়ে। তুমি বোধহয় বেশি খেয়ে ফেলেছে। তোমার কাছে আরো একটা বোতল থাকার কথা… আমি ঠিক জানি না তুমি কি করেছো…।

    পাগলামীর পূর্ব লক্ষণ! হ্যারি গায়ে অদৃশ্য হবার ক্লোকটা পরবার সময় রন বললো।

    কথাটা শুনে হ্যারি হো হো করে হেসে উঠতেই ওরা ঘাবড়ে গেলো।

    তোমরা আমার ওপর আস্থা রাখো, আমি জানি, আমি কি করছি। ও দৃঢ় পদক্ষেপে দরজার কাছে গেলো। ফিলিক্স খেলে এমন হয়।

    হ্যারি অদৃশ্য হবার ক্লোকটা পরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামতে লাগলো। রন, হারমিওন দ্রুত পায়ে ওর পিছু পিছু গেলো। ওরা হ্যারিকে কেমন করে দেখবে?

    অদৃশ্য ক্লোক পরে ওতো অদৃশ্য।

    যেখানে অদৃশ্যমান হ্যারি, রন আর হারমিওন দাঁড়িয়েছিলো সেদিকে তাকিয়ে ল্যাভেন্ডার ব্রাউন রনকে বললো, ওর (হারমিওন) সঙ্গে তুমি কি করছো শুনি!

    হ্যারি যেতে যেতে রনের পালিয়ে যাবার পদশব্দ শুনতে পেলো। হ্যারি দীর্ঘ পদক্ষেপে ক্যাসেলের সিঁড়ি ধরে নিচে নামতে লাগলো।

    বাধাবিঘ্নহীন সিঁড়ি দিয়ে নামতে নামতে ওর মনে হলো হোগার্টসে ওর মতো সুখী আর ভাগ্যবান কেউ নেই।

    হাগ্রিডের কাছে ও কেন যাচ্ছে, যাওয়াটা সঠিক কিনা তা ও জানে না। প্রতিটি সিঁড়ির ধাপেতে পদক্ষেপের সাথে সাথে সামনের তিনটে ধাপে আলো জ্বলে উঠে অন্ধকার কাটিয়ে দিচ্ছে, সবকিছুই যেনো পোশান নিয়ন্ত্রিত করছে। বুঝতে পারছে

    ও শেষ পর্যন্ত কোথায় যাবে… জানে না স্লাগহর্ন কোথায় এসে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, তাহলেও তিনি থাকুন বা নাই থাকুন মেমরি পেতে ও সঠিক পথে চলেছে এইটুকু জানে। ও এনট্রেন্স হলের দরজার সামনে দাঁড়িয়ে দেখলো দরজায় তালা নেই। খুব সম্ভব ফিলচ তালা দিতে ভুলে গেছে। আনন্দে অধীর হয়ে হ্যারি বন্ধ দরজাটা খুলতেই নাকে এলো তাজা সবুজ ঘাসের গন্ধ মিশ্রিত হাওয়া। ও প্রাণ ভরে নিঃশ্বাস নিলো। সূর্যের শেষ আলো পড়া মাঠে পা দেবার আগে এক মুহূর্ত দাঁড়ালো।

    সিঁড়ির শেষ ধাপে পা দেবার আগে ওর মনে হয়েছিলো হ্যাগ্রিডের বাড়িতে যাবার পথে সবুজ ঘাস আর শস্য ক্ষেত্র পদদলিত করে যাবার আনন্দ। ও জানে সেই পথে হাঁটা সঠিক নয়, অন্য পথ আছে; কিন্তু মেঠো পথেই ও যাবে। কিন্তু একটু এগিয়ে গিয়ে প্রফেসর সুস্লাগহর্নকে স্প্রাউটের সঙ্গে কথা বলতে দেখে একটুও আশ্চর্য হলো না। হ্যারি চট করে একটা পাথরের দেওয়ালের আড়ালে লুকিয়ে পড়ে ওদের কথাবার্তা শুনতে লাগলো।

    আপনার অনেক সময় নষ্ট করলাম, সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ, পমোনা, স্লাগহর্ন বিনীতভাবে বললেন। অনেক বড়ো বড়ো বিজ্ঞজন আছেন তারা আমার সঙ্গে অবশ্যই একমত হবেন যে সন্ধ্যায় প্ল্যান্টস তুললে খুব কার্যকরী হয়।

    অবশ্যই, অবশ্যই আপনার সঙ্গে আমার দ্বিমত নেই, প্রফেসর স্প্রাউট বললেন, আপনার প্রয়োজন মতো আপনি নিন।

    যথেষ্ট, যথেষ্ট, প্রফেসর স্লাগহর্ন বললেন। হ্যারি দেয়ালের আড়াল থেকে দেখলো স্লাগহর্ন একহাতে যতোটা নেয়া সম্ভব ততোটা লতা নিয়েছেন। এগুলো বর্ষের ছাত্রদের প্রয়োজন হবে, একটু বেশি নিলাম–কাজ করার সময় অনেক ছেলে-মেয়ে অপচয় করে ফেলে তখন দরকার হয়। আপনার উপকারের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ। চলি… শুভসন্ধ্যা।

    প্রফেসর স্প্রাউট অন্ধকার রাস্তা ধরে গ্রীন হাউজের দিকে হাঁটতে লাগলেন। স্লাগহর্ন যেখানে হ্যারি দাঁড়িয়ে ওদের কথাবার্তা শুনছিল সেইদিকে চললেন।

    হ্যারি আর নিজেকে লুকিয়ে রাখতে চাইলো না। গা থেকে অদৃশ্য হবার ক্লোকটা খুলে স্লাগহর্নের সামনে দাঁড়িয়ে বললো, শুভসন্ধ্যা প্রফেসর।

    প্রফেসর স্লাগহর্ন চিন্তিত মুখে ক্যাসেলের দিকে যাচ্ছিলেন, আচমকা হ্যারির কথা শুনে থমকে দাঁড়ালেন। হ্যারিকে দেখে বললেন, হ্যারি? আরে তুমিতো আমার পিলে চমকে দিয়েছো হে! তা অসময়ে তুমি ক্যাসেলের বাইরে এলে কেমন করে?

    হ্যারি হাসতে হাসতে বললো, ফিলচ দরজায় তালা দিতে ভুলে গেছে। হ্যারি স্লাগহর্নের গোমড়া মুখ দেখে খুব খুশি হলো।

    প্রফেসর স্লাগহর্ন বললেন, তাই? ইদানিং লক্ষ্য করছি ফিলচ দরজায় তালা লাগানোর চাইতে জঞ্জাল কুড়োতে বেশি মনোযোগ দিয়েছে… রিপোর্ট করতে হবে দেখছি। কিন্তু কিছু মনে করো না… তা তুমি এখানে?

    ওয়েল স্যার, হ্যাগ্রিডের জন্য। হ্যারির মনে হলো যা সত্য সেটাই বলা উচিত। ও খুবই বিচলিত স্যার, আশাকরি আপনি কথাটা কাউকে বলবেন না, প্রফেসর? আমি তাকে বিপদে ফেলতে চাই না।

    হ্যারির কথা শুনে স্লাগহর্নের কৌতুহল বাড়লো বই কমলো না।

    আমি তোমাকে কথা দিতে পারি না, স্লাগহর্ন শুষ্কভাবে বললেন। তবে আমি শুনেছি, ডাম্বলডোর হ্যাগ্রিডকে খুবই বিশ্বাসের পাত্র মনে করেন, তাই মনে হয় ও কোনো মারাত্মক কিছু কাজ করতে পারে না।

    স্যার ওর সেই বিরাট দৈত্যের মতো মাকড়সাটা জঙ্গলে থাকতো অনেক বছর… ও কথাটথা বলতে পারতো।

    আমি শুনেছি জঙ্গলের মধ্যে অনেক অ্যাক্রোমেলা থাকে, স্লাগহর্ন নরমসুরে জঙ্গলের কালো কালো গাছের দিকে তাকিয়ে বললেন। তাহলে কথাটা সত্যি?

    হ্যাঁ স্যার, হ্যারি বললো। তবে স্যার ওটা অ্যারাগগ… হ্যাগ্রিডই ওকে প্রথম পেয়েছিলেন। গত রাতে মারা গেছে, খুবই ভেঙে পড়েছেন হ্যাগ্রিড। ওকে কবর দেবার সময় আমি যেন উনার পাশে থাকি সে অনরোধ উনি আমাকে করেছেন… আমি বলেছি যে, আমি যাবো।

    খুবই বেদনাদায়ক, অশ্রুভরা বড়ো বড়ো চোখে জঙ্গলে হ্যাগ্রিডের কেবিনের দিকে তাকিয়ে থেকে স্লাগহর্ন বললেন। ওদের ভেনস গেরলা খুবই মূল্যবান। যদি ওই বন্যপ্রাণীটা সবেমাত্র মারা যায় তো ওর গরল এখনো শুকিয়ে যায়নি মনে হয়। যদি হ্যাগ্রিড রাজি হয় এবং কিছু মনে না করে ও ব্যথিত না হয় তাহলে আমরা অ্যারাগগের গরলটা সংগ্রহ করতে পারি। বনের মধ্যে থাকা জীবন্ত অ্যাক্রোমেলার গরল সংগ্রহ করা অসম্ভব ব্যাপার।

    স্লাগহর্নের দৃষ্টি আর কথা শুনে হ্যারির মনে হলো কথাগুলো উনি হ্যারিকে বলছেন না নিজেকে বলছেন।

    মৃত অ্যাক্রোমেলার কাছ থেকে ওটা সংগ্রহ না করা আমার মতে নিদারুণ এক অপচয়, এক পাইটের (কুড়ি আউন্স) দাম একশ গ্যালিয়ন… সত্যি কথা বলতে কি আমার বেতনও অতোটা নয়।

    হ্যারি কথাটা শুনে বুঝতে পেরে বললো কি করার আছে?

    হ্যারি অনেক ভেবে চিন্তে ইতস্তত করে বললো, প্রফেসর আপনি যদি ওখানে আমার সঙ্গে যান তাহলে হ্যাগ্রিড খুব খুশি হবেন, অ্যারাগগকে খুব ভালোভাবে শেষ বিদায় দেবেন, বুঝতেই পারছেন একা মানুষ।

    হ্যাঁ হ্যাঁ অবশ্যই যাবো। কথাটা বলতে বলতে স্লাগহর্নের দুচোখ উৎসাহে জ্বলজ্বল করে উঠলো। তুমি যাও, আমি একটা বা দুটো বোতল নিয়ে ওখানে যাচ্ছি, বেচারা অ্যারাগগের স্বাস্থ্যের জন্য নয়, ওকে ভালোভাবে বিদায় জানাবার জন্য…। ওখানে যেয়ে আমার দৈনন্দিন প্রচলিত জীবন থেকে কিছুটা ভিন্নতা আনতে চাই।

    কথাটা বলে স্লাগহর্ন হন হন করে ক্যাসেলে চলে গেলেন! হ্যারি মনে মনে খুব খুশি হয়ে হ্যাগ্রিডের কেবিনের দিকে এগোতে লাগলো।

    তুমি এসে গেছো? হ্যাগ্রিড ওকে দেখে খুশি হয়ে বললো। হ্যারি ওর কেবিনে ঢুকেই অদৃশ্য হবার ক্লোক খুলে ফেলেছে বলে হ্যাগ্রিডের ওকে দেখতে অসুবিধে হলো না।

    রন আর হারমিওন আসতে পারলো না, তার জন্য ওদের খুব খারাপ লেগেছে। হ্যারি বললো।

    তাতে কি হয়েছে হ্যারি, তুমি এসেছো, আমার খুব ভালো লাগছে। হ্যারি দেখলো হ্যাগ্রিড শোক প্রকাশের জন্য হাতে একটা কালো ফিতা বেঁধেছেন। দেখে মনে হয় একটা ছেঁড়া কাপড় কারো জুতোর কালি দিয়ে কালো করেছেন। কথা বলতে বলতে ফেঁপাচ্ছেন, মাঝে মাঝে চোখ মুছছেন। হ্যারি সান্ত্বনা দেবার জন্য হ্যাগ্রিডের কনুইতে হাত বুলালো। এর বেশি ওর হাত পৌঁছোলো না।

    আমরা কোথায় ওকে কবর দেবো? হ্যারি জিজ্ঞেস করলো। জঙ্গলে?

    না, তাতো করতে পারবো না, জামার হাতা দিয়ে চোখ মুছলেন হ্যাগ্রিড। অরণ্যের মাকড়সারা বাধা দেবে। জানোইতো ওকে ওরা তাড়িয়ে দিয়েছিল। আমি ওর মৃতদেহ অরণ্যে কবর দিতে গেলে ওরা আমাকেও খেয়ে ফেলবে। বলো হ্যারি কতো দুঃখের ব্যাপার!

    হ্যারির অতীতের দুঃখজনক ঘটনার কথা মনে পড়ে গেলো। ওর আর রনের অ্যাক্রোমেট্‌লাদের সঙ্গে মুখোমুখি লড়াই। সেই ভয়ঙ্কর লড়াইয়ে অ্যারাগগ ওদের প্রাণ বাঁচিয়েছিলো, হ্যাগ্রিডেরও। অ্যারাগগ না থাকলে ওরা হ্যাগ্রিডকে খেয়ে ফেলতো।

    তোমরা বিশ্বাস করবে না কতো কষ্ট করে আমি অ্যারাগগের মৃতদেহ অরণ্য থেকে নিয়ে এসেছি। তুমিতো জানো ওরা তাদের কেউ মারা গেলে তার মৃতদেহ খায়। আমি ওকে ভালোভাবে সুন্দর করে কবর দিতে চাই।

    কথাগুলো বলতে বলতে হ্যাগ্রিড আবার হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলেন। হ্যারি আবার কনুইয়ে হাত বুলিয়ে সান্ত্বনা দিতে লাগলো। (ওর মনে হলো পোশান ঠিকমতো কাজ করছে, যা কিছু করার দেরি না করে করা দরকার।

    একটু আগে আপনার কাছে আসার সময় আমার প্রফেসর স্লাগহর্নের সঙ্গে দেখা হয়েছিলো হ্যাগ্রিড।

    ওহহ… ক্যাসেলের বাইরে আসার জন্যে তুমি তো বিপদে পড়বে না হ্যারি? ওহো হো… আমার দোষে তুমি হয়তো শাস্তি পাবে।

    না না কোনো চিন্তার ব্যাপার নয়। স্লাগহর্ন যখন শুনলেন আমি আপনার কাছে অ্যারাগগের কবর দেবার ব্যাপারে যাচ্ছি, তখন নিজে থেকেই বললেন, তুমি যাও, আমি যাচ্ছি ওখানে। অ্যারাগগের স্মৃতির উদ্দেশ্যে একটু ড্রিঙ্ক করার জন্য উনি দুএকটা ড্রিঙ্কের বোতল সঙ্গে আনতে পারেন।

    স্লাগহর্ন বলেছেন এই কথা? হ্যাগ্রিড শুধু আশ্চর্য নয় স্পর্শকাতর হয়ে পড়লেন।

    আমি ভাবতেই পারছি না স্লাগহর্ন এতো উদার হতে পারেন। তোমায় শাস্তি দিয়ে আমার দুঃখে সহানুভূতি জানাতে আসছেন… মনে হয় উনি আমার অ্যারাগগকে খুব ভালোবাসতেন।

    হ্যারি জানে স্লাগহর্নের মনের কথা। অ্যারাগগের মৃতদেহ দেখার জন্য ও হ্যাগ্রিডের পিছনের খোলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে শিউরে উঠলো। দেখলো অ্যারাগগের বীভৎস মৃতদেহ! মাকড়সা চিৎপটাং হয়ে শুয়ে রয়েছে… ওর সবকটা পা কুঁকড়ে জড়িয়ে গেছে।

    ও বললো, হ্যাগ্রিড ওকে কি আমরা আপনার বাগানে কবর দেবো?

    ভাবছিলাম পামকিন গাছের তলায়, হ্যাগ্রিড বললেন কাদো কাঁদো গলায়, আমি আগেই ওর কবর খুঁড়ে রেখেছি, কবর দেবার পর ওর স্মৃতির উদ্দেশ্যে কিছু ভালো ভালো কথা বলবো।

    বলতে বলতে হ্যাগ্রিড আবার ফুঁপিয়ে উঠলেন, ঠিক সেই সময় তার দরজায় কেউ নক করলো। হ্যাগ্রিড দরজাটা খুলতেই হ্যারি দেখলো স্লাগহর্ন এসেছেন। হাতে তার কয়েকটা বোতল। পরনে পুরনো আমলের কালো গলাবন্ধ কোট।

    হ্যাগ্রিড, গভীর দুঃখভরা কণ্ঠে বললেন, স্লাগহর্ন। তোমার অ্যারাগগের মৃত্যুর জন্য আমি খুবই দুঃখিত।

    আপনি অতি মহানুভব, হ্যাগ্রিড বললেন। আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। তাছাড়া নিয়ম ভেঙে এখানে আসার জন্য হ্যারি কোনো ডিটেনসন দিচ্ছেন না তার জন্যও ধন্যবাদ।

    এ কথা আমার মনেও আসেনি স্বপ্নেও ভাবিনি, স্লাগহর্ন বললেন। বড়ই দুঃখের রাত্রি, দুঃখের রাত্রি, সেই হতভাগ্য জটি কোথায়?

    ওদিকে রয়েছে, হ্যাগ্রিড কম্পিত গলায় বললো। তাহলে… তাহলে আমরা ওর শেষকৃত্য শুরু করতে পারি?

    তিনজনে একই সঙ্গে হ্যাগ্রিডের কেবিনের পেছনের বাগানে গেলেন। গাছের ফাঁক থেকে হালকা চাঁদের আলো বাগানে পড়ছে। চাঁদের আলোর সঙ্গে হ্যাগ্রিডের জানালা দিয়ে আলো এসে অ্যারাগগের মৃতদেহের ওপর পড়েছে। ওর মৃতদেহের পাশে সদ্য কবর খোঁড়ার মাটি প্রায় দশ ফিট উঁচু হয়ে জমে রয়েছে।

    মাকড়সার মাথার কাছে স্লাগহর্ন গিয়ে বললেন, অতি উৎকৃষ্ট! ওর আটটি দুধের মতো সাদা চোখ আকাশের দিকে তাকিয়ে রয়েছে ভাসাভাসাভাবে। দুটি বিরাট আঁকাবাঁকা সাঁড়াশি সদৃশ হাত চাঁদের আলোতে স্থির হয়ে পড়ে রয়েছে।

    স্লাগহর্ন নিচু হয়ে বসার সময় এমনভাবে বসেছেন যেন ওর লোমশ হাতটা পরীক্ষা করছেন।

    স্লাগহর্নের পিছনে দাঁড়িয়েছিলো হ্যাগ্রিড। ও কাঁদতে কাঁদতে বললো, ওর সুন্দর দুটি হাত অনেকেই প্রশংসা না করে পারবে না। আমি আগে বুঝিনি অ্যারাগগের মতো মাকড়সাকে আপনি এতো পছন্দ করেন।

    অবশ্যই, অবশ্যই… আমি খুবই পছন্দ করি। স্লাগহর্ন মৃতদেহ থেকে সামান্য সরে এসে বললেন। হ্যারি সেই সময় দেখতে পেলো স্লাগহর্নের হাতের বোতলটা তার ক্লোকের ভেতর থেকে বেরিয়ে এলো। স্লাগহর্ন কি করছেন হ্যাগ্রিডেরও চোখে পড়লো না। ও তখন হাপুস নয়নে কেঁদে চলেছে। তাহলে এখন ওকে কবর দেওয়া যাক।

    হ্যাগ্রিড একাই সেই বিরাট দেহটা দশ ফিট গর্তের মধ্যে ঠেলে ফেলে দিতেই প্রচণ্ড এক পতনের শব্দ হলো। হ্যাগ্রিড আবার কাঁদতে শুরু করলেন।

    তুমি ওকে খুবই ভালোবাসতে তাই ওর মৃত্যু তোমার সহ্য করা খুবই কঠিন, স্লাগহর্ন হ্যাগ্রিডকে সান্ত্বনা দেবার জন্য বললেন। স্লাগহর্নের হাতও হ্যাগ্রিডের কনুই পর্যন্ত পৌঁছলো।

    হ্যাগ্রিড তখনো কেঁদে চলেছে। স্লাগহর্ন বললেন, তাহলে… কি বলো আমি, জি একটা কথা বললে কেমন হয়?

    হ্যারির বুঝতে বাকি রইলো না স্লাগহর্ন, অ্যারাগগের বেশ ভালো রকমের গরল সংগ্রহ করতে পেরেছেন…। স্লাগহর্নের মুখে কপট হাসি। হ্যাগ্রিডের মুখের দিকে তাকিয়ে কবরের ধারে গিয়ে খুব ধীরে এবং মর্মস্পর্শী গলায় বললেন, অ্যারাগগ তুমি আমার বিদায় অভিনন্দন গ্রহণ করো, আর্কনিডসদের রাজা, তোমার বিস্তৃত জীবনের ভালোবাসা, যারা তোমাকে জানতো তারা কোনদিনই ভুলবে না! তোমার দেহ একদিন মাটির সঙ্গে মিশে যাবে, তোমার আশা, তোমার ওই অরণ্যের মধ্যে হাজার হাজার বুনট জালের (মাকড়সার) গৃহে চির জাগরুক হয়ে থাকবে।

    তোমার বহু চোখবিশিষ্ট বংশধরেরা এবং মানুষ বন্ধুরা তোমাকে চিরতরে হারানোর ক্ষতি যেনো বহন করার শক্তি অর্জন করে।

    হ্যাগ্রিড অ্যারাগগের কবরের ওপর শুয়ে পড়ে আকুলভাবে কাঁদতে কাঁদতে বললো, সুন্দর… সুন্দর…!

    স্লাগহর্ন হাত তুলে বললেন, আর নয়, আর নয় হ্যাগ্রিড! হ্যাগ্রিডের বিরাট দেহের চাপে সদ্য মাটি দেওয়া কবর খানিকটা বসে গেলো, আর চারপাশ থেকে মাটি বাইরে ছড়িয়ে পড়লো। স্লাগহর্ন, হ্যাগ্রিডের পিঠে হাত দিয়ে বললো, চলো, তোমার কেবিনে, সামান্য পান করা যাক। হ্যারি তুমিও এসো।

    ওরা হ্যাগ্রিডকে টেবিলের কাছে একটা চেয়ারে বসালো। ফ্যাংগ কবর দেবার সময় ওর খাঁচাতে বন্দি ছিলো, বাইরে বেরোবার জন্য ছটফট করছিলো। ছাড়া পেয়ে লাফাতে লাফাতে হ্যাগ্রিডের কাছে এসে ওর ভারি মাথাটা হ্যাগ্রিডের কোলে চাপিয়ে চুপচাপ বসে রইলো। স্লাগহর্ন একটা বোতলের ছিপি খুললেন।

    বোতল থেকে প্রায় সবটা মদ হ্যাগ্রিডের বালতির মতো মগে ঢেলে হ্যারিকে বললেন, এতে বিষ নেই, পরীক্ষা করে নিয়ে এসেছি হ্যারি, মগটা হ্যাগ্রিডের হাতে দিলেন। তোমার বন্ধু রূপার্টের মতো অবস্থা হবে না হ্যারি। প্রতিটি বোতল আমি এলফদের দিয়ে পরীক্ষা করে নিয়ে এসেছি।

    মদে বিষ আছে কি নেই এলফদের খাইয়ে পরীক্ষা করে সঙ্গে নিয়ে এসেছেন স্লাগহর্ন! হারমিওন জানতে পারলে রক্ষে নেই।

    স্লাগহর্ন তারপর অন্য একটা বোতল তুলে তার অর্ধেকটা হ্যারির একটা মগে, বাকিটা অন্য মগে রেখে বললেন, এটা হ্যারির… অন্যটা আমার। তারপর নিজের মগটা তুলে বললেন, অ্যারাগগের স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

    হ্যারি আর হ্যাগ্রিড এক সঙ্গে বললো, অ্যারাগগ।

    স্লাগহর্ন আর হ্যাগ্রিড বড়ো দেখে একটা চুমুক দিলেন। হ্যারি আসার আগে ফিলিক্স ফিলিসিস খেয়ে এসেছে, তাই জানে স্লাগহর্নের দেওয়া ড্রিঙ্ক খাওয়া ঠিক হবে না। তাই এক চুমুক দিয়েও সেইরকম ভান করে বাকি মদটা টেবিলের আড়ালে চুপিসারে রেখে দিলো।

    হ্যাগ্রিড মদ খেতে খেতে অ্যারাগগের জন্মবৃত্তান্ত গরগর করে বলে যেতে লাগলো, স্লাগহর্নও শুনতে লাগলেন। শুনতে শুনতে বললেন, খুবই মিষ্টি কাহিনী।

    স্কুলের একটা আলমারির তাকে ওকে রাখতাম… শেষে…। বলতে বলতে হ্যাগ্রিডের মুখটা কালো হয়ে গেলো। হ্যারি জানে পরবর্তী ঘটনা, টম রিডিল মতলব করে হ্যাগ্রিডকে স্কুল থেকে বার করে দিয়েছিলো। বলেছিলো, চেম্বার অফ সিক্রেটস খোলার জন্য একমাত্র হ্যাগ্রিড দোষী! স্লাগহর্নকে দেখে হ্যারির মনে হলো তিনি হ্যাগ্রিডের কথা শুনছেন না। তার মনোযোগ তখন সিলিং থেকে ঝুলিয়ে রাখা কয়েকটি পিতলের গামলার দিকে। গামলা থেকে একগুচ্ছ লম্বা লম্বা সাদা চুল বেরিয়ে রয়েছে।

    স্লাগহর্ন দেখতে দেখতে বললেন, ইউনিকর্নের চুল–তাই না?

    হ্যাগ্রিড উদাসীনভাবে বললো, ও হা, ওদের ল্যাজ থেকে টেনে আনা হয়েছে… অরণ্য থেকে ওদের ধরে সংগ্রহ করে আনা… আপনিতো বুঝতেই পারছেন।

    কিন্তু তুমি কি ওগুলোর মূল্য জানো?

    কোনো জন্তু আঘাত পেলে ওগুলো আমি ব্যান্ডেজ হিসেবে ব্যবহার করি, হ্যাগ্রিড বললেন। খুবই শক্ত… কাজের জিনিস।

    স্লাগহর্নের চতুর চোখ হ্যাগ্রিডের কেবিনের চারদিকে ঘুরতে লাগলো। হ্যারি। পরিষ্কার বুঝতে পারলো স্লাগহর্ন, হ্যাগ্রিডকে ক্রিস্টাল আনারসের টুকরো, ভেলভেট স্মোকিং জ্যাকেট আর ওক-ম্যাচিয়োর্ড মিড দিয়ে বিনিময়ে তার মনমতো জিনিস সংগ্রহ করতে চান।

    স্লাগহর্ন নিজের আর হ্যাগ্রিডের মদের মগ ভর্তি করলেন তারপর অরন্যের জন্তু-জানোয়ারদের আর হ্যাগ্রিড তাদের কেমন করে দেখভাল করেন সে বিষয়ে প্রশ্নের পর প্রশ্ন করতে লাগলেন। হ্যাগ্রিডও দামী মদের নেশায় ও স্লাগহর্নের দরদী কথাবার্তায় সব প্রশ্নের জবাব দিতে লাগলেন।

    দ্য ফিলিক্স ফিলিসিস সেই সময় হ্যারিকে সামান্য ধাক্কা দিয়ে সচকিত করে দিলো। ও দেখলো স্লাগহর্ন যে পরিমাণ ড্রিঙ্কস এনেছিলেন তা প্রায় শেষ হয়ে এসেছে। হ্যারি তখনো পর্যন্ত জাদুমন্ত্র জোরে জোরে বলে, রিফিলিং চার্ম আনতে পারেনি; কিন্তু সেই রাতে সেটা করতে পারবে না, ভাবনাটা হাস্যকর মনে হলো। হ্যারি নিজের অক্ষমতার জন্য মনে মনে হাসলো, স্লাগহর্ন বা হ্যাগ্রিড দুজনের মধ্যে একজনও সেটা লক্ষ্য করলেন না। (ওরা তখন ড্রাগনের ডিম বেআইনীভাবে ক্রয় বিক্রয় নিয়ে আলোচনায় মশগুল)। ও তখন টেবিলের তলায় রাখা শূন্য বোতলের দিকে ওর ম্যাজিক ওয়ান্ড দিয়ে স্পর্শ করলো তখনই শূন্য বোতলগুলো, ভর্তি হতে শুরু হলো। তারপর ওরা ডাম্বলডোর, হোগার্টস আর এলফদের প্রতি মদ্যপানের স্বাস্থ্য কামনা শুরু করলেন।

    প্রায় চৌদ্দ বালতি ওয়াইন গলাধকরণের পর হ্যাগ্রিড বললেন, হ্যারি পটার।

    হ্যাঁ, যথার্থ, স্লাগহর্ন উচ্চস্বরে বললেন। প্যারি পটার (হ্যারি পটার) দ্য চুজেন বস হ্যাঁ, ওইরকম গোছের নাম, স্লাগহর্ন তোতলালেন, তারপর হাতে ধরা মগটা নিঃশেষ করলেন।

    তার কিছুক্ষণ পর, হ্যাগ্রিড আবার অশ্রুনয়নে সমস্ত ইউনিকর্নের ল্যাজটা স্লাগহর্নকে দেন। স্লাগহর্ন সেগুলো পকেটস্থ করে বললেন, বন্ধুত্বের প্রতি, মহানুভবতার প্রতি! একটি চুলের জন্য দশ গ্যালিয়ন!

    পরক্ষণেই হ্যারি দেখলো হ্যাগ্রিড আর স্লাগহর্ন পাশাপাশি বসে পরস্পরের গলা জড়িয়ে বসে গুণ গুণ করে গান গাইছেন, এতো মৃদুস্বরে যে শোনাই যায় না। অতি দুঃখের গান ওডো নামে এক মৃত্যুপথযাত্রী জাদুকরের।

    আহা, অল্প বয়সে ও চলে গেলো, হ্যাগ্রিড গাইলেন সামনের টেবিলটায় টোকা মারতে মারতে, চোখ দুটো তার টেরা হয়ে গেছে। ওদিকে স্লাগহর্ন গলা কাঁপিয়ে গাইতে শুরু করেছেন

    আমার বাবার তো যাবার সময় হয়নি, সময় হয়নি,

    তোমার বাবা-মায়ের, হ্যারি…। হ্যাগ্রিডের কোঁচকানো দুচোখের কোণা থেকে বেরিয়ে আসছে মোটা মোটা চোখের জল, হঠাৎ তিনি হ্যারির একটা হাত চেপে ধরে করমর্দন করলেন। কতো ছোট বয়সে জাদুকর জাদুকরী এতো মর্মান্তিক… মর্মান্তিক…।

    স্লাগহর্ন তারই সঙ্গে বিলাপ করতে লাগলেন।

    অতি মর্মান্তিক, হ্যাগ্রিড ঘোঁৎ ঘোঁৎ করে কথাটা বলেই স্লাগহর্নের কাঁধে তার বিরাট মাথাটা রেখে ঘুমিয়ে পড়লেন… নাক ডাকতে লাগলেন।

    দুঃখিত, স্লাগহর্ন বললেন, হেঁচকি তুলতে তুলতে। আমি যে ওর বিরাট মাথার চাপে দমবন্ধ হয়ে শেষ হয়ে যাবো।

    হ্যারি ধীর স্থিরভাবে বললো, হ্যাগ্রিড কিন্তু আপনার গান নিয়ে কিছু বলেননি… বলছিলেন, আমার বাবা-মা প্রসঙ্গে।

    ও হো হো স্লাগহর্ন খুব বড়ো দেখে একটা সেঁকুর তুলতে গিয়ে চেপে রাখলেন।

    হা হা ঠিকই বলেছো, সত্যি… সত্যি বড়োই মর্মান্তিক! কথাটা হঠাৎ শেষ করলেন, পরে কি বলবেন যেনো ভেবে পেলেন না। আবার বোতল থেকে দুটো মগে মদ ঢাললেন।

    তারপরই আচমকা বললেন, আমি বলতে পারছি না। মনে হয় তুমিও ঘটনাটা জানো না হ্যারি?

    না, জানবো কেমন করে, আমার বয়স তো তখন সবে এক বছর, হ্যারি বললো। তখন হ্যাগ্রিডের প্রবল নাসিকা গর্জনের ঠেলায় ঘরের মোমবাতি নিভু নিভু। তবে আমি অনেকের কাছে শুনেছি, শুনেছি… আমার বাবা প্রথমে মারা যান, তারপরে কি হয়েছিলো আপনি জানেন?

    না আমি কেমন করে জানবো… কিছুই জানি না, স্লাগহর্ন চাপা গলায় বললেন।

    আমি শুনেছি… ভোল্ডেমর্ট প্রথমে আমার বাবাকে হত্যা করে, তারপর বাবার মৃতদেহটা মার দিকে ফেলে দেয়, হ্যারি বললো।

    কথাটা শুনে স্লাগহর্ন ভীষণ জোরে কেঁপে উঠলেন; কিন্তু তার দৃষ্টি রইলো হ্যারির মুখের দিকে।

    তারপর ও আমার মাকে পথ থেকে সরে যেতে বলেছিলো, হ্যারি ব্যাথিত চিত্তে বললো। ও আমাকে বলেছিলো মাকে হত্যা করার ওর ইচ্ছে ছিলো না, আমাকে হত্যা করতে চায়, মা ইচ্ছে করলে পালিয়ে যেতে পারতেন।

    স্লাগহর্ন দীর্ঘ নিঃশ্বাস ফেলে বললেন, সত্যি বড়ো মর্মান্তিক, লিলি হয়তো নিজের প্রাণ রক্ষার জন্য পালাতে পারতো, উঃ কি নির্মম হত্যা।

    হ্যাঁ, নির্মম হত্যাকাণ্ড! হ্যারি এতো আস্তে বললো যে শুনতে পাওয়া যায় না। কিন্তু মা আমাকে ছেড়ে তো নিজের প্রাণের জন্য পালাতে পারেন না। মা নড়লেন

    না, একদিকে বাবার মৃতদেহ, অন্যদিকে আমার প্রাণ। ভোল্ডেমর্টের কাছে আমার প্রাণ ভিক্ষা চেয়েছিলেন, কথাটা শুনে ভোল্ডেমর্ট শুধু হেসেছিলো।

    আর বলো না, হ্যারি! একটা কাঁপা কাঁপা হাত তুলে হ্যারিকে বলতে নিষেধ করলেন। অনেক অনেক নৃশংস হত্যা, নিষ্ঠুর নির্মম কাহিনী শুনলাম আমার প্রিয় হ্যারি, আমি অতি বৃদ্ধ মানুষ, আমি আর শুনতে চাই না, আমায় আর তুমি শুনিওনা।

    আমার এখন এসব বলা ঠিক হয়নি, হ্যারি মিথ্যে বললো। ফিলিক্স ফিলিসিস ওকে আরো সাহস দিলো, আপনি তো আমার মাকে খুব পছন্দ করতেন, স্নেহ করতেন।

    কি বললে পছন্দ করতাম? স্লাগহর্ন বললেন, ওর দুচোখ জলে ভরে গেলো! তোমার মার সঙ্গে যে মিশেছে, যারা চিনতো তারা সকলেই ওকে পছন্দ করতো।

    অত্যন্ত সাহসী, সদা হাস্যময়ী। নৃশংস ঘটনা ছিল সেটি।

    আপনি তার পুত্রকে সাহায্য করবেন না? হ্যারি বললো। মা আমার জন্য প্রাণ দিয়েছিলেন আর আপনি আমাকে মেমরি দেবেন না

    হ্যাগ্রিডের নাসিকা গর্জন সমস্ত কেবিনটা কাঁপিয়ে তুলেছে। হ্যারি স্লাগহর্নের অশ্রুভরা দুচোখের দিকে অবিচল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। পোশান, মাস্টার তখন আর যেনো তাকাতে পারছেন না!

    অমন কথা আর বলল না হ্যারি, চাপা গলায় স্লাগহর্ন বললেন। না দেওয়ার প্রশ্ন নয়, যদি তাতে তোমার উপকার হয় তাহলে অবশ্যই দেবো, কিন্তু এখন সেটা নিয়ে তোমার কি সুবিধে হবে, কি করবে সেটা নিয়ে?

    হ্যাঁ, আমার সাহায্য হবে, হ্যারি পরিস্কার কণ্ঠে বললো। ডাম্বলডোর তথ্য চান, আমিও চাই।

    হ্যারি জানে ওর কোনো ক্ষতির আশংকা নেই। ফিলিক্স ওকে ভেতর থেকে জানিয়ে দিচ্ছে তার আগামীকাল সকালে কিছুতেই আজ রাতের কথা মনে থাকবে না। আবার ও স্লাগহর্নের মুখের দিকে তাকিয়ে সামনে এগিয়ে গিয়ে মাথাটা নোয়ালো।

    আমি চুজেন ওয়ান, আমি তাকে হত্যা করবো, করতেই হবে, আমার ওকে হত্যা করার জন্য সেই মেমরিটা দরকার।

    কথাটা শুনে স্লাগহর্নের মুখটা আরো বেশি ফ্যাকাশে হয়ে গেলো। চকমকে কপালটা ঘামে ভিজে আরো চকচক করতে লাগলো।

    তুমি তাহলে চুজেন ওয়ান? অবশ্যই আমি, হ্যারি শান্তভাবে বললো।

    কিন্তু তাহলে, আমার অতি স্নেহের পাত্র, আমার কাছ থেকে তুমি যে অনেক চাইছো, তুমি ধ্বংস করার জন্য নয়, আসলে তুমি সেই কাজের সাহায্যকারী হিসেবে চাইছো।

    আপনি কী সেই শয়তান জাদুকর যে লিলি ইভান্সকে হত্যা করেছিলো তাকে পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিতে চান না?

    হ্যারি, হ্যারি অবশ্যই আমি চাই, কিন্তু…।

    আপনি তাহলে ভয় পাচ্ছেন? ও আপনাকে আমাকে শায়েস্তা করার জন্য আপনাকে খুঁজে বেড়াবে… তার ভয়?

    স্লাগহর্ন নীরব রইলেন। চোখে মুখে তার অব্যক্ত আতঙ্ক! আমার মায়ের মতো আপনি সাহসী হোন, প্রফেসর।

    হ্যারির কথাটা শুনে স্লাগহর্ন তার কুঞ্চিত, ঝুলেপড়া চামড়ায় মোড়া কম্পিত হাতের আঙ্গুলগুলো মুখে চাপা দিলেন। তার মুখ দেখে মনে হয় হঠাৎ এক শিশু যেনো, শুধু বড় আকার ধারণ করেছে।

    আমি গর্বিত নই, স্লাগহর্ন আঙ্গুলের ফাঁক দিয়ে, ফিস ফিস করে বললেন, আমি একটু লজ্জিত নই, যা মেমরি দেখাবে… আ… আ… আমার মনে হয় সেদিন আমি অনেক ক্ষতি করেছিলাম।

    হ্যারি বললো, মেমরিটা যদি আপনি আমাকে দেন তাহলে সে পাপ মোচন করতে পারবেন। শুধু তাই নয় জাদুকরদের ইতিহাসে আপনার নাম অতি সাহসী ও মহৎ জাদুকর হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

    হ্যাগ্রিড ঘুমের মধ্য থেকে নড়ে চড়ে উঠে প্রবলভাবে নাক ডেকে চললেন। দপ দপ করে মোমবাতি জ্বলছে সেই আলোতে স্লাগহর্ন আর হ্যারি পরস্পরের মুখের দিকে অবিচল দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইলো। দীর্ঘ সময় কেটে গেলো, দুজনেই নীরব। হ্যারির অন্তর থেকে ফেলিক্স ফেলিসিস বার্তা পাঠালো–অধৈর্য হবে না, অপেক্ষা করো।

    তারপর স্লাগহর্ন তার পকেটে একটা হাত পুরে জাদুদণ্ডটা টেনে বের করলেন এবং অন্য হাত দিয়ে ক্লোক থেকে একটা ছোট শূন্য বোতল বার করলেন।

    হ্যারির মুখের দিকে তাকিয়ে জাদুদণ্ডের মুখটা কপালে ঠেকাতেই রূপালি সুতোর মতো মেমরি কপাল থেকে বেরিয়ে এসে জাদুদণ্ডের মুখটা দৃঢ়ভাবে জড়িয়ে ধরলো। তারপর সেখান থেকে পাকানো পাকানো মেমরি বেরিয়ে আসতে লাগলো, উজ্জ্বল রূপালী সুতোর মতো মেমরি। বেরিয়ে আসতে আসতে হঠাৎ বন্ধ হয়ে গেলো। স্লাগহর্ন তখন জাদুদণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকা মেমরি বোতলের মুখে ধরতেই মেমরি গ্যাসে পরিণত হয়ে বোতলে পূর্ণ হয়ে গেলো। স্লাগহর্ন তখন বোতলের মুখটায় ছিপি বন্ধ করে দিলেন।

    বোতলটা স্লাগহর্ন হ্যারির সামনে কাঁপা কাঁপা হাতে ধরলেন। হ্যারি বোতলটা নিয়ে বললো, আপনাকে অশেষ ধন্যবাদ প্রফেসর। স্লাগহর্ন হ্যারির পিঠে হাত দিয়ে বললেন, তুমি খুব ভালো ছেলে হ্যারি।

    হ্যারি স্লাগহর্নের দিকে তাকিয়ে দেখলো তার দুচোখ দিয়ে টপ টপ করে জল গড়িয়ে পড়ছে। চোখের জল ভিজিয়ে দিচ্ছে তার গোঁফ জোড়া।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }