Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য হাফ-ব্লাড প্রিন্স (৬) – জে. কে. রাওলিং

    জে. কে. রাওলিং এক পাতা গল্প748 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    ০৪. হোরেস স্লাগহর্ন

    ০৪. হোরেস স্লাগহর্ন

    একদিন জেগে থাকা প্রতিটি মুহূর্তে ওর মনে দারুণ এক আশার সৃষ্টি হয়েছিলো ডাম্বলডোর ওকে স্বয়ং এসে প্রাইভেট থেকে নিয়ে যাবেন, এখন সত্য সত্যই ডাম্বলডোর এসেছেন, হ্যারি ডাম্বলডোরের সঙ্গে প্রাইভেট ড্রাইভের বাইরে পা রেখে কেমন যেন জবুথবু হয়ে গেল। আগে কখনো হোগার্টসের বাইরে হেডমাস্টার স্যারের সঙ্গে কথাবার্তা হয়নি। শিক্ষক ও ছাত্রের দূরত্ব ছিলো। তার সঙ্গে মুখোমুখি কথা বলার আগের স্মৃতি মনে পড়ায় লজ্জা পেল। সেই সময়ে ও খুব জোরে জোরে কথা বলেছিলো, ডাম্বলডোর অসামান্য ধৈর্যের সঙ্গে কথা শুনছিলেন। সেটা মনে রাখা ও ঐ প্রসঙ্গ না তোলাই এখন ভালো।

    ডাম্বলডোরের মুখের দিকে তাকিয়ে হ্যারির মনে হলো, তিনি ধীরস্থির ও শান্ত, তার মনে ভাবনা-চিন্তা, তাপ-উত্তাপ নেই।

    হ্যারি তোমার জাদুদণ্ড হাতের কাছে রাখো, ডাম্বলডোর প্রফুল-চিত্তে বললেন। স্যার স্কুলের বাইরে জাদুদণ্ড ব্যবহার করার আমার কি অধিকার আছে?

    হঠাৎ যদি কোন আক্রমণ হয়, ডাম্বলডোর বললেন। আমি তোমাকে আক্রমণ প্রতিহত করার জন্য অনুমতি দিচ্ছি, অথবা কোনো উপযোগী কার্স ব্যবহারের। তবে আমার মনে হয় না আজ রাতে তোমার ওপর কোনো হামলা হতে পারে।

    কেন হতে পারে না স্যার?

    কারণ আমি তোমার সঙ্গে রয়েছি, ডাম্বলডোর সরলভাবে বললেন।

    হোরেস স্লাগহর্ন প্রাইভেট ড্রাইভের শেষ প্রান্তে এসে ডাম্বলডোর হঠাৎ থেমে গেলেন।

    তুমি নিশ্চয়ই অ্যাপারিসন প্রশিক্ষণে উত্তীর্ণ হওনি? ডাম্বলডোর বললেন।

    না, হ্যারি বললো। আমি তো জানি সতের বছর বয়স হওয়ার আগে ওটা শেখা যায় না।

    হ্যাঁ তাই, ডাম্বলডোর বললেন। আমরা যেখানে যাচ্ছি, অ্যাপারিসন করে সেখানে যেতে হবে। তুমি আমার বাঁ হাতটা শক্ত করে চেপে ধরবে, দেখেছো আমার যাদুদণ্ড ধরা ডান হাতটা এখনও দুর্বল, ঐ হাত এখন ধরতে পারবে না।

    হ্যারি ডাম্বলডোরের বাঁ-হাতের কনুইয়ের কাছটা শক্ত করে চেপে ধরলো। বাঃ চমৎকার, ডাম্বলডোর বললেন। এইবার আমরা উড়ে চললাম।

    হ্যারির মনে হলো ডাম্বলডোর তার হাতটা দিয়ে ওকে জড়িয়ে ধরলেন। আরো শক্ত করে বেধে নিলেন ডাম্বলডোর। তারপর ও জানে সব অন্ধকার হয়ে যাবে। চারদিক থেকে প্রবল চাপ পড়তে লাগলো সমস্ত শরীরে ওর নিঃশ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছে, লোহার মতো একটা শক্ত হাত ওর বুকের ছাতি বেস্টন করে আছে। মাথার ভেতরে যেন দুটো কান ও কানের পর্দা দুটো খুলির ভেতর ঢুকে যাচ্ছে, তারপরে…।

    তারপর ও গভীর রাতের ঠান্ডা বাতাস ফুসফুস ভরে নিতে পারলো, জলে ভরা দুচোখ খুললো। ওর মনে হলো এতক্ষণ একটা রবারের টিউবের মধ্যে ওকে কেউ জোর করে ঢুকিয়ে দিয়েছিলো। ওর মনে হলো মাত্র কয়েক সেকেন্ড হয়েছে ওরা প্রাইভেট ড্রাইভ ছেড়ে এসেছে। হ্যারি দেখলো, সে আর ডাম্বলডোর একটা শুনশান পরিত্যক্ত গ্রামের রাস্তার মোড়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে। সেই মোড়ের মাঝখানে রয়েছে অতি পুরনো একটা ওয়ার মোরিয়াল (যুদ্ধে যারা প্রাণ দিয়েছে তাদের স্মৃতি), তার চারপাশে কয়েকটি বসবার বেঞ্চ। একটু একটু করে ও যেন নিজের মধ্যে ফিরে আসছে, জীবনে এই প্রথম হ্যারি নিজেকে অ্যাপারেট করলো। ওর সারা দেহে দারুণ শিহরণ, অপূর্ব পুলকে ও তাকালো ডাম্বলডোরের দিকে।

    ডাম্বলডোর হ্যারির মুখের দিকে তাকিয়ে বললেন, কেমন লাগছে? স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে একটু সময় লাগবে।

    স্যার ঠিক আছি, হ্যারি বললো কান রগড়াতে রগড়াতে। ও কানের কোন অস্তিত্ব অনুভব করল না, মনে হলো যেন কান দুটো সে প্রাইভেট ড্রাইভে ফেলে এসেছে। আমার মনে হয়, ঝাড়ুতে চেপে আসা অনেক ভালো ছিলো, হ্যারি বললো।

    ওর কথা শুনে ডাম্বলডোর হাসলেন। ট্রাভলিং ক্লোকের গলাটা সামান্য শক্ত করে বেধে বললেন, চলো, ঐদিকটায় যেতে হবে।

    হ্যারি ডাম্বলডোরের সঙ্গে চলল। যেতে যেতে ফেলে এলো রাস্তার ধারে পরিত্যক্ত একটা সরাইখানা, কয়েকটা জনমানবশূন্য বাড়ি ও একটা অতি পুরনো দিনের গির্জা। গির্জার ঘড়িতে দেখলো প্রায় মধ্যরাত্রি।

    তাহলে এখন হ্যারি, তোমার কপালের কাটা দাগটার কি অবস্থা, ঠিক আছে, চুলকোচ্ছে না তো? ডাম্বলডোর বললেন। অজান্তেই হ্যারির বা হাত কপালের কাটা দাগের ওপর আলতো করে ছুঁয়ে গেল। আস্তে আস্তে বিদ্যুতের মতো আঁকাবাঁকা কপালের কাটা দাগে হাত বুলিয়ে নিলো।

    না তো, ও বললো, আমিও সে কথাই ভাবছিলাম। ভেবেছিলাম ভোল্ডেমর্ট আবার শক্তিশালী হওয়ায় কাটা জায়গাটা হয়তো আবার জ্বালা করবে।

    সে ডাম্বলডোরের মুখের দিকে তাকালো, মনে হলো জ্বালা করছে না শুনে খুশি হয়েছেন।

    আমি আবার অন্যটা ভাবছিলাম, ডাম্বলডোর বললেন। আমি ভাবছিলাম লর্ড ভোল্ডেমর্ট হয়তো বেশ ভালো করেই বুঝেছেন তুমি ওর ক্ষতিকর চিন্তা আর

    অনুভূতির তোয়াক্কা না করে খুব ভালোভাবেই আছে। মনে হচ্ছে এখন তিনি। তোমার বিরুদ্ধে অকলামেনসি প্রয়োগ করছেন।

    আমার তো তেমন কিছু মনে হচ্ছে না, কোনো কিছু উপলব্ধি করছি না, হ্যারি বললো। ওতো কোনো রকম দুঃস্বপ্ন দেখছে না, মনের মধ্যে ভোল্ডেমর্টের চমকপ্রদ আলোর ঝলক উপলব্ধি করছে না।

    কথা কইতে কইতে ওরা রাস্তার এক কোণায় একটা টেলিফোন বক্স আর বাসের গুমটি পার হলো।

    হ্যারি আড় চোখে ডাম্বলডোরকে দেখলো। বললো প্রফেসর? হ্যারি কিছু বলবে? বলছিলাম–আমরা এখন কোথায়? এখন আমরা বাডলাইগ বাব্বেরটনের সুন্দর একটা গ্রামে। এখানে কেন এসেছি স্যর?

    তোমাকে বলা হয়নি! ডাম্বলডোর বললেন। আমি বলতে ভুলেই গেছি, আমাদের এ বছরেও একজন শিক্ষক কম। এখানে এসেছি আমাদের অসবরপ্রাপ্ত আমার এক সহকর্মীকে চেষ্টা করে হোগার্টসে নিয়ে যেতে।

    তার জন্য আমাকে কেন প্রয়োজন, স্যর?

    ও হ্যাঁ, তোমার দরকার হতে পারে, ডাম্বলডোর বললেন ভাসা ভাসা ভাবে। চলো, পা চালিয়ে চলো।

    হাঁটতে হাঁটতে হ্যারিকে নিয়ে ডাম্বলডোর একটা সরু রাস্তার মুখে এলেন। রাস্তাটি খাড়া ওপরে উঠে গেছে। রাস্তার দুধারে সারি সারি বাড়ি। গভীর রাত্রি, সকল বাড়ির জানালা অন্ধকার। গত দুসপ্তাহ ধরে প্রাইভেট ড্রাইভে খুব ঠান্ডা ছিল, তার প্রকোপ এখানেও। হ্যারি মুখ কালো করে কাঁধের দিকে তাকালো, হঠাৎ ডিমেন্টরদের কথা মনে হতেই পকেটে জাদুদণ্ডটা ঠিক মতো আছে কি না দেখে নিলো।

    প্রফেসর, আমরা আপনার পুরনো সহকর্মীর বাড়িতে হেঁটে না যেয়ে সরাসরি অপারেট করেই তো যেতে পারি।

    যাওয়া যায় তবে যাবো না, কারণ ওইভাবে গেলে, কারও বাড়ির সদর দরজায় লাথি মারার মত অভদ্রতা হবে, ডাম্বলডোর বললেন। আমাদের জাদুকরদের শিষ্টাচার এই যে এক জাদুকর অন্য এক জাদুকরের বাড়িতে বিনানুমতিতে না ঢোকা। তাছাড়া, সব জাদুকরদের বাড়ি এমনভাবে জাদু দিয়ে সুরক্ষিত থাকে, যার ফলে অযাচিত অ্যাপারেটররা সরাসরি সেখানে ঢুকতেও পারে না। যেমন ধরো হোগার্টসে।

    তাহলে তো আপনি কারও বাড়ির ভেতরে অথবা মাঠে অ্যাপারেট করে যেতে পারবেন না, হ্যারি ডাম্বলডোরের কথা শোনা মাত্র বললো। হারমিওন গ্রেঞ্জার কথাটা আমাকে অবশ্য বলেছিল।

    ঠিকই বলেছে হারমিওন, এবারে বাঁদিকে চলো।

    চার্চের ঘড়ি মধ্যরাতের টুং টাং শব্দ করে বেজে উঠলো। ওদের কানে সেই মধুর শব্দ এলো। হ্যারি বুঝতে পারলো না প্রফেসর কেন তার পুরনো সহকর্মীর বাড়িতে গভীর রাতে যাচ্ছেন। সব প্রশ্ন মন থেকে সরিয়ে একটি অতি প্রয়োজনীয় প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার ইচ্ছে হলো।

    স্যর ডেইলি ফেটে দেখলাম ফাজকে বরখাস্ত করা হয়েছে।

    হ্যাঁ তাই, ডাম্বলডোর বললেন। ডাম্বলডোর এবার পাশের একটা সরু রাস্তায় ঢুকলেন।

    ওকে সরিয়ে দিয়ে রুফাস স্ক্রিমগৌরকে আনা হয়েছে। স্ক্রিমগৌর আগে গোয়েন্দা (অরর) বিভাগের প্রধান ছিলেন।

    তাই, আপনি কি মনে করেন তিনি খুব যোগ্য ব্যক্তি? হ্যারি জিজ্ঞেস করলো।

    খুবই সুন্দর প্রশ্ন করেছে, ডাম্বলডোর বললেন। তিনি অতি সুদক্ষ সন্দেহ নেই। কর্নেলিয়সের চাইতে অনেক বেশি সচেতন ও কঠিন ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন মানুষ।

    হতে পারেন, কিন্তু বলতে চাইছি।

    আমি বুঝতে পেরেছি তুমি কি বলতে চাইছো। রুফাস তার কর্মজীবনের বেশির ভাগ সময় কালো জাদুকরদের বিরুদ্ধে প্রবল বুদ্ধি ও নিপুণতার সঙ্গে কাজ করেছে ও কখনো লর্ড ভোল্ডেমর্টের শক্তিকে ছোটো করে বা তুচ্ছতার সঙ্গে দেখেনি।

    হ্যারি চুপ করে রইলো; কিন্তু ডাম্বলডোর ডেইলি ফেটে ক্রিমগৌরের সঙ্গে তার মতোবিরোধের রিপোর্ট সংক্রান্ত বিষয়ে একটি কথাও বললেন না। হ্যারির আর সাহস হলো না এই বিষয়ে আর কথাবার্তা বলার। তখন ও অন্য প্রসঙ্গে চলে এলো।

    স্যার, আমি মাদাম বোনসের খবর কাগজে দেখেছি।

    হ্যাঁ, ডাম্বলডোর বললেন। দারুণ ক্ষতি। বিরাট ব্যক্তিত্বসম্পন্ন ডাইনি ছিলেন উনি। এসে গেছি, হ্যাঁ এই বাড়িটাই তো, আউচ, ডাম্বলডোর তার আহত হাতটা তুলে একটা বাড়ি দেখালেন।

    প্রফেসর আপনার হাতে কি হয়েছে?

    এখন তোমাকে এ বিষয়ে কিছু বলার সময় নেই, ডাম্বলডোর বললেন। অনেক রোমাঞ্চকর ঘটনা, পরে তোমায় সব বলবো।

    ডাম্বলডোর হ্যারির মুখের দিকে তাকিয়ে হাসলেন। হাসি দেখে হ্যারি বুঝতে পারলো ডাম্বলডোর প্রশ্ন করার জন্য অসম্ভষ্ট নন। সে প্রশ্ন করতে পারে তার জন্য অনুমতির অপেক্ষা করতে হবে না।

    স্যার আমি পেঁচার কাছ থেকে মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিকের একটা লিফলেট পেয়েছি, রক্ত চোষাদের হাত থেকে বাঁচার জন্য আমাদের কি করতে হবে তার নির্দেশ আছে।

    হ্যাঁ, আমিও এক কপি পেয়েছি, ডাম্বলডোর হাসিমাখা মুখে বললেন। তোমার কি মনে হয় ওটা কাজে লাগবে?

    খুব একটা মনে হয় না।

    না, আমারও তাই মনে হয়। যেমন তুমি কিন্তু আমাকে একবারও জিজ্ঞেস করনি, জ্যামের কোন ফ্লেভার আমার পছন্দের বা অন্য কিছু, আমি যে ডাম্বলডোর এবং অন্য কেউ নই পরীক্ষা করোনি।

    না করিনি, বুঝতে পারে না হ্যারি, ডাম্বলডোর তাকে কেন প্রশ্নটি করছেন, তিনি কি অন্য কোনো কিছু বোঝাবার জন্য বলেছেন।

    মনে রেখে র‍্যাসপবেরী, হ্যাঁ তবে, আমি যদি একজন রক্তচোষা হতাম তাহলে আমি অবশ্যই আমার জ্যাম প্রেফারেন্স সম্বন্ধে ভেবে বলতাম, চট করে বলতে পারতাম না।

    হ্যাঁ স্যার, ঠিক বলেছেন, হ্যারি বললো। ওই লিফলেটে ইনফেরির কথা লিখেছে। আসলে তারা কে? লিফলেটে পরিষ্কার করে কিছু বলেনি।

    ইনফেরি হচ্ছে মৃতদেহ, ডাম্বলডোর গম্ভীরভাবে বললেন।

    মৃতদেহকে জাদুমন্ত্রে পিশাচে পরিণত করে, কালো জাদুকরদের ইচ্ছানুসারে কাজ করানো হয়। ইনফেরিরা একদল সৈন্য। বহু বছর ওদের কথা শোনা যায়নি, অন্তত ভোর্টে প্রচুর শক্তি সঞ্চয় করে ফিরে আসার আগে, ইনফেরি বানানোর জন্য ভোল্ডেমর্ট হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছেন। ওহ এই তো এসে গেছি আমরা, এখানেই উনি থাকেন।

    ওরা দুজনে পাথরের তৈরি চতুর্দিকে বাগানে ঘেরা ছোট একটা ছিমছাম বাড়ির কাছে এলো। হ্যারির তখন বাড়ি দেখার মতো মনের অবস্থা নেই। মাথায়। ঘুরছে ভোল্ডেমর্টের মৃতদেহ নিয়ে বানানো পিশাচবাহিনী ইনফেরি। গেটের সামনে পৌঁছে ডাম্বলডোর স্থানুর মতো দাঁড়ালেন। হ্যারিও তার পেছনে দাঁড়ালো।

    বন্ধু… বন্ধু… আমার প্রিয়বন্ধু।

    ডাম্বলডোরের দৃষ্টি অনুসরণ করে হ্যারি বাড়ির সদর দরজার সামনের পথের দিকে তাকায়, তারপর বাড়ির দরজার দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো। সদর দরজাটা কোনো রকমে চৌকাঠের হিজ্ঞের সঙ্গে ঝুলে রয়েছে।

    পরমুহূর্তেই ডাম্বলডোরের দৃষ্টি অন্যদিকে। রাস্তার এধার ওধার দেখতে লাগলেন। নির্জন রাস্তা, বাড়িতে কেউ থাকে বা আছে বলে ওর মনে হলো না।

    ডাম্বলডোর পিছন ফিরে হতভম্ব হ্যারির দিকে তাকিয়ে খুব আস্তে আস্তে বললেন, পকেট থেকে জাদুদণ্ডটা বের করে আমার সাথে সাথে এসো।

    ডাম্বলডোর নিঃশব্দে গেটটা খুলে বাগানের রাস্তায় হাঁটতে লাগলেন, হ্যারিও পিছু পিছু চললো। হাতে তার জাদুদণ্ড, যে কোনো মুহূর্তে সেটা ব্যবহার করতে প্রস্তুত।

    লুমাস! জাদুদণ্ডের মুখ থেকে টর্চের মতো আলোর বিচ্ছুরণ ঘটলো।

    বাড়ির বন্ধ দরজা ধাক্কা দিয়ে খুললেন। দণ্ডের আলোটা একটা সরু করিডরের ফেললেন। করিডরের ভেতরে যাবার জন্য আর একটা দরজা, দরজাটা খোলা। ডাম্বলডোর জাদুদণ্ডটা হাতে নিয়ে বসার ঘরে ঢুকলেন। হ্যারিও ঢুকলো।

    ঘরের অবস্থা দেখে হ্যারির চক্ষু স্থির! চেয়ার, টেবিল, সবকিছু এলোমেলো ওলোট-পালট। ঘরের মেঝেতে একটা গ্র্যান্ডফাদার ঘড়ি পড়ে রয়েছে। ঘড়ির কাঁচটা ফেটে গেছে। পেন্ডুলামটা অদূরে পড়ে রয়েছে, অনেকটা যুদ্ধক্ষেত্রের যুদ্ধ শেষের মতো। সিলিং থেকে কাঁচের ঝাড়ুলণ্ঠনটা পড়ে ভেঙ্গে টুকরো টুকরো, ভাঙ্গা কাঁচের টুকরো ছত্রকার, তার ওপর সামান্য আলো পড়ে চকচক করছে। সোফার কুশনগুলো ঘেঁড়াখোড়া, পালকগুলো কাপড় খুঁড়ে বেরিয়ে আসছে। ঘরের পিয়ানোটার একই দুর্দশা, ভেঙ্গে পড়ে রয়েছে। তার কীগুলোও মেঝেতে ছাত্রাকার। কাবার্ড থেকে কাঁচের গ্লাস আর চিনেমাটির কাপ-প্লেট, থালা ভেঙ্গে চুর চুর। সেই দৃশ্য দেখে ভাম্বলভোর জাদুদণ্ডটা আরো একটু উঁচুতে তুললেন যাতে আলোতে দেয়ালের অবস্থা দেখতে পান। দেখলেন, দেয়ালে গাঢ় লাল আঠার মতো কিছু লেগে রয়েছে। হ্যারির ছোট নিঃশ্বাস ফেলার শব্দশুনে ডাম্বলডোর পেছনে তাকালেন।

    ব্যাপারটা খারাপ কিছু মনে হয়, ডাম্বলডোর গম্ভীর স্বরে বললেন। হ্যাঁ একটু আগে এই ঘরে সাংঘাতিক কিছু ঘটে গেছে মনে হচ্ছে। কথাটা বলে ডাম্বলডোর পা টিপে টিপে ঘরের মাঝখানে দাঁড়ালেন। ঘরের ভেতরের ভাঙচুর ভালো করে দেখতে লাগলেন। সবই তার পায়ের আশপাশে ছড়িয়ে রয়েছে। ঘরের মধ্যে সেই ভয়ংকর অবস্থা দেখতে দেখতে হ্যারির মনে হলো নিশ্চয়ই কেউ এইসব কাণ্ড করে ঘরের মধ্যে কোথায়ও লুকিয়ে রয়েছে, সোফার পেছনে নয়তো বা পিয়ানোর আড়ালে। কিন্তু না কোথায়ও কাউকে পাওয়া গেল না।

    আমার মনে হয় ভীষণ একটা আক্রমণ হয়েছিলো প্রফেসর? তাকে টেনে বাইরে নিয়ে গেছে? হ্যারি ডাম্বলডোরকে তার আশঙ্কার কথা বললো। সে চিন্তাও করতে পারে না একটা লোক কতটা আহত হলে এত রক্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকতে পারে।

    আমার কিন্তু তা মনে হয় না হ্যারি, ডাম্বলডোর রক্তমাখা দেয়ালের কাছে একটা আর্মচেয়ার তীক্ষ্ণভাবে দেখতে দেখতে বললেন।

    আপনি বলতে চাইছেন, ও এই ঘরের মধ্যে…?

    এখানে কোথায়ও রয়েছে? হ্যাঁ, তারপর এক সেকেন্ড সময় নষ্ট না করে জাদুদণ্ডটা দিয়ে আর্মচেয়ারের পুরু গদিতে খোঁচা দিলেন। দেবার সঙ্গে সঙ্গে কেউ বলে উঠলো আউচ!

    শুভ রাত্রি হোরেস, সোজা হয়ে দাঁড়িয়ে ডাম্বলডোর বললেন।

    হ্যারির চক্ষু ছানাবড়া! একটু আগে যেখানে মোটা একটা গদিওয়ালা আর্ম চেয়ার ছিলো সেখানে সেটা নেই। সেই জায়গায় একজন মোটাসোটা টাক মাথাওয়ালা বৃদ্ধ, পেটে হাত বুলাতে বুলাতে ডাম্বলডোরের দিকে সামান্য বিরক্ত হয়ে, ফোলা ফোলা চোখে তাকিয়ে রয়েছেন!

    নাও নাও, এবার তোমার জাদুদণ্ড সরাও দেখি, ওটার এখন কোনো দরকার নেই! বৃদ্ধ ঘোঁৎ ঘোঁৎ শব্দ করে দাঁড়াতে দাঁড়াতে বললেন। তোমার জাদুদণ্ডের খোচায় ভীষণ ব্যথা পেয়েছি।

    ডাম্বলডোরের জাদণ্ডের আলো–বৃদ্ধের মাথার চকচকে চাঁদিতে, বড় বড় দুই চোখের ওপর, সিন্ধু টেকের মতো শুভ্র গোঁপে, রক্তরঙা ভেলভেটের জ্যাকেটে, আর নীল-রক্তিমাভ বর্ণের পাজামার ওপর পড়ে ঝলসে উঠলো। উচ্চতায় তিনি এতো ছোটো যে তার মাথা ডাম্বলডোরের থুতনি পর্যন্ত পৌঁছে।

    তলপেটে হাত বুলাতে বুলাতে বললেন, কী ব্যাপার বলতো? হঠাৎ না-বলা, -কওয়া আগমনের হেতু?

    ডাম্বলডোর হেসে হেসে বললেন, মাইডিয়ার হোরেস সত্যি যদি রক্তচোষারা তোমার বাড়িতে আসতো, তাহলে ডাকমার্কেরা তোমার সারা বাড়িতে অধিষ্ঠান করতো।

    জাদুকর তার বিরাট কপালে হাত দিয়ে চাপড়ালেন।

    ডার্কমার্ক, বিড় বিড় করে বললেন। জানি ওই রকম একটা কিছু হবে হয়তো, কিন্তু সময় পায়নি। তুমি ঘরে ঢোকার আগে আমি সব জিনিসপত্র ঠিক ঠাক করছিলাম, কথাটা বলে হোরেস বড় করে একটা নিঃশ্বাস ফেললেন। তখন তার গোঁফগুলো পৎপৎ করে উঠলো।

    ডাম্বলডোর বললেন, আমি কি তোমাকে সাহায্য করবো সব গুছিয়ে রাখার জন্য?

    অনুগ্রহ করে তাই করো, হোরেস বললেন।

    লম্বা জাদুকর ও বেঁটে জাদুকর দুজনেই দুজনের পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে তাদের জাদুদণ্ড একইভাবে হাওয়াতে দোলালেন।

    আসবাবপত্র যথাস্থানে ভাসতে ভাসতে চলে গেলে, সোফার গদি, সব ডেকোরেশন আগের আকারে পরিণত হলো, পালকের কুশন নতুন হয়ে গেলো, বইপত্র ঠিক মতো বাঁধাই হয়ে তাদের তাকে আশ্রয় নিলো, স্টাডি টেবিলের লণ্ঠন জ্বলে উঠলো, ছবির ফ্রেমগুলো ভাঙ্গা অবস্থা থেকে জোড়া লেগে উড়তে উড়তে দেয়ালে শোভা পেতে লাগল, সবকিছুই আবার যেমন ছিল তেমন রূপ নিলো। পরিষ্কার ঝকঝকে তকতকে।

    ডাম্বলডোর দেয়ালের রক্তের দাগের দিকে আঙ্গুল দেখিয়ে বললেন, কিসের রক্তের দাগ হোরেস? তার গলার স্বর খুবই উচ্চ, গ্র্যান্ডফাদার ওয়াল ক্লকের টিক টিক শব্দ ছাপিয়ে গেল।

    দেয়ালে? ড্রাগন, জাদুকর হোরেস বললেন।

    পিয়ানোর টুং টাং শব্দ বন্ধ হয়ে গেল, ঝাড়ুলণ্ঠন ঘরের কড়িকাঠে ঠিক মতো ঝুলতে লাগলো।

    হ্যাঁ ড্রাগনের, জাদুকর ড্রাগন শব্দটা আবার জোর দিয়ে বললেন। আমার শেষ বোতল, আর তার দাম আকাশ ছোঁয়া এখন। তাহলেও এখনও সেটা ব্যবহার যোগ্য।

    কথাটা বলে হোরেস টেবিলের ওপর থেকে ছোট একটা ক্রিস্টাল বোতল নিয়ে আলোর দিকে তুলে ধরে গভীরভাবে তার মধ্যে রাখা ঘন তরল পদার্থটা দেখতে লাগলেন।

    হু একটু ময়লা ময়লা লাগছে।

    বোতলটা কাপ-বোর্ডে রেখে হোরেস দীর্ঘশ্বাস ফেললেন। ঠিক সেই সময়ে তার দৃষ্টি পড়লো হ্যারির দিকে।

    ওহহ, হোরেস বললেন। বড় বড় গোল গোল চোখের দৃষ্টি হ্যারির কপালের কাটা দাগের ওপর নিবদ্ধ হলো। ওহো হো!

    ডাম্বলডোর এগিয়ে এসে হ্যারিকে পরিচয় করিয়ে বললেন, ও হ্যারিপটার। আর হ্যারি ও হচ্ছে আমার বহু পুরনো বন্ধু ও সহকর্মী হোরেস স্লাগহর্ন।

    স্লাগহর্ন ডাম্বলডোরের দিকে তীক্ষ্ণভাবে তাকালেন। মনে হয়, তুমি আমাকে হোগার্টসে যোগ দেওয়ার অনুরোধ করবে, ঠিক না? খুব ভালো। তাই যদি ভেবে থাকো তাহলে আমার পরিষ্কার জবাব হলো, না। আলবাস।

    হোরেস হ্যারির দিকে আবার তাকিয়ে ওর পাশ দিয়ে এগিয়ে গেলেন। হ্যারির স্লাগহর্নকে দেখে মনে হলো খুব সম্ভব হোগার্টসে ফিরে যাবার মত লোভনীয় বিষয়কে প্রতিহত করার জন্য মনের মধ্যে দ্বন্দ্বে আছেন।

    ডাম্বলডোর বললেন, ঠিক আছে, তাহলেও আমরা অন্তত একটু ড্রিঙ্ক করতে পারি, পুরনো দিনের রোমাঞ্চকর স্মৃতির উদ্দেশ্যে।

    স্লাগহর্ন ইতস্তত করলেন। ঠিক আছে, ঠিক আছে, তবে একটা ড্রিঙ্ক, হোরেস কাঠ কাঠ ভাবে বললেন। ডাম্বলডোর হ্যারিকে একটা চেয়ারে বসার ইঙ্গিত করলেন, তবে অবশ্যই স্লাগহর্ন যেমনভাবে চেয়ারের ভেতরে লুকিয়েছিলো তেমনভাবে নয়!

    হ্যারি চেয়ারে বসলো। যে কোনো কারণেই হোক, মনে হলো ডাম্বলডোর হ্যারির উপস্থিতি দৃশ্যমান করতে চাইছেন। স্লাগহর্ন সেই সময়ে ওদের দৃষ্টির বাইরে ড্রিঙ্ক বানাতে ব্যস্ত ছিলেন; কিন্তু তাহলেও তার দৃষ্টি ছিল হ্যারির ওপর।

    হুম, হোরেস বললেন, হ্যারির দিক থেকে দৃষ্টি সরিয়ে। একদৃষ্টে তাকিয়ে থাকার ফলে হয়তো চোখ ব্যথা করছে।

    নাও হে, ডাম্বলডোরের দিকে একটা ড্রিঙ্ক এগিয়ে দিলেন। ট্রে থেকে একটা গ্লাস হ্যারিকেও দিলেন। তারপর সোফার কুশনের ওপর ধপাস করে বসলেন হোরেস। চোখে মুখে তার মেজাজ বিগড়ানোর ছাপ। হ্যারি দেখলো হোরেস এতো বেশি বেটে যে সোফাতে বসার পর তার পা দুটি মেঝে স্পর্শ করতে পারছে না। যাক গে, এখন বলো তুমি কেমন আছো, ডাম্বলডোর জিজ্ঞেস করলেন।

    স্লাগহর্ন তৎক্ষণাৎ জবাব দিলেন, খুব একটা ভালো নয়। বুকে ব্যথা, দুর্বল, গেঁটে বাতের যন্ত্রণা। আগের মতো আর তেমন করে হাঁটতে-চলতে পারি না। বৃদ্ধাবস্থায় যা হয়, সব সময় ক্লান্তির ভাব, এইসব।

    তুমি তো খুবই কম সময়েই আমাদের ওয়েলকামের ব্যবস্থা করেছ। তুমি তো তিন মিনিটের বেশি সময় পাওনি সব ব্যবস্থা করার।

    স্লাগহর্ন বিরক্তি ও গর্ব মিশ্রিত সুরে বললেন, না মাত্র দুমিনিট সময় পেয়েছি। প্রথমে আমি জানতে পারিনি কারণ আগন্তুক চার্মটি অফ করা ছিল। আমি গোসল করছিলাম। এখনও…। তাছাড়া এটা তো সত্যি যে আমি এখন বৃদ্ধ, কাজকর্ম করতে পারি না, ভালোভাবে চলাফেরা করতে পারি না। এক ক্লান্ত বৃদ্ধ আমি, এখন আমার বিশ্রাম নেবার ও নিরুপোদ্রব জীবন যাপনের অধিকার আছে। শান্তিরও…।

    স্লাগহর্নের মুখ ও চেহারা দেখে হ্যারির মনে হলো উনি ভালোই আছেন। যে ঘরটায় ওরা বসে আছে সেখানে জিনিসপত্র ঠাসা থাকলেও, আরামদায়ক সন্দেহ নেই। কোন কিছুর অভাব আছে কেউ বলতে পারবে না। কি নেই? নরম নরম গদিওয়ালা চেয়ার পায়ের তলায় পা-দানি পর্যন্ত, ড্রিঙ্কস আর বই, বাক্স ভর্তি চকোলেট, পাখির পালকের সোফার কুশন। এই বাড়িতে কে থাকে হ্যারি যদি না জানতো, তাহলে ওর ধারণা হতো, ঘরের মালিক নিশ্চয়ই একজন বৃদ্ধা মহিলা, ধনী এবং অকারণে হৈ চৈ করেন।

    ডাম্বলডোর বললেন, হোরেস তুমি কিন্তু আমার মতো বৃদ্ধ নও।

    তোমারও তো অবসর নেয়া দরকার, স্লাগহর্ন চাছাছোলাভাবে বললেন। সে সময় হ্যারির চোখ পড়ে ডাম্বলডোরের আঘাত লাগা হাতে, সেখানে বৈচি ফলের মতো গোল গোল লাল দাগ। হ্যারি এবার জিজ্ঞেস করলো ডাম্বলডোরকে, আমার মনে হয় এটা কোনো পার্শক্রিয়া! ঠিক তাই?

    ডাম্বলডোর তার আলখেল্লার হাতা গুটিয়ে পুড়ে কালো হয়ে যাওয়া আঙ্গুলগুলো দেখতে দেখতে বললেন, ঠিক ধরেছো।

    পুড়ে যাওয়া কালো আঙ্গুলগুলো দেখে হ্যারি চমকে উঠলো, গলার পেছনে চিন চিন করে উঠলো। আমি আগের মতো দ্রুত কাজ করতে পারি না, কিন্তু অন্যদিকে…। কথাটা বলে ডাম্বলডোর হাতটা প্রসারিত করলেন, দেখাতে চাইলেন শারীরিক ঘাটতির বিপরীতে তার কিছু আছে।

    সেই সময় হ্যারি ডাম্বলডোরের পোড়া আঙ্গুলে একটা আংটি দেখতে পেলো। এর আগে কখনো ডাম্বলডোরকে আঙ্গুলে আংটি পরতে দেখেনি। আংটিটা সাইজে বড়, ঢলঢল করছে। আংটিটা মনে হলো সোনার। মাঝখানের পাথরটা ব্ল্যাক স্টোনের সন্দেহ নেই। স্লাগহর্ন ব্ল্যাকস্টোন খচিত আংটির দিকে তাকিয়ে রইলেন কয়েক সেকেন্ড মাত্র। হ্যারি লক্ষ্য করলো আংটিটা দেখতে দেখতে স্লাগহর্নের কপাল কুঁচকে গেল।

    বহিরাগতদের আক্রমণের হাত থেকে তোমার বাঁচার যে সকল নিরাপত্তা ব্যবস্থা হোরেস–সেগুলো ডেথইটারস না আমার হাত থেকে? ডাম্বলডোর জিজ্ঞেস করলেন।

    আমার মতো এক দরিদ্র নড়বড়ে বুড়োকে আক্রমণ করে ওদের লাভ? স্লাগহর্ন বললেন।

    আমার তো মনে হয় নিশ্চয়ই ওরা তোমার জ্ঞান–জবরদস্তি, টর্চার আর হত্যা ও অন্যান্য বিষয়ে ওদের কাজে লাগাতে চাইবে। ডাম্বলডোর বললেন।

    তুমি কী মনে কর ওরা ইতোমধ্যে সেই চেষ্টা করেনি।

    স্লাগহর্ন ডাম্বলডোরের চোখের দিকে তাকালেন। বিড়বিড় করে বললেন, আমি ওদের সেই সুযোগ দিইনি। আমি তো বছর খানেক বাইরে ছিলাম। কোনো জায়গায় এক সপ্তাহের বেশিদিন থাকিনি। এক মাগলদের বাড়ি থেকে অন্য এক মাগলদের বাড়ি। এই বাড়ির মালিক ছুটিতে বেড়াতে ক্যানারি আইল্যান্ডে গিয়েছেন। এই সুন্দর জায়গা ছেড়ে যেতে আমার খুব কষ্ট লাগবে। এটা খুবই সহজ, কিভাবে হয় একবার জানলেই হলো, এরা সাধারণ ফ্রিজিং চার্মস ব্যবহার করে বার্গলার এ্যালার্মের জন্য, যেখানে করা উচিত স্নিকস্কোপ চার্ম। তুমি পিয়ানোর ভেতরে ঢুকে গেলে তোমার পাশের লোকেরাও টের পাবে না।

    ভাল উদ্ভাবক, ডাম্বলডোর বললেন। তাহলেও তোমার মতো এতো দক্ষ মানুষ এই রকমভাবে পালিয়ে থাকবে ভাবা যায় না, তুমি হোগার্টসে আবার ফিরে আসো।

    তুমি মনে করছে তোমার ওই বিশ্রী ক্ষতিকর কীট পতঙ্গের স্কুলে আমি আবার ফিরে গেলে তুমি ভালো থাকবে, নিঃশ্বাস ফেলে বাঁচবে আলবাস? আমি হয়তো

    লুকিয়ে রয়েছি, আমব্রিজ স্কুল ছেড়ে যাবার পর কিন্তু অনেক কথা আমার কানে এসেছে! তুমি আজকাল টিচারদের সঙ্গে ওই রকম ব্যবহার করো।

    প্রফেসর আমব্রিজ আমাদের Centaur heredর সঙ্গে ঝামেলা বাঁধিয়েছিলেন, ডাম্বলডোর বললেন। আমার কিন্তু দৃঢ় ধারণা হোরেস তুমি বনে জঙ্গলে বিচরণ কর ব্যাপারটা ভালো করেই জানো, তুমি নিশ্চয়ই ক্রুদ্ধ প্রাণীদের নোংরা হাফব্রড় বলবে না।

    সত্যি ওই রকম ভাষা ব্যবহার করেছিলেন আমব্রিজ? স্লাগহর্ন বললেন। দারুণ মূর্খ মহিলা, ওই রকম মহিলা আমি মোটেই পছন্দ করি না।

    হ্যারি মুখ টিপে হেসে ডাম্বলডোর আর স্লাগহর্নের মুখের দিকে তাকালো।

    দুঃখিত স্যার, হ্যারি থতোমতো খেয়ে বললো। আমিও স্যার প্রফেসর আমব্রিজকে পছন্দ করতাম না। ডাম্বলডোর আচমকা উঠে দাঁড়ালেন।

    ও, তুমি তাহলে চললে? স্লাগহর্ন বললেন তৎক্ষণাৎ, চেহারাতে নিরাশ ভাব নেই।

    ভাবছিলাম তোমার বাথরুমটা ব্যবহার করতে পারি কি না। ডাম্বলডোর বললেন।

    অবশ্যই, স্লাগহর্ন বললেন একটু নিরাশ হয়ে। হলের বাঁ-ধারে।

    ডাম্বলডোর ঘর থেকে বেরিয়ে গেলেন। দরজাটা বন্ধ করার সাথে সাথে ঘর নিস্তব্ধ হয়ে গেল। স্লাগহর্ন দুএক মুহূর্ত পরে দাঁড়ালেন, কিন্তু মুখ দেখে মনে হয় কি করবেন ঠিক যেন বুঝে উঠতে পারছেন না। তখন তিনি হ্যারির মুখের দিকে লুকিয়ে তাকালেন। তারপর আগুনের কাছে গিয়ে ওর পেছনে ফিরলেন অনেকটা দূরত্ব বজায় রেখে।

    ওই অবস্থায় হঠাৎ বললেন, ভেবো না যেন, ডাম্বলডোর তোমাকে কেন আমার কাছে নিয়ে এসেছেন, আমি জানি না।

    হ্যারি, স্লাগহর্নের দিকে তাকালো। স্লাগহর্নের অনুজ্জ্বল দুই চোখের দৃষ্টি পড়লো হ্যারির কপালের আঁকাবাকা কাটা দাগের ওপর। তবে শুধু কাটা দাগের ওপর নিবদ্ধ রইলো না, ওর মুখটাও খুঁটিয়ে দেখলেন।

    তুমি অনেকটা তোমার বাবার মতো দেখতে। হ্যাঁ, সকলে তাই বলে। হ্যারি বললো। অবশ্য তোমার চোখ দুটো নয়।

    মায়ের মতো চোখ পেয়েছি। হ্যারি ওই কথাগুলো বহু লোকের মুখে অনেকবার শুনেছে। কথাটা এক ঘেয়ে লাগে।

    হুম, হ্যাঁ, ভালো। শিক্ষকদের কাছে তুমি খুব প্রিয় নও নিশ্চয়ই, তবে তোমার মা আমার অন্যতম প্রিয় ছাত্রী ছিলো। স্লাগহর্ন বলে চললেন হ্যারির জিজ্ঞাসু দৃষ্টির দিকে তাকিয়ে। লিলি ইভানস। আমার দেখা ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে একটি উজ্জ্বল ছাত্রী। প্রাণবন্ত, সদা প্রফুলু। আমি ওকে বলতাম, আমার হাউজে তোমার আসা উচিত ছিল। তোমার মা বড় সুন্দর করে আমার কথার জবাব দিতো।

    আপনার হাউজের নাম? হ্যারি জিজ্ঞেস করে।

    আমি স্লিদারিন হাউজের প্রধান ছিলাম স্লাগহর্ন বললেন।

    ও, হ্যাঁ রাগ করো না শোন, গ্রিফিন্ডররা স্লিদারিনদের কথা শুনে যা করে, হ্যারির সেইরকম মুখভঙ্গি দেখে তাকে একটা মোটা আঙ্গুলের খোঁচা দিয়ে বললেন, তুমি তোমার মায়ের মতো গ্রিফিন্ডর, তাই না? হ্যাঁ সাধারণত এক পরিবারের সকলকে একই হাউজে দেয়া হয়। তবে সাধারণত, সব সময়ে নয়। তুমি কী সিরিয়াস ব্ল্যাকের নাম শুনেছো? নিশ্চয়ই শুনে থাকবে। খবরের কাগজে বছর দুই ধরে ওর সম্বন্ধে খুব লেখালিখি হচ্ছিলো। এই কয়েক সপ্তাহ হলো মারা গেছেন।

    কথাটা যেন একটা অদৃশ্য হাতে রূপান্তরিত হয়ে হ্যারির পেটের ভেতরটা অসম্ভব জোরে চেপে ধরলো।

    যাকগে, ঠিক আছে। সে তোমার বাবার বিশেষ বন্ধু ছিলো। আমার হাউজে পুরো ব্ল্যাক পরিবার ছিলো বলতে পারো। বেদনার বিষয় যে সিরিয়াস চলে গেল গ্রিফিরে। ও খুব গুণী ছেলে ছিলো। তবে ওর ভাই রেগুলিয়াস আমার হাউজে ছিল। আমি ওদের খুবই পছন্দ করতাম।

    স্লাগহর্ন এত জোরে জোরে কথা বলছিলেন, তিনি যেন অন্যদের ডাককে ছাপিয়ে তিনি নিলামের ডাক দিচ্ছেন। স্মৃতির অতল সাগরে ডুব দিয়েছেন। মাঝে মাঝে ফিরে তাকালেন তার বিপরীতে দেয়ালের সেই রক্তের দাগের দিকে তবে ফায়ারপ্লেস থেকে বেশি দূরে নয়। কাছাকাছি গরম তাপ তার পেছনের দিকে লাগে।

    তোমার মা মাগল বংশজাত ছিলেন। প্রথমে ওকে দেখে আমার বিশ্বাস হয়নি, সত্যই যেন তার জন্ম পিওর ব্লাড থেকে, সত্যি ওই রকম ভালো মেয়ে আমার চোখে কম পড়েছে।

    আমার এক বন্ধু মাগল-বর্ন, হ্যারি বললো। আমাদের ক্লাসে ও সবচাইতে শ্রেষ্ঠ ছাত্রী।

    সত্যি মাঝে মাঝে এইসব অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা ঘটে, তাই না? স্লাগহর্ন বললেন।

    না, হ্যারি ঠান্ডা গলায় বললো।

    স্লাগহর্ন হ্যারির দিকে আশ্চর্য হয়ে চাইলেন। তুমি কিন্তু মনে করো না আমি সংস্কারগ্রস্ত মানুষ। স্লাগহর্ন বললেন। মোটেই, মোটেই না। এই মাত্র বললাম না তোমার মা আমার যতো প্রিয় ছাত্র ছিলো তাদের মধ্যে সেরা ছিলো! হ্যাঁ আরো একটি ছাত্রী ছিলো ডার্ক ক্রেসওয়েল, যতোদূর মনে পড়ে তোমার মায়ের পরবর্তী বছরে। ও এখন গবলিন লিয়াজো অফিসের হেড, সেও অবশ্য মাগলবর্ন! মনে পড়েছে আর একটি মাগল বংশজাত উজ্জ্বল ছাত্রের কথা, ও আমাকে গ্রিংগটসের ভেতরের খবরা-খবর দেয়!

    স্লাগহর্ন তারপর ঘরে পায়চারি করতে করতে আপন মনে হাসতে হাসতে ড্রেসারের ওপর রাখা চকচকে ফ্রেমে গ্রুপ ফটো দেখিয়ে বললেন, এরা সবাই এক সময় আমার ছাত্র ছিল। হ্যাঁ একে নিশ্চয়ই চেন? বার্নাবাস কাফে এখন ডেইলি প্রফেটের সম্পাদক। সব সময় আমার কাছ থেকে খবরা-খবর নিতো। আরেকজন হলো হনিডিউকের অ্যামব্রোসিয়স ফিউম, আমার জন্মদিনে অনেক উপহার পাঠায়, কারণ আমি ওকে সিসেরন হারকিসের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলাম, সে তাকে। প্রথম চাকরি দিয়েছিল! সবার পেছনে মেয়েটি হচ্ছে গয়েনগ জোনস, ও হোলিহেড হার্পসের ক্যাপ্টেন। ও এখনও আমাকে মনে রেখেছে। যখনই ফ্রি টিকিট চাই আমাকে পাঠিয়ে দেয়।

    পুরনো দিনের ছাত্রছাত্রীদের ফটো দেখিয়ে স্লাগহর্ন মুগ্ধ।

    এইসব ছাত্রছাত্রীরা এখনও আপনাকে মনে রেখেছে, জিনিসপত্র পাঠানোর জন্যে ঠিকানা জানে? হ্যারি প্রশ্ন করলো। তবে একটা কথা ওর মনে হলো, তাহলে রক্তচোষারা ওর ঠিকানা জানে না কেন। অথচ ঝুড়িভর্তি মিষ্টি; কিডিচের টিকিট পাঠাবার জন্য ঠিকানা পায়, লোকেরা নানা পরামর্শ নিতে আসে স্লাগহর্নের কাছে।

    এখন আর তেমন ওদের সঙ্গে যোগাযোগ নেই, হ্যারির দিকে তাকিয়ে বললেন। বছর খানেক আমার কারও সঙ্গে কোনো যোগাযোগ নেই। স্লাগহর্নের মুখ দেখে হ্যারির মনে হলো, বছরখানেক কারও সঙ্গে যোগাযোগ না থাকার জন্য খুবই ব্যথিত।

    স্লাগহর্ন সামান্য সময় নীরব থাকার পর কাঁধে ঝাঁকুনি দিলেন। তাহলেও আমি কিন্তু সকলকে মনে রেখেছি, সব সময়ে সকলের খবর জানার জন্য উদগ্রীব হয়ে থাকি। ডাম্বলডোর অনেকদিন বাদে এলো, ওর সঙ্গে কথাবার্তা বলে খুব ভালো লাগল, কিন্তু ওর কথায় আবার হোগার্টসে গিয়ে অধ্যাপনা করলে লোকেরা ভাববে আমি অর্ডার অফ ফিনিক্সের সঙ্গে জড়িত। যদিও আমি, যারা অর্ডারের সঙ্গে জড়িত, কাজ করে, তাঁদের জন্য গর্ব অনুভব করি। ওরা সাহসী, প্রশংসা পাবার যোগ্য, সবচেয়ে বড় কথা আমি ব্যক্তিগতভাবে হত্যাটত্যা পছন্দ করি না।

    হোগার্টসে অধ্যাপনা করলেই যে আপনাকে অর্ডারে যোগ দিতে হবে, তার কোনো কারণ নেই, হ্যারি বললো। গলার স্বরও সংযত করতে পারলো না। সিরিয়াসের জীবনযাত্রা আজকাবান থেকে পালিয়ে আসার পর কতো বেদনাদায়ক ছিলো। একটা গুহার মধ্যে লুকিয়ে থাকতে হয়েছিলো, তার সঙ্গে ছিলো ইঁদুর আর পোকা মাকড়। সেদিক থেকে স্লাগহর্ন তত ভালই আছেন। তবে প্রফেসর কুইরেলের কথা আলাদা। তিনি তো ভোল্টেমর্টের দলে যোগ দিয়েছিলেন।

    হ্যারি একটা বিষয়ে নিশ্চিত, স্লাগহর্ন এমন একজন জাদুকর যিনি ভোল্টেমর্টের নাম উচ্চারিত হলে সহ্য করতে পারেন না। ওর এই ধারণা বা নিশ্চয়তার জন্য

    স্লাগহর্ন ওকে নিরাশ করলেন না। ভোল্ডেমর্টের নাম কানে যেতেই কেঁপে কেঁপে উঠলেন, প্রতিবাদ করলেন। হ্যারি শুনেও শুনলো না।

    আমার দৃঢ় বিশ্বাস ডাম্বলডোরের জমানায় স্কুলের শিক্ষকরা, কর্মীরা, ছাত্রছাত্রীরা খুবই সুরক্ষিত আছে। ভোল্ডেমর্ট যদি কাউকে সত্যি ভয় পায় তিনি হচ্ছেন আমাদের হেডমাস্টার ডাম্বলডোর তাই না? হ্যারি বলতে থাকলো।

    স্লাগহর্ন ঊর্ধনেত্রে তাকিয়ে রইলেন। দেখে মনে হয় হ্যারির কথাগুলো ভাবছেন।

    হ্যাঁ, এ কথা সত্যি, মানে হি-হু যার নাম করা যাবে না কখনই ডাম্বলডোরের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহস করেননি, স্লাগহর্ন বিড় বিড় করে বললেন। আর আমার মনে হয় অনেকেই ভাবতে পারে কেন আমি রক্তচোষাদের দলে যোগ দিইনি, হি-হু যার নাম করা যাবে না, কখনই কোনোভাবেই আমাকে তার বন্ধু হিসেবে গণ্য করে না। সেইজন্য, আমি আলবাসের কাছাকাছি থাকলে নিরাপদ থাকতে পারি। আমি কখনই লুকোতে চাই না অ্যামিলিয়া বোনসের হত্যা আমাকে ভাবিয়ে তোলেনি, যদিও ও মন্ত্রণালয়ের সব রকমের কনট্যাক্টস আর প্রটেকশন। স্লাগহর্ন…, কথাট শেষ করার আগেই ডাম্বলডোর ঘরে ঢুকলেন। স্লাগহর্ন এমনভাবে লাফ দিয়ে উঠলেন যে তিনি যেন জানতেনই না ডাম্বলডোর তার বাড়িতেই রয়েছেন।

    আহা, আলবাস, স্লাগহর্ন বললেন। তুমি অনেকটা সময় বাথরুমে ছিলে, পেট খারাপ হয়েছে?

    না, আমি বসে বসে মাগলদের ম্যাগাজিন পড়ছিলাম, ডাম্বলডোর বললেন। আমি কাপড়ের নকশী খোলা দেখতে ভালোবাসি। হ্যারি, আমার মনে হয় আমরা হোরেসের আতিথেয়তার ওপর বেশ জুলুম করে চলেছি, আর নয়, এখন তো আমাদের যাওয়া উচিত।

    হ্যারি যাবার জন্য লাফিয়ে উঠলো। স্লাগহর্ন একটু অবাক হয়ে গেলেন। তোমরা তাহলে চলে যাচ্ছো?

    হা তাতো যাবই, অযথা সময় নষ্ট হলো।

    সময় নষ্ট হলো? স্লাগহর্নের কণ্ঠে অসন্তোষ। হাতের আঙ্গুল মটকাতে মটকাতে ডাম্বলডোর দেখলেন আলখেল্লার গলার বোতাম আঁটছেন। হ্যারি ওর জ্যাকেটের জিপ টানছে।

    হোরেস আমি খুবই দুঃখিত। কাজটা তুমি গ্রহণ করলে না, ডাম্বলডোর বিদায় নেবার উদ্দেশ্যে একটা হাত তুলে বললেন। তুমি আবার হোগার্টসে ফিরে গেলে আমরা সবাই অত্যন্ত খুশি হবো। ওখানে তোমার নিরাপত্তার সকল ব্যবস্থাই থাকবে। যেদিন, যখন খুশি হোগার্টসে তুমি যাবে। আমরা তোমাকে স্বাগত জানাবার প্রতীক্ষায় রইলাম।

    হ্যাঁ… হ্যাঁ…তুমি বলছো যখন, আমি যাবো।

    ডাম্বলডোর স্লাগহর্নকে দেখার জন্য পিছন ফিরলেন। দেখলেন স্লাগহর্ন যেন নিঃশ্বাস বন্ধ করে ওদের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন।

    তাহলে তুমি আর অবসর জীবন যাপন করছো না? আসবে তো? হ্যাঁ, অবশ্যই, হ্যাঁ। আমি নিশ্চয়ই পাগল, তা না হলে যাবো কেনো? চমৎকার, ডাম্বলডোর আনন্দে ফেটে পড়লেন। তাহলে হোরেস এই কথা রইলো, পয়লা সেপ্টেম্বর তুমি হোগার্টসে আসছে।

    স্লাগহর্ন বললেন, হ্যাঁ হ্যাঁ, নিশ্চয়ই। হ্যারি ডাম্বলডোরের সঙ্গে বাগানের পথে পা রাখতেই শুনতে পেলো স্লাগহর্নের গলা, শোনো ডাম্বলডোর আগের চাইতে কিন্তু মাইনে বেশি দিতে হবে।

    ডাম্বলডোর মুখ টিপে হাসলেন। বাগানের ফটকটা খুলে গেল। ওরা দুজনে রাস্তায় দাঁড়ালেন।

    খুউব ভালো কাজ করেছে হ্যারি, ডাম্বলডোর বললেন। হ্যারি আশ্চর্য হয়ে বললো, আমি তো কিছুই করিনি স্যার।

    হ্যাঁ হ্যাঁ করেছে। তুমি তো হোরেসকে বুঝিয়েছে হোগার্টসে ফিরে গেলে তার কি সুবিধে হবে। যাকগে ওকে কেমন লাগলো?

    এই…।

    হ্যারি ঠিক জানে না হোরেসকে ওর ভালো লেগেছে কি লাগেনি। কিন্তু মাগলরা ভাল ডাইনি হতে পারে স্লাগহর্নের এ কথাটা খুব ভালো লেগেছে, কারণ ওর মা লিলিও মাগলকন্যা ছিলেন।

    ডাম্বলডোর বললেন, হোরেস আরাম-আয়াশে থাকতে ভালোবাসে। নামী দামী লোকদের সঙ্গও ভালোবাসে, বিশেষ করে শক্তিশালী আর কৃতী যারা তাদের। সঙ্গী। ওভাবে ওরই সংশ্রবে থাকার জন্য ওরা বড় হতে পেরেছে। নিজে অবশ্য কোন দিন কর্তৃত্ব চায়নি, সব সময় পেছনের সারিতে থাকতে চেয়েছে, অবশ্যই অনেকটা বেশি জায়গা নিয়ে। হোগার্টসে থাকার সময় ওর কয়েকজন বাছাই করা লোক ছিল। তারা কেউ অতি বুদ্ধিমান, উচ্চাকাঙ্ক্ষী, কেউ বা চমক দেবার মতো অথবা তাদের কারো কারো ছিলো উচ্চ-মেধা। ওর আরো একটা অদ্ভুত ক্ষমতা, ও বুঝতে পারে কারা বিভিন্ন ফিল্ডে খুবই ভালো করতে পারে। হোগার্টসে থাকাকালীন হোরেস সেই সমস্ত সেরা ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে একটা দল গড়ে এবং তাদের মধ্যমণি সে হয়েছিলো। তার কাজ ছিলো পরস্পরের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেয়া, বিশেষ কাজের জন্য যোগাযোগ করানো। তার জন্য তিনি পেতেন অনেক কিছু–যেমন চকোলেট, এর প্রিয় ক্রিস্টালাইজড আনারসের বাক্স বা অন্য কিছু।

    ডাম্বলডোরের কথাগুলো শুনতে শুনতে হঠাৎ হ্যারির সামনে ভেসে উঠলো একটা মাকড়সার প্রতিকৃতি, দৈত্যকার মাকড়সা। মাকড়সাটা তার চার পাশে জাল সৃষ্টি করে চলেছে, মশা-মাছি-পোকা মাকড়দের ধরার জন্য একটা শক্ত সুতো এখানে ওখানে ঝুলে রয়েছে।

    তারই মাঝে ডাম্বলডোর বলে চললেন, এসব কিন্তু তোমাকে হোরেসের বিরুদ্ধে যাবার জন্য বা ভুল বোঝার জন্য বলছি না। এখন থেকে কিন্তু আমাদের ওকে হোরেস না বলে বলতে হবে প্রফেসর স্লাগহর্ন। তবে তোমায় সজাগ থাকতে হবে, হোরেস তোমাকে হাতের মুঠোতে আনতে নিঃসন্দেহে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাবে, হ্যারি। তুমি তার সংগ্রহে যেন অন্যতম জুয়েল হতে পারো। এখন তোমায় সকলেই বলে সেই ছেলেটা যে লড়াই করে বেঁচে আছে, অথবা বলে দ্য চোজেন ওয়ান।

    ডাম্বলডোরের ওই কথাগুলো শুনে হ্যারির শরীরে দারুণ এক শিহরণ হলো, যার সঙ্গে চতুর্দিকের কুয়াশা মিশ্রিত অতি ঠান্ডা আবহাওয়ার সঙ্গে কোনো সম্পর্ক নেই। ওর মনে পড়ে গেলো কয়েক সপ্তাহ আগে শোনা একটা কথা, যার মানে ওর কাছে ভয়ঙ্কর ও একটি বিশেষ মর্মার্থ। নাইদার ক্যান লীভ হোয়াইল দ্যা আদার সারভাইবস।

    চার্চ পর্যন্ত গিয়ে ডাম্বলডোর থামলেন। হ্যারি হোরেসের বাড়ি যাবার সময় চাচটা দেখেছিলো।

    হ্যারি, তুমি শক্ত করে আমার হাত ধরলেও চলবে।

    ভাল না লাগলেও হ্যারি অ্যাপারেসনের জন্য প্রস্তুত হলো। যখন নিঃশ্বাস বন্ধ হয়ে যাবার অবস্থা থেকে আবার হ্যারি প্রাণভরে শ্বাস নিতে পারলো, তখন দেখলো

    ও একটা গ্রামের সরু রাস্তার ওপর ডাম্বলডোরের পাশে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অদূরে দেখলো পৃথিবীর মধ্যে ওর দ্বিতীয় প্রিয় বাড়ি, দ্য ব্যারো ঝাপসা ঝাপসা কুয়াশার অন্তরালে দাঁড়িয়ে রয়েছে। নিদারুণ কষ্টকর এক অবস্থার মধ্য থেকে সদ্য ফিরে আসার পর, ওর শরীর মনের সকল অবসাদ, সকল ব্যথা দূর হয়ে গেল দ্য ব্যারো কে দেখতে পেয়ে আনন্দে ওর হৃদয় নেচে উঠলো, ওই বাড়িতে ওর প্রিয় শুধু রন নয়, সমস্ত উইসলি পরিবারের সদস্যরা। আবার সে মিসেস উইসলির হাতের সেরা রান্না খাবে।

    তুমি যদি কিছু মনে না করো হ্যারি, ডাম্বলডোর দ্য ব্যারোর দরজার সামনে দাঁড়িয়ে বললেন। ফিরে যাবার আগে আমি তোমায় দুএকটা কথা বলতে চাই। এখানে, সবার সামনে নয়, আড়ালে।

    উইসলিরা আউট হাউজে যেখানে ঝাই করে রাখেন সেখানে একটা বড় পাথর দেখিয়ে ডাম্বলডোর বললেন, এখানে বসা যাক।

    হ্যারি সামান্য ভ্যাবাচাকা খেয়ে ভাঙ্গা ফটকটা খুলে ডাম্বলডোরের সঙ্গে ঢুকলো। জায়গাটা খুবই ছোট, একটা কাবার্ড ধরে এমনই ছোট পরিসর। ডাম্বলডোর হ্যারির দিকে তাকিয়ে হেসে হাতের জাদুদণ্ডটার মুখটা টর্চের মতো জ্বালালেন। সেই আলোতে হ্যারির মুখের দিকে তাকালেন।

    আশা করি হ্যারি, আমার কথায় তুমি কিছু মনে করবে না, ম্যাজিক মন্ত্রণালয়ের ভয়ঙ্কর ঘটনায় তোমার সাহসি ভূমিকা দেখে আমি শুধুমাত্র খুশি নই, গর্বিতও। আমি আরো বলতে চাই সিরিয়াসও বেঁচে থাকলে তোমার জন্য গর্বিত হতো।

    হ্যারি অতি কষ্টে ঢোক গিললো; ওর মুখের সমস্ত কথা যেন ওকে রিক্ত করে চলে গেছে। ও ভাবতেই পারছে না সিরিয়াস সম্বন্ধে কোনো কথা বলতে পারবে। আঙ্কল ভার্নন ওর মনে নিদারুণ এক ব্যথার সঞ্চার করে বলেছিলেন ওর গডফাদার মরে গেছে। এমনকি স্লাগহর্নেরও সিরিয়াস সম্বন্ধে অযাচিত মন্তব্য ওকে ব্যথা দিয়েছে।

    সত্যই তার মৃত্যুটা অতি করুণ, ডাম্বলডোর নরম সুরে বললেন। তোমাদের সম্পর্ক খুব একটা দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। তোমাদের দুজনকার আনন্দময় জীবনের হঠাৎ ছেদ পড়ে গেলো।

    হ্যারি তাকিয়ে রইলো ডাম্বলডোরের হ্যাটের ওপর মাকড়সাটার দিকে। মাকড়সাটা ধীরে ধীরে ডাম্বলডোরের টুপি বেয়ে ওপরে উঠছিল। ও ভাবলো ডাম্বলডোর কি বিশ্বাস করবেন ওই মর্মান্তিক দুঃখে কতো রাত ও ঘুমোতে পারেনি, সবসময় আশা করছে ডাম্বলডোরের একটি চিঠি! ভার্ননের পরিবারে কতদিন অভুক্ত থেকেছে। কুয়াশাভরা অতি শীতল জানালার শার্শিতে গাল চেপে বাইরে তাকিয়ে থাকতে থাকতে ঘুমিয়ে পড়েছে! মাঝে মাঝে ডিমেন্টরদের কথাও মনে হয়েছে শূন্যতার মাঝে।

    ভাবতেই পারছি না স্যার সিরিয়াস আর আমাকে আমার প্রিয় হ্যারি বলে কোনোদিন চিঠি লিখবেন না, হ্যারির বাকরুদ্ধ মুখে কথা এসে গেলো।

    হঠাৎ ওর চোখ দুটো জ্বালা করে উঠলো, ও চোখ কুঁচকালো। মনে হলো কথাগুলো বোকার মতো বললো, তাহলেও মনে হলো হোগার্টস স্কুলের বাইরে থেকে একজন তাকে মা-বাবার স্নেহ দিয়েছেন, ভালো বেসেছেন। ওর জীবনের পরম সত্য ছিলেন সিরিয়াস, তার গডফাদার। আর সেই গড়ফাদারের মেহনাখানো চিঠি পেঁচা বহন করে নিয়ে আসবে না, ওকে সান্ত্বনা দেবে না দুঃখের সময়ে।

    সিরিয়াস এমন একজন মানুষ ছিলেন যে ইতিপূর্বে তোমার জীবনে এমন মানুষ আসেনি, ডাম্বলডোর সস্নেহে বললেন। তাই তাকে হারানো সত্যই অতি মর্মান্তিক বেদনাদায়ক।

    হ্যারির গলার স্বর আর রুদ্ধ হয়ে এলো না, আমি যখন ডার্সলেদের সঙ্গে থেকেছি, আমি বুঝতে পেরেছিলাম, ওদের থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখা ঠিক হবে না অথবা ভেঙ্গে পড়লেও চলবে না। সিরিয়াসও সেটা চাননি, চেয়েছিলেন কী? যাহোক স্যার, আমাদের জীবন খুবই ঘোট, মাদাম বোনসকে দেখুন, এম্মেলাইন ভানসকে দেখুন, আমি হয়তো তাদের মত খুন হতে পারতাম? হ্যারি জাদুদণ্ডের আলোতে জ্বল জ্বল ডাম্বলডোরের দুই নীল উজ্জ্বল চোখের দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে বললো, আমি যতোটা পারি শুধু রক্ত চোষাদের খতম নয়, ভোল্ডেমর্টকেও খতম করার চেষ্টা চালিয়ে যাবো।

    চমৎকার! মা-বাবা আর সিরিয়াসের মতো কথা বলছো, ডাম্বলডোর হ্যারির পিঠ চাপড়ে বললেন। তুমি সাহসীর মতো কথা বলার জন্য আমি সত্যই গর্বিত। যাকগে এই প্রসঙ্গে একটা প্রশ্ন করছি, গত দুসপ্তাহ তুমি কি ডেইলি প্রফেট পড়ছো?

    হা স্যার, ওর নিশ্বাসের গতি দ্রুত হলো।

    তাহলে অবশ্যই লক্ষ্য করেছো বন্যা ইত্যাদি নিয়ে লেখা-লেখি হয়নি; কিন্তু হল অফ প্রফেসিতে তোমার দুঃসাহসিক কাজের কথা ডেইলি প্রফেট লেখা হয়েছে।

    হা স্যার, হ্যারি বললো। এখন সবাই জেনে গেছে।

    না, সেটা ঠিক নয়, ডাম্বলডোর বাধা দিয়ে বললেন। এই পৃথিবীতে মাত্র দুজন রয়েছেন যারা তোমার ও লর্ড ভোল্টেমর্টের প্রফেসির ব্যাপারে এ খবর পুরো জানে। এবং সেই দুজন এই দুর্গন্ধে ভরা, মাকড়সা ভর্তি ঝাড়ুর ঘরে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অনেকে অনেক ধারণা করে নিয়েছে এবং সেটা সত্য যে ভোল্ডেমর্ট প্রফেসি চুরি করার জন্য তার রক্ত চোষাদের সেখানে পাঠিয়েছিলেন এবং সেই প্রফেসি তোমার ব্যাপারেই।

    আমি মনে করছি, এবং সেই মনে করা একটও অসত্য হবে না যদি আমি ধরে নিই সেই প্রফেসিতে কি বলা হয়েছে তা তুমি জানো এবং কাউকে সে কথা বলনি।

    অবশ্যই কাউকে বলিনি, হ্যারি বললো।

    তাহলে তুমি খুবই বিবেচক ও বুদ্ধিমানের মতো কাজ করেছে। ডাম্বলডোর বললেন। এখন তাহলে তুমি তোমার বন্ধুদের সাথে মি. রোনাল্ড উইসলি, মিস হারমিওন গ্রেঞ্জারের সঙ্গে গল্প কর ও হ্যাঁ।

    হ্যারি হকচকিয়ে তাকালো ডাম্বলডোরের মুখের দিকে।

    আমার মনে হয় ওদেরও জানা উচিত, তুমি এ বিশেষ বিষয়ে ওদের একবারও বলনি।

    আমি বলতে চাইনি।

    ওরা দুঃশ্চিন্তা করতে পারে বা ভয় পাবে জানলে? ডাম্বলডোর তার অর্ধচন্দ্রাকার চশমার কাঁচের ভেতর দিয়ে হ্যারিকে দেখলেন। অথবা তুমি নিজে ভয় পেয়েছে ও চিন্তিত বলেই বলনি? হ্যারি তুমি শুধু একা কাজ করলে হবে না, বন্ধুদের সঙ্গে নিতে হবে। তুমি ঠিকই বলেছিলে, সিরিয়াস কখনো তোমাকে সকলের চোখের অন্তরালে একলা চলতে দিতে চাননি।

    হ্যারি নীরব রইলো। মনে হয় ডাম্বলডোরও কোনো জবাব প্রত্যাশা করছেন হ্যারির কাছ থেকে। ডাম্বলডোর বলে চললেন, আরেকটি কথা, ওই বিষয়েই আমার ইচ্ছে, এই বছর তুমি আমার কাছ থেকে আলাদাভাবে কিছু লেসন নাও।

    প্রাইভেট, আলাদাভাবে? হ্যারি ডাম্বলডোরের প্রস্তাব শুনে আশ্চর্য হয়ে গেল। নিজের কানকে নিজে যেন বিশ্বাস করতে পারছে না।

    হ্যাঁ, আমি ভাবছি তোমার শিক্ষার ব্যাপারে আমাকে একটু যত্ন নিতে হবে। আমাকে আলাদা করে কি শেখাবেন স্যার? এই, এইসব একটু আলাদা, এধার-সেধার। ডাম্বলডোর লঘুভাবে বললেন।

    হ্যারি আশা করেছিল ডাম্বলডোর কি শেখাবেন বলবেন ওকে, কিন্তু কিছুই বললেন না।

    হ্যারি বললো, তাহলে প্রফেসর স্নেইপের কাছ থেকে অকলামেন্সি শেখার কি হবে?

    প্রফেসর স্নেইপের কাছ থেকে অকলামেন্সি? না ওটা আর তোমাকে শিখতে হবে না।

    হ্যারি স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো, খুব ভালো, দারুণ কষ্টদায়ক ব্যাপার। কথাটা বলতে বলতে হ্যারি থেমে গেল। যা বলতে চেয়েছিল তা বললো না।

    ডাম্বলডোর হেসে বললেন, চরম ব্যর্থতা! তাই না?

    হ্যারিও হেসে ফেললো। তার মানে প্রফেসর স্নেইপের সঙ্গে আপাতত আর কোনো সম্পর্ক থাকছে না। আমি যদি আউল (আউটস্ট্যান্ডিং) না পাই, অর্ডিনারি উইজারডিং লেভেলস পাই, তাহলে আমাকে পোশান ক্লাস করতে দেবেন না। আমি জানি আমি পরীক্ষাতে আউটস্ট্যান্ডিং পাইনি।

    কখনো ডিম দেখে পেঁচার সংখ্যা গুনবে না, ডিম ফেটে বাচ্চা হোক তারপর। ডাম্বলডোর গম্ভীরভাবে বললেন। মনে হয় আজই রেজাল্ট পেয়ে যাবে। আরো দুটো ব্যাপার হ্যারি, আমি চলে যাবার আগে মন দিয়ে শোনো।

    প্রথমত এখন থেকে মানে আজই, তুমি সকল সময়ই তোমার কাছে অদৃশ্য হবার ক্লোকটা রাখবে। এমনকি হোগার্টসের ভেতরে থাকলেও। বুঝতে পারছো, দরকার হতে পারে।

    হ্যারি ঘাড় নাড়লো।

    দ্বিতীয়ত ও শেষ : ব্যারো-কে মিনিস্ট্রি অফ ম্যাজিক সবচেয়ে বেশি সুরক্ষিত করে রেখেছে, যততদিন তুমি ব্যারোতে থাকবে। এই সুরক্ষার ব্যাপারে হয়তো মলি আর আর্থার একটু বিরক্ত হতে পারে। ধরো, ওদের ঠিকানায় পাঠানো সব চিঠিপত্র মিনিস্ট্রি সার্চ করবে। এ ব্যাপারে ওরা নিশ্চয়ই কোনো অসুবিধে মনে করবে না, কারণ ওরাও তোমার সুরক্ষা চায়। যাহোক তুমি ওখানে থাকাকালীন-চলাফেরায় কাজেকর্মে কোনো ঝুঁকি নেবে না। যদি নাও তাহলে ওদের প্রতি অবিচার করা হবে।

    হ্যারি সরাসরি জবাব দিলো, বুঝতে পেরেছি স্যার।তাহলে খুব ভালো, ঝাড়ু রাখার শেডের দরজাটা ঠেলে খুলে বাগানে পা দিতে দিতে ডাম্বলডোর বললেন। ওদের কিচেনে আলো জ্বলছে দেখছি, যাকগে সময় নষ্ট করলে মলি আবার, তুমি রোগা হয়ে গেছে সেটা বলতে কম সময় পাবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25 26 27 28 29 30
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleহ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং
    Next Article হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    Related Articles

    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার এন্ড দি ফিলসফারস স্টোন (১) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য চেম্বার অব সিক্রেটস (২) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য প্রিজনার অব আজকাবান (৩) – জে. কে. রাওলিং

    August 18, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য গবলেট অব ফায়ার (৪) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য অর্ডার অব দ্য ফনিক্স (৫) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    জে. কে. রাওলিং

    হ্যারি পটার অ্যান্ড দ্য ডেথলি হ্যালোস (৭) – জে. কে. রাওলিং

    August 16, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026
    Our Picks

    ডিটেকটিভ তারিণীচরণ – কৌশিক মজুমদার

    January 31, 2026

    ভুতুড়ে ট্রেন – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026

    ব্রাহ্মণ ভূত – সমুদ্র পাল

    January 31, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }