Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প748 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ২৯. দ্য ফিনিক্স ল্যামেন্ট

    ২৯. দ্য ফিনিক্স ল্যামেন্ট

    চলো হ্যারি…।

    না, আমি যাবো না।

    না, তুমি এখানে বসে থাকতে পারবে না, চলো, চলো… এখনই…।

    বলছি তো যাবো না।

    হ্যারি ডাম্বলডোরের মৃতদেহ ছেড়ে কিছুতেই যেতে চায় না, কোথায়ও না। হ্যাগ্রিডের হাতটা হ্যারির কাঁধে, ওর কাঁপুনি কিছুতেই কমছে না। তারপরই এক মেয়েলি কণ্ঠস্বর–হ্যারি আমাদের কথা শোনো, প্লিজ।

    হ্যাগ্রিডের মতো শক্ত হাত নয়। অতি কোমল নরম হাতের স্পর্শ। বেশ শক্ত করে ধরে আছে ওর কাঁধ।

    গলার স্বর হ্যারির খুবই পরিচিত। হ্যারি মুখ তুললো। জিনি ওকে ডাম্বলডোরের মৃতদেহ ছেড়ে চলে আসতে বলছে। হ্যারি ধীরে ধীরে উঠলো। হ্যারির নাকে এলো এক বহু পরিচিত মিষ্টি ফুলের গন্ধ, আকাশে বাতাসে ছড়িয়ে আছে সেই সুবাস। ভিড়ের মধ্য দিয়ে হ্যারি জিনির হাত আলতোভাবে ধরে ক্যাসেলের দিকে চললো। চারদিক থেকে ভেসে আসছে কান্না, বিলাপ আর ফোঁপানির শব্দ, তারই সাথে চিৎকার অন্ধকারকে আরো ঘনীভূত করে দিচ্ছে। ডাম্বলডোর নেই, ওর আরদ্ধ, প্রিয় হেডমাস্টার আর নেই।

    ওরা এনট্রেন্স হলের সিঁড়ির মুখে দাঁড়ালো। মাৰ্বল সিঁড়ির দিকে যেতে যেতে দেখলো… স্কুলের অনেক মানুষ সারি সারি দাঁড়িয়ে রয়েছে। ওর দিকে অপার বিস্ময়ে তাকিয়ে কানাকানি করছে। হাতে তাদের রক্তবর্ণের ফুল। ফুলের অনেক পাপড়ি মেঝেতে পড়ে চকচক করছে। দূর থেকে মনে হয় ফোঁটা ফোঁটা তাজা রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে।

    আমরা এখন হসপিটালের দিকে যাবো হ্যারি, জিনি বললো। আমার তো কোনো আঘাত লাগেনি, হসপিটালে যাবো কেন? হ্যারি বললো।

    যেতে হবে, ম্যাকগোনাগলের আদেশ, জিনি বললো। সবাই সেখানে গেছে, রন, হারমিওন, লুপিন আরো অনেকে।

    অজানা এক আশঙ্কায় হ্যারির বুক কেঁপে উঠলো। ওর চোখের সামনে ভেসে উঠলো যেসব অচেতন দেহ সে পেরিয়ে এসেছে।

    জিনি, আমাদের সকলে ভালো আছে তো? সংঘর্ষে…? চিন্তা করো না, সবাই ভালো আছে। কিন্তু ডার্কমার্ক…, ম্যালফয় বলছিলো সে একটা শরীর পেরিয়ে এসেছে। বিল, বিলের কথা বলেছিলো। ও ভালো আছে, বেঁচে আছে।

    ওর কথার মধ্যে কেমন যেনো বেদনার সুর। তুমি ঠিক বলছো?

    ঠিকই বলছি, না জেনে বলবো কেন, ও একটু গোলমালের মধ্যে পড়ে গিয়েছিলো। গ্রেব্যাক ওকে আক্রমণ করেছিলো। মাদাম পমফ্রে বলেছেন, আগের মতো ওর মুখের চেহারা থাকবে না, বলতে বলতে জিনির গলা একটু কেঁপে উঠলো। পরে কি হবে আমরা জানি না, মানে, গ্রে ব্যাক একজন ওয়েরউলফ, কিন্তু এখনো সে উলফের মতো হয়নি।

    কিন্তু অন্যেরা… আমি যে মাঠেতে অনেক দেহ পড়ে থাকতে দেখেছি জিনি।

    আরে না না, নেভিল এখন হাসপাতালে, মাদাম পমফ্রে বলেছেন, ও সেরে উঠবে। প্রফেসর ফ্লিটউইককে ওরা মারাত্মক আক্রমণ করেছিলো, একটু নার্ভাস, তবে ভালই আছেন। বলছেন, র‍্যাভেন ক্লরা কেমন আছে দেখে আসতে চান। একজন ডেথইটার নিহত, সে মারাত্মকভাবে কিলিং কার্সে আঘাত পায়, একজন বিরাট আকৃতির সোনালী চুলওয়ালা যত্রতত্র কার্স ছুঁড়ছিলো। হ্যারি, আমাদের কাছে যদি তোমার ফিলিক্স পোশান না থাকতো তাহলে আমরা সবাই মরতাম, ওদের ছোঁড়া কার্স আমাদের গায়ে একটাও লাগেনি।

    ওরা হসপিটাল বিভাগে গিয়ে দরজা খুলে ওয়ার্ডে গিয়ে দেখলো নেভিল বেডে শুয়ে রয়েছে। মনে হয় ঘুমাচ্ছে। ওর বেডটা দরজার কাছে। ওয়ার্ডের প্রায় শেষ প্রান্তে রয়েছে, রন, হারমিওন, টোংকস আর লুপিন। দরজা খোলার শব্দে ওরা সকলেই তাকালো কে ঢুকলো দেখার জন্য। হারমিওন একরকম দৌড়তে দৌড়তে এসে হ্যারিকে জড়িয়ে ধরলো। লুপিন ওর দিকে তাকালেন। মুখ দেখে হ্যারির মনে হলো, লুপিন খুবই চিন্তিত।

    হ্যারি তোমার তো কোনো আঘাত লাগেনি, ভালো তো? আমি ভালোই আছি, বিল, বিল কেমন আছে?

    ওর প্রশ্নের কেউ জবাব দিলো না। বিলের বেডের কাছে দাঁড়ানো হারমিওনের কাধের ওপর দিয়ে দেখলো, বিছানায় এক অচেনা মুখ, এমনভাবে থেতলানো ও খোবলা খোবলা গর্ত যে দেখে মনে হয় এক বিকৃত প্রাণী। ম্যাডাম পমফ্রে ওর ক্ষতে কটু গন্ধের সবুজ রঙের মলম লাগাতে ব্যস্ত। হ্যারির মনে পড়ে গেলো স্নেইপ ম্যালফয়ের শরীরে মারাত্মক সেকটামসের ক্ষত কেমন করে ঠিক করে দিয়েছিলেন।

    ও একজন মেট্রনকে বললো, আমরা কি ওর ক্ষতগুলো চার্ম প্রয়োগ করে ঠিক করতে পারি না?

    কোন চার্ম কার্যকরী হবে না হ্যারি, বললেন মাদাম পমফ্রে। আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করেছি; কিন্তু ওয়েরউলফের কামড়ের কোনো প্রতিকার নেই।

    কিন্তু ওকে তো পূর্ণিমার রাতে কামড়ায়নি, রন বললো। রন একদৃষ্টে এমনভাবে ভাই বিলের মুখের দিকে তাকিয়েছিলো যেনো ওর দৃষ্টিতেই বিল ঠিক হয়ে যাবে। গ্রেব্যাক মনে হয় এখনো সভ্য হয়নি, বিল তো ওর দাঁতের বিষে উলফ হয়ে যাবে না? রন আতঙ্কিত হয়ে লুপিনের দিকে তাকালো।

    না না আমার তো তা মনে হয় না, লুপিন বললেন। অবশ্য কন্টামিনেসন ছোঁয়াচে কিছু হবে না এমন কথা বলা যায় না। ক্ষতগুলো হয়েছে কার্সে, মনে হয় পুরোপুরি সেরে ওঠা সম্ভব হবে না।

    হ্যারি হতাশ হয়ে লুপিনের মুখের দিকে তাকালো। মনে হয় বিল খানিকটা নেকড়ের মতো হিংস্র স্বভাবের হয়ে যেতে পারে।

    রন বললো, একমাত্র ডাম্বলডোর উলফিশের স্বভাব আয়ত্বে আনার কৌশল জানেন, এখন ডাম্বলডোর অফিসে নেই?

    বিল তো ডাম্বলডোরের আদেশে এই উন্মাদের বিরুদ্ধে লড়েছে, ডাম্বলডোরের তো ওর কাছে তার জন্য কৃতজ্ঞ থাকা উচিত, বিলকে তিনি এভাবে ফেলে রাখতে পারেন না।

    রন, ডাম্বলডোর আর আমাদের মধ্যে নেই, জিনি কাঁদো কাঁদো গলায় বললো।

    হতে পারে না, লুপিন এমনভাবে বললেন যাতে সকলে মিলে জিনির কথার প্রতিবাদ করে; কিন্তু দেখলেন হ্যারি নীরব রয়েছে। লুপিন সঙ্গা হারিয়ে বিলের বেডের পাশে রাখা একটা চেয়ারে পড়ে গেলেন। হ্যারি আজ পর্যন্ত লুপিনকে নিয়ন্ত্রণ হারাতে দেখেনি, ওর মনে হলো যেন কারও ব্যক্তিগত ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করছে, খুবই অসঙ্গত সন্দেহ নেই, ও বনের দিকে তাকালো। রন বুঝতে পারলো জিনি যা বলেছে তা সত্য, ডাম্বলডোর আর নেই।

    কেমন করে ডাম্বলডোর মারা গেলেন? টোংকস চাপা গলায় বললো। কখন…?

    স্নেইপ হত্যা করেছে, হ্যারি রুদ্ধ কণ্ঠে বললো। আমার সামনে, আমি তখন ওখানে ছিলাম। আমি অসুস্থ ডাম্বলডোরকে অ্যাস্ট্রোনমি টাওয়ারে নিয়ে গিয়েছিলাম, টাওয়ারের ওপর মার্ক ঘোরাফেরা করছিলো; তারপরই আমরা সিঁড়িতে পায়ের শব্দ শুনতে পেয়েছিলাম, তার মুখ দেখে মনে হয়েছিলো কেউ ফাঁদ পেতেছে তা তিনি বুঝতে পেরেছিলেন। তখন তিনি আমাকে চার্ম করে স্থানু করে দিয়েছিলেন, আমি তাই কিছু করতে পারিনি, অদৃশ্য রোব পরা ছিলাম, আমাকে কেউ দেখতে পায়নি। তারপর হ্যারি ম্যালফয়ের আসার পর থেকে যা যা কথাবার্তা হয়েছিল, ঘটনা ঘটেছিলো সব এক এক করে বলে গেলো।

    হারমিওন শোকে মূহ্যমান হয়ে হাত দিয়ে নিজের মুখ ঢাকলো, রন কুঁকিয়ে উঠলো, লুনার মুখটা কাঁপতে লাগলো।

    সব শোনার পর মাদাম পমফ্রে হাউ মাউ করে কাঁদতে লাগলেন।

    কেউ মাদাম পমফ্রের দিকে তাকালো না। একমাত্র জিনি ঠোঁটে একটা আঙ্গুল রেখে শব্দ করলো; শু… শোনো, শুনতে পাচ্ছো।

    ফোঁপাতে ফোঁপাতে মাদাম পমফ্রে মুখের ওপর তার পাঁচটা আঙ্গুল চেপে ধরলেন। বড় বড় চোখে খোলা জানালা দিয়ে বাইরের অন্ধকার অরণ্যের দিকে তাকালেন। সকলেই শুনতে পেলো একটা পাখি করুণ সুরে গান গেয়ে চলেছে। হ্যারি কখনই ওই রকম গান শোনেনি। ও গাইছে সুন্দর একটা ভগ্ন বাড়ির কার্নিশে বসে সুন্দরের অবলুপ্তির ব্যথায়। হ্যারি জানে, ডাম্বলডোরের প্রিয় ফিনিক্স অন্ধকারাচ্ছন্ন সবুজ ঘাসের ওপর তার প্রিয়, অতি প্রিয় মানুষটির দিকে তাকিয়ে শেষ বিদায় জানাচ্ছে। ফিনিক্সের গান একটু একটু করে গাছ-পালা-আকাশ বাতাস-ঘরবাড়ি তার দরজা-জানালা প্রতিধ্বনিত হতে লাগলো।

    ওরা কতোটা সময় ব্যথা বেদনার আঘাতে জর্জরিত হয়ে দাঁড়িয়েছিলো জানে না, দরজা খোলার শব্দে সম্বিৎ ফিরে এলো। ঘরে ঢুকলেন প্রফেসর ম্যাকগোনাগল। সকলেরই মতো তার দেহে সদ্যসমাপ্ত লড়াইয়ের আঘাতের চিহ্ন। চোখে মুখে বিষাদের ছায়া, ছিন্ন-ভিন্ন আলখেলা।

    একটু পর মলি আর অর্থার এসে পড়বে, ম্যাকগোনাগল বললেন। হঠাৎ সেই করুণ সুরে ফিনিক্সের গান বন্ধ হয়ে গেলো। হলের (হাসপাতালের) সকলেই ম্যাকগোনাগলের দুঃখ ভারাক্রান্ত মুখের দিকে তাকালো।

    হ্যারি, কিভাবে ঘটনাটি ঘটেছিলো? হ্যাগ্রিড বলছিলেন, তুমি তো ওখানেই ছিলে… উনি বললেন, প্রফেসর স্নেইপ ডাম্বলডোরের হত্যার ব্যাপারে জড়িত…।

    হ্যাঁ, আমি স্নেইপকে ডাম্বলডোরকে হত্যা করতে দেখেছি।

    স্নেইপ…! ম্যাকগোনাগল ভারসাম্য রক্ষা করতে পারলেন না, একটা চেয়ারে কোনো রকমে বসে পড়লেন। শেষ পর্যন্ত স্নেইপ, যাকে তিনি এতো বিশ্বাস করতেন, সে… আমি বিশ্বাস করতে পারছি না।

    স্নেইপ একজন উঁচু দরের অকলামেন্স, লুপিন বললেন, লুপিনের গলার স্বর অস্বাভাবিক কর্কশ। আমরা সবাই জানতাম।

    কিন্তু ডাম্বলডোর সব সময় বলতেন, বিশেষ কোনো কারণে স্নেইপের প্রতি তার বিশ্বাস, আস্থা ছিলো, ম্যাকগোনাগল বিড়বিড় করে বললেন। তারপর চোখের কোণা থেকে জল মুছে ধরা ধরা গলায় বললেন, আমার মনে হয় স্নেইপের অতীত ইতিহাস, ডাম্বলডোর আমাকে সব সময় বলতেন, অতীতের কার্যকলাপের জন্য স্নেইপ সর্বদাই দুঃখিত ছিলো, ওর অনুশোচনায় কোনো খাদ ছিলো না। তার বিরুদ্ধে কোনো নালিশ শুনতে চাইতেন না।

    আমার খুব জানতে ইচ্ছে করে স্নেইপের অনুতাপ সম্বন্ধে টোংকস বললেন।

    আমি জানি, হ্যারি কথাটা বলতেই সকলে ওর দিকে তাকিয়ে রইলো। স্নেইপ ভোল্ডেমর্টকে এমন একটা খবর দিয়েছিলো, যা জানার পর ও আমার বাবা-মাকে হত্যা করার জন্য ক্ষেপে উঠেছিলেন। স্নেইপ তারপর ডাম্বলডোরকে বলেছিলেন, ওই পরিস্থিতি যে হবে তিনি একেবারে না জেনে-বুঝে করেছেন। তার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন, তাদের মৃত্যুর জন্যও দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন।

    ওহো! ডাম্বলডোর ওর কথা বিশ্বাস করেছিলেন? লুপিন হ্যারির কথা খুব বিশ্বাসযোগ্য মনে করলেন না। ডাম্বলডোর বিশ্বাস করেছিলেন, জেমস মারা যাওয়ার জন্য সত্যই স্নেইপ দুঃখিত হয়েছিলো? স্নেইপ জেমসকে মোটেই সহ্য করতে পারতো না।

    আমার মায়ের কোনো গুণ আছে স্নেইপ তা মনে করতেন না, কারণ আমার মা ছিলেন মাগল, হরদম তাকে বলতেন মাড ব্লাড, হ্যারি বললো।

    হ্যারি কেমন করে কথাগুলো জেনেছে কেউ জিজ্ঞেস করলো না। সকলেই তখন ডাম্বলডোরের মৃত্যুর ব্যাপারে মানসিক আঘাতে জর্জরিত, মর্মান্তিক সত্যটা হজম করতে কষ্ট হচ্ছে।

    সবই আমার দোষ, ম্যাকগোনাগল সহসা বললেন। তাকে তখন খুবই বিচলিত দেখাচ্ছে। ঘন ঘন রুমাল দিয়ে মুখ মুছছেন, ভিজে রুমাল পাকাচ্ছেন। আমি ফিলিয়াসকে আজ রাতে স্নেইপকে ডেকে আনতে বলেছিলাম, আসলে আমি তাকে আমাদের সাহায্যের জন্য ডেকে পাঠিয়েছিলাম। আমি যদি স্নেইপকে ঘটনা সম্পর্কে না জানাতাম, তাহলে হয়তো ডেথ ইটারদের সঙ্গে হাত মেলাতে পারতেন না। আমি মনে করি না ফিলিয়াস বলার আগে স্নেইপ জানতেন, যে ডেথইটাররা এসেছে।

    না মিনার্ভা দোষটা আপনার নয়, লুপিন জোর দিয়ে বললেন, আমরা সকলেই অনেকের সাহায্য চেয়েছিলাম, স্নেইপ যোগ দিচ্ছে শুনে খুশি হয়েছিলাম।

    তাহলে তিনি যখন আসলেন,.. একেই কি লড়াইয়ে ডেথ ইটারদের দলে যোগ দিলেন? হ্যারি বললো। হ্যারি জানতে চাইছিলো স্নেইপের বিশ্বাসঘাতকতা, শঠতা

    এবং কলঙ্কপূর্ণ কাজ কর্ম। যেন সে ওকে আরো ঘৃণা করার জন্য আরো বেশি জানতে চাইছিলো। প্রতিশোধ ওকে নিতেই হবে।

    আমি ঠিক জানি না কেমন করে কলঙ্কজনক কাজটা হলো। ম্যাকগোনাগল কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে বললেন, খুবই গোলমেলে, ডাম্বলডোর আমাকে বলেছিলেন, বিশেষ কাজে কয়েক ঘণ্টার জন্য স্কুলের বাইরে যাচ্ছেন, আমাদের করিডরটা ঘুরে ফিরে দেখতে বলেছিলেন। প্রয়োজন হলে, রেমাস, বিল আর নিমফাডোরা আমাদের সঙ্গে থাকবে, তো আমরা ঘুরে বেড়িয়েছিলাম। কোথায় কোনো রকম গোলমাল লক্ষ্য করিনি। স্কুলের বাইরে প্রতিটি গোপনীয় যাতায়াত আমরা দেখে রেখেছিলাম। আমরা জানতাম একটি মাছি স্কুলের ভেতর ঢুকতে পারবে না। তাছাড়া, ক্যাসেলের প্রবেশ পথে খুবই শক্তিশালী জাদু মন্ত্র করে রাখা হয়েছিলো। তাই আমার মাথায় ঢুকছে না ডেথইটাররা কেমন করে ঢুকতে পেরেছিলো…।

    আমি জানি, হ্যারি ম্যালয়ের মুখে শোনা ভ্যানিশিং ক্যাবিনেট সম্বন্ধে সবিস্ত রে বললো। ওরা রুম অফ রিকোয়ারমেন্ট দিয়ে ঢুকেছিলো।

    ও ইচ্ছার বিরুদ্ধে রন-হারমিওনের মুখের দিকে তাকালো। দেখলো দুজনেরই মুখ বিধ্বস্ত আকার ধারণ করেছে।

    সবকিছু গোলমাল হয়ে গিয়েছিলো হ্যারি। মারাউডার্স মানচিত্রে ম্যালফয়কে দেখতে না পেয়ে পরে আমরা ভেবেছিলাম ও রুম অফ রিকোয়ারমেন্টে থাকতে পারে। আমি, জিনি আর নেভিলে ওয়াচ করতে গিয়েছিলাম, কিন্তু কোন ফাঁকে আমাদের চোখে ধুলো দিয়ে ম্যালফয় বের হয়ে যায় জানতে পারিনি। জিনি বললো, দেখলাম প্রায় ঘণ্টাখানেক পরে ও ওর কোঁচকানো হাতটা ধরে বেরিয়ে গিয়েছিলো।

    ওর বাহাদুরি দেখানোর হাত, রন বললো।

    যা হোক, জিনি বলে চললো, ও একটা কিছু ছুঁড়েছিলো খুব সম্ভব ডেথইটারদের সতর্ক করে দেয়ার জন্য… তারপর সব গাঢ় অন্ধকার হয়ে গিয়েছিলো।

    পেরুভিয়ন ইনস্ট্যান্ট ডার্কেন পাউডার, রন বললো। ফ্রেড আর জর্জের কাছে গিয়ে জানতে হবে কারা ওই প্রোডাক্ট কিনেছিলো।

    আমরা যথেষ্ট চেষ্টা করেছিলাম–লুমাস, ইনসেন্ডিও, জিনি বললো। কোনো কিছুই সেই গাঢ় অন্ধকারকে ভেদ করতে পারেনি, আমরা তখন করিডর ছেড়ে চলে এসেছিলাম। আমরা শুধু লোকেদের করিডর দিয়ে আসা যাওয়ার পদশব্দ শুনেছিলাম। ম্যালফয় তার বিভৎস হাতের লাইট দিয়ে সব দেখতে পাচ্ছিলো, আমরা কোনো কার্স ব্যবহার করিনি, অন্ধকারে তো কিছুই দেখতে পাচ্ছিলাম না। ভয় ছিলো কার্স যদি আমাদের কারও গায়ে লাগে। তারপর অন্য করিডরে গেলাম, তখন সেখানে আলো ছিলো। ইতিমধ্যে ও পালিয়েছিলো।

    ভাগ্যবশত রন, জিনি আর নেভিলে ডেথইটারদের স্কুলে ঢোকার কথা আমাদের বলেছিলো, লুপিন বললো। আমি মিনিট খানেক পরে দেখেছিলাম ওরা অ্যাস্ট্রোনমি টাওয়ারের দিকে যাচ্ছে। ম্যালফয় স্বাভাবিকভাবে চায়নি ওদের কেউ দেখতে পাক; খুব সম্ভব ওর কাছে আর ডার্কনেস পাউডার ছিলো না। তারপর লড়াই শুরু হয়েছিলো, ওরা ছত্রভঙ্গ হলে, আমরা ধাওয়া করেছিলাম। ওদের মধ্যে একজন, গিবন, দলছুট হয়ে টাওয়ারের সিঁড়ির দিকে গিয়েছিলো, লুপিন ভেবে মনে করার চেষ্টা করলেন।

    হ্যারি হারমিওনের দিকে তাকিয়ে বললো, জিনি ও নেভিল রুম অব রিকোয়ারমেন্ট পাহারা দিচ্ছিল, তাহলে তুমি কি করছিলে?

    স্নেইপের অফিসের কাছেই ছিলাম, হারমিওন উত্তরটা দেওয়ার সময় ওর চোখ অশ্রুতে চকচক করছিলো। লুনাকে সাথে নিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করে থেকেছি, কিন্তু জানতে পারিনি উপরে কি হচ্ছে। মারউডারস ম্যাপটা ছিল রনের কাছে। প্রায় মধ্যরাত্রি, হঠাৎ প্রফেসর ফ্লিটউইক ছুটে এলেন, তিনি চিৎকার করে বলছিলেন ডেথ ইটাররা ক্যাসেলে ঢুকে পড়েছে। আমার মনে হয় না উনি লুনা বা আমাকে দেখেছেন। উনি দ্রুতগতিতে স্নেইপের অফিসের দিকে গেলেন এবং আমরা শুনলাম উনি বলছিলেন স্নেইপের তার সঙ্গে সাহায্যের জন্য যাওয়া উচিত এবং আমরা শুনলাম ভারি কোনো কিছু ধপাস করে পড়ে যেতে। তারপর স্নেইপ বের হয়ে এলেন এবং তিনি আমাদের দেখে বললেন…..।

    কি বললেন? হ্যারি জিজ্ঞেস করলো, আমি কি বোকামি করেছি, হ্যারি! হারমিওন বেশ জোরেই কথাটি বললো। উনি বললেন প্রফেসর ফ্লিটউইক অচেতন হয়ে পড়েছেন, তোমরা যেয়ে ওকে সাহায্য করো এবং তিনি যাচ্ছেন ডেথ ইটারদের সাথে লড়াই করতে।

    লজ্জায় হারমিওন তার মুখ ঢাকলো। আঙ্গুল দিয়ে ইঙ্গিতে জানালো। সে আর কথা বলতে পারছে না। একটু নেমে হারমিওন বলতে শুরু করলো, আমরা তার অফিসে যেয়ে দেখি প্রফেসর ফিটুউইক অচেতন হয়ে মেঝেতে পড়ে আছেন… আর এখন বুঝছি তাকে স্টুপিফাই করা হয়েছিলো। কিন্তু আমরা বুঝতে পারিনি, হ্যারি আমরা সত্যিই বুঝতে পারিনি, আমরা বিনা বাধায় স্নেইপকে চলে যেতে দিয়েছি।

    এটা তোমাদের ভুল নয়, হারমিওন তুমি যদি স্নেইপের কথা না শুনতে তাহলে, স্নেইপ তেমাদেরকেও হত্যা করতো, প্রফেসর লুপিন বললেন।

    হ্যারি বললো তারপরই তিনি উপরে চলে আসলেন। হ্যারি কল্পনা করার চেষ্টা করলো কেমন করে স্নেইপ মাটিতে প্রান্ত লেগে থাকা লম্বা রোব পরে মার্বেলের সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলেন। তারপর তিনি প্রতিরোধরত তোমাদের দেখেছিলেন।

    সে সময় আমরা সঙ্কটে, আমরা হারছিলাম, টোংকস বললো। যদিও গিবন পর্যদুস্ত হয়ে পড়েছিলো, কিন্তু বাকি ডেথ-ইটাররা মরণপন লড়াই করছিলো। নেভিল আঘাত পেল, গ্রেব্যাকের নৃশংস আক্রমণের শিকার হলো বিল… একেবারে অন্ধকার কিছুই দেখা যাচ্ছিলো না…. প্রতিটি স্থানেই কার্স ছুটছিলো… ম্যালফয়ের ছেলেরা উধাও, সে নিশ্চয়ই টাওয়ারের পেছন থেকে সটকে পড়েছিলো… বাকিরা ওর পিছু পিছু দৌড়াচ্ছিলো। কিন্তু তাদের একজন পালাবার পর সিঁড়ি কার্স করে বন্ধ করে দিয়েছিলো… নেভিল ওদের পিছু নিলে সেখানে বাধাগ্রস্ত হয়ে আকাশে নিক্ষিপ্ত হলো।

    আমরা কেউই সে বাধা অতিক্রম করতে পারলাম না, রন বললো, ডেথ ইটাররা তখনো চারদিকে জিনস ছোঁড়া অব্যাহত রাখলো এবং অল্পের জন্য আমাদের পাশ কাটিয়ে দেয়ালে আঘাত করছিলো।

    তারপর হঠাৎ স্নেইপকে সেখানে দেখা গেল, টোংকস বললো, একটু পরেই দেখলাম তিনি নাই।

    তাকে দেখলাম আমাদের দিকে ছুটে আসছেন, বিরাট দৈত্যাকার ডেথ ইটার মারাত্মক এক জিনকস ছুড়লে আমি মাথা নিচু করে নিজেকে রক্ষা করার পর তাকে আর দেখতে পেলাম না।

    আমি তাকে দেখলাম, সোজাসুজি কার্স বাধা স্থানে ছুটে যেতে, লুপিন বললেন, আমি তার পিছু ছুটলে তিনি বাধা অতিক্রম করে চলে গেলেন। আর আমি নেভিলের মত ছিটকে পেছনে চলে এলাম।

    সবার শেষে ম্যাকগোনাগল বললেন, স্নেইপ নিশ্চয়ই এমন এক স্পেল জানেন তা আমরা কেউ জানি না, তিনি তো আমাদের ডার্কআর্টের প্রতিরোধের টিচার ছিলেন, আমি ধারণা করেছিলাম ডেথইটারদের ধাওয়া করার জন্য তিনি ব্যস্ত ছিলেন।

    হ্যাঁ ছিলেন, হ্যারি প্রচণ্ড রেগে বললো। ব্যস্ত ছিলেন ডেথইটারদের সাহায্য করার জন্য। তারপর কি করেছিলেন?

    ওয়েল, বড় ডেথইটার এমন একটা হেক্স ছুঁড়েছিলেন, অর্ধেক সিলিং ভেঙ্গে পড়েছিলো, তাছাড়া কার্স বুকিং সিঁড়িও, লুপিন বললেন। আমরা সবাই সেইদিকে দৌড়ে গিয়েছিলাম, তারপর স্নেইপ আর ম্যালফয় ধুলোর মধ্য থেকে বেরিয়ে এসেছিলো, স্বভাবতই আমরা ওদের আক্রমণ করতে পারিনি।

    আমরা ওদের বিনা বাধায় যেতে দিয়েছিলাম, টোংকস বললেন কাপা কাপা গলায়। আমরা ভেবেছিলাম ওরা ডেথইটারদের তাড়া খেয়ে এসেছে এবং এর পরেই বাকি ডেথইটাররা আর গ্রেব্যাক ফিরে আসলে আবার আমরা তাদের সঙ্গে লড়াই শুরু করেছিলাম, স্নেইপ সেই সময়ে কিছু একটা বলেছিলেন, কি বলেছিলেন ঠিক জানি না।

    বলেছিলেন, বেশ জোরে জোরে বলেছিলেন, সব শেষ, হ্যারি বললো। যা তাকে করতে বলা হয়েছিলো তা তিনি সম্পাদনা করেছেন।

    ওরা সবাই চুপ করে রইলেন। ফকেসের করুণ সুরে গান তখনো অন্ধকার অরণ্য মাঠ থেকে প্রতিধ্বনিত হয়ে ফিরে আসছিলো। হ্যারির মনের ভেতরটা অস্বাভাবিক, অনাহূত ভাবনা-চিন্তায় ভরে গেলো, ওরা কি ডাম্বলডোরের প্রাণহীন দেহটা টাওয়ারের পাদদেশ থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে? তারপর, তারপর কি হবে? কোথায় তাকে চিরনিদ্রায় শায়িত করবে। ওর দুহাত পকেটে পুরে হা শক্ত করলো, ওর হাতে তখনো হরক্রাকসের ঠাণ্ডা পচাগন্ধ…।

    হসপিটাল উইং-এর দরজাটা খুলে গেলো, ওয়ার্ডে যারা বসেছিলেন সচকিতে দরজার দিকে তাকালেন। মি. আর মিসেস উইসলি লম্বা লম্বা পা ফেলে ঘরে ঢুকলেন। তাদের পেছনে ফ্লেউর, ওর সুন্দর মুখটি ভয়ে আমসি হয়ে গেছে।

    ওদের দেখে প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন, মলি, আর্থার তোমরা এসে গেছে, খবর… দুঃখের খবর তো সব শুনেছো? আমি খুবই দুঃখিত।

    বিল, বিল কোথায়? ফিস ফিস করে মিসেস উইসলি বললেন। ম্যাকগোনাগলকে প্রায় ঠেলে সরিয়ে বিলের বেডের কাছে গিয়ে বিলের কাটাছেঁড়া মুখের দিকে তাকিয়ে ক্রন্দনজড়িত কণ্ঠে বললেন, ওঃ… ওঃ… বিল!

    লুপিন আর টোংকস বিলের বেডের কাছে বসেছিলেন। মিসেস উইসলিকে দেখে তাকে বিলের পাশে বসার জায়গা করে দিলেন।

    মিসেস উইসলি, বিলের রক্তাক্ত কপালে চুম্বন করলেন, আপনি বলছেন গ্রেব্যাক ওকে আক্রমণ করেছিলো, মি. উইসলি কি বলবেন ভেবে না পেয়ে ম্যাকগোনাগলকে বললেন। তাহলে গ্রেব্যাক এখন ট্রান্সফর্ম হয়নি? তার অর্থ কি হতে পারে? এখন বিলের কি হবে?

    আমরা এখনো সঠিক বলতে পারছি না, লুপিনের দিকে অসহায়ভাবে তাকিয়ে বললেন।

    খুব সম্ভব স্পর্শের জন্য কিছু সংক্রমণ হতে পারে আর্থার; লুপিন বললেন। কেসটা খুবই অস্বাভাবিক বলতে পারো, সাধারণত এমন হয় না, ও জাগবার পর কেমন আচরণ করবে বলতে পারছি নে।

    মিসেস উইসলি, পমফ্রের হাত থেকে বিকট গন্ধওয়ালা মলম নিয়ে বিলের কপালের ক্ষতে আলতোভাবে লাগাতে লাগলেন।

    আর ডাম্বলডোর, মি. উইসলি বললেন। মিনার্ভা যা শুনছি তা সত্যি?

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল সম্মতিসূচক মাথা নাড়লেন। জিনি ঠিক সেই সময়ে হ্যারির পাশে এসে দাঁড়ায়। হ্যারি ওর দিকে তাকালো। জিনি বাঁকা চোখে ফ্লেউরের ভয় পেয়ে যাওয়া মুখের দিকে তাকালো। ফ্লেউর তখন স্তব্ধ দৃষ্টিতে বিলের মুখের দিকে তাকিয়েছিলো।

    তাহলে ডাম্বলডোর আমাদের ছেড়ে চিরকালের জন্যে চলে গেলেন, মি. উইসলি অস্পষ্ট স্বরে বললেন, কিন্তু মিসেস উইসলির স্থির দৃষ্টি তার বড় ছেলের দিকে। তার দুচোখ দিয়ে টপটপ করে অশ্রু ঝরে পড়ছে বিলের ক্ষতবিক্ষত মুখের ওপর।

    অবশ্য ও কেমন দেখাবে তাতে কিছু যায় আসে না, খুব একটা ব… বড় কথা নয়, কিন্তু ও দেখতে বড় সুন্দর ছিলো, সুশ্রী সুন্দর ছেলে, ওর তো বিয়ের সব ঠিক হয়ে আছে।

    তাতে কি আসে যায়? ফ্লেউর বেশ জোরে জোরে বললো। কে বললো ওর মুখে কাটা দাগ থাকলে আমি ওকে বিয়ে করবো না। আমি মনে করি আমি যথেষ্ট সুন্দরী আমাদের দুজনের জন্য! এ সকল ক্ষত প্রমাণ করে যে আমার স্বামী কত সাহসী! কথাটা শেষ করে ফ্লেউর মিসেস উইসলির থেকে মলমটা নিয়ে নিজেই বিলকে মাখতে লাগলো।

    মিসেস উইসলি সরে এসে মি. উইসলির পাশে দাঁড়ালেন এবং ফ্লেউরের বিলকে মলম মাখানো দেখছিলেন। কেউ কোন কথা বললো না। হ্যারিও না। অন্য সকলের মতো সে-ও এক বিস্ফোরণের অপেক্ষায় ছিলো।

    আমি মাত্র সে কথাটা…. আপনি মনে করেন ওর মুখে ক্ষতের জন্য আমাকে বিয়ে করবে না? না, না, ঠিক তা বলিনি।

    উের ওর লম্বা লম্বা সোনালী চুলের রাশি পিঠে ফেলে ঝাঁকুনি দিয়ে বললো, কোনো ওয়েরউলফ আমাদের ভালোবাসার মাঝে এসে দাঁড়াতে পারবে না।

    হা হা আমি তা জানি ফ্লেউর, মিসেস উইসলি বললেন। তবে.. আ… আমার.. মনে হয়েছিলো।

    ওর মুখের কাটা দাগে আমার ভালোবাসা কমবে না। ওর ওই কাটা দাগ চিরকাল ওর সাহসের চিহ্ন হিসেবে থাকবে।

    মিসেস উইসলি, মিস্টার উইসলিকে ধরে সোজা হয়ে দাঁড়ালেন। দেখলেন ফ্লেউর, বিলের মুখের দিকে অদ্ভুত এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছে। সকলেই চুপ করে রইলো। হ্যারি যেখানে দাঁড়িয়েছিলো সেখানেই দাঁড়িয়ে রইলো। ও কিন্তু অন্যদের মতো কোনো অপ্রত্যাশিত ঘটনার জন্য ভাবছে না।

    আমাদের গ্রেট আন্টি মুরিয়েল, অনেকটা সময় নীরব থাকার পর মিসেস উইসলি বললেন। তার একটি অতি সুন্দর টায়রা আমার কাছে আছে, গবলিনের তৈরি। তোমাদের বিয়ের সময় ওটা তুমি পরবে। বিলকে তিনি খুব ভালোবাসেন, তোমার সুন্দর চুলে ওটা খুব মানাবে।

    ম্যাকগোনাগল বললেন, আজ ডাম্বলডোর আমাদের মাঝে থাকলে সব চাইতে বেশি খুশি হতেন, সব সময় বলতেন পৃথিবীতে ভালোবাসাই বড়। মানুষ মানুষকে ভালোবাসতে শিখুক।

    ঠিক সেই সময় দরজা খুলে হ্যাগ্রিড ঢুকলেন। হ্যাগ্রিডের মুখটা ফোলা; চুল দাড়ি অশ্রুসিক্ত। অঝোরে কাঁদছেন। বিরাট বড় রুমাল দিয়ে মাঝে মাঝে চোখের জল মুছছেন।

    আমি আপনার দেয়া কাজ করেছি প্রফেসর, ধরা ধরা গলায় হ্যাগ্রিড বললেন। স্প্রাউট ছেলে মেয়েদের ঘরে পাঠিয়েছিলেন। প্রফেসর ফ্লিটউইক তার ঘরে শুয়ে আছেন, বললেন, একটু পরে ঠিক হয়ে যাবেন। স্লাগহর্ন খবরটা মিনিস্ট্রিতে পাঠিয়ে দিয়েছেন।

    ধন্যবাদ হ্যাগ্রিড, ম্যাকগোনাগল কথাটা বলে বিলের কাছে যারা দাঁড়িয়েছিলো তাদের দিকে ফিরে বললেন–হ্যাগ্রিড, আপনি দয়া করে সব হাউজ হেডদের বলুন,

    স্লাগহর্ন আপাতত স্লিদারিনদের প্রতিনিধি হোন তারা যেন যথাশীঘ্র সম্ভব আমার অফিস ঘরে আসেন। হ্যাগ্রিড আপনি যদি আসেন তাহলে খুশি হবো।

    হ্যাগ্রিড় সম্মতি জানিয়ে ঘর থেকে চলে গেলে ম্যাকগোনাগল হ্যারির দিকে তাকালেন। হ্যারি তোমার সঙ্গে দুএকটি কথা আছে। আমার ঘরে চলো। হ্যারি উঠে দাঁড়ালো। রন, হারমিওন আর জিনিকে বললো, তোমাদের সঙ্গে পরে কথা বলবো।

    হ্যারি, ম্যাকগোনাগলের সঙ্গে হাসপাতাল ছেড়ে হাঁটতে লাগলো। হাসপাতালের করিডর জনমানবহীন, নিস্তব্ধ। তখনো ভেসে আসছে করুণ গান…।

    সেইগান যেন থামতে চাইছে না।

    হ্যারি ভেবেছিলো ম্যাকগোনাগল ওকে সঙ্গে নিয়ে ডাম্বলডোর যেখানে শায়িত সেখানে যাবেন। কিন্তু তা নয়–ম্যাকগোনাগল ওকে নিয়ে ডাম্বলডোরের অফিস ঘরের দিকে চললেন গম্ভীর মুখে। কিন্তু স্পাইরেল সিঁড়ি দিয়ে গোলাকৃতি ঘরে ঢুকলো। তখন ওর মনে পড়ে গেলো ম্যাকগোনাগল ছিলেন ডেপুটি হেড মিস্ট্রেস, এখন তিনি হেড মিস্ট্রেস!

    ঘরে ঢোকার আগে হ্যারি ভেবেছিলো সমস্ত ঘরটা কালো কাপড়ে মোড়া থাকবে, ডাম্বলডোরের দেহটা ঘরের এক পাশে শায়িত থাকবে। চারদিক তাকিয়ে দেখলো ঘরের কোনো কিছুই পরিবর্তিত হয়নি, যেমন ছিলো তেমনই রয়েছে। সিলভার ইনস্ট্রমেন্টটা আগের মতো ঘুরছে, স্পিন্ডিল লেগ টেবিলের ওপরে গ্রিফিন্ডরের তরোয়ালটা দেওয়ালে টাঙ্গানো রয়েছে, চাঁদের আলো পড়ে সেটা চকচক করছে। সর্টিং হ্যাট ডেস্কের পেছনে একটা তাকে রয়েছে। কিন্তু ফকেসের দাঁড় শূন্য, ডাম্বলডোরের ঘরে তার করুণ সুরের গান তখনো অরণ্য থেকে ভেসে আসছে। সব পোর্ট্রেটগুলো যেমন ছিলো তেমনই দেয়ালে টাঙানো রয়েছে, তবে নতুন একটা পোর্ট্রেট যোগ হয়েছে, ডাম্বলডোর হয়ে গেছেন হোগার্টসের অতীত হেডমাস্টার! সোনার ফ্রেমে বাঁধানো ডাম্বলডোরের পোট্রট ডেস্কের ওপর রয়েছে। তার অর্ধচন্দ্রাকৃতি চশমাটা পোর্ট্রেটে লাগানো রয়েছে। এতো প্রশান্ত মূর্তি হ্যারি আগে কখনো দেখেনি।

    হ্যারি একদৃষ্টে ওর প্রিয় হেড মাস্টারের দিকে তাকিয়েছিলো। হঠাৎ ম্যাকগোনাগলের অদ্ভুত গলার শব্দে সচকিত হয়ে উঠলো। হ্যারি, ম্যাকগোনাগলের মুখের দিকে তাকালো।

    হ্যারি, ম্যাকগোনাগল বললেন। তুমি ও ডাম্বলডোর আজ সন্ধ্যা বেলা কোথায় গিয়েছিলে, কেনই বা সেখানে গিয়েছিলে আমাকে বলল।

    বলতে পারবো না, হ্যারি বললো। ও জানতো ম্যাকগোনাগল ওই প্রশ্নটা করবেন, সেই প্রশ্নের জবাব মনে মনে তৈরি করে রেখেছিলো। আমরা কোথায় যাচ্ছি, কেন সেখানে গিয়েছিলাম, ঘুনাক্ষরেও কাউকে বলবে না, এমন কি হারমিওনকেও না।

    হ্যারি ব্যাপারটা খুবই প্রয়োজনীয় হতে পারে; কিন্তু তিনি চাননি কোথায় গেছি, কেন গেছি কাউকে না বলতে।

    প্রফেসর ম্যাকগোনাগল হ্যারির দিকে একদৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন।

    পটার (নতুন করে হ্যারি ওর পদবী পটার শুনলো) প্রফেসর ডাম্বলডোরের মৃত্যুর পরিপ্রেক্ষিতে আমার মনে হচ্ছে তুমি অবস্থার পরিবর্তন ভালো করেই বুঝতে পারছো।

    আমার কিন্তু তা মনে হয় না, হ্যারি কাঁধ ঝাঁকুনি দিলো। প্রফেসর ডাম্বলডোর আমাকে কখনই বলেননি যদি তিনি মারা যান তাহলে তার আদেশ আমি উপেক্ষা করি।

    কিন্তু…।

    প্রফেসর অন্তত একটা কথা আমার মনে হয় মিনিস্ট্রি এখানে আসার আগে আপনাকে জানানো দরকার, এখন রোজমাৰ্তা ইমপেরিয়স কার্সে রয়েছে, উনি ম্যালফয় আর ডেথইটারদের অনেক সাহায্য করছিলেন, তার জন্যই নেকলেস আর বিষাক্ত মদ ভেতরে এসেছে।

    কি বললে রোজমার্তা? ম্যাকগোনাগল উত্তেজিত হয়ে বললেন; কিন্তু আরো কিছু প্রশ্ন করার আগেই তার ঘরের দরজায় টোকা পড়লো, ঘরে ঢুকলেন প্রফেসর

    স্প্রাউট, ফ্লিটউইক আর স্লাগহর্ন। ওদের পেছনে ছিলেন হ্যাগ্রিড। তখনো তিনি ফেঁপাচ্ছেন, তার বিরাট শরীরটা তীব্রবেদনায় কাঁপছে, চোখ দিয়ে শ্রাবণের ধারা বইছে। মাঝে মাঝে তার বিরাট রুমাল দিয়ে মুখ মুছছেন।

    তাহলে স্নেইপ, স্লাগহর্ন মর্মবেদনায়ও উত্তেজনায় ফেটে পড়ে কাঁপতে কাঁপতে বললেন, মুখ বিবর্ণ, ঘামছেন দরদর করে। স্নেইপ! ওতো আমারই ছাত্র ছিলো, আমি তো ওকে জানি। এমন জঘন্য কাজ ও করলো!

    স্লাগহর্নের কথা শুনে কেউ কিছু বলতে যাবে তখন এক জাদুকর তার শূন্য ফ্রেমে ঢুকতে ঢুকতে বললেন, মিনার্ভা কয়েক সেকেন্ডের মধ্যে মিনিস্টার আসছেন। সবেমাত্র ডিসঅ্যাপারেটেড করেছেন।

    ধন্যবাদ, ধন্যবাদ ইভার্ড, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল সচকিত হয়ে যে সমস্ত শিক্ষকরা ঘরে সবে মাত্র এসেছেন তাদের দিকে তাকালেন।

    মন্ত্রী এখানে আসার আগে হোগার্টসে যা ঘটেছে, আপনাদের জানা দরকার, সামান্য সময়ে নীরব থেকে খুব তাড়াতাড়ি বললেন–ব্যক্তিগতভাবে আমি মনে করি না, আগামী বছর স্কুল খোলা থাকুক। বুঝতেই পারছেন আমাদেরই এক সহকর্মীর হাতে হেডমাস্টার নিহত হয়েছেন, তা অতি সহজভাবে নেয়া যায় না। নানা ষড়যন্ত্র করে ডাম্বলডোরকে হত্যা, হোগার্টসের ইতিহাসে একটি কলঙ্কময় ঘটনা লেখা হয়ে থাকবে। সত্যই বীভৎস।

    আমি সম্পূর্ণ বিশ্বাস করি, ডাম্বলডোর মনে করতেন, স্কুল যেনো কোনো কারণেই বন্ধ না হয়, প্রফেসর স্প্রাউট বললেন। যদি একজনও ছাত্র বা ছাত্রী স্কুলে আসতে চায়, তাহলে স্কুল তার জন্য অবশ্যই খোলা থাকা উচিত।

    কিন্তু এই মর্মান্তিক ঘটনার পরও কি একজন ছাত্রছাত্রী আসতে পারে? স্লাগহর্ন বললেন। কথাটা বলার পর ঘর্মাক্ত মুখ ঘর্মাক্ত ভুরু সিল্কের রুমাল দিয়ে মুছলেন। বাবা মায়েরা তাদের ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাতে না চাওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে আমি ব্যক্তিগতভাবে মনে করি না, আমরা এখানে অন্যান্য স্থানের চাইতে বেশি বিপদের মধ্যে রয়েছি, তাই বলে ছেলেমেয়েদের মা-বাবাকে ওই রকম কিছু চিন্তা করলে কোনো দোষ দেওয়া যাবে না। তারা ছেলেমেয়েদের তাদের কাছে রাখতে চাইবে, এটা খুবই স্বাভাবিক।

    আমিও তাই মনে করি, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন। তবে ডাম্বলডোর কখনো ভাবতে পারেননি এমন একটি সাংঘাতিক কাণ্ড ঘটতে পারে, যার জন্য হোগার্টস বন্ধ রাখার প্রয়োজন হতে পারে। যখন চেম্বার অফ সিক্রেটস খোলা হয়েছিলো তখন তিনি স্কুল বন্ধ করার কথা ভেবেছিলেন, কিন্তু আমি অবশ্যই বলতে চাই ডাম্বলডোরের হত্যা আমার কাছে খুবই উদ্বেগজনক, স্নিদারিন দানবকে দৃষ্টি এড়িয়ে ক্যাসেলে থাকতে দেয়ার কথা ভাবা আমার কাছে আরো বেশি উদ্বেগের ব্যাপার।

    আমাদের অবশ্য গভর্নরদের সঙ্গে বিষয়টি আলোচনা করা দরকার, প্রফেসর ফ্লিটউইক তার খোনা খোনা গলায় বললেন। ফ্লিটউইক এর কপাল সামান্য কেটে গেছে হঠাৎ খবরটা শুনে স্নেইপের অফিসে পড়ে যাওয়াতে। আমরা অবশ্যই অনুমোদিত কার্যপ্রণালী মেনে চলবো, তাড়াহুড়ো করে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়া উপযুক্ত হবে না।

    হ্যাগ্রিড আপনি চুপ করে আছেন কেন? আপনি কিছু বলুন, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন। হোগার্টস খোলা থাকবে কি থাকবে না সে সম্বন্ধে আপনার মতামত বলুন?

    কথাটা শুনে হ্যাগ্রিড় তার ফোলা মুখ তুলে রুমালে মুখ মুছে ভাঙ্গা গলায় বললেন, আমি কিছু বলতে পারছিনে প্রফেসর, হাউজ হেডরা, আর হেডমিস্ট্রেস, যে সিদ্ধান্ত নেবে তাই মানতে হবে।

    প্রফেসর ডাম্বলডোর সব সময়ে আপনার মতামত খুবই মূল্যবান মনে করতেন, প্রফেসর ম্যাগগোনাগল শান্তভাবে বললেন। সেক্ষেত্রে আমিও মানবো।

    আমি কোথাও যাবো না, হোগার্টস আমার ঘর, আমার বাড়ি, তের বছর বয়স থেকে এখানে রয়েছি, এখানের ছেলেমেয়েরা আমার প্রাণ। যারা আমাকে চাইবে তাদের আমি পড়াবো, তবে আজ আমি ডাম্বলডোর ছাড়া হোগার্টসের কথা ভাবতে পারছি না, হ্যাগ্রিড হাপুস নয়নে ফুলে ফুলে কাঁদতে কাঁদতে বললেন।

    সকলেই হ্যাগ্রিডের কথা শুনে চুপ করে রইলেন।

    খুব ভালো কথা, তাহলে আমরা ফ্লিটউইকের কথামতো গভর্নরের সঙ্গে পরামর্শ করে একটা স্থির সিদ্ধান্ত নেবো, কথাটি বলে ম্যাকগোনাগল খোলা জানালা দিয়ে বাইরে তাকালেন, দেখলেন মিনিস্টার পৌঁছেছেন কি না। তাহলে আপাতত স্কুলের ছেলেমেয়েদের তাদের বাড়ি পাঠানোর জন্য হোগার্টস এক্সপ্রেসের ব্যবস্থা করতে হবে যদি প্রয়োজন হয় আগামী কালই।

    হ্যারি বললো, আমরা সবাই যে যার বাড়ি ফিরে গেলে ডাম্বলডোরের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া, শবানগমনের কি হবে?

    আমি জানি, ডাম্বলডোরের শেষ ইচ্ছা ছিলো তাকে যেনো এখানে হোগার্টসে সমাহিত করা হয়–ম্যাকগোনাগল কাঁপা কাঁপা গলায় তার গাম্ভীর্য ভঙ্গ করে বললেন।

    তাহলে তাই হবে, হ্যারি জোর দিয়ে বললো।

    হ্যাঁ, অবশ্যই, যদি মিনিস্ট্রি উপযুক্ত মনে করে, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন। তবে একটা কথা মনে রাখতে হবে, আজ পর্যন্ত কোনো হেডমাস্টার বা হেডমিস্ট্রেসকে এখানে সমাহিত করা হয়নি।

    কিন্তু তার মতো তো কোনো হেডমাস্টার, হেডমিস্ট্রেস স্কুলের জন্য প্রাণ দেননি, হ্যারি ক্ষোভের সঙ্গে বললো।

    প্রফেসর ফ্লিটউইক দৃঢ়তার সঙ্গে বললেন, হ্যাঁ হোগার্টসে তাকে সমাহিত করা হবে।

    কোনো তর্ক নয়, প্রফেসর স্প্রাউট বললেন।

    তাই যদি হয়, হ্যারি বললো, শেষকৃত্য না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কারও বাড়ি ফেরা উচিত হবে না, কেউ কেউ হয়তো তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে কিছু বলতে চাইবে।

    হ্যারি বাকি কথাটা বলতে পারলো না, গলায় আটকে গেলো।

    খুব সুন্দর বলেছে হ্যারি, ফ্লিটউইক বললেন। অবশ্যই অবশ্যই আমাদের ছাত্রছাত্রীরা তাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবে, খুবই সম্মানজনকভাবে, কাজ সুসম্পন্ন হবার পর স্পেশাল ট্রেনে ছাত্রছাত্রীদের বাড়ি পাঠানোর ব্যবস্থা করা যাবে।

    আমি পূর্ণ সমর্থন করছি, প্রফেসর স্প্রাউট জোর দিয়ে বললেন।

    আমি মনে করি… হা…, স্লাগহর্ন একটু উত্তেজিত হয়ে কথাটা শেষ করতে যাচ্ছিলেন, তার আগেই হ্যারি এক রকম ধরা ধরা গলায় সমর্থন করলো। হ্যাগ্রিড কেঁদেই চললেন। কান্নার ভেতরেই তার সম্মতি জানালেন।

    ওই আসছেন, ম্যাকগোনাগল বাইরে তাকিয়ে হঠাৎ বললেন, মনে হয় ডেলিগেসন নিয়ে আসছেন।

    এবার কি আমি যেতে পারি, প্রফেসর? হ্যারি সঙ্গে সঙ্গে বললো।

    রুফাস স্ক্রিমগৌরকে দেখার বা তার জেরার সামনে দাঁড়াবার কোনো প্রবৃত্তি হ্যারির নেই।

    হ্যাঁ, তুমি যেতে পারো, তাড়াতাড়ি, প্রফেসর ম্যাকগোনাগল বললেন। তারপর ঘরের দরজাটা খুলে দিলেন। হ্যারি স্পাইরেল সিঁড়ি দিয়ে নেমে জনশূন্য করিডর দিয়ে চললো। এস্ট্রোনমি টাওয়ারে ও অদৃশ্য হবার ক্লোকটা ফেলে এসেছে সেটা নিতে হবে। অদৃশ্য ক্লোকটা নেই তাতে কিছু আসে যায় না। শূন্য করিডরে কেউ তাকে দেখতে পাবে, ফিলচ, মিসেস নরিস, পিভস কাউকে সে দেখতে পেলো না। গ্রিফিডর কমনরুমে ঢোকা পর্যন্ত ও একটিও জীবন্ত প্রাণী দেখতে পেলো না।

    পোর্ট্রেটের সামনে দাঁড়াতেই ফ্যাট লেডি বললো, সত্যি, সত্যি, হ্যারি? ডাম্বলডোর, ডাম্বলডোর আর আমাদের মধ্যে নেই? মারা গেছেন?

    হ্যাঁ, হ্যারি হাঁফাতে হাঁফাতে বললো।

    হ্যারির কথা শুনে ফ্যাট লেডি আঁতকে উঠলেন, কোনো পাসওয়ার্ড ছাড়াই ওকে ঘরে ঢুকতে দিলেন।

    হ্যারি কমন রুমে ঢুকে দেখলো তিল ধারণের স্থান নেই। ওকে দেখে ঘরের সকলে চুপ হয়ে গেলো। ডিন আর সিমাসকে খুব কাছেই বসে থাকতে দেখলো। তার মানে ডরমেটরিতে কেউ নেই। সকলেই এখানে চলে এসেছে। হ্যারি কারও দিকে না তাকিয়ে, কারও সঙ্গে একটি কথা না বলে ছেলেদের ডরমেটরিতে সোজা চলে গেলো।

    ঘরে যেয়ে দেখলো রন জামা কাপড় পরে নিজের বিছানায় বসে রয়েছে। হ্যারি ওর খাটে বসে রনের মুখের দিকে তাকালো। কারও মুখে একটি কথাও নেই।

    ওখানে সকলে বলছিলেন স্কুল বন্ধ হয়ে যাবে, হ্যারি অনেকটা পরে রনকে বললো।

    লুপিনও তাই বলছিলেন, রন বললো। তারপর দুজনই নীরব।

    হলে? রন এতো আস্তে কথাটা বললো যাতে ঘরের ফার্নিচারগুলো ওর কথা যেনো শুনতে না পায়। তুমি… তুমি তাহলে কিছু পেয়েছো?

    কী? একটা… একটা… হরক্রাকস?

    হ্যারি শুধু মাথাটা নাড়লো। ওর চোখের সামনে ফুটে উঠলো ভয়ার্ত স্বপ্নের মতো টলটলে কালো জলের হ্রদ, ছোট দ্বীপ আর আকাশচুম্বি কালোপাহাড়। হ্যাঁ কয়েক ঘণ্টা আগেই তো ও ডাম্বলডোরের সঙ্গে থেকেছে, তাই না?

    রন হ্যারির মুখ দেখে বুঝতে পারলো বস্তুটি পায়নি। ওখানে ওটা ছিলো না?

    না, হ্যারি বললো। মনে হয় আমরা ওখানে পৌঁছোবার আগে সেটা কেউ নিয়ে গেছে, তারপর নকল কিছু একটা রেখে গেছে।

    তোমাদের যাবার আগেই নিয়ে গেছে?

    কোনো কথা না বলে হ্যারি পকেট থেকে নকল নেকলেসটা রনের সামনে ধরলো, তারপর সেটা রনের হাতে দিলো। আজ রাতে নয়, বলার এখনো অনেক সময় আছে। শেষটুকু বলার অপেক্ষা মাত্র। দিকভ্রষ্ট ব্যর্থ অভিযানের কাহিনী, ডাম্বলডোরের জীবনাবসান তারই বেদনা ভরা কাহিনী। কি লাভ এতো তাড়াতাড়ি শুনিয়ে।

    RAB, রন ফিসফিস করে পার্চমেন্টটা দেখতে দেখতে বললো। কিন্তু RAB কে?

    জানি না, হ্যারি বিছানায় টান টান হয়ে শুয়ে উপরে তাকিয়ে বললো। ওর মনে এখন RAB সম্বন্ধে কোনো কৌতুহল নেই, আর কখনো RAB সম্বন্ধে কৌতুহলী হবে না এই রকমই মনে হলো ওর। শুয়ে থাকতে থাকতে হঠাৎ মনে হলো বাইরের মাঠটা নীরব কেন? ফকে আর করুণ সুরে গান গাইছে না কেন?

    ও জানে, ভালো করেই জানে ফকেস আর গান শোনাবে না। ও হোগার্টস ছেড়ে চিরকালের মতো চলে গেছে, ঠিক ওর প্রিয় হেডমাস্টার ডাম্বলডোরের মতো। তিনি শুধু স্কুল নয় পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন, হ্যারিকে ছেড়েও।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আবদুল হালিম
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক শেফার
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    থ্রিলার পত্রিকা
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতম বসু
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রথীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সায়ক আমান
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিক দে
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026
    Our Picks

    আমাজনিয়া – জেমস রোলিন্স

    March 24, 2026

    হেরুক – সৌমিত্র বিশ্বাস

    March 24, 2026

    বিভাষিকা – ১৪৩২ পূজাবার্ষিকী -(থ্রিলার পত্রিকা)

    March 24, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }