Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প257 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    তারানাথ তপাদারের গল্প – গৌর বৈরাগী

    তারানাথ তপাদারের মন ভালো নেই। তিনমাস হল ভলেনটারি রিটায়ারমেন্ট নিয়েছেন। সকাল-বিকেল তখন হাঁটতে বেরচ্ছেন। যার সঙ্গেই দেখা হয় সে বলে, কেমন আছেন কাকাবাবু।

    মনটা আমার ভালো নেই মহীম!

    কেন ভাল নেই।

    সেটাই তো বুঝতে পারছি না। খাচ্ছি দাচ্ছি বেড়াচ্ছি, সঙ্গে সঙ্গে মনখারাপটাও বয়ে নিয়ে যাচ্ছি। কী করা যায় বলতো মহীম!

    মহীম শখের ডাক্তার। বই পড়ে ওষুধ দেয়। সে বলল,—কাকাবাবু কার্বোভেজ থার্টি খাবার পর একমাত্রা করে কদিন খান।

    পর পর চারদিন কার্বোভেজ খেলেন তারানাথ। নো উপকার।

    দিবাকর শুনে বলল, আসলে আপনার দরকার যোগব্যায়াম। যোগব্যায়ামে মনখারাপ-টনখারাপ সব সেরে যায়।

    ‘নিরুপমা যোগ ব্যায়াম কেন্দ্রে’ কয়েকদিন গেলেন তারানাথ। নিয়ম করে শ্বাসগ্রহণ শ্বাসত্যাগ।

    পিসিমা বলল,—হ্যাঁরে তারা কিছু উপগার মালুম হচ্ছে?

    না পিসি। ছল ছল চোখে তারানাথ বললেন। সেরকম কিছু বুঝছি না। আজকাল আবার ওটা যেন ক্রমশ ভেতরে চেপে বসছে।

    সে আবার কী?

    হ্যাঁগো, আগে লোককে মনখারাপের কথা বললে মনটা একটু হালকা হত, এখন বলার মতো লোককে আর রাস্তাঘাটে পাচ্ছি না।

    কথাটা ঠিকই। মাসখানেকের ভেতর গোবিন্দপুরের সবাই মোটামুটি জেনে ফেলল তারানাথ তপাদারের মনখারাপ চলছে। কেউ বাজার যাচ্ছে হয়ত তার সঙ্গেই মনখারাপের সাতকাহন খুলে বসলেন। তার বাজারের বারোটা বেজে গেল। বিনোদের আজ দেরি হয়ে গেছে। জোরে জোরে প্যাডেল করে সাইকেল নিয়ে স্টেশন যাচ্ছে। আটটা দশের ট্রেনটা না-ধরলেই নয়। বিনোদ, বিনোদ বলে ডাক দিলেন তারানাথ। শোনো শোনো একটা খুব খারাপ খবর আছে ভায়া।

    এমন কথা শুনে, আচ্ছা আচ্ছা ঠিক আছে। বলে চলে যাওয়া যায় না।

    বিনোদকে থামতে হল। কী হয়েছে তারানাথদা বলে গলা নরম করে কাছে আসতে হল।

    তারানাথ বললেন,—মনখারাপ, বড়ো মনখারাপ বিনোদ। আমার আর কিছু ভালো লাগছে না। খাচ্ছি, খেতে হয় বলে। কথা বলছি, বলতে হয় বলে। বেড়াচ্ছি, বেড়াতে হয় বলে। আসলে মনটা আমার একটুও ভালো নেই।

    কথা বলা যখন শেষ হল তখন ঘড়িতে আটটা তিরিশ। বিনোদের ট্রেন এসে চলে গেছে।

    এসব কথা জানাজানি হতে দেরি হয় না। মানুষের কত দরকারি দরকারি কাজ আছে। মনখারাপের কথা শুনতে গিয়ে কাজ পণ্ড হোক কেই বা চায়। আবার লোককে তার মুখের ওপর এখন থামুন মশাই, বলে চলে যাওয়াও যায় না। তাই সবাই এবার একটু ঘুর পথে বাজার যেতে লাগল। গলি, তারপর অন্য একটা গলি। এভাবে ট্রেন ধরতে লাগল কেউ কেউ, তারানাথ তপাদারের বাড়ির সামনের রাস্তাটা আপাতত ফাঁকা। এসব দেখে মনখারাপটা যেন আরও জাঁকিয়ে বসল ভেতরে। হাঁটতে হাঁটতে লোক খুঁজতে বেরলেন তারানাথ। বাজারের দিকে পা বাড়ালেন। আশ্চর্য আজ বাজারটাও কেমন যেন ফাঁকা ফাঁকা। একটাও চেনা লোক চোখে পড়ল না। কী করা যায়, কী করা যায় ভাবতে ভাবতে দেখলেন কুঞ্জকে।

    কুঞ্জ রিক্সা চালায়। একটা পুরোনো সুরোনো ফুলপ্যান্ট আর খালি গা কুঞ্জ বসে আছে রিক্সার সিটে।

    ভাড়া যাবে নাকি?

    কোথায় যাবেন কাকা?

    ছুটিপুর।

    ও পিসিমার ছোটো ননদের বাড়ি। বেশ যাব।

    রিক্সায় উঠে বসলেন তারানাথ। ছুটিপুর যেতে দশ মিনিট। আসতেও তাই। তার মানে আধঘন্টা কথা বলার একটা লোক পেলেন। তারানাথ বললেন,—তুমি পিসিমার ননদের বাড়ি চেনো নাকি? তা আর চিনব না। কুঞ্জ হাসল। আমি তো লোকাল।

    তাহলে তুমি আমার মনখারাপের কথাও শুনেছ নিশ্চয়ই।

    না শুনিনি তো।

    সে-কথা শোনাতেই তো তোমার রিক্সায় উঠলুম। ছুটিপুর আসলে ছুতো বুঝলে কুঞ্জ। যাব আর আসব।

    কিন্তু মনখারাপ কেন আপনার মেশোমশাই?

    সেটা তো আমিও বুঝতে পারছি না। মনখারাপের গলায় কথা বললেন তারানাথ! এযে কী কষ্ট সে তুমি বুঝবে না। খাচ্ছি, খেতে হয় বলে। কথা বলছি, বলতে হয় বলে। বেড়াচ্ছি বেড়াতে হয় বলে। কিন্তু…

    কিন্তু কী?

    মন ভালো থাকছে না। পোড়া মনে কী যে হয়েছে কুঞ্জ। এইতো দেখো না কালকেই একটা স্বপ্ন দেখলুম।

    কী স্বপ্ন মেশোমশাই?

    রিক্সাটা বেশ জোরেই যাচ্ছে তখন। ছুটিপুরের দিকে গাছপালা বেশি, পুকুরও আছে বেশ কটা। হাওয়া হুটোপুটি করছে গাছপাতায়। পুকুরের জলে ঝাপাই ঝুরছে ক-টা বাচ্চা ছেলে। জলে সাদা হাঁস চরছে। গাছের ডালে ডালে পাখি ডাকছে। নীল আকাশ দিয়ে সাদা মেঘ উড়ে যাচ্ছে। এর ভেতর দিয়েই রিক্সা চলেছে। আর তারানাথ বলে যাচ্ছেন তার মনখারাপের কথা।

    তারপর বুঝলে কুঞ্জ একটা স্বপ্ন দেখলুম। বিচ্ছিরি একটা স্বপ্ন। পুরোটা মন খারাপে ভর্তি।

    ঘন্টা খানেক বাদে বাড়িতে ফিরলেন তারানাথ।

    পিসি বলল,—এখন কেমন মনে হচ্ছে তারা?

    তারানাথ বললেন,—আজ শরীরটা আর মনটা অন্যদিনের চেয়ে হালকা লাগছে।

    টানা ঘন্টাখানেক কথা বলে গেছেন তারানাথ। প্রথম প্রথম কুঞ্জ প্রশ্ন করেছে। তারপর তার প্রশ্ন শেষ। শুধু কথা বলে গেছেন তারানাথ। তারপর বুঝলে কুঞ্জ…।

    আহা, মনখারাপের কথাটা যদি পেট খোলসা করে রোজ এরকম বলা যেত।

    বেশ, তাহলে তো একটা হিল্লে হল তোর। রোজ দশ টাকা রিক্সা ভাড়ায় যাবে। সে আর কী হবে। কালও ওই কুঞ্জর রিক্সায় চাপবি।

    2

    পরের দিন আর কুঞ্জকে দেখলেন না তারানাথ। শুধু কুঞ্জ বলে নয়, রিক্সা দাঁড়াবার জায়গায় একজন রিক্সাওলাও নেই। রাস্তাতেও জনমনিষ্যি নেই। মনখারাপ যেন আরও বেড়ে গেল এতে। পিসি বলল,—কী আবার হল তোর?

    আজ রিক্সাওলারা কেউই নেই।

    বসো বাছা দেখছি। পিসি বলল। কুঞ্জ নেইতো কী হয়েছে। লোকের কি অভাব হয়েছে নাকি আমাদের গোবিন্দপুরে। পিসি গেট খুলে রাস্তায় নামল। এই যাব আর আসব। দশ মিনিট বাদেই পিসি এল। সঙ্গে ননীগোপাল। লোকটা রামকুঁড়ে। নিজের হাতটা নড়াতেও পরিশ্রম হয়। তাকে তারানাথের সামনে বসিয়ে দিয়ে বললেন, তোকে কিছু করতে হবে না ননী। তুই শুধু চুপটি করে বসে বসে শুনবি। নে তারা এবার শুরু কর। শোনা হয়ে গেলে বলিস। পাঁচটা ট্যাকা মজুরি হিসেবে দেব।

    তারানাথ শুরু করলেন। আমার খুব মনখারাপ জানো ননী। সবসময় মনখারাপ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছি। সে যে কী কষ্ট তোমাকে কী বলব! খাচ্ছি, খিদে পাচ্ছে বলে। কথা বলছি, সে বলতে হয় বলে। বেড়াচ্ছি, বেড়াতে হয় বলে। কিন্তু মনখারাপ কিছুতেই যাচ্ছে না।

    কথার ভেতরেই পিসি গরম গরম ফুলকো লুচি নিয়ে এল। সঙ্গে চা। ননী খাচ্ছে আর মন দিয়ে মনখারাপ শুনছে।

    তারানাথ বলে যাচ্ছেন। প্রায় মাসখানেক চোখে আমার ঘুম নেই। দু-চোখ বুজলেই চোখের পাতায় নেমে আসছে ওই এক জিনিস। বলতে বলতে বেশ হালকা হয়ে যাচ্ছেন তারানাথ। ননীগোপাল লোকটা বেশ ভালো। অন্য লোক এটা সেটা প্রশ্ন করে। রামকুঁড়ে ননীর কথা বলতেও পরিশ্রম। তার ফলে তারানাথ মনখারাপের কথা টানা দু-ঘন্টা ধরে বলে গেলেন। মনটা সত্যি সত্যি আজ হালকা হয়ে গেল। সেই ভার বোধটা আর নেই। পিসি বলল, দেখলি তারা, আমাদের এখানে কথা শোনার লোকের অভাব নেই। তাহলে ননীই বহাল থাক। সকালে দু-ঘন্টা। বিকেলে দু-ঘন্টা।

    পরের দিন সকালটা যখন দুপুরের দিকে চলে যাচ্ছে পিসি বলল তাহলে তো একবার দেখতে হয়।

    পশ্চিমপাড়ায় জামরুল গাছের নীচে ননীগোপালের বাড়ি। পিসি দেখল, ননী তার ঘরের সামনে বসে চায়ে রুটি ভিজিয়ে ভিজিয়ে খাচ্ছে।

    এত বেলায় চা রুটি খাচ্ছিস তুই?

    ননীর বউ মুখ ঝামটা দিল। এইতো ঘুম ভাঙল বাবুর। আমার হয়েছে জ্বালা।

    থাক থাক, ওকে বকো না বউমা। ননী আমাদের বড়ো কাজের ছেলে। অ ননী চ’ বাবা। আর এক কাপ চা আমার ওখানেই খাবি। সঙ্গে গরম গরম কচুরিও ভেজে দোব।

    নহী হাত দুটো জোড়া করে উঠে দাঁড়াল। মাপ করো পিসি, ও তোমার গরম কচুরি আর পাঁচ টাকার কম্ম নয়।

    বেশ বেশ তাহলে কত হলে তোর পোষাবে বল?

    দরকার নেই আমার টাকার। ননীর সোজা সাপ্টা গলা। ঝাড়া দু-ঘন্টা ধরে মনখারাপের কথা শোনা কি চাড্ডিখানি কথা। অত পরিশ্রম আমার সইবে না পিসি।

    শেষে শৈল ডাক্তারের কথা মনে পড়ল পিসির। পাড়ার অ্যালোপ্যাথ ডাক্তার। ভালো নাম শৈলজানন্দ বিশ্বাস, এম বি বি এস (ক্যাল) বয়স হয়েছে। দশ টাকা ভিজিটেও রুগি পত্তর হয় না তেমন।

    পিসি বলল,—ও শৈল আমার তারাকে একবার দেখে দাও।

    তারানাথকে আপাদমস্তক দেখে শৈল ডাক্তার বললেন,—কী অসুবিধে?

    আজ্ঞে অন্য কিছু নয় ডাক্তারবাবু। শুধু মনখারাপ।

    ডাক্তার ইঙ্গিতে শুতে বললেন তারানাথকে। ডাক্তার কল দিয়ে বুক দেখছেন, পিঠ দেখছেন, হাতে প্রেসারের ব্যান্ডেজ বেঁধে প্রেসার দেখছেন। আর ওদিকে তারানাথ অসুবিধের কথা বলেই যাচ্ছেন। সারাদিন জুড়ে বড়ো মনখারাপ ডাক্তারবাবু। এ যে কী কষ্ট সে কথা কী বলব আপনাকে। খাচ্ছি, খেতে হয় বলে। কথা বলছি, সে বলতে হয় বলে…

    আর ঘুমোচ্ছি, ঘুমোতে হয় বলে। ঘুমের কথাটা বললেন ডাক্তারবাবু। কথা বলে হাসতে যাচ্ছিলেন উনি তখনই তারানাথ বলে উঠলেন, ওইটা বাদ ডাক্তারবাবু।

    কোনটা?

    ওই ঘুমটা। ওটাই তো নেই আমার। সারারাত দু-চোখের পাতা এক করতে পারি না।

    তাই নাকি? কদ্দিন ঘুম নেই?

    ওই ভলেনটারি রিটায়ারমেন্টের পর থেকেই তো ঘুম নেই প্রায়।

    আগে হত?

    হ্যাঁ হত।

    কী রকম হত?

    তা বলতে নেই ভালোই হত ডাক্তারবাবু। বাড়ি থেকে অফিস যেতে প্রথম দু-ঘন্টার ট্রেনে জার্নি। গাড়িতে উঠে একবার সিটে বসলেই টানা দু-ঘন্টার ঘুম। ট্রেনের পর আধ ঘন্টার বাস জার্নি। বাসে হুড়োহুড়ি, গুঁতোগুঁতি, গায়ে গা। কিন্তু কী বলব, দু-হাতে বাসের রড ধরে কারো গায়ে হেলান দিয়ে দু-চোখ বোজাতে যা দেরি। আধ ঘন্টার ক্লিন ঘুম। আবার ফেরার সময়ও ঠিক অমন।

    তার মানে সারাদিনে আড়াই আড়াই পাঁচ ঘন্টার টানা ঘুম। হ্যাঁ তা বলতে পারেন ডাক্তারবাবু। ঘুমের কথায় তারানাথ তপাদার অনেক দিন বাদে হাসলেন। সেই ঘুমটা এখন পালিয়েছে। নরম বিছানা, টান টান করে পাতা চাদর, ফুলো ফুলো বালিশ। তবু চোখে ঘুম নেই। ঘুমের বদলে পোড়া চোখে মনখারাপগুলো এসে বসছে। আমাকে বাঁচান ডাক্তারবাবু।

    এরকম এরকম সময়ে সব ডাক্তারবাবুরাই গম্ভীর হয়ে যান। শৈল ডাক্তারও গম্ভীর হয়ে কথার উত্তর না-দিয়ে খসখস করে প্রেসক্রিপশন লিখে বাড়িয়ে দিলেন পিসির দিকে।

    পিসি বলল,—শৈল ছেলেটা আমার ভালো হবে তো?

    আলবৎ হবে।

    বাড়িতে এসে প্রেসক্রিপশন খুলে পিসি অবাক। ও তারা এ যে বাংলায় লেখা।

    কয় দেখি। তারানাথ দেখলেন। সত্যিই বাংলায় লেখা প্রেসক্রিপসন। শৈল ডাক্তার পুরোনো দিনের লোক। তাই সাধুভাষা ব্যবহার করেছেন। গোটা গোটা করে লেখা ‘দুই বেলা খাইবার পর একটা সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়িতে চার থেকে পাঁচ ঘন্টার ভ্রমণ।’

    পিসি বলল,—এ আবার কী ডাক্তারির ছিরি।

    তারানাথ হাসলেন। পিসি রোগটা তোমার শৈল ডাক্তার বোধহয় ঠিকই ধরেছে। এটা গাড়ি ঘুম রোগ। ঘুমোবার জন্যে একটা গাড়ি মাস্ট।

    কিন্তু গাড়ির তো অনেক দাম তারা।

    সেই জন্যই তো সেকেন্ড হ্যান্ড। তারানাথ হাসলেন। সেকেন্ডই ভালো। চেপে বসলেই আপসে ঘুম চলে আসবে।

    কিন্তু হোক সেকেন হ্যান্ড। পিসি বড়ো ভাবনার কথা বলল। একটা আস্ত গাড়ি কেনা বলে কথা। সে কি অতই সহজ নাকি।

    তারানাথ বলল,—গোপীনাথ মান্নার গ্যারেজ আছে। ও অনেক খোঁজখবর রাখে। আগে ওর কাছেই দেখি।

    গোপীনাথ সব শুনে বলল,—আপনি পুরোনো গাড়ি কিনবেন তাই তো?

    তারানাথ বললেন,—হ্যাঁ।

    আজকাল পুরোনো গাড়ি খুব কম দামে বিকোচ্ছে। গোপীনাথ হাসল। আপনি বিশে পাবেন, ত্রিশে পাবেন!

    বিশ মানে, বিশ হাজার!

    হ্যাঁ আমার কাছেই তো রয়েছে একটা। গোপীনাথ গোপন গলায় ফিসফিস করে বলল, অন্য কেউ হলে একটা আধলাও কমাতুম না। কিন্তু আপনি আমাদের ঘরের লোক। আপনি নিলে পনেরোয় দিয়ে দোব।

    তাই!

    হ্যাঁ তাই। ওই ইঞ্জিনটা শুধু একটু কমজোরি। কাজের চাইতে শব্দ হয় বেশি। আর ইঞ্জিন স্টার্ট হবার পর গাড়ি চালু হতে তিন মিনিট সময় নেয়। তো আপনার তো আর ঘড়ি ধরার ডিউটি নয়।

    হ্যাঁ তা তো বটেই। তারানাথ বললেন। ইঞ্জিনের শব্দটা বরং উপকারই করবে আমার। চারদিকে হই হট্টোগোল, চিৎকার, চেঁচামেচিতেই ঘুমটা আমার জমে ভালো।

    3

    আজ বাড়ির সামনে গাড়ি এসে দাঁড়াতে পিসি আহ্লাদে আটখানা। পিসি বলল, আমায় কিন্তু কথা দিয়েছিস তারা।

    হ্যাঁ হ্যাঁ আমার মনে আছে পিসি। তোমাকে নিয়ে একদিন কালীঘাট আর একদিন দক্ষিণেশ্বর যাব।

    আর মায়ের বাড়ি জয়রামবাটী।

    হ্যাঁ পিসি ওটাও। সব তীর্থই তোমাকে দর্শন করাব। নিজেদের গাড়ি ভাবনা কী। তবে আমার রোগটা তো সারাই আগে। কতকাল যে ঠিকমতো ঘুম হয়নি।

    সেই ঘুম আজ নির্ঘাৎ আসবে। গাড়ি এসেছে। ড্রাইভারও রেডি। তিনজন এসেছিল তার মধ্যে ওই দাশুরথি দাসকে পছন্দ হল তার। লোকটার তারই মতো বয়স। ধীরেসুস্থে গাড়ি চালাবে।

    কুড়ি বছর গাড়ি চালানোর অভিজ্ঞতা। তারওপর লোকটা ঘুমোতে ভালোবাসে।

    শুনে তারানাথ বললেন, বাঃ বাঃ। সারাদিনে কত ঘন্টা ঘুম হয়।

    বারো-চোদ্দ ঘন্টা তো বটেই।

    চমৎকার। সুস্থ শরীরে ওই ঘুমটাই স্বাভাবিক। হাসলেন তারানাথ। তা দাশুরথি ঘুমটা কখন আসে।

    ওর কোনো ঠিক নেই স্যার, যখন-তখন। দাশুরথি বলল,—কখনও রাতে আসে, কখনও দিনে। কখনও আবার গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুম।

    সে কী! চমকে উঠলেন তারানাথ। গাড়ি চালাতে চালাতে ঘুম।

    ও আপনি ভাববেন না। কুড়ি বছরের অভিজ্ঞতা কি এমনি।

    সে অবশ্য তোমার ব্যাপার। তারানাথ বললেন, তবে এটা কিন্তু সেকেন্ড হ্যান্ড গাড়ি। একটু সাবধানে ট্যাকল করতে হবে দাশুরথি।

    সে আপনি ভাববেন না স্যার। দাশুরথি যেন ঘুম জড়ানো গলায় কথা বলেছ। এই কুড়ি বছরে কম গাড়ি তো পার করলুম না।

    এটা কিন্তু সবার থেকে আলাদা। গোপীনাথ পই পই করে বলে দিয়েছে। স্টার্ট দেবার পর গাড়িটা চালু হতে তিন মিনিট সময় নেয়।

    নিক না স্যার। স্টিয়ারিং তো আমার হাতে। যাবে কোথায় বাছাধন। কথা শেষ করে দাশুরথি একটা আদরের চাঁটি মারল গাড়ির বডিতে।

    আজ সাফসুতরো করা হয়েছে। পিসি পুজোর ব্যবস্থা করেছে। চালকলা আর সন্দেশ দিয়ে দুটো নৈবিদ্যি। হরু ঠাকুর ঘন্টা নাড়িয়ে গাড়ি দেবতার মন্ত্র পাঠ করল। তেল সিঁদুর যখন পরানো হচ্ছে গাড়িকে তখন শাঁখ বেজে উঠল। পিসি বলল,—দুগ্গা দুগ্গা। দাশুরথি প্রস্তুত হয়েইছিল। চাবি ঘুরিয়ে চালু করল ইঞ্জিন।

    ঝকর ঝকর, যাচ্ছি যাব, ঝকর ঝকর, যাচ্ছি যাব শব্দটা ইঞ্জিন থেকে রেরিয়ে আসতে শুনলেন তারানাথ। শব্দ আছে ছন্দও আছে। ধন্দ আর তাল মিলিয়ে গাড়িটা কাঁপছেও ভারি চমৎকার। কান বেশ ঝালাফালা হচ্ছে। আঃ বড়ো ভালো লাগছে তারানাথের। আর আশ্চর্য সেই হারিয়ে যাওয়া ঘুমটা যেন ফিরে আসছে। তারানাথ আর ভাবতে পারলেন না। এখনও গাড়ি চালুই হয়নি। এখনও দু-মিনিট আঠারো সেকেন্ড মতো বাকি। কিন্তু তাতে কী। পেছনের গদিতে মাথাটা রাখতেই গাঢ় ঘুম নেমে এল চোখজুড়ে।

