Close Menu
এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    What's Hot

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)
    • 📙
    • লেখক
    • শ্রেণী
      • ছোটগল্প
      • ভৌতিক গল্প
      • প্রবন্ধ
      • উপন্যাস
      • রূপকথা
      • প্রেমকাহিনী
      • রহস্যগল্প
      • হাস্যকৌতুক
      • আত্মজীবনী
      • ঐতিহাসিক
      • নাটক
      • নারী বিষয়ক কাহিনী
      • ভ্রমণকাহিনী
      • শিশু সাহিত্য
      • সামাজিক গল্প
      • স্মৃতিকথা
    • কবিতা
    • লিখুন
    • চলিতভাষার
    • শীর্ষলেখক
      • রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
      • বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
      • শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
      • বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
      • সত্যজিৎ রায়
      • সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
      • বুদ্ধদেব গুহ
      • জীবনানন্দ দাশ
      • আশাপূর্ণা দেবী
      • কাজী নজরুল ইসলাম
      • জসীম উদ্দীন
      • তসলিমা নাসরিন
      • মহাশ্বেতা দেবী
      • মাইকেল মধুসূদন দত্ত
      • মৈত্রেয়ী দেবী
      • লীলা মজুমদার
      • শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায়
      • সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
      • সমরেশ মজুমদার
      • হুমায়ুন আহমেদ
    • English Books
      • Jules Verne
    • 🔖
    • ➜]
    Subscribe
    এক পাতা গল্প বাংলা গল্প | Bangla Golpo | Read Best Bangla Stories @ Ekpatagolpo (Bangla)

    ২৫টি দমফাটা হাসি – সম্পাদনা : সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায় এক পাতা গল্প257 Mins Read0
    ⤶ ⤷

    হবগবলিন – হর্ষ দত্ত

    অনলরা এ-পাড়ায় এসেছে গত মে মাসে। ঘোর গ্রীষ্মের এক সকালে। রাজশেখরবাবুর বাড়ির একতলায় তিনটে ঘর খালি ছিল। অনলরা এখন ও-বাড়ির ভাড়াটে। বিরাট দুটো লরি থেকে ওদের জিনিসপত্তর যখন একের পর এক নামছিল, সে-সময় হবা, গবা আর লীনা একটু দূরে দাঁড়িয়ে সব লক্ষ করেছে। অনল ওদেরই বয়সি। ভালো ছেলেদের মতো গম্ভীর মুখ, ফরসা, চোখে চশমা। চশমার ফ্রেমে খয়েরি দড়ি। ওরা তিনজন তখনই স্পষ্ট বুঝতে পারছিল অনলের সঙ্গে ভাব জমানো কঠিন হবে। তার চেয়েও কঠিন, ওকে ওদের দলে টানা।

    এ-পাড়ার সবাই ওদের দুষ্টু বলে দাগিয়ে দিয়েছে। হ্যাঁ, দুষ্টু ওরা ঠিকই, তবে লোকে যতটা চেঁচিয়ে-ফাটিয়ে-নাটক করে বলে, ততটা দুষ্টু ওরা মোটেই নয়।

    হবার ভালো নাম হেমন্ত। গবার দেবপ্রিয়। বেঁটেখাটো লীনার নামটা কিন্তু লম্বা—আকাশলীনা। ওরা তিনজন আলাদা আলাদা স্কুলে পড়ে। কিন্তু পাড়ায় সবসময় এককাট্টা। অন্য ছেলে-মেয়েরা ওদের ভয় খায়। হবা, গবা আর লীনার মাথায় নাকি সবসময় বদবুদ্ধি ঘোরাফেরা করছে। অথচ একথা বলার সময় কেউ মনেই রাখে না যে, এখন দুষ্টুমি করার সময়ই বা কই! আষ্টেপৃষ্ঠে স্কুলের পড়া আর এটা করো-ওটা করো-র ঠেলায় হবাদের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়।

    তবে তারই মধ্যে ওরা রামলাল ফুচকাওয়ালার নোংরা গামছা বেমালুম সরিয়ে ফেলে। হরিজেঠুর ঘুগনির ডেকচিতে নুনগোলা জল ঢেলে দিয়ে পালায়। শুচিবাই বুড়ি দিদিমা যখন মন্দিরে পুজো দিতে যান, তখন ওরা বুড়িকে কেবলই ছুঁয়ে দেয়। রাস্তার ধারে ব্যাটারির বাক্স লাগিয়ে চুল-দাড়ি কাটার রোডসাইড সেলুন খুলেছেন কালাচাঁদদা। কালাচাঁদদা একটু অসতর্ক হলেই ওরা শেভিং ক্রিমের টিউব সরিয়ে ফেলে। তার জায়গায় দিয়ে আসে টুথপেস্ট। ব্যস, খদ্দেরদের দাড়ি কাটতে গিয়ে কালাচাঁদদার সে কী হেনস্থা!

    এইসব দুষ্টুমির জন্য হবা, গবা এবং লীনা ওদের বাবা-মা আর গার্জেনদের কাছে ভীষণ বকা খায়, এক-একদিন মারধোরও কপালে জোটে। কিন্তু ওরা মোটেই নিজেদের বদলে ফেলতে পারে না। আসলে ওরা কিছুতেই ভালোছেলে, ভালোমেয়ে হতে রাজি নয়। দুষ্টুমির মধ্যে যে-আনন্দ, তা ওরা কোথায় পাবে?

    আর কে না-জানে, আনন্দ কেবল খুঁজে নিতে হয়, কেউ হাতে তুলে দেয় না।

    এই ক-মাসে অনলের সঙ্গে ওদের দেখা হয়েছে পার্কে, রাস্তায়, এখানে-ওখানে। কিন্তু ছেলেটা একবারও ওদের সঙ্গে আলাপ করেনি। উৎসাহ দেখায়নি এতটুকু। ওর হাঁটা-চলা-তাকানোয় কী ডাঁট/ যেন হবা-গবা-লীনারা আরশোলা টিকটিকি ছারপোকা/ অনলের মুখটা একদিন হাসি-হাসি দেখে গবা ওর দিকে এগিয়ে এসেছিল কিছু বলবে বলে।

    অনল পাত্তাই দেয়নি। অন্যদিকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। লীনা তো রেগে আগুন। গবার মাথায় চাঁটি মেরে বলেছে, ”তোর কী দরকার ছিল ওর সঙ্গে আলাপ করতে যাওয়ার? দেখছিস, চশমার ওপার থেকে হেডসারের মতো তাকাচ্ছে/ ভালো হয়েছে, তুই আচ্ছা জব্দ হয়েছিস!”

    ব্যর্থ গবা অপমান লুকোনোর চেষ্টা করে বলেছিল, ”ওর সঙ্গে মোটেই ভাব জমাতে যাইনি। দেখছিলাম, আমাকে সামনে দেখে ভড়কে যায় কিনা!”

    “কেন, তুই কে? তোকে দেখে ভড়কাবে কেন?” হবা দাঁত-মুখ খিঁচিয়ে জিজ্ঞেস করেছে।

    “তুই ডাব্বলদা নাকি?” লীনার গলার স্বর সপ্তমে চড়ে গেছে।

    এখানে ডাব্বলদার একটু পরিচয় দিতে হবে। বড়ো রাস্তায় ‘মা তারা স্ন্যাকস’ নামে একটা রোলের গাড়ি-দোকান আছে। বিকেলে খোলে, রাত দশটায় বন্ধ হয়। ওই দোকানের পাশে ডাব্বলদার আড্ডা। ওর দুটো কাঁধ হাওড়া ব্রিজের মতো উঁচু। কোমরটা সরু। মাথার চুল সবসময় কপালে লুটিয়ে পড়ছে। কালো-কালো রঙের এমন টাইট গেঞ্জি পরে ডাব্বলদা যে,ওর বুকের ছাতি আর হাতের গুলি যেন ফেটে বেরিয়ে আসতে চায়।

    লোকটা কিন্তু ওদের পাড়ায় থাকে না। কোথায় থাকে কে জানে? কিন্তু বড়ো রাস্তায় এমনভাবে দাঁড়িয়ে গল্প করে, লোকজনদের দিকে তাকায়, যেন এই এলাকাটা ডাব্বলদার রাজত্ব। অন্তত লীনা ওর মাকে বলতে শুনেছে, ”বীণা তুমি কিন্তু রাত আটটার মধ্যে বাড়ি ফিরে আসবে। সে তুমি যেখানেই যাও। ডাব্বল আর ওর দলবল রাস্তার মোড়ে আড্ডা দেয়। আমার ভালো ঠেকে না বাপু।” বীণা ওর দিদি। ক্লাস ইলেভেনে পড়ে। বীণার পুরো নাম অগ্নিবীণা। বীণার চেহারা বেশ বড়োসড়ো, লীনার মতো গুড়গুড়ি নয়। তবু দিদিকে নিয়ে মা ভয় পান।

    তা, লীনার ধারণা মা যখন ডাব্বলদাকে চমকান তখন নিশ্চয়ই লোকটা ভয়ানক কেউ।

    হবা-গবাও তো বলে, ইচ্ছে করলে ডাব্বলদা হেভি কিচাইন করতে পারে। আর রেগে গেলে তো কথাই নেই।

    ডাব্বলদার নাম শুনে গবা জিভ কেটে বলেছে, ”কী যে বলিস!ণ্ঠযার নাম করলি তার মতন হতে পারলে অনলকে কবে সিধে করে দিতাম!”

    “ওকে আমরা কিছুতেই ছাড়ব না। আমাদের বেপাত্তা করে দিয়ে ও এ-পাড়ায় থাকবে, এ হতেই পারে না।” হাওয়ায় ঘুসি ছুড়ে হবা বলেছে।

    হবার কথায়, লীনা মাথা নেড়ে সায় দিয়েছে, গবা ঝলসে উঠেছে অপমানে, জ্বালায়।

    ওরা ঠিক করল, পুজোর ছুটিতে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার পরেই অনলকে ঢিট করার জন্য একটা ফন্দি বের করবে।

    এখন জাঁকিয়ে বর্ষা নেমেছে। গত দু-তিন সপ্তাহ জুড়ে কেবলই বৃষ্টি পড়ছে। যখন-তখন। বড়ো রাস্তায় আর ওদের গলিতে জল জমছে বিস্তর। সেই ছোট্ট বয়স থেকে ওরা দেখছে, তোড়ে বৃষ্টি হলেই চারপাশের এলাকা জুড়ে জল দাঁড়িয়ে যায়।

    পাড়ার বড়োরা নাকি সরকারকে প্রতি বছর চিঠি লেখে জল দাঁড়ানোর ব্যাপারে। কিন্তু এখনও সেই একই জলছবি। হবা, গবা, লীনা অবশ্য মনে মনে ভাবে, জল জমার মজা কেন যে বড়োরা মুছে ফেলতে চায়! রাস্তার জল একটু নোংরা হয় ঠিকই, কিন্তু তার মধ্যে ঝপাং করে নেমে পড়তে পারলে ফুচকা আর আলুকাবলি খাওয়ার মতো আনন্দ। একপ্রস্থ হুটোপাটি, ন্যাকা সেজে একে-তাকে ভিজিয়ে দেওয়া। তারই মধ্যে কারও ধমক, কেউ বা জল ভেঙে এগিয়ে আসতে চেষ্টা করেন কান মলে দেওয়ার জন্য। তখন আরও খুশির প্লাবন। দুলতে থাকা জলের মতো ওদের মনও দুলে ওঠে।

    হবা, গবা, লীনা যেসব স্কুলে পড়ে সেগুলো তেমন কিছু বিখ্যাত নয়। বরং অনেকের মতে মাঝারি মানের। ওরা অতশত বোঝে না, তবে অনল যে-স্কুলে পড়ে সেটি যে মস্ত নামিদামি স্কুল তা ওরা জানে। ছাই রঙের ট্রাউজার, সাদা ফুলশার্ট আর কালো নেকটাই পরে অনল যখন ওর স্কুলের বাস ধরার জন্য গলির মোড়ে এসে দাঁড়ায়, তখন ওর দিকে না-তাকিয়ে উপায় নেই। ওদের খুব হিংসে হয় ঠিকই, কিন্তু সেইসঙ্গে ভালোও লাগে। মনে হয়, অনল ওদের পাড়ার নাম রেখেছে।

    ছুটির পরে ওরা তিনজন একসঙ্গে বাড়ি ফেরে। লীনার স্কুলে ছুটির ঘন্টা পড়ে চারটে পনেরো মিনিটে, গবার সাড়ে চারটে, হবার পৌনে পাঁচটা। লীনা চলে যায় স্কুলের সামনে। তারপর গবাকে নিয়ে পৌঁছে যায় হবার স্কুলে।

    রাস্তায় এটা-ওটা খেতে-খেতে ওরা বাড়ির পথে পা রাখে।

    আজও ওরা তেমনভাবেই ফিরছিল। লাইট পোস্টে, টেলিফোনের তারের খুঁটিতে লাগানো কিয়স্কগুলোতে একটা নতুন হিন্দি সিনেমার পোস্টার পড়েছে। ওরা মনোযোগ দিয়ে দেখছে আর কত কী কল্পনা করছে। হিন্দি সিনেমায় সব ঝুটঝামেলার কী সুন্দর সমাধান হয়ে যায়। গান আর ঝাড়পিট প্রায় সব কিছুর মুশকিল আসান। উঁচু ক্লাসে উঠে ওরা টাকা জমিয়ে একবার টুক করে মুম্বই ঘুরে আসবে।

    পাড়ার কাছাকাছি আসতে এখনও প্রায় সাত-আট মিনিট বাকি। হঠাৎ বৃষ্টি এল। প্রথম থেকেই বড়ো-বড়ো ফোঁটা। লীনা ওদের টিম লিডার গোছের। হবা-গবা-দৌড়োতে শুরু করতেই লীনা চেঁচিয়ে উঠল, ”কী রে, পালাচ্ছিস কেন? বৃষ্টিতে ভিজবি বললি যে!”

    কে শোনে কার কথা— হবা দৌড়োচ্ছে, কোনও শেডের তলায় দাঁড়িয়ে মাথা বাঁচাবে। গবা পালাচ্ছে, ঘুংরি কাশির ভয়ে। ক-দিন বর্ষার জলের সঙ্গে মস্তানি করে ওর বুকে কফ বসেছে। লীনার কিন্তু হেলদোল নেই। স্কুলের ব্যাগটাকে রেনকোটে মুড়ে নিয়ে দিব্যি হাঁটছে।

    সামান্য পরেই চারদিক অন্ধকার করে বৃষ্টি নামল। সেইসঙ্গে আকাশে বিদ্যুতের চমক, বাজ পড়ার শব্দ। সামনে-পেছনে কিছু দেখা যাচ্ছে না। আর হেঁটে যাওয়া দুষ্কর। লীনা হার মানল। হবা-গবা চওড়া গেটওয়ালা একটা বাড়িতে ঢুকে পড়েছে। লীনাকে ওরা ডাকল, “আর ভিজিস না, বিছানায় পটকে যাবি। এখানে চলে আয়।”

    খানিকটা দিশেহারা হয়ে লীনা ওদের কাছে চলে এল। কিন্তু ওর সে কী রাগ, “তোরা দিন-দিন ভিতু হয়ে যাচ্ছিস কেন বল তো!”

    ওরা দুই মক্কেল কোনও উত্তর দিল না। বৃষ্টির সঙ্গে দমকা হাওয়া বয়ে যাচ্ছে দক্ষিণ থেকে উত্তরে। ভিজে জামা-প্যান্টে শীত-শীত করছে। দেখতে দেখতে রাস্তায় জল জমে গেল। যত রাজ্যের পলিথিন শালপাতা কাগজ কাঠকুটরো আবর্জনা টেনে আনছে জল। একসময় সেগুলোও জলের তোড়ে কোথায় তলিয়ে গেল।

    এবার শুধুই মাটি-মাটি ছাই-ছাই রঙের জল। হু হু করে জল বাড়ছে। ওদের গোড়ালি ভিজে গেল, একসময় হাঁটুও।

    মাত্র আধঘন্টা, পঁয়তাল্লিশ মিনিটের বৃষ্টি। তাতেই কামাল। বাড়ির আশ্রয় থেকে রাস্তায় নামতেই প্রায় কোমরের কাছে জল। আর জল ভেঙে একটু-একটু করে হেঁটে এসে ওরা যখন গলির মুখে, তখন জলের মাপ প্রায় ওদের কোমরের কাছাকাছি উঠে এল।

    উল্লাসে লীনা চিৎকার করে উঠতেই হবা ঠোঁটের ওপর নিষেধের তর্জনী তুলে চোখের ইঙ্গিতে বলল, “ওই দ্যাখ!”

    ওদের সামনে কয়েক হাত এগিয়ে জল কেটে ধীরে ধীরে চলেছে অনল। গায়ে রেনকোট, পিঠে অভেজা সুদৃশ্য স্কুলব্যাগ। ওই ব্যাগটা দেখেই হবা চিনতে পেরেছে। অনল এতক্ষণ কোথায় ছিল? বলতে গেলে একদমই ভেজেনি। হয়তো বৃষ্টি শুরু হওয়ার সামান্য পরে স্কুলবাস থেকে নেমে ও কোথাও শেল্টার নিয়েছিল। তাই ওদের মতো কাকভিজে হতে হয়নি।

    অনলকে দেখতে পেয়েই গবার চোখ চকচক করে উঠল, “এবার ব্যাটাকে বাগে পেয়েছি। দে ভিজিয়ে দে।”

    বলতে-বলতেই গবা দু-হাতে আঁচলা ভরে জল তুলে ছুড়ে দিল।

    স্কুলব্যাগে আর গায়ে-মাথায় জলের ছিটে পড়তেই মুখ ঘুরিয়ে তাকাল অনল। ওর চশমার কাচটা কেমন যেন ঝাপসা হয়ে গেছে।

    তিন দুষ্টু অনলকে বুঝতেই দিল না যে, ওরা জল ছিটিয়েছে।

    অনল ঘাড় ফিরিয়ে নিল ঠিকই, কিন্তু সন্দেহ করল ওদেরই।

    আবার একটু হেঁটে যাওয়া ভালোমানুষের মতো। তবে তা কয়েক মুহূর্তের জন্য। জলের ছলাৎ ছলাৎ আর জল গরিয়ে যাওয়ার শব্দের মধ্যে নিজেদের লুকিয়ে, এবার গবা এবং লীনা জল ছুড়ল। অনেকটা জল।

    সঙ্গে সঙ্গে ঘুরে দাঁড়াল অনল। ভুরু কুঁচকে বিস্ময় ঝরিয়ে বলল, ”এ কী, তোমরা আমার গায়ে জল ছিটিয়ে দিচ্ছ কেন?”

    ওরা কোনও উত্তরই দিল না। উলটে বৃষ্টি ভেজা কাঁপা কাঁপা হাসির হিল্লোলে ছ-হাতে জল তুলে তিরের মতো পাঠিয়ে দিল অনলের দিকে।

    অনলের মুখ রাগে লাল হয়ে গেল। চশমার কাচে জল লেগে যাওয়ার ও সম্ভবত কিছু দেখতে পাচ্ছে না। হাত তুলে মুখ আড়াল করার চেষ্টা করে ক্রুদ্ধ গলায় বলল, ”ইডিয়েট কোথাকার/শুধুমুধু আমাকে ভিজিয়ে দিয়ে ইয়ার্কি করতে লজ্জা করছে না! ছোটোলোক! ছোটোলোক!”

    জল ভেঙে ওরা আরও এগিয়ে এল অনলের দিকে।

    গলার স্বর বদলে লীনা বলল, ”আমরা ইডিয়েট, তাই না!” বলেই চোখের পলকে জলের পাহাড় ছুড়ে দিল।

    “তোর সঙ্গে ইয়ার্কি করতে যাব কেন রে!” বলতে বলতে হবা হয়ে উঠল এক জলদানব।

    “আমাদের ছোটোলোক বললি! তোর এতবড়ো আস্পর্ধা/ দাঁড়া, দেখাচ্ছি মজা!” দাঁতে দাঁতে ঘষে বলল গবা। তারপর নিজের চোপসানো স্কুলব্যাগটা পিঠ থেকে ঝড়ের বেগে ছাড়িয়ে এনে গবা তুলে দিল লীনার হাতে। চেঁচিয়ে বলল, “ধর তো!”

    ওদের আশপাশ দিয়ে যাঁরা যাচ্ছেন তাঁরা বৃষ্টির জমা জলে ছোটো ছেলে-মেয়েদের এইসব হুটোপুটি ঝগড়া দেখতে অভ্যস্ত। তাঁরা ওদের দিকে তাকাচ্ছেন ঠিকই, কিন্তু দারুণ কিছু ঘটতে চলেছে এটা ভাবছেনই না।

    গবা জলের তলায় ডুব দিয়েছে। ওদের তিনজনের মধ্যে গবাই একমাত্র সাঁতার জানে। চকিতে ও অনলের দুটো পা খামচে ধরে টেনে স্প্রিংয়ের মতো ছেড়ে দিল। অনল বেচারি আর টাল সামলাতে পারল না। অর্ধেক থেকে পুরোপুরি ডুবে গেল নোংরা জলের নদীতে। ভয়ে, ত্রাসে জল খেল খানিকটা। অনল মাথা তুলতেই হবা এবার ওকে মারল এক ধাক্কা। পুনরায় অনলের পতন। ওর চোখ থেকে চশমা খুলে এসে বুকের ওপর ঝুলছে।

    লীনার একটু মায়া হল ঠিকই, কিন্তু ওর মাথাতেও আগুন জ্বলছে। তবু লীনা বলল, ”আজকের মতো ছেড়ে দে। পরে আবার দেখা যাবে— পালিয়ে চল/”

    জলশয্যা থেকে উঠে আহত বিধবস্ত আপাদসিক্ত ভালো ছেলেটি কোনওরকমে বলল, “আমি তোমাদের সবাইকে চিনি। আই উইল টিচ ইউ আ গুড লেসন।”

    হুড়মুড় করে জল ভেঙে যেতে যেতে গবারা বলল, “যা যা। সব করবি, ও আমাদের দেখা আছে।”

    জমা জল নেমে গেল ঘন্টাদুয়েক বাদে। একচোট লোডশেডিংও হল সন্ধের পর। হবা, গবা, লীনা যে-যার বাড়িতে আগামীকাল কী-কী দুষ্টুমি করবে তার তালিকা তৈরি করছে মনে মনে। চোখের সামনে অবশ্য পাঠ্যবই যথারীতি খুলে রাখা আছে। অনলকে জলে চোবানোর ঘটনাটা মনে পড়লেই ওরা নীরবে হাসছে। ডাঁটিয়ালটাকে আজ আচ্ছা টাইট দেওয়া গেছে। ওদের পাত্তা না-দেওয়ার শাস্তি ওকে পেতেই হত। আজ সুযোগ বুঝে হবারা সুদে-আসলে বুঝিয়ে দিয়েছে।

    রাত সাড়ে দশটার সময় হঠাৎ লীনাদের বাড়ির কলিং বেল বাজাল কেউ। লীনার বাবা সূর্যসারথিবাবু দরজা খুলেই অবাক। ডাব্বল-মস্তান আর একটি ছেলে দাঁড়িয়ে আছে।

    “আপনারা—” সূর্যসারথিবাবু চমকে গেলেন।

    “আপনার মেয়ে কি ঘুমিয়ে পড়েছে?”

    ডাব্বলের গলা থমথমে এবং রুক্ষ।

    “না, হ্যাঁ মনে… কিন্তু কেন বলুন তো?”

    “আপনি কি জানেন, আপনার মেয়ে আর দুটো তেএঁটে বদমাশ ছেলে মিলে অবনীবাবুর ছেলে অনলকে মারধোর করেছে, রাস্তার জলে ফেলে দিয়েছে? ছেলেদুটোকে অনল খুব ভালো চিনতে পারেনি। কিন্তু আপনার মেয়ের নাম বলেছে। জানেন কিছু?”

    “কই না তো— কিন্তু আমার মেয়ে…” সূর্যসারথিবাবু অসহায় স্বরে বললেন, “কখনও মারপিট করেছে বলে শুনিনি/”

    “অনেক কিছুই শুনবেন না/” ধমকে উঠল ডাব্বল, “যুগ পালটে গেছে, সেটা তো জানেন/ ডাকুন আপনার মেয়েকে।”

    খুব ঝুঁকি নিয়ে একটু মিথ্যে বললেন সূর্যসারথিবাবু, “লীনা তো ঘুমিয়ে পড়েছে। বৃষ্টিতে খুব ভিজেছে, ফলে শরীরটাও ভালো নেই।”

    “অ।” কী যেন ভাবল ডাব্বল। তারপর বলল, “ঠিক আছে, আমি কাল সকালে আসব।” ডাব্বল আর ওর শাগরেদ চলে গেল।

    সদর থেকে ভেতরে এসে সূর্যসারথিবাবু মেয়ের ওপর রাগারাগি করলেন, মা আর দিদি চোটপাট করল। ওদের সবার সঙ্গে লড়াই করতে করতে লীনা ক্লান্ত। একসময় আর সহ্য করতে না-পেরে কেঁদেই ফেলল।

    এরপর বাড়ির সবাই চুপ করে গেল বটে, কিন্তু সারারাত কেউ স্বস্তিতে ঘুমোতে পারল না। কেননা ডাব্বল-মস্তান আবার সকালে আসবে।

    সকাল হল। আর পাঁচটা দিনের মতনই সকাল। আকাশে বর্ষার ছেঁড়াছেঁড়া মেঘ। একবার রোদ উঠছে, আবার হারিয়ে যাচ্ছে কালো মেঘের আড়ালে।

    ছেলে-মেয়েরা মর্নিং স্কুলে যাচ্ছে দ্রুত পা চালিয়ে। কারও-কারও খুব দেরি হয়ে গেছে। মাদার ডেয়ারির দুধের ডিপোয় এসময় প্রতিদিন ওদের প্রথম দেখা হয়।

    লীনার মুখ থেকে ওদের বাড়িতে ডাব্বলদার আসার কাহিনি শুনে হবা-গবা বেশ ঘাবড়ে গেল। তার মানে অনলের বাবার সঙ্গে ডাব্বলদার কোনও যোগাযোগ আছে।

    ভয়ে-ভয়ে গবা বলল, “কী হবে বল তো/”

    “কী আবার হবে?” ঠোঁট ওলটাল লীনা, “আমরা যে অনলকে মেরেছি তার প্রমাণ কোথায়? বরং আমি উলটে বলব, অনল আমার গায়ে হাত তুলেছে, তোরা সাক্ষী দিবি।”

    হবা-গবা মাথা নাড়ল ঠিকই, কিন্তু কোনও ভরসা পেল না। ডাব্বলদার হাতে ঝাড় খেলে হাড়গোড় আস্ত থাকবে না।

    ন-টা দশ-পনেরো নাগাদ অনল স্কুল বাস ধরতে বড়ো রাস্তায় আসে। আজ আর এল না।

    কী হল অনলের? নিশ্চয়ই খুব ভয় পেয়েছে। ওরা ভাবল। তবে এটাও ঠিক, ছেলেটাকে ঢিট করতে গিয়ে ডোজটা একটু বেশি পড়ে গেছে। পুজোর ছুটিতে অনলের পেছনে লাগার ফন্দি ওরা আপাতত মুলতুবি করে দিল। কালকের রিঅ্যাকশন কতদূর গড়ায়, আগে দেখতে হবে। তারপর পরের ব্যবস্থা। যদিও অনলকে আর দেখাই গেল না। ডাব্বলদাও আর এল না লীনাদের বাড়িতে।

    তিনদিন বাদে সন্ধেবেলায় দীপাঞ্জন-মামাকে অনলদের বাড়ি থেকে বেরোতে দেখে লীনা একটু অবাক হয়ে গেল। দীপাঞ্জন-মামা সদ্য এম বি বি এস পাস করে ডাক্তারি শুরু করেছেন। লীনাদের দূর সম্পর্কের আত্মীয়। দীপাঞ্জন-মামা ওর চেম্বারে গিয়ে বসতেই লীনা সটান ঢুকে এল।

    “কী রে তুই/ বৃষ্টিতে ভিজে ভিজে অসুখ বাধিয়েছিস নাকি/” দীপাঞ্জন-মামা জিজ্ঞেস করলেন।

    “কই না তো—” লীনা মিষ্টি হেসেবলল, “বর্ষা আমাকে কাবু করতে পারে না। কিন্তু তুমি কেন রাজশেখরবাবুর বাড়িতে গিয়েছিলে?”

    “ও হো। ওখানে একতলায় যাঁরা ভাড়া থাকেন তাঁদের ছেলেটি বৃষ্টিতে ভিজে জ্বর বাধিয়েছে। চিনিস ছেলেটাকে?”

    একটু জোরেই লীনা বলল, “না। পাড়ায় কত লোক আছে। সবাইকে চেনা কি সম্ভব/”

    “তা যা বলেছিস।” দীপাঞ্জন-মামা হাসলেন, “ছেলেটার নাম অনল। ভারি ভালো ছেলে। তবে একটু অদ্ভুত। একবার বলছে বর্ষার তোড়ে ভিজেছে। আবার নালিশ করছে, তিনটে পাজি ছেলে-মেয়ে নাকি ওকে জলে চুবিয়েছে, ফলে ও আর সামলে উঠতে পারেনি। জ্বর, সর্দি, কাশি। অনল দুষ্টু মেয়েটার নাম দিয়েছে হবগবলিন। আবার তিনজনকেই নাকি ওই নামে ডাকা যায়।”

    “হবগবলিন মানে/” চমকে গেল লীনা।

    “বলতে পারব না রে/ তবে শব্দটা ইংরেজি।”

    “ঠিক আছে।। আমি আসছি।”

    কপালে ভাঁজ ফেলে লীনা বাড়ি ফিরে এল। বাবা খাটে শুয়ে খবরের কাগজ পড়ছেন। যেন কিছু হয়নি এমন গলায় লীনা জিজ্ঞেস করল, “বাবা, হবগবলিন মানে কী?”

    চোখ তুলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে সূর্যসারথিবাবু বললেন, “ডিকশনারিটা দেখে নে। মানেটা মোটেই সুবিধের নয়।”

    অভিধান খুঁজে শব্দটা দেখে লীনা হেসে কুটিপাটি। কিন্তু একটু পরেই ওর মন খারাপ হয়ে গেল। অনলের করুণ মুখ মনে পড়ছে।

    না, এবার ওর সঙ্গে বন্ধুত্ব পাতাতে হবে।

    ⤶ ⤷
    1 2 3 4 5 6 7 8 9 10 11 12 13 14 15 16 17 18 19 20 21 22 23 24 25
    Share. Facebook Twitter Pinterest LinkedIn Tumblr Email Reddit VKontakte Telegram WhatsApp Copy Link
    Previous Articleমামা সমগ্র – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    Next Article পরমপদকমলে – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    Related Articles

    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    গুহা – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    হর-পার্বতী সংবাদ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    সাজাহানের জতুগৃহ – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    শ্রীকৃষ্ণের শেষ কটা দিন – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মনুষ্যক্লেশ নিবারণী সমিতি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    মধুর এক প্রেমকাহিনি – সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়

    November 29, 2025
    Add A Comment
    Leave A Reply Cancel Reply

    Ek Pata Golpo
    English Books
    অনিরুদ্ধ সরকার
    অনীশ দাস অপু
    অন্নদাশঙ্কর রায়
    অভিষেক চট্টোপাধ্যায়
    অভীক সরকার
    অমিতাভ চক্রবর্তী
    অমৃতা কোনার
    অসম্পূর্ণ বই
    আত্মজীবনী ও স্মৃতিকথা
    আয়মান সাদিক
    আর্নেস্ট হেমিংওয়ে
    আশাপূর্ণা দেবী
    আহমদ শরীফ
    আহমেদ রিয়াজ
    ইউভাল নোয়া হারারি
    ইন্দুভূষণ দাস
    ইন্দ্রনীল সান্যাল
    ইভন রিডলি
    ইমদাদুল হক মিলন
    ইয়স্তেন গার্ডার
    ইয়ান ফ্লেমিং
    ইলমা বেহরোজ
    ইশতিয়াক খান
    ইশতিয়াক হাসান
    ইশরাক অর্ণব
    ইসমাইল আরমান
    ইসমাঈল কাদরী
    ঈশান নাগর
    ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর
    উইলবার স্মিথ
    উইলিয়াম শেক্সপিয়র
    উচ্ছ্বাস তৌসিফ
    উৎপলকুমার বসু
    উপন্যাস
    উপাখ্যান
    উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী
    ঋজু গাঙ্গুলী
    এ . এন. এম. সিরাজুল ইসলাম
    এ পি জে আবদুল কালাম
    এ. টি. এম. শামসুদ্দিন
    এইচ জি ওয়েলস
    এইচ. এ. আর. গিব
    এইচ. পি. লাভক্র্যাফট
    এডগার অ্যালান পো
    এডগার রাইস বারুজ
    এডিথ নেসবিট
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাশ
    এনায়েতুল্লাহ আলতামাস
    এম আর আখতার মুকুল
    এম. এ. খান
    এম. জে. বাবু
    এ্যারিস্টটল
    ঐতিহাসিক
    ও হেনরি
    ওবায়েদ হক
    ওমর খৈয়াম
    ওমর ফারুক
    ওয়াসি আহমেদ
    কনফুসিয়াস
    কবীর চৌধুরী
    কমলকুমার মজুমদার
    কর্ণ শীল
    কল্লোল লাহিড়ী
    কহলীল জিবরান
    কাজী আখতারউদ্দিন
    কাজী আনোয়ার হোসেন
    কাজী আনোয়ারুল কাদীর
    কাজী আবদুল ওদুদ
    কাজী ইমদাদুল হক
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী নজরুল ইসলাম
    কাজী মায়মুর হোসেন
    কাজী মাহবুব হাসান
    কাজী মাহবুব হোসেন
    কাজী শাহনূর হোসেন
    কাব্যগ্রন্থ / কবিতা
    কার্ল মার্ক্স
    কালিকারঞ্জন কানুনগো
    কালিকিঙ্কর দত্ত
    কালিদাস
    কালী প্রসন্ন দাস
    কালীপ্রসন্ন সিংহ
    কাসেম বিন আবুবাকার
    কিশোর পাশা ইমন
    কুদরতে জাহান
    কৃত্তিবাস ওঝা
    কৃষণ চন্দর
    কৃষ্ণদাস কবিরাজ গোস্বামী
    কৃষ্ণদ্বৈপায়ন বেদব্যাস
    কেইগো হিগাশিনো
    কোজি সুজুকি
    কোয়েল তালুকদার
    কোয়েল তালুকদার
    কৌটিল্য / চাণক্য / বিষ্ণুগুপ্ত
    কৌশিক জামান
    কৌশিক মজুমদার
    কৌশিক রায়
    ক্যাথারিন নেভিল
    ক্যারেন আর্মস্ট্রং
    ক্রিস্টোফার সি ডয়েল
    ক্লাইভ কাসলার
    ক্ষিতিমোহন সেন
    ক্ষিতিশ সরকার
    ক্ষিতীশচন্দ্র মৌলিক
    খগেন্দ্রনাথ ভৌমিক
    খন্দকার মাশহুদ-উল-হাছান
    খাদিজা মিম
    খায়রুল আলম মনি
    খায়রুল আলম সবুজ
    খুশবন্ত সিং
    গজেন্দ্রকুমার মিত্র
    গর্ডন ম্যাকগিল
    গাজী শামছুর রহমান
    গাব্রিয়েল গার্সিয়া মার্কেস
    গোলাম মাওলা নঈম
    গোলাম মুরশিদ
    গোলাম মোস্তফা
    গৌতম ভদ্র
    গৌরকিশোর ঘোষ (রূপদর্শী)
    গ্যেটে
    গ্রাহাম ব্রাউন
    গ্রেগরি মোন
    চণ্ডীদাস
    চলিত ভাষার
    চাণক্য সেন
    চার্লস ডারউইন
    চার্লস ডিকেন্স
    চিত্তরঞ্জন দেব
    চিত্তরঞ্জন মাইতি
    চিত্রদীপ চক্রবর্তী
    চিত্রা দেব
    ছোটগল্প
    জগদানন্দ রায়
    জগদীশ গুপ্ত
    জগদীশচন্দ্র বসু
    জন ক্লেল্যান্ড
    জন মিল্টন
    জয় গোস্বামী
    জয়গোপাল দে
    জয়দেব গোস্বামী
    জরাসন্ধ (চারুচন্দ্র চক্রবর্তী)
    জর্জ অরওয়েল
    জর্জ ইলিয়ট
    জর্জ বার্নাড শ
    জলধর সেন
    জসীম উদ্দীন
    জসীম উদ্দীন
    জহির রায়হান
    জহীর ইবনে মুসলিম
    জাইলস ক্রিস্টিয়ান
    জাকির শামীম
    জাফর বিপি
    জাভেদ হুসেন
    জাহানারা ইমাম
    জাহিদ হোসেন
    জি. এইচ. হাবীব
    জিতেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়
    জিম করবেট
    জীবনানন্দ দাশ
    জীবনানন্দ দাশ
    জুনায়েদ ইভান
    জুবায়ের আলম
    জুল ভার্ন
    জুলফিকার নিউটন
    জে অ্যানসন
    জে ডি সালিঞ্জার
    জে. কে. রাওলিং
    জেমস রোলিন্স
    জেমস হেডলি চেজ
    জেসি মেরী কুইয়া
    জোনাথন সুইফট
    জোসেফ হাওয়ার্ড
    জ্ঞানদানন্দিনী দেবী
    জ্যাঁ জ্যাক রুশো
    জ্যাক হিগিনস
    জ্যোতিভূষণ চাকী
    জ্যোতিরিন্দ্র নন্দী
    টম হারপার
    টেকচাঁদ ঠাকুর (প্যারীচাঁদ মিত্র)
    ডার্টি গেম
    ডিউক জন
    ডেভিড সেলজার
    ডেল কার্নেগি
    ড্যান ব্রাউন
    ড্যানিয়েল ডিফো
    তপন বন্দ্যোপাধ্যায়
    তপন বাগচী
    তপন রায়চৌধুরী
    তমোঘ্ন নস্কর
    তসলিমা নাসরিন
    তসলিমা নাসরিন
    তারক রায়
    তারাদাস বন্দ্যোপাধ্যায়
    তারাপদ রায়
    তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়
    তিলোত্তমা মজুমদার
    তোশিকাযু কাওয়াগুচি
    তৌফির হাসান উর রাকিব
    তৌহিদুর রহমান
    ত্রৈলোক্যনাথ মুখোপাধ্যায়
    দক্ষিণারঞ্জন বসু
    দক্ষিণারঞ্জন মিত্র মজুমদার
    দয়ানন্দ সরস্বতী
    দাউদ হায়দার
    দাশরথি রায়
    দিব্যেন্দু পালিত
    দিলওয়ার হাসান
    দিলীপ মুখোপাধ্যায়
    দীনেশচন্দ্র সিংহ
    দীনেশচন্দ্র সেন
    দীপঙ্কর ভট্টাচার্য
    দীপান্বিতা রায়
    দুর্গাদাস লাহিড়ী
    দেবজ্যোতি ভট্টাচার্য
    দেবারতি মুখোপাধ্যায়
    দেবীপ্রসাদ চট্টোপাধ্যায়
    দেবেশ ঠাকুর
    দেবেশ রায়
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বর্মন
    দ্বিজেন্দ্রনাথ বৰ্মন
    ধনপতি বাগ
    ধীরাজ ভট্টাচার্য
    ধীরেন্দ্রলাল ধর
    ধীরেশচন্দ্র ভট্টাচার্য
    নচিকেতা ঘোষ
    নজরুল ইসলাম চৌধুরী
    নবনীতা দেবসেন
    নবারুণ ভট্টাচার্য
    নসীম হিজাযী
    নাগিব মাহফুজ
    নাজমুছ ছাকিব
    নাটক
    নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়
    নারায়ণ সান্যাল
    নারী বিষয়ক কাহিনী
    নাসীম আরাফাত
    নিক পিরোগ
    নিমাই ভট্টাচার্য
    নিয়াজ মোরশেদ
    নিরুপম আচার্য
    নির্বেদ রায়
    নির্মল সেন
    নির্মলচন্দ্র গঙ্গোপাধ্যায়
    নির্মলেন্দু গুণ
    নিল গেইম্যান
    নীরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
    নীল ডিগ্র্যাস টাইসন
    নীলিমা ইব্রাহিম
    নীহাররঞ্জন গুপ্ত
    নীহাররঞ্জন রায়
    নৃসিংহপ্রসাদ ভাদুড়ী
    পঞ্চানন ঘোষাল
    পঞ্চানন তর্করত্ন
    পপি আখতার
    পরিতোষ ঠাকুর
    পরিতোষ সেন
    পাওলো কোয়েলহো
    পাঁচকড়ি দে
    পাঁচকড়ি বন্দ্যোপাধ্যায়
    পার্থ চট্টোপাধ্যায়
    পার্থ সারথী দাস
    পিয়া সরকার
    পিয়ের লেমেইত
    পীযুষ দাসগুপ্ত
    পূরবী বসু
    পূর্ণেন্দু পত্রী
    পৃথ্বীরাজ সেন
    পৌলোমী সেনগুপ্ত
    প্রচেত গুপ্ত
    প্রণব রায়
    প্রতিভা বসু
    প্রতুলচন্দ্র গুপ্ত
    প্রফুল্ল রায়
    প্রফেসর ড. নাজিমুদ্দীন এরবাকান
    প্রবন্ধ
    প্রবীর ঘোষ
    প্রবোধকুমার ভৌমিক
    প্রবোধকুমার সান্যাল
    প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়
    প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
    প্রমথ চৌধুরী
    প্রমথনাথ বিশী
    প্রমথনাথ মল্লিক
    প্রমিত হোসেন
    প্রশান্ত মৃধা
    প্রশান্তকুমার পাল
    প্রসেনজিৎ দাশগুপ্ত
    প্রিন্স আশরাফ
    প্রিন্সিপাল ইবরাহীম খাঁ
    প্রিয়নাথ মুখোপাধ্যায়
    প্রীতিলতা রায়
    প্রেমকাহিনী
    প্রেমময় দাশগুপ্ত
    প্রেমাঙ্কুর আতর্থী
    প্রেমেন্দ্র মিত্র
    প্লেটো
    ফররুখ আহমদ
    ফরহাদ মজহার
    ফারুক বাশার
    ফারুক হোসেন
    ফাল্গুনী মুখোপাধ্যায়
    ফিওডর দস্তয়েভস্কি
    ফিলিপ কে. হিট্টি
    ফ্রাঞ্জ কাফকা
    ফ্রানজ কাফকা
    ফ্রিডরিখ এঙ্গেলস
    বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    বদরুদ্দীন উমর
    বদরুদ্দীন উমর (অসম্পূর্ণ)
    বন্যা আহমেদ
    বরাহমিহির
    বর্ণালী সাহা
    বলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)
    বশীর বারহান
    বাণী বসু
    বানভট্ট
    বাবুল আলম
    বামনদেব চক্রবর্তী
    বারিদবরণ ঘোষ
    বার্ট্রান্ড রাসেল
    বিজনকৃষ্ণ চৌধুরী
    বিজনবিহারী গোস্বামী
    বিদায়া ওয়ান নিহায়া
    বিদ্যুৎ মিত্র
    বিনয় ঘোষ
    বিনায়ক বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিনোদ ঘোষাল
    বিপুল কুমার রায়
    বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিভূতিভূষণ মিত্র
    বিভূতিভূষণ মুখোপাধ্যায়
    বিমল কর
    বিমল মিত্র
    বিমল মুখার্জি
    বিমল সেন
    বিশাখদত্ত
    বিশ্বজিত সাহা
    বিশ্বরূপ বন্দ্যোপাধ্যায়
    বিশ্বরূপ মজুমদার
    বিষ্ণু দে
    বিষ্ণুপদ চক্রবর্তী
    বিহারীলাল চক্রবর্তী
    বুদ্ধদেব গুহ
    বুদ্ধদেব বসু
    বুদ্ধেশ্বর টুডু
    বুলবন ওসমান
    বেগম রোকেয়া সাখাওয়াত হোসেন
    বেঞ্জামিন ওয়াকার
    বৈশালী দাশগুপ্ত নন্দী
    ব্রততী সেন দাস
    ব্রাম স্টোকার
    ভগৎ সিং
    ভগিনী নিবেদিতা
    ভবানীপ্রসাদ সাহু
    ভবেশ রায়
    ভরতমুনি
    ভারতচন্দ্র রায়
    ভাস
    ভাস্কর চক্রবর্তী
    ভিক্টর ই. ফ্রাঙ্কেল
    ভিক্টর হুগো
    ভীমরাও রামজি আম্বেদকর
    ভেরা পানোভা
    ভৌতিক গল্প
    মঈদুল হাসান
    মখদুম আহমেদ
    মঞ্জিল সেন
    মণি ভৌমিক
    মণিলাল গঙ্গোপাধ্যায়
    মণীন্দ্র গুপ্ত
    মণীন্দ্র দত্ত
    মতি নন্দী
    মনজুরুল হক
    মনোজ মিত্র
    মনোজ সেন
    মনোজিৎ কুমার দাস
    মনোজিৎকুমার দাস
    মনোরঞ্জন ব্যাপারী
    মন্দাক্রান্তা সেন
    মন্মথ সরকার
    মরিয়ম জামিলা
    মরিস বুকাইলি
    মহাভারত
    মহালয়া
    মহাশ্বেতা দেবী
    মহিউদ্দিন আহমদ
    মহিউদ্দিন মোহাম্মদ
    মাইকেল এইচ. হার্ট
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাইকেল মধুসূদন দত্ত
    মাওলানা আজিজুল হক
    মাওলানা মুজিবুর রহমান
    মাকসুদুজ্জামান খান
    মাকিদ হায়দার
    মানবেন্দ্র পাল
    মানবেন্দ্র বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মানিক বন্দ্যোপাধ্যায়
    মারিও পুজো
    মার্ক টোয়েন
    মার্থা ম্যাককেনা
    মার্সেল প্রুস্ত
    মাহমুদ মেনন
    মাহমুদুল হক
    মাহরীন ফেরদৌস
    মিচিও কাকু
    মিনা ফারাহ
    মির্চা এলিয়াদ
    মিলন নাথ
    মিহির সেনগুপ্ত
    মীর মশাররফ হোসেন
    মুজাফফর আহমদ
    মুজাহিদ হুসাইন ইয়াসীন
    মুনতাসীর মামুন
    মুনীর চৌধুরী
    মুরারিমোহন সেন
    মুহম্মদ আবদুল হাই
    মুহম্মদ জাফর ইকবাল
    মেল রবিন্স
    মৈত্রেয়ী দেবী
    মোঃ ফুয়াদ আল ফিদাহ
    মোঃ বুলবুল আহমেদ
    মোজাফ্‌ফর হোসেন
    মোতাহের হোসেন চৌধুরী
    মোস্তফা মীর
    মোস্তফা হারুন
    মোস্তাক আহমাদ দীন
    মোহাম্মদ আবদুর রশীদ
    মোহাম্মদ আবদুল হাই
    মোহাম্মদ নজিবর রহমান
    মোহাম্মদ নাজিম উদ্দিন
    মোহাম্মদ নাসির আলী
    মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
    মোহাম্মদ হাসান শরীফ
    রকিব হাসান
    রবার্ট লুই স্টিভেনসন
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
    রাজশেখর বসু (পরশুরাম)
    লীলা মজুমদার
    লেখক
    শংকর (মণিশংকর মুখোপাধ্যায়)
    শক্তি চট্টোপাধ্যায়
    শক্তিপদ রাজগুরু
    শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    শরদিন্দু বন্দ্যোপাধ্যায়
    শান্তিপ্রিয় বন্দ্যোপাধ্যায়
    শিবরাম চক্রবর্তী
    শীর্ষেন্দু মুখােপাধ্যায়
    শ্রীজাত বন্দ্যোপাধ্যায়
    শ্রেণী
    ষষ্ঠীপদ চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জয় ভট্টাচার্য
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়
    সঞ্জীবচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়
    সত্যজিৎ রায়
    সত্যজিৎ রায়
    সমরেশ বসু
    সমরেশ মজুমদার
    সমুদ্র পাল
    সামাজিক গল্প
    সুকুমার রায়
    সুচিত্রা ভট্টাচার্য
    সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
    সুভাষচন্দ্র বসু
    সুমনকুমার দাশ
    সৈকত মুখোপাধ্যায়
    সৈয়দ মুজতবা আলী
    সৌভিক চক্রবর্তী
    সৌমিত্র বিশ্বাস
    সৌরভ চক্রবর্তী
    স্টিফেন হকিং
    স্বামী বিবেকানন্দ
    স্যার আর্থার কোনান ডয়েল
    হরিনারায়ণ চট্টোপাধ্যায়
    হাসান খুরশীদ রুমী
    হাস্যকৌতুক
    হিমাদ্রিকিশোর দাশগুপ্ত
    হুমায়ূন আহমেদ
    হেমেন্দ্রকুমার রায়
    Generic selectors
    Exact matches only
    Search in title
    Search in content
    Post Type Selectors
    Demo

    Your Bookmarks


    Reading History

    Most Popular

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Demo
    Latest Reviews

    বাংলা গল্প শুনতে ভালোবাসেন? এক পাতার বাংলা গল্পের সাথে হারিয়ে যান গল্পের যাদুতে।  আপনার জন্য নিয়ে এসেছে সেরা কাহিনিগুলি, যা আপনার মন ছুঁয়ে যাবে। সহজ ভাষায় এবং চিত্তাকর্ষক উপস্থাপনায়, এই গল্পগুলি আপনাকে এক নতুন অভিজ্ঞতা দেবে। এখানে পাবেন নিত্যনতুন কাহিনির সম্ভার, যা আপনাকে বিনোদিত করবে এবং অনুপ্রাণিত করবে।  শেয়ার করুন এবং বন্ধুদের জানাতে ভুলবেন না।

    Top Posts

    হর্ষবর্ধনের বাঘ শিকার

    January 4, 2025

    দোকানির বউ

    January 5, 2025

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026
    Our Picks

    মৃত কৈটভ ৩ (হলাহল বিষভাণ্ড) – সৌরভ চক্রবর্তী

    February 19, 2026

    রক্ত পাথার – অনুবাদ : ঋজু গাঙ্গুলী

    February 19, 2026

    পেত্নি সমগ্র – অমিতাভ চক্রবর্তী

    February 18, 2026
    Facebook X (Twitter) Instagram Pinterest
    • Home
    • Disclaimer
    • Privacy Policy
    • DMCA
    • Contact us
    © 2026 Ek Pata Golpo. Designed by Webliance Pvt Ltd.

    Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

    • Login
    Forgot Password?
    Lost your password? Please enter your username or email address. You will receive a link to create a new password via email.
    body::-webkit-scrollbar { width: 7px; } body::-webkit-scrollbar-track { border-radius: 10px; background: #f0f0f0; } body::-webkit-scrollbar-thumb { border-radius: 50px; background: #dfdbdb }