    একটা ধাক্কায় ঘুমটা ভেঙে গেল তারানাথের। গাড়িটা এইমাত্র থামল। হাত ঘড়িতে তারানাথ দেখলেন এক ঘন্টা দশ মিনিট সময় এরমধ্যে পেরিয়ে গেছে। তার মানে হিসেব মতো মগরায় বড়ো পিসির বাড়ি চলে আসার কথা। জানলা দিয়ে বাইরে তাকালেন তারানাথ। ওই তো শিবতলায় সেই গুমটিটা। তার পাশে একটা বড়ো গাছ। গাছের পাশেই তো সাদা রঙের বাড়ি। দাশুরথিকে টো টো ঠিকানা বলা ছিল। লোকটা রাস্তাটাও ভালো চেনে বোঝা যাচ্ছে। একেবারে বাড়ির সামনের রাস্তায় গাড়ি এনে দাঁড় করিয়েছে। শুধু একটা খটকা। বড়ো পিসির পুরনো বাড়িটা রং করে একেবারে নতুন হল কী করে।

    তারানাথ সন্দেশের বাক্স হাতে নিয়ে নামতে যাবেন হঠাৎ দেখলেন বড়োপিসি গেট খুলে বাইরে এসে দাঁড়িয়েছে। ওফ কতদিন বাদে দেখা হচ্ছে। উত্তেজনা চেপে রাখতে পারলেন না তারানাথ। ডাকলেন, বড়োপিসি, বড়োপিসি। আমি তারা।

    তারানাথ ভেবেছিলেন বড়োপিসি তার গলা শুনে হন্তদন্ত হয়ে ছুটে আসবে। কিন্তু সেসব কিছুই হল না। কেমন যেন অবাক হয়ে তাকিয়ে আছে মানুষটা। তাহলে কি চিনতে পারল না।

    তারানাথ আবার গলা তুললেন। ও বড়োপিসি, আমি মানকুণ্ডুর তারানাথ। গাড়ি কিনেছি। গাড়ি নিয়ে প্রথমেই তোমার বাড়ি এলুম।

    ওদিকে কোনো হেলদোল নেই। আশ্চর্য যেন খুব অবাক হয়েছে এমনভাবে এগিয়ে আসছে। তারানাথ একগাল হেসে বললেন,—দুই বোনে এত মিল। ও পিসি, তোমাকে ঠিক পিসির মতো দেখতে।

    পিসির মতো নয়। তোমার সামনে তোমার পিসিই দাঁড়িয়ে আছে তারানাথ। কথা ক-টা বলেই আঁচলে মুখ চেপে ফুঁপিয়ে উঠল মানুষটা। হায় হায় একী হল। শুধু মনখারাপ নয়, এবার তোর মাথাটাও দেখছি খারাপ হয়ে গেল।

    তারানাথ কিছু বুঝতে পারছেন না। সব কেমন গোলমাল হয়ে যাচ্ছে। তার তো সত্যি সত্যি মাথা খারাপ হয়নি। এক ঘন্টা ঘুমের পর শরীরটাও বেশ ঝরঝরে লাগছে। তাহলে…

    পিসি বলল,—ওরে তারা, আমি তোর বড়ো পিসি নয়। আমি তোর আসল পিসিই। আর এ বাড়িটাও মগরায় নয়, এটা মানকুণ্ডু নতুন পাড়া।

    অবাক গলায় তারানাথ বললেন,—তার মানে?

    তার মানে তোর সেকেন হ্যান গাড়ির চাকা এক পাকও ঘোরেনি।

    তাইতো, তাইতো। ওই তো সাদা রঙের বাড়ি। ওই তো বাড়ির পাশে বড়ো বকুল গাছটা। গাড়িটা দাঁড়িয়ে আছে। গম্ভীর গলায় তারানাথ বললেন,—দাশুরথি ব্যাপারটা কী হল?

    দাশুরথি বড়ো একটা হাই তুলতে তুলতে পেছনে তাকাল। কী করব বলুন। ইঞ্জিন চালু হবার তিন মিনিট বাদে গিয়ার দিলাম। একসিলেটার দাবালুম। তাও গাড়ি চলে না। তখন চার মিনিট পেরিয়ে যাচ্ছে। আপনিই বলুন স্যার টানা চার মিনিট না—ঘুমিয়ে থাকা যায়?

    তার মানে তুমিও আমার মতো…

    দাশুরথি হাসল হা হা। তাহলে আর বলছি কী! টানা এক ঘন্টা ধরে ইঞ্জিন চালু ছিল। তেল ফুরিয়ে যেতে আপনার মতো আমারও ঘুমটা ভেঙে গেল।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article পরমপদকমলে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